সিরাতল মুস্তাকিম

সিরাতল মুস্তাকিম MAY ALLAH GUIDE US TO SIRATUL MUSTAQIM (STRAIGHT PATH) AMEEN you tube channel


https://youtube.com/channel/UChFXQbSW6yu-572JhgRv2jw

একটা ঐতিহাসিক ঘটনা  পড়ুন। যা আমাদের জন্য একটা শিক্ষা। *ঘটনার শুরু তাবুক যুদ্ধের সময়।তাবুক জিহাদে মুমিন এবং মোনাফেক প্রকা...
20/05/2026

একটা ঐতিহাসিক ঘটনা পড়ুন। যা আমাদের জন্য একটা শিক্ষা।
*
ঘটনার শুরু তাবুক যুদ্ধের সময়।
তাবুক জিহাদে মুমিন এবং মোনাফেক প্রকাশ্যে ভাগ হয়ে যায়। সব জিহাদই মুমিন এবং মোনাফেক ভাগ হয় তবে বড় এক দল মোনাফেকদের পরিচয় তখন সামনে এসে পড়ে।

দুর্ভাগ্যবশতো তাবুক জিহাদে তিনজন নেককার সাহাবী জিহাদে অংশ নেন নাই। তারা ছিলেন কা’ব ইবনে মালিক, মুরারা ইবনে রবী ও হেলাল ইবনে উমাইয়্যা (রাঃ)। এরা অলসতার কারণে জিহাদ অংশ নেন নাই। এরা ছিলেন নবীজির বিশ্বস্ত সাহাবী। এই তিনজন সাহাবী তাবুক যুদ্ধের পূর্বে সবগুলো জিহাদে অংশ নিয়েছিলেন এবং বীরের মতো লড়েছিলেন। কিন্তু অলসতার কারণে এই জিহাদে অংশ নেন নাই।

কিন্তু তারা সত্যের পথ অবলম্বন করলেন। মোনাফেকদের থেকে তারা কেন আলাদা সেটাই প্রকাশ করলেন। মিথ্যার আশ্রয় নিলেন না। তারা নবীজির কাছে স্বীকার করলেন যে, কোনো ওজর (বিশেষ কারণ) ছাড়া আমরা জিহাদে শরীক হইনি। অবহেলার কারণে আমরা এই জিহাদে শরীক হইনি। এরপর তারা খাটি তাওবা করেন।

তারা তাদের ভুল স্বীকার করে নিলেন। এরপর রাসুলে কারীম সল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়াসাল্লাম সমস্ত সাহাবীদের এই তিনজনের সাথে কথা বলতে নিষেধ করে দিলেন।

এভাবে তাদের সাথে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছিল। মানুষের অবস্থা তাদের কাছে পরিবর্তন হয়ে গেল। সামাজিকভাবে এই তিনজন সাহাবীকে বয়কট ঘোষণা করা হয়েছিল। তাদের প্রতি কঠোরতা এ পর্যায়ে পৌঁছাল যে তাদেরকে সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া শুরু থেকে নিয়ে চল্লিশ দিন পর্যন্ত তাদের স্ত্রীদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলো। মানুষের অবস্থা তাদের কাছে পরিবর্তণ হয়ে গেল। সবাই তাদের কাছে অপরিচিত মনে হলো। গোটা পৃথিবী তাদের কাছে অচেনা অজানা লাগল।
*
চিন্তা করে দেখেন, নবীজির বিশ্বস্ত সাহাবী এই তিনজন। পূর্বের সব জিহাদে তারা অংশ নিয়েছে, বীরের মতো লড়েছে। জাস্ট একটা জিহাদে কোনো কারণ ছাড়া অংশ নেয়নি বলে এত বড় শাস্তি!
*
এভাবে তাদের বিচ্ছিন্নতার পঞ্চাশ দিন পূর্ণ হওয়ার পর আল্লাহ তাদের তাওবা কবুল করে আয়াত নাজিল করলেন- ‘আর সে তিন জনের (তাওবা কবুল করলেন), যাদের বিষয়টি স্থগিত রাখা হয়েছিল। এমনকি পৃথিবী প্রশস্ত হওয়া সত্ত্বেও তাদের জন্য সংকীর্ণ হয়ে গিয়েছিল এবং তাদের নিকট তাদের জীবন দুর্বিসহ হয়ে উঠেছিল। আর তারা নিশ্চিত বুঝেছিল যে, আল্লাহর আযাব থেকে আল্লাহ ব্যতীত আর কোনো আশ্রয়স্থল নেই। তারপর তিনি তাদের তাওবা কবুল করলেন, যাতে তারা তাওবায় স্থির থাকে। নিশ্চয়ই আল্লাহ তাওবা কবুলকারী, পরম দয়ালু’। (৯;১১৮)
*
আয়াতটি নাজিল হওয়ার পর পর এক আনন্দ উল্লাস বয়ে যায় চারপাশে। উৎসবমূখর পরিবেশ হয়ে উঠে। চারপাশে আনন্দ উল্লাসে বলাবলি শুরু হয়, তাদের তাওবা কবুল হয়েছে। তাদেরকে ক্ষমা করে দেওয়া হয়েছে। আল্লাহ তাদের তাওবা কবুল করেছেন। চারপাশে তাকবিরের বন্যা বয়ে যায়- আল্লাহু আকবার! আল্লাহু আকবার! সবার মাঝে, আনন্দঘন পরিবেশের মাঝে এই তিন সাহাবীর হাস্যজ্বল মুখ।

তিনজনের জীবনে সেদিন বসন্ত নেমে এসেছিল। যেন তাদের সেদিন নতুন করে জন্ম হয়েছিল। তারা সেদিন নতুন করে প্রাণ ফিরে পেয়েছিল। সব লোকজন তাদেরকে সংবর্ধনা দিতে লাগল। এই খুশিতে এই তিন সাহাবী প্রচুর দান সদক্বা করলেন।
*
আজ সারা দুনিয়ায় জিহাদের শস্যক্ষেত্র। আমাদের ওযর কী? আমাদের নাম মোনাফেকের খাতায় উঠে আছে কি না মহান আল্লাহ জানেন। আল্লাহ অত্যন্ত দয়ালু। আল্লাহর কাছে আমরা ক্ষমা চাই আমরা জিহাদ করছি না বলে। মোনাফেকি থেকে আমরা মহান আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই। আল্লাহ আমাদের তাওফিক দেক জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহ নিজেদের জীবন এবং সম্পদ কোরবানের জন্য...।

গোলাম রাব্বানী মাশায়েক পনি

যিলহজ্জ মাস শুরু হলে যে ব্যক্তি কুরবানি করতে চায় তার জন্য কুরবানী হওয়া পর্যন্ত চুল, নখ ইত্যাদি কাটা হারাম▬▬▬▬❖🌀❖▬▬▬▬যিলহ...
18/05/2026

যিলহজ্জ মাস শুরু হলে যে ব্যক্তি কুরবানি করতে চায় তার জন্য কুরবানী হওয়া পর্যন্ত চুল, নখ ইত্যাদি কাটা হারাম
▬▬▬▬❖🌀❖▬▬▬▬
যিলহজ্জ মাস শুরু হলে যে ব্যক্তি কুরবানি করতে চায় তার জন্য শরীরের অতিরিক্ত পশম (যেমন, মাথার চুল, নাভির নিচের বা বগলের পশম ইত্যাদি) কাটা জায়েজ নাই। কারণ, উম্মে সালামা রা. হতে বর্ণিত। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন:
((إذا دخل شهر ذي الحجة وأراد أن يضحي فلا يأخذ من شعره ولا من أظفاره شيئاً))
“যিলহজ্জ মাস শুরু হলে যে ব্যক্তি কুরবানি করতে চায় সে যেন তার চুল ও নখ না কাটে।” (সহীহ মুসলিম, অধ্যায়: কুরবানি, অনুচ্ছেদ: যিলহজ্জ মাস শুরু হলে যে ব্যক্তি কুরবানি করবে তার জন্য চুল ও নখ কাটা নিষেধ।)
অন্য বর্ণনায় রয়েছে: ((ولا من بشرته شيئاً) "শরীরের চামড়া যেন না কাটে।" (সহীহ মুসলিম)

🌀 এ সংক্রান্ত কতিপয় মাসায়েল:

▪ ইবনে কুদামা রহ. বলেন: নিষেধাজ্ঞার দাবী হলো হারাম হওয়া। অর্থাৎ যে কুরবানী করতে চায় তার জন্য কুরবানীর পশু জবেহ করা পর্যন্ত নখ-চুল, শরীরের অতিরিক্ত চামড়া ইত্যাদি কাটা হারাম।
▪ এ বিধান যে ব্যক্তি কুরবানি করবে কেবল তার জন্য প্রযোজ্য। যাদের পক্ষ থেকে কুরবানি করা হবে যেমন, স্ত্রী, সন্তান বা পরিবারের অন্য সদস্যগণের জন্য অথবা যারা কুরবানি করবে না তাদের নখ-চুল ইত্যাদি কাটাতে কোন অসুবিধা নাই।
▪ যিলহজ্জ মাসের চাঁদ দেখা থেকে শুরু করে কুরবানির পশু জবেহ করা পর্যন্ত চুল-নখ কাটা যাবে না। কুরবানি করার পর তা কাটা যাবে।
▪ কোন ব্যক্তি ভুল বশত: নখ, চুল ইত্যাদি কেটে ফললে তার জন্য কাফফারা নেই। তবে এ জন্য তওবা করতে হবে।
▪ এ দিনগুলোতে নতুন জামা কাপড়, আতর-সুগন্ধি মাখা ও স্ত্রী সহবাসে লিপ্ত হওয়ায় কোন অসুবিধা নাই।
▬▬▬▬❖🌀❖▬▬▬▬
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল মাদানি
(লিসান্স, মদিনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়)
fb id: AbdullaahilHadi
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সউদী আরব

যিলহাজ্জের চাঁদ দেখার আগে ও পরে করনীয় কিছু আমল কি কি?
~~
যিলহজ্জ মাস শুরুর আগে ও শুরুর ১ম ১০ দিন আমাদের যা কিছু করা উচিৎ--

🍭১. যিলহাজ্জ মাসের চাঁদ দেখার পর থেকে যারা কুরবানি করতে ইচ্ছুক তারা কুরবানির আগ পর্যন্ত চুল-নখ-লোম না কাটা। এই বিধান শুধু কুরবানিদাতার জন্য। পরিবারের অন্য সদস্যদের জন্য না। (তাই এ মাস শুরুর আগেই চুল নখ অবাঞ্চিত লোম সব কেটে পরিস্কার করে ফেলুন।)

🍭২-চাদ দেখে দুয়া পড়া---যে কোনো মাসের নতুন চাঁদ, এমনকি রোজা ও ঈদের চাঁদ দেখার দোয়া একটিই। রাসূলুল্লাহ (সা.) নতুন চাঁদ দেখলে এই দোয়া পড়তেন—

*উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা আহিল্লাহু আলাইনা বিল-য়ুমনি ওয়াল ঈমানি, ওয়াসসালামাতি ওয়াল ইসলামি- রব্বি ওয়া রব্বুকাল্লাহ।*

*অর্থ : হে আল্লাহ! আপনি আমাদের জন্য এই চাঁদকে সৌভাগ্য ও ঈমান, শান্তি ও ইসলামের সঙ্গে উদিত করুন। আল্লাহই আমার ও তোমার রব*। -জামে তিরমিজি, হাদিস : ৩৪৫১

🍭৩- বেশি বেশি তাকবীর পাঠ করা
*তাকবীর হল-আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার লা ইলাহা ইল্লালাহ*
*আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার ওয়া লিল্লাহিল হামদ*

🍭৪-যিলহাজ্জ মাসের প্রথম দশ দিনের 'আমল আল্লাহর কাছে সবচেয়ে পছন্দনীয়। ইবাদাতে একাগ্রতা বাড়ানো ; নফল সালাত, সাদাকাহ, ইস্তিগফার করা, তাওবা করা, যিকর করা - আল্লাহু আকবার, আলহামদুলিল্লাহ্, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্ বেশি বেশি পড়া, কোরআন তিলাওয়াত করা ইত্যাদি আমলে সময়কে ব্যস্ত রাখা।
আলিমরা বলেছেন: *যিলহাজ্জ মাসরে ১ম দশদিন সর্বোত্তম দিন, আর রমযান মাসের শেষ দশ রাত, সব চেয়ে উত্তম রাত।*

🍭৫. ১-৯ তারিখ অর্থাৎ ১ম থেকে নবম যিলহজ্ব পর্যন্ত রোযা রাখা। বিশেষ করে আরাফার দিনে (যে দিন হাজিরা আরাফার মাঠে থাকে ) রোযা রাখা, এতে দুই বছরের সগীরা গুনাহ মাফ হবার আশা করা যায়।

🔰আরাফার দিনে রাখার ফজিলতঃ
আবু কাতাদা রাযিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ
*আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে আরাফার দিনে রোযা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেনঃ উক্ত রোযা, গত এক বছরের এবং আগামী এক বছরের কৃত পাপরাশিকে মোচন করে দেয়।*
(সহীহ মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিযি, নাসাঈ ও ইবনে মাজাহ)

🔘তাই আমলে আমলে পরিপূর্ণ করুন যিলহজ্জ মাসটিকে...আল্লাহ্ চাইলে গুণাহের বোঝা হালকা হয়ে যাবে যদি সঠিকভাবে এই দিন গুলিকে কাজে লাগাতে পারি।
*আল্লাহ্ সবাইকে তৌফিক দিন।*
🌸🍃

প্রশ্ন: বাংলাদেশও ভারতের মুসলিমগণ আরাফাত দিবসের রোযা কোন দিন রাখবে? সৌদি আরবের সাথে কি মিল রেখে রাখবে না কি দেশের চাঁদের হিসেবে রাখবে?

উত্তর:
আরাফা দিবসে একটি রোযার বিনিময়ে আল্লাহ তাআলা পেছনের ও সামনের দু বছরের গুনাহ মোচন করে দেন। আল হামদুলিল্লাহ।
এ মর্মে হাদীস হল:
عَنْ أَبِي قَتَادَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صِيَامُ يَوْمِ عَرَفَةَ إِنِّي أَحْتَسِبُ عَلَى اللهِ أَنْ يُكَفِّرَ السَّنَةَ الَّتِي قَبْلَهُ وَالَّتِي بَعْدَهُ
আবূ ক্বাতাদাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “আমি আল্লাহর নিকট আরাফাত দিবসের রোযার এই সওয়াব আশা করি যে, তিনি তাঁর বিনিময়ে পূর্ববর্তী ও পরবর্তী বছরের গুনাহ মাফ করে দিবেন।” (সহীহ ইবনে মাজাহ হা/১৭৩০)

এ দিন হাজী সাহেবগণ আরাফার ময়দানে অধিক পরিমানে দুআ, তাসবীহ ও আল্লাহর ইবাদতে সময় অতিবাহিত করবেন আর বিশ্বমুসলিমগণ সে দিন রোযা অবস্থায় অতিবাহিত করবেন। এ দিন আল্লাহ তাআলা নিচের আসমানে অবতণ করে অসংখ্য হাজীকে জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্ত ঘোষণা করবেন।

*আরাফা দিবস কোনটি?*
৯ যিলহজ্জ- যে দিন হাজী সাহেবগণ আরাফার ময়দানে উপস্থিত থাকবেন সে দিন আরাফার দিন।
তবে কোন কোন আলেম বলেন, সৌদি আরব এবং পার্শবর্তী রাষ্ট্রের লোকেরা -যাদের চাঁদের উদায়চল এক- তারা উক্ত দিনে (৯যিল হজ্জ-যে দিন হাজীগণ আরাফার ময়দানে উপস্থিত থাকে) রোযা থাকবে। কিন্তু যে সব দেশের চাঁদের উদয়াচল ভিন্ন তারা তাদের দেশের চাঁদের হিসেবে ৯ যিলহজ্জ এ রোযা থাকবে। কারণ রাসূল সাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “তোমরা চাঁদ দেখে রোযা রাখ আর চাঁদ দেখে রোযা ছাড়ো।” অর্থাৎ রোযা রাখার বিষয়টি চাঁদ দেখে তারিখের সাথে সম্পৃক্ত। ‌এ বিধান রামাযান শুরু ও শেষ, আরাফা, আশুরা এবং অন্যান্য সকল রোযার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

মতবিরোধ থেকে বাঁচার স্বার্থে কোন কোন আলেম বলেন যে, বাংলাদেশ, ভারত ও তার পার্শবর্তী রাষ্ট্রের লোকদের জন্য সবচেয়ে উত্তম হল,৮ ও ৯ দুদিন রাখা-অর্থাৎ সৌদি আরবে হাজিগণ যে দিন আরাফার ময়দানে হাজির থাকবে সে দিন এবং বাংলাদেশে যিলহজ্জের ৯ তারিখে। তাহলে আশা করা যায়, নিশ্চিতভাবে এই মর্যাদা লাভ করা সম্ভব হবে।

তবে কেউ যদি সৌদি আরবে হাজি্গণ যে দিন আরাফার ময়দানে হাজির থাকবেন কেবল সে দিন রোযা থাকে আর কেউ যদি দেশের তারিখের হিসেবে এক দিন পরে রোযা রাখে তাহলে উভয়েই ইনশাআল্লাহ এই সওয়াব পাবেন। তবে উভয় দিন রোযা থাকা অধিক উত্তম এটা নিশ্চিতভাবে বলা যায়। هذا ما أرى والله أعلم بالصواب
------------
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
জুবাইল দাওয়াহ সেন্টার, সৌদি আরব

©সিরাতল মুস্তাকিম

দাজ্জাল যখন আত্মপ্রকাশ করবে, প্রচুর ধ্বংসযজ্ঞ চালাবে। ডানে-বামে হত্যাকান্ড ঘটাবে। কল্পনার বাইরে ফিতনা ফাসাদ ছড়াবে। তার ন...
14/05/2026

দাজ্জাল যখন আত্মপ্রকাশ করবে, প্রচুর ধ্বংসযজ্ঞ চালাবে। ডানে-বামে হত্যাকান্ড ঘটাবে। কল্পনার বাইরে ফিতনা ফাসাদ ছড়াবে। তার নিজস্ব বাহিনী থাকবে। তার বিরুদ্ধে ইমাম মাহদী এবং ইসা (আঃ) মুজাহিদদের নিয়ে তুমুল লড়াই করবে। পাথর বলে উঠবে, হে মুসলিম! আমার পিছনে এক ইয়াহুদি লুকিয়ে আছে, আসো তাদের হত্যা করো। এই বিষয়গুলো আমরা জানি, নবী সল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের বলে গিয়েছেন।

এর বাইরে একটা বিষয় কল্পনা করেন। এটা আসলে অনুভূতির বিষয়। গভীর অনুভূতি নিয়ে ভাবুন, যে মুসলিম বাহিনী ইমাম মাহদী, ইসা ইবনে মারিয়ামের নেতৃত্বে লড়বে সেই বাহিনীর প্রত্যেকটা সদস্যের তখনকার অন্তরের অবস্থাটা অনুভব করুন। ধরেন, আপনিই সেই বাহিনীর একজন।

আপনার সামনে শক্তিশালী দাজ্জালের বাহিনী। আপনি তুমুল লড়াই করছেন তাদের সাথে। আপনার কোনো চিন্তা নাই। আপনি মারা গেলেই জান্নাত। আপনার মরতে দেরি, জান্নাতে যেতে দেরি নাই। এই নিশ্চয়তা আমি দেইনি। আল্লাহর রাসুল দিয়েছেন।

আপনি কঠিন লড়াই করছেন। আপনি, আপনার দলের লোকেরা ওদেরকে পিপড়ার মতো মারছেন। আপনার আশেপাশে অনেকে শহীদ হচ্ছে। তবুও আপনারা তাকবির- আল্লাহু আকবার বলে এগিয়ে যাচ্ছেন। এক জান্নাতি রহমতের বাতাস আপনাদের প্রশান্তি দিচ্ছে। ক্লান্তিহীন ভাবে লড়ছেন।

দুনিয়াতে কোটি কোটি মুসলিম। তার মধ্য থেকে মহান আল্লাহ আপনাকে পবিত্র জিহাদের জন্য বাছাই করেছে। আপনি লড়েই যাচ্ছেন, আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য। উম্মাহর বিজয়ের জন্য। আপনার আশেপাশে যারা শহীদ হচ্ছে। হাসতে হাসতে দুনিয়া ছেড়ে যাচ্ছে। আপনি আল্লাহু আকবার বলে বলে আগাচ্ছেন। ভাবুন। আপনি লড়াই করছেন হক এর পক্ষে, বাতিলের বিরুদ্ধে। ফিতনা ছড়ানো দলের বিরুদ্ধে। জান প্রাণ দিয়ে তুমুল লড়াই করে যাচ্ছেন।

আমার উম্মতের এক দল সর্বদা হক এর পথে জিহাদ করতে থাকবে। এবং এর শেষ দলটা ইসা(আ:) এর সাথে যুক্ত হবে।

নবীজি বলেন, 'আমার উম্মতের একটি দল সর্বদা সত্যের পথে জিহাদ করতে থাকবে এবং তারা কিয়ামত পর্যন্ত বিজয়ী থাকবে। তারপর ঈসা ইবনে মারইয়াম (আ.) অবতরণ করবেন। তখন তাদের আমীর (ইমাম মাহদী) বলবেন- আসুন, আমাদের ইমামতি করে নামাজ পড়ান। তিনি বলবেন- না, তোমাদেরই একজন অন্যজনের আমীর (নেতা)। এটা আল্লাহ এই উম্মতের প্রতি সম্মানস্বরূপ দিয়েছেন।' ( সহী মুসলিম)
*
মহান আল্লাহ আমাদের হক এর উপর অটুট রাখুক। আমাদের কবুল করুক...।

© গোলাম রাব্বানি মাশায়েখ পনি

এই বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ডের সৃষ্টিকর্তাকে চেনার জন্য আপনাকে মহাবিশ্ব, গ্যালাক্সি নিয়ে ভাবা লাগবেনা এমনকি সৌরজগতও না আপনি আপনা...
11/05/2026

এই বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ডের সৃষ্টিকর্তাকে চেনার জন্য আপনাকে মহাবিশ্ব, গ্যালাক্সি নিয়ে ভাবা লাগবেনা এমনকি সৌরজগতও না আপনি আপনার বাসস্থান পৃথিবী নিয়ে ভাবেন, হতবাক হয়ে যাবেন।
আল্লাহ তা‘আলা আমাদেরকে এই পৃথিবীতে সৃষ্টি করে তার অসংখ্য নিদর্শন দিয়ে ঘিরে রেখেছেন, যাতে আমরা চিন্তা করি এবং তার মহত্ত্ব উপলব্ধি করি।

কুরআনুল কারীমে ইরশাদ হয়েছে:

“আর আমি আকাশকে করেছি সুরক্ষিত ছাদস্বরূপ, অথচ তারা তার নিদর্শনসমূহ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়।” (সূরা আম্বিয়া: ৩২)

এই আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা আকাশকে سقفا محفوظًا” (সুরক্ষিত ছাদ) বলে অভিহিত করেছেন। এটি পৃথিবীর জন্য এক অদৃশ্য ঢালস্বরূপ, যা সূর্য থেকে আগত ক্ষতিকর সৌর বায়ু (solar wind) এবং মহাকাশের বিপজ্জনক কণা থেকে আমাদের রক্ষা করে।

কেন সুরক্ষিত ছাদ আসুন দেখি

পৃথিবীর অভ্যন্তরে লুকিয়ে থাকা চৌম্বক ক্ষেত্র (Earth's magnetic field) একটি অদৃশ্য শক্তি যা আমাদের গ্রহকে বিভিন্ন বহিরাগত হুমকি থেকে রক্ষা করে। এটি পৃথিবীর অভ্যন্তরীণ অংশ, বিশেষ করে বাইরের তরল কোর (outer core) থেকে উৎপন্ন হয়, যেখানে গলিত লোহা এবং নিকেলের গতিশীলতা (convection currents) এই ক্ষেত্র তৈরি করে। এখন দেখা যাক, এটি কীভাবে পৃথিবীকে সুরক্ষিত করে। আমি ধাপে ধাপে ব্যাখ্যা করছি:

১. চৌম্বক ক্ষেত্রের গঠন এবং প্রকৃতি

- পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্রটি একটি ডাইপোল (dipole) ম্যাগনেটের মতো, যার উত্তর এবং দক্ষিণ মেরু রয়েছে। এটি পৃথিবীর চারপাশে একটি অদৃশ্য "ঢাল" বা ম্যাগনেটোস্ফিয়ার (magnetosphere) গঠন করে, যা মহাকাশে কয়েক হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত।

এই ক্ষেত্রটি "লুকিয়ে থাকা" বলা হয় কারণ এটি অভ্যন্তরীণ, এবং আমরা এটি সরাসরি দেখতে পাই না—শুধু কম্পাসের মতো যন্ত্র দিয়ে অনুভব করি।

২. সুরক্ষার প্রধান উপায়: সৌর বায়ু থেকে রক্ষা

সূর্য থেকে নির্গত সৌর বায়ু (solar wind) হলো উচ্চ-শক্তিসম্পন্ন চার্জযুক্ত কণা (প্রোটন, ইলেকট্রন এবং অন্যান্য আয়ন) যা অত্যন্ত দ্রুত গতিতে (প্রতি সেকেন্ডে ৩০০-৮০০ কিলোমিটার) পৃথিবীর দিকে আসে। এগুলো যদি সরাসরি পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে আঘাত করে, তাহলে বায়ুমণ্ডলের অণু-পরমাণুকে ক্ষয় করে দিতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে বায়ুমণ্ডলকে পাতলা করে ফেলবে (যেমন মঙ্গল গ্রহে ঘটেছে, যার চৌম্বক ক্ষেত্র দুর্বল)।

- চৌম্বক ক্ষেত্র এই চার্জযুক্ত কণাগুলোকে লরেন্টজ ফোর্স (Lorentz force) দিয়ে বিচ্যুত (deflect) করে। ফলে এগুলো ম্যাগনেটোস্ফিয়ারের চারপাশে ঘুরে যায় বা ধরা পড়ে, এবং পৃথিবীর পৃষ্ঠে পৌঁছায় না। এটি বায়ুমণ্ডলকে স্থিতিশীল রাখে এবং জলবায়ুকে প্রভাবিত করে না।

৩. কসমিক রশ্মি এবং রেডিয়েশন থেকে সুরক্ষা*

মহাকাশ থেকে আসা কসমিক রশ্মি (cosmic rays) হলো উচ্চ-শক্তির কণা যা ডিএনএ ক্ষতিগ্রস্ত করে ক্যান্সারের মতো রোগ সৃষ্টি করতে পারে। চৌম্বক ক্ষেত্র এগুলোর অনেকটাই ব্লক করে বা দুর্বল করে, যাতে পৃথিবীর জীবনের জন্য নিরাপদ থাকে।

এছাড়া, সৌর ফ্লেয়ার (solar flares) বা করোনাল ম্যাস ইজেকশন (CME) এর মতো সৌর ঘটনাগুলো থেকে উদ্ভূত রেডিয়েশনও এই ক্ষেত্র দিয়ে রক্ষা পায় পৃথিবী। যদি এই ক্ষেত্র না থাকত, তাহলে এই রেডিয়েশন স্যাটেলাইট, বিদ্যুৎ গ্রিড এবং এমনকি মানুষের স্বাস্থ্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করত।

৪. অন্যান্য সুবিধা এবং উদাহরণ

অরোরা (Aurora Borealis/Australis): যখন কিছু চার্জযুক্ত কণা মেরু অঞ্চলে প্রবেশ করে, তখন তারা বায়ুমণ্ডলের গ্যাসের সাথে সংঘর্ষ করে আলোকিত হয়, যা অরোরা নামে পরিচিত। এটি সুরক্ষার একটি দৃশ্যমান প্রমাণ।

জীবনের উন্নয়ন: এই চৌম্বক ক্ষেত্র ছাড়া পৃথিবীতে জীবনের বিবর্তন কঠিন হতো, কারণ রেডিয়েশন জেনেটিক মিউটেশন বাড়াত।

যাত্রা এবং নেভিগেশন: কম্পাসের মাধ্যমে এটি নেভিগেশন সাহায্য করে, যা পরোক্ষভাবে সুরক্ষা প্রদান করে (যেমন পাখি বা প্রাণীদের মাইগ্রেশন)।

এই চৌম্বকীয় ক্ষেত্র পৃথিবীকে একটি "জীবনযোগ্য" গ্রহ করে তুলেছে। যদি এটা না থাকতো তাহলে বায়ু মন্ডল থাকতো না পৃথিবী থেকে জীবন নিশ্চিহ্ন হয়ে যেত।

সেই নাস্তিকদের বলুন এই চৌম্বকীয় ক্ষেত্র শুধু আমাদের পৃথিবীতে কেন অন্য গ্রহে নেই কেনো? কেন এখানেই শুধু এমনি এমনি হয়ে গেল ?

কল্পনা করুন এই ম্যাগনেটিক ফিল্ড না থাকার কারণে সৌর জগতে পৃথিবী ছাড়া কোথাও জীবন নেই। না চাঁদে না শনিতে আর না মঙ্গলে।

আজ যে আমরা নিরাপত্তায় আছি আল্লাহর অনুগ্রহে যিনি এই অদৃশ্য শক্তিকে আমাদের জন্য প্রহরী স্বরুপ নিয়োগ করে রেখেছেন যাতে আমরা সমূলে ধ্বংস না হয়ে যায়।

বই , সিতারো কে উস পার, পৃষ্ঠা ৩৮,৩৯,৪০

فبائ الاء ربکما تکذبان সুতরাং তোমরা তোমাদের রবের কোন কোন নেয়ামতের অস্বিকার করবে?

لا بشیئ من نعمک ربنا نکذب

রেকাউল এস কে

মদিনার মসজিদে নববীতে একদিন রাসুলুল্লাহ (সা.) লোকজনকে একত্রিত হওয়ার নির্দেশ দিলেন। নামাজ শেষে তিনি হাসিমুখে মিম্বরে বসলেন...
10/05/2026

মদিনার মসজিদে নববীতে একদিন রাসুলুল্লাহ (সা.) লোকজনকে একত্রিত হওয়ার নির্দেশ দিলেন। নামাজ শেষে তিনি হাসিমুখে মিম্বরে বসলেন এবং উপস্থিত সবাইকে বললেন, তামিম আদ-দারি, যে একসময় খ্রিষ্টান ছিল, সে এসে ইসলাম গ্রহণ করেছে এবং আমাকে এমন একটি ঘটনা শুনিয়েছে যা দাজ্জাল সম্পর্কে আমার দেওয়া বর্ণনার সাথে হুবহু মিলে যায়।

এই রোমাঞ্চকর এবং গায়েবি রহস্যে ঘেরা ঘটনার শুরু হয়েছিল একটি সাধারণ সমুদ্রযাত্রা থেকে। তামিম আদ-দারি তার গোত্র লাখম এবং জুজামের মোট ত্রিশজন সঙ্গীকে নিয়ে একটি বড় জাহাজে করে সমুদ্রে যাত্রা করেছিলেন। কিন্তু তাদের এই যাত্রা কোনো সাধারণ যাত্রা ছিল না, এটি ছিল আল্লাহ তায়ালার এক নির্ধারিত ঐশী পরিকল্পনার অংশ।

সমুদ্রে যাত্রা করার পর তারা এক ভয়ংকর সামুদ্রিক ঝড়ের কবলে পড়েন। সাগরের বিশাল বিশাল ঢেউ তাদের জাহাজটিকে নিয়ে যেন খেলা করতে শুরু করে। এই ঝড় এক-দুই দিনের ছিল না, বরং টানা এক মাস ধরে দিকভ্রান্ত অবস্থায় তাদের জাহাজটি উত্তাল সাগরের বুকে ভাসতে থাকে।

এক মাস পর, যখন সূর্য অস্ত যাওয়ার সময় ঘনিয়ে এল, তখন ঢেউ তাদের জাহাজটিকে একটি অজানা, রহস্যময় দ্বীপের কাছাকাছি নিয়ে গেল।

টানা এক মাস ঝড়ের তাণ্ডবের পর এই দ্বীপের কাছাকাছি আসার পর সাগরের পরিবেশ কিছুটা শান্ত হয়ে আসে এবং তারা স্থির হওয়ার সুযোগ পান। মূল জাহাজটি সরাসরি তীরে ভেড়ানো সম্ভব ছিল না, তাই তারা জাহাজে থাকা ছোট ছোট লাইফবোট বা ডিঙি নৌকায় চড়ে সেই অজানা দ্বীপের ভূমিতে পা রাখেন।

হাদিসে দ্বীপটির নির্দিষ্ট আয়তনের কথা উল্লেখ নেই, তবে সেখানে মঠ বা উপাসনালয়ের মতো বড় স্থাপনা থাকার বিষয়টি প্রমাণ করে যে এটি খুব ছোট কোনো বালুচর ছিল না।

দ্বীপে নামার পর তাদের সাথে এমন এক অদ্ভুত এবং গায়েবি প্রাণীর দেখা হয়, যা মানব ইতিহাসে আর কেউ কখনো দেখেনি। প্রাণীটির সারা শরীর এত ঘন, পুরু এবং এলোমেলো লোমে ঢাকা ছিল যে, বোঝার উপায় ছিল না প্রাণীটির সামনের দিক কোনটি আর পেছনের দিক কোনটি।

এই কিম্ভূতকিমাকার প্রাণীটি দেখে তামিম আদ-দারি এবং তার সঙ্গীরা চরম আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। তারা প্রাণীটিকে জিজ্ঞেস করলেন, তোর সর্বনাশ হোক, তুই কে?

প্রাণীটি অত্যন্ত পরিষ্কার মানুষের ভাষায় উত্তর দিল, আমি হলাম আল-জাসসাসা বা গুপ্তচর। প্রাণীটি মানুষের ভাষায় কথা বলতে পারে দেখে তারা আরও অবাক হন। তারা জিজ্ঞেস করলেন, জাসসাসা কী? প্রাণীটি এই প্রশ্নের সরাসরি কোনো উত্তর না দিয়ে তাদের মনোযোগ অন্যদিকে ঘুরিয়ে দিল।

সে বলল, হে লোকেরা, তোমরা ওই মঠের ভেতরে থাকা লোকটির কাছে যাও, সে তোমাদের খবর শোনার জন্য অত্যন্ত আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছে।

জাসসাসা যখন নির্দিষ্ট একজন মানুষের কথা বলল, তখন তামিম আদ-দারি এবং তার ত্রিশজন সঙ্গীর মনে গভীর ভয় ঢুকে গেল। তারা ভয় পাচ্ছিলেন যে এই প্রাণীটি হয়তো কোনো শয়তান বা জিন হতে পারে।

তাই তারা সেখানে আর এক মুহূর্তও না দাঁড়িয়ে, রাতযাপন বা খাওয়া-দাওয়ার কথা সম্পূর্ণ ভুলে গিয়ে দ্রুতগতিতে সেই মঠের দিকে ছুটে গেলেন।

মঠের ভেতরে প্রবেশ করে তারা যে দৃশ্য দেখলেন, তা তাদের কল্পনারও বাইরে ছিল। সেখানে তারা বিশাল আকৃতির এক মানুষকে দেখতে পেলেন। তামিম আদ-দারি বলেছেন, তারা জীবনে এত বিশাল দেহের অধিকারী এবং এত ভয়ংকরভাবে বন্দি থাকা কোনো মানুষ আগে কখনো দেখেননি।

লোকটির দুই হাত তার ঘাড়ের সাথে লোহার শিকল দিয়ে শক্ত করে বাঁধা ছিল। আর তার হাঁটু থেকে গোড়ালি পর্যন্ত পুরো পা লোহার ভারী বেড়ি দিয়ে এমনভাবে আটকে রাখা হয়েছিল যে তার এক ইঞ্চি নড়ারও কোনো উপায় ছিল না। মঠের ভেতরের পরিবেশটা ছিল অত্যন্ত থমথমে এবং রহস্যময়।

বন্দি লোকটি তাদের দেখেই জিজ্ঞেস করল, তোমরা কারা?

তামিম আদ-দারি এবং তার সঙ্গীরা উত্তর দিলেন, আমরা আরবের মানুষ। আমরা একটি জাহাজে করে সমুদ্রে এসেছিলাম, কিন্তু এক মাস ধরে ঝড়ের কবলে পড়ে দিক হারিয়ে এই দ্বীপে এসে পৌঁছেছি এবং ছোট নৌকায় করে এখানে নেমেছি।

এরপর শুরু হলো একের পর এক রহস্যময় প্রশ্ন।

সে প্রথমে জিজ্ঞেস করল, বাইসান নামক এলাকার খেজুর বাগানগুলোর কী অবস্থা, সেখানে কি এখনো ফল ধরে? তারা উত্তর দিলেন, হ্যাঁ। লোকটি বলল, এমন এক সময় আসছে যখন ওই গাছগুলোতে আর কোনো ফল ধরবে না। এরপর সে জিজ্ঞেস করল, তাবারিয়া হ্রদ বা গ্যালিলির সাগরের কী অবস্থা, সেখানে কি পানি আছে? তারা জানালেন, হ্যাঁ, সেখানে প্রচুর পানি আছে।

লোকটি বলল, এর পানি খুব শীঘ্রই শুকিয়ে যাবে।

এরপর তার প্রশ্ন ছিল, জুগার নামক ঝরনা সম্পর্কে। সে জানতে চাইল, সেখানে কি পানি আছে এবং লোকেরা কি সেই পানি দিয়ে চাষাবাদ করে?

তারা জানালেন, হ্যাঁ, মানুষ সেই পানি দিয়ে কৃষিকাজ করে।

সবশেষে লোকটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি করল। সে বলল, উম্মিদের নবী অর্থাৎ আরবের শেষ নবীর কী খবর? তামিম আদ-দারি জানালেন, তিনি মক্কা থেকে হিজরত করে ইয়াসরিবে বা মদিনায় চলে গেছেন।

লোকটি জানতে চাইল, আরবরা কি তার সাথে যুদ্ধ করেছে? তারা বললেন, হ্যাঁ। লোকটি আবার জিজ্ঞেস করল, যুদ্ধের ফলাফল কী হয়েছে? তারা জানালেন, নবী তার চারপাশের আরবদের ওপর বিজয়ী হয়েছেন এবং তারা তার আনুগত্য মেনে নিয়েছে। এটি শুনে বন্দি লোকটি বলল, তার আনুগত্য মেনে নেওয়াই তাদের জন্য সবচেয়ে ভালো।

এরপর লোকটি তার নিজের আসল পরিচয় প্রকাশ করল। সে বলল, আমি হলাম মসিহ আদ-দাজ্জাল। খুব শীঘ্রই আমাকে এই বন্দিদশা থেকে বের হওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে। আমি বের হয়ে চল্লিশ দিনের মধ্যে পুরো পৃথিবী ভ্রমণ করব এবং পৃথিবীর এমন কোনো গ্রাম বা শহর বাদ থাকবে না যেখানে আমি প্রবেশ করব না।

তবে মক্কা এবং তাইবা বা মদিনা ছাড়া। এই দুটি শহরে আমার প্রবেশ নিষিদ্ধ। যখনই আমি সেখানে ঢোকার চেষ্টা করব, তখন ফেরেশতারা উন্মুক্ত তলোয়ার হাতে আমাকে বাধা দেবে।

এই ভয়ংকর সত্য জানার পর তামিম আদ-দারি এবং তার সঙ্গীরা আর কালক্ষেপণ করেননি। হাদিসে তাদের সেখানে খাবার গ্রহণ বা রাতযাপনের কোনো উল্লেখ নেই, যা থেকে বোঝা যায় চরম আতঙ্কে তারা দ্রুত সেখান থেকে নিজেদের নৌকায় ফিরে আসেন এবং আল্লাহর ইচ্ছায় নিরাপদে নিজেদের লোকালয়ে ফেরত যান।

ফিরে আসার পর এই গায়েবি অভিজ্ঞতা তামিম আদ-দারির মনে এত গভীর প্রভাব ফেলে যে তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন এবং সরাসরি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে এসে পুরো ঘটনাটি খুলে বলেন।

মসজিদে নববীতে সবার সামনে এই ঘটনাটি বর্ণনা করার সময় রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজের হাতের লাঠি দিয়ে মিম্বরে আঘাত করে আনন্দিত কণ্ঠে তিনবার বলেছিলেন, এটাই তাইবা, এটাই তাইবা, এটাই তাইবা।

তিনি সাহাবিদের বললেন, আমি কি তোমাদের দাজ্জাল সম্পর্কে ঠিক এমন কথাই বলিনি? তামিম আদ-দারির এই ঘটনা আমার বর্ণনার সাথে হুবহু মিলে যাওয়ায় আমি অত্যন্ত আনন্দিত হয়েছি। এরপর তিনি ইঙ্গিত করেন যে দাজ্জাল পূর্ব দিকের কোনো সাগরে অবস্থান করছে।

এই ঘটনার পর আর কেউ কেন সেই দ্বীপে যাওয়ার চেষ্টা করেনি বা পারেনি, তার কারণটি অত্যন্ত গভীর। দাজ্জালের এই বন্দিদশা এবং ওই দ্বীপের অবস্থান কোনো সাধারণ ভৌগোলিক বিষয় নয়। আল্লাহ তায়ালা তার অসীম কুদরতে মানবজাতির পরীক্ষার জন্য এটিকে সাধারণ মানুষের চোখের আড়ালে একটি গায়েবি আবরণে বা ডাইমেনশনে লুকিয়ে রেখেছেন।

তামিম আদ-দারির সেই দ্বীপে পৌঁছানোটা তাদের নিজেদের কোনো নেভিগেশন স্কিল ছিল না, বরং দাজ্জালের পরিচয় মানবজাতির সামনে স্পষ্টভাবে তুলে ধরার জন্য আল্লাহ তায়ালা ওই ঝড়ের মাধ্যমে তাদের সেখানে নিয়ে গিয়েছিলেন। এটি ছিল একটি ঐশী নির্দেশ।

যেহেতু এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সুরক্ষিত জায়গা, তাই পৃথিবীর কোনো মানুষের পক্ষে নিজেদের ইচ্ছায় ওই পথ খুঁজে পাওয়া বা দ্বিতীয়বার সেখানে যাওয়া কোনোভাবেই সম্ভব নয়। আল্লাহ তায়ালা যখন দাজ্জালকে বের হওয়ার অনুমতি দেবেন, কেবল তখনই পৃথিবীর সামনে তার আত্মপ্রকাশ ঘটবে।

তৌহিদুল ইসলাম

টাইটানিকের অনুভূতির মরীচিকা, কসমিক দাবা এবং অদৃশ্য দজ্জাল সাম্রাজ্য: মানব ইতিহাস, বিশ্বযুদ্ধ এবং নিউ ওয়ার্ল্ড অর্ডারের র...
07/05/2026

টাইটানিকের অনুভূতির মরীচিকা, কসমিক দাবা এবং অদৃশ্য দজ্জাল সাম্রাজ্য: মানব ইতিহাস, বিশ্বযুদ্ধ এবং নিউ ওয়ার্ল্ড অর্ডারের রক্তাক্ত দাবার বোর্ডের আলটিমেট পোস্ট মর্টেম!

মানব চেতনার ইতিহাস, সভ্যতার উন্নয়ন এবং ক্ষমতার কসমিক খেলাকে যদি আমরা কোনো ঐশ্বরিক ও বৈজ্ঞানিক ল্যাবরেটরিতে রেখে অত্যন্ত মাইক্রোস্কোপিক ও নির্মমভাবে পরীক্ষা করি, তাহলে আমাদের সামনে এমন এক নিষ্ঠুর, তিক্ত ও শিহরণ জাগানো সত্য পুরো উচ্চতায় দাঁড়িয়ে দেখা যায়, যা সাধারণ মানুষের মন স্বীকার করতে অস্বীকার করে।

এই অসীম ও সবচেয়ে জটিল মহাবিশ্বের ব্যবস্থায় মানুষের সবচেয়ে বড় বুদ্ধিবৃত্তিক জটিলতা এবং তার সবচেয়ে ভয়ঙ্কর দুর্দশা এটাই যে, সে সবসময় তার হাত-পায়ে পড়া শিকলগুলো দেখতে ও অনুভব করতে পারে, কিন্তু সেই অদৃশ্য, ঠান্ডা মাথার ও হিসাব-নিকাশ করা মস্তিষ্ককে কখনো দেখতে পায় না যে শিকলগুলো তৈরি করেছে।

আমরা এমন এক যুগে শ্বাস নিচ্ছি যেখানে বিজ্ঞান, গণতন্ত্র ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার নামে মানুষকে এই মরীচিকা দেখানো হয়েছে যে সে ইতিহাসের সবচেয়ে আলোকিত ও স্বাধীন যুগে বাস করছে, কিন্তু বাস্তবতা তার সম্পূর্ণ বিপরীত।

মানব ইতিহাসে দাসত্ব কখনো শেষ হয়নি, এটি শুধু তার পোশাক, কৌশল ও মাত্রা বদলেছে।

কখনো এই দাসত্ব তলোয়ার, চাবুক ও শিকলের জোরে চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে, কখনো উপনিবেশবাদের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, আর আজ একবিংশ শতাব্দীর এই আধুনিক, ডিজিটাল ও নামকাওয়াস্তে সভ্য যুগে এই দাসত্ব এক গাণিতিক, ব্যাংকিং ও সুদি ব্যবস্থার রূপে আমাদের মন, আমাদের রাষ্ট্র ও আমাদের প্রজন্মের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে, যাকে আমরা “গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল সিস্টেম” বা বিশ্ব ঋণ বলি।

যখন আমরা ইতিহাসের বড় বড় দুর্ঘটনা, বিশ্বযুদ্ধ, সভ্যতাকে নাড়িয়ে দেওয়া বিপর্যয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান গঠনকে আলাদা করে দেখি, তখন সেগুলো আমাদের কাছে শুধু কাকতালীয় ঘটনা মনে হয়।

একজন সাধারণ মানুষের চেতনা, যাকে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দৈনন্দিন অর্থনৈতিক চাকায় পিষে পঙ্গু করে দেওয়া হয়েছে, সে এসব ঘটনাকে শুধু খবরের শিরোনামের মতো পড়ে ভুলে যায়।

কিন্তু যখন আমরা এই ছড়িয়ে থাকা ঘটনাগুলোর পেছনে লুকানো সংযোগ, মূলধনের প্রবাহ এবং ক্ষমতার স্থানান্তরকে এক বিস্তৃত ঐশ্বরিক ও ঐতিহাসিক ফ্রেমওয়ার্কে জুড়ে দেখি, তখন আমাদের সামনে এক অদৃশ্য, ঠান্ডা মাথার, নির্মম ও ভয়ঙ্কর গ্লোবাল নেটওয়ার্ক দেখা যায়, যা শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে মানুষের ভাগ্যের সাথে দাবা খেলছে।

আজকের এই বিস্তারিত, দীর্ঘ ও বুদ্ধিবৃত্তিক আলোচনায় আমরা মানব ইতিহাসের সবচেয়ে অন্ধকার স্তরগুলো উন্মোচন করব এবং যুক্তি-বিবেকের ছুরি দিয়ে বোঝার চেষ্টা করব যে টাইটানিকের রহস্যময় ডুবে যাওয়া, ফেডারেল রিজার্ভের প্রতিষ্ঠা, বিশ্বযুদ্ধের আগুন, নাইন ইলেভেনের মতো ঘটনা এবং জাতিসংঘের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো কীভাবে একই রক্তাক্ত শিকলের কড়া, যার চূড়ান্ত উদ্দেশ্য এই বিশ্বে এমন এক “নিউ ওয়ার্ল্ড অর্ডার” চাপিয়ে দেওয়া যেখানে ক্ষমতা, সম্পদ ও নিয়ন্ত্রণের শেষ সুতো কয়েকটি অদৃশ্য হাতে চলে যায়।

আসুন এই রোমাঞ্চকর ও বুদ্ধিবৃত্তিক যাত্রা শুরু করি বিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে বড়, রোমান্টিক, বিখ্যাত ও মর্মান্তিক সমুদ্র দুর্ঘটনা থেকে, যা আজও মানুষের মন, সাহিত্য ও সিনেমায় জাদুকরী মোহ সৃষ্টি করে রেখেছে , অর্থাৎ ১৫ এপ্রিল ১৯১২ সালে টাইটানিকের ডুবে যাওয়া। আমেরিকান হোয়াইট স্টার লাইন কোম্পানির মালিক এবং তৎকালীন বিশ্বের সবচেয়ে বড় ঋণদাতা জে. পি. মর্গান এই বিশাল জাহাজের এমন এক অসাধারণ প্রচারণা চালিয়েছিলেন যে পুরো বিশ্বের মনে এই ধারণা গেঁথে দেওয়া হয় যে এটি “অদ্বিতীয় অডুব্য জাহাজ”।

কিন্তু ইতিহাসের পাতা সাক্ষী যে এটি তার প্রথম যাত্রাতেই আটলান্টিক মহাসাগরের বরফশীতল, অন্ধকার ও নির্মম পানিতে ডুবে যায় এবং ১৫০০-এর বেশি মানুষ মৃত্যুর অন্ধ গহ্বরে নেমে যায়।

একজন সাধারণ, সরল ও মেইনস্ট্রিম মিডিয়ায় বিশ্বাসী মানুষ এই ঘটনাকে প্রকৃতির দুর্ঘটনা, প্রকৌশল ব্যর্থতা বা বরফের চাঁইয়ের সাথে ধাক্কার ভুল মনে করে চোখের জল ফেলে এগিয়ে যায়।

কিন্তু যখন আধুনিক ডুবুরি, সমুদ্র বিজ্ঞানী ও রবার্ট ব্যালার্ডের মতো গবেষকরা রোবট ক্যামেরা ও আধুনিক সোনার প্রযুক্তি দিয়ে সমুদ্রের অতল গভীরতায় পড়ে থাকা ধ্বংসাবশেষ পরীক্ষা করেন, তখন এমন অনেক হতবাক, অবিশ্বাস্য ও চমকে দেওয়া প্রমাণ সামনে আসে যা পুরো ঘটনার ভিত নাড়িয়ে দেয় এবং ইতিহাসবিদদের এই ভাবতে বাধ্য করে যে আমাদের যা বলা হয়েছে তা সত্যের মাত্র এক শতাংশ।

সমুদ্রের গভীরে পড়ে থাকা জাহাজের গঠন, উপরের রঙের স্তর থেকে পুরনো রঙের ঝলক, জাহাজের নামের প্লেটের সম্পূর্ণ অনুপস্থিতি এবং ধ্বংসাবশেষ থেকে পাওয়া কোনো জিনিসের সাথে টাইটানিকের চূড়ান্ত প্রমাণ না পাওয়া এসব এই ভয়ঙ্কর ইঙ্গিত দেয় যে হয়তো সেটি টাইটানিকই ছিল না। বরং সেটি হোয়াইট স্টার লাইনের আরেকটি পুরনো, ক্ষতিগ্রস্ত ও দুর্ঘটনাপ্রবণ জাহাজ “ওলিম্পিক” ছিল।

এই তত্ত্ব প্রথম দেখায় কল্পকাহিনীর মতো লাগে, কিন্তু যখন আমরা সেই যুগের অর্থনৈতিক অবস্থা, কর্পোরেট লোভ এবং জাহাজে আরোহী ব্যক্তিদের পর্যালোচনা করি, তখন এই কল্পকাহিনী এক নিষ্ঠুর বাস্তবে রূপ নিতে থাকে।

এই মহান কসমিক ও অর্থনৈতিক রহস্য বোঝার জন্য আমাদের ইতিহাসে একটু পিছিয়ে সেপ্টেম্বর ১৯১১-এর সেই ঘটনা দেখতে হবে যখন ওলিম্পিক জাহাজ এক ভয়ানক দুর্ঘটনায় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একটি সামরিক ক্রুজারের সাথে সংঘর্ষের ফলে তার মূল ইঞ্জিনের প্রপেলার সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়, মূল স্তম্ভ ৩৫ ডিগ্রি কোণে বেঁকে যায়, পাশের প্লেটগুলো খুলে যায় এবং তলদেশে ৪০ ফুটের এক বিশাল ফাটল তৈরি হয় যা তার সব ওয়াটারটাইট চেম্বার অকেজো করে দেয়।

এই দুর্ঘটনার পর ওলিম্পিকের আবার সমুদ্রযাত্রা শুধু অসম্ভব ছিল না, বরং এটি হোয়াইট স্টার লাইনের জন্য এক সাদা হাতি হয়ে দাঁড়ায়। যেহেতু দুর্ঘটনার জন্য ওলিম্পিককেই দায়ী করা হয়, কোম্পানি ইনস্যুরেন্স ক্লেইমও করতে পারেনি এবং দেউলিয়া হওয়ার খুব কাছাকাছি চলে যায়।

এখানে সেই শয়তানি ও চতুর মস্তিষ্কের কারসাজি দেখুন!

কি সম্ভব নয় যে মাত্র দুই সপ্তাহের স্বল্প সময়ে ওলিম্পিকে নতুন রং করে, তার বাহ্যিক ত্রুটি ঢেকে, তাকে টাইটানিকের রূপ দিয়ে সমুদ্রে নামিয়ে দেওয়া হয়?

এই ষড়যন্ত্র ও বদলের প্রমাণ জাহাজের ক্যাপ্টেন স্মিথের অত্যন্ত অপেশাদার, রহস্যময় ও অপরাধী আচরণ থেকেও পাওয়া যায়।

যখন জাহাজ সমুদ্রে চলছিল এবং বারবার অন্য জাহাজ থেকে বরফঝড় ও আইসবার্গের সতর্কবার্তা আসছিল, তখন সে সব সতর্কতা উপেক্ষা করে, পূর্ণ গতিতে জাহাজ চালায় এবং ডুবে যাওয়ার সময় এমন রহস্যময় ও ঠান্ডা নির্লিপ্ততা দেখায় যা কোনো স্বাভাবিক ক্যাপ্টেনের পক্ষে অসম্ভব।

লাইফবোটের সংখ্যা জেনেশুনে কম রাখা, সেগুলোর জীর্ণ অবস্থা, বিপদের সময় লালের পরিবর্তে উৎসবের চিহ্ন হিসেবে সাদা ফ্লেয়ার ছোড়া, এবং যাত্রার ঠিক আগে দূরবীনগুলো জাহাজ থেকে অদৃশ্য করা এসব কোনোভাবেই শুধু কাকতালীয় হতে পারে না।

কিন্তু এখানে মানব বুদ্ধি থেমে গিয়ে প্রশ্ন করে যে, একটি পুরনো জাহাজ ডুবিয়ে শুধু ইনস্যুরেন্সের টাকা পাওয়া এবং কোম্পানিকে দেউলিয়া থেকে বাঁচানোর জন্য ১৫০০ নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করা কি আদৌ প্রয়োজন ছিল?

এটা কী ধরনের পাশবিকতা?

এর উত্তর আমরা পাই যখন জাহাজের ফার্স্ট ক্লাস যাত্রীদের তালিকার রাজনৈতিক পর্যালোচনা করি।

এই দুর্ভাগ্যজনক মৃত্যু যাত্রায় জন জেকব অ্যাস্টর, বেঞ্জামিন গুগেনহাইম ও আইজাডোর স্ট্রাউসের মতো কোটিপতি, প্রভাবশালী ও তৎকালীন সবচেয়ে ক্ষমতাশালী ব্যক্তিরা ছিলেন। এরা শুধু ব্যবসায়ী ছিলেন না, বরং আমেরিকায় বেসরকারি কেন্দ্রীয় ব্যাংক অর্থাৎ ফেডারেল রিজার্ভ সিস্টেম প্রতিষ্ঠার তীব্র বিরোধিতা করছিলেন।

তাদের মতে, দেশের মুদ্রা ছাপানোর অধিকার যদি বেসরকারি ব্যাংকারদের দেওয়া হয়, তাহলে দেশের সার্বভৌমত্ব চিরতরে শেষ হয়ে যাবে।

তারা চাননি যে জাতিসংঘ ও লীগ অব নেশনসের মতো কোনো আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠুক যা বিশ্বের স্বাধীন রাষ্ট্রগুলোর সার্বভৌমত্ব দখল করে নেবে।

জে. পি. মর্গান, রকফেলার ও রথচাইল্ডদের মতো ঋণদাতারা, যারা নভেম্বর ১৯১০ সালে জেকিল আইল্যান্ডের অত্যন্ত গোপন বৈঠকে এই বিশ্ব আর্থিক ও সুদি ব্যবস্থার খসড়া তৈরি করেছিলেন, তাদের কাছে এই তিন কোটিপতি এমন পাথর ছিলেন যাদের পথ থেকে সরানো অপরিহার্য হয়ে পড়েছিল।

এখন বিস্ময়, নিষ্ঠুরতা ও শয়তানি পরিকল্পনার চরম দেখুন যে জে. প. মর্গান, যিনি জাহাজের মালিক, এবং তার ৫৫ জন বিশেষ বন্ধু অসুস্থতা ও স্বপ্নের অজুহাতে যাত্রার ঠিক আগে তাদের বুকিং বাতিল করেন, এবং টাইটানিকের শীতল মৃত্যুর সাথে সাথে ফেডারেল রিজার্ভ প্রতিষ্ঠার সবচেয়ে বড়, শক্তিশালী ও প্রভাবশালী বিরোধীরা সমুদ্রের তলায় চিরতরে সমাহিত হয়ে যান।

মাত্র এক বছর পর, ১৯১৩ সালে, রাতের অন্ধকারে ফেডারেল রিজার্ভ অ্যাক্ট আমেরিকান কংগ্রেস থেকে পাস করিয়ে নেওয়া হয়, এবং বিশ্বের অর্থনীতি, রাজনীতি ও সম্পদের চাবি কয়েকজন বেসরকারি ব্যাংকারের হাতে চলে যায়।

টাইটানিক শুধু একটি জাহাজ ডোবেনি, বরং তার সাথে মানবতার সেই অর্থনৈতিক স্বাধীনতাও ডুবে গিয়েছিল যা আমরা আজও ফিরে পাইনি।

এরাই সেই অদৃশ্য শক্তি, এরাই সেই ঠান্ডা মাথার অভিজাত শ্রেণি যাদের শিকড় আমাদের ইতিহাসের আরেক অন্ধকার, রহস্যময় ও রক্তাক্ত কোণে মধ্য ইউরোপের “খজর” জাতির কাছে নিয়ে যায়।

যখন অষ্টম ও নবম শতাব্দীতে ইসলামি বিজয় তার চরমে, মুসলিম বাহিনী ইউরোপের সীমান্তে পৌঁছে গিয়েছিল এবং অন্যদিকে বাইজেন্টাইন খ্রিস্টান সাম্রাজ্যের সংঘাত চলছিল, তখন এই মূর্তিপূজক ও বর্বর জাতি, যাদের বিশ্বাস আসলে মিশরের ফারাও, কালো জাদু এবং একচোখা দেবতার চারপাশে ঘুরত, তারা রাজনৈতিক ও ভৌগোলিক টিকে থাকার জন্য এক চতুর সিদ্ধান্ত নেয়।

তারা ইসলাম ও খ্রিস্টধর্মের সংঘাতের মাঝে নিজেদের নিরপেক্ষ রেখে বাঁচার জন্য ইহুদি ধর্মের আবরণ পরে নেয় এবং সম্মিলিতভাবে ইহুদি ধর্ম গ্রহণ করে। ঐতিহাসিক, জেনেটিক ও ঐশ্বরিকভাবে এই খজরদের হজরত ইব্রাহিম, ইসহাক বা ইয়াকুব (আ.)-এর আসল বংশের (বনী ইসরাইল) সাথে কোনো প্রাকৃতিক বা আধ্যাত্মিক সম্পর্ক নেই।

আজ বিশ্বের ইতিহাস ও রাজনীতি তাদের অ্যাশকেনাজি ইহুদি, ইলুমিনাতি, ফ্রি মেসন বা রথচাইল্ড কাল্ট নামে চেনে।

তারা ইতিহাসের বিভিন্ন যুগে দক্ষতা, চালাকি ও অর্থের জোরে শুধু ইহুদি ধর্মকে জিম্মি করেনি, বরং খ্রিস্টধর্মের মধ্যেও প্রোটেস্ট্যান্ট ও ক্যাথলিক বিভেদ সৃষ্টি করে, রোমের পোপকে ক্ষমতার কেন্দ্র বানিয়ে পুরো পশ্চিমা ব্যবস্থাকে ভেতর থেকে হ্যাক করে নেয়।

তাদের আসল ঈশ্বর তাওরাতের ঈশ্বর নয়, তাদের আসল শক্তি সেই শয়তানি মতবাদ ও দজ্জাল দর্শন যার উদ্দেশ্য বিশ্বে এমন এক সর্বময় বিশ্ব সরকার প্রতিষ্ঠা করা যেখানে ধর্মের কোনো স্থান থাকবে না।

আজকের আমেরিকান ডলার নোটে মন্দিরের ছবি এবং তার ওপরের একটি চোখ আসলে সেই বিশ্ব শক্তি ও ফারাওয়ী বিশ্বাসের চিহ্ন যা বলছে যে তারা সবসময় আমাদের প্রতিটি অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক পদক্ষেপের ওপর নজর রাখছে।

এটাই সেই দজ্জাল ব্যবস্থা ও সেই ওয়ার্ল্ড অর্ডার যার ভবিষ্যদ্বাণী আমাদের প্রভু, মহাবিশ্বের সবচেয়ে সত্য ও মহান মানুষ হজরত মুহাম্মদ (সা.) চৌদ্দশ বছর আগে অত্যন্ত বৈজ্ঞানিক ও স্পষ্টভাবে করেছিলেন, যখন তিনি বলেছিলেন:

“তার এক হাতে পানির নদী থাকবে এবং অন্য হাতে রুটির পাহাড়।”

একজন সাধারণ ও অগভীর মন এই ভবিষ্যদ্বাণী পড়ে কোনো বিশাল অতিপ্রাকৃতিক দানবের কল্পনা করে যে শারীরিকভাবে রুটি ও পানি নিয়ে ঘুরবে, অথচ দজ্জাল সম্পর্কিত হাদিসে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে। আজকের অধিকাংশ আলেম দজ্জালকে একটি মূর্ত সৃষ্টি ও ব্যবস্থা উভয়ই মনে করেন এবং আমার ব্যক্তিগত মতেও তাই, অর্থাৎ আমি দজ্জালকে একটি ব্যবস্থা ও একটি সৃষ্টি উভয়ই মনে করি। এখন আল্লাহই ভালো জানেন তিনি কোন রূপে ও কীভাবে আবির্ভূত হবেন। কিন্তু যে নিদর্শনগুলো বলা হয়েছে তার ভিত্তিতে তিনি মানুষের রূপেই আসবেন এবং তার কপালে “কাফির” লেখা থাকবে যা শুধু ঈমানদাররাই পড়তে ও দেখতে পাবেন।

যতদূর আমি ও অধিকাংশ আলেম বুঝেছি তা হলো, দজ্জাল আসার আগে তার ব্যবস্থা পুরোপুরি কার্যকর হয়ে যাবে এবং যারা তাকে মানে বা অপেক্ষা করে তারা তার পথ দেখবে। আর যখন দজ্জাল তার আসল অবস্থায় আসবে তখন সেই ব্যবস্থার ভিত্তিতে পুরো মানবতার ওপর শাসন করার চেষ্টা করবে, তারপর তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ হবে এবং তারপর যেসব ভবিষ্যদ্বাণী আছে সেগুলো আমরা সবাই জানি।

যাই হোক, যখন আমরা আজকের এই গ্লোবাল কর্পোরেট ব্যবস্থা, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, মনসান্তো ও বিগ ফার্মার মতো বিশাল কর্পোরেশনগুলো দেখি, যাদের নিয়ন্ত্রণ বিশ্বের কৃষি, খাদ্য সরবরাহ চেইন, জেনেটিক্যালি পরিবর্তিত বীজ (জিএমও) এবং পানির প্যাকেজিংয়ের ওপর, তখন ঐশ্বরিক ভবিষ্যদ্বাণীগুলো একশো শতাংশ বৈজ্ঞানিক ও অর্থনৈতিক রূপে আমাদের সামনে পূর্ণ হতে দেখা যায়।

এই কর্পোরেশন ও তাদের পেছনের ব্যাংকারদের চূড়ান্ত উদ্দেশ্য মানব জনসংখ্যা কমানো (ডিপপুলেশন), নতুন নতুন জেনেটিক রোগ (যেমন এইডস, ইবোলা, করোনা ইত্যাদি) তৈরি করে তাদের বিলিয়ন ডলারের ওষুধ বিক্রি করা, এবং মানুষকে এতটা মানসিক, শারীরিক ও অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু করে দেওয়া যাতে তারা এই বিশ্ব দাসত্বের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ তো দূরের কথা, চিন্তাও করতে না পারে।

হলিউড (ও নেটফ্লিক্স) এর মতো বিশাল বিনোদন শিল্প, যার আক্ষরিক অর্থই “জাদুকরের কাঠি”, আসলে সেই মাফিয়ার একটি স্নায়বিক ও মনোসম্পর্কীয় হাতিয়ার। এই শিল্পের মাধ্যমে তারা মানুষের মস্তিষ্ককে কন্ডিশনিং করে, প্রেডিকটিভ প্রোগ্রামিংয়ের মাধ্যমে আসন্ন দুর্ঘটনা ও যুদ্ধের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত করে, এবং ভবিষ্যতের ভয়ঙ্কর ডিসটোপিয়ান এজেন্ডাগুলোকে কল্পকাহিনী ও বিনোদনের নরম আবরণে মুড়িয়ে আমাদের অবচেতনের গভীরে ঢুকিয়ে দেয়।

এই বিশ্ব এজেন্ডা ও নিউ ওয়ার্ল্ড অর্ডারের নিষ্ঠুরতা আরও গভীরতা, যুক্তি ও আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের আলোয় বোঝার জন্য আমাদের ১১ সেপ্টেম্বর ২০০১-এর সেই ভূমিকম্পসম ঘটনা, অর্থাৎ নাইন ইলেভেনের ওপর বিস্তারিত চিন্তা করতে হবে।

আমেরিকান সরকার ও মেইনস্ট্রিম মিডিয়ার অফিসিয়াল বয়ান বলে যে কয়েকজন অপ্রশিক্ষিত হাইজ্যাকার দুটি বাণিজ্যিক বিমান বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্রের সবচেয়ে শক্তিশালী যমজ টাওয়ারে আঘাত করে, জাহাজের জ্বালানি জ্বলে এবং দুটি বিশাল ভবন মাধ্যাকর্ষণের সব নিয়মকে পরাজিত করে সোজা নিচে নিজের পায়ের কাছে ধসে পড়ে।

কিন্তু পদার্থবিজ্ঞান, ধাতুবিদ্যা ও প্রকৌশলের অটল নিয়ম এই গল্পকে সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করে।

একটি সাধারণ অ্যালুমিনিয়ামের বিমান, যার জ্বালানি কখনো স্টিল গলানোর মতো তাপমাত্রায় পৌঁছাতে পারে না, সে স্টিল ও কংক্রিটের এত বিশাল ও শক্তিশালী কাঠামোকে গলিয়ে ফ্রি-ফল স্পিডে মাটিতে ফেলতে পারে না।

এর চেয়েও বড় অবিশ্বাস্য রহস্য হলো বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্রের সপ্তম ভবন, অর্থাৎ বিল্ডিং সেভেনের ধসে পড়া, যাতে কোনো বিমান আঘাতই করেনি, যেখানে শুধু সামান্য আগুন লেগেছিল, কিন্তু সেটিও সন্ধ্যায় মাত্র কয়েক সেকেন্ডে নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণের মতো ধসে পড়ে।

বাস্তবতা হলো ল্যারি সিলভারস্টাইন নামের এক কোটিপতি, যার সম্পর্ক সেই বিশেষ অভিজাত শ্রেণির সাথে, মাত্র কয়েক মাস আগে এই ভবনগুলো লিজ নেন এবং তাদের বিলিয়ন ডলারের ইনস্যুরেন্স করান, যাতে প্রথমবারের মতো সন্ত্রাসবাদের ধারাও যুক্ত করা হয়।

এই ঘটনার কিছুদিন আগে স্কুলের শিশুদের আর্ট প্রজেক্টের আড়ালে ভবনগুলোতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাজ করার অনুমতি, ধ্বংসাবশেষ থেকে পাওয়া আধুনিক বিস্ফোরক থার্মাইটের স্পষ্ট প্রমাণ, এবং ঘটনার দিন নির্দিষ্ট শ্রেণির হাজার হাজার লোকের হঠাৎ ডিউটিতে না আসা — এসব কোনোভাবেই কাকতালীয় হতে পারে না।

যেমন টাইটানিক ডুবিয়ে এক নতুন অর্থনৈতিক ব্যবস্থা অর্থাৎ ফেডারেল রিজার্ভের ভিত্তি স্থাপন করা হয়েছিল, ঠিক তেমনি নাইন ইলেভেনের টাওয়ারগুলো নিজ হাতে ধসিয়ে এক নতুন রাজনৈতিক, সামরিক ও গোয়েন্দা বিশ্বব্যবস্থার ভিত্তি স্থাপন করা হয়।

একটি ঘটনার আড়ালে পুরো বিশ্বের মুসলমান ও ইসলামকে সন্ত্রাসবাদী ঘোষণা করা হয়, আফগানিস্তান ও ইরাকের মতো প্রাচীন সভ্যতাকে বোমা মেরে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করা হয়, সেখানকার তেল ও খনিজ সম্পদ দখল করা হয়, এবং সবচেয়ে বড় কথা “প্যাট্রিয়ট অ্যাক্ট”-এর মতো কালো আইনের মাধ্যমে আমেরিকান জনগণ ও পুরো বিশ্বের গোপনীয়তা চিরতরে শেষ করে এক গ্লোবাল নজরদারি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা হয় যেখানে আজ আমাদের প্রতিটি মেসেজ, ইমেইল, অবস্থান এবং হৃদয়ের স্পন্দন পর্যন্ত ডেটা সেই বিশ্ব সার্ভারে সংরক্ষিত হচ্ছে।

যে ফারাওয়ের একচোখ ছিল, সেটি আজ আমাদের হাতে ধরা স্মার্টফোনের ক্যামেরার রূপে সবসময় আমাদের দেখছে।

যখন আমরা মানব ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ও রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ — প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ অধ্যয়ন করি, তখন সেখানেও সীমান্ত বিরোধ, জাতীয়তাবাদ ও স্বৈরশাসকদের পেছনে সেই ব্যাংকার ও অদৃশ্য শক্তির রক্তাক্ত হাত পুরোপুরি কাজ করতে দেখা যায়।

যখন ইউরোপের জাতিগুলো একে অপরের রক্ত পিপাসু হয়ে উঠেছিল, তাদের কারখানা ছাই হয়ে যাচ্ছিল এবং কোটি কোটি নিরপরাধ মানুষ ও সৈন্য মরছিল, তখন রথচাইল্ড ও জে. পি. মর্গানের মতো ঋণদাতারাই জার্মানি, ব্রিটেন, ফ্রান্স ও রাশিয়াকে যুদ্ধ করার জন্য ভারী, সুদি ও অপরিশোধযোগ্য ঋণ দিচ্ছিলেন।

এই যুদ্ধের চূড়ান্ত উদ্দেশ্য ছিল শুধু পুরনো সাম্রাজ্যগুলো, বিশেষ করে অটোমান খিলাফত ও রুশ সাম্রাজ্যকে ভেতর থেকে ফাঁপা করে ধ্বংস করা, বিশ্বকে জাতীয়তা ও সীমান্তের ছোট ছোট বাক্সে ভাগ করা, তাদের ঋণের শিকলে বেঁধে ফেলা, এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ব্রেটন উডস চুক্তির অধীনে জাতিসংঘ, আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের মতো আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এমন এক গ্লোবাল সরকার প্রতিষ্ঠা করা যা প্রতিটি দেশের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক নীতি সরাসরি নির্দেশ করতে পারে।

আর আজ, একবিংশ শতাব্দীতে, আমরা সেই বিশ্বযুদ্ধের আরেক ভয়ঙ্কর কিন্তু নীরব রূপ — অর্থাৎ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ লাইট বা তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের হাইব্রিড পর্যায়ে বাস করছি, যেখানে যুদ্ধ এখন সরাসরি সেনা ও ট্যাঙ্কের চেয়ে হাইব্রিড যুদ্ধ, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, ডিজিটাল হ্যাকিং এবং জৈবিক অস্ত্র অর্থাৎ ল্যাবে তৈরি ভাইরাস ও মহামারির মাধ্যমে বেশি লড়াই করা হচ্ছে।

আমার সচেতন, জ্ঞানপিপাসু ও চেতনার স্তর অতিক্রমকারী সঙ্গীরা!

এই পুরো বিশ্ব, এই রাজনীতি, এই অর্থনীতি আসলে এক বিশাল দাবার বোর্ড, আর আমরা মানুষ, আমাদের রাষ্ট্র, আমাদের রাজনীতিবিদ ও শাসকরা সেই বোর্ডের শুধু প্যাদা, যাদের ইচ্ছামতো এগিয়ে দেওয়া হয় এবং ইচ্ছামতো বলি দেওয়া হয়।

এই অদৃশ্য সাম্রাজ্যবাদ, এই অ্যাশকেনাজি এলিট এবং এই ফেডারেল রিজার্ভের মালিক ব্যাংকাররা জৈবিক ও মনোসম্পর্কীয় স্তরে খুব ভালোভাবে জানে যে যদি বিশ্বের কোটি কোটি সাধারণ মানুষ এই কসমিক সত্য জেনে যায়, তাহলে তাদের এই শয়তানি ও দজ্জাল ব্যবস্থা একদিনও টিকে থাকতে পারবে না।

তাই তারা মেইনস্ট্রিম মিডিয়া, বিনোদন, শিক্ষা পাঠ্যক্রম ও সোশ্যাল মিডিয়ার অ্যালগরিদমের মাধ্যমে আমাদের মনকে সবসময় ঘুম পাড়িয়ে রাখে, টিকটক রিল, রাজনৈতিক বিতর্ক, সাম্প্রদায়িকতা ও অগভীর খবরে জড়িয়ে রাখে যাতে আমরা কখনো সেই একচোখা দানবের দিকে চোখ তুলে না তাকাই।

কিন্তু মহাবিশ্বের এক অটল, ঐশ্বরিক ও তাপগতিবিদ্যার নিয়ম আছে যে, জুলুমের ব্যবস্থা, মিথ্যার প্রাসাদ ও প্রতারণার অর্থনীতি যতই সুসংগঠিত, যতই শক্তিশালী, যতই ডিজিটাল ও যতই বিস্তৃত হোক না কেন, তা শেষ পর্যন্ত নিজের মিথ্যা, নিজের ঋণ ও নিজের বোঝার নিচে চাপা পড়ে মাটিতে মিশে যায়।

যখন আমরা এই দুর্ঘটনা, ষড়যন্ত্র ও বর্তমান বিশ্বব্যবস্থাকে কুরআনের আলো, ঐশ্বরিক পদার্থবিজ্ঞান ও ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় দেখি, তখন আমাদের এই পূর্ণ ও চূড়ান্ত বিশ্বাস হয় যে এই দজ্জাল ব্যবস্থা খুব শীঘ্রই তার চরমে পৌঁছে সেই কসমিক শক্তির হাতে ছিন্নভিন্ন হয়ে যাবে যার ভবিষ্যদ্বাণী সব সত্য নবী করেছেন।

আমাদের শুধু নিজেদের বুদ্ধিবৃত্তিক কিবলা ও সারিগুলো ঠিক করতে হবে, চেতনার চোখ জাগ্রত রাখতে হবে, আল্লাহর কালামের সাথে যুক্ত থাকতে হবে, এবং এই প্রতারণার পেছনে লুকানো দজ্জাল ব্যবস্থাকে চিনতে হবে, কারণ যখন সত্য আসে তখন মিথ্যাকে মিলিয়ে যেতে হয়, আর মিথ্যা তো মিলিয়ে যাওয়ার জন্যই সৃষ্টি হয়েছিল!

اردو تحریر سر بلال شوکت آزاد کشمیر

রেকাউল এস কে

Address

Dhaka

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when সিরাতল মুস্তাকিম posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Place Of Worship

Send a message to সিরাতল মুস্তাকিম:

Share