বাংলাদেশ অগ্নিবীর, ঢাকা শাখা

  • Home
  • Bangladesh
  • Dhaka
  • বাংলাদেশ অগ্নিবীর, ঢাকা শাখা

বাংলাদেশ অগ্নিবীর, ঢাকা শাখা একটি বৈদিক সংগঠন

ঊর্ধ্ববাহুর্বিরৌম্যেষ ন চ কশ্চিচ্ছৃণোতি মে।ধর্মাদর্থশ্চ কামশ্চ স কিমর্থং ন সেব্যতে॥মহাভারত ১৮.৫.৬২ [CE ১৮.৫.৪৯]অর্থাৎ, আ...
24/05/2026

ঊর্ধ্ববাহুর্বিরৌম্যেষ ন চ কশ্চিচ্ছৃণোতি মে।
ধর্মাদর্থশ্চ কামশ্চ স কিমর্থং ন সেব্যতে॥

মহাভারত ১৮.৫.৬২ [CE ১৮.৫.৪৯]

অর্থাৎ, আমি বেদব্যাস দুই হাত উপরে তুলে চিৎকার করছি, কেউ শুনছে না; ধর্মের মাধ্যমেই মোক্ষ, অর্থ ও কাম লাভ হয় তবুও কেন মানুষ ধর্মের আচরণ করে না ?

© বাংলাদেশ অগ্নিবীর, ঢাকা শাখা

23/05/2026

❝ কোনো সম্প্রদায় কী অন্য সম্প্রদায়ের স্বীকৃতির অপেক্ষায় থাকে? ❞

🗣️ শ্রী দীপংকর সিংহ দীপ
ব্যাকরণ-বেদান্ত-স্মৃতি-পৌরোহিত্য-আয়ুর্বেদতীর্থ
শিক্ষা ও শাস্ত্রার্থ সমন্বয়ক, বাংলাদেশ অগ্নিবীর।

✅ যজুর্বেদ ১৯.৮৮ - প্রজননবিদ্যা নাকি অশ্লীলতা ❓⚠️ মহর্ষি দয়ানন্দ Vs পৌরাণিক সম্প্রদায়🔰প্রজননবিদ্যা জনসাধারণের জন্য কিছু ...
23/05/2026

✅ যজুর্বেদ ১৯.৮৮ - প্রজননবিদ্যা নাকি অশ্লীলতা ❓
⚠️ মহর্ষি দয়ানন্দ Vs পৌরাণিক সম্প্রদায়

🔰প্রজননবিদ্যা জনসাধারণের জন্য কিছু লজ্জা বা কিছুটা হাসির বিষয় হলেও প্রকৃতপক্ষে বুদ্ধিমান, সুশিক্ষিত ও পণ্ডিতের জন্য একটি পবিত্র তত্ত্ব। স্বাভাবিকভাবেই ধর্মীয় বিধানের উপর ভিত্তি করে, নিয়মতান্ত্রিকভাবে পরস্পরের সম্মতিতে গুণ-কর্ম-স্বভাবের উপর ভিত্তি করে পাণিগ্রহণই হলো বিবাহ। মহর্ষি দয়ানন্দ সরস্বতী যার সংজ্ঞায়ন করেছেন এভাবে—
❝নিয়মপূর্বক, প্রকাশ্যভাবে, স্বেচ্ছায় পাণিগ্রহণের নাম ‘বিবাহ’।❞
[সত্যার্থ-প্রকাশ, স্বমন্তব্যামন্তব্যপ্রকাশঃ]

আলোচ্য মন্ত্রটি হলো,
মুখং সদস্য শিরঽইৎ সতেন জিহ্বা পবিত্রমশ্বিনাসন্ত্সরস্বতী। চপ্যং ন পায়ুর্ভিষগস্য বালো বস্তির্ন শেপো হরসা তরস্বী॥
যজুর্বেদ ১৯.৮৮
অনুবাদ: হে মানবগণ! যেভাবে (জিহ্বা) রস-গ্রহণকারী জিহ্বা (সরস্বতী) বাণীর ন্যায় জ্ঞানবতী স্ত্রী (অস্য) এই পতির (সতেন) সুন্দর অবয়বের দ্বারা বিভক্ত মস্তকের সঙ্গে (শিরঃ) মস্তক রাখে, (আসন্) মুখের সমীপে (পবিত্রম্) পবিত্র (মুখম্) মুখ রাখে, সেভাবে (অশ্বিনা) গৃহাস্থাশ্রমের কর্তব্য সম্পাদনে নিযুক্ত স্ত্রী পুরুষ উভয়েই (ইৎ) এভাবে ব্যবহার করবে, তথা যিনি (অস্য) এই রোগের কবল থেকে (পায়ুঃ) রক্ষাকর্তা (ভিষক্) বৈদ্য (বালঃ) এবং বালকের (ন) ন্যায় (বস্তিঃ) বাস করিবার কারণ পুরুষের,(শেপঃ) উপস্থেন্দ্রিয় (হরসা) বলের সহিত (তরস্বী) কার্যকরী হয়, উহা (চপ্যম্) শান্ত করার (ন) ন্যায় (সৎ) বর্তমান-উপস্থিত সময়ে সন্তান উৎপত্তির হেতু হোক, সেই সব যথাবৎ করবে।
ভাবার্থ: স্ত্রী ও পুরুষ গর্ভাধানকালে পরস্পর মিলিত হয়ে প্রেম পূর্ণভাবে মুখের সঙ্গে মুখ, চোখের সঙ্গে চোখ, মনের সঙ্গে মন, শরীরের সঙ্গে শরীরের অনুসন্ধান করে গর্ভ ধারণ করবে, যাতে কুরূপ বা বক্রাঙ্গ সন্তান উৎপন্ন না হয়।

এখানে ভাবার্থে মহর্ষি দয়ানন্দ স্পষ্ট লিখেছেন, 'স্ত্রীপুরুষৌ গর্ভাধানসময়ে' অর্থাৎ এই মন্ত্র মূলত গর্ভাধান ক্রিয়ার জ্ঞান সম্পর্কে বর্ণনা করছে।

অবশ্য, এই অনুবাদ পৌরাণিকদের পছন্দ হবে না। কারণ মহীধর-উবটের ভাষ্য অনুযায়ী এই মন্ত্রে অর্থ হলো—
“সৎ (একটি পাত্রবিশেষ) ইন্দ্রের মুখরূপে নির্মিত হয়েছিল। ঐ সতের দ্বারাই ইন্দ্রের মস্তক নির্মিত হয়েছিল। পবিত্রের দ্বারা ইন্দ্রের জিহ্বা তৈরী হয়েছিল। অশ্বিনীযুগল এবং সরস্বতীদেবতা মুখ হয়েছিলেন। চপ্য এঁর পায়ু-ইন্দ্রিয় হয়েছিল। বালের দ্বারা অর্থাৎ সুরাগলনের বস্ত্রের দ্বারা এই ইন্দ্রের বৈদ্য, বস্তি অর্থাৎ গুহ্য এবং লিঙ্গ নির্মিত হয়েছিল এবং সেই লিঙ্গ বীর্যের দ্বারা অত্যন্ত বেগবান হয়েছিল।”
[সূত্র: বেদগ্রন্থমালা > ৩য় খণ্ড শুক্লযজুর্বেদ > মাধ্যন্দিন সংহিতা ১ম ভাগ পৃষ্ঠা ৪৪০]

অতএব, ইন্দ্রের লিঙ্গ-গুহ্য-পায়ু নির্মাণে যাদের জ্ঞান সীমাবদ্ধ, তাদের অন্তত আর যাই হোক বেদ নিয়ে কথা বলাটা শোভা দেয় না।

অভিযোগ: এই মন্ত্রের অনুবাদ ও ভাবার্থ অশ্লীল। স্বামী-স্ত্রী সমাগমের এমন বর্ণনা বেদের ভাষ্যানুবাদে করা অপরাধ ও বেদের অমর্যাদা।
উত্তর: বেদ সর্ববিদ্যার মূল গ্রন্থ। স্বামী-স্ত্রীর বৈধ কাম ও সন্তান প্রজননের নিমিত্তে গর্ভাধান কখনোই অশ্লীল নয়, পাশাপাশি গর্ভাধানের সংস্কার অব্দি প্রচলিত। চিকিৎসাশাস্ত্রে প্রজননতন্ত্র ও প্রক্রিয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, সাধারণে তা হাস্যপরিহাসের বিষয় কারণ জনসাধারণে এটি মূর্খের ন্যায় আলোচিত হয়। কিন্তু প্রকৃত জ্ঞানীর কাছে তা গভীর সৃষ্টিচক্রেরই একটি অপূর্ব রহস্য। সুতরাং মূর্খেরাই এরা তাৎপর্য না বুঝে নিন্দা করবে। বৈদিক শাস্ত্রে অজস্রস্থানে প্রজনন-গর্ভাধান ক্রিয়ার বর্ণনা রয়েছে। উদাহরণ—

১। স যামিচ্ছেৎ কাময়েত মেতি, তস্যামর্থং নিষ্ঠায়, মুখেন মুখং সন্ধায়, উপস্থমস্যা অভিমৃশ্য জপেৎ— অঙ্গাদঙ্গাৎসম্ভবসি, হৃদয়াদধিজায়সে । স ত্বমঙ্গকষায়ো'সি, দিগ্ধবিদ্ধমিব মাদয়েমামমূং ময়ীতি ॥
অথ যামিচ্ছেন্ ন গর্ভং দধীতেতি, তস্যামর্থং নিষ্ঠায়, মুখেন মুখং সন্ধায়, অভিপ্রাণ্যাপান্যাৎ, ইন্দ্রিয়েণ তে রেতসা রেত আদদ ইতি; অরেতা এব ভবতি ॥
অথ যামিচ্ছেদ্দধীতেতি, তস্যামর্থং নিষ্ঠায়, মুখেন মুখং সন্ধায়, অপান্যাভিপ্রাণ্যাৎ, ইন্দ্রিয়েণ তে রেতসা রেত আদধামীতি; গর্ভিণ্যেব ভবতি ॥
বৃহদারণ্যক উপনিষদ্ ৬।৪।৯-১১, মাধ্যন্দিন শতপথ ব্রাহ্মণ ১৪।৯।৪।৯-১১
অনুবাদ: যথোক্তগুণসম্পন্ন পুরুষ যাকে ইচ্ছা করেন যে, এই স্ত্রী আমাকে কামনা করুক; সেই স্ত্রীতে আপনার জননেন্দ্রিয় স্থাপন করে নিজের মুখের সঙ্গে তার মুখ মিলিত করে, জননেন্দ্রিয় স্পর্শ করে-'অঙ্গাদঙ্গাতৎ' ইত্যাদি মন্ত্র জপ করবেন। সেই পুরুষ যদি ইচ্ছা করেন, উক্ত স্ত্রী গর্ভধারণ না করেন, তাহলে জননেন্দ্রিয় স্থাপন পূর্বক, মুখে মুখ মিলিয়ে-স্ত্রীদেহে বায়ুপ্রেরণ সম্পাদনের দ্বারা 'ইন্দ্রিয়েণ তে' ইত্যাদি মন্ত্রে অপান-বায়ুর কার্য করবেন। এরূপ করলে সেই স্ত্রী গর্ভধারণ করবেন না। সেই পুরুষ যে স্ত্রীকে গর্ভধারিণী করতে ইচ্ছা করেন, পূর্বের ন্যায় অর্থ নিবেশন করে প্রথমে স্ত্রীদেহ থেকে বায়ু আকর্ষণ করবেন, তারপর 'ইন্দ্রিয়েণ তে' ইত্যাদি মন্ত্রে অভিপ্রাণন অর্থাৎ স্ববায়ু স্ত্রীদেহে সঞ্চারণ করবেন। এরূপ হলে সেই স্ত্রী নিশ্চয়ই গর্ভিণী হবেন।
[সূত্র: বেদগ্রন্থমালা > ১৯তম খণ্ড > প্রধান উপনিষদ্ > বৃহদারণ্যক ৬.৪.৯-১১, পৃষ্ঠা ৪৬১-৬২]

এভাবে স্পষ্ট বর্ণনা থাকা সত্ত্বেও যদি না জানেন মহর্ষি দয়ানন্দ কোথা থেকে বিস্তারিত পাঠ করেছেন ও লিখেছেন সত্যার্থপ্রকাশে তবে বলব, অন্ততঃ নিজেদের আচার্যদের ভাষ্য তো পড়ুন। অজ্ঞতা প্রদর্শন খুব একটা গর্বের কাজ নয়।

২। ন চ ন্যুব্জাং পার্শ্বগতাং বা সংসেবেত। ন্যুব্জায়া বাতো বলবান্ স যোনিং পীডয়তি, পার্শ্বগতায়া দক্ষিণে পার্শ্বে শ্লেষ্মা স চ্যুতঃ পিদধাতি গর্ভাশয়ং, বামে পার্শ্বে পিত্তন্তদস্যাঃ পীড়িতং বিদহতি রক্তং শুক্রং চ, তস্মাদুত্তানা বীজং গৃহ্ণীয়াৎ; তথাহি যথাস্থানমবতিষ্ঠন্তে দোষাঃ। পর্যাপ্তে চৈনাং শীতোদকেন পরিষিঞ্চেৎ। তত্রাত্যশিতা ক্ষুধিতা পিপাসিতা ভীতা বিমনাঃ শোকার্তা ক্রুদ্ধাঽন্যং চ পুমাংসমিচ্ছন্তী মৈথুনে চাতিকামা বা ন গর্ভং ধত্তে,বিগুণাং বা প্রজাং জনয়তি।
চরক সংহিতা শারীরস্থান ৮।৬
অনুবাদ: স্ত্রীকে ন্যুব্জ বা পার্শ্বগত ভাবে শয়ন করিয়ে সঙ্গম করবে না। ন্যুব্জ অবস্থায় রমণ করলে, বায়ু বলবান হয়ে যোনিকে পীড়িত করে। পার্শ্বগত অবস্থায় থাকলে, দক্ষিণ পার্শ্বে শ্লেষ্মা সঞ্চিত হয়ে গর্ভাশয় আচ্ছাদিত করে, এবং বামপার্শ্বে পিত্ত পীড়িত হয়ে গর্ভাশয়গত শুক্র-শোণিতকে বিদগ্ধ করে। অতএব স্ত্রী উত্তানভাবে (চিৎ হয়ে) শয়ন করে বীজগ্রহণ করবে। কারণ, উত্তানভাবে থাকলে, তার বাতাদি দোষসকল যথাস্থানে অবস্থিত থাকে। মৈথুনান্তে স্ত্রী, শরীরে শীতল জল পরিষেচন করবে। অতিভুক্তা, ক্ষুধিতা, পিপাসিতা, ভীতা, বিমনাঃ, শোকার্তা, ক্রুদ্ধা, রমণকালে অন্য পুরুষাকাঙ্ক্ষিণী, কিংবা অতিকামার্তা স্ত্রী গর্ভ ধারণ করে না অথবা গর্ভ গ্রহণ করলেও বিকৃত সন্তান উৎপাদন করে।

তা, সম্মানিত অভিযোগকারীদের জন্মদাতা-দাত্রীগণ সম্ভবত বৈদিক বিধানে আগ্রহ নেই, রুচিও নেই। তাই এমন বিকৃত সন্তান উৎপন্ন হওয়াটাই স্বাভাবিক। আমরা তাদের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করি।

আর, হ্যাঁ, আপনাদের বক্তব্য ও আপত্তি অনুযায়ী তবে গর্ভাধানের সময় 'নাক পায়ুর উপর,পায়ু মুখের উপর, অপ্রসন্ন হয়ে, নাচতে নাচতে গান বাজিয়ে' বীর্যাধান করা উচিত? অবশ্য অশ্ববীর্যগ্রহণ যাদের পরম্পরাগত স্মার্ত-কল্প-সিদ্ধান্ত তাদের কাছে বিচিত্র নয় বটে এমন আশা করা।
সুতরাং যাকে আপনারা বেদ হিসেবে স্বীকার করেন সেই বৃহদারণ্যক উপনিষদ তথা শতপথ ব্রাহ্মণ এবং উপবেদ হিসেবে খ্যাত আয়ুর্বেদেও যার বর্ণনা বিস্তৃতভাবে রয়েছে তার মূল তত্ত্ব বেদে থাকা কীভাবে অশ্লীল ও অযৌক্তিক? প্রকৃতপক্ষে শাস্ত্রের গভীর অধ্যয়ন না থাকলে কিংবা কেবল মস্তিষ্কে বিদ্বেষ-হিংসা পরিপূর্ণ থাকলেই এমন অভিযোগ করা সম্ভব।

অভিযোগ: দয়ানন্দ স্বামী বীর্যাকর্ষণে কথাটি লিখেছেন তা কোথায় আছে?
উত্তর: তা আপনার অতীব মান্য পঞ্চমবেদ মহাভারতেই আছে। চোখ মেলেই দেখুন—
বায়ুঃ সমুৎকর্ষতি গর্ভয়োনিমৃতৌ রেতঃ পুষ্পরসানুপৃক্তম্ ।
স তত্র তন্মাত্রকৃতাধিকারঃ ক্রমেণ সংবর্ধয়তীহ গর্ভম্ ॥
মহাভারত আদিপর্ব ৯০।১৪
অনুবাদ: ঋতুকালে পুষ্পরস সংযুক্ত বীর্যকে বায়ু গর্ভাশয়ে আকর্ষণ করে। সেখানে অর্থাৎ গর্ভাশয়ে সূক্ষ্মভূত তাতে অধিকার করে এবং ক্রমশ গর্ভের বৃদ্ধি করতে থাকে।

অবশ্য, বীর্যাকর্ষণ নিয়ে আপনাদের আপত্তি কেন এটা অবোধগম্য। যেখানে, আপনাদের পরমমান্য পঞ্চমবেদস্বরূপ পুরাণেই এই বীর্যাকর্ষণের ব্যতিক্রমের কারণেই তুলসী দেবীর নিকটে বিষ্ণু নিজের শঙ্খচূড় ছদ্মবেশের ধরা পড়েছিল। দেখুন—
ইত্যুক্ত্বা জগতাং নাথঃ শয়নং চ চকার হ ॥ ১৬ ॥
রেমে রমাপতিস্তত্র রাময়া সহ নারদ ।
সা সাধ্বী সুখসম্ভোগাদাকর্ষণব্যতিক্রমাৎ ॥ ১৭ ॥
সর্বং বিতর্কয়ামাস কস্ত্বমেবেত্যুবাচ সা ।
তুলস্যুবাচ
কো বা ত্বং বদ মায়েশ ভুক্তাহং মায়যা ত্বয়া ॥ ১৮ ॥
দেবীভাগবত ৯।২৪।১৬-১৮
অনুবাদ: হে নারদ! পরে রমাপতি সেই রমার সাথে রমণ করলে সাধ্বী তুলসী সুখসম্ভোগের ও আকর্ষণ ব্যতিক্রমহেতু সন্দেহান্বিত হয়ে বললেন- হে মায়েশ! তুমি কে? বল, তুমি মায়াবলে আমাকে উপভোগ করেআমার সতীত্বনাশ করেছ।

অভিযোগ: অঙ্গস্থাপন তো বুঝলাম, কিন্তু এভাবে শরীর স্থাপন না করলেই যে কুরূপ সন্তান উৎপন্ন হবে এর প্রমাণ কী?
উত্তর: মহর্ষি কখনোই শুধুমাত্র শারীরিক অবস্থানের কথাই লিখেননি। তিনি লিখেছেন, "স্ত্রীপুরুষৌ গর্ভাধানসময়ে পরস্পরাঙ্গব্যাপিনৌ ভূত্বা মুখেন মুখং চক্ষুষা চক্ষুঃ মনসা মনঃ শরীরেণ শরীরং চানুসন্ধায় গর্ভং দধ্যাতাম্, যতঃ কুরূপং বক্রাঙ্গং বাঽপত্যন্ন স্যাৎ" অর্থাৎ এখানে মনের সাথে মনের উল্লেখও তিনি করেছেন। নিশ্চয়ই এটা কোনো বাহ্য অঙ্গ নয়?
পাশাপাশি, 'মহাভারত'–যাকে আপনারা পরমপ্রমাণ হিসেবে মানেন স্বীয় পরম্পরায়, সেখানে ধৃতরাষ্ট্রের অন্ধত্ব ও পাণ্ডুর পাণ্ডুবর্ণ প্রাপ্তি হিসেবে কী লেখা হয়েছে?
তস্য কৃষ্ণস্য কপিলাং জটাং দীপ্তে চ লোচনে।
বব্রূণি চৈব শ্মশ্রূমি দৃষ্ট্বা দেবী ন্যমীলয়ৎ॥
সম্ভূব তয়া সার্ধং মাতুঃ প্রিয়চিকীর্ষয়া।
ভয়াৎকাশিসুতা তং তু নাশক্নোদভিবীক্ষিতুম্॥
কিন্তু মাতুঃ স বৈগুণ্যাদন্ধ এব ভবিষ্যতি॥
মহাভারত আদিপর্ব ১০৫।৫,৬,১০
অনুবাদ: ব্যাসের শরীর কৃষ্ণবর্ণ, জটা কপিলবর্ণ ও চোখ দীপ্তিমান ছিল, দাঁড়ি-গোঁফ বাদামীবর্ণের ছিল। মায়ের প্রিয়কর্ম করার হেতু ব্যাস তার সাথে সমাগম করলেন, কিন্তু কাশীরাজকন্যা অম্বিকা ভয়ের কারণে চোখ বন্ধ করে রাখলেন, যাতে দেখতে পেলেন না। বেদব্যাস বলেন, মায়ের এই দোষে তার পুত্র অন্ধ হবে।
বিবর্ণা পাণ্ডুসঙ্কাশা সমপদ্যত ভারত।
তাং ভীতাং পাণ্ডুসঙ্কাশাং বিষণ্ণাং প্রেক্ষ্য ভারত॥
ব্যাসঃ সত্যবতীপুত্র ইদং বচনমব্রবীৎ।
যস্মাৎপাণ্ডুত্বমাপন্না বিরূপং প্রেক্ষ্য মামিহ॥
তস্মাদেষ সুতস্তে বৈ পাণ্ডুরেব ভবিষ্যতি।
মহাভারত আদিপর্ব ১০৫।১৫-১৭
অনুবাদ: মহর্ষি বেদব্যাসকে দেখে অম্বালিকা বিবর্ণ তথা পাণ্ডুবর্ণসম হয়ে গেল। তখন সেই ভীত, বিষাদগ্রস্ত, পাণ্ডবর্ণসম অম্বালিকাকে দেখে বেদব্যাস বললেন তার পুত্রও পাণ্ডুবর্ণেরই হবে।

যদিও আপনাদের তো আবার গর্ভাকর্ষণ করাতে মানুষে পোষায় না, ঘোড়াতে আপনারা অভ্যস্ত। তথাহি পৌরাণিকভাষ্যে—.আহমজানি গর্ভধমা ত্বমজাসি গর্ভধম্ ॥
তাঽউভৌ চতুরঃ পদঃ সম্প্রসারয়াব স্বর্গে লোকে প্রোর্ণুবাথাং বৃষা বাজী রেতোধা রেতো দধাতু ॥
উৎসক্থ্যাঽঅব গুদং ধেহি সমঞ্জিং চারয়া বৃষন্ ।
য স্ত্রীণাং জীবভোজনঃ ॥
যজুর্বেদ ২৩.১৯-২১
মহীধর-উবট ভাষ্যানুযায়ী অনুবাদ:
১৯.[মহিষী অশ্বের পার্শ্বে শায়তা হয়ে]হে অশ্ব! গর্ভধারক তোমার তেজ আমি আকর্ষণ করে আপন যোনিতে ধারণ করছি। তুমি সেই গর্ভধারক আপন তেজকে আকর্ষণ পূর্বক আমার যোনিতে নিষেক করো৷
২০. হে অশ্ব! আগত হও। আমি ও তুমি উভয়ে আপন চারটি পদ বিস্তৃত করব। হে অশ্ব ও মহিষী! তোমরা দুজনে এই স্বর্গীয় যজ্ঞভূমিতে নিজেদের আচ্ছাদিত করে নাও। (মহিষী কর্তৃক অশ্বের লিঙ্গটি ধরে আপন যোনিতে প্রবিষ্ট করণীয়) বীর্যবান্ অশ্ব, বীর্যকে ধারণশীল, আমাতে আপন বীর্য স্থাপন করুক৷
২১. (যজমান কর্তৃক অশ্বকে কহনীয়)–হে সেচক অশ্ব! উত্থিত হয়ে জঙ্ঘাশালিনী এই মহিষীর যোনিতে আপন লিঙ্গ রক্ষা করো–তাকে (লিঙ্গকে) অগ্র পশ্চাৎ চালিত করো। এই লিঙ্গই স্ত্রীগণের জীবন ও ভোজন স্বরূপ৷

অতএব, অন্তত আপনাদের এই নিয়ে কথা বলা শোভা দেয় না যে কীভাবে গর্ভাধান করলে কেমন সন্তান উৎপন্ন হবে। আগে নিজেদের চেহারা আয়নায় দেখুন, অপরের পিঠ দেখা সহজ।

🖋 শ্রী দীপংকর সিংহ দীপ
ব্যাকরণ-বেদান্ত-স্মৃতি-পৌরোহিত্য-আয়ুর্বেদতীর্থ
শিক্ষা ও শাস্ত্রার্থ সমন্বয়ক
© বাংলাদেশ অগ্নিবীর

🔥 বাংলাদেশ অগ্নিবীর ঢাকা বিভাগীয় শাখার '২৬~ মে মাসের ২য় স্বাধ্যায় অনুষ্ঠিত 🔥👉 ১২টায় মূখ্য বৃহৎ-যজ্ঞানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।...
22/05/2026

🔥 বাংলাদেশ অগ্নিবীর ঢাকা বিভাগীয় শাখার '২৬~ মে মাসের ২য় স্বাধ্যায় অনুষ্ঠিত 🔥
👉 ১২টায় মূখ্য বৃহৎ-যজ্ঞানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। যজ্ঞানুষ্ঠানের পূর্বে ত্রৈতবাদ তথা ঈশ্বর-জীব-প্রকৃতি সম্পর্কে আলোচনা করা হয়।
▪️পৌরোহিত্য: শ্রী দীপংকর সিংহ দীপ
▪️অতিথি যজ্ঞের ঋত্বিক: শ্রী অমিত দাস ও শ্রী উদয়ন সরকার
🔰 আজকের বিশেষ প্রবচন “আর্য, আর্যত্ব, সংস্থা তথা সংগঠনের গুরুত্ব, বাস্তবতার পরিপ্রেক্ষিতে সংগঠনের ভূমিকা ও নিজের অবদান রাখার সুযোগ-কৌশল-পদ্ধতি” বাংলাদেশ অগ্নিবীরের কেন্দ্রীয় পেইজে সরাসরি সম্প্রচার করা হয় ও 'আর্ষ সিদ্ধান্ত' ইউটিউব চ্যানেলেও সংরক্ষণ করা হয়েছে।
💠 স্বাধ্যায় সমাপ্তিতে সকলকে সাত্ত্বিক ভোজন করানো হয় ও আগ্রহীগণ গ্রন্থ সংগ্রহ করেন।
পরবর্তী স্বাধ্যায়ে সবাইকে আমন্ত্রণ । আগ্রহীগণ কমেন্টে জানাতে পারেন কিংবা পেইজের ইনবক্সে নক দিতে পারেন ।
© বাংলাদেশ অগ্নিবীর, ঢাকা বিভাগীয় শাখা

✅ ❝মর্যাদা পুরুষোত্তম❞ ~ হাতে বাংলাদেশ অগ্নিবীর ঢাকা বিভাগীয় শাখার একাংশ🔰আপনি কি রামায়ণ ও শ্রীরামচন্দ্র নিয়ে আজীবন অপপ্র...
22/05/2026

✅ ❝মর্যাদা পুরুষোত্তম❞ ~ হাতে বাংলাদেশ অগ্নিবীর ঢাকা বিভাগীয় শাখার একাংশ

🔰আপনি কি রামায়ণ ও শ্রীরামচন্দ্র নিয়ে আজীবন অপপ্রচার শুনে হতাশ?
▪️তবে আজই সংগ্রহ করুন বাংলা ভাষার সর্বপ্রথম পূর্ণাঙ্গ রামায়ণ গবেষণা গ্রন্থ ❝মর্যাদা পুরুষোত্তম❞।

🔰আজীবন আপনাকে শুনতে হয়েছে—
রামায়ণ কেবলই গল্প, এর কোন প্রমাণ নেই, রাম নাকি সীতাকে বনবাস দিয়েছিল, পুরুষতান্ত্রিক রাম সীতার অগ্নিপরীক্ষা নিয়েছিল, বানর কি উড়তে পারে, বানর কীভাবে মানুষের সাথে কথা বলে, সমুদ্রে কীভাবে সেতু বানায়? জটায়ু পাখি কীভাবে মানুষের মতো কথা বলে, যুদ্ধ করে? রাক্ষস তো গল্প মাত্র, ১০ মাথাওয়ালা মানুষ কি থাকতে পারে?
এইসব অভিযোগ শুনতে শুনতে কি আপনি ক্লান্ত? আপনার প্রিয় রামায়ণের নামে সকল শঙ্কা দূর করতে চান? রামায়ণের ঐতিহাসিক ও বৈজ্ঞানিক প্রমাণ জানতে চান? এই গ্রন্থে পাবেন রামায়ণের নামে প্রচলিত গল্পগুলোর আসল রহস্য, রামায়ণের সংকলন ও প্রক্ষেপণের বৃত্তান্ত, রামায়ণের প্রত্নতাত্ত্বিক, ঐতিহাসিক প্রমাণ, ভাষাতাতত্ত্বিক ব্যাখ্যা, রামমন্দির নিয়ে সকল অপপ্রচারের খণ্ডন, রামসেতুর ব্যাখ্যা, বঙ্গ অঞ্চলে রামায়ণের ইতিহাস, সমস্ত রামায়ণ সংক্ষেপে এবং রামায়ণের ২০০ অমৃত বাণীর সংকলন।
✅ নাম: মর্যাদা পুরুষোত্তম
▪️ভাষা: বাংলা
▪️পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৭৯
▪️গ্রন্থের আকার: হার্ডকভার
🔹প্রকাশক: স্বাধ্যায় প্রকাশনী
▪️মূল্য: ৪০০ টাকা
[বি.দ্র.: কুরিয়ার চার্জ পৃথক]

গ্রন্থটি সংগ্রহ করতে যোগাযোগ~
অরূপ কুমার-01673-012197
জনি আর্য-01822-310609
© বাংলাদেশ অগ্নিবীর

✅পরিবেশ ও মানুষ : বেদ যা জানায় আমাদের৪০–৫০ বছর পূর্বে আমরা ‘পরিবেশ’ শব্দের সঙ্গে সম্পূর্ণভাবে অপরিচিত ছিলাম। অনেকের আপত্...
21/05/2026

✅পরিবেশ ও মানুষ : বেদ যা জানায় আমাদের

৪০–৫০ বছর পূর্বে আমরা ‘পরিবেশ’ শব্দের সঙ্গে সম্পূর্ণভাবে অপরিচিত ছিলাম। অনেকের আপত্তি এই যে, যখন বেদে ‘পরিবেশ’ শব্দটির উল্লেখই নেই, তখন আপনারা বেদে পরিবেশের কথা কীভাবে বলেন? তাঁদের প্রতি আমার নিবেদন এই যে নাম গুরুত্বপূর্ণ, না কাজ গুরুত্বপূর্ণ? বেদে ‘পরিবেশ’ নামটি না থাকলেও শত শত মন্ত্রে পরিবেশকে বিশুদ্ধ ও সুষম রাখার কথা বলা হয়েছে।
যখন ৪০–৫০ বছর আগে ‘পরিবেশ’ শব্দটির গুরুত্বই শিক্ষাগতভাবে কেউ জানত না, বা নাম তো দূরের কথা, পরিবেশকে বিশুদ্ধ রাখার বিষয়েও কেউ অবগত ছিল না তখন কি পরিবেশকে সুস্থ ও সুষম রাখার প্রয়োজন ছিল না? যখন উক্ত শব্দটিই প্রচলিত ছিল না, তখন হাজার হাজার বছর পূর্বে এর কল্পনাও করা সম্ভব ছিল না। কিন্তু বৈদিক ঋষিরা এই বিষয়ে অবগত হয়েছিলেন যে, বেদে ঈশ্বর পৃথিবীর পরিবেশকে বিশুদ্ধ রাখার জ্ঞান দিয়েছেন।
‘পরি + আবরণ’ থেকে ‘পর্যাবরণ=পরিবেশ’ শব্দের উৎপত্তি হয়েছে। যার অর্থ চারদিক থেকে আবৃত করা বা আচ্ছাদিত করা। উভয় শব্দই সংস্কৃত ভাষা থেকে এসেছে। ঋষিরা জেনে গিয়েছিলেন যে, পৃথিবীর পরিবেশ মানুষের শারীরিক, মানসিক, বৌদ্ধিক এবং আধ্যাত্মিক স্বাস্থ্যের উপর প্রভাব ফেলে।

ইন্দ্র জীব সূর্য জীব দেবা জীবা জীব্যাসমহম্।
সর্বমায়ুর্জীব্যাসম্ ॥
অথর্ববেদ ১৯।৭০।১
অর্থাৎ, হে পরমাত্মা! আপনি আমাদের মাঝে নিত্য বিরাজ করুন। হে সূর্যসদৃশ তেজস্বী আত্মা! আপনি দীপ্তিমান থাকুন, আমাদের কল্যাণময় জীবন দান করুন। হে দিব্য শক্তিসমূহ! আপনারা জ্যোতির্ময় হয়ে উঠুন। আমিও যেন এক দিব্য আত্মা হিসেবে জাজ্বল্যমান ও দীপ্তিময় জীবন লাভ করি। আমাকে অবশ্যই পূর্ণাঙ্গরূপে, অখণ্ডভাবে, তেজস্বী ও ঐশ্বরিক শক্তিতে বলীয়ান হয়ে বেঁচে থাকতে হবে।
“যৎ পিণ্ডে তৎ ব্রহ্মাণ্ডে” = যা শরীরে আছে, তা ব্রহ্মাণ্ডেও আছে; এবং যা ব্রহ্মাণ্ডে দেখা যায়, তা শরীরেও বিদ্যমান। মানবদেহ ব্রহ্মাণ্ডেরই একটি ক্ষুদ্র রূপ; তার প্রতিরূপ। ব্রহ্মাণ্ড পঞ্চমহাভূত দ্বারা গঠিত, আমাদের শরীরও পঞ্চমহাভূত দ্বারা নির্মিত। পৃথিবী, অপ (জল), তেজ (অগ্নি), বায়ু এবং আকাশ এই পাঁচ তত্ত্বের যথাযথ সমন্বয়ই সৃষ্টির কার্য-কারণ সম্পর্ক।
যখন পঞ্চমহাভূত সূক্ষ্ম অবস্থায় থাকে এবং দৃশ্যমান সৃষ্টি বিনষ্ট হয়ে আমাদের চোখে ধরা পড়ে না, তখন তা কারণরূপ প্রকৃতি হিসেবে অবস্থান করে। আর যখন তা স্থূল, অর্থাৎ দৃশ্যমান রূপে প্রকাশিত হয়, তখন তাকে কার্যরূপ প্রকৃতি বলা হয়।
আমাদের শরীরেও এই পাঁচ তত্ত্ব জীবিত অবস্থায় কার্যরূপে অবস্থান করে। কারণরূপ প্রকৃতির যথাযথ সংযোগ বা সংগঠন দ্বারা আমাদের শরীর গঠিত হয়, এবং এর বিচ্ছেদ দ্বারা শরীর নষ্ট হয়ে যায়।
অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পাদনের সময় যখন শরীরের প্রতিটি উপাদান পৃথক হয়ে কারণরূপ প্রকৃতিতে মিলিত হয়, তখন বেদমন্ত্রের মাধ্যমে সেই সেই উপাদানকে তাদের নিজ নিজ মূল অবস্থায় বিলীন হওয়ার উদ্দেশ্যে আহুতি দেওয়া হয়। এখানে সেই আহুতিগুলির উল্লেখ করা হয়েছে, যেগুলি শরীরের অঙ্গসমূহের সঙ্গে সম্পর্কিত।

স্বাহাপ্রাণেভ্যঃ সাধিপতিকেভ্যঃ পৃথিব্যৈ স্বাহেগ্নয়ে স্বাহেন্তরিক্ষায় স্বাহা বায়বে স্বাহা । দিবে স্বাহা । সূর্যায় স্বাহা ॥ দিগ্ভ্যঃ স্বাহা চন্দ্রায় স্বাহা নক্ষত্রেভ্যঃ স্বাহা অদ্ভ্যঃ স্বাহা বরুণায় স্বাহা । নাভ্যৈ স্বাহা পূতায় স্বাহা ॥ বাচে স্বাহা প্রাণায় স্বাহা প্রাণায় স্বাহা চক্ষুষে স্বাহা চক্ষুষে স্বাহা শ্রোত্রায় স্বাহা শ্রোত্রায় স্বাহা ॥ লোমভ্যঃ স্বাহা লোমভ্যঃ স্বাহা ত্বচে স্বাহা ত্বচে স্বাহা লোহিতায় স্বাহা লোহিতায় স্বাহা মেদোভ্যঃ স্বাহা মেদোভ্যঃ স্বাহা । মাংসেভ্যঃ স্বাহা মাংসেভ্যঃ স্বাহা স্নাবভ্যঃ স্বাহা স্নাবভ্যঃ স্বাহাস্থভ্যঃ স্বাহাস্থভ্যঃ স্বাহা মজ্জভ্যঃ স্বাহা মজ্জভ্যঃ স্বাহা । রেতসে স্বাহা পায়বে স্বাহা ॥
অর্থাৎ, পৃথিবী, প্রাণ, অগ্নি, অন্তরীক্ষ, বায়ু, জল, চক্ষু, কর্ণ, লোম, ত্বক, মেদ (চর্বি), রক্ত, মাংস, স্নায়ু, অস্থি, মজ্জা (Bone Marrow), রজ, বীর্য প্রভৃতি তাদের মূল অবস্থা কারণরূপ প্রকৃতিতে বিলীন হয়ে সত্য ক্রিয়া সম্পাদন করে।
উক্ত আহুতিগুলো শরীরের উপাদান ও অঙ্গসমূহের সঙ্গে সম্পর্কিত। এই মন্ত্রগুলো যজুর্বেদের ৩৯তম অধ্যায়ের মন্ত্র ১-৩,১০ অন্তর্ভুক্ত।
পঞ্চমহাভূত দ্বারা আমাদের স্থূল শরীর গঠিত। শরীরের স্থূল পদার্থ যেমন মাংস, অস্থি, মজ্জা, টিস্যু (শরীরের একক), দাঁত, নখ, লোম, মেদ প্রভৃতি পৃথিবী তত্ত্ব থেকে গঠিত। ‘আপ’ অর্থাৎ জল থেকে রক্ত, কফ, মূত্র প্রভৃতি তরল পদার্থ তৈরি হয়েছে। রক্তে জলের অংশ অত্যন্ত বেশি। যেমন পৃথিবীর অধিকাংশ অংশ (৭১%) জল দ্বারা পরিব্যাপ্ত, তেমনি শরীরেও জলের অংশ অধিক পরিমাণে রয়েছে। এই জলীয় অংশ সামান্য কমে গেলেও আমাদের জীবন বিপদের মধ্যে পড়ে। তাই খাদ্যে অন্নের দ্বিগুণ জল গ্রহণ করা উচিত।
তৃতীয় তত্ত্ব তেজ, অর্থাৎ অগ্নি মহাভূত, যা শরীরে গতি ও শক্তি বজায় রাখে। অগ্নির শিখা সর্বদা উপরের দিকে ওঠে। এটি মানুষের চেতনার ঊর্ধ্বগতির প্রতীক। আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত অগ্নির মতো সবসময় নিম্নগামিতা ত্যাগ করে উচ্চতর আদর্শের দিকে ধাবিত হওয়া। আমাদের শরীরে পাঁচ প্রকার অগ্নি কাজ করে। এই অগ্নিই শরীরের সমস্ত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে শক্তি পৌঁছে দিয়ে সচল রাখে। অগ্নির দ্বারাই শরীরের অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক অঙ্গসমূহের কার্যক্রম পরিচালিত হয়। যখন মানুষ মৃত্যুর দিকে অগ্রসর হয়, তখন প্রথমে অগ্নি শরীরকে ত্যাগ করতে শুরু করে। ধীরে ধীরে সমস্ত অঙ্গ শিথিল ও শীতল হতে থাকে। আমাদের কষ্টার্জিত সৎ উপার্জন এবং অন্তরের নিষ্কাম প্রেমই হলো 'বিশুদ্ধ ঘৃত' । যখন আমরা এই পবিত্র ভাব অগ্নিরূপী ঈশ্বরের চরণে উৎসর্গ করি, তখন আমাদের চারপাশের পরিবেশ এবং আমাদের মন উভয়ই পবিত্র হয়ে ওঠে।
অগ্নিই শরীরের অধিপতি। যেমন অগ্নিতে নিক্ষিপ্ত সোনা শুদ্ধ হয়ে বেরিয়ে আসে, তেমনি অগ্নি শরীরের সমস্ত দোষ দূর করে তাকে সুস্থ করে। অগ্নির একটি নাম হলো 'পাবক' বা যা সবকিছুকে পবিত্র করে। আগুন নিজের মধ্যে কোনো অপবিত্রতা রাখে না, বরং যা কিছু তার সংস্পর্শে আসে, তাকেই সে পুড়িয়ে খাঁটি সোনায় পরিণত করে। একইভাবে, ঈশ্বরের জ্ঞানাগ্নি মানুষের ভেতরের কাম, ক্রোধ, লোভ ও মোহকে পুড়িয়ে আত্মাকে মুক্ত করে।

সুসমিদ্ধায় শোচিষে ঘৃতন্তীব্রং জুহোতন ।
অগ্নয়ে জাতবেদসে ॥
যজুর্বেদ ৩।২
অর্থাৎ, সেই সর্বব্যাপী, প্রজ্জ্বলিত, ঊর্ধ্বগামী, ভাস্বর ও দেদীপ্যমান ব্রহ্মের প্রতি পারমার্থিক ও যাজ্ঞিক উদ্দেশ্য সমর্পণ করুন, যিনি চারপাশের সমস্ত কিছুকে পবিত্র ও শোধন করেন আপনারা বিশুদ্ধ, সুগন্ধি, দাহ্য এবং পরম পাবন ঘৃতের আহুতি উৎসর্গ করুন। এই ঘৃতাহুতির মাধ্যমে আমাদের অন্তরের ও বাহ্যিক জগতের সমস্ত নেতিবাচকতা দগ্ধ হয়ে পবিত্রতায় রূপান্তরিত হোক।
অগ্নি যেমন জাগতিক পদার্থকে শুদ্ধ ও রূপান্তরিত করে, তেমনি শরীরের জীবাণু ও রোগাণুকেও নষ্ট করে। অগ্নি সকল পদার্থের মধ্যে শক্তিশালী। যজুর্বেদে বলা হয়েছে,

অগ্নিরস্মি জন্মনা জাতবেদা ঘৃতম্মে চক্ষুরমৃতম্ম আসন্ ।
অর্কস্ত্রিধাতূ রজসো বিমানো জস্রো ঘর্মা হবিরস্মি নাম ॥
যজুর্বেদ ১৮।৬৬
অর্থাৎ, আমিই অগ্নি—জন্মসূত্রে উৎপন্ন প্রতিটি জীবের মাঝে আমিই পরিব্যাপ্ত (জাতবেদা)। এই যজ্ঞের ঘৃতই হলো আমার চক্ষুর জ্যোতি এবং অমৃতই হলো আমার মুখ। আমি যা কিছু গ্রহণ করি, তা-ই অমৃতে রূপান্তরিত হয়। ঋক, যজু এবং সামবেদের মন্ত্রসমূহ দ্বারা আমি নিত্য পূজিত ও সমাদৃত। আকাশ (মহাশূন্য), বায়ু (প্রাণশক্তি) এবং স্বয়ং অগ্নি—এই ত্রিমাত্রিক উপাদানের দ্বারা আমার সৃজনী সত্তার প্রকাশ গঠিত। আমি অনন্ত আকাশকে ব্যাপ্ত ও আবৃত করে রেখেছি; আমি চির-গতিশীল এবং সদা সক্রিয়। আমিই সূর্যের উত্তাপ, আমিই গ্রীষ্মের প্রখর আলো। আমিই যজ্ঞের পবিত্র অন্ন, এবং এই নিখিল ব্রহ্মাণ্ডে আমার একটি স্বতন্ত্র নাম ও চিরন্তন পরিচয় রয়েছে।

শ্রী দীপংকর সিংহ দীপ
ব্যাকরণ-বেদান্ত-স্মৃতি-পৌরোহিত্য-আয়ুর্বেদতীর্থ
শিক্ষা ও শাস্ত্রার্থ সমন্বয়ক
© বাংলাদেশ অগ্নিবীর

🌸 মহর্ষি দয়ানন্দের চোখে ভণ্ড গুরুবাদ 🌸❝ যাদের মধ্যে বিদ্যা এবং অন্যান্য সদ্‌গুণের অভাব রয়েছে, তারা যদি নিজেদের গুরু মনে...
21/05/2026

🌸 মহর্ষি দয়ানন্দের চোখে ভণ্ড গুরুবাদ 🌸

❝ যাদের মধ্যে বিদ্যা এবং অন্যান্য সদ্‌গুণের অভাব রয়েছে, তারা যদি নিজেদের গুরু মনে করে তবে জানবেন অযথা কণ্ঠি ও তিলকধারী এবং বেদবিরোধী মন্ত্রদানকারী সেই ব্যক্তিরা আদতে কোনো গুরুই নন। বরং তাঁদের মেষপালকের মতো মনে করবেন।মেষপালক যেমন ভেড়া ও ছাগীর দুধ নিয়ে নিজের প্রয়োজন মেটায়, ঠিক তেমনই তাঁরাও শিষ্যদের ধন-সম্পদ হরণ করে কেবল নিজেদের স্বার্থসিদ্ধি করেন।❞

-মহর্ষি দয়ানন্দ সরস্বতী
তথ্যসূত্র: সত্যার্থ প্রকাশ, ৩য় সমুল্লাস।

“আপনার মত কী?” প্রশ্নের উত্তরে মহর্ষি দয়ানন্দ সরস্বতী সত্যার্থ প্রকাশের তৃতীয় সমুল্লাসে বললেন, ❝ বেদ অর্থাৎ বেদে যা যা গ...
20/05/2026

“আপনার মত কী?” প্রশ্নের উত্তরে মহর্ষি দয়ানন্দ সরস্বতী সত্যার্থ প্রকাশের তৃতীয় সমুল্লাসে বললেন,

❝ বেদ অর্থাৎ বেদে যা যা গ্রহণ ও বর্জন করতে ও পরিত্যাগ করতে শিক্ষা দিয়েছে সেগুলি যথাবৎ পালন করা ও বর্জনীয়কে বর্জন করা উচিত বলে মানি। যেহেতু বেদ আমাদের মান্য, সেহেতু আমাদের মত বেদ। এমনটা মেনে সকল মানুষের বিশেষতঃ আর্যদের একমত হয়ে থাকা উচিত।❞

🙏 বাংলাদেশ অগ্নিবীর ঢাকা বিভাগীয় কেন্দ্রীয় স্বাধ্যায়🙏✅ ৩নং শাহ সাহেব লেন, নারিন্দা, ঢাকা। ▪  ২২শে মে, শুক্রবার, ২০২৬ খ্র...
19/05/2026

🙏 বাংলাদেশ অগ্নিবীর ঢাকা বিভাগীয় কেন্দ্রীয় স্বাধ্যায়🙏

✅ ৩নং শাহ সাহেব লেন, নারিন্দা, ঢাকা।
▪ ২২শে মে, শুক্রবার, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

🔹সকাল ১১:৩০ - বিশেষ অগ্নিহোত্র
🔸দুপুর ১২:০০ - বেদ, উপনিষদ্, শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা পাঠ
▪️দুপুর ১২:৩০ ~ বিশেষ আলোচনা: আর্য, আর্যত্ব, সংস্থা তথা সংগঠনের গুরুত্ব, বাস্তবতার পরিপ্রেক্ষিতে সংগঠনের ভূমিকা ও নিজের অবদান রাখার সুযোগ-কৌশল-পদ্ধতি
▪️দুপুর ১২:৪৫ - যজ্ঞাবশিষ্ট অন্ন প্রদান

🙏আপনারা সকলে আমন্ত্রিত ।

© বাংলাদেশ অগ্নিবীর ঢাকা বিভাগীয় শাখা

🌸 মহাভারতে সদাচারের মাহাত্ম্য 🌸তস্মাৎ কুর্যাদিহাচারং যদীচ্ছেদ্ ভূতিমাত্মনঃ।অপি পাপশরীরস্য আচারো হন্ত্যলক্ষণম্॥অর্থাৎ, মা...
19/05/2026

🌸 মহাভারতে সদাচারের মাহাত্ম্য 🌸

তস্মাৎ কুর্যাদিহাচারং যদীচ্ছেদ্ ভূতিমাত্মনঃ।
অপি পাপশরীরস্য আচারো হন্ত্যলক্ষণম্॥

অর্থাৎ, মানুষ যদি নিজের কল্যাণ চায় তবে জগতে তার সদাচার পালন করা উচিত। যার সমস্ত শরীরই পাপময় সেও যদি সদাচার পালন করে তবে তা শরীর ও মনের খারাপ লক্ষণকে দমন করে।

~ মহাভারত অনুশাসন পর্ব ১০৪.৮

🔰 উৎকামাতঃ পুরুষ মাব পত্থাঃ✅ হে মানব! তুমি উন্নতি করো। তোমার যেন পতন না হয়।~অথর্ববেদ ৮.১.৪
18/05/2026

🔰 উৎকামাতঃ পুরুষ মাব পত্থাঃ

✅ হে মানব! তুমি উন্নতি করো। তোমার যেন পতন না হয়।

~অথর্ববেদ ৮.১.৪

Address

Dhaka

Opening Hours

Monday 09:00 - 23:00
Tuesday 09:00 - 23:00
Wednesday 09:00 - 23:00
Thursday 09:00 - 23:00
Friday 09:00 - 23:00
Saturday 09:00 - 23:00
Sunday 09:00 - 23:00

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when বাংলাদেশ অগ্নিবীর, ঢাকা শাখা posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share