বাংলাদেশ অগ্নিবীর, ঢাকা শাখা

  • Home
  • Bangladesh
  • Dhaka
  • বাংলাদেশ অগ্নিবীর, ঢাকা শাখা

বাংলাদেশ অগ্নিবীর, ঢাকা শাখা একটি বৈদিক সংগঠন

🔰 অবশেষে প্রকাশ পেল অমূল্য গ্রন্থ "যোগীরাজ শ্রীকৃষ্ণ"! 🔥✅​লালা লাজপত রায় কৃত এবং শ্রী উৎসব চন্দ্র শীল অনূদিত ও টীকাকৃত অ...
25/08/2026

🔰 অবশেষে প্রকাশ পেল অমূল্য গ্রন্থ "যোগীরাজ শ্রীকৃষ্ণ"! 🔥

✅​লালা লাজপত রায় কৃত এবং শ্রী উৎসব চন্দ্র শীল অনূদিত ও টীকাকৃত অনন্য বই "যোগীরাজ শ্রীকৃষ্ণ" এখন আপনার হাতের নাগালে।
📚​বইয়ের বিস্তারিত তথ্য:
​বইয়ের নাম: যোগীরাজ শ্রীকৃষ্ণ (ও৩ম)
​মূল লেখক: লালা লাজপত রায়
​অনুবাদক ও টীকাকার: শ্রী উৎসব চন্দ্র শীল
​প্রণামী: ৩২০ টাকা মাত্র

🌸​বিশেষ ধামাকা অফার!🌸
পবিত্র জন্মাষ্টমী উপলক্ষে আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত অর্ডার করলেই পাচ্ছেন সম্পূর্ণ ফ্রি ডেলিভারি চার্জ!
✅ ​অর্ডার করার নিয়ম:
​কমেন্টে দেওয়া অর্ডার ফরমটি পূরণ করুন।
​অথবা সরাসরি হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করুন: 01759892487
▪️​দেরি না করে আজই আপনার কপিটি সংগ্রহ করুন এবং ভগবান শ্রীকৃষ্ণের তত্ত্বজ্ঞান অর্জনে এক ধাপ এগিয়ে থাকুন!

🔹সূচিপত্র
অধ্যায়ের নাম - পৃষ্ঠা
পাঞ্জাব কেশরী লালা লাজপত রায় – ৬
সম্পাদকীয় – ১৯
প্রারম্ভ – ২৬
প্রস্তাবনা – ৩৮
ভূমিকা – ৪৩
১ম অধ্যায়: কৃষ্ণের জন্মভূমি – ৬৮
২য় অধ্যায়: শ্রীকৃষ্ণচন্দ্রের বংশ – ৭৭
৩য় অধ্যায়: শ্রীকৃষ্ণচন্দ্রের জন্ম – ৮১
৪র্থ অধ্যায়: শৈশবকাল: গোকুল গ্রাম – ৯১
৫ম অধ্যায়: গোকুল থেকে বৃ্ন্দাবন গমন – ৯৭
৬ষ্ঠ অধ্যায়: রাসলীলার রহস্য – ১০১
৭ম অধ্যায়: কৃষ্ণ-বলরামের মথুরা আগমন এবং কংস বধ – ১২৪
৮ম অধ্যায়: উগ্ৰসেনের রাজ্যারোহণ এবং শ্রীকৃষ্ণের শিক্ষালাভ – ১২৮
৯ম অধ্যায়: মগধের রাজা জরাসন্ধের মথুরা আক্রমণ – ১৩১
১০ম অধ্যায়: কৃষ্ণের বিবাহ – ১৩৩
১১শ অধ্যায়: শ্রীকৃষ্ণের অন্যান্য যুদ্ধ – ১৩৫
১২শ অধ্যায়: দ্রৌপদীর স্বয়ম্বর ও শ্রীকৃষ্ণের সাথে পাণ্ডুপুত্রদের সাক্ষাৎ – ১৩৮
১৩শ অধ্যায়: শ্রীকৃষ্ণের বোন সুভদ্রার সঙ্গে অর্জুনের বিবাহ – ১৪১
১৪শ অধ্যায়: খাণ্ডবপ্রস্থের বনে অর্জুন ও শ্রীকৃষ্ণ – ১৪৫
১৫শ অধ্যায়: রাজসূয় যজ্ঞ – ১৪৯
১৬শ অধ্যায়: কৃষ্ণ, অর্জুন ও ভীমের জরাসন্ধের রাজধানীতে আগমন– ১৫৫
১৭শ অধ্যায়: রাজসূয় যজ্ঞের আরম্ভ: মহাভারতের ভূমিকা – ১৫৯
১৮শ অধ্যায়: কৃষ্ণ-পাণ্ডব মিলন – ১৬৩
১৯শ অধ্যায়: মহারাজ বিরাটের রাজ্যে পাণ্ডবদের সহায়কগণের সভা – ১৬৫
২০শ অধ্যায়: দুর্যোধন ও অর্জুনের দ্বারকা-গমন – ১৬৯
২১শ অধ্যায়: সঞ্জয়ের দৌত্যকর্ম – ১৭১
২২শ অধ্যায়: কৃষ্ণচন্দ্রের দৌত্যকর্ম – ১৭৭
২৩শ অধ্যায়: কৃষ্ণের হস্তিনাপুর আগমন – ১৮২
২৪শ অধ্যায়: বিদুর আর কৃষ্ণের কথোপকথন – ১৮৬
২৫শ অধ্যায়: কৃষ্ণের দৌত্যকর্মের সমাপ্তি – ১৯৩
২৬শ অধ্যায়: কৃষ্ণ-কর্ণ সংবাদ – ১৯৬
২৭শ অধ্যায়: মহাভারতের যুদ্ধ – ১৯৮
২৮শ অধ্যায়: ভীষ্মের পরাজয় – ২০৩
২৯শ অধ্যায়: মহাভারতের যুদ্ধের দ্বিতীয় দৃশ্য: আচার্য দ্রোণের সেনাপতিত্ব – ২০৮
৩০শ অধ্যায়: মহাভারতের যুদ্ধের তৃতীয় দৃশ্য: কর্ণ-অর্জুন যুদ্ধ – ২১৫
৩১শ অধ্যায়: অন্তিম দৃশ্য এবং সমাপ্তি – ২১৭
৩২শ অধ্যায়: যুধিষ্ঠিরের রাজ্যাভিষেক – ২২২
৩৩শ অধ্যায়: মহারাজ শ্রীকৃষ্ণের জীবনের অন্তিম ভাগ – ২২৬
৩৪শ অধ্যায়:কৃষ্ণ কি পরমেশ্বরের অবতার ছিলেন? – ২৩০
৩৫শ অধ্যায়: কৃষ্ণ মহারাজের শিক্ষা – ২৩৭
• প্রাসঙ্গিক প্রশ্নাবলী – ২৫৭
• তথ্যপঞ্জি – ২৮১

© বাংলাদেশ অগ্নিবীর ঢাকা বিভাগীয় শাখা

📚 বেদে মানবশরীরের মাহাত্ম্য ~ এই দেহ কী ও কেন❓🔰 সত্যিই মানব-শরীরের গঠন এবং ক্রিয়াশক্তি অত্যন্ত অদ্ভুত। তাই অথর্ববেদে ব্র...
24/08/2026

📚 বেদে মানবশরীরের মাহাত্ম্য ~ এই দেহ কী ও কেন❓

🔰 সত্যিই মানব-শরীরের গঠন এবং ক্রিয়াশক্তি অত্যন্ত অদ্ভুত। তাই অথর্ববেদে ব্রহ্ম ঋষিদের জ্ঞানলাভের অনুপ্রেরণা দানে স্বয়ং 'কেন সূক্ত'-এ প্রশ্ন আকারে বলেছেন-
কেন পার্ষ্ণী আভৃতে পূরুষস্য কেন মাংসং সম্ভৃতং কেন গুল্ফৌ ।
কেনাঙ্গুলীঃ পেশনীঃ কেন খানি কেনোচ্ছ্লঙ্খৌ মধ্যতঃ কঃ প্রতিষ্ঠাম্ ॥১॥
কস্মান্ নু গুল্ফাবধরাবকৃণ্বন্ন্ অষ্ঠীবন্তাবুত্তরৌ পূরুষস্য ।
জঙ্ঘে নির্ঋত্য ন্যদধুঃ ক্ব স্বিজ্জানুনোঃ সন্ধী ক উ তচ্চিকেত ॥২॥
কো অস্য বাহূ সমভরদ্বীর্যাং করবাদিতি ।
অংসৌ কো অস্য তদ্দেবঃ কুসিন্ধে অধ্যা দধৌ ॥৫॥
কো অস্মিন্ প্রাণমবয়ৎকো অপানং ব্যানমু ।
সমানমস্মিন্ কো দেবোঽধি শিশ্রায় পূরুষে ॥১৩॥
[অথর্ববেদ ১০ম কাণ্ডে ২য় সুক্ত]
= কোন কারিগর এই মানবদেহের গোড়ালি নির্মাণ করেছেন? কে মাংস পূর্ণ করেছেন? কে গোড়ালি ও পায়ের সংযোগস্থল নির্মাণ করেছেন? কে পর্বে বিভক্ত আঙুলগুলো বানিয়েছেন? কে অঙ্গপ্রত্যঙ্গের ছিদ্রসমূহ সৃষ্টি করেছেন এবং দেহের মধ্যভাগে প্রতিষ্ঠা দিয়েছেন? কে মানবদেহের গোড়ালিদ্বয় নিচে এবং অস্থিযুক্ত ঊর্ধ্ব অঙ্গদ্বয় উপরে স্থাপন করেছেন? কে জঙ্ঘাদ্বয় যথাস্থানে স্থাপন করেছেন? হাঁটুর সন্ধিদ্বয় কোথায় এবং কে তা জানেন? কে মানবদেহের দুই বাহু শক্তিসম্পন্ন করে সংযুক্ত করেছেন? কোন দেবতা এর দুই অংস বা কাঁধকে যথাস্থানে স্থাপন করেছেন? কে এই মানবদেহে প্রাণ, অপান ও ব্যান স্থাপন করেছেন? কোন দেব এই মানবদেহে সমানকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন?
▪️মানব-শরীরের অদ্ভুত সৃষ্টির ওপর এমন উদগার সহসা প্রত্যেকের মুখ থেকে বেরিয়ে যায়। মানুষ ব্যক্ত বাণীর দ্বারা নিজের চিন্তাভাবনা অন্যদের কাছে প্রকাশ করতে পারে। মন দিয়ে চিন্তন করতে পারে, বুদ্ধি দিয়ে বড় বড় সমস্যার সমাধান করতে পারে। এসব বিষয় অন্য শরীরের তুলনায় মানব-শরীরে অনুপম, যার কারণে এটি শ্রেষ্ঠত্বের পদ লাভ করেছে।

✅ এই শরীর দেবপুরী—
এই মানব-শরীরকে দেবগণের পুরী (নগরী) বলা হয়েছে। ব্রহ্মাণ্ডের সমস্ত দেব এই শরীরের ভেতরে প্রবিষ্ট হয়ে নিজ নিজ স্থান তৈরি করে অধিষ্ঠিত হয়ে আছেন। অথর্ববেদ ১১.৮.২৬ অনুসারে, শরীরের হাড়গুলোকে সমিধা (যজ্ঞের কাঠ) করে, রস, রক্ত ইত্যাদিকে জল করে, রেতঃ-কে ঘৃত করে সমস্ত দেব পুরুষ শরীরে প্রবিষ্ট হয়েছেন এবং যজ্ঞ রচনা করছেন। এই শরীরে সমস্ত জল, সমস্ত দেবতা, সমগ্র বিরাট জগৎ প্রবিষ্ট। প্রজাপতি ব্রহ্মও এর ভেতরে আছেন। সূর্য চক্ষু রূপে শরীরে বিদ্যমান। বায়ু প্রাণ রূপে, শরীরের অন্যান্য অঙ্গ অগ্নি পেয়েছে। যিনি বিদ্বান, তিনি এই মানব শরীরকে সাক্ষাৎ দেবপুরী বা ব্রহ্মপুরী মনে করেন; কারণ যেমন গাভী গোশালায় থাকে, তেমনই সমস্ত দেব শরীরে এসে বাস করছেন। ঐতরেয় উপনিষদ [১.২.৪] অনুসারে,
অগ্নির্বাগ্‌ভূত্বা মুখং প্রাবিশদ্বায়ুঃ প্রাণো ভূত্বা নাসিকে প্রাবিশদাদিত্যশ্চক্ষুর্ভূত্বাক্ষিণী প্রাবিশাদ্দিশঃ শ্রোত্রং ভূত্বা কর্ণৌ প্রাবিশন্নোষধিবনস্পতয়ো লোমানি ভূত্বা ত্বচং প্রাবিশংশ্চন্দ্রমা মনো ভূত্বা হৃদয়ং প্রাবিশন্মৃত্যুরপানো ভূত্বা নাভিং প্রাবিশদাপো রেতো ভূত্বা শিশ্নং প্রাবিশন্॥
=অগ্নি বাণী হয়ে মুখে প্রবেশ করলেন, বায়ু প্রাণ হয়ে নাসিকাছিদ্রে প্রবেশ করলেন, সূর্য চক্ষু হয়ে অক্ষিগোলকে প্রবেশ করলেন, দিকসমূহ শ্রোত্র হয়ে উভয় কর্ণে প্রবেশ করলেন, ওষধি ও বনস্পতি লোম হয়ে ত্বকে প্রবেশ করলেন, চন্দ্র মন হয়ে হৃদয়ে প্রবেশ করলেন, মৃত্যু অপানবায়ু হয়ে নাভিতে প্রবেশ করলেন এবং জল বীর্য হয়ে জননেন্দ্রিয়ে প্রবেশ করলেন।
মহাবিশ্বে বিদ্যমান বিভিন দৈবী-শক্তি ও প্রাকৃতিক উপাদানসমূহ ক্ষুদ্র অংশ বা বীজরূপে মানবদেহে প্রবিষ্ট হয়ে এই শরীর গঠন করেছে। ব্রহ্মাণ্ড ও দেহের এই যোগসূত্রগুলো নিচে উল্লেখ করা হলো:
১. অগ্নি (বাক্/মুখ): বাণীর তেজস্বিতা ও ভোজন পরিপাকের জঠরাগ্নি মূলত অগ্নিরই রূপ।
২. বায়ু (প্রাণ/নাসিকা): বায়ুর সাহায্যেই নাসিকা দ্বারা ঘ্রাণশক্তি বা গন্ধ গ্রহণ সম্ভব হয়।
৩. আদিত্য/সূর্য (চক্ষু): সূর্যের আলোর মাধ্যমেই চক্ষু দর্শনশক্তি লাভ করে।
৪. দিশা (শ্রোত্র/কর্ণ): কান যেমন শব্দ গ্রহণ করে, তেমনই কানের ভেতরের অংশ (Semicircular canals) মস্তিষ্কে দিক নির্ণয়ের সিগন্যাল পাঠায়।
৫. ওষধি ও বনস্পতি (লোম/ত্বক): ওষধি-বনস্পতি সেবনে ত্বক পরিপুষ্ট হয়; আবার পৃথিবী ভেদ করে গাছ গজানোর সাথে ত্বক ভেদ করে লোম গজানোর সাদৃশ্য রয়েছে।
৬. চন্দ্রমা (মন/হৃদয়): চাঁদের স্নিগ্ধ আলো যেমন হৃদয়ে শান্তি আনে, তেমনই সূর্যালোকে চাঁদ আলোকিত হওয়ার সাথে আত্মার আলোয় হৃদয় আলোকিত হওয়ার সাদৃশ্য বিদ্যমান।
৭. মৃত্যু (অপান/নাভি): নাভি ও অপান বায়ু শরীরের পুষ্টি ও বর্জ্য নিষ্কাশন নিয়ন্ত্রণ করে, যা জীবন ও মৃত্যুর মূল ভিত্তি।
৮. জল (রেত/শিশ্ন): বীর্যের প্রধান উপাদান জলীয় রস, যা জননেন্দ্রিয়ের সাথে সম্পর্কিত।
মহাবিশ্ব যদি হয় 'ব্রহ্মাণ্ড', তবে মানবদেহ হলো তার ক্ষুদ্র রূপ বা 'পিণ্ড'। যেমন অগ্নি ও তার ফুলকি একই উপাদানে তৈরি, তেমনি ব্রহ্মাণ্ডের সমস্ত দৈবী-শক্তি ও ভৌতিক উপাদান ক্ষুদ্র স্ফুলিঙ্গ আকারে আমাদের এই স্থূল-শরীরে বিদ্যমান।
অথর্ববেদ অনুসারে-
অষ্টাচক্রা নবদ্বারা দেবানাং পূরয়োধ্যা।
তস্যাং হিরণ্যযঃ কোশঃ স্বর্গো জ্যোতিষাবৃতঃ ॥
অথর্ববেদ ১০.২.৩১,৩৩
= আটটি চক্র (শরীরের গঠনকারী আটটি মৌলিক উপাদান—ত্বক, রক্ত, মাংস, মেদ, অস্থি, মজ্জা, শুক্র ও তেজ/ওজঃ) এবং নয়টি দুর্ধর্ষ দ্বার বা প্রবেশপথ (মস্তকের সাতটি দ্বার—২টি চোখ, ২টি কান, ২টি নাসারন্ধ্র, ১টি মুখ এবং শরীরের নিম্নভাগের ২টি দ্বার) দ্বারা বেষ্টিত এই দেহ হলো আলোকিত বা প্রজ্ঞাবান পুরুষদের এক দুর্ভেদ্য দুর্গ। এর ভেতরেই অবস্থান করছে সুবর্ণ কোষ (হৃদয়-গুহা), যা ভাস্বর জ্যোতিতে পরিবেষ্টিত এবং পরম আনন্দের জগতে পৌঁছানোর একমাত্র পথ।
সেই হিরণ্ময় নগরী—পরাজয়হীন ও দুর্ভেদ্য অযোধ্যা—যা মহিমায় সমাবৃত, অপরাজেয় এবং বাইরের কোনো শত্রু দ্বারা আক্রমণ করা অসম্ভব; পরম ব্রহ্ম স্বয়ং সেখানে প্রবেশ করেছেন এবং যাঁরা প্রজ্ঞাবান ও দর্শন করতে সক্ষম, তাঁদের জন্য সেখানেই অবস্থান করেন।
এই সূক্তের শেষ তিনটি মন্ত্রে বর্ণিত হিরণ্ময় হৃদয়-গুহা হলো ব্রহ্ম, জীব ও প্রকৃতির মধ্যকার মহাজাগতিক ত্রিমূর্তির (ত্রিত্ব) এক ক্ষুদ্র রূপ—যা একমাত্র জ্ঞানী ও দূরদর্শী ব্যক্তিরাই উপলব্ধি করতে পারেন। এই ত্রিত্বের কোষাগারটি চাকার মতো গতিশীল, যার রয়েছে তিনটি অরি বা স্পোক (প্রকৃতির সত্ত্ব, রজঃ ও তমঃ গুণ); এবং এটি তিনটি স্তম্ভের (প্রকৃতি, জীব ও ব্রহ্ম) ওপর নির্মিত গম্বুজের মতো সুদৃঢ়। এই প্রসঙ্গে শ্বেতাশ্বেতরোপনিষদের ১.৩-৭ এবং ৪.৫-৭ মন্ত্র, এবং ৩২ নম্বর মন্ত্রে বর্ণিত রহস্যময় যক্ষের ক্ষেত্রে কেনোপনিষদের ৩য় খণ্ড ও ৪.১-৩ অংশ দ্রষ্টব্য।
এইভাবে মানব-শরীরের সম্পর্কে বৈদিক দৃষ্টিভঙ্গি হলো যে এটি একটি দেবপুরী। চোখ, কান, নাক ইত্যাদি সমস্ত অবয়ব এক-একজন দেবতার প্রতিনিধি। বৈদিক চিন্তাধারা অনুসারে এই শরীর মল-মূত্রের থলি বা ত্যাগের যোগ্য বস্তু নয়। মানব আত্মার এটিকে নিজের সৌভাগ্য মনে করা উচিত যে দেবতাদের এই পুরী তাকে থাকার জন্য দেওয়া হয়েছে।

✅এই শরীর যজ্ঞস্থল—
এই শরীরের বিষয়ে বৈদিক সাহিত্যে এই চিন্তাধারাও পাওয়া যায় যে এটি একটি যজ্ঞস্থল। এই শরীরকে আমাদের কেবল বিষয়-ভোগের সাধন না ভেবে একটি পবিত্র যজ্ঞগৃহ ভাবা উচিত। অথর্ববেদ-১০.২.১৪-
কো অস্মিন্যজ্ঞমদধাদেকো দেবোঽধি পূরুষে।
কো অস্মিন্ত্সত্যং কোঽনৃতং কুতো মৃত্যুঃ কুতোঽমৃতম্ ॥
= কে সেই পরম এক ঈশ্বর, যিনি মানুষের মধ্যে যজ্ঞ ও আত্মত্যাগের চেতনা সঞ্চার করেন? কে সত্য এবং অসত্য প্রতিষ্ঠা করেন? মৃত্যুর উৎস কোথায়? অমৃতত্ব বা অমরত্বের উৎসই বা কোথায়? — এ কথা বলে মানব শরীরের যজ্ঞময়তাকে প্রকাশ করে। অথর্ববেদ ১১.৮.২৬-
অস্থি কৃত্বা সমিধং তদষ্টাপো অসাদয়ন্।
রেতঃ কৃত্বাজ্যং দেবাঃ পুরুষমাবিশন্ ॥
= অস্থিসমূহকে বা হাড্ডিকে অগ্নির সমিধ করে, ঐশ্বরিক শক্তিসমূহ মানবদেহে আট প্রকার জলীয় উপাদান স্থাপন করে; এবং জীবনরসকে সেই অগ্নির ঘৃত হিসেবে নিয়ে, সৃজনশীল অস্তিত্বের মানবিক যজ্ঞের মাধ্যমে আত্ম-পূর্ণতা লাভের উদ্দেশ্যে ইন্দ্রিয়রূপ দেবগণ মানবদেহে প্রবেশ করেছে।
এই মন্ত্র শরীরের যজ্ঞময়তাকে বুঝিয়ে বলে যে শরীরের হাড়গুলোই সমিধা, রক্ত, বস্তি ইত্যাদি এই আট প্রকার জলই যজ্ঞীয় জল এবং রেতঃ-ই ঘৃত। তৈত্তিরীয় ব্রাহ্মণেও হাড়কে সমিধা, রেতঃ-কে ঘৃত বলা হয়েছে। যজুর্বেদ ৩৪.৪-এ মনের মহিমা বর্ণনা করে বলা হয়েছে যে এই মনের দ্বারাই সপ্তহোতা যজ্ঞ এগিয়ে চলে~
যেনেদম্ভূতম্ভুবনম্ভবিষ্যৎপরিগৃহীতমমৃতেন সর্বম্।
যেন যজ্ঞস্তায়তে সপ্তহোতা তন্মে মনঃ শিবসঙ্কল্পমস্তু॥
= যার মাধ্যমে, অবিনশ্বর পরমেশ্বরের সাথে যুক্ত হয়ে ভূত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ—এই ত্রিকাল পরিজ্ঞাত ও অনুধাবিত হয়; যার দ্বারা সপ্ত হোতার মাধ্যমে যজ্ঞ বিস্তৃত ও সম্পন্ন হয়—আমার সেই মন যেন মোক্ষ বা আত্মকল্যাণের দিকে পরিচালিত হয়।
সপ্ত হোতা—মস্তকের সাতটি অঙ্গ (দুটি চোখ, দুটি কান, দুটি নাসারন্ধ্র এবং মুখ)। এই শারীরবৃত্তীয় যজ্ঞের ক্রিয়াকলাপ সম্পাদনে এগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সপ্ত হোতা বলতে পঞ্চপ্রাণ, আত্মা এবং প্রকৃতিকেও (প্রাথমিক পদার্থ) বোঝানো যেতে পারে।
গোপথ ব্রাহ্মণ পূর্বব্রাহ্মণ ১.২.১১–১৪-এ মানবদেহ ও যজ্ঞের মধ্যে প্রতীকী সম্পর্ক ব্যাখ্যা করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে—বাক্‌ই হোতা, কারণ বাকের সঙ্গে স্তোত্র ও বষট্কার যুক্ত হয়; প্রাণ ও অপানই অধ্বর্যু, কারণ সমস্ত প্রাণী প্রাণ দ্বারা পরিচালিত; চক্ষুই উদ্গাতা, কারণ চক্ষুর দ্বারা জীবসমূহ দর্শন করে; এবং মনই ব্রহ্মা, কারণ মন দ্বারাই বিভিন্ন দিক ও কার্য উপলব্ধি ও সম্পাদিত হয়। ১.২.১২-এ আরও স্পষ্ট করে বলা হয়েছে—“হোতা” বললে তা বাক্‌, “অধ্বর্যু” বললে প্রাণ–অপান, “উদ্গাতা” বললে চক্ষু এবং “ব্রহ্মা” বললে মন। এরপর ১.২.১৪-এ বলা হয়েছে—“আত্মা দেবযজনম্”, অর্থাৎ আত্মাই দেবযজন; যে আত্মা শরীরে অবস্থান করে, সেটিই যজ্ঞ এবং সেটিই দেবযজন। অতএব গোপথ ব্রাহ্মণের এই অংশে মানবদেহের বাক্‌, প্রাণ–অপান, চক্ষু ও মনকে যথাক্রমে হোতা, অধ্বর্যু, উদ্গাতা ও ব্রহ্মা এবং আত্মাকে দেবযজন ও যজ্ঞ হিসেবে প্রতীকীভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। ছান্দোগ্য উপনিষদের [৩.১৬.১,৭] একটি প্রকরণে মানব শরীরের যজ্ঞের বর্ণনা এই রূপে পাওয়া যায়-
পুরুষো বাব যজ্ঞস্তস্য যানি চতুর্বিংশতিবর্ষাণি তৎপ্রাতঃসবনং চতুর্বিংশত্যক্ষরা গায়ত্রী গায়ত্রং প্রাতঃসবনং তদস্য বসবোঽন্বায়ত্তাঃ প্রাণা বাব বসব এতে হীদংসর্বং বাসয়ন্তি ॥ এতদ্ধ স্ম বৈ তদ্বিদ্বানাহ মহিদাস ঐতরেয়ঃ স কিং ম এতদুপতপসি যোঽহমনেন ন প্রেষ্যামীতি স হ ষোডশং বর্ষশতমজীবৎপ্র হ ষোডশং বর্ষশতং জীবতি য এবং বেদ ॥
অর্থাৎ, পুরুষ শরীর একটি যজ্ঞ, যার আয়ুর প্রথম চব্বিশ বছর প্রাতঃসবন, পরবর্তী চুয়াল্লিশ বছর মাধ্যন্দিন সবন এবং তার পরের আটচল্লিশ বছর তৃতীয় সবন— এভাবে এটি একশো ষোলো বছর চলা যজ্ঞ। এই ভাবনায় যে নিজের শরীরকে পরিচালনা করে, সে একশো ষোলো বছর জীবিত থাকতে পারে।

☑️এই শরীর ঋষিভূমি—
এই শরীর ঋষিদের ভূমিও বটে; যজুর্বেদ ৩৪.৫৫-এ বলা হয়েছে যে,
সপ্তঽঋষয়ঃ প্রতিহিতাঃ শরীরে সপ্ত রক্ষন্তি সদমপ্রমাদম্ ।
সপ্তাপঃ স্বপতো লোকমীয়ুস্তত্র জাগৃতোঽঅস্বপ্নজৌ সত্রসদৌ চ দেবৌ ॥
= মানবদেহে সাতজন ঋষি প্রতিষ্ঠিত রয়েছেন; তাঁরা বিরামহীন সতর্কতায় এই দেহ রক্ষা করে চলেন। যখন মানুষ ঘুমে আচ্ছন্ন থাকে, তখন এই সাতজন দেহে অবস্থানরত আত্মার মধ্যে বিলীন বা নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে। কিন্তু সেই সময়েও আত্মার রক্ষকস্বরূপ দুটি অনিমেষ বা নিদ্রাহীন ঐশ্বরিক শক্তি জাগ্রত থাকে।
এখানে~ সপ্ত ঋষি: স্পর্শ, দৃষ্টি, শ্রবণ, স্বাদ, ঘ্রাণ, মন এবং বুদ্ধি; দুটি নিদ্রাহীন দেবশক্তি: শ্বাস ও প্রশ্বাস—অর্থাৎ প্রাণ ও অপান বায়ু।
অর্থাৎ, শরীরে সাতজন ঋষি বসে আছেন, সেই সাতজন কোনো প্রমাদ (অসাবধানতা) না করে এই শরীরের রক্ষা করছেন। যখন এই শরীর ঘুমায়, তখন সেই সাত ঋষি আত্মলোকে চলে যান; কিন্তু দুজন দেব এমন আছেন যাঁরা সেই সময়েও শরীরে জেগে থাকেন। নিরুক্তের ব্যাখ্যা অনুসারে পাঁচটি জ্ঞানেন্দ্রিয়, ষষ্ঠ মন এবং সপ্তম বুদ্ধিই শরীরের সাতজন ঋষি। এরা সর্বদা শরীরের রক্ষায় তৎপর থাকে। যদি শরীর থেকে এই ঋষিগণ বেরিয়ে যান এবং মানুষ চোখ দিয়ে না দেখতে পারে, নাসিকা দিয়ে গন্ধ গ্রহণ না করতে পারে, কান দিয়ে না শুনতে পারে, জিহ্বা দিয়ে স্বাদের জ্ঞান এবং ত্বক দিয়ে স্পর্শের জ্ঞান না করতে পারে, মন দিয়ে চিন্তন এবং বুদ্ধি দিয়ে বিবেচনা না করতে পারে—তবে কেউ এসে তার ক্ষতি করতে পারে। চোখ ইত্যাদির অভাবে তার এই জ্ঞানটুকুও হবে না যে কেউ তার হিংসা করতে এসেছে। যখন এই শরীর ঘুমায়, তখন চোখ ইত্যাদি ঋষি স্থূল রূপে নিজেদের কাজ বন্ধ করে দেয়। সেই সময় তারা আত্মলোকে চলে যায়। কিন্তু সেই সময়েও আত্মা এবং প্রাণ—এই দুই দেব শরীরে জেগে থাকেন; কারণ এরাও যদি কোথাও চলে যান, তবে শরীর মৃতই হয়ে যাবে।
অথর্ববেদ ১০.৮.৯-এ শরীরের বিষয়ে এই বর্ণনা পাওয়া যায় যে,
তির্যগ্বিলশ্চমস ঊর্ধ্ববুধ্নস্তস্মিন্যশো নিহিতং বিশ্বরূপম্।
তদাসত ঋষয়ঃ সপ্ত সাকং যে অস্য গোপা মহতো বভূবুঃ ॥
= মস্তিষ্ক এবং সুষুম্ণাকাণ্ড একটি উল্টো চামচের সদৃশ—যার ছিদ্র বা মুখ নিচের দিকে এবং মূল বা ভিত্তিটি উপরের দিকে অবস্থিত; তার ভেতরে নানা রূপ যশ অর্থাৎ জ্ঞান নিহিত রয়েছে। সেখানে সাতজন ঋষি একসাথে উপবিষ্ট আছেন, যাঁরা এই মহাশরীরের রক্ষক হিসেবে অবস্থান করছেন।
যশ = জ্ঞান বা কীর্তি। সপ্ত ঋষি = ৫টি জ্ঞানেন্দ্রিয়, মন এবং বিদ্যা (বুদ্ধি)। এই সাতটি উপাদান মহাশরীরের রক্ষক। নিরুক্তে 'ঊর্ধ্ববুধ্নঃ' শব্দটির অর্থ "ঊর্ধ্ববোধনো বা" করা হয়েছে, অর্থাৎ যার উপরিভাগে বা উঁচুতে বোধ অর্থাৎ জ্ঞানসম্পন্ন চমস বা পাত্র বিদ্যমান (নিরুক্ত ১২।৪। খণ্ড ৩৮ অথবা পদ ২৫)। মূল অভিপ্রায় হলো, মস্তিষ্কের ঊর্ধ্বভাগেই জ্ঞান বা বোধের প্রধান স্থান, নিচের দিকে নয়।
এই চমস হলো শরীরের মূর্ধা অর্থাৎ ঘাড়ে উপরের অংশ। সাধারণ চমসগুলোতে পিঠ নিচে এবং ছিদ্র উপরে থাকে, তা না হলে তাতে রাখা বস্তু পড়ে যাবে; কিন্তু এটি এমন এক অদ্ভুত চমস যে এর ছিদ্র বা মুখ নিচের দিকে এবং পিঠ বা খুলি উপরের দিকে রয়েছে, তবুও তাতে বিশ্বরূপ যশ তথা সর্ববিধ জ্ঞান ভরা রয়েছে, তা পড়ে যায় না। সাতজন ঋষি হলেন পূর্বোক্ত সাত ইন্দ্রিয় রূপী ঋষি, যারা এতে বসে এর রক্ষা করছেন। এই সাতজন ঋষি দুটি কান, দুটি নাসিকার ছিদ্র, দুটি চোখ এবং একটি মুখ—এগুলোও হতে পারে, যেমনটা অথর্ববেদ ১০.২.৬-এ গণনা করা হয়েছে। এর বাইরে—
তদেষ শ্লোকো ভবতি। অর্বাগ্বিলশ্চমস ঊর্ধ্ববুধ্নস্তস্মিন্যশো নিহিতং বিশ্বরূপম্। তস্যাসত ঋষয়ঃ সপ্ত তীরে বাগষ্টমী ব্রহ্মণা সংবিদানেতি। অর্বাগ্বিলশ্চমস ঊর্ধ্ববুধ্ন ইতি। ইদং তচ্ছির এষ হ্যর্বাগ্বিলশ্চমসঽঊর্ধ্ববুধ্নস্তস্মিন্যশো নিহিতং বিশ্বরূপমিতি প্রাণা বৈ যশো নিহিতং বিশ্বরূপম্প্রাণানেতদাহ তস্যাসত ঋষয়ঃ সপ্ত তীর ইতি প্রাণা বা ঋষয়ঃ প্রাণানেতদাহ বাগষ্টমী ব্রহ্মণা সংবিদানেতি বাগ্ঘ্যষ্টমী ব্রহ্মণা সংবিত্তে। ইমাবেব গোতমভরদ্বাজৌ। অয়মেব গোতমোঽয়ং ভরদ্বাজ ইমাবেব বিশ্বামিত্রজমদগ্নী অয়মেব বিশ্বামিত্রোঽয়ং জমদগ্নিরিমাবেব বসিষ্ঠকশ্যপাবয়মেব বসিষ্ঠোঽয়ং কশ্যপো বাগেবাত্রির্বাচা হ্যন্নমদ্যতেঽত্তির্হ বৈ নামৈতদ্যদত্রিরিতি সর্বস্যাত্তা ভবতি সর্বমস্যান্নম্ভবতি য এবং বেদ।
শতপথ ব্রাহ্মণ ১৪.৫.২.৪-৬; সম্পূরক বৃহদারণ্যক উপনিষদ্‌ ২.২.৩-৪
→ এই চমসের মুখ নিম্নদিকে এবং তলদেশ ঊর্ধ্বদিকে; তার মধ্যে বহুরূপ যশ স্থাপিত রয়েছে; তার প্রান্তে সাত ঋষি আসীন এবং অষ্টমী বাক্‌, ব্রহ্মের সঙ্গে সম্বন্ধযুক্ত।” এরপর ব্যাখ্যা করা হয়েছে, এই চমস আসলে মানবশিরের প্রতীক; এর মধ্যে নিহিত “বহুরূপ যশ” হল প্রাণসমূহ এবং “সাত ঋষি” হল সেই প্রাণসমূহ। অষ্টমী হল বাক্‌, যা ব্রহ্মের সঙ্গে সম্বন্ধযুক্ত। তারপর বলা হয়েছে—এই দুই কানই গৌতম ও ভরদ্বাজ; এই দুই চোখই বিশ্বামিত্র ও জমদগ্নি (শত০ ব্রা০ ৮.১.২.৩); এই দুই নাকই বশিষ্ঠ ও কশ্যপ; আর বাক্‌ই অত্রি। কারণ বাকের দ্বারা অন্ন ভক্ষণ করা হয়; ‘অত্রি’ নামের অর্থই ভোক্তা। যে ব্যক্তি এভাবে জানে, সে সর্বকিছুর ভোক্তা হয় এবং সমস্তই তার অন্ন হয়ে ওঠে। এখানে চমসকে মানবশির বা মানবদেহের প্রতীক এবং সাত ঋষিকে প্রাণের প্রতীক হিসেবে দেখানো হয়েছে; পরবর্তী ব্যাখ্যায় ছয় ঋষিনাম জোড়াকে দুই কর্ণ, দুই চক্ষু ও দুই নাসিকার সঙ্গে এবং এক বাক্‌কে অত্রির সঙ্গে সম্বন্ধিত করা হয়।

🌸 অতএব, এই বৈদিক চিন্তাধারা অনুসারে আমাদের শরীরের প্রতি এই ভাব রাখতে হবে যে, এটি ঋষিদের পবিত্র তপোভূমি এবং একে কোনোভাবেই দূষিত হতে দেওয়া উচিত নয়।

🖋 শ্রী দীপংকর সিংহ দীপ
ব্যাকরণ-বেদান্ত-স্মৃতি-পৌরোহিত্য-আয়ুর্বেদতীর্থ
শিক্ষা ও শাস্ত্রার্থ সমন্বয়ক
© বাংলাদেশ অগ্নিবীর

🔰 বেদময় জীবন কীভাবে গঠন করব ? ব্রতা দেবানামুপ নু প্রভূষন্মহদ্দেবানামসুরত্বমেকম্[ঋগ্বেদ ৩.৫৫.১]▪️ উষাকালে জাগ্রত হয়ে স্বা...
22/08/2026

🔰 বেদময় জীবন কীভাবে গঠন করব ?

ব্রতা দেবানামুপ নু প্রভূষন্মহদ্দেবানামসুরত্বমেকম্
[ঋগ্বেদ ৩.৫৫.১]
▪️ উষাকালে জাগ্রত হয়ে স্বাধ্যায় ও পরমেশ্বরের মহিমা চিন্তা করতে করতে ভক্তগণ নিজেদের জীবনকে সূর্যাদি জড় প্রকৃতির জন্য পরমাত্মার নির্ধারিত নিয়মানুবর্তিতা ও ব্রত দ্বারা অলংকৃত করেন। অর্থাৎ, ঈশ্বর প্রকৃতির সূর্য, বায়ু প্রভৃতি শক্তিকে যে সুনির্দিষ্ট নিয়ম বা ব্রতে পরিচালিত করছেন, মানুষ তা থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজ জীবনে শৃঙ্খলার ব্রত ধারণ করার চেষ্টা করে। রামায়ণে শ্রীরামের চরিত্র বর্ণনায় বলা হয়েছে—“সমুদ্র ইব গাম্ভীর্যে ধৈর্যেণ হিমবানিব। বিষ্ণুনা সদৃশো বীর্যে সোমবৎ প্রিয়দর্শনঃ। কালাগ্নি সদৃশঃ ক্রোধে ক্ষময়া পৃথিবীসমঃ।” [বাল্মীকি রামায়ণ ১.১.১৭-১৮]। শ্রীরাম পরমাত্মা-সৃষ্ট প্রকৃতির অমোঘ ধর্ম থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেছিলেন। তিনি সমুদ্র থেকে গম্ভীরতা ও সীমানার নিয়ম, হিমালয় থেকে অটল ধৈর্য, সূর্যের ন্যায় নিয়ন্ত্রণের পরাক্রম এবং চন্দ্রালোকের মতো সৌম্যতার শিক্ষা নিয়েছিলেন। রাজা হিসেবে পরমাত্মার প্রজা-পালন নীতির মতো প্রয়োজনে কালাগ্নির ন্যায় কঠোর ও ন্যায়াধিষ্ঠিত হলেও, পৃথিবীর মতো পরম সহনশীল ও ক্ষমাশীল ছিলেন। পরমেশ্বরের সৃষ্টিতে বিদ্যমান এই প্রাকৃতিক পদার্থগুলোর নিয়মনিষ্ঠা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করলেই মানুষের জীবন সুশৃঙ্খল ও বেদময় হয়ে ওঠে। মূলত, পরমাত্মার শক্তি ও নিয়মে পরিচালিত হয়ে সূর্য বা প্রকৃতির এই অচেতন পদার্থগুলো যেভাবে বিশ্বে নিয়ম রক্ষা করে, তা মানব জীবনের জন্যও শিক্ষণীয়।

যস্য ত্রয়স্ত্রিংশদ্দেবা অঙ্গে সর্বে সমাহিতাঃ।
স্কম্ভং তং ব্রূহি কতমঃ স্বিদেব সঃ ॥
অথর্ববেদ ১০।৭।১৩
= যাঁকে কেন্দ্র করে এবং যাঁর উপস্থিতিতে সমস্ত তেত্রিশটি ঐশ্বরিক শক্তি পুঞ্জীভূত ও সুসংহত হয়ে বিরাজ করে, সেই স্কম্ভ (সর্বাধার বা পরম সত্তা) সম্পর্কে আমাকে বলুন—তিনি কে? বলুন যে তিনিই স্কম্ভ, যিনি অস্তিত্বের পরম কেন্দ্র এবং এই নিখিল ব্রহ্মাণ্ডের একমাত্র পরিধি।
এখানে এই তেত্রিশটি দেব বা ঐশ্বরিক শক্তি হলো: আটটি বসু, এগারোটি রুদ্র, বারোটি আদিত্য, শক্তি বা ইন্দ্র, এবং জীবনের স্থায়িত্ব বিধানকারী প্রাকৃতিক নিয়মস্বরূপ যজ্ঞ। প্রকৃতপক্ষে ‘তেত্রিশ দেব’ বলতে কোনো স্বতন্ত্র ঈশ্বরকে বোঝায় না, বরং ঈশ্বর-সৃষ্ট তেত্রিশটি উপাদানকে বোঝায়। এই প্রাকৃতিক ও জীবাত্মাসহ ৩৩টি উপাদান পরমাত্মারই অমোঘ নিয়মের অধীনে পরিচালিত। রূপক অর্থে এগুলো পরমাত্মার বিরাট বিশ্ব-শরীরের বিভিন্ন অংশের মতো অবস্থান করছে।

যস্য ত্রয়স্ত্রিংশদ্দেবা অঙ্গে গাত্রা বিভেজিরে।
তান্বৈ ত্রয়স্ত্রিংশদ্দেবানেকে ব্রহ্মবিদো বিদুঃ ॥
অথর্ববেদ ১০।৭।২৭
= সৃষ্টির বিবর্তন প্রক্রিয়ায় স্কম্ভের (পরম সত্তার) যে এক ঐশ্বরিক পক্ষ বা অংশ বিদ্যমান, যার মধ্যে তেত্রিশটি দেব বা ঐশ্বরিক শক্তি নিজেদের নির্দিষ্ট রূপ ও রূপায়ণ গ্রহণ করে—ব্রহ্মজ্ঞানী ঋষিগণ এই তেত্রিশটি দেবশক্তিকেও তাদের নিজ নিজ রূপ ও কার্যাবলীর মাধ্যমে প্রত্যক্ষ বা অনুধাবন করেন।
তথা -
যস্য ভূমিঃ প্রমান্তরিক্ষমুতোদরম্।
দিবং যশ্চক্রে মূর্ধানং তস্মৈ জ্যেষ্ঠায় ব্রহ্মণে নমঃ ॥
যস্য সূর্যশ্চক্ষুশ্চন্দ্রমাশ্চ পুনর্ণবঃ।
অগ্নিং যশ্চক্র আস্যং তস্মৈ জ্যেষ্ঠায় ব্রহ্মণে নমঃ ॥
যস্য বাতঃ প্রাণাপানৌ চক্ষুরঙ্গিরসোঽভবন্।
দিশো যশ্চক্রে প্রজ্ঞানীস্তস্মৈ জ্যেষ্ঠায় ব্রহ্মণে নমঃ ॥
অথর্ববেদ ১০।৭।৩২-৩৪
= পৃথিবী যাঁর চরণতুল্য আধার, মহাকাশ বা অন্তরীক্ষ যাঁর উদরস্বরূপ, এবং উজ্জ্বল দ্যুলোক যাঁর মস্তকতুল্য—সেই পরম ও সর্বশ্রেষ্ঠ ব্রহ্মের উদ্দেশ্যে আমাদের সমর্পণ ও বন্দনা। সূর্য ও নিত্য-পরিবর্তনশীল চন্দ্র যাঁর চক্ষুর মতো দৃষ্টিদানকারী আলোকের উৎস, অগ্নি যাঁর মুখতুল্য তেজ, বায়ু যাঁর নিয়মে প্রবাহিত হয়ে প্রাণশক্তির মতো সমস্ত সৃষ্টিকে ধারণ করে আছে এবং দিকসমূহ যাঁর সর্বব্যাপী জ্ঞানের প্রসার ঘটাচ্ছে—সেই এক পরব্রহ্মেই আমাদের আত্মনিবেদন।

পরমাত্মা নিরাকার ও অশরীরী। সাধারণ মানবমনকে ব্রহ্মাণ্ডের সাথে পরমেশ্বরের নিবিড় সম্বন্ধ বোঝানোর জন্য বেদান্তে এই অলংকারিক ও প্রতীকী (Anthromorphic/Symbolic) রূপকের সাহায্য নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে মূল যে তত্ত্বগুলো প্রকাশ পায়:
১. পরমাত্মাই একমাত্র শক্তিমান কেন্দ্র: সূর্য, চন্দ্র, বায়ু বা পৃথিবীর নিজস্ব কোনো স্বাধীন চৈতন্য বা শক্তি নেই। পরমেশ্বর এই মহাজাগতিক রূপক শরীরে এদের বিভিন্ন অঙ্গের মতো সাজিয়েছেন, অর্থাৎ এরা পরমেশ্বরের দেওয়া নিয়ম ও শক্তিতেই আবর্তিত হচ্ছে।
২. ব্রহ্মজ্ঞানীদের দৃষ্টি: সাধারণ মানুষ প্রাকৃতিক শক্তিগুলোকে হয়তো স্বতন্ত্র কিছু মনে করতে পারে, কিন্তু তত্ত্বজ্ঞানী বা ব্রহ্মবিদগণ জানেন যে বায়ু, সূর্যরশ্মি ও দিকসমূহ—সবই একক পরমেশ্বরের নিয়ম ও ব্যাপ্তির প্রকাশ মাত্র।
৩. অনন্তের ধারণা: রূপক অর্থে ভূমি যদি পরমেশ্বরের চরণ হয়, অন্তরীক্ষ যদি উদর হয় এবং দ্যুলোক যদি মস্তক হয়, তবে তা পরমাত্মার অনন্ত ব্যাপ্তি ও সর্বব্যাপী প্রকৃতিরই নির্দেশ দেয়। তিনি এই বস্তু জগতকে সৃষ্টি করে এর রন্ধ্রে রন্ধ্রে নিজের নিয়ম প্রতিষ্ঠা করেছেন।
৪. জীবনের শিক্ষণীয় দিক: সূর্য যেভাবে বৈষম্যহীনভাবে আলো দেয়, বায়ু যেভাবে বিরতিহীনভাবে প্রাণশক্তি জোগায়—তা পরমাত্মার নির্দেশেই করে। আমাদের চোখের মাধ্যমে দেখা (সূর্য-চন্দ্র রূপক), মুখ দিয়ে সত্যবাণী ও তেজ প্রকাশ করা (অগ্নি রূপক), এবং সর্বদিকে সত্যজ্ঞান প্রসারিত করার (দিক রূপক) অভ্যাস গড়ে তোলাই হলো বেদময় জীবন গঠনের মূল শিক্ষা।

আমরা কোনো জড় প্রাকৃতিক শক্তিকে পরমেশ্বর জ্ঞান করব না, বরং তাদের মধ্যকার অমোঘ নিয়ম দেখে সেই নিয়মদাতা পরমাত্মাকেই নমস্কার ও আত্মনিবেদন করব। উপনিষদে বলা হয়েছে-
য়দিদং কিঞ্চ জগৎ সর্বং প্রাণ এজতি নিঃসৃতম্।
মহদ্ভয়ং বজ্রমুদ্যতং য় এতদ্বিদুরমৃতাস্তে ভবন্তি॥
কঠোপনিষদ্‌ ২.৩.২
সরলার্থঃ যা কিছু গতিশীল জগৎ রয়েছে, তা প্রাণপ্রদ পরমাত্মার আশ্রয়ে ক্রিয়া করে এবং তাঁর থেকে উৎপন্ন হয়। সেই পরমাত্মা দুরাচারী পুরুষের জন্য হস্তে ধারণকৃত বজ্রের ন্যায় অত্যন্ত ভয়প্রদ। যাঁরা এই ব্রহ্মকে জানেন, তাঁরা মৃত্যুরহিত হন।
এই সমস্ত গতিশীল সংসার নিমিত্তকারণ পরমব্রহ্ম থেকে উৎপন্ন হয়ে তাঁরই সত্তা ও শক্তি দ্বারা ক্রিয়াশীল এবং তাঁরই নির্ধারিত নিয়মানুসারে সূর্য, চন্দ্রমাদি সকল পদার্থ নিজ-নিজ কার্য করে থাকে। কেউ তাঁর সৃষ্টিবিধান ও মর্যাদাকে, যা তিনি সৃষ্টির আদিতে তৈরি করেছেন, তার উল্লঙ্ঘন করতে পারে না। অর্থাৎ পরমাত্মা সবার প্রাণরূপ; এই চরাচর ব্রহ্মাণ্ডকে চেষ্টা ও গতি দান করার কারণে অথবা প্রাণের সমান প্রিয় হওয়ার কারণে তিনি প্রাণরূপ। এই প্রাণরূপ পরমাত্মার আশ্রয়েই এই চরাচর জগৎ ক্রিয়া করে। এইভাবে পরমাত্মাকে সর্বাধাররূপে বর্ণনা করে তাঁর অনুশাসনের গাম্ভীর্য প্রকাশ করা হয়েছে যে, সেই পরমাত্মা নিয়মভঙ্গকারীদের জন্য প্রাণঘাতক বজ্রের ন্যায় ভয়প্রদ—অর্থাৎ তাঁর নিয়ম বা প্রাকৃতিক বিধান উল্লঙ্ঘন করার কারণে পুরুষকে অত্যন্ত দুঃখ প্রাপ্ত হতে হয়। আর যে সকল অনুষ্ঠানকারী পুরুষ পরমাত্মার এই নিয়ম উল্লঙ্ঘন করেন না, তাঁরা মুক্তি লাভ করেন।

আমরা পৃথিবীতে ঘুরে বেড়াচ্ছি; প্রতীকী অর্থে ভাবুন, আমরা পরমাত্মার আশ্রয়েই ঘুরে বেড়াচ্ছি, কারণ এই বিস্তৃত পৃথিবীই তাঁর চরণের মতো আধার। সূর্য তাঁর এক চক্ষু এবং চন্দ্রমা পরমেশ্বরের দ্বিতীয় চক্ষুস্বরূপ। সারাদিন সেই প্রভুর সূর্যরূপী চক্ষু বা মহাজাগতিক আলোকপ্রবাহ আমাদের কাজকর্ম লক্ষ্য করছে এবং রাতের বেলা তাঁর দ্বিতীয় চক্ষু অর্থাৎ চন্দ্রের আলোক পর্যবেক্ষণ করছে। রূপক অর্থে প্রভুর এই দুই চক্ষু দিন-রাত বিশ্বের পর্যবেক্ষণ চালিয়ে যাচ্ছে। আমাদের আচরণ নির্দোষ নাকি আমাদের আচরণে কোনো দোষ ঘটেছে—পরমেশ্বরের প্রতিষ্ঠিত এই অমোঘ বিশ্ব-নিয়ম তা পরখ করবে, এবং ঈশ্বরের এই প্রাকৃতিক বিধানের হাত থেকে আমাদের কে বাঁচাতে পারে? পরমেশ্বরের নিয়ম ও বিধান দিন-রাত আমাদের ওপর নজর রাখছে—এই সত্যটি মানুষ অনুধাবন করুক এবং যতদূর সম্ভব চেষ্টা করে নিজের আচরণ যেন সম্পূর্ণ নির্দোষ হয়, সেদিকে খেয়াল রাখা উচিত।
অগ্নি হলো সেই প্রভুর মুখস্বরূপ। আমরা যে যজ্ঞে আহুতির দ্রব্য অর্পণ করি, তা কেবল জড় আগুনে ফেলছি—এমনটা না ভেবে আমরা পরমেশ্বরের সৃষ্টিব্যবস্থার উদ্দেশ্যে আহুতি দিচ্ছি, এমনটা অনুধাবন করলে সর্বব্যাপী পরমেশ্বরের মহাজাগতিক বিধান আমাদের আহুতি বা নিবেদন গ্রহণ করছে বলে অনুভূত হবে এবং সাক্ষাৎ পরমেশ্বরের সাথে আমাদের আত্মিক সম্বন্ধ গড়ে উঠবে।
বায়ু পরমাত্মার প্রাণ এবং অপান শক্তিপ্রবাহের রূপক প্রকাশ। সেই পরমাত্মার দেওয়া প্রাণশক্তিতেই আমরা শ্বাস-প্রশ্বাস গ্রহণ করছি। আমরা যে প্রাণবায়ু গ্রহণ করি, তা দিয়ে পরমাত্মারই সঞ্চালিত জীবনশক্তিকে আমরা নিজেদের ভেতরে নিচ্ছি। পরমেশ্বরের এই প্রাণশক্তি আমাদের ভেতরে গিয়ে আমাদের জীবিত রাখছে—আমরা যদি এমনটা বিশ্বাস ও অনুধাবন করি, তবে প্রতিটি শ্বাসের সাথে পরমাত্মার জীবনশক্তি আমাদের ভেতরে প্রবেশ করছে এবং আমাদের শরীরের জীবন সেই পরমাত্মার শক্তি দ্বারাই পরিচালিত হচ্ছে—এই বিষয়টি ধ্যানে এলে আমরা সর্বত্র পরমাত্মারই উপস্থিতি সাক্ষাৎকার লাভ করব।

সমস্ত প্রাকৃতিক উপাদান বা দেবগণ পরমাত্মার এই বিশ্ব-শরীরে রূপক অর্থে বাস করেন; পুরো বিশ্ব পরমাত্মার প্রকট শরীরস্বরূপ, সর্বত্র পরমেশ্বর পূর্ণ হয়ে আছেন, কোনো স্থান তাঁর থেকে খালি নেই। আমরা যেখানে বিচরণ করছি, ভাবলে দেখা যায় আমরা সবাই পরমাত্মার উদরে বা তাঁর সৃষ্টিরাজ্যের ভেতরেই বিচরণ করছি—পরমাত্মার এই সর্বব্যাপী ব্যাপ্তির বাইরে আমাদের যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
আমরা জল পান করে নিজেদের তৃষ্ণা নিবারণ করি; সেই জল মূলত পরমপিতা পরমাত্মারই প্রদত্ত জীবনরস। জলীয় শক্তি বা জল উপাদানকে আমরা পান করি এবং সেই উপাদান আমাদের শরীরের অঙ্গ হয়ে অবস্থান করে। বায়ুর গতিশীলতা পরমাত্মার প্রাণ ও অপানের বিধান। শ্বাসের মাধ্যমে পরমাত্মার পরম শক্তিকেই নিজেদের ভেতরে গ্রহণ করি এবং তার দ্বারা আমরা জীবিত থাকি।
যে অন্ন আমরা খাই, সেই অন্ন হলো ঈশ্বরের পরম কৃপার দান বা ঐশ্বরিক উপাদান; সেই অন্ন উপাদানকে আমরা আহার করছি এবং তা আমাদের শরীরে প্রবেশ করে শরীরের অংশ হয়ে ওঠে ও আমাদের শরীরের বল বৃদ্ধি করে। অগ্নি হলো এমন এক নিয়মভিত্তিক উপাদান, যা আমাদের অন্ন পাক করে এবং আমাদের সর্বপ্রকার সাহায্য করে। ওষধি ও বনস্পতিসমূহ হলো ঈশ্বরীয় গুণসম্পন্ন প্রাকৃতিক উপাদান। সেগুলোকে আমরা গ্রহণ করি এবং সেগুলো আমাদের শরীরের মল বা দূষিত পদার্থ ধুয়ে ফেলে তা নষ্ট করে; সেগুলোর মাধ্যমে আমাদের শরীর নির্দোষ হয় এবং আরোগ্য সম্পন্ন থাকতে সাহায্য করে।

সূর্য এবং চন্দ্রমা—এরা সবাই পরমাত্মার সুনির্দিষ্ট নিয়ম পালনের কারণে ঐশ্বরিক বা প্রাকৃতি উপাদান। এরা নিজেদের আলোক-রশ্মি দ্বারা আমাদের সত্যতা ও সুস্পষ্টতা দেয়। 'সূর্য আত্মা জগতস্তস্থুষশ্চ'—সূর্য স্থাবর ও জঙ্গমের শক্তি বা আত্মা। সূর্য থেকে আমরা বাহ্যিক জীবনশক্তি পাই এবং চন্দ্রমা থেকে ওষধিসমূহের পুষ্টি ও বৃদ্ধি ঘটে। এই ওষধিসমূহ সেবন করে আমরা পুষ্ট হই।

চিত্রং দেবানামুদগাদনীকং চক্ষুর্মিত্রস্য বরুণস্যাগ্নেঃ।
আপ্রাদ্দ্যাবাপৃথিবী অন্তরিক্ষং সূর্য আত্মা জগতস্তস্থুষশ্চ ॥
অথর্ববেদ ১৩.২.৩৫
= এই বিস্ময়কর সূর্য ধারক শক্তি। এটি বায়ু, জল এবং অগ্নির প্রকাশক। এটি নিজের আলোর মাধ্যমে দ্যুলোক, ভূলোক এবং অন্তরীক্ষকে পরিব্যাপ্ত করে রাখে। এটিই জঙ্গম ও স্থাবর বস্তুর সর্বাধিক শক্তিশালী চালিকাশক্তি।
অধ্যাত্মে ঈশ্বর পরম বিস্ময়কর, প্রকৃতির সকল শক্তি ও বিদ্বান ব্যক্তিদের চেয়েও অধিক শক্তিশালী। তিনি বায়ু, জল ও অগ্নির প্রকাশকর্তা। তিনি সূর্য, পৃথিবী ও বায়ুমণ্ডলের রক্ষক। তিনি স্বপ্রভ, ভাস্বর এবং স্থাবর ও জঙ্গম (গতিশীল ও স্থবির) সমস্ত কিছুর আত্মা।
আমাদের চার পাশে পৃথিবী, অপ্ (জল), তেজ (অগ্নি), বায়ু এবং আকাশ—এরা সবাই পরমেশ্বরের নিয়মে চালিত প্রাকৃতিক শক্তি বা উপাদান, এবং আমাদের এই শরীরও এই উপাদানগুলোর দ্বারাই গঠিত। চার দিক থেকে, আমাদের সর্বদিক থেকে পরমেশ্বরের এই প্রাকৃতিক নিয়ম ও শক্তিগুলো আমাদের ঘিরে রেখেছে; আমাদের ভেতরে এবং বাইরে ঈশ্বরের এই অমোঘ শক্তিগুলো পূর্ণ হয়ে আছে। পরমেশ্বরের নিবাস এমনই এক স্থান। ভেতরে এবং বাইরে, চার দিকে, আমাদের সব পাশে এই শক্তিগুলো অনুগত রয়েছে। এই উপাদানগুলোকে আমরা আহার করি, এগুলোকে আমরা পান করি, এগুলো দিয়ে আমরা নিজেদের কাজ করাই এবং সর্বতোভাবে এদের ঘ্রাণ নিই। প্রাকৃতিক উপাদানের মাধ্যমে আমরা নিজেদের কাজ সম্পন্ন করি এবং সর্বতোভাবে এদের মাঝে বিচরণ করি।

এই উপাদান বা দেবতারা পরমাত্মার অনুগত দূত বা নিয়মের রূপক মাত্র। সূর্য, চন্দ্র, বায়ু, ওষধি, জল, পৃথিবী দিন-রাত পরমেশ্বরের বিধানে আমাদের সাহায্য করে চলেছে। এমন কোনো মুহূর্ত নেই যে মুহূর্তে আমরা পরমেশ্বরের বিধানভুক্ত এই প্রাকৃতিক উপাদানগুলো থেকে পৃথক থাকতে পারি।
এই সব জড় উপাদান বা দেবতারা সম্পূর্ণরূপে পরমাত্মারই শক্তিতে শক্তিমান, তাদের নিজস্ব কোনো স্বাধীন শক্তি বা চৈতন্য নেই। এই কারণেই বেদে বলা হয়েছে—
তদেবাগ্নিস্তদাদিত্যস্তদ্বায়ুস্তদু চন্দ্রমাঃ ।
তদেব শুক্রং তদ্ব্রহ্ম তাঽআপঃ স প্রজাপতিঃ ॥
যজুর্বেদ ৩২।৬
= ঈশ্বরই 'অগ্নি', কারণ তিনি স্বয়ং-প্রকাশিত; তিনিই 'আদিত্য', কারণ বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের প্রলয়কালে তিনি সবকিছুকে নিজের মধ্যে গ্রাস করেন; তিনি 'বায়ু', কারণ তিনি সর্বশক্তিমান; তিনি 'চন্দ্রমা', কারণ তিনি আনন্দে পরিপূর্ণ এবং আনন্দের দাতা; তিনি 'শুক্র', কারণ তিনি পবিত্র ও দ্রুত কর্মশীল; তিনি 'ব্রহ্ম', কারণ তিনি পরম মহান; তিনি 'অপঃ' (জল), কারণ তিনি সর্বব্যাপী; এবং তিনিই 'প্রজাপতি', কারণ তিনি নিজের সৃষ্টিরাজির রক্ষক ও অভিভাবক।
এর দ্বারা এটিই প্রমাণিত হলো যে, পরমাত্মার আধারশক্তি পৃথিবীর রূপে আমাদের ভিত্তি বা আধার প্রদান করছে। পৃথিবীকে দেখে এটি পরমাত্মারই অটল আধারশক্তি—এমনটা বুঝে আমরা পৃথিবীতে পরমাত্মার ধারণক্ষমতার সাক্ষাৎকার লাভ করি; জলে পরমাত্মার শান্তি ও তৃপ্তিদায়ক বিধান বিদ্যমান রয়েছে—এমনটা অনুভব করে জলে পরমাত্মার শান্তিরূপী জীবনশক্তিকে দর্শন করি। বায়ুতে প্রবহমান প্রাণনশক্তি পরমাত্মারই নির্দেশিত—এমনটা দেখে সেই পরমাত্মার জীবন ও প্রাণনশক্তি বায়ুরূপে আমাদের প্রাপ্ত হচ্ছে, এমন অনুভব করে বায়ুর স্পর্শে আমরা পরমাত্মার প্রত্যক্ষ অনুভূতির সাক্ষাৎকার লাভ করি।

ভয়াদস্যাগ্নিস্তপতি ভয়াৎ তপতি সূর্য়ঃ।
ভয়াদিন্দ্রশ্চ বায়ুশ্চ মৃত্যুর্ধাবতি পঞ্চমঃ॥
কঠোপনিষদ্‌ ২.৩.৩
= এই ব্রহ্মের অটল নিয়ম ব্যবস্থা দ্বারাই অগ্নি ও সূর্য তাপ প্রদান করে এবং তাঁর নিয়মেই বিদ্যুৎ ও বায়ু চেষ্টা করে এবং পঞ্চম কাল, ব্রহ্মের নিয়মেই ধাবমান হয়।
স্বামী অথবা গুরুজনের হাতে দণ্ড দেখে যেমন ভৃত্য অথবা শিষ্য ভয়ভীত বা অনুগত হয়ে নিজের দায়িত্ব পালন করে, তেমনি পরমেশ্বরের পরম অনুশাসন বা যে অটল ন্যায়ব্যবস্থা—তাতে কৃত পাপকর্ম বা নিয়মভঙ্গের কোনো ব্যত্যয় বা অন্যায় ক্ষমা নেই এবং কেউ তাঁর এই মহাজাগতিক ব্যবস্থার উল্লঙ্ঘন করতে পারে না। তাঁর নিয়ম ব্যবস্থা দেখে এটা স্পষ্ট যে, সূর্যাদি সহ এই মহাবিশ্বের সকল জড়বস্তু পরমেশ্বরের অনুশাসনেই সুনির্দিষ্টভাবে চলছে। শুধু তাই নয়, তাঁর সূক্ষ্ম বিধানানুসারেই মৃত্যু প্রাণিদের দিকে ধাবিত হয়—অর্থাৎ মানুষের কৃত কর্মের ফলে তারা কালরূপ মৃত্যুর গ্রাসে পরিণত হয়। আবার এই মৃত্যুর অভিপ্রায় কোনো স্বতন্ত্র পৌরাণিক যমদূতাদি নয়, কারণ পরমেশ্বরকে নিজের সৃষ্টিব্যবস্থা চালানোর জন্য অন্য কোনো সহায়ক বা মধ্যস্থতাকারীর আবশ্যকতা নেই; তাঁর অমোঘ নিয়মই স্বয়ংক্লিয়ভাবে কার্যকর।

এইভাবে প্রকৃতির প্রতিটি উপাদানে যে যে বিশেষ গুণ বিদ্যমান, সেই সব গুণ মূলত পরমাত্মারই মহিমা এবং পরমাত্মার শক্তিতেই সেগুলোতে অবস্থান করছে—এমনটা বুঝে আমরা সর্বত্র পরমাত্মার মহাশান্তিকে বিবিধ রূপে অনুভব করি। এইভাবে পরমপিতা পরমাত্মা ভেতরে-বাইরে ও চার পাশে তাঁর বিধান দিয়ে আমাদের সাহায্য করছেন, তাঁর পরম সহায়তায় আমরা জীবিত আছি, পুষ্ট হচ্ছি এবং বৃদ্ধি পাচ্ছি—এমনটা অনুভব করে জীবিত ও জাগ্রত পরমাত্মাকে নিজেদের ভেতরে-বাইরে, নিচে-উপরে তথা চার পাশে প্রত্যক্ষ করে আমরা পরম আনন্দ লাভ করি।

সদা-সর্বদা পরমাত্মাকে চার পাশে এইভাবে অনুভূতির মাধ্যমে প্রত্যক্ষ করার অভ্যাস গড়ে তোলা যেতে পারে এবং এতে সফলতা প্রাপ্ত হলে যে আত্মিক আনন্দ মেলে, তা অসীম ও শাশ্বত আনন্দ।

পাঠকগণ পরমাত্মার এই সর্বব্যাপী নিয়ম অনুধাবন করে অসীম আনন্দ প্রাপ্ত করার এই সাধনা সম্পন্ন করুন, পরমেশ্বরের সান্নিধ্যে প্রসন্নতার জীবন যাপন করুন এবং সর্বকালের জন্য আত্মিক দুঃখকে দূর করুন।

🖋 শ্রী দীপংকর সিংহ দীপ
ব্যাকরণ-বেদান্ত-স্মৃতি-পৌরোহিত্য-আয়ুর্বেদতীর্থ
শিক্ষা ও শাস্ত্রার্থ সমন্বয়ক
© বাংলাদেশ অগ্নিবীর

🔥আজ আবার চাই অগ্নিহোত্রের দীপ্তিশিখা! 🔥🔰 আজ আমাদের আত্মবিস্মৃত হৃদয়ে আবার আগুন চাই! চাই অগ্নিহোত্রের সেই দীপ্তিশিখা—যে শ...
21/08/2026

🔥আজ আবার চাই অগ্নিহোত্রের দীপ্তিশিখা! 🔥

🔰 আজ আমাদের আত্মবিস্মৃত হৃদয়ে আবার আগুন চাই! চাই অগ্নিহোত্রের সেই দীপ্তিশিখা—যে শিখা শুধু বেদীর উপর জ্বলে না, মানুষের অন্তরের ঘুমন্ত শক্তিকে জাগিয়ে তোলে; যে শিখা শুধু অন্ধকার দূর করে না, অজ্ঞান, জড়তা, অলসতা, কুসংস্কার ও অন্যায়ের বিরুদ্ধেও মানুষকে দাঁড়াতে শেখায়!
মনে রেখো—বৈদিক দর্শনে পরমাত্মা পরমেশ্বরই সর্বোচ্চ আলোকের উৎস। যজ্ঞাগ্নি সেই পরম আলোর স্বয়ং পরমেশ্বর নন; বরং তাঁর সৃষ্টির এক প্রত্যক্ষ, জীবন্ত ও শিক্ষাময় প্রকাশ। পরমেশ্বর যজ্ঞাগ্নির রূপ, গতি, তেজ, পবিত্রতা ও কর্মধারার মধ্য দিয়ে আমাদের সামনে যে শিক্ষা রেখেছেন, সেই শিক্ষাই গ্রহণ করতে হবে। অগ্নিকে দেখে আমাদের শিখতে হবে—কীভাবে নিজে জ্বলে অন্যকে আলোকিত করতে হয়, কীভাবে ঊর্ধ্বমুখী হতে হয়, কীভাবে অশুদ্ধিকে দহন করে বিশুদ্ধতার দিকে এগিয়ে যেতে হয়, কীভাবে নিস্তেজ না হয়ে সর্বদা কর্মমুখর থাকতে হয়।
এই যজ্ঞাগ্নি আমাদের সামনে পরমার্থের এক জীবন্ত উপমা। সে স্থির হয়ে পড়ে থাকে না—তার শিখা সর্বদা ঊর্ধ্বমুখী। যেন ঘোষণা করে—হে মানব! তোমার জীবনও নিচের দিকে টেনে নেওয়া প্রবৃত্তির কাছে আত্মসমর্পণ করার জন্য নয়; তোমার গতি ঊর্ধ্বমুখী হোক!

▪️পরমেশ্বরের সৃষ্টির সুশৃঙ্খল বিধানে অগ্নির কার্য কত বিস্ময়কর! আলো, তাপ, রূপান্তর, শোধন ও শক্তির যে অসংখ্য প্রকাশ আমরা প্রকৃতিতে দেখি, তার সঙ্গে অগ্নিতত্ত্বের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। অগ্নির তেজে বনস্পতি, বীরুধ ও লতাসমূহের জীবনধারাও প্রকৃতির বৃহত্তর শক্তিচক্রের সঙ্গে যুক্ত। অতএব অগ্নি আমাদের শেখায়—জীবন মানেই শক্তির সঠিক প্রয়োগ, বিকাশ এবং কল্যাণের দিকে অগ্রসর হওয়া।
পরমেশ্বর যজ্ঞকে দেবযজ্ঞের প্রধান সাধন করেছেন। যজ্ঞে অগ্নি হব্য গ্রহণ করে, তাকে রূপান্তরিত করে, পরিবেশে বিস্তার ঘটায়। এই কর্মধারার মধ্যেই নিহিত রয়েছে এক মহৎ শিক্ষা—গ্রহণ করো, কিন্তু শুধু নিজের জন্য নয়; গ্রহণকে রূপান্তরিত করে কল্যাণের পথে ফিরিয়ে দাও।
পরমেশ্বরের বিধানে ঋতুচক্রের পরিবর্তন, প্রকৃতির নানা রূপান্তর এবং পদার্থের পরিবর্তনের সঙ্গে অগ্নিতত্ত্বের সম্পর্ক রয়েছে। তাই বেদ অগ্নিকে ‘ঋত্বিক’ বলে সম্বোধন করে। আবার যজ্ঞের হব্য গ্রহণ করে রূপান্তরের কার্য সাধন করার জন্য তিনি ‘হোতা’। আর মহামূল্য সম্পদের দীপ্তি ও রূপান্তরের সঙ্গেও অগ্নির সম্পর্ক—তাই ঋগ্বেদের প্রথম মন্ত্রে তাঁকে বলা হয়েছে—
অগ্নিমীল়ে পুরোহিতং যজ্ঞস্য দেবমৃত্বিজম্।
হোতারং রত্নধাতমম্॥
ঋগ্বেদ ১।১।১
এই একটি মন্ত্রের মধ্যেই অগ্নিকে ঘিরে কত গভীর শিক্ষা! অগ্নি যজ্ঞের পুরোহিত—কারণ সে যজ্ঞের কর্মকে সামনে এগিয়ে নেয়। অগ্নি দেব—কারণ তার কার্য কল্যাণকর ও আলোকময়। অগ্নি ঋত্বিক—কারণ সে ঋত বা সুশৃঙ্খল বিধানের সঙ্গে যুক্ত। অগ্নি হোতা—কারণ সে আহুতি গ্রহণ করে। আর ‘রত্নধাতম’—কারণ তার কার্যধারার সঙ্গে মূল্যবান রূপান্তর ও দীপ্তির সম্পর্ক রয়েছে।
কিন্তু হে মানুষ, শুধু মন্ত্র উচ্চারণ করলেই হবে না! অগ্নির কাছ থেকে শিক্ষা নিতে হবে!
যজ্ঞাগ্নির শিখার দিকে তাকাও। সে নিজে জ্বলে—অন্যকে আলো দেয়। সে নিজের জন্য আলো জমিয়ে রাখে না। সে অন্ধকারের সঙ্গে আপস করে না। সে যা গ্রহণ করে, তাকে রূপান্তরিত করে। সে ঊর্ধ্বমুখী। সে স্থবির নয়। সে সর্বদা সক্রিয়।
তোমার জীবন কি এমন?
তুমি কি নিজে জ্বলে অন্যের জীবন আলোকিত করছ? তোমার জ্ঞান কি শুধু তোমার নিজের মধ্যে বন্দী, নাকি সমাজকেও আলোকিত করছে? তোমার শক্তি কি শুধু নিজের ভোগের জন্য, নাকি মানুষের কল্যাণে নিবেদিত? তোমার জীবন কি ঊর্ধ্বমুখী, নাকি কামনা, লোভ, ভয় ও অলসতার ভারে নিচের দিকে পতিত?
অগ্নি আমাদের সামনে দাঁড়িয়ে যেন এই প্রশ্নই ছুড়ে দেয়!
ঋগ্বেদের প্রথম মন্ত্রে অগ্নির এই মহিমা ঘোষণার পর আমরা দেখি—অগ্নির কত বিচিত্র রূপ ও উপমা বৈদিক সাহিত্যে এসেছে। কোথাও গৃহের পবিত্রতার প্রতীক ‘গার্হপত্য’, কোথাও ঈশ্বরার্পিত আহুতির ‘আহবনীয়’, কোথাও রক্ষাকারী শক্তির প্রতীক। পরমেশ্বরের সৃষ্টিতে অগ্নিতেজের মহিমার কারণে মহাবিষ্ণু অগ্নিজন্মা, দেবদেব শিব অগ্নিকেতু এবং কার্তিকেয় অগ্নিভূ নামে পরিচিত। অগ্নিমুখ মন্ত্রও সেই তেজ, দীপ্তি ও শক্তির জয়গান করে। অগ্নি কেবল বেদীর একটি শিখা নয়; অগ্নি মানুষের ভাষায় তেজ, দীপ্তি, শক্তি, রূপান্তর ও মহিমার এক গভীর প্রতীক।

🔰পবিত্র ঋগ্বেদে অগ্নির মহিমাকে কেন্দ্র করে প্রায় ২০০টি সম্পূর্ণ সূক্ত আমাদের সামনে উদ্ভাসিত হয়েছে। পরমাত্মা প্রদত্ত অগ্নির গুণাবলিকে সেখানে ঘৃতপৃষ্ঠ, মন্দ্রজিহ্ব, সপ্তরশ্মি এবং সদ্‌ধচক্ষু প্রভৃতি দিব্য বিশেষণে ভূষিত করা হয়েছে।
এবার শোনো—অগ্নি আমাদের কী শিক্ষা দেয়!
সাধুর্ন গৃধ্নুরস্তেব শূরো যাতেব ভীমস্ত্বেষঃ সমৎসু ॥
ঋগ্বেদ ১।৭০।১১
= পরমাত্মা আমাদের যজ্ঞাগ্নির মাধ্যমে শিক্ষা দিচ্ছেন— সাধু-সন্তদের মতো অপরিসীম স্নেহশীল, উদার ও শ্রদ্ধেয়, বীর ধনুর্বাণধারীর মতো পরাক্রমশালী, শাস্তি প্রদানকারীর মতো ভীষণ ও কঠোর, এবং জীবনের নানা সংগ্রামে উদ্ভাসিত ও প্রদীপ্ত—এমনই হলেন অগ্নি, যিনি এই জগতের আলো, প্রাণ ও শক্তি।
এই হলো অগ্নির শিক্ষা!
শুধু কোমল হলেই হবে না—প্রয়োজনে কঠোর হতে হবে। শুধু জ্ঞানী হলেই হবে না—সেই জ্ঞানকে কর্মে প্রয়োগ করতে হবে। শুধু শান্ত হলেই হবে না—অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর সাহসও থাকতে হবে। শুধু নিজের মুক্তি চাইলে হবে না—নিজের আলো দিয়ে অন্যের অন্ধকারও দূর করতে হবে।
অগ্নি তাই আমাদের শেখায়—হৃদয়ে করুণা রাখো, হাতে শক্তি রাখো, বুদ্ধিতে প্রখরতা রাখো এবং কর্মে তেজ রাখো!

🔰ঈশ্বরীয় ভাব ও দিব্য প্রেরণার আরেকটি চিত্র দেখুন—
স ইদস্তেব প্রতি ধাদসিষ্যঞ্ছিশীত তেজোঽয়সো ন ধারাম্।
চিত্রধ্রজতিররতির্যো অক্তোর্বের্ন দ্রুষদ্বা রঘুপত্মজংহাঃ ॥
ঋগ্বেদ ৬।৩।৫
অর্থাৎ হে মানবগণ! অগ্নি যার গতি বা বিচরণ বিস্ময়কর, যা নির্দিষ্ট কোনো বস্তুতে আবদ্ধ নয়, তা রাতের পাখির মতো নানা তরল ও অন্যান্য পদার্থের মধ্যে বিদ্যমান। এটি ধীরগতির উড্ডয়ন ত্যাগ করে কোনো কিছুতেই আবদ্ধ না হয়ে ধনুর্ধরের শরেরন্যায় দ্রুত গতিতে ধাবিত হয়; আর তা স্বর্ণের মতো উজ্জ্বল শিখা ধারণ করে এবং নিজের তেজ ও দীপ্তিকে তীক্ষ্ণ করে তোলে।
হে মানবগণ! এই অগ্নির শিক্ষা হৃদয়ে ধারণ করো!
তোমার মধ্যেও চেতনার একটি অগ্নি আছে। তোমার বুদ্ধি নিস্তেজ হয়ে থাকার জন্য নয়। তোমার শক্তি অপচয় করার জন্য নয়। তোমার জীবন জড়তার কাছে পরাজিত হওয়ার জন্য নয়!
তোমার জ্ঞানকে শাণিত করো! তোমার চরিত্রকে শাণিত করো! তোমার কর্মশক্তিকে শাণিত করো! তোমার বিবেককে শাণিত করো!
অলসতা তোমাকে গ্রাস করতে পারবে না। হতাশা তোমাকে পরাজিত করতে পারবে না। অজ্ঞান তোমার পথ রুদ্ধ করতে পারবে না।
কারণ তোমার হৃদয়ে জাগুক সেই অগ্নি—যে অগ্নি তোমাকে প্রতিদিন আরও সত্যনিষ্ঠ, আরও পবিত্র, আরও শক্তিশালী ও আরও কল্যাণমুখী করে তুলবে!

☑️ আরো শোনো—
তিগ্মং চিদেম মহি বর্পো অস্য ভসদশ্বো ন যমসান আসা।
বিজেহমানঃ পরশুর্ন জিহ্বাং দ্রবির্ন দ্রাবয়তি দারু ধক্ষৎ ॥
ঋগ্বেদ ৬।৩।৪
অর্থাৎ, তাঁর পথ ক্ষুরের ধারের মতো তীক্ষ্ণ যা আমরা অনুসরণ করতে চাই, তাঁর রূপ ও কান্তি মহান এবং উজ্জ্বল প্রদীপ্ত, সোমপায়ী বা সংযমী অশ্বের ন্যায় তাঁর মুখ উন্মুক্ত, তাঁর জিহ্বা কুঠারের মতো তীক্ষ্ণ, এবং তিনি খাঁটি গলনাঙ্ককের (ধাতু গলানো কারিগর) মতো কাঠিন্যকে গলিয়ে দেন ও অগ্নির ন্যায় কাঠের তৈরি সামাজিক কুসংস্কারকে পুড়িয়ে ভস্ম করেন।
এখানেই অগ্নির আরেকটি মহাশিক্ষা!
যা কঠিন, তা সবসময় অটল নয়। যা জমাট, তা সবসময় অপরিবর্তনীয় নয়। যে সমাজে কুসংস্কার জমাট বেঁধেছে, জ্ঞানের অগ্নি তাকে গলাতে পারে। যেখানে অন্যায় শক্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে, সত্যের তেজ তাকে ভেঙে দিতে পারে।
যেমন অগ্নির উত্তাপে কঠিন ধাতু গলে শোধিত হয়, তেমনি জ্ঞানাগ্নি ও যজ্ঞাগ্নির আদর্শে আমাদের সমাজের কুসংস্কার, অন্যায়, অজ্ঞতা, নৈতিক অবক্ষয় ও সামাজিক জঞ্জালকে দূর করতে হবে।
অগ্নি ধ্বংস করে—কিন্তু ধ্বংসের জন্য ধ্বংস করে না। সে অশুদ্ধিকে দহন করে বিশুদ্ধতার পথ তৈরি করে। এই পার্থক্যটি বুঝতে হবে!
অগ্নির শিক্ষা হিংসার শিক্ষা নয়; অগ্নির শিক্ষা হলো অশুভের বিরুদ্ধে শুদ্ধতার সংগ্রাম।

🔰বেদ ঘোষণা করে—
যদ্দেবানাং মিত্রমহঃ পুরোহিতোঽন্তরো যাসি দূত্যম্ ।
সিন্ধোরিব প্রস্বনিতাস ঊর্ময়োঽগ্নের্ভ্রাজন্তে অর্চয়ঃ ॥
ঋগ্বেদ ১।৪৪।১২
অর্থাৎ, পরমেশ্বরই হলেন দূরদর্শী মানুষের সর্বশ্রেষ্ঠ বন্ধু! প্রাতঃকালের যজ্ঞাগ্নির শিখা যখন সমুদ্রের তরঙ্গমালার মতো জ্বলে ওঠে, তা মূলত পরমেশ্বরেরই প্রজ্ঞা ও করুণার আহ্বান—যা মানুষকে হৃদয়ের গভীরে পরমাত্মার সাথে যুক্ত হতে প্রেরণা দেয়।
প্রভাত এসেছে। আলো এসেছে। অগ্নি জ্বলে উঠেছে। তবে তুমি কেন ঘুমিয়ে থাকবে?
যজ্ঞাগ্নির ঊর্ধ্বমুখী শিখা যেন বলে— “মানুষ, তুমিও ঊর্ধ্বে ওঠো!”
তোমার চিন্তা ঊর্ধ্বে উঠুক। তোমার চরিত্র ঊর্ধ্বে উঠুক। তোমার সমাজ ঊর্ধ্বে উঠুক। তোমার দেশ ঊর্ধ্বে উঠুক। তোমার জীবন সত্য, জ্ঞান ও কল্যাণের পথে ঊর্ধ্বমুখী হোক!

🔰বেদ ঘোষণা করে—
বি পাজসা পৃথুনা শোশুচানো বাধস্ব দ্বিষো রক্ষসো অমীবাঃ।
সুশর্মণো বৃহতঃ শর্মণি স্যামগ্নেরহং সুহবস্য প্রণীতৌ॥
ঋগ্বেদ ৩।১৫।১
= হে অগ্নি, আলো ও তেজের অধিপতি, তীব্র প্রসারমান উত্তাপ ও দীপ্তিময় আলোর সুপবিত্র শোধনকারী! হিংসার রূপ নেওয়া সমস্ত সংক্রামক ও মরণঘাতী ব্যাধি এবং শত্রুতার বিনাশকারী শক্তিকে প্রতিহত করুন, দূর করুন ও ঠেকিয়ে রাখুন; যেন আমি এই প্রশস্ত পৃথিবীজুড়ে পরম শান্তি, সুরক্ষা ও যজ্ঞীয় প্রগতির মহান প্রভুর আশীর্বাদপুষ্ট নিয়ম-শৃঙ্খলার অধীনে, এক আনন্দময় গৃহে পরম সুখে ও শান্তিতে স্বাচ্ছন্দ্যে বসবাস করতে পারি।

▪️কিন্তু আজ?
আজ আমরা কোথায় দাঁড়িয়ে আছি?
যে বৈদিক জ্ঞান মানুষকে জাগাতে পারত, আমরা সেই জ্ঞান ভুলে যাচ্ছি। যে যজ্ঞের আগুন আমাদের শুদ্ধতার শিক্ষা দিতে পারত, আমরা তার অন্তর্নিহিত শিক্ষাকে ভুলে শুধু বাহ্যিক আচারে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ছি। আর তারই সুযোগে সমাজে অনাচার, নারী-নির্যাতন, যৌতুকের দানব, নৈতিক পতন, অজ্ঞতা ও কুসংস্কার শিকড় গেড়ে বসছে।
ঘর আছে—কিন্তু ঘরে আলো নেই। শিক্ষা আছে—কিন্তু জ্ঞানের তেজ নেই। আচার আছে—কিন্তু চরিত্র নেই। শব্দ আছে—কিন্তু সত্যের আগুন নেই!
তাই আজ আবার চাই অগ্নিহোত্রের দীপ্তিশিখা!
চাই সেই অগ্নি, যা আমাদের ঘুম ভাঙাবে। চাই সেই অগ্নি, যা আমাদের আত্মবিস্মৃতি পোড়াবে। চাই সেই অগ্নি, যা অলসতা দগ্ধ করবে। চাই সেই অগ্নি, যা কুসংস্কারের শিকড় গলিয়ে দেবে। চাই সেই অগ্নি, যা অন্যায়ের সামনে আমাদের মেরুদণ্ড সোজা করবে। চাই সেই অগ্নি, যা জ্ঞানকে দীপ্ত করবে, চরিত্রকে পবিত্র করবে এবং কর্মকে তেজস্বী করবে!
অতএব হে অমৃতের সন্তানগণ—’উত্তিষ্ঠত জাগ্রত প্রাপ্য বরান্ নিবোধত’ ওঠো!
আর কত ঘুমাবে?
তোমার অন্তরে যে ঐশ্বরিক সম্ভাবনা আছে, তাকে চিনতে শেখো! পরমেশ্বর তোমাকে জড়তা, অন্ধকার ও দুর্বলতার জন্য সৃষ্টি করেননি। তোমার মধ্যে যে জ্ঞান, বিবেক, সাহস ও কর্মশক্তি দিয়েছেন, তাকে প্রজ্জ্বলিত করো!
যজ্ঞাগ্নির শিখার দিকে তাকাও এবং নিজেকে প্রশ্ন করো—
আমি কি জ্বলছি? আমি কি আলোক দিচ্ছি? আমি কি ঊর্ধ্বে উঠছি? আমি কি অশুদ্ধতাকে পুড়িয়ে শুদ্ধতার পথে এগোচ্ছি? আমি কি নিজের জীবনকে অন্যের কল্যাণে নিবেদন করছি?
যদি উত্তর ‘না’ হয়—তবে আজই জ্বলে ওঠো! ‘আ রোহ তমসো জ্যোতিঃ‘—অন্ধকার থেকে আলোর দিকে এগিয়ে চলো।
পরমেশ্বরের অসীম করুণা এবং নিজের অন্তর্নিহিত তেজকে সম্বল করো। নিজের ভিতরের অজ্ঞতা, ভয়, অলসতা, পাপপ্রবৃত্তি ও দুর্বলতাকে দগ্ধ করো। কিন্তু মনে রেখো—এই অগ্নি কোনো মানুষের বিরুদ্ধে নয়; এই অগ্নি অশুভের বিরুদ্ধে, অজ্ঞতার বিরুদ্ধে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে, নিজের দুর্বলতার বিরুদ্ধেই প্রথমে জ্বালাতে হবে।
আজ প্রয়োজন এমন মানুষ, যারা নিজের জীবন দিয়ে প্রমাণ করবে—বৈদিক জ্ঞান মৃত অতীত নয়; বৈদিক জ্ঞান জীবনের জাগরণ!
আজ প্রয়োজন এমন হৃদয়, যেখানে যজ্ঞের আগুন জ্বলে। আজ প্রয়োজন এমন মস্তিষ্ক, যেখানে জ্ঞানের আলো জ্বলে। আজ প্রয়োজন এমন চরিত্র, যা অগ্নির মতো পবিত্র। আজ প্রয়োজন এমন কর্মী, যে অগ্নির মতো নিরন্তর কর্মশীল। আজ প্রয়োজন এমন মানুষ, যে নিজে দীপ্ত হয়ে শত মানুষকে দীপ্ত করতে পারে!
এসো, পরমাত্মার প্রতি নিজেদের সমর্পিত করি। এসো, যজ্ঞের পবিত্র আদর্শকে জীবনে ধারণ করি। এসো, অগ্নির শিখার কাছ থেকে শিখি—নিজে জ্বলো, অন্যকে জ্বালাও; নিজে আলোকিত হও, অন্যকে আলোকিত করো; নিজে শুদ্ধ হও, সমাজকেও শুদ্ধতার পথে নিয়ে চলো!

🔰আর সেই অগ্নিশিখার সামনে দাঁড়িয়ে ঋগ্বেদের মহাবাণী উচ্চারণ করি—
আ তে অগ্ন ইধীমহি দ্যুমন্তং দেবাজরম্।
যদ্ধ স্যা তে পনীয়সী সমিদ্দীদয়তি দ্যবীষং স্তোতৃভ্য আ ভর ॥
ঋগ্বেদ ৫।৬।৪
= এসো, আমরা তোমাকে প্রজ্জ্বলিত করি—হে জীবনের আলো ও অগ্নি, উদার পরমেশ্বর, দীপ্তিময় ও অজর-অমর; যাতে তোমার শিখার বিস্ময়কর ও প্রশংসনীয় আলো দ্যুলোকে উদ্ভাসিত হয়ে ওঠে এবং তুমি ভক্তদের জন্য খাদ্য ও শক্তি বহন করে আনো।
আজ আবার চাই সেই অগ্নিহোত্রের দীপ্তিশিখা!
বেদীর অগ্নি জ্বলুক— আর তার সঙ্গে জ্বলুক আমাদের বিবেক!
অগ্নির শিখা ঊর্ধ্বে উঠুক— আর তার সঙ্গে ঊর্ধ্বে উঠুক আমাদের জীবন!
অগ্নি অন্ধকার দূর করুক— আর আমরা দূর করি অজ্ঞতার অন্ধকার!
অগ্নি অশুদ্ধিকে দহন করুক— আর আমরা দহন করি নিজেদের দুর্বলতা ও কুসংস্কার!
অগ্নি চারদিকে আলো ছড়াক— আর আমরা আমাদের জ্ঞান, চরিত্র ও কর্মের আলো সমাজে ছড়িয়ে দিই!
কারণ অগ্নিহোত্রের সত্য শিক্ষা শুধু বেদীতে আগুন জ্বালানো নয়—অগ্নির গুণকে জীবনে জ্বালানো।
আজ তাই আবার ডাক দাও—
জাগো! উঠো! জ্বলে ওঠো! ঊর্ধ্বে ওঠো! নিজেকে শুদ্ধ করো! সমাজকে আলোকিত করো! সত্যের পথে অটল হও!
আজ আবার চাই— অগ্নিহোত্রের দীপ্তিশিখা!

🖋 শ্রী দীপংকর সিংহ দীপ
ব্যাকরণ-বেদান্ত-স্মৃতি-পৌরোহিত্য-আয়ুর্বেদতীর্থ
শিক্ষা ও শাস্ত্রার্থ সমন্বয়ক
© বাংলাদেশ অগ্নিবীর

Address

Dhaka

Opening Hours

Monday 09:00 - 23:00
Tuesday 09:00 - 23:00
Wednesday 09:00 - 23:00
Thursday 09:00 - 23:00
Friday 09:00 - 23:00
Saturday 09:00 - 23:00
Sunday 09:00 - 23:00

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when বাংলাদেশ অগ্নিবীর, ঢাকা শাখা posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share