মহর্ষি মনোমোহন ফাউন্ডেশন Maharshi Monomohan Foundation

  • Home
  • Bangladesh
  • Dhaka
  • মহর্ষি মনোমোহন ফাউন্ডেশন Maharshi Monomohan Foundation

মহর্ষি মনোমোহন ফাউন্ডেশন Maharshi Monomohan Foundation Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from মহর্ষি মনোমোহন ফাউন্ডেশন Maharshi Monomohan Foundation, Religious organisation, Dhaka.

Saint Monomohan ©
║ █│║▌║▌││█║▌║▌║
www.maharsemonomohan.org
You can find all the information about Maharshi Monomohan, his published books, research books and Moloya music collection on this official web site.

22/05/2026

দরদি, কয়ে দে তার নিগম কথা (মলয়া সঙ্গীত)
​রচয়িতা: মহর্ষি মনোমোহন দত্ত
​সুরকার: গুণাকর ফকির আফতাব উদ্দিন খাঁ (সুর সম্রাট ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁর অগ্রজ)
​কণ্ঠশিল্পী: ইয়ার হোসেন (জনপ্রিয় ব্যান্ড চিরকুট (Chirkut)-এর একজন গুণী সহযোগী সংগীতশিল্পী)


​"দরদি, কয়ে দে তার নিগম কথা, তারে পাবো কই।
যারে ডাকলে হৃদয় শীতল হয় গো, দেখলে আপন হারা হই।
যার লাগিয়ে হৃদয় মন, ঘুরে বেড়ায় অনুক্ষণ
যার মধুর নামটি শুনলে পরে, ভবজ্বালা ভুলে রই।
মনচোরে মন নিয়ে, কোথা গেছে লুকাইয়ে
কেন্দে মরি ধরতে নারি, ধরি ধরি আর না পাই।
যার সনে মন মাখা জোখা, তারে বিনে যায় কি থাকা
মনোমোহন বলে আমি, কেমনে বা একা রই।।"


সংগীতের জগতে ‘মলয়া সঙ্গীত’ একটি গভীর ভাবগাম্ভীর্য ও আধ্যাত্মিক সুধায় ভরপুর ধারা। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের বিখ্যাত সাধক ও কবি মহর্ষি মনোমোহন দত্ত এই ধারার প্রবর্তক। যা মানুষের মনের ভেতরের চিরন্তন পরমাত্মা বা দয়াময় ঈশ্বরের খোঁজ এবং বিরহের আকুলতাকে প্রকাশ করে।

​এই মলয়া সঙ্গীতটি মূলত সুফিবাদ এবং বৈষ্ণব ভাবধারার এক অপূর্ব সংমিশ্রণ, যেখানে মানবাত্মা (সাধক) পরমাত্মার সাথে মিলনের জন্য ব্যাকুল হয়ে উঠেছে।

​"দরদি, কয়ে দে তার নিগম কথা, তারে পাবো কই।
যারে ডাকলে হৃদয় শীতল হয় গো, দেখলে আপন হারা হই।"

সাধক এখানে কোনো এক দরদি অর্থাৎ গুরুর কাছে মিনতি করছেন সেই পরম পুরুষের ‘নিগম কথা’ বা গোপন রহস্যের সন্ধান পাওয়ার জন্য। তিনি এমন এক সত্তাকে খুঁজছেন, যাঁর স্মরণে অশান্ত হৃদয় শান্ত ও শীতল হয়, আর যাঁর রূপের দেখা পেলে মানুষ নিজের অহং বা অস্তিত্ব ভুলে আপন হারা হয়ে যায়।

​"যার লাগিয়ে হৃদয় মন, ঘুরে বেড়ায় অনুক্ষণ,
যার মধুর নামটি শুনলে পরে, ভবজ্বালা ভুলে রই।"

মানুষের মন প্রতিনিয়ত যার খোঁজে ব্যাকুল হয়ে ঘুরে বেড়ায়, তাঁর নামের মাঝে রয়েছে এক অদ্ভুত অলৌকিক শক্তি। এই সংসারের সমস্ত দুঃখ, কষ্ট, ও মোহ (ভবজ্বালা) কেবল তাঁর মধুর নাম শুনলেই নিমেষে দূর হয়ে যায়। এটি দয়াময় ঈশ্বরের প্রতি একনিষ্ঠ প্রেমের বহিঃপ্রকাশ।

​"মনচোরে মন নিয়ে, কোথা গেছে লুকাইয়ে,
কেন্দে মরি ধরতে নারি, ধরি ধরি আর না পাই।"

এখানে তাকে মনচোর হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। তিনি সাধকের মন হরণ করে কোথাও লুকিয়ে গেছেন। সাধক তাঁকে ধরার জন্য, অনুভব করার জন্য আকুল হয়ে কাঁদছেন।

কিন্তু তিনি এতটাই অধরা যে, মনে হয় এই বুঝি তাঁকে পাওয়া গেল, কিন্তু পরক্ষণেই তিনি আবার অদৃশ্য হয়ে যান। এটি সাধকের সাধন-জীবনের এক চরম আকুলতা ও বিরহের মুহূর্ত।

​"যার সনে মন মাখা জোখা, তারে বিনে যায় কি থাকা,
মনোমোহন বলে আমি, কেমনে বা একা রই।।"

গানের শেষে কবি নিজের নাম (মনোমোহন) জুড়ে দিয়ে বলছেন
যাঁর সাথে মনের সম্পর্ক এত নিবিড় বা 'মাখা জোখা' (একাত্ম হয়ে যাওয়া), তাঁকে ছাড়া কোনোভাবেই বেঁচে থাকা সম্ভব নয়।

পরমাত্মাকে ছাড়া এই পৃথিবীতে মানবাত্মা একেবারেই একা ও অসহায়। এই একাকীত্বের তীব্র যন্ত্রণাই গানের শেষ চরণে ফুটে উঠেছে।

​গুণাকর ফকির আফতাব উদ্দিন খাঁর তৈরি করা সুরের যে ধ্রুপদী ও মাটির টান রয়েছে, তা এই গানে এক অন্য মাত্রা যোগ করেছে।

​শিল্পী ইয়ার হোসেন ব্যান্ড ‘চিরকুট’ যেমন সবসময় মাটির গান ও আধুনিক ফিউশনের জন্য সমাদৃত, ঠিক তেমনি তাদের দলের অন্যতম প্রাণ, সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ার ও মিক্স মাস্টার ইয়ার হোসেনের কণ্ঠে এই গানটি বর্তমান প্রজন্মের কাছে লোক-ঐতিহ্যের এক দারুণ সেতু হিসেবে কাজ করছে। তাঁর সুন্দর সাউন্ড সেন্স ও সুমিষ্ট কণ্ঠ এই মলয়া সঙ্গীতকে শ্রোতার হৃদয়ের গভীরে পৌঁছে দিতে সক্ষম হয়েছে।

​মলয়া সঙ্গীত কেবল একটি সাধারণ লোকগান নয়, এটি মানুষের আধ্যাত্মিক তৃষ্ণা এবং সৃষ্টির সাথে স্রষ্টার চিরন্তন প্রেমের এক অনন্য দলিল। আমাদের ইউটিউব চ্যানেল মনোমোহন টিভির মাধ্যমে এই ধরনের অমূল্য সৃষ্টি ডিজিটাল মাধ্যমে সংরক্ষিত হওয়া আমাদের সংস্কৃতির জন্য অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক।

মনোমোহন টিভি ইউটিউব চ্যানেল লিংক: https://youtu.be/ldx_NjaRExg?si=LqJAwGqMteyN1zSf

21/05/2026

বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কীর্তিমান ও বরেণ্য কবি আসাদ চৌধুরী এদেশের লোকসংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও আধ্যাত্মিক সাধনাকে গভীরভাবে উপলব্ধি করেছিলেন। বিশেষ করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া অঞ্চলের লোকসংগীত এবং সাধক মনোমোহন দত্ত ও আফতাব উদ্দিন খাঁ-র অবদানকে তিনি অত্যন্ত পরম শ্রদ্ধায় ও তাত্ত্বিক সুক্ষ্মতায় মূল্যায়ন করেছেন।

কবি আসাদ চৌধুরী মনে করতেন, সাধক মনোমোহন দত্ত আমাদের শিখিয়েছেন কীভাবে ভিন্ন ভিন্ন পথ মলয়ার বাণীতে কথায় ও গুণাকর ওস্তাদ আফতাব উদ্দিন খাঁ সাহেবের সুরের মূর্ছনা অবলম্বন করেও দিনশেষে এক অখণ্ড মানবতাবোধ এবং আধ্যাত্মিক সত্যে পৌঁছানো যায়। তাঁদের অবহেলা করা মানে আমাদের নিজেদের শেকড়কেই ভুলে যাওয়া।

​কবি আসাদ চৌধুরীর চোখে সাধক মনোমোহন দত্ত (১৮৭৭–১৯০৯) ছিলেন লোক-সংস্কৃতির ও আধ্যাত্মিক সাধনার একজন অনন্য সাধক এবং মলয়া সংগীতের জনক। হিন্দু-মুসলিম সম্প্রীতি এবং অসাম্প্রদায়িক চেতনার যে বীজ তিনি বুনেছিলেন, আসাদ চৌধুরী তাকে অত্যন্ত উচ্চে স্থান দিয়েছেন।

​কবি আসাদ চৌধুরী বরাবরই বলতেন, মনোমোহন দত্ত তাঁর গানের মাধ্যমে ধর্মীয় সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে মানবতাবাদকে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। কবি আসাদ চৌধুরীর ভাষায়, মনোমোহন দত্ত কোনো নির্দিষ্ট ধর্মের গণ্ডিতে বন্দি ছিলেন না, তিনি ছিলেন মানুষের কবি।

​কবি আসাদ চৌধুরী লক্ষ্য করেছেন যে, মনোমোহন দত্তের গানগুলো শুধু সুরের মূর্ছনা নয়, বরং জীবনের গভীর দর্শন। সুফিবাদের সাথে বৈষ্ণব দর্শনের যে মিলন তিনি ঘটিয়েছিলেন, তা বাঙালির নিজস্ব সাংস্কৃতিক মেলবন্ধনকে মজবুত করেছে।

​কবি আসাদ চৌধুরী মনে করতেন, আজকের যান্ত্রিক ও বিভক্ত সমাজে মনোমোহন দত্তের গান এক সঞ্জীবনী সুধা। তাঁর মলয়া সঙ্গীত মানুষের ভেতরের অহংকার ও হিংসা ধুয়ে ফেলার শক্তি রাখে।



কবি আসাদ চৌধুরীর চোখে সুরসাধক আফতাব উদ্দিন খাঁ (১৮৬৯–১৯৩৩) [সুর সম্রাট ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁর বড় ভাই] ছিলেন এক রহস্যময় ও অসাধারণ প্রতিভাবান সংগীতজ্ঞ।

কবি আসাদ চৌধুরী তাঁর সংগীতের ভেতরের আধ্যাত্মিক আকুলতা ও সৃষ্টিশীলতাকে দারুণভাবে তুলে ধরেছেন। কবি আসাদ চৌধুরীর মতে, আফতাব উদ্দিন খাঁ কেবল একজন বাদক ছিলেন না, তিনি ছিলেন সুরের মাধ্যমে ঈশ্বরের সন্ধান করা একজন দরবেশ বা ফকির। বাঁশি, মেঘডম্বুর বা দোতারায় তিনি যখন সুর তুলতেন, তখন তা আর কেবল বিনোদন থাকত না, হয়ে উঠত এক অপার্থিব প্রার্থনা।

​বিশ্ব বরেণ্য সুর সম্রাট ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁর মতো বিশ্বখ্যাত সংগীতজ্ঞের গড়ে ওঠার পেছনে আফতাব উদ্দিন খাঁর যে অগ্রণী ভূমিকা ছিল, তা আসাদ চৌধুরী বারবার স্মরণ করেছেন।

তিনি মনে করতেন, আফতাব উদ্দিনের সুরের গভীরতা না থাকলে হয়তো আমরা আলাউদ্দিন খাঁকে এভাবে পেতাম না।

​কবি আসাদ চৌধুরী আফতাব উদ্দিন খাঁর সাধনাকে গ্রামীণ লোকসুরের বিশ্বায়ন হিসেবে দেখতেন। খাঁ সাহেব যেভাবে লোকবাদ্যযন্ত্র দোতারাকে মার্গসংগীত বা শাস্ত্রীয় রূপ দিয়েছিলেন, আসাদ চৌধুরী তাকে বাঙালির এক অনন্য গৌরব হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

​কবি আসাদ চৌধুরী নিজে ছিলেন শিকড়সন্ধানী মানুষ। তাঁর ভাষায়, মনোমোহন দত্ত ও আফতাব উদ্দিন খাঁ এই দুজন হলেন তিতাস বিধৌত ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সংস্কৃতির দুটি প্রধান স্তম্ভ।

ভিডিও সংরক্ষণ : শ্রীমতী কল্যাণী দত্ত (মহর্ষি মনোমোহনের সুযোগ্য উত্তরসূরি)

15/05/2026

লোকসঙ্গীত : শ্যাম তুমি লীলা বুঝ মন বুঝ না
কন্ঠশিল্পী : Eti Ebrahim (ইতি ইব্রাহিম)

"শ্যাম তুমি লীলা বোঝ মন বোঝ না" (অনেকে "তুমি শুধু লীলা বোঝ" নামেও চেনেন)

গানটি মূলত বাংলার একটি ঐতিহ্যবাহী বিচ্ছেদ ঘরানার লোকসঙ্গীত বা বাউল গান।
​মৌখিকভাবে প্রচলিত এই লোকগানটির মূল বা আদি রচয়িতা বা গীতিকার কে, তা সুনির্দিষ্টভাবে ইতিহাসে নথিবদ্ধ নেই। এটি লোকসংস্কৃতির একটি অংশ হিসেবে যুগ যুগ ধরে বাউল-সাধকদের কণ্ঠে কণ্ঠে প্রচারিত হয়ে আসছে।

​তবে গানটিকে আধুনিক শ্রোতাদের কাছে জনপ্রিয় করার পেছনে যিনি সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছেন, তিনি হলেন প্রখ্যাত বংশীবাদক, সুরকার ও সঙ্গীতশিল্পী বারী সিদ্দিকী।


​লোকমুখে প্রচলিত এই আধ্যাত্মিক গানটির মূল ভাবকে ধরে রেখে আধুনিক সঙ্গীতায়োজনে এর চমৎকার সুরারোপ ও পরিমার্জন করেছিলেন বারী সিদ্দিকী। সঙ্গীত সংগ্রাহক ও গবেষকদের অনেকের মতে, তিনি গানটির প্রচলিত বাউল বাণীকে একটি নির্দিষ্ট কাঠামোতে রূপ দেন।

​বারী সিদ্দিকীর কণ্ঠে এই গানটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে।

​যেহেতু এটি লোকসঙ্গীতের অন্তর্ভুক্ত, তাই কোনো একক ব্যক্তিকে এর আদি লেখক হিসেবে দাবি করা কঠিন; এটি মূলত বাংলার বাউল ঐতিহ্যের সমষ্টিগত সৃষ্টি, যা বারী সিদ্দিকীর মাধ্যমে আধুনিক রূপ পেয়েছে।

শ্যাম তুমি লীলা বোঝ মন বোঝ না গানটি বাংলার একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় লোকসঙ্গীত বা বাউল গান। এই গানটিতে রাধাকৃষ্ণের প্রেমলীলার আড়ালে আসলে পরমাত্মা এবং জীবাত্মার (মানুষের মন) মধ্যকার গভীর আধ্যাত্মিক বিরহ ও অভিমান প্রকাশ পেয়েছে।

​এই গানটি আপাতদৃষ্টিতে শ্রীকৃষ্ণের প্রতি রাধিকার অভিমানী গান মনে হলেও, এর গভীরে রয়েছে গভীর বাউল দর্শন বা সুফি ঘরানার আধ্যাত্মিক তত্ত্ব।


​লীলা শব্দের অর্থ ঈশ্বরের অলৌকিক ও রহস্যময় কার্যকলাপ। বাউল সাধকদের মতে, সৃষ্টিকর্তা এই মহাবিশ্বে এক মহা খেলায় মেতেছেন। তিনি সুখ দেন, আবার পরক্ষণেই দুঃখ দেন। ভক্ত বা সাধারণ মানুষ ঈশ্বরের এই রহস্যময় লীলাখেলা বুঝতে পারে না। তাই ভক্ত পরমেশ্বরের কাছে অভিমান করে বলছে তুমি তোমার নিজের খেলা নিয়েই ব্যস্ত, কিন্তু মানুষের মনের কষ্ট বা আকুলতা তুমি বুঝতে চাও না।

​এখানে রাধিকা হলেন জীবাত্মা (মানুষের আত্মা) আর শ্যাম বা কৃষ্ণ হলেন পরমাত্মা (সৃষ্টিকর্তা)। মানুষ যখন ঈশ্বরের প্রেমে ব্যাকুল হয়, তখন সে সব কিছু ভুলে তাঁর সান্নিধ্য পেতে চায়। কিন্তু ঈশ্বর সহজে ধরা দেন না; তিনি দূর থেকে "বাঁশি বাজান" বা ইশারা দেন, আর ভক্ত বিরহ যন্ত্রণায় ছটফট করে। রাধার চোখের জল মূলত ঈশ্বরের সান্নিধ্য পাওয়ার জন্য ভক্তের ব্যাকুলতার প্রতীক।

​আধ্যাত্মিক সাধনায় সমাজ বা সংসারের নিন্দা বা কলঙ্ককে সাধকেরা আনন্দের সাথে বরণ করে নেন। ঈশ্বরের প্রেমে পাগল হওয়া মানুষকে সমাজ অনেক সময় 'উন্মাদ' বা 'কলঙ্কী' বলে। কিন্তু প্রকৃত ভক্তের কাছে ঈশ্বরের জন্য পাওয়া এই নিন্দাই সবচেয়ে বড় পুরস্কার বা গলার হার।

​গানটি আসলে ঈশ্বরের প্রতি ভক্তের এক মধুর ও অধিকারবোধের অভিমান। ভক্ত বিশ্বাস করে ঈশ্বর অন্তর্যামী (যিনি মনের সব খবর রাখেন), তাই সে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলে সব জেনেও কেন তুমি আমাকে এত কষ্ট দিচ্ছ? এই কষ্টের মাধ্যমেই মূলত ভক্তের মন শুদ্ধ হয় এবং সে ঈশ্বরের আরও কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে।

13/05/2026

মহর্ষি মনোমোহন দত্তের কালজয়ী সৃষ্টি 'মলয়া' সংগীতের এই অমর বাণী আমাদের শেখায় সরলতার চরম সার্থকতা।

​রচয়িতা: মহর্ষি মনোমোহন দত্ত
​সুরকার: ওস্তাদ আফতাবউদ্দিন খাঁ
​পরিবেশনায়: অনেস্বর
​উৎস: মলয়া ১ম খণ্ড (গান নং ৫২)

​“আমি আর কিছু জানি না, জানি কেবল দুঃখ পেলে করতে সরল প্রার্থনা।”

​মহর্ষি এখানে নিজেকে একজন রিক্ত-নিঃস্ব ভক্ত হিসেবে তুলে ধরেছেন। মানুষ যখন জাগতিক পাণ্ডিত্য ভুলে শিশুর মতো সরলভাবে ঈশ্বরকে ডাকতে পারে, তখনই তাঁর কৃপা বর্ষিত হয়। দুঃখই হলো পরম দয়াময়কে ডাকার শ্রেষ্ঠ উপলক্ষ।

​“নাহি জানি তন্ত্রমন্ত্র, আসন কিংবা কোন যন্ত্র
আমারি ভাব স্বতন্ত্র, অন্ত্রে অন্ত্রে ভাবনা।”

​ধর্মের কঠিন আনুষ্ঠানিকতা, তন্ত্র-মন্ত্র বা বাহ্যিক আসনের চেয়ে মহর্ষির কাছে বড় হলো 'ভাব'। তাঁর সাধনা শরীরের কোষে কোষে (অন্ত্রে অন্ত্রে)। তিনি কোনো বাঁধাধরা নিয়মে নয়, বরং হৃদয়ের অন্তঃস্থল থেকে স্বতন্ত্র এক অনুরাগে স্রষ্টাকে খুঁজেছেন।

​“পঞ্চাশত বর্ণ তব শব্দ ব্রহ্ম স্বরূপ
তাই ভেবে নিজ স্বভাবে করি তব সাধনা।”

​বাংলা ভাষার ৫০টি বর্ণকে তিনি শুধু অক্ষর হিসেবে দেখেননি, দেখেছেন 'শব্দ-ব্রহ্ম' বা আধ্যাত্মিক শক্তির আধার হিসেবে। নিজের সত্তাকে বা স্বভাবকে চিনে সেই অক্ষরের মালা গেঁথে তিনি যে সাধনা করেন, তা সম্পূর্ণ রূপে আত্মিক।

​অনেস্বর ব্যান্ডের দরদী গায়কীতে গানটি এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে। যান্ত্রিক এই যুগে মনের শান্তি খুঁজতে এবং মহর্ষির অদ্বৈতবাদী দর্শনকে অনুভব করতে এই গানটি হতে পারে আপনার নিত্যদিনের সঙ্গী।

​পড়ুন, শুনুন এবং মহর্ষির এই আলোকবর্তিকা ছড়িয়ে দিন সবার মাঝে।

​ #মহর্ষি_মনোমোহন_দত্ত #মলয়া ্রার্থনা #অনেস্বর

প্রয়াত রাধাবল্লব সাহার সহধর্মিণী তিনি যেন পুনর্জন্মের চক্র থেকে মুক্ত হয়ে দয়াময়ের চরণে চিরস্থায়ী আশ্রয় পান। আত্মার ক্ষুদ...
09/05/2026

প্রয়াত রাধাবল্লব সাহার সহধর্মিণী তিনি যেন পুনর্জন্মের চক্র থেকে মুক্ত হয়ে দয়াময়ের চরণে চিরস্থায়ী আশ্রয় পান। আত্মার ক্ষুদ্র দীপশিখা যেন পরমাত্মার মহাজ্যোতিতে বিলীন হয়ে যায়।

সৃষ্টির সকল কিছুর ওপর তাঁরই ইচ্ছা প্রবল। তিনি চাইলে পরম করুণায় যেকোনো আত্মাকেই মায়ার বন্ধন থেকে উদ্ধার করে নিজের কাছে টেনে নিতে পারেন। তাহার জীবন্মুক্তি বিধানে দয়াময়ের ইচ্ছা পূর্ণ হোক।

আনন্দ বাজারে যাবি আয় নাপথ দেখায়ে নিয়ে যাবে আমার পাগল ময়না।-মহর্ষি মনোমোহন
04/05/2026

আনন্দ বাজারে যাবি আয় না
পথ দেখায়ে নিয়ে যাবে আমার পাগল ময়না।

-মহর্ষি মনোমোহন

02/05/2026

ভক্তি যখন সব জানার অহংকার মিটিয়ে দেয়, তখনই অন্তরে পরমাত্মার দেখা মেলে। মহর্ষি মনোমোহন দত্তের কালজয়ী সৃষ্টি 'মলয়া' সংগীতের এই অমর বাণী আমাদের শেখায় সরলতার চরম সার্থকতা। যে গানে ওস্তাদ আফতাবউদ্দিন খাঁ সাহেব সুরের মায়া ঢেলেছেন এবং বর্তমান সময়ের শিল্পী শুভ দাশ-এর কণ্ঠে যা এক ভিন্ন মাত্রা পেয়েছে।
:
​রচয়িতা: মহর্ষি মনোমোহন দত্ত
​সুরকার: ওস্তাদ আফতাবউদ্দিন খাঁ
​কণ্ঠ: শুভ দাশ
​উৎস: মলয়া ১ম খণ্ড (গান নং ৫২)

​“আমি আর কিছু জানি না, জানি কেবল দুঃখ পেলে করতে সরল প্রার্থনা।”

​মহর্ষি এখানে নিজেকে একজন রিক্ত-নিঃস্ব ভক্ত হিসেবে তুলে ধরেছেন। মানুষ যখন জাগতিক পাণ্ডিত্য ভুলে শিশুর মতো সরলভাবে ঈশ্বরকে ডাকতে পারে, তখনই তাঁর কৃপা বর্ষিত হয়। দুঃখই হলো পরম দয়াময়কে ডাকার শ্রেষ্ঠ উপলক্ষ।

​“নাহি জানি তন্ত্রমন্ত্র, আসন কিংবা কোন যন্ত্র
আমারি ভাব স্বতন্ত্র, অন্ত্রে অন্ত্রে ভাবনা।”

​ধর্মের কঠিন আনুষ্ঠানিকতা, তন্ত্র-মন্ত্র বা বাহ্যিক আসনের চেয়ে মহর্ষির কাছে বড় হলো 'ভাব'। তাঁর সাধনা শরীরের কোষে কোষে (অন্ত্রে অন্ত্রে)। তিনি কোনো বাঁধাধরা নিয়মে নয়, বরং হৃদয়ের অন্তঃস্থল থেকে স্বতন্ত্র এক অনুরাগে স্রষ্টাকে খুঁজেছেন।

​“পঞ্চাশত বর্ণ তব শব্দ ব্রহ্ম স্বরূপ
তাই ভেবে নিজ স্বভাবে করি তব সাধনা।”

​বাংলা ভাষার ৫০টি বর্ণকে তিনি শুধু অক্ষর হিসেবে দেখেননি, দেখেছেন 'শব্দ-ব্রহ্ম' বা আধ্যাত্মিক শক্তির আধার হিসেবে। নিজের স্বত্বাকে বা স্বভাবকে চিনে সেই অক্ষরের মালা গেঁথে তিনি যে সাধনা করেন, তা সম্পূর্ণ রূপে আত্মিক।

​শুভ দাশ-এর দরদী কণ্ঠে গানটি এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে। যান্ত্রিক এই যুগে মনের শান্তি খুঁজতে এবং মহর্ষির অদ্বৈতবাদী দর্শনকে অনুভব করতে এই গানটি হতে পারে আপনার নিত্যদিনের সঙ্গী।

​পড়ুন, শুনুন এবং মহর্ষির এই আলোকবর্তিকা ছড়িয়ে দিন সবার মাঝে।



#মহর্ষি_মনোমোহন_দত্ত #মলয়া ্রার্থনা #শুভ_দাশ

উবুন্টু, একাকী নয় জগৎ লয়ে এবং শ্রীআনন্দ- অঞ্জন সাহা (একজন নৃতত্ববিদ (anthropologist) দক্ষিণ আফ্রিকার খোসা (Xhosa) উপজাতি...
25/04/2026

উবুন্টু, একাকী নয় জগৎ লয়ে এবং শ্রীআনন্দ
- অঞ্জন সাহা

(একজন নৃতত্ববিদ (anthropologist) দক্ষিণ আফ্রিকার খোসা (Xhosa) উপজাতিদের নিয়ে কাজ করছিলেন। কাজ করার সময়, একদিন তিনি একটি ঝুড়ি ভর্তি ফল নিয়ে একটি গাছের নীচে রাখলেন, যেখানে ওই উপজাতির ছোট ছোট ছেলে-মেয়েরা খেলা করছিল। তিনি তাদের ডেকে বললেন, “তোমাদের মধ্য থেকে যে সবার প্রথমে দৌড়ে ওই ঝুড়ির কাছে পৌঁছাতে পারবে, সব ফলগুলো সে-ই পাবে”। কিন্তু কি আশ্চর্য, তিনি লক্ষ্য করলেন এই পুরস্কার কিংবা তার দেয়া শর্তের কথা শুনে তাদের একজনও দৌড়ানোর চেষ্টা করলো না, বরঞ্চ, তারা একটা অদ্ভুত রকমের আচরণ করতে লাগলো। তারা সকলেই একজন অন্যজনের হাত ধরে একসাথে ওই ঝুড়ি ভর্তি ফলের দিকে এগিয়ে যেতে লাগলো। সাধারন প্রতিযোগিতার মতো কেউ ফার্স্ট, সেকেন্ড কিংবা লাস্ট হলো না! সবাই মিলে একসাথে পৌঁছে, ফলের ঝুড়িটির চারপাশে গোল হয়ে বসে ফলগুলো খেতে লাগলো। ভীষন আশ্চর্য হয়ে ওই নৃতত্ববিদ যখন তাদের এই অদ্ভুত ব্যবহারের কারণ জিজ্ঞেস করলেন, তখন তারা সমস্বরে চিৎকার করে বলে উঠল- “উবুন্টু! (UBUNTU)”। তিনি ভীষন অবাক হয়ে তাদের কাছে এই শব্দের মানে জানতে চাইলেন। তারা উত্তরে বললো, “আমাদের মধ্যে একজন এই দৌড়ে জিতে কি করে আনন্দ করতে পারে, যেখানে আমাদের বাকি বন্ধুরা হেরে যাওয়ার জন্য দুঃখ করবে?” অবাক নৃতত্ববিদ ঘরে ফিরে এসে ভালো করে খোঁজখবর নিয়ে জানতে পারলেন Ubuntu কথাটার মানে। দক্ষিণ আফ্রিকার ওই Xhosa উপজাতির সংস্কৃতিতে “উবুন্টু“কথাটার মানে হলো - I am because we are! যার অর্থ হল –আমরা সবাই আছি বলেই আমি আছি। এবং তারা এই দর্শনটিকে বহু কাল ধরেই তাদের জীবনযাপনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে পালন করে আসছে।)

তৎকালীন ভারতবর্ষের আধ্যাত্মিক আকাশে যে কজন জ্যোতিষ্ক উবুন্টুর মতই একাকী নয় বরং জগতের সকলকে নিয়েই পথচলার মহান ব্রত নিয়ে আবির্ভূত হয়েছিলেন, মহারাজ আনন্দস্বামী তাঁদের মধ্যে অন্যতম। ধর্মে ধর্মে হানাহানি, ভেদাভেদ, বর্ণপ্রথা প্রভৃতিকে অগ্রাহ্য করে এমন এক ধর্ম-মতের তত্ত্ব উপস্থাপন করেছিলেন, যা সকল ব্যবধান ঘুচিয়ে সকল ধর্মকে এবং সকল মানুষকে এক উদার, মানবতাবাদী মানব বিশ্বে প্রতিস্থাপন করতে সহায়তা করে।

১২৩৯ বঙ্গাব্দের ১১ই বৈশাখ অর্থাৎ আজকের এই তারিখটিতে তিনি তৎকালীন ত্রিপুরা (বর্তমানে ব্রাহ্মনবাড়িয়া) জেলার অন্তর্গত কালীকচ্ছ গ্রামে জন্মগ্রহন করেন। তাঁর পিতার নাম রামদুলাল নন্দী আর মায়ের নাম আনন্দময়ী । জন্মের পর মায়ের নামের সাথে মিল রেখেই তাঁর নামটি রাখা হয় শ্রী আনন্দ অর্থাৎ আনন্দ চন্দ্র নন্দী। পরবর্তীকালে যিনি তাঁর সাধন কর্মের মাধ্যমে সকলের কাছে মহারাজ আনন্দস্বামী নামে পরিচিতি লাভ করেছিলেন। তাঁর স্ত্রীর নাম ছিল জয়দুর্গা, যাকে তিনি অন্নপূর্ণা নামে সম্বোধন করতেন।

তিনি ছিলেন পরম করুণাময় সৃষ্টিকর্তার ‘দয়াময়’ নামের নিবেদিতপ্রাণ একজন উপাসক। সর্বধর্ম সমন্বয়ী ভাবনাই ছিল তাঁর সাধনকর্মের মূল প্রেরণা। তিনি শুধুমাত্র একজন আধ্যাত্মিক সাধকই ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন একাধারে সমাজ সংস্কারক ও মানবপ্রেমিক। তাঁর জীবনের মূল লক্ষ্য ছিল সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে জগতের সকল মানুষকে একই সুতোয় গেঁথে এক আনন্দময় বিশ্বের পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। তিনি বিশ্বাস করতেন, সবাইকে সঙ্গে নিয়ে আনন্দিত মনে চলার পথই হলো মুক্তির পথ। আর সে কারনেই তিনি বিশ্বভ্রাতৃত্বের আহ্বান জানিয়ে দৃপ্তকন্ঠে উচ্চারণ করেছিলেন-

একাকী নয় জগৎ লয়ে, চলরে আনন্দ হ’য়ে;
কেনরে কুন্ঠিত মনে, ভয় কিছু নাই।
কৈবল্যধামে যাবে কে আয়রে তোরা ভাই।
(সর্ব্ব ধর্ম্মগীত - প্রথম খন্ড)

যদিও মানুষ প্রকৃতিগতভাবেই একা একা বাঁচতে পারে না। তাই সৃষ্টির আদিকাল থেকেই তারা একে অন্যের ওপর নির্ভরশীল। তা সত্বেও মানুষের মধ্যে আমি’ এবং ‘আমিত্ব’ এই বোধটি প্রায়শই প্রবল হয়ে ওঠে। যার কারনে তারা এই আমিকে সবার কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন করে এককের বেদীতে স্থাপন করতে উদ্যোগী হয়ে পড়ে। ভুলে যায় যে, এই ব্যক্তিসত্বা বা এই আমিত্ব হচ্ছে মহাবিশ্বের ক্ষুদ্র থেকে অতি ক্ষুদ্রতম একটি অংশ। আর অংশের পক্ষে কখনো পূর্ণতা প্রাপ্তি সম্ভব নয়, কেননা পূর্ণতা প্রাপ্তি ঘটে একমাত্র সমগ্রতায়। তাদের এটাও স্মরণে থাকে না, অংশ হলো একটি প্রক্রিয়া, আর সমগ্রতা হলো তার পরিণতি। এই খণ্ড সত্তা দিয়ে কখনো সত্যকে চেনা যায় না, সত্যকে চিনতে হয় তার সামগ্রিক রূপে। তাই, এই ব্যক্তিসত্বা বা আমিত্বকে মহাবিশ্বের অসীমের সাথে মিশিয়ে দিতে পারাটাই হলো প্রতিটি ব্যক্তিরই জীবনের চরম স্বার্থকতা।

ইংরেজীতে একটি কথা আছে - ‘The whole is more than the sum of its parts.’ অর্থাৎ, সমগ্রতা বা সমষ্টির শক্তি তার আলাদা আলাদা অংশগুলোর শক্তির যোগফলের চেয়েও বেশি। আমি'র মধ্যে থাকে সীমাবদ্ধতা, কিন্তু আমরা কিংবা আমাদের মধ্যে থাকে অসীম সম্ভাবনা। যখন কেউ বলে "আমি এটি করেছি", তখন সেখানে কেবল আত্ম-অহংকারের চিত্রই ফুটে ওঠে। কিন্তু যখন আমরা বলি "আমরা এটি করেছি", তখন সেখানে ফুটে ওঠে ভালোবাসা, সহযোগিতা আর পারস্পরিক শ্রদ্ধা।

মহারাজ আনন্দস্বামীর দর্শন আমাদের শেখায় যে মুক্তি মানে সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া নয়, বরং জগতের সকল মানুষকে পরম আত্মীয়রূপে বরণ করে নেয়া। তাঁর রচিত বিভিন্ন গ্রন্থেও সুনির্দিষ্টভাবে এই বিষয়টির উল্লেখ পাওয়া যায়। বিশেষ করে তাঁর অমর সৃষ্টি প্রকৃত তত্ত্ব গ্রন্থের ১৫নং তত্ত্বে বর্ণিত – “বাস্তবিক আমি যাহা তুমিও তাহা, এই সমভাব জ্ঞানযোগেতে স্থিরতর হয় এবং প্রেমযোগেতে কার্য্যে পরিণত হয়”, ৪১নং তত্ত্বে উল্লেখিত “প্রত্যেকের সঙ্গে প্রত্যেকের আধ্যাত্মিক প্রেম সম্বন্ধ রহিয়াছে, ইহাতে যাহার স্থির বিশ্বাস হইবে তাহার হৃদয় হইতে শীঘ্রই বিবাদ বিসম্বাদের ভাব চলিয়া যাইবে”, কিংবা ৪২নং তত্ত্বে উল্লেখিত “আপনার ন্যায় সকলেতে বিশেষ ভাব যাহার আছে সেই সাধু” - এই কথাগুলো আমাদের ভেতরকার মমত্ববোধকে প্রসারিত করে উবুন্টু তত্ত্বের পথে চালিত করতে সহায়তা করে।

“একাকী নয় জগৎ লয়ে” এই মহান ভাবনাটিকে তিনি নিজ জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে প্রয়োগ করার পাশাপাশি তাঁর ভক্ত-শিষ্যরূপী পরবর্তী প্রজন্মের প্রাণেও অত্যন্ত সফলতার সাথে সঞ্চারিত করতে পেরেছিলেন। তেমনই কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তির নামের একটি তালিকা পাওয়া যায় শ্রী লব চন্দ্র পাল প্রণীত এবং সর্ব্ব ধর্ম্ম মিশন কতৃক প্রকাশিত ‘শ্রীশ্রীমৎ আচার্য্য মহারাজ” গ্রন্থের “শিষ্যদের কথা”- শীর্ষক পঞ্চম অধ্যায়টিতে। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে- “শ্রীশ্রী আচার্য্য মহারাজের যে কয়েকজন ভক্ত তাঁহার শিষ্য হইয়াছিলেন এবং তাঁহার আদর্শ লইয়া জীবন গঠন করিতে প্রবৃত্ত হইয়াছিলেন তাহাদের নাম এখানে দেওয়া গেলঃ – মহেন্দ্র বাবু, মনোমোহন দত্ত, কামিনী কান্ত ঘোষ, প্রিয়নাথ দত্ত, দ্বারকানাথ দত্ত, গোপাল দাস বাবাজী, জুলমত কারী, কুমার শীল, বিশ্বম্ভর নাথ, রাম দয়াল সাধু, গোল মামুদ, পঞ্চানন সাধু, চরণ সাধু, অন্নদা, সিদ্ধি সাধক, নবীন কাওলাত, শিবনাথ চঙ্গ প্রমুখ”। “সর্ব্ব ধর্ম্ম সাধন তত্ত্ব ও প্রণালী” নামক তাঁর (মহারাজ আনন্দস্বামী) রচিত আরেকটি গ্রন্থেও উপরোক্ত শিষ্যগণের মধ্য হতে কয়েকজনের নামের উল্লেখ পাওয়া যায় যারা তাঁর সঙ্গে তাঁদের নিজেদের সাধনকর্মের বিষয়ে নিয়মিত বৈঠকে অংশগ্রহন করতেন।

একজন উচ্চকোটি সাধকের পাশাপাশি তিনি একজন গুরু হিসেবেও যে কতটা সফল ছিলেন তা তাঁর অন্যতম একজন প্রিয় শিষ্য মহর্ষি মনোমোহনের জীবনাচরণের দিকে দৃষ্টিপাত করলেই বোঝা যায়। তাঁর এই শিষ্যের কাছে গুরু প্রদত্ত ধর্মমতটি ছিল এমনি এক প্রজ্জ্বলিত মশাল, যা তিনি দৃঢ় হাতে আরো এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন স্ব-মহিমায়। গুরুদেবের মত তিনিও মনে করতেন, এই ‘আমি’ বা আমিত্বের বিনাশ মানে অস্তিত্ব হারানো নয়, বরং নিজেকে বিশ্বজনীন সত্তার সাথে মিলিয়ে দেওয়া। আর সে কারনে তিনিও উদাত্ত কন্ঠে আহ্বান জানিয়ে বলতে পেরেছিলেন -

পুত্র পরিজন প্রতি যে মমতা আাছে,
ছড়াইয়া দাও তাহা জগতের মাঝে।
সকলি আত্মীয় বলে হৃদয়ে ভাবিয়া,
যথাসাধ্য সেবা কর প্রভুত্ব ছাড়িয়া।
ব্রহ্মান্ড তোমার যদি হইল স্বগণ,
স্বার্থবুদ্ধি দূরে গিয়ে শুদ্ধ হবে মন।
(সেবা- পাথেয় গ্রন্থ)

যদিও তিনি নিজে কার কাছ থেকে শিষ্যত্ব গ্রহণ করেছিলেন, তার উল্লেখ বিশেষভাবে তেমন কোথাও পাওয়া যায় না। তবে শ্রীমৎ স্বামী যোগানন্দ এবং প্রদীপ আচার্য প্রণীত এবং শ্রীশ্রী ঠাকুর হংসরাজ সোহংমণি আশ্রম, ব্রজনগর, মোহনপুর, রাণীরবাজার,পশ্চিম ত্রিপুরা কতৃক প্রকাশিত “শিবকল্প মহাযোগী শ্রীশ্রী ঠাকুর হংসরাজ সোহংমণি” গ্রন্থের “শ্রীশ্রী ঠাকুরের বাল্যলীলা এবং শিক্ষা”- শীর্ষক অধ্যায়ে একটি সূত্রের উল্লেখ পাওয়া যায়। সেখানে সুরেন্দ্র নাথের (পরবর্তীতে যিনি শ্রীশ্রী ঠাকুর হংসরাজ সোহংমণি নামে প্রসিদ্ধি লাভ করেছিলেন) মনিঅন্ধ গ্রামে অবস্থিত নিজ বাড়ী থেকে কালীকচ্ছে আসা, তিনদিন অবস্থান, তাঁর (মহারাজ আনন্দস্বামী) সাথে শাস্ত্রের বিভিন্ন প্রসঙ্গ নিয়ে আলোচনা এবং হিমালয় থেকে গুরুদেবের আগমন ও দীক্ষাপ্রাপ্তি সংক্রান্ত একটি বর্ণনা পাওয়া যায়।

সে বর্ণনা অনুযায়ী, “তাঁর গুরু কে ছিলেন?” - এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি সুরেন্দ্র নাথকে জানিয়েছিলেন, তিনি তাঁর গুরুকে মাত্র একরাত্রের জন্য কাছে পেয়েছিলেন। তিনি সূদুর হিমালয় থেকে এসেছিলেন তাঁকে এবং তাঁর স্ত্রীকে দীক্ষা প্রদান করার জন্য। হিমালয় থেকে তিনি প্রথমে এসেছিলেন গঙ্গাসাগর মেলায়, কপিল মুনিকে দর্শন করবেন বলে। তারপর গঙ্গাসাগর মেলা থেকে সেই সৌম্য দর্শন, জটাজুটধারী, গেরুয়া পরিহিত, এক হাতে কমন্ডলু অন্য হাত চিমটে এবং বগলে হরিণের ছালের আসনধারী মহাপুরুষটি হাজির হয়েছিলেন কালীকচ্ছে। কালীকচ্ছে এসে তিনি প্রথমেই ঘোষনা করেছিলেন, ভগবান শিবই তাঁকে এখানে পাঠিয়েছেন শুধুমাত্র তাঁদের দুজনকে দীক্ষা প্রদানের জন্য। তাই সেদিন কেবলমাত্র একটি রাতের জন্য আতিথ্য গ্রহন করে পরদিন ভোরে তিনি তাঁদের দুজনকে দীক্ষা প্রদান করেই অন্তর্হিত হয়েছিলেন। যার কারনে তাঁর দীক্ষাদাতা হিমালয়বাসী সে সিদ্ধপুরুষটির নাম তাঁর পক্ষে আর কখনোই জানা সম্ভব হয়নি। সেদিন দীক্ষাগ্রহন উপলক্ষে কালীকচ্ছের বাড়ীতে পাড়ার সকলকে তিনি নিজেই নিমন্ত্রণ করেছিলেন এই কথাটিও তিনি আলাপের এক পর্যায়ে সুরেন্দ্র নাথকে বলেছিলেন ।

তাঁর জীবনে ঘটে যাওয়া এই অবিশ্বাস্য ঘটনাটিই প্রমান করে, কারো পক্ষে এমন একজন মহাত্মার আশীর্বাদ প্রাপ্তি কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়, বরং তা এক দীর্ঘ সাধনা ও একনিষ্ঠ অনুশীলনের পরিনাম। তিনি এই মহানামটি তাঁর গুরুর কাছ থেকে অর্জন করতে পেরেছিলেন তার সাধন-কর্মের শক্তির মাধ্যমে। দয়াময়ের প্রতি তিনি তাঁর ঐকান্তিক নিষ্ঠা, ভক্তি ও প্রেম নিবেদনের মাধ্যমেই নিজেকে যথাযোগ্য করে তুলতে সক্ষম হয়েছিলেন। আর এমন একজন সিদ্ধপুরুষের দিব্যস্পর্শে তাঁর মহত্ত্বও যে দিগন্তপ্রসারী হয়ে উঠবে তা সকলেরই অনুমেয় ছিল।

পরিশেষে আজকের এই শুভ দিনটিতে উবুন্টুর পথ ধরে এবং তাঁর অমিয় বাণী- “একাকী নয় জগৎ লয়ে, চলরে আনন্দ হয়ে” অনুসরনের মাধ্যমে জগতের সকলকে সঙ্গে নিয়েই সামনে এগিয়ে যাই। একইসাথে মহাবিশ্বের বিশালতার মাঝে আমাদের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অস্তিত্বগুলোকে মিশিয়ে দিয়ে প্রতিটি জীবনকেই সার্থক করে তুলতে প্রয়াসী হই। তাই আর কোন বিচ্ছিন্নতা বা একাকিত্ব নয়, বরং জগতের সবার সঙ্গে মিলেমিশে থেকে জীবনের প্রকৃত আনন্দ উপভোগ করি। আমি’ এবং ‘আমিত্ব’ এই বোধটিকে চিরতরে নির্বাসনে পাঠিয়ে সমগ্র সৃষ্টিকে আপনার ভেবে হৃদয়ে ধারণ করি। দক্ষিণ আফ্রিকার ওই শিশুদের মত একে অন্যের হাত ধরে, আনন্দের পথে যাত্রা শুরু করি। আর সমপ্রাণে মুক্তকন্ঠে বলে উঠি –

মনের আনন্দে এস প্রেমনীরে ভাসি সবাই,
প্রেম রাজ্য সমাগত সম্মুখে দেখরে ভাই।
বনের পশু পক্ষী সব, আনন্দে করিছে রব,
বসন্তের অনুভব চারিদিকে দেখিতে পাই।
অবিনাশী পূর্ণ শশী, বিরাজে অমিয়া হাসি,
হৃদয় আসনে বসি আনন্দের আর সীমা নাই।
(সর্ব্ব ধর্ম্মগীত - প্রথম খন্ড)

*** জয় দয়াময় ***

॥ ১১ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ॥ ২৫শে এপ্রিল, ২০২৬ খৃষ্টাব্দ ॥ শনিবার ॥

প্রখ্যাত লালন সম্রাজ্ঞী ফরিদা পারভীনের জীবন ও কর্ম নিয়ে ফাহিম সব্যসাচীর লেখা জীবনালেখ্য 'অন্তরে অচিন পাখি' শীঘ্রই প্রকাশ...
21/04/2026

প্রখ্যাত লালন সম্রাজ্ঞী ফরিদা পারভীনের জীবন ও কর্ম নিয়ে ফাহিম সব্যসাচীর লেখা জীবনালেখ্য 'অন্তরে অচিন পাখি' শীঘ্রই প্রকাশিত হতে যাচ্ছে। ধ্রুব এষের প্রচ্ছদে জোড়া শালিক প্রকাশনী থেকে এটি তাদের ৬৯তম বই হিসেবে বাজারে আসছে, যা লোকসংগীত অনুরাগী পাঠকদের জন্য একটি অনন্য সংগ্রহ হবে।

14/04/2026

প্রেম নগরে উঠলো ধ্বনি দিনতো বয়ে যায়....

শুভ জন্মতিথি প্রিয় দিদি ❤️​দিদিকে নিয়ে কিছু লিখতে চাওয়াটা সত্যিই এক দুঃসাহসের ব্যাপার। আমার জীবনে দেখা হাতেগোনা কয়েকজন অ...
13/04/2026

শুভ জন্মতিথি প্রিয় দিদি ❤️

​দিদিকে নিয়ে কিছু লিখতে চাওয়াটা সত্যিই এক দুঃসাহসের ব্যাপার। আমার জীবনে দেখা হাতেগোনা কয়েকজন অসাধারণ ও মহৎ হৃদয়ের মানুষের মধ্যে তিনি নিঃসন্দেহে অন্যতম। তাঁর সহজ-সরল মন, স্বচ্ছ দৃষ্টিভঙ্গি এবং উদার চেতনা যে কাউকেই মুগ্ধ করে।

​শত ব্যস্ততার মাঝেও মহর্ষি মনোমোহন দত্তের আদর্শ প্রচারে তিনি নিজেকে উৎসর্গ করেছেন। পরম পূজনীয় শ্রীমৎ স্বামী বিল্বভূষণ গুরু মহারাজের যোগ্য জ্যেষ্ঠা তনয়া শ্রীমতী কল্যাণী দত্ত মহোদয়ার আজ শুভ জন্মতিথি।

​এই পুণ্যলগ্নে দিদির চরণে আমার সশ্রদ্ধ প্রেমভক্তি ও বিনম্র প্রণাম। দয়াময় আপনাকে সর্বদা সুস্থ ও আনন্দময় রাখুক, যেন আপনার আলোকবর্তিকা আমাদের এভাবেই পথ দেখিয়ে যায়।

Address

Dhaka

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when মহর্ষি মনোমোহন ফাউন্ডেশন Maharshi Monomohan Foundation posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Place Of Worship

Send a message to মহর্ষি মনোমোহন ফাউন্ডেশন Maharshi Monomohan Foundation:

Share