02/09/2026
ভাইয়ের লাশ নিতে এক ভাই এলেন লন্ডন থেকে, আরেক ভাই এলেন আফগানিস্তান থেকে!
ভাইয়ের প্রতি ভালোবাসা এমনই। হাজার মাইল দূরত্ব, কাগজপত্রের জটিলতা কিংবা ১৪০ দিনের অপেক্ষাও একজন ভাইকে থামাতে পারেনি।
গত ১৩ এপ্রিল ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্তের ইছামতী নদী থেকে উদ্ধার হয় এক অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ। পরিচয় শনাক্ত না হওয়ায় পরদিন তাকে বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা হয়।
কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সেই মরদেহের ছবি বদলে দেয় পুরো গল্প।
আফগানিস্তানের পরিবার ছবিটি দেখে চিনতে পারে তাদের আপনজনকে। তিনি হাসমত মোহাম্মাদী, একজন আফগান নাগরিক ও ব্যবসায়ী।
ভাইয়ের মরদেহ নিতে প্রথমে লন্ডন থেকে ছুটে আসেন তাঁর এক ভাই। আইনি জটিলতায় মরদেহ নিতে না পেরে তাঁকে ফিরে যেতে হয়। এরপর আফগানিস্তান থেকে বাংলাদেশে আসেন আরেক ভাই ইমাল মোহাম্মাদী। প্রায় দুই মাস ধরে তিনি ছুটেছেন প্রশাসনের দরজায়, সংগ্রহ করেছেন প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও পরিচয়ের প্রমাণ।
অবশেষে ১ সেপ্টেম্বর, দাফনের ১৪০ দিন পর কবর খোলা হলো। মাটির নিচ থেকে তুলে দেওয়া হলো হাসমতের মরদেহ তাঁর ভাইয়ের হাতে।
আরও বিস্ময়কর একটি কথা জানিয়েছেন আঞ্জুমানে মফিদুল ইসলামের একজন কর্মী। তাঁর ভাষ্য, এতদিন কবরের নিচে থাকার পরও হাসমতের চেহারা নাকি বেশ ঝকঝকে ও অক্ষত ছিল।
কিন্তু গল্পের সবচেয়ে কষ্টের অধ্যায় এখানেই।
হাসমত কীভাবে বাংলাদেশে এলেন? কেন ইছামতী নদীর কাছে গেলেন? তাঁর সঙ্গে থাকা কথিত ব্যক্তিদের ভূমিকা কী ছিল? পাকিস্তান-ভারত হয়ে বাংলাদেশ প্রবেশের সময় সীমান্ত চোরাকারবারীদের হাতে পরিবার হত্যার সন্দেহ করলেও ময়নাতদন্তে হৃদরোগে মৃত্যুর কথা বলা হয়েছে।
সত্যটা হয়তো তদন্তই একদিন বলবে।
তবে ১৪০ দিন পর একটি দৃশ্য হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়ার মতো—
একজন ভাই তাঁর ভাইকে শেষবারের মতো নিজের দেশে ফিরিয়ে নিতে এসেছিলেন।
কবরের মাটি একজন মানুষকে আটকে রাখতে পারে,
ভাইয়ের ভালোবাসাকে পারে না।
সংগ্রহিত