আধ্যাত্মিকতায় সনাতন ধর্ম

  • Home
  • Bangladesh
  • Dhaka
  • আধ্যাত্মিকতায় সনাতন ধর্ম

আধ্যাত্মিকতায় সনাতন ধর্ম Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from আধ্যাত্মিকতায় সনাতন ধর্ম, 3455 Raod, Dhaka.

17/07/2026

অহরহ অউম জপের ফলে আয়ু বৃদ্ধি হয়'—এই বাক্যটি ভারতীয় দর্শনের প্রেক্ষাপটে একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ আধ্যাত্মিক ও বৈজ্ঞানিক সত্য। সাংখ্য-যোগ ও বৈশেষিক দর্শনের আলোকে বাক্যটির প্রামাণিকতা নিচে বিশদভাবে আলোচনা করা হলো:

১. সাংখ্য ও যোগ মতে প্রামাণিকতাসাংখ্য ও যোগ দর্শন মূলত আধ্যাত্মিক চেতনা এবং চিত্তবৃত্তির নিরোধের ওপর গুরুত্বারোপ করে।

প্রাণবের মহিমা: যোগ দর্শনের প্রণেতা পতঞ্জলি তাঁর যোগসূত্রে বলেছেন—"তস্য বাচকঃ প্রণবঃ" (যোগসূত্র - ১/২৭)। অর্থাৎ, 'ওম' বা 'প্রণব' হলো স্বয়ং পরমেশ্বরের বা ঈশ্বরবাচক শব্দ। যোগ মতে, এই ওঙ্কার জপের মাধ্যমে চিত্তের একাগ্রতা বাড়ে।

প্রাণায়াম ও আয়ু বৃদ্ধি: অউম বা ওঙ্কার জপের সময় শ্বাস-প্রশ্বাসের গতি ধীর ও নিয়ন্ত্রিত হয়। যোগশাস্ত্রে বলা হয়েছে—"চলতি বাতে চলং চিত্তং নিশ্চলে নিশ্চলো ভবেৎ"। শ্বাস ধীর হলে মন শান্ত হয় এবং আয়ু বৃদ্ধি পায়।

ভৌতিক প্রভাব: নিয়মিত ওম জপের ফলে মস্তিষ্কে গভীর কম্পন তৈরি হয়, যা স্নায়ুতন্ত্রকে শান্ত করে এবং স্ট্রেস বা মানসিক চাপ হ্রাস করে। শারীরিক ও মানসিক চাপমুক্তির মাধ্যমে সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু লাভ ঘটে।

২. বৈশেষিক মতে প্রামাণিকতাঃ মহর্ষি কণারাদৃষ্ট বৈশেষিক দর্শন মূলত পদার্থবাদী ও পরমাণু কেন্দ্রিক। তবে বৈশেষিক দর্শনও আধ্যাত্মিক উৎকর্ষ ও মোক্ষকে স্বীকার করে।

শব্দের উৎপত্তি: বৈশেষিক মতে, 'শব্দ' হলো আকাশের গুণ। 'ওম' একটি পবিত্র ধ্বনি, যার উচ্চারণে মহাজাগতিক স্পন্দন সৃষ্টি হয়।

কর্ম ও ধর্মের সংযোগ: বৈশেষিক দর্শনের অন্যতম মূল ভিত্তি হলো 'ধর্ম'। এমন কর্ম যা অভ্যুদয় (ইহকালীন উন্নতি ও দীর্ঘায়ু) এবং নিঃশ্রেয়স (মোক্ষ) প্রদান করে, তা প্রামাণিক। অহরহ অউম জপের মতো সাত্ত্বিক কর্ম মনকে কলুষমুক্ত করে এবং শরীর ও মনের মধ্যে একটি সুষম সামঞ্জস্য তৈরি করে।

আত্মার গুণ: বৈশেষিক দর্শনে মন হলো একটি 'অণু' বা অতিসূক্ষ্ম দ্রব্য এবং অন্তঃকরণ। ওম জপের ফলে উৎপন্ন ইতিবাচক ধ্বনিতরঙ্গ মনের ওপর প্রভাব ফেলে।

বৈশেষিক মতে, শুদ্ধ মনের একাগ্রতা ও সুস্বাস্থ্য আত্মার স্থায়িত্ব ও সুস্থতার পথ সুগম করে।

সারসংক্ষেপ:আধুনিক বিজ্ঞানও প্রমাণ করেছে যে, ও৩ম্ জপ করলে মানবদেহের প্যারাসিমপ্যাথেটিক নার্ভাস সিস্টেম সক্রিয় হয়, রক্তচাপ স্বাভাবিক থাকে এবং হৃদযন্ত্র ভালো থাকে।

সুতরাং, সাংখ্য-যোগের মনস্তাত্ত্বিক নিয়ন্ত্রণ এবং বৈশেষিক দর্শনের মহাজাগতিক ধ্বনিতত্ত্বের ভিত্তিতে 'অহরহ অউম জপের ফলে আয়ু বৃদ্ধি হয়'—এই বাক্যটি সম্পূর্ণ প্রামাণিক ও বিজ্ঞানসম্মত।

11/07/2026

MCQ বৈশেষিক দর্শন
১. বৈশেষিক দর্শনের প্রণেতা কে?
ক) গৌতম
খ) কপিল
গ) কণাদ
ঘ) পতঞ্জলি
উত্তর: গ) কণাদ

২. বৈশেষিক দর্শনের মূল গ্রন্থটির নাম কী?
ক) ন্যায়সূত্র
খ) বৈশেষিক সূত্র
গ) সাংখ্যসূত্র
ঘ) বেদান্তসূত্র
উত্তর: খ) বৈশেষিক সূত্র

৩. বৈশেষিক দর্শনের আলোচ্য প্রধান বিষয় কী?
ক) কর্ম
খ) আত্মা
গ) পদার্থসমূহ
ঘ) ঈশ্বর
উত্তর: গ) পদার্থসমূহ

৪. বৈশেষিক মতে পদার্থের সংখ্যা কত?
ক) ৫টি
খ) ৬টি
গ) ৭টি
ঘ) ৯টি
উত্তর: খ) ৬টি

৫. বৈশেষিক দর্শনে স্বীকৃত দ্রব্য কয়টি?
ক) ৭টি
খ) ৮টি
গ) ৯টি
ঘ) ১০টি
উত্তর: গ) ৯টি

৬. নিম্নলিখিত কোনটি বৈশেষিক স্বীকৃত দ্রব্য নয়?
ক) ক্ষিতি
খ) তেজ
গ) আকাশ
ঘ) শব্দ
উত্তর: ঘ) শব্দ

৭. 'দ্রব্য' শব্দের আশ্রয়স্থল হলো?
ক) গুণ ও কর্ম
খ) অভাব
গ) সামান্য
ঘ) বিশেষ
উত্তর: ক) গুণ ও কর্ম

৮. বৈশেষিক সূত্রানুসারে গুণ কয় প্রকার?
ক) ১৭টি
খ) ২০টি
গ) ২৪টি
ঘ) ১০টি
উত্তর: ক) ২৪টি

৯. কর্মের প্রধান বৈশিষ্ট্য কী?
ক) নিশ্চলতা
খ) গতি বা চলন
গ) স্থিতিশীলতা
ঘ) উৎপত্তি
উত্তর: খ) গতি বা চলন

১০. বৈশেষিক দর্শনে 'সামান্য' কী?
ক) জাতিগত ধর্ম
খ) বিশেষত্ব
গ) নিত্য গুণ
ঘ) উৎপত্তিহীন বস্তু
উত্তর: ক) জাতিগত ধর্ম

১১. বৈশেষিক মতে 'বিশেষ' পদার্থের কাজ কী?
ক) সংযোগ করা
খ) পার্থক্য নির্ণয়
গ) গতি দেওয়া
ঘ) জ্ঞান লাভ
উত্তর: খ) পার্থক্য নির্ণয়

১২. সমবায় সম্পর্কটি কী ধরনের?
ক) ক্ষণস্থায়ী
খ) সংযোগ
গ) নিত্য সম্বন্ধ
ঘ) কাল্পনিক
উত্তর: গ) নিত্য সম্বন্ধ

১৩. দ্বিতীয় অধ্যায়ে প্রধানত কিসের স্বরূপ আলোচিত হয়েছে?
ক) অভাব
খ) আত্মা
গ) বাহ্য ভূতসমূহ বা দ্রব্য
ঘ) গুণ
উত্তর: গ) বাহ্য ভূতসমূহ বা দ্রব্য

১৪. ক্ষিতি বা পৃথিবীর বিশেষ গুণ কী?ক) রূপ
খ) রস
গ) গন্ধ
ঘ) স্পর্শ
উত্তর: গ) গন্ধ

১৫. জলের বিশেষ গুণ কোনটি?
ক) রূপ
খ) রস
গ) গন্ধ
ঘ) স্পর্শ
উত্তর: খ) রস

১৬. তেজের (আলোক) প্রধান গুণ কী?
ক) শব্দ
খ) রূপ
গ) গন্ধ
ঘ) স্পর্শ
উত্তর: খ) রূপ

১৭. বায়ুর প্রধান গুণ কী?
ক) শব্দ
খ) রূপ
গ) স্পর্শ
ঘ) রস
উত্তর: গ) স্পর্শ

১৮. আকাশের (ইথার) বিশেষ গুণ কোনটি?
ক) শব্দ
খ) রূপ
গ) স্পর্শ
ঘ) গন্ধ
উত্তর: ক) শব্দ

১৯. আকাশ কি বিভক্ত করা যায়?
ক) হ্যাঁ
খ) না, এটি এক ও অখণ্ড
গ) কেবল সকালে
ঘ) কেবল রাতে
উত্তর: খ) না, এটি এক ও অখণ্ড

২০. বৈশেষিক মতে দিক কয়টি?
ক) ১টি খ
খ) ২টি
গ) ৪টি
ঘ) ৯টি
উত্তর: ক) ১টি

২১. কাল কি সর্বব্যাপী?
ক) হ্যাঁ
খ) না
গ) নির্দিষ্ট স্থানে সীমাবদ্ধ
ঘ) কেবল দিনের বেলায়
উত্তর: ক) হ্যাঁ

২২. ‘যাহা হইতে উৎপত্তি এবং যাহাতে লয় হয়’— সেটি হলো?
ক) কারণ
খ) কার্য
গ) গুণ
ঘ) বিশেষ
উত্তর: ক) কারণ

২৩. বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে বৈশেষিক দর্শনের ভিত্তি কী?
ক) অনুমান
খ) ঈশ্বরতত্ত্ব
গ) পরমাণুবাদ
ঘ) মায়াবাদ
উত্তর: গ) পরমাণুবাদ

২৪. কোন ভূতকে বাহ্যেন্দ্রিয় দ্বারা সরাসরি গ্রহণ করা যায় না?
ক) পৃথিবী
খ) জল
গ) আকাশ
ঘ) বায়ু
উত্তর: গ) আকাশ

২৫. তৃতীয় অধ্যায়ে প্রধানত কিসের পরীক্ষা করা হয়েছে?
ক) আত্মা ও মন
খ) আকাশ ও কাল
গ) কর্ম ও কারণ
ঘ) পরমাণু
উত্তর: ক) আত্মা ও মন

২৬. বৈশেষিক দর্শনে মনকে কী বলা হয়েছে?
ক) বাহ্য ইন্দ্রিয়
খ) অন্তঃকরণ
গ) আত্মা
ঘ) কারণ
উত্তর: খ) অন্তঃকরণ

২৭. আত্মার অস্তিত্ব প্রমাণের জন্য বৈশেষিকরা কোন বিষয়টিকে প্রমাণ হিসেবে ধরেন?
ক) শ্বাসপ্রশ্বাস
খ) ইচ্ছা ও দ্বেষ
গ) বাহ্যিক জ্ঞান
ঘ) সৃষ্টিতত্ত্ব
উত্তর: খ) ইচ্ছা ও দ্বেষ

২৮. মন কি পরমাণুর ন্যায় সূক্ষ্ম?
ক) হ্যাঁ
খ) না
গ) মাঝারি
ঘ) বিশাল
উত্তর: ক) হ্যাঁ

২৯. সুখ ও দুঃখ হলো আত্মার কী?
ক) দ্রব্য
খ) কর্ম
গ) গুণ
ঘ) বিশেষ
উত্তর: গ) গুণ

৩০. আত্মাকে জানার জন্য কিসের প্রয়োজন?
ক) শাস্ত্রীয় জ্ঞান
খ) ঈশ্বর প্রার্থনা
গ) মনের সংযোগ
ঘ) যোগাভ্যাস
উত্তর: গ) মনের সংযোগ

৩১. অনুমান কী?
ক) প্রত্যক্ষ জ্ঞান
খ) লৈঙ্গিক বা হেতু জ্ঞান
গ) স্মৃতি
ঘ) কল্পনা
উত্তর: খ) লৈঙ্গিক বা হেতু জ্ঞান

৩২. বৈশেষিক মতে প্রত্যক্ষ প্রমাণ কয়টি?
ক) ১টি
খ) ২টি
গ) ৩টি
ঘ) ৪টি
উত্তর: খ) ২টি (যোগজ ও অযোগজ)

৩৩. 'লিঙ্গ' শব্দের অর্থ বৈশেষিক দর্শনে কী?
ক) পুরুষবাচক শব্দ
খ) হেতুবাক্য
গ) অনুমানের লক্ষণ বা হেতু
ঘ) আত্মা
উত্তর: গ) অনুমানের লক্ষণ বা হেতু

৩৪. বৈশেষিক দর্শনে জ্ঞানের উৎস কয়টি স্বীকৃত?
ক) ১টি
খ) ২টি
গ) ৩টি
ঘ) ৪টি
উত্তর: খ) ২টি (প্রত্যক্ষ ও অনুমান)

৩৫. আত্মা কি পরিব্যাপ্ত বা অসীম?
ক) হ্যাঁ, সর্বব্যাপী
খ) অণু পরিমাণ
গ) মন সদৃশ
ঘ) পরিবর্তনশীল
উত্তর: ক) হ্যাঁ, সর্বব্যাপী

৩৬. মানুষের দেহ ও আত্মা কি এক?ক) হ্যাঁ
খ) না, দুটি ভিন্ন সত্তা
গ) ক্ষণস্থায়ী
ঘ) সমবায় সম্পর্কযুক্ত
উত্তর: খ) না, দুটি ভিন্ন সত্তা

¤ ৩৭. চতুর্থ অধ্যায়ে কোন বিষয়ের ওপর বেশি আলোকপাত করা হয়েছে?
ক) শরীর ও তার উপাদান
খ) মুক্তি
গ) ধর্ম ও অধর্ম
ঘ) ঈশ্বরের স্বরূপ
উত্তর: ক) শরীর ও তার উপাদান

৩৮. শরীরের উৎপত্তি কোথা থেকে হয়?
ক) আত্মা
খ) পঞ্চভূত
গ) কর্ম
ঘ) পরমাণু
উত্তর: খ) পঞ্চভূত
৩৯. পরমাণু কি ধ্বংসশীল?
ক) হ্যাঁ
খ) না, এটি নিত্য
গ) আগন্তুক
ঘ) কেবল প্রলয়ে ধ্বংস হয়
উত্তর: খ) না, এটি নিত্য

৪০. বৈশেষিক মতে জগতের উপাদান কারণ কী?
ক) ঈশ্বর
খ) পরমাণু
গ) প্রকৃতি
ঘ) মায়া
উত্তর: খ) পরমাণু

৪১. অণু হলো জগতের?
ক) কার্য
খ) চরম ও পরম সূক্ষ্ম কারণ
গ) গুণ
ঘ) ঈশ্বর
উত্তর: খ) চরম ও পরম সূক্ষ্ম কারণ

৪২. অণু বা পরমাণুর কোনো অবয়ব বা অংশ আছে কি?
ক) আছে
খ) নেই
গ) পরিবর্তনশীল
ঘ) ক্ষণস্থায়ী
উত্তর: খ) নেই

৪৩. ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বস্তু বলতে কী বোঝায়?
ক) অণু
খ) আত্মা
গ) স্থূল বা দৃশ্যমান বস্তু
ঘ) শূন্যতা
উত্তর: গ) স্থূল বা দৃশ্যমান বস্তু

৪৪. মানুষের শরীর কয়টি ভূতের সমবায়ে গঠিত?
ক) ২টি
খ) ৪টি
গ) ৫টি
ঘ) ৯টি
উত্তর: গ) ৫টি (ক্ষিতি, অপ, তেজ, মরুত, ব্যোম)

৪৫. দৃশ্যমান জগতের সৃষ্টি কীভাবে হয়?
ক) পরমাণুর সংযোগে
খ) আকাশের সৃষ্টি
গ) ঈশ্বর ইচ্ছায়
ঘ) অদ্বৈত সত্তা
উত্তর: ক) পরমাণুর সংযোগে

৪৬. পরমাণু কি খালি চোখে দেখা যায়?
ক) হ্যাঁ
খ) না
গ) আলোতে দেখা যায়
ঘ) অণুবীক্ষণ যন্ত্রে দেখা যায়
উত্তর: খ) না

৭. শরীরের স্থায়িত্ব কিসের ওপর নির্ভরশীল?
ক) আত্মার উপস্থিতি
খ) কর্ম
গ) পরমাণুর গঠন
ঘ) ঈশ্বরের কৃপা
উত্তর: ক) আত্মার উপস্থিতি

৪৮. 'ত্র্যণুক' বলতে বৈশেষিক দর্শনে কী বোঝায়?
ক) একটি পরমাণু
খ) তিনটি দ্ব্যণুক)
গ) তিনটি ত্র্যণুকের সমষ্টি
ঘ) শূন্য স্থান
উত্তর: খ) তিনটি দ্ব্যণুক এর সমষ্টি

৪৯. পঞ্চম অধ্যায়ে প্রধানত কিসের বিচার করা হয়েছে?
ক) ধর্ম
খ) কর্ম
গ) অভাব
ঘ) সামান্য
উত্তর: খ) কর্ম

৫০. বৈশেষিক দর্শনে কর্ম কয় প্রকার?ক) ২ প্রকার
খ) ৩ প্রকার
গ) ৪ প্রকার
ঘ) ৫ প্রকার
উত্তর: ঘ) ৫ প্রকার

৫১. নিম্নের কোনটি বৈশেষিক স্বীকৃত কর্ম নয়?
ক) উৎক্ষেপণ
খ) অবক্ষেপণ
গ) আকর্ষণ
ঘ) কুঞ্চন
উত্তর: গ) আকর্ষণ

৫২. উৎক্ষেপণ বলতে কী বোঝায়?
ক) উপরে নিক্ষেপ করা
খ) নিচে ফেলা
গ) বাঁকা করা
ঘ) ছড়ানো
উত্তর: ক) উপরে নিক্ষেপ করা

৫৩. অবক্ষেপণ কী?
ক) উপরের দিকে ওঠা
খ) নিচের দিকে ফেলা
গ) সোজাসুজি হাঁটা
ঘ) প্রসারিত করা
উত্তর: খ) নিচের দিকে ফেলা

৫৪. কুঞ্চন কর্মের অর্থ কী?
ক) সঙ্কুচিত বা ছোট হওয়া
খ) প্রসারিত হওয়া
গ) গলে যাওয়া
ঘ) মিশ্রিত হওয়া
উত্তর: ক) সঙ্কুচিত বা ছোট হওয়া

৫৫. প্রসারণ কর্মের অর্থ কী?
ক) সঙ্কুচিত হওয়া
খ) ছড়ানো বা লম্বা হওয়া
গ) স্থির থাকা
ঘ) উপড়ে ফেলা
উত্তর: খ) ছড়ানো বা লম্বা হওয়া

৫৬. গমন কর্মের মূল অর্থ কী?
ক) এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাওয়া খ) দাঁড়ানো
গ) চিন্তা করা
ঘ) বসা
উত্তর: ক) এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাওয়া

৫৭. কর্মের কারণ কী?
ক) ঈশ্বর
খ) গুণ
গ) সংযোগ ও বেগ
ঘ) আত্মা
উত্তর: গ) সংযোগ ও বেগ

৫৮. মন ও দেহের মধ্যে কর্ম কীভাবে সংঘটিত হয়?
ক) মনের ইচ্ছার দ্বারা বেগের সৃষ্টি হলে খ) ঈশ্বরের ইচ্ছায়
গ) স্বভাবতই
ঘ) শূন্যে
উত্তর: ক) মনের ইচ্ছার দ্বারা বেগের সৃষ্টি হলে

৫৯. জীবের ইচ্ছাকৃত কাজের মূল ভিত্তি কী?
ক) ঈশ্বর আদেশ
খ) কর্মফল
গ) বাহ্যিক প্রলোভন
ঘ) সংস্কার
উত্তর: খ) কর্মফল

৬০. কর্ম কি গুণ বা অন্য কোনো পদার্থের মধ্যে থাকতে পারে?
ক) হ্যাঁ
খ) না, এটি কেবল দ্রব্যের ধর্ম
গ) সর্বদা
ঘ) কখনো কখনো
উত্তর: খ) না, এটি কেবল দ্রব্যের ধর্ম

৬১. ষষ্ঠ অধ্যায়ে প্রধানত কী বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে?
ক) কর্মফল
খ) ধর্ম ও অধর্ম
গ) ঈশ্বরতত্ত্ব
ঘ) পরমাণুবাদ
উত্তর: খ) ধর্ম ও অধর্ম

৬২. বৈশেষিক মতে 'ধর্ম' বলতে কী বোঝায়?
ক) ঈশ্বর পূজা
খ) শাস্ত্রীয় আচার
গ) শুভকর্ম বা নিবৃত্তি
ঘ) আত্মজ্ঞান
উত্তর: গ) শুভকর্ম বা নৈতিক দায়িত্ব

৬৩. 'অধর্ম' কী?
ক) পাপ বা অনৈতিক কর্ম
খ) নাস্তিকতা
গ) শারীরিক অসুস্থতা
ঘ) অজ্ঞতা
উত্তর: ক) পাপ বা অনৈতিক কর্ম

৬৪. ধর্ম ও অধর্ম মানুষের জীবনে কিসের কারণ হয়?
ক) জন্ম-মৃত্যুর
খ) সুখ ও দুঃখের
গ) মুক্তির
ঘ) জ্ঞানের
উত্তর: খ) সুখ ও দুঃখের

৬৫. বৈশেষিক দর্শনে আশ্রম ধর্ম কয়টি?
ক) ২টি
খ) ৩টি
গ) ৪টি
ঘ) ৫টি
উত্তর: গ) ৪টি

৬৬. দান বা সৎকর্ম করার উদ্দেশ্য বৈশেষিক সূত্রে কী বলা হয়েছে?
ক) ধর্মাচরণ বা অভ্যুদয়
খ) স্বর্গ লাভ
গ) ঈশ্বরের সন্তুষ্টি
ঘ) খ্যাতি অর্জন
উত্তর: ক) ধর্মাচরণ বা অভ্যুদয়

৬৭. গৃহস্থের প্রধান কর্তব্য কী?
ক) বনে ধ্যান করা
খ) অতিথিপরায়ণতা ও দান
গ) ঈশ্বর আরাধনা
ঘ) বেদ পাঠ
উত্তর: খ) অতিথিপরায়ণতা ও দান

৬৮. পঞ্চ মহাভূতের মধ্যে কোনটি প্রথম সৃষ্ট হয়?
ক) জল
খ) বায়ু
গ) তেজ
ঘ) ক্ষিতি
উত্তর: খ) বায়ু

৬৯. তপস্যা বা যোগের মাধ্যমে কিসের বিনাশ ঘটে?
ক) পাপ বা অধর্ম
খ) শরীরের
গ) আত্মার
ঘ) জাগতিক বস্তুর
উত্তর: ক) পাপ বা অধর্ম

৭০. মোক্ষ লাভের জন্য বৈশেষিক দর্শনে কিসের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে?
ক) জ্ঞান ও ধর্মাচরণ
খ) ঈশ্বর স্তুতি
গ) তীর্থ ভ্রমণ
ঘ) দান
উত্তর: ক) জ্ঞান ও ধর্মাচরণ

৭১. জীবের কল্যাণ সাধনের জন্য কী আবশ্যক?
ক) অহিংসা ও সৎকর্ম
খ) বেদ অধ্যয়ন
গ) তন্ত্র সাধনা
ঘ) যোগ
উত্তর: ক) অহিংসা ও সৎকর্ম

৭২. বৈজ্ঞানিক ও জাগতিক উন্নতি বৈশেষিক মতে কিসের ওপর প্রতিষ্ঠিত?
ক) ধর্মাচরণ
খ) ঐশ্বরিক সাহায্য
গ) আত্মার শক্তি
ঘ) শুধুমাত্র অনুমান
উত্তর: ক) ধর্মাচরণম

৭৩. সপ্তম অধ্যায়ে প্রধানত কোন বিষয় আলোচিত হয়েছে?
ক) গুণ ও সমবায়
খ) আত্মা
গ) আকাশ ও কাল
ঘ) অনুমান
উত্তর: ক) গুণ ও সমবায়

৭৪. বৈশেষিক মতে বেগের (বেগ নামক সংস্কারের) কারণ কী?
ক) কর্ম ও সংযোগ
খ) দ্রব্য ও গুণ
গ) কাল ও দিক
ঘ) পরমাণুর স্বভাব
উত্তর: ক) কর্ম ও সংযোগ

৭৫. দ্রব্যের মধ্যে গুণসমূহ কীভাবে অবস্থান করে?
ক) সংযোগ হিসেবে
খ) সমবায় সম্বন্ধে
গ) মিশে থাকে
ঘ) সম্পূর্ণ পৃথক হিসেবে
উত্তর: খ) সমবায় সম্বন্ধে

৭৬. আকার বা আয়তন বৈশেষিক দর্শনে কী নামে পরিচিত?
ক) রূপ খ) পরিমাণ
গ) স্পর্শ
ঘ) গন্ধ
উত্তর: খ) পরিমাণ

৭৭. 'সংযুক্তি' বলতে কী বোঝায়?
ক) দুই বা ততোধিক দ্রব্যের মিলন
খ) পরমাণুর ধ্বংস
গ) গুণ থেকে গুণ তৈরি
ঘ) আত্মা ও মন
উত্তর: ক) দুই বা ততোধিক দ্রব্যের মিলন

৭৮. 'বিভাগ' বলতে কী বোঝায়?
ক) দুটি বস্তুর সংযোগ বিচ্ছিন্নতা
খ) বস্তুর ধ্বংস
গ) আত্মার পার্থক্য
ঘ) বর্ণভেদ
উত্তর: ক) দুটি বস্তুর সংযোগ বিচ্ছিন্নতা

৭৯. 'পরত্ব' ও 'অপরত্ব' হলো গুণের কী?
ক) অবস্থা বা কাল নির্দেশক
খ) গতি
গ) সমবায়
ঘ) অভাব
উত্তর: ক) অবস্থা বা কাল নির্দেশক (দেশ ও কালের ভিত্তিতে দূরত্ব বা বয়স)

৮০. সমবায় সম্পর্কটি কেমন?
ক) ক্ষণস্থায়ী
খ) কার্য-কারণ ভিত্তিক নিত্য সম্বন্ধ
গ) অসম্ভব
ঘ) পরিবর্তনশীল
উত্তর: খ) কার্য-কারণ ভিত্তিক নিত্য সম্বন্ধ

৮১. বৈশেষিক সূত্রে 'মহত্ত্ব' কিসের গুণ
ক) দ্রব্যের
খ) কর্মের
গ) সামান্যের
ঘ) সমবায়ের
উত্তর: ক) দ্রব্যের

৮২. 'অণুত্ব' কি এক প্রকার গুণ?
ক) হ্যাঁ
খ) না, এটি দ্রব্য
গ) গতি
ঘ) বিশেষ
উত্তর: ক) হ্যাঁ, এটি পরিমাণের গুণ

৮৩. বুদ্ধি বা জ্ঞান কী?
ক) আত্মার গুণ
খ) দ্রব্যের গুণ
গ) কর্ম
ঘ) সামান্য
উত্তর: ক) আত্মার গুণ

৮৪. বৈশেষিক মতে সুখ ও দুঃখ কিসের রূপ?
ক) দ্রব্য
খ) কর্ম
গ) গুণ (আত্মার)
ঘ) বিশেষ
উত্তর: গ) গুণ (আত্মার)

৮৫. অষ্টম অধ্যায়ে কিসের প্রকাশ ও উৎস আলোচিত হয়েছে?
ক) জ্ঞান খ) পরমাণু
গ) ঈশ্বর
ঘ) আকাশ
উত্তর: ক) জ্ঞান

৮৬. জ্ঞানের উৎস কী?
ক) প্রত্যক্ষ
খ) প্রত্যক্ষ ও অনুমান
গ) ঈশ্বর কৃপা
ঘ) কেবল অনুমান
উত্তর: খ) প্রত্যক্ষ ও অনুমান

৮৭. কোন জ্ঞানকে প্রমা (সঠিক জ্ঞান) বলা হয়?
ক) যা সত্য ও যথার্থ
খ) যা কল্পনা
গ) যা স্বপ্নে দেখা হয়
ঘ) যা শোনা কথা
উত্তর: ক) যা সত্য ও যথার্থ

৮৮. 'অপ্রমা' বলতে কী বোঝায়?
ক) সঠিক জ্ঞান
খ) স্মৃতি
গ) ভ্রান্ত বা অসত্য জ্ঞান
ঘ) অনুমান
উত্তর: গ) ভ্রান্ত বা অসত্য জ্ঞান

৮৯. বৈজ্ঞানিক প্রত্যক্ষের জন্য কিসের প্রয়োজন?
ক) ইন্দ্রিয়ের সঙ্গে বস্তুর সংযোগ
খ) মনোযোগ
গ) ঈশ্বরের সাহায্য
ঘ) আত্মা ও মন
উত্তর: ক) ইন্দ্রিয়ের সঙ্গে বস্তুর সংযোগ

৯০. মনের দ্বারা কি সরাসরি কোনো দ্রব্য প্রত্যক্ষ করা যায়?
ক) হ্যাঁ
খ) না
গ) সুপ্ত অবস্থায়
ঘ) কেবল যোগীদের পক্ষে সম্ভব
উত্তর: খ) না (বাহ্য বস্তুর প্রত্যক্ষ ইন্দ্রিয়ের মাধ্যমে হয়)

৯১. বুদ্ধির বা জ্ঞানের দুটি ভাগ কী কী?
ক) প্রত্যক্ষ ও অনুমান
খ) বিদ্যা ও অবিদ্যা
গ) আত্মা ও মন
ঘ) প্রমা ও অপ্রমা
উত্তর: ক) প্রত্যক্ষ ও অনুমান

৯২. 'বিদ্যা' বলতে বৈশেষিক দর্শনে কী বোঝায়?
ক) সঠিক জ্ঞান
খ) শাস্ত্রীয় বিদ্যা
গ) মায়া
ঘ) অন্ধ বিশ্বাস
উত্তর: ক) সঠিক জ্ঞান

৯৩. 'অবিদ্যা' কী?
ক) মিথ্যা জ্ঞান বা সংশয়
খ) বেদ শিক্ষা
গ) কর্ম
ঘ) গুণ
উত্তর: ক) মিথ্যা জ্ঞান বা সংশয়

৯৪. বৈশেষিক দর্শনের জ্ঞানের আলোচনা প্রধানত কোন দর্শনের সমতুল্য?
ক) সাংখ্য
খ) ন্যায় দর্শন
গ) যোগ
ঘ) মীমাংসা
উত্তর: খ) ন্যায় দর্শন

৯৫. প্রত্যক্ষের ফলে কিসের উদ্ভব হয়?ক) কর্ম
খ) বস্তুর জ্ঞান বা বোধ
গ) স্মৃতি
ঘ) কল্পনা
উত্তর: খ) বস্তুর জ্ঞান বা বোধ

৯৬. মন ও আত্মার সংযোগ ব্যতীত কী সম্ভব নয়?
ক) শরীরের বৃদ্ধি
খ) কোনো প্রকার জ্ঞানের উৎপত্তি
গ) ধর্মাচরণ
ঘ) পরমাণুর সৃষ্টি
উত্তর: খ) কোনো প্রকার জ্ঞানের উৎপত্তি

৯৭. নবম অধ্যায়ে কোন পদার্থটি বিশেষভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে?
ক) অভাব
খ) সামান্য
গ) সমবায়
ঘ) আত্মা
উত্তর: ক) অভাব (Non-existence)

৯৮. বৈশেষিক মতে অভাব কয় প্রকার?
ক) ৩ প্রকার
খ) ৪ প্রকার
গ) ৫ প্রকার
ঘ) ৬ প্রকার
উত্তর: খ) ৪ প্রকার

৯৯. প্রাগভাব কী?
ক) সৃষ্টির পূর্বের অভাব
খ) ধ্বংসের পরের অভাব
গ) কোনো বস্তুর নিজের অভাব
ঘ) চিরকালের অভাব
উত্তর: ক) সৃষ্টির পূর্বের অভাব

১০০. ধ্বংসাভাব বলতে কী বোঝায়?ক) বস্তুর জন্মের অভাব
খ) বস্তু ধ্বংস হওয়ার পর তার অভাব গ) বস্তুর নিজস্ব অভাব
ঘ) বস্তুর গুণ
উত্তর: খ) বস্তু ধ্বংস হওয়ার পর তার অভাব

১০১. অত্যন্তাভাব কী?
ক) তিন কালের অভাব
খ) যে অভাব সবসময় ও সব জায়গায় থাকে (চিরকালের অভাব)
গ) কেবল দিনের বেলার অভাব
ঘ) অন্য বস্তুর অভাব
উত্তর: খ) যে অভাব সবসময় ও সব জায়গায় থাকে (চিরকালের অভাব)

১০২. অন্যোন্যাভাব কী?
ক) একটি বস্তুর অপর বস্তুরূপে না থাকার অভাব (যেমন- ঘটপটভেদ)
খ) চিরকালের অভাব
গ) ধ্বংসের অভাব
ঘ) সৃষ্টির অভাব
উত্তর: ক) একটি বস্তুর অপর বস্তুরূপে না থাকার অভাব (যেমন- ঘটপটভেদ)

১০৩. অভাব কি বৈশেষিক স্বীকৃত মূল পদার্থ?
ক) হ্যাঁ
খ) না (পরবর্তীকালের বৈশেষিকরা যুক্ত করেছেন)
গ) ঈশ্বর প্রদত্ত
ঘ) কেবল উপমা
উত্তর: খ) না (পরবর্তী অনুগামীরা যুক্ত করে মোট ৭টি পদার্থ করেছেন)

১০৪. জ্ঞান প্রত্যক্ষ হয় কীভাবে?
ক) অনুমানের মাধ্যমে
খ) ইন্দ্রিয়ের সঙ্গে বস্তুর সংযোগ
গ) ঈশ্বরের ইচ্ছায়
ঘ) কেবল মনের দ্বারা
উত্তর: খ) ইন্দ্রিয়ের সঙ্গে বস্তুর সংযোগ

১০৫. অতীত এবং ভবিষ্যতের জ্ঞান কী?
ক) প্রত্যক্ষ
খ) স্মৃতি ও অনুমান
গ) ভ্রান্ত জ্ঞান
ঘ) অভাবের জ্ঞান
উত্তর: খ) স্মৃতি ও অনুমান

১০৬. বৈশেষিক দর্শনে কি অতীন্দ্রিয় বস্তুর অস্তিত্ব স্বীকার করা হয়েছে?
ক) হ্যাঁ
খ) না
গ) শুধুমাত্র যোগীদের জন্য
ঘ) কাল্পনিক
উত্তর: ক) হ্যাঁ (যেমন পরমাণু ও আত্মা)

১০৭. অভাব কি কোনো দ্রব্য?
ক) হ্যাঁ
খ) না, এটি কেবল দ্রব্যের অবস্থা
গ) সর্বব্যাপী
ঘ) কর্মফল
উত্তর: খ) না, এটি কেবল দ্রব্যের অবস্থা

১০৮. অভাব পদার্থের জ্ঞান লাভের জন্য কিসের সাহায্য নেওয়া হয়?
ক) প্রত্যক্ষ ও অনুমান
খ) ঈশ্বর স্তুতি
গ) বেদ বাক্য
ঘ) কেবল চিন্তা
উত্তর: ক) প্রত্যক্ষ ও অনুমান

১০৯. দশম অধ্যায়ে কিসের পার্থক্যের বিচার করা হয়েছে?
ক) আত্মার বিভিন্ন গুণ ও কারণসমূহ খ) পদার্থের অভাব
গ) পরমাণুর প্রকারভেদ
ঘ) কর্ম
উত্তর: ক) আত্মার বিভিন্ন গুণ ও কারণসমূহ

১১০. সুখ ও দুঃখ কি একই সঙ্গে আত্মাতে থাকতে পারে?
ক) হ্যাঁ
খ) না (সুখ ও দুঃখ পরস্পরবিরোধী) গ) সম্ভব
ঘ) কেবল যোগীদের ক্ষেত্রে
উত্তর: খ) না (সুখ ও দুঃখ পরস্পরবিরোধী)

১১১. কারণ কত প্রকার হতে পারে?
ক) ১ প্রকার
খ) ২ প্রকার
গ) ৩ প্রকার
ঘ) ৪ প্রকার
উত্তর: গ) ৩ প্রকার (সমবায়ী, অসমবায়ী ও নিমিত্ত কারণ)

১১২. সমবায়ী কারণ কী?
ক) যেখানে কার্যটি সমবায় সম্বন্ধে থাকে (যেমন তুলার পিণ্ড)
খ) ঈশ্বরের ইচ্ছা
গ) সৃষ্টির অভাব
ঘ) কাজের বেগ
উত্তর: ক) যেখানে কার্যটি সমবায় সম্বন্ধে থাকে

১১৩. অসমবায়ী কারণ কী?
ক) যা সমবায়ী কারণের সঙ্গে যুক্ত থেকে কার্য সৃষ্টি করে (যেমন তন্তুর সংযোগ)
খ) শূন্যতা
গ) পরমাণু
ঘ) আত্মা
উত্তর: ক) যা সমবায়ী কারণের সঙ্গে যুক্ত থেকে কার্য সৃষ্টি করে

১১৪. নিমিত্ত কারণ কী?
ক) কার্য সৃষ্টির মূল কারণ বা কর্তা (যেমন তাঁতি)
খ) বস্তুর গুণ
গ) অভাব
ঘ) সামান্য
উত্তর: ক) কার্য সৃষ্টির মূল কারণ বা কর্তা

১১৫. কার্য ও কারণের সম্পর্ক বৈশেষিক দর্শনে কী?
ক) দুটি ভিন্ন জিনিস
খ) কার্যটি কারণের রূপান্তর ও কারণের মধ্যে অন্তর্নিহিত
গ) ক্ষণস্থায়ী
ঘ) ভ্রান্ত
উত্তর: খ) কার্যটি কারণের রূপান্তর ও কারণের মধ্যে অন্তর্নিহিত

১১৬. মানুষের স্মৃতি কিসের কারণে সৃষ্টি হয়?
ক) বাহ্য ইন্দ্রিয়
খ) সংস্কার ও মনের সংযোগ
গ) ঈশ্বরের ইচ্ছা
ঘ) ধর্মাচরণ
উত্তর: খ) সংস্কার ও মনের সংযোগ

১১৭. বৈশেষিক মতে মুক্ত বা মুক্তি কী?ক) স্বর্গে যাওয়া
খ) আত্মার সংস্কার দূর হওয়া ও দুঃখের আত্যন্তিক নিবৃত্তি
গ) ঈশ্বর লাভ
ঘ) নতুন জীবন লাভ
উত্তর: খ) আত্মার সংস্কার দূর হওয়া ও দুঃখের আত্যন্তিক নিবৃত্তি

১১৮. মুক্তি লাভের পর আত্মার কী অবস্থা হয়?
ক) আত্মা ধ্বংস হয়
খ) আত্মা গুণহীন ও কর্মহীন হয়ে নিজ রূপে অবস্থান করে
গ) ঈশ্বরতুল্য হয়
ঘ) পুনরায় জন্মগ্রহণ করে
উত্তর: খ) আত্মা গুণহীন ও কর্মহীন হয়ে নিজ রূপে অবস্থান করে

১১৯. মোক্ষ লাভের উপায় বৈশেষিক সূত্রে কী বলা হয়েছে?
ক) তাত্ত্বিক জ্ঞান ও ধর্মাচরণ
খ) বেদ পাঠ
গ) শুধুমাত্র যোগ
ঘ) ঈশ্বরের করুণা
উত্তর: ক) তাত্ত্বিক জ্ঞান ও ধর্মাচরণ

১২০. বৈশেষিক দর্শনের মূল লক্ষ্য বা পুরুষার্থ কী?
ক) অভ্যুদয় ও নিঃশ্রেয়স (সংসারের উন্নতি ও মোক্ষ লাভ)
খ) ঈশ্বর লাভ
গ) বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার
ঘ) প্রকৃতি জয়
উত্তর: ক) অভ্যুদয় ও নিঃশ্রেয়স

10/07/2026

বিষয়ঃ সৃষ্টির আদিতে ঘোর শব্দ ওম্ উচ্চািরত হয়ে, অব্যক্ত থেকে ব্যক্ত'—এই অসীম মহাবিশ্বের মহতত্বের বিস্তার এক পরম বিস্ময়।

জাগতিক প্রলয়ের পর প্রকৃতি যখন সুষুপ্তিতে (গভীর ঘুম বা লয়) থাকে, তখন দৃশ্যমান বা ব্যক্ত জগতের সবকিছু বিলীন হয়ে যায়। এ সময় কোনো নাম, রূপ বা বৈচিত্র্য থাকে না। দৃশ্যমান না থাকলেও মূলত নিম্নলিখিত বিষয়গুলো বা অবস্থাগুলো বিদ্যমান থাকে:-

১). মূলতত্ত্ব বা প্রকৃতি বা মায়াঃ জাগতিক রূপ ধ্বংস হলেও প্রকৃতির মূল উপাদান বা অব্যক্ত অবস্থা (যা থেকে সবকিছু সৃষ্টি হয়) টিকে থাকে। একে 'অব্যক্ত' বলা হয় এবং এটি কারণে লীন থাকে।
ঋগবেদ এর নাসাদিয়া সুক্তে সেই অব্যক্ত বলা হয়েছে-

নাসাদীয় সুক্ত
ন মৃত্যুরাসীদমৃতং ন তর্হি ন রাত্র্যা অহ্ন আসীৎ প্রকেতঃ। আনীদবাতং স্বধয়া তদেকং তস্মাদ্ধন্যন্নঃ পরঃ কিং চনাস।। ঋগ্বেদ১০/১২৯/২

ভাবার্থ- অর্থাৎ সৃষ্টির রচনার পূর্বে কোন জীবন,মৃত্যু, দিন, রাত্রি, চন্দ্র, সূর্য এমন কি সৃষ্টি, বিসৃষ্টিও কিছু জানার যোগ্য ছিল না শুধূ অবিচল স্থিতি ছিল। সেই সময় শক্তি (Energy) অবশ্যই ছিল। শক্তি দুই প্রকার সুপ্ত শক্তি(Protentiol Energy) ও গতিসঞ্জাত শক্তি(Kinetic energy) এ শক্তি গুলি তখন ক্রিয়াশীল ছিল না।

এই সুক্তই ঈশ্বর অব্যক্ত তার প্রমানঃ
ঋগ্বেদের দশম মণ্ডলের ১২৯তম সূক্ত বা নাসাদীয় সূক্ত-এর মূল দার্শনিক ভাবনার একটি চমৎকার ও আধুনিক বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গিসম্পন্ন ব্যাখ্যা। এই সূক্তটিকে বৈদিক দর্শনের অন্যতম আদিম ও সর্বোচ্চ সৃষ্টিতত্ত্ব বিষয়ক রচনা বলে মনে করা হয়।

উদ্ধৃত সুক্তের বিস্তারিত দার্শনিক ও বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা নিচে দেওয়া হলোঃ

ক). সৃষ্টির পূর্বে কোনকিছুর অস্তিত্বহীনতাঃ সূক্তের শুরুতেই বলা হয়েছে, সৃষ্টির পূর্বে (অব্যক্ত অবস্থায়) না ছিল 'সৎ' (অস্তিত্ব) না ছিল 'অসৎ' (অনস্তিত্ব)। অর্থাৎ, আজকের পরিচিত মহাবিশ্বের কোনো বস্তু, গ্রহ, নক্ষত্র, চন্দ্র বা সূর্য কিছুই ছিল না। জীবন ও মৃত্যু, এমনকি দিন ও রাত্রির ধারণাও তখন সম্পূর্ণ অনুপস্থিত ছিল। সবমিলিয়ে মহাবিশ্বের পুরো স্থান ও কাল তখনও পরম অব্যক্ত শূন্যতায় লীন ছিল।

খ). অবিচল স্থিতি ও সুপ্ত শক্তিঃ সেই প্রারম্ভিক সময়ে কোনো রূপ বা ক্রিয়াশীলতা ছিল না, কেবল ছিল এক "অবিচল স্থিতি"। বৈদিক দর্শনে একে 'তৎ একম্' বা অখণ্ড পরম সত্তা বলা হয়েছে। আধুনিক বিজ্ঞানের আলোকে যাকে সুপ্ত শক্তি এর সাথে তুলনা করা যায়। অর্থাৎ, মহাবিশ্ব সৃষ্টির সমস্ত উপাদান ও শক্তি তখন সুপ্ত বা অবিকশিত অবস্থায় মহাশূন্যে স্থিতিশীল ছিল।

গ). গতিসঞ্জাত শক্তি ও সৃষ্টির সূচনাঃ সেই সময়ে সুপ্ত শক্তি থাকলেও কোনো গতি বা ক্রিয়াশীলতা ছিল না। এরপর সেই অব্যক্ত অসীম সত্তা বা পরমাত্মায় এক গভীর একাগ্রতা বা ইচ্ছাশক্তি জাগ্রত হয়। বেদে এই ইচ্ছাশক্তি বা মহাজাগতিক তাপকে বলা হয়েছে 'তপস্'। এই মহাজাগতিক তাপ বা উত্তাপের ফলেই সুপ্ত শক্তি ক্রিয়াশীল গতিশক্তিতে রূপান্তরিত হয় এবং সৃষ্টির চাকা ঘুরতে শুরু করে।

ঘ). অব্যক্ত ঈশ্বরতত্ত্বঃ নাসাদীয় সূক্তে ঈশ্বরকে কোনো সাকার বা নির্দিষ্ট চরিত্র হিসেবে উপস্থাপন করা হয়নি, বরং তাঁকে 'অব্যক্ত' বা এক পরম অদ্বিতীয় শক্তি হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। বেদের ঋষিরা ধ্যানের মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছান যে, সৃষ্টির আদিতে কেবল এক অদ্বিতীয় শক্তিই স্বমহিমায় বিরাজমান ছিল, যাকে জাগতিক শব্দে পুরোপুরি ব্যাখ্যা করা অসম্ভব কারণ সব কিছুই অব্যক্ত ছিল।

২). গুণত্রয়ের সাম্যাবস্থাঃ প্রকৃতির তিনটি গুণ—সত্ত্ব, রজস ও তমঃ—কোনোটিই অন্যটির ওপর প্রাধান্য বিস্তার না করে সম্পূর্ণ সাম্যাবস্থায় বা নিষ্ক্রিয় অবস্থায় অবস্থান করে।
এর প্রমান ঋগ্বেদের নিম্নের সুক্তে প্রমাণ করে--

অসি যমো অস্যাদিত্যো অর্বন্নসি ত্রিতো গূহ্যেন ব্রতেন। অসি সোমেন সময়া বিপূক্ত আহূস্তে ত্রীণি দিবি বন্ধনানি। ঋগবেদ (১/১৬৩/৩)
ভাবার্থঃ- হে নিয়ন্ত্রনকারী পরমাত্মা! তুমি আদিত্য অর্থাৎ চমকদার প্রকাশমান্, তুমি " অর্বন" অর্থাৎ তেজের তীব্র প্রভাব ভীতর থেকে গুপ্তরূপে গঠিত ছিলে যাহা প্রথমে সাম্য অবস্থায় ছিলে, তখন পরমাণু সমীপ সমীপ ছিল কিন্তু পৃথক ছিলেন। কিন্তু অর্বন নামক পরমাত্মার তেজ দ্বারা তাহার সাম্য আবস্থা ভঙ্গ হল তাহা দ্বারা তিন দিব্য গুণ, ইলেক্সট্রন, প্রোটন, নিউটন, অর্থাৎ সত্ব, রজ, তম গুণ মুক্ত হয়ে গেল। এবং পরমাণুর কার্য হতে অহংকারাদি সৃষ্টি হল।।

উদ্ধৃত সুক্তের বিস্তারিত আধ্যাত্মিক, বৈজ্ঞানিক ও দার্শনিক ব্যাখ্যার সারসংক্ষেপ। এতে ঈশ্বরের ত্রিগুণাত্মক মহাশক্তি ভঙ্গ ও পরমাণুর বিকাশের মাধ্যমে বিশ্ব সৃষ্টির চমৎকার রূপক তুলে ধরা হয়েছেঃ-

ক). গুণের সাম্যাবস্থা বা অব্যক্ত অবস্থাঃ সৃষ্টির পূর্বে মহাবিশ্ব এক পরম শান্ত ও সাম্য অবস্থায় ছিল। বৈদিক ও সাংখ্য দর্শন অনুযায়ী, এই অবস্থায় প্রকৃতির তিনটি গুণ (সত্ত্ব, রজ ও তম) পুরোপুরি ভারসাম্যপূর্ণ ও সুপ্ত ছিল। অণু বা পরমাণুগুলি কাছাকাছি থাকলেও পৃথক এবং নিশ্চল ছিল—যেহেতু তখন কোনো কার্য বা রূপ প্রকাশিত হয়নি।

খ). আদি শক্তির প্রকাশ তথা আদিত্য ও অর্বনঃ এই সুপ্ত অবস্থার কেন্দ্রে ছিলেন পরমাত্মা, যিনি আদিত্য (স্বয়ংপ্রকাশমান) এবং অর্বন (যার মধ্যে অনন্ত তেজ গুপ্তরূপে বিদ্যমান ছিল)। অর্বন বলতে সেই আদিম মহাজাগতিক স্পন্দন, তাপ বা শক্তিকে বোঝানো হয়েছে যা সৃষ্টির সূচনা করে।

গ). সাম্যাবস্থা ভঙ্গ ও মূল কণিকার উৎপত্তিঃ পরমাত্মার সেই অসীম তেজের প্রভাবে গুণের সাম্যাবস্থা বা ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায়। এই বিচ্ছেদের ফলে তিনটি দিব্য গুণ বা কণার উদ্ভব ঘটেঃ-

¤ তমঃ গুণ হলো নিষ্ক্রিয়তা, যা পরমাণুর কেন্দ্রে অবস্থিত ভর বা নিউট্রন (Neutron)-এর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।

¤ রজঃ গুণ হলো গতি ও আধান, যা প্রোটন (Proton)-এর ধনাত্মক শক্তির প্রকাশক।

¤ সত্ত্ব গুণ হলো প্রকাশ ও ভারসাম্য, যা বিদ্যুৎধর্মী ও গতিশীল ইলেকট্রন (Electron)-এর প্রতীক।

ঘ). অহংকার ও স্থূল সৃষ্টির উৎপত্তিএই তিনটি মূল কণার মিথস্ক্রিয়া বা কার্যকারিতার ফলেই মহাবিশ্ব সৃষ্টির পরবর্তী ধাপ 'অহংকার'
(individualized cosmic ego) এবং অন্যান্য সূক্ষ্ম ও স্থূল উপাদানের সৃষ্টি হয়।

৩). পরমাত্মা বা কারণ-পুরুষঃ প্রলয়ের সময় এই দৃশ্যমান প্রকৃতি স্বয়ং সম্পূর্ণ পরমাণুতে বিলীন হলেও এর স্রষ্টা বা পরমাত্মা কারণে থাকেন। ঋগবেদের নিম্নের উল্লেখিত সুক্তে এর প্রমাণঃ-

যদক্রন্দঃ প্রথমং জায়মান উদ্যন্ৎসমুদ্রাদুত বা পুরীষাত্। শয়েনস্য পক্ষা হরিণস্য বাহু উপস্তুত্যং মহি জাতং তে অর্বন্।।
(ঋগ্বেদ- ১/১৬৩/১)।।

ভাবার্থঃ সৃষ্টির প্রথম অবস্থায় তীব্র বেগযুক্ত পংখ তথা হিরণের ন্যায় শ্বেত জ্যোতি[ যাহা পরমাত্মার তেজ বলা হয়] তাহা অন্তরিক্ষ নামক বিশাল সমুদ্রে চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ল।[ বিজ্ঞানের ভাষায় যাহাকে cosmic ray এর স্ফূরণ বলা হয়] তখন ঘোর শব্দ ওম্ উচ্চািরত হচ্ছিল। এই তেজ হতে মহতত্ব জাত হইল। মহতত্ব মানে বুদ্ধিতত্ব।। এই মহতত্ব হতে পরমানু সমুহের মধ্যে সত্ব তম রজ গুনের ধারা প্রবাহিত হয়ে সাম্য অবস্থা ভঙ্গ করল এবং তীব্র আকর্ষ বিকর্ষণ আরম্ভ হল। অর্থাৎ ইলেক্সট্রন, প্রোটণ, নিউটন এই তিনের কার্য পরমানুকে অতিষ্ঠ করে তুলল। এভাবে হে" অর্বন" (জ্ঞানস্বরূপ পরমাত্মা) পূর্ব সৃষ্টিতে তিন পদার্থের কার্য দাতা আপনিই স্তুতি পাইবার যোগ্য ছিলেন।।

ঈশ্বরই যে সৃষ্টির মূল নিয়ত কারণ, তা নিচে সংক্ষেপে তুলে ধরা হলোঃ

ক). মহাজাগতিক আলোর উৎসঃ সৃষ্টির আদিতে পরমাত্মার তেজ বা শ্বেত জ্যোতি (যা বিজ্ঞানে Cosmic Ray বা মহাজাগতিক রশ্মির স্ফূরণ) মহাকাশে ছড়িয়ে পড়েছিল এবং 'ওম্' ধ্বনি সৃষ্টি হয়েছিল।

খ). মহতত্ব বা বুদ্ধিতত্বঃ সেই ঐশ্বরিক তেজ থেকেই মহতত্ব বা বুদ্ধিতত্বের জন্ম হয়।

গ). প্রকৃতির ভারসাম্যহীনতা ও সৃষ্টিঃ এই মহতত্ব ত্রিগুণাত্মক (সত্ত্ব, তমঃ ও রজঃ) প্রকৃতির সাম্য অবস্থা ভঙ্গ করে পরমাণুসমূহের মধ্যে তীব্র আকর্ষণ ও বিকর্ষণ (ইলেকট্রন, প্রোটন ও নিউট্রনের ক্রিয়া) শুরু করে, যা দৃশ্যমান জগতের ভিত্তি।

ঘ). নিয়ন্ত্রণ ও স্তুতিঃ জ্ঞানস্বরূপ পরমাত্মা (অর্বন) এই ত্রিগুণাত্মক শক্তিতে অধিষ্ঠিত থেকে সম্পূর্ণ সৃষ্টি প্রক্রিয়া ও কার্য পরিচালনা করেন।সুতরাং, বৈজ্ঞানিক ও আধ্যাত্মিক সমন্বয়ে ঈশ্বরই একমাত্র মহাশক্তি, যাঁর প্রেরণায় প্রকৃতির সমস্ত কার্য পরিচালিত হয় এবং তিনি সকল স্তুতির যোগ্য, কারণ তিনিই এই অসীম মহাবিশ্বের নিয়ত কারণ।

৪). কর্ম ও সৃষ্টির বীজঃ পরবর্তী সৃষ্টির জন্য সমস্ত জীবের কর্মফল এবং সম্ভাব্য সৃষ্টিজগৎ বীজ আকারে এই সুপ্ত প্রকৃতির উপাদান পরমাণুর মাঝেই নিহিত থাকে, এর থেকেই এই অসীম মহাবিশ্বের সমস্ত সৃষ্টি।
এর প্রমান ঋগ্বেদের নিম্নের সুক্তে প্রমাণ করে--

যমেন দত্তং ত্রিত্ত এনমাষুনগিন্দ্র এণং প্রথমো অধাতিষ্ঠৎ।
গন্ধর্বো অস্য রশনামগূভ্ণাৎ সূরাদশ্বং বসবো নিরতষ্ট।। ঋগবেদ (১/১৬৩/২)

ভাবার্থঃ- পরমাত্মা কর্তৃক প্রদত্ত শক্তিকে ত্রিগুনাত্ম শক্তি অধিষ্ঠিত হল। প্রথম ইন্দ্র অর্থাৎ বিদ্যুৎ জ্যোতি এই শক্তিকে অধিষ্ঠিত করেছিল। অর্থাৎ পরমাত্মা সেই ত্রিগুনাত্মক প্রকৃতিতে অধিষ্ঠিত হয়ে গেল। সাম্যঅবস্থায় পরমাণু সেই পরমাত্মার সামান্য লাগামরূপ জ্যোতিকে গ্রহন করেছিল অর্থাৎ cosmic ray এর একটা অংশ মূল প্রকৃতির উপর ঝাটকে পড়ে এবং তাহা পরমাত্মার লাগাম স্বরূপ সৃষ্টিকার্য আরম্ভ করে দেয়।।

এই কথার অভিপ্রায় এই যে, পরমাত্মার তেজ পরামাণুর উপর অধিষ্ঠিত হয়ে গেল এবং তাহাকে লাগাম মানিয়া পরমাণু তাহা গ্রহন করিল। যে ভাবে ঘোড়ার মুখে লাগাম পড়ানো হয় এবং এই লাগামই ঘোড়াকে মার্গ দর্শন করায় ঠিক তদ্রুপ পরামাণুদের ক্ষেত্রে ও তেমন ঘটল। সেই পরমানুতে সত্ব, রজ, তম গুণ নিজেদের বদলাতে লাগিল। এই সত্ব নাম ইলেক্সট্রন, রজ নাম প্রোটণ, এবং তম নাম নিউটন পরমাণুর অভ্যান্তরীন শক্তি থেকে বহির্মূখ হয়ে সৃষ্টি কার্য আরম্ভ করল।।

উদ্ধৃত সুক্তের বিস্তারিত সৃষ্টির কর্মবীজ ও উপাদানের সংক্ষিপ্তসার নিচে দেওয়া হলোঃ-

ক). সৃষ্টির কর্মবীজ তথা মূল প্রকৃতিঃ বিশ্ব সৃষ্টির আদি কারণ হলো ত্রিগুণাত্মক (সত্ত্ব, রজঃ ও তমঃ) মূল প্রকৃতি। সৃষ্টির পূর্বে এই তিনটি গুণ সাম্যাবস্থায় থাকে। একে 'অব্যক্ত' বলা হয়।

খ). উপাদান কারণঃ সত্ত্ব, রজঃ ও তমঃ-এর সাম্যাবস্থাই হলো প্রকৃতির মূল রূপ, যা থেকে স্থূল ও সূক্ষ্ম জগৎ, অর্থাৎ পঞ্চ মহাভূত (ক্ষিতি, অপ, তেজ, মরুৎ, ব্যোম) ও ইন্দ্রিয়সমূহ উৎপন্ন হয়।

গ). সৃষ্টির সূচনা তথা কারণ ও প্রভাবঃ পরমাত্মার উপস্থিতি বা মহাজাগতিক স্পন্দনে (কসমিক রে) প্রকৃতির এই সাম্যাবস্থা বিঘ্নিত হয়। এর ফলে তিনটি গুণের মধ্যে আলোড়ন সৃষ্টি হয় এবং পরমাত্মার পরিচালনায় সৃষ্টিকার্যের বিকাশ শুরু হয়।

সাংখ্য, বৈশেষিক বেদান্ত দর্শনের এই সৃষ্টিতত্ত্ব অনুযায়ী, প্রকৃতি জড় উপাদান হলেও পরমাত্মার বা পুরুষের চেতনাসত্তা ছাড়া এর বিবর্তন বা বিকাশ অসম্ভব। এটি শূন্য থেকে সৃষ্টি নয়, বরং অব্যক্ত বীজ থেকে ব্যক্তরূপে সৃষ্টির প্রকাশ।

উপরোক্ত আলোচনায় প্রমাণিত হয় যে
সৃষ্টি অনাদিকাল থেকেই বহমান, এইসৃষ্টির সন্ধিকাল হলো অব্যক্ত কাল।
ঋগ্বেদের মন্ত্র দিয়ে ব্যক্ত অব্যক্ত ধারণার আজকের আর্টিকেলটি ইতি টানতেছি--

তম অসিৎ তমস… তপসস্তন্মহিনাজায়াতৈকম”
(ঋগবেদ ১০/১২৯/৩)
“সমস্ত ছিল কেবল অন্ধকার। সমস্ত কিছু ছিল জানার অতীত ধোঁয়াশাময়। সেই রহস্য অস্তিত্ব তার চেয়েও রহস্যময়তায় ছিল আবৃত আর তা স্বতস্ফুর্তভাবে প্রচন্ড তাপ ও ক্ষমতা নিয়ে বিদ্যমান হল।”

ভেবে দেখুন, বেদের হিরণ্যগর্ভ হতে বিস্ফোরণের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিলিয়ন বিলিয়ন উত্তপ্ত গ্যাসীয় তরল বিন্দুকণা তথা মেঘপুঞ্জের মাত্র একটির অংশ থেকে তৈরী হয়েছে আমাদের এই সম্পূর্ণ সৌরজগত।

ব্রহ্মণস্পতিরেতা সং কর্মার ইবাধমৎ।
দেবানাং পূর্ব্যে যুগেঽসতঃ সদজায়ত।
ঋগবেদ-১০/৭২/২

“তারপর সেখানে বিস্ফোরন হল ,ব্রহ্ম বিন্দু থেকে যেন সবকিছুকে গতিময় প্রসারিত করলেন ,অব্যক্ত হতে সব হতে লাগল ব্যক্ত।”

এই সুক্তই প্রমান করে অব্যক্ত আর ব্যক্ত এর রূপক অর্থ কি?

এই মন্ত্রে সৃষ্টি সৃষ্টির শুরুর দিককার একটি চমৎকার রূপক ব্যবহার করা হয়েছে।

অর্থাৎ কর্মকার বা কামার যেমন হাপর টেনে আগুন জ্বালিয়ে লোহা বা ধাতু গলিয়ে নতুন আকার দেয়, তেমনি 'ব্রহ্মণস্পতি' (সৃষ্টিকর্তা) এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ড নিজ শক্তিতে নিপুণভাবে সৃষ্টি করেছেন। এই মন্ত্রের মাধ্যমে মহাশূন্যের আদিম অবস্থা থেকে বিশ্বের এবং অসীম মহাবিশ্বের সৃষ্টির দার্শনিক তত্ত্ব তুলে ধরা হয়েছে।এই মন্ত্রের মূল ব্যাখ্যা নিচে দেওয়া হলোঃ-

ক) সৃষ্টির কারিগর হিসেবে ব্রহ্মণস্পতিঃ এখানে ব্রহ্মণস্পতি বলতে বিশ্বজগতের আদি স্রষ্টা বা পরমেশ্বরকে বোঝানো হয়েছে,।
সৃষ্টির আদি যুগে যখন দৃশ্যমান মহাবিশ্বের কোনো অস্তিত্ব ছিল না, তখন ঈশ্বর বা ব্রহ্মণস্পতি তাঁর অসীম শক্তিবলে এই বিশ্বজগৎকে গঠন করেন। তিনিই এই অসীম মহাবিশ্বের অধীশ্বর।



খ) কামারের রূপকঃ এখানে সৃষ্টিকর্তাকে একজন দক্ষ কর্মকার বা কামারের সাথে তুলনা করা হয়েছে। কামার যেমন লোহা পিটিয়ে বা হাপর চালিয়ে আগুন জ্বালিয়ে কঠিন ধাতুকে গলিয়ে নতুন আকার দান করে, ঠিক তেমনই ব্রহ্মণস্পতি নিখিল বিশ্বের অব্যক্ত ও অণু-পরমাণুর উপাদান গুলোকে একত্রিত ও প্রজ্জ্বলিত করে এই মহাবিশ্ব সৃষ্টি করেছেন।

গ) অসৎ থেকে সৎঃ- বৈদিক সৃষ্টিতত্ত্বের এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ লাইন। এর অর্থ হলো—সৃষ্টির আদিতে কোনো আকার বা নাম ছিল না, শূন্য বা অস্তিত্বহীন অবস্থা ছিল, সেই অস্তিত্বহীন বা অব্যক্ত অবস্থা থেকেই দৃশ্যমান ও ব্যক্ত জগতের সৃষ্টি হয়েছে।

উপরের বিস্তারিত আধ্যাত্মিক, বৈজ্ঞানিক ও দার্শনিক উদ্ধৃতির মাধ্যমে ব্যক্ত আর অব্যক্তের ধারনা উপস্থাপন এখানে শেষ করলাম, জানি না পাঠকের মনে সনাতন ধর্মের বাস্তব ধারনা কতটুকু আনতে পারছি।

জয় সনাতন ধর্মের জয়
জয় বেদ মাতা।

সুবীর কান্তি সাহা, বেদান্ত তীর্থ।

10/07/2026

নাসাদীয় সুক্তঃ

ঋগ্বেদের দশম মণ্ডলের ১২৯তম সূক্ত হলো নাসাদীয় সূক্ত। এটিকে বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের সৃষ্টির উৎস এবং অস্তিত্বের রহস্য নিয়ে লেখা আদিতম ও গভীরতম দার্শনিক মন্ত্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এখানে কোনো নির্দিষ্ট দেবতার স্তব নেই, বরং মহাবিশ্বের সূচনালগ্নের অবস্থা ও সৃষ্টির কারণ নিয়ে এক অপূর্ব যৌক্তিক ও আধ্যাত্মিক অনুসন্ধান রয়েছে।

নিচে মন্ত্রগুলোর আধুনিক (মহাজাগতিক) এবং আধ্যাত্মিক ব্যাখ্যার একটি বিশ্লেষণ দেওয়া হলো:

১. মন্ত্র
নাসদাসীন্নো সদাসীত্তদানীং নাসীদ্রজো নো ব্যোমা পরো যৎ।কিমাবরীবঃ কূহ কস্য শর্মন্নম্ভঃ কিমাসীদ্গহনং গভীরম্॥

শব্দার্থ: সৃষ্টির পূর্বে সৎ (বিদ্যমান) ছিল না, অসৎ (অবিদ্যমান)-ও ছিল না। বায়ুমণ্ডল ছিল না, তার বাইরের আকাশও ছিল না। তখন কী ছিল? কে কোথায় আবৃত ছিল? তখন কি গভীর জলরাশি ছিল?

আধুনিক বিজ্ঞান ও মহাজাগতিক ব্যাখ্যা: মহাবিশ্বের শুরুর সময়ের ‘বিগ ব্যাং’ বা singularity (যেখানে স্থান, কাল ও পদার্থের কোনো অস্তিত্ব ছিল না)-এর ধারণার সাথে এটি হুবহু মিলে যায়। স্থান (Space) ও সময়ের (Time) সৃষ্টির আগে সবকিছু ছিল এক চরম শূন্যতা বা অসীম ঘনত্ব।

আধ্যাত্মিক ব্যাখ্যা: ব্রহ্মাণ্ডের সৃষ্টির আগে একমাত্র পরমাত্মা বা ব্রহ্ম বিরাজমান ছিলেন। তিনি আমাদের ঞশব্দার্থ: তখন মৃত্যু ছিল না, অমরত্বও ছিল না। রাত বা দিনের কোনো প্রভেদ ছিল না। সেই ‘এক’ বস্তু বায়ু ছাড়া নিজের শক্তিতে (প্রাণশক্তিতে) শ্বাস-প্রশ্বাস নিচ্ছিলেন। তিনি ছাড়া অন্য কিছু ছিল না।আধুনিক বিজ্ঞান ও মহাজাগতিক ব্যাখ্যা: দ্বৈততা বা duality-এর অস্তিত্বহীনতা। আলো-অন্ধকার, জীবন-মৃত্যু—এই প্রাকৃতিক নিয়মগুলো সৃষ্টির ফলে উদ্ভূত হয়েছে।আধ্যাত্মিক ব্যাখ্যা: অদ্বৈত ব্রহ্মের স্বরূপ। সেখানে কোনো জন্ম-মৃত্যু, আলো-অন্ধকার নেই। বিশ্ব সৃষ্টির আগে এক স্বয়ম্ভু শক্তি (প্রকৃতি বা মায়া) নিজের প্রাণশক্তিতে স্পন্দিত হচ্ছিল।৩. মন্ত্র ৩তম আসীত্তমসা গূঢ়মগ্রেহপ্রকেতং সলিলং সর্বমা ইদమ్।তুচ্ছ্যে নাভ্বপিহিতং যদাসীত্তপসস্তন্মহিনাজায়তৈকম্॥শব্দার্থ: আদিতে সবকিছু গভীর অন্ধকারে আচ্ছন্ন ছিল। সমস্ত জগত ছিল অবিভক্ত জলের মতো। তখন অসত্য ও শূন্যতায় ঢাকা সেই বস্তুকে পরমাত্মা নিজের তপস্যার (একાગ্র সংকল্প) প্রভাবে একক সত্তায় রূপ দেন।আধুনিক বিজ্ঞান ও মহাজাগতিক ব্যাখ্যা: ‘সলিলং’ বা জলকে রূপক হিসেবে অসীম শক্তিধর গ্যাসীয় মেঘ বা Cosmic Plasma হিসেবে ভাবা যেতে পারে। এই অবস্থাটি ডার্ক ম্যাটার (Dark Matter) বা তাপমাত্রার পরিবর্তনের কারণে বস্তু সৃষ্টির আদি অবস্থাকে নির্দেশ করে।আধ্যাত্মিক ব্যাখ্যা: অজ্ঞান বা ‘মায়া’ দ্বারা সত্য ঢাকা পড়া। সেই সুপ্ত অবস্থা থেকে পরমেশ্বরের ইচ্ছাশক্তি (তপস্যা) দ্বারা সৃষ্টির বীজ অঙ্কুরিত হয়।৪. মন্ত্র ৪কামস্তদগ্রে সমবর্ত্তত মনসো রেতঃ প্রথমং যদাসীৎ।সতো বন্ধুমসতি নিরবিন্দন্ হৃদি প্রতীষ্যা কবয়ো মনীষা॥শব্দার্থ: সৃষ্টির আদিতে ‘কামনা’ (সৃষ্টি করার ইচ্ছা বা বাসনা) উৎপন্ন হলো, যা ছিল মনের প্রথম বীজ। প্রজ্ঞাবান ঋষিরা ধ্যান ও হৃদয়ের বিচার দ্বারা অসতের (অদৃশ্য কারণ) মধ্যে সত্যের (দৃশ্যমান জগতের) সন্ধান পেয়েছেন।আধুনিক বিজ্ঞান ও মহাজাগতিক ব্যাখ্যা: মহাকর্ষীয় আকর্ষণ বা সৃষ্টির জন্য শক্তির যে আকুলতা (Entropy/Desire), তা থেকেই কণার উদ্ভব। সৃষ্টি হলো কার্যকারণ শৃঙ্খলার ফল।আধ্যাত্মিক ব্যাখ্যা: পরমেশ্বরের ‘একোহহং বহু স্যাম’ (আমি এক, বহু হব)—এই ইচ্ছাই হলো কামনা। জ্ঞানী ব্যক্তিরা ধ্যান ও সাধনার মাধ্যমে বিশ্বজগতের এই মূল রহস্য হৃদয়ে উপলব্ধি করেন।৫. মন্ত্র ৫তিরশ্চীনো বিততো রশ্মি রেষামধঃ স্বীদাসীদুপরি স্বীদাসীৎ।রেতোধা আসন্ মহিমান আসন্ স্বধা অবস্তাৎ প্ৰযতিঃ পরস্তাৎ॥শব্দার্থ: রশ্মিগুলো আড়াআড়িভাবে বিস্তৃত ছিল। নিচে কে ছিল, উপরে কে ছিল? সৃষ্টির বীজ ধারণকারী পুরুষেরা এবং মহাশক্তিরা ছিলেন। স্বয়ং শক্তি নিচে এবং প্রচেষ্টা উপরে কাজ করছিল।আধুনিক বিজ্ঞান ও মহাজাগতিক ব্যাখ্যা: আলোর কণা বা ফোটন (Photon) বিকিরণ এবং মহাবিশ্বের চারদিকে শক্তির বিস্তার। আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞানে এটি ম্যাটার ও অ্যান্টি-ম্যাটার অথবা মহাকর্ষীয় শক্তির পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়াকে নির্দেশ করে।আধ্যাত্মিক ব্যাখ্যা: জগত সৃষ্টির সময় কারণ ও কার্যের বিস্তার। পুরুষ (চেতন) এবং প্রকৃতি (জড়)-এর মিথস্ক্রিয়ায় সৃষ্টির বৈচিত্র্য প্রকাশ পেতে শুরু করে।৬. মন্ত্র ৬কো অদ্ধা বেদ ক ইহ প্র বোচৎ কুত আজাতা কুত ইয়ং সৃষ্টিঃ।অর্বাগ্দেবা অস্য বিসর্জনেনাথা কো বেদ যতো আভবূব॥শব্দার্থ: কে প্রকৃত সত্য জানে? কে বলতে পারে কোথা থেকে এই সৃষ্টি এলো? দেবতারা তো এই সৃষ্টির পরে এসেছেন, তাই তারা কীভাবে জানবেন সৃষ্টির উৎস কোথায়?আধুনিক বিজ্ঞান ও মহাজাগতিক ব্যাখ্যা: মানুষের জ্ঞানের সীমাবদ্ধতা। মহাবিশ্বের একেবারে প্রারম্ভিক বিন্দু বা সৃষ্টি কী করে হলো, তা নিয়ে বিজ্ঞান এখনও পূর্ণাঙ্গ সত্য আবিষ্কার করতে পারেনি। এটি বিজ্ঞানের অনন্ত অনুসন্ধানের রূপক।আধ্যাত্মিক ব্যাখ্যা: বিশ্ব সৃষ্টির রহস্য এমনকি দেবতারাও জানেন না, কারণ তারা নিজেরাই এই সৃষ্টির অংশ। পরম ব্রহ্মের লীলা মানুষের সীমিত বুদ্ধির অগম্য।৭. মন্ত্র ৭ইয়ম সৃষ্টি র্যত আবভূব যদি বা দধে যদি বা ন।যো অস্যাধ্যক্ষঃ পরমে ব্যোমন্ স্যো অঙ্গ বেদ যদি বা ন বেদ॥শব্দার্থ: এই সৃষ্টি কোথা থেকে এলো, তিনি কি এটি সৃষ্টি করেছেন নাকি করেননি? যিনি এই পরমাকাশে বসে সব নিয়ন্ত্রণ করছেন, তিনিই হয়তো জানেন, অথবা তিনিও না-ও জানতে পারেন!আধুনিক বিজ্ঞান ও মহাজাগতিক ব্যাখ্যা: মহাবিশ্বের বিস্তৃতি ও প্রসার, যার প্রকৃত কারণ বা শুরু কোথায় তা নিয়ে আধুনিক কোয়ান্টাম কসমোলজি এখনও ধাঁধায় রয়েছে।আধ্যাত্মিক ব্যাখ্যা: এই মন্ত্রটিতে চমৎকার দার্শনিক সংশয়বাদ ও বিনয় প্রকাশ পেয়েছে। এটি নির্দেশ করে যে, পরম সত্যের উৎস এতটাই বিশাল ও রহস্যময় যে, আমাদের সীমিত ধারণায় তার পূর্ণাঙ্গ উত্তর দেওয়া অসম্ভব।সারসংক্ষেপ:নাসাদীয় সুক্ত শুধুমাত্র সৃষ্টির প্রাচীন উপাখ্যান নয়, এটি বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধিৎসা এবং আধ্যাত্মিক দর্শনের এক মিলনস্থল। এটি আমাদের শেখায় যে, মহাবিশ্বের আদি উৎস চিরন্তন রহস্যে ঘেরা এবং এই চরম সত্য অনুধাবনে মানুষের অহংকার বর্জন করে বিনয়ী হতে হয়।

Address

3455 Raod
Dhaka
088834

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when আধ্যাত্মিকতায় সনাতন ধর্ম posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share