18/09/2025
``সালাত মনের সঙ্গে জড়িত এবং মন দিয়েই সালাতের কারবার। দেহ নিয়ে নয়। কারণ, দেহ মুসলমান এবং দেহের প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ মুসলমান, কিন্তু মনটি মুসলমান বানাতে হবে। `` তারই জন্য সমগ্র কোরান পাক একটি উপদেশাবলীর বিরাট গ্রন্থ। তাই অমুসলমান মনটিকে মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত মুসলমান দেহটিকে সাময়িক কর্তৃত্ব প্রদান করা হয়েছে। এই মুসলমান দেহটি দিয়ে মানবজাতির কল্যাণেও আসতে পারে আবার অকল্যাণেও নিয়োজিত হতে পারে- ইহাই একটি মনের সাময়িক স্বাধীন ইচ্ছাশক্তি।
``আল্লাহর কাছে দেহের হাজিরা দেওয়াটাকে হাজির হওয়া বলে বিবেচিত হয় না। মনের হাজিরা দেওয়াটাকেই আল্লাহর কাছে হাজির হওয়া বুঝায়। সুতরাং কেবলমাত্র দেহের হাজিরা দেওয়ার নামাজকে সালাত বলে গণ্য করা হয় না। তাই মনের চৈতন্যের সঙ্গে আল্লাহপাকের মহাচৈতন্যের যোগাযোগ প্রতিষ্ঠা হলেই সালাতের আবির্ভাব হয় এবং তখনই হয় দুনিয়ার ষড়রিপুর মায়ায় তৈরি অচৈতন্যের তিরোভাব। মেরাজের অবগুণ্ঠন ধীরে ধীরে মুছে যেতে থাকে এই সালাতের কাছে। এবং এই সালাতের যিনি সাথী তাকেই বলা হয় মুমিন। কারণ, মুমিনের সালাতই হল মেরাজ।``
তাহলে প্রশ্ন আসে, যার সালাত কায়েম হয়নি তার কি মেরাজ হয়েছে? না। কারণ, তার সালাত হল মানুষকে দেখাবার জন্য। মাত্র সামান্য কিছু লোক ছাড়া প্রায় সকলেই আল্লাহকে অন্তর দিয়ে স্মরণ করে না- একথা আমার কথা নয়, একথা স্বয়ং আল্লাহ পাকের কথা এবং স্পষ্ট ঘোষণা। সুতরাং অতি অল্প লোকেই কোরান পাকের গুপ্ত রহস্য অনুধাবন করতে পারে এবং বাকি সবাইকে উহা বলে লাভ নেই। সবাই সত্যকে গ্রহণও করতে পারে না এবং সত্যকে উপলব্ধিও করতে পারে না। কেবলমাত্র অল্প কিছু লোক ছাড়া- ইহাই কোরান পাক আমাদেরকে বুঝিয়ে দিয়েছেন এবং বুদ্ধিমান ও জ্ঞানীলোকেরা এই কথার গুপ্ত রহস্য বুঝতে পারেন।
সংগৃহীত