06/05/2025
ুরবানী_সম্বন্ধে_জরুরি_৬৬টি_মাসয়ালা"🥰
১. কার উপর কুরবানী ওয়াজিব?
উঃ- জিলহজ্জ মাসের ১০ তারিখ সুবহে সাদিক থেকে ১২ তারিখ সূর্যাস্ত পর্যন্ত কারো কাছে যদি নিছাব পরিমাণ সম্পদ থাকে ৭.৫ সাড়ে সাত ভরি স্বর্ণ অথবা ৫২.৫ সাড়ে বায়ান্ন ভরি রুপা থাকে তার উপর কুরবানী ওয়াজিব।
২. এই নিছাবের মেয়াদ কত দিন?
উঃ- ৩ দিন, জিলহজ্জ মাসের ১০, ১১ এবং ১২ তারিখ সূর্যাস্ত পর্যন্ত।
৩. তিন দিনের মধ্যে কোন দিন কুরবানী করা উত্তম?
উঃ- ১০ তারিখে প্রথম দিন।
৪. যদি নাবালক এর নিছাব পরিমাণ সম্পদ থাকে তার উপর কুরবানী ওয়াজিব হবে কি ?
উঃ- না।
৫. বালেগ সুস্থ মস্তিষ্ক না নিছাব পরিমাণ সম্পদ আছে তার উপর কুরবানী ওয়াজিব হবে কি ?
উঃ- না।
৬. যদি নাবালেগ এর নিছাব পরিমাণ সম্পদ থাকে এর পক্ষে থেকে কুরবানী দেওয়া কি?
উঃ- মুস্তাহাব, ওয়াজিব না।
৭. দরিদ্র লোকের উপর কুরবানী কি ওয়াজিব?
উঃ- না, তবে যদি কুরবানির নিয়তে পশু ক্রয় করে
তখন সে পশু কুরবানী করা ওয়াজিব।
৮. কেউ যদি কুরবানির দিন গুলোতে কুরবানির দিতে না পারে তাহলে কি করবে, যদি সে নিছাব পরিমাণ সম্পদ আছে, কোনো সমস্যায় দিতে পারে নি তাহলে কি করবে?
উঃ- একটা ছাগল যে কুরবানী উপযুক্ত সে ছাগলের সমপরিমাণ টাকা সদকা করে দিবেন এটা হলো যারা পশু ক্রয় করতে পারেনি তাদের জন্য। কিন্তু যারা পশু কিনেছেন কিন্তু তিন দিনের মাঝে কুরবানী দিতে পারেননি তাহলে তার জন্য করণীয় হলো সে পশু সদকা করে দেওয়া। আবার যদি কেউ তিন দিন পর জবাই করে ফেলে তাহলে সে ঐ পশুর গোশত ওজন করবে তারপর যদি ঐ পশুর ক্রয়ের টাকা থেকে কম হয় তাহলে গোশত সহ যত টাকার গোশত কম হয়েছে পুরোটাই সদকা করতে হবে। ধরেন আপনি ২০ হাজার দিয়ে কিনেছেন ওজন দিয়ে দেখলেন ১৮ হাজার টাকার গোশত হয়েছে তাহলে গোশতের আরও ২ হাজার টাকা সদকা করতে হবে।
৯. প্রথম দিন কখন থেকে কুরবানী করা যাবে?
উঃ- যে এলাকায় জুমার নামাজ এবং ঈদের নামাজ ওয়াজিব সে এলাকায় ঈদের নামাজের আগে কুরবানী করা জায়েজ নেই। তবে কোনো প্রকার দুর্ঘটনা ঘটে গেলে যদি ঈদের নামাজ না পড়া যায় তাহলে করণীয় হলো সূর্য মধ্যে আকাশ অতিক্রম করার পর কুরবানী করা জায়েজ হবে।
১০. রাতে কুরবানী দিলে কি হবে?
উঃ- ১০, ১১ তারিখে রাতে দিলে হবে ১২ তারিখ রাতে দিলে হবে না।
১১. কোন কোন পশু দিয়ে কুরবানী দেওয়া জায়েজ?
উঃ- গরু, উট, মহিষ, দুম্বা, ছাগল এবং ভেড়া।
১২. পশুদের লিঙ্গ ভেদ করতে হবে কি?
উঃ- না, পুরুষ ও মহিলা উভয় দিয়ে হবে।
১৩. পশুর বয়স সীমা কত?
উঃ- উট কমপক্ষে ৫ বছর, গরু-মহিষ ২ বছর
ভেড়া আর দুম্বা-ছাগল ১ বছর। ভেড়া এবং দুম্বা ১ বছর হয়নি তবে বলিষ্ঠ মনে হয় যে এক বছর হয়েছে, তাহলে এটা দিয়ে কুরবানী হবে। তবে ছাগল ১ বছরের নিচে কোনোভাবে হবে না।
১৪. শরীক সর্বোচ্চ কত জন হওয়া যাবে?
উঃ- উট, গরু, মহিষে সর্বোচ্চ ৭ জন। কমে হলে সমস্যা নেই, তবে একা দেওয়া উত্তম। ছাগল, দুম্বা, ভেড়াতে একজন।
১৫. গোশত ভাগে কম বেশি হলে?
উঃ- কারো কুরবানী সহীহ হবে না।
১৬. শরীকের মাঝে কেউ যদি গোশত খাওয়ার নিয়তে দেয় তাহলে?
উঃ- কারো কুরবানী হবে না।
১৭. কুরবানীর পশুতে আকিকা দেওয়া যাবে?
উঃ- হ্যাঁ, তবে উট, গরু এবং মহিষে।
১৮. শরীকদার দের মাঝে যদি কারো অধিকাংশ বা পুরা টাকা হারাম হয় তাহলে কি কুরবানী হবে?
উঃ- না না না! কারো কুরবানী হবে না।
১৯. গরু, মহিষ এবং উট একা কুরবানীর নিয়তে কেনার পর অন্য কাউকে কি শরীক করা যাবে?
উঃ- ধনী হলে পারবে অর্থাৎ যার উপর ওয়াজিব, তবে গরীব হলে ওয়াজিব না কুরবানী তার উপর। পশু কিনে ফেলছে কুরবানীর নিয়তে তাহলে শরীক করা যাবে না একাই দিতে হবে।
২০. কোন ধরনের পশু নির্বাচন করা উত্তম?
উঃ- রিষ্ট পুষ্ট, তাজা পশু নির্বাচন করা সুন্নত।
২১. যে পশু তিন পায়ে ভর করে চলে এমন পশু দ্বারা কি কুরবানী হবে?
উঃ- না।
২২. রুগ্ন পশু দিয়ে কি কুরবানী হবে?
উঃ- না।
২৩. দাঁত ছাড়া পশু দিয়ে কি কুরবানী হবে?
উঃ- একটাও দাঁত নেই এটা কোনো ভাবেই হবে না, অথবা কিছু আছে তবে ঘাস খেতে পারে না এমন পশু দ্বারাও কুরবানী হবে না।
২৪. শিং ছাড়া পশু দিয়ে কুরবানী হবে কি ?
উঃ- জন্মগত যে পশুর শিং নেই সেটা দ্বারা হবে। তবে পরবর্তীতে যেটা ভেঙ্গে যায় আর তার ফলে মস্তিষ্কে ক্ষতি হয় এমন পশু দ্বারা হবে না। তবে অর্ধেক হলেও হবে।
২৫. লেজ কাটা এবং কান কাটা পশু দিয়ে কুরবানি হবে কি?
উঃ- যদি পশুর লেজ বা কান অর্ধেক বা তার বেশি কাটা হয় তাহলে সে পশু দ্বারা কুরবানী হবে না। তবে অর্ধেকের কম হলে হবে।
২৬. অন্ধ পশু দ্বারা কুরবানী করা যাবে কি?
উঃ- না, তবে যে পশুর এক চোখও অন্ধ সেটা দিয়েও হবে না।
২৭. কুরবানীর নিয়তে পশু ক্রয় করার পর হারিয়ে গেলে দাতা কি করবে?
উঃ- ধনী হলে আরেক টা ক্রয় করবেন এবং গরীব ওয়াজিব নয় এমন ব্যক্তির ক্রয় করতে হবে না। তবে কেনার পরে যদি আবার প্রথম পশু ফিরে পাওয়া যায় তাহলে ধনী ব্যক্তি যেকোনো একটা কুরবানী করলে হবে, তবে দুটা করা উত্তম একটা করলেও হবে। আর গরীব ব্যক্তি যদি হয় তাহলে দুটােই দিতে হবে। দুটােই দেওয়া তখন ওয়াজিব।
২৮. গর্ভবতী পশু কুরবানী করা কি জায়েজ আছে?
উঃ- হ্যা জায়েজ।
২৯. পশু জবাইয়ের পরে যদি বাচ্চা কে জীবিত পাওয়া যায় তাহলে কি করবে?
উঃ- বাচ্চাও জবাই দিতে হবে।
৩০. জবাইয়ের আগ মুহূর্তে যদি পশু প্রসব অবস্থায় উপনীত হয় তখন করনীয় কি?
উঃ- সে পশু জবাই করা জায়েজ আছে, তবে মাকরূহ!
৩১. পশু ক্রয় করার পর যদি এমন কোনো দোষ দেখা যায় যে দোষ গুলো থাকিলে কুরবানী হয় না তখন করনীয় কি?
উঃ- এই পশু দ্বারা কুরবানী হবে না। তবে এখানে গরীব ব্যক্তির জন্য জায়েজ আছে আর ধনী ব্যক্তির জন্য জায়েজ নয়।
৩২. আপনি কোনো পশু ক্রয় করার সময় জিজ্ঞেস করলেন বয়স কত? সে বললো ২ বছর! যদি সেটার আসলে বয়স ২ বছর না হয় তখন কি করনীয় বা কুরবানী কি হবে?
উঃ- হ্যা হবে, তবে যে বিক্রেতা মিথ্যা বলেছে তার গুনাহ হবে।
৩৩. পশু কোথায় জবাই করা উত্তম?
উঃ- যেখানে পরিবেশ দূষিত হওয়ার আশংকা কম থাকে।
৩৪. পশু কে জবাই করা উত্তম?
উঃ- নিজের পশু নিজেই কুরবানী করা উত্তম।
৩৫. বন্ধা পশু দ্বারা কুরবানী হবে কি?
উঃ- হ্যা হবে।
৩৬. অনেক সময় হুজুর জবাই করার পর দেখা যায় জবাই সম্পূর্ণ হয়নি আবার অন্য জন ছুটি হাতে নিয়ে
রগ বা শিরা কাটতে যায় এটা কি জায়েজ হবে?
উঃ- হ্যা জায়েজ আছে, তবে উভয় ব্যক্তি বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার না বললে কুরবানী হবে না। একজন যদি না বলে সেক্ষেত্রেও কুরবানী বাতিল হয়ে যাবে।
৩৭. কুরবানীর পশু দ্বারা উপকৃত হওয়া যাবে কি?
উঃ- না এটা কোনোভাবেই জায়েজ নেই।
৩৮. কুরবানীর পশু দ্বারা যদি আপনি হাল চাষ করে ফেলেন সেক্ষেত্রে করনীয় কি?
উঃ- অন্য পশু দ্বারা করলে যে পারিশ্রমিক আসতো সে পরিমাণ টাকা সদকা করে দেওয়া।
৩৯. কুরবানির পশুর দুধ পান করা যাবে কি?
উঃ- না।
৪০. যদি পশুর জবাই এর আগে মনে হয় দুধ দহন না করলে পশুর কষ্ট হবে তাহলে করনীয় কি?
উঃ- সে দুধ দহন করে সদকা করে দিতে হবে আর
ভুলে খেয়ে ফেললে তখন যে পরিমাণ দুধ পান করেছেন সে পরিমাণ অর্থ সদকা করতে হবে।
৪১. পশু ক্রয় করার পর শরীক মারা গেলে তখন কি করবে?
উঃ- তার ওয়ারিশরা যদি বলে কুরবানী করেন তাহলে
করতে পারবেন, আর যদি বলে, না করতে পারবেন না, তাহলে টাকা দিয়ে দিতে হবে। তবে চাইলে পরবর্তী আরেক জন শরীক করতে পারবেন।
৪২. জবাইয়ের আগে পশু বাচ্চা দিলে কি করবেন?
উঃ- ঐ বাচ্চা জীবিত সদকা করে দিতে হবে। সদকা না করলে পশুর সাথে জবাই করতে হবে। এখানে জবাই করা বাচ্চার গোশত সদকা করে দিতে হবে, আপনি নিজে খেতে পারবেন না।
৪৩. মৃত্যু ব্যক্তির পক্ষ থেকে কি কুরবানী করা যাবে?
উঃ- হ্যা করা যাবে, তবে উসিয়ত করে গেলে গোশত সদকা করে দিতে হবে। উছিয়ত না করলে আপনি নিজেও খেতে পারবেন।
৪৪. তিন দিনের বেশি কুরবানীর গোশত রাখা যাবে?
উঃ- হ্যা, রাখা যাবে যতো দিন ইচ্ছে!
৪৫. অনুমান করে বন্টণ করা কি জায়েজ আছে?
উঃ- না, পূর্ণ ওজন করে ভাগ করতে হবে।
৪৬. তিনের এক অংশ গরীব কে দেওয়া, যদি সেটা না দেই তাহলে কি কুরবানী হবে? (আমরা যেটা কে সমাজের গোশত বলি)
উঃ- হ্যা হবে, তবে সেটা বড় কৃপণতার পরিচয়।
৪৭. গোশত চর্বি বিক্রি করা যাবে কি?
উঃ- না।
৪৮. জবাইকারী বা কসাইকে গোশত দিয়ে পারিশ্রমিক দেওয়া যাবে কি?
উঃ- না টাকা দিতে হবে, তবে পরে হাদিয়া হিসেবে গোশত দিতে পারবেন আগে পারিশ্রমিক দিতে হবে।
৪৯. জবাই করার অস্ত্র কেমন হতে হবে?
উঃ- ধারালো হওয়া উত্তম।
৫০. জবাইয়ের কত সময় পর চামড়া আলাদা করা যাবে?
উঃ- পশু নিস্তেজ হওয়ার পর।
৫১. এক পশুকে অন্য পশুর সামনে জবাই করা যাবে কি?
উঃ- যাবে, তবে এটা ঠিক না। নবী কারীম (সাঃ) নিষেধ করেছেন।
৫২. কুরবানীর গোশত অন্য ধর্মের ব্যক্তিকে দেওয়া যাবে কি ?
উঃ- হ্যা তাতে কোনো সমস্যা নেই।
৫৩. পশু মারা গেলে অথবা ছিনতাই হয়ে গেলে কি করনীয়?
উঃ- ধনী হলে আরেক টা ক্রয় করবেন আর গরীব হলে লাগবে না।
৫৪. মুসাফির-এর উপর কুরবানী করা কি ওয়াজিব?
উঃ- না।
৫৫. কুরবানী ওয়াজিব এমন ব্যক্তির পক্ষ থেকে কুরবানী করলে কি করনীয়?
উঃ- ঐ ব্যক্তি থেকে অনুমতি নিতে হবে।
৫৬. কুরবানীর গোশত খাওয়া কি?
উঃ- মুস্তাহাব, না খেলেও গুনাহ হবে না। তবে খাওয়া উত্তম।
৫৭. কুরবানী ওয়াজিব এমন ব্যক্তি যদি ঋণ নিয়ে কুরবানী করে কুরবানী হবে কি?
উঃ- হবে, তবে সুদের উপর ঋণ নিয়ে করলে হবে না।
৫৮. হাজীরা যদি মুসাফির থাকে তখন তাদের উপর কুরবানী কি ওয়াজিব?
উঃ- না।
৫৯. পাগল পশু দ্বারা কুরবানী কি হবে?
উঃ- না।
৬০. নবী কারীম (সাঃ)-এর পক্ষ থেকে কুরবানী করা কি?
উঃ- উত্তম সামার্থ্যবানদের জন্য। এটার গোশত সবাই খেতে পারবে।
৬১. খাসিকৃত পশু দ্বারা কুরবানী করা যাবে কি?
উঃ- হ্যা।
৬২. বিদেশে অবস্থানে ব্যক্তির করনীয় কি?
উঃ- উনার পক্ষ থেকে দেশে কুরবানী দিলেও হবে।
৬৩. পশুর চামড়া কি নিজে ব্যবহার করা যাবে?
উঃ- হ্যা, তবে বিক্রি করলে টাকা সদকা করতে হবে।
৬৪. জবাইকারীকে পারিশ্রমিক দিতে হবে কি?
উঃ- হ্যা, উত্তম হাদিয়া দেওয়া।
৬৫. কুরবানীর দিনে মুরগী-হাঁস জবাই করা যাবে কি?
উঃ- যাবে, তবে কুরবানী নিয়তে করা যাবে না।
৬৬. জীবিত ব্যক্তির পক্ষ হতে কুরবানী করা যাবে কি?
উঃ- হ্যা যাবে।
আলহামদুলিল্লাহ এই হলো কুরবানী সম্বন্ধে ৬৬ টি মাসয়ালা।
আল্লাহ তায়ালা সকলকে সঠিক নিয়ম মেনে কুরবানী করার তৌফিক দান করুক। ____________ আমিন🤲
(সংগ্রহীত)