হক্ব কথা - True-Holds

হক্ব কথা - True-Holds Searching The Truth from Quran and Hadis. কোরআন ও হাদিস অনুযায়ী জীবন গঠনের জন্য সত্য অনুসন্ধান ও প্রচার করা আমাদের উদ্দেশ্য।

02/03/2026

দুনিয়ার বাড়ি যতই হোক, শেষ ঠিকানা একটাই

মানুষ জন্মের পর থেকেই গড়তে শুরু করে। প্রথমে ছোট স্বপ্ন, তারপর বড় স্বপ্ন। এক সময় সেই স্বপ্ন ঘর হয়, দালান হয়, বহুতল হয়। কেউ একতলা বানায়, কেউ পাঁচতলা, কেউ দশতলা। কেউ নিজের বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে গর্ব করে, কেউ গাড়ির চাবি ঘুরিয়ে নিজের সাফল্য মাপতে চায়।

কিন্তু এখানে একটা প্রশ্ন আছে—শেষ পর্যন্ত এগুলোর মালিক কে?

দুনিয়ায় তোমার বাড়ি যতই হোক, কবর কিন্তু একটাই।
বাড়ি যত তলাই হোক, কবর কিন্তু মাটির তলাতেই।

দুনিয়ায় যত গাড়িই চালাও, একদিন যেতে হবে এমন এক যাত্রায়—যেখানে চড়বে অন্য কারো কাঁধে।

এই সত্যটা আমরা জানি, কিন্তু ভাবি না।

মালিকানার ভ্রম

আমরা বলি—“এটা আমার বাড়ি”, “এটা আমার গাড়ি”, “এটা আমার সম্পদ।” কিন্তু সত্যি করে বলো তো, তুমি কতদিনের জন্য “আমার” বলতে পারো?

তুমি যখন পৃথিবীতে এলে, তোমার হাতে কিছু ছিল না।
তুমি যখন চলে যাবে, হাত খালি নিয়েই যাবে।

তাহলে মাঝের এই সময়টুকুতে এত অহংকার কেন? এত প্রতিযোগিতা কেন?

মানুষ সম্পদ অর্জন করবে—এটা দোষের নয়। সুন্দর ঘর করবে, ভালো গাড়ি কিনবে—এটাও স্বাভাবিক। সমস্যা তখনই শুরু হয়, যখন এগুলো মানুষকে মানুষ ভুলিয়ে দেয়। যখন বাড়ির তলা বাড়ে, কিন্তু হৃদয়ের গভীরতা কমে যায়। যখন গাড়ির সংখ্যা বাড়ে, কিন্তু বিনয়ের পরিমাণ কমে যায়।

চূড়ান্ত সমতা

দুনিয়ায় বড়-ছোট আছে, ধনী-গরিব আছে, প্রভাবশালী-সাধারণ আছে।
কিন্তু কবরের ভেতরে কোনো ভিআইপি কক্ষ নেই।

সেখানে পদবি কাজ করে না। ব্যাংক ব্যালেন্স কাজ করে না। পরিচিতির জোরও কাজ করে না। সেখানে একটাই পরিচয়—তুমি মানুষ, আর তুমি তোমার আমল নিয়ে একা।
এই বাস্তবতা মানুষকে ছোট করার জন্য নয়। বরং জাগিয়ে তোলার জন্য।

যদি শেষ ঠিকানা মাটির নিচে, তাহলে জীবনটা এমনভাবে সাজাও যেন যাওয়ার সময় অনুশোচনা না থাকে। এমন কাজ করো, যা তোমার অনুপস্থিতিতেও মানুষ মনে রাখবে। এমন ব্যবহার করো, যা তোমার সম্পদের চেয়ে বেশি মূল্যবান হয়ে থাকবে।

সত্যিকারের বিনিয়োগ

আমরা ব্যাংকে টাকা রাখি ভবিষ্যতের জন্য। জমি কিনি নিরাপত্তার জন্য।
কিন্তু আত্মার জন্য কী রাখছি?
একটা ভালো কাজ, একটা ক্ষমা, একটা সহানুভূতি, একটা ন্যায়সঙ্গত সিদ্ধান্ত—এগুলোই সেই সম্পদ যা কবর পর্যন্ত সঙ্গে যায়।

মানুষ মরার পর তার দালান থাকে, গাড়ি থাকে, ব্যবসা থাকে।
কিন্তু সে নিজে থাকে না।

তার সম্পর্কে মানুষ কী বলে—সেটাই হয়ে যায় তার প্রকৃত পরিচয়।

একটু থামো, ভাবো
তুমি কি শুধু তলা বাড়াচ্ছো?
নাকি নিজের ভেতরটাও বড় করছো?

তুমি কি শুধু গাড়ি বাড়াচ্ছো?
নাকি মানুষের পাশে দাঁড়ানোর শক্তিটাও বাড়াচ্ছো?

জীবন খুব ছোট। আমরা ভাবি সময় অনেক আছে। কিন্তু সময় কারো জন্য দাঁড়িয়ে থাকে না।

একদিন সবাইকেই যেতে হবে। অন্য কারো কাঁধে চড়ে। খুব সাধারণ এক কাপড়ে জড়িয়ে। কোনো পদবি ছাড়া।

তখন দুনিয়ার সব বাড়ি, সব গাড়ি, সব গর্ব—পিছনে পড়ে থাকবে।

শেষ কথা হলো—দুনিয়া বানাও, কিন্তু দুনিয়াতে ডুবে যেও না।
সম্পদ রাখো, কিন্তু সম্পদের দাস হয়ো না।
উঁচুতে উঠো, কিন্তু মাটির কথা ভুলে যেও না।

কারণ শেষ ঠিকানা একটাই। আর সেটি আমাদের সবার জন্য সমান।

এই ঘরটা হযরত আয়শা (রাঃ) এর ঘর। রাসূল (সাঃ) এর কবর যেখানে সেখানে একটা চৌকি ছিলো। যাতে রাসূল (সাঃ) আরাম করতেন। এবং এই চৌকি...
01/01/2026

এই ঘরটা হযরত আয়শা (রাঃ) এর ঘর। রাসূল (সাঃ) এর কবর যেখানে সেখানে একটা চৌকি ছিলো। যাতে রাসূল (সাঃ) আরাম করতেন। এবং এই চৌকির উপরেই হযরত আয়শা (রাঃ) এর কোলে মাথা রেখে তিনি ইন্তেকাল করেন।

রাসূল (সাঃ) এর ইন্তেকালের পর সাহাবায়ে কেরাম চিন্তায় পড়ে যান কোথায় দাফন করা হবে তা নিয়ে। কেউ মসজিদে, কেউ জান্নাতুল বাকীতে একেকজন একেক রকম মত দিচ্ছিলেন।

তখন আবু বকর (রাঃ) বলেন, আমি রাসূল (সাঃ) থেকে শুনেছি কোনো নবী যেখানে ইন্তেকাল করেন, সেখানেই তাকে দাফন করা হয়। এরপর সাহাবায়ে কেরাম একমত হলে এখানেই রাসূল (সাঃ) কে দাফন করা হয়।

দাফনের পরও আয়শা (রাঃ) এই ঘরেই আগের মত বসবাস করতেন। রাসূলের মৃত্যুর ২বছর পর আবু বকর (রাঃ) অসুস্থ অবস্থায় তিনিও ইন্তেকাল করেন।

অসুস্থ থাকাকালীন তিনি বলেছিলেন, আমি চাই আমাকে আল্লাহর রাসূল (সাঃ) এর পাশে দাফন করা হোক, যদি আয়িশা অনুমতি দেন। আয়শা (রাঃ) অনুমতি দিলে রাসূল (সাঃ) এর পাশেই আবু বকর (রাঃ) কেও দাফন করা হয়।

এরপর আয়শা (রাঃ) এর ইচ্ছে ছিলো রাসূল (সাঃ) ও তার পিতা আবু বকরের পাশে তিনি নিজে দাফন হতে। কিন্তু মৃত্যুশয্যায় শুয়ে হযরত উমর (রা.) তার ছেলে আব্দুল্লাহকে ডেকে বললেন, আমি রাসূল (সা.)-এর রওজার পাশে দাফন হতে চাই।

তুমি মা আয়েশা (রা.) এর কাছে যাও এবং তাকে বলো, উমর তার দুই সাথীর পায়ের কাছে কবরস্থ হওয়ার অনুমতি চাইছে। তাকে 'আমিরুল মুমিনীন' বলো না, শুধু 'উমর' বলো।

এটা শুনে আয়িশা (রাঃ) কেঁদে ফেললেন। এবং তিনি দীর্ঘ সময় কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন। এরপর বললেন, আমি এই জায়গাটি নিজের জন্য রেখেছিলাম, কিন্তু আজ আমি উমরের জন্য তা ছেড়ে দিলাম।

আয়শা (রাঃ) অনুমতি দেওয়ার পরও উমর (রাঃ) তার ছেলেকে বলেছিলেন, আমার মৃত্যুর পর আবার অনুমতি চাইবে। কারণ হতে পারে আমার জীবদ্দশায় লজ্জায় পড়ে অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। যদি আবার অনুমতি পাওয়া যায়, তবে দাফন করবে নতুবা সাধারণ কবরস্থানে দাফন করে দিও।

তার মৃত্যুর পর রওজার দরজায় গিয়ে অনুমতি চাইলে মা আয়েশা (রা.) বললেন, "উমরকে তার সাথীদের পাশে দাফন হওয়ার জন্য স্বাগতম।

উমর (রাঃ) কে দাফনের আগে আয়শা (রাঃ) সেই ঘরে স্বাভাবিকভাবেই চলাফেরা করতেন। কিন্তু তার দাফনের পর ছবিতে যেভাবে দেওয়া আছে সেভাবে পর্দার ব্যবস্থা করেন।

আয়শা (রাঃ) বলেন, উমরকে যখন তাঁদের সঙ্গে দাফন করা হলো, আল্লাহর কসম! এরপর থেকে আমি সেখানে প্রবেশ করিনি যতক্ষণ না আমি আমার কাপড় শক্ত করে জড়িয়ে পূর্ণ পর্দা করে প্রবেশ করেছি।

আয়শা (রাঃ) ৬৫ বা ৬৬ বছর বয়সে এই ঘরেই তিনি ইন্তেকাল করেন। রাসূল এর মৃত্যুর পরেও প্রায় ৪৭ বছর পর্যন্ত জীবিত ছিলেন এই মহিয়সী। এই পুরো সময় ইলমের চর্চা, উম্মতের ফিকির ও ইবাদতে কাটিয়ে দিয়েছিলেন।

মৃত্যুর পূর্বে তিনি ওসিয়ত করে বলেছিলেন, আমাকে রাসূল (সাঃ) এর সাথে ঘরে দাফন করো না, রাসূল (সাঃ) এর বাকি স্ত্রীদের সাথে দাফন করো। কারণ আমি চাই না আমাকে বাকি স্ত্রীদের থেকে বিশেষভাবে পবিত্র বা উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন মনে করা হোক। এরপর এই মহিয়সীকে জান্নাতুল বাকিতে দাফন করা হয়। রদ্বিআল্লাহু আনহা। 🌹

একটা কবর থেকেও পর্দা করেছিলেন জগত শ্রেষ্ঠ এই নারী। তবুও তোমরা কেন পর্দা থেকে এত দূরে? ও নারী সমাজ!

(ছবি মদিনা মিউজিয়াম থেকে সংগৃহীত।)

Address

Dhaka
1000

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when হক্ব কথা - True-Holds posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share