22/03/2024
আমার মতে, "প্রতিশোধ পরায়ণতা" মানুষের একটি সহজাত প্রবৃত্তি। এই প্রবৃত্তির বিরুদ্ধে লড়াই করে জয় অর্জন করার নামই হল ক্ষমা, যা অত্যন্ত কঠিন এক লড়াই। ক্ষমা; সত্যিকার অর্থে এটি এক প্রকার ঐশ্বরিক গুণাবলী। কিন্তু আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা চান এই গুণে তার বান্দাও গুণান্বিত হোক। আপনি যখন কোন ব্যক্তির দ্বারা প্রতারণার শিকার হবেন সর্বপ্রথম আপনি চেষ্টা করবেন সেই প্রতারক ব্যক্তিটির বিরুদ্ধে প্রতিশোধ গ্রহণের। যখন আপনার সেই সুযোগ ক্রমান্বয়ে হারাতে থাকবে, তখন আপনি ভান ধরবেন তাকে ক্ষমা করে দেয়ার। আর এর বিপরীতে মনকে মিথ্যা সান্তনা দিবেন সেই প্রতারকের বিরুদ্ধে কুৎসা রটনা করে। আর যখন প্রতিশোধ নেয়ার সকল রাস্তা আপনার সামনে বন্ধ হয়ে যাবে তখন আপনি শেষ অস্ত্র হিসেবে গ্রহন করবেন বদ দুয়াকে।
পক্ষান্তরে আল্লাহ তাবারক ওয়া তাআলা বলেন,
"যারা সচ্ছল ও অসচ্ছল উভয় অবস্থায় দান করে, ক্রোধ সংবরণ করে এবং মানুষকে ক্ষমা করে থাকে। আর আল্লাহ (বিশুদ্ধচিত্ত) সৎকর্মশীলদেরকে ভালবাসেন।" (সূরা: আল ইমরান, আয়াত: ১৩৪)
অর্থাৎ, ক্রোধ তাদেরকে উত্তেজিত করলে তারা তা কার্যকরী না করে সংবরণ করে নেয় এবং তাদের সাথে কেউ অন্যায় করলে তারা তাকে ক্ষমা করে দেয়। (তাফসীর: আহসানুল বয়ান)
অন্যত্র তিনি আরও বলেন,
"মন্দের প্রতিফল অনুরূপ মন্দ। আর যে ক্ষমা করে ও আপোস-নিস্পত্তি করে, তার পুরস্কার আল্লাহর নিকট রয়েছে, নিশ্চয়ই আল্লাহ সীমালংঘনকারীদেরকে পছন্দ করেন না।
যে ব্যক্তি ধৈর্য ধারণ করবে ও ক্ষমা করবে, সন্দেহাতীতভাবে এটা বড় উচ্চমানের সাহসিকতাপূর্ণ কাজ।" (সূরা: আশ শুরা, আয়াত: ৪০,৪৩)