Nakhalpara Hajj Kafela

Nakhalpara Hajj Kafela HAJJ MADE EASY

হজ্জে করণীয়সফরের পূর্বে• সফরের সপ্তাহখানেক পূর্বে হজ্জ বিষয়ে দিনব্যাপী গুরুত্বপূর্ণ প্রশিক্ষণ কর্মসূচীতে হাজির থাকা।• আপ...
01/12/2016

হজ্জে করণীয়
সফরের পূর্বে
• সফরের সপ্তাহখানেক পূর্বে হজ্জ বিষয়ে দিনব্যাপী গুরুত্বপূর্ণ প্রশিক্ষণ কর্মসূচীতে হাজির থাকা।
• আপনাকে দেয়া হজ্জ-উমরার বইটি বার বার অধ্যয়ন এবং হজ্জ/উমরার ফরয, ওয়াজিব, সুন্নাহ ও অন্যান্য নিয়ম-কানুন সফরের আগেই জেনে নেয়া।
• তালবিয়্যা ও প্রয়োজনীয় দোয়া মুখস্থ করা।
• কাফেলার সম্পূর্ণ টাকা সময়মত পরিশোধ করার পর পাসপোর্ট/টিকেট সংগ্রহ করা।
সফরকালীন সময় করণীয়
• উড়োজাহাজ উড্ডয়ন করার ৪ ঘন্টা আগে আপনার পাসপোর্ট-টিকেট ও মালামাল নিয়ে ঢাকা বিমানবন্দরে হাজির হওয়া। আল্লাহর মেহেরবানিতে জেদ্দা পৌঁছালে আপনার গ্র“প লিডারের সাথে বিমান থেকে নেমে ইমিগ্রেশন কাউন্টারে যাবেন এবং লাইন ধরে ইমিগ্রেশনের কাজ শেষ করে বেল্ট থেকে নেক্সাস হজ্জ গ্র“প লোগোযুক্ত আপনাদের লাগেজ সংগ্রহ করে বের হবেন। আপনার লাগেজের উপর সফরের আগেই নাম-ঠিকানা স্পষ্ট করে লিখে নেবেন।
• ইমিগ্রেশন থেকে বের হবার সময় আপনার লাগেজগুলো হজ্জ কর্মীরা গাড়িতে করে বিমানবন্দরের ভিতরে বাংলাদেশ হজ্জ প্লাজায় নিয়ে যাবেন। লাগেজগুলো তখন তাদের দিয়ে দেবেন।
• এরপর গ্র“প লিডারের নেতৃত্বে যাবেন বাংলাদেশের পতাকাবেষ্টিত হজ্জ প্লাজায়। সেখানেও কিছু অফিসিয়াল নিয়মনীতি সম্পন্ন করে বাসে উঠে প্রথমে মক্কায় মুয়াল্লিম অফিসে, কিছুক্ষণ পরে আপনার হোটেলে উঠাবেন। এসব স্থানে পদে পদে ল¤¦া লাইন ও দীর্ঘ প্রতীক্ষায় থাকার জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকতে হবে।
• এসব ক্ষেত্রে নিজের অসুবিধা হলেও সবসময় অন্যকে সহযোগিতা করা।
মক্কা শরীফ পৌঁছে
• হোটেলে একটু বিশ্রাম করে পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন হয়ে দলনেতার নেতৃত্বে কাবা ঘরে যাবেন উমরা করতে। দল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে কিভাবে আপনি আপনার রুমে ফিরবেন- তা আগেই প্রস্তুতি নিয়ে রাখবেন।
• মুয়াল্লিম কার্ড, হোটেল ও তাঁবুর ঠিকানা কার্ড সবসময় আপনার সাথে রাখতে হবে। কখনো হারিয়ে গেলে এই কার্ড দেখিয়ে আপনাকে নিজ দায়িত্বে হোটেল বা তাঁবুতে ফিরে আসতে হবে। উল্লেখ্য, হারিয়ে গেলে আপনাকে খুঁজে বের করা কঠিন। কাজেই হারিয়ে গেলে আপনি নিজি দায়িত্বে ফিরে আসবেন- এমন প্রস্তুতিতে সর্বদা তৎপর থাকবেন। অথবা বাংলাদেশ সরকারী হজ্জ মিশনে চলে যাবেন।
• প্রতি হাজী তার গ্র“প লিডার ও আপনজনদের মোবাইল ন¤¦র সাথে রাখবেন। কোথাও আসা-যাওয়া করলে গ্র“প লিডারকে জানিয়ে যাবেন এবং তার সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে চলবেন। অবশ্য নেক্সাস হজ্জ গ্র“প থেকে প্রদত্ত ব্যাগে গ্র“প লিডারের মোবাইল ন¤¦র থাকবে।
• হজ্জ গাইডের নির্দেশনা মেনে চলা এবং কোথাও যাওয়ার আগে গাইডকে অবগত করে যাওয়া।
• রুমের সকলের সাথে সমঝোতার ভিত্তিতে এসি চালু বা বদ্ধ করা।

জেনে নিন কোন হজ আদায় করা সহজহজ শারীরিক ও আর্থিক ইবাদাত। যারা সম্পদশালী এবং শারীরিক সামর্থ্য রয়েছে তাদের ওপর হজ আদায় করা ...
01/12/2016

জেনে নিন কোন হজ আদায় করা সহজ

হজ শারীরিক ও আর্থিক ইবাদাত। যারা সম্পদশালী এবং শারীরিক সামর্থ্য রয়েছে তাদের ওপর হজ আদায় করা ফরজ। তাই সামর্থ্যবানদের মধ্যে যারা হজ আদায়ে বাইতুল্লাহর সফরের ইচ্ছা পোষণ করেন, তাদের জন্য হজের প্রকারভেদ জানা আবশ্যক। কেননা এ ফরজ হজ তিনভাবে আদায় করা যায়। যা সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো-
হজের প্রকারভেদ
হজ তিনভাবে আদায় করা যায়-
১. হজে তামাত্তু
২. হজে ক্বিরান
৩. হজে ইফরাদ
হজে তামাত্তু
হজের মাসসমূহে (শাওয়াল, জিলক্বদ, জিলহজ) হজের সফরে প্রথমেই ওমরার নিয়তে ইহরাম বেঁধে তামাত্তু হজের অংশ বিশেষ ওমরা আদায় করা। তামাত্তু হজ আদায়কারী ব্যক্তি ওমরা আদায়ের পর ইহরাম থেকে মাথার চুল কর্তনের মাধ্যমে ইহরাম থেকে বের হয়ে ৮ জিলহজের পূর্ব পর্যন্ত অন্যান্য জিয়ারাত (মদিনাসহ মক্কার ঐতিহাসিক স্থানসমূহ) সম্পন্ন করা। পরে ৮ জিলহজের পূর্বেই হজের নিয়তে ইহরাম বেঁধে হজের বাকি কাজগুলো সম্পন্ন করা।
হজে ক্বিরান
হজের মাসসমূহে (শাওয়াল, জিলক্বদ, জিলহজ) একই সঙ্গে হজ ও ওমরা পালনের নিয়তে ইহরাম বাঁধা এবং একই ইহরামে ওমরা আদায়ের পর ইহরাম থেকে না বেরিয়ে হজ সম্পন্ন করা।
হজে ইফরাদ
হজের মাসসমূহে (শাওয়াল, জিলক্বদ, জিলহজ) শুধুমাত্র হজ পালনের নিয়তে ইহরাম বেঁধে হজ সম্পাদন করাকে হজে ইফরাদ বলে।
উল্লেখিত প্রকারগুলোর মধ্যে হজে তামাত্তু আদায় করা সহজ ও উত্তম। তামাত্তু,ক্বিরান ও ইফরাদ হজ আদায়ের নিয়মাবলী ধারাবাহিকভাবে তুলে ধরা হবে ইনশাআল্লাহ।
আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহর মধ্যে হজের ইচ্ছাপোষণকারী সকলকে যথাযথভাবে হজ আদায়ের তাওফিক দান করুন। হজের সফরের সকল যাত্রীর এ দোয়া করা আবশ্যক যে, ‘হে আল্লাহ! আমার হজ আদায় করাকে সহজ করে দিন; আমার হজের কার্যক্রমকে কবুল করুন।’ আল্লাহ তাআলা বাইতুল্লাহর সকল মেহমানের হজকে কবুল করুন। আমিন।

হজ্জ সফরের পূর্বে করণীয় সফরের আদব  সফরের পূর্বে করণীয়  (الأعمال قبل السفر)১. (ক) নিজের হালাল মাল থেকে হজ্জ করা (খ) ঋণসমূ...
01/12/2016

হজ্জ সফরের পূর্বে করণীয় সফরের আদব


সফরের পূর্বে করণীয় (الأعمال قبل السفر)
১. (ক) নিজের হালাল মাল থেকে হজ্জ করা (খ) ঋণসমূহ পরিশোধ করা (গ) শরীকদের অংশ বুঝে দেওয়া (ঘ) পরিবারের জন্য অছিয়ত করা বা অছিয়তনামা লিপিবদ্ধ করা ও তাদের প্রতি তাক্বওয়ার উপদেশ দেওয়া (ঙ) খালেছ অন্তরে তওবা করা।
২. সফরের পূর্বে হাজী ছাহেবগণ যাতায়াত ব্যবস্থা ও মক্কা-মিনা-আরাফা-মুযদালিফা প্রভৃতি অবস্থান সম্পর্কে এবং হজ্জের আরকান-আহকাম ও যাবতীয় নিয়ম-কানূন ভালভাবে জেনে নিবেন। বিশেষ করে সফরের দো‘আ, ইহরামের দো‘আ ও ‘তালবিয়াহ’ ভালভাবে মুখস্ত করবেন। এতদ্ব্যতীত ইহরাম বাঁধা, ছালাত জমা ও ক্বছর করা, তায়াম্মুম করা, মোযা মাসাহ করা ইত্যাদি বিষয়গুলির বাস্তব প্রশিক্ষণ নিবেন।
তার জন্য বড় উপদেশ হ’ল এই যে, তাকে সফরের পক্ষকাল পূর্ব থেকে প্রতিদিন সকালে অন্ততঃ ৩ কিঃ মিঃ দ্রুত হেঁটে অথবা বাড়ীতে যোগ ব্যায়াম করে নিজেকে শক্ত ও কষ্টসহিষ্ণু করে নিতে হবে। যা সফরে তাকে বাড়তি শক্তি যোগাবে।
৩. সফরের জন্য যোগ্য, জ্ঞানী, নেককার ও সচেতন সাথী তালাশ করা। একাকী সফর করতে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) নিষেধ করেছেন। সফরে তিন জন থাকলেও একজনকে ‘আমীর’ নিয়োগ করবেন। সকলে সর্বাবস্থায় একত্রে থাকবেন ও একত্রে সব কাজ করবেন। কেননা রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, ‘সফর অবস্থায় বিচ্ছিন্ন থাকা শয়তানী কাজ’।
সফরের আদব (آداب السفر) :
১. বাড়ী থেকে বের হওয়ার সময় পড়বেন-
بِسْمِ اللهِ تَوَكَّلْتُ عَلَى اللهِ وَلاَحَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ إِلاَّ َبِاللهِ-
উচ্চারণ: বিসমিল্লা-হি তাওয়াক্কাল্তু ‘আলাল্লা-হি ওয়া লা হাওলা ওয়া লা কুউওয়াতা ইল্লা বিল্লা-হ’।
অর্থ: ‘আল্লাহর নামে (বের হচ্ছি), তাঁর উপরে ভরসা করছি। নেই কোন ক্ষমতা, নেই কোন শক্তি আল্লাহ ব্যতীত’।
২. নিজের পরিবার, আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধু-বান্ধব সকলের নিকট থেকে বিনম্রচিত্তে বিদায় নিবেন এবং পরস্পরের উদ্দেশ্যে নিম্নের দো‘আটি পাঠ করবেন,
أَسْتَوْدِعُ اللهَ دِينَكُم وَأَمَانَتَكُمْ وَخَوَاتِيْمَ أَعْمَالِكُمْ-
উচ্চারণ: ‘আস্তাউদি‘উল্লা-হা দীনাকুম ওয়া আমা-নাতাকুম ওয়া খাওয়া-তীমা আ‘মা-লিকুম’।
অর্থ: ‘আমি আপনার দ্বীন, আপনার আমানত সমূহ ও আপনাদের শেষ আমল সমূহকে আল্লাহর যিম্মায় ন্যস্ত করলাম’।[5] এখানে ‘আমানতসমূহ’ অর্থ ‘ন্যস্ত দায়িত্ব সমূহ’ এবং ‘শেষ আমল’ অর্থ ‘মৃত্যুকালীন সুন্দর আমল (حسن الخاةمة) ’ (মিরক্বাত)।
‘কুম’ সর্বনামটি বহুবচনে এবং সম্মানী ব্যক্তির ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। তবে একবচনে ‘কুম’-এর স্থলে ‘কা’ বলা যাবে। পরস্পরে ডান হাত ধরে দো‘আটি পাঠ করে পরস্পরকে বিদায় দিবেন।
৩. বিদায় দানকারীগণ তার জন্য উপরের দো‘আটি ছাড়াও নিম্নের দো‘আটিও পাঠ করবে-
زَوَّدَكَ اللهُ التَّقْوَى وَغَفَرَ ذَنْبَكَ وَيَسَّرَ لَكَ الْخَيْرَ حَيْثُ مَا كُنْتَ-
উচ্চারণ: যাউয়াদাকাল্লা-হুত্ তাক্বওয়া ওয়া গাফারা যাম্বাকা ওয়া ইয়াস্সারা লাকাল খায়রা হায়ছু মা কুন্তা’।
অর্থ: ‘আল্লাহ আপনাকে তাক্বওয়ার পুঁজি দান করুন! আপনার গোনাহ মাফ করুন এবং আপনি যেখানেই থাকুন আপনার জন্য কল্যাণকে সহজ করে দিন’।
৪. অতঃপর গাড়ী বা বিমানের সিঁড়িতে পা দিয়ে ‘বিসমিল্লাহ’, উঠার সময় ‘আল্লাহু আকবর’ এবং সীটে বসে ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলবেন। অতঃপর নামার সময় ‘সুবহা-নাল্লাহ’ বলবেন।[8]
পরিবহন চলতে শুরু করলে তিনবার আল্লাহু আকবর বলে নিম্নের দো‘আটি পাঠ করবেন-
سُبْحَانَ الَّذِىْ سَخَّرَلَنَا هَذَا وَمَا كُنَّا لَهُ مُقْرِنِيْنَ، وَإِنَّا إِلَى رَبِّنَا لَمُنْقَلِبُوْنَ- اَللّهُمَّ إِنَّا نَسْأَلُكَ فِىْ سَفَرِنَا هذَا الْبِرَّ وَالتَّقْوَى وَمِنَ الْعَمَلِ مَا تَرْضَى، اَللَّهُمَّ هَوِّنْ عَلَيْنَا سَفَرَنَا هذَا وَاطْوِ لَنَا بُعْدَهُ، اَللّهُمَّ أَنْتَ الصَّاحِبُ فِى السَّفَرِ وَالْخَلِيْفَةُ فى الْأَهْلِ وَالْمَالِ، اَللّهُمَّ إِنِّىْ أَعُوْذُبِكَ مِنْ وَعْثَاءِ السَّفَرِ وَكَآبَةِ الْمَنْظَرِ وَسُوْءِ الْمُنْقَلَبِ فِى الْمَالِ وَالْأَهْلِ، رواه مسلم-
উচ্চারণ: সুবহা-নাল্লাযী সাখখারা লানা হা-যা ওয়া মা কুন্না লাহূ মুক্বরেনীনা; ওয়া ইন্না ইলা রব্বিনা লামুনক্বালিবূন। আল্লা-হুম্মা ইন্না নাসআলুকা ফী সাফারিনা হা-যাল বির্রা ওয়াত তাক্বওয়া ওয়া মিনাল ‘আমালে মা তারযা; আল্লা-হুম্মা হাওভিন ‘আলাইনা সাফারানা হা-যা ওয়াত্বভে লানা বু‘দাহূ, আল্লা-হুম্মা আনতাছ ছা-হিবু ফিস সাফারি ওয়াল খালীফাতু ফিল আহ্লি ওয়াল মা-লি। আল্লা-হুম্মা ইন্নী আ‘ঊযুবিকা মিন ওয়া‘ছা-ইস সাফারি ওয়া কাআ-বাতিল মানযারি ওয়া সূইল মুনক্বালাবি ফিল মা-লি ওয়াল আহ্লি’।
অর্থ: আল্লাহ সবার বড় (৩ বার)। ‘মহা পবিত্র সেই সত্তা যিনি এই বাহনকে আমাদের জন্য অনুগত করে দিয়েছেন। অথচ আমরা একে অনুগত করার ক্ষমতা রাখি না’। ‘আর আমরা সবাই আমাদের প্রভুর দিকে প্রত্যাবর্তনকারী’ (যুখরুফ ৪৩/১৩-১৪)। হে আল্লাহ! আমরা তোমার নিকটে আমাদের এই সফরে কল্যাণ ও তাক্বওয়া এবং এমন কাজ প্রার্থনা করি, যা তুমি পসন্দ কর। হে আল্লাহ! আমাদের উপরে এই সফরকে সহজ করে দাও এবং এর দূরত্ব কমিয়ে দাও। হে আল্লাহ! তুমি এই সফরে আমাদের একমাত্র সাথী এবং আমাদের পরিবারে ও মাল-সম্পদে তুমি আমাদের একমাত্র প্রতিনিধি। হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকটে পানাহ চাই সফরের কষ্ট ও খারাব দৃশ্য হ’তে এবং আমাদের মাল-সম্পদে ও পরিবারের নিকটে মন্দ প্রত্যাবর্তন হ’তে’।
৫. গন্তব্যস্থলে অবতরণ করে পড়বেন-
أَعُوْذُ بِكَلِمَاتِ اللهِ التَّامَّاتِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ-
উচ্চারণ: আ‘ঊযু বিকালিমা-তিল্লা-হিত তা-ম্মা-তি মিন শার্রি মা খালাক্ব’।
অর্থ: আল্লাহর সৃষ্টবস্ত্ত সমূহের অনিষ্টকারিতা হ’তে আমি তাঁর পূর্ণ কালেমা সমূহের মাধ্যমে পানাহ চাচ্ছি’।
৬. বায়তুল্লাহ থেকে বেরিয়ে দেশে ফেরার সময় তিনবার ‘আল্লা-হু আকবার’ বলবেন। অতঃপর নিম্নোক্ত দো‘আটি পড়বেন-
لآ إِلَهَ إِلاَّ اللهُ وَحْدَهُ لاَشَرِيْكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيْرٌ، آيِبُوْنَ تَائِبُوْنَ عَابِدُوْنَ سَاجِدُوْنَ لِرَبِّنَا حَامِدُوْنَ، صَدَقَ اللهُ وَعْدَهُ وَنَصَرَ عَبْدَهُ وَهَزَمَ الْأَحْزَابَ وَحْدَهُ، متفق عليه-
উচ্চারণ : লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু; লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু ওয়া হুয়া ‘আলা কুল্লে শাইয়িন ক্বাদীর; আ-য়িবূনা তা-ইবূনা ‘আ-বিদূনা সা-জিদূনা লি রবিবনা হা-মিদূনা; ছাদাক্বাল্লা-হু ওয়া‘দাহু ওয়া নাছারা ‘আবদাহু ওয়া হাযামাল আহযা-বা ওয়াহদাহু।
অর্থ: আল্লাহ ব্যতীত কোন উপাস্য নেই। তিনি এক। তাঁর কোন শরীক নেই। তাঁরই জন্য সমস্ত রাজত্ব ও তাঁরই জন্য সমস্ত প্রশংসা এবং তিনিই সকল বস্ত্তর উপরে ক্ষমতাবান। আমরা সফর হ’তে প্রত্যাবর্তন করছি তওবাকারী হিসাবে, ইবাদতকারী হিসাবে, সিজদাকারী হিসাবে এবং আমাদের প্রভুর জন্য প্রশংসাকারী হিসাবে। আল্লাহ সত্যে পরিণত করেছেন তাঁর প্রতিশ্রুতিকে, জয়ী করেছেন তাঁর বান্দা (মুহাম্মাদ)-কে এবং পরাজিত করেছেন একাই সম্মিলিত (কুফরী) শক্তিকে’।
৭. নিজ গৃহে প্রবেশকালীন দো‘আ : প্রথমে ‘বিসমিল্লাহ’ বলবেন। অতঃপর গৃহবাসীর উদ্দেশ্যে সালাম দিবেন।

হজ্জের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য  সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ রাববুল আলামীনের জন্য এবং আখেরাতের শুভ পরিণতি মুত্তাক্বীদের জন্য। আর দরূদ ...
01/12/2016

হজ্জের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য


সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ রাববুল আলামীনের জন্য এবং আখেরাতের শুভ পরিণতি মুত্তাক্বীদের জন্য। আর দরূদ ও সালাম (রহমত ও শান্তি) বর্ষিত হউক আল্লাহ্র বান্দা, তাঁর রাসূল, তাঁর বন্ধু, তাঁর অহি-র হেফাযতকারী, তাঁর সৃষ্টি সংক্রান্ত গুণাবলীর গুণকীর্তনকারী, আমাদের নবী, আমাদের ইমাম ও সরদার মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ্র উপর; যিনি আল্লাহ্র দিকে আহবানকারীদের ইমাম (নেতা)। আর রাসূলের পরিবার-পরিজন, সঙ্গী-সাথী এবং ক্বিয়ামত পর্যন্ত যারা যথাযথভাবে তাঁর অনুসারী হবে তাদের প্রতিও শান্তি বর্ষিত হোক।
অতঃপর আল্লাহ তা‘আলার যাবতীয় নে‘মতের জন্য তাঁর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। আল্লাহ্র নিকটে প্রার্থনা তিনি যেন আমাদেরকে ও বায়তুল হারামে হজ্জব্রত পালনকারী সবাইকে এবং সমস্ত মুসলমানকে তাঁর সন্তুষ্টি লাভের এবং তাদের অবস্থা পরিশুদ্ধ করার তাওফীক দেন। তিনি যেন তাদেরকে দ্বীনের গভীর জ্ঞান দান করেন এবং তাদের মধ্যকার উত্তম ব্যক্তিরা যেন তাদের অভিভাবক বা বন্ধু হয়। যাতে সে আল্লাহ্র দ্বীনের সাহায্য করতে পারে এবং তাঁর কালিমাকে বুলন্দ (সুউচ্চ) করতে পারে। আর আল্লাহই এ ব্যাপারে অলী-অভিভাবক এবং ক্ষমতাবান।
হে বায়তুল হারামে হজ্জব্রত পালনকারী দ্বীনী ভ্রাতৃমন্ডলী! ইসলামের অনেক বড় লক্ষ্য এবং বিভিন্ন ধরনের উদ্দেশ্য রয়েছে। তাতে তাৎক্ষণিক ও বিলম্বিত উপকারিতা রয়েছে, রয়েছে ইহকালীন ও পরকালীন ফায়েদা। যেমন ছালাত, ছাওম, যাকাত, হজ্জ প্রভৃতি। আল্লাহ্র প্রতিটি বিধানে বান্দার জন্য বড় কল্যাণ ও বহু উপকারিতা রয়েছে দুনিয়ার তাৎক্ষণিক কর্মে। তন্মধ্যে আন্তরিক পরিশুদ্ধি, পারিপার্শ্বিক অবস্থা ও পরিস্থিতি সুদৃঢ় হওয়া, পবিত্র জীবিকা ও আন্তরিক প্রশান্তি ইত্যাদি। এছাড়া এতে রয়েছে প্রশংসিত পরিণতি, জান্নাতে আল্লাহ্র দীদার (দর্শন) লাভের মাধ্যমে বিরাট সফলতা এবং আল্লাহ্র সন্তুষ্টি লাভের মাধ্যমে কৃতকার্য হওয়া। যেমন আল্লাহ বলেন, وَأَذِّنْ فِي النَّاسِ بِالْحَجِّ يَأْتُوكَ رِجَالًا وَعَلَى كُلِّ ضَامِرٍ يَأْتِيْنَ مِنْ كُلِّ فَجٍّ عَمِيْقٍ، لِيَشْهَدُوْا مَنَافِعَ لَهُمْ وَيَذْكُرُوْا اسْمَ اللهِ فِيْ أَيَّامٍ مَعْلُوْمَاتٍ عَلَى مَا رَزَقَهُمْ مِنْ بَهِيْمَةِ الْأَنْعَامِ- ‘আর তুমি মানুষের মাঝে হজ্জের ঘোষণা প্রচার করে দাও। তারা তোমার কাছে আসবে পায়ে হেঁটে এবং সকল প্রকার (পথশ্রান্ত) কৃশকায় উটের উপর সওয়ার হয়ে দূর-দূরান্ত হ’তে। যাতে তারা তাদের (দুনিয়া ও আখেরাতের) কল্যাণের জন্য সেখানে উপস্থিত হ’তে পারে এবং রিযিক হিসাবে তাদের দেওয়া গবাদিপশুসমূহ যবেহ করার সময় নির্দিষ্ট দিনগুলিতে তাদের উপর আল্লাহ্র নাম উচ্চারণ করতে পারে’ (হজ্জ ২২/২৭-২৮)।
হজ্জের বৈধতা বা শারঈ ভিত্তি : হজ্জ একটি বিরাট বার্ষিক ইবাদত, যা আল্লাহ বান্দার জন্য বিধিবদ্ধ করেছেন। কেননা তাতে রয়েছে অনেক বড় উপকারিতা, বড় লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য এবং দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ। এটা পৃথিবীর সকল এলাকার প্রাপ্ত বয়স্ক নর-নারীর উপর ফরয, যদি তারা এটা পালনে (আর্থিক ও শারীরিক দিক দিয়ে) সামর্থ্য রাখে। যেমন আল্লাহ বলেছেন,وَلِلَّهِ عَلَى النَّاسِ حِجُّ الْبَيْتِ مَنِ اسْتَطَاعَ إِلَيْهِ سَبِيْلاً- ‘আর আল্লাহ্র উদ্দেশ্যে এ গৃহের হজ্জ করা ঐ ব্যক্তির উপর ফরয করা হ’ল, যার এখানে আসার সামর্থ্য রয়েছে’ (আলে ইমরান ৩/৯৭)।
বুখারী ও মুসলিমে এসেছে, আব্দুল্লাহ ইবনু ওমর হ’তে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন,بُنِىَ الإِسْلاَمُ عَلَى خَمْسٍ شَهَادَةِ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ وَإِقَامِ الصَّلاَةِ وَإِيتَاءِ الزَّكَاةِ وَحَجِّ الْبَيْتِ وَصَوْمِ رَمَضَانَ- ‘ইসলাম পাঁচটি ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত। তাওহীদ ও রিসালাতের সাক্ষ্য দেওয়া এ মর্মে যে, আল্লাহ ছাড়া কোন উপাস্য নেই এবং মুহাম্মাদ (ছাঃ) আল্লাহ্র বান্দা ও তাঁর রাসূল, ছালাত কায়েম করা, যাকাত প্রদান করা, বায়তুল্লাহ্র হজ্জ করা এবং রামাযানের ছাওম পালন করা’।[1] এই পাঁচটি স্তম্ভ হচ্ছে ইসলামের রুকন। এগুলো তাঁর খুঁটি, যার উপরে ইসলামের ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত।
এটা হিজরী নবম বা দশম সনে ফরয হয়েছে। ছহীহ মুসলিমে ওমর (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, জিব্রীল (আঃ)-এর ঈমান ও ইসলাম সম্পর্কে প্রশ্ন সম্বলিত হাদীছে আছে, রাসূল (ছাঃ) তাঁকে বলেন,الإِسْلاَمُ أَنْ تَشْهَدَ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللهِ وَتُقِيمَ الصَّلاَةَ وَتُؤْتِىَ الزَّكَاةَ وَتَصُومَ رَمَضَانَ وَتَحُجَّ الْبَيْتَ إِنِ اسْتَطَعْتَ إِلَيْهِ سَبِيلاً ‘ইসলাম হ’ল আপনার একথার সাক্ষ্য দান যে, আল্লাহ ব্যতীত প্রকৃত কোন উপাস্য নেই এবং মুহাম্মাদ (ছাঃ) তাঁর রাসূল। আর ছালাত কায়েম করা, যাকাত প্রদান করা, রামাযানের ছাওম পালন করা এবং বায়তুল্লাহ (আল্লাহ্র ঘর) পর্যন্ত পেঁŠছার সামর্থ্য থাকলে হজ্জব্রত পালন করা’।[2]
ছহীহায়ন (বুখারী ও মুসলিম)-এ এসেছে, আবু হুরায়রা (রাঃ) রাসূল হ’তে বর্ণিত, তিনি বলেন,مَنْ أَتَى هَذَا الْبَيْتَ فَلَمْ يَرْفُثْ وَلَمْ يَفْسُقْ رَجَعَ كَمَا وَلَدَتْهُ أُمُّهُ- ‘যে ব্যক্তি এই ঘরের নিকটে আসল, অতঃপর কোন অনর্থক ও অশ্লীল কাজ করল না, সে ঐদিনের মত নিষ্পাপ হয়ে প্রত্যাবর্তন করে যেদিন তার মা তাকে নিষ্কলুষভাবে প্রসব করেছিল’।[3] এটা হজ্জ ও ওমরা উভয়কেই শামিল করে। ছাহীহায়নে আরো আছে, আবু হুরায়রা (রাঃ) নবী করীম (ছাঃ) হ’তে বর্ণনা করেন যে, নবী করীম (ছাঃ) বলেছেন, الْعُمْرَةُ إِلَى الْعُمْرَةِ كَفَّارَةٌ لِمَا بَيْنَهُمَا، وَالْحَجُّ الْمَبْرُورُ لَيْسَ لَهُ جَزَاءٌ إِلاَّ الْجَنَّةُ ‘ওমরাহ হ’ল এক ওমরা হ’তে অন্য ওমরা পর্যন্ত সংঘটিত সকল পাপের কাকফারা। আর কবুল হজ্জের প্রতিদান জান্নাত ব্যতীত অন্য কিছু নয়’।[4] এটাই হজ্জ ও ওমরার লক্ষ্য-উদ্দেশ্য। সুতরাং যে ব্যক্তি শরী‘আত সম্মত উপায়ে তা আদায় করবে তার প্রতিদান হ’ল জান্নাত, সম্মান, গোনাহ থেকে মুক্তি এবং পাপসমূহ মোচন। এ উদ্দেশ্য ছাড়াও তার রয়েছে বিরাট কল্যাণ এবং অতি বড় মর্যাদা।
যে ব্যক্তি দূর বা কাছ থেকে একমাত্র আল্লাহ তা‘আলার জন্য একনিষ্ঠ হয়ে তাঁর সন্তুষ্টি লাভের জন্য এ ঘরের কাছে আসবে এবং কোন অনর্থক ও অশ্লীল কাজ না করে উত্তম উপায়ে হজ্জ সমাপন করবে, আল্লাহ তার বিনিময় তার জন্য জান্নাত ও গোনাহ থেকে মুক্তিকে অবধারিত করে দিবেন। ওমরাও ঠিক অনুরূপ। যেহেতু মহানবী (ছাঃ) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি এ ঘরের নিকটে আসবে’ এবং যেহেতু তিনি বলেছেন, ‘ওমরা হ’ল দুই ওমরার মধ্যবর্তী সমস্ত গোনাহের কাফফারা স্বরূপ’।
এই মহান উদ্দেশ্য প্রত্যেকের, যারা এই বরকতময় শহরে পৌঁছার ইচ্ছা করে। আর প্রত্যেক মুমিন নারী-পুরুষের পার্থিত বিষয় হচ্ছে জান্নাত লাভ, জাহান্নাম হ’তে পরিত্রাণ, গোনাহ থেকে মুক্তি এবং সমস্ত পাপ মোচন হওয়ার মাধ্যমে কৃতকার্য হওয়া। আল্লাহ তাঁর প্রিয় দোস্ত ইবরাহীম (আঃ) সম্পর্কে খবর দিয়েছেন যে, তিনি এই শহরবাসীর জন্য দো‘আ করেছেন। আল্লাহ তাঁর বন্ধু ইবরাহীমের ভাষায় এভাবে উল্লেখ করেছেন,
رَبَّنَا وَابْعَثْ فِيْهِمْ رَسُولًا مِنْهُمْ يَتْلُو عَلَيْهِمْ آيَاتِكَ وَيُعَلِّمُهُمُ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ وَيُزَكِّيْهِمْ إِنَّكَ أَنْتَ الْعَزِيْزُ الْحَكِيْمُ-
‘হে আমাদের প্রতিপালক! আপনি তাদের মধ্য থেকেই তাদের নিকটে একজন রাসূল প্রেরণ করুন, যিনি তাদের কাছে আপনার আয়াত সমূহ পাঠ করবেন, তাদেরকে কিতাব ও সুন্নাহ শিক্ষা দিবেন এবং তাদের (অন্তরসমূহকে) পরিচ্ছন্ন করবেন। নিশ্চয়ই আপনি মহা পরাক্রান্ত ও প্রজ্ঞাময়’ (বাক্বারাহ ২/১২৯)।
আল্লাহ এই দো‘আ কবুল করলেন। অতঃপর তাঁর প্রিয় বন্ধু মুহাম্মাদ (ছাঃ)-কে ইবরাহীম (আঃ) বর্ণিত বিষয় সমূহ সহকারে প্রেরণ করলেন। আর তিনি আল্লাহ কর্তৃক অবতারিত কিতাব তাদেরকে (মানুষকে) পাঠ করে শোনান এবং তাদেরকে শিক্ষা দেন কিতাব। অর্থাৎ কুরআন এবং হেকমাত অর্থাৎ সুন্নাহ। আর তাদেরকে আল্লাহ প্রেরিত মহান চরিত্র ও বিভিন্ন প্রকার সুউচচ ইবাদত সমূহ দ্বারা পরিশুদ্ধ করেন এবং দুশ্চরিত্র ও গর্হিত গুণাবলী হ’তে তাদেরকে পবিত্র করেন। সুতরাং ইসলাম হ’ল তাদের জন্য পবিত্রকারী এবং সকল মন্দ কাজ, খারাপ ও বিকৃত, ভ্রান্ত চরিত্রের পরিশুদ্ধকারী এবং তাদেরকে উত্তম কাজ ও পবিত্র চরিত্রের দিকে নির্দেশনা দানকারী। তার মধ্যে হজ্জও একটি।
আল্লাহ তা‘আলা মুহাম্মাদ (ছাঃ) ও সমস্ত আম্বিয়ায়ে কেরামকে এমন জিনিস সহকারে প্রেরণ করেছেন যাতে রয়েছে আত্মিক, নৈতিক ও চারিত্রিক পবিত্রতা ও উহার পরিশুদ্ধি। তন্মধ্যে যাকাত, পবিত্রতা ও ছালাত প্রতিষ্ঠা আল্লাহ যেমন বিধিবদ্ধ করেছেন, তেমনি রামাযানের ছাওম পালন করা ও বায়তুল্লাহ্র হজ্জ করাও আল্লাহ ফরয করেছেন। অনুরূপভাবে অবশিষ্ট আদেশ সমূহ পালন করা এবং নিষেধ সমূহ পরিহার করাও আল্লাহ প্রদত্ত শরী‘আতের অন্তর্গত। সুতরাং সমস্ত রাসূল (আঃ), তাঁদের মাথার মুকুট এবং তাঁদের মধ্যে শেষ ও তাঁদের নেতা আমাদের নবী মুহাম্মাদ (ছাঃ) এজন্য প্রেরিত হয়েছিলেন, যাতে তারা মানুষকে দুষ্ট চরিত্র, বদ অভ্যাস ও খারাপ প্রকৃতি এবং মন্দ কার্যাবলী থেকে পবিত্র করতে পারেন। আর যাতে তাঁরা উত্তম আমল ও সম্মানিত চরিত্র বা নৈতিকতা দ্বারা মানুষকে পরিশুদ্ধ করতে পারেন। যেগুলোর মধ্যে সর্ববৃহৎ ও সর্বোচ্চ হ’ল আল্লাহ্র একত্ব, সর্বাবস্থায় ইবাদতকে শুধু তাঁর জন্যই খাছ করা, আল্লাহ ব্যতীত অন্যের উপাসনা পরিহার করা, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা এবং ঐসকল জিনিসের প্রতি ঈমান আনয়ন করা যা সংঘটিত হয়েছে বা হওয়া সম্পর্কে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল খবর দিয়েছেন। তাঁর নবী মুহাম্মাদ (ছাঃ)-এর প্রতি ঈমান আনা এবং তার ধর্মের উপরে অটল-অবিচল থাকা। এটাই এ ধর্মের মূল এবং তার ভিত্তি।
আল্লাহ্র একত্ব এবং তাঁর জন্য একনিষ্ঠ হওয়া হজ্জের সবচেয়ে বড় লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। এতে বান্দা আল্লাহ্র জন্যই একনিষ্ঠ হয়ে আসে এবং তাঁরই সন্তুষ্টি কামনা করে। সাথে সাথে এই বলে নিজেদের উপস্থিতি ঘোষণা করেلَبَّيْكَ لاَ شَرِيكَ لَكَ لَبَّيْكَ ‘আমি তোমার সমীপে উপস্থিত হয়েছি, তোমার কোন অংশীদার নেই’।[5] সে (হজ্জকারী) একমাত্র আল্লাহ্র জন্যই ইবাদতকে নির্দিষ্ট করতে চায় এবং তার অন্তর ও আমলকে আল্লাহ্র সমীপে পেশ করার ইচ্ছা পোষণ করে। আর বার বার এই বাক্য উচ্চারণ করেلَبَّيْكَ اللَّهُمَّ لَبَّيْكَ، ‘হে আল্লাহ! আমি তোমার খেদমতে হাযির হয়েছি’। অর্থাৎ আমি তোমার বান্দা, তোমার উপাসনার উপরেই যথাযথভাবে প্রতিষ্ঠিত।
আমি তোমার রাসূল (দূত) ও বন্ধু ইবরাহীম (আঃ)-এর দ্বীনের উপরে এবং তাঁর দৌহিত্র মুহাম্মাদ-এর দ্বীনের উপরে তোমার আহবানে যথার্থ সাড়া দানকারী। আমি তোমার সন্তুষ্টি প্রত্যাশা করি, আমার সমস্ত আমল তোমার জন্যই নির্দিষ্ট করি এবং সমস্ত কাজে তোমার দিকেই প্রত্যাবর্তিত হই। যেমন ছালাত ও হজ্জ ইত্যাদি। আর বায়তুল্লাহ্র হজ্জব্রত পালনে আগ্রহী ব্যক্তি সর্বপ্রথম এই দো‘আ পাঠের মাধ্যমে হজ্জ শুরু করে :لَبَّيْكَ اللَّهُمَّ لَبَّيْكَ، لَبَّيْكَ لاَ شَرِيكَ لَكَ لَبَّيْكَ، إِنَّ الْحَمْدَ وَالنِّعْمَةَ لَكَ وَالْمُلْكَ، لاَ شَرِيكَ لَكَ- ‘হে আল্লাহ! আমি তোমার সমীপে উপস্থিত, তোমার কোন শরীক (অংশীদার) নেই, সকল প্রশংসা ও নে‘মত তোমারই, সমস্ত রাজত্ব তোমারই জন্য, যাতে অন্য কেউ তোমার শরীক নয়’।[6]
ইবাদত কেবল এক আল্লাহ্র জন্য নির্দিষ্ট করা, তাঁর দিকে মুখ ফিরানো এবং এ স্বীকৃতি প্রদান করা যে, আল্লাহ এক ও অদ্বিতীয়, তাঁর কোন শরীক নেই সৃষ্টিতে, সমগ্র বিশ্ব পরিচালনায় এবং রাজত্বে। ঐ ব্যাপারে তাঁর তুল্যও কেউ নেই। তাঁরই জন্য সমস্ত ইবাদত, উপাসনা-আরাধনা; অন্যের জন্য নয়।
হজ্জের সবচেয়ে বড় লক্ষ্য হচ্ছে আল্লাহ্র জন্য ইবাদত নির্দিষ্ট করা এবং তাঁর দিকে অন্তরকে ফিরানো এই কথার উপর ঈমান আনয়ন করে যে, তিনিই ইবাদতের হকদার, তিনিই প্রকৃত উপাস্য, তিনি সমস্ত বিশ্বের একচ্ছত্র মালিক বা প্রতিপালক, তিনি সম্মানিত নাম সমূহ ও গুণাবলীর অধিকারী, তাঁর কোন শরীক নেই। তাঁর সমতুল্য, সমকক্ষ ও সাদৃশ্য কেউ নেই। এই কথার দিকেই তিনি ইঙ্গিত করে বলেন,وَإِذْ بَوَّأْنَا لِإِبْرَاهِيْمَ مَكَانَ الْبَيْتِ أَنْ لَا تُشْرِكْ بِيْ شَيْئًا وَطَهِّرْ بَيْتِيَ لِلطَّائِفِيْنَ وَالْقَائِمِيْنَ وَالرُّكَّعِ السُّجُوْدِ ‘(আর স্মরণ কর) যখন আমরা ইবরাহীমকে বায়তুল্লাহ্র স্থান নির্ধারণ করে দিয়ে বলেছিলাম যে, তুমি আমার সাথে কাউকে শরীক করো না এবং আমার এ গৃহকে তাওয়াফকারীদের জন্য, ছালাত কায়েমকারীদের জন্য এবং রুকূ-সিজদাকারীদের জন্য পবিত্র রাখ’ (হজ্জ ২২/২৬)।
তিনি সূরা বাক্বারায় আরো বলেন,وَإِذْ جَعَلْنَا الْبَيْتَ مَثَابَةً لِلنَّاسِ وَأَمْنًا وَاتَّخِذُوْا مِنْ مَقَامِ إِبْرَاهِيْمَ مُصَلًّى وَعَهِدْنَا إِلَى إِبْرَاهِيْمَ وَإِسْمَاعِيْلَ أَنْ طَهِّرَا بَيْتِىَ لِلطَّائِفِيْنَ وَالْعَاكِفِيْنَ وَالرُّكَّعِ السُّجُوْدِ ‘আর যখন আমরা বায়তুল্লাহ (কা‘বা গৃহ)-কে মানুষের জন্য মিলনকেন্দ্র ও নিরাপদ স্থান হিসাবে নির্ধারণ করলাম (এবং বললাম), তোমরা ইবরাহীমের দাঁড়ানোর স্থানকে ছালাতের স্থান হিসাবে গ্রহণ কর। আর আমরা ইবরাহীম ও ইসমাঈলের কাছে নির্দেশ পাঠিয়েছিলাম এই মর্মে যে, তোমরা আমার গৃহকে তাওয়াফকারীদের জন্য, এখানে অবস্থানকারীদের জন্য এবং রুকূকারী ও সিজদাকারীদের জন্য পবিত্র রাখ’ (বাক্বারাহ ২/১২৫)।
যাতে তারা তাঁর (আল্লাহ্র) সম্মানিত ঘরের নিকটে একমাত্র তাঁরই ইবাদত করে এবং বায়তুল্লাহ্র আশ-পাশ থেকে সকল মূর্তি, দেব-দেবী, আল্লাহ কর্তৃক নিষিদ্ধকৃত সমস্ত অপবিত্রতা হ’তে এবং হজ্জ ও ওমরাকারীদেরকে কষ্ট দেয় সে সমস্ত জিনিস হ’তে এবং যা তাদের উদ্দেশ্য থেকে ফিরিয়ে রাখে সেসব বস্ত্ত হ’তে যেন বায়তুল্লাহকে পবিত্র করে।
অতএব এ ঘর ছালাত আদায়কারী, তাওয়াফকারী এবং ই’তেকাফকারীদের জন্য। তারা আল্লাহ্র ইবাদত করে এ ঘরের নিকটে, তার মধ্যে এবং তার হারাম (নির্ধারিত সীমা)-এর মধ্যে। সুতরাং তাদের জন্য আল্লাহ্র পথে বাঁধাদানকারী সমস্ত জিনিস থেকে এ ঘরকে পবিত্র করা আবশ্যক। অথবা এ ঘরকে পবিত্র রাখবে ঐসব কথা-কর্ম থেকে যা আগন্তুকদেরকে (ভিন্ন কাজে) ব্যতিব্যস্ত রাখে।
ইবরাহীম (আঃ)-এর আহবান : অতঃপর আল্লাহ বলেন,وَأَذِّنْ فِي النَّاسِ بِالْحَجِّ يَأْتُوْكَ رِجَالًا وَعَلَى كُلِّ ضَامِرٍ يَأْتِيْنَ مِنْ كُلِّ فَجٍّ عَمِيْقٍ- ‘আর তুমি মানুষের মাঝে হজ্জের ঘোষণা প্রচার করে দাও। তারা তোমার কাছে আসবে পায়ে হেঁটে এবং সকল প্রকার (পথশ্রান্ত) কৃশকায় উটের উপর সওয়ার হয়ে দূর-দূরান্ত হ’তে’ (হজ্জ ২২/২৭-২৮)।
ইবরাহীম (আঃ) মানুষকে আহবান জানান, আর আল্লাহ তাঁর (ইবরাহীমের) আওয়াযকে স্বীয় বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা তাকে শুনিয়ে দিয়েছেন। মানুষও ইবরাহীম (আঃ)-এর যুগ হ’তে অদ্যাবধি সেই পবিত্র ডাকে সাড়া দিচ্ছে। এটা শারঈ দলীল দ্বারা প্রমাণিত যে, ইবরাহীম (আঃ)ই প্রথম এ মসজিদকে আবাদ করেছেন এবং তিনিই প্রথম এ ঘরের দিকে মানুষকে আহবান জানিয়েছেন। আর তাঁর সম্মান-মর্যাদা মানব মাঝে প্রকাশ করেছেন। আল্লাহ যাকে (বায়তুল্লাহকে) আসমান ও যমীন সমূহ সৃষ্টির দিন থেকে সম্মানিত করেছেন। সুতরাং আল্লাহ তা‘আলা তাঁকে হারাম (সম্মানিত) করার কারণে ক্বিয়ামত পর্যন্ত সেটা হারাম (সম্মানিত)ই থাকবে। আল্লাহ বলেন, لِيَشْهَدُوْا مَنَافِعَ لَهُمْ ‘যাতে তারা তাদের (দুনিয়া ও আখেরাতের) কল্যাণের জন্য সেখানে উপস্থিত হ’তে পারে’ (হজ্জ ২২/২৮)।
উপকারিতার মহত্ত্ব ও আধিক্যের কারণে আল্লাহ তার কিছু গোপন রেখেছেন এবং কিছু প্রকাশ করেছেন। এগুলোর মধ্যে রয়েছে তাৎক্ষণিক ও বিলম্বিত উপকারিতা এবং পার্থিব ও পরকালীন উপকারিতা। এর মধ্যে সর্ববৃহৎ হ’ল আল্লাহ্র একত্বের স্বীকৃতি এবং বায়তুল্লাহ্র তাওয়াফ, তার প্রাঙ্গণে বা সীমানায় ছালাত, আল্লাহ্র সন্তুষ্টির জন্য দাওয়াত দান প্রভৃতি আল্লাহ্র জন্যই খাছ করা। আর আল্লাহ্র দিকেই প্রত্যাবর্তন করা এবং তাঁর প্রতি বিনয়াবনত হওয়া যাতে তিনি তাদের হজ্জ কবুল করেন, তাদের গোনাহ সমূহ ক্ষমা করেন এবং নিরাপদে সুস্থাবস্থায় দেশে ফিরে যাওয়ার তাওফীক দেন। তারা আল্লাহ্র কাছে মিনতিসহ দো‘আ করবে যেহেতু এই বায়তুল্লাহ্র কাছে বার বার ফিরে আসতে তাদের প্রতি আল্লাহ দয়া করেছেন।
এটা একটা বড় ফায়েদা যে, তারা একমাত্র তাঁরই (আল্লাহ্র) ইবাদত করবে এবং আল্লাহ্র সন্তুষ্টির মানসেই এখানে আসবে। লোক দেখানো ও জনশ্রুতির জন্য নয় বরং তারা এখানে আসবে শুধু বায়তুল্লাহ্র তাওয়াফ, তাঁর বড়ত্ব বর্ণনা, তাঁর গৃহের প্রাঙ্গণে ছালাত আদায় করা এবং তাঁর অনুগ্রহ চাওয়ার জন্য। এটাই সবচেয়ে বড় উপকারিতা। এর মধ্যে আরো বড় ফায়েদা হ’ল আল্লাহ্র তাওহীদ, তাঁর জন্য একনিষ্ঠ হওয়া, তাঁর বান্দাদের মাঝে এর স্বীকৃতি এবং তাঁর আগত বান্দাদের উপদেশ দেওয়া যাতে এই বড় বিষয়টা তারা জানতে ও বুঝতে পারে। আর তারা উঁচ্চ আওয়াযে তালবিয়া পাঠ করবে, যাতে প্রত্যেক লোকে তা শুনতে পায়। এ উদ্দেশ্যেই আল্লাহ উঁচ্চ আওয়াযে তালবিয়া পাঠ ফরয করেছেন, যাতে তারা এর অর্থ জানতে পারে, একে বাস্তবায়িত করে এবং তাদের অন্তর ও যবান দ্বারা একে প্রতিষ্ঠিত করে। রাসূল বলেন,أَتَانِىْ جِبْرِيْلُ فَأَمَرَنِىْ أَنْ آمُرَ أَصْحَابِى أَنْ يَرْفَعُوْا أَصْوَاتَهُمْ بِالإِهْلاَلِ ‘আমার নিকট জিব্রীল এসে এই আদেশ করলেন যে, আমি যেন আমার ছাহাবীদের উচ্চৈঃস্বরে তালবিয়া পাঠের নির্দেশ দেই’।[7]
সুতরাং তালবিয়ার সাথে আওয়ায উচ্চ করাটা সুন্নাত। যাতে কাছের ও দূরের লোকেরা তা জানতে পারে এবং ছোট-বড়, পুরুষ-নারী সবাই তা শিখতে পারে। আর তার প্রকৃত অর্থ অনুধাবন করতে পারে এবং উদ্দেশ্য বাস্তবায়িত হয়। আর এর মূল অর্থ হ’ল ইবাদতকে একমাত্র আল্লাহ্র জন্য নির্দিষ্ট করা এবং এ বিশ্বাস করা যে, আল্লাহ তাদের প্রকৃত উপাস্য, স্রষ্টা, রিযিক দাতা ও মা‘বূদ। এ ইখলাছ হজ্জ ও অন্যান্য ইবাদতেও থাকবে।
পারস্পরিক পরিচিতি ও উপদেশ বিনিময় : হজ্জের অন্যতম উদ্দেশ্য হ’ল পৃথিবীর প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আগত মুসলমানরা পরস্পর পরিচিত হবে, একে অপরকে হক্বের দাওয়াত দিবে ও পরস্পরকে উপদেশ দিবে। চাই তারা পৃথিবীর পশ্চিম দিক থেকে আসুক বা পূর্ব দিক থেকে, দক্ষিণ প্রান্ত থেকে আসুক বা উত্তর দিক থেকে। তারা পবিত্র বায়তুল্লাহ্র সীমানায়, আরাফায়, মুযদালিফায়, মিনায় এবং মক্কা মু‘আযযমায় একত্রিত হয়। তারা পরস্পরে পরিচিত হয়, একে অন্যকে উপদেশ দেয়, একে অপরকে শিক্ষা দেয়, পরস্পরকে সত্যের পথ প্রদর্শন করে, একে অন্যকে সহযোগিতা করে এবং একে অপরকে আশার বাণী শোনায় ইহকাল ও পরকালীন কল্যাণে, শিক্ষা-সংস্কৃতির কল্যাণে, হেদায়াত ও আল্লাহ্র পথে আহবানের ক্ষেত্রে, হজ্জের নিয়মাবলী এবং ছালাত ও যাকাত দানের পদ্ধতি শিক্ষার ব্যাপারে।
তারা বিজ্ঞজনের নিকট থেকে উপকারী বক্তব্য শ্রবণ করে। কেননা আল্লাহ মুহাম্মাদ (ছাঃ)-কে তাদের কাছে পাঠিয়েছিলেন। তিনি মানুষকে পবিত্র করেছিলেন, তাদেরকে শিক্ষা দিয়েছিলেন (আল্লাহ্র) কিতাব ও হিকমাত (হাদীছ)। সুতরাং তারা পুণ্যময় ঘরের সীমানায় ও রাসূলের মসজিদের প্রাঙ্গণে আলেমদের এমন বক্তব্য শুনতে পাবে, যাতে রয়েছে হেদায়াত, প্রচার কৌশল এবং রয়েছে সঠিক পথের দিকে নির্দেশনা ও সৌভাগ্যপূর্ণ পথ তথা তাওহীদ ও ইখলাছ-এর পথ নির্দেশ। যে বিষয়ে আনুগত্য করা আল্লাহ ফরয করেছেন, যে বিষয়ে নাফরমানি করা আল্লাহ হারাম করেছেন। যাতে তারা তা পরিত্যাগ করে এবং আল্লাহ্র হদ্দ (সীমা) অবগত হয়। আর তারা পরস্পরকে নেকী ও আল্লাহভীতির ব্যাপারে সহযোগিতা করে।
সুতরাং হজ্জের সর্ববৃহৎ উপকারিতা হ’ল তারা (হজ্জে গমনকারীরা) আল্লাহ্র দ্বীন সম্পর্কে শিক্ষার্জন করে। আর বায়তুল্লাহ ও মসজিদে নববীর সুপরিসর অঙ্গনে বিদ্বান, দিশারী ও উপদেশ দানকারীদের নিকটে দ্বীনের অনেক অজানা বিধিবিধান এবং হজ্জ ও ওমরার অজ্ঞাত বিধান সরাসরি শিখে নিতে পারে। যাতে তারা তা জ্ঞানত ও সচেতনভাবে আদায় করতে পারে। আর নিজ দেশে ও যেখানেই থাকুক সচেতনভাবে জ্ঞাতসারে আল্লাহ্র ইবাদত করতে পারে।
এখান থেকেই এই ইলমের তথা ইলমে তাওহীদের উৎপত্তি এবং এখান থেকেই তা প্রচারিত হয়। অতঃপর মদীনা থেকে, তারপর সমস্ত আরব উপদ্বীপ থেকে এবং আল্লাহ্র সমগ্র দেশ থেকে, যেখানে ইলম ও আলেমগণ পৌঁছেছেন। কিন্তু তার উৎসস্থল হচ্ছে এই স্থান; বায়তুল্লাহ্র প্রাঙ্গন।
হজ্জে ওলামায়ে কেরামের দায়িত্ব : আলেম ও দাঈগণ যেখানেই থাকুন, বিশেষত যারা বায়তুল্লাহ্র সীমানায় অবস্থান করেন, তাদের জন্য আবশ্যক হ’ল তারা মানুষকে শিক্ষা দিবেন, হজ্জকারী, ওমরাকারী, অধিবাসী, আগমনকারী ও দর্শনার্থী সকলকে হজ্জের বিধান শিক্ষা দিবেন।
অতএব মুসলমানরা যেখানেই থাকুক জ্ঞানার্জন ও অনুধাবনে তারা আদিষ্ট। যে কোন স্থান ও সময়েই হোক না কেন, বিশেষত বায়তুল্লাহ্র প্রাঙ্গনে এ বিষয়টি অত্যধিক গুরুত্ববহ। দ্বীনের বিষয়ে অনুধাবন করা অতি প্রয়োজনীয়। বিশেষ করে হজ্জ ও ওমরার বিধানাবলী। এ বিষয়টি শিক্ষা করা তোমার জন্য অতি যরূরী ও অত্যাবশ্যক। নবী করীম (ছাঃ) বলেন,مَنْ يُرِدِ اللهُ بِهِ خَيْرًا يُفَقِّهْهُ فِى الدِّيْنِ ‘আল্লাহ যার কল্যাণ চান, তাকে দ্বীনের সঠিক বুঝ দান করেন’।[8] সুতরাং তোমার জন্য কল্যাণের ও সৌভাগ্যের নিদর্শন হ’ল তোমার মধ্যে আল্লাহ্র দ্বীনের বুঝ থাকা। এক্ষেত্রে আল্লাহ্র শহর (মক্কা), তোমার দেশ এবং আল্লাহ্র যমীনের যেখানেই তুমি থাক না কেন, যখন তুমি আল্লাহ্র শরী‘আত বিশারদ আলেম পাবে, তুমি সুযোগ গ্রহণ করবে। অহংকার ও অলসতা করবে না। কেননা অহংকারী ইলম লাভ করতে পারে না। আর অলস, অক্ষম ও দুর্বল ব্যক্তিরাও তা লাভ করতে পারে না। কেননা ইলম অর্জন করার জন্য উৎসাহ-উদ্দীপনা ও উচ্চাকাংক্ষা প্রয়োজন। আর লজ্জাশীল ব্যক্তিও ইলম লাভ করতে পারে না। লজ্জায় ইলম অর্জন থেকে দূরে থাকা সমীচীন নয়। কেননা এটা হচ্ছে দুর্বলতা, অক্ষমতা ও অপারগতা। আল্লাহ বলেন, وَاللهُ لاَ يَسْتَحْيِيْ مِنَ الْحَقِّ ‘আর আল্লাহ হক থেকে লজ্জা করেন না’ (আহযাব ৩৩/৫৩)।
প্রখ্যাত তাবেঈ মুজাহিদ (রহঃ) বলেন,لاَ يَتَعَلَّمُ الْعِلْمَ مُسْتَحٍ وَلاَمُسْتَكْبِرٌ، ‘লাজুক ও অহংকারী ব্যক্তি ইলম অর্জন করতে পারে না’। অতএব দূরদর্শী ও সচেতন মুমিন এক্ষেত্রে লজ্জা করে না। বরং সে অগ্রগামী হয় এবং জিজ্ঞেস করে (জেনে নেয় অজ্ঞাত বিষয়)। মুমিনা নারীও অনুরূপ। উভয়ই অগ্রগামী হয় (ইলম অর্জনে), জিজ্ঞেস করে (জেনে নেয় অজানা বিষয়), অনুসন্ধান করে (নতুন বিষয়) এবং তার নিকটে যে প্রশ্ন আছে তা প্রকাশ করে, যাতে তার প্রশ্ন ও জিজ্ঞাসা দূর হয়ে যায়।
হজ্জের অন্যতম উদ্দেশ্য হ’ল আগন্তুক হাজীদের মাঝে ইলমের প্রচার-প্রসার এবং হাজীদের মাঝে থাকা ইলম মক্কার ভাইদের মাঝে প্রচারের সুযোগ। সে ইলম প্রচার করতে পারে হাজীদের মাঝে, বন্ধুদের মাঝে রাস্তায়, গাড়ীতে, বিমানে ও তাঁবুতে। সর্বত্র সে শারঈ ইলম প্রচার করতে পারে। এ সুযোগ আল্লাহ তাকে দান করেছেন। তাই একে গণীমত হিসাবে গ্রহণ করা উচিত।
হজ্জের আরেকটি উদ্দেশ্য হ’ল তোমার ইলমকে প্রসার ঘটানো বা ছড়িয়ে দেওয়া এবং তোমার কাছে বিদ্যমান ইলম মানুষের নিকটে প্রকাশ ঘটানো। কেননা এর ভিত্তি হচ্ছে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বাণী; কিতাব ও সুন্নাহ্র বাইরে অন্যের রায় বা অভিমত নয়। মানুষকে তোমার জানা কিতাব ও সুন্নাতের ইলম শিক্ষা দাও এবং বিদ্বানগণ আল্লাহ্র কিতাব ও রাসূলের সুন্নাত থেকে যা উদঘাটন করেছেন। অজ্ঞতা ও অদূরদর্শিতায় নয়, বরং জ্ঞান ও সূক্ষ্মদর্শিতার মাধ্যমে। যেমন আল্লাহ বলেন,قُلْ هَذِهِ سَبِيلِي أَدْعُو إِلَى اللهِ عَلَى بَصِيْرَةٍ أَنَا وَمَنِ اتَّبَعَنِيْ ‘বল, এটাই আমার পথ, আমি ও আমার অনুসারীগণ ডাকি আল্লাহ্র দিকে জাগ্রত জ্ঞান সহকারে’ (ইউসুফ ১২/১০৮)।
আনুগত্যপূর্ণ কাজ বা ইবাদত অধিক করা : হজ্জের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য ও উপকারিতার অন্যতম হ’ল ছালাত ও তাওয়াফ অধিক করা। যেমন আল্লাহ বলেন,ثُمَّ لْيَقْضُوْا تَفَثَهُمْ وَلْيُوْفُوْا نُذُوْرَهُمْ وَلْيَطَّوَّفُوْا بِالْبَيْتِ الْعَتِيْقِ ‘অতঃপর তারা যেন তাদের ময়লা দূর করে এবং তাদের (বৈধ) মানতসমূহ পূর্ণ করে ও প্রাচীনতম গৃহের তাওয়াফ করে’ (হজ্জ ২২/২৯)।
সুতরাং হজ্জ ও ওমরাকারীর জন্য সাধ্যমত অধিক তাওয়াফ করা শরী‘আত সম্মত প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও কষ্ট-ক্লেশ ব্যতীত। আর হারামে ও মক্কার মসজিদে অধিক ছালাত আদায় করা। সঠিক বিষয় হ’ল হারামে ও মক্কার সকল মসজিদে ছাওয়াবে আধিক্য রয়েছে। বিশেষত মক্কার হারামের সর্বত্র। সুতরাং মক্কার মসজিদে, মসজিদে হারামে ও তোমার গৃহে (ছালাত আদায়ের) সুযোগকে গনীমত হিসাবে গ্রহণ কর। আর ছালাত আদায়, কুরআন তেলাওয়াত, তাসবীহ, তাহলীল, যিকর-আযকার, সৎকাজের আদেশ ও অসৎ

জাবালে ‘আরাফা (জাবালে রহমত)  উঁচু উঁচু পাহাড়ের মাঝে এমন কঠিন বড় বড় পাথর খণ্ডের পরস্পর লাগানো সাজানো একটি ছোট পাহাড় যার প...
01/12/2016

জাবালে ‘আরাফা (জাবালে রহমত)


উঁচু উঁচু পাহাড়ের মাঝে এমন কঠিন বড় বড় পাথর খণ্ডের পরস্পর লাগানো সাজানো একটি ছোট পাহাড় যার পাথর সবগুলো কঠিন প্রকৃতিরও নয় আবার সহজও নয়। যা জাবালে সাদের পাদদেশে ‘আরাফার পূর্ব পার্শ্বে অবস্থিত। উচ্চতা দক্ষিণ পার্শ্ব দিয়ে প্রায় ৬৫ মি.। পাহাড়টি বহুনামে পরিচিত। যেমন, ইলাল, জাবালে ‘আরাফা, জাবালে রহমত, জাবালে দো‘আ, জাবালে মুশাহ, জাবালে কুবকুব ও জাবালে করীন।
তবে দু’টি নামই বিশুদ্ধ সূত্রে প্রমাণিত, আর তাহলো, জাবালে ইলাল ও জাবালে ‘আরাফা।
পাহাড়টির হাকীকত বা রহস্য:
সকল মাযহাবের মুসলিম মনীষিগণ বর্ণনা করেন যে, এ পাহাড় সম্পর্কে বিশেষ কোনো কিছুই প্রমাণিত হয় নি; বরং তা ‘আরাফার অন্যান্য ভূমির মতোই। অনুরূপ তারা এও প্রমাণ করেন যে, তার উপর আরোহণ করাও কোনো শরী‘তসম্মত আমল নয় এবং এর ব্যাপারে হজেরও কোনো বিধি-বিধান নেই।
আল্লামা মোল্লা আলী ক্বারী হানাফী শারহুল লুবাবের ৮৪ নং পৃষ্ঠায় বলেন: ‘‘এই পাহাড়ে ওঠার কোনো ভিত্তি নেই; বরং তা একটি নিকৃষ্ট বিদ‘আত।’’
তিনি আরোও বলেন (পৃষ্ঠা-২২৪): বিনা বাধা ও সংকীর্ণতায় ‘আরাফাতের যেখানেই উপস্থিত হবে সেখানেই অবস্থান করবে। পক্ষান্তরে পাহাড়ের উপর লোকদের আরোহণ করা, লোকদের তার উপর অবস্থান ও নির্ধারিত সময়ের পূর্বে ও পরে তার উপর অবস্থান করা জঘন্য বিদ‘আতেরই অন্তর্ভুক্ত।
ইমাম ইবনুল হাজেব আল-মালেকী রহ. বলেন: এ পাহাড়ের নিকট যা কিছু লোকেরা নতুন নতুন আমল করে থাকে তা বিদ‘আতেরই অন্তর্ভুক্ত।
অনুরূপ সেখানে ‘আরাফার রাতে আগুন জ্বালানো এবং এর জন্য গুরুত্বারোপ করে স্বীয় দেশ থেকে আগরবাতি মোমবাতি সাথে নিয়ে আসা এবং তাতে আরোহণ ও অবতরণের ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের সংমিশ্রণ, নিঃসন্দেহে এ সবই এ পবিত্র স্থানে মুশরিকদের ন্যায় করা কর্ম ও গুমরাহী-ভ্রষ্টতা।
আল্লামা শানকীতি মালেকী রহ. তার প্রসিদ্ধ তাফসীর ‘‘আদ্বওয়াউল বায়ান’’ ৫/২৬৩-এ বলেন: ‘‘জেনে রাখুন! সাধারণ জনগণ যেভাবে জাবালে রহমতে আরোহণ করে এর কোনো ভিত্তি নেই, তাতে কোনো ফযীলত নেই। কেননা এ ব্যাপারে কোনো কিছুই বর্ণিত হয় নি; বরং তা ‘আরাফার অন্যান্য সমস্ত এলাকার মতই এবং ‘আরাফার সমস্ত স্থানই অবস্থানের স্থল।
আল-জুওয়াইনী আশ-শাফে‘ঈ রহ. বলেন: ‘আরাফার মধ্যবর্তী স্থানে একটি পাহাড় রয়েছে যাকে বলা হয় জাবালে রহমত (রহমতের পাহাড়) তার উপর উঠাতে কোনো নেকী নেই, যদিও সাধারণ মানুষ তা করে থাকে।
ইমাম নাওয়াওয়ী আশ-শাফে‘ঈ তাঁর প্রসিদ্ধ গ্রন্থ ‘‘আল-মাজমূ‘’’ (৮/১০৭)-তে বলেন: সাধারণ জনগণের মধ্যে ‘আরাফায় অবস্থিত জাবালে রহমতে অবস্থানের প্রতি গুরুত্বের ব্যাপারে যা কিছু প্রসিদ্ধ রয়েছে (যা ইতোপূর্বেও বর্ণনা করা হয়েছে) এবং ‘আরাফার অন্যান্য স্থান হতে তার প্রতি অগ্রাধিকার দেওয়া, এমন কি কারো কারো অজ্ঞতা এমন স্তরে পৌঁছে যে, তাতে অবস্থান না করলে ‘আরাফা অবস্থানই সিদ্ধ হবে না। এমন মনে করা স্পষ্ট ভ্রান্তি ও সুন্নাতের পরিপন্থী।
এ পাহাড়ের উপর আরোহণের ব্যাপারে, নির্ধারিত ফযীলত প্রমাণ করার জন্য যাদের বর্ণনার প্রতি নির্ভর করা যায়, তাদের কারো পক্ষ থেকে কিছুই উল্লেখ নেই; বরং তা ‘আরাফার অন্যান্য সকল ভূমির মতোই।
আল-মুহিব আতত্বাবারী আশ-শাফে‘ঈ রহ. ‘আল-কিরা ফী সাকিনি উম্মুল কুরা’ গ্রন্থের (পৃষ্ঠা ৩৮৬) তে বলেন: ‘‘যে পাহাড়টিতে জনগণ আরোহণের ব্যাপারে গুরুত্ব দিয়ে থাকে তার ব্যাপারে কোনো ধরণের হাদীস বা দলীল সাব্যস্ত নেই।’’
ইবন জামা‘আ আশ-শাফে‘ঈ রহ. হিদায়াতুস সালেকে বলেন: ‘‘সাধারণ জনগণের মধ্যে ‘আরাফার অন্যান্য স্থান হতে জাবালে রহমতে অবস্থানের অগ্রাধিকার দেওয়া বা সেখানেই অবস্থান করতে হবে এমন বিশ্বাস এবং অবস্থানের সময় হওয়ার পূর্বে সেখানে তাদের আনুষ্ঠানিকতা উকূফের পূর্ব রাতে তাদের সেখানে মোমবাতি, আগরবাতি জ্বালান ও এর প্রতি গুরুত্বারোপ করে তা নিজ দেশ হতেই বহন করা এবং তাতে আরোহণ-অবতরণের ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের সংমিশ্রন এক বড় ভ্রান্তি ও অজ্ঞতা এবং সালাফে সালেহীনের অতিবাহিত হয়ে যাওয়ার পর এক জঘন্য আবিস্কার। আমরা আল্লাহর নিকট এর ও যাবতীয় বিদ‘আতের অপসারণ কামনা করি।
ইবন তাইমিয়্যা আল-হাম্বালী রহ. তার মাজমু‘ ফাতাওয়ায় (২৬/১৩৩) বলেন: ‘‘সেখানে (‘আরাফায়) যে পাহাড়টি রয়েছে তাতে আরোহণ করা সুন্নাতের অন্তর্ভুক্ত নয়।’’
তিনি আল-ইখতিয়ারাত আল ইলমিয়্যাহতে (৯৬) আরো বলেন: ‘‘জাবালে রহমতে আরোহণ করা ঐকমত্যে (ইজমা কর্তৃক) শরী‘আতসম্মত নয়।’’
আল-মারদাউই আল-হাম্বলী তার ‘‘আল-ইনসাফ’’ (৪/২৯) গ্রন্থে বলেন: সুন্নাতসম্মত হলো নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লামের অবস্থান স্থল নিশ্চিত করা; কিন্তু জাবালে রহমতের ব্যাপারে কোনো দলীল সাব্যস্ত নেই।

Address

Dhaka
1215

Telephone

01673910626

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Nakhalpara Hajj Kafela posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share