সমকালীন মাসআলা - মাসায়েল

সমকালীন মাসআলা - মাসায়েল পরিপূর্ণ মুসলমান হিসেবে বাচঁতে হলে
কুরআন সুন্নাহর সঠিক জ্ঞান অর্জন করতে হবে

19/05/2026

জিহজ্ব মাসের কয়েকটি গুরুত্বপুর্ণ আমল :
এক.
১ ই জিলহজ্ব থেকে ১০ ই জিলহজ্ব পর্যন্ত চুল, নখ ও যাবতীয় লোম ইত্যাদি কাটা থেকে বিরত থাকা। ( যাদের উপর কোরবানী ওয়াজিব তাঁরা কুরবানীর পুশু জবায়ের পর কাটতে পারবে আর যাদের উপর ওয়াজিব নয় তারা ঈদের নামাজের পর কাটবে।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন :
إِذَا رَأَيْتُمْ هِلَالَ ذِي الْحِجّةِ، وَأَرَادَ أَحَدُكُمْ أَنْ يُضَحِّيَ، فَلْيُمْسِكْ عَنْ شَعْرِهِ وَأَظْفَارهِ.
অর্থ: যখন তোমরা যিলহজ্বের চাঁদ দেখবে তখন তোমাদের মধ্যে যে কুরবানী করবে সে যেন তার চুল নখ না কাটে। -সহীহ মুসলিম, হাদীস ১৯৭৭; জামে তিরমিযী, হাদীস ১৫২৩

দুই.
প্রথম দশকে ৯ টি রোজা রাখা। তথা ১ ই জিলহজ্ব থেকে নিয়ে ৯ ই জিলহজ্ব পর্যন্ত।
হাদিস শরীফে এসেছে :
كَانَ رَسُولُ اللهِ صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ يَصُومُ تِسْعَ ذِي الْحِجّةِ.
অর্থ : রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম যিলহজ্বের নয়টি দিবসে (সাধারণত) রোযা রাখতেন। -সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ২৪৩৭; মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ২২৩৩৪; সুনানে কুবরা, বায়হাকী, হাদীস ৮৩৯

তিন.
বিশেষ করে নয় তারিখ ‘ইয়াওমে আরাফা’কে বিশেষ গুরুত্বের সাথে আমলে নেওয়া। এদিন অতিবাহিত করা দুআ-দরূদ, কান্নাকাটি এবং তাওবা-ইস্তিগফারে। আর দিনে তথা ৯ ই জিলহজ্ব রোজা রাখা ।
হাদিস শরীফে এসেছে :
صِيَامُ يَوْمِ عَرَفَةَ، أَحْتَسِبُ عَلَى اللهِ أَنْ يُكَفِّرَ السّنَةَ الّتِي قَبْلَهُ، وَالسّنَةَ الّتِي بَعْدَهُ.
অর্থ : আরাফার দিনের (নয় যিলহজ্বের) রোযার বিষয়ে আমি আল্লাহর কাছে প্রত্যাশা রাখি, তিনি পূর্বের এক বছরের এবং পরের এক বছরের গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেবেন। -সহীহ মুসলিম, হাদীস ১১৬২

চার.
বেশী বেশী তাসবীহ,তাহলীল পাঠ করা।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন :
مَا مِنْ أَيّامٍ أَعْظَمُ عِنْدَ اللهِ وَلَا أَحَبّ إِلَيْهِ الْعَمَلُ فِيهِنّ مِنْ هَذِهِ الْأَيّامِ الْعَشْرِ، فَأَكْثِرُوا فِيهِنّ مِنَ التّهْلِيلِ وَالتّكْبِيرِ وَالتّحْمِيدِ.
অর্থ: আল্লাহ তাআলার নিকট আশারায়ে যিলহজ্বের আমলের চেয়ে অধিক মহৎ এবং অধিক প্রিয় অন্য কোনো দিনের আমল নেই। সুতরাং তোমরা এই দিনগুলোতে বেশি বেশি ‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আল্লাহু আকবার এবং আলহামদু লিল্লাহ’ পাঠ কর। -মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ৫৪৪৬; আদদাআওয়াতুল কাবীর, তবারানী, হাদীস ৫৩৪

৫. যিলহজ্ব মাসের নয় তারিখ ফজর থ

25/02/2026

রোজার জরুরি ৩০টি মাসআলা।

১. ইনজেকশন (Injection): ইনজেকশন নিলে রোজা ভাঙ্গবে না। (জাওয়াহিরুল ফতওয়া)

২. ইনহেলার (Inhaler): শ্বাসকষ্ট দূর করার লক্ষ্যে তরল জাতীয় একটি ঔষধ স্প্রে করে মুখের ভিতর দিয়ে গলায় প্রবেশ করানো হয়, এভাবে মুখের ভিতর ইনহেলার স্প্রে করার দ্বারা রোজা ভেঙ্গে যাবে। (ইমদাদুল ফতওয়া)

৩. এনজিওগ্রাম (Angio Gram): হার্ট ব্লক হয়ে গেলে উরুর গোড়া দিয়ে কেটে বিশেষ রগের ভিতর দিয়ে হার্ট পর্যন্ত যে ক্যাথেটার ঢুকিয়ে পরীক্ষা করা হয় তার নাম এনজিওগ্রাম। এ যন্ত্রটিতে যদি কোনো ধরনের ঔষধ লাগানো থাকে, তারপরেও রোজা ভাঙ্গবে না।

৪. এন্ডোসকপি (Endos Copy): চিকন একটি পাইপ, যার মাথায় বাল্ব জাতীয় একটি বস্তু থাকে। পাইপটি পাকস্থলিতে ঢুকানো হয় এবং বাইরে থাকা মনিটরের মাধ্যমে রোগীর পেটের অবস্থা নির্ণয় করা হয়। এই নলে যদি কোন ঔষধ ব্যবহার করা হয় বা পাইপের ভিতর দিয়ে পানি/ঔষধ ছিটানো হয়ে থাকে তাহলে রোজা ভেঙ্গে যাবে, আর যদি কোন ঔষধ লাগানো না থাকে তাহলে রোজা ভাঙ্গবে না। (জাদীদ ফিকহী মাসায়েল)

৫. নাইট্রোগ্লিসারিন (Nitro Glycerin): এরোসল জাতীয় ঔষধ, যা হার্টের জন্য দুই-তিন ফোঁটা জিহ্বার নিচে দিয়ে মুখ বন্ধ করে রাখে। ঔষধটি শিরার মাধ্যমে রক্তের সাথে মিশে যায় এবং ঔষধের কিছু অংশ গলায় প্রবেশ করার প্রবল সম্ভবনা রয়েছে। অতএব এতে রোজা ভেঙ্গে যাবে। (জাদীদ ফিকহী মাসায়েল)

৬. লেপারোসকপি (Laparoscopy): শিক্ জাতীয় একটি যন্ত্র দ্বারা পেট ছিদ্র করে পেটের ভিতরের কোন অংশ বা গোশত ইত্যাদি পরীক্ষা করার উদ্দেশ্যে বের করে নিয়ে আসার জন্য ব্যবহৃত যন্ত্র। এতে যদি ঔষধ লাগানো থাকে তাহলে রোজা ভেঙ্গে যাবে অন্যস্থায় রোজা ভাঙ্গেব না। (আল মাকালাতুল ফিকহীয়া)

৭. অক্সিজেন (OXzgen): রোজা অবস্থায় ঔষধ ব্যবহৃত অক্সিজেন ব্যবহার করলে রোজা ভেঙ্গে যাবে। তবে শুধু বাতাসের অক্সিজেন নিলে রোজা ভাঙ্গবে না। (জাদীদ ফিকহী মাসায়েল)

৮. মস্তিষ্ক অপারেশন (Brain Operation): রোজা অবস্থায় মস্তিষ্ক অপারেশন করে ঔষধ ব্যবহার করা হোক বা না হোক রোজা ভাঙ্গবে না। (আল মাকালাতুল ফিকহীয়া)

৯. রক্ত নেয়া বা দেয়া: রোজা অবস্থায় শরীর থেকে রক্ত বের করলে বা শরীরে প্রবেশ করালে রোজা ভাঙ্গবে না। (আহসানুল ফতওয়া)

১০. সিস্টোসকপি (cystoscop): প্রসাবের রাস্তা দিয়ে ক্যাথেটার প্রবেশ করিয়ে যে পরীক্ষা করা হয় এর দ্বারা রোজা ভাঙ্গবে না। (হেদায়া)

১১. প্রক্টোসকপি (proctoscopy): পাইলস, পিসার, অর্শ, হারিশ, বুটি ও ফিস্টুলা ইত্যাদি রোগের পরীক্ষাকে প্রক্টোসকপি বলে। মলদ্বার দিয়ে নল প্রবেশ করিয়ে পরীক্ষাটি করা হয়। রোগী যাতে ব্যথা না পায় সে জন্য নলের মধ্যে গ্লিসারিন জাতীয় কোন পিচ্ছিল বস্তু ব্যবহার করা হয়। নলটি পুরোপুরি ভিতরে প্রবেশ করে না। চিকিৎসকদের মতানুসারে ঐ পিচ্ছিল বস্তুটি নলের সাথে মিশে থাকে এবং নলের সাথেই বেরিয়ে আসে, ভেতরে থাকে না। আর থাকলেও তা পরবর্তীতে বেরিয়ে আসে। যদিও শরীর তা চোষে না কিন্তু ঐ বস্তুটি ভিজা হওয়ার কারণে রোজা ভেঙ্গে যাবে। (ফতওয়া শামী)

১২. কপার-টি (Coper-T): কপার-টি বলা হয় যোনিদ্বারে প্লাস্টিক লাগানোকে, যেন সহবাসের সময় বীর্যপাত হলে বীর্য জরায়ুতে পৌঁছাতে না পারে। এ কপার-টি লাগিয়েও সহবাস করলে রোজা ভেঙ্গে যাবে। কাযা কাফফারা উভয়টাই ওয়াজিব হবে।

১৩. সিরোদকার অপারেশন (Shirodkar
Operation): সিরোদকার অপারেশন হল অকাল গর্ভপাত হওয়ার আশঙ্কা থাকলে জরায়ুর মুখের চতুষ্পার্শ্বে সেলাই করে মুখকে খিচিয়ে রাখা। এতে অকাল গর্ভপাত রোধ হয়। যেহেতু এতে কোন ঔষধ বা বস্তু রোজা ভঙ্গ হওয়ার গ্রহণযোগ্য খালি স্থানে পৌঁছে না তাই এর দ্বারা রোজা ভাঙ্গবে না।

১৪. ডি এন্ড সি (Dilatation and
Curettage): ডি এন্ড সি হল গর্ভধারণের আট থেকে দশ সপ্তাহের মধ্যে Dilator এর মাধ্যমে জীবিত কিংবা মৃত বাচ্চাকে মায়ের গর্ভ থেকে বের করে নিয়ে আসা। এতে রোজা ভেঙ্গে যাবে। অযথা এমন করলে কাযা কাফফারা উভয়টি দিতে হবে এবং তওবা করতে হবে। (হেদায়া)

১৫. এম আর (M.R): এম আর হল গর্ভ ধারণের পাঁচ থেকে আট সপ্তাহের মধ্যে যোনিদ্বার দিয়ে জরায়ুতে এম আর সিরিঞ্জ প্রবেশ করিয়ে জীবিত কিংবা মৃত ভ্রণ নিয়ে আসা। যার পর ঋতু¯্রাব পুণরায় হয়। অতএব মাসিক শুরু হওয়ার কারণে রোজা ভেঙ্গে যাবে এবং কাযা করতে হবে। কিন্তু যদি রাতের বেলা করা হয় তাহলে দিনের রোজা কাযা করতে হবে না। (ফতহুল কাদীর)

১৬. আলট্রাসনোগ্রাম (Ultrasongram): আলট্রাসনোগ্রাম পরীক্ষায় যে ঔষধ বা যন্ত্র ব্যবহার করা হয় সবই চামড়ার উপরে থাকে, তাই আলট্রাসনোগ্রাম করলে রোজা ভাঙ্গবে না। (হেদায়া)

১৭. স্যালাইন (Saline): স্যালাইন নেয়া হয় রগে, আর রগ যেহেতু রোজা ভঙ্গ হওয়ার গ্রহণযোগ্য রাস্তা নয়, তাই স্যালাইন নিলে রোজা ভাঙ্গবে না, তবে রোজার কষ্ট লাঘবের জন্য স্যালাইন নেয়া মাকরূহ। (ফতওয়ায়ে দারুল উলূম)

১৮. টিকা নেয়া (Vaccine): টিকা নিলে রোজা ভাঙ্গবে না। কারণ, টিকা রোজা ভঙ্গ হওয়ার গ্রহণযোগ্য রাস্তায় ব্যবহার করা হয় না। (আপকে মাসায়েল)

১৯. ঢুস (Do**he): ঢুস মলদ্বারের মাধ্যমে দেহের ভিতরে প্রবেশ করে, তাই ঢুস নিলে রোজা ভেঙ্গে যাবে। ঢুস যে জায়গা বা রাস্তা দিয়ে প্রবেশ করে এ জায়গা বা রাস্তা রোজা ভঙ্গ হওয়ার গ্রহণযোগ্য স্থান । (ফতওয়ায়ে শামী)

২০. ইনসুলিন গ্রহণ করা (Insulin): ইনসুলিন নিলে রোজা ভাঙ্গবে না। কারণ, ইনসুলিন রোজা ভঙ্গ হওয়ার গ্রহণযোগ্য রাস্তা দিয়ে প্রবেশ করে না এবং গ্রহণযোগ্য খালি জায়গায় প্রবেশ করে না। (জাদীদ ফিকহী মাসায়েল)

২১. দাঁত তোলা: রোজা অবস্থায় একান্ত প্রয়োজন হলে দাঁত তোলা জায়েজ আছে। তবে অতি প্রয়োজন না হলে এমনটা করা মাকরূহ। ঔষধ যদি গলায় চলে যায় অথবা থুথু থেকে বেশি অথবা সমপরিমাণ রক্ত যদি গলায় যায় তাহলে রোজা ভেঙ্গে যাবে। (আহসানুল ফতওয়া)

২২. পেস্ট, টুথ পাউডার ব্যবহার করা: রোজা অবস্থায় দিনের বেলায় টুথ পাউডার, পেস্ট, মাজন ইত্যাদি ব্যবহার করা মাকরূহ। কিন্তু গলায় পৌঁছালে রোজা ভেঙ্গে যাবে। (জাদীদ ফিকহী মাসায়েল)

২৩. মিসওয়াক করা: শুকনা বা কাঁচা মিসওয়াক দিয়ে দাঁত মাজার দ্বারা রোজার কোন ক্ষতি হয় না। চাই যখনই করা হোক না কেন। (ফতওয়ায়ে শামী)

২৪. মুখে ঔষধ ব্যবহার করা: মুখে ঔষধ ব্যবহার করে তা গিলে ফেললে বা ঔষধের অংশ বিশেষ গলায় প্রবেশ করলে রোজা ভেঙ্গে যাবে। গলায় প্রবেশ না করলে রোজা ভাঙ্গবে না। (ফতওয়ায়ে শামী)

২৫. রক্ত পরীক্ষা: রক্ত পরীক্ষার জন্য রক্ত দিলে রোজার কোন ক্ষতি হবে না। তবে খুব বেশি পরিমাণে রক্ত দেয়া যার দ্বারা শরীরে দুর্বলতা আসে, তা মাকরূহ।

২৬. ডায়াবেটিস পরীক্ষা: ডায়াবেটিসের সুগার মাপার জন্য সুঁচ ঢুকিয়ে যে একফোঁটা রক্ত নেয়া হয়, এতে রোজার কোন ক্ষতি হবে না।

২৭. নাকে ঔষধ দেয়া: নাকে পানি বা ঔষধ দিলে যদি তা খাদ্যনালীতে চলে যায়, তাহলে রোজা ভেঙ্গে যাবে এবং কাযা করতে হবে। (ফতওয়ায়ে রাহমানিয়া)

২৮. চোখে ঔষধ বা সুরমা ব্যবহার করা: চোখে ঔষধ বা সুরমা ব্যবহার করার দ্বারা রোজা ভাঙ্গবে না। যদিও এগুলোর স্বাদ গলায় অনুভব হয়। (হেদায়া)

২৯. কানে ঔষধ প্রদান করা: কানে ঔষধ, তেল ইত্যাদি ঢুকালে রোজা ভেঙ্গে যায় না, তবে যদি কানের পর্দার মধ্যে কোন ছিদ্র থাকে এবং এটা যদি যদি পাকস্থলীতে চলে যায় তাহলে রোজা ভেঙে যাবে । (আল মাকালাতুল ফিকহীয়া)

৩০. নকল দাঁত মুখে রাখা: রোজা রেখে নকল দাঁত মুখে স্থাপন করে রাখলে রোজার কোন ক্ষতি হয় না। (ইমদাদুল ফতওয়া)

মুফতি আবুল হাসান কাসেমী
সিনিয়র শিক্ষক. জামিয়া নূরিয়া ইসলামিয়া আশরাফাবাদ, কামরাঙ্গীরচর, ঢাকা।

28/11/2025

ভূমিকম্প সহ সকল দুর্যোগ থেকে আল্লাহতালা আমাদেরকে হেফাজত করুন।

03/06/2025

পড়াশোনা-১০

প্রশ্ন-
শরীকদের কারো পুরো বা অধিকাংশ উপার্জন যদি হারাম হয় তাহলে শরীকদের কুরবানী আদায় হবে?

উত্তর
কারো কুরবানী সহীহ হবে না।

প্রশ্ন:-
হারাম উপার্জনের বিষয়টি অজানা থাকলে তার সঙ্গে কুরবানী দেওয়ার বিধান কী?

উত্তর
কারো ব্যাপারে যদি একথা নিশ্চিতভাবে জানা যায় যে, তিনি হারাম টাকা দিয়েই কুরবানী দিচ্ছেন তাহলে তার সাথে কুরবানী করা জায়েজ হবে না। এরকম ব্যক্তির সাথে কুরবানীতে শরীক হলে উক্ত পশুতে শরীক সবার কুরবানী বাতিল হয়ে যাবে। সুতরাং সতর্কতার সাথে শরীক নির্বাচন করা জরুরী। (খুলাসাতুল ফাতওয়া ৪১৫)

আবু হুরায়রা রাযি থেকে রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,

أَيُّها النَّاسُ، إنَّ اللَّهَ طَيِّبٌ لا يَقْبَلُ إلَّا طَيِّبًا

অবশ্যই আল্লাহ পবিত্র এবং তিনি পবিত্র (মালই) কবুল করে থাকেন।
(মুসলিম ২৩৯৩, তিরমিযী ২৯৮৯, দারেমী ২৭১৭)

পক্ষান্তরে বিষয়টি যদি অজানা থাকে, তাহলে তাহলে তার সাথে কুরবানী করা জায়েজ হবে। কেননা, আল্লাহ তাআলা বলেন,

لاَ يُكَلِّفُ اللّهُ نَفْسًا إِلاَّ وُسْعَهَا لَهَا مَا كَسَبَتْ وَعَلَيْهَا مَا اكْتَسَبَتْ

আল্লাহ কাউকে তার সাধ্যাতীত কোন কাজের ভার দেন না, সে তাই পায় যা সে উপার্জন করে এবং তাই তার উপর বর্তায় যা সে করে। (সূরা বাকারা ২৮৬)

01/03/2025

রোযা রেখে পর্ণগ্রাফী দেখে বীর্যপাত হলে রোযার হুকুম কী?
প্রশ্ন

আসসালামু আলাইকুম।

জনাব মুফতি সাহেব, কেউ যদি রোযা অবস্থায় পর্ণগ্রাফি দেখে এবং পর্ণগ্রাফি দেখা অবস্থায় যদি বীর্যপাত হয়। তাহলে কি তার রোযা ভেঙ্ঘে যাবে? নাকি ভাংগবে না?

যদি ভাঙ্গে তাহলে কি তার উপর শুধু কাযা ওয়াজিব হবে নাকি কাযা কাফফারা দুনুটা ওয়াজিব হবে। তারাতারি জানতে চাই উত্তর।

উত্তর

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

بسم الله الرحمن الرحيم

পর্ণগ্রাফী দেখা গোনাহের কাজ। রোযা অবস্থায় পর্ণগ্রাফী দেখা আরো মারাত্মক গোনাহের কাজ। এসব কারণে রোযা হালকা হয়ে যায়।

রোযা অবস্থায় পর্ণগ্রাফী দেখার সময় যদি হস্তমৈথুন ছাড়া এমনিতেই বীর্যপাত হয়, তাহলে রোযা ভঙ্গ হবে না।

কিন্তু হস্তমৈথুন করলে রোযা ভেঙ্গে যাবে। এতে শুধু কাযা আবশ্যক হবে। কাফফারা লাগবে না।

عن أبى هريرة رضى الله عنه قال: قال النبى صلى الله عليه وسلم: من لم يدع قول الزور والعمل به، فليس لله حاجة أن يدع طعامه وشرابه (صحيح البخارى-1/255، رقم-1903)

يعنى الفواحش من الأعمال، لأنها فى الإثم كالزور (مرقاة المفاتيح-4/259، تحت رقم الحديث-1999، كتاب الفتاوى-3/348)

(قَوْلُهُ: أَوْ ‌احْتَلَمَ ‌أَوْ ‌أَنْزَلَ بِنَظَرٍ) أَيْ لَا يُفْطِرُ لِحَدِيثِ السُّنَنِ لَا يُفْطِرُ مَنْ قَاءَ، وَلَا مَنْ احْتَلَمَ، وَلَا مَنْ احْتَجَمَ وَلِأَنَّهُ لَمْ يُوجَدْ الْجِمَاعُ صُورَةً لِعَدَمِ الْإِيلَاجِ حَقِيقَةً، وَلَا مَعْنَى لِعَدَمِ الْإِنْزَالِ عَنْ شَهْوَةِ الْمُبَاشَرَةِ (البحر الرائق، كتاب الصوم، باب ما يفسد الصوم وما لا يفسده، زكريا-2/272، دار الكتاب الإسلامي-2/293)

(أَوْ احْتَلَمَ أَوْ أَنْزَلَ بِنَظَرٍ) وَلَوْ إلَى فَرْجِهَا مِرَارًا (أَوْ بِفِكْرٍ) وَإِنْ طَالَ مَجْمَعٌ (رد المحتار، زكريا-3/367، كرتاشى-2/396)

الصائم إذا عالج ذكره حتى أمنى فعليه القضاء وهو المختار، وبه قال عامة المشائخ (الفتاوى الهندية-1/205، جديد-1/267، البحر الرائق، زكريا-2/475، كويته-2/272، الفتاوى التاتارخانية-3/385، رقم-4649)



والله اعلم بالصواب

03/01/2025

اللهم بارك لنا في رجب وشعبان وبلغنا رمضان
হে আল্লাহ! রজব ও শাবান মাসের বরকত দান করুন। এবং রমজান মাস পর্যন্ত আমাদের কে পৌঁছে দিন‌।

31/10/2024

বরকতময় ফজর আলহামদুলিল্লাহ

29/08/2024

আলহামদুলিল্লাহ, মহান আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে সুন্দর বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে কাজ করার তাওফীক দান করেন।

15/07/2024

#"মুহাররম ও আশুরার প্রচলিত কতিপয় বিদআত"

* ঢাল-বাজনা ও লাঠি খেলার আয়োজন করা।
* তাজিয়া তৈরি করা এবং তাজিয়াকে সম্মান করা।
* তাজিয়া মিছিল বের করা।
* মুহাররমের ১০ তারিখে কালো জামা- কাপড় পরিধান করা বা কালো পতাকার মিছিল বের করা।
* কিছু মানুষ মুহাররমের প্রথম দশ দিন গোশত, মাছ ইত্যাদি খায় না, বরং নিরামিষ খায়।
* মানুষ মুহাররমের প্রথম দশদিন মাটিতে ঘুমায়।
* মুহাররম উপলক্ষে কাওয়ালী,জারি বা মূর্চিয়া গাওয়ার আসর বসানো।
* শোক দিবস পালন করা।
ইত্যাদি ইত্যাদি।

এ কাজগুলো ইসলাম সমর্থন করে না তাই বেদআতের অন্তর্ভুক্ত।
আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে সকল প্রকার বিদআত ও কুসংস্কার পরিত্যাগ করে আমল করার তৌফিক দান করুন। আমীন আমীন।

10/04/2024

৪৩৬২. প্রশ্ন
বর্তমানে আমাদের দেশের কোথাও কোথাও দেখা যায়, মসজিদে ঈদের নামায পড়া হয়। অথচ ছোটবেলা থেকেই দেখে আসছি যে, ঈদের নামায ঈদগাহেই পড়া হয়। তাই প্রশ্ন হচ্ছে, এভাবে মসজিদে ঈদের নামায পড়ার বিধান কী?



উত্তর
ঈদের নামায ঈদগাহে ও খোলা মাঠে পড়া সুন্নত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং খোলাফায়ে রাশেদীন সকলেই ঈদের নামায ঈদগাহে পড়তেন। হযরত আবু সাঈদ খুদরী রা. বলেন-

كَانَ رَسُولُ اللّهِ صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ يَخْرُجُ يَوْمَ الفِطْرِ وَالأَضْحَى إِلَى المُصَلّى.

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহার দিন (ঈদের নামাযের জন্য) ঈদগাহে যেতেন। (সহীহ বুখারী, হাদীস ৯৫৬)

হযরত আলী রা. বলেন-

الْخُرُوجُ إِلَى الْجَبّانِ فِي الْعِيدَيْنِ مِنَ السّنّةِ.

দুই ঈদে (ঈদের নামাযের জন্য) খোলা মাঠে যাওয়া সুন্নত। (আলমুজামুল আওসাত, তাবারানী, হাদীস ৪০৪০)

তাই মাঠে পড়ার ব্যবস্থা থাকলে বিনা ওজরে মসজিদে ঈদের জামাত করা সুন্নতের খেলাফ হবে। তবে বিনা ওযরে মসজিদে ঈদের নামায আদায় করলেও তা আদায় হয়ে যাবে।

প্রকাশ থাকে যে, বর্তমানে শহরে ঈদগাহ কম বিধায় অধিকাংশ মসজিদে ঈদের জামাত হয়। জায়গা সংকুলান না হওয়া বা বৃষ্টি ইত্যাদির কারণে মসজিদে ঈদের নামায পড়লে সুন্নতের খেলাফ হবে না। ওযরের সময় মসজিদে পড়া হাদীস দ্বারা প্রমাণিত। যেমন, আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন-

أَصَابَهُمْ مَطَرٌ فِي يَوْمِ عِيدٍ، فَصَلّى بِهِمُ النّبِيّ صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ صَلَاةَ الْعِيدِ فِي الْمَسْجِدِ.

কোনো এক ঈদের দিন তাঁরা বৃষ্টিতে আবদ্ধ হয়ে পড়েন। ফলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবীদের নিয়ে মসজিদে ঈদের জামাত আদায় করেন। (সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ১১৫৩; সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস ১৩১৩)

Address

মিরপুর
Dhaka

Telephone

+8801739530178

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when সমকালীন মাসআলা - মাসায়েল posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Place Of Worship

Send a message to সমকালীন মাসআলা - মাসায়েল:

Share