25/04/2026
উবুন্টু, একাকী নয় জগৎ লয়ে এবং শ্রীআনন্দ
- অঞ্জন সাহা
(একজন নৃতত্ববিদ (anthropologist) দক্ষিণ আফ্রিকার খোসা (Xhosa) উপজাতিদের নিয়ে কাজ করছিলেন। কাজ করার সময়, একদিন তিনি একটি ঝুড়ি ভর্তি ফল নিয়ে একটি গাছের নীচে রাখলেন, যেখানে ওই উপজাতির ছোট ছোট ছেলে-মেয়েরা খেলা করছিল। তিনি তাদের ডেকে বললেন, “তোমাদের মধ্য থেকে যে সবার প্রথমে দৌড়ে ওই ঝুড়ির কাছে পৌঁছাতে পারবে, সব ফলগুলো সে-ই পাবে”। কিন্তু কি আশ্চর্য, তিনি লক্ষ্য করলেন এই পুরস্কার কিংবা তার দেয়া শর্তের কথা শুনে তাদের একজনও দৌড়ানোর চেষ্টা করলো না, বরঞ্চ, তারা একটা অদ্ভুত রকমের আচরণ করতে লাগলো। তারা সকলেই একজন অন্যজনের হাত ধরে একসাথে ওই ঝুড়ি ভর্তি ফলের দিকে এগিয়ে যেতে লাগলো। সাধারন প্রতিযোগিতার মতো কেউ ফার্স্ট, সেকেন্ড কিংবা লাস্ট হলো না! সবাই মিলে একসাথে পৌঁছে, ফলের ঝুড়িটির চারপাশে গোল হয়ে বসে ফলগুলো খেতে লাগলো। ভীষন আশ্চর্য হয়ে ওই নৃতত্ববিদ যখন তাদের এই অদ্ভুত ব্যবহারের কারণ জিজ্ঞেস করলেন, তখন তারা সমস্বরে চিৎকার করে বলে উঠল- “উবুন্টু! (UBUNTU)”। তিনি ভীষন অবাক হয়ে তাদের কাছে এই শব্দের মানে জানতে চাইলেন। তারা উত্তরে বললো, “আমাদের মধ্যে একজন এই দৌড়ে জিতে কি করে আনন্দ করতে পারে, যেখানে আমাদের বাকি বন্ধুরা হেরে যাওয়ার জন্য দুঃখ করবে?” অবাক নৃতত্ববিদ ঘরে ফিরে এসে ভালো করে খোঁজখবর নিয়ে জানতে পারলেন Ubuntu কথাটার মানে। দক্ষিণ আফ্রিকার ওই Xhosa উপজাতির সংস্কৃতিতে “উবুন্টু“কথাটার মানে হলো - I am because we are! যার অর্থ হল –আমরা সবাই আছি বলেই আমি আছি। এবং তারা এই দর্শনটিকে বহু কাল ধরেই তাদের জীবনযাপনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে পালন করে আসছে।)
তৎকালীন ভারতবর্ষের আধ্যাত্মিক আকাশে যে কজন জ্যোতিষ্ক উবুন্টুর মতই একাকী নয় বরং জগতের সকলকে নিয়েই পথচলার মহান ব্রত নিয়ে আবির্ভূত হয়েছিলেন, মহারাজ আনন্দস্বামী তাঁদের মধ্যে অন্যতম। ধর্মে ধর্মে হানাহানি, ভেদাভেদ, বর্ণপ্রথা প্রভৃতিকে অগ্রাহ্য করে এমন এক ধর্ম-মতের তত্ত্ব উপস্থাপন করেছিলেন, যা সকল ব্যবধান ঘুচিয়ে সকল ধর্মকে এবং সকল মানুষকে এক উদার, মানবতাবাদী মানব বিশ্বে প্রতিস্থাপন করতে সহায়তা করে।
১২৩৯ বঙ্গাব্দের ১১ই বৈশাখ অর্থাৎ আজকের এই তারিখটিতে তিনি তৎকালীন ত্রিপুরা (বর্তমানে ব্রাহ্মনবাড়িয়া) জেলার অন্তর্গত কালীকচ্ছ গ্রামে জন্মগ্রহন করেন। তাঁর পিতার নাম রামদুলাল নন্দী আর মায়ের নাম আনন্দময়ী । জন্মের পর মায়ের নামের সাথে মিল রেখেই তাঁর নামটি রাখা হয় শ্রী আনন্দ অর্থাৎ আনন্দ চন্দ্র নন্দী। পরবর্তীকালে যিনি তাঁর সাধন কর্মের মাধ্যমে সকলের কাছে মহারাজ আনন্দস্বামী নামে পরিচিতি লাভ করেছিলেন। তাঁর স্ত্রীর নাম ছিল জয়দুর্গা, যাকে তিনি অন্নপূর্ণা নামে সম্বোধন করতেন।
তিনি ছিলেন পরম করুণাময় সৃষ্টিকর্তার ‘দয়াময়’ নামের নিবেদিতপ্রাণ একজন উপাসক। সর্বধর্ম সমন্বয়ী ভাবনাই ছিল তাঁর সাধনকর্মের মূল প্রেরণা। তিনি শুধুমাত্র একজন আধ্যাত্মিক সাধকই ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন একাধারে সমাজ সংস্কারক ও মানবপ্রেমিক। তাঁর জীবনের মূল লক্ষ্য ছিল সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে জগতের সকল মানুষকে একই সুতোয় গেঁথে এক আনন্দময় বিশ্বের পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। তিনি বিশ্বাস করতেন, সবাইকে সঙ্গে নিয়ে আনন্দিত মনে চলার পথই হলো মুক্তির পথ। আর সে কারনেই তিনি বিশ্বভ্রাতৃত্বের আহ্বান জানিয়ে দৃপ্তকন্ঠে উচ্চারণ করেছিলেন-
একাকী নয় জগৎ লয়ে, চলরে আনন্দ হ’য়ে;
কেনরে কুন্ঠিত মনে, ভয় কিছু নাই।
কৈবল্যধামে যাবে কে আয়রে তোরা ভাই।
(সর্ব্ব ধর্ম্মগীত - প্রথম খন্ড)
যদিও মানুষ প্রকৃতিগতভাবেই একা একা বাঁচতে পারে না। তাই সৃষ্টির আদিকাল থেকেই তারা একে অন্যের ওপর নির্ভরশীল। তা সত্বেও মানুষের মধ্যে আমি’ এবং ‘আমিত্ব’ এই বোধটি প্রায়শই প্রবল হয়ে ওঠে। যার কারনে তারা এই আমিকে সবার কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন করে এককের বেদীতে স্থাপন করতে উদ্যোগী হয়ে পড়ে। ভুলে যায় যে, এই ব্যক্তিসত্বা বা এই আমিত্ব হচ্ছে মহাবিশ্বের ক্ষুদ্র থেকে অতি ক্ষুদ্রতম একটি অংশ। আর অংশের পক্ষে কখনো পূর্ণতা প্রাপ্তি সম্ভব নয়, কেননা পূর্ণতা প্রাপ্তি ঘটে একমাত্র সমগ্রতায়। তাদের এটাও স্মরণে থাকে না, অংশ হলো একটি প্রক্রিয়া, আর সমগ্রতা হলো তার পরিণতি। এই খণ্ড সত্তা দিয়ে কখনো সত্যকে চেনা যায় না, সত্যকে চিনতে হয় তার সামগ্রিক রূপে। তাই, এই ব্যক্তিসত্বা বা আমিত্বকে মহাবিশ্বের অসীমের সাথে মিশিয়ে দিতে পারাটাই হলো প্রতিটি ব্যক্তিরই জীবনের চরম স্বার্থকতা।
ইংরেজীতে একটি কথা আছে - ‘The whole is more than the sum of its parts.’ অর্থাৎ, সমগ্রতা বা সমষ্টির শক্তি তার আলাদা আলাদা অংশগুলোর শক্তির যোগফলের চেয়েও বেশি। আমি'র মধ্যে থাকে সীমাবদ্ধতা, কিন্তু আমরা কিংবা আমাদের মধ্যে থাকে অসীম সম্ভাবনা। যখন কেউ বলে "আমি এটি করেছি", তখন সেখানে কেবল আত্ম-অহংকারের চিত্রই ফুটে ওঠে। কিন্তু যখন আমরা বলি "আমরা এটি করেছি", তখন সেখানে ফুটে ওঠে ভালোবাসা, সহযোগিতা আর পারস্পরিক শ্রদ্ধা।
মহারাজ আনন্দস্বামীর দর্শন আমাদের শেখায় যে মুক্তি মানে সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া নয়, বরং জগতের সকল মানুষকে পরম আত্মীয়রূপে বরণ করে নেয়া। তাঁর রচিত বিভিন্ন গ্রন্থেও সুনির্দিষ্টভাবে এই বিষয়টির উল্লেখ পাওয়া যায়। বিশেষ করে তাঁর অমর সৃষ্টি প্রকৃত তত্ত্ব গ্রন্থের ১৫নং তত্ত্বে বর্ণিত – “বাস্তবিক আমি যাহা তুমিও তাহা, এই সমভাব জ্ঞানযোগেতে স্থিরতর হয় এবং প্রেমযোগেতে কার্য্যে পরিণত হয়”, ৪১নং তত্ত্বে উল্লেখিত “প্রত্যেকের সঙ্গে প্রত্যেকের আধ্যাত্মিক প্রেম সম্বন্ধ রহিয়াছে, ইহাতে যাহার স্থির বিশ্বাস হইবে তাহার হৃদয় হইতে শীঘ্রই বিবাদ বিসম্বাদের ভাব চলিয়া যাইবে”, কিংবা ৪২নং তত্ত্বে উল্লেখিত “আপনার ন্যায় সকলেতে বিশেষ ভাব যাহার আছে সেই সাধু” - এই কথাগুলো আমাদের ভেতরকার মমত্ববোধকে প্রসারিত করে উবুন্টু তত্ত্বের পথে চালিত করতে সহায়তা করে।
“একাকী নয় জগৎ লয়ে” এই মহান ভাবনাটিকে তিনি নিজ জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে প্রয়োগ করার পাশাপাশি তাঁর ভক্ত-শিষ্যরূপী পরবর্তী প্রজন্মের প্রাণেও অত্যন্ত সফলতার সাথে সঞ্চারিত করতে পেরেছিলেন। তেমনই কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তির নামের একটি তালিকা পাওয়া যায় শ্রী লব চন্দ্র পাল প্রণীত এবং সর্ব্ব ধর্ম্ম মিশন কতৃক প্রকাশিত ‘শ্রীশ্রীমৎ আচার্য্য মহারাজ” গ্রন্থের “শিষ্যদের কথা”- শীর্ষক পঞ্চম অধ্যায়টিতে। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে- “শ্রীশ্রী আচার্য্য মহারাজের যে কয়েকজন ভক্ত তাঁহার শিষ্য হইয়াছিলেন এবং তাঁহার আদর্শ লইয়া জীবন গঠন করিতে প্রবৃত্ত হইয়াছিলেন তাহাদের নাম এখানে দেওয়া গেলঃ – মহেন্দ্র বাবু, মনোমোহন দত্ত, কামিনী কান্ত ঘোষ, প্রিয়নাথ দত্ত, দ্বারকানাথ দত্ত, গোপাল দাস বাবাজী, জুলমত কারী, কুমার শীল, বিশ্বম্ভর নাথ, রাম দয়াল সাধু, গোল মামুদ, পঞ্চানন সাধু, চরণ সাধু, অন্নদা, সিদ্ধি সাধক, নবীন কাওলাত, শিবনাথ চঙ্গ প্রমুখ”। “সর্ব্ব ধর্ম্ম সাধন তত্ত্ব ও প্রণালী” নামক তাঁর (মহারাজ আনন্দস্বামী) রচিত আরেকটি গ্রন্থেও উপরোক্ত শিষ্যগণের মধ্য হতে কয়েকজনের নামের উল্লেখ পাওয়া যায় যারা তাঁর সঙ্গে তাঁদের নিজেদের সাধনকর্মের বিষয়ে নিয়মিত বৈঠকে অংশগ্রহন করতেন।
একজন উচ্চকোটি সাধকের পাশাপাশি তিনি একজন গুরু হিসেবেও যে কতটা সফল ছিলেন তা তাঁর অন্যতম একজন প্রিয় শিষ্য মহর্ষি মনোমোহনের জীবনাচরণের দিকে দৃষ্টিপাত করলেই বোঝা যায়। তাঁর এই শিষ্যের কাছে গুরু প্রদত্ত ধর্মমতটি ছিল এমনি এক প্রজ্জ্বলিত মশাল, যা তিনি দৃঢ় হাতে আরো এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন স্ব-মহিমায়। গুরুদেবের মত তিনিও মনে করতেন, এই ‘আমি’ বা আমিত্বের বিনাশ মানে অস্তিত্ব হারানো নয়, বরং নিজেকে বিশ্বজনীন সত্তার সাথে মিলিয়ে দেওয়া। আর সে কারনে তিনিও উদাত্ত কন্ঠে আহ্বান জানিয়ে বলতে পেরেছিলেন -
পুত্র পরিজন প্রতি যে মমতা আাছে,
ছড়াইয়া দাও তাহা জগতের মাঝে।
সকলি আত্মীয় বলে হৃদয়ে ভাবিয়া,
যথাসাধ্য সেবা কর প্রভুত্ব ছাড়িয়া।
ব্রহ্মান্ড তোমার যদি হইল স্বগণ,
স্বার্থবুদ্ধি দূরে গিয়ে শুদ্ধ হবে মন।
(সেবা- পাথেয় গ্রন্থ)
যদিও তিনি নিজে কার কাছ থেকে শিষ্যত্ব গ্রহণ করেছিলেন, তার উল্লেখ বিশেষভাবে তেমন কোথাও পাওয়া যায় না। তবে শ্রীমৎ স্বামী যোগানন্দ এবং প্রদীপ আচার্য প্রণীত এবং শ্রীশ্রী ঠাকুর হংসরাজ সোহংমণি আশ্রম, ব্রজনগর, মোহনপুর, রাণীরবাজার,পশ্চিম ত্রিপুরা কতৃক প্রকাশিত “শিবকল্প মহাযোগী শ্রীশ্রী ঠাকুর হংসরাজ সোহংমণি” গ্রন্থের “শ্রীশ্রী ঠাকুরের বাল্যলীলা এবং শিক্ষা”- শীর্ষক অধ্যায়ে একটি সূত্রের উল্লেখ পাওয়া যায়। সেখানে সুরেন্দ্র নাথের (পরবর্তীতে যিনি শ্রীশ্রী ঠাকুর হংসরাজ সোহংমণি নামে প্রসিদ্ধি লাভ করেছিলেন) মনিঅন্ধ গ্রামে অবস্থিত নিজ বাড়ী থেকে কালীকচ্ছে আসা, তিনদিন অবস্থান, তাঁর (মহারাজ আনন্দস্বামী) সাথে শাস্ত্রের বিভিন্ন প্রসঙ্গ নিয়ে আলোচনা এবং হিমালয় থেকে গুরুদেবের আগমন ও দীক্ষাপ্রাপ্তি সংক্রান্ত একটি বর্ণনা পাওয়া যায়।
সে বর্ণনা অনুযায়ী, “তাঁর গুরু কে ছিলেন?” - এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি সুরেন্দ্র নাথকে জানিয়েছিলেন, তিনি তাঁর গুরুকে মাত্র একরাত্রের জন্য কাছে পেয়েছিলেন। তিনি সূদুর হিমালয় থেকে এসেছিলেন তাঁকে এবং তাঁর স্ত্রীকে দীক্ষা প্রদান করার জন্য। হিমালয় থেকে তিনি প্রথমে এসেছিলেন গঙ্গাসাগর মেলায়, কপিল মুনিকে দর্শন করবেন বলে। তারপর গঙ্গাসাগর মেলা থেকে সেই সৌম্য দর্শন, জটাজুটধারী, গেরুয়া পরিহিত, এক হাতে কমন্ডলু অন্য হাত চিমটে এবং বগলে হরিণের ছালের আসনধারী মহাপুরুষটি হাজির হয়েছিলেন কালীকচ্ছে। কালীকচ্ছে এসে তিনি প্রথমেই ঘোষনা করেছিলেন, ভগবান শিবই তাঁকে এখানে পাঠিয়েছেন শুধুমাত্র তাঁদের দুজনকে দীক্ষা প্রদানের জন্য। তাই সেদিন কেবলমাত্র একটি রাতের জন্য আতিথ্য গ্রহন করে পরদিন ভোরে তিনি তাঁদের দুজনকে দীক্ষা প্রদান করেই অন্তর্হিত হয়েছিলেন। যার কারনে তাঁর দীক্ষাদাতা হিমালয়বাসী সে সিদ্ধপুরুষটির নাম তাঁর পক্ষে আর কখনোই জানা সম্ভব হয়নি। সেদিন দীক্ষাগ্রহন উপলক্ষে কালীকচ্ছের বাড়ীতে পাড়ার সকলকে তিনি নিজেই নিমন্ত্রণ করেছিলেন এই কথাটিও তিনি আলাপের এক পর্যায়ে সুরেন্দ্র নাথকে বলেছিলেন ।
তাঁর জীবনে ঘটে যাওয়া এই অবিশ্বাস্য ঘটনাটিই প্রমান করে, কারো পক্ষে এমন একজন মহাত্মার আশীর্বাদ প্রাপ্তি কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়, বরং তা এক দীর্ঘ সাধনা ও একনিষ্ঠ অনুশীলনের পরিনাম। তিনি এই মহানামটি তাঁর গুরুর কাছ থেকে অর্জন করতে পেরেছিলেন তার সাধন-কর্মের শক্তির মাধ্যমে। দয়াময়ের প্রতি তিনি তাঁর ঐকান্তিক নিষ্ঠা, ভক্তি ও প্রেম নিবেদনের মাধ্যমেই নিজেকে যথাযোগ্য করে তুলতে সক্ষম হয়েছিলেন। আর এমন একজন সিদ্ধপুরুষের দিব্যস্পর্শে তাঁর মহত্ত্বও যে দিগন্তপ্রসারী হয়ে উঠবে তা সকলেরই অনুমেয় ছিল।
পরিশেষে আজকের এই শুভ দিনটিতে উবুন্টুর পথ ধরে এবং তাঁর অমিয় বাণী- “একাকী নয় জগৎ লয়ে, চলরে আনন্দ হয়ে” অনুসরনের মাধ্যমে জগতের সকলকে সঙ্গে নিয়েই সামনে এগিয়ে যাই। একইসাথে মহাবিশ্বের বিশালতার মাঝে আমাদের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অস্তিত্বগুলোকে মিশিয়ে দিয়ে প্রতিটি জীবনকেই সার্থক করে তুলতে প্রয়াসী হই। তাই আর কোন বিচ্ছিন্নতা বা একাকিত্ব নয়, বরং জগতের সবার সঙ্গে মিলেমিশে থেকে জীবনের প্রকৃত আনন্দ উপভোগ করি। আমি’ এবং ‘আমিত্ব’ এই বোধটিকে চিরতরে নির্বাসনে পাঠিয়ে সমগ্র সৃষ্টিকে আপনার ভেবে হৃদয়ে ধারণ করি। দক্ষিণ আফ্রিকার ওই শিশুদের মত একে অন্যের হাত ধরে, আনন্দের পথে যাত্রা শুরু করি। আর সমপ্রাণে মুক্তকন্ঠে বলে উঠি –
মনের আনন্দে এস প্রেমনীরে ভাসি সবাই,
প্রেম রাজ্য সমাগত সম্মুখে দেখরে ভাই।
বনের পশু পক্ষী সব, আনন্দে করিছে রব,
বসন্তের অনুভব চারিদিকে দেখিতে পাই।
অবিনাশী পূর্ণ শশী, বিরাজে অমিয়া হাসি,
হৃদয় আসনে বসি আনন্দের আর সীমা নাই।
(সর্ব্ব ধর্ম্মগীত - প্রথম খন্ড)
*** জয় দয়াময় ***
॥ ১১ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ॥ ২৫শে এপ্রিল, ২০২৬ খৃষ্টাব্দ ॥ শনিবার ॥