Ummul Muminah

Ummul Muminah আলিমাহ বোনদের দ্বারা পরিচালিত দ্বীন শিক্ষার একটি বিশুদ্ধ প্রতিষ্ঠান...

23/03/2026

একবার এক লোক ফুদাইল ইবনু ইয়াদ (রহ.)-এর কাছে অভিযোগ করল, “অমুক আমার নামে আজেবাজে কথা বলছে।” তিনি বললেন, “সে তো তার নেক আমল তোমাকে দিয়ে দিচ্ছে।” এই কথাটা জানলে অনেকেই খুশি হয়, বিশেষ করে যারা পরনিন্দা ও মিথ্যাচারের শিকার। তাই কেউ আপনার নামে আজেবাজে কিছু বললে আপনি বরং খুশি হবেন, হতাশ হবেন না— দুঃখ পাবেন না। যে লোকটি আপনার নামে আজেবাজে বলেছেন, জেনে রাখুন, সেই লোক যদি লাইলাতুল ক্বদরে সারারাত জেগে ইবাদাতও করে, তাহলে তার সেই রাত জেগে থাকার সাওয়াব আপনিই পাচ্ছেন।

[বই : ধূলিমলিন উপহার রামাদান, পৃষ্ঠা- ১৯৯]

✨ ঈদ মুবারক ✨ ঈদ মুবারক ✨আখওয়াতি! “উম্মুল মুমিনাহ” এর পক্ষ থেকে  আপনাদের সকলকে জানাই পবিএ ঈদ-উল-ফিতর এর প্রীতি শুভেচ্ছা ...
20/03/2026

✨ ঈদ মুবারক ✨ ঈদ মুবারক ✨

আখওয়াতি! “উম্মুল মুমিনাহ” এর পক্ষ থেকে আপনাদের সকলকে জানাই পবিএ ঈদ-উল-ফিতর এর প্রীতি শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন 🎊✨


تَقَبَّلَ اللّٰهُ مِنَّا وَمِنْكُمْ 🌙

উচ্চারণ: তাক্বব্বালাল্লহু মিন্না ওয়া মিনকুম।

অর্থ: 'আল্লাহ তাআলা আমাদের ও আপনার নেক আমল তথা ভাল কাজগুলো কবুল করুন।' (আমিন)

19/03/2026

কখনো কখনো বিনা কারণে, বিনা নোটিশে হৃদয় ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে যায়৷ মুক্তোদানার মত টপ টপ করে অশ্রু ঝরে পড়ে ভগ্ন হৃদয়ের উপর৷ হৃদয় ভাঙার টুকরোগুলোকে হাতে নিয়ে আল্লাহর যিকর এবং ইস্তেগফারের মাধ্যমে জোড়া দেওয়ার চেষ্টা করি৷

মুনাজাতে দু'ফোটা অশ্রু দিয়ে সেলাই করার চেষ্টা করি৷ আসলে যে হিয়া বিষণ্ণতায় ভেঙে যায়, সে হৃদয় ইস্তেগফারের স্পর্শতায় খাঁটি সোনায় পরিণত হয়৷ যিকর এবং ইস্তেগফারের মাধ্যমে হৃদয়ের ক্ষতগুলো মুছে যায়৷ তখন আর বিষণ্ণতার আঘাতগুলোর ব্যাথা অনুভূত হয় না৷ মনের মাঝে বুনন করি রব প্রেমের চারা৷ তখন হৃদয়ে প্রশান্তির পরশ বুলিয়ে যায় নীরবে৷ খুলে যায় রবের প্রেমের দুয়ার৷

শায়খ মুহাম্মাদ ইবনু সলিহ আল ‘উসায়মিন রাহিমাহুল্লাহ বলেন, "হতাশার সময় ইস্তেগফারকে আবশ্যক করে নাও; কারণ ইস্তেগফার অপার সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দেয়।" [শারহুল কাফিয়াহ: ৩/১৮৯]

লেখা: সাইফুল্লাহ আল মাহমুদ

18/03/2026

হাদিসে এমন একটা দুআ আছে যে দুআটা আল্লাহ তায়ালা মূসা আলাইহিস সালাম থেকে শুরু করে আখেরী নবী মুহাম্মাদে মুসতফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে পর্যন্ত শিখিয়েছেন। দুআটা এমন অব্যর্থ যে বড় বড় সাহাবীরা নিজেরাও বার বার পড়তেন অন্যদেরও বার বার বর্ণনা করতেন ও পড়ার জন্য বলতেন। সেই দুআ সম্পর্কে হাসান বসরী রহ. বলেছেন:
আমাকে সামুরা ইবনে জুনদুব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বললেন: আমি কি আপনাকে এমন এক হাদিস শোনাবো যেটা আমি রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকেও অনেকবার শুনেছি আবার আবু বকর ও উমর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা থেকেও অনেকবার শুনেছি? শুনাবো সেটা?

আমি বললাম: হ্যাঁ বলুন!

সামুরা বললেন:

যে ব্যক্তি সকাল সন্ধ্যা এই দুআটা পড়ে আল্লাহর কাছে কিছু চাবে আল্লাহ তায়ালা তার দুআ কবুল করবেন অবশ্যই অবশ্যই।

اللَّهمَّ أنتَ خلقتَني وأنتَ تَهْديني وأنتَ تُطعمُني وأنتَ تَسقيني وأنتَ تُميتُني وأنتَ تُحييني

আল্লাহুম্মা আনতা খালাক্বতানি ওয়া আনতা তাহদিনী ওয়া আনতা তুত্বঈমুনি ওয়া আনতা তাসক্বিনী ওয়া আনতা তুমিতুনি ওয়া আনতা তুহইয়িনি।
আয় আল্লাহ! তুমিই আমাকে সৃষ্টি করেছো। তুমিই আমাকে হিদায়াত দাও। তুমিই আমাকে খাওয়াও পিলাও। তুমিই তো আমার হায়াত মওত দেনে ওয়ালা মালিক!

[মুজামুল আওসাত্ব - তাবারানী ১০২৮]
সামুরা আরো বলেন: আমি আব্দুল্লাহ ইবনে সুলাইমের কাছে গিয়েও এই দুআর কথা বলেছিলাম। তিনি শুনে বলেছিলেন:
আমার পিতামাতা কুরবান হোক। রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই কালিমাগুলো দিয়ে দুআ করতেন এবং বলতেন:
আল্লাহ তায়ালা মূসা আলাইহিস সালামকেও এই দুআ গুলো দিয়েছিলেন। তিনি দৈনিক সাতবার এই দুআগুলো পড়ে আল্লাহর কাছে যা চাইতেন আল্লাহ তায়ালা তা দিয়ে দিতেন।
আমি অবাক বিস্ময়ে ভাবি! আল্লাহ তায়ালা কতবড় দেনেওয়ালা রব! হাজার বছর ধরে এক নবী থেকে আরেক নবীকে দুআ শিখিয়ে যাচ্ছেন যেন তারা উম্মতকে শেখাতে পারেন। উম্মত যেন তাদের মালিকের কাছে চাইতে পারে। আর কোন মালিক এমন আছে যে মালিক চায় তার দাস তার কাছে চেয়ে নিক!
~ Ammarul Hoque (Hafi.)

16/03/2026

বোনেদের জন্য হায়েজ অবস্থায় কদরের রাতে এবং রোজায় আমলের তালিকা 🍀

▪️প্রতিদিন সকালে এই নিয়ত করার চেষ্টা করবেন যে, 'হে আল্লাহ! আজকে যত ভালো কাজ করব যত ভালো আমল করব সবটা আপনার সন্তুষ্টির জন্য করতে চাই। প্রতিটা ভালো কাজ সাওয়াবের আশায় করতে চাই। আপনি তাওফীক্ক দান করুন।
কবুল করে নিন। '

(চাইলে কদর তালাশের রাতেও
এভাবে নিয়ত দুয়া করতে পারেন)

প্রতিটা বৈধ কাজের শুরুতে বিসমিল্লাহ পড়বেন এবং নিজ নিজ দায়িত্বে থাকা প্রতিটা কাজেই ভালো নিয়ত করে সাওয়াবের আশায় করার চেষ্টা করবেন। সাহরী ইফতারী প্রস্তুত করার ক্ষেত্রে ঘরের রোজাদারদের খাওয়ানোর মাধ্যমে সাওয়াব আশা করবেন।

🌱 গুনাহ থেকে বেচেঁ থাকা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আমল জিকির তেমন করা না হলেও অন্তত গুনাহ থেকে বেঁচে থাকবেন। যারা অন্য টাইমে দেখেন তারাও অন্তত রোজা রেখে বা রোজার মাসে ইচ্ছাকৃত নাটক সিনেমা গান মিউজিক ইত্যাদি দেখা বা শুনবেন না প্লিজ। রোজার মাসে নিজের আচার ব্যবহার উত্তম করা এবং বাজে কথা বেহুদা কথা থেকে বিরত থাকার চেষ্টা জরুরী।

🌱 প্রতিদিন সকালে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করতে পড়বেন-

اَللّٰهُمَّ مَا أَصْبَحَ بِيْ مِنْ نِعْمَةٍ أَوْ بِأَحَدٍ مِنْ خَلْقِكَ فَمِنْكَ وَحْدَكَ لَا شَرِيْكَ لَكَ ، فَلَكَ الْحَمْدُ وَلَكَ الشُّكْرُ

(আল্লহুম্মা মা আছবাহা বিই মিন নি'মাতিন আও বিআহাদিম মিন খলক্বিকা ফা মিনকা ওয়াহদাকা লা শারীইকা লাকা, ফালাকাল হামদু ওয়া লাকাশ শুকরু)

#প্রতিদিন সন্ধ্যায় আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করতে পড়বেন-

اَللّٰهُمَّ مَا أَمْسَى بِيْ مِنْ نِعْمَةٍ أَوْ بِأَحَدٍ مِنْ خَلْقِكَ فَمِنْكَ وَحْدَكَ لَا شَرِيْكَ لَكَ ، فَلَكَ الْحَمْدُ وَلَكَ الشُّكْرُ
(আল্লহুম্মা মা আমছা বিই মিন নি'মাতিন আও বিআহাদিম মিন খলক্বিকা ফা মিনকা ওয়াহদাকা লা শারীইকা লাকা, ফালাকাল হামদু ওয়া লাকাশ শুকরু।

অর্থাৎ হে আল্লাহ! যে নেয়ামত আমার সাথে বা আপনার সৃষ্টির অন্য কারো সাথে সকালে/সন্ধ্যায় উপনীত হয়েছে; সেসব একমাত্র আপনার পক্ষ হতেই, আপনার কোন শরীক নেই। সুতরাং সমস্ত প্রশংসা আপনার, সমস্ত কৃতজ্ঞতা আপনার।

[ফায়দা হলো সকালে পড়লে দিনের শুকরিয়া আদায় হবে এবং সন্ধ্যায় পড়লে রাতের শুকরিয়া আদায় হয়ে যাবে আলহামদুলিল্লাহ।
শুকরিয়া আদায় অনেক অনেক ফায়দাজনক ও সাওয়াবের আমল তাই এই আমল নিয়মিত করতে আরবিতে মুখস্থ করে নেয়ার অনুরোধ থাকবে অবশ্য ই ]

🌱প্রতিদিন সকালে বা দিনেই
এবং সন্ধ্যা বা রাতে অর্থ বুঝে মন থেকে মাফ চেয়ে সায়্যিদুল ইস্তিগফার পড়ার চেষ্টা করবেন।

اَللّٰهُمَّ اَنْتَ رَبِّيْ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّاۤ اَنْتَ، خَلَقْتَنِيْ وَاَنَا عَبْدُكَ
وَاَنَا عَلٰى عَهْدِكَ وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ
، اَعُوْذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا صَنَعْتُ
اَبُوْءُ لَكَ بِنِعْمَتِكَ عَلَيَّ ، وَاَبُوْءُ بِذَنْبِيْ
فَاغْفِرْ لِيْ فَاِنَّهٗ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوْبَ اِلَّاۤ اَنْتَ

অর্থ- হে আল্লাহ্‌! আপনি আমার রব্ব,
আপনি ছাড়া আর কোনো হক্ব ইলাহ নেই। আপনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন এবং আমি আপনার বান্দা।
আর আমি আমার সাধ্য মতো আপনার (তাওহীদের) অঙ্গীকার ও (জান্নাতের) প্রতিশ্রুতির উপর রয়েছি। আমি আমার কৃতকর্মের অনিষ্ট থেকে আপনার আশ্রয় চাই। আপনি আমাকে আপনার যে নিয়ামত দিয়েছেন তা আমি স্বীকার করছি, আর আমি স্বীকার করছি আমার অপরাধ।
অতএব আপনি আমাকে মাফ করুন। নিশ্চয় আপনি ছাড়া আর কেউ গুনাহসমূহ মাফ করে না।

(যে ব্যক্তি সকালবেলা অথবা সন্ধ্যাবেলা এটি (সায়্যিদুল ইসতিগফার অর্থ বুঝে) দৃঢ় বিশ্বাস সহকারে পড়বে, সে ঐ দিন রাতে বা দিনে মারা গেলে জান্নাতে যাবে।
বুখারী, ৭/১৫০, নং ৬৩০৬।
(হিসনুল মুসলিম এপ্স থেকে সংগৃহীত)

🌱 সকালে ফজরের পর বা তখন ভুলে গেলে দিনেই ৩ বার পড়বেন-

سُبْحَانَ اللّٰهِ وَبِحَمْدِهِ عَدَدَ خَلْقِهِ، وَرِضَا نَفْسِهِ، وَزِنَةَ عَرْشِهِ، وَمِدَادَ كَلِمَاتِهِ
(ছুবহানাল্ল-হি ওয়া বিহামদিহি আদাদা খলক্কিহি, ওয়া রিদ্ব-নাফছিহি ওয়া যিনাতা আরশিহি ওয়া মিদা-দা কালিমা-তিহ)

[সারা সকাল যিকিরের সাওয়াব পাওয়া যাবে ইনশাআল্লাহ ৩ বার পড়াতেই ভাবা যায়? আলহামদুলিল্লাহ।
মুখস্থ না থাকলে করে নিবেন প্লিজ।
এই জিকির রাতেও কয়েকবার পড়তে পারেন ]

🌱 সকালে ১০০ বার পড়া বা
সকালে ও সন্ধ্যায় ১০ বার পড়বেন-

لا إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ، وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
(লা ইলা-হা ইল্লাল্লহু ওয়াহদাহু লা শারিইকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইইং ক্বদিইর )

[এটা পড়তে কিছু টাইম লাগলেও হাদীস অনুযায়ী অনেক বেশি সাওয়াবের আমল তাই গুরুত্ব দিয়ে লিখেছি। দিনে তো পড়বেন ই এছাড়া কদর তালাশের রাতেও ১০ বার পড়বেন ]

🌱 সকাল এবং সন্ধ্যায় ১০০ বার পড়বেন-
سُبْحَانَ اللّهِ وَ بِحَمْدِهِ
(ছুবহানাল্ল-হি ওয়া বিহামদিহী)

[এটা সারাবছর ই মনে করে আমল করবেন অবশ্য ই। হাতেগুণে পড়লে অতি সহজ কিন্তু অনেক বেশি সাওয়াবের আমল তাই কখনোই বাদ দিবেন না]

🌱 সকালে এবং সন্ধ্যায় ১০০ বার করে পড়বেন-

১০০ বার سُبْحَانَ اللهِ পড়া।
১০০ বার الْحَمْدُ لِـلّٰـهِ পড়া
১০০ বার اللهُ أَكْبَرُ পড়া।
১০০ বার لَا إِلٰهَ إِلَّا الله পড়া।

(যদি দুইবেলা না পড়া হয় তাইলে সন্ধ্যা/রাতে প্রতিটা ১০০ বার পড়বেন)

🌻 এছাড়া প্রতি রাতেই যেসব জিকির করবেন-

▪️১০০ বার سُبْحَانَ اللهِ অবশ্য ই পড়বেন।

(এক হাজার গুনাহ মাফ/ এক হাজার সাওয়াব পাওয়ার অতি সহজ আমল।
হাদীসে দিনে পড়ার কথা এসেছে তবে এরুপ সাওয়াবের আশায় কদরের রাতেও পড়তে পারি )

▪️১০০ বা ৭০ বার "আস্তাগফিরুল্ল-হ ওয়া আতুউবু ইলাইহি " বা "আল্লহুম্মাগ ফিরলিই" পড়বেন।

[উপরের সব জিকির ইস্তেগফার এর সংখ্যা হাদীসেই বর্নিত। নিচের তিনটা পড়ার সুবিধার্থে সংখ্যা নির্ধারিত করে দিয়েছি]

▪️১০০ বার পড়তে পারেন-
لا حَوۡلَ ولاَ قوّةَ اِلاّ بالله
লা হাওলা ওয়ালা ক্কুউয়াতা ইল্লা বিল্লাহ।

▪️১০০ বার দরুদে ইব্রাহীম পড়তে পারেন। এটা সর্বোত্তম দরুদ।
(চাইলে এর পর দুয়াও করতে পারেন)

▪️কদরের রাতে এই ইস্তিগফার পড়বেন -

اللَّهُمَّ إِنَّكَ عَفُوٌّ تُحِبُّ الْعَفْوَ فَاعْفُ عَنِّي ‏
(হে আল্লাহ! আপনি ক্ষমাশীল, ক্ষমা করতে ভালোবাসেন। সুতরাং আমাকে ক্ষমা করে দিন)

▪️এছাড়াও রাতে যে কোন কাজ কর্ম ব্যস্ততা থাকলে কাজ করতে করতেই
মুখে যে কোন যিকির করবেন।
আলহামদুলিল্লাহ বা ছোট দরুদ পড়তে পারেন।
ছোট দরুদ হিসেবে পড়তে পারেন
'اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّد'
(আল্লহুম্মা সল্লি আলা মুহাম্মাদিও ওয়া আলা আ-লি মুহাম্মাদ)

▪️বেজোড় সব রাতেই পারলে সাধ্যমত দান করবেন। আশেপাশে গরিব কেও থাকলে রাতেই
পৌঁছে দিবেন বা বিকাশে কোথাও দানের
সুযোগ থাকলে তা করবেন। একান্ত না পারলে দানের নিয়ত করে টাকা আলাদা করে রাখবেন।

🌱 ▪️রাতে ঘুমালে ঘুমের আগে তাসবীহে ফাতেমি পড়বেন
অর্থাৎ ৩৩ বার سُبْحَانَ اللهِ
৩৩ বার اَلْحَمْدُ لِـلّٰـه
৩৪ বার اَللهُ أَكْبَر

[ যে সব দুয়া জিকিরের আরবি এবং উচ্চারণ লিখা এগুলো মূলত আরবিতে শুদ্ধ উচ্চারণ জেনেই পড়তে হবে। বাংলায় উচ্চারণ পুরো সঠিক হয়না]

বি:দ্র: লিখা দীর্ঘ হয়ে যাবে বলে সব আমলের ব্যাপারে হাদীস ও রেফারেন্স উল্লেখ করিনি৷
কিন্তু সব আমল জিকির ই সহিহ/হাসান বা গ্রহণ যোগ্য হাদীস হতেই লিখিত। এখন ব্যস্ততার মাঝেও হাদীস গুলা আবার চেক করার ক্ষেত্রে একটা বই উপকারে এসেছে অনেক।
'দুয়া ও যিকির বিশ্বকোষ'
(শাইখ মাহবুবুল হাসান আরিফী)
বইটা কিনে পড়লে হাদীসের মান সহ ই অসংখ্য আমল জিকিরের ব্যাপারে জানা হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ।

▪️বোনেরা অনুগ্রহ করে পিরিয়ড/নেফাসের টাইমে কুরআন পড়বেন না। অধিকাংশ আলেম সাহাবী তাবেয়ী তথা সালাফদের মতে দলীল প্রমানের ভিত্তিতেই পড়া যাবেনা এটা অধিক গ্রহণযোগ্য মত। এই সময় গুলায় দুয়া ও বেশি বেশি জিকির করা দরুদ পড়ার টার্গেট রাখুন।
এই সময়ে কি কি করা যায় সেটা জানাতেই
তো এই তালিকা লিখেছি।

🌱 সবশেষে দুয়ার ব্যাপারে বলি-

দুয়া ইবাদত এবং পিরিয়ড অবস্থাতেও দুয়া অবশ্য ই কবুল হতেই পারে।
এই অবস্থা দুয়া কবুলের প্রতিবন্ধক না। দুয়া করতে হাত উঠানো বা জায়নামাজে বসাও জরুরী না। দুয়া যে কোন সময় ই করতে পারেন।
শুয়ে বসে কাজের মাঝেও দুয়া করতে পারেন। তাছাড়া পিরিয়ড অবস্থায় জায়নামাযে বসা ও নিষেধ নয়। নাপাকি লাগার আশংকা না থাকলে জায়নামাযে বসে হাত তুলেও দুয়া করতে পারেন।

দুয়া করতে প্রথমে আল্লাহর প্রশংসা মূলক বাক্য বলে তারপর দরুদ পড়বেন
তারপর দুয়া করবেন নিজের জন্য।
তারপর অন্যদের যাদের জন্য চান।
এক্ষেত্রে দুয়ার শুরু ও শেষে দরুদ পড়বেন।
দুয়া কবুল হতে দুয়া ইউনুস পড়ে পড়ে দুয়া করতে পারেন। এবং মুনাজাত ধরা ছাড়াও শুয়ে বসে বা
কাজের মাঝে ই যখনি দুয়া করেন না কেন!
দুয়া কবুল হবেই এই প্রবল আশা ভরসা নিয়েই দুয়া করবেন।

দুয়ায় আল্লাহর কাছে সুস্থতা, নিরাপত্তা, শান্তি, ক্ষমা এবং পূর্ন হেদায়াত বেশি বেশি চাইবেন।
নিজের ও অন্যদের হেদায়াত প্রাপ্তি তাতে আজীবন অটল থাকা এবং ঈমানের সাথে ইজ্জতের সাথে উত্তম সহজ শহীদি মৃত্যু চাইবেন।
বারবার আল্লাহর কাছে খুব করে মাফ চাইবেন। আকুলতা নিয়ে ভালো হবার জন্য সাহায্য তাওফিক চাইবেন।
এবং বিশেষভাবে আল্লাহ ও তাঁর কালাম কুরআনের প্রতি আল্লাহ যেন অনেক মুহাব্বত বাড়িয়ে দেন ও মজবুত সম্পর্ক জুড়ে দেন এই দুয়া কইরেন।
এমনিতে দুয়ায় যাদের তেমন কান্না আসেনা তারা মন খারাপ হলে বা দুনিয়াবি কস্টে কান্না আসলে সেই সময় আল্লাহর কাছে ভালো ভালো দুয়া করা শুরু করবেন।

দেখেন! দুনিয়া আখেরাত এর তুলনায় কেমন? বিশাল সমুদ্রের মাঝে এক ফোটা পানির মত তুচ্ছ ও সামান্য। এখানের কস্ট বিপদগুলাও অল্প সময়ের। আসল জীবন তো পরকালের জীবন।

রোজার মাসে কদর তালাশের রাতে নিজের পরকালে কাজে আসার মত দুয়াই আকুল হয়ে বেশি বেশি করার খুব অনুরোধ থাকবে। 🍀

-Jumana puspo
[একজন মুসলিম নারী ]

▪️কপি/ শেয়ার করতে পারেন সাওয়াবের আশায়।

16/03/2026

আজ রাতে আমলের একটি তালিকা দিলাম 🍀

🌱 আজ রাতে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করতে সবাই পড়ুন-

اَللّٰهُمَّ مَا أَمْسَى بِيْ مِنْ نِعْمَةٍ أَوْ بِأَحَدٍ مِنْ خَلْقِكَ فَمِنْكَ وَحْدَكَ لَا شَرِيْكَ لَكَ ، فَلَكَ الْحَمْدُ وَلَكَ الشُّكْرُ
(আল্লহুম্মা মা আমছা বিই মিন নি'মাতিন আও বিআহাদিম মিন খলক্বিকা ফা মিনকা ওয়াহদাকা লা শারীইকা লাকা, ফালাকাল হামদু ওয়া লাকাশ শুকরু।

অর্থাৎ হে আল্লাহ! যে নেয়ামত আমার সাথে বা আপনার সৃষ্টির অন্য কারো সাথে সন্ধ্যায় উপনীত হয়েছে; সেসব একমাত্র আপনার পক্ষ হতেই, আপনার কোন শরীক নেই। সুতরাং সমস্ত প্রশংসা আপনার, সমস্ত কৃতজ্ঞতা আপনার।

[হাসান হাদীসে বর্নিত আমল।
ফায়দা হলো সন্ধ্যায় পড়লে রাতের শুকরিয়া আদায় হয়ে যাবে আলহামদুলিল্লাহ।

শুকরিয়া আদায় অনেক অনেক ফায়দাজনক ও সাওয়াবের আমল তাই এই আমল নিয়মিত করতে আরবিতে মুখস্থ করে নেয়ার অনুরোধ থাকবে অবশ্য ই ]

🌱 ১০ বার পড়বেন-

لا إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ، وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
(লা ইলা-হা ইল্লাল্লহু ওয়াহদাহু লা শারিইকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইইং ক্বদিইর )

চাইলে ১০০ বার ও পড়তে পারেন।
তবে দিনেই ১০০ বার পড়ার কথা আছে। এছাড়া হাদিসে সকাল সন্ধ্যা ১০ বার
পড়ার কথা আছে।

🌱 অর্থ বুঝে মন থেকে মাফ চেয়ে সায়্যিদুল ইস্তিগফার পড়বেন -

اَللّٰهُمَّ اَنْتَ رَبِّيْ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّاۤ اَنْتَ، خَلَقْتَنِيْ وَاَنَا عَبْدُكَ
وَاَنَا عَلٰى عَهْدِكَ وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ
، اَعُوْذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا صَنَعْتُ
اَبُوْءُ لَكَ بِنِعْمَتِكَ عَلَيَّ ، وَاَبُوْءُ بِذَنْبِيْ
فَاغْفِرْ لِيْ فَاِنَّهٗ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوْبَ اِلَّاۤ اَنْتَ

অর্থ- হে আল্লাহ্‌! আপনি আমার রব্ব,
আপনি ছাড়া আর কোনো হক্ব ইলাহ নেই। আপনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন এবং আমি আপনার বান্দা।
আর আমি আমার সাধ্য মতো আপনার (তাওহীদের) অঙ্গীকার ও (জান্নাতের) প্রতিশ্রুতির উপর রয়েছি। আমি আমার কৃতকর্মের অনিষ্ট থেকে আপনার আশ্রয় চাই। আপনি আমাকে আপনার যে নিয়ামত দিয়েছেন তা আমি স্বীকার করছি, আর আমি স্বীকার করছি আমার অপরাধ।
অতএব আপনি আমাকে মাফ করুন। নিশ্চয় আপনি ছাড়া আর কেউ গুনাহসমূহ মাফ করে না।

(যে ব্যক্তি সকালবেলা অথবা সন্ধ্যাবেলা এটি (সায়্যিদুল ইসতিগফার অর্থ বুঝে) দৃঢ় বিশ্বাস সহকারে পড়বে, সে ঐ দিন রাতে বা দিনে মারা গেলে জান্নাতে যাবে।
বুখারী, ৭/১৫০, নং ৬৩০৬।
(হিসনুল মুসলিম এপ্স থেকে সংগৃহীত

🌱 ১০০ বার পড়বেন-
سُبْحَانَ اللّهِ وَ بِحَمْدِهِ
(ছুবহানাল্ল-হি ওয়া বিহামদিহী)

[এটা সারাবছর ই মনে করে আমল করবেন অবশ্য ই। হাতেগুণে পড়লে অতি সহজ কিন্তু অনেক বেশি সাওয়াবের আমল তাই কখনোই বাদ দিবেন না]

🌱 ১০০ বার করে পড়বেন-

১০০ বার سُبْحَانَ اللهِ পড়া।
১০০ বার الْحَمْدُ لِـلّٰـهِ পড়া
১০০ বার اللهُ أَكْبَرُ পড়া।
১০০ বার لَا إِلٰهَ إِلَّا الله পড়া।

▪️১০০ বার পড়তে পারেন-
لا حَوۡلَ ولاَ قوّةَ اِلاّ بالله
লা হাওলা ওয়ালা ক্কুউয়াতা ইল্লা বিল্লাহ।

▪️১০০ বার দরুদে ইব্রাহীম বা ছোট দরুদ পড়তে পারেন।

▪️এছাড়াও রাতে যে কোন কাজ কর্ম ব্যস্ততা থাকলে কাজ করতে করতেই
মুখে যে কোন যিকির করবেন।
আলহামদুলিল্লাহ বা ছোট দরুদ পড়তে পারেন।

ছোট দরুদ হিসেবে পড়তে পারেন
'اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّد'
(আল্লহুম্মা সল্লি আলা মুহাম্মাদিও ওয়া আলা আ-লি মুহাম্মাদ)

(এসব আমল সবাই করতে পারবেন)

📌যাদের কুরআন পড়ার সুযোগ আছে

▪️সবাই সূরা হাশরের শেষ তিন আয়াত পড়ে নিন 🍀

প্রথমে তিনবার পড়বেন।
أعوذ بالله السميع العليم من الشيطان الرجيم
আউ'যুবিল্লাহিছ ছামীয়ি'ল আ'লীইমি মিনাশ শাইত্বনির রজীম”।

তারপর পড়ুন

هُوَ اللّٰهُ الَّذِي لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ عَالِمُ الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ هُوَ الرَّحْمَنُ الرَّحِيمُ (22)

هُوَ اللّٰهُ الَّذِي لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْمَلِكُ الْقُدُّوسُ السَّلَامُ الْمُؤْمِنُ الْمُهَيْمِنُ الْعَزِيزُ الْجَبَّارُ الْمُتَكَبِّرُ سُبْحَانَ اللَّهِ عَمَّا يُشْرِكُونَ (23)

هُوَ اللّٰهُ الْخَالِقُ الْبَارِئُ الْمُصَوِّرُ لَهُ الْأَسْمَاءُ الْحُسْنَى يُسَبِّحُ لَهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَهُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ (24)

▪️সূরা বাকারার শেষ দুই আয়াত ও
সূরা মুলক অবশ্য ই পড়বেন।

▪️আজ রাতে এক পারা পড়ার টার্গেট নিন যাদের সুযোগ আছে।

আর যাদের কুরআনের কিছু মুখস্থ আছে নামাজে ১০০ আয়াত পড়ার টার্গেট নিন।
নামাজে ১০০ আয়াত পড়তে সূরা নাবা, নাযিআত, আবাসা পড়লেই হবে।
বা সূরা ওয়াকিয়া সাথে ছোট কোন সূরা।
যাদের কিছু সূরা মুখস্থ আছে আয়াত সংখ্যা খেয়াল করে পড়ার চেষ্টা করতে পারেন।

▪️যাদের মুখস্থ নেই তারা নামাজে পড়তে পারবেন না। তবে সবাই অন্তত ১০০ আয়াত কুরআন দেখেই তিলাওয়াত করবেন।
এতেও ফজিলত পাবেন।
সূরা মুলক আর সূরা ওয়াকিয়া পড়লেই হবে।

আর তিনবার সূরা ইখলাস পড়তে ভুলবেন না কয়েক দফায়।

(পিরিয়ড /নেফাস অবস্থায় কুরআন পড়া যাবেনা।)

© Jumana puspo

11/03/2026

আমাদের অন্তর থেকে নুর হারিয়ে যায়। আমাদের আমলে আগের সেই স্বাদ নেই। আমাদের জীবন থেকে বরকত হারিয়ে যায়। কিন্তু কীভাবে সেই বারাকাহ ফিরিয়ে আনা যায় কীভাবে সেই নুর আবারো জ্বালানো যায় তা কি জানি? নবী আলাইহিস সালাম দুয়া শিখিয়ে দিয়েছেন। ইবনে আব্বাস বলছেন:

আমি একদিন আল্লাহর রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কীভাবে কিয়ামুল লাইল করেন তা দেখার জন্য তার সাথে ছিলাম। তিনি জাগলেন। অযু করলেন। আমিও তার সাথে দাঁড়ালাম। তিনি সালাত আদায় করলেন। সিজদায় গিয়ে এই দুয়া পড়লেন:

اللهمَّ اجعلْ في قلبي نورًا، وفي لساني نورًا، وفي بصري نورًا، وفي سمعي نورًا، وعنْ يميني نورًا، وعنْ يساري نورًا، ومنْ فوقي نورًا، ومنْ تحتي نورًا، ومنْ أمامي نورًا، ومنْ خلفي نورًا، واجعلْ لي في نفسي نورًا، وأَعْظِمْ لي نورًا

আল্লাহুম্মাজআল ফি ক্বলবি নুরান। ওয়া ফি লিসানি নুরান। ওয়া ফি বাসারি নুরান। ওয়া ফি সামঈ নুরান। ওয়া আন ইয়ামিনি নুরান। ওয়া আন ইয়াসারি নুরান। ওয়া মিন ফাওক্বি নুরান। ওয়া মিন তাহতি নুরান। ওয়া মিন আমামি নুরান। ওয়া মিন খলফি নুরান। ওয়াজআল লি ফি নাফসি নুরান। ওয়া আ'যিম লি নুরান।

ইয়া আল্লাহ! আমার ক্বলবে নুর ঢেলে দাও। আমার যবানে নুর দাও। আমার দৃষ্টিতে নুর দাও। আমার শ্রবণে নুর দাও। আমার ডানে বাঁয়ে নুর দাও। উপরে নীচেও নুর দাও। সামনে পেছনেও নুর দাও। আমার নিজের মধ্যেই নুর দিয়ে দাও। আর আমার জন্য নুর করে দাও মহান।

[বুখারী ও মুসলিম]

—উস্তায আম্মারুল হক

10/03/2026

লাইলাতুল কদরের শ্রেষ্ঠ ১২ টি সহজ আমল, যেগুলো তুলনামূলক সহজ ও গোছানো। ইনশাআল্লাহ্ সকলেই আমল করতে পারবেন।
➖➖➖➖➖◄❖►➖➖➖➖➖

❖ (এক.) ৮/১০ রাকাত তাহাজ্জুদের নামাজ আদায় পড়া (বিশেষত শেষ রাতে)
লাইলাতুল কদরের প্রধান আমল হলো, কিয়াম তথা নামাজে দণ্ডায়মান হওয়া। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে সওয়াবের আশায় কদরের রাতে (ইবাদতের জন্য) দণ্ডায়মান হবে, তার পূর্বের গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।’’ [সহিহ বুখারি: ১৯০১, সহিহ মুসলিম: ৭৬০]
❖ (দুই.) ১৫/২০ বার সূরা ইখলাস পাঠ করা
রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘যাঁর হাতে আমার জীবন, তাঁর কসম করে বলছি, নিশ্চয়ই এই সূরা ইখলাস কুরআনের এক তৃতীয়াংশের সমান।’’ [সহিহ বুখারি: ৫০১৩]
অন্য হাদিসে এসেছে, ‘‘যে ব্যক্তি সূরা ইখলাস ১০ বার শেষ করবে, তার জন্য জান্নাতে আল্লাহ্ একটি প্রাসাদ নির্মাণ করবেন।’’ [সিলসিলা সহিহাহ: ৫৮৯, হাদিসটি সহিহ]
❖ (তিন.) সুবহানাল্লাহ্, আলহামদুলিল্লাহ, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্ ও আল্লাহু আকবার—প্রতিটি ১০০ বার করে মোট ৪০০ বার পড়া।
রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন—
► ‘‘যে ব্যক্তি ১০০ বার ‘সুবহানাল্লাহ’ বলবে, সে ১০০ ক্রীতদাস মুক্ত করার সওয়াব পাবে;
► যে ব্যক্তি ১০০ বার ‘আলহামদুলিল্লাহ্’ বলবে, সে আল্লাহর রাস্তায় যুদ্ধের জন্য ১০০ টি সাজানো ঘোড়ায় মুজাহিদ প্রেরণের সওয়াব পাবে;
► যে ব্যক্তি ১০০ বার ‘আল্লাহু আকবার’ বলবে, সে ১০০টি মাকবুল (কবুলকৃত) উট কুরবানির সওয়াব পাবে;
► যে ব্যক্তি ১০০ বার ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলবে, সে এত সওয়াব পাবে, যার ফলে আসমান ও যমিন পূর্ণ হয়ে যাবে।’’ [ইবনু মাজাহ: ২/১২৫২, মুসনাদ আহমাদ: ৬/৩৪৪, হাদিসটি হাসান]
❖ (চার.) একটি গুরুত্বপূর্ণ তাসবিহ কমপক্ষে ১০০ বার পড়ার চেষ্টা করা।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘যে ব্যক্তি দৈনিক ১০০ বার পড়বে—
لَا إِلٰهَ إِلاَّ اللّٰهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيْكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَىْءٍ قَدِيرٌ
[মোটামুটি উচ্চারণ: লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু ওয়াহদাহূ লা শারীকা লাহূ লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু ওয়া হুওয়া ‘আলা কুল্লি শাইয়িন ক্বাদীর।]
অর্থ: আল্লাহ্ ব্যতীত কোনো সার্বভৌম সত্তা নেই। তিনি এক; তাঁর কোনো অংশীদার নেই। রাজত্ব এবং প্রশংসা কেবল তাঁরই; তিনি সকল বিষয়ে সর্বশক্তিমান।
► সে ১০টি গোলাম মুক্ত করার সওয়াব পাবে;
► তার জন্য ১০০ সওয়াব লেখা হবে;
► তার ১০০ গুনাহ মিটিয়ে দেওয়া হবে;
► ওই দিন সন্ধ্যা পর্যন্ত সে শয়*তান থেকে নিরাপদ থাকবে এবং (সন্ধ্যায় বা রাতে পাঠ করলে সকাল পর্যন্ত নিরাপদ থাকবে)
► ওই দিনের হিসেবে কেউ তার চেয়ে উত্তম সওয়াবের কাজ করতে পারবে না। তবে হ্যাঁ, ওই ব্যক্তি সক্ষম হবে, যে এর চেয়ে বেশি পড়বে।’’ [সহিহ বুখারি: ৩২৯৩, আবু দাউদ: ৫০৭৭]
অন্য হাদিসে এসেছে, ‘‘যে ব্যক্তি প্রত্যেকটি দশবার করে বলবে, সে ইসমাঈল (আ.)-এর বংশের চারজন ক্রীতদাস মুক্ত করে দেওয়ার নেকি পাবে।’’ [সহিহ বুখারি: ৬৪০৪]
❖ (পাঁচ.) কদরের রাতের বিশেষ দু‘আটি মনোযোগের সাথে ৩০/৪০ বার পড়া।
আয়িশা (রা.) বলেন, আমি বললাম, ‘হে আল্লাহর রাসূল! আমি যদি বুঝতে পারি, কোন রাতটি লাইলাতুল কদর, তাহলে ওই রাতে কী বলব?’ নবীজি বলেন, তুমি বলো—
اَللّٰهُمَّ إِنَّكَ عَفُوٌّ تُحِبُّ الْعَفْوَ فَاعْفُ عَنِّيْ
[আল্লাহুম্মা ইন্নাকা ‘আফুউ-উন, তু‘হিব্বুল ‘আফওয়া ফা’অ্ফু ‘আন্নী]
অর্থ: হে আল্লাহ্! তুমি ক্ষমাশীল, তুমি ক্ষমা করতে পছন্দ করো। অতএব, আমাকে ক্ষমা করে দাও। [মুসনাদ আহমাদ: ৬/১৮২, সহিহ]
❖ (ছয়.) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই ইস্তিগফারটি বেশ কয়েকবার পড়া।
ইবনু মাস‘ঊদ (রা.) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘যে ব্যক্তি এই দু‘আ পড়বে, তার গুনাহ্ ক্ষমা করে দেওয়া হবে—যদিও সে জিহাদের ময়দান থেকে পলায়নকারী হয়।’’
ﺃَﺳْﺘَﻐْﻔِﺮُ ﺍﻟﻠّٰﻪَ ﺍﻟَّﺬِﻱْ ﻻَ ﺇِﻟٰﻪَ ﺇِﻻَّ ﻫُﻮَ ﺍﻟْﺤَﻰُّ ﺍﻟْﻘَﻴُّﻮﻡُ ﻭَﺃَﺗُﻮْﺏُ ﺇِﻟَﻴْﻪِ
[আসতাগফিরুল্লাহ আল্লাযি (অথবা আস্তাগফিরুল্লাহাল্লাযি) লা ইলাহা ইল্লা হুওয়াল ‘হাইয়ুল ক্বাইয়ূমু ওয়া আতূবু ইলাইহি]
অর্থ: আমি আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি, যিনি ব্যতীত কোনো সার্বভৌম সত্তা নেই—তিনি চিরঞ্জীব, চিরস্থায়ী—এবং আমি তাঁর নিকট তাওবাহ্ করছি। [আবু দাউদ: ১৫১৭, তিরমিযি: ৩৫৭৭, হাদিসটি বিশুদ্ধ]
অন্য বর্ণনায় এসেছে, ‘‘আসতাগফিরুল্লাহাল ‘আযীম, আল্লাযি... (বাকি অংশে কোনো পরিবর্তন নেই)।’’ [তিরমিযি: ৩৫৭৭, হাসান]
❖ (সাত.) কয়েকবার সাইয়িদুল ইসতিগফার পড়া। অর্থাৎ এই ইস্তিগফারকে হাদিসে বলা হয়েছে ‘ইস্তিগফারের নেতা’।
ﺍَﻟﻠّٰﻬُﻢَّ ﺃَﻧْﺖَ ﺭَﺑِّﻲْ ﻟَﺎ ﺇِﻟٰﻪَ ﺇِﻟَّﺎ ﺃَﻧْﺖَ ﺧَﻠَﻘْﺘَﻨِﻲْ ﻭَﺃَﻧَﺎ ﻋَﺒْﺪُﻙَ ﻭَﺃَﻧَﺎ ﻋَﻠَﻰ ﻋَﻬْﺪِﻙَ ﻭَﻭَﻋْﺪِﻙَ ﻣَﺎ ﺍﺳْﺘَﻄَﻌْﺖُ ﺃَﻋُﻮْﺫُ ﺑِﻚَ ﻣِﻦْ ﺷَﺮِّ ﻣَﺎ ﺻَﻨَﻌْﺖُ ﺃَﺑُﻮْﺀُ ﻟَﻚَ ﺑِﻨِﻌْﻤَﺘِﻚَ ﻋَﻠَﻲَّ ﻭَﺃَﺑُﻮْﺀُ ﺑِﺬَﻧْﺒِﻲ ﻓَﺎﻏْﻔِﺮْ ﻟِﻲ ﻓَﺈِﻧَّﻪُ ﻟَﺎ ﻳَﻐْﻔِﺮُ ﺍﻟﺬُّﻧُﻮﺏَ ﺇِﻟَّﺎ ﺃَﻧْﺖَ
[আল্লাহুম্মা আনতা রাব্বী লা-ইলাহা ইল্লা আনতা খালাক্বতানী ওয়া আনা ‘আবদুকা, ওয়া আনা ‘আলা ‘আহ্দিকা ওয়া ওয়া’দিকা মাসতা ত’তু আ‘উযুবিকা মিন শাররি মা সনা’তু আবূ-উ লাকা বিনি’মাতিকা ‘আলাইয়া ওয়া আবূ-উ বিযানবী, ফাগফিরলি ফা ইন্নাহু লা-ইয়াগফিরুয যুনূবা ইল্লা আনতা] (অবশ্যই আরবি দেখে শিখুন, বাংলা উচ্চারণ সঠিক হয় না)
অর্থ: হে আল্লাহ! তুমিই আমার রব। তুমি ছাড়া কোনো সার্বভৌম সত্তা নেই। তুমিই আমাকে সৃষ্টি করেছো আর আমি তোমারই গোলাম। তুমি আমার কাছ থেকে যে অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রুতি নিয়েছো, সাধ্যানুযায়ী আমি তার ওপর চলবো। আমি আমার কৃতকর্মের অনিষ্ট থেকে তোমার কাছে আশ্রয় চাই। তুমি আমার প্রতি তোমার যে নিয়ামত দিয়েছো তা স্বীকার করছি এবং আমার গুনাহের কথাও স্বীকার করছি। অতএব, তুমি আমাকে মাফ করে দাও। কারন তুমি ছাড়া কেউ গুনাহ ক্ষমা করতে পারে না।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘যে ব্যক্তি দিনের বেলায় এ দু‘আটি দৃঢ় বিশ্বাসের সাথে পড়বে, অতঃপর সেদিন সন্ধ্যা হওয়ার আগেই মারা যাবে, সে জান্নাতীদের অন্তর্ভুক্ত হবে। আর যে ব্যক্তি সন্ধ্যায় দৃঢ় বিশ্বাস নিয়ে এটি পড়বে, অতঃপর সকাল হওয়ার আগেই মারা যাবে, সে জান্নাতীদের অন্তর্ভুক্ত হবে।’’ [সহিহ বুখারি: ৬৩০৬]
❖ (আট.) নিজের জন্য, বাবা-মার জন্য এবং যেকোনো জীবিত ও মৃত মুসলিমের জন্য দু‘আ করা।
মুসলিম জাতির পিতা ইবরাহিম (আ.)-এর চমৎকার দু‘আ (ইসতিগফার)। এর মাধ্যমে একই সাথে নিজের জন্য, বাবা-মার জন্য এবং সকল জীবিত ও মৃত ঈমানদারের জন্য দু‘আ করা হয়। খুবই গুরুত্বপূর্ণ দু‘আ।
رَبَّنَا اغْفِرْ لِيْ وَلِوَالِدَيَّ وَلِلْمُؤْمِنِيْنَ يَوْمَ يَقُوْمُ الْحِسَابُ
‘‘হে আমাদের রর! যেদিন হিসাব কায়েম হবে, সেদিন তুমি আমাকে, আমার পিতামাতাকে ও মুমিনদেরকে ক্ষমা করে দিয়ো।’’ [সূরা ইবরাহিম, আয়াত: ৪১]
❖ (নয়.) গুরুত্বপূর্ণ একটি ব্যাপক অর্থবোধক দু‘আ বেশি করে পড়া।
اَللّٰهُمَّ إِنِّيْ أَسْأَلُكَ الْعَافِيَةَ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ
[উচ্চারণ: আল্লা-হুম্মা ইন্নী আসআলুকাল ‘আ-ফিয়াতা ফিদ্দুনইয়া ওয়াল আ-খিরাহ।]
অর্থ: হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট দুনিয়া ও আখেরাতের নিরাপত্তা প্রার্থনা করছি। [আল-আদাবুল মুফরাদ: ১২০০, হাদিসটি সহিহ (হাদিসটি আরো দীর্ঘ)]
❖ (দশ.) দ্বীনের উপর টিকে থাকার দু‘আ, এটিও বেশি করে পড়া উচিত এই রাতে।
উম্মে সালামা (রা.) বলেন—রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে দু'আটি সবচেয়ে বেশি পড়তেন, তা হলো–
يَا مُقَلِّبَ الْقُلُوبِ ثَبِّتْ قَلْبِي عَلٰي دِيْنِكَ
[মোটামুটি উচ্চারণ: ইয়া মুক্বাল্লিবাল ক্বুলূব! সাব্বিত ক্বালবী ‘আলা দীনিকা]
[অর্থ: হে অন্তরসমূহের পরিবর্তনকারী! আপনি আমার অন্তরকে আপনার দ্বীনের (ইসলামের) উপর অটল রাখুন।]
[তিরমিযি, হাদিস: ৩৫২২, হাসান]
❖ (এগারো.) কিছু দান-সদাকাহ্ করা।
যদি সম্ভব হয়, তবে রাতেই করুন। এটাই উত্তম। এক টাকা দান করলে হাজার মাস (৮৪ বছর) ধরে এক টাকা দান করার নেকি পাবেন। এই রাতের প্রতিটি আমল এভাবেই বৃদ্ধি পাবে। কারণ আল্লাহ্ তা‘আলা বলেন, ‘‘কদরের রাতটি (মর্যাদার দিক থেকে) হাজার মাসের চেয়েও শ্রেষ্ঠ।’’ [সূরা ক্বাদর, আয়াত: ০৩]
যদি রাতে দিতে না পারেন, তবে রাতেই কিছু টাকা সাদাকাহ করার জন্য আলাদা করে রেখে দিন। এগুলো দিনের বেলা দিবেন গরিবদেরকে।
❖ (বারো.) বেশি করে দরুদ পড়বেন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর। শ্রেষ্ঠ দরুদ সেটিই, যা আমরা নামাজের শেষ বৈঠকে পড়ি।
বেশি বেশি আমল করতে গিয়ে কোয়ালিটির দিকে উদাসীন হবেন না। আল্লাহর কাছে আন্তরিকতাপূর্ণ আমলের মূল্য অনেক বেশি।
আল্লাহ্ তা‘আলা আমাদের আমল করার তাওফিক দান করুন।

লেখা : Tasbeeh

09/03/2026

লাইলাতুল কদর তালাশে রমাদানের শেষ ১০ রাতের জন্য বেসিক আমল প্ল্যান:

কুরআন তেলাওয়াত:

১. তিন বার সূরা ইখলাস (১২ আয়াত)
২. তিন বার সূরা ফালাক (১৫ আয়াত)
৩. তিন বার সূরা নাস (১৮ আয়াত)
৪. সুরাহ বাকারার শেষ ২ আয়াত
৫. সুরাহ মূলক (৩০ আয়াত)
৬. সুরাহ সিজদাহ (৩০ আয়াত)
৭. সুরাহ কদর ৫ আয়াত

মোট: ১১২ আয়াত*

*[ আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর ইবনুল ‘আস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি রাতের সলাতে দশটি আয়াত তিলাওয়াত করবে, তার নাম গাফিলদের তালিকায় লিপিবদ্ধ করা হবে না। আর যে ব্যক্তি (রাতের) সলাতে এক শত আয়াত পাঠ করবে, তার নাম অনুগত বান্দাদের তালিকায় লিপিবদ্ধ করা হবে। যে ব্যক্তি সলাতে দাঁড়িয়ে এক হাজার আয়াত তিলাওয়াত করবে, তাকে অফুরন্ত পুরস্কার প্রাপ্তদের তালিকায় লিপিবদ্ধ করা হবে।

যিকর:

১. সুব্‌হা-নাল্লা-হি ওয়া বিহামদিহী ‘আদাদা খালক্বিহী, ওয়া রিদা নাফসিহী, ওয়া যিনাতা ‘আরশিহী, ওয়া মিদা-দা কালিমা-তিহী। × ৩

سُبْحَانَ اللّٰهِ وَبِحَمْدِهٖ عَدَدَ خَلْقِهٖ، وَرِضَا نَفْسِهٖ، وَزِنَةَ عَرْشِهٖ، وَمِدَادَ كَلِمَاتِهٖ

আমি আল্লাহর প্রশংসাসহ পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করছি— তাঁর সৃষ্ট বস্তুসমূহের সংখ্যার সমান, তাঁর নিজের সন্তোষের সমান, তাঁর আরশের ওজনের সমান ও তাঁর বাণীসমূহ লেখার কালি পরিমাণ (অগণিত অসংখ্য)

২. ইয়া রব্বি লাকাল হামদু কামা ইয়ামবাগি লিজালালি ওয়াজহিকা ওয়া লিআজিমি সুলতানিকা। × ১

يا رَبِّ لَكَ الحَمْدُ كما يَنْبَغِي لِجَلالِ وَجْهِكَ ولِعَظِيمِ سُلْطانِكَ

অর্থ : হে আমার প্রভু! তোমার সুউচ্চ মর্যাদা ও বিশাল রাজত্ব অনুপাতেই তোমার জন্য প্রশংসা।]

৩. আসতাগফিরুল্লাহ আল্লাযি (অথবা আস্তাগফিরুল্লাহাল্লাযি) লা ইলাহা ইল্লা হুওয়াল ‘হাইয়ুল ক্বাইয়ূমু ওয়া আতূবু ইলাইহি × ১

৪. সায়্যিদুল ইসতিগফার (ক্ষমা চাওয়ার শ্রেষ্ঠ দোআ) × ১

اَللّٰهُمَّ اَنْتَ رَبِّيْ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّاۤ اَنْتَ، خَلَقْتَنِيْ وَاَنَا عَبْدُكَ

হে আল্লাহ্‌! আপনি আমার রব্ব, আপনি ছাড়া আর কোনো হক্ব ইলাহ নেই। আপনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন এবং আমি আপনার বান্দা।

আল্লা-হুম্মা আনতা রব্বী লা ইলা-হা ইল্লা আনতা খলাক্বতানী ওয়া আনা ‘আব্দুকা,

وَاَنَا عَلٰى عَهْدِكَ وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ، اَعُوْذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا صَنَعْتُ

আর আমি আমার সাধ্য মতো আপনার (তাওহীদের) অঙ্গীকার ও (জান্নাতের) প্রতিশ্রুতির উপর রয়েছি। আমি আমার কৃতকর্মের অনিষ্ট থেকে আপনার আশ্রয় চাই।

ওয়া আনা ‘আলা ‘আহদিকা ওয়া ওয়া‘দিকা মাস্তাত্বা‘তু। আ‘উযু বিকা মিন শাররি মা সানা‘তু,

اَبُوْءُ لَكَ بِنِعْمَتِكَ عَلَيَّ، وَاَبُوْءُ بِذَنْبِيْ

আপনি আমাকে আপনার যে নিয়ামত দিয়েছেন তা আমি স্বীকার করছি, আর আমি স্বীকার করছি আমার অপরাধ।

আবূউলাকা বিনি‘মাতিকা ‘আলাইয়্যা, ওয়া আবূউ বিযাম্বী।

فَاغْفِرْ لِيْ فَاِنَّهٗ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوْبَ اِلَّاۤ اَنْتَ

অতএব আপনি আমাকে মাফ করুন। নিশ্চয় আপনি ছাড়া আর কেউ গুনাহসমূহ মাফ করে না।
ফাগফির লী, ফাইন্নাহূ লা ইয়াগফিরুয যুনূবা ইল্লা আনতা

৫. সুবহানাল্লাহি ওয়াবিহামদিহী × ১০০

৬. দুরুদে ইব্রাহিম ১০ বার

নামাজ:

১. তারাবীহ সাধ্যমত
২. দুই রাকাত তওবার সালাত
৩. তাহাজ্জুদ/কিয়ামুল লাইল সাধ্যমত
৪. বিতর ৩ রাকাত

দুআ:

লাইলাতুল কদর প্রাপ্তির জন্য দুআ
জাহান্নাম থেকে মুক্তি ও জান্নাতুল ফেরদৌস প্রাপ্তির দুআ করা
কবরের আযাব থেকে মুক্তির দুআ
উম্মাহর জন্য দুআ
মুসলিম বন্দি ও মুজাহিদদের জন্য দুআ
নিজের শহীদি মৃত্যুর জন্য দুআ
বারবার হজ্জ উমরাহ নসিব হওয়ার জন্য দুআ
নিজের প্রয়োজন মাফিক দুআর লিস্ট তৈরি করে দুআ করা

আমল:

১. অন্তত একজন মুসলিমকে ইফতার করানো

২. অন্তত ১০ টাকা হলেও সাদাকাহ করা

৩. কদরের দুয়া পড়া:
اللَّهُمَّ إِنَّكَ عُفُوٌّ تُحِبُّ الْعَفْوَ فَاعْفُ عَنِّي

উচ্চারণ : 'আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুয়্যুন; তুহিব্বুল আফওয়া; ফাফু আন্নি।’

অর্থ : হে আল্লাহ! আপনি ক্ষমাশীল; ক্ষমা করতে ভালোবাসেন; অতএব আমাকে ক্ষমা করে দিন।

৪. আল্লাহর সৃষ্টি নিয়ে ১ মিনিট চিন্তাভাবনা করা

৫. ১ মিনিট আখেরাতের কথা স্মরণ করা

৬. কুরআনের ১ আয়াত তর্জমা/তাফসীর সহকারে পড়া ও অন্তত ২-৩ মিনিট চিন্তা ভাবনা করা

৭. সেহেরীর সময়ে একান্ত ইস্তেগফার

© Muhammad Rumy Ibn Yousf

08/03/2026

“ কোনো কোনো জাতির স্বভাব হচ্ছে, রমাদানে প্রচুর ইবাদত-বন্দেগী করবে। অনেক পরিশ্রম করবে।
কিন্তু যখন রমাদান চলে যায়, তাদের এসব ইবাদত-বন্দেগীও হারিয়ে যায়।
বড়ই নিকৃষ্ট মানুষ এরা, যারা কিনা আল্লাহকে শুধু রমাদান মাসেই চেনে। ”

- বিশর আল-হাফি (রহিমাহুল্লাহ.)
[ মিফতাহুল আফকারঃ ২/২৮৩ ]

05/03/2026

আমরা যখন নিজে কোনো পেরেশানি বা পরীক্ষার ভেতর দিয়ে যাই অথবা সাধারণ ভাবেই কোনো কিছুর জন্য আল্লাহর কাছে চাই তখন নিজের জন্য দু'আর পাশাপাশি এমন ই কোনো পেরেশানি বা পরীক্ষায় বা অন্য কোনো পরীক্ষায় আছে এমন অনুপস্থিত কোনো বোনের জন্য দু'আ করবো। এতে করে অনেক গুলো ফায়দা পাওয়া যায় —

এক. দু'আ কবুলের চান্স বেড়ে যায় কারণ অনুপস্থিত কারো জন্য দু'আ করলে ফেরেশতারা অনুরূপ দু'আ আমাদের জন্য করেন। এবং আমি নিযে প্রমাণ পেয়েছি অনেকবার আলহামদুলিল্লাহ, বারাকাল্লাহ।

দুই. অন্যের পরীক্ষা, কষ্টের কথা চিন্তা করলে নিজের নিয়ামতের শুকরিয়া আদায়, রব্বের প্রতি কৃতজ্ঞতা আদায় হয় সুন্দর ভাবে এতে করে অন্তরে এক অন্য রকম প্রশান্তি আসে।

তিন. অন্য মুসলিম ভাই বোনের প্রতি ভালোবাসা, অন্তরের সংকীর্ণতা কমে আসে। নিজের অপ্রাপ্তি গুলো কম মনে হয় আলহামদুলিল্লাহ।

অনুপস্থিত কারো জন্য দু'আ, সাদাকাহ করা এক অদ্ভুত সুন্দর শিফার মতোন৷ এটি প্রতিদিনের অভ্যেসে পরিণত করেই দেখতে পাবো কী সুন্দর এক সুকূনের ভেতর হাঁটছি!
রমাদানেই এই সুন্দর অভ্যেসটি প্রতিদিনের আমলে যোগ করি ইন শা আল্লাহ। আল্লাহ আমাদের তাওফিক দিন, আমিন 🤍

লেখিকা: সায়মা সাজ্জাদ মৌসি(আল্লাহ উনাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন)
শেয়ার করুন আপনজনদের সাথে 🌻
©তালিমুন_নিসা

04/03/2026

কে বলে দোয়া কবুল হয় না..
মক্কার হা-রা-মে কর্মরত একজন পাকিস্তানি পরিচ্ছন্নতা কর্মীর এক বিস্ময়কর ঘটনা..ইফতারের ঠিক আগ মুহূর্তে তিনি অত্যন্ত বিনয় ও একাগ্রতার সাথে আল্লাহর কাছে দোয়া করছিলেন..

অভাব-অনটনে জর্জরিত এই ব্যক্তিটি নিজের ঋ-ণ থেকে মুক্তির জন্য আল্লাহর দরবারে হাত তুলে কাঁ-দ-ছিলেন..

ঠিক সেই মুহূর্তে হা-রা-মের লাইভ ক্যামেরাটি তাঁর ওপর ফোকাস করে..হারাম শরীফের চ্যানেল থেকে সেই দৃশ্যটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায়..

সৌদি আরবের একজন দানবীর ব্যক্তির চোখে ভিডিওটি পড়লে তিনি সেই কর্মীর সাথে যোগাযোগ করেন এবং তাঁর সমস্ত ঋ-ণ পরিশোধ করার দায়িত্ব নেন..

পরবর্তীতে সেই কর্মীকে জিজ্ঞেস করা হলো..তিনি তখন কোন দোয়াটি পড়ছিলেন..তিনি জানালেন..তিনি অভাব মুক্তির সেই দোয়াটি পড়ছিলেন যা রাসূলুল্লাহ ﷺ এক মেহমানের আগমনের সময় পড়েছিলেন।

ঘটনাটি হলো..একবার নবীজী ﷺ-এর ঘরে একজন মেহমান এলেন..তিনি তাঁর স্ত্রীদের কাছে খাবারের খোঁজে লোক পাঠালেন...কিন্তু খবর এলো ঘরে কিছুই নেই..তখন রাসূলুল্লাহ ﷺ এই দোয়াটি পাঠ করলেন..

"اَللّٰهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ مِنْ فَضْلِكَ وَرَحْمَتِكَ، فَإِنَّهُ لَا يَمْلِكُهَا إِلَّا أَنْتَ"

(আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা মিন ফাদলিকা ওয়া রাহমাতিকা, ফাইন্নাহু লা ইয়ামলিকুহা ইল্লা আন্তা)

অর্থ: "হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে আপনার অনুগ্রহ ও রহমত প্রার্থনা করছি। কেননা, আপনি ছাড়া আর কেউ এর মালিক নয়।" (আবু দাউদ, সহীহ আল জামে, তাবারানী)

দোয়া করার কিছুক্ষণ পরই নবীজী ﷺ-এর কাছে উপহার হিসেবে একটি ভাজা বকরি এলো..

উলামাদের মতে, অভাব ও সংকটের সময় এই দোয়াটি পড়া অত্যন্ত বরকতময়।

আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা রেখে তাঁর কাছে চাইলে তিনি এমন জায়গা থেকে সাহায্য করেন যা আমরা কল্পনাও করতে পারি না...


~সংগৃহীত

Address

Dhaka

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Ummul Muminah posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share