10/04/2025
সার্জিস আলম সাহেব ভারতের নতুন ওয়াকফ সংশোধনী আইন নিয়ে একটি বক্তব্য দিয়েছেন। তার বক্তব্য হলো এই আইন করার মাধ্যমে নরেন্দ্র মোদী নিজেকে উগ্র ও সাম্প্রদায়িক বলে প্রমাণ করেছেন। আচ্ছা সে না হয় মোদী উগ্র বা সাম্প্রদায়িক, সেটা সার্জিস বলতেই পারেন। কেন ওয়াকফ সংশোধনী আইন সাম্প্রদায়িক? কারণ, আইন যারা প্রণয়ন করেছেন তাদের প্রতিপক্ষের দাবী-
১) ওয়াকফের জমি নিয়ে কোন বিবাদ হলে বা কোন সম্পত্তি ওয়াকফ কিনা তা নিষ্পত্তির ক্ষমতা জেলা প্রশাসককে দেওয়া হয়েছে। মুসলিমদের সম্পত্তি তারা নিজেরাই নিষ্পত্তি করবে।
২) ওয়াকফ বোর্ডে দুইজন অমুসলিমকেও সদস্য হিসেবে রাখার কথা বলা হয়েছে। কেন মুসলিমদের সম্পত্তির বোর্ডে অমুসলিমরা থাকবে?
৩) ওয়াকফ বোর্ডের কোন সম্পত্তি নিয়ে কোন পক্ষ বিক্ষুব্ধ হলে আগে ওয়াকফ ট্রাইবুনালের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত ছিল। অর্থাৎ অভিযুক্তই ছিলেন অভিযোগের বিচারক। নতুন আইনে বলা হয়েছে যে, সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি বা পক্ষ এখন থেকে আদালতের দ্বারস্থ হতে পারবেন।
৪) ওয়াকফের সকল সম্পত্তির লিখিত নথি থাকতে হবে।
ওয়াকফ সম্পত্তির জন্য একটি ‘সেন্ট্রালাইজড রেজিস্ট্রেশন সিস্টেম’ গঠনেরও প্রস্তাব করা হয়েছে। আইনটি বলবৎ হওয়ার ছয় মাসের মধ্যে সব বিদ্যমান ওয়াকফ সম্পত্তিকে ওই রেজিস্টারে নথিভুক্ত করাতে হবে। প্রাসঙ্গিক একটি তথ্য হলো, ওয়াকফ বোর্ডের সম্পত্তি নিয়ে অসংখ্য মামলা ও বিবাদ রয়েছে এবং এই মুহূর্তে ওয়াকফ বোর্ডের ট্রাইবুনালে ৪০,৯৫১টি মামলা চলমান।
এখন কিছু প্রশ্ন চলে আসে এসবের প্রেক্ষিতে।
আপনারা জানেন ইসলাম রিলিজিয়নে ওয়াকফ হলো আল্লাহর নামে সম্পত্তি দান, সনাতন ধর্মে দেবোত্তর সম্পত্তি হলো ঈশ্বরের নামে সম্পত্তি দান। অর্থাৎ দুটোই হুবহু এক। এখন প্রশ্ন হলো-
১) বাংলাদেশে দেবোত্তর সম্পত্তির সম্পূর্ণ অধিকার পাওয়া কোনো দেবোত্তর বোর্ড আছে?
উত্তর: না, নেই। ২০২২ সালে বোর্ড করার প্রস্তাবনা হয়েছিল, কিন্তু এখনও তা বাস্তবায়ন হয়নি। তাহলে বেশি উগ্র সাম্প্রদায়িক তো হাসিনা, খালেদা, মুজিব, জিয়া, এরশাদরাই! তারা এত ভালো হলে এত বছরেও দেবোত্তর বোর্ড করেনি কেন? ভারতে এত বছর ধরে ওয়াকফ বোর্ড আছে তারা নিজেদের মতো করে ওয়াকফ সম্পত্তি নিয়ন্ত্রণ করছে, এদিকে বাংলাদেশে হিন্দুদের দেবোত্তর বোর্ডই নেই!
১৯৬৫ থেকে ২০০৬ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত উলটো হিন্দুদের ২৬ লক্ষ একর জমি অহিন্দুরা দখল করে ফেলেছে। তাহলে সার্জিস ও তার পূর্বজরা তো মোদীর চেয়েও অনেক বেশী উগ্র ও সাম্প্রদায়িক।
২) বাংলাদেশে জেলাসমূহে দেবোত্তর সম্পত্তির তালিকাভুক্তি কার ক্ষমতায় বা অধীনে?
উত্তর: জেলা প্রশাসক।
দেবোত্তর সম্পত্তির জেলা/মহানগর কমিটিতে অহিন্দু কে কে আছেন?
উত্তর: জেলা প্রশাসক, পুলিশ কমিশনার এবং বিভাগীয় কমিশনার। জেলা বা মহানগরে কোন সম্পত্তি দেবোত্তর কিনা তা নির্ধারণ করে এই কমিটি যার সভাপতি হলেন জেলা প্রশাসক।
তাহলে ওয়াকফ সম্পত্তির নির্ধারণ যদি এখন থেকে জেলা প্রশাসক করায় তা সাম্প্রদায়িক হয় তবে এতদিন ধরে বাংলাদেশও তো সেই একই সাম্প্রদায়িকতা হিন্দুদের সাথে করে এসেছে। এই বিষয়ে সার্জিসের মন্তব্য কী?
৩) এতদিন নিয়ম ছিল ওয়াকফ বোর্ডের সম্পত্তির লিখিত ডকুমেন্টস থাকা বাধ্যতামূলক নয়, ওয়াকফ বোর্ড চাইলে লিখিত দলিল না থাকলেও কোন জমিকে ওয়াকফ বলে দখল করতে পারে। নতুন নিয়মে ওয়াকফের সব সম্পত্তির তালিকা লিখিতভাবে ডকুমেন্টেশন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। একইভাবে দেবোত্তর সম্পত্তিরও লিখিত বিস্তারিত বিবরণ, দলিলপত্রাদি বা দলিলপত্রাদি না পাওয়া গেলে তার উৎপত্তি, প্রকৃতি ও উদ্দেশ্যের লিখিত বিবরণ জমা দিতে হয়। যদি ওয়াকফ সম্পত্তির লিখিত ডকুমেন্টস জমা দিতে হওয়া উগ্র এবং সাম্প্রদায়িকতা হয় তাহলে দেবোত্তর সম্পত্তির লিখিত ডকুমেন্টস দিতে হওয়াও উগ্র ও সাম্প্রদায়িকতা। সার্জিস সাহেবের এই বিষয়ে মন্তব্য কী?
৪) সার্জিস সাহেব একবার বলেছিলেন উগ্র হিন্দুদের রুখতে বিন্দুমাত্রও তিনি বিচলিত হবেন না, অথচ দেশে প্রতিনিয়ত তৌহিদী জনতার নামে উগ্র মুসলিমরা নাটক, গান, মেলা, খেলা ইত্যাদি হুমকি দিয়ে বন্ধ করে দিচ্ছে, দিনাজপুরে উগ্র মুসলিমরা গত ৪ দিন ধরে একটি এলাকার হিন্দুদেরকে হুমকি দিয়ে ঘরবন্দী করে রেখেছে। নিয়মিত মন্দির, প্রতিমা ভাংচুরের কথা তো বলাই বাহুল্য। কই! কখনও তো সার্জিস সাহেবকে দেখলাম না বলতে যে, উগ্র মুসলিমদের রুখতে তিনি বিন্দুমাত্রও বিচলিত হবেন না! অর্থাৎ প্রমাণিত হলো সার্জিস সাহেব নিজেই সবচেয়ে বড় উগ্র ও সাম্প্রদায়িক।
ধন্যবাদ সকলকে।