01/08/2026
ডঃ ভেকুমুসা ম্যাসিবি!!!
ভুলব না নামটা! আমার বাচ্চাদের প্রথম ডক্টর! জন্মের দ্বিতীয় দিন যার হাতে তাদের মুসলমানি হয়! আফ্রিকান আমেরিকান ব্যাক্তি।
হস্পিটালে আমাদের রুমে অনেক ভোরে ঢুকে দেখেন আমি ঘুম ঘুম চোখে বসে আছি আর আমার হাজব্যান্ড গভীর ঘুম! এক বিশাল হাক দিয়ে উনি বললেন "জমজের বাপ মা হয়ে ঘুমাচ্ছ! আজ থেকে তোমাদের ঘুম বন্ধ! প্যারেন্টিং এর প্রথম প্রশিক্ষণ ঘুমের জন্য লাফালাফি করা যাবে না, ঘুমাতে না পারলেও হাসিমুখে বাচ্চাদের আদর করতে হবে"।
আমি শুকনো মুখে তাকিয়ে আছি৷ আমার সামনে এসে দাঁড়িয়ে গেলেন। " শুনো, বাচ্চা পালার দুইটা ফরমুলা।
১. কাজ দুইটা...খাওয়াবা আর ভালোবাসবা!
২. খাওয়া, টয়লেট, ঘুম বাচ্চাদের এই ৩ টা জিনিস ঠিক থাকলে সব ঠিক আছে বিশ্বাস করে কুল থাকবা, তোমাদের মত নতুন মায়েরা অযথা সবকিছুতে অস্থির হয়!"
এরপর একটা লম্বা ভাষণ দিলেন আমাদের দুজনের উদ্দেশ্যে।
"তোমরা দুইজন মেকানিকাল ইঞ্জিনিয়ার! তোমরা তো অনেক শিক্ষিত। কিন্তু দেখ, তোমরাও নার্ভাস। এখন তোমরা অনেক পড়াশোনা করবা আর বিভিন্ন সময় টেনশন করবা এই ভেবে যে বইয়ের লিখা বা গুগলের তথ্যের সাথে তোমার বাচ্চাদের মিল খুজে পাওয়া যাচ্ছে না। তোমাদের জানা থাকতে হবে, প্রতিটা মানুষ আলাদা! প্রতিটা শিশু আলাদা! কোন শিশুর সাথে নিজের দুইটাকে তুলনা করবা না। নিজের জমজ ছেলে দুইটাও দুই রকম হবে, একসাথে আসলেও একরকম হবে না। মানুষ আলাদা, সবাই আলাদা। তাই কোন স্ট্যান্ডার্ড এর সাথে তুলনা করে বাচ্চাদের বিরক্ত করবে না, তাদেরকে তাদের মত থাকতে দাও, অন্য কেউ হবার জন্য প্রেসার দিও না। একদম শুরু থেকে তোমাদের মাথায় রাখতে হবে যে শিশুরা কেমন তা কোন বই পড়ে পুরোপুরি বুঝা সম্ভব না। প্রতিটা বাবা মা কে তাদের প্রতিটা বাচ্চাকে নিয়ে বই লিখতে দিলে তারা সম্পূর্ণ আলাদা আলাদা বই লিখবে! তাই শিশুদের কেমন হওয়ার কথা তা কোন বই পড়ে মিলাতে চেষ্টা করলে মিলবে না তোমার বাচ্চার সাথে!
তোমাদের জন্য শুভকামনা। আমার বাবা মা কোন দিন স্কুলে যান নি, কিন্তু আমি একজন ডাক্তার! নিরক্ষর বাবা মা আমাকে পালতে পেরেছে। তোমরা দুজনই শিক্ষিত, তোমরাও পারবে, আমাজনের জংগলের জংলিরাও পারে, সবাই পারে!"
এক সপ্তাহ পড়ে উনাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম "ডক্টর বাচ্চারা ঘুমায় না রাতে, ১৫ মিনিট পরপর কেউ না কেউ জাগে, ফলে আমি ২৪ ঘন্টা জেগে থাকতে বাদ্ধ্য হচ্ছি। কি করব?"
মুখ ঝামটা দিয়ে উনি বললেন "কোকেইন খাওয়ায় দাও, লম্বা লম্বা ঘুম দিবে" 😑
হ্যা, কিছু আম্মারা বলেছিল তাদের বাচ্চারা দিন রাত ঘুমায় থাকত জন্মের পর অনেকদিন! আমি তুলনা করে অস্থির হয়েছিলাম।
কিছু বাচ্চাকে দেখা যায় লম্বা ছড়া বা সুরাহ মুখস্থ করে ফেলেছে, কিছু বাচ্চা একি বয়সে আব্বা, আম্মা ছাড়া আর কিছুই বলতে পারছে না। সাথে সাথে মায়েরা কমপ্লেক্সিটিতে ভুগে। লাভ কি?
তুলনা আর প্রতিযোগিতা বাদ দিয়ে স্থান করে নিক প্রচেষ্টা আর দুয়া।
তাই প্যারেন্টিং এর প্রথম ধাপ হল "তুলনা করার অভ্যাস থেকে বিরত থাকা"
নিজে শান্তিতে থাকুন, বাচ্চাদের শান্তিতে থাকতে দিন। ❤️
© Umm Anas