Al Quran's Alo

Al Quran's Alo Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Al Quran's Alo, Religious organisation, Dhaka.

26/08/2026

গতকাল বাংলাদেশের মক্কা চুক্তিতে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে রয়টার্স। প্রতিবেদনের মূল আলোচ্য ছিল—সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের এই প্রতিরক্ষা জোটে বাংলাদেশ যোগ দিলে ভারতের সঙ্গে ঢাকার সম্পর্ক আরও জটিল হতে পারে।

তবে এটি রয়টার্সের নিজস্ব কোনো আশঙ্কা বা বিশ্লেষণ নয়। প্রতিবেদনে এ বিষয়ে বক্তব্য দিয়েছেন দুই বাংলাদেশি— কোল্লোল কিবরিয়া এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আসিফ শানাহান।

কোল্লোল কিবরিয়া বলেন, এই চুক্তিতে যোগ দিলে শুধু ভারতের সঙ্গেই নয়, চীন, ইরান, জাপান, কুয়েত, ওমান, কাতার, রাশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেও বাংলাদেশের সম্পর্ক জটিল হয়ে উঠতে পারে। তাঁর যুক্তি, কোনো সামরিক জোটে যোগ দিলে বাংলাদেশ কোন পক্ষের—সেই প্রশ্ন এড়িয়ে চলা কঠিন হয়ে পড়বে।

অন্যদিকে অধ্যাপক আসিফ শানাহান বলেন, এই জোটে যোগ দিলে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে কোনো একটি জোটের সঙ্গে অবস্থান নেওয়ার ধারণা তৈরি হতে পারে। এতে ভারতসহ কয়েকটি দেশ অসন্তুষ্ট হতে পারে। তবে অন্য দেশ খুশি হবে কি না, সেটিকে বাংলাদেশের সিদ্ধান্তের মূল ভিত্তি হওয়া উচিত নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

এখন আসা যাক মজার জায়গাটিতে।

কোল্লোল কিবরিয়া নিজেই দ্য ডেইলি স্টারের একজন কলামিস্ট। মক্কা চুক্তিতে বাংলাদেশের যোগ দেওয়া উচিত কি না—এ নিয়ে তিনি ডেইলি স্টারে আগেই একটি মতামতধর্মী লেখা লিখেছেন। সেখানে তিনি বাংলাদেশের ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি ও বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পর্কের সম্ভাব্য জটিলতা নিয়ে একই ধরনের আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন।

পরদিন রয়টার্সের প্রতিবেদনে কোল্লোল কিবরিয়ার বক্তব্যই বিশ্লেষকের মতামত হিসেবে উঠে এলো। এরপর সেই বক্তব্য আবার ডেইলি স্টার প্রকাশ করলো ‘রয়টার্সের বরাতে’ ।

অর্থাৎ ঘটনাটা দাঁড়াল—

ডেইলি স্টারের কলামিস্টের মতামত → রয়টার্সের প্রতিবেদনে → সেই মতামত আবার ডেইলি স্টার প্রকাশ করলো ‘রয়টার্সের বরাতে’।

নবীজি ﷺ এর রওজা মোবারকের পাশ থেকে চারজন পুলিশ এক যুবককে আটক করে; তারা কোনো কথা না বলেই সাথে সাথে যুবকটির পেছনে দড়ি দিয়...
26/08/2026

নবীজি ﷺ এর রওজা মোবারকের পাশ থেকে চারজন পুলিশ এক যুবককে আটক করে; তারা কোনো কথা না বলেই সাথে সাথে যুবকটির পেছনে দড়ি দিয়ে তার দু'হাত বেঁধে ফেলে। যুবকটি পুলিশদের জিজ্ঞেস করতে লাগলো তোমাদের কী হয়েছে; আমিতো চোরও নই, ডাকাতও নই, তাহলে আমার সাথে এমন আচরণ করছ কেন?!

দূর থেকে একজন বয়স্ক মুরব্বী পুরো বিষয়টি লক্ষ্য করছিলেন। তখন তিনি কাছে এসে পুলিশদের বললেন, "আমি এই যুবককে চিনি।"
পুলিশরা তাকে বললো: আপনি তাকে কীভাবে চিনেন?
মুরব্বী বললেন: আমি তাকে দেখি সে সবসময় রাসূলুল্লাহ ﷺ এর রওজার সামনে দাঁড়িয়ে-দাঁড়িয়ে, বসে-বসে দুরূদ পড়ে, সালাম দেয়, কান্নাকাটিও করে। তোমরা তাকে গ্রেফতার করেছ কেন, সে কি চোর?

যুবকটি ছিলো আলবেনিয়ার নাগরিক, বয়স ৩৫ অথবা ৩৬ হবে। তার মাথা ভর্তি ঘাড় বাবরি চুলে আর মুখ ভর্তি হালকা দাড়িতে।

পুলিশ বললো: না, সে চোর নয়। এই যুবক আলবেনিয়ার অধিবাসী, সে মদিনায় ছয় বছর ধরে বসবাস করছে অথচ এখানে তার কোনো বসবাসের কাগজপত্র নেই। আমরা তাকে ধরে আলবেনিয়ায় পাঠিয়ে দিতে চাচ্ছি ছয় বছর যাবৎ কিন্তু প্রতিবারই তাকে ধরার পর সে আমাদের থেকে পালিয়ে যায়। আমরা তাকে প্রতিবারই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মসজিদ থেকে ধরি। এবারও তাই হলো। তাকে এবার পাওয়া মাত্রই সাথে সাথে দড়ি দিয়ে বাঁধা ছাড়া আমাদের কোনো উপায় ছিল না!

মুরব্বী পুলিশদের বললেন: এখন তোমরা তাকে নিয়ে কী করবে?
তারা বললো: রাষ্ট্রীয় আইন প্রয়োগ করবো। আমরা তাকে এখন ধরে নিয়ে প্লেনে উঠিয়ে দিবো এবং তারপর সে আলবেনিয়ায়।.....

যুবকটি তখন কাঁদছিল আর ভাবছিল এবার মনে হয় তাকে সত্যি সত্যিই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মসজিদ ছেড়ে যেতে হবে! রাসূলের স্মৃতি বিজড়িত মদীনা শহর ছেড়ে যেতে হবে! কিছুক্ষণ ভেবে যুবকটি পুলিশদের বলতে লাগলো: দেখুন ভাই, আমি এখানে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই ও কারো সাথে প্রতারণা করি না। আমি এখানে এসেছি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ভালোবাসার টানে, এছাড়া অন্য কোনো দুনিয়াবি উদ্দেশ্য আমার নেই।

পুলিশরা বললো: না, এটা গ্রহণযোগ্য কথা নয়, আপনাকে অবশ্যই দেশে ফিরে যেতে হবে। বহিরাগতদের রাষ্ট্রীয় আইনে এখানে থাকার সুযোগ নেই।

পুলিশরা যুবককে নিয়ে মসজিদে নববী থেকে বের হয়ে গেলো। যুবক পথিমধ্যে তাদের বললেন: আমার একটি শেষ অনুরোধ রাখবেন? পুলিশরা তার অনুরোধ শুনলো এবং সুযোগ দিল।

যুবকটি তখন সবুজ গম্বুজের দিকে তাকিয়ে আবেগতাড়িত কণ্ঠে বললো:
هل هكذا كان الإتفاق بينن؟!
"ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমাদের মধ্যে চুক্তিটা কি এমন হয়েছিল!
হে রাসূল! আপনার প্রতিবেশী হবো, তাই আমি আমার দোকান, ব্যবসা, মা-বাবাকে ছেড়ে এখানে এসেছি কিন্তু তারা আমাকে আর থাকতে দিচ্ছে না। এই কথা বলতে বলতে যুবক মাটিতে লুটিয়ে পড়লো।

পুলিশরা বলেছে: আমরা ভাবলাম, যুবক ইচ্ছাকৃতভাবে মাটিতে লুটিয়ে পড়ছে, সে জ্ঞান হারানোর ভান করছে , হয়তো আবার পালানোর পাঁয়তারা করছে।

পুলিশ সদস্যরা কিছুক্ষণ পর যুবককে মাটি থেকে টেনে উঠালো, দেখল সে সত্যিই অচেতন, মুখে পানি ঢেলে দিলেও যুবক আর নড়ছে না। তাদের মধ্যে একজন বললো: তার হয়তো স্ট্রোক বা হার্ট অ্যাটাক হয়েছে, এক্ষুনি অ্যাম্বুলেন্স আনো। অ্যাম্বুলেন্স এসেছিল এবং যুবককে হাসপাতালেও নেওয়া হয়েছিল, ডাক্তার তার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পর বললেন: আরো দেড় ঘণ্টা আগে যুবক এই পৃথিবী থেকে চলে গেছে, সে বেঁচে নেই।

পুলিশ সদস্যরা তখন কান্নায় ভেঙে পড়েছিল এবং বলছিল: আল্লাহর শপথ, আমরা আমাদের দায়িত্ব পালনকালে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি তাঁর গভীর ভালোবাসার নমুনা অনুভব করতে পারিনি।

এরপর গোসল ও জানাযা শেষে যুবককে অ্যাম্বুলেন্সে করে জান্নাতুল বাকিতে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে দাফন করা হয়।

আলবেনিয়ার পথে রওনা দেওয়া যুবক, জান্নাতুল বাকিতে চলে গেলেন। রেখে গেলেন পৃথিবীবাসীর জন্যে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি ভালোবাসার অনুপম উপমা।

~ আরবি থেকে অনূদিত

25/08/2026

ডিএনএ পরীক্ষা করার জন্য সনামধন্য ঢাকা মেডিকেল ও অন্যান্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থাকা সত্ত্বেও সিআইডির মতো একটা পক্ষপাতদুষ্ট প্রতিষ্ঠানে ডিএনএ পরীক্ষার কথা যখন শুনি, তখনই আমার মনে খটকা লাগে।

ধরুন, গতকাল যদি বলা হতো—সকল পত্রিকা প্রতিদিন কেবল একটা নিউজই প্রচার করতে পারবে। মোদির পা চাটা চাকর-চাকরানীরা তখন সব বাদ দিয়ে এই ডিএনএ পরীক্ষার নিউজটাই করত। এই হলো বাংলাদেশের অবস্থা। সুতরাং লাখ লাখ মোদি ভক্তের এই দেশে আমানুল্লাহর ডিএনএ টেস্ট হওয়া উচিত একাধিক ল্যাবে।

আমানুল্লাহ দোষি নাকি নির্দোষ আমি জানি না। তবে আমি এটা জানি বাংলাদেশের পুলিশ, সিআইডি, ডিবি, এসবি, পিবিআই নিরপেক্ষ না। দিল্লির গোলামী করেছে ১৫ বছর। সরাসরি দিল্লি থেকে পরিচালিত হতো এই প্রতিষ্ঠানগুলো। হিন্দু তোষন ও মুসলিম নিধন করেছে। খুনি হাসিনার নিজ হাতে গড়া আজকের এই পুলিশ। এখনো পুলিশ বাহিনীর রন্ধ্রে রন্ধ্রে গেঁথে আছে বেনজির, মনিরুল, হারুন, প্রদীপ, বিপ্লবের মতো কসাইরা। দুই বছরে একটা কাক কখনো ময়ুর হয়ে যাবে না। আগে যা ছিল, এখনো তা-ই আছে।

বিশেষ করে গাজীপুরে আশামনির ঘটনায় পুলিশের হিন্দুত্ববাদী চরিত্র মুসলিমদের কাছে অনেকটাই পরিষ্কার। তাই এই প্রতিষ্ঠানের ডিএনএ রিপোর্টের একআনা গ্রহণযোগ্যতা নেই আমার কাছে।

এখন করণীয় হচ্ছে, আদালতে এই রিপোর্টের ব্যাপারে অনাস্থা প্রকাশ করে, ভিন্ন কোনো নিরপেক্ষ ল্যাবে পুনরায় ডিএনএ পরীক্ষা করানো। উন্নত কোনো দেশে সেম্পল পাঠিয়ে ডিএনএ পরীক্ষা করা হলে আরো ভালো হয়। নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠানের রিপোর্টে আমানুল্লাহ দোষি সব্যস্ত হওয়ার পর তাকে প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড দিলে সবচেয়ে বেশি খুশি হবো আমি। অন্যথায় বিচারের নামে মোদিগিরি বন্ধ করেন।

Karim Shawon

17/08/2026

সেই ওয়ার অন টেররের আল-কায়েদা ন্যারেটিভ এনেছে আমেরিকা। বাংলাদেশ নিয়ে আমেরিকা প্ল্যান 'বি' অনুযায়ী এগুচ্ছে।

লীগের পতনে পর আমেরিকা জামাত-ইউনুসের ঘাড়ে চেপে খুব করে চেষ্টা চালিয়েছিল বাংলাদেশে প্রবেশ করতে। ব্যর্থ হয়েছিল৷ ইউনুসকে দিয়ে হামিদ কারজাই টাইপের একটা সরকার বানিয়ে বাংলাদেশে আমেরিকার ঘাঁটি করার চেষ্টাটা ছিল প্ল্যান 'এ'।

ঐতিহাসিকভাবে জামাত-শিবিরের রাজনৈতিক গার্ডিয়ান আমেরিকা। তাই জামাত-শিবিরও আপ্রাণ চেষ্টা করেছে যে করেই হোক প্ল্যান 'এ' অনুযায়ী আমেরিকাকে বাংলাদেশ প্রবেশ করাতে। নির্বাচন করতে চায়নি। ইউনুসকে ৫ অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্ষমতায় রাখতে চেয়েছে। মার্কিন পোদবালকদের সকল অপচেষ্টাই ব্যর্থ হয়।

তবে আমেরিকার সেই চেষ্টা থেমে নেই। আমেরিকা এখনো চাচ্ছে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে। তাই আমেরিকা এবার তার বহুল ব্যবহৃত ও পুরনো প্ল্যান 'বি' নিয়ে এগুচ্ছে। আর সেটাই হচ্ছে 'আল-কায়েদা' ন্যারেটিভ। আমেরিকা পৃথিবীতে একটা কথা প্রতিষ্ঠিত করে ফেলেছে—কোনো দেশে ইসলামী সশস্ত্র দল থাকলে সেই দেশে প্রবেশ করা আমেরিকার জন্য জায়েজ।

মোটা দাগে প্ল্যান 'বি':

বিএনপি সরকার আমেরিকান ব্লকে না ঢুকলে বিএনপিও লীগের মতো মাইনাস হওয়াটা সময়ের ব্যাপার মাত্র। বিএনপিকেও দ্রুতই বিদায় নিতে হবে। তখন দেশে রাজনৈতিক শূণ্যতা তৈরি হবে। সামরিক বাহিনী তখন ক্ষমতা নিলেও সম্পূর্ণ দেশ নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না। পতিত রাজনৈতিক দল হিসেবে লীগ-বিএনপি স্বার্থের কারণে একজোট হবে এবং সহিংস আন্দোলন করবে। মার্কিন এজেন্ডা বাস্তবায়নে ভিন্ন ইস্যুতে মাঠে থাকবে জামাত-শিবির-এনসিপি। সামরিক বাহিনীর সাথে এই সবগুলো দলের সম্পর্ক তলানিতে। ওদিকে পার্বত্য অঞ্চলকে উপজাতি সন্ত্রাসীগোষ্ঠীগুলো একযোগে অস্থির করে তুলবে আমেরিকার সিগনাল পেয়ে। কক্সবাজারে রোহিঙ্গা সশস্ত্রগোষ্ঠীকেও আমেরিকা আরাকান ও জান্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে লেলিয়ে দেবে ফুল স্কেলে। উত্তরবঙ্গে হিন্দুরা নানান সাম্প্রদায়িক উসকানি দেবে। ঠিক এ রকম একটা পরিস্থিতিতে আমেরিকা 'ইসলামী' কোনো দলের নামে আবেগি ছেলেপেলেকে ব্যবহার করে কয়েকটা বড়ো ধরণের সুইসাইড বম্বিং কিংবা ধামাক অপারেশন করিয়ে আন্তর্জাতিক হাইলাইট বানাবে বাংলাদেশকে। গৃহপালিত জাতিসংঘে আলাপ তুলে বৈশ্বিক চাপ প্রয়োগ করবে বাংলাদেশের ওপর। সংবাদমাধ্যম, শোবিজ, সুশীলশ্রেণী নিজেদের আসল রূপে ফিরে এসে আমেরিকার ন্যারেটিভ এস্টাবলিশ করবে। আমেরিকার বাংলাদেশে ঢুকতে তখন আর কোনো বাধা থাকবে না।

জামাত-শিবির প্ল্যান 'এ'-তে কামলা দিয়েছিল। এখন প্ল্যান 'বি'-তেও কামলা দিচ্ছে। কারণ, ওদের ওপর আমেরিকার হুকুম এটাই। আমেরিকার হুকুম নড়চড় করার গাটস্ জামাত-শিবিরের মতো নতজানু ও বারো ভাতারি দলের নেই। নয়তো রাজনীতির জামানত হারাবে। ব্ল্যাক লিস্টেড করে দেবে আমেরিকা।

এই প্ল্যান 'বি'-তে ভারতও আছে। ভারত চায় বাংলাদেশ যুদ্ধবিধ্বস্ত অকার্যকর রাষ্ট্র হোক। আর কাজটা করুক আমেরিকা। আমেরিকা চীনকে দমন করে চলে গেলে ভারত বাংলাদেশ দখল করতে পারবে। অর্থাৎ নিজে হামলা করে যুদ্ধে না জড়িয়ে মুফতের ওপর একটা রাষ্ট্র পেয়ে গেল।

জামাত-শিবিরের স্বপ্ন—বাংলাদেশকে কোনোভাবে আবার পাকিস্তানের সাথে যুক্ত করে দেওয়া। এই স্বপ্ন পূরণে সবচেয়ে বড়ো বাধা সামরিক বাহিনী তথা ডিপ স্টেট। যদি বাংলাদেশ যুদ্ধবিধ্বস্ত অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত হয়, তবে সকল ইনস্টিটিউট ভেঙে পড়বে এবং জামাত-শিবির তথা আল-বদর তাদের স্বপ্ন পূরণের একটা সুবর্ণ সুযোগ পেয়ে যাবে। তাই জামাত-শিবিরের শকুনের মতো বাংলাদেশ নামক গরুটা মরার অপেক্ষা করছে।

সামরিক বাহিনী মডারেট ইসলামাইজেশন প্রজেক্ট হাতে নিয়েছে আমেরিকা-চীন দ্বন্দ্বে নিজেকে সেইভ রাখার জন্য। সামরিক বাহিনীর ওপরেই ইসলামী সশস্ত্র দলের পৃষ্ঠপোষকতার ট্যাগ যেন না পড়ে এটা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন বিশিষ্ট গোয়েন্দা জুলকারনাইন আল-কায়েদার বিরুদ্ধে পোস্ট দিয়ে দায় সারছে। কারণ, সে সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র।

ওদিকে সালাউদ্দিন সাহেব বলেছেন আল-কায়েদা নিয়ে জাতিসংঘের বিবৃতি ভুল। এটাই প্রমাণ করে দেয় এই খেলাটা খেলছে আমেরিকা আর খেলাটা বিএনপির পছন্দ হচ্ছে না।

Karim Shawon

ভূ-রাজনীতি ও জাতিসংঘের দ্বিচারিতা: আফগানিস্তান থেকে পার্বত্য চট্টগ্রামসম্প্রতি আফগানিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা (GDI) গুপ্ত...
15/08/2026

ভূ-রাজনীতি ও জাতিসংঘের দ্বিচারিতা: আফগানিস্তান থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম

সম্প্রতি আফগানিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা (GDI) গুপ্তচরবৃত্তি ও নাশকতার অভিযোগে জাতিসংঘের দুই কর্মীকে গ্রেপ্তার করে। এরপর জাতিসংঘ বারবার তাদের কর্মীদের মুক্তির দাবি জানালেও ইমারাত কর্তৃপক্ষ তা প্রত্যাখ্যান করে। আর এর পরপরই দেখা যায় জাতিসংঘের সেই পুরোনো কৌশলের প্রয়োগ; মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে একটি মনগড়া বয়ান তৈরি করা।

জাতিসংঘের অঙ্গসংগঠন ইউনেস্কো (UNESCO) দ্রুতই এক বিবৃতিতে দাবি করে, আফগান সরকার নারীদের ঘর থেকে বের হতে দিচ্ছে না। নারীদের শিক্ষার পথ রুদ্ধ করা হচ্ছে। বর্তমান প্রশাসনের অধীনে নারীরা সম্পূর্ণ নিরাপত্তাহীন।

পশ্চিমা বিভিন্ন গণমাধ্যম ও তাদের এদেশীয় দালাল মিডিয়াগুলি এই বিবৃতিকে একপাক্ষিক ও ব্যাপকভাবে প্রচার করতে শুরু করে। অথচ ইমারাত কর্তৃপক্ষ যদি তাদের কর্মীদের ছেড়ে দিত, তবে জাতিসংঘের পক্ষ থেকে এমন কোনো জোরালো বিবৃতি আসত কি না তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। এটিকে দ্বিচারিতা (Hypocrisy) ছাড়া আর কী-ই বা বলা যায়!

বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলকে ঘিরে পশ্চিমাদের দীর্ঘমেয়াদি ভূ-রাজনৈতিক চক্রান্তের কথা কারো অজানা নয়। কয়েক দশক ধরে সেখানে 'আদিবাসী-অধিবাসী' বিতর্ক উস্কে দিয়ে এক ধরনের অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির চেষ্টা চলছে। নানা আন্তর্জাতিক চাপ প্রয়োগ করে উক্ত অঞ্চলে জাতিসংঘের অবাধ প্রবেশাধিকারকে অনেকটা আইনগতভাবে বৈধ করে রাখা হয়েছে।

শুধু তাই নয়, সেখানকার বিভিন্ন সশস্ত্র বিচ্ছিন্নতাবাদী ও মিলিশিয়া গোষ্ঠীর সঙ্গে পশ্চিমা সংস্থাগুলোর সখ্য স্পষ্ট। এসব গোষ্ঠীর শীর্ষ নেতাদের পশ্চিমা দেশগুলো সফর করা এবং উচ্চপদস্থ বিদেশি কর্মকর্তাদের সঙ্গে গোপন বৈঠক প্রমাণ করে, এই অঞ্চলকে নিয়ে তাদের উদ্দেশ্য মোটেও সাধারণ নয়।

কেননা ইতিপূর্বেও আমরা দেখেছি, কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট (KNF)-এর প্রধান নাথান বম ২০২৩-২৪ সালের দিকে ইউরোপের কয়েকটি দেশের সামরিক ঘাঁটির ‘এয়ার বেজ’ ও অস্ত্রাগার পরিদর্শন করে। কোনো রাষ্ট্রীয় প্রতিনিধিত্ব বা প্রাতিষ্ঠানিক অনুমোদন ছাড়া একজন বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতার বিদেশি রাষ্ট্রের স্পর্শকাতর সামরিক ঘাটিতে প্রবেশের সুযোগ পাওয়া কোনো সাধারণ বিষয় হতে পারে না।
সম্প্রতি পশ্চিমা শক্তিগুলো পার্বত্য চট্টগ্রাম ইস্যুটিকে নতুন করে উস্কে দেওয়ার চেষ্টা করছে। তবে সরকারের দৃঢ় অবস্থানের কারণে তাদের সে চেষ্টা ধাক্কা খেয়েছে। সরকারের দায়িত্বশীলদের পক্ষ থেকে সাহসিকতার সঙ্গে তথাকথিত 'আদিবাসী' বয়ান প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।

এতে ক্ষুব্ধ হয়ে পশ্চিমা মহল এবার ভিন্ন পথ অবলম্বন করছে। বাংলাদেশকে চাপে ফেলতে আবারও তাদের পুরোনো বয়ান তৈরি শুরু করেছে।যেমন: "বাংলাদেশে All-কায়েদার নেটওয়ার্ক বিস্তারের চেষ্টা চলছে" কিংবা "Jঙ্গিবাদের উত্থান ঘটছে"।

এগুলো তাদের ভাণ্ডারে থাকা অত্যন্ত পুরোনো এবং পরীক্ষিত কৌশল। অতীতেও এই ধরনের বয়ান তৈরি করে বিশ্বের অনেক সার্বভৌম রাষ্ট্রকে দুর্বল ও ধ্বংসস্তূপে পরিণত করা হয়েছে।
কুফফার মিডিয়া ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর এসব মনগড়া বয়ান ও চক্রান্তের সামনে মুসলিম উম্মাহকে এখন সর্বোচ্চ সতর্ক ও সচেতন হতে হবে। পশ্চিমা কুফফারদেরদের এই দ্বিমুখী নীতি ও চক্রান্তের ফাঁদে পা দিয়ে ঘাবড়ে যাওয়া বা বিভ্রান্ত হওয়া যাবে না।
পশ্চিমাদের তৈরি এই ভুয়া বয়ানের বিরুদ্ধে পুরো মুসলিম উম্মাহকে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান নিতে হবে।

তাদের প্রতিটি মিথ্যা বয়ান ও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে বুদ্ধিভিত্তিক, কূটনৈতিক ও সামাজিকভাবে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
জাতিসংঘ বা যেকোনো পশ্চিমা সংস্থার এই ধরনের প্রপাগাণ্ডা ও আগ্রাসী তৎপরতার মুখে চুপ না থেকে, উম্মাহর সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার স্বার্থে আমাদের সজাগ থাকা এবং সুদৃঢ় প্রতিরোধ গড়ে তোলা সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।

তাই এই লেখাটি উম্মাহর কাছে পৌছে দেয়া আপনার দায়িত্ব।

ভারত উপমহাদেশের ইতিহাসে যেসকল মুসলিম শাসক ইসলামী আইন ও শরয়ী বিধান অনুযায়ী দেশ শাসন করার চেষ্টা করেছেন এবং কুরআন ও সুন্না...
07/08/2026

ভারত উপমহাদেশের ইতিহাসে যেসকল মুসলিম শাসক ইসলামী আইন ও শরয়ী বিধান অনুযায়ী দেশ শাসন করার চেষ্টা করেছেন এবং কুরআন ও সুন্নাহের বিধান বাস্তবায়ন করার ক্ষেত্রে কিছুটা অংশ নিয়েছেন তাঁদের নাম এই-

- নাসিরুদ্দীন মাহমূদ (৬৬৪ হিজরী)

- গিয়াস উদ্দীন বলবান (৬৮৬ হিজরী)

- আলাউদ্দীন খিলজী (৭১৬ হিজরী)

- শামসুদ্দীন আলতামাশ (৭৩৩ হিজরী)

- মুহাম্মাদ তুগলুক (৭৫২ হিজরী)

- ফিরোজ শাহ (৭৯৯ হিজরী)

- সেকান্দার ইবনে বাহলুল লূধী (৯২৩ হিজরী)

- শের শাহ সূরী (৯৫২ হিজরী)

- শাহজাহান তৈমুরী (১০৬৮ হিজরী)

- আওরঙ্গজেব আলমগীর (১১১৮ হিজরী)

উল্লেখিত শাসকবর্গ ছাড়া আরো কিছু শাসক ও আমীর উমারা এমন অতীত হয়ে গেছেন, যারা হিন্দুস্তানের বিভিন্ন অংশে ইসলামী হুকুমত প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করেছেন এবং একটা পর্যায় পর্যন্ত তারা সফলও হয়েছেন। এ ধারাবাহিকতার সর্বশেষ ব্যক্তি যিনি ছিলেন তিনি হচ্ছেন মুগল সাম্রাজ্যের শেষ বাদশা বাহাদুর শাহ যাফর, যার পরে ইসলামী হুকুমত নামেমাত্র যতটুকু ছিল তাও বিলুপ্ত হয়ে গেছে। এ পর্যায়ে এসে হিন্দুস্তানকে দারুল হারব ঘোষণা দেয়ার ক্ষেত্রে শাহ আব্দুল আযীয মুহাদ্দিস দেহলভী রহিমাহুল্লাহ এর ঐতিহাসিক ফাতওয়া রয়েছে।

হিন্দুস্তানে (উপমহাদেশ) যত দিন পর্যন্ত মুসলিম শাসকদের অধীনে ইসলামী শরীয়তের প্রয়োগ ও বাস্তবায়ন ছিল, তত দিন পর্যন্ত এ ভূখণ্ডকে দারুল হারব ঘোষণা দেয়ার কোন প্রয়োজন ছিল না; বরং তখন এ ভূখণ্ডকে দারুল হারব বলা জায়েযও ছিল না। কিন্তু যখন অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে এবং রাজত্ব ও শাসন মুসলিম শাসকদের হাত থেকে অমুসলিমদের হাতে চলে গেছে, তখন এ উপমহাদেশের আসল অবস্থা অর্থাৎ এ ভূখণ্ডের শরয়ী অবস্থান স্পষ্ট করে দেয়া জরুরী ছিল। বিশেষত যখন ১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দে নবাব সিরাজ উদদৌলা এবং ১৭৯৯ খ্রিস্টাব্দে ফতেহ আলি টিপু ইংরেজদের হাতে শহীদ হয়ে গেছেন এবং মুসলিম বাহিনী পরাজিত হয়ে গেছে। তখন মুসলমানদের কাছে এমন কোন প্রতিরোধ শক্তি অবশিষ্ট থাকেনি, যে শক্তি দিয়ে ইংরেজদের মোকাবেলা করা যায়, অথবা এমন কোন শক্তি ছিল না, যে শক্তি দিয়ে নিজেদের শাসিত ভূখণ্ডের মধ্যে ইসলামী আইন ও শরয়ী বিধান প্রয়োগ করা যায়।

দিল্লিতে মুগল সাম্রাজ্যের নিভু নিভু বাতিটি তখনো একেবারে নিভে যায়নি। মুগল সাম্রাজ্য তখন শাহ আলম সানীর হাতে ছিল। বাস্তব কথা হচ্ছে, শাহ আলমের হাতে তখন দিল্লি লালকেল্লার শুধুমাত্র দালানগুলো ছিল এবং শাহী আরাম আয়েশ ও সাজসজ্জার উপকরণগুলো ছিল। মুসলমানদের শাসক হিসাবে তার হাতে কিছুই ছিল না। হিন্দুস্তানের উপর না কেন্দ্রীয় হুকুমতের কোন নিয়ন্ত্রণ ছিল, আর না আঞ্চলিক শাসকদের কোন নিয়ন্ত্রণ ছিল। ইংরেজ ও অন্যান্য অমুসলিম শক্তিগুলো এসকল হালাতকে যথাযথভাবে আঁচ করে নিয়েছিল এবং শতভাগ স্বাধীনতার সাথে রাজ্যের কেন্দ্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের হাতে নিয়ে ফেলেছে। আইন প্রণয়ন প্রতিষ্ঠান ও আইন প্রয়োগ প্রতিষ্ঠানগুলোর উপর নিজেদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত করে ফেলেছে। আর সামরিক শক্তিগুলোতো আগে থেকেই তাদের হাতে ছিল। মোটকথা হিন্দুস্তানের এমন অবস্থা ছিল, যে অবস্থায় কোন যিম্মাদার আলেম এবং উম্মতের কোন রাহবার স্বস্তির সাথে বেঁচে থাকতে পারেন না। নিজের উপর অর্পিত শরয়ী যিম্মাদারী আদায় না করে এবং নিজের ফরয দায়িত্ব আদায় না করে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলতে পারেন না।

সিরাজুল হিন্দ শাহ আব্দুল আযীয মুহাদ্দিস দেহলভী রহিমাহুল্লাহ হিন্দুস্তান দারুল হারব হওয়ার ফাতওয়া দিলেন এবং একজন রাহবার হিসাবে উম্মতকে এ বার্তা পৌঁছে দিলেন যে, এখন থেকে তোমাদের যিম্মাদারিতে এমন কিছু ফরয দায়িত্ব অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, যেসব যিম্মাদারি একটি দারুল ইসলামের অধিবাসী হিসাবে তোমাদের উপর আগে ছিল না।

যেসকল প্রেক্ষাপটের ভিত্তিতে এবং যেসকল কারণে এ ফাতওয়া সময়ের অনিবার্য ফরয দায়িত্ব ছিল সে কারণগুলো হচ্ছে এই—

১. হিন্দুস্তানে ইসলামী শরীয়তের আইনি অবস্থান বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল।

২. হিন্দুস্তানের প্রধান শাসক মুসলমান হওয়া সত্ত্বেও ইসলামী আইন প্রয়োগ করতে সক্ষম ছিলেন না।

৩. আইনের প্রতিষ্ঠানগুলো, আদালত ও আইন প্রণয়ন এসেম্বেলীর উপর কুরআন, হাদীস ও ইসলামী শরীয়তের নিয়ন্ত্রণ চলত না।

৪. আইনের সকল প্রতিষ্ঠান, আদালতসমূহ ও আইন প্রণয়ন এসেম্বেলীগুলো অমুসলিম শক্তির মতামত ও সিদ্ধান্তের অধীনে এবং তাদের মর্জির অধীনে ছিল।

৫. মুসলিমরা তাদের ইবাদাত, লেনদেন ও ইসলামী চালচলনের ততটুকুই করতে পারত, যতটুকু তারা অনৈসলামিক আইন ও অমুসলিম শাসকদের পক্ষ থেকে করার অনুমতি পেত।

৬. সেই শাসন ব্যবস্থা তাদের খরচে মাদরাসা চালাত। কিন্তু মাদরাসায় যেসব মাসআলা পড়ানো হত সেসব মাসআলা সমাজে বাস্তবায়ন করতে দিত না।

৭. সে শাসন ব্যবস্থার কর্ণধাররা মাদরাসার প্রধান হিসাবেও দায়িত্ব পালন করত, কিন্তু কুরআন ও হাদীসের বিধি বিধানকে তারা অন্তর থেকে ঘৃণা করত।

হিন্দুস্তানের এ হালাতগুলো এমন ছিল যার বাস্তবতাকে শত্রু-মিত্র কেউ অস্বীকার করতে পারত না, আর না এগুলোকে অস্বীকার করার কথা তাদের কারো মনে কখনো উঁকি দিয়েছে। কেননা এ হালাতগুলো এমন সূক্ষ্ম তার ও চিকন পাইপ লাইনের মাধ্যমে এ সমাজকে ঘিরে নিয়েছিল যে, অধিকাংশ মুসলমানের খবরও ছিল না, কোথাকার পানি কোথায় গড়িয়ে যাচ্ছে।

কিন্তু দ্বীনের সচেতন দায়িত্বশীলগণের চোখ এমনভাবে খোলা থাকে যে, তাদের সামনে দিয়ে শরীয়ত বিরোধী কোন পরিস্থিতি এবং শরীয়ত পরিপন্থী কোন পর্ব তাঁদের চোখকে ফাঁকি দিয়ে যেতে পারে না। পরিস্থিতির শরয়ী বিচার বিশ্লেষণ শাহ আব্দুল আযীয মুহাদ্দিস দেহলভী রহিমাহুল্লাহ এ ভারত উপমহাদেশকে দারুল হারব বলে ফাতওয়া দিলেন এবং আল্লাহর বান্দাদের এমন একটি কাফেলা দাঁড়িয়ে গেল যারা এ ফাতওয়ার আলোকে যা যা করার ছিল তা তা করার জন্য প্রস্তুত ছিল।

এ ফাতওয়ার প্রেক্ষাপট এবং যেসকল পরিস্থিতির ভিত্তিতে এ ফাতওয়া দেয়া হয়েছিল সেসব কারণ এখনো হুবহু সেভাবেই বহাল রয়েছে যা এ ফাতওয়া দেয়ার সময় ছিল।

এ ফাতওয়ার প্রায় সোয়া দুইশত বছর পরের সময় আমরা এখন পার করছি। এ সময় পার করতে গিয়ে আমরা এখন দেখব, যেসব প্রেক্ষাপট এবং যেসব কারণকে সামনে রেখে দুইশত সোয়া দুইশত বছর আগে ভারত উপমহাদেশকে দারুল হারব ঘোষণা করা হয়েছিল, সেসব কারণ ও সেসকল পরিস্থিতি ধারাবাহিকভাবে আজো পর্যন্ত বিরাজ করে আসছে? না কি নয়?

এ বিষয়টি কেউ অস্বীকার করতে পারবে না যে, বিগত দুই শত বছর যাবত পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটতে থেকেছে। আর এটি একটি অসম্ভব বিষয় যে, এত দীর্ঘ কাল যাবত কোন প্রকার পটপরিবর্তন ছাড়াই দুনিয়া চলবে। এটা হতে পারে না। শরীয়তের মাপকাঠিতে যদি বিচার করা হয়, তাহলে যেকোন জ্ঞানী ব্যক্তি এ কথা স্বীকার করতে বাধ্য হবে যে, দুইশত বছর আগের অবস্থা এবং দুইশত বছর পরের অবস্থার মাঝে কোন প্রকার পার্থক্য হয়নি, কোন ব্যবধান আসেনি।

একটু চিন্তা করে দেখুন—

১. ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের আইনপ্রণয়ন এসেম্বেলী, আদালতসমূহ এমনিভাবে কোন আইনী প্রতিষ্ঠানের উপর কুরআন, হাদীস ও ইসলামী শরীয়তের কোন প্রকার নিয়ন্ত্রণ নেই, কোন প্রকার প্রধান্য নেই, কোন হাত নেই।

২. উপমহাদেশের এ তিনটি দেশেই প্রতিটি আইন ও প্রতিটি কানুন সেসব দেশের শাসকবর্গের মতামত ও সিদ্ধান্তের উপর ভিত্তি করে হয়, সে শাসক মুসলিম হোক বা অমুসলিম হোক।

৩. বরং বৃটিশ এ দেশকে যে আইনের উপর পরিচালিত করে একটি দারুল ইসলামকে দারুল হারব বানিয়ে ছেড়েছিল, সেই বৃটিশ আইন কানুন আজও এ উপমহাদেশের দেশগুলোতে আইন প্রণয়নকারী হিসাবে পূর্ণ শক্তি ও সামর্থ্য এবং পরিপূর্ণ সতেজতার সাথে কার্যকরী ও বহাল রয়েছে।

৪. এ দেশগুলোর উপর এমনসব শাসকদের আধিপত্য রয়েছে, যারা পরকালে মুক্তির জন্য শুধুমাত্র একটি ধর্ম অর্থাৎ ইসলামের অনুসরণকে জরুরী মনে করে না।

৫. উপমহাদেশের এ দেশগুলোতে যেসব শাসক রয়েছে তাদের আকীদা বিশ্বাস হচ্ছে, মুসলমানরা তাদের ইসলামী আইন কানুন অনুযায়ী চলতে হলে, শাসকদের বানানো আইন কানুনের কাছ থেকে অনুমতি নিতে হবে। অমুসলিমদের বানানো আইন থেকে অনুমতি নিতে হবে। আল্লাহ ও আল্লাহর রাসূলের দুশমনদের বানানো আইন কানুন থেকে অনুমতি নিতে হবে।

৬. এ শাসকদের আকীদা বিশ্বাস হচ্ছে, ইসলামের উদ্ধৃতি দিয়ে, কুরআন ও হাদীসের উদ্ধৃতি দিয়ে কোন আইন কানূন বানানো এবং তা প্রয়োগ করা অপরাধ এবং তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

এসব বিষয়ে ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ অর্থাৎ সাবেক হিন্দুস্তান (উপমহাদেশ) এর তিনটি দেশেরই অবস্থা বরাবর। শাহ আব্দুল আযীয মুহাদ্দিস দেহলভী রহিমাহুল্লাহ যে সময়ে এ উপমহাদেশকে দারুল হারব হিসাবে ঘোষণা দিয়েছেন সে সময়ের অবস্থা এবং বর্তমানের অবস্থাও বরাবর।

এ পর্যায়ে এসে একটি কথা মনে রাখা দরকার যে, দারুল হারব হিসাবে হিন্দুস্তান তিনটি পর্ব অতিক্রম করেছে। একটি পর্বতো হচ্ছে, যখন ফাতওয়াটি দেয়া হয়েছে। তখন শাসক ছিল মুসলমান, কিন্তু আধিপত্য ছিল অমুসলিমদের। আদালত ও আইনের প্রতিষ্ঠানগুলো অমুসলিমদের নিয়ন্ত্রণে এবং অনৈসলামিক আইনের অধীনে চলত। এ পর্বটি হচ্ছে ১৮০০ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত। দ্বিতীয় পর্ব হচ্ছে, যখন শাসক অমুসলিম ছিল। এ পর্বটি ছিল ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সময়কাল। তৃতীয় পর্ব হচ্ছে, যখন কিছু অংশের শাসক মুসলিম আর কিছু অংশের শাসক অমুসলিম, কিন্তু প্রত্যেক অংশের উপরই আধিপত্য অমুসলিমদের। আদালত ও আইনের প্রতিষ্ঠানগুলো অমুসলিম ও অনৈসলামিক আইনের অধীনে আছে। এ পর্বটি ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দ থেকে এখনো পর্যন্ত চলছে।

এ তিনটি পর্বের পরস্পরে যে পার্থক্যগুলো রয়েছে তার কিঞ্চিত বিশ্লেষণ নিম্নরূপ—

প্রথম ও দ্বিতীয় পর্বে এ ভূখণ্ডের নাম ছিল হিন্দুস্তান। এখন এ ভূখণ্ড আলাদা আলাদা তিনটি নামে পরিচিত: ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ।

প্রথম পর্বে এ ভূখণ্ডের শাসক ছিল মুসলমান, দেশ নামেমাত্র মুসলমানদের হাতে ছিল। কিন্তু সরকারী সকল প্রতিষ্ঠানের উপর অমুসলিমদের আধিপত্য ছিল। দ্বিতীয় পর্বে শাসক অমুসলিম ছিল। আদালত ও আইনের প্রতিষ্ঠানগুলো তাদেরই হাতে ছিল। আর তৃতীয় পর্বে কিছু অংশের শাসকরা নিজেদেরকে অমুসলিম মনে করে, আর কিছু অংশের শাসকরা নিজেদেরকে মুসলমান মনে করে। তবে সবার আদালত এবং আইনের প্রতিষ্ঠানগুলো অমুসলিমদের তত্ত্বাবধানে অনৈসলামিক আইনের অধীনে চলে। প্রত্যেক অংশের শাসকবর্গ, চাই তারা নিজেদেরকে মুসলিম মনে করুক বা অমুসলিম মনে করুক, প্রত্যেকে এ আকীদা বিশ্বাস লালন করে যে, আদালত ও আইনের প্রতিষ্ঠানগুলোতে কুরআন, হাদীস ও ইসলামী শরীয়াতের প্রবেশ এবং শরয়ী আইন তথা কুরআন সুন্নাহর আইনের প্রভাব বা প্রভাব বিস্তারের প্রচেষ্টা চলমান সময়ের সবচাইতে বড় অপরাধ।

প্রথম ও দ্বিতীয় পর্বে অধিকাংশ মুসলমান এবং উম্মতের রাহবারগণ অমুসলিমদের আধিপত্য এবং অনৈসলামিক আইনের অধীনস্থতার উপর অসন্তুষ্ট ছিল। কিন্তু তৃতীয় পর্বে অধিকাংশ মুসলমান অমুসলিমদের আধিপত্য এবং অনৈসলামিক আইনের অধীনতাকে সন্তুষ্টচিত্তে মেনে নিয়েছে, অথবা তার বিষয়ে নির্লিপ্তভাবে চুপচাপ আছে।

প্রথম ও দ্বিতীয় পর্বে অধিকাংশ মুসলমান এসকল পরিস্থিতি থেকে বের হওয়া এবং নিজেদেরকে মুক্ত করার বিষয়টিকে একটি শরয়ী যিম্মাদারী মনে করত। এখন অধিকাংশ মুসলমান মনে করে, অনৈসলামিক শাসন এবং অনৈসলামিক আইন আদালতের অধীনে জীবন যাপন করাও জীবন যাপনের একটি পদ্ধতি হতে পারে। তবে এদের মধ্য থেকে কেউ মনে করে, এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের কোন পথ নেই। আর কেউ মনে করে, এ পরিস্থিতি থেকে মুক্তির কোন প্রয়োজন নেই।

প্রথম ও দ্বিতীয় পর্বে অমুসলিমদের প্রতিনিধিদেরকে গভর্নর ও ভাইসরয় বলা হত, এখন তাদের প্রতিনিধিদেরকে এম্বেসেডার, দূত ও জাতিসংঘের প্রতিনিধি বলা হয়।

প্রথম পর্বে অমুসলিমদের আধিপত্যের কোন আইনি স্বীকৃতি ছিল না, তবে তাদের বাহুবল চলত। দ্বিতীয় পর্বে সব কিছু তাদেরই হাতে ছিল। তৃতীয় পর্বে তাদের আইনি স্বীকৃতি হয়ে গেছে এবং তাদের বাহুবল চলমান থাকা সত্ত্বেও তাদের আধিপত্যকে গোপন করার জন্য অনেক কৌশল ব্যবহার করা হয়ে থাকে। যে বিষয়গুলো সবাই জানেও, আবার সবাই লুকাতেও থাকে। যাকে আপনি ওপেন সিক্রেটও বলতে পারেন।

প্রথম ও দ্বিতীয় পর্বে মনে করা হত, মুসলমানদের জন্য অনৈসলামিক আইনের অধীনে জীবন যাপন করা জায়েয নেই। তৃতীয় পর্বে ব্যাপকভাবে এবং প্রকাশ্যে এ কথা মনে করা হচ্ছে যে, মুসলমানদের জন্য অনৈসলামিক আইনের অধীনে জীবন যাপন করতে কোন সমস্যা নেই।

এ পৃথিবীর কোন একটি ভূখণ্ড দারুল হারব হিসাবে সাব্যস্ত হওয়ার জন্য যে বিষয়গুলো সেখানে পাওয়া যাওয়া জরুরী, সে বিষয়গুলো উনবিংশ শতাব্দীর শুরুতে (ভারত উপমহাদেশে) ছিল, ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের পরেও সে বিষয়গুলো (ভারত উপমহাদেশে) উপস্থিত ছিল এবং ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দ থেকে এখনো পর্যন্ত সে বিষয়গুলো বহাল আছে।

এরই সাথে সাথে, উনবিংশ শতাব্দীর শুরুতে উপমহাদেশ (হিন্দুস্তান) দারুল হারব হিসাবে ঘোষিত হওয়ার পর মুসলমানদের উপর যে সকল ফরয দায়িত্ব এসেছিল, এমনিভাবে যেসকল ফরয দায়িত্ব ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের পর মুসলমানদের উপর ছিল, সেসকল ফরয ওয়াজিব দায়িত্ব ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দ থেকে এখনো পর্যন্ত মুসলমানদের যিম্মাদারিতে রয়েছে গেছে। চাই সে ভূখণ্ডের নাম ভারত হোক, চাই সে ভূখণ্ডের নাম পাকিস্তান হোক, চাই সে ভূখণ্ডের নাম বাংলাদেশ হোক। এ সকল ভূখণ্ডের সকল মুসলমানের উপর সেসব ফরয ওয়াজিব দায়িত্ব হুবহু সেভাবেই বহাল আছে যেভাবে তা দুইশত বছর আগে ফরয ওয়াজিব ছিল। কেননা সেসব ফরয ওয়াজিব দায়িত্ব তাদের যিম্মাদারিতে না থাকার এবং সে দায়িত্ব থেকে মুক্ত হওয়ার মত কোন পর্ব বিগত দুইশত বছরে কখনো অতিক্রম করেনি।

[ লেখাটি শাইখ ফজলুর রহমান কাসেমী হাফিজাহুল্লাহর একটি রিসালাহ্ থেকে কপি করা। ]

ইন্না-লিল্লাহ! এই মুহুর্তে এটার চেয়ে বড় কোনো ইস্যু হতে পারে না! প্রত্যেকে এই বিষয়ে কথা বলুন! নাটক সাজানোর আগেই এই ষড়যন্ত...
15/07/2026

ইন্না-লিল্লাহ! এই মুহুর্তে এটার চেয়ে বড় কোনো ইস্যু হতে পারে না! প্রত্যেকে এই বিষয়ে কথা বলুন!

নাটক সাজানোর আগেই এই ষড়যন্ত্র ধূলিস্যাৎ করে দিন। সবাই কপি, পোস্ট, শেয়ার, রিপোস্ট, রিরাইট করে প্রকত তথ্য তুলে ধরুন। চারজন নওমুসলিমা বোন ও একজন নওমুসলিম দা'ঈ ভাইয়ের পাশে দাঁড়ান।

আমার বন্ধু নওমুসলিম Abdullah Sujit মানুষের বিপদে যে সর্বদা সবার আগে ছুটে যায়। গতকাল রাতে ই*স*ক*নের ইন্ধনে ওকে এবং আরও চারজন নওমুসলিমা বোনকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। নওমুসলিমা বোনেরা সাভারে একটি মাদরাসায় পড়াশোনা করত। ঘটনাটা সাভারের। কিন্তু সাভার থানা জানে না।

যারাই নিয়ে যাক, শোনা যাচ্ছে এটার সাথে প্রত্যক্ষভাবে বেলকুচি থানার একজন আইও জড়িত। যারাই জড়িত থাকুক, ২৪ এর বাংলা তো মগের মুল্লুক না। দিল্লির ই*স*ক*নকে এখানে এভাবে ফুটবল খেলতে দেওয়া হবে না৷

সবাই সোচ্চার হয়ে উঠুন। আমার বোনের জন্য, আপনার বোনের জন্য সোচ্চার হয়ে উঠুন।

- Hafiz Al Munadi হাফিজাহুল্লাহ থেকে সংগৃহিত।

Give them bread and circuses, and they will never revolt....
14/07/2026

Give them bread and circuses, and they will never revolt....

10/07/2026

Address

Dhaka

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Al Quran's Alo posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share