ব্রিটিশ ইসলামিক স্কুল এন্ড কলেজ-বনশ্রী,ঢাকা-British Islamic School &College

  • Home
  • Bangladesh
  • Dhaka
  • ব্রিটিশ ইসলামিক স্কুল এন্ড কলেজ-বনশ্রী,ঢাকা-British Islamic School &College

ব্রিটিশ ইসলামিক স্কুল এন্ড কলেজ-বনশ্রী,ঢাকা-British Islamic School &College Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from ব্রিটিশ ইসলামিক স্কুল এন্ড কলেজ-বনশ্রী,ঢাকা-British Islamic School &College, South Banasree, Near By Central Mosque, Dhaka.

03/10/2024

প্রতারণা!!প্রতারণা!!
অনলাইনে ইলিশ মাছ ক্রয় সম্পূর্ণ প্রতারণা! তাই আপনারা কোনভাবেই এক টাকাও অগ্রিম দিয়ে কখনো ইলিশ মাছ কিনতে যাবেনন না। সম্পূর্ণ ধোকাবাজি! এদেরকে পুলিশ এবং রেবে ধরিয়ে দিন। চাঁদপুরবাসী

02/10/2024

জরুরী দুঃসংবাদ : আমার এক আত্মীয়ের জন্য ৫৫০ টাকা অগ্রিম দিয়ে ইলিশ মাছের অর্ডার দিয়ে প্রতারণা শিকার হয়েছি। কেউ অনলাইনে বিজ্ঞাপন দেখে ইলিশ অর্ডার দিবেন না। টাকাটা সম্পূর্ণ মার যাবে,কোন ইলিশ মাছ পাবেন না।

02/10/2024

জরুরী দুঃসংবাদ: আমার এক আত্মীয়ের জন্য ৫৫০ টাকা অগ্রিম দিয়ে ইলিশ মাছের অর্ডার দিয়ে প্রতারণা শিকার হয়েছি। কেউ অনলাইনে বিজ্ঞাপন দেখে ইলিশ অর্ডার দিবেন না। টাকাটা সম্পূর্ণ মার যাবে,কোন ইলিশ মাছ পাবেন না।

05/09/2024

আজ 5 সেপ্টেম্বর ঐতিহাসিক শহীদ মহসিন হত্যা দিবস। এ দিবসে মুজিব বাদী সন্ত্রাসী চক্র লক্ষ্মীপুরে মেধাবী ছাত্রনেতা ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা এ এফ এম মহসিন ভাইকে লক্ষ্মীপুরের আদর্শ সামাদ স্কুলের পিছনে নিয়ে হত্যা করে।

03/09/2024

সারা দেশের পাসপোর্ট অফিস, ভূমি অফিস, বোর্ড অফিস এবং জনসংশ্লিষ্ট অফিসসমূহে এখনো আগের সরকারের লুটপাটের বৈষম্য চলতেছে যে যার মত করে ফি হিসেবে ঘুষ নিচ্ছে জরুরী ভিত্তিতে এর অবসান হওয়া দরকার। সমন্বয়ক

14/07/2024

পণ্ডিতদের আসরে বোকা এবং অদক্ষদের কাতারে যোগ্য ব্যাক্তিরা ততক্ষণই শোভা পায় যতক্ষণ তারা চুপ থাকে!!যোগ্য ব্যক্তিরা অনেক সময় অপমান হওয়ার ভয়ে এবং স্বার্থ হাসিলের কোন সমস্যা থাকলে চুপ থাকে এবং অযোগ্যতার পরিচয় দেয়

27/03/2024

আপনি কাউকে ইফতার খাওয়ানোর শুধু নিয়ত করুন দেখবেন এটি আয়োজনের দায়িত্ব মহান রব্বুল আলামীনের কারণ ইফতার কারী আল্লাহর মেহমান দেখবেন অনেক ইফতারের ব্যবস্থা হয়েছে আলহামদুলিল্লাহ

20/03/2024

এবার সকল কলেজ এবং হাই স্কুলে গন ইফতারের কর্মসূচি ঘোষণা দিয়েছে সাধারণ ও নির্যাতিত ছাত্র বন্ধুরা। ধন্যবাদ।
এ আয়োজনকে আমরা সবাই সহযোগিতা করবো
তোমরা এগিয়ে যাও

লাইফ ইজ বিউটিফুল’ ফেসবুকে লেখার ৫ দিনের মাথায় থেমে যায় তানজিনার পথচলামানসুরা হোসাইনঢাকাআপডেট: ১৯ মার্চ ২০২৪, ২০: ৪৬ ফলো ...
20/03/2024

লাইফ ইজ বিউটিফুল’ ফেসবুকে লেখার ৫ দিনের মাথায় থেমে যায় তানজিনার পথচলা
মানসুরা হোসাইনঢাকা
আপডেট: ১৯ মার্চ ২০২৪, ২০: ৪৬
ফলো করুন
স্বামীর সঙ্গে তানজিনা নওরিন। এই ছবি এখন শুধুই স্মৃতি
স্বামীর সঙ্গে তানজিনা নওরিন। এই ছবি এখন শুধুই স্মৃতিছবি: সংগৃহীত
ঢাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা তানজিনা নওরিন (এশা) ২৪ ফেব্রুয়ারি ফেসবুকে বেশ কয়েকটি ছবি পোস্ট করে লিখেছিলেন ‘লাইফ ইজ বিউটিফুল’। এর পাঁচ দিনের মাথায় ২৯ ফেব্রুয়ারি রাতে রাজধানীর বেইলি রোডের রেস্তোরাঁ ভবনে আগুনে মারা যান তিনি।

আগুন ও ধোঁয়া বাড়ছে দেখেও তানজিনা আগে নিচে নামার চেষ্টা করেননি। গ্রিন কোজি কটেজ নামের ভবনটির দ্বিতীয় তলায় বিরিয়ানির দোকান ‘কাচ্চি ভাই’–এ ছিলেন তানজিনা ও তাঁর পাঁচ স্বজন। ওই রেস্তোরাঁর জানালা ভেঙে বেরিয়ে মই বেয়ে নিচে নামেন তানজিনার খালাতো ভাইয়ের স্ত্রী লামিয়া তাবাসসুম, লামিয়ার পাঁচ ও তিন বছর বয়সী দুই মেয়ে, লামিয়ার অষ্টম শ্রেণিপড়ুয়া এক ভাই আর তানজিনার ছয় বছর বয়সী ছেলে আরহাম আহমেদ। বাচ্চারা আগে নামার পর লামিয়া নামতে নামতেই বিস্ফোরণ ঘটে। তানজিনা লামিয়াকে শুধু বলেছিলেন, ‘আরহামকে নিয়ে যাও।’

এতগুলো মানুষ আগুন থেকে বেঁচে ফিরলেও পরিবারটির সদস্যদের মধ্যে তার কোনো উচ্ছ্বাস নেই। কেননা, সবার প্রিয় তানজিনাকেই তো তাঁরা হারিয়ে ফেলেছেন। ঘটনার পর ২০ দিনেও লামিয়া সেদিনের ঘটনার কোনো ভিডিও বা খবর দেখেননি। আসলে তা দেখার সাহস পাননি তিনি। আরহামসহ অন্যরাও মানসিক ট্রমার মধ্যে আছে। গেল ১৫ মার্চ ছিল তানজিনার জন্মদিন। এবার আর তাঁর জন্মদিন উদ্‌যাপনের কোনো তাড়া ছিল না পরিবারে।

পিরোজপুরের মেয়ে তানজিনা। গ্রামের বাড়িতে নানি, খালা আর মামাদের আদরে এবং খালাতো, মামাতো ভাইবোন ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে হেসেখেলে বড় হয়েছেন তানজিনা। তাঁর মা শাহানা পারভীন আগে থেকেই অসুস্থ ছিলেন, একমাত্র মেয়ের এভাবে মৃত্যুর পর তিনি আরও অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।

কথা হয় তানজিনার স্বামী একটি বেসরকারি কোম্পানিতে কর্মরত নাদিম আহমেদের সঙ্গে। ছেলে আরহাম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ছয় বছর বয়সী ছেলে সব বুঝতে পারছে। বাচ্চাটা ট্রমার মধ্যে আছে। রাতে ‘আম্মু কই’ বলে ঘুম থেকে জেগে ওঠে। মোবাইল থেকে মায়ের ছবি বের করে দেখে।’ নাদিম আহমেদের মায়ের কাছে থাকছে আরহাম।

৯ বছরের বিবাহিত জীবন নাদিম-তানজিনা দম্পতির। নাদিম ঘটনার সময়ের কথা উল্লেখ করে বলেন, ২৯ ফেব্রুয়ারি রাত আটটার দিকে স্ত্রী তাঁকে ফোন করে বলেছিলেন, বাসায় নুডলস রান্না করা আছে, তিনি যেন খেয়ে নেন। তারপর রাত নয়টার দিকে আগুনের খবর শোনেন নাদিম। বেইলি রোডে গিয়ে আগুনের ভয়াবহতা দেখে নাদিম নিজেই অজ্ঞান হয়ে গিয়েছিলেন। নাদিমের আক্ষেপ, ‘ও (তানজিনা) তো কাচ্চি বা মুরগি খেত না। সেদিন ও কেন যে গেল...।’

গত ২৯ ফেব্রুয়ারি তানজিনা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বেইলি রোডের কাচ্চি ভাই রেস্তোরাঁয় খেতে গিয়েছিলেন। ওই ভবনে আগুন লেগে ৪৬ জনের মৃত্যু হয়। মৃত্যুর এই তালিকায় তানজিনার নামটিও যোগ হয়েছে।

লামিয়া এখনো ‘বিশ্বাস করতে পারছেন না’
তানজিনা মারা গেছেন, তা এখনো বিশ্বাস করতে পারছেন না তাঁর খালাতো ভাইয়ের স্ত্রী লামিয়া তাবাসসুম। তিনি জানান, ভাবি–ননদের সম্পর্কের বাইরে তাঁরা ছিলেন দুই বন্ধু। লামিয়া পিরোজপুর থেকে ঢাকায় এসেছিলেন, আবার পিরোজপুরে ফেরার কথা ছিল। তাই তানজিনা অসুস্থ শরীর নিয়ে ছেলেকে সঙ্গে করে ইস্কাটন গার্ডেনের বাসায় লামিয়ার সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন। তানজিনার বাসা ছিল রামপুরায়। এরপর বাচ্চারা কিছু খাবে, তাই তাঁরা রিকশায় চড়ে বেইলি রোডে গিয়েছিলেন। আগুন লাগার আগেই তাঁদের খাওয়া শেষ হয়ে গিয়েছিল। বের হওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন।

লামিয়া বলেন, ‘তানজিনা হাসিখুশি থাকতেন সব সময়। সাজতে পছন্দ করতেন। খাওয়ার আগেও তিনি ব্যাগ থেকে লিপস্টিক বের করে লামিয়ার মেয়েদের সাজিয়ে দিয়েছিলেন। তানজিনা নিজের মোবাইলে অনেকগুলো ছবি তোলেন, মোবাইলটি পাওয়া যায়নি, তাই ওই ছবিগুলোও আর কখনো পাওয়া যাবে না।’

যেকোনো বিপদে অল্পতেই ঘাবড়ে যেতেন তানজিনা। তবে সেদিন ঘটনার পর তানজিনা একদম চুপ করে দাঁড়িয়ে ছিলেন উল্লেখ করে লামিয়া বলেন, তানজিনারও নিচে নামার কথা ছিল; কিন্তু তারপর তো সবই শেষ।

লামিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যখন বাইরে অল্প আগুন, তখন তিনি কাচ্চি ভাই রেস্তোরাঁর একটি জানালা খুলে ফেলেন। তবে রেস্তোরাঁটির কর্মীরা এসে রাগারাগি করে তা বন্ধ করে দেন। পরে তাঁরা বের হয়ে ছাদে যাওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু দরজা বন্ধ থাকায় তাঁরা বের হতে পারেননি। পরে লামিয়ার অষ্টম শ্রেণিপড়ুয়া ভাই আবার জানালা খুললে এক কর্মী এসে থাপ্পড় লাগায়। তারপরও জানালা বন্ধ না করে ওই জানালা দিয়েই তাঁরা সবাই বাইরে বের হন।

আগুন লেগেছিল ভবনের নিচে একটি চা-কফির দোকানে। সেখান থেকে আগুন ভবনে ছড়িয়ে পড়ার আগে দোতলা থেকে অনেকে মই বেয়ে নিচে নেমেছিলেন।
লামিয়া বলেন, ‘কাচ্চি ভাইয়ের ভেতরে তিনটি জানালা ছিল। অল্প আগুন যখন ছিল, তখনই জানালাগুলো খুলে দিলে অন্তত ১০ জনকে বাঁচানো সম্ভব হতো। আর ভবনের নিচে অনেক মানুষ ছিলেন, তাঁদের অনেকেই মোবাইলে আগুনের ভয়াবহতার ভিডিও করতে ব্যস্ত ছিলেন।’

ফেসবুকে স্বজনদের আহাজারি
ঘটনার পর তানজিনার খালাতো বোন নাজিয়া খালেদ ফেসবুকে লিখেছেন, ‘আগে কোনো দুর্ঘটনার সময় কেউ লাইভ করছে বা ভিডিও করছে দেখলে খুব রাগ লাগত। মনে হতো ফোনটা রেখে মানুষ বাঁচানোর চেষ্টা করে না কেন? তবে এ ঘটনার পর ফেসবুক, ইউটিউবে একটার পর একটা ভিডিও দেখেছি। কাঁদতে কাঁদতে খুঁজেছি আমার বোনটা কই ছিল, কেন নামতে পারেনি। পরে আমি সব উত্তর পেয়েছি। আমরা যখন হাসপাতালে এশার (তানজিনা) পাশে দাঁড়িয়ে ছিলাম, তখনো মানুষ ভিডিও করছে দেখে রাগ লাগছিল। এখন আর লাগছে না। হয়তো ওই ভিডিও দেখেই কেউ কারও স্বজনকে খুঁজে পেয়েছেন। কারণ, এই দেশে তো কোনো সিস্টেম নাই।’

শিশুদের আবদার মেটাতেই তাঁর বোন আর ভাইয়ের স্ত্রী রেস্তোরাঁয় গিয়েছিলেন জানিয়ে নাজিয়া লিখেছেন, ‘এমন পরিণতি হবে জানলে কেউ কি যেত? কোনো মা যায়?’

এ ঘটনা নিয়ে কোনো কোনো গণমাধ্যমে যেভাবে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে, তার সমালোচনা করেন নাজিয়া। তিনি লিখেছেন, ‘মিডিয়ায় বারবার বলছে, ছেলের আবদার মেটাতে মা মারা গেছেন। আমাদের আশপাশের অনেকেই বলছেন। আমার আকুল আবেদন আপনাদের কাছে, দয়া করে ছেলের আবদার মেটাতে গিয়ে মা চলে গেলেন, এটা আর বলবেন না। শিশুরা খুব কোমল মনের হয়। ওর মনে কোনো দাগ পড়ুক আমি চাই না। বড় হয়ে বা এখনো ওর মায়ের মৃত্যুর জন্য নিজেকে দায়ী করুক, সেটা আমরা কেউ চাই না।’

ঘটনার পর বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট), আইন ও সালিশ কেন্দ্র এবং তানজিনার মামাতো ভাই সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী নাজমুস সাকিব একটি রিট আবেদন করেন।

নাজমুস সাকিব প্রথম আলোকে বলেন, এ ধরনের ঘটনা আর যাতে না ঘটে এবং বেইলি রোডের আগুনের ঘটনায় দোষী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় আনতে হবে।

প্রথম আলোর খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
বেইলি রোডে আগুনবিশেষ সংবাদঅগ্নিকাণ্ড

বেইলি রোডে আগুন নিয়ে আরও পড়ুন
দেশে রেস্তোরাঁর সংখ্যা কত, ব্যবসা কত টাকার, জানেন কি
অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাগুলোতে প্রমাণিত—কর্মস্থল নিরাপদ রাখতে আইনের প্রয়োগ জরুরি
হাতিরপুলে কার্পেটের গুদামে আগুন
অগ্নিনিরাপত্তা: বিচ্ছিন্ন অভিযান, তদন্ত গতিহীন
রেস্তোরাঁয় অভিযানে গ্রেপ্তার শ্রমিকদের নাম ও সংখ্যা দাখিলের নির্দেশ
বেইলি রোডে আগুন: সর্বশেষ লাশটি ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাজমুলের
বেইলি রোডে অগ্নিকাণ্ডে নিহত বৃষ্টি খাতুনের কুষ্টিয়ায় দাফন সম্পন্ন
রেস্তোরাঁয় অভিযান: পদক্ষেপের বাড়াবাড়ি সমস্যার সমাধান দেবে কি
নাগরিক সংবাদ
কিশোর আলো
বিজ্ঞানচিন্তা
প্রথম আলো ট্রাস্ট
বন্ধুসভা
চিরন্তন ১৯৭১
ইপেপার
প্রথমা
মোবাইল ভ্যাস
অনুসরণ করুন
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
Android app on
Google Play
Available on the
App Store
প্রথম আলো
বিজ্ঞাপন
সার্কুলেশন
শর্তাবলি ও নীতিমালা
গোপনীয়তা নীতি
যোগাযোগ
স্বত্ব © ১৯৯৮-২০২৪ প্রথম আলো
সম্পাদক ও প্রকাশক: মতিউর রহমান

" বাংলা ভাষার উৎপত্তি,     ইতিহাস ও বিবর্তন "আমরা প্রতিদিন যে ভাষায় মনের ভাব প্রকাশ করে চলেছি, তার উৎপত্তি আর ইতিহাস নিয়...
29/02/2024

" বাংলা ভাষার উৎপত্তি,
ইতিহাস ও বিবর্তন "

আমরা প্রতিদিন যে ভাষায় মনের ভাব প্রকাশ করে চলেছি, তার উৎপত্তি আর ইতিহাস নিয়ে কখনো ভেবে দেখেছি কি! কয়েক হাজার বছর আগে কেমন ছিলো এই ‘বাংলা ভাষা’? কিভাবে জন্ম হলো এই ভাষার? কিভাবেই বা হাজার বছর ধরে বেড়ে উঠেছে আমাদের প্রাণের ভাষা?

যতদূর জানা যায়, বাংলা ভাষা হচ্ছে ইন্দো-ইউরোপিয়ান ভাষাবংশের সদস্য। যার উৎপত্তি আজ থেকে প্রায় সাত হাজার বছর আগে খ্রিস্টপূর্ব ৫০০০ অব্দে! খ্রিস্টপূর্ব ৩৫০০ অব্দে এই ইন্দো-ইউরোপিয়ান ভাষাবংশ থেকে জন্ম নেয় ‘শতম’। এর প্রায় এক হাজার বছর পর খ্রিস্টপূর্ব ২৫০০ অব্দে ‘শতম’ ভাষাটি রুপান্তরিত হয় ‘আর্য’ ভাষায়। তবে তখন পর্যন্ত উপমহাদেশে আর্য ভাষার চল হয়ে ওঠেনি। ভারত উপমহাদেশে আর্য ভাষার চল শুরু হয় খ্রিস্টপূর্ব ১৮০০ অব্দে আর্য জাতি আগমনের পর।

আর্যদের শাসন করা কালীন, ভারতীয় আর্য ভাষা শিখে নিল। তখন ভাষাটি হয়ে গেল "ভারতীয় আর্য" ভাষা। ভারতীয় আর্যভাষা টি ভারতে ভাষার একটি রূপ। তখন সবাই "ভারতীয় আর্য" ভাষার কথা বলতে শুরু করে দিল।
পরবর্তীতে কথা বলা এবং লেখা দুটো আলাদা হয়ে গেল। অঞ্চল ভিত্তিতে যে ভাষায় কথা বলা হত তাকে তাকে মুখের ভাষা বলা হয়, বইয়ের ভাষায় যাকে বলে "প্রাকৃত" ভাষা।

তৎকালীন লিখিত ভাষার নাম ছিল "সংস্কৃত"। ভাষাবিজ্ঞানের বিচারে বলা চলে যে সংস্কৃত তথা প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা প্রাকৃতের তথা মধ্যভারতীয় আর্যভাষার অন্ততঃ তিনটি স্তরের মধ্য দিয়ে ক্রমবিবর্তিত হতে হতে আনুমানিক খ্রীঃ দশম শতকের দিকে বাঙলা এবং অপরাপর আঞ্চলিক নব্য ভারতীয় আর্যভাষায় রূপান্তরিত হয়। কাজেই 'বাঙলা ভাষার জননী' বলতে মধ্যভারতীয় আর্যভাষা বা 'প্রাকৃ ভাষা'কেই বুঝিয়ে থাকে, কারণ এই ভাষা থেকেই সরাসরি বাংলা ভাষার উদ্ভব ঘটেছে।

বাঙলা ভাষা হাজার বছরে অনেকখানি পরিবর্তিত হওয়ায় ভাষায় পরিবর্তন অনুযায়ী তাকে আদিযুগ, আদিমধ্যযুগ, অন্ত্যমধ্যযুগ ও আধুনিক যুগ এই চারটি পর্বে বিভক্ত করা হয়। প্রতি পর্বেই ভাষাগত পরিবর্তন লক্ষণীয়।

বাঙলা ভাষার প্রাচীনতম নিদর্শন 'চর্যাপদ'- আনুমানিক খ্রীঃ দশম থেকে দ্বাদশ শতকের মধ্যে রচিত হয়। এই কালটিকে বলা হয় বাঙলা ভাষা ও সাহিত্যের 'আদিযুগ'। বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্যগণ সদ্য-উদ্ভূত বাঙলা তাঁদের সাধন-ভজন-বিষয়ক তদ্বাদি এই গ্রন্থে বিভিন্ন পদের আকারে রচনা করেছিলেন। চর্যাপদ ধর্মীয় সাহিত্য। খ্রীঃ ত্রয়ােদশ থেকে চতুর্দশ শতাব্দীর অর্ধাংশ পর্যন্ত ছিল ক্রান্তিকাল। একালে রচিত কোন রচনার নিদর্শন সুলভ নয়। এরপর ১৩৫০ খ্রীঃ থেকে ১৪০০ খ্রীঃ পর্যন্ত বাঙলা ভাষা ও সাহিত্যের মধ্যযুগ। এর মধ্যে আবার ১৫০০ খ্রীঃ পর্যন্ত আদিমধ্যযুগ বা চৈতন্য-পূর্ব যুগ। এই যুগের উল্লেখযােগ্য সাহিত্য বড়ু চণ্ডীদাস রচিত শ্রীকৃষ্ণকীর্তন', বিদ্যাপতির বৈষ্ণব পদাবলী কিছু অনুবাদ সাহিত্য এবং কয়টি প্রধান মনসামঙ্গল কাব্য। চৈতন্যদেবের আবির্ভাব বাঙলার সাহিত্যে ও সমাজে প্রচণ্ড প্রভাব বিস্তার করে। ফলে, বাঙলা ভাষা ও সাহিত্যের গুণগত এবং পরিমাণগত পরিবর্তন সাধিত হয়েছিল অনেকখানি। অন্ত্যমধ্যযুগে তথা চৈতন্যোত্তর যুগে জীবনী সাহিত্য, পদাবলী সাহিত্য, অনুবাদ সাহিত্য, বিভিন্ন ধারার মঙ্গলকাব্য ও নানাজাতীয় লােক সাহিত্যের সৃষ্টি হয় (১৮০০ খ্রীঃ ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের প্রতিষ্ঠার সঙ্গে সঙ্গে গদ্য-সাহিত্যের উদ্ভব এবং তার পরই পাশ্চাত্ত্য জ্ঞানবিজ্ঞানের প্রত্যক্ষ প্রভাবে বাঙলা সাহিত্যে যে বিপুল পরিবর্তন সাধিত হয়, তাকেই বলা হয় 'আধুনিক যুগ'। বাঙলা ভাষা ও সাহিত্যের যুগ বিভক্ত বিভিন্ন পর্যায়ে ভাষাও যুগােপযােগীভাবে পরিবর্তিত হয়েছে।

মুখের ভাষা অর্থ প্রাকৃত ভাষা কে আবার দুই ভাগে ভাগ করা হলো গৌড় অঞ্চলের যে ভাষায় কথা বলা হত তাকে বলা হল "গৌড়ীয় প্রাকৃত" এবং মগধ নামে যে এলাকা ছিল তারা যে ভাষায় কথা বলতো সেটির নাম ছিল "মাগধী প্রাকৃত"।

সুনীতিকুমারের মতে বাংলা ভাষা এসেছে "মাগধী প্রাকৃত" থেকে দশম শতাব্দীতে। "গৌড়ীয় প্রাকৃত" থেকে বাংলা ভাষায় এসেছে সপ্তম শতাব্দীতে, এটি বলেছেন ডঃ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ। বাংলা ব্যাকরণে সুনীতিকুমারের কথাকে কে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়।

সুনীতিকুমারের মতে "মাগধী প্রাকৃত" হোক বা মোহাম্মদ শহীদুল্লাহর মতে "গৌড়ীয় প্রাকৃত" একসময় এই ভাষাটি বিকৃতি হয়ে যায়। ভাষা যখন ব্যর্থ হয় তখন সেটাকে বলা হয় "অপভ্রংশ"। এই বিকৃতি ভাষা থেকে সরাসরি একটি ভাষার উৎপন্ন হয় "বঙ্গকামরূপী"। "বঙ্গকামরূপী" যেটি "অপভ্রংশের" একটি রূপ। এখান থেকে সরাসরি কিছু ভাষা তৈরি হয় তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে বাংলা, এরমধ্যে আবার আছে অসমীয়া যেটা বর্তমানে আসামের ভাষা, আরো আছে উড়িয়া ভাষা যেটা উড়িষ্যাতে কথা বলা হয়।

উপমহাদেশে আর্য ভাষা চালু হবার পরবর্তী তিনশো বছরে পরিবর্তনের উপমহাদেশীয় হাওয়া লাগে আর্য ভাষায়। প্রচুর পরিমাণ সংস্কৃত ভাষার শব্দ যোগ হয়ে আর্য ভাষা রুপ নেয় ‘প্রাচীন ভারতীয় আর্য’ ভাষায় (খ্রিস্টপূর্ব ১৫০০ অব্দ)। আর্য জাতির পাশাপাশি ধীরে ধীরে উপমহাদেশর সাধারণ মানুষও আপন করে নেয় এই প্রাচীন ভারতীয় আর্য ভাষা। তখন আরো কিছুটা রুপান্তরিত হয়ে এ ভাষা হয়ে ওঠে ‘প্রাচীন ভারতীয় আর্য কথ্য’ ভাষায় (খ্রিস্টপূর্ব ১০০০ অব্দ) যা ‘আদিম প্রাকৃত’ নামেও পরিচিত। এরপর খ্রিস্টপূর্ব ৮০০ অব্দ হতে ৪৫০ খ্রিস্টাব্দের মধ্যবর্তী সময়ে আদিম প্রাকৃতের রুপান্তর ঘটে প্রথমে ‘প্রাচীন প্রাচ্য প্রাকৃত’ এবং পরবর্তীতে ‘গৌড়ি প্রাকৃত’ ভাষা দুটির উৎপত্তি হয়। আর এই গৌড়ি প্রাকৃত থেকে ৪৫০ খ্রিস্টাব্দের কাছাকাছি সময়ে জন্ম হয় ‘গৌড়ি অপভ্রংশ’ ভাষার।

এই গৌড়ি অপভ্রংশ থেকেই ৯০০ খ্রিস্টাব্দের দিকে উৎপত্তি হয় ‘বাংলা’ ভাষার । শুরুর দিকে অবশ্য বাংলা ভাষা ঠিক শতভাগ এমন ছিল না। ভাষাবিদগণের ভাষায় সে সময়ের বাংলা কে বলা হয় ‘প্রাচীন বাংলা’। এরপর ১৪০০ খ্রিস্টাব্দের দিকে আসে ‘মধ্য বাংলা’ এবং ১৮০০ খ্রিস্টাব্দের দিকে সেটা রুপ নেয় ‘আধুনিক বাংলা’ ভাষায়। অর্থাৎ, যে ভাষায় আমরা এখন কথা বলি।

এই আধুনিক বাংলা ভাষার জন্যেই ১৯৫২ সালের আজকের এই দিনে প্রাণ দিয়েছিলেন বাংলার সূর্য-সন্তান রফিক, বরকত, আব্দুস সালাম, আব্দুল জব্বারেরা। যা আমাদের সবারই জানা। তবে অনেকেই যেটা জানেন না তা হলো, বাংলা ভাষার জন্য শুধু বাংলাদেশিরা নয় আন্দোলন করেছেন দেশের বাইরের অনেক মানুষই। পঞ্চাশ এর দশকে ভারতের বিহার রাজ্যের (এরাও বাঙালি) মানভূম জেলায়ও হয় বাংলা ভাষার জন্য আন্দোলন। ১৯৬১ সালে আমাদের দেশে হয়ে যাওয়া ভাষা আন্দোলনের জের ধরে ভারতের শিলচরে বাংলা ভাষার আন্দোলনে ১১ জন শহীদ হন।

পরবর্তীতে ১৯৯৯ সালের ১৭ মে ইউনেস্কো আমাদের ভাষা এবং ভাষা শহীদদের সম্মানে ‘একুশে ফেব্রুয়ারি’ কে আন্তর্জাতিক মার্তৃভাষা দিবসের মর্যাদা দেয়। শুধু তাই নয় আফ্রিকা মহাদেশের সিয়েরা লিওন নামের দেশটিও সম্প্রতি বাংলা কে তাদের রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা দিয়ে। পুরো পৃথিবীজুড়ে প্রায় বিশ কোটির বেশি মানুষ বাংলায় কথা বলে। ভাষাভাষী লোকসংখ্যার দিক থেকে পৃথিবীর সপ্তম এবং একই সাথে তিনটি দেশের রাষ্ট্রভাষা ‘‘আমাদের প্রাণের বাংলা’’ !
(সংগৃহীত)

ঘরে-বাইরে বড্ড একা নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারীজালাল রুমি, চট্টগ্রাম থেকে২৭ ডিসেম্বর ২০২৩, বুধবারmzaminআওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধ...
27/12/2023

ঘরে-বাইরে বড্ড একা নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারী
জালাল রুমি, চট্টগ্রাম থেকে
২৭ ডিসেম্বর ২০২৩, বুধবারmzamin
আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোটের সঙ্গী তরীকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারী। জামায়াতবিরোধী কঠোর অবস্থান, নির্বাচন কমিশনকেন্দ্রিক বিভিন্ন ঘটনাপ্রবাহ, শক্তিধর রাষ্ট্রের সঙ্গে অতি ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কথা প্রচারিত হওয়াসহ বিভিন্ন কারণে জাতীয় রাজনীতিতে আলোচনায় আসেন তিনি। এরমধ্যে সমপ্রতি দুই ছেলের বিরুদ্ধে দুদকের মামলার জেরে সরকারকে উদ্দেশ্য করে ক্ষুদ্ধ বক্তব্যের জেরে আরও লাইমলাইটে চলে আসে নৌকায় চড়ে তিনবার সংসদে যাওয়া ভাণ্ডারী। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও ফটিকছড়ির আসন থেকে ভাণ্ডারীই নৌকা পাচ্ছেন বলে ধরে নিয়েছিলেন তার প্রতিদ্বন্দ্বীরাও। তবে শেষ পর্যন্ত রহস্যজনক কারণে নৌকার বৈঠার নাগাল পাননি রাজনীতির এই গায়েবি পীর। আর এতেই অনেকটা নির্বাচনী ট্র?্যাক থেকে হারিয়ে গেছেন তিনি। আওয়ামী লীগের লোকজনের সমর্থন তো পাচ্ছেনই না, নিজের পরিবার ও দলের লোকদের বড় একটি অংশও এড়িয়ে যাচ্ছেন ফুলের মালা গলায় দিয়ে এবারের সংসদে যাওয়ার দৌড়ে থাকা ভাণ্ডারীকে।


গত ৩০শে নভেম্বর চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ও নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা আবুল বশর মোহাম্মদ ফখরুজ্জামানের হাতে মনোনয়নপত্র জমা দেন নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারী। সে সময় হাস্যোজ্জ্ব্বল ভাণ্ডারী এই নির্বাচনেও তার নৌকা প্রাপ্তি নিশ্চিত বলে উপস্থিত সাংবাদিকদেরকে জানিয়েছিলেন। সে সময় তার সঙ্গে অন্যদের মধ্যে বাগানবাজার ইউপি চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন সাজু, হারুয়ালছড়ির চেয়ারম্যান ইকবাল চৌধুরী, পাইন্দংয়ের চেয়ারম্যান সরোয়ার হোসেন স্বপন, ভুজপুরের সাবেক চেয়ারম্যান হারুনুর রশিদ ছিলেন। তবে ভাণ্ডারী নৌকাবঞ্চিত হতেই রাতারাতি তারাও নেতা পাল্টে ফেলেন।

বিজ্ঞাপন
এখন এদের কেউ উঠেছেন খাদিজাতুল আনোয়ার সনির নৌকায়। আবার কেউ ভিড়েছেন হেভিওয়েট স্বতন্ত্র প্রার্থী তৈয়বের তরমুজ বাগানে। শুধু তারা নন, ফটিকছড়ির ১৮ জন চেয়ারম্যান ও দুইজন পৌর মেয়রের এখন কেউ নেই ভাণ্ডারীর সঙ্গে। এমনকি কোনো ইউপি মেম্বার বা পৌর কাউন্সিলরকেও কাছে পাচ্ছেন না জাতীয় রাজনীতিবিদ নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারী।
এদের মধ্যে ভাণ্ডারীর সঙ্গে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে যাওয়া শাহাদাত হোসেন সাজুর কাছ থেকে বর্তমান অবস্থান জানতে চাইলে তিনি মানবজমিনকে জানান, ‘সেদিন আমরা আরও কয়েকজন চেয়ারম্যান এমপি (ভাণ্ডারী) সাহেবের সঙ্গে মনোনয়নত্র জমা দিতে গিয়েছিলাম। কিন্তু তিনি তো নৌকা পাননি। তাই আমরা এই মুহূর্তে উনার সঙ্গে কাজ করতে পারছি না। তবে উনার সঙ্গে আমার ভালো আন্ডারস্ট্যান্ডিং আছে। আমরা ফটিকছড়ির ১৬ জন চেয়ারম্যান আবু তৈয়ব ভাইয়ের সঙ্গে আছি। তিনিই আমাদের নেতা।’

নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারীর নির্বাচনী আসন চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) থেকে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী খাদিজাতুল আনোয়ার সনিসহ মোট ৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এদের মধ্যে বর্তমানে ভোটযুদ্ধে এগিয়ে আছেন তরমুজ প্রতীকের প্রার্থী ও ফটিকছড়ি উপজেলার সদ্য পদত্যাগকারী চেয়ারম্যান আবু তৈয়ব। একসময় পুরো উত্তর চট্টগ্রামে ব্যাপক পরিচিত ছিলেন আবু তৈয়ব। ছাত্রলীগের সাবেক এই জেলা সেক্রেটারির এখনও ফটিকছড়িতেই আছে নিজস্ব বাহিনী। ফটিকছড়ির আওয়ামী লীগের কমিটিতে থাকা অধিকাংশ নেতা বিরুদ্ধে থাকলেও শুরু থেকেই আবু তৈয়বকে কাছে পেয়েছিলেন ভাণ্ডারী। নিজের দল তরীকতের ফটিকছড়িতে কোনো অবস্থান না থাকলেও তৈয়বের লোকবলের উপর ভর করে টানা ১০ বছর ফটিকছড়ির রাজনীতিতে একচ্ছত্র প্রভাব রেখেছিলেন ভাণ্ডারী। আর এখন সেই তৈয়বও ভাণ্ডারীর সঙ্গে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছেন।

দেশের তরীকত পন্থিদের অন্যতম তীর্থস্থান বলে পরিচিত ফটিকছড়ির মাইজভাণ্ডার দরবারে ১৯৫৯ সালের ২রা ডিসেম্বর নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারীর জন্ম। বাবা শফিউল বশর মাইজভাণ্ডারী ছিলেন এই দরবারের অন্যতম পীর। মূলত এই মাইজভাণ্ডার দরবারকে কেন্দ্র করে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন ভাণ্ডারী। আর এখন সেই রাজনীতিকে কেন্দ্র করে সেই দরবারেও অবস্থান হারিয়েছেন নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারী। এই দরবারের অন্যতম পীর ও সমপ্রতি নিবন্ধন পাওয়া দল সুপ্রিম পার্টির প্রধান সৈয়দ সাইফুদ্দিন মাইজভাণ্ডারী আসন্ন নির্বাচনে একতারা প্রতীক নিয়ে চাচা নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারীর সঙ্গে ভোটযুদ্ধে নেমেছেন। ফলে আসন্ন নির্বাচনে দরবারের ভোটগুলোও সম্পূর্ণভাবে পাচ্ছেন না নজিবুল বশর। জায়গা সম্পদের বিরোধকে কেন্দ্র করে সাইফুদ্দিন মাইজভাণ্ডারীর আপন ভাই ও বোনদের নজিবুল বশরের কাছে পাওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও পরিবারের অনেকেই প্রকাশ্যে ফুলের মালার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। এদের অনেকেই আবার নৌকা ও তরমুজের পক্ষে কথাবার্তা বলছেন।

জানা যায়, শুধু আওয়ামী লীগ ও নিজ পরিবারে বঞ্চিত হচ্ছেন এমন নয়- নিজের হাতে গড়া তরীকত ফেডারেশনের ফটিকছড়ি শাখার নেতাকর্মীদেরও সেভাবে সহযোগিতা পাচ্ছেন না নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারী। এদের অনেকে এখন নিষ্ক্রিয়, অনেকে আবার গোপনে নৌকা, তরমুজ ও একতারার পক্ষে কাজ করছেন। এদের মধ্যে ভুজপুর থানা তরীকতের সভাপতি হাফেজ বেলাল উদ্দিন স্বতন্ত্র প্রার্থী আবু তৈয়বের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিয়েছেন, এমন একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। দীর্ঘদিন ধরে ফটিকছড়ি উপজেলা তরীকত ফেডারেশনের সভাপতি হিসেবে কাজ করা বেলাল উদ্দিন শাহকেও দেখা যাচ্ছে না ভাণ্ডারীর নির্বাচনী কাজকর্মে।

এদিকে দলের অধিকাংশ নেতাকর্মী নীরব থাকলেও ভাণ্ডারীর এই দুঃসময়ে অনেকটা একাই লড়ে যাচ্ছেন তরীকত ফেডারেশনের নাজিরহাট পৌরসভার সভাপতি মোহাম্মদ শাহজালাল। ফটিকছড়ির বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে ভাণ্ডারীর মানুষ বলে পরিচিত শাহজালাল ফুলের মালার পক্ষে বিভিন্ন জায়গায় লিফলেট বিতরণ ও প্রচারণা চালাচ্ছেন। তাকে ভাণ্ডারীর নির্বাচন পরিচালনায় গঠিত ১০১ সদস্যবিশিষ্ট কমিটির সদস্য সচিবও করা হয়েছে। ভাণ্ডারীর নির্বাচনী কার্যাক্রম নিয়ে জানতে শাহজালালকে ফোন দেয়া হলে তিনি নির্বাচনী প্রচারণায় আছেন বলে সংযোগ কেটে দেন। এরপর তার মোবাইলে আর সংযোগ দেয়া সম্ভব হয়নি।

সুয়াবিল ইউনিয়নের তরীকতের ফেডারেশনের আহ্বায়ক মাহবুবুল আলম বলেন, ফুলের মালায় ভোট চেয়ে বিভিন্ন ইউনিয়ন ও বাজারে আমরা গণসংযোগ করেছি। আমাদের নির্বাচনী কমিটি যে দিক নির্দেশনা দিচ্ছে সেটা অনুসারে কাজ করছি। আমরা এখনও আশা রাখছি, আমাদের নেতার ‘নীরব’ জয় হবে। আর তরীকত নেতাকর্মীদের প্রতি ভাণ্ডারী সাহেব কিছু দিক-নির্দেশনা দিয়েছেন। এরমধ্যে একটা হলো- কারও সঙ্গে ভোট নিয়ে ঝগড়া বা কথাকাটাকাটিতে লিপ্ত হওয়া যাবে না।

এদিকে চট্টগ্রাম-২ আসন থেকে জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণসহ সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারী মানবজমিনকে বলেন, ‘ফটিকছড়িতে তো আমার কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী নেই। এখানে আমি সবার অভিভাবক। নেত্রীর (শেখ হাসিনা) কথায় এই নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি। দেশ ও জাতির স্বার্থে ভোটে আছি। কেন না আমি সরে গেলে অন্যরকম পরিস্থিতি তৈরি হতো।’

তিনি বলেন, ‘আমি তো প্রথমে চেয়েছিলাম আমার সব প্রার্থীকে নিয়েই নির্বাচন থেকে সরে যেতে। পরে নেত্রী আমাকে অনুরোধ করেছেন না যেতে। তিনি বলেছিলেন, আমি সরে গেলে অন্যরা সুযোগ নেবে। দেশদ্রোহী শক্তি আস্কারা পাবে। যে কারণে আমি সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছি। আমু ভাই, কাদের ভাই, হাছান মাহমুদ ভাইও আমাকে অনুরোধ করেছিলেন। তবে আমি নির্বাচনের পর সামগ্রিক বিষয়ে কথা বলবো। আর আগামী বারও শেখ হাসিনা সরকার গঠন করছেন- সেটা ধরে নেন।’

শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তারা কেন সর্বাত্মক কর্মবিরতি পালন করছেনলেখা:রেজওয়ান তানভীরআপডেট: ১২ অক্টোবর ২০২৩, ১৮: ২২ গতকাল ট...
13/10/2023

শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তারা কেন সর্বাত্মক কর্মবিরতি পালন করছেন
লেখা:রেজওয়ান তানভীর
আপডেট: ১২ অক্টোবর ২০২৩, ১৮: ২২
গতকাল টানা তিন দিনের ‘সর্বাত্মক কর্মবিরতি’ শুরু করেছেন বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তারা। আজ বুধবার বগুড়ার সরকারি আজিজুল হক কলেজ চত্বরে
গতকাল টানা তিন দিনের ‘সর্বাত্মক কর্মবিরতি’ শুরু করেছেন বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তারা। আজ বুধবার বগুড়ার সরকারি আজিজুল হক কলেজ চত্বরেছবি: সোয়েল রানা
বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসে সব ক্যাডারে একই সঙ্গে বিসিএস প্রিলিমিনারি, লিখিত পরীক্ষা, ভাইভা, স্বাস্থ্য পরীক্ষা, পুলিশ ভেরিফিকেশনসহ সব ধাপ পেরিয়ে চাকরি পান। এরপরও শিক্ষা ক্যাডারের সদস্যরা নানা বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন।

পদায়ন ও সংবর্ধনা

সব ক্যাডারের প্রথম যোগদান হয় তাঁদের নিজ নিজ মন্ত্রণালয়ে। শিক্ষা ক্যাডারের যোগদান হয় পদায়নকৃত কলেজে। সব ক্যাডারে যোগদানের পর টিএ/ডিএ পায়, যেটা শিক্ষা ক্যাডার পায় না। সব ক্যাডারের সদস্যদের যোগদানের সময় সংবর্ধনা দেওয়া হলেও শিক্ষা ক্যাডারের ক্ষেত্রে এটা বিরল। কলেজ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক কিছু আয়োজন করা হলেও তা নগণ্য।

আরও পড়ুন
সরকারি কলেজে ক্লাস পরীক্ষা হয়নি, দপ্তরে কাজ বন্ধ

বনিয়াদি প্রশিক্ষণে সমস্যা

বিধি অনুসারে সব ক্যাডারের বনিয়াদি প্রশিক্ষণ হয় ছয় মাসের এবং যা অনুষ্ঠিত হয় সাভারের জাতীয় লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে (বিপিএটিসি)। অথচ শিক্ষা ক্যাডারকে এ ক্ষেত্রে চার মাসের ট্রেনিং দেওয়া হয়। বিপিএটিসিতে তাঁদের ডাকা হয় না। এমনকি অন্যান্য ক্যাডারদের বনিয়াদি সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ও জনপ্রশাসনমন্ত্রী উপস্থিত থাকেন, কিন্তু শিক্ষা ক্যাডারের ক্ষেত্রে শিক্ষামন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী উপস্থিত তো থাকেনই না, শুধু অনলাইনে যুক্ত থাকেন। অথচ বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তার সংখ্যা সর্বাধিক।

চাকরি স্থায়ীকরণ সমস্যা

চাকরির বয়স দুই বছর, বনিয়াদি প্রশিক্ষণ ও বিভাগীয় পরীক্ষায় পাস থাকলে অন্য সব ক্যাডারে দুই বছর শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চাকরির স্থায়ীকরণের আদেশ জারি হয়। কিন্তু জাতীয়করণ করা কলেজের শিক্ষকদের সঙ্গে শিক্ষা ক্যাডারে বিভাগীয় মামলার জট ও অন্যান্য প্রশাসনিক জটিলতায় চাকরি স্থায়ীকরণে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি করা হয়েছে, এমনকি তারা সিনিয়র স্কেল পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারছেন না। ফলে ৩৫তম থেকে ৩৮তম বিসিএস পর্যন্ত চাকরি স্থায়ীকরণ ঝুলে রয়েছে।

আরও পড়ুন
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির শুরুতেই সেশনজটে শিক্ষার্থীরা, অভিযোগ গাফিলতির
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির শুরুতেই সেশনজটে শিক্ষার্থীরা, অভিযোগ গাফিলতির

প্রমোশন অসুবিধা

চাকরির বয়স পাঁচ থেকে ছয় বছর হলে শর্ত পূরণ সাপেক্ষে সব ক্যাডার পদোন্নতি (ষষ্ঠ গ্রেড পেলেও), শিক্ষা ক্যাডার সদস্যদের পদোন্নতি দেওয়া হয় না। অনেক স্যাররা ১০ থেকে ১২ বছর একই পদে চাকরি করেন। পদোন্নতির ক্ষেত্রে ব্যাচভিত্তিকও পদোন্নতি হয় না। ফলে নানা জটিলতায় ভরপুর এ ক্যাডার। অন্য ক্যাডারে পদোন্নতির জন্য পদ খালি থাকার প্রয়োজন হয় না, তাঁরা সুপার নিউমারি পদে পদোন্নতি পান আর শিক্ষা ক্যাডারে পদ খালি নেই বলে পদোন্নতি দেওয়া হয় না। আবার নতুন পদ সৃষ্টিও করা হয় না। কলেজগুলো চলছে দীর্ঘদিনের পুরোনো পদকাঠামো দ্বারা। এ ছাড়া বিধিতে প্রথম পদোন্নতির জন্য পদ খালি থাকার শর্ত নেই। সামাজিক ও আর্থিকভাবে তাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

পদ দখল ও অবস্থান হারানো

ক্যাডার কম্পোজিশন রুলস-১৯৮০ অনুযায়ী সব ক্যাডার কোন মন্ত্রণালয়, দপ্তর, অধিদপ্তর, পরিদপ্তর নিয়ন্ত্রণ করবে, তা নির্দিষ্ট করে দেওয়া আছে। এ রুলস শুধু শিক্ষা ক্যাডারের সময় মানা হয় না। তাদের বিভাগ, জেলা, উপজেলা পর্যায়ে কোনো দপ্তর নেই। শিক্ষা ক্যাডারের সিডিউলভুক্ত পদগুলো যা আছে, তা সময় সুযোগে অন্যরা দখল করে নিচ্ছেন। কারিগরি, মাদ্রাসা, প্রাইমারি অধিদপ্তর, এনটিআরসিএসহ অনেক দপ্তরে শিক্ষা ক্যাডারের জন্য যে পদ ছিল, তা দখলদারগণ কেড়ে নিচ্ছেন।

গ্রেড অসুবিধা

প্রায় সব ক্যাডারে গ্রেড-১, গ্রেড-২, গ্রেড-৩ পদ আছে, কিন্তু শিক্ষা ক্যাডারের নেই। আদালতের রায়ে অধ্যাপকেরা গ্রেড-৩ পেলেও তা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না। অথচ এ ক্যাডারে গ্রেড-১ ও গ্রেড-২ দিয়ে কাজ করার মতো অনেক যোগ্য কর্মকর্তা রয়েছেন। এমনকি ডেপুটেশনে উপসচিব মর্যাদায় স্থানান্তরিত হওয়ার সময় অন্য ব্যাচের সঙ্গে ন্যূনতম ১০ ব্যাচ পার্থক্য থাকে, যা অত্যন্ত লজ্জার।

বিধিবিধান প্রণয়ন

শিক্ষা ক্যাডারের জন্য যে বিধি প্রণয়ন হচ্ছে, তা প্রণয়ন করছে বিশেষ ক্যাডার। এমনকি শিক্ষাস্তরের বিভিন্ন কাঠামোগত রূপরেখা প্রণয়ন ক্ষেত্রে শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তারা বঞ্চিত। ফলে শিক্ষার গুণগতমান পরিবর্তনের জন্য এ বিধিগুলো কোনো কাজে আসছে না, উল্টো শিক্ষাব্যবস্থা মুখ থুবড়ে পড়ছে।

উচ্চশিক্ষা অর্জনে অসুবিধা

বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারদের উচ্চশিক্ষার জন্য ‘প্রধানমন্ত্রী ফেলোশিপ’, ‘বঙ্গবন্ধু ওভারসিস স্কলারশিপ’ কিংবা কমনওয়েলথের মতো স্কলারশিপ খুবই দুর্লভ বিষয়। অথচ অন্য ক্যাডারের ক্ষেত্রে তা অত্যধিক সুবিধাপ্রাপ্ত হলেও শিক্ষা ক্যাডারে তা নিজ যোগ্যতা বলে আদায় করে নিতে হয়, যা ১ শতাংশের কম।

গবেষণায় অসুবিধা

সমসাময়িক যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার জন্য দেশের প্রায় ৯৯ ভাগ কলেজের নেই গবেষণার কোনো ফান্ড কিংবা গবেষণার সুযোগ-সুবিধা। ফলে একটি বিশাল জনগোষ্ঠী দিন দিন অনগ্রসর জাতিতে পরিণত হচ্ছে।

বদলির সুযোগ-সুবিধা

অন্য ক্যাডারে নিয়মিত বদলি কার্যক্রম চালু থাকলেও শিক্ষা ক্যাডারে যুগের পর যুগ, এমনকি অনেকেই এক স্টেশনে সারা জীবন চাকরি শেষ করেন। রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন বিভাগীয় কলেজগুলোয় সুবিধাভোগী কিছু শ্রেণির শাসক প্রভাব খাটিয়ে তাঁদের আত্মীয়স্বজনদের সারা জীবনের জন্য পদায়িত করে দেন।

ভ্যাকেশন বিভাগের অসুবিধা

শিক্ষা ক্যাডার ভ্যাকেশন ডিপার্টমেন্টের অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় অবসরে যাওয়ার সময় তাঁরা অন্যদের থেকে ১০-১৫ লাখ টাকা কম পান। কিন্তু ক্যাডার সদস্যরা বাস্তবে অবকাশ কাটাতে পারেন না। কারণ, প্রতিটি কলেজে অনার্স ডিপার্টমেন্ট থাকায় সারা বছরই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন কর্মযজ্ঞ লেগে থাকে।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অসুবিধা

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত না হয়েও শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তারা সারা বছরই স্বল্প মূল্যে নির্দিষ্ট কোনো বিধিবিধান ছাড়াই খাতা দেখা, পরীক্ষায় দায়িত্ব পালন, ব্যবহারিক পরীক্ষা নেওয়া, নিজ দায়িত্বে কাঁধে করে খাতা নিয়ে আসা ও পৌঁছে দেওয়ার মতো কাজও করে থাকেন।

আবাসনব্যবস্থা

অন্য ক্যাডারগুলোয় কর্মকর্তাদের জন্য জেলাভিত্তিক থাকার ব্যবস্থা থাকলেও শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের জন্য এ ধরনের কোনো ব্যবস্থা নেই। সামান্য কিছু টিচার্স ট্রেনিং কলেজে এ ব্যবস্থা থাকলেও তার বেহাল দশা। একই সঙ্গে অধিকাংশ কলেজে নেই কোনো ডরমেটরি সিস্টেম।

আরও পড়ুন
শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের তিন দিনের কর্মবিরতি শেষ হচ্ছে আগামীকাল
পরিবহন অসুবিধা

অন্য সব ক্যাডারে নবম গ্রেড থেকে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা প্রয়োজনে সরকারি গাড়ি সুবিধা পাচ্ছেন। কিন্তু শিক্ষা ক্যাডারের অধ্যক্ষ মহোদয়দের (গ্রেড-৩) হয়েও তা দেওয়া হয় না। সামান্য কিছু প্রতিষ্ঠানে বা সরকারি কলেজে গাড়ি সুবিধা আছে, কিন্তু অধিকাংশ কলেজে তা নেই। ফলে পরীক্ষা চালানোর সময় শিক্ষা ক্যাডারের বড় বড় কর্মকর্তাদের ভ্যানে বা ভাড়া গাড়িতে প্রশ্নপত্র আনতে হচ্ছে বা অন্যান্য কর্মকাণ্ড সারতে হয়। কিংবা ছাত্রছাত্রী পরিবহনের জন্য নেই কোনো পরিবহনের ব্যবস্থা।

প্রশিক্ষণ অসুবিধা

অন্যান্য ক্যাডারের সদস্যরা সমগ্র চাকরিজীবনে ন্যূনতম ১০০-১৫০টি অভ্যন্তরীণ, বিভাগীয় ও বিদেশে ট্রেনিং সুবিধা পান, অথচ শিক্ষা ক্যাডারের সদস্যরা দেশ ও জাতি গড়ার কারিগর হিসেবে কাজ করলেও সর্বসাকল্যে ৩০-৪০টি ট্রেনিংয়ে অংশ নেওয়ার সুযোগ পান কি না সন্দেহ রয়েছে, যা কিনা নির্ভর করে একটি বিশেষ শাসক শ্রেণির ইচ্ছা-অনিচ্ছার ওপর।

বিবিধ সমস্যা

শিক্ষা ক্যাডারের জন্য নতুন আরও একটি সমস্যা যোগ হয়েছে চার থেকে পাঁচ বছরে চাকরি স্থায়ী হচ্ছে না। ফলে উচ্চশিক্ষার জন্য ছুটি নেওয়া, সিনিয়র স্কেল পরীক্ষা দিতে পারছেন না। বেতন কাঠামোতেও রয়েছে অন্যান্য ক্যাডারদের সঙ্গে বৈষম্য।

আমাদের চাওয়া-পাওয়া

আন্তক্যাডার বৈষম্য দূরীকরণে এবং দেশ ও জাতির মেরুদণ্ড শিক্ষা খাতের ভারসাম্য বজায় রাখতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়ন এখন অন্যতম দাবি। এ আন্দোলন সরকারের বিরুদ্ধে নয়, বরং ক্যাডার কর্মকর্তা হিসেবে নিজেদের অবস্থান টিকিয়ে রাখতে, প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন যারা মানেন না, দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে যাঁরা পিছিয়ে দিয়ে দেশ ও জাতির ক্ষতিসাধন করতে চান, তাঁদের বিরুদ্ধে।

*লেখক: খোন্দকার রেজওয়ান তানভীর, বিসিএস সাধারণ শিক্ষা, ৪০তম বিসিএস ব্যাচের পক্ষ থেকে।

প্রথম আলোর খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন
উচ্চশিক্ষা থেকে আরও পড়ুন
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানশিক্ষা অধিদপ্তরক্যারিয়ারশিক্ষাউচ্চশিক্ষা

উচ্চশিক্ষা নিয়ে আরও পড়ুন
যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়ে জাদুবিদ্যা নিয়ে মাস্টার্স
কমনওয়েলথ বৃত্তির আবেদন শেষ ১২ অক্টোবর
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রযুক্তি ইউনিটের চূড়ান্ত মাইগ্রেশনের ভর্তি শেষ আজই
বিএসএমএমইউতে পিএইচডি, তালিকাভুক্তদের ফি জমা দেওয়ার নির্দেশ
গোলটেবিল
বিশেষ সংখ্যা
কিশোর আলো
চিরন্তন ১৯৭১
বিজ্ঞানচিন্তা
প্রতিচিন্তা
প্রথমা
বন্ধুসভা
প্রথম আলো ট্রাস্ট
মোবাইল ভ্যাস
নাগরিক সংবাদ
ইপেপার
অনুসরণ করুন
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
Android app on
Google Play
Available on the
App Store
প্রথম আলো
বিজ্ঞাপন
সার্কুলেশন
শর্তাবলি ও নীতিমালা
গোপনীয়তা নীতি
যোগাযোগ
স্বত্ব © ২০২৩ প্রথম আলো
সম্পাদক ও প্রকাশক: মতিউর রহমান

Address

South Banasree, Near By Central Mosque
Dhaka
1219

Telephone

01866881299

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when ব্রিটিশ ইসলামিক স্কুল এন্ড কলেজ-বনশ্রী,ঢাকা-British Islamic School &College posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share