পবিত্র কুরআন ও হাদীসের আলোকে জীবন গড়ি

  • Home
  • Bangladesh
  • Dhaka
  • পবিত্র কুরআন ও হাদীসের আলোকে জীবন গড়ি

পবিত্র কুরআন ও হাদীসের আলোকে জীবন গড়ি পবিত্র আল কুরআন ও সুন্নাহের আলোকে জীবন গড়ার আহবানে.....
If u can lead ur life based on Al Quran & Sunnah, U can follow this page...

30/05/2026

অহংকার জিনিসটা আমাদের অন্তরে খুব গোপনে চলে আসে। তাই এটা থেকে দূরে থাকার জন্য প্রতিদিনের জীবনে ছোট ছোট কিছু অভ্যাস প্র্যাক্টিস করা খুব দরকার।

যেমন ধরেন, চেয়ারে হেলান দিয়ে বসা কিন্তু হারাম না। কিন্তু আমাদের রসূল (সা.) এভাবে বসে খেতে পছন্দ করতেন না। কারণ সে আমলে অহংকারীরা এভাবে হেলান দিয়ে আয়েশ করে খেতো। রসূল (সা.) নিজেকে অহংকার থেকে দূরে রাখতে এভাবে বসতেন না। অহংকার থেকে বেঁচে থাকার এটা কত সুন্দর একটা প্র্যাক্টিস!

রসূল (সা.) বলেছেন: "আমি হেলান দিয়ে খাবার খাই না।"
(সহিহ বুখারি: ৫৩৯৮)

উনি আল্লাহর কাছে সবসময় দুয়া করতেন, "হে আল্লাহ! আমাকে মিসকিন বা গোলাম হিসেবে রাখেন, আর পরকালেও গোলামদের সাথেই হাশর দিয়েন।" উনি দুনিয়াতে নিজেকে একদম অহংকারমুক্ত রাখতে চাইতেন এবং সবসময় নিজেকে আল্লাহর একজন সাধারণ গোলাম মনে করতেন।

রসূল (সা.) এভাবে দুয়া করতেন: "হে আল্লাহ! আমাকে মিসকিন অবস্থায় বাঁচিয়ে রাখো, মিসকিন অবস্থায় মৃত্যু দাও এবং কেয়ামতের দিন মিসকিনদের দলেই আমার হাশর করো।"
(তিরমিজি: ২৩৫২)

ঠিক একইভাবে, কেউ রসূলের সম্মানে দাঁড়িয়ে যাক এটাও উনি পছন্দ করতেন না। কারণ যার সম্মানে দাঁড়ানো হচ্ছে, তার মনে একটা অহংকার বা বড়ত্ব চলে আসতে পারে। মানুষ যেন এই ফাঁদে না পড়ে, রসূল (সা.) সেই প্র্যাক্টিসটাই শিখিয়েছেন।

হযরত আনাস (রা.) বলেন: "সাহাবিদের কাছে রসূল (সা.)-এর চেয়ে প্রিয় কোনো মানুষ ছিল না। তাও উনি যখন আসতেন, উনারা দাঁড়িয়ে যেতেন না। কারণ উনারা জানতেন রসূল (সা.) এটা পছন্দ করেন না।"
(তিরমিজি: ২৭৫৪)

এক সাহাবির একটা সুন্দর ঘটনা আছে। উনি নিজের জন্য আর উনার গোলামের জন্য হুবহু একই রকম জামা বা চাদর কিনেছিলেন। অন্য এক সাহাবি দেখে বললেন, আপনি চাইলে তো নিজের জন্য দুইটাই রেখে দিতে পারতেন, একটু ভালো দেখাতো।

তখন উনি বললেন, রসূল (সা.) আমাদের বলেছেন নিজের গোলাম বা শ্রমিকদের সেটাই পরতে দিতে যা আমরা নিজেরা পরি, আর সেটাই খেতে দিতে যা আমরা নিজেরা খাই।

রসূল (সা.) বলেছেন: "তারা তোমাদেরই ভাই, আল্লাহ তাদের তোমাদের অধীনস্থ করেছেন। তাই যার অধীনে কোনো ভাই থাকে, সে যেন তাকে সেটাই খাওয়ায় যা সে নিজে খায় এবং সেটাই পরতে দেয় যা সে নিজে পরে।" (সহিহ বুখারি: ৩০)

আমাদেরও উচিত এই কাজগুলো প্র্যাক্টিস করা। নিজেকে শ্রমিক বা অন্য সাধারণ মানুষের চেয়ে আলাদা বা ভিআইপি দেখানোর কী দরকার?

নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী সুন্দর কাপড় পরা সম্পূর্ণ জায়েজ। কিন্তু সেটা না করে একদম সাদাসিধে লাইফস্টাইল লিড করা, নিজের কাজের লোক বা শ্রমিকের সাথে একই রকম ড্রেস পরা বা তাদের একই মানের জিনিস কিনে দেওয়াটাই হলো আসল নম্রতা। এতে মন থেকে অহংকার দূর হয়, আর এটাই রসূলের শেখানো পথ।

নাহলে অহংকার কিন্তু কোনো না কোনোভাবে অন্তরে ঢুকে যাবেই। অহংকার আসলে কী? সবসময় নিজেকে প্রশ্ন করুন আর নিজের প্রত্যেকটা কাজের সাথে মিলিয়ে দেখুন।

রসূল (সা.) খুব সহজ করে অহংকারের সংজ্ঞা দিয়েছেন।

রসূল (সা.) বলেছেন: "অহংকার হচ্ছে সত্যকে প্রত্যাখ্যান করা এবং মানুষকে ছোট বা তুচ্ছ মনে করা।" (সহিহ মুসলিম: ৯১)

মানে আপনার কাছে একটা সত্য কথা আসলো, কিন্তু আপনি সেটাকে মেনে নিলেন না বা রিজেক্ট করে দিলেন। হয়তো একজন ছোট পদের মানুষ বা রাস্তার কোনো গরিব মানুষ আপনাকে একটা ভালো বা সঠিক কথা বলেছে, কিন্তু আপনি নিজের ইগো বা স্ট্যাটাস ধরে রাখার জন্য তার কথা শুনলেন না, এটাই হলো অহংকার।

অথবা আপনি একটা বড় পজিশনে আছেন, তাই নিজের চেয়ে ছোট কারো কাছ থেকে কোনো জ্ঞান বা পরামর্শ নিবেন না, এটাই অহংকার।

কিংবা আপনি নিজেকে অনেক বড় টাকাওয়ালা, অনেক সুন্দর, হ্যান্ডসাম বা দামী জিনিসপত্রের মালিক মনে করছেন। নিজের গাড়ি, আইফোন, বাইক আর দামী পোশাক শো-অফ করে মানুষকে নিজের চেয়ে ছোট দেখাচ্ছেন, এটাই হলো অহংকার।

অহংকারী জান্নাতে যাবে না, কিন্তু সেই জান্নাতে না যাওয়া কেমন অসম্ভব এই ব্যপারে আল্লাহ্‌ বলেনঃ

"অহংকারী জান্নাতে প্রবেশ করবে না, যতক্ষণ না উট সুঁইয়ের ছিদ্র দিয়ে প্রবেশ করে। আর এভাবেই আমি অপরাধীদের প্রতিফল দিয়ে থাকি।" (আল-আ'রাফ, আয়াত: ৪০)

সুইয়ের ছিদ্র দিয়ে উট প্রবেশ করা যেমন অসম্ভব, অহংকারীর জান্নাতে যাওয়াও তেমনি অসম্ভব।

29/05/2026

"সৎ বন্ধু সেই —
যার সামনে পাপ করতে লজ্জা লাগে, আর অসৎ
বন্ধু সেই, যার সামনে ইবাদত করতে লজ্জা লাগে "

— শাইখ ড. ইয়াসির আদ দোসারী হাফিজাহুল্লাহ 🤍

27/05/2026

ঈদ মুবারক 💚
তাকাব্বাল্লাহু মিন্না ওয়া মিন'কুম।

26/05/2026

বিদায় হজ্জে প্রায় ১ লক্ষ ২৪ হাজার সাহাবী উপস্থিত ছিলেন।

এই সময় অনেকেই প্রথমবারের মতো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে দেখেন, তাঁর কথা শুনেন।

তিনি আরাফার ময়দানে, মসজিদে নামিরাহ'তে বিদায় হজ্জের ভাষণ দেন।

সেই যুগে তো কোনো মাইক ছিলো না।

মাইক ছাড়া ১ লক্ষ+ সাহাবী কীভাবে তাঁর ভাষণ শুনেন?


প্রথমত, এটা ছিলো একটা মুজিযা। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ভাষণ অনেক সাহাবী দূর থেকেও শুনতে পান।

দ্বিতীয়ত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সেই ময়দানে কয়েকজন সাহাবীকে এই দায়িত্ব দেন। তারমধ্যে একজন ছিলেন রাবিআহ ইবনে উমাইয়া ইবনে খালাফ রাদিয়াল্লাহু আনহু।

ওয়েইট এ মিনিট!

উমাইয়া ইবনে খালাফের ছেলে?

সেই উমাইয়া ইবনে খালাফ, যে কি-না বিলাল রাদিয়াল্লাহু আনহুকে মক্কায় অত্যাচার করতো? পিঠে গরম পাথর রেখে অত্যাচার করে বলতো ইসলাম ত্যাগ করতে?

হ্যাঁ, সেই উমাইয়া ইবনে খালাফ, যার বিরুদ্ধে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বদদু'আ করেন, বদর যুদ্ধে বিলাল রাদিয়াল্লাহু আনহু যাকে হত্যা করেন, সেই উমাইয়া ইবনে খালাফের ছেলে ছিলেন রাবিআহ ইবনে উমাইয়া রাদিয়াল্লাহু আনহু।


যার বাবা চেয়েছিলো ইসলামের আলো নিভিয়ে দিতে, ইসলাম গ্রহণের কারণে যে বিলাল রাদিয়াল্লাহু আনহুকে অত্যাচার করেছিলো, তার ছেলে পালন করেন বিদায় হজ্জের 'মাইক' -এর ভূমিকা!

আহাদুন আহাদ...বলার কারণে বিলাল রাদিয়াল্লাহু আনহুকে যে অত্যাচার করে, তার ছেলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ হাজারো মানুষের কাছে পৌঁছে দেন!

আল্লাহু আকবার!


তথ্যসূত্র:

সহীহ মুসলিম: ২৮৪০

26/05/2026
25/05/2026

এক বেদুঈন আরাফাহর ময়দানে দু’আ করছিলো এভাবে:

اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ مِنْ خَيْرِ مَا سَأَلَكَ السَّائِلُونَ فِي عَرَفَةَ مُنْذُ خَلَقْتَهَا.

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা মিন খাইরি মা সাআলাকাল সা'ইলূনা ফি আরাফাতা মুনযু খালাক্বতাহা।

হে আল্লাহ! যেদিন তুমি আরাফাহকে সৃষ্টি করেছো সেদিন থেকে তোমার কাছে যে যা কিছু কল্যাণকর দু’আ করেছে সবকিছু আমি আমার জন্য চাই।

এরচেয়ে সুন্দর দু’আ আর কি হতে পারে!

© আম্মারুল হক (হাফি.)

বাংলাদেশে আরাফাহ’র রোজা কবে রাখবেন? (একটি জরুরি ও তথ্যভিত্তিক বার্তা)‎‎আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমতুল্লাহ। জিলহজ মাস এলেই আ...
25/05/2026

বাংলাদেশে আরাফাহ’র রোজা কবে রাখবেন? (একটি জরুরি ও তথ্যভিত্তিক বার্তা)

‎আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমতুল্লাহ। জিলহজ মাস এলেই আমাদের মাঝে একটি প্রশ্ন বারবার ঘুরেফিরে আসে—

‎"আমরা আরাফাহ’র রোজা কবে রাখবো? সৌদির হজ্জের দিন নাকি বাংলাদেশের ৯ জিলহজে?"

‎অনেকেই না বুঝে বিভ্রান্তিতে পড়েন। আসুন, কুরআন, হাদিস এবং বিশ্বখ্যাত আলেম ও ফতোয়া বোর্ডের সিদ্ধান্তের আলোকে বিষয়টি পরিষ্কারভাবে জেনে নিই।

‎১. ‘ইয়াওমে আরাফাহ’ আসলে কী? একটি স্থান নাকি একটি নির্দিষ্ট তারিখ? ইসলামি পরিভাষায় জিলহজ মাসের প্রতিটি দিনের আলাদা নাম আছে। যেমন—

‎৮ জিলহজকে বলা হয়! ‘ইয়াওমুত তারবিয়াহ’,
‎৯ জিলহজকে বলা হয় ‘ইয়াওমে আরাফাহ’,
‎১০ জিলহজকে বলা হয় ‘ইয়াওমুন নাহার’ (কোরবানির দিন)

‎হাদিসের পরিভাষায় ‘ইয়াওমে আরাফাহ’ বলতে নির্দিষ্ট কোনো স্থানকে নয়, বরং জিলহজ মাসের ৯ তারিখকেই বোঝানো হয়েছে। যেভাবে আমরা নিজ নিজ দেশের চাঁদের তারিখ অনুযায়ী ১০ জিলহজে কোরবানি ও ঈদ পালন করি, ঠিক একইভাবে তার আগের দিন অর্থাৎ ৯ জিলহজে আরাফাহ’র রোজা রাখা আমাদের দায়িত্ব।

‎২. হাদিসের স্পষ্ট নির্দেশনা ও দলিল! চাঁদ দেখার ওপর আমল:

‎রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন:

‎"তোমরা চাঁদ দেখে রোজা রাখো এবং চাঁদ দেখে রোজা ভঙ্গ (ঈদ) করো।"

‎(সহিহ বুখারী ও মুসলিম)

‎এই নিয়মটি রমজানের মতো জিলহজ মাসের ক্ষেত্রেও সমানভাবে প্রযোজ্য।

‎৯ জিলহজের রোজা:
‎উম্মুল মুমিনীন হযরত হাফসা (রা.) থেকে বর্ণিত:
‎"রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) চারটি আমল কখনো ছাড়তেন না:

‎- আশুরার রোজা,
‎- জিলহজের প্রথম নয় দিনের রোজা,
‎- প্রত্যেক মাসের তিনটি রোজা,
‎- এবং ফজরের আগের দুই রাকাত সুন্নত।"

‎সুনানে নাসায়ী, হাদিস: ২৪১৬; মুসনাদে আহমাদ

‎এই হাদিসটি প্রমাণ করে যে রাসুলুল্লাহ (সা.) জিলহজের ৯ তারিখ হিসেবেই রোজা রাখতেন, কারণ মক্কার বাইরে থাকা সাহাবিদের কাছে সেই যুগে তাৎক্ষণিকভাবে মক্কায় কবে হজ্জ হচ্ছে সেই খবর পৌঁছানোর কোনো প্রযুক্তিগত মাধ্যম ছিল না।

‎- আরাফাহ’র রোজার ফজিলত:
‎ আবু কাতাদাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে আরাফাহ’র দিনের রোজা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন:

‎"আমি আল্লাহর কাছে আশা রাখি, এটি তার পূর্ববর্তী এক বছর এবং পরবর্তী এক বছরের গুনাহের কাফফারা (ক্ষমা) হিসেবে গণ্য হবে।"

‎ সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১১৬২

‎৩. যুক্তির আলোকে বিষয়টি বুঝুন (সময় ও ভৌগোলিক ব্যবধান)

‎হাজী সাহেবদের আরাফাহ’র ময়দানে অবস্থান (ওকুফে আরাফাহ) শুরু হয় ৯ জিলহজ জোহরের ওয়াক্ত থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত। আপনি যদি সৌদি আরবের সাথে মিলিয়ে বাংলাদেশে রোজা রাখেন (যা বাংলাদেশের ৮ জিলহজ), তবে বাংলাদেশে যখন ইফতারের সময় হবে, সৌদিতে তখন কেবল হাজিদের আরাফাহর মাঠে অবস্থান শুরু হচ্ছে! অর্থাৎ সময়ের ব্যবধানের কারণে সৌদির হজ্জের আমলের সাথে মিলিয়ে পৃথিবীর অন্য প্রান্ত থেকে রোজা রাখা ভৌগোলিক ও সামাজিকভাবে অসম্ভব ও যুক্তিহীন।

‎৪. বিশ্বখ্যাত আলেম ও ফতোয়া বোর্ডের মতামত
‎বিশ্বের বড় বড় স্কলার এবং ফতোয়া বোর্ড একমত যে, রোজা নিজ দেশের চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল।

‎সৌদি আরবের গ্র্যান্ড মুফতি শায়খ ইবনে উসাইমীন (রহ.)-এর ফতোয়া:

‎তাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, চাঁদের উদয়স্থলের ভিন্নতার কারণে যদি অন্য দেশে আরাফাহ’র দিন সৌদির সাথে না মেলে, তবে তারা কবে রোজা রাখবে? তিনি স্পষ্ট জবাব দেন:

‎"সবচেয়ে সঠিক মত হলো, চাঁদের উদয়স্থল ভিন্ন ভিন্ন দেশে ভিন্ন হতে পারে। ...অতএব, আপনারা যে দেশে বসবাস করছেন, সেই দেশের চাঁদের হিসাব অনুযায়ী যখন ৯ জিলহজ হবে, তখনই আরাফাহ’র রোজা রাখবেন।"

‎_ মাজমুউল ফাতাওয়া, খণ্ড: ১৯

‎ইসলামিক ফিকহ একাডেমি (OIC):
‎১৯৮৬ সালে জর্ডানে অনুষ্ঠিত ওআইসি-এর ইসলামি ফিকহ একাডেমির বার্ষিক অধিবেশনে বিশ্বের শতাধিক শীর্ষ আলেম ও গবেষক সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত নেন যে, ঈদ ও রোজা উভয় ক্ষেত্রেই আন্তর্জাতিক বা গ্লোবাল সাইটিং নয়, বরং প্রতিটি অঞ্চলের নিজস্ব বা আঞ্চলিক চাঁদ দেখাকেই মানদণ্ড ধরতে হবে।

‎- বাংলাদেশের আলেমদের অবস্থান:
‎জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি এবং বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় মুফতি ও আলেমদের (দারুল উলুম দেওবন্দ ও দেশীয় ফতোয়া বোর্ডসমূহের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী) স্পষ্ট ফতোয়া হলো—বাংলাদেশিদের জন্য বাংলাদেশের চাঁদের হিসাব অনুযায়ী ৯ জিলহজ তারিখে আরাফাহ’র রোজা রাখা সুন্নাহসম্মত ও বাধ্যতামূলক।

‎রেফারেন্স: আল-বাহরুর রায়েক: ২/২৬৬; ফতোয়ায়ে উসমানি: ২/১৬৭

‎সুতরাং, কোনো রকম সংশয় বা দ্বিধাদ্বন্দ্বে না ভুগে, আমাদের বাংলাদেশে জাতীয়ভাবে ঘোষিত জিলহজ মাসের ৯ তারিখে (ঈদুল আজহার আগের দিন) আরাফাহ’র নিয়তে রোজা রাখুন।

‎ইসলামে বিশৃঙ্খলা বা বিভ্রান্তির কোনো স্থান নেই। নিজের দেশের নিয়ম মেনে ইবাদত করাই শরিয়তের প্রকৃত সৌন্দর্য।

‎আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে সহিহ সুন্নাহ অনুযায়ী আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

কাসিরা এডিটর

24/05/2026

একদিন রাসূল (সা.) তাঁর সাহাবী আবূ যর (রাদি.)-কে বলেন, “হে আবু যর! আমি কি তোমাকে জান্নাতের ভাণ্ডার হতে একটি বিশেষ ভাণ্ডারের সন্ধান দেবো? (তা হলো:) 'লা হাওলা ওয়া লা কুউওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ' (যিকির)।” [সহীহ আত-তারগীব: ১৫৮৫]
যিকিরটা আমরা অনেকেই পারি। কিন্তু এর অর্থ কি জানি? এই কালজয়ী বাক্যটির মূল অর্থ হলো—আমরা নিজেদের কোনো যোগ্যতা বা ক্ষমতায় অকল্যাণ থেকে বাঁচতে পারি না এবং ভালো কাজও করতে পারি না, যতক্ষণ না মহান আল্লাহ আমাদের তাওফিক দেন।
এটি বান্দার পক্ষ থেকে নিজের অক্ষমতা স্বীকার এবং আল্লাহর সর্বময় ক্ষমতার কাছে নিজেকে পুরোপুরি সমর্পণ করার শ্রেষ্ঠতম ঘোষণা। সালাফগণ যেকোনো কঠিন কাজ, পেরেশানি, বিপদ-আপদ কিংবা ইবাদতের অলসতা দূর করতে এই যিকিরের মাধ্যমে আল্লাহর সাহায্য চাইতেন।
এটি অন্তরে এক অলৌকিক ঈমানি শক্তি ও আত্মবিশ্বাস জোগায়।

21/05/2026

"পরিবার হলো জান্নাতের একটি ছোট টুকরো অথবা জাহান্নামের একটি মহড়া। আপনি আপনার স্ত্রীর সাথে, আপনার স্বামীর সাথে বা সন্তানদের সাথে কেমন আচরণ করছেন—সেটাই ঠিক করবে আপনার জান্নাতের রাস্তা কতটা মসৃণ হবে।"

© নোমান আলী খান

21/05/2026

ভয় আর হতাশা জন্মায় তখনই, যখন মানুষ মনে করে— সবকিছু আমার হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে। কিন্তু মুমিন জানে— সবকিছু তো শুরু থেকেই তার হাতে ছিল না। সবকিছু ছিল আল্লাহর হাতে।

রাসূল (সা.) বলেন, 'তোমার জীবনে যা ঘটছে, তা কখনো তোমাকে এড়িয়ে যেতে পারত না।' [আল মুজামুল কাবীর লিত তাবরানী, ১১২৪৩]

এই একটি বাক্য অসংখ্য আফসোসকে মেরে ফেলে।

বই: মুমিনের হারাবার কিছু নেই

Address

Dhaka

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when পবিত্র কুরআন ও হাদীসের আলোকে জীবন গড়ি posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share