We Love Rasul -SW

16/06/2026

❝১০ই মহররম আমাদের আশুরার দিন। আশারা থেকে আশুরা। আশারা মানে দশ, আশুরা দশের দিবস। ইয়াওমুল আশুরা। এই আশুরার দিনকে নিয়ে অনেক ঘটনা আছে। মহান রাব্বুল আলামিন জগত সৃষ্টি করেন প্রথম সমস্ত রূহ একত্রিত করে এই আশুরার দিনে জিজ্ঞেস করেছিলেন, ‘আমি কি তোমাদের প্রভু নই।’ সমস্ত রূহু বলেছিলো,‘নিশ্চয়ই আপনি আমাদের প্রভু।’ সেইদিন থেকে প্রতি বৎসর মহররমের ১০ তারিখ আল্লাহর অভিষেকের অনুষ্ঠান।❞

আখেরি জামানার শ্রেষ্ঠ মহামানব, মোহাম্মদী ইসলামের একমাত্র মোর্শেদ, সূফী সম্রাট হযরত শাহ্ দেওয়ানবাগী হুজুর কেবলাজান।
Dewanbag Sharif Dr. Fajal-E-Khoda Dr. Monjur-E-Khoda
#কেন্দ্রীয়দরবার_বাবেমদীনা #কেন্দ্রীয়_দরবার #বাবেমদিনা

16/06/2026

সত্য, মিথ্যা চিনার উপায়ঃ
হযরত আলী (রা:) কে যিনি হত্যা করেছে,তাকে যখন শাস্তি দেওয়া হচ্ছিল অঙ্গ প্রতঙ্গ কেটে ফেলে, তখন সে বলতেছিল যে, আমার জিহ্বা তোমরা কেটে দিও না, কারণ এই জিহ্বা দিয়ে আমি মহান রবের জিকির করি।

কি মনে হয় আপনাদের এই ঘটনা শুনে??? মনে হচ্ছে না যে, আহা কত মুত্তাকি, পরহেজগার। অথচ এই ব্যক্তি-ই হচ্ছেন ওই ব্যক্তি যিনি পৃথিবীর শেষ হতে কিয়ামাত পর্যন্ত যত মানুষ আসবে, তাদের মধ্যে সবচেয়ে নিকৃষ্ট। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দুইজন মানুষকে সবচেয়ে নিকৃষ্ট বলেছিলেন। এই ব্যক্তি একজন, আরেজন হচ্ছে হযরত সালেহ আলাইহিস সালাম এর উট হত্যাকারী।

----------------

স্বাভাবিকভাবে আমরা নিকৃষ্ট মানুষ বলতে অনেকেই অনেক কিছু মনে করি। সন্ত্রাসী, খুনি, ব্যাভিচারী, সুদখোর, মদখোর, জালিম বাদশাহ ইত্যাদী। কিন্তু দুনিয়ার সবচেয়ে নিকৃষ্ট ব্যক্তিও মহান রবের জিকিরে মশগুল থাকতো। তাহলে আপনি কিভাবে চিনবেন হক্ব আর বাতিল???

এই ঘটনা ইতিহাসের পাতায় পাতায় হাজারো বার উল্লেখিত হয়েছে। কেউ মহান রবের জিকির করতে করতে ফানা হয়ে গেলেও সে সর্বোত্তম হতে পারে না, সে হক্ব হতে পারে না, সে সঠিক ব্যক্তি হতে পারে না। এই হাদীস এবং এই ঘটনাই এটার সবচেয়ে মজবুত দলীল। তাহলে হক্ব কিভাবে চিনবেন? বুঝবেন কিভাবে হক্ব কোনটা আর বাতিল কোনটা?

—--------------

আরেকটা ঘটনা বলি, এই ঘটনাটা অনেকগুলো হাদীসে এসেছে। সবগুলো হাদীসই গ্রহণযোগ্য সনদের হাদীস। হাদীসগুলো বেশ লম্বা লম্বা। হাদীসের মুলভাষ্য আমার ভাষায় তুলে ধরলাম:

”নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মসজিদে নববীর পাশে সাহাবীদেরকে নিয়ে অবস্থান করতেছিলেন। এমন সময় তামিমী গোত্রের এক লোক আসলো। তিনি কাউকে সালাম দিল না। মজলিসে তিনি নবীজির দিকে অবজ্ঞার দৃষ্টিতে তাকালো, এরপর পর্যায়ক্রমে অন্যান্য সাহাবীদের দিকেও অবজ্ঞার দৃষ্টিতে তাকালো। ওই লোক মুখে তাসবীহ পড়তে ছিল। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার এমন ভাব-সাব দেখে জিজ্ঞাসা করল, তুমি কি একথা মনে মনে ভাবছো যে, এই মজলিসে তোমার চেয়ে উত্তম কেউ নেই? তখন লোকটি বলল হ্যা, আমি এমনটাই ভাবছি। (অথচ সেই মজলিসে স্বয়ং নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উপস্থিত রয়েছেন)।

লোকটি একথা বলে মসজিদে নববীতে গেল। তখন নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঘোষণা করলেন, কে আছো এই লোককে হত্যা করবে? তখন হযরত আবু বক্বর সিদ্দীক রদিয়াল্লাহু আনহু বললেন ইয়া রাসূলাল্লাহ আমি তাকে হত্যা করবো। তখন সিদ্দীকে আকবার রদিয়াল্লাহু আনহু মসজিদে গিয়ে দেখলেন লোকটি রুকু অবস্থায় আছে। এটা দেখে তিনি চলে আসলেন, আর বললেন ইয়া রাসূলুল্লাহ তিনি নামাজে রুকু অবস্থায় ছিল। তাই আমি তাকে হত্যা করতে ইতস্তত করে ফিরে আসলাম। যিনি আল্লাহকে রুকু দেয়, তাকে কিভাবে হত্যা করবো?

তখন নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আবার ঘোষণা করলেন, কে আছো তাকে হত্যা করবে? তখন হযরত ওমর রদিয়াল্লাহু আনহু গেলেন, তিনি গিয়ে তাকে সিজদা অবস্থায় দেখে ফিরে আসলেন। এমনিভাবে পর্যায়ক্রমে হযরত ওসমান ও হযরত আলী রদিয়াল্লাহু আনহুমা গেলেন। হযরত আলী রদিয়াল্লাহ আনহু গিয়ে তাকে আর পায়নি। তিনি নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে এই খবর দেওয়ার পরে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, এই লোককে যদি হত্যা করা হতো, তাহলে ফেৎনার দরজা কিয়ামাত পর্যন্ত বন্ধ হয়ে যেত। এই লোক থেকেই ফিৎনা বের হবে। ”

—-------------------

>> ওই লোক মুসলিম, সে আল্লাহর ইবাদত করে, জিকির করে, নামাজ আদায় করে, রুকু সিজদা করে। কিন্তু সে হক্বের উপরে ছিল না। এমনকি তার থেকেই ৭২ ফিরকার উৎপত্তি। তার মধ্যে কিসের অভাব ছিল?

তার মধ্যে নবী প্রেম ছিল না, নবীজির প্রতি সম্মান ছিল না, নবীজির মজলিসে কিভাবে আদব রক্ষা করতে হয়, নবীজিকে কিভাবে তাজীম করতে হয়, সেটা সে অবজ্ঞা করেছিল। কেননা, সে নবীজির মজলিসে সালাম বিহীন অবস্থায় প্রবেশ করেছিল এবং নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সহ সকল সাহাবীগণের প্রতি অবজ্ঞার দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিল। সে নিজেকে নবীজির চেয়ে, সাহাবীদের চেয়ে বড় মনে করেছিল আমলের অহংকারের কারণে। যার জন্য এই লোক থেকেই ফিৎনার উৎপত্তি হয়েছিল।

—-----------------

একবার এক সাহাবী এবং ইহুদীর মধ্যে জমি নিয়ে বিরোধ দেখা দিল। তারা নবীজির কাছে এসেছিল বিচারের জন্য। নবীজি সব শুনে ইহুদীর পক্ষে রায় দিলেন। তখন ওই সাহাবী নবীজির রায় মেনে নেয়নি। সে আবার ইহুদীকে নিয়ে হযরত ওমর ইবনুল খাত্তাব রদিয়াল্লাহু আনহু এর কাছে গিয়েছিল। ওমর রদিয়াল্লাহু আনহু বিস্তারিত শুনে ওই সাহাবী নামের মুনাফিককে তরবারী দিয়ে দুই টুকরো করেছিল।

তখন অন্যান্য মুনাফিক সাহাবী নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর দরবারে হযরত ওমর রদিয়াল্লাহু আনহু এর নামে বিচার দিয়ে সমালোচনা শুরু করেছিল। তখন মহান রাব্বুল আলামীন নবীজির শানে বেয়াদবদের পরিণতি এবং হযরত ওমর রদিয়াল্লাহু আনহু এর সিন্ধান্তের প্রতি সম্মান জানিয়ে আয়াত নাযিল করেছিলেন।

—-----------------

আরো বেশ কয়েকটি সহীহ হাদীসে এসেছে যে, এক যুদ্ধের পরে নবীজি গণিমতের মাল বণ্টন করছিলেন। তখন একজন সাহাবী বলে উঠলো ইয়া রাসূলাল্লাহ, ইনসাফ করুন। তখন নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, আমি তো ইনসাফ করার জন্যই এসেছি। আমি ইনসাফ না করলে, কে করবে? তোমার যা প্রাপ্য আমি তা-ই তোমাকে দিয়েছি। তখন ওই মুনাফিক তা মানলো না। সে ছিল তামিমী গোত্রের। হযরত ওমর রদিয়াল্লাহু আনহু এটা দেখে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে অনুমতি চাইলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ আমাকে অনুমতি দিন। আমি এই মুনাফিককে দু টুকরো করে ফেলবো। তখন নবীজি বললেন, তাকে ছেড়ে দাও। তার থেকে ফেৎনা বের হবে।

—-----------------

সুপ্রিয় পাঠক ! ওই লোক সাহাবী ছিল (মুনাফিক) সে যুদ্ধ করেছে। সে সালাত আদায় করতো, নামাজ পড়তো, এমনকি যুদ্ধও করেছে। অথচ নবীজিকে কিভাবে সম্মান করতে হয়, তা জানতো না। নবীজির সাথে বেয়াদবির দরুন, তার থেকে পরবর্তিতে ফেৎনা বের হয়েছে।

>> তার মানে, হক্ব ও বাতিল চিনতে হলে নামাজ, রোজা, হজ্ব, যাকাত দিয়ে আপনি হক্ব ও বাতিল যাচাই করতে পারবেন না। হক্ব চিনতে হলে আপনাকে দেখতে হবে যে, কারা নবীজির প্রতি তাজীম করে, কারা নবীজিকে সর্বোচ্চ প্রায়োরিটি দেয়, কারা নবীজির পরিবারকে ভালবাসে, কারা নবীজির মদীনা শরীফকে ভালবাসে।

নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন যে, শুধু ঈমানদারগণ-ই মদীনা এবং মদীনা বাসীকে ভালবাসবে। বর্তমানে এমন অনেক স্কলার নামের ওয়াজ ব্যাবসায়ী, পেট পূজারীদের দেখা যায়, যারা নবীজির প্রতি দুরুদ ও সালাম পেশ করার বিভিন্ন পদ্ধতির উপরে বিদআত-শিরকের ফতোয়া লাগায়। মসজিদে নববীতে যাওয়াকে তারা হজ্বের অংশ হিসেবে দেখে না। মদীনা শরীফে নাকি দোয়া কবুলের স্থান নাই। তাদের সামনে নবীজির বিভিন্ন শান-মান বর্ণনা করলে, তারা সেটাকে সহ্য করতে পারে না। তারা সেটাকে শুধু মুজেযা বলেই উড়িয়ে দেয়।

সেদিন এক এরাবিক টকশোর ভিডিও দেখলাম, সেখানে কিং সাউদের একজন প্রফেসর বলতেছে যে, নবীজির ভুল হতে পারে কারণ তিনি বাশার। আর মানুষ মাত্রই ভুল করবে। কিন্তু যখন তাকে প্রশ্ন করা হল যে, ইবনে তাইমিয়া কী ভুল করেছে কিনা? সে বললো, ইবনে তাইমিয়া কিভাবে ভুল করবে, কারণ তার প্রত্যেকটি কথাই কুরআন ও হাদীসের দলীল সমৃদ্ধ। ভুল হলে হাদীসের বা কুরআনের থাকবে। ইবনে তাইমিয়ার ভুল হয়নি।

—-------------------

সুতরাং হক্ব চিনতে হলে, আপনাকে দেখতে হবে কারা নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে তাজীম করে, নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোকে তাজীম করে। যেমন তার জুতা মুবারক, ঘাম মুবারক, পশম মুবারক, থুতু মুবারক, চুল মুবারক, কদম মুবারক। কারা নবীজির প্রশংসার আলোচনা করে, কারা নবীজির প্রতিটি জিনিসের বরকতের কথা মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দিতে চায়। সেটা আপনাকে দেখতে হবে।

মনে রাখবেন, আমল দিয়ে, ভাল কথা দিয়ে, কুরআনের বাক্য দিয়ে, হাদীসের দলীল দিয়ে, বাহ্যিক জিকির দেখে, বাহ্যিক মিষ্ট কথা দেখে, আপনি কখনোই হক্ব চিনতে পারবেন না। মহান আল্লাহ তায়ালা মেধার হিসাব নিবেন। সময় থাকতে মেধাকে কাজে লাগান। আল্লাহ সহায় হোক।
—-----------

26/02/2026
মহানবী (সাঃ) কে খুন করতে এসে যেভাবে ইসলাম গ্রহণ করল এক খুনিঃমহানবী (সাঃ) একদিন একটি গাছের তলায় ঘুমিয়েছিলেন। এই সুযোগে ...
26/02/2026

মহানবী (সাঃ) কে খুন করতে এসে যেভাবে ইসলাম গ্রহণ করল এক খুনিঃ

মহানবী (সাঃ) একদিন একটি গাছের তলায় ঘুমিয়েছিলেন। এই সুযোগে দাসুর নামের একজন শত্রু তাঁর পাশে এসে দাঁড়াল। শোরগোল করে সে মহানবী (সাঃ) কে ঘুম থেকে জাগাল। মহানবী (সাঃ) ঘুম ভাঙলে চোখ খুলে দেখলেন, একটা উন্মুক্ত তরবারি তাঁর উপর উদ্যত। ভয়ানক শত্রু দাসুর চিৎকার করে উঠলো, ‘এখন আপনাকে কে রক্ষা করবে?’

মহানবী(সাঃ) ধীর শান্ত কণ্ঠে বললেন, ‘আল্লাহ’। শত্রু দাসুর মহানবী (সাঃ) এর এই শান্ত গম্ভীর কণ্ঠের আল্লাহ শব্দে কেঁপে উঠল। তার কম্পমান হাত থেকে খসে পড়ল তরবারি।

মহানবী (সা) তার তরবারি তুলে নিয়ে বললেন, ‘এখন তোমাকে কে রক্ষা করবে, দাসুর? সে উত্তর দিল কেউ নেই রক্ষা করার।’ মহানবী (সাঃ) বললেন, ‘না, তোমাকেও আল্লাহই রক্ষা করবেন।’ এই বলে মহানবী (সাঃ) তাঁকে তার তরবারি ফেরত দিলেন এবং চলে যেতে বললেন।

বিস্মিত দাসুর তরবারি হাতে চলে যেতে গিয়েও পারল না। ফিরে এসে মহানবী (সাঃ) এর হাতে হাত রেখে পাঠ করলঃ ‘লা- ইলাহ ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ। 💛💚🤲🥺😢🌼🌸💛💚🤍🧡💗

26/02/2026

বসন্তের শুভক্ষণে ১৩ই ফাল্গুনে
হেদায়েতের চন্দ্র উঠেছিলো অসীম গগনে,
ক্ষণজন্মা এক মহাপুরুষের আগমনে
বিনম্র শ্রদ্ধা জানাই আপন মনে,
লাখো কোটি সালাম ও কদমবুসি
মহা-পবিত্র নূরের চরণে।

​মহান আল্লাহর বন্ধু তথা মহামানবদের শুভ আবির্ভাব, প্রত্যাবর্তন ও পুনরুত্থান দিবস জাতির জন্য রহমত, বরকত ও নিয়ামত স্বরূপ। বিংশ শতাব্দীর শ্রেষ্ঠতম মহামানব, পীরানে পীর দস্তগীর, সুলতানুল মাশায়েখ, সুলতানিয়া-মোজাদ্দেদিয়া তরীকার ইমাম সৈয়দ আবুল ফজল সুলতান আহমদ চন্দ্রপুরী (রহঃ) ছিলেন এমনই এক জ্যোতির্ময় মহাপুরুষ।

★​ইমাম হুজুরের শুভাগমন ও নামকরণ:

​তিনি ১৯১০ খ্রীস্টাব্দ ২৫শে জানুয়ারি,
১৩২৮ হিজরি ১৬ই সফর, (১৩১৬ বঙ্গাব্দ)-
এর ১৩ই ফাল্গুন, শুক্রবার সুবেহ সাদেকের সময় তাঁর মাতুলালয়ে শুভাগমন করেন। শুভাগমনের পর তাঁর উজ্জ্বল ও জ্যোতির্ময় চেহারা মোবারক দেখে উপস্থিত সকলেই বিমোহিত হন। আগমনী সপ্তম দিনে আকিকার অনুষ্ঠানে তাঁর মাতামহ (নানাজান) জনাব মোহাম্মদ আমিন উদ্দীন মুন্সী সাহেব প্রিয় নাতির নাম রাখেন— 'আবুল ফজল সুলতান আহমদ'।

★​বংশ পরিচয় ও আদি নিবাস:

"​ইমাম শাহ্ চন্দ্রপুরী (রহঃ) ছিলেন সৈয়দ বংশীয়। তাঁর পূর্বপুরুষগণ সুদূর আরব হতে তুর্কিস্তান হয়ে বাংলাদেশে আগমন করেন। তাঁরা প্রথমে চট্টগ্রামে বসতি স্থাপন করেন। পরবর্তীতে ফরিদপুর জেলার সদরপুর উপজেলার কিষ্টপুর এবং এরপর দশহাজার গ্রামে বসবাস শুরু করেন। সর্বশেষ তাঁরা স্থায়ীভাবে চন্দ্রপাড়া গ্রামে বসতি স্থাপন করেন।

#মহান_পিতা: আলহাজ্ব সৈয়দ মুহাম্মদ কোরবান আলী খান সাহেব (ফরিদপুর জেলার সদরপুর উপজেলাধীন চন্দ্রপাড়া গ্রামের বিশিষ্ট ও সম্মানিত ব্যক্তি)।
#মহীয়সী_মাতা: বেগম খাদিজা খাতুন (দশহাজার গ্রামের বিশিষ্ট ব্যক্তি জনাব মোহাম্মদ আমিন উদ্দীন মুন্সী সাহেবের কন্যা)।

#আধ্যাত্মিক অবদান ও পথপ্রদর্শন:
​ইমাম হুজুর ছিলেন পাপের আঁধারে নিমজ্জিত জগতবাসীর হেদায়েতের পথপ্রদর্শক। তাঁর পবিত্র সাহচর্য লাভ করে অগণিত মানুষ অন্তরের কলুষতা দূর করেছে। হৃদয়ে আল্লাহর জিকির জারির মাধ্যমে তাঁরা খুঁজে পেয়েছে পরম শান্তি ও মুক্তির পথের সন্ধান।

আজকের এই শুভ আবির্ভাব দিবসের অছিলায় মহান দয়াময়ের নিকট আমার আরজি তরিকার বাদশাহ ইমাম হুজুরের রেখে যাওয়া ধন ও দুলারি-
"মহান সংস্কারক, মোহাম্মদী ইসলামের পুনর্জীবন দানকারী, আম্বিয়ায়ে কেরামের ধর্মের দ্বায়িত্ব ও বেলায়েত লাভকারী, আল্লাহর দেওয়া পুরস্কার পূর্ণিমার চাঁদে বাবা দেওয়ানবাগীর জীবন্ত প্রতিচ্ছবি, হাদিউল ইমাম সূফী সম্রাট হযরত সৈয়দ মাহবুব এ খোদা দেওয়ানবাগী হুজুর কেবলাজান ও
আউলাদে রাসূল, কুতুবুল আকতাব, দুররে মাকনুন, খাতুনে জান্নাত,সূফী সম্রাজ্ঞী হযরত সৈয়দা হামিদা বেগম (রহ) এর কদম মোবারকের আশ্রয়ে থেকে শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত গোলামী করে ইমানে কায়েম থাকতে যেনো পারি আমিন।

উপরোক্ত তথ্যের ভুল বেয়াদবির জন্য মহামানবের কদম মোবারকে বিনীতভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।

A R Jashim khan.

"সম্রাট অশোকের সাত বছর বয়সী ধর্মগুরু"-বুদ্ধের মহাপরিনির্বাণের প্রায় ২১৮ বছর পরের কথা। তখন মগধের সিংহাসনে আসীন প্রবল প্রত...
26/01/2026

"সম্রাট অশোকের সাত বছর বয়সী ধর্মগুরু"
-
বুদ্ধের মহাপরিনির্বাণের প্রায় ২১৮ বছর পরের কথা। তখন মগধের সিংহাসনে আসীন প্রবল প্রতাপশালী সম্রাট অশোক।
দিগ্বিজয়ী এই রাজা তখন পরিচিত ছিলেন ‘চণ্ডাশোক’ নামে—যার তলোয়ারের নিচে লুটিয়ে পড়ত একের পর এক রাজ্য। তাঁর রাজ্য বিস্তারের তৃষ্ণা মেটাতে তিনি আক্রমণ করলেন কলিঙ্গ (বর্তমান ওড়িশা)।
ভয়াবহ সেই যুদ্ধ। একদিকে সম্রাটের বিশাল বাহিনী, অন্যদিকে কলিঙ্গের অকুতোভয় যোদ্ধারা।
জয় তো সম্রাট অশোকেরই হলো, কিন্তু সেই জয়ের মূল্য ছিল অপরিসীম। যুদ্ধ শেষে সম্রাট যখন রণক্ষেত্রে দাঁড়িয়ে চারদিকে তাকালেন, দেখলেন এক বিভীষিকা। যেদিকে চোখ যায়, শুধু লাশ আর লাশ। মাঠের মাটি লালে লাল হয়ে গেছে, বইছে রক্তের গঙ্গা। যাকে আমরা বলি ‘রক্তগঙ্গা’। সেই স্রোতে ভেসে যাচ্ছে হাজার হাজার নাম না জানা মানুষের প্রাণ, আর বাতাসে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে অনাথ শিশু আর বিধবা মায়েদের বুকফাটা আর্তনাদ।
এই দৃশ্য দেখে দিগ্বিজয়ী সম্রাটের অন্তরটা যেন হঠাৎ কেঁপে উঠল। এক নিদারুণ অনুশোচনা আর হাহাকার তাঁর বুকটাকে ভেঙে দিল।
তিনি ভাবলেন, “এ আমি কী করলাম? একখণ্ড মাটির জন্য এতগুলো পরিবার আমি চিরতরে শেষ করে দিলাম? এই কি জয়ের আনন্দ?”
বিমর্ষ সম্রাট রাজপ্রাসাদে ফিরলেন, কিন্তু কোথাও শান্তি নেই। প্রাসাদের রত্নখচিত পালঙ্ক তাঁর কাছে শূলের মতো বিঁধতে লাগল। সারারাত চোখে ঘুম নেই, কানে কেবল যুদ্ধের সেই হাহাকার বাজে।
এমন এক অস্থির সময়ে, একদিন সকালে বাতায়নে দাঁড়িয়ে সম্রাট বাইরে তাকিয়ে ছিলেন। দেখলেন, রাজপথ দিয়ে এক ছোট্ট বৌদ্ধ শ্রমণ অত্যন্ত ধীরস্থির পায়ে ভিক্ষাপাত্র হাতে হেঁটে যাচ্ছেন। মাত্র সাত বছরের এক শিশু, নাম তাঁর ‘নিগ্রোধ শ্রমণ’।
বৌদ্ধধর্মে দীক্ষার প্রথম ধাপকে বলা হয় ‘শ্রমণ’। নিগ্রোধের চোখেমুখে এক অপার্থিব প্রশান্তি, যেন সারা জগতের শান্তি তাঁর ওই ছোট্ট মুখটিতে খেলা করছে।
সম্রাট অশোক ভাবলেন, “যেখানে আমি সম্রাট হয়েও শান্তিতে নেই, সেখানে এইটুকু এক শিশু কিসের জোরে এত শান্ত?”
সম্রাট তখনই লোক পাঠিয়ে সেই বালক শ্রমণকে প্রাসাদে ডেকে পাঠালেন।
নিগ্রোধ শ্রমণ যখন প্রাসাদে এলেন, সম্রাট অশোক তাঁকে পরম শ্রদ্ধায় বললেন,
“হে শ্রমণ, আপনি এখানে আপনার প্রজ্ঞাপ্ত আসন অর্থাৎ আপনার জন্য উপযুক্ত মনে হয় এমন যেকোনো আসনে বসুন।”
আশেপাশে তখন কোনো বড় ভিক্ষু ছিলেন না। সাত বছরের সেই বালক বীরদর্পে গিয়ে সম্রাটের সেই স্বর্ণখচিত রাজসিংহাসনেই বসে পড়লেন!
সম্রাট অশোক স্তম্ভিত হয়ে গেলেন। তাঁর নিজের আসনে একজন সাত বছরের শিশু বসে আছে! কিন্তু তিনি রেগে গেলেন না, বরং কিশোর শ্রমণের আত্মবিশ্বাস আর নির্বিকার ভঙ্গি দেখে মুগ্ধ হলেন।
অশোক হাত জোড় করে নিবেদন করলেন, “প্রভু, আমায় কিছু ধর্মকথা বলুন যা আমার এই অশান্ত হৃদয়কে শান্তি দেবে।”
তখন নিগ্রোধ শ্রমণ বললেন, "আমি কেবলই শ্রমণ নিয়েছি, তেমন কিছুই জানি না, তবুও আপনি যেহেতু শুনতে চাইলেই, আমার সামান্য জ্ঞান থেকে বলি।"
মধুর কণ্ঠে পালি ভাষায় ধম্মপদের একটি চমৎকার গাথা শোনালেন নিগ্রোঢ শ্রমণ:
“অপ্পমাদো অমতপদং পমাদো মচ্চুনো পদং।
অপ্পমত্তা ন মীয়ন্তি যে পমত্তা যথা মতা।।”
এর মানে হলো— অপ্রমাদ বা সজাগ থাকাই হলো অমৃতের পথ, আর প্রমাদ বা অসচেতনতাই হলো মৃত্যুর পথ। যারা অপ্রমত্ত বা সবসময় সচেতন, তাঁরা অমর। আর যারা প্রমত্ত বা মোহের ঘোরে অন্ধ, তাঁরা জীবিত থেকেও মৃত সমান।
নিগ্রোধ সম্রাটকে উদ্দেশ্য করে বললেন, “রাজন, আপনি এখন প্রমত্ত অবস্থায় আছেন। যুদ্ধের উন্মাদনায়, জয়ের অহংকারে আপনি আপনার ভেতরের মানুষটিকে হারিয়ে ফেলেছেন। আপনি এখন খুব অস্থির আছেন, কষ্টে আছেন। আপনাকে এই মোহ আর হিংসা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। আপনাকে সজাগ হতে হবে।”
এই ছোট্ট শিশুর মুখে এমন গভীর জীবনদর্শন শুনে সম্রাট অশোকের চোখের জল ধরে রাখা দায় হলো। তিনি আরও বিস্তারিত জানতে চাইলেন। নিগ্রোধ তখন তাঁকে নিয়ে গেলেন তাঁর গুরু, তৎকালীন সঙ্ঘ প্রধান ‘মোগগলিপুত্ত তিসস’-এর কাছে।
মহামতি তিসসের কাছে গিয়ে সম্রাট অহিংসার প্রকৃত পাঠ নিলেন। ধীরে ধীরে অশান্ত চণ্ডাশোক রূপান্তরিত হলেন ‘ধর্মশোক’-এ।
তলোয়ারের ঝনঝনানি থামিয়ে তিনি সারা বিশ্বে বুদ্ধের শান্তি ও মৈত্রীর বাণী ছড়িয়ে দিলেন। পাথর আর স্তম্ভে খোদাই করলেন সেই অমর লিপি—যাতে লেখা থাকল, ‘হিংসা নয়, জয় হোক ধর্মের’।
বুদ্ধ আমাদের শিখিয়েছেন, আমরা সবাই বুদ্ধ হতে পারি, শুধু প্রয়োজন ওই অপ্রমাদ বা সচেতনতার। সম্রাট অশোক এক সাত বছরের শিশুর হাত ধরেই সেই মহান পথের সন্ধান পেয়েছিলেন।
কিছু শ্রীলঙ্কার প্রাচীন পালি গ্রন্থে এসেছে সাত বছরের ছেলে এই নিগ্রোধ ছিলেন অশোকের বড় ভাই সুসীমের সন্তান, যাকে অশোক সিংহাসনের জন্য হত্যা করেছিলেন।
ভাগ্যের কি পরিহাস, সম্রাট অশোক শুধু এক বালকের হাতেই শান্তির সন্ধান পাননি, বরং এমন একজনের মাধ্যমে তিনি সত্যের সন্ধান পেলেন যার পিতাকে সে নিজেই হত্যা করেছিলো।
ভবতু সব্বমঙ্গলং— জগতের সকল প্রাণী সুখী হোক।
Copied -- ARIF RAHMAN

27/12/2025

ইবলিসের ৫ সন্তান: কার কাজ কী? 😱 শয়তান কি সত্যিই ডিম পাড়ে?
⭐Solution for home problems-

🌟1. Ghor a dhokar time a "Aytal kursi" poray gate a + apnar sorir a fu deban. Main door ew dhokar time ew.
🌟2. "Bis-millahh" bolay "Salam" dya ghor a dhukban.

24/12/2025

🌟⭐☀️🤲❤💙💛🤍🧡💚

বিয়ের সময় হযরত আয়েশার (রাঃ)বয়স ছিল ১৯ বছর হযরত আয়েশার (রা.) বিয়ের বয়স একটি বিতর্কিত বিষয়। অনেকে এ বিষয়ে গবেষণা ...
22/12/2025

বিয়ের সময় হযরত আয়েশার (রাঃ)বয়স ছিল ১৯ বছর

হযরত আয়েশার (রা.) বিয়ের বয়স একটি বিতর্কিত বিষয়। অনেকে এ বিষয়ে গবেষণা করছেন। বুখারীর ২৩৬ নম্বর হাদিস অনুযায়ী সাধারণ মানুষ বিশ্বাস করে যে, রসূলের (সা.) সঙ্গে বিয়ের সময় হযরত আয়েশার বয়স ছিল ৬ বছর এবং রসূলের ৫৩ বছর। কিন্তু হাদিসের এ ভাষ্য সঠিক নয়। রসূলের একান্ত জীবন নিয়ে সীমাহীন নোংরামী করা হয়েছে। বুখারীর হাদিসে বলা হয়েছে, রসূল ৬ বছর বয়সে হযরত আয়েশাকে বিয়ে করেছেন। এখানে বয়সের কথা যা—ই বলা হোক, পরবর্তী বর্ণনা আরো জঘন্য। বলা হয়েছে, ৯ বছর বয়সে হযরত আয়েশার সঙ্গে রসূল ঘর সংসার শুরু করেন। কোনো স্বামী কিংবা স্ত্রী কি তাদের দাম্পত্য জীবন শুরু করার কথা বাইরে প্রকাশ করে? রসূল অথবা হযরত আয়েশা তাদের দাম্পত্য জীবনের একান্ত কথা বাইরে প্রকাশ করতে যাবেন কেন?

মানব রচিত হাদিস প্রচার করে রসূলের মর্যাদাকে পৃথিবীর মানুষের সামনে হেয় প্রতিপন্ন করা হয়েছে। আল্লাহ ও তার রসূলের শত্রুরা রসূলের নামে মিথ্যা প্রচার করেছে। হাদিস রচয়িতা বুখারী না ছিলেন আল্লাহর রসূল, না ছিলেন নবীজির সাহাবী, না ছিলেন আরবের অধিবাসী। বুখারীর জন্ম হয়েছিল নবীজির মৃত্যুর প্রায় দুই শো বছর পর। এ সময় হাদিসের সত্যতা যাচাইয়ে কোনো সাহাবীই জীবিত ছিলেন না। এমন নয় যে, রসূলের সঙ্গে আয়েশার প্রথম বিয়ে হয়েছিল। প্রথমবার বাগদান হয়েছিল জুবায়েরের সঙ্গে। রসূলের সঙ্গে বিয়ের সময় আয়েশার বয়স ৬ বছর হলে জুবায়েরের সঙ্গে বাগদানের সময় তার বয়স ছিল কত? নিশ্চয়ই ৬ বছরের কম। এত কম বয়সে কি কোথাও কোনো মেয়ের বিয়ে হয়? ইসলাম একটি বিশ্বজনীন আদর্শের নাম। প্রশ্ন উঠতে পারে যে, ইসলাম শ্রেষ্ঠ ধর্ম হলে এ ধর্মের প্রচারক মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ ৬ বছরের নাবালিকা শিশু কন্যাকে বিয়ে করেন কিভাবে? ইসলামে শিশু বা নাবালিকা বিয়ে নিষিদ্ধ। সূরা নিসার ৬ নম্বর আয়াত, ২১ নম্বর আয়াত ছাড়াও সূরা রোমের ২১ নম্বর আয়াত তার প্রমাণ। আসলে বুখারীতে এ মর্মে প্রচারিত হাদিসের উদ্দেশ্য রসূলের সর্বজনীন গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিত্বকে হেয় করা।

রসূলের সঙ্গে হযরত আয়েশার বিয়ে সংক্রান্ত বুখারীর ২৩৬ নম্বর হাদিসে বলা হয়: ‘হিশামের পিতা থেকে বর্ণিত। মহানবী (সা.) মদিনায় হিযরত করার তিন বছর আগে হযরত খাদিজা (রা.) ইন্তেকাল করেন। মহানবী সেখানে প্রায় দুই বছর অবস্থান করেন এবং তারপর তিনি ৬ বছর বয়স্ক হযরত আয়েশাকে (রা.) বিয়ে করেন এবং ৯ বছর বয়সে তিনি তার সঙ্গে ঘর সংসার শুরু করেন।’

কুরআন বা অন্য কোনো হাদিসে হযরত আয়েশাকে ৬ বছর বয়সে রসূলের বিয়ে করার আর কোনো বর্ণনা নেই। বিয়ের সময় হযরত আয়েশার বয়স সংক্রান্ত নবী করিম বা কোনো সাহাবীর দেয়া তথ্যও পাওয়া যায় না। এই হাদিস বর্ণনাকারীদের শেষ ব্যক্তি হলেন হিশাম বিন উরওয়ার। তিনি তার পিতার কাছ থেকে এ হাদিস শুনেছিলেন। হিশাম তার জীবনের ৭১ বছর মদিনায় কাটালেও মদিনার কেউ এ হাদিসটি শোনেননি। হিশামের শেষ জীবন কাটে ইরাকে। এ কারণে এ হাদিসের বাদবাকি বর্ণনাকারীদের সবাই ইরাকের। ইয়াকুব ইবনে শায়বাহ বলেছেন: ‘শুধুমাত্র ইরাকিরা যেসব হাদিস বর্ণনা করেছে সেগুলো ছাড়া হিশামের সব হাদিস বিশ্বাসযোগ্য। হিশামের ছাত্র মালেক বিন আনাস ইরাকিদের বর্ণিত হাদিসগুলো বাতিল করে দিয়েছেন। এমন বিবরণ পাওয়া যায় যে, হিশাম বিন উরওয়া শেষ বয়সে স্মৃতিশক্তির দুর্বলতায় ভুগছিলেন। এ কারণে তার শেষ বয়সে অর্থাৎ ইরাকে বসবাসকালে বর্ণিত হাদিসগুলো বিশ্বাসযোগ্য নয়। তাই এ হাদিসটি ভুল প্রমাণিত হয়। ইমাম বুখারীর আরেকটি হাদিস প্রমাণ করে যে, হযরত আয়েশার বিয়ের বয়স সংক্রান্ত হাদিসটি ভুল। কেননা পরবতীর্ হাদিসে বলা হয়, সূরা কামারের ৪৬ নম্বর আয়াত নাজিল হওয়ার সময় হযরত আয়েশা ছিলেন কিশোরী (‘জারিয়াহ।’) মক্কায় ৬১২ সালের দিকে সূরা কামার নাজিল হয়। এ হিসাবে হযরত আয়েশার বয়স তখন কমপক্ষে ৫ বছর হলেও ৬২৩—৬২৪ সালে তার বয়স কোনোভাবেই ১৫/১৬ বছরের নিচে নয়। রসূলের সঙ্গে হযরত আয়েশার দাম্পত্য জীবন শুরু হয় আরো দুই বছর পর। সার্বিক বিচারে দেখা যায়, হিশাম বিন উরওয়ার বর্ণিত হাদিসটি ভুল।

আল—তাবারি তার ইতিহাসে উল্লেখ করেছেন যে, আবু বকরের ৪ সন্তানের সবাই ইসলাম—পূর্ব ৬১০ সালের আগেই জন্মগ্রহণ করেন। হযরত আয়েশার বিয়ে হয় ৬২৪ সালে বা দ্বিতীয় হিজরিতে। তার মানে দাঁড়ায় বিয়ের সময় হযরত আয়েশার বয়স ন্যূনতম ১৪ বছর ছিল। (সূত্র: তারিখুল—উম্মাম ওয়াল—মামলুক আল—তাবারি, চতুর্থ খণ্ড, পৃষ্ঠা—৫০) ইতিহাসবিদ ইবনে হিশামের বর্ণনা মতে, হযরত আয়েশা উমর ইবনে খাত্তাবের বেশ আগে ইসলাম গ্রহণ করেন। তার অর্থ দাঁড়ায় হযরত আয়েশা ৬১০ সালের কাছাকাছি সময় ইসলাম গ্রহণ করেন। যদি ধরে নেয়া যায়, তিনি বুঝে শুনে ইসলাম গ্রহণ করেছেন তাহলে তখন তার বয়স ছিল ৭—৮ বছর। এই হিসাবে হযরত আয়েশার বয়স বিয়ের সময় ২০ বছরের উপরে হয়। (সূত্র: আল—সিরাহ আল—নাবিয়াহ, ইবনে হিশাম, প্রথম খণ্ড, পৃষ্ঠা—২২৭—২৩৪)

হযরত খাদিজার ইন্তেকালের তিন বছর পর নবুুওয়াতের ত্রয়োদশ বছরে রসূল হযরত আয়েশাকে বিয়ে করেন। ‘গায়াতুস সাউল ফি খাসায়িসির রাসূল’ গ্রন্থের লেখক আবু হাফস উমর লিখেছেন, রসূল দ্বিতীয় হিজরির শাওয়াল মাসে হযরত আয়েশাকে ঘরে তুলে এনেছিলেন। অন্যদিকে ‘আনসাবুল আশরাফ’ কিতাবে বলা হয়, রসূল চতুর্থ হিজরিতে হযরত আয়েশাকে বিয়ে করেন। তাহলে প্রথম মত অনুসারে দেখা যাচ্ছে, নবুুওয়াত প্রাপ্তির ১৩তম বছরে রসূল হযরত আয়েশাকে বিয়ে করেন। রসূলের নবুুওয়াত প্রাপ্তির ১৩তম বছরে আসমা বিনতে আবু বকরের বয়স ছিল ২৭ বছর। অতএব রসূলের নবুুওয়াত প্রাপ্তির ১৩তম বছরে আসমার ছোট বোন আয়েশার বয়স ২৭—১০=১৭ বছর। দ্বিতীয় হিজরিতে হযরত আয়েশার বয়স ১৭+২= ১৯ বছর। দ্বিতীয় মত অনুসারে দেখা যাচ্ছে, চতুর্থ হিজরিতে হযরত আয়েশার বয়স ১৭+৪= ২১ বছর।

মিশকাতের বিখ্যাত লেখক ওয়ালিউদ্দিন মুহাম্মদ আবদুল্লাহ আল—খতিব আল—আমরি তাব্রিজি তার আসমা উর রিজালে লিখেছেন যে, হযরত আসমা ৭৩ হিজরিতে ১০০ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন অর্থাৎ তার পুত্র আবদুল্লাহ ইবনে জুবায়েরের শাহাদাতের ১০ বা ১২ দিন পর। ৬৯২ সালে দ্বিতীয় ফিতনার শেষ প্রান্তে উমাইয়া খলিফা আবদুল মালিক ইবনে মারওয়ানের সৈন্যরা তার প্রতিদ্বন্দ্বী খলিফা সাহাবী আবদুল্লাহ ইবনে আল—জুবায়েরকে তার ক্ষমতার কেন্দ্র ইসলামের পবিত্র নগরী মক্কায় অবরোধ করে এবং তাকে পরাজিত করে। ইবনে জুবায়ের হাজ্জাজের কাছে আত্মসমর্পণ করবেন কিনা সে ব্যাপারে শতায়ু মা আসমা বিনতে আবু বকরের পরামর্শ চান। তিনি ইবনে জুবায়েরের বার্ধক্য এবং তার জন্য যেসব লোক জীবন দিয়েছে তাদের আত্মত্যাগের প্রতি সম্মান জানাতে তাকে লড়াই অব্যাহত রাখার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, চামড়া ছিলে নিলেও কুরবানীর বকরি ব্যথা পায় না। আসমা তাকে শহীদ হওয়ার পরামর্শ দেন। আবদুল্লাহ ইবনে জুবায়ের মায়ের কপালে চুমো দিয়ে বললেন, ‘আল্লাহর কসম এটাই আমার মত। মা ছেলেকে জড়িয়ে ধরেন। জড়িয়ে ধরে তিনি বুঝতে পারেন যে, তার পোশাকের নিচে বর্ম। আসমা বললেন: ‘শহীদ হতে ইচ্ছুক কেউ তো বর্ম পরে না? খুলে ফেল। সাহসের সঙ্গে লড়াই করবে। মনে রাখবে, তুমি জুবায়েরের পুত্র, আবু বকরের নাতি, সাফিয়া বিনতে আবদুল মুত্তালিব তোমার দাদী।’

ইবনে জুবায়েরের মৃত্যুর তারিখ ৬৯২ সালের ৪ অক্টোবর অথবা ৩ নভেম্বর। অতএব ১০০ বছরে হযরত আসমার মৃত্যুর বয়স থেকে ৭৩ বছর বাদ দিলে আমরা সহজেই এই সিদ্ধান্তে পেঁৗছাতে পারি যে, হিজরি সাল গণনা শুরু করার সময় তার বয়স ছিল ২৭ বছর। একই সময় হযরত আয়েশার বয়স ছিল ১৭ বছর। মহানবীর সকল জীবনীকার একমত যে, তিনি দ্বিতীয় হিজরিতে হযরত আয়েশার সঙ্গে বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ হন। তাই একান্তভাবে বলা যেতে পারে যে, তখন তার বয়স ছিল ১৯ বছর, বুখারীতে বর্ণিত ৯ বছর নয়। সৌদি বিচারক আরেকটি হাদিসের অপব্যাখ্যা করেছেন। এ হাদিসের আলোকে তিনি রায় দেন যে, নাবালিকা মেয়ের বয়ঃসন্ধিকালে পেঁৗছানোর পরই বিয়ে বিচ্ছেদ চাওয়ার অধিকার থাকবে। তাকে ‘খিয়ার—আল—বুলুঘ’ বা বয়ঃসন্ধির বিকল্প বলা হয় এবং আবু দাউদের সংকলনে ইবনে আব্বাসের বর্ণনার উপর ভিত্তি করে এ হাদিস রচনা করা হয়। এ হাদিস অনুসারে রসূল একজন নাবালিকা মেয়েকে তার বিয়ে প্রত্যাখ্যান করার বিকল্প দিয়েছিলেন বলে মনে করা হয়। নাবালিকা মেয়েটি রসূলকে জানিয়েছিল যে, তার বাবা তাকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে বিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু এই হাদিসটি পাঠ করলে দেখা যায় যে, প্রশ্নবিদ্ধ মেয়েটি নাবালিকা ছিল না। সে ছিল ‘বিকরাণ।’ বিকরাণ অর্থ প্রাপ্তবয়স্ক, অবিবাহিত মেয়ে। এছাড়াও প্রতিবেদনে বয়ঃসন্ধির কোনো উল্লেখ নেই। অতএব খিয়ার—আল—বুলুঘ ধারণাটি আইনের দৃষ্টিতে খারাপ। কারণ এটি একটি মিথ্যা ধারণার উপর ভিত্তি করে তৈরি। সংক্ষেপে রসূলের বাল্য বিয়েকে ন্যায্যতা দেয়ার কোনো নির্ভরযোগ্য বিবরণ নেই। তাই কোনো নাবালিকাকে বিয়ে বিচ্ছেদের অধিকার প্রয়োগের জন্য বয়ঃসন্ধিকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করার পরামর্শ দেয়ার প্রশ্নই উঠে না। বর্তমান ইসলামী আইনের সমস্যা হলো বেশিরভাগই কুরআনের মূল কথার উপর ভিত্তি করে নয়। কারণ হলো মুসলিম ধর্মতত্ত্ববিদদের বিশেষ করে সাধারণত ওয়াহাবী নামে পরিচিত সালাফি মতাদর্শীরা বিশ্বাস করে যে, হাদিস কুরআনের আয়াত বাতিল করতে পারে। এরকম একজন ধর্মপ্রচারক আবু আম্মার ইয়াসির কাজী তার ‘অ্যান ইন্ট্রোডাকশন টু দ্য সায়েন্সেস অব দ্য কুরআন’—এ লিখেছেন যে, রসূলের সুন্নাহ কুরআনকে বাতিল করতে পারে।

৬২৪ সালে বদরের যুদ্ধ এবং ৬২৫ সালে উহুদের যুদ্ধ উভয় যুদ্ধের সময় হযরত আয়েশা অন্য মহিলাদের সঙ্গে তাঁবুতে অবস্থান করছিলেন। যুদ্ধের সময় রসূলের (সা.) সঙ্গে যারা অংশ নিতো তাদের বয়স ১৫ বছরের বেশি ছিল। কম বয়স্ক কেউ যুদ্ধে অংশ নিতে চাইলে তাদেরকে ফেরত পাঠিয়ে দেয়া হতো। মুতাইম ইবনে আদির পুত্র জুবায়ের ইবনে মুতাইমের সঙ্গে ৬২০ সালে আবু বকরের কন্যা আয়েশার প্রাথমিক বাগদান সম্পন্ন হয়। কিন্তু যখন মুতাইম জানতে পারেন যে, আবু বকর ইসলাম গ্রহণ করেছেন তখন পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে এই বাগদান বাতিল করা হয়। আয়েশার মা উম্মে রুমান বিনতে আমেরের কাছে খাওলা বিনতে হাকিম জুবায়েরের বিয়ের প্রস্তাব পেশ করেছিলেন। (সূত্র: তারিখ আল—রসূল ওয়াল—মুলুক, কিতাব আল—তাবাকাত আল—কবীর, উম্মাহাতুল মু’মিনীন, আস—সুনান আল—কুবরা।)

২০০৯ সালের ৯ মে হিন্দুস্তান টাইমসে ‘হযরত আয়েশা ওয়াজ নাইনটিন নট নাইন’ শিরোনামে ভারতীয় ইসলামী বিশেষজ্ঞ ফয়েজুর রহমানের একটি গবেষণাধমীর্ নিবন্ধ প্রকাশিত হয়। আলোচ্য নিবন্ধে বলা হয়, ২০০৯ সালের এপ্রিলে বিশ্ব গণমাধ্যমে সৌদি আরবের একজন বিচারকের একটি চমকপ্রদ রায়ের সংবাদ প্রকাশিত হয়। রায়ে বিচারক ৪৭ বছর বয়সের এক ব্যক্তির সঙ্গে আট বছর বয়সের একটি মেয়ের বিয়ে বাতিল করতে অস্বীকৃতি জানান। কিন্তু সৌদি আরবের ইসলামী আইনের সঙ্গে পরিচিতদের কাছে এই রায় ছিল শরীয়তের নামে মানবাধিকার লঙ্ঘনের একাধিক ঘটনার ধারাবাহিকতার সর্বশেষ ঘটনা। প্রশ্ন হচ্ছে ইসলামী আইন কি আসলেই বাল্যবিয়েকে সমর্থন করে? কুরআন পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে যে, ইসলামে বিয়ে একটি নাগরিক চুক্তি বা ‘মেসাক।’ মেসাক কেবলমাত্র সেসব ব্যক্তিদের মধ্যেই চূড়ান্ত হতে পারে যারা বুদ্ধিবৃত্তিক ও শারীরিকভাবে যথেষ্ট পরিপক্ক। যারা এই ধরনের চুক্তির দায়িত্বগুলো বুঝতে এবং পালন করতে পারে।

মেসাক সম্পর্কে সূরা নিসার ২১ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে: ‘তোমরা কিরূপে তা গ্রহণ করতে পার অথচ তোমাদের একজন অন্য জনের কাছে গমন এবং নারীরা তোমাদের কাছ থেকে সুদৃঢ় অঙ্গীকার গ্রহণ করেছে?’ সূরা নিসার ৬ নম্বর আয়াতে বিষয়টি আরো পরিষ্কারভাবে বলা হয়েছে: ‘এতিমদের যাচাই করবে যে পর্যন্ত না তারা নিকাহ (বিয়ে) করার বয়সে পেঁৗছায় এবং তাদের মধ্যে বুদ্ধির পরিপক্কতা দেখতে পেলে তাদের সম্পত্তি তাদের হাতে তুলে দাও।’ কুরআনে বুদ্ধিবৃত্তিক পরিপক্কতাকে বিয়ের বয়সে পেঁৗছানোর ভিত্তি হিসেবে বুঝানো হয়েছে। সবসময় বয়ঃসন্ধিকালের পর বুদ্ধিবৃত্তিক পরিপক্কতা আসে।

বিয়ের মেসাক কুরআনের বর্ণনার সঙ্গেও সঙ্গতিপূর্ণ। বিয়ে হচ্ছে দুটি পারস্পরিক সামঞ্জস্যপূর্ণ ব্যক্তির মধ্যে মানসিক বন্ধন। এ মানসিক বন্ধনের মাধ্যমে তারা একে অন্যের সাহচর্যে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করতে চায়। স্বামী কিংবা স্ত্রী কেউ মানসিকভাবে বিকশিত না হলে একে অন্যের সাহচর্যে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করতে পারে না। সূরা আরাফের ১৮৯ নম্বর আয়াত এবং সূরা রুমের ২১ নম্বর আয়াতে অনুরূপ বর্ণনা দেয়া হয়েছে। দুর্ভাগ্যবশত, মুসলিম আইনবিদরা কুরআনের শিক্ষাগুলো বুঝতে পারেননি বলে মনে হয়। সৌদি আরবের গ্রান্ড মুফতি শেখ আবদুল আজিজ আল—শেখ ১০ বছরের কম বয়সী মেয়েদের বিয়ে বৈধ বলে ফতোয়া জারি করেন। এমনকি ভারতেও দেওবন্দ এবং অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল’ বোর্ডসহ মুসলিম প্রতিষ্ঠানগুলো বাল্য বিয়ে নিষিদ্ধ করেনি। এটা আশ্চর্যের বিষয় যে, যারা শরিয়াহকে ইসলামী আইনের ভিত্তি দাবি করে তারাও ইসলামী আইনের মূল উৎস কুরআনকে উপেক্ষা করেন। এমনকি জাল হাদিসের মাধ্যমে কুরআনের আইনকে বাতিল করে দেন। উদাহরণস্বরূপ, ইসলামে বাল্য বিয়েকে বুখারীর একটি হাদিসের ভিত্তিতে ন্যায্যতা দেয়া হয়েছে। আয়েশা থেকে বর্ণিত বুখারীর ৫১৩৪ নম্বর হাদিসে বলা হয়েছে: ‘তার (আয়েশা) বয়স যখন ৬ বছর তখন নবী তাকে বিয়ে করেন এবং ৯ বছর বয়সে তার সঙ্গে বাসর করেন।’ বিয়ের সময় হযরত আয়েশার বয়স কত ছিল? বুখারীর এই হাদিস বেশ কয়েকটি কারণে গ্রহণযোগ্য নয়। প্রথমত: নবী শারীরিক ও মানসিকভাবে অপরিণত শিশুকে বিয়ে করার জন্য কুরআনের বিরুদ্ধে যেতে পারেন না। দ্বিতীয়ত: হযরত আয়েশার বয়স সহজেই তার বড় বোন হযরত আসমার বয়স থেকে গণনা করা যেতে পারে। হযরত আসমা ছিলেন হযরত আয়েশার চেয়ে ১০ বছরের বড়। রসূলের মক্কা থেকে মদিনায় হিযরতের বছর থেকে ইসলামিক ক্যালেন্ডার বা হিজরি সাল গণনা শুরু হয়।
[সংগৃহীত ]

Address

Dhaka

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when We Love Rasul -SW posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Place Of Worship

Send a message to We Love Rasul -SW:

Shortcuts

Share