Bangladesh Hindu Parishad BHP

Bangladesh Hindu Parishad BHP Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Bangladesh Hindu Parishad BHP, Dhaka.

29/05/2026

বেদ এ বৈজ্ঞানিক তত্ত্বঃ
ন মৃত্যুরাসীদমৃতং ন তর্হি ন রাত্র্যা অহ্ন আসীৎ প্রকেতঃ। আনীদবাতং স্বধয়া তদেকং তস্মাদ্ধন্যন্নঃ পরঃ কিং চনাস।। ঋগ্বেদ১০/১২৯/২
ভাবার্থ- অর্থাৎ সৃষ্টির রচনার পূর্বে কোন জীবন,মৃত্যু, দিন, রাত্রি, চন্দ্র, সূর্য এমন কি সৃষ্টি, বিসৃষ্টিও কিছু জানার যোগ্য ছিল না শুধূ অবিচল স্থিতি ছিল। সেই সময় শক্তি (Energy) অবশ্যই ছিল। শক্তি দুই প্রকার সুপ্ত শক্তি(Protentiol Energy) ও গতিসঞ্জাত শক্তি(Kinetic energy) এ শক্তি গুলি তখন ক্রিয়াশীল ছিল না।

যদক্রন্দঃ প্রথমং জায়মান উদ্যন্ৎসমুদ্রাদুত বা পুরীষাত্। শয়েনস্য পক্ষা হরিণস্য বাহু উপস্তুত্যং মহি জাতং তে অর্বন্।।
(ঋগ্বেদ- ১/১৬৩/১)।।

পদার্থঃ-- (যত) যে কারণ ( অক্রন্দঃ) শব্দ করে ( প্রথমম্) আদিতে ( জায়মানঃ) উৎপন্ন হয় ( উদ্যন্) উদিত হয়ে যায় ( সমুদ্রাত্) অন্তিরক্ষে ( উত) ও ( বা) পক্ষান্তরে ( পুরীষাত্) পূর্ণকারণে ( শয়েনস্য পক্ষা) অতি তীব্র গতিযুক্ত পঙ্গ সমান ( হরিণস্য বাহু) শুভ্র হিরণের ন্যায় শ্বেত জ্যোতি[ যাহাকে কসমিক রে বলা হয়] এমন বাহু[ যাহাকে পরমাত্মার দুই পক্ষ রূপ লাগাম বলা হয়েছে] ( উপস্তুত্যম্) সমীপে প্রশংসা করিবার যোগ্য ( মহি, জাতম্) মহ তত্ব জাত হইল ( তে) তখন ( অর্বন) বিজ্ঞান রূপ পরমাত্মা।।

ভাবার্থঃ সৃষ্টির প্রথম অবস্থায় তীব্র বেগযুক্ত পংখ তথা হিরণের ন্যায় শ্বেত জ্যোতি[ যাহা পরমাত্মার তেজ বলা হয়] তাহা অন্তরিক্ষ নামক বিশাল সমুদ্রে চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ল।[ বিজ্ঞানের ভাষায় যাহাকে cosmic ray এর স্ফূরণ বলা হয়] তখন ঘোর শব্দ ওম্ উচ্চািরত হচ্ছিল। এই তেজ হতে মহতত্ব জাত হইল। মহতত্ব মানে বুদ্ধিতত্ব।। এই মহতত্ব হতে পরমানু সমুহের মধ্যে সত্ব তম রজ গুনের ধারা প্রবাহিত হয়ে সাম্য অবস্থা ভঙ্গ করল এবং তীব্র আকর্ষ বিকর্ষণ আরম্ভ হল। অর্থাৎ ইলেক্সট্রন, প্রোটণ, নিউটন এই তিনের কার্য পরমানুকে অতিষ্ঠ করে তুলল। এভাবে হে "অর্বন" ( জ্ঞানস্বরূপ পরমাত্মা) পূর্ব সৃষ্টিতে তিন পদার্থের কার্য দাতা আপনিই স্তুতি পাবার যোগ্য ছিলেন।।

যমেন দত্তং ত্রিত্ত এনমাষুনগিন্দ্র এণং প্রথমো অধাতিষ্ঠৎ।
গন্ধর্বো অস্য রশনামগূভ্ণাৎ সূরাদশ্বং বসবো নিরতষ্ট।। ঋগবেদ (১/১৬৩/২)
ভাবার্থঃ- পরমাত্মা কতৃক প্রদত্ত শক্তিকে ত্রিগুনাত্ম শক্তি অধিষ্ঠিত হল। প্রথম ইন্দ্র অর্থাৎ বিদ্যুৎ জ্যোতি এই শক্তিকে অধিষ্ঠিত করেছিল। অর্থাৎ পরমাত্মা সেই ত্রিগুনাত্মক প্রকৃতিতে অধিষ্ঠিত হয়ে গেল। সাম্যঅবস্থায় পরমাণু সেই পরমাত্মার সামান্য লাগামরূপ জ্যোতিকে গ্রহন করেছিল অর্থাৎ cosmic ray এর একটা অংশ মূল প্রকৃতির উপর ঝাটকে পড়ে এবং তাহা পরমাত্মার লাগাম স্বরূপ সৃষ্টিকার্য আরম্ভ করে দেয়।।

এই কথার অভিপ্রায় এই যে, পরমাত্মার তেজ পরামাণুর উপর অধিষ্ঠিত হয়ে গেল এবং তাহাকে লাগাম মানিয়া পরমাণু তাহা গ্রহন করিল। যে ভাবে ঘোড়ার মুখে লাগাম পড়ানো হয় এবং এই লাগামই ঘোড়াকে মার্গ দর্শন করায় ঠিক তদ্রুপ পরামাণুদের ক্ষেত্রে ও তেমন ঘটল। সেই পরমানুতে সত্ব, রজ, তম গুণ নিজেদের বদলাতে লাগিল। এই সত্ব নাম ইলেক্সট্রন, রজ নাম প্রোটণ, এবং তম নাম নিউটন পরমাণুর অভ্যান্তরীন শক্তি থেকে বহির্মূখ হয়ে সৃষ্টি কার্য আরম্ভ করল।।

অসি যমো অস্যাদিত্যো অর্বন্নসি ত্রিতো গূহ্যেন ব্রতেন। অসি সোমেন সময়া বিপূক্ত আহূস্তে ত্রীণি দিবি বন্ধনানি। ঋগবেদ (১/১৬৩/৩)
ভাবার্থঃ- হে নিয়ন্ত্রনকারী পরমাত্মা! তুমি অাদিত্য অর্থাৎ চমকদার প্রকাশমান্, তুমি " অর্বন" অর্থাৎ তেজ ভাগনেবালা ভীতর থেকে গুপ্তরূপে গঠিত ছিলে যাহা প্রথমে সাম্য অবস্থায় ছিলে, তখন পরমাণু সমীপ সমীপ ছিল কিন্তু পৃথক ছিলেন। কিন্তু অর্বন নামক পরমাত্মার তেজ দ্বারা তাহার সাম্য অাবস্থা ভঙ্গ হল তাহা দ্বারা তিন দিব্য গুণ, ইলেক্সট্রন, প্রোটন, নিউটন, অর্থাৎ সত্ব, রজ, তম গুণ মুক্ত হয়ে গেল। এবং পরমাণুর কার্য হতে অহংকারাদি সৃষ্টি হল।।

পুমাং এনং তনুতউৎ কৃণত্তি পুমান্ বি তত্নে অধি নাকে অস্মিন্।
ইমে ময়ুখা উপ সেদুরুঃ সদঃ সামানি চক্রুস্তসরাণ্যেতবে।। ঋগ্বেদ ১০/১৩০/২
ভাবার্থ- এখানে বলা হয়েছে যে, শক্তি( Energy) তরঙ্গরপে প্রকট হয় এবং প্রকৃতিতে নির্মাণ কার্য শুরু হয়ে যায়। তরঙ্গ তির্যক গতিতে চলে। সেই সব তরঙ্গ প্রকৃতির সাম্যাবস্হায় পরমাণু সহ সঙ্ঘৃষ্ট হয় এবং তার সাম্যাবস্হা ভঙ্গ করে দেয়।।

য়ুঞ্জন্তিং ব্রধ্নমরুষং চরন্তং পরিতস্হূষঃ।
রোচন্তে রোচন্তে দিবি।।
ঋগ্বেদ- মন্ডল-১/সুক্ত-৬/মন্ত্র-১।।
ভাবার্থঃ-চতুর্দিকে ব্যাপক, স্থির(পরমাণু) যখন ব্যাপক শক্তি( প্রাণ) সহযুক্ত হয়। প্রকাশমান অন্তরিক্ষে প্রকাশিত হতে হতে থাকে। অভিপ্রায় এই যে, সর্বত্র বিদ্যমান সাম্যবস্থায় পরমাণু যখন পরমাত্মার শক্তি (প্রাণ) সহ সংযুক্ত হয়ে যায় তখন তারা জাগ্রত হয়ে যায়। এই জাগ্রতাবস্থা ইন্দ্রের শক্তির বাহিরে উঁকি মারার ফলে উৎপন্ন হয়।

সপ্ত য়ুঞ্জন্তি রথমেক চক্রমেকো অশ্বো বসতি সপ্তনামা।
ত্রিপাভি চক্রমজরমনর্বং য়ত্রেমা বিশ্বা ভুবনাধি তস্হূঃ।। ঋগ্বেদ- ১/১৬৪/২
ভাবার্থঃ- কার্য জগতের পালক এক অতি তেজোময় ব্যক্তিত্ব তার সাত পুত্রকে আমরা দেখি। এখানে পুত্রের অভিপ্রায় প্রাণ। সেই সাত প্রাণ এক চক্রের সহিত সংযুক্ত। সে চক্র ভগ্ন বা শিথিল হয় না। চক্র অশ্ব দ্বারা চালিত। চক্রের তিন নাভি অর্থাৎ আশ্রয় স্হল। অশ্ব বলতে পরমাত্মা, তিন আশ্রয় প্রকৃতি, আত্মা, পরমাত্মা বুঝায়। জগতে এক অশ্বই সমস্ত ভুবন পরিচালনা করছে। সাতচল্লিশ প্রাণ তাঁর সাতটি সামর্থ। এই সামর্থগুলিকে বিজ্ঞানের ভাষায় এই প্রকারে বলা যেতে পারে-(এক) পরমাণু মধ্যে ইলেক্ট্রোনের ঘুর্ণন শক্তি (Inter atomic energy), (দুই) রাসায়নিক শক্তি (Chemical energy), (তিন) অনুদের মধ্যে পার্থক্য বজায় রাখার শক্তি(lnter molecular dynamics), অথবা সংগঠন শক্তি, এর দ্বারা শক্ত,তরল ও বায়ব্য ( Solids Liquids, Gasses) অবস্থা উৎপন্ন হয়। ( চার) ভূ-আকর্ষণ (Gravity), (পাঁচ) চুম্বকীয় শক্তি (Magnetism) ( ছয়) আকাশ ও শব্দ( Light and sound) (সাত) বায়ু।

ত্রীণি ত আহুর্দিবি বন্ধনানি তীন্যপ্সু ত্রীন্যন্ত সমদ্রে।
উতেব মেরুণশ্ছনৎ স্যর্বন্যত্রা ত আহুঃ পরমং জনিত্রম্।।
ঋগ্বেদ- ১/১৬৩/৪
ভাবার্থঃ- দ্যুলোকে এই তিন প্রকার বন্ধনই আপঃ হয়ে যায়। হে অর্নব! আমার ছন্দ বরুন বলে। এই তিনটি পদার্থ মিলিত হয়ে সম্পূর্ণ জগৎ নির্মান করে।

বর্তমান বিজ্ঞানে তিনটি অ্যাটমিক্ পাটিকেলস্ জগতের সৃষ্টি করে। এই তিন বন্ধনকেই অ্যাটমিক্ পাটিকেলস্ বলা হয়। বেদে এই তিন বন্ধনের নাম মিত্র, বরুন ও অর্যমা। মিত্র ঋণ(-) বিদ্যুতের আবেশ, একে 'ইলেক্ট্রন' বলা হয়। বরুণ ধন(+) বিদ্যুতের আবেশ, একে 'প্রোটন' বলা হয়। আবেশরহিত অর্যমা কে বর্তমান বিজ্ঞানে নিউট্রন বলা হয়।

তিস্রো মাতৃস্ত্রীন্ পিতৃন্ বিভ্রদেক ঊর্ধ্বস্তস্হৌ নেমব গ্লাপয়ন্তি।
মন্ত্রয়ন্তে দিয়ো অমুষ্য পৃষ্ঠে বিশ্ববিদং বাচমবিশ্বমিন্বাম্।। ঋগ্বেদ-১/১৬৪/১০।

ভাবার্থ :- মাতা পৃথিবী, পিতা সূর্য। প্রাণীর শরীরে তিন অংশ মাতার (পৃথিবী) থেকে আসে এবং তিন অংশ পিতা(সূর্য) থেকে আসে। মাতার দিক থেকে আসে মাটি, জল, বায়ু( তিনই পঞ্চভৌতিক) এবং সূর্যের দিক থেকে আসে অগ্নি ও আকাশ( এই দুটিও পঞ্চভৌতিক) পিতা অর্থাত্ সূর্য থেকে তৃতীয় যে অংশটি আসে সেটা হলো প্রাণ। অগ্নিও প্রাণে পার্থক্য আছে। অগ্নি যা পিতার অংশ থেকে আসে প্রাণীর শরীর নির্মাণ হেতু উপলব্ধ, তা রাসায়নিক শক্তি এবং অন্তকরণ ও দশ ইন্দ্রিয় কার্য শক্তি। প্রাণ চেতনার প্রতীক। এই ভাবে প্রাণীর শরীর ছয়টি অংশ মাতার(পৃথিবী) দিক থেকে তিনটি এবং পিতার(সূর্যের) দিক থেকে তিনটি আসে তখন এর মধ্যে নিবাস করার জন্য জীবাত্মার আগমন হয়।

অহস্তা যদপদী বর্ধত ক্ষাঃ শচীভির্বেদ্যানাম্। শূষ্ণং পরি প্রদাক্ষিণিদদ্বিশ্বায়বে নি শিশ্নথঃ।।
ঋগ্বেদ- মন্ডল-১০/সুক্ত-২৩/মন্ত্র-১৪
ভাবার্থ :- পৃথিবী যদিও হস্তপদহীন তথাপি ইহা চলিতেছে, অবশ্য জ্ঞাতব্য পরমাণুর শক্তির দ্বারা সূর্যের চারিদিকে ইহা প্রদক্ষিণ করিতেছে। হে পরমাত্মন! সমগ্র মানবের মধ্যে আস্তিক্য বোধ জানাইবার জন্যেই তুমি এরূপ রচনা করিয়াছ।

29/05/2026

প্রসঙ্গঃ- অবতারবাদ কি? কি ভাবে এই জীবাআত্মা অবতার হলেন?

ঈশ্বরের কোন সৃষ্টি কর্তা নেই, ঈশ্বর সর্বব্যাপক, সর্বশক্তিমান, সর্বজ্ঞ তাঁর আকার নেই, তিনি জন্ম মৃত্যুর উর্দ্ধে। অতএব ঈশ্বরের অবতার বলতে কিছু নেই।
তবে এটি বলা যেতে পারে এই কারনে সব জীবের মধ্যে পরমাত্মার নিবাস। যে আত্মা সাধনা লব্ধ জ্ঞানের কারনে বা পূর্ব জন্মের পুণ্যের ফলে পরমাত্মার মধ্যে অবতরণ করতে পারেন তিনিই অবতার। অর্থাৎ ঈশ্বরের সাথে যুক্ত হওয়া। কিন্তু তিনি কোন মতেই ঈশ্বর বা ঈশ্বরের অংশ নন।
অথবা বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ড সৃষ্টির পর জীবের প্রথম পৃথিবীতে অবতরণ ও মুক্ত আত্মাগন জীবের কল্যাণে পৃথিবীতে অবতরণ করেছেন বলেই তাঁদের অবতার বলা হচ্ছে।
এখন দেখি পবিত্র বেদ এ সৃষ্টি কিভাবে হলো দেখি:-

ন মৃত্যুরাসীদমৃতং ন তর্হি ন রাত্র্যা অহ্ন আসীৎ প্রকেতঃ। আনীদবাতং স্বধয়া তদেকং তস্মাদ্ধন্যন্নঃ পরঃ কিং চনাস।। ঋগ্বেদ১০/১২৯/২
ভাবার্থঃ- অর্থাৎ সৃষ্টির রচনার পূর্বে কোন জীবন,মৃত্যু, দিন, রাত্রি, চন্দ্র, সূর্য এমন কি সৃষ্টি, বিসৃষ্টিও কিছু জানার যোগ্য ছিল না শুধূ অবিচল স্থিতি ছিল। সেই সময় শক্তি (Energy) অবশ্যই ছিল। শক্তি দুই প্রকার সুপ্ত শক্তি(Protentiol Energy) ও গতিসঞ্জাত শক্তি(Kinetic energy) এ শক্তি গুলি তখন ক্রিয়াশীল ছিল না।

যদক্রন্দঃ প্রথমং জায়মান উদ্যন্ৎসমুদ্রাদুত বা পুরীষাত্। শয়েনস্য পক্ষা হরিণস্য বাহু উপস্তুত্যং মহি জাতং তে অর্বন্।।
(ঋগ্বেদ- ১/১৬৩/১)।।

ভাবার্থঃ সৃষ্টির প্রথম অবস্থায় তীব্র বেগযুক্ত পংখ তথা হিরণের ন্যায় শ্বেত জ্যোতি[ যাহা পরমাত্মার তেজ বলা হয়] তাহা অন্তরিক্ষ নামক বিশাল সমুদ্রে চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ল।[ বিজ্ঞানের ভাষায় যাহাকে cosmic ray এর স্ফূরণ বলা হয়] তখন ঘোর শব্দ ওম্ উচ্চািরত হচ্ছিল। এই তেজ হতে মহতত্ব জাত হইল। মহতত্ব মানে বুদ্ধিতত্ব, এই মহতত্ব হতে পরমানু সমুহের মধ্যে সত্ব, তম, রজ গুনের ধারা প্রবাহিত হয়ে সাম্য অবস্থা ভঙ্গ করল এবং তীব্র আকর্ষ বিকর্ষণ আরম্ভ হল। অর্থাৎ ইলেক্সট্রন, প্রোটণ, নিউটন এই তিনের কার্য পরমানুকে অতিষ্ঠ করে তুলল। এভাবে হে" অর্বন" ( জ্ঞানস্বরূপ পরমাত্মা) পূর্ব সৃষ্টিতে তিন পদার্থের কার্য দাতা আপনিই স্তুতি পাবার যোগ্য ছিলেন।।

যমেন দত্তং ত্রিত্ত এনমাষুনগিন্দ্র এণং প্রথমো অধাতিষ্ঠৎ।
গন্ধর্বো অস্য রশনামগূভ্ণাৎ সূরাদশ্বং বসবো নিরতষ্ট।। ঋগবেদ (১/১৬৩/২)
ভাবার্থঃ- পরমাত্মা কর্তৃক প্রদত্ত শক্তিকে ত্রিগুনাত্ম শক্তি অধিষ্ঠিত হল। প্রথম ইন্দ্র অর্থাৎ বিদ্যুৎ জ্যোতি এই শক্তিকে অধিষ্ঠিত করেছিল। অর্থাৎ পরমাত্মা সেই ত্রিগুনাত্মক প্রকৃতিতে অধিষ্ঠিত হয়ে গেল। সাম্যঅবস্থায় পরমাণু সেই পরমাত্মার সামান্য লাগামরূপ জ্যোতিকে গ্রহন করেছিল অর্থাৎ cosmic ray এর একটা অংশ মূল প্রকৃতির উপর ঝাটকে পড়ে এবং তাহা পরমাত্মার লাগাম স্বরূপ সৃষ্টিকার্য আরম্ভ করে দেয়।।

এইরূপে বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ড সৃষ্টির পর পৃথিবীতে জল প্রথম সৃষ্টি হয়, এই জলের জীব হলো মৎস্য, এর পর স্থল সৃষ্টি- এবার উভয়চর প্রাণী কুর্মের(কচ্ছপ) মাধ্যমে আত্মা স্থলে অবতরণ করল। এরপর স্থলে গাছ পালা জন্মাল, এখন আত্মা জীবন ধারণের তাগিদে বরাহ রূপে বনে অবতরণ করল। এরপরও আত্মার থেমে নেই অবতরণ চলছেই, আত্মা রূপ পরিবর্তন করে চলে আসল নৃরসিংহ রূপে মানুষে অবতরণ করল, এখন বলতে পারেন মানুষকে কি ভাবে নৃরসিংহ বলা যায়? গীতার ১৬ অধ্যায়ের ৬ নং শ্লোকে শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন প্রতিটি মানুষের মধ্যে দুইটি ভাব থাকে প্রথম হলো দেবতা ভাব অন্যটি হলো অসুরারীভাব অর্থাৎ পশুত্ব, এই দ্বৈতভাবকে নৃরসিংহে অবতরন ধরা হয়েছে।
এখন আত্মা ঝড়, বৃষ্টি, সূর্যের তাপ, অতি ঝড়ের কবল থেকে রক্ষা পেতে গুহা তৈরী, খাদ্য সংগ্রহ, হিংস্র প্রাণীর হাত থেকে রক্ষার জন্য সস্ত্র ধারণ করলেন, এখানে আমি পশুরামের কথা বলছি। এর পর আত্মা আরো উন্নতির দিকে ধাবিত হলেন, খুঁজতে লাগলেন তাঁদের কেন, কি কারণে সৃষ্টি করলেন, তাঁদের ভবিষ্যতের জন্য করণীয় কি, তাই মানুষরূপী প্রাণ ঈশ্বরের সাধনায় মগ্ন হলেন, তাঁরা ঈশ্বরকে প্রাপ্ত হয়ে হলেন মুনি ঋষি তথা বামন অবতার।
এরপর আত্মা রাজনৈতিক, সামাজিক, পারিবারিক উৎকর্ষতা সাধনের জন্য মহা প্রাণরূপী ভগবান রাম।
যারা মাধ্যমে আমরা প্রকৃত মানুষ হওয়ার যোগ্যতা লাভ করি।
এরপরও আত্মা থেমে ছিল না আসলেন আরো মহা রূপ নিয়ে আসলেন ভগবান শ্রীকৃষ্ণ। তিনি আমাদের ভক্তি, কর্ম ও জ্ঞানের সমন্বয় করে কিভাবে ঈশ্বর প্রাপ্ত করা যায় তার শিক্ষা দিলেন আরো দেখিয়ে দিলেন কি ভাবে কৌশলের আশ্রয় নিয়ে নিজে অংশ না নিয়ে সব সমস্যা সমাধান করে সমাজে শান্তি ও সুশৃঙ্খল করা যায়, এর পর আত্মার অবতরণ হলো জীব প্রেম নিয়ে, হ্যাঁ বুদ্ধের কথা বলছি। এরপর আত্মা অবতরণ করলেন মহাপ্রভু রূপে, তিনি আমাদের দিশা দিলে সংঘ শক্তির।
অথচ দুঃখের বিষয় আমরা কোনটি গ্রহন করলাম না। আমরা তাঁদের ঈশ্বর চিন্তন করে পূজা করতে থাকলাম।
এই জন্যই লোকনাথ ব্রহ্মচারী বলেছেন "চরণ নয় আচরণ ধর"

এরপর আমরা সংশোধন হলাম না।
তাই স্বামী বিবেকানন্দ জী বলেছেন--" গীতা পড়ে সময় নষ্ট না করে ফুটবল খেলা উত্তম"
এতে অন্তত শারীরিক দুর্বলতা থেকে মানসিক দুর্বলতা উৎপন্ন হবে না।

যেখানে বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ড সৃষ্টির এই কর্ম যজ্ঞ সম্পাদনের সময় ঈশ্বর কোন দেহ ধারণ করলেন না সেখানে শুধু মাত্র দুই পায়ের মানুষের জন্য কেন কি কারণে ঈশ্বর দেহ ধারণ করলেন?
এখন কি সাধু নেই? এখন কেন তিনি দেহ ধারণ করেন না?

ধন্যবাদ।
অতৃপ্ত আত্মা সেন্টু সাহা।

29/05/2026

ভগবান আর ঈশ্বর কি এক?

ঐশ্বর্যস্য সমগ্রস্য বীর্যস্য যশসঃ শ্রীয়ঃ । জ্ঞানবৈরাগ্যয়োশ্চৈব ষণ্ণং ভগ ইতীঙ্গনা ।।
বিষ্ণু পুরাণ-৬/৫/৭৪

অনুবাদঃ- ঐশ্বর্য্য, বীর্য্য, যশ(খ্যাতি), শ্রী(আত্মিক সৌন্দর্য), জ্ঞান ও বৈরাগ্য-এই ছয়টি গুণকে(ষড়ৈশ্বর্য) একত্রে বলা হয় "ভগ" ।

জ্ঞানশক্তিবলৈশ্বর্যবীর্যতেজাং স্যশোষতঃ। ভগবচ্ছব্দবাচ্যানি বিনা হেয়ৈর্গুণাদিভিঃ।।

“যিনি পরম ঐশ্বর্য, বীর্য, যশ, শ্রী, জ্ঞান ও বৈরাগ্য--এই ষড়ৈশ্বর্য গুনযুক্তা তিনিই "ভগবান" পদবাচ্য ।”

ভাবার্থঃ- যেভাবে কোন ব্যক্তি জ্ঞান ধারণ করলে তাঁকে বলা হয় জ্ঞানবান, কোন ব্যক্তি বল ধারণ করলে, তাকে বলা হয় বলবান, কোন ব্যক্তি বিপুল ধনসম্পদের অধিকারী হলে, তাকে বলা হয় ধনবান । অনুরূপভাবে, যেকোন ব্যক্তি যদি উক্ত ষড়ৈশ্বর্য বা "ভগ" -কে সম্পূর্ণরুপে ধারণ করেন, তিনিই "ভগবান" পদবাচ্য । তাঁকেই ভগবান বলা যায় । ষড়ৈশ্বর্যকে পূর্ণভাবে ধারণ করে যে কোন মানুষই ভগবান হতে পারবেন ।
কিন্তু , তাই বলে কখনওই ঈশ্বর হতে পারবেন না ।

(প্রশ্ন উপনিষদ ২।১, ৩।১, ৪।১, ৫।১ ও ৬।১ মুণ্ডক_উপনিষদ্ ১।১।৩ তৈত্তিরীয়_উপনিষদ্ ৩।১-৫ ছান্দোগ্য উপনিষদ ১।১১।৩,৪,৬ও৮, ১।১২।২, ৪।১।৮, ৪।২।২, ৪।৪।৩, ৪।৫।১ও২, ৪।৬।২ও৩, ৪।৭।২ও৩, ৪।৮।২ও৩, ৪।৯ ১ও৩, ৪।১৪।২, ৬।২।১, ৬।৫।৪, ৬। ৮।৭, ৬।৯।৪, ৬।১০।৩, ৬।১১।৩, ৬।১২। ১ও৩, এবং ৭।১।১ থেকে ৭।২৬।২ নং পর্যন্ত, সকল শ্লোকেই শিষ্যরা তাদের গুরুদেবকে ভগবান বলে ডেকেছেন । মনুসংহিতা ১/১, ১/২ এ, ঋষিরা মনুকে ভগবান বলে ডেকেছেন ।)

(ভজ সেবায়া ) এই ধাতু হইতে ভগ’সিদ্ধ হয় , ইহার সহিত মিতুপ ’ প্রত্যয় যােগে ভগবান্’শব্দ সিদ্ধ হয় । "ভগঃ সকলৈশ্বয়ং সেবনং বা বিদ্যতেয়স্য সভগবান্ " যিনি সমগ্র ঐশ্বর্যযুক্ত এবং ভজনের যােগ্য এইজন্য সেই পরমেশ্বরের নাম ও ভগবান্ হয় l ঈশ্বর এই ছয়গুণে সীমাবদ্ধ নন । তাঁর গুণ অনন্ত । তাই, ভগবান ও ঈশ্বর- শব্দদুটি মোটেও এক নয় ।

🔴ঈশ্বর কে..???
🔴ঈশ্বর পুরুষ নাকি নারী..???
🔴ঈশ্বর কি অর্ধনারীশ্বর..???

🏵ঈশ্বরের সবচেয়ে উত্তম সংজ্ঞা হিসেবে দেওয়া যায় যজুর্বেদ থেকে, যেখানে ঈশ্বরের মোট বারটি বৈশিষ্ট্যৈর মধ্যে একটি বলা আছে যে...

🔴তিনি "অকায়েম্ "
🚩(যজুর্বেদঃ- ৪০/৮)
⭕মানে তিনি শরীররহিত বা নিরাকার।

👉অার, যেই পরমাত্মার কোন শরীরই নেই তিনি নারী-পুরুষ কোনটাই হওয়ার কোন প্রশ্ন অাসে না।

🏵উপরন্তু মহাভারতে স্পষ্টতই এই বিষয়ে বলা অাছে যে,,,

🔴" ন চ স্ত্রী ন পুমাংশ্চৈব তথৈব ন নপুংসকঃ।
কেবলজ্ঞানমাত্রং তত্তস্মিন্ সর্ব্বং প্রতিষ্ঠিতম্।। "
🚩[মহাভারত - শান্তিপর্ব - ২১৮/৯০]
⭕অনুবাদঃ- ঈশ্বর স্ত্রীও না, পুরুষও না এবং নপুংসকও না। তিনি কেবল জ্ঞানমাত্র অথচ এই সমগ্র জগতই তার মধ্যে প্রতিষ্ঠিত।

🏵🏵এছাড়াও বৈদিক-গ্রন্থ উপনিষদের বিভিন্ন জায়গায় ঈশ্বর সম্পর্কে বলা হয়েছে যে,,,

🔴১. ঈশোপনিষদ—৮ (ঈশ্বর অকায়ম্ বা শরীররহিত)
🔴২. কেনোপনিষদ—১/৩
(ঈশ্বরকে চোখে দেখা যায় না)
🔴৩. কেনোপনিষদ—১/৭ (যেসব দৃশ্যমান বস্তুকে লোকে উপাসনা করে সেগুলো ব্রহ্ম বা ঈশ্বর নয়)
🔴৪. কঠোপনিষদ—১/২/২২ (ঈশ্বর অশরীরী)
🔴৫. কঠোপনিষদ—১/৩/১৫
(ঈশ্বর অরূপ বা রূপহীন)
🔴৬. কঠোপনিষদ—২/৩/৮
(ঈশ্বর অলিঙ্গ বা লিঙ্গহীন বা চিহ্নহীন)
🔴৭. কঠোপনিষদ—২/৩/৯ (ঈশ্বরকে চক্ষু দিয়ে দেখা যায় না)

🔴৮. কঠোপনিষদ—২/৩/১২ (ঈশ্বর বাক্য-মন-চক্ষুর অগোচর)

🔴৯. প্রশ্নোপনিষদ—৪/১০ (ঈশ্বর অশরীরী)

🔴১০. মুণ্ডকোপনিষদ—১/১/৮
(অপাণিপাদম্ অচক্ষুশোত্রম,
অর্থাৎ ঈশ্বরের হাত,পা,চক্ষু,কর্ণ নেই)

🔴১১. মুণ্ডকোপনিষদ—২/১/২/ (ঈশ্বর অমূর্ত)

🔴১২. মুণ্ডকোপনিষদ—৩/৯/৭
(অচিন্ত্যরূপ বা ঈশ্বরের রূপ চিন্তা করা সম্ভব নয়)

🔴১৩. মুণ্ডকোপনিষদ—৩/৯/৮
(ঈশ্বরকে চক্ষু দিয়ে দেখা যায় না।)

🔴১৪. তৈত্তেরীয় উপনিষদ—১/৭২
(ঈশ্বর দর্শন অতীত এবং অশরীরী)

🔴১৫. শ্বেতাশ্বতর উপনিষদ—২/১৫
(ঈশ্বর জন্মরহিত)
🔴১৬. শ্বেতাশ্বতর উপনিষদ—৩/১০
(ঈশ্বর অরূপ বা রূপহীন)
🔴১৭. শ্বেতাশ্বতর উপনিষদ—৩/১৯
(অপাণিপাল অর্থাৎ ঈশ্বরের হাত পা নেই)
🔴১৮. শ্বেতাশ্বতর উপনিষদ—৪/১
(ঈশ্বর বর্ণরহিত)
🔴১৯. শ্বেতাশ্বতর উপনিষদ—৪/১৯
(ঈশ্বরের মূর্তি বা প্রতিমা নেই)
🔴২০. শ্বেতাশ্বতর উপনিষদ—৪/২০ (ঈশ্বরকে চক্ষু দিয়ে দেখা যায় না এবং ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য নয়)

🔴২১. শ্বেতাশ্বতর উপনিষদ–৪/২১
(ঈশ্বর জন্মরহিত)
🔴২২. শ্বেতাশ্বতর উপনিষদ—৫/১৪
(ঈশ্বর অশরীরী)
🔴২৩. শ্বেতাশ্বতর উপনিষদ—৬/৮
(ঈশ্বরের শরীর এবং ইন্দ্রিয় নেই)

🔴২৪. শ্বেতাশ্বতর উপনিষদ—৬/৮ (ঈশ্বরের লিঙ্গ বা চিহ্ন নাই এবং তাঁর কোন জনক বা পিতা নেই)

🏵এখান থেকে বুঝতে পারা যাচ্ছে, ঈশ্বরের জন্ম-মৃত্যু নেই, শরীর নেই, লিঙ্গ নেই, পিতামাতা নেই, রুপ-চিহ্ন নেই, তিনি ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য নয় এবং তারও ইন্দ্রিয় নেই।

🏵সুতরাং ঈশ্বর পুরুষও না, নারীও না, নপুংসকও নয় এবং অর্ধ নারীও না, অর্ধ পুরুষও না। তিনি ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য নয়, তিনি সর্বব্যাপী, তাই তার লিঙ্গ নির্ধারণ সম্ভব নয়।
ঈশ্বর শাশ্বত, সর্বশ্রেষ্ঠ, সর্বশক্তিমান।

29/05/2026

ত্রৈতবাদ নিয়ে ভালো ভাবে বুঝতে বিস্তর আলোচনার প্রয়োজন । একটি প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার পর আরো প্রশ্নের উদয় হবে এটাই স্বাভাবিক । স্বাধ্যায় এবং প্রশ্ন করার মাধ্যমে সম্যকরূপে জানতে সমর্থ হওয়া যাবে । কিন্তু এই একটা পোষ্টে সেটা কখনোই সম্ভব নয় ।

ত্রৈতবাদ অনুসারে পরমাত্মা , জীবাত্মা এবং প্রকৃতিকে অনাদি বলা হয়েছে । সাংখ্য এবং গীতায় এর নাম প্রকৃতি ও পুরুষ । পুরুষ শব্দটি পরমাত্মা এবং জীবাত্মা-উভয়ের বাচক । গীতাতেই জীবাত্মা ছাড়াও অন্য এক পুরুষের বিষয়ে আলোকপাত করা হয়েছে , যা থেকে আমরা এই সিদ্ধান্ত নিতে পারি যে শ্রুতি , দর্শন এবং স্মৃতিপ্রস্থান একই সিদ্ধান্ত দিচ্ছে । উক্ত শাস্ত্রাদিতে পরমাত্মা , জীবাত্মা এবং প্রকৃতি উভয়কেই অনাদি বলা হয়েছে । অনাদি কী ?
- যার কোনো সূচনা নেই । অর্থাৎ পরমাত্মা , জীবাত্মা এবং প্রকৃতির কোনো আদি নেই । আর আদি না থাকলে অন্তও আসবে না ।

এখানে আপনার প্রশ্ন অনুসারে একটা বিষয় স্পষ্ট করা প্রয়োজন । প্রকৃতি বলতে কেবল পৃথিবীকে বুঝানো হচ্ছে না । পৃথিবীর উপাদান-কারণকে বুঝানো হচ্ছে । অর্থাৎ পৃথিবীর আদি এবং অন্ত থাকলেও পৃথিবী যেসকল উপাদানে প্রস্তুত হয়েছে সেগুলোর সৃষ্টি বা বিনাশ নেই । যেমন শক্তির ধ্বংস নেই কেবল রূপান্তর হয় মাত্র , এ ব্যাপারটাও অনেকটা তেমনই ।

এই পরমাত্মা , জীবাত্মা এবং প্রকৃতির কোনো সমষ্টি হয় না । সেজন্য এদের নিয়ন্ত্রণ করার জন্য আলাদা সত্ত্বারও প্রয়োজন হয় না । তাহলে এই তিনটি আলাদা আলাদা হওয়া সত্ত্বার মধ্যে সম্পর্ক কী ? কীভাবে এরা কী কাজ করে ?
- পরমাত্মা নির্গুণ , তাই তিনি সর্বতোভাবে মুক্ত এবং প্রকৃতির গুণত্রয় তাকে আবদ্ধ করতে পারে না । সর্বব্যাপী হওয়ায় তিনি প্রকৃতি উপাদানসমূহকে রূপান্তর করেন এবং ভোগ হেতু নির্মাণ করেন ।

কিন্তু প্রকৃতি নিজের এই ভোগ গ্রহণ করতে পারে না । কেবল পরমাত্মা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয় ।

অন্যদিকে জীবাত্মাকে প্রকৃতির গুণসমূহ (সত্ত্ব , রজঃ , তমঃ) আবদ্ধ করতে পারে । কারণ সে পরমাত্মার মতো নির্গুণ নয় । প্রকৃতির ভোগসমূহ সে ভোগ করে । কিন্তু এই জীবের অন্তিম চেষ্টা থাকে পরমাত্মা প্রাপ্তি । এখানে পরমাত্মা প্রাপ্তি বলতে জীবাত্মা গিয়ে পরমাত্মায় মিশে যাবে এমনটা ভাবা যাবে না । কারণ এরকম ভাবলে মনে হবে পরমাত্মা কোনো আলাদা স্থানে আছেন এবং তিনি সর্বব্যাপী নন । তাই জীবাত্মা প্রকৃতির ত্রিগুণ থেকে মুক্ত হয়ে সেখানে গিয়ে পরমাত্মায় মিশে যাবে , ব্যাপারটা এমন নয় । বস্তুতঃ জীবাত্মাও পরমাত্মার মতোই নির্গুণ হতে পারে তার কর্মের মাধ্যমে । জীবাত্মা যখন গুণত্রয়ের বন্ধন ছিন্ন করে নির্গুণ হয়ে যান তখন তিনি মুক্ত অবস্থা প্রাপ্ত করেন । শাস্ত্রে সেই জীবাত্মাকে মুক্ত পুরুষ বলা হয়েছে । তাহলে এখানে পরমাত্মা প্রাপ্তি বলা হলো কেন ?
- পরমাত্মা প্রাপ্তি কথাটি এখানে পরমাত্মার স্বরূপার্থে ব্যবহৃত । তাহলে জীবাত্মা কী পরমাত্মার মতোই হয়ে যায় ?
- না । মুক্ত পুরুষ কখনোই পরমাত্মার মতো সৃষ্টিক্রিয়াদি কার্য সম্পন্ন করতে পারে না । কেবল নির্গুণতা লাভ করে । অর্থাৎ জন্মমৃত্যুর চক্র থেকে মুক্ত হয় । তবে নির্গুণতা প্রাপ্ত হওয়ার পর ইচ্ছা করলেই সে পুনরায় জন্মগ্রহণ করতে পারে । অন্যদিকে পরমাত্মা কখনো জন্মগ্রহণ করে না । কেননা পরমাত্মা সর্বতোভাবে উদাসীন থাকেন এবং সর্বব্যাপী হওয়ার কারণে কোনো নির্দিষ্ট স্থানে , নির্দিষ্ট শরীরে আবদ্ধ হন না ।
আর অন্যদিকে প্রকৃতি কেবল রূপান্তর হয় ।

29/05/2026

গৈরিক রং কি?
– ‘বেটা, মোক্ষ বা মুক্তির প্রতীক হল গেরুয়া। এর মধ্যে রয়েছে এক অদ্ভুত অধ্যাত্মরহস্য। পাতঞ্জল যোগদর্শনে বলা হয়েছে, ‘ভুবনজ্ঞানম সূর্যে সংযমাত’। যোগীগণ সূর্যে সংযম দ্বারা ভুবনজ্ঞান লাভ করেছেন। ভুবনজ্ঞানের প্রথম কথাই হল সৃষ্টির জ্ঞান। সৃষ্টির জ্ঞান বলতে সৃষ্টি কোথা থেকে হল, কিভাবে ধারণ ও লয় হবে এসব রহস্যের সমাধান যোগীগণ সূর্য সংযম দ্বারা লাভ করেছেন।

সূর্যোদয়ের মুহুর্তে যে রক্তাভরশ্মি সেটা চরাচর সৃষ্টি করে। অস্তাচলগত সূর্যরশ্মি লয় করে সৃষ্টিকে। সূর্যরশ্মি বিশ্লেষণ করে যোগীগণ যোগনেত্রে দেখেছেন অস্তায়মান সূর্যরশ্মির রঙ গেরুয়া। সেজন্য তো বেটা, সংসারে প্রকৃত বীতরাগ সাধুসন্ন্যাসীরা গেরুয়া বস্ত্র পরিধান করেন। তাদের ভাবনা মুক্তির, সৃষ্টির নয়। ভববন্ধনের লয় চাই। ‘গৈরিক’ – সৃষ্টি চাই না, এই শাশ্বত বাণী ও ভাবনার প্রতীক। গেরুয়া বস্ত্র সাধুসন্ন্যাসীগণের ভাবনাকে সৃষ্টিলয়ের ধ্যানধারণায় উদ্বুদ্ধ ও অনুপ্রাণিত করে। বেটা, গঙ্গা জলের রঙও গৈরিক মিশ্রিত। তাই এই জলে স্নান করলে মোক্ষের প্রতীক ‘গৈরিক’ দিয়ে সমস্ত দেহ অনুলিপ্ত করা হয়। যার জন্য তো গঙ্গা মুক্তিদায়িনী ও স্নানে ভববন্ধন লয়ের সহায়ক হয়।

– বড় কঠিন প্রশ্ন। আমার বোধ বুদ্ধিতে যেটুকু বুঝেছি, সেটুকুই তোকে বলতে পারি। বেটা, প্রচুর অর্থ ধনসম্পদ নানা বিপদ ও অশান্তির কারণ। রোগ শোক অনুতাপ বন্ধন ও বিপদ হল মানুষের নিজের রোপণ করা অপরাধ বৃক্ষের ফল। এগুলো সকলকেই ভোগ করতে হয়। তবে সংসার জীবনে মানুষ সবসময় সুখী হতে পারে বিষয় ভোগের বাসনা, সম্মানলাভের আশা, লোভ, ক্রোধ আর অহংকার পরিত্যাগ করলে। বেটা সংসার দুঃখময়, এখানে সুখ বলে কোনও বিষয় নেই, না আছে কোনও বস্তু। একটা বিশেষ শব্দ অতি দ্রুত ও খুব সহজেই মানুষ অনুভব করতে পারে, যে শব্দের নামটা হল দুঃখ। সংসারে যাবতীয় দুঃখের যেটুকু উপশম, সেইটুকু মানুষ সুখ বলে ধরে নেয় এবং সেটা একেবারে ক্ষণস্থায়ী। কারণ আবার তা ঢেকে দেয় দুঃখ। এই নিয়মেই চলে মানুষের জীবন, যার ব্যতিক্রম নেই। মানুষের লাভ বা লোকসানের হিসাব যতক্ষণ, সংসারে দুঃখভোগও ততক্ষণ জানবি।

– বেটা, জাতিধর্মনির্বিশেষে নারীপুরুষের জলের দ্বারা দেহ শুদ্ধ হয়, দেহ পবিত্র হয় গুরুসেবাতে, হাত পবিত্র হয় দানে। তীর্থভ্রমণে চরণ পবিত্র হয়, মুখ পবিত্র হয় ভগবানের নামে আর সত্যের দ্বারা শুদ্ধ হয় মানুষের মন।

সারাজীবন নিজের উপর প্র্যাকটিক্যাল করা সরযূতীরের এই বৃদ্ধ সাধুবাবা। মনে পড়ে গেল যক্ষরূপী ধর্মরাজের কথা। পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে অনেকগুলি প্রশ্ন করেছিলেন রাজা যুধিষ্ঠিরকে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য – রাজা বলতো, কি ত্যাগ করলে শোক হবে না? ক্রোধ ত্যাগ করলে শোক হবে না। কি ত্যাগ করলে মানুষ সুখী হবে? লোভ ত্যাগ করলে সুখী হবে। কি ত্যাগ করলে মানুষ ধনবান হবে? কামনা ত্যাগ করলে। বলতো রাজা, কি ত্যাগ করলে মানুষ লোকপ্রিয় হবে? অভিমান ত্যাগ করলে মানুষ লোকপ্রিয় হবে। কি ত্যাগ করলে রোগ হবে না? এর উত্তরটা সাধুবাবার মতো যুধিষ্ঠিরের প্র্যাকটিক্যাল করা ছিল না, জানা ছিল না। সেই জন্যই তো ১৯৮০ সালে বৃদ্ধের সঙ্গে যখন কথা বলেছিলাম তখন তাঁর বয়েস ১২১ আর রাজা যুধিষ্ঠির দেহ রক্ষা করেছিলেন ৯০ বছর বয়সে।

– বেটা, রোগ শোক বিপদ অনুতাপ রাজরোষ (মামলা মোকদ্দমা, জেল হাজতবাস) এগুলি সব নিজ কৃত অপরাধের ফল। এগুলি খণ্ডন হয় অর্থনষ্টের দ্বারা, মানসিক কষ্ট ও ক্লেশ দ্বারা। এমন কোনও কাজ কখনও করবি না যাতে ওই বিষয়গুলির মুখোমুখি হতে হয়। এগুলি সব মানুষের শান্তিহারক।

– বাবা, কি দেখে বোঝা যাবে একজন মহাত্মা বা সাধুসন্ন্যাসীর জীবনে তাঁর আরাধ্য দেব বা দেবীর দর্শনলাভ হয়েছে?

– বেটা, কারও কথায়, ভাবে ও আচরণে সমস্ত বনই তুলসী বন, সমস্ত পাহাড় নুড়িই শালগ্রাম, নদীনালা সাগর পুকুর শুধু নয়, সমস্ত জলই যখন অন্তরে গঙ্গাজল হবে, তখন বুঝবি তার হৃদয় আসনে রাম বসেছে, দর্শনও হয়েছে।

– বাবা, তীর্থ শব্দের উৎপত্তি হচ্ছে ‘তৃ’ ধাতু থেকে। ‘উত্তীর্ণ হওয়া’, মনের ত্রাণই তীর্থ। পার্থিব জীবনের যা কিছু পাপ মলিনতা কলুষতা, তা থেকে মনকে উত্তীর্ণ করার অর্থই হচ্ছে তীর্থ। তীর্থের ভাগ আছে তিনটে। যে তীর্থে দেহের রোগ দূর হয় অর্থাৎ স্বাস্থ্যকর জল হাওয়া আর মনোরম স্থানকে বলে ভৌমতীর্থ। তবে মনের ক্লেশ দূর হয় না এই তীর্থে।

– আত্মিক উপলব্ধি হয়েছে এমন মহাত্মাকে বলে জঙ্গমতীর্থ। জঙ্গম শব্দে গমনশীল বুঝায়। অর্থাৎ মহাত্মা বা মহাপুরুষের দর্শন কথোপকথন ও সঙ্গলাভের মাধ্যমে মনের মলিনতা থেকে উত্তীর্ণ হওয়াই জঙ্গমতীর্থ। আর বাবা, মন যখন ত্রাণ পায় অর্থাৎ রজো ও তমোগুণকে অতিক্রম করে মন যখন সত্ত্বগুণবিশিষ্ট তখন তাকে মানসতীর্থ বলে। এক কথায় বিশুদ্ধ ও পবিত্র নির্মল মনই হল পরমতীর্থ মানসতীর্থ।
@ # #
সূর্যোদয়ের মুহুর্তে যে রক্তাভরশ্মি সেটা চরাচর সৃষ্টি করে। অস্তাচলগত সূর্যরশ্মি লয় করে সৃষ্টিকে। সূর্যরশ্মি বিশ্লেষণ করে যোগীগণ যোগনেত্রে দেখেছেন অস্তায়মান সূর্যরশ্মির রঙ গেরুয়া। সেজন্য তো বেটা, সংসারে প্রকৃত বীতরাগ সাধুসন্ন্যাসীরা গেরুয়া বস্ত্র পরিধান করেন। তাদের ভাবনা মুক্তির, সৃষ্টির নয়।

ভববন্ধন থেকে মুক্তির রং গেড়ুয়া, কেননা অস্তাচলগত সূর্যরশ্মির রং গেড়ুয়া আবার সূর্যোদয়ে সূর্যরশ্মি রক্তাভ থাকে। সনাতন ধর্মের মুল কনসেপ্ট সৃষ্টির নয় মুক্তির বা মোক্ষ প্রাপ্তির, তাই গেড়ুয়া রং পবিত্র।

29/05/2026

দাদা সনাতন ধর্ম মতে আলাদা স্বর্গ নরক বলতে কিছুই নাই, শুধুমাত্র মোক্ষ ব্যতীত।
যদি আলাদা স্বর্গ বা নরক থাকে, তাহলে কোন ব্যক্তির মৃত্যুর পর আলাদা কোন স্থানে স্বর্গ সুখ বা নরক যাতনা ভোগ করার পর কিসের ভিত্তিতে পুনরায় পুনর্জন্ম প্রাপ্ত হবেন এই ইহ জগতে সুখ এবং দুঃখের জন্ম মৃত্যুর চক্রে? এই কারনে যদি স্বর্গ নরক নামক আলাদা কোন স্থান থাকে তাহলে পুনর্জন্ম শব্দটি মিথ্যা প্রমাণিত হয়।
আবার পুনর্জন্ম যদি না হয় তাহলে একই সময়ে জন্ম নেওয়া শিশুদের মধ্যে কেউ ধনী, মধ্যবিত্ত, গরীব, কেউবা বধির বা বড় হয়ে কেউ অত্যন্ত মেধাবী বা কেউ অঙ্গ হীন কেন? এর উত্তরে কেউ যদি বলে যার ঘরে জন্ম নিয়েছে তাদের আর্থিক অবস্থার কারনে এই ধনী গরীবের অবস্থান দৃশ্যমান বা মায়ের গর্ভে শারীরিক কারনে বধির বা অঙ্গ হীনতার কারণ, তাহলে শিশুটির দোষ কোথায় এবং শিশুরা নিষ্পাপ নয়? আবার পরবর্তীকালে কেউ ধনী থেকে গরীব বা গরীব থেকে ধনী বা অসুস্থ হয়ে অঙ্গ হীন হয়ে যাচ্ছে কেন? তাহলে কি ঈশ্বর সবাইকে সমান দেখেন না? বা ঈশ্বর বলতে কিছুই নেই? তাহলে কিসের কারনে এই বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ডে নক্ষত্র, গ্রহ উপগ্রহ একটি শৃংঙ্খলার সাথে আবর্তিত হচ্ছে বা জন্ম মৃত্যুর চক্র প্রবাহমান?
আবার উদ্ভিদের প্রাণ আছে, তেমনি পশুপাখি, মানুষ, মহামানব সবার প্রাণ আছে, তাহলে এদের মধ্য ভিন্নতা কেন?
এর কারণ ঈশ্বর আছেন তিনি ইহ জগতের কর্মের ফল অনুসারে কর্মফল প্রদান করেন।
এখন প্রশ্ন আমরা কেন একজন মানুষের মৃত্যুর পর স্বর্গীয় শব্দটি ব্যবহার করি- এর কারণ সনাতন ধর্ম মানবতার ধর্ম, আমরা সবসময়ই অন্যের কল্যান কামনা করে থাকি, তাই কারো মৃত্যুর পর আমরা চাই পরবর্তী জন্মে সদাসর্বদাই স্বর্গ সুখ লাভ করুক। এই জন্য আমরা মৃত্যুর পর স্বর্গীয় শব্দটি ব্যবহার করে থাকি, যেমন জীবিত অবস্থায় আমরা মাননীয়, মহাত্মন, শ্রীমান বা স্নেহের শব্দ ব্যবহার করে থাকি নামের আগে।

29/05/2026

সপ্তম শতাব্দীর দক্ষিণ ভারতে ধর্ম আন্দোলনে সনাতন ধর্মের নব জাগরনঃ-
সুত্রঃ-ভারত বর্ষের ইতিহাস-অতুল চন্দ্র রায়।

সপ্তম শতাব্দী হইতে দক্ষিণ ভারতে ধর্ম আন্দোলন শুরু হয়। বৌদ্ধ ও জৈন ধর্মের বিরুদ্ধে শৈব, ও বৈষ্ণবরা দারুণ আন্দোলন শুরু করেন। এই ধর্ম-আন্দোলন দক্ষিণ ভারতে হিন্দুধর্মের নবজাগরণে বিশেষ
সহায়তা করে। হিন্দুদের নব জাগরণে দক্ষিণাত্যের ধর্মাচার্যদের দান অপরিসীম। দক্ষিণ ভারতের শৈব ও বৈষ্ণবদের মূল কথা ছিল ভক্তি। শিব ও বিষ্ণুর উপাসকরা যথাক্রমে 'নায়নার' ও 'আলভার' নামে পরিচিত ছিলেন। শৈব ও ধর্মাচার্যদের মধ্যে খপ্পর, সুন্দরমূর্তি ও মালিকভাসগর-এর নাম বিশেষ উল্লেখযোগ্য। বৈষ্ণব ধর্মাচার্যদের মধ্যে কুলশেখর ও অন্দলের নাম বিশেষ উল্লেখযোগ্য। পঞ্চম কিংবা ষষ্ঠ শতাব্দীতে আলভারদের আবির্ভাব হইয়াছিল। 'আলভারদের' রচিত স্তোত্রগুলি ভক্তিরসে পরিপূর্ণ। 'নায়নার' ও 'আলভার' ছাড়াও সেই যুগে বেদান্তবাদিরাও হিন্দুধর্মের অন্যতম প্রচারক ছিলেন। ইহারা সকলেই বৌদ্ধ ও জৈন ধর্মের বিরুদ্ধে আন্দোলন চালাইয়া ছিলেন। এই যুগে দক্ষিণ ভারতে হিন্দুধর্মের নব-জাগরণে যাহারা অংশ গ্রহণ করিয়া খ্যাতি অর্জন করিয়াছিলেন তাঁহাদের মধ্যে খপ্পর, সুন্দরমূর্তি, মালিকভাসগর, কুলশেখর, অন্দল, কুমারিল ভট্ট, শংকরাচার্য, রামানুজ, যমুনাচার্য ও মাধবাচার্যের নাম সর্বাপেক্ষা উল্লেখযোগ্য। দাক্ষিণাত্যে শৈবধর্ম প্রচারে শংকরাচার্যের দান সর্বাধিক। তিনি অষ্টম শতাব্দীতে মালাবার প্রদেশে এক ব্রাহ্মণ নামবুদ্রি পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি বাল্যবয়সে সংসার ত্যাগ করেন এবং বৈদিকশাস্ত্রে অসাধারণ পাণ্ডিত্য অর্জন করেন। তিনি সমগ্র ভারত পরিভ্রমণ করিয়া অদ্বৈত বেদান্তমতের প্রচার করেন। ইহার মূল কথা হইল ব্রহ্ম এক ও
অদ্বিতীয় এবং ব্রহ্মই একমাত্র সত্য, জগৎ মিথ্যা। তিনি ধর্মপ্রচারের জন্য ভারতের চারিপ্রান্তে চারিটি প্রধান মঠ প্রতিষ্ঠা করেন; যথা—মহীশূরের শৃঙ্গেরী মঠ, দ্বারকার সারদা মঠ, পুরীর গোবর্ধন মঠ ও বদরিকাশ্রমের যোশী মঠ। শংকরাচার্য ও কুমারিল ভট্টের প্রচারের ফলে বৌদ্ধধর্মের প্রায় বিলুপ্তি ঘটে এবং জৈনধর্মের জনপ্রিয়তা বহুলাংশে বিনষ্ট হয়। মাত্র বত্রিশ বৎসর বয়সে শংকরাচার্য দেহত্যাগ করেন।
কুমারিল ভট্ট সপ্তম শতাব্দীতে এক ব্রাহ্মণ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি বৈদিক শাস্ত্রে গভীর পাণ্ডিত্য অর্জন করেন। তিনি বৈদিক যাগযজ্ঞাদি অনুষ্ঠানের শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিষ্ঠা করেন। রামানুজ ছিলেন দক্ষিণ-ভারতের সর্বাধিক খ্যাতনামা বৈষ্ণবাচার্য। তিনি মাদ্রাজের এক ব্রাহ্মণ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি বেদান্ত-ভাষ্য রচনা করেন। তাহার প্রতিষ্ঠিত বৈষ্ণব সম্প্রদায় ‘শ্রী সম্প্রদায় নামে পরিচিত। তাহার মতবাদ ‘বৈশিষ্ট্য-দ্বৈতবাদ' নামে খ্যাত। তাহার ধর্মমতের প্রধান কথা হইল এই যে, একমাত্র ভক্তির দ্বারাই ঈশ্বরের করুণা লাভ করা যায়। তিনি ভারতের বিভিন্ন স্থানে বৈষ্ণব ক্ষেত্র স্থাপন করেন।

29/05/2026

সনাতন ধর্মই শ্রেষ্ট ধর্ম, শান্তির ধর্ম, মানবতার ধর্ম, কারন সনাতন ধর্মের প্রধান ধর্মীয় গ্রন্থ বেদই সর্বশ্রেষ্ট। মানুষের কল্যানের জন্য ঈশ্বর হইতে প্রাপ্ত।
দেখা যাক নিন্মের বারটি বেদ মন্ত্রে কি আছে----

(১)
ওম্!ভূর্ভবঃ স্বঃ। তৎসবিতুর্বরেণ্য ভর্গো দেবস্য ধীমাহি। ধিয়ো যো নঃ প্রচোদয়াৎ।। ( ঋগ্বেদ)

অর্থ- পরমাত্মা প্রানস্বরুপ, দুঃখনাশক, সুখস্বরুপ ও আনন্দ স্বরুপ। এক মাত্র তিনি বরণীয় ও উপাস্য। আমরা সেই জ্যোতির্ন্ময় জগৎশ্রেষ্ঠ পরমেশ্বরের শুদ্ধ তেজকে ধ্যান করি। তিনি আমাদের নির্মল বুদ্ধি দান করেন। তিনি আমাদের ধর্ম-অর্থ-কাম-মোক্ষ সকল বিষয়ে পূর্ণতা দান করেন।

(২)
ইন্দ্রং মিত্রং বরুণমগ্নিমাহুরথো দিব্যঃ স সুপর্ণো গরুত্মান্।
একং সদ্ বিপ্রা বহুধা বদন্তি অগ্নিং য়মং মাতরিশ্বানামাহুঃ।-(ঋগ্বেদ ১.১৬৪.৪৬)
অনুবাদ- সেই এক ও অদ্বিতীয় পরমসত্য ঈশ্বরকে জ্ঞানীগন বিভিন্ন নামে অবহিত করে থাকেন,কেউ অগ্নি,কেউ ইন্দ্র,কেউ যম,কেউ বরুণ,কেউ গরুত্মান কেউবা মাতরিশ্বা! অর্থাৎ বেদ বহু দেব নয় এক ঈশ্বরকেই বহু নামে সম্বোধন করেছে।

(৩)
তন্তুং তন্বন রজসো ভানুমন্বিহি জ্যোতিষ্মতঃ পথো রক্ষ ধিয়া কৃতান।
অনুল্বনং বয়ত জোগুবামপো মনুর্ভব জনয়া দৈব্যং জনম্।। ঋগ্বেদ ১০.৫৩.৬

অনুবাদ-তন্তুর বুননে যেমন বুনটের বিস্তার হয় ঠিক তেমনি আলোর পথে চলে কর্মের বিস্তার কর,হৃদয় অন্তরীক্ষে জ্যোতির প্রকাশক পরমাত্মার পথ অনুসরন কর,বিবেক দিয়ে কাজ কর,জ্ঞানীদের প্রদর্শিত চেতনাকে রক্ষা কর,মানুষ হও এবং অন্যকে মানুষ হিসেবে গড়ে তোল।

(৪)
উদ্যানং তে পুরুষ নাবয়ানং জীবাতুং তে দক্ষতাতিং কৃণোমি।
আ হি রোহেমম্ অমৃতং সুখং রথমথ জির্বির্বিদথমা বদাসি।।

অর্থঃ- “হে মানুষ ওঠো! ওঠে দাঁড়াও! পতিত হওয়া তোমার স্বভাবজাত নয়। জ্ঞানের আলোকবর্তিকা শুধু মাত্র তোমাকেই দেয়া হয়েছে যা দিয়ে তুমি ঐ সকল অন্ধকূপ এড়িয়ে যেতে পারো -অথর্ববেদ ৮/১/৬

(৫)
অন্তি সন্তং ন জহাত্যন্তি সন্তং ন পশ্যতি।
দেবস্য পশ্য কাব্যং ন মমার ন জীর্য়তি।।
অর্থঃ (অন্তি) নিকটে থাকার পরেও মানুষ (সন্তম্) পরমেশ্বরকে (পশ্যতি ন) দেখতে পায় না, আবার (অন্তি) নিকটে থাকার দরুণ মানুষ (সন্তম্) পরমেশ্বরকে (জহাতি ন) ছাড়তেও পারে না। (দেবস্য) দিব্য গুণ সম্পন্ন পরমাত্মার (কাব্যম্) বেদরূপী কাব্যকে (পশ্য) দেখ (ন মমার) সেই কাব্য কখনও মরেও না অর্থাৎ বাতিল হয় না, (ন জীর্য়তি) না কখনো পুরাতন বা জীর্ণ হয় অর্থাৎ তা সদা নবীন।-অথর্ববেদ ১০/৫/৩২

(৬)
ওম্ শন্নো দেবীরভিষ্টয় আপোভবন্তু পীতয়ে
শং যোরভি স্রবন্তু নঃ। (ঋগ্বেদ)

অর্থঃ- হে ঈশ্বর দিব্যগুনযুক্ত পানীয় জল আমাদের আবিষ্ট কার্যের জন্য কল্যাণকারী হউক। রোগনাশ করে, ভয় দুর্বল করে অমৃতময় রুপে প্রবাহিত হউক।

(৭)
ওম্ নমঃ শম্ভবায় চ ময়োভবায় চ
নমঃ শংকরায় চ ময়স্করায় চ
নমঃ শিবায় চ শিবতরায় চ।। (যজুর্বেদ)

অর্থঃ- হে কল্যানকারী সুখস্বরুপ প্রভু তোমাকে নমস্কার। নিজভক্ত উপাসককে সদা কল্যাণ ও সুখ প্রদান কর্তা প্রভু তোমাকে নমস্কার। হে কল্যাণ তথা সুখের বিশ্বস্বরুপ প্রভু তোমাকে বার বার নমস্কার।।

(৮)
ওম্ বিশ্বানি দেব সবিতর্দুরিতানি পরাসুব
যদ্ভদ্রতন্ন আসুব।।( যজুর্বেদ)

অর্থঃ- হে সমগ্র জগতের উৎপত্তিকর্তা সূখ-স্বরুপ পরমেশ্বর! তুমি আমাদের দুঃখ ও দূর্গুন সমূহ দূর করিয়া যাহা শুভ তাহাই প্রদান কর।

(৯) ওম্! স নো বন্ধুর্জনিতা স বিধাতা ধামানি বেদ ভূবনানি বিশ্বা। যত্র দেবা অমৃতমান শানা স্তৃতীয়ে ধামান্ন ধ্যৈরয়ন্ত।। (যজুর্বেদ)

অর্থঃ- তৃতীয় ধাম মোক্ষ প্রাপ্তির কারণ। বন্ধু, জনক, জন্ম, নাম ও স্হান সমূহে বিদ্যমান। আমরা সেই জ্যোতিস্বরুপ পরমাত্মার উপাসনা করি।

(১০)
ওম্ তেজোহসি তেজো ময়ি ধেহি।
বীর্য্যমসি বির্য্যং ময়ি ধেহি।
বল মসি বরং ময়ি ধেহি।
ওজোহস্যো জোময়ি ধেহি।।
মন্যুরসি মন্যুং ময়ি ধেহি।
সহোহসি সহোময়ি ধেহি।। (যজুর্বেদ)

অর্থঃ- হে ঈশ্বর! তুমি তেজোময়, বীর্যময়, বলময়, ওজময় ও সহনশীল পূর্ণ। আমাদের তেজ,বীর্য্য, বল, ওজ ও সহনশক্তি স্থাপন করো এই প্রার্থনা করিতেছি।

(১১) ওম্! দৌঃ শান্তিরন্তরিক্ষং শান্তিঃ পৃথিবী শান্তি রাপঃ শান্তি রোশধয়ঃ শান্তিঃ। বনস্পতয়ঃ শান্তি বির্শ্বে দেবাঃ শান্তি ব্রহ্ম শান্তিঃ সর্বং শান্তিঃ শান্তিরেব শান্তিঃ সা মা শান্তিরেধি।। ওম্ শান্তিঃ শান্তিঃ শান্তিঃ (যজুর্বেদ)

অর্থঃ- হে ঈশ্বর! এই বিশ্বব্রহ্মান্ডের দ্যুলোক, অন্তরীক্ষ লোক ও পৃথিবীর লোক শান্তিময় হউক। জল, ঔষধি ও বনস্পতি শান্তিময় হউক। সকল ব্যক্তিগণ জ্ঞানময় হউক। পৃথিবীর সকল প্রাণীর শান্তি হউক। পৃথিবীর সকল মানব-মানবীর শান্তি হউক।। শান্তি হউক! শান্তি হউক! শান্তি হউক!

(১২)
অধঃ পশ্যস্ব মোপরি সন্তরাং পদকৌ হর।মা তে কশপ্লকৌ দষান্তস্রীহি ব্রক্ষা ভুবিথ।। (ঋগ্বেদ ৮.৩৩.১৯)

অর্থঃ হে পুরুষ ও নারী তোমাদের দৃষ্টি সবসময় হোক ভদ্র ও অবনত। তোমাদের চলন হোক সংযত,দেহ হোক পোষাকে আবৃত, নগ্নতা হোক পরিত্যজ্য।

ওঁম শান্তি শান্তি শান্তি।।

Address

Dhaka
1100

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Bangladesh Hindu Parishad BHP posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share