Ummul Muminah

Ummul Muminah আলিমাহ বোনদের দ্বারা পরিচালিত দ্বীন শিক্ষার একটি বিশুদ্ধ প্রতিষ্ঠান...

07/09/2026

প্রিয় নবীজি ﷺ এর রওজা মোবারকের পাশ থেকে চারজন পুলিশ এক যুবককে আটক করে; তারা কোনো কথা না বলেই সাথে সাথে যুবকটির পেছনে দড়ি দিয়ে তার দু'হাত বেঁধে ফেলে। যুবকটি পুলিশদের জিজ্ঞেস করতে লাগলো তোমাদের কী হয়েছে; আমিতো চোরও নই, ডাকাতও নই, তাহলে আমার সাথে এমন আচরণ করছ কেন?!

দূর থেকে একজন বয়স্ক মুরব্বী পুরো বিষয়টি লক্ষ্য করছিলেন। তখন তিনি কাছে এসে পুলিশদের বললেন, "আমি এই যুবককে চিনি।"
পুলিশরা তাকে বললো: আপনি তাকে কীভাবে চিনেন?
মুরব্বী বললেন: আমি তাকে দেখি সে সবসময় রাসূলুল্লাহ ﷺ এর রওজার সামনে দাঁড়িয়ে-দাঁড়িয়ে, বসে-বসে দুরূদ পড়ে, সালাম দেয়, কান্নাকাটিও করে। তোমরা তাকে গ্রেফতার করেছ কেন, সে কি চোর?

যুবকটি ছিলো আলবেনিয়ার নাগরিক, বয়স ৩৫ অথবা ৩৬ হবে। তার মাথা ভর্তি ঘাড় বাবরি চুলে আর মুখ ভর্তি হালকা দাড়িতে।

পুলিশ বললো: না, সে চোর নয়। এই যুবক আলবেনিয়ার অধিবাসী, সে মদিনায় ছয় বছর ধরে বসবাস করছে অথচ এখানে তার কোনো বসবাসের কাগজপত্র নেই। আমরা তাকে ধরে আলবেনিয়ায় পাঠিয়ে দিতে চাচ্ছি ছয় বছর যাবৎ কিন্তু প্রতিবারই তাকে ধরার পর সে আমাদের থেকে পালিয়ে যায়। আমরা তাকে প্রতিবারই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মসজিদ থেকে ধরি। এবারও তাই হলো। তাকে এবার পাওয়া মাত্রই সাথে সাথে দড়ি দিয়ে বাঁধা ছাড়া আমাদের কোনো উপায় ছিল না!

মুরব্বী পুলিশদের বললেন: এখন তোমরা তাকে নিয়ে কী করবে?
তারা বললো: রাষ্ট্রীয় আইন প্রয়োগ করবো। আমরা তাকে এখন ধরে নিয়ে প্লেনে উঠিয়ে দিবো এবং তারপর সে আলবেনিয়ায়।.....

যুবকটি তখন কাঁদছিল আর ভাবছিল এবার মনে হয় তাকে সত্যি সত্যিই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মসজিদ ছেড়ে যেতে হবে! রাসূলের স্মৃতি বিজড়িত মদীনা শহর ছেড়ে যেতে হবে! কিছুক্ষণ ভেবে যুবকটি পুলিশদের বলতে লাগলো: দেখুন ভাই, আমি এখানে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই ও কারো সাথে প্রতারণা করি না। আমি এখানে এসেছি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ভালোবাসার টানে, এছাড়া অন্য কোনো দুনিয়াবি উদ্দেশ্য আমার নেই।

পুলিশরা বললো: না, এটা গ্রহণযোগ্য কথা নয়, আপনাকে অবশ্যই দেশে ফিরে যেতে হবে। বহিরাগতদের রাষ্ট্রীয় আইনে এখানে থাকার সুযোগ নেই।

পুলিশরা যুবককে নিয়ে মসজিদে নববী থেকে বের হয়ে গেলো। যুবক পথিমধ্যে তাদের বললেন: আমার একটি শেষ অনুরোধ রাখবেন? পুলিশরা তার অনুরোধ শুনলো এবং সুযোগ দিল।

যুবকটি তখন সবুজ গম্বুজের দিকে তাকিয়ে আবেগতাড়িত কণ্ঠে বললো:
هل هكذا كان الإتفاق بينن؟!
"ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমাদের মধ্যে চুক্তিটা কি এমন হয়েছিল!
হে রাসূল! আপনার প্রতিবেশী হবো, তাই আমি আমার দোকান, ব্যবসা, মা-বাবাকে ছেড়ে এখানে এসেছি কিন্তু তারা আমাকে আর থাকতে দিচ্ছে না। এই কথা বলতে বলতে যুবক মাটিতে লুটিয়ে পড়লো।

পুলিশরা বলেছে: আমরা ভাবলাম, যুবক ইচ্ছাকৃতভাবে মাটিতে লুটিয়ে পড়ছে, সে জ্ঞান হারানোর ভান করছে , হয়তো আবার পালানোর পাঁয়তারা করছে।

পুলিশ সদস্যরা কিছুক্ষণ পর যুবককে মাটি থেকে টেনে উঠালো, দেখল সে সত্যিই অচেতন, মুখে পানি ঢেলে দিলেও যুবক আর নড়ছে না। তাদের মধ্যে একজন বললো: তার হয়তো স্ট্রোক বা হার্ট অ্যাটাক হয়েছে, এক্ষুনি অ্যাম্বুলেন্স আনো। অ্যাম্বুলেন্স এসেছিল এবং যুবককে হাসপাতালেও নেওয়া হয়েছিল, ডাক্তার তার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পর বললেন: আরো দেড় ঘণ্টা আগে যুবক এই পৃথিবী থেকে চলে গেছে, সে বেঁচে নেই।

পুলিশ সদস্যরা তখন কান্নায় ভেঙে পড়েছিল এবং বলছিল: আল্লাহর শপথ, আমরা আমাদের দায়িত্ব পালনকালে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি তাঁর গভীর ভালোবাসার নমুনা অনুভব করতে পারিনি।

এরপর গোসল ও জানাযা শেষে যুবককে অ্যাম্বুলেন্সে করে জান্নাতুল বাকিতে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে দাফন করা হয়।

আলবেনিয়ার পথে রওনা দেওয়া যুবক, জান্নাতুল বাকিতে চলে গেলেন। রেখে গেলেন পৃথিবীবাসীর জন্যে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি ভালোবাসার অনুপম উপমা।

~ আরবি থেকে অনূদিত

04/09/2026

আপনার সন্তানকে হেফযবিভাগে আবাসিক থেকে পড়তে পাঠাবেন না। বর্তমান গড় পরিবেশ-পরিস্থিতিতে হেফযখানায় সন্তানকে আবাসিক রাখা অভিভাবকত্বের দায়িত্বে মারাত্মক গাফিলতি ও অবৈধ কাজ -মনে রাখবেন। ঘরের কাছের মাদরাসায় ফজরের পর থেকে রাত পর্যন্ত পড়ে যদি হাফেয হয় হলো, না হলে হাফেয হওয়ার দরকার নাই।

অভিভাবক হিসেবে শিশু সন্তানের প্রতি বাবা-মায়ের দায়িত্ব কী? ইসলাম শিশু সন্তানের লালন-পালন, শাসন ও তরবিয়তের দায়িত্ব বাবা-মাকে দিয়েছে। বাবা-মা কি এই দায়িত্ব এভাবে ছেড়ে দিতে পারেন? রসূল সা. বলেছেন, ‘তোমাদের সন্তানদের নামাযের নির্দেশ দাও যখন তাদের বয়স সাত, তাদেরকে সেজন্য শাসন করো যখন তাদের বয়স দশ এবং তাদের মধ্যে বিছানা আলাদা করে দাও।’ -মুসনাদে আহমদ, সুনানে আবু দাউদ

অর্থাৎ দশ বছরের আগে তাকে নামাযের জন্যও প্রহার করা যাবে না এবং একটা বয়সের পরে ভাই-বোনদের মধ্যেও বিছানা আলাদা করে দিতে হবে।

আমাদের হিফযখানাগুলোর পক্ষে কি এটা সম্ভব বা তাদের কি এত জায়গা আছে যে তারা প্রত্যেকটা বাচ্চাকে আলাদা বিছানা দেবে? হিফযখানাগুলোতে যেভাবে বাচ্চারা ঘুমায়, সেটা কি আলাদা বিছানার মধ্যে পড়ে?

রসূল সা. যে বয়সে একজন বাবাকে -যার মনে সন্তানের প্রতি অপরিসীম মায়া-মমতা আছে- নামাযের জন্যও প্রহার করতে নিষেধ করছেন, এই বয়সে আপনি তাকে দিয়ে আসছেন একজন অপরিচিত মানুষের কাছে যখন ইচ্ছা প্রহার করার অনুমতি দিয়ে, দিনের পর দিন সে একা থাকছে। যেখানে তার অন্য ভাইবোনদের থেকে আলাদা ঘুমানোর ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে, সেখানে সে অপরিচিত বাচ্চাদের সাথে প্রায় এক বিছানায় ঘুমাচ্ছে। এটা কি অভিভাবকত্বের দায়িত্বে মারাত্মক গাফিলতি ও অবৈধ কাজ নয়?

পাশাপাশি বর্তমান বাস্তবতাও আমরা এড়িয়ে যেতে পারি না। আমরা এটা অস্বীকার করতে পারি না যে প্রচুর হিফযখানা এ রকম আছে যেগুলোতে আলেমদের তত্ত্বাবধান নাই, যথাযথ নজরদারি নাই, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ নাই এবং এক শ্রেণীর কুপ্রবৃত্ত মানুষ কীভাবে দিনের পর দিন অপরাধ করে পার পেয়ে যাচ্ছে।

এই অবস্থায় একজন সচেতন-দায়িত্বশীল অভিভাবকের অবশ্যকর্তব্য শিশু সন্তানের জন্য আবাসিক ব্যবস্থা পুরোপুরি পরিহার করা। সন্তানকে নিজের কাছে নিজের তত্ত্বাবধানে রেখে তার পড়াশোনার ব্যবস্থা করা। আবাসিক সিস্টেমে থাকলে যে টুকু বেশি তরবিয়ত, বেশি পড়াশোনা তার হয়, সেটার দরকার নাই। পড়াশোনার পাশাপাশি বাবা-মায়ের স্নেহে, ভাইবোনের সাথে খেলাধুলায় দিনের একটা সময় তাকে থাকতে দিন।

ওলামায়ে কেরাম যারা হিফযখানা পরিচালনার দায়িত্বে আছেন, আবাসিক সিস্টেমের যথাযথ নিরাপত্তার ব্যবস্থা, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার পাশাপাশি শিশুদের জন্য অনাবাসিক ব্যবস্থাকে বাঁধা না দিয়ে যথাসম্ভব উৎসাহিত করুন। বাবা-মাকে তাদের কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন করুন।

যারা একেবারে অসহায়, এতিম বা অভিভাবকহীন তাদের কথা আলাদা।
লিখেছেন-মুহতারাম Faruq Ferdous

02/09/2026

"ফিদাকা ইয়া রাসুলুল্লাহ (সা.)" এই বইটির উপরে আমরা বুক রিডিং হালাকা শুরু করতে যাচ্ছি ইন শা আল্লাহ!
সেখানে বই পড়ার পাশাপাশি কুইজ ও থাকবে, এবং সম্পূর্ণ বইটি পড়া শেষে কুইজের বিজয়ী বোনের জন্য আকর্ষণীয় পুরষ্কারের ব্যবস্থা করা হবে।

কোন টাইমে বুক রিডিং হালাকাটি অনুষ্ঠিত হলে আপনাদের সুবিধা হবে বোনেরা? দুপুর ৩টার পর নাকি সন্ধ্যা ৭টার পর। কমেন্ট বক্সে সবাই মতামত জানাবেন দয়া করে।

28/08/2026

চীন-নেপাল সীমান্তে হঠাৎ পাহাড়ি ধসের দৃশ্যগুলো দেখছি আর ভাবছি, কয়েক সেকেন্ড আগেও হয়তো মানুষগুলো নিজেদের স্বাভাবিক জীবনে ব্যস্ত ছিল। কেউ দোকানে, কেউ রাস্তায়, কেউ অফিসে, কেউ হয়তো ভবিষ্যতের পরিকল্পনা করছিল। তারপর হঠাৎ পাহাড় ধসে এলো। মুহূর্তের মধ্যে বদলে গেল সবকিছু। মানুষ ছুটছে, চারদিকে ধুলো, আতঙ্ক, আর বাঁচার আকুতি!

এই তো আমাদের দুনিয়া!

যে ঘর নিয়ে আমরা এত গর্ব করি, যে সম্পদ নিয়ে এত হিসাব করি, যে ক্ষমতা নিয়ে এত অহংকার করি, যে ভবিষ্যৎ নিয়ে এত নিশ্চিন্ত থাকি, তার কোনোটারই নিশ্চয়তা নেই পরের মুহূর্ত পর্যন্ত।

আজ আমরা নিরাপদ মনে করে ঘুমাই, অথচ কে জানে আগামীকাল ঘুম থেকে ওঠার আগেই আমাদের চারপাশের পৃথিবীটা বদলে যাবে কি না!

এই দুনিয়া সত্যিই স্থায়ী থাকার জায়গা নয়। আমরা শুধু ভুলে যাই। ভুলে যাই, আমাদের হাতে কিছুই স্থায়ী নয়। ভুলে যাই, এক মুহূর্তেই আল্লাহ সব হিসাব বদলে দিতে পারেন।

তাই এত অস্থিরতা কেন? এত অহংকার কেন? এত হিংসা, বিদ্বেষ আর দুনিয়া নিয়ে টানাটানি কেন?

একদিন আমাদেরও সবকিছু ফেলে চলে যেতে হবে। হয়তো কোনো বিদায় বলার সুযোগও থাকবে না।

হে আল্লাহ! আমাদের অন্তরকে দুনিয়ার মোহ থেকে মুক্ত করুন। মৃত্যু আসার আগেই আমাদেরকে আপনার দিকে ফিরে আসার তাওফিক দিন। আমিন।

28/08/2026

হাসান বসরী রহ. বলেন, ইস্তেগফার করছে এমন কাউকে আল্লাহ আযাব দিবেন বলে আমি মনে করি না।

এর কারণ জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, তাকে শাস্তি দেওয়ার ইচ্ছা থাকলে কীভাবে আল্লাহ তাআলা তার মনে ইস্তেগফারের প্রেরণা দিতে পারেন? আল্লাহ তাআলা তো বলেই দিয়েছেন
وَمَا كَانَ اللَّهُ مُعَذِّبَهُمْ وَهُمْ يَسْتَغْفِرُونَ
আল্লাহ এমন নন যে, তারা ক্ষমা প্রার্থনা করবে অথচ তিনি তাদেরকে শাস্তি দেবেন। [সূরা আনফাল : ৩৩]

#খুতুবাত উমায়ের কুব্বাদি হাফিঃ

26/08/2026

কি নিয়ে চিন্তা করছেন?

— রিযিক?
— ক্যারিয়ার?
— বিয়ে?
— সন্তান?
— নাকি জীবনে আসা কোনো উত্থান-পতন?

একটু থেমে চিন্তা করুন তো…
এসব নিয়ে এত দুচিন্তা করার কি সত্যিই প্রয়োজন আছে?

এই জীবন যার দান, তিনি কি আপনার জীবনটাকে আপনার চেয়েও ভালো জানেন না? আপনার জন্মের আগেই আপনার রব আপনার রিযিক, আপনার সময়, আপনার পথ—সবকিছুরই উত্তম পরিকল্পনা করে রেখেছেন।

আপনার কাজ শুধু—রবের দেয়া হুকুম-আহকাম গুলো মেনে চলা, নিজের সাধ্য অনুযায়ী চেষ্টা করে যাওয়া এবং বাকিটা তাঁর উপর ছেড়ে দেয়া।

দুনিয়ার জীবন নিয়ে এত উদ্বিগ্ন হবেন না।
জীবন নিয়ে এত চিন্তা-ভাবনা, এত ভয়-আতঙ্ক, এত উদ্বিগ্ন হওয়ার সত্যিই কিছু নেই!

যিনি আপনাকে মায়ের পেটে থাকা অবস্থায়ও রিযিক পৌঁছে দিয়েছেন, যিনি আপনাকে এতদিন সামলে এনেছেন, তিনিই সামনেও সামলে নেবেন।

— রিযিক আল্লাহ দেবেন।
— ক্যারিয়ার আল্লাহ ঠিক করে দেবেন।
— বিয়ের ব্যবস্থা আল্লাহ করবেন।
— সন্তান আল্লাহই দেবেন।
— আর আপনার প্রতিটি সমস্যার সমাধানও আল্লাহই করবেন।

আপনি শুধু তাঁর উপর ভরসা রাখুন। চেষ্টা করুন কিন্তু দুশ্চিন্তা না, পরিপূর্ণ ভরসা রেখে তাঁর উপর সবটা ছেড়ে দিন, কারণ—

وَمَن يَتَوَكَّلْ عَلَى اللَّهِ فَهُوَ حَسْبُهُ ۚ

“আর যে ব্যক্তি আল্লাহর উপর ভরসা করে, আল্লাহ একাই তার জন্য যথেষ্ট।”
—[সূরা আত-তালাক, ৬৫:৩]

এই আয়াতের উপর আমল করুন। অস্থিরতার মুহূর্তে এই আয়াত নিজেকে মনে করিয়ে দিন। অশান্ত মনটাকে স্থির করুন, আর দৃঢ় বিশ্বাস নিয়ে বলুন—

حَسْبُنَا اللَّهُ وَنِعْمَ الْوَكِيلُ

“আল্লাহই আমাদের জন্য যথেষ্ট, আর তিনিই উত্তম কর্মবিধায়ক।”

© Hazera Farhad Sayma

25/08/2026

দু'আ এক মহা নিআমত। আমার মতো তুচ্ছ মাটির মানুষ বিশ্বজগতের মালিকের কাছে নিজের ছোটবড় সকল প্রয়োজন তুলে ধরতে পারছি, সকল আনন্দ-বেদনা তাঁর সাথে শেয়ার করতে পারছি-এর চেয়ে আনন্দের আর কী হতে পারে! আমাদের দীন-দুনিয়ার কত চাহিদা, দুনিয়ায় চলার পথে প্রতিনিয়ত কত অপ্রীতিকর ঘটনার মুখোমুখি হচ্ছি, হৃদয় ভারাক্রান্ত হচ্ছে– যিনি এসব কিছুর সমাধান করতে পারেন, যিনি আমাকে ভালোবাসেন, যিনি দু-হাত ভরে আমাকে দিতে চান, সিজদায় পড়ে, দু-হাত তুলে হৃদয় আকুল করে সব চাওয়া-পাওয়া, সকল আনন্দ-বেদনা তাঁকে বলতে পারার মতো স্বস্তি, শান্তি ও প্রশান্তির আর কী হতে পারে!

আমাদের রূহ বা আত্মা এসেছে মহান রবের নিকট থেকে। তাই তার প্রশান্তিও রবের সাথে সম্পর্কের মাঝেই নিহিত। মাখলুকের সাথে সাহচর্যের যত অবসাদ, কালিমা ও অস্থিরতা রবের সান্নিধ্যের দ্বারা তা মিটে যায়, হৃদয় হয়ে যায় প্রফুল্ল ও প্রশান্ত। রবের সাথে সম্পর্ক যার যত গভীর তার হৃদয় তত প্রশান্ত। পৃথিবীর হাজারো মসিবতের মাঝে সে স্থির অচঞ্চল।

কিন্তু রবের সাথে যার সম্পর্ক নেই, যে নিজের আনন্দ-বেদনা আপন রবের সাথে শেয়ার করতে পারে না দুনিয়ার ভরপুর প্রাচুর্যের মাঝে থেকেও সে অস্থির, অশান্ত, বে-কারার। তাই যে নিজে দু'আ করতে জানে না, আপন রবের কাছে নিজের কষ্টের কথা বলে অন্তরকে শান্ত করতে পারে না তার মতো হতভাগা আর নেই। তার চারপাশে হয়তো আনন্দ-বিনোদনের হাজারো উপকরণ ছড়িয়ে আছে, কিন্তু এসব বিনোদনে ডুব দিয়ে দিনশেষে সে আরো অসুখই খরিদ করে আনে।

বই : সালাত (আল্লাহর সাথে বান্দার মুনাজাত)

24/08/2026

দুর্দিনে আল্লাহর প্রতি সুধারণা রেখে, সবর-শোকরের সাথে সুদিনের অপেক্ষা করা আল্লাহর অত্যন্ত পছন্দনীয় ইবাদত।

~শায়েখ আতিক উল্লাহ হাফি.

23/08/2026

বোন আমার, একটিবার নিজের আমলনামার দিকে তাকাও। ওখানে যে অনবরত যি*নার গুনাহ লেখা হচ্ছে। যতবার তুমি সুগন্ধি মেখে বাইরে বেরোচ্ছ, ততবারই লেখা হচ্ছে গোনাহ। যি*নাকারীর তালিকায় তোমার নাম চলে যাচ্ছে।

তুমি এমন এক কবীরা গুনাহে লিপ্ত, যা তোমার দৃষ্টিতে একেবারেই ছোট। কিন্তু আল্লাহর কাছে তা পাহাড়সম। এভাবেই তুমি অশেষ পা*পের চক্রে পতিত। তোমার আমলনামায় অনেক অনেক গুনাহ জমা হয়ে গেছে। কারণ তুমি কখনোই গুনাহ থেকে তাওবা করোনি। বেপর্দায় চলাফেরা করার কারণে কখনো অনুশোচনা আসেনি হৃদয়ে।

বই : তুমি ফিরবে বলে (ফিমেইল ভার্সন)

22/08/2026

▪️সাতটি আমল সাতটি বিষয় ছাড়া অর্থহীন।
জনৈক বিদ্বান ব্যক্তি বলেন, সাত ধরনের আমল সাত ধরনের গুণ ব্যতীত কোন কাজে আসবে না।
১. পরিহার ব্যতীত ভীতি : অর্থাৎ কেউ বলে, আমি আল্লাহর আ*যাবকে ভয় করি, অথচ সে গুনাহ পরিহার করে না। সুতরাং, তার এ কথা কোনো কাজে আসবে না।
২. চেষ্টা ছাড়া আশা : অর্থাৎ, কেউ বলে, আমি আল্লাহ তা'আলার নিকট সওয়াবের আশা রাখি, অথচ নেক আমলের মাধ্যমে তা তালাশ করে না। সুতরাং, তার এ কথা কোনো কাজে আসবে না।
৩. চেষ্টা সাধনা ব্যতীত নিয়ত : অর্থাৎ, কোনো ব্যক্তি অন্তরে এ ইচ্ছা রাখে যে- সে ভালো কাজ করবে, কল্যাণ কর্মে ব্রতী হবে, কিন্তু এর জন্য চেষ্টা ও উদ্যোগ গ্রহণ করে না। এ ব্যক্তির নিয়তও কোনো কাজে আসবে না।
8. পরিশ্রম ব্যতীত দু'আ : অর্থাৎ কোনো ব্যক্তি আল্লাহর নিকট কল্যাণকর্মের তাওফীক চেয়ে দু'আ করে, অথচ তা সম্পাদন করার জন্য কোনো পরিশ্রম করে না। সুতরাং, এ দোয়া তার কোনো উপকারে আসবে না। বরং তার দায়িত্ব হলো পরিশ্রম করা, যাতে আল্লাহ তা'আলা তাকে তাওফীক দান করেন। যেমন আল্লাহ তা'আলা পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেছেন,
وَالَّذِينَ جَاهَدُوا فِينَا لَنَهْدِيَنَّهُمْ سُبُلَنَا وَإِنَّ اللَّهَ لَمَعَ الْمُحْسِنِينَ
অর্থ : যারা আমার পথে সাধনায় আত্মনিয়োগ করে, আমি অবশ্যই তাদেরকে আমার পথে পরিচালিত করব। নিশ্চয় আল্লাহ সৎকর্মশীলদের সঙ্গে রয়েছেন। (সূরা আনকাবুত : ৬৯)
অর্থাৎ, যারা আমার আনুগত্যের পথে ও আমার দ্বীনের জন্য চেষ্টা করে, আমি অবশ্যই তাদেরকে সে কাজে সফলতা দান করি।
৫. অনুশোচনাহীন ইস্তিগফার : অর্থাৎ কেউ বলে- আমি আল্লাহর নিকট ক্ষমা চাচ্ছি। অথচ কৃত গুনাহের জন্য তার কোনো অনুতাপই নাই। সুতরাং, অনুশোচনাহীন ইস্তিগফার তার কোনো কাজে আসবে না।
৬. গোপনে নয়, কেবল প্রকাশ্যে শোধরানো : অর্থাৎ কেউ তার বাহ্যিক দিকটাকে শুধরে নিল। অথচ অপ্রকাশ্যে ও গোপনীয় দিককে শোধরালো না। সুতরাং, তার বাহ্যিক শোধরানো কোনো কাজে আসবে না।
৭. ইখলাস ব্যতীত পরিশ্রম : অর্থাৎ কেউ ভালো কাজের জন্য প্রচুর পরিশ্রম করল, কিন্তু সে কাজে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন উদ্দেশ্য ছিল না। সুতরাং, তার এমন চেষ্টা-সাধনা কোনো কাজে আসবে না।
[সূত্র : তাম্বীহুল গাফিলীন, খন্ড - ১, পৃ. ৪০-৪২]

Address

Dhaka

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Ummul Muminah posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share