বেদ অমৃত বাণী

বেদ অমৃত বাণী Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from বেদ অমৃত বাণী, Religious organisation, Dhaka.

🕉️ ত্বং স্ত্রী ত্বং পুমানসি ত্বং কুমার উতবা কুমারী।ত্বং জীর্ণা দণ্ডেন বঞ্চসি ত্বং জাতো ভবসি বিশ্বতোমুখঃ।। 🕉️[অথর্ববেদ ১০...
21/03/2026

🕉️ ত্বং স্ত্রী ত্বং পুমানসি ত্বং কুমার উতবা কুমারী।
ত্বং জীর্ণা দণ্ডেন বঞ্চসি ত্বং জাতো ভবসি বিশ্বতোমুখঃ।। 🕉️
[অথর্ববেদ ১০।৮।২৭]

বঙ্গানুবাদ: তুমি (আত্মা) স্ত্রী, পুরুষ, কুমার ও কুমারী। তুমিই বৃদ্ধাবস্থায় যষ্ঠির (লাঠি) সাহায্যে গমনাগমন করো। তোমার মুখ সর্বত্র।

অর্থাৎ, আত্মার লিঙ্গ ও বয়সের ভেদ নেই। আমরা যাকে স্ত্রী, পুরুষ, কুমার, কুমারী, তরুণ বা বৃদ্ধ বলে দেখি, এগুলো আসলে আত্মার পরিচয় নয়, এগুলো দেহের অবস্থা মাত্র। আত্মা যে শরীরে বাস করে, মানুষ সেই শরীরের লিঙ্গ, বয়স ও সীমাবদ্ধতাকেই ভুল করে আত্মার বৈশিষ্ট্য বলে মনে করে। কিন্তু বাস্তবে আত্মা এসবের ঊর্ধ্বে। যখন বলা হয় "তুমি স্ত্রী, পুরুষ, কুমার ও কুমারী", তখন বোঝানো হচ্ছে- একই আত্মা বিভিন্ন জন্মে বা বিভিন্ন দেহে ভিন্ন ভিন্ন রূপে প্রকাশ পায়। আবার "বৃদ্ধাবস্থায় যষ্ঠির সাহায্যে গমনাগমন করো" বলা হয়েছে দেহের দুর্বলতার কথা বোঝাতে। আত্মা নিজে কখনও দুর্বল হয় না, কিন্তু দেহ বৃদ্ধ হলে তার চলাচল সীমিত হয়ে যায়। এই সীমাবদ্ধতা আত্মার নয়, দেহের। "তোমার মুখ সর্বত্র"- এর অর্থ হলো আত্মার চেতনা একটিমাত্র স্থানে আবদ্ধ নয়। আত্মা চোখ দিয়ে দেখে, কান দিয়ে শোনে, জিহ্বা দিয়ে স্বাদ নেয়, ত্বক দিয়ে স্পর্শ অনুভব করে- অর্থাৎ সব ইন্দ্রিয়ই আত্মার অভিজ্ঞতার মাধ্যম। তাই বলা হয়েছে আত্মা প্রত্যেক ইন্দ্রিয়ের দ্বারা সর্বত্র বিষয় ভোগ করে। এখানে 'ভোগ' বলতে কেবল সুখ নয়, সব ধরনের অনুভূতি ও অভিজ্ঞতাই বোঝানো হয়েছে। আত্মা নিত্য, অবিনশ্বর ও নির্লিঙ্গ (যার কোনো লিঙ্গভেদ নেই; অর্থাৎ পুরুষও নয়, নারীও নয়)। বয়স বা দেহের পরিবর্তন আত্মাকে স্পর্শ করে না। দেহ বদলায়, অবস্থাও বদলায়, কিন্তু সেই দেহের ভেতরে যে চেতন সত্তা রয়েছে, সে একই থাকে।

অগ্নে বিবস্বদা ভরাস্মভ্যমূতয়ে মহে। দেবো হাসি নো দৃশে।।[সামবেদ ০০১০]সরলার্থ: হে পরমপিতা, পরমাত্মা! তুমি আমাদের রক্ষা করার...
12/03/2026

অগ্নে বিবস্বদা ভরাস্মভ্যমূতয়ে মহে। দেবো হাসি নো দৃশে।।
[সামবেদ ০০১০]

সরলার্থ: হে পরমপিতা, পরমাত্মা! তুমি আমাদের রক্ষা করার জন্য অবিদ্যারূপ অন্ধকারকে নিবারণকারী মহান অধ্যাত্ম-প্রকাশ প্রদান করো। কেননা একমাত্র তুমিই আমাদের আত্মদর্শনের জন্য তথা বিবেকদৃষ্টি প্রদান করার জন্য আধ্যাত্মিক প্রকাশদাতা হয়ে থাকো।

অর্থাৎ, সূর্য যেমন আলো দিয়ে অন্ধকার দূর করে সকল জীবকে রক্ষা করে, তেমনই পরমেশ্বর যেন আমাদের মনের অন্ধকার- অজ্ঞানতা, অহংকার, রাগ, হিংসা ও মোহ- দূর করে আমাদেরকে আধ্যাত্মিক শক্তি ও আলোর পথ দেখান।

রাম কে? জয় শ্রীরাম কেন বলা হয়?রাম হলেন আদর্শ পুরুষ ও আদর্শ রাজা এবং নৈতিকতার প্রতীক। রামের জন্ম হয়েছিল অযোধ্যা নগরে। ...
11/03/2026

রাম কে? জয় শ্রীরাম কেন বলা হয়?

রাম হলেন আদর্শ পুরুষ ও আদর্শ রাজা এবং নৈতিকতার প্রতীক। রামের জন্ম হয়েছিল অযোধ্যা নগরে। তাঁর পিতা ছিলেন দশরথ, যিনি অযোধ্যার রাজা ছিলেন। রাম ছোটবেলা থেকেই সত্যবাদী, ন্যায়পরায়ণ ও শৃঙ্খলাবান ছিলেন। শৈশব থেকেই তাঁকে জ্ঞান, শাস্ত্র, যুদ্ধকৌশল ও নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করা হয়। তাঁর গুরু ছিলেন বশিষ্ঠ এবং পরবর্তীতে ঋষি বিশ্বামিত্র তাঁর শিক্ষা ও বীরত্বের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তাঁর স্ত্রী ছিলেন সীতা। সীতা ছিলেন মিথিলার রাজা জনকের কন্যা। রাজকীয় প্রতিশ্রুতির কারণে রামকে ১৪ বছরের জন্য বনবাসে যেতে হয়। সেই সময় তাঁর সঙ্গে বনবাসে যান সীতা ও তাঁর ভাই লক্ষ্মণ। বনবাসের সময় লঙ্কার রাজা রাবণ সীতাকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। পরে রাম বানর সেনা ও হনুমানের সহায়তায় লঙ্কায় যুদ্ধ করে রাবণকে পরাজিত করেন এবং সীতাকে উদ্ধার করেন। ১৪ বছরের বনবাস শেষ হলে রাম অযোধ্যায় ফিরে আসেন এবং রাজা হন। তাঁর শাসনকালকে আদর্শ রাজত্ব বা 'রামরাজ্য' বলা হয়। কারণ তাঁর শাসনকালে ন্যায়, শৃঙ্খলা ও শান্তি প্রতিষ্ঠিত ছিল।

"জয় শ্রীরাম" বলা হয় মূলত ভগবান রামের বিজয়, মহত্ত্ব এবং আদর্শকে স্মরণ করার জন্য। এখানে 'জয়' শব্দের অর্থ হলো বিজয়, সাফল্য বা মহিমা, আর 'শ্রীরাম' বলতে ভগবান রামকে বোঝায়। তাই "জয় শ্রীরাম" বলার অর্থ দাঁড়ায়- শ্রীরামের জয় হোক, অর্থাৎ সত্য, ধর্ম ও ন্যায়ের জয় হোক। ভগবান রাম ন্যায়, সত্যবাদিতা, নৈতিকতা ও আদর্শ রাজা ছিলেন। তাঁর জীবনকাহিনি প্রধানত বর্ণিত হয়েছে মহাকাব্য রামায়ণে। রাম অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করেন এবং শেষ পর্যন্ত অসুর Ravanকে পরাজিত করে ধর্ম ও ন্যায় প্রতিষ্ঠা করেন। এই কারণে "জয় শ্রীরাম" ধ্বনিটি এক ধরনের ধর্মীয় ও নৈতিক বিজয়ের প্রতীক।

👉 অপর্যাপ্তং তদস্মাকং বলং ভীষ্মাভিরক্ষিতম। পর্যাপ্তং ত্বিদমেতেষাং বলং ভীমাভিরক্ষিতম।।অয়নেষু চ সর্বেষু যথাভাগমবস্থিতাঃ। ভ...
11/03/2026

👉 অপর্যাপ্তং তদস্মাকং বলং ভীষ্মাভিরক্ষিতম।
পর্যাপ্তং ত্বিদমেতেষাং বলং ভীমাভিরক্ষিতম।।
অয়নেষু চ সর্বেষু যথাভাগমবস্থিতাঃ।
ভীষ্মমেবাভিরক্ষন্তু ভবন্তঃ সর্ব এব হি।।
[শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা অধ্যায় ০১, শ্লোক ১০-১১]

অনুবাদ: ভীষ্ম দ্বারা সম্পূর্ণ সুরক্ষিত আমাদের সেই সৈন্য অপর্যাপ্ত, অন্যদিকে ভীমের দ্বারা সুরক্ষিত এদের এই সৈন্য পর্যাপ্ত। এজন্য গুরু দ্রোণাচার্য! আপনারা সকলেই নিজ নিজ স্থান অনুসারে সকল ব্যূহ-প্রবেশপথে অবস্থিত হয়ে নিশ্চিতরূপে ভীষ্মকেই সর্বপ্রকারে রক্ষা করতে থাকুন।

🔎 ব্যাখ্যা: দুর্যোধন বলছেন কৌরবদের সৈন্য যুদ্ধ জয়ের জন্য অপর্যাপ্ত এবং পাণ্ডবদের সৈন্য পর্যাপ্ত (যথেষ্ট)। এই মত অনেক গীতাভাষ্যকারও সমর্থন করেন। তাঁদের মতে, দুর্যোধন যখন ভীষ্মকে রক্ষা করার নির্দেশ দেন, তখন মনে হয় কৌরব সৈন্য দুর্বল বলেই তাঁকে রক্ষার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু মহাভারতের পূর্বাপর প্রসঙ্গ দেখলে এই অর্থ খাটে না। উদ্যোগপর্বে দুর্যোধন নিজের সৈন্যবাহিনীর শক্তি ও বীরত্বের প্রশংসা করে ধৃতরাষ্ট্রকে বিজয়ের নিশ্চয়তা দিয়েছিলেন। ভীষ্মপর্বেও তিনি প্রত্যেক কৌরব বীরের সামর্থ্যের কথা উল্লেখ করে বলেছিলেন যে, তাঁরা প্রত্যেকেই এককভাবে পাণ্ডব সেনা বিনাশ করতে সক্ষম; তাঁরা সবাই মিলে তা নিশ্চিত পারবেন।

সুতরাং, এখানে 'পর্যাপ্ত' ও 'অপর্যাপ্ত' শব্দের অর্থ যথাক্রমে 'পরিমিত' ও 'অসীম' বোঝাতে চেয়েছেন। অর্থাৎ, পাণ্ডবদের সৈন্য পরিমিত আর কৌরবদের সৈন্য অসীম। প্রকৃত পক্ষে কৌরব সৈন্য সংখ্যায় পাণ্ডব সৈন্যের চেয়ে বেশি ছিল। কিন্তু আত্মপ্রশংসাকারী দুর্যোধন নিজের সৈন্যকে অনেক বড় বলে দেখছিলেন। তাই তিনি দ্রোণাচার্যকে বুঝাতে চেয়েছেন যে, কৌরব সৈন্য কেবল অসীমই নয়, তাদের রক্ষাকর্তারাও পাণ্ডবদের তুলনায় অনেক শক্তিশালী। ভীষ্মকে রক্ষার নির্দেশ আসলে সেই শক্তিমত্তারই পরিচয়।

👉 তস্য সংজনয়ন হর্ষং কুরুবৃদ্ধঃ পিতামহঃ।
সিংহনাদং বিনদ্যোচ্চৈঃ শঙ্খং দধ্মৌ প্রতাপবান।।
ততঃ শঙ্খাশ্চ ভের্যশ্চ পণবানকগোমুখাঃ। সহসৈবাভ্যহন্যন্ত স শব্দস্তুমুলোহভবৎ।।
ততঃ শ্বেতৈর্হয়ৈযুক্তে মহতি স্যন্দনে স্থিতৌ।
মাধবঃ পাণ্ডবশ্চৈব দিব্যৌ শঙ্খৌ প্রদধ্মতুঃ।।
পাঞ্চজন্যং হৃষীকেশো দেবদত্তং ধনঞ্জয়ঃ।
পৌণ্ড্রং দধ্মৌ মহাশঙ্খং ভীমকর্মা বৃকোদরঃ।।
অনন্তবিজয়ং রাজা কুন্তীপুত্রো যুধিষ্ঠিরঃ।
নকুলঃ সহদেবশ্চ সুঘোষ-মণিপুষ্পকৌ।।
[শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা অধ্যায় ০১, শ্লোক ১২-১৬]

অনুবাদ: সেই সময় প্রতাপশালী কুরুবৃদ্ধ পিতামহ ভীষ্ম দুর্যোধনের আনন্দ বৃদ্ধি করে উচ্চস্বরে সিংহের মতো গর্জন করে শঙ্খধ্বনি করলেন। তখন শঙ্খ, ভেরী, পণব, আনক, গোমুখ ইত্যাদি বাদ্যযন্ত্র তৎক্ষণাৎ বাজানো হলে সেই শব্দ তুমুল হয়ে উঠল। অতঃপর মাধব (শ্রীকৃষ্ণ) এবং অর্জুন শ্বেতবর্ণ ঘোড়াযুক্ত মহান রথে অবস্থান করে দিব্য শঙ্খদ্বয় বাজালেন। হৃষীকেশ (শ্রীকৃষ্ণ) পাঞ্চজন্য-নামক শঙ্খ, ধনঞ্জয় (অর্জুন) দেবদত্ত-নামক শঙ্খ এবং ভয় প্রদানকারী বৃকোদর (ভীম) পৌণ্ড্র-নামক মহাশঙ্খ বাজালেন। কুন্তীপুত্র রাজা যুধিষ্ঠির অনন্তবিজয়-নামক শঙ্খ, নকুল এবং সহদেব সুঘোষ ও মণিপুষ্পক-নামক শঙ্খদ্বয় বাজালেন।

🔎 ব্যাখ্যা: মহাভারতের যুগে যুদ্ধের পূর্বে উভয় পক্ষ সজ্জিত হয়ে পরস্পরের সম্মুখীন হতো। নির্ধারিত সময় ব্যতীত যুদ্ধ শুরু হতো না। এই কারণেই অর্জুনের পক্ষে উভয় সৈন্যের মধ্যস্থলে উপস্থিত হয়ে কুরুসৈন্য পরিদর্শন করা সম্ভব হয়েছিল। প্রত্যেক বড় বড় যোদ্ধাই যুদ্ধের পূর্বে শঙ্খ বাজাতেন এবং প্রত্যেকের শঙ্খধ্বনিতে বৈশিষ্ট্য থাকত ও শঙ্খের আলাদা আলাদা নামকরণ হতো। যুদ্ধকালে সৈন্যগণকে উৎসাহিত করার জন্য নানাপ্রকার বাদ্যযন্ত্র বাজানো হতো। শঙ্খের ধ্বনিতে শত্রুপক্ষের ভীতি উৎপাদিত হতো। এই শঙ্খধ্বনি আধুনিক শঙ্খধ্বনির মতো বলে মনে হয় না। বাজানোর কৌশলগত কারণে সেই সকল শঙ্খ থেকে শত্রুর হৃদয়ে ভীতি উৎপাদক ধ্বনি নির্গত হতো। ১২শ শ্লোকে সঞ্জয় সর্বপ্রথম পিতামহ ভীষ্মের উল্লেখ করেছেন। কারণ এই যুদ্ধে পিতামহ ভীষ্মই সর্বজ্যেষ্ঠ ছিলেন, কৌরব ও পাণ্ডবদের সঙ্গে তাঁর একই প্রকার সম্পর্ক ছিল। পিতামহ হওয়ায় তিনি উভয় পক্ষেই পূজনীয়, তাই প্রথম শঙ্খধ্বনি তিনিই করলেন। 'পাণ্ডবদের প্রতি কোনো স্নেহ নেই'- দুর্যোধনের নিকট এমন ভাব প্রদর্শনের জন্য ভীষ্ম সিংহের ন্যায় গর্জে উঠে শঙ্খধ্বনি করলেন। ভীষ্মের শঙ্খধ্বনির সাথে সাথে সৈন্যগণের মধ্যে যুদ্ধের উৎসাহ ছড়িয়ে পড়ল এবং সেনানায়কদের নানাপ্রকার শঙ্খ ও রণবাদ্য একসঙ্গে ধ্বনিত হলো। ভগবান শ্রীকৃষ্ণ এবং পঞ্চপাণ্ডব এক সঙ্গে শঙ্খধ্বনি করলেন। তাঁদের শঙ্খ গুলোর নাম প্রসিদ্ধ। পক্ষান্তরে কৌরবদের কোনো শঙ্খের নাম দেওয়া হয়নি। এতেই পাণ্ডবপক্ষের শঙ্খধ্বনির বিশেষত্ব উপলব্ধি করা যায়।

ও৩ম্॥NVS পরিচালিত "বৈদিক শুদ্ধ মন্ত্রোচ্চারণ শিক্ষা" কোর্সের ৫ম ব্যাচে ভর্তি চলছে।ক্লাস সংখ্যা: ১২টি।কোর্স সময়কাল: ৩ মাস...
04/03/2026

ও৩ম্॥
NVS পরিচালিত "বৈদিক শুদ্ধ মন্ত্রোচ্চারণ শিক্ষা"
কোর্সের ৫ম ব্যাচে ভর্তি চলছে।
ক্লাস সংখ্যা: ১২টি।
কোর্স সময়কাল: ৩ মাস।
প্রণামী: ২০০৳।
মাধ্যম: গুগল মিট।
বার: বৃহস্পতিবার

প্রণামি পাঠানোর মাধ্যম:
01742492142
বিকাশ, নগদ, রকেট।

রেজিঃ লিংক:
https://forms.gle/mWniDLEpo7JkiJJr7

তব শরীরং পতয়িষ্ণর্বন্তব চিত্তংবাতইব ঘ্রজীমান।তব শৃঙ্গাণি বিষ্ঠিতা পুরুত্রারণ্যেষু জর্ভুরাণা চরন্তি।।[ঋগ্বেদ ১।১৬৩।১১]বঙ্...
24/02/2026

তব শরীরং পতয়িষ্ণর্বন্তব চিত্তংবাতইব ঘ্রজীমান।
তব শৃঙ্গাণি বিষ্ঠিতা পুরুত্রারণ্যেষু জর্ভুরাণা চরন্তি।।
[ঋগ্বেদ ১।১৬৩।১১]

বঙ্গানুবাদ: হে আত্মন! তোমার শরীর পতনশীল, তোমার চিত্ত বায়ুর ন্যায় বেগবান, তোমার ইন্দ্রিয়রূপী পুষ্ট শৃঙ্গ সমূহ বিষয় বাসনারূপী অরণ্য সমূহে নিরন্তর বিচরণ করে।

অর্থাৎ, মানুষের আসল সত্তা হলো আত্মা, শরীর নয়। শরীর একদিন না একদিন নষ্ট হয়, কিন্তু আত্মা শরীর থেকে আলাদা। মানুষের মন খুব দ্রুত ছুটে চলে, ঠিক বাতাসের মতো। আর চোখ, কান, জিহ্বা ইত্যাদি ইন্দ্রিয়গুলো সবসময় বিভিন্ন ভোগ-বিলাস ও আকর্ষণের দিকে টেনে নিয়ে যায়। যখন মানুষ ইন্দ্রিয়ের চাহিদার পেছনে ছুটতে থাকে, তখন মন স্থির থাকতে পারে না। এই অস্থির মন থেকেই ভুল সিদ্ধান্ত, দুঃখ, অশান্তি ও নানা বিপদের সৃষ্টি হয়। অর্থাৎ ইন্দ্রিয়ের লোভে আটকে গেলে মানুষ নিজের শান্তি ও সঠিক পথ হারিয়ে ফেলে।

অস্মাকন্তু বিশিষ্টা যে তান্নিবোধ দ্বিজোত্তম। নায়কা মম সৈন্যস্য সংজ্ঞার্থং তান্ ব্রবীমি তে। ভবান ভীষ্মশ্চ কর্ণশ্চ কৃপশ্চ ...
23/02/2026

অস্মাকন্তু বিশিষ্টা যে তান্নিবোধ দ্বিজোত্তম।
নায়কা মম সৈন্যস্য সংজ্ঞার্থং তান্ ব্রবীমি তে।
ভবান ভীষ্মশ্চ কর্ণশ্চ কৃপশ্চ সমিতিঞ্জয়ঃ।
অশ্বত্থামা বিকর্ণশ্চ সৌমদত্তির্জয়দ্রথঃ*।।
অন্যে চ বহবঃ শূরা মদর্থে ত্যক্তজীবিতাঃ। নানাশস্ত্রপ্রহরণাঃ সর্বে যুদ্ধবিশারদাঃ।।
[শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা অধ্যায় ০১, শ্লোক ০৭-০৯]

অনুবাদ: হে দ্বিজোত্তম (দ্রোণাচার্য)! আমাদের পক্ষেও আমার যে-সকল প্রধান সেনানায়ক আছেন তাঁদের দেখুন। আপনার সম্যক্ অবগতির জন্য তাঁদের নাম বলছি; আপনি এবং ভীষ্ম, কর্ণ এবং যুদ্ধবিজয়ী কৃপ, অশ্বত্থামা এবং বিকর্ণ, সোমদত্তি এবং জয়দ্রথ। আমার জন্য জীবনত্যাগে প্রস্তুত নানাপ্রকার অস্ত্রশস্ত্রে সুসজ্জিত আরও অনেক বীরপুরুষ আছেন, তাঁরা সকলেই যুদ্ধবিশারদ।

🔎 ব্যাখ্যা: দুর্যোধন যুদ্ধের আগে নিজের পক্ষের বীরদের নাম বলে তাদের প্রশংসা করেন, যাতে গুরু দ্রোণাচার্য খুশি হয়ে মন দিয়ে যুদ্ধ করেন। তারপর তিনি একে একে প্রধান যোদ্ধাদের নাম বলেন।

দ্রোণাচার্য ছিলেন মহর্ষি ভরদ্বাজের পুত্র। তিনি অস্ত্রবিদ্যায় অত্যন্ত পারদর্শী ছিলেন এবং কৌরব-পাণ্ডবদের গুরু ছিলেন। এক সময় তাঁর শৈশবের বন্ধু দ্রুপদ রাজা হওয়ার পর তাঁকে অপমান করেন। পরে গুরুদক্ষিণা হিসেবে দ্রোণ তাঁর শিষ্যদের দিয়ে দ্রুপদকে বন্দি করান। মহাভারতের যুদ্ধে তিনি পাঁচ দিন সেনাপতি ছিলেন। শেষে পুত্র অশ্বত্থামার মৃত্যুর ভুয়া খবর শুনে তিনি অস্ত্র ত্যাগ করেন। তখন দ্রুপদের পুত্র ধৃষ্টদ্যুম্ন তাঁকে হত্যা করেন।

ভীষ্ম ছিলেন রাজা শান্তনু ও গঙ্গার পুত্র। তাঁর আরেক নাম দেবব্রত। পিতার সুখের জন্য তিনি আজীবন অবিবাহিত থাকার এবং সিংহাসন ত্যাগের প্রতিজ্ঞা করেন, তাই তাঁর নাম হয় ভীষ্ম। তিনি অত্যন্ত বীর ও জ্ঞানী ছিলেন। কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে তিনি দশ দিন কৌরবদের সেনাপতি ছিলেন। পরে শরশয্যায় শুয়ে ইচ্ছা করে মৃত্যুবরণ করেন।

কর্ণ ছিলেন সূর্যদেব ও কুন্তীর পুত্র, কিন্তু তিনি বড় হন অধিরথ ও রাধার ঘরে। জন্মের সময় তাঁর শরীরে কবচ-কুণ্ডল ছিল। তিনি বড় যোদ্ধা ছিলেন এবং দুর্যোধনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। দুর্যোধন তাঁকে অঙ্গদেশের রাজা করেন। দানে তিনি অতুলনীয় ছিলেন। যুদ্ধে তিনি দুই দিন কৌরবদের সেনাপতি ছিলেন। শেষে অর্জুনের হাতে তিনি নিহত হন।

কৃপ ছিলেন মহর্ষি শরদ্বানের পুত্র এবং ধনুর্বিদ্যায় খুবই দক্ষ। দ্রোণাচার্যের আগে তিনিই কৌরব-পাণ্ডবদের অস্ত্রশিক্ষা দিতেন। কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধের পর কৌরববংশ প্রায় ধ্বংস হলেও তিনি বেঁচে ছিলেন এবং অভিমন্যুর ছেলে পরীক্ষিৎকে অস্ত্রবিদ্যা শেখান।

অশ্বত্থামা ছিলেন দ্রোণাচার্যের পুত্র। তিনি পিতার কাছেই যুদ্ধবিদ্যা শিখেছিলেন। যুদ্ধের শেষে কৌরবদের পরাজয় ও পিতা-মিত্রের মৃত্যুশোকে তিনি ক্রুদ্ধ হয়ে উত্তরার গর্ভে ব্রহ্মশির অস্ত্র নিক্ষেপ করেন। এই গুরুতর অপরাধের জন্য শ্রীকৃষ্ণ তাঁকে অভিশাপ দেন।

বিকর্ণ ছিলেন ধৃতরাষ্ট্রের একশত পুত্রের একজন। কৌরবদের মধ্যে তিনিই ন্যায়পরায়ণ হিসেবে পরিচিত। রাজসভায় দ্রৌপদীর অপমানের সময় তিনি একমাত্র প্রতিবাদ করেন এবং বলেন যে, দ্রৌপদী প্রকৃত অর্থে পরাজিত হননি, তাই তাঁকে অপমান করা অন্যায়।

সৌমদত্তি ছিলেন সৌমদত্তের পুত্র ও এক শক্তিশালী যোদ্ধা। কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে সাত্যকির হাতে তিনি নিহত হন।

জয়দ্রথ ছিলেন বৃদ্ধক্ষত্রের পুত্র এবং দুঃশলার স্বামী। বনবাসের সময় তিনি দ্রৌপদীকে অপহরণ করেছিলেন, কিন্তু পাণ্ডবরা তাঁকে হত্যা না করে অপমান করে ছেড়ে দেন। পরে কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে অর্জুন তাঁর মস্তক ছেদন করেন।

🕉️ অত্র শূরা মহেষ্বাসা ভীমার্জুনসমা যুধি। যুযুধানো বিরাটশ্চ দ্রুপদশ্চ মহারথঃ।। ধৃষ্টকেতুশ্চেকিতানঃ কাশিরাজশ্চ বীর্যবান। ...
23/02/2026

🕉️ অত্র শূরা মহেষ্বাসা ভীমার্জুনসমা যুধি।
যুযুধানো বিরাটশ্চ দ্রুপদশ্চ মহারথঃ।। ধৃষ্টকেতুশ্চেকিতানঃ কাশিরাজশ্চ বীর্যবান।
পুরুজিৎ কুন্তিভোজশ্চ শৈব্যশ্চ নরপুঙ্গবঃ।।
যুধামন্যুশ্চ বিক্রান্ত উত্তমৌজাশ্চ বীর্যবান।
সৌভদ্রো দ্রৌপদেয়াশ্চ সর্ব এব মহারথাঃ।। 🕉️
[শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা অধ্যায় ০১, শ্লোক ০৪-০৬]

অনুবাদ: এই সৈন্যদের মধ্যে ভীম ও অর্জুনের সমান মহাধনুর্ধারী এবং এই যুদ্ধে বহু বীরপুরুষ রয়েছেন। যুযুধান, বিরাট এবং মহারথ দ্রুপদ; ধৃষ্টকেতু, চেকিতান, মহাবলশালী কাশিরাজ, পুরুজিৎ, কুন্তিভোজ, নরশ্রেষ্ঠ শৈব্য, বিক্রমশালী যুধামন্যু, মহাবলশালী উত্তমৌজা, সুভদ্রা-পুত্র অভিমন্যু, দ্রৌপদীর পুত্রগণ- এঁরা সকলেই মহারথী।

🔎 ব্যাখ্যা: যুযুধান, যিনি সাত্যকি নামেও পরিচিত। তিনি ছিলেন অর্জুনের শিষ্য এবং যাদববংশের বীর। তিনি রাজা শিনির নাতি এবং কুরুক্ষেত্র যুদ্ধে পাণ্ডবদের পক্ষে যুদ্ধ করেন। মৎসদেশের ধার্মিক রাজা বিরাটের রাজ্যে পাণ্ডবরা অজ্ঞাতবাস কাটান। তাঁর কন্যা উত্তরার সঙ্গে অর্জুনপুত্র অভিমন্যুর বিবাহ হয়। কুরুক্ষেত্র যুদ্ধে রাজা বিরাট ও তাঁর তিন পুত্র নিহত হন। পাঞ্চালদেশের রাজা দ্রুপদ দ্রোণকে হত্যার উদ্দেশ্যে যজ্ঞ করে পুত্র ধৃষ্টদ্যুম্ন ও কন্যা দ্রৌপদীকে লাভ করেন। পরে যুদ্ধে দ্রোণের হাতেই দ্রুপদের মৃত্যু হয়। ধৃষ্টকেতু ছিলেন চেদিরাজ শিশুপালের পুত্র। তিনিও দ্রোণের অস্ত্রাঘাতে নিহত হন। যাদববংশীয় বীর চেকিতান পাণ্ডবপক্ষের এক সেনাপতি ছিলেন এবং যুদ্ধে দুর্যোধনের হাতে প্রাণ হারান। কাশিরাজ ছিলেন কাশীর রাজা, তবে তাঁর নির্দিষ্ট নাম স্পষ্টভাবে জানা যায় না। পুরুজিৎ ও কুন্তিভোজ কুন্তীর আত্মীয়। কুন্তিভোজ ছিলেন কুন্তীর পালক পিতা। শৈব্য ছিলেন যুধিষ্ঠিরের শ্বশুর, তাঁর কন্যা দেবিকার সঙ্গে যুধিষ্ঠিরের বিবাহ হয়। পাঞ্চালের রাজকুমার যুধামন্যু ও উত্তমৌজা রাত্রে নিদ্রিত অবস্থায় অশ্বত্থামার হাতে নিহত হন। অভিমন্যু, অর্জুন ও সুভদ্রার পুত্র, কুরুক্ষেত্র যুদ্ধে বীরত্বের সঙ্গে লড়াই করে নিহত হন। দ্রৌপদীর পাঁচ পুত্র- প্রতিবিন্ধ্য, সুতসোম, শ্রুতকর্মা, শতানীক ও শ্রুতসেন- পাণ্ডবদের ঔরসে জন্মগ্রহণ করেন এবং তারাও রাত্রে অশ্বত্থামার হাতে নিহত হন।

ধৃতরাষ্ট্র উবাচ- ধর্মক্ষেত্রে কুরুক্ষেত্রে সমবেতা যুযুৎসবঃ। মামকাঃ পাণ্ডবাশ্চৈব কিমকুর্বত সঞ্জয়।।[শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা অধ্যা...
22/02/2026

ধৃতরাষ্ট্র উবাচ- ধর্মক্ষেত্রে কুরুক্ষেত্রে সমবেতা যুযুৎসবঃ। মামকাঃ পাণ্ডবাশ্চৈব কিমকুর্বত সঞ্জয়।।
[শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা অধ্যায় ০১, শ্লোক ০১]

অনুবাদ: ধৃতরাষ্ট্র বললেন- হে সঞ্জয়! ধর্মক্ষেত্রে কুরুক্ষেত্রে যুদ্ধ করতে ইচ্ছুক আমার পুত্রগণ এবং পাণ্ডুপুত্রগণ সমবেত হয়ে কী করেছিল?

ব্যাখ্যা: কৌরব ও পাণ্ডবরা যে স্থানে যুদ্ধ করতে জড়ো হয়েছিল, সেই স্থানই কুরুক্ষেত্র। আগে এর নাম ছিল সমন্তপঞ্চক। বিভিন্ন বৈদিক গ্রন্থ যেমন মহাভারত, শতপথ ব্রাহ্মণ এবং মনুসংহিতাতে কুরুক্ষেত্রকে পবিত্র, যজ্ঞভূমি ও ব্রহ্মর্ষিদের দেশ বলা হয়েছে। এজন্যই ধৃতরাষ্ট্র কুরুক্ষেত্রকে 'ধর্মক্ষেত্র' বলে উল্লেখ করেন। কিছু ভাষ্যকার মনে করেন, ধর্মক্ষেত্রের প্রভাবে অর্জুনের মনে বৈরাগ্য (ভোগ বিলাসে অনাগ্রহ) এসেছিল। কিন্তু আসলে তা নয়। অর্জুন যুদ্ধ করতে এসেছিলেন, কিন্তু স্বজনদের হত্যা করার ভয় ও দুঃখ দেখেই তিনি যুদ্ধ করতে অনিচ্ছুক হয়েছিলেন। এটি সত্যিকারের সাত্ত্বিক বৈরাগ্য নয়, বরং দুর্বলতা। তাই শ্রীকৃষ্ণ তাঁর এই মানসিক অবস্থাকে অনার্য (ভুল বা খারাপ আচরণ) আচরণ বলেছেন (গীতা ২/২)। সঞ্জয়ের দিব্যদৃষ্টি নিয়েও আলোচনা আছে। অনেকে বলেন, তিনি দূরে বসে সব দেখেছিলেন। কিন্তু মহাভারতের বর্ণনা অনুযায়ী সঞ্জয় যুদ্ধক্ষেত্রে উপস্থিত ছিলেন এবং সেখান থেকে ধৃতরাষ্ট্রকে ঘটনা জানাতেন। ব্যাসদেব তাঁকে বিশেষ বর দিয়েছিলেন- তিনি সত্য ঘটনা উপলব্ধি করতে পারবেন, ক্লান্ত হবেন না এবং অস্ত্রে আহত হবেন না। তাই তিনি নিজে দেখে ও বুঝে ধৃতরাষ্ট্রকে যুদ্ধের বিবরণ শোনান, যার মধ্যেই গীতার উপদেশ রয়েছে। ধৃতরাষ্ট্র জানতেন যে, যুদ্ধ ভীষণ ধ্বংস ডেকে আনবে। তবুও তিনি জিজ্ঞেস করেন- "তারা কী করল?" কারণ তাঁর মনে একটুখানি আশা ছিল, হয়তো ধর্মক্ষেত্রের প্রভাবে উভয় পক্ষের মন বদলে যাবে এবং যুদ্ধ এড়িয়ে সমাধান হবে। সেই আশার কারণেই তিনি প্রশ্ন করেছিলেন- শ্লোকের দ্বিতীয় লাইন।

সঞ্জয় উবাচ- দৃষ্টা তু পাণ্ডবানীকং ব্যূঢ়ং দুর্যোধনস্তদা। আচার্যমুপসঙ্গম্য রাজা বচনমব্রবীৎ।।
পশ্যৈতাং পাণ্ডুপুত্রাণামাচার্য মহতীং চমূম।
ব্যূঢ়াং দ্রুপদপুত্রেণ তব শিষ্যেণ ধীমতা।।
[শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা অধ্যায় ০১, শ্লোক ০২-০৩]

অনুবাদ: সঞ্জয় বললেন- সেই সময় রাজা দুর্যোধন পাণ্ডব সৈন্যগণকে ব্যূহাকারে সজ্জিত দেখে দ্রোণাচার্যের কাছে গিয়ে এই কথা বললেন- "হে গুরুদেব! আপনার জ্ঞানী শিষ্য দ্রুপদপুত্র ধৃষ্টদ্যুম্ন কর্তৃক ব্যূহবদ্ধ পাণ্ডুপুত্রগণের এই বিশাল সৈন্যদল দর্শন করুন।"

ব্যাখ্যা: পাণ্ডবরা বজ্র নামে একটি শক্ত ব্যূহ (যুদ্ধের সাজানো রণকৌশল) তৈরি করে সৈন্য সাজিয়েছিলেন। তা দেখে দুর্যোধন চিন্তিত হয়ে সরাসরি ভীষ্মের কাছে না গিয়ে দ্রোণাচার্যের কাছে গেলেন। কারণ ভীষ্ম পাণ্ডবদের প্রতি স্নেহশীল ছিলেন এবং দুর্যোধনের অন্যায় পক্ষকে কখনও সমর্থন করতেন না। দুর্যোধনের মনে সন্দেহ ছিল, ভীষ্ম হয়তো পুরো শক্তি দিয়ে যুদ্ধ করবেন না। তাই তিনি কৌশলে দ্রোণের কাছে যান এবং বোঝাতে চান যে, যুদ্ধ জয়ের জন্য তিনি মূলত দ্রোণের ওপরই ভরসা করছেন।
দুর্যোধন জানতেন তার সৈন্যসংখ্যা বেশি, কিন্তু তিনি পাণ্ডবদের দুর্বল ভাবেননি। বিশেষ করে ধৃষ্টদ্যুম্নের কৌশলী ব্যূহ দেখে তিনি সতর্ক হন। দ্রোণ যেন দ্বিধা না করেন, তাই তিনি ধৃষ্টদ্যুম্নের নাম বিশেষভাবে উল্লেখ করেন- কারণ ধৃষ্টদ্যুম্ন ছিলেন দ্রোণের শত্রু দ্রুপদের পুত্র এবং গুরু দ্রোণকেই হত্যার জন্য জন্মেছিলেন। দুর্যোধন ভেবেছিলেন, এই ব্যক্তিগত শত্রুতার কথা মনে করিয়ে দিলে দ্রোণ আরও উৎসাহ নিয়ে যুদ্ধ করবেন। এরপর দুর্যোধন পাণ্ডবপক্ষের প্রধান বীরদের নাম বলতে শুরু করেন।

21/02/2026

❤️

ত্বং নো অগ্নে মহোভিঃ পাহি বিশ্বস্যা অরাতেঃ। উত দ্বিষো মর্ত্যস্য।। 🕉️[সামবেদ ০০০৬]◾হে সকলের অগ্রনায়ক! তেজঃস্বরূপ পরমাত্মা...
19/02/2026

ত্বং নো অগ্নে মহোভিঃ পাহি বিশ্বস্যা অরাতেঃ। উত দ্বিষো মর্ত্যস্য।। 🕉️
[সামবেদ ০০০৬]

◾হে সকলের অগ্রনায়ক! তেজঃস্বরূপ পরমাত্মা! তুমি নিজের তেজের দ্বারা সকল দানহীন-ভাবনা, শত্রুতা এবং মানুষের দ্বেষ থেকে আমাদের রক্ষা করো।

🔎 অর্থাৎ, যারা দানশীল নয় এবং শুধু নিজের ক্ষুধা ও স্বার্থের জন্য ব্যস্ত, তারা কখনও উন্নতি করতে পারে না। দান, সাহায্য এবং বন্ধুদের প্রতি ভালো ভাবনা থাকলে একে অপরকে সাহায্য করে আমরা লক্ষ্য অর্জন করতে পারি। তাই হে ঈশ্বর, হে রাজা, হে জ্ঞানী মানুষরা! আপনারা শক্তি, ক্ষমতা ও জ্ঞানের দ্বারা আমাদের দানশূন্যতা এবং শত্রুতার ক্ষতি থেকে রক্ষা করুন। পাশাপাশি, যারা আমাদের সাথে হিংসা করে তাদের দ্বারা সৃষ্ট বাধা থেকেও আমাদের রক্ষা করুন। আমরা প্রার্থনা করি যেন আমরা সবাই একে অপরের সাথে মিলেমিশে উন্নতি করতে পারি, যেমন সুতোয় মুক্তোসমূহ সমানভাবে পরস্পরের সাথে যুক্ত থাকে।

উপদেষ্টা ভগবান শ্রীকৃষ্ণশ্রীকৃষ্ণকে নিয়ে বহু মতভেদ আছে। কেউ তাঁকে স্বয়ং পরমব্রহ্ম বলেন, কেউ পরমব্রহ্মের অবতার আবার কেউ...
19/02/2026

উপদেষ্টা ভগবান শ্রীকৃষ্ণ

শ্রীকৃষ্ণকে নিয়ে বহু মতভেদ আছে। কেউ তাঁকে স্বয়ং পরমব্রহ্ম বলেন, কেউ পরমব্রহ্মের অবতার আবার কেউ তাঁকে কেবল এক মহান যোগীপুরুষ বা ঐতিহাসিক নেতা মনে করেন। এমনকি শ্রীকৃষ্ণ নামে আদৌ কোনো ঐতিহাসিক ব্যক্তি ছিলেন কি না, তা নিয়েও বিতর্ক রয়েছে। উপনিষদ ও বেদে 'কৃষ্ণ' নামে ব্যক্তির উল্লেখ পাওয়া যায়, যেমন ছান্দোগ্য উপনিষদে দেবকীপুত্র কৃষ্ণের কথা বলা হয়েছে এবং ঋগ্বেদে কৃষ্ণ নামের এক ঋষির উল্লেখ আছে। কিন্তু মহাভারতের কৃষ্ণ ও এসব প্রাচীন উল্লেখ একই ব্যক্তি কি না, তা নিয়ে মতভেদ আছে। একদল মনে করেন, মহাভারতের দেবকীনন্দন কৃষ্ণই সেই প্রাচীন ঋষি ও উপনিষদের কৃষ্ণ। অন্যদল বলেন, বেদ অনেক প্রাচীন, তাই মহাভারতের কৃষ্ণ বেদের মন্ত্রদ্রষ্টা হতে পারেন না। ঐতিহাসিক সূত্রেও কৃষ্ণ বা বাসুদেব উপাসনার প্রমাণ পাওয়া যায়। গ্রিক দূত Megasthenes (মেগাস্থিনিস) সৌরসেনীদের দেশে হেরাক্লিস পূজার কথা বলেছেন, যা অনেক গবেষকের মতে কৃষ্ণ পূজাই ছিল। আধুনিক গবেষক Edwin Francis Bryant (এডউইন ফ্রান্সিস ব্রায়ান্ট) তাঁর গ্রন্থ Krishna: A Sourcebook এ এই মত সমর্থন করেছেন। এসব তথ্য থেকে বোঝা যায়, কৃষ্ণ ঐতিহাসিক (ইতিহাসে প্রমাণ পাওয়া যায় এমন ব্যক্তি বা ঘটনা) ব্যক্তি হিসেবেও পূজিত ছিলেন। মহাভারতে শ্রীকৃষ্ণকে একদিকে ঐতিহাসিক নায়ক, অন্যদিকে ঈশ্বররূপে দেখানো হয়েছে। ভগবদ্গীতাতে তিনি যে জ্ঞান দেন, তা বৈদিক সনাতন ধর্মের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে ভক্তরা মনে করেন। এজন্যই সেখানে 'শ্রীভগবান উবাচ' বলা হয়েছে। কিন্তু মহাভারতের আশ্বমেধিক পর্বে দেখা যায়, যুদ্ধের পর অর্জুন সেই জ্ঞান ভুলে গেলে কৃষ্ণ বলেন যে, তখন তিনি বিশেষ যোগস্থিত অবস্থায় সেই তত্ত্ব বলেছিলেন এবং এখন তা পুনরায় বলা সম্ভব নয়। এতে বোঝানো হয়েছে যে, তিনি গভীর যোগসমাধির মাধ্যমে পরমতত্ত্ব (চূড়ান্ত সত্য) উপলব্ধ করে কথা বলেছিলেন। যোগের মাধ্যমে মন পুরোপুরি স্থির হলে সমাধি হয়। সেই সময় আত্মা ও পরমাত্মা এক হয়ে যায়। কৃষ্ণ কখনও মানবসত্তা হিসেবে, কখনও পরমাত্মাস্বরূপে অবস্থান করে 'আমি' বলে উপদেশ দিয়েছেন। তাই গীতায় তাঁর 'আমি' কথাটি কখনও ব্যক্তিগত কৃষ্ণ, কখনও সর্বব্যাপী পরমাত্মাকে নির্দেশ করতে পারে। বেদ ও উপনিষদের বহু ঋষিও তাঁদের উপলব্ধিতে "আমিই সর্বত্র", "আমিই সৃষ্টির উৎস"- এমন কথা বলেছেন। এতে একাধিক সৃষ্টিকর্তা বোঝানো হয় না বরং গভীর আধ্যাত্মিক (জীবনের গভীর সত্য সম্পর্কিত) অভিজ্ঞতায় আত্মা ও পরমাত্মার ঐক্যবোধ প্রকাশ পায়। এই দৃষ্টিকোণ থেকে কৃষ্ণকে ঐতিহাসিক ব্যক্তি ও পরমেশ্বররূপ- উভয়ভাবেই ব্যাখ্যা করা হয়।

যখন একজন মহান যোগী গভীর ধ্যান করেন, তখন তার নিজস্ব সত্তা আর বিশ্বাত্মা (সবকিছুর মধ্যে থাকা ঈশ্বর বা চেতনাশক্তি) আলাদা থাকে না। তিনি সবকিছুর সঙ্গে এক হয়ে থাকেন। উপনিষদ ও বেদে এমন বহু স্থানে দেখা যায়, ঋষিরা উপলব্ধির পর "আমিই সর্বত্র", "আমিই কর্তা"- এইভাবে কথা বলেছেন। এর অর্থ এই নয় যে, তাঁরা আলাদা সৃষ্টিকর্তা হয়ে গেছেন বরং তাঁরা পরমাত্মার সঙ্গে একাত্ম অনুভব করেছিলেন। এই দৃষ্টিকোণ থেকে গীতায় শ্রীকৃষ্ণ যখন 'আমি' বলে কথা বলেন, তখন অনেক ব্যাখ্যাকার মনে করেন- তিনি সেই একাত্ম অভিজ্ঞতার অবস্থান থেকে বলছেন। তিনি নিজেকে জন্মরহিত, অবিনাশী ও সকল প্রাণীর ঈশ্বর বলেছেন। প্রশ্ন ওঠে, এতে কি প্রমাণ হয় যে, ঈশ্বর সত্যিই অবতার হয়ে জন্ম নেন? অন্যদিকে বেদ ও উপনিষদে ঈশ্বরকে সর্বব্যাপক, শরীররহিত ও জন্মমৃত্যুর অতীত বলা হয়েছে। যদি ঈশ্বর সত্যিই শরীর ধারণ করেন, তাহলে তাঁর সর্বব্যাপকতা ও নিরাকার স্বরূপ প্রশ্নের মুখে পড়ে। তাই কিছু চিন্তাবিদ বলেন, ঈশ্বর নিজের স্বরূপ নষ্ট করে অবতার নেন- এ ধারণা যুক্তিসঙ্গত নয়।

ব্রহ্মসূত্রে বলা হয়েছে, মুক্ত আত্মার ওপর কোনো কর্তৃত্ব নেই এবং সে পরমাত্মার সঙ্গে অনেক বিষয়ে সমান থাকে। তাই এমন মুক্ত ব্যক্তি নিজেকে 'ঈশ্বর' বলতে পারেন। এখানে 'ঈশ্বর' মানে সবসময় সৃষ্টিকর্তা নয় বরং 'শ্রেষ্ঠ', 'স্বাধীন' বা 'অধিপতি' বোঝাতেও ব্যবহার হয়েছে।
তবে সৃষ্টিকর্তা হিসেবে জগতের উৎপত্তি স্থিতি লয়ের অধিকার একমাত্র পরমাত্মারই।

ব্রহ্মসূত্রে আরও বলা হয়েছে, মুক্ত পুরুষ শুধু নিজের ইচ্ছা পূরণ করতে পারেন এবং শারীরিক দেহ নিয়ে বা দেহবিহীন- উভয়ভাবে থাকতে পারেন। তিনি সম্পূর্ণ স্বাধীন, প্রকৃতির নিয়ন্ত্রণে থাকেন না। তাই যখন গীতায় শ্রীকৃষ্ণ বলেন যে, ধর্মের অবনতি হলে তিনি জন্মগ্রহণ করেন, কেউ এটা ভগবান বা অবতার হিসেবে না দেখে, মুক্ত পুরুষের স্বাধীনভাবে জন্ম নেওয়া বা আবির্ভাব হিসেবে ব্যাখ্যা করেন।

গীতা পড়লে মনে হয় শ্রীকৃষ্ণের কথা কখনও কিছুটা ভিন্ন মনে হতে পারে, কিন্তু এটা বাধ্যতামূলক ভাবে অবতারবাদ মানার প্রমাণ নয়। এগুলোকে অন্যভাবে বোঝাও সম্ভব: আত্মা ও পরমাত্মার একাত্মতা, মুক্তপুরুষের স্বাধীনতা এবং 'ঈশ্বর' শব্দের ভিন্ন অর্থ বিবেচনা করলে শ্রীকৃষ্ণের কথা সহজে বোঝা যায়।
মুক্তাত্মা বা জীবন্মুক্ত (জীবিত অবস্থায় মুক্ত ব্যক্তি)
পুরুষের মোক্ষলাভের পর দেহ বা ইন্দ্রিয় আর প্রয়োজন হয় না। শাস্ত্রে বলা হয়েছে, মোক্ষলাভের সময় আত্মা 'অশরীর'। মুক্তাত্মা যদি দেহ ধারণ করেন, তাও তা সাধারণ শরীর নয়। তার ঈশ্বরের অনুভূতি বা ক্ষমতা কেবল তার ইচ্ছা অনুযায়ী ঘটে।

তাহলে প্রশ্ন ওঠে, শ্রীকৃষ্ণ কীভাবে জন্মগ্রহণ করলেন? উত্তর হলো, তিনি জীবন্মুক্ত ছিলেন- অর্থাৎ জীবিত অবস্থায়ই মুক্ত। তাই তিনি চাইলে নিজের স্বাধীন সংকল্পে বিশেষ উদ্দেশ্যে আবার দেহ ধারণ করতে পারেন। শ্রীকৃষ্ণ জন্ম নিয়েছিলেন ধর্ম এবং মানুষের কল্যাণের জন্য। তিনি প্রকৃতির নিয়ন্ত্রণে ছিলেন না, সম্পূর্ণ স্বাধীন ছিলেন। এখানে 'ঈশ্বর' শব্দ মানে সর্বশ্রেষ্ঠ বা অধিপতি। গীতায় কখনও বলা হয়েছে, "ঈশ্বরের শরণ নাও" আবার কোথাও বলা হয়েছে, "আমার শরণ নাও।" কোথাও বলা হয়েছে, "অব্যক্ত অক্ষরই পরম গতি" আবার কোথাও "কৃষ্ণপ্রাপ্তিই চূড়ান্ত।" এগুলোকে বিরোধ বলে দেখার দরকার নেই। কারণ গীতা শুধু তত্ত্ব নয়, জীবন যাপনের জন্য প্রয়োগযোগ্য শিক্ষা। শ্রীকৃষ্ণ কখনও মানবস্বরূপে, কখনও পরমাত্মাস্বরূপে কথা বলেছেন।

Address

Dhaka

Telephone

+8801939225164

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when বেদ অমৃত বাণী posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share