সিরাতল মুস্তাকিম

সিরাতল মুস্তাকিম MAY ALLAH GUIDE US TO SIRATUL MUSTAQIM (STRAIGHT PATH) AMEEN you tube channel


https://youtube.com/channel/UChFXQbSW6yu-572JhgRv2jw

চমৎকার একটি সামঞ্জস্যতা সূরা ফালাক ও নাস জীবনে বহুবার পড়া হলেও এই বিষয়টা আগে এইভাবে খেয়াল করিনি। সম্প্রতি বিষয়টা জানলাম ...
14/09/2026

চমৎকার একটি সামঞ্জস্যতা

সূরা ফালাক ও নাস জীবনে বহুবার পড়া হলেও এই বিষয়টা আগে এইভাবে খেয়াল করিনি। সম্প্রতি বিষয়টা জানলাম এবং বেশ চমৎকৃত হলাম।

মূল প্রসঙ্গে যাবার আগে এই দুই সূরার উপর সামান্য আলোকপাত করে নেই। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একবার জাদুতে আক্রান্ত হয়েছিলেন। এক ইহুদি তাঁর উপর জাদু করেছিল। এর প্রভাবে তিনি ভীষণ অসুস্থ হয় পড়েন। পরে আল্লাহ এই দুই সূরা অবতীর্ণ করেন এবং তাকে জাদুর ব্যাপারে জানিয়ে দেন। তিনি এই দুই সূরার মাধ্যমে চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেন এবং সুস্থ হয়ে উঠেন। তো এই দুই সূরার মূল প্রতিপাদ্য হলো অন্যদের অনিষ্ট থেকে নিজেকে সুরক্ষা করা।

এই অনিষ্টগুলো দুই রকমের। একটা হলো বহিরাগত অনিষ্ট। যেমন, চোর-ডাকাতের কবলে পড়া। সাপ-বিচ্ছুর কামড় খাওয়া। অন্য কেউ জাদু-টোনা করা। কারো হিংসা-বিদ্বেষের শিকার হওয়া ইত্যাদি। অন্যটা হলো ভেতরগত। যেমন, নফস ও শয়তানের মনের ভেতর জাগিয়ে দেওয়া নানান রকম কুমন্ত্রণা।

বহিরাগত ও ভেতরগত এই দুই অনিষ্টের মধ্যে ক্ষতির দিক থেকে মারাত্মক হলো দ্বিতীয়টা। কারণ নানান রকম নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করার দ্বারা বহিরাগত অনিষ্ট সহজেই ঠেকানো যায়। কিন্তু যে অনিষ্ট সবসময়ই সাথে সাথে থাকে তার থেকে বাঁচা বড় দায়। কারণ মানুষ যেখানেই যায়, তার সাথে সেও যায়। মানুষের রক্ত-মাংসের সাথে শয়তান মিশে থাকে। হাদীসে এসেছে, শয়তান মানুষের রক্তের শিরা-উপশিরায় চলাচল করতে পারে। আর নফস তো মনের ভেতর সর্বদা শক্ত আসন গেড়ে বসে থাকে। ফলে এদের প্রতিহত করাটা বেশি কঠিন।

সূরা ফালাক ও নাস উভয় সূরার মধ্যে আল্লাহর কাছে বিভিন্ন অনিষ্ট থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করা হয়েছে। খেয়াল করলে দেখবেন, সূরা ফালাকে উল্লেখিত অনিষ্টগুলো সব বহিরাগত। এর মধ্যে আছে-
ক. শাররি গাসিকিন বা রাতের অনিষ্ট।
খ. শাররিন নাফফাসাতি ফিল উকাদ বা গ্রন্থিতে ফুঁ-দানকারিণীর অনিষ্ট।
গ. শাররি হাসিদিন বা হিংসুকের অনিষ্ট।

এগুলো সব বহিরাগত হবার কারণে তুলনামূলক দুর্বল। তাই আশ্রয়দাতা আল্লাহর কথা একবার উল্লেখ হয়েছে-
আউযু বিরব্বিল ফালাক- আমি প্রভাতের রবের কাছে আশ্রয় চাচ্ছি।

পক্ষান্তরে সূরা নাসের অনিষ্টগুলো ভেতরগত। এটি হলো 'শাররিল ওয়াসওয়াস' বা মানুষ ও শয়তান জিনদের অন্তরে জাগ্রত করা ওয়াসওয়া বা কুমন্ত্রণা, যা তুলনামূলক বেশি শক্তিশালী ও অধিক ক্ষতিকর। ফলে এর থেকে বাঁচার জন্য আশ্রয়দাতা আল্লাহর কথা তিনবার উল্লেখ করা হয়েছে-
ক. আউযু বি রব্বিন নাস- আমি মানুষের রবের কাছে আশ্রয় চাচ্ছি
খ. মালিকিন নাস- মানুষের মালিকের কাছে আশ্রয় চাচ্ছি।
গ. ইলাহিন নাস- মানুুষের মাবুদের কাছে আশ্রয় চাচ্ছি।

এটা তো খুব সহজেই অনুমেয় যে, যেখানে আল্লাহর কথা তিনবার উল্লেখিত হয়েছে সেটা অবশ্যই একবার উল্লেখিত হবার তুলনায় অধিক শক্তিশালী হবে। বিষয়ের সাথে কত সুন্দর সামঞ্জস্যতা!

সুবহানাল্লাহ!!!

আআব্দুল্লাহ আল মাসুদ

বাইবেল অনুযায়ী মূসা আ. -এর মায়ের নাম ছিলো জোখেবেদ (Jochebed)। যেসব নারীদেরকে 'ইলহাম' দেয়ার কথা আল্লাহ পবিত্র কুরআনে উল্ল...
13/09/2026

বাইবেল অনুযায়ী মূসা আ. -এর মায়ের নাম ছিলো জোখেবেদ (Jochebed)।

যেসব নারীদেরকে 'ইলহাম' দেয়ার কথা আল্লাহ পবিত্র কুরআনে উল্লেখ করেছেন, তারমধ্যে একজন ছিলেন মূসা আ. -এর মা।

ফেরাউন যখন পুত্র সন্তান জন্মের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়, তখন জন্মগ্রহণ করেন মূসা।

মনে পড়ে জাহেলী আরবের কথা?

জাহেলী আরবে কন্যাসন্তানকে মেরে ফেলা হতো।

আর ফেরাউনের সময় পুত্র সন্তান।

আল্লাহ মূসার মা'কে বললেন— আল্লাহ তার কোলে সন্তান ফিরয়ে দিবেন, তিনি যেন তাকে নদীতে ফেলেন।

আল্লাহর নির্দেশমতো জোখেবেদ মূসা আ. -কে নদীতে ফেলেন।

আল্লাহর প্রতিশ্রুতি, নির্দেশ সত্ত্বেও তিনি মাধ্যম অবলম্বন ভুলে যাননি। সন্তানকে নদীতে ফেলে নিশ্চিন্তে ঘরে বসে থাকেননি।

বরং তিনি তার মেয়েকে পাঠান, দেখে আসো নদীতে ভেসে ভেসে সেটা কোথায় যাচ্ছে।

মূসার বোন দেখতে লাগলেন সেই ঝুড়ি ফেরাউনের প্রাসাদে গেলো।

লম্বা গল্প।

মূসা আলাইহিস সালামকে যখন দুধপান করতে গেলো, দেখা গেলো তিনি কারো দুধ খাচ্ছেন না। তখন মূসার বোন বললেন, আমি এমন একজন ধাত্রীকে চিনি, যার দুধ এই ছেলে পান করতে পারে।

দেখুন, তিনি বলেননি 'আমি এই বাচ্চার মাকে চিনি'। তিনি খুব টেকনিকালি বললেন একজন ধাত্রী চিনি।

তার মাধ্যমেই সেই ধাত্রী অর্থাৎ মূসার মায়ের কাছে সবাই যায়।

মূসার মা দেখতে পেলেন, কয়েক ঘণ্টা আগে যে ছেলেকে নদীতে ফেলেছিলেন, সেই ছেলে এখন তার কোলে।

সন্তানকে কাছে পেয়ে তিনি আবেগাপ্লুত হননি।

বরং একজন ধাত্রীর মতো তিনি দুধপান করান, বিনিময়ে পারিশ্রমিক পান।

ঠিক তখন আল্লাহ বললেন- আমরা তাকে তার মায়ের কাছে ফিরিয়ে দিলাম আর আল্লাহর প্রতিশ্রুতি সত্য!


এটাকে যদি একটা গল্প হিসেবে দেখেন, কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সেই গল্প পূর্ণতা পেলো। আল্লাহর নির্দেশমতো জোখেবেদ নিজের সন্তানকে নদীতে ফেলেন, কয়েক ঘণ্টা পর সেই সন্তান শুধু তার কাছেই আসে এমন না; নিজের সন্তানকে দুধপান করানোর জন্য রাজ পরিবার থেকে ভাতা পাচ্ছেন।


মূসার মায়ের স্মার্টনেস দেখুন, সন্তান পাবার সাথে সাথে তিনি বলে ওঠেননি- সুবহানাল্লাহ! আল্লাহর ওয়াদা সত্য, এইতো আমি আমার সন্তান ফিরে পেলাম।

তিনি বরং পরিচয় গোপন করেন যে, তিনি এই সন্তানের মা!


মূসা আলাইহিস সালামের শৈশবের এই থ্রিলার গল্প থেকে আমরা অনেককিছু শিখতে পারি।

৩টি শিক্ষার কথা স্পেশালি বলা যায়।

১. আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করা মানে ঘরে বসে থাকা নয়। নিজের সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া। এই গল্পে মূসার মা নিশ্চয়তা পাওয়া সত্ত্বেও মেয়েকে পাঠান। আর মেয়েকে পাঠান বলেই মেয়ের মাধ্যমে তার কাছে মূসা ফেরত আসেন। আর আল্লাহ এখানে মূসা আলাইহিস সালামের জন্য অন্য সবার দুধপান নিষিদ্ধ করে দেন।

আল্লাহ সাহায্য করেন, মূসার মা চেষ্টা করেন।

কুরআনের এই গল্প তাওয়াক্কুল এবং প্রচেষ্টার ফলের এক বাস্তব উদাহরণ।

২. কৌশল অবলম্বন কতো জরুরি, সেটাও শেখা যায়। মূসার বোন ফেরাউনের রাজপ্রাসাদে গিয়ে বলেননি, আমি তার বোন, তার মায়ের কাছে নিয়ে যাই। বরং তিনি মিথ্যা না বলে অন্য এক পরিচয়ে মায়ের পরিচয় দেন। মূসার মা সন্তানকে পেয়ে আবেগাপ্লুত হননি, তিনিও দৃঢ়তার সাথে দায়িত্ব পালনের অভিনয় করেন; কিন্তু সন্তান পেয়ে মনে মনে খুশি হন।

৩. আল্লাহর নির্দেশের মধ্যেই যে কল্যাণ আছে, সেটা আমরা বুঝি বা না বুঝি; এটা শিখতে পারি এই গল্পে।

একটা ঝুড়িতে করে সন্তানকে নদীতে ফেলে দিলে বাঁচার সম্ভাবনা আছে? এই ছোট্ট সন্তান, নদীর ঢেউয়ে ডুবে যাবে। আমাদের কমনসেন্স তাই বলে।

কিন্তু, আল্লাহর নির্দেশ মূসা আলাইহিস সালামের মা পালন করেন।

এমন এক রেজাল্ট পান, যেটা ভাবতেও পারেননি।

কয়েক ঘণ্টা আগে এই সন্তানকে লুকিয়ে রাখতে হতো। ফেরাউনের বাহিনী দেখলে হত্যা করতো।

আর এখন?

সেই বাহিনী তার কাছে আসে এই সন্তানকে বাঁচাতে, দুধপানের জন্য।

নিজের সন্তানকে দুধপান করিয়ে তিনি উপার্জন করছেন। সন্তানকে নিয়ে ভয় তো করতে হচ্ছে না, উল্টো এটা তার রিজিকের মাধ্যম হয়ে ওঠে।


পবিত্র কুরআনের প্রত্যেকটা গল্প আমাদের জন্য, এই সময়ের জন্যও শিক্ষণীয় হতে পারে।

আল্লাহ এই গল্পগুলো এমনি এমনি নাযিল করেননি।

আরিফুল ইসলাম

চাপের পড়লে পুরুষের শরীরে ডোপামিন হরমোন বাড়ে।  এটা তাকে অ্যাকশনে নামায়। নারীরা চাপে পড়লে তাদের শরীরে বাড়ে নর-এপিনেফ্রিন।এ...
12/09/2026

চাপের পড়লে পুরুষের শরীরে ডোপামিন হরমোন বাড়ে। এটা তাকে অ্যাকশনে নামায়।

নারীরা চাপে পড়লে তাদের শরীরে বাড়ে নর-এপিনেফ্রিন।এর কারণে তারা বিষয়টি নিয়ে বেশি চিন্তা করে, গভীর মনোযোগ দেয় বা ভেবে ভেবে অস্থির হয়।

দুজনার বেলায় ব্যাপারটা একদম আলাদা আলদা। পুরুষের বেলায় সবসময় ডোপামিন, আর নারীর বেলায় নর-এপিনেফ্রিন।

একবার এক সাহাবির ছেলে মারা গেছেন। তিনি বাইরে ছিলেন। বাড়িতে এসেছেন। স্ত্রী জানালেন ছেলে ঘুমিয়ে গেছে। সংকটের সমাধানে স্ত্রী স্বামীর সঙ্গে অন্তরঙ্গ সময় কাটালেন পরের সন্তানের জন্য। পরে সকালে জানিয়েছেন।

হুদাইবিয়াতে সন্ধির পর সাহাবিরা কুরবানি দেবেন না। মাথা কামাবেন না। নবিজি বলার পরও তাদের হোলদোল নেই।

নবিজির স্ত্রী উম্মু সালামা বুদ্ধি দিলেন, আপনি মাথা কামান। কুরবানি দিন। বাকিরা তখন এমনিএমনি করবে। পরে তা-ই হলো।

নারীরা স্ট্রেস সিচুয়েশন অন্যভাবে ভাবতে পারেন। সমস্যার অন্যরকম একটা সলিউশন বের করেন।

ভাবুন তো চাপের মুহূর্তে চিন্তা না করে হুট করে কোনো অ্যাকশন নিয়ে বসলে সমস্যা আরও বাড়বে না কমবে?

আবার কেবল ভেবেই গেলেন কিন্তু কোনো অ্যাকশন নিলেন না, সমস্যার কোনো সমাধান হবে?

আল্লাহ পুরুষ আর নারীকে এমনভাবে তৈরি করেছেন যাতে তারা একসঙ্গে চাপের মোকাবিলা করে ব্যালান্স করে। যাতে দুজনে মিলে সংকটের সঠিক সমাধান বের করে।

© মাসুদ শরীফ

09/09/2026

৭০/৮০ দশকের স্টাইলে ছবি তৈরি করে পোস্ট করার ট্রেন্ড দেখছি। আমি যেহেতু নারী নই, তাই হয়তো নারীদের মনস্তত্ত্বটা পুরোপুরি বুঝতে পারব না। তাই কাউকে বিচার করার উদ্দেশ্যে নয়, বরং একজন মুসলিম ভাই হিসেবে কিছু প্রশ্ন রাখতে চাই।

সারাবছর পর্দা করেন - এমন বোনকেও দেখছি, সেই পুরোনো দিনের স্টাইলে পর্দা ছাড়া নিজেদের ছবি তৈরি করে সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করছেন। যাদের সত্যই ৮০ দশকের ছবি ছিলো, তারাও ঐ সময়ের ছবিই শেয়ার করছেন - অথচ পূর্বে হিজাব নিকাব না করলেও, বহুবছর যুগ ধরে তারা যত্নের সাথে পর্দা করছেন।

কিন্তু কেন?

আপনি তো পর্দা করেন। তাহলে শুধু ট্রেন্ডের কারণেই কি পর্দার বিধান কিছুটা সময়ের জন্য বদলে গেল?

আবার এমন নারীদেরকেও দেখেছি, যারা পূর্বে পর্দা করতেন না, কিন্তু এখন আলহামদুলিল্লাহ নিয়মিত পর্দা করেন। এখন বেশ বয়সও হয়েছে। ইসলামি অঙ্গনে উঠাবসাও আছে। অথচ হঠাৎ করে কলেজ-ইউনিভার্সিটির পুরোনো ছবি, বিয়ের সময়ের পুরোনো ছবি কিংবা পর্দাহীন সময়ের ছবি সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করছেন। মা দিবসে তাদের মায়ের পর্দা ছাড়া ছবি পোস্ট করেন, অথচ তার মা বাইরে পর্দা করেন।

আমার দীর্ঘ্য কর্মজীবনে যথাযথ পর্দা করা নারী কলিগ পেয়েছি। কিন্তু এমন অভিজ্ঞতাও আছে যেদিন আমি ‘থ’ হয়ে গিয়েছিলাম! যাকে সারা বছর মার্জিত পর্দায় দেখেছি। অথচ অফিসের এ্যানুয়াল প্রোগ্রামে পর্দা এমনভাবে তিনি ছেড়েছেন যে, তার স্বভাবেও কোনো জড়তা ছিলো না। প্রোগ্রাম শেষে, আবার হিজাব। আমি যেহেতু নারী নই, তাই নারীর এমন আচরণের কারণ হয়তো বুঝবো না কখনই।

তাহলে প্রশ্নটা নিজের কাছেই করা দরকার - আমি এখন পর্দা করি কেন?

একটি বিষয় আমাকে আরও বেশি ভাবিয়েছে। বেশ ক'জন সম্মানিতা, পর্দানশীন নারীদেরকে দেখলাম - ফুটবল বিশ্বকাপের সময়ে AI দিয়ে এমন কিছু ছবি তৈরি করে পোস্ট করেছেন, যেখানে Lionel Messi তাঁর হাতে চুমু দিচ্ছে, তিনি মেসির কপালে চুমু দিচ্ছেন।

বুঝলাম-এগুলো বাস্তব ছবি নয়, AI দিয়ে তৈরি।
বুঝলাম-এটা আপনার কাছে নিছক মজা।

কিন্তু তাহলে কি এর কারণে বিষয়টি ইসলামের দৃষ্টিতে সম্পূর্ণ নির্দোষ হয়ে গেল?

একজন নারী যদি বাস্তবে কোনো নন-মাহরাম পুরুষের সঙ্গে এভাবে ঘনিষ্ঠ হওয়াকে গ্রহণযোগ্য মনে না করেন, তাহলে কৃত্রিমভাবে তৈরি ছবিতেও কেন সেই দৃশ্যকে নিজের সঙ্গে জুড়ে দিয়ে উপভোগ বা প্রচার করবেন?

আমাদের মনে রাখা দরকার - বাস্তবে হারাম কাজটি না করলেও, উক্ত হারাম কাজকে দৃশ্যায়ন করে নিজের পরিচয়ের সঙ্গে জুড়ে প্রকাশ করা অন্তত নিজের ঈমানি সংবেদনশীলতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলে।

পর্দা মানে কি শুধু - ⌜আমি বাইরে গেলে মাথায় কাপড় দিই।⌝?

পর্দা হলো - আমি কী দেখাব, কীভাবে নিজেকে উপস্থাপন করব, কার সামনে নিজেকে উপস্থাপন করব এবং কোন ধরনের বিষয়কে স্বাভাবিক বা বিনোদন হিসেবে গ্রহণ করব - এসব ব্যাপারেও আল্লাহকে ভয় করা।

এখানে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কথা আছে। আমরা যেন এসব কথা বলতে গিয়ে কাউকে ব্যক্তিগতভাবে অপমান না করি। কারণ কে কেনো একটি ছবি পোস্ট করেছেন, তাঁর অন্তরের উদ্দেশ্য কী বা ঐ সময় তিনি কী পরিস্থিতিতে ছিলেন - তা আমরা জানি না।

বরং প্রত্যেকেরই নিজের কাছে প্রশ্ন করা উচিত - ⌜আমি যে পর্দা করছি, সেটি কি শুধু পোশাকে? নাকি আমার ছবিতে নিজেকে উপস্থাপনের ক্ষেত্রেও তার প্রভাব রয়েছে?⌝

সোশ্যাল মিডিয়ার পোস্ট আল্লাহ দেখেন না, তা কিন্তু নয়।

আল্লাহ আমাদের সবাইকে বাহ্যিক পর্দার পাশাপাশি অন্তরের, আচরণের এবং আত্মমর্যাদার পর্দা রক্ষা করার তাওফিক দিন।

@শিবলি মাহমুদ ভাই

ইয়াজুজ-মাজুজের ঘটনা সম্পর্কে সঠিক বর্ণনা১. ইয়াজুজ ও মাজুজ আদমসন্তানদের মধ্যকার দুটি বৃহৎ জাতি। তারা নূহ (আলাইহিস সালাম...
08/09/2026

ইয়াজুজ-মাজুজের ঘটনা সম্পর্কে সঠিক বর্ণনা

১. ইয়াজুজ ও মাজুজ আদমসন্তানদের মধ্যকার দুটি বৃহৎ জাতি। তারা নূহ (আলাইহিস সালাম)-এর পুত্র ইয়াফিসের বংশধর—এ মতটিই অধিক গ্রহণযোগ্য। যেমন হাফিজ ইবনু হাজার আল-আসকালানি ফাতহুল বারি গ্রন্থে (১৩/১০৬) উল্লেখ করেছেন।
তারা আমাদের মতোই মানুষ। দৈর্ঘ্য বা আকৃতির দিক থেকে তারা আমাদের থেকে ভিন্ন কোনো বিশেষ জাতি নয়।
রাসুলুল্লাহ ﷺ জাহান্নামের দিকে প্রেরিতদের সংখ্যা সম্পর্কে বলেছেন: “প্রতি এক হাজারের মধ্যে নয়শ নিরানব্বই জন জাহান্নামে যাবে এবং একজন জান্নাতে যাবে… তোমাদের মধ্যে এমন দুটি জাতি রয়েছে, যারা কোনো কিছুর মধ্যে প্রবেশ করলে সংখ্যায় তা বৃদ্ধি করে দিত—তারা হলো ইয়াজুজ ও মাজুজ।”
—সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম।
২. ঈসা (আলাইহিস সালাম)-এর অবতরণ এবং দাজ্জালকে পরাজিত করার পর ইয়াজুজ ও মাজুজের আবির্ভাব ঘটবে।
হাদিসে এসেছে, আল্লাহ ঈসা (আলাইহিস সালাম)-এর প্রতি ওহি করবেন:
“আমি এমন কিছু বান্দাকে বের করেছি, যাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার ক্ষমতা কারও নেই। অতএব, তুমি আমার বান্দাদের নিয়ে তূর পাহাড়ে আশ্রয় নাও।”
অর্থাৎ তাদেরকে পাহাড়ে নিয়ে যাও, যাতে তারা নিরাপদে থাকতে পারে। এরপর আল্লাহ ইয়াজুজ ও মাজুজকে বের করে দেবেন।
—সহিহ মুসলিম, ২৯৩৭
তাদের আবির্ভাব হবে পূর্ব দিক থেকে—ইরাক ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চল থেকে, যা মদিনাবাসীর দৃষ্টিতে পূর্বাঞ্চল। আর এই অঞ্চল থেকেই ফিতনার সূচনা হবে—যেমন সহিহ বুখারিতে এর প্রমাণ রয়েছে (১৩/৪৫)।
৩. আল্লাহ তাআলা সূরা আল-কাহফে যুলকারনাইনের ঘটনার মধ্যে ইয়াজুজ-মাজুজের কথা উল্লেখ করেছেন:
“অবশেষে যখন তিনি দুই পর্বতপ্রাচীরের মধ্যবর্তী স্থানে পৌঁছলেন, তখন তিনি সেখানে এমন এক জাতিকে পেলেন, যারা প্রায় কোনো কথাই বুঝতে পারত না। তারা বলল, ‘হে যুলকারনাইন! ইয়াজুজ ও মাজুজ পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করছে। সুতরাং আমরা কি আপনাকে কিছু পারিশ্রমিক দেব, যাতে আপনি আমাদের ও তাদের মাঝখানে একটি প্রাচীর নির্মাণ করে দেন?’”
—সূরা আল-কাহফ, ৯৩–৯৪
এরপর যুলকারনাইন তাদের ও ইয়াজুজ-মাজুজের মাঝে লোহার বড় বড় খণ্ড দিয়ে একটি শক্তিশালী প্রতিরোধপ্রাচীর নির্মাণ করলেন। তিনি তা দুই পর্বতের মধ্যবর্তী স্থান পূর্ণ করে সমতল করে দিলেন। ফলে তারা আর পৃথিবীতে বের হয়ে বিপর্যয় সৃষ্টি করতে পারল না এবং সেই প্রাচীরও ভেদ করতে পারল না।
আল্লাহ বলেন:
“অতঃপর তারা তা অতিক্রম করতেও পারল না এবং তাতে ছিদ্রও করতে পারল না।”
—সূরা আল-কাহফ, ৯৭
৪. ইয়াজুজ ও মাজুজ সেই প্রাচীর খুঁড়ে বের হওয়ার চেষ্টা করতে থাকবে। এমনকি যখন তারা প্রায় সূর্যের আলো দেখতে পাওয়ার কাছাকাছি পৌঁছে যাবে, তখন তাদের নেতা বলবে:
“ফিরে চলো, আগামীকাল আমরা এটি খুঁড়ব।”
এরপর আল্লাহ প্রাচীরটিকে আগের চেয়েও শক্ত অবস্থায় ফিরিয়ে দেবেন।
অবশেষে যখন তাদের বের হওয়ার নির্ধারিত সময় এসে যাবে এবং আল্লাহ তাদের মানুষের ওপর বের করে দিতে চাইবেন, তখন তারা আবার প্রাচীর খুঁড়বে। যখন তারা সূর্যের আলো দেখার কাছাকাছি পৌঁছে যাবে, তখন তাদের নেতা বলবে:
“ফিরে চলো, ইনশাআল্লাহ আগামীকাল আমরা এটি খুঁড়ব।”
এবার তারা ‘ইনশাআল্লাহ’ বলবে। ফলে পরদিন তারা সেখানে ফিরে এসে দেখবে, প্রাচীরটি ঠিক সেই অবস্থায় রয়েছে, যেভাবে তারা আগের দিন রেখে গিয়েছিল। তখন তারা সেটি খুঁড়ে বের হয়ে মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়বে।
—তিরমিজি, ইবনু মাজাহ, ইবনু হিব্বান ও হাকিম। হাকিম এটিকে বুখারি ও মুসলিমের শর্ত অনুযায়ী সহিহ বলেছেন; যাহাবি ও আলবানিও তা সমর্থন করেছেন। আস-সিলসিলাতুস সহিহাহ, ১৭৩৫।
৫. রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর যুগেই ইয়াজুজ-মাজুজের প্রাচীরে একটি ছোট ছিদ্র সৃষ্টি হওয়ার সংবাদ পাওয়া গিয়েছিল।
যায়নাব বিনতে জাহশ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত, একদিন রাসুলুল্লাহ ﷺ তাঁর কাছে ভীত অবস্থায় প্রবেশ করে বললেন:
“আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই। আরবদের জন্য সেই অনিষ্ট থেকে ধ্বংস! যা অতি নিকটবর্তী হয়েছে। ইয়াজুজ-মাজুজের প্রাচীরে এ পরিমাণ একটি ছিদ্র খুলে দেওয়া হয়েছে।”
এ কথা বলার সময় তিনি বৃদ্ধাঙ্গুলি ও তার পাশের আঙুল দিয়ে বৃত্ত তৈরি করে দেখালেন।
যায়নাব (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা) বললেন, আমি জিজ্ঞেস করলাম:
“হে আল্লাহর রাসুল! আমাদের মধ্যে সৎ লোক থাকা সত্ত্বেও কি আমরা ধ্বংস হয়ে যাব?”
তিনি বললেন:
“হ্যাঁ, যখন অনিষ্ট ও পাপাচার ব্যাপক হয়ে যাবে।”
—সহিহ বুখারি; ফাতহুল বারিসহ, ১৩/১০৬
৬. আল্লাহ তাআলা বলেন:
“অতঃপর যখন আমার প্রতিশ্রুত সময় আসবে, তখন আমি সেটিকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দেব। আর আমার প্রতিশ্রুতি সত্য।”
—সূরা আল-কাহফ, ৯৮
অতঃপর তারা যখন সেই প্রাচীর থেকে বের হবে, তখন অগণিত সংখ্যায় বের হবে—সমুদ্রের ঢেউয়ের মতো একের পর এক।
আল্লাহ বলেন:
“সেদিন আমি তাদের একদলকে অপর দলের মধ্যে তরঙ্গায়িত অবস্থায় ছেড়ে দেব।”
—সূরা আল-কাহফ, ৯৯
তারা বের হয়ে পৃথিবীতে ব্যাপক বিপর্যয় সৃষ্টি করবে। আল্লাহ বলেন:
“অবশেষে যখন ইয়াজুজ ও মাজুজকে খুলে দেওয়া হবে এবং তারা প্রত্যেক উঁচু স্থান থেকে দ্রুত নেমে আসবে।”
—সূরা আল-আম্বিয়া, ৯৬
অর্থাৎ তারা পৃথিবীতে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে ব্যাপক বিপর্যয় সৃষ্টি করবে।
৭. তখন মুসলিমদের বাধ্য হয়ে দুর্গ, নগর ও পাহাড়ে আশ্রয় নিতে হবে এবং ঈসা (আলাইহিস সালাম)-এর সঙ্গে অবস্থান করতে হবে।
তাদের বাহিনীর প্রথম দল তাবারিয়া হ্রদ অতিক্রম করবে। এটি ফিলিস্তিনের একটি বড় মিঠা পানির হ্রদ। তারা এর সমস্ত পানি পান করে ফেলবে। এমনকি তাদের শেষ দলটি যখন সেখানে পৌঁছবে, তখন তারা সেখানে কোনো পানি পাবে না। তারা বলবে:
“এখানে একসময় পানি ছিল!”
এদিকে আল্লাহর নবী ঈসা (আলাইহিস সালাম) ও তাঁর সঙ্গীরা অবরুদ্ধ হয়ে পড়বেন। এমন সংকট দেখা দেবে যে, তাদের কারও কাছে একটি ষাঁড়ের মাথা থাকা একশ দিনারের চেয়েও বেশি মূল্যবান মনে হবে।
—সহিহ মুসলিম, ২৯৩৭
৮. অবশেষে যখন পৃথিবীর মানুষের মধ্যে কোনো দুর্গ বা নগরের ভেতরে আশ্রয় নেওয়া লোক ছাড়া আর কেউ অবশিষ্ট থাকবে না, তখন ইয়াজুজ-মাজুজের একজন বলবে:
“পৃথিবীবাসীদের আমরা শেষ করে দিয়েছি; এবার আকাশবাসীদের পালা!”
এরপর সে তার বর্শা আকাশের দিকে নিক্ষেপ করবে। সেটি রক্তমাখা অবস্থায় ফিরে আসবে—এটি হবে পরীক্ষা ও ফিতনার অংশ।
—হাকিম; তিনি মুসলিমের শর্ত অনুযায়ী এটিকে সহিহ বলেছেন, যাহাবি সমর্থন করেছেন এবং আলবানি আস-সিলসিলাতুস সহিহাহ (১৭৯৩)-তে হাসান বলেছেন।
৯. এরপর ঈসা (আলাইহিস সালাম) আল্লাহর কাছে দোয়া করবেন। আল্লাহ তাদের ওপর নাগাফ নামের এক ধরনের ক্ষুদ্র কীট পাঠাবেন, যা তাদের ঘাড়ে প্রবেশ করবে। ফলে তারা একসঙ্গে মারা পড়বে—যেন একটি মাত্র প্রাণীর মৃত্যু হয়েছে।
এরপর আল্লাহর নবী ঈসা (আলাইহিস সালাম) ও তাঁর সঙ্গীরা পাহাড় থেকে নেমে আসবেন। কিন্তু পৃথিবীর এমন এক বিঘত জায়গাও তাঁরা পাবেন না, যা তাদের মৃতদেহের পচা দুর্গন্ধ ও ময়লা থেকে মুক্ত।
তখন ঈসা (আলাইহিস সালাম) ও তাঁর সঙ্গীরা আল্লাহর কাছে দোয়া করবেন। আল্লাহ উটের দীর্ঘ ঘাড়ের মতো ঘাড়বিশিষ্ট বিশাল পাখি পাঠাবেন। তারা সেই মৃতদেহগুলো বহন করে নিয়ে যাবে এবং আল্লাহ যেখানে চান সেখানে ফেলে দেবে।
এরপর আল্লাহ এমন বৃষ্টি পাঠাবেন, যা সমগ্র পৃথিবীকে ধুয়ে পরিষ্কার করে দেবে—এমনকি পৃথিবী আয়নার মতো মসৃণ ও পরিষ্কার হয়ে যাবে।
—সহিহ মুসলিম, ২৯৩৭
১০. তাদের বিপুল সংখ্যার আরেকটি প্রমাণ হলো—মুসলিমরা ইয়াজুজ-মাজুজের ধনুক, তীর, অস্ত্র ও ঢাল ব্যবহার করে সাত বছর পর্যন্ত আগুন জ্বালাবে।
—তিরমিজি; সহিহ সনদ। আস-সিলসিলাতুস সহিহাহ, ১৯৪০।
এ থেকে বোঝা যায়—বর্তমান সভ্যতাগুলো ধ্বংস হয়ে যেতে পারে এবং ভবিষ্যতে যুদ্ধ আবার ধনুক, তীর, বর্শা ও তরবারির মতো প্রাচীন অস্ত্রের মাধ্যমে ফিরে আসতে পারে।
আর রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
“যাঁর হাতে আমার প্রাণ, তাঁর শপথ! পৃথিবীর প্রাণীগুলো তাদের গোশত খেয়ে মোটা ও স্বাস্থ্যবান হয়ে উঠবে এবং তা নিয়ে আনন্দ প্রকাশ করবে।”
—হাকিম; তিনি সহিহ বলেছেন, যাহাবি সমর্থন করেছেন এবং আলবানি আস-সিলসিলাতুস সহিহাহ (১৭৩৫)-এ তা গ্রহণ করেছেন।
১১. ইয়াজুজ ও মাজুজ পৃথিবীর সমস্ত রাজা ও শাসককে পরাজিত করবে। তাদের পরাজিত করার ক্ষমতা কারও থাকবে না। শেষ পর্যন্ত আল্লাহ তাআলাই তাদের পরাজিত করবেন—আর তা করবেন এমন এক দুর্বল সৃষ্টির মাধ্যমে, অর্থাৎ নাগাফ নামের কীটের মাধ্যমে।

শাইখ আবু বকর জাকারিয়া

সন্তান জন্মগ্রহণ করলে খরচাপাতি আছে। হাসপাতালে জন্মগ্রহণ করলে হাসপাতালের বিল দিতে হয়, ওষুধপত্র কিনতে হয়, ৬ মাস হলে বাজার ...
02/09/2026

সন্তান জন্মগ্রহণ করলে খরচাপাতি আছে। হাসপাতালে জন্মগ্রহণ করলে হাসপাতালের বিল দিতে হয়, ওষুধপত্র কিনতে হয়, ৬ মাস হলে বাজার থেকে দুধ, সেরেলাক, ডায়পার কিনতে হয়। নবজাতকের জন্য আলাদাভাবে খরচ করাটা সব যুগেই ছিলো।

মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো সন্তান জন্মের আনন্দে যেমন খুশি হয়, তেমনি খরচের কথা মনে পড়লে কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ পড়ে। বাবাকে তখন ‘ওভারটাইম’ কাজ করতে হয়। যারা আগে থেকে টাকা জমিয়েছে, তারা তখন টাকা তুলে খরচ করে।

ইসলামের স্বর্ণযুগে সন্তানের মা-বাবাকে এমন চিন্তা করতে হতো না। তখন প্রত্যেক নবজাতকের জন্য অর্থ বরাদ্দ ছিলো। শুধু ‘অর্থমন্ত্রণালয়ে’ (বায়তুল মাল) জানাতে হতো। বাড়িতে ‘ভাতা’ চলে আসতো।

উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহুর সময় একেকজন নবজাতকের জন্য ১০০ দিরহাম বরাদ্দ ছিলো।

নবজাতকের বাবা সাহাবী-তাবেয়ীগণ এই ১০০ দিরহাম দিয়ে চাইলে ৮ টি ভেড়া কিনতে পারতেন। সেই অনুসারেও যদি বর্তমানে এই প্রথাটা চালু হতো, তাহলে প্রত্যেক নবজাতক দুনিয়াতে আসার সাথে সাথে অন্তত ৮০,০০০ টাকা পেতো!

খিলাফত, ইসলামি রাষ্ট্র মানেই শুধু চোরের হাত কাটা নয়। ইসলামের স্বর্ণালী যুগে রাষ্ট্রের জনকল্যাণমুখী দিকগুলো এতো বিস্তৃত ছিলো, এতো চমৎকার ছিলো, বর্তমান সময়ে তথাকথিত অনেক রাষ্ট্রে এমন সুবিধা নেই।

আরিফুল ইসলাম

ইহুদীদের নিয়ে তুর্কী ইউটিউবার রুহি চেনেটের ডকুমেন্টারি দেখলাম।মহিলাদের চুলকে শরীরের অন্যান্য অংশের চেয়ে বেশী প্রাইভেট ধর...
01/09/2026

ইহুদীদের নিয়ে তুর্কী ইউটিউবার রুহি চেনেটের ডকুমেন্টারি দেখলাম।
মহিলাদের চুলকে শরীরের অন্যান্য অংশের চেয়ে বেশী প্রাইভেট ধরা হয়।
তাই সেটা দেখানো হারাম।
এজন্য কেউ কেউ মাথায় চুলই রাখেনা, ন্যাড়া করে। আবার কেউ কেউ টুপির মত কাপড় দিয়ে চুলগুলো সম্পূর্ণ ঢেকে ফেলে।
মহিলা মানুষ, চুল ছাড়া সুন্দরও দেখায় না।
সেজন্য আবার ন্যাড়া মাথায় উইগ নামে দামী স্টাইলিশ কালারফুল পরচুলা লাগায়। সেটা লাগিয়ে স্টাইল করে বাইরে যায়।
যুক্তি হচ্ছে নিজের চুল তো আর দেখাচ্ছেনা।
এরা Sabbath of the Lord পালন করে।
সাব্বাত, মানে শনিবার।
এদের দাবী আল্লাহ্ ছয়দিনে পৃথিবী সৃষ্টি করে একদিন (শনিবার) বিশ্রাম নিয়েছেন।
সেজন্য শনিবার তাদেরও বিশ্রামের দিন।
কাজকর্ম করা নিষেধ। আগুন, লাইট জ্বালানো/নিভানো কোনোটাই করা যাবেনা।
তাই তারা সেদিন লাইট জ্বালায়ও না নিভায়ও না।
তবে Timer সেট করে রাখে।
লাইট সন্ধ্যা ৬টায় অটোমেটিক জ্বলবে, ঘুমানোর সময় ১০টায় অফ হবে।
কারণ সন্ধ্যায় অন্ধকার হয়ে এলে আলো দরকার, আবার ঘুমাতে যাওয়ার আগে নিভানো দরকার।
যাদের লাইটে টাইমার ফিচার নাই, তারাও একটা সমাধান বের করছে।
শাটার সিস্টেম করা। লাইট নিভায় না, শাটার নামিয়ে জাস্ট আলোটা ঢেকে দেয়। (ছবিতে শাটার দিয়ে ঢেকে দেওয়া হচ্ছে)
দাউদ আলাইহিস সালামের যুগে বনু ঈসরাইলকে শনিবারে মাছ ধরতে নিষেধ করা হয়েছিল।
কিন্তু আল্লাহর হুকুমে শনিবারই তীরে মাছ বেশী আসত। তখন তারা খাঁদ, ঝোপ, বাঁধ দিয়ে সেগুলোকে আটকে রাখত।
পরের ধরতো।
যুক্তি হলো, শনিবার আটকে রাখছি, ধরি তো নাই।
(শনিবারের এই সীমালঙ্ঘনের বিষয়ে সূরা আরাফের ১৬৩নং আয়াতে আছে।)
পরে আল্লাহর হুকুমে বানর ও শূকরে পরিণত হয়।[সূরা বাক্বারা:৬৫]
কুরআনে এসব ঘটনা টেনে আল্লাহ্ পাক ইহুদিদের কপটতার বিরুদ্ধে আমাদের নবী মুহাম্মাদ সল্লাল্ল-হু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সতর্ক করেছিলেন।
এরা মনে করেন এমন যে,
আপনার সাথে একটা ওয়ারে আছে। একদিন সিজফায়ারে যাবে যে আপনাকে সে আর বোম গুলি করবেনা।
তারপর সিজফায়ার পিরিয়ডে অন্য কাউকে দিয়ে আপনাকে মারাবে।
যুক্তি দিবে আমি নিজে তো আর মারিনাই।
কি এক দুষ্ট জাতি!

মাহদী ফায়সাল

বিখ্যাত ট্রাভেল ডকুমেন্টারি ব্লগার রুহি চেনেট এর এই ডকুমেন্টারি দেখে অনেক অজানা তথ্য জানতে পারলাম।ভিডিওতে উঠে আসা কয়েকটি...
31/08/2026

বিখ্যাত ট্রাভেল ডকুমেন্টারি ব্লগার রুহি চেনেট এর এই ডকুমেন্টারি দেখে অনেক অজানা তথ্য জানতে পারলাম।
ভিডিওতে উঠে আসা কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সংক্ষেপে তুলে ধরছি,,

১. তারা নিচের একটি কক্ষে দিনে তিনবার প্রার্থনা করে এবং সারাদিন গবেষণা ও পড়াশোনা করে। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, তারা প্রতিদিন ১০ ঘণ্টারও বেশি পড়াশোনা করে। সেখানে প্রায় ৫০০ জন ছেলে রয়েছে, যাদের বেশিরভাগই ইসরাইল থেকে এসেছে। তারা বলছিল, একজন মা যেমন সন্তান প্রসবের সময় নয় মাসের মধ্যে শেষ মাসে সবচেয়ে বেশি কষ্ট করেন, তেমনি পৃথিবীও এখন শেষ সময়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। তাদের বিশ্বাস, খুব শিগগিরই মাসীহ (দাজ্জাল) আসবেন এবং পবিত্র ভূমিতে তৃতীয় মন্দির নির্মাণ করে তারা সেখানে ফিরে যাবেন।

২. তারা কেউ মোবাইল, ইন্টারনেট ইত্যাদি ব্যবহার করে না। কারণ, তারা বিশ্বাস করে এসব তাদের রুহানিয়াত ও ঈশ্বরের প্রতি মনোযোগ নষ্ট করে দেয়। সুতরাং, এসব থেকে বিরত না থাকলে ইবাদতের স্বাদ নষ্ট হবে এবং তাদের মধ্যে আধ্যাত্মিকতা অবশিষ্ট থাকবে না।

৩. তাদের আয়-রোজগার ও ক্যারিয়ার নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তারা বলে, এসব নিয়ে এত চিন্তা করার কিছু নেই; ঈশ্বরই ব্যবস্থা করে দেবেন।

৪. তারা ইবাদতের শুরুতেই দান করে এবং জেরুজালেমের দিকে মুখ করে ইবাদত করে। তাদের ইবাদতখানায় স্কুল, কলেজসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের দান বাক্স রয়েছে। তারা সেসব বাক্সে দান করে।

৫. তারা বারবার জিজ্ঞেস করছিল, ‘আপনি ইহুদি কি না?’ কারণ, তারা ইহুদি ছাড়া অন্যদের সঙ্গে কথা বলতে পছন্দ করে না। এমনকি যোগাযোগের জন্য তাদের আলাদা মোবাইলও রয়েছে। তারা ভিডিও ক্যামেরা পছন্দ করে না; প্রয়োজন হলে ছবি তোলে। ইন্টারনেটের কথা তো বাদই দিলাম — টিভি, সিনেমা ইত্যাদি সম্পর্কেও তাদের তেমন কোনো ধারণা নেই। কোনো খেলোয়াড় বা সেলিব্রিটির নামও তারা জানে না। তারা জানে কেবল তাদের রাব্বি বা ধর্মগুরু কী বলেছেন এবং তিনি কোথায় থাকেন।

৬. তারা সাধারণত ১০ জনের কম সন্তান নেয় না; অর্থাৎ তাদের পরিবারে সন্তানসংখ্যা অনেক বেশি। সন্তান নেওয়া বা সন্তান নেওয়া বন্ধ করার মতো বিষয়েও তাদের রাব্বি বা প্রধান ধর্মগুরুর কাছে যেতে হয়। কারণ, তারা তাঁর কথাকে ঈশ্বরের নির্দেশের মতোই বিশ্বাস করে। তাদের দাবি অনুযায়ী, প্রতি ২০ বছর পরপর তাদের জনসংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যায়।

৭. তাদের নিজস্ব বিচারব্যবস্থা রয়েছে, যেখানে তারা তাওরাত অনুযায়ী বিচার করে। এমনকি তারা নিজেদের মধ্যে একে অপরকে খুবই সহযোগিতা করে। নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ ও পরস্পরকে সাহায্য করতে তারা খুব পছন্দ করে। তাদের নিজস্ব পুলিশবাহিনীও রয়েছে, যারা টহল দেয় এবং কোনো ইহুদি নারী অশালীন পোশাক পরেছেন কি না বা মাথা ঢেকে চলছেন কি না, সেদিকেও খেয়াল রাখে। তাদের নিজস্ব অ্যাম্বুলেন্সও রয়েছে। এক কথায়, তাদের নিজস্ব ব্যবস্থাপনার প্রায় সবকিছুই রয়েছে।

৮. তাদের নারীরা বেশি সন্তান নেওয়া কিংবা টিভি-সিনেমা দেখতে না পারা নিয়ে কোনো অভিযোগ করে না। তারাও শালীন পোশাক পরেন এবং ইবাদতের জন্য ইবাদতগাহে যান। তবে ইবাদতগাহে তাঁদের জন্য আলাদা জায়গা রয়েছে, যেখানে কাঁচ দিয়ে ঘেরা পৃথক (নারী-পুরুষ) অংশে তাঁদের ইবাদত করতে হয়।
©

আজকের দুনিয়ায় কেউ যদি আপনাকে বলে, “আমি ইলন মাস্ককে চিনি না, রোনালদোকে চিনি না, মেসিকেও চিনি না” আপনি কি বিশ্বাস করবেন?

হয়তো আপনি ভাববেন, লোকটা মজা করছে।

কিন্তু নিউইয়র্কের মতো পৃথিবীর অন্যতম আধুনিক শহরে এমন মানুষ আছেন, যারা সত্যিই এসব নাম জানেন না। এমনকি কেউ কেউ সারাজীবনে একবারও ইন্টারনেট ব্যবহার করেননি।

তারা কারা?

নিউইয়র্কের Hasidic Jewish সম্প্রদায়ের কিছু মানুষ।

একদিকে নিউইয়র্ক। চারপাশে আকাশচুম্বী ভবন, আইফোন, ইন্টারনেট, Netflix, Instagram, Facebook, TikTok, আধুনিক প্রযুক্তির বিস্ফোরণ। আর সেই একই শহরের ভেতরেই এমন একটি ধর্মীয় সমাজ আছে, যারা নিজেদের বিশ্বাস ও জীবনধারা রক্ষার জন্য আধুনিক পৃথিবীর বিরাট একটি অংশ থেকে নিজেদের দূরে রেখেছে।

তাদের অনেকেই ইন্টারনেট ব্যবহার করেন না। টেলিভিশন দেখেন না। স্মার্টফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে দূরে থাকেন। তাদের সন্তানদের শিক্ষাব্যবস্থাতেও ধর্মীয় শিক্ষার ওপর প্রচণ্ড গুরুত্ব দেওয়া হয়।

তাদের কাছে পৃথিবীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ধর্ম, পরিবার এবং সম্প্রদায়।

তাদের পরিবারগুলোও বড়। সন্তান জন্ম দেওয়া সেখানে জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পুরুষদের অনেক সময় দীর্ঘ সময় ধর্মীয় গ্রন্থ অধ্যয়ন ও প্রার্থনায় কাটে। নারীদের পোশাক, চুল ঢাকা, পুরুষ-নারীর সামাজিক সম্পর্ক, এমনকি দৈনন্দিন জীবনের অনেক বিষয়েও ধর্মীয় বিধিনিষেধের প্রভাব রয়েছে।

শুধু ব্যক্তিগত জীবন নয়, তারা নিজেদের একটি পূর্ণাঙ্গ সামাজিক কাঠামোও তৈরি করেছে।

নিজেদের ব্যবসা আছে। নিজেদের সামাজিক সহায়তা ব্যবস্থা আছে। স্বেচ্ছাসেবী অ্যাম্বুলেন্স সেবা আছে। নিজেদের ধর্মীয় আদালত Beth Din-এর মাধ্যমে অনেক পারিবারিক ও দেওয়ানি বিরোধ মীমাংসা করা হয়। Shabbat-এর সময় প্রযুক্তি ও কাজ থেকে বিরত থাকার জন্য দৈনন্দিন জীবনে বিশেষ ব্যবস্থাও করা হয়।

অর্থাৎ তারা আধুনিক পৃথিবীর মাঝখানে থেকেও নিজেদের জন্য একটি আলাদা পৃথিবী তৈরি করেছে।

এখানে এসে আমার মাথায় একটি প্রশ্ন আসে।

আমরা মুসলমানরা কোথায় দাঁড়িয়ে আছি?

যে পৃথিবীতে একজন মানুষ নিজের ধর্মীয় বিশ্বাস রক্ষার জন্য ইন্টারনেট পর্যন্ত বর্জন করতে পারে, সেখানে একজন মুসলমানের জীবনে ধর্মের জায়গাটা কেন এত সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে?

একজন Hasidic ইহুদি যদি তার ধর্মের কারণে নিজের পোশাক নির্ধারণ করতে পারে, পরিবার পরিচালনা করতে পারে, সন্তানদের ধর্মীয় মূল্যবোধে বড় করতে পারে, Shabbat পালন করতে পারে, নিজের ধর্মীয় আদালতে পারিবারিক বিরোধ মীমাংসা করতে পারে, তাহলে একজন মুসলমান যখন নিজের বিশ্বাস অনুযায়ী জীবনযাপন করতে চায়, তখন সেটাকে এত অস্বাভাবিক মনে হয় কেন?

একজন ধর্মপ্রাণ ইহুদি নিজের ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করতে চাইলে আমরা সেটাকে তারা religious freedom হিসেবে দেখে।

একজন খ্রিস্টান নিজের বিশ্বাস অনুযায়ী জীবনযাপন করলে সেটাকে faith মনে করে।

কিন্তু একজন মুসলমান যখন বলে, আমি আমার পোশাকে ইসলামের বিধান মানতে চাই, আমার সন্তানকে ইসলামের মূল্যবোধে বড় করতে চাই, আমার পরিবারে ধর্মীয় নৈতিকতা চাই, তখন কেন তার ওপর এত দ্রুত modern, backward, extreme কিংবা intolerant-এর তকমা বসে যায়?

এই পশ্চিমা দুনিয়া যখন একজন মুসলিম নারীর মাথার হিজাবের দিকে তাকায়, তখন তার চোখে ফুটে ওঠে সন্দেহ। যখন একজন মুসলিম পুরুষ দাড়ি রাখে, তাকে বলা হয় উগ্রবাদী। যখন মুসলিমরা নিজেদের পারিবারিক বিষয় শরিয়াহ অনুযায়ী মীমাংসা করতে চায়, তখন তাকে বলা হয় সমাজবিরোধী চিন্তা। অথচ ওই হাসিদিক ইহুদি সম্প্রদায়ের নিজস্ব "বেথ দিন" আদালত আছে, নিজস্ব টহল বাহিনী আছে, নিজস্ব অ্যাম্বুলেন্স সেবা আছে তা নিয়ে কেউ প্রশ্ন তোলে না। প্রশ্নটা তখনই ওঠে, যখন প্রশ্নের মুখে দাঁড়িয়ে থাকি আমরা।

এই দ্বিচারিতার নাম কী? এর নাম "সিলেক্টিভ টলারেন্স" — বেছে বেছে সহনশীলতা। যাদের বিশ্বাস পশ্চিমের রাজনৈতিক স্বার্থের সাথে সাংঘর্ষিক নয়, তাদের ধর্মপালনকে বলা হয় ঐতিহ্য। আর যাদের বিশ্বাস, যাদের জীবনযাত্রা প্রশ্ন তোলে আধুনিকতার অহংকারকে, তাদের বলা হয় পশ্চাৎপদতা।

অথচ ভেবে দেখুন, যে সমাজ প্রযুক্তির প্রতিটি সুতো দিয়ে আমাদের বেঁধে ফেলেছে, যে সমাজ বলে "সংযুক্ত থাকো, নাহলে পিছিয়ে পড়বে," সেই সমাজই একদল মানুষকে দেখে মুগ্ধ হয় যারা এই শেকল ছিঁড়ে ফেলেছে। প্রশ্ন হলো, শেকলটা কি সত্যিই প্রযুক্তি? নাকি শেকলটা হলো, কার বিশ্বাসকে সম্মান দেওয়া হবে আর কার বিশ্বাসকে সন্দেহের চোখে দেখা হবে, সেই সিদ্ধান্ত?

আমরা যখন আল্লাহর কথা বলি, তখন আমাদের বলা হয় ধর্মান্ধ। আমরা যখন পর্দা করি, তখন আমাদের বলা হয় নিপীড়িত। অথচ তাদের শহরে বসে একটা সম্প্রদায় যখন ঠিক একই রকম বিশ্বাস নিয়ে বাঁচে, তাদের বলা হয় অনুপ্রেরণাদায়ক।

আজকে বিশ্বাসের প্রশ্নে দুনিয়া নিরপেক্ষ নয়, দুনিয়া কাকে সহ্য করবে, আর কাকে করবে না তা আগে থেকেই ঠিক করে রাখা হয়েছে।

মুসলমানদের বিশ্বাসের ভিত্তি কারো স্বীকৃতির মুখাপেক্ষী নয়। যে দুনিয়া আজ আমাদের পোশাকে প্রশ্ন তোলে, আমাদের নামাজে সন্দেহ করে, সেই দুনিয়ার চোখে ধরা পড়া বা না পড়াটা কখনোই আমাদের ঈমানের মানদণ্ড ছিল না, আজও নয়।

আল্লাহ বলেন — "নিশ্চয় আল্লাহর কাছে সবচেয়ে সম্মানিত সে, যে সবচেয়ে বেশি তাকওয়াবান" (সূরা হুজুরাত, ৪৯:১৩)। এই আয়াতই আমাদের জন্য যথেষ্ট। দুনিয়ার স্বীকৃতিপত্র লাগে না।

আমাদের কাজ দুনিয়াকে বোঝানো নয়, আমাদের কাজ আল্লাহর কাছে দাঁড়ানো। পোশাকে, বিশ্বাসে, চর্চায় আমরা যদি আল্লাহর সন্তুষ্টি খুঁজি, তবে দুনিয়ার সমালোচনা একদিন নিজেই নিভে যাবে, যেমন রাতের আঁধার ভোরের আলোর সামনে টিকে থাকে না।
-সংগ্রহীত

এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ ﷺ –এর কাছে এসেছিলো কিছু সম্পদ লাভের আশায়। সে রাসূলুল্লাহ ﷺ –এর কাছে সম্পদ চেয়েও ফেললো! রাসূলুল্লা...
30/08/2026

এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ ﷺ –এর কাছে এসেছিলো কিছু সম্পদ লাভের আশায়। সে রাসূলুল্লাহ ﷺ –এর কাছে সম্পদ চেয়েও ফেললো!

রাসূলুল্লাহ ﷺ তাঁকে ছাগল দান করলেন।

একটি-দুটি ছাগল না। হাদীসে উল্লেখ আছে- “তাকে এত বেশী ছাগল দিলেন যাতে দু’উপত্যকার মাঝামাঝি স্থান পরিপূর্ণ হয়ে যাবে।”

এখন চিন্তা করুন, দুই উপত্যকার মাঝামাঝি স্থান পূর্ণ হয়ে যাবে, এরকম কতো ছাগল লাগতে পারে?

৫০০? ১০০০ ছাগল? সংখ্যা শখানেক হোক বা হাজার, কিন্তু এটা স্পষ্ট যে, অনেক ছাগল দেয়া হয়। যা সে ভাবতেও পারেনি!

একসাথে এতো সম্পদ পেয়ে সেই বেদুইনের প্রতিক্রিয়া কী ছিলো জানেন?

সে খুশিতে আত্মাহারা হয়ে তার গোত্রে চলে গেলো চিৎকার করতে করতে- “হে আমার জাতির ভাইয়েরা! তোমরা ইসলাম গ্রহণ করো। কারণ মুহাম্মদ ﷺ অভাবের আশঙ্কা না করে এতো দান করতে থাকেন (তোমরা ভাবতেও পারবে না)!” (সহীহ মুসলিম: ৫৯১৪)


এই হাদীসের ব্যাখ্যায় ইমাম নববী রাহিমাহুল্লাহ বলেন- “এই বেদুঈন প্রথমে কেবল দুনিয়াবি লাভের আশায় নবী ﷺ–এর কাছে এসেছিলেন। কিন্তু রাসূল ﷺ–এর অসাধারণ উদারতা ও দানশীলতা দেখে তাঁর অন্তর ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট হয় এবং তিনি আন্তরিকভাবে ইসলাম গ্রহণ করেন। এরপর তাঁর গোত্রও ইসলাম গ্রহণ করে।”


জীবনের প্রথম পরিচয়ে যে বেদুঈনের কাছে মনে হলো- রাসূলুল্লাহ ﷺ গরীব নন, তিনি অভাবের আশঙ্কা করেন না, তিনি দুহাত খুলে দান করেন, আর সেই রাসূল ﷺ সম্পর্কে আমরা কী মন্তব্য করি?

যেই নবী ﷺ একটি সুন্দর জামা পরে আসলে কেউ যদি বলতো জামাটা আমাকে দিবেন? তিনি সাথে সাথে জামা খুলে দিতেন, সেই নবীর অর্থনৈতিক জীবন বলতে গিয়ে আমরা শুধু তাঁর দারিদ্র্যের গল্প শুনাই?

আমাদের সময়ের প্রেক্ষাপটে রাসূলুল্লাহ ﷺ তাঁর জীবনে কোটি কোটি টাকা দান করেছেন। সেই রাসূলুল্লাহ ﷺ –এর ইমেইজ দাঁড় করানো হয়েছে কেবল ৩ মাস চুলোয় আগুন জ্বলেনি এই থিমের ওপর!

অথচ আমার রাসূলকে দুনিয়া অফার করা সত্ত্বেও তিনি দুনিয়া বেছে নেননি, তারপরও দুনিয়া তাঁর কাছে এসেছিলো। সেই দুনিয়াটাও তিনি গ্রহণ না করে দান করে গেছেন।

যার দানশীলতা দেখে একজন-দুজন না, একেকটা গোত্র ইসলাম গ্রহণ করতো, মক্কার কাফিররা যারা মক্কা বিজয়ের পরও মনে প্রাণে ইসলাম গ্রহণ করেনি, তাঁর দানশীলতা দেখে মুগ্ধ হয়ে পরবর্তীতে তাদের মন জয় হয়।

সেই রাসূলকে কিনা বলা হয় গরীব ছিলেন! অনাহারে থাকতেন।


রাসূলুল্লাহ ﷺ –কে ভালোবাসতে তাঁকে সম্পূর্ণভাবে জেনেই ভালোবাসতে হবে। আপনার কল্পিত ধারণা অনুযায়ী যে ইমেইজ দাঁড় করাতে চাচ্ছেন, সেভাবে না। বরং তিনি যেমন ছিলেন, ঠিক তেমনভাবেই তাঁকে চিন্তা করুন।

জোর করে ভালোবাসতে হবে না। ঐ ঘটনাগুলো পড়লে এমনিতেই ভালোবাসা জন্মাবে।

আরিফুল ইসলাম

29/08/2026

"মারইয়াম (আঃ) যখন প্রসববেদনায় অত্যন্ত কাতর ছিলেন, তিনি বলেছিলেন—'হায়! আমি যদি এর আগেই মরে যেতাম এবং বিস্মৃত হয়ে যেতাম!' আল্লাহ তাকে এই কথার জন্য বকা দেননি, বরং তাকে পানি ও তাজা খেজুর দিয়ে আপ্যায়ন করেছেন। এটি আমাদের শেখায়—মানসিক চাপে থাকা ব্যক্তিকে উপদেশ বা ফতোয়া দেওয়ার চেয়ে তাকে শারীরিক ও মানসিক স্বস্তি দেওয়া বেশি জরুরি। আল্লাহ আমাদের আবেগ বোঝেন, তিনি আমাদের বিচারক হওয়ার আগে আমাদের পরম বন্ধু।"

- উস্তাদ নোমান আলী খান.

Address

Dhaka

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when সিরাতল মুস্তাকিম posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Place Of Worship

Send a message to সিরাতল মুস্তাকিম:

Shortcuts

Share