28/09/2024
ইন্দিরা একাদশী ব্রত মাহাত্ম্য :
মহারাজ যুধিষ্ঠির বললেন---হে মধুসূদন! আশ্বিন মাসের কৃষ্ণপক্ষীয়া একাদশীর নাম কি তা কৃপা করে আমাকে বলুন।
শ্রীকৃষ্ণ বললেন--হে রাজন! আশ্বিন মাসের একাদশী 'ইন্দিরা' নামে পরিচিত। এই ব্রত পালনে মহাপাপ বিনষ্ট হয়। এমনকি কর্মবিপাকে যারা নিম্নযোনি লাভ করেছেন, সেই পূর্বপুরুষদেরও উত্তম গতি লাভ হয়। এই একাদশীর মাহাত্ম্য শোনামাত্রেই সামবেদীয় যজ্ঞ ফল লাভ করা যায়।
হে রাজন! মাহিস্মতি নগরে ইন্দ্রসেন নামে এক প্রসিদ্ধ রাজা ছিলেন। ধর্ম বিধি অনুসারে রাজ্য পালনে তিনি বিশেষ খ্যাতি সম্পন্ন ছিলেন। তার বিপুল ধনসম্পত্তি ছিল। পুত্র পৌত্রাদিসহ তিনি সুখে রাজ্য পরিচালনা করতেন। বিষ্ণু ভক্তি পরায়ন সেই রাজা নিরন্তর শ্রী গোবিন্দ নাম গানে মগ্ন থাকতেন।
একদিন রাজা সুখে রাজসভায় বসে আছেন। এমন সময় দেবর্ষি নারদ স্বর্গ থেকে সেখানে এলেন। তাঁকে দর্শন করে রাজা হাত জোড় করে উঠে দাঁড়ালেন। দন্ডবৎ প্রণাম করে মুনিকে আসন, পাদ্য, অর্ঘ্য আদি ষোড়শোপচারে পূজা নিবেদন করলেন। তারপর বললেন---হে মুনিবর! আপনার দর্শন মাত্রই আমার যাবতীয় যজ্ঞ ফল লাভ হয়েছে। এখন আপনার আগমনের কারণ জানিয়ে আমাকে কৃতার্থ করুন।
দেবর্ষি নারদ বললেন---হে মহারাজ! অতি বিস্ময়কর এক কথা শ্রবণ করুন। আমি এক সময় যমলোকে গিয়েছিলাম। সেখানে যমরাজের রাজসভায় বহু পুণ্যকারী আপনার পিতাকে দেখলাম। ব্রত ভঙ্গ পাপে তাকে সেখানে যেতে হয়েছে। হে রাজন! আপনার পিতা যে সংবাদ প্রেরণ করেছেন, আমি এখন তা আপনাকে বলছি।
তিনি বললেন ---হে ঋষিবর! মাহিস্মতির ইন্দ্রসেন রাজা আমার পুত্র। তাকে বলবেন যে, আমি বহু পুণ্য অনুষ্ঠান করলেও কোনো কারণ বশত যমালয়ে আসতে বাধ্য হয়েছি। আপনি কৃপা করে তাকে ভয় সর্বপাপ নাশক ইন্দিরা একাদশী পালন করতে বলবেন। সেই ব্রত প্রভাবে আমি নিষ্পাপ হয়ে স্বর্গ লোকে যেতে পারবো।' এই কথা জানাবার জন্যই আমার আগমন। হে রাজন! আপনার পিতার মঙ্গল বিধানে আপনি যথাবিধি ইন্দিরা একাদশী পালন করুন।
রাজা জিজ্ঞাসা করলেন--হে দেবর্ষি! সেই ইন্দিরা একাদশীর বিধি কি, কোন তিথি বা কোন পক্ষে এই ব্রত পালন করা কর্তব্য তা কৃপা করে আমাকে বলুন।
দেবর্ষি উত্তর দিলেন--- হে মহারাজ! আশ্বিন মাসের কৃষ্ণপক্ষের দশমীর দিনে শ্রদ্ধা সহকারে প্রাতঃস্নান করবেন, মধ্যাহ্নে ভক্তি ভাবাপন্ন হয়ে পুনরায় স্নান করবেন এবং রাত্রি কালে ভূমিতে শয়ন করবেন। পরদিন একাদশীতে প্রাতঃকৃত্যাদি সমাপণ করে নিরাহারে থাকবেন। ব্রতের নিয়মাবলী দৃঢ়ভাবে পালন করবেন। 'হে পুন্ডরীকাক্ষ! হে অচ্যুত! এশরণাগতের প্রতি কৃপা করুন'। এই ভাবে শ্রদ্ধা সহকারে শালগ্রাম পূজা করে পিতার উদ্দেশ্যে ব্রতের ফল অর্পণ করবেন। দ্বাদশীর দিন সকালে ভক্তিভরে শ্রী গোবিন্দের পূজা করে ব্রাহ্মণ ভোজন করিয়ে অবশেষে নিজে মহাপ্রসাদ গ্রহণ করবেন। হে রাজন! বিধি অনুসারে শ্রী হরি এবং ভক্তদের অর্চন করলে আপনার পিতৃবর্গ মুক্তিলাভ করে শীঘ্রই বৈকুণ্ঠে গমন করবেন।
রাজাকে এই উপদেশ দিয়ে দেবর্ষি নারদ প্রস্থান করলেন। রাজা ইন্দ্রসেন মুনির উপদেশ অনুসারে পুত্র পরিজন সহ ভক্তি সহকারে এই ব্রতের অনুষ্ঠান করলেন। তখন দেবলোক থেকে পুষ্প বৃষ্টি হতে লাগল এবং তার পিতাও বিষ্ণুলোকে গমন করলেন। তারপর রাজা ইন্দ্রসেন নিজপুত্রকে রাজ্য ভার অর্পণ করে নিজেও বিষ্ণুলোকে ফিরে গেলেন। এই ইন্দিরা একাদশীর মাহাত্ম্য পাঠ ও শ্রবণে মানুষ সকল পাপ মুক্ত হয়ে বিষ্ণুলোক প্রাপ্ত হয়।