হক্ব কথা - True-Holds

হক্ব কথা - True-Holds Searching The Truth from Quran and Hadis. কোরআন ও হাদিস অনুযায়ী জীবন গঠনের জন্য সত্য অনুসন্ধান ও প্রচার করা আমাদের উদ্দেশ্য।

02/03/2026

দুনিয়ার বাড়ি যতই হোক, শেষ ঠিকানা একটাই

মানুষ জন্মের পর থেকেই গড়তে শুরু করে। প্রথমে ছোট স্বপ্ন, তারপর বড় স্বপ্ন। এক সময় সেই স্বপ্ন ঘর হয়, দালান হয়, বহুতল হয়। কেউ একতলা বানায়, কেউ পাঁচতলা, কেউ দশতলা। কেউ নিজের বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে গর্ব করে, কেউ গাড়ির চাবি ঘুরিয়ে নিজের সাফল্য মাপতে চায়।

কিন্তু এখানে একটা প্রশ্ন আছে—শেষ পর্যন্ত এগুলোর মালিক কে?

দুনিয়ায় তোমার বাড়ি যতই হোক, কবর কিন্তু একটাই।
বাড়ি যত তলাই হোক, কবর কিন্তু মাটির তলাতেই।

দুনিয়ায় যত গাড়িই চালাও, একদিন যেতে হবে এমন এক যাত্রায়—যেখানে চড়বে অন্য কারো কাঁধে।

এই সত্যটা আমরা জানি, কিন্তু ভাবি না।

মালিকানার ভ্রম

আমরা বলি—“এটা আমার বাড়ি”, “এটা আমার গাড়ি”, “এটা আমার সম্পদ।” কিন্তু সত্যি করে বলো তো, তুমি কতদিনের জন্য “আমার” বলতে পারো?

তুমি যখন পৃথিবীতে এলে, তোমার হাতে কিছু ছিল না।
তুমি যখন চলে যাবে, হাত খালি নিয়েই যাবে।

তাহলে মাঝের এই সময়টুকুতে এত অহংকার কেন? এত প্রতিযোগিতা কেন?

মানুষ সম্পদ অর্জন করবে—এটা দোষের নয়। সুন্দর ঘর করবে, ভালো গাড়ি কিনবে—এটাও স্বাভাবিক। সমস্যা তখনই শুরু হয়, যখন এগুলো মানুষকে মানুষ ভুলিয়ে দেয়। যখন বাড়ির তলা বাড়ে, কিন্তু হৃদয়ের গভীরতা কমে যায়। যখন গাড়ির সংখ্যা বাড়ে, কিন্তু বিনয়ের পরিমাণ কমে যায়।

চূড়ান্ত সমতা

দুনিয়ায় বড়-ছোট আছে, ধনী-গরিব আছে, প্রভাবশালী-সাধারণ আছে।
কিন্তু কবরের ভেতরে কোনো ভিআইপি কক্ষ নেই।

সেখানে পদবি কাজ করে না। ব্যাংক ব্যালেন্স কাজ করে না। পরিচিতির জোরও কাজ করে না। সেখানে একটাই পরিচয়—তুমি মানুষ, আর তুমি তোমার আমল নিয়ে একা।
এই বাস্তবতা মানুষকে ছোট করার জন্য নয়। বরং জাগিয়ে তোলার জন্য।

যদি শেষ ঠিকানা মাটির নিচে, তাহলে জীবনটা এমনভাবে সাজাও যেন যাওয়ার সময় অনুশোচনা না থাকে। এমন কাজ করো, যা তোমার অনুপস্থিতিতেও মানুষ মনে রাখবে। এমন ব্যবহার করো, যা তোমার সম্পদের চেয়ে বেশি মূল্যবান হয়ে থাকবে।

সত্যিকারের বিনিয়োগ

আমরা ব্যাংকে টাকা রাখি ভবিষ্যতের জন্য। জমি কিনি নিরাপত্তার জন্য।
কিন্তু আত্মার জন্য কী রাখছি?
একটা ভালো কাজ, একটা ক্ষমা, একটা সহানুভূতি, একটা ন্যায়সঙ্গত সিদ্ধান্ত—এগুলোই সেই সম্পদ যা কবর পর্যন্ত সঙ্গে যায়।

মানুষ মরার পর তার দালান থাকে, গাড়ি থাকে, ব্যবসা থাকে।
কিন্তু সে নিজে থাকে না।

তার সম্পর্কে মানুষ কী বলে—সেটাই হয়ে যায় তার প্রকৃত পরিচয়।

একটু থামো, ভাবো
তুমি কি শুধু তলা বাড়াচ্ছো?
নাকি নিজের ভেতরটাও বড় করছো?

তুমি কি শুধু গাড়ি বাড়াচ্ছো?
নাকি মানুষের পাশে দাঁড়ানোর শক্তিটাও বাড়াচ্ছো?

জীবন খুব ছোট। আমরা ভাবি সময় অনেক আছে। কিন্তু সময় কারো জন্য দাঁড়িয়ে থাকে না।

একদিন সবাইকেই যেতে হবে। অন্য কারো কাঁধে চড়ে। খুব সাধারণ এক কাপড়ে জড়িয়ে। কোনো পদবি ছাড়া।

তখন দুনিয়ার সব বাড়ি, সব গাড়ি, সব গর্ব—পিছনে পড়ে থাকবে।

শেষ কথা হলো—দুনিয়া বানাও, কিন্তু দুনিয়াতে ডুবে যেও না।
সম্পদ রাখো, কিন্তু সম্পদের দাস হয়ো না।
উঁচুতে উঠো, কিন্তু মাটির কথা ভুলে যেও না।

কারণ শেষ ঠিকানা একটাই। আর সেটি আমাদের সবার জন্য সমান।

এই ঘরটা হযরত আয়শা (রাঃ) এর ঘর। রাসূল (সাঃ) এর কবর যেখানে সেখানে একটা চৌকি ছিলো। যাতে রাসূল (সাঃ) আরাম করতেন। এবং এই চৌকি...
01/01/2026

এই ঘরটা হযরত আয়শা (রাঃ) এর ঘর। রাসূল (সাঃ) এর কবর যেখানে সেখানে একটা চৌকি ছিলো। যাতে রাসূল (সাঃ) আরাম করতেন। এবং এই চৌকির উপরেই হযরত আয়শা (রাঃ) এর কোলে মাথা রেখে তিনি ইন্তেকাল করেন।

রাসূল (সাঃ) এর ইন্তেকালের পর সাহাবায়ে কেরাম চিন্তায় পড়ে যান কোথায় দাফন করা হবে তা নিয়ে। কেউ মসজিদে, কেউ জান্নাতুল বাকীতে একেকজন একেক রকম মত দিচ্ছিলেন।

তখন আবু বকর (রাঃ) বলেন, আমি রাসূল (সাঃ) থেকে শুনেছি কোনো নবী যেখানে ইন্তেকাল করেন, সেখানেই তাকে দাফন করা হয়। এরপর সাহাবায়ে কেরাম একমত হলে এখানেই রাসূল (সাঃ) কে দাফন করা হয়।

দাফনের পরও আয়শা (রাঃ) এই ঘরেই আগের মত বসবাস করতেন। রাসূলের মৃত্যুর ২বছর পর আবু বকর (রাঃ) অসুস্থ অবস্থায় তিনিও ইন্তেকাল করেন।

অসুস্থ থাকাকালীন তিনি বলেছিলেন, আমি চাই আমাকে আল্লাহর রাসূল (সাঃ) এর পাশে দাফন করা হোক, যদি আয়িশা অনুমতি দেন। আয়শা (রাঃ) অনুমতি দিলে রাসূল (সাঃ) এর পাশেই আবু বকর (রাঃ) কেও দাফন করা হয়।

এরপর আয়শা (রাঃ) এর ইচ্ছে ছিলো রাসূল (সাঃ) ও তার পিতা আবু বকরের পাশে তিনি নিজে দাফন হতে। কিন্তু মৃত্যুশয্যায় শুয়ে হযরত উমর (রা.) তার ছেলে আব্দুল্লাহকে ডেকে বললেন, আমি রাসূল (সা.)-এর রওজার পাশে দাফন হতে চাই।

তুমি মা আয়েশা (রা.) এর কাছে যাও এবং তাকে বলো, উমর তার দুই সাথীর পায়ের কাছে কবরস্থ হওয়ার অনুমতি চাইছে। তাকে 'আমিরুল মুমিনীন' বলো না, শুধু 'উমর' বলো।

এটা শুনে আয়িশা (রাঃ) কেঁদে ফেললেন। এবং তিনি দীর্ঘ সময় কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন। এরপর বললেন, আমি এই জায়গাটি নিজের জন্য রেখেছিলাম, কিন্তু আজ আমি উমরের জন্য তা ছেড়ে দিলাম।

আয়শা (রাঃ) অনুমতি দেওয়ার পরও উমর (রাঃ) তার ছেলেকে বলেছিলেন, আমার মৃত্যুর পর আবার অনুমতি চাইবে। কারণ হতে পারে আমার জীবদ্দশায় লজ্জায় পড়ে অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। যদি আবার অনুমতি পাওয়া যায়, তবে দাফন করবে নতুবা সাধারণ কবরস্থানে দাফন করে দিও।

তার মৃত্যুর পর রওজার দরজায় গিয়ে অনুমতি চাইলে মা আয়েশা (রা.) বললেন, "উমরকে তার সাথীদের পাশে দাফন হওয়ার জন্য স্বাগতম।

উমর (রাঃ) কে দাফনের আগে আয়শা (রাঃ) সেই ঘরে স্বাভাবিকভাবেই চলাফেরা করতেন। কিন্তু তার দাফনের পর ছবিতে যেভাবে দেওয়া আছে সেভাবে পর্দার ব্যবস্থা করেন।

আয়শা (রাঃ) বলেন, উমরকে যখন তাঁদের সঙ্গে দাফন করা হলো, আল্লাহর কসম! এরপর থেকে আমি সেখানে প্রবেশ করিনি যতক্ষণ না আমি আমার কাপড় শক্ত করে জড়িয়ে পূর্ণ পর্দা করে প্রবেশ করেছি।

আয়শা (রাঃ) ৬৫ বা ৬৬ বছর বয়সে এই ঘরেই তিনি ইন্তেকাল করেন। রাসূল এর মৃত্যুর পরেও প্রায় ৪৭ বছর পর্যন্ত জীবিত ছিলেন এই মহিয়সী। এই পুরো সময় ইলমের চর্চা, উম্মতের ফিকির ও ইবাদতে কাটিয়ে দিয়েছিলেন।

মৃত্যুর পূর্বে তিনি ওসিয়ত করে বলেছিলেন, আমাকে রাসূল (সাঃ) এর সাথে ঘরে দাফন করো না, রাসূল (সাঃ) এর বাকি স্ত্রীদের সাথে দাফন করো। কারণ আমি চাই না আমাকে বাকি স্ত্রীদের থেকে বিশেষভাবে পবিত্র বা উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন মনে করা হোক। এরপর এই মহিয়সীকে জান্নাতুল বাকিতে দাফন করা হয়। রদ্বিআল্লাহু আনহা। 🌹

একটা কবর থেকেও পর্দা করেছিলেন জগত শ্রেষ্ঠ এই নারী। তবুও তোমরা কেন পর্দা থেকে এত দূরে? ও নারী সমাজ!

(ছবি মদিনা মিউজিয়াম থেকে সংগৃহীত।)

এটি হল একটি অভিধান ডেক যাতে ইংরেজি শব্দের IPA, বাংলা উচ্চারণ, Verb Forms, ছবি, Parts of Speech, বাংলা অর্থ, ‍Synonyms, A...
16/07/2025

এটি হল একটি অভিধান ডেক যাতে ইংরেজি শব্দের IPA, বাংলা উচ্চারণ, Verb Forms, ছবি, Parts of Speech, বাংলা অর্থ, ‍Synonyms, Antonyms এবং ৫টি করে Example Sentence ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ডাউনলোড লিংক:

এটি হল একটি অভিধান ডেক যাতে ইংরেজি শব্দের IPA, বাংলা উচ্চারণ, Verb Forms, ছবি, Parts of Speech, বাংলা অর্থ, ‍Synonyms, Antonyms এবং ৫টি করে Example Sentence ইত....

১. আসমাউল হুসনা: আল্লাহর গুন বাচক নাম সমূহের আরবী ও বাংলা উচ্চারণ, সংক্ষিপ্ত অর্থ, ভাবার্থ, আলোচনা, পবিত্র কোরআন থেকে উদ...
15/07/2025

১. আসমাউল হুসনা: আল্লাহর গুন বাচক নাম সমূহের আরবী ও বাংলা উচ্চারণ, সংক্ষিপ্ত অর্থ, ভাবার্থ, আলোচনা, পবিত্র কোরআন থেকে উদৃতি এবং ভ্রান্তি অপনোদন বিষয়ে আলোচনা অন্তর্ভূক্ত হয়েছে যা আল্লাহ জ্ঞান ও আকিদাকে প্রসারিত করবে, ইনশাআল্লাহ। ডাউনলোড লিংক:

https://ankiweb.net/shared/info/1052435661

১. আসমাউল হুসনা: আল্লাহর গুন বাচক নাম সমূহের আরবী ও বাংলা উচ্চারণ, সংক্ষিপ্ত অর্থ, ভাবার্থ, আলোচনা, পবিত্র কোরআন থে.....

16/06/2025

الخَالِقُ
(আল-খালিক্ব)
সৃষ্টিকর্তা
ভাবার্থ:
স্রষ্টা; সৃষ্টিকর্তা; (শূন্য থেকে) সৃষ্টিকারী
আলোচনা:
তিনিই একমাত্র যিনি সবকিছুকে শুন্য থেকে সৃষ্টি করেছেন (কোন কিছুর সহযোগিতা ছাড়া)। তিনি যা কিছু সৃষ্টি করেছেন সবকিছুর অস্তিত্ব, রকম ও অবস্থা সব একই সময়ে সৃষ্টি করেছেন। তিনিই নির্ধারন করেন কোথায়, কখন এবং কিভাবে সৃষ্টিসমূহ সংঘঠিত হবে। তিনি উপাদান ছাড়াই সবকিছু সৃষ্টি করেছেন। বরং সকল উপাদানেরও সৃষ্টিকর্তা তিনিই।
উৎস:
(সূরা আল-আন'আম 6:102)
তিনিই আল্লাহ তোমাদের পালনকর্তা। তিনি ব্যতীত কোন উপাস্য নেই। তিনিই সব কিছুর স্রষ্টা। অতএব, তোমরা তাঁরই এবাদত কর। তিনি প্রত্যেক বস্তুর কার্যনির্বাহী।
(সূরা আর-রাদ 13:16)
জিজ্ঞেস করুন নভোমন্ডল ও ভুমন্ডলের পালনকর্তা কে? বলে দিনঃ আল্লাহ! বলুনঃ তবে কি তোমরা আল্লাহ ব্যতীত এমন অভিভাবক স্থির করেছ, যারা নিজেদের ভাল-মন্দের ও মালিক নয়? বলুনঃ অন্ধ চক্ষুষ্মান কি সমান হয়? অথবা কোথাও কি অন্ধকার ও আলো সমান হয়। তবে কি তারা আল্লাহর জন্য এমন অংশীদার স্থির করেছে যে, তারা কিছু সৃষ্টি করেছে, যেমন সৃষ্টি করেছেন আল্লাহ? অতঃপর তাদের সৃষ্টি এরূপ বিভ্রান্তি ঘটিয়েছে? বলুনঃ আল্লাহই প্রত্যেক বস্তুর স্রষ্টা এবং তিনি একক, পরাক্রমশালী।
(সূরা আয-যুমার 39:62)
আল্লাহ সর্বকিছুর স্রষ্টা এবং তিনি সবকিছুর দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
(সূরা আল-মু'মিন/ গাফির 40:62)
তিনি আল্লাহ, তোমাদের পালনকর্তা, সব কিছুর স্রষ্টা। তিনি ব্যতীত কোন উপাস্য নেই। অতএব তোমরা কোথায় বিভ্রান্ত হচ্ছ?
(সূরা আল-হাশর 59:24)
তিনিই আল্লাহ তা’আলা, স্রষ্টা, উদ্ভাবক, রূপদাতা, উত্তম নাম সমূহ তাঁরই। নভোমন্ডলে ও ভূমন্ডলে যা কিছু আছে, সবই তাঁর পবিত্রতা ঘোষণা করে। তিনি পরাক্রান্ত প্রজ্ঞাময়।
ভ্রান্তি অপনোদন:
মহাপবিত্র আল্লাহ সবকিছুকে অনস্তিত্ব থেকে অস্তিত্বে এনেছেন, তিনি সকল কিছু সৃষ্টি করেছেন বিনা নমুনায় ও বিনা উপাদানে। কোন কিছু সৃষ্টি করতে তাঁর ইচ্ছা ছাড়া আর কোন কিছুর প্রয়োজন হয় না। কোন কিছু সৃষ্টি করতে তিনি অক্ষম নন। তিনিই একমাত্র পরম সৃজনকর্তা। তবে তিনি এগুলো সৃষ্টি করার পরে স্রষ্টা গুনে গুনান্বিত হননি বরং অনাদিকাল থেকেই তিনি স্রষ্টা গুনে গুনান্বিত।

এ্যাপ ব্যবহার পদ্ধতি:
1. Play store থেকে AnkiDroid ডাউনলোড করে একাউন্ট তৈরি করুন।
2. নিচের লিংক থেকে আসমাউল হুসনা: আল্লাহর গুন বাচক নাম সমূহ ডাউনলোড করুন: https://ankiweb.net/shared/info/1052435661

#আসমাউল_হুসনা

12/06/2025

আসমাউল হুসনা: আল্লাহকে জানার ও ভালোবাসার রাজপথ
আমরা মুসলিম হিসেবে বিশ্বাস করি যে আল্লাহ এক ও অদ্বিতীয়। তিনি আমাদের সৃষ্টিকর্তা, পালনকর্তা এবং চূড়ান্ত আশ্রয়স্থল। কিন্তু আমরা কীভাবে সেই মহান সত্তাকে জানব, তাঁর মহত্ত্ব উপলব্ধি করব এবং তাঁর সাথে আমাদের সম্পর্ককে আরও গভীর করব? এর অন্যতম সেরা উপায় হলো আল্লাহর সুন্দর নামসমূহ বা ‘আসমাউল হুসনা’ সম্পর্কে জানা এবং তা নিয়ে গভীর চিন্তা করা।
আসমাউল হুসনা কী?
‘আসমাউল হুসনা’ একটি আরবি শব্দগুচ্ছ, যার অর্থ হলো ‘সুন্দর নামসমূহ’। পবিত্র কুরআন ও হাদিসে আল্লাহ তাআলার অনেকগুলো গুণবাচক নাম উল্লেখ করা হয়েছে, যা তাঁর অসীম দয়া, জ্ঞান, ক্ষমতা ও মহত্ত্বের প্রকাশ করে। এই নামগুলো শুধু শব্দমালা নয়, বরং আল্লাহর পরিচয় ও গুণাবলির একেকটি ঝলক। প্রসিদ্ধ হাদিস অনুযায়ী আল্লাহর এমন ৯৯টি গুণবাচক নামের কথা উল্লেখ আছে।
আসমাউল হুসনা জানার গুরুত্ব: কেন এটি এত জরুরি?
১. আল্লাহকে চেনা ও জানার সর্বোত্তম উপায়:
আমরা কীভাবে সেই সত্তাকে ভালোবাসব, ভয় করব বা তাঁর ওপর ভরসা করব, যাঁকে আমরা ভালোভাবে চিনিই না? আল্লাহর প্রতিটি নাম তাঁর একটি বিশেষ গুণকে তুলে ধরে। যেমন:
* আর-রাহমান (الرحمن): পরম দয়ালু। এই নাম আমাদের তাঁর অসীম দয়ার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।
* আল-গাফুর (الغفور): অতি ক্ষমাশীল। এই নাম আমাদের পাপ থেকে তওবা করে ফিরে আসার আশা যোগায়।
* আল-আযিয (العزيز): সর্বশক্তিমান। এই নাম আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে তাঁর ক্ষমতার ঊর্ধ্বে আর কিছুই নেই।
* আল-বাসির (البصير): সর্বদ্রষ্টা। এই নাম আমাদের শেখায় যে, আমরা গোপনে বা প্রকাশ্যে যা-ই করি, তিনি সবকিছু দেখছেন।
এই নামগুলোর অর্থ যত গভীরভাবে বোঝা যায়, আল্লাহর প্রতি আমাদের ধারণা তত স্পষ্ট ও সুন্দর হয়।
২. ঈমানকে শক্তিশালী করে:
আল্লাহর গুণাবলি সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করলে তাঁর প্রতি বিশ্বাস ও আস্থা বহুগুণে বেড়ে যায়। যখন একজন ব্যক্তি জানে যে তার রব ‘আস-সামি’ (সর্বশ্রোতা), তখন সে একাগ্রতার সাথে দোয়া করে। যখন সে জানে তার রব ‘আর-রাজ্জাক’ (রিজিকদাতা), তখন সে রিজিকের জন্য দুশ্চিন্তাগ্রস্ত না হয়ে তাঁর ওপর ভরসা করে। এটিই ঈমানের শক্তি।
৩. ইবাদতের পূর্ণতা ও গভীরতা আনে:
আল্লাহর নাম ধরে তাঁকে ডাকা দোয়া কবুলের অন্যতম শর্ত। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ নিজেই বলেছেন:
> "আর আল্লাহর জন্য রয়েছে সুন্দর সুন্দর নাম। অতএব, তোমরা তাঁকে সেই সব নামেই ডাকবে।" (সূরা আল-আ'রাফ, আয়াত: ১৮০)
>
যখন আমরা কোনো প্রয়োজনে আল্লাহর নির্দিষ্ট গুণবাচক নামে তাঁকে ডাকি, তখন সেই ইবাদত আরও প্রাণবন্ত ও অর্থবহ হয়ে ওঠে। যেমন, ক্ষমা চাওয়ার সময় ‘ইয়া গাফুর’, জ্ঞান চাওয়ার সময় ‘ইয়া আলিম’ বলে দোয়া করা।
৪. নৈতিক চরিত্র গঠনে সহায়তা করে:
আল্লাহর গুণবাচক নামগুলো আমাদের জন্য নৈতিকতার সর্বোচ্চ মানদণ্ড স্থাপন করে। যখন আমরা জানি আল্লাহ ‘আল-আদল’ (ন্যায়পরায়ণ), তখন আমরা নিজেরাও সবার সাথে ন্যায়বিচার করতে উৎসাহিত হই। যখন আমরা তাঁর গুণ ‘আস-সবুর’ (ধৈর্যশীল) সম্পর্কে জানি, তখন আমরাও জীবনে ধৈর্যধারণের শিক্ষা পাই।
৫. মানসিক শান্তি ও প্রশান্তির উৎস:
জীবনের কঠিন সময়ে, দুঃখ ও হতাশায় আল্লাহর নামগুলো আমাদের হৃদয়ে আশা ও প্রশান্তি নিয়ে আসে। ‘আস-সালাম’ (শান্তিদাতা) নামটি স্মরণ করলে মন শান্ত হয়। ‘আল-ফাত্তাহ’ (উন্মোচনকারী) নামটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, সব বন্ধ পথের চাবি তাঁরই হাতে।
কুরআন ও হাদিসের আলোকে গুরুত্ব:
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:
> "নিশ্চয়ই আল্লাহর ৯৯টি নাম রয়েছে, অর্থাৎ এক কম একশত। যে ব্যক্তি এ নামগুলো আত্মস্থ করবে (মুখস্থ করবে, বুঝবে এবং এর দাবি অনুযায়ী আমল করবে), সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।" (সহিহ বুখারি)
>
পরিশেষ:
আসমাউল হুসনা শুধু মুখস্থ করার বিষয় নয়, বরং এটি আল্লাহকে চেনার এক গভীর সমুদ্র। এই নামগুলোর অর্থ অনুধাবন করা, তা নিয়ে চিন্তা করা এবং নিজের জীবনে তার প্রতিফলন ঘটানোই হলো প্রকৃত সফলতা। আসুন, আমরা আল্লাহর এই সুন্দর নামগুলো শিখি, বুঝি এবং এর মাধ্যমে তাঁর নৈকট্য অর্জন করার চেষ্টা করি।
মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে তাঁর সুন্দর নামগুলো জানার এবং সেই অনুযায়ী জীবন গড়ার তৌফিক দান করুন। আমিন।
#আসমাউল_হুসনা #আল্লাহর_নাম #ইসলাম #ঈমান #কুরআন #হাদিস #মুসলিম

29/05/2025

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ।

অবশেষে প্রতীক্ষার অবসান ঘটলো! রহমত, বরকত ও মাগফিরাতের বার্তা নিয়ে আমাদের মাঝে সমাগত হলো পবিত্র হজের মাস, জিলহজ। এই মাসটি মুসলিম উম্মাহর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ফজিলতপূর্ণ। এটি শুধু হজ পালনের মাসই নয়, বরং আত্মশুদ্ধি, ত্যাগ এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভের এক বিশেষ সুযোগও বটে।

পবিত্র কুরআন ও হাদিসে জিলহজ মাসের গুরুত্ব বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। এই মাসের প্রথম দশ দিনকে আল্লাহ তাআলা বিশেষভাবে সম্মানিত করেছেন। স্বয়ং আল্লাহ তাআলা সূরা ফাজর-এ এই দশ রাতের কসম খেয়েছেন, যা এর মর্যাদাকে বহুগুণে বাড়িয়ে দিয়েছে। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, "আল্লাহর নিকট জিলহজ মাসের প্রথম দশ দিনের আমলের চেয়ে অধিক প্রিয় আর কোনো দিনের আমল নেই।" (সহিহ বুখারি)

জিলহজ মাসের উল্লেখযোগ্য আমল ও গুরুত্বসমূহ:

* **হজ পালন:** এই মাসের ৮ থেকে ১২ তারিখ পর্যন্ত সারাবিশ্বের সামর্থ্যবান মুসলিমগণ মক্কায় সমবেত হয়ে ইসলামের অন্যতম স্তম্ভ হজ পালন করেন।
* **কুরবানি:** ১০ই জিলহজ তারিখে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় পশু কুরবানি করা হয়, যা হযরত ইবরাহিম (আঃ) ও হযরত ইসমাইল (আঃ)-এর ত্যাগের মহান স্মৃতি বহন করে।
* **আরাফাতের দিনের রোজা:** ৯ই জিলহজ আরাফাতের দিন রোজা রাখা অত্যন্ত সওয়াবের কাজ। এই দিনের রোজা বিগত ও আগামী এক বছরের গুনাহের কাফফারা স্বরূপ।
* **তাকবিরে তাশরিক:** জিলহজ মাসের ৯ তারিখ ফজর থেকে ১৩ তারিখ আসর পর্যন্ত প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর তাকবিরে তাশরিক (আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু, ওয়াল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, ওয়া লিল্লাহিল হামদ) পড়া ওয়াজিব।
* **বেশি বেশি নেক আমল:** এই দিনগুলোতে বেশি বেশি নফল নামাজ, রোজা, কুরআন তিলাওয়াত, জিকির-আজকার, দান-সদকা ইত্যাদি নেক আমল করার প্রতি বিশেষভাবে উৎসাহিত করা হয়েছে।

আসুন, আমরা এই পবিত্র মাসের গুরুত্ব অনুধাবন করে বেশি বেশি ইবাদত-বন্দেগিতে মশগুল হই। যারা হজে গমন করছেন, আল্লাহ যেন তাদের হজকে কবুল করেন এবং আমাদের সকলকে এই মাসের বরকত হাসিল করার তৌফিক দান করেন। আমিন।

#হজেরমাস #জিলহজ #গুরুত্বপূর্ণমাস #ইসলাম #ইবাদত #কুরবানি #আরাফাত

26/05/2025

“জালালী খতম” নামক আমলটি ইসলাম সম্মত কিনা, এই প্রশ্নটি মুসলিম সমাজে আলোচিত একটি বিষয়। এই খতম বলতে সাধারণত নির্দি.....

Peace TV দেখা এখন একদম সহজ। Play Store থেকে App download করে নিন আর উপভোগ করুন।
14/03/2022

Peace TV দেখা এখন একদম সহজ। Play Store থেকে App download করে নিন আর উপভোগ করুন।

Address

Dhaka
1000

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when হক্ব কথা - True-Holds posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share