Speak truth or remain silent

Speak truth or remain silent এসেছে সত্য চলে গেছে মিথ্যে ,
নিশ্চয়ই ম?

30/12/2023

শায়খ খন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর (রহ.)
কি অসাধারণ একটি উপলব্ধি দিয়ে গিয়েছেন,
সুবহানাল্লাহ।
"যুবক ছেলে। ছাত্র মানুষ, পড়াশোনা করে। মাথায় পরীক্ষার চিন্তা। ইকামত দেওয়ার সময় কোনোরকমে এসে জামায়াত ধরে। সালাম ফিরিয়েই দৌড়ে মসজিদ থেকে বেরিয়ে যায়।
মাঝবয়সী রিকশাওয়ালা। মসজিদের পাশ দিয়ে রিকশা চালিয়ে যাওয়ার সময় তার কানে আযানের সুর ভেসে আসে। এই সময়টায় দু'টো ভাড়া বেশি মারলে সপ্তাহে একদিন মাংস কিনে খেতে পারবে।
বাড়িতে রেখে আসা বৌয়ের চেহারাটা এসময় চোখের সামনে ভেসে ওঠে। এই সময়টায় ভাড়া মারলে সে বৌয়ের জন্য উপহার কিনে বাড়ি ফিরতে পারবে। কিন্তু সে এসব চিন্তা ঝেড়ে ফেলে রিকশাটা থামায়। ওযু করে চার রাকাআত ফরজ নামাজ পড়ে। সালাম ফেরানো শেষ হওয়া মাত্র মসজিদের ত্রিসীমানায় তাকে আর খুঁজে পাওয়া যায় না।
আর আপনি দাড়ি সফেদ হওয়ার পর, দুনিয়াদারীর পাট চুকিয়ে মসজিদে নিয়মিত হয়েছেন। এখন ফরজ শেষ হওয়া মাত্র মুসল্লিদের পথ আটকে রেখে ঘন্টাব্যাপী সুন্নাত আদায় করা শুরু করেন, আর মনে মনে ভাবেন- ' এদের ফরজ স্বলাতে মন নাই। মন থাকলে সালাম ফিরিয়েই দৌড়ে পালাইতো না '
কিন্তু আল্লাহ্ তো উল্টা কথা বলছেন, ভাই। আল্লাহ্ বলছেন- আপনার এই অখণ্ড অবসরে ভাঙ্গা কোমরের লম্বা লম্বা রূকূ-সেজদার চেয়ে, ওই সুঠাম যুবক যে ব্যস্ততার ভেতর আল্লাহ্কে স্মরণ করে মসজিদে হাজিরা দিয়েছে- এটা উনার বেশি প্রিয় !
আপনি যুবা বয়স কাটিয়েছেন ইবাদাতে অবহেলা করে, আর বার্ধক্যে এসে আপনাকে আচ্ছন্ন করে রেখেছে ইবাদাতের অহমিকা; যে অহমিকার কারণে আপনি এখন অন্য আবেদদেরকে তাচ্ছিল্য করেন।
বিশ্বাস করেন, ভাই.... আপনার মতো কপালপোড়া আল্লাহ্'র দুনিয়ায় আর একটা নাই!"
শরিফ আবু হায়াত অপু

14/08/2023

নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহর জন্য
এবং তার দিকেই আমরা প্রত্যাবর্তনকারী।
(আল কুরআন )
😥

নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহর জন্য এবং তার দিকেই আমরা প্রত্যাবর্তনকারী। আল কুরআন।
14/08/2023

নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহর জন্য
এবং তার দিকেই আমরা প্রত্যাবর্তনকারী।
আল কুরআন।

24/07/2023

ছোট বেলা থেকেই আব্বা আম্মার কাছ থেকে শিক্ষা পেয়েছি যে ভবিষ্যতে কোনো কিছু করব বললে যেন ইনশাআল্লাহ বলে তারপর কমিটমেন্ট করি।

তো, একদিন এক বিজনেস মিটিংয়ে একটি বিজনেস কেইস উপস্থাপন শেষে প্রশ্নকর্তার উত্তরে বললাম ইনশাআল্লাহ এটা তিনমাসে হয়ে যাবে।

তিনি আমার দিকে ভ্রু কুচকে বললেন, এই যে ইনশাআল্লাহ!
আরে ভাই পারলে কনফিডেন্টলি বলেন যে তিনমাসে কাজ শেষ করে দেবেন।

আমি আবারো স্মিত হেসে বললাম, ইনশাআল্লাহ, শেষ করে দেব।
তিনি যে বিরক্ত হলেন সেটা আমি বুঝতে পারলাম।

মিটিং শেষে আমি তার সাথে ৫ মিনিট একান্তে কথা বলতে চাইলাম। তিনি সময় দিলেন।

এসি রুমের মধ্যে স্মোক করলে যারা ধুমপান করেননা তাদের জন্য খুব অসুবিধা হয়। আমি যেহেতু নিকোটিনে অভ্যস্ত নই, আমার অসুবিধা হচ্ছিল। তবু ধৈর্য ধরে তাকে বললাম, বস, ইনশাআল্লাহ বলার মানে এই না যে আমি তিন মাসে কাজ না বুঝিয়ে দেয়ার কোনো অবলম্বন খুঁজছি। বরং আমি আল্লাহর উপর ভরসা করে বলছি যে আমি পারব কাজটা তিন মাসে শেষ করতে।

তিনি আমার কথা খুব একটা মনযোগ দিয়ে শুনছেন বলে মনে হলোনা। তারপরও আমি তাকে বললাম, বস, আপনি কি সুরা কাহফ পড়েছেন?
তিনি আমতা আমতা করলেন।
না পড়লে সমস্যা নেই বস, আপনি ইংরেজী কিংবা বাংলা অনুবাদও পড়তে পারেন।
ওই সুরাটার অর্থ আর ব্যাখ্যা পড়লে আপনি বুঝবেন যে ইনশাআল্লাহ বলাটা কেন জরুরি। এই সুরার ২৩-২৪ নাম্বার আয়াতে স্পষ্ট বলা হয়েছে যেকোনো ভবিষ্যতের কথা বলার সময় যেন আমরা ইনশাল্লাহ (আল্লাহ চাইলে) বলে প্রতিশ্রুতি দিই।

এবার তিনি সিগারেটটা অ্যাশট্রেতে ফেলে দিয়ে আমাকে বললেন, চা দিতে বলি?
-হ্যাঁ, খেতে পারি। গ্রিন টি।

বেল বাজাতেই একজন এসিসটেন্ট আসলেন। তাকে গ্রিন টি দিতে বলা হলো।

এর মাঝে তিনি বললেন, রিমন সাহেব, ক্যান ইউ ন্যারেট মি দিজ সুরা। কেনো এই ইনশাআল্লাহ বলতে বলা হলো?

আমি এই সুযোগটা চাচ্ছিলাম। ততক্ষণে গ্রিন টি চলে এসেছে।

আমি চায়ে চুমুক দিয়ে বললাম, এই সুরার পটভূমি রাসুল (সাঃ) এর নবুয়াতের শুরুর দিকে। তখন কুরাইশরা তার নবু্য়তে বিশ্বাস করছিলনা। তাঁকে নানা ভাবে মিথ্যা প্রমাণ করার চেষ্টা করছিল। তারা জানত যে মদীনায় তখন জুইস (ই *হু *দী) পন্ডিতরা বসবাস করতেন। তখন দুজন কুরাইশ প্রতিনিধি মদীনায় গিয়ে জুইস রাবাই কে জিজ্ঞেস করলেন যে মুহাম্মদ (সাঃ) নিজেকে নবী দাবী করছে। তার কাছে নাকি ওহি আসে। আমাদের কিছু প্রশ্ন ঠিক করে দিন যা দিয়ে তাঁকে মিথ্যা প্রমাণ করতে পারবে।

পন্ডিত তাদেরকে বললেন যে সেটা প্রমান করা খুব সহজ। তাকে তিনটি প্রশ্ন করুন। তিনি যদি এর সঠিক উত্তর দিতে পারেন তাহলে বুঝবেন যে তিনি সত্য নবী, আর না দিতে পারলে বুঝবেন যে তিনি সত্য নবী নন। পন্ডিত যে প্রশ্ন গুলো ঠিক করে দিলেন সেই ৩টি প্রশ্ন হল-
১) কাহাফ (গুহাবাসি) বাসিন্দা কারা ছিল?
২) জুলাকারনাইন কে ছিলেন?
৩) রহু কি?

যথারীতি কুরাইশ প্রতিনিধিরা তাদের পরিকল্পনা মতো ফিরে এসে এই ৩টি প্রশ্ন রাসুল (সা.)কে জিজ্ঞেস করল।
তিনি বললেন আমি আগামী কাল তোমাদেরকে এই প্রশ্নগুলোর উত্তর দিব। তিনি অপেক্ষা করতে লাগলেন জিব্রাইল (আ.) উত্তর নিয়ে আসবেন। পরের দিন কুরাইশরা সমবেত হলো উত্তর শুনতে। কিন্তু রাসুল (সাঃ) সেই প্রশ্নের উত্তর দিতে পারলেন না। বরং বললেন, আগামীকাল এসো, তোমাদেরকে উত্তর জানাব। এভাবে প্রায় ২ সপ্তাহ চলে গেল এবং রাসুল (সাঃ) উদ্বেগ বাড়তে থাকল। তিনি ভেতরে ভেতরে অস্থিরতা অনুভব করতে শুরু করলেন।

এরমধ্যে কুরাইশরা ব্যঙ্গ বিদ্রুপ করতে লাগলো। অবশেষে উত্তর এলো, নাজিল হলো সুরা কাহাফ এবং সুরা বনি ইসরাইল। এই দেরির কারন সম্পর্কে সুরার ২৩-২৪ নাম্বার আয়াতে মহান আল্লাহ বলেন, আপনি কোন কাজের বিষয়ে বলবেন না যে, সেটি আমি আগামী কাল করব, আল্লাহ ইচ্ছা করলে বলা ব্যতিরেকে।

তারপর একে একে আল্লাহর রাসুল (সাঃ)কে প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর শিক্ষা দেয়া হয়। এই সুরার ৯-২৬ নাম্বার আয়াতে প্রথম প্রশ্নের উত্তর দেয়া হয়েছে। একই সুরার ৮৩-১০১ নাম্বার আয়াতে জুলকারনাইন বাদশার কাহিনী বলা হয়েছে। তৃতীয় প্রশ্ন রুহ কি? এর উত্তর দেয়া হয়েছে সুরা বনি ইসরাইল এর ৮৫ নং আয়াতে।

আমি চায়ের কাপে শেষ চুমুক দিয়ে বললাম, বস, যেখানে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ রাসুলকে ‘‘ইনশাআল্লাহ” না বলার জন্য পরীক্ষা দিতে হয়েছে সেখানে আমরা তো তাঁর তুলনায় কীট পতঙ্গের সমতুল্যও নয়। আমরা কী করে মহান আল্লাহর উপর ভরসা না করে প্রতিশ্রুতি দিয়ে বসব?

প্রসঙ্গত বলে নিই, তার ওই কাজটি আমরা পোনে তিন মাসে শেষ করে দিয়েছিলাম।

তার কাজ শেষ করার পর তিনি তার নতুন একটি কাজের ওয়ার্ক অর্ডার নিয়ে কথা বলতে একদিন আমার অফিসে আসলেন। আলাপ শেষে বললাম, বস ওয়ার্ক অর্ডার টা কবে পাব?

-ইনশআল্লাহ, এই সপ্তাহেই পাবেন, তিনি চেহারা উজ্জ্বল করে বললেন।

- তাণভীর শাহরিয়ার রিমন
সিইও, র‍্যানকন

নারীদের জন্য ঘরে বসে সম্পূর্ণ পর্দা রক্ষা করে অনলাইনে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ অথবা নানা দ্বীনি বিষয়ে জ্ঞান অর্জন সম্ভব। আমাদের ...
20/07/2023

নারীদের জন্য ঘরে বসে সম্পূর্ণ পর্দা রক্ষা করে অনলাইনে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ অথবা নানা দ্বীনি বিষয়ে জ্ঞান অর্জন সম্ভব। আমাদের দেশে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনলাইনের মাধ্যমে অধ্যায়ন করা যায়। এমন কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ব্যাপারে আজকের পোস্টে উল্লেখ করছি।
১। বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় (বাউবি):
এটি বাংলাদেশের একটি পূর্ণাঙ্গ সরকারী বিশ্ববিদ্যালয়। এখানে ইসলামিক স্টাডিজ, CSE সহ বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশুনা করা যায়। এখানে ৩ বছর মেয়াদী ডিগ্রি কোর্স, ৪ বছর মেয়াদী বিএ/বিএসসি কোর্স, মাস্টার্স ইত্যাদির ব্যবস্থা রয়েছে। সপ্তাহে ১ দিন শুক্রবার স্থানীয় আঞ্চলিক সেন্টারে ক্লাস করতে হয়, সপ্তাহের অন্যান্য দিন অনলাইনে ক্লাস হয়। সেন্টারে গিয়ে সশরীরে ক্লাস করা বাধ্যতামূলক নয়। ফলে নারীরা সম্পূর্ণ ঘরে বসেই অনলাইনের মাধ্যমে পড়াশুনা করতে পারেন। অন্যান্য সরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো এখানেও ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে চান্স পেতে হয়।
বিস্তারিত তথ্যের জন্য ভিজিট করুনঃ https://bou.ac.bd/index.php
২। International Open University (IOU):
এটি ড. আবু আমিনাহ বিলাল ফিলিপস পরিচালিত সুবিখ্যাত অনলাইন বিশ্ববিদ্যালয়। এখানে ইসলামিক স্টাডিজে বিএ, মাস্টার্স এমনকি পিএইচডিও করা যায়। ইসলামী বিষয় ছাড়াও আইটি, মনোবিজ্ঞান, ইকোনোমিকস সহ বিভিন্ন বিষয়ে এখানে অধ্যায়ন করা যায়।
বিস্তারিত তথ্যের জন্যঃ
https://iou.edu.gm/
https://www.youtube.com/watch?v=D0fzcYPWhI8
৩। ইসলামিক অনলাইন মাদ্রাসা (IOM):
এটি হাটহাজারি কওমি বোর্ড কর্তৃক স্বীকৃত, ISO সনদপ্রাপ্ত আন্তর্জাতিক মানের একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এর পরিচালনায় আছেন বিখ্যাত আলেম ও তুলনামূলক ধর্মতত্ত্বের উপর গবেষক মুফতি জুবায়ের আহমাদ। এখানে অনলাইনে আলিম কোর্স সহ আরো বিভিন্ন প্রোগ্রাম রয়েছে।
বিস্তারিত তথ্যের জন্যঃ https://iom.edu.bd/
৪। তাইবাহ একাডেমিঃ
এটি শায়খ ড. মানজুরে ইলাহী পরিচালিত একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এখানে ইসলামিক স্টাডিজে ডিপ্লোমা প্রোগ্রাম সহ আরো বিভিন্ন প্রোগ্রাম রয়েছে।
বিস্তারিত তথ্যের জন্যঃ https://taibahacademy.com/
৫। তারবিয়াহ অনলাইন মাদ্রাসাঃ
শায়খ মোখতার আহমাদ কর্তৃক পরিচালিত একটি অনলাইন মাদ্রাসা। এখানে ৩ বছরমেয়াদী অনলাইন আলিমিয়্যাহ প্রোগ্রামসহ আরো বিভিন্ন প্রোগ্রাম রয়েছে।
বিস্তারিত তথ্যের জন্যঃ https://tarbiyahonline.com/
নারী-পুরুষ যে কেউ প্রয়োজন অনুসারে এসব প্রতিষ্ঠানে অনলাইনের মাধ্যমে অধ্যায়ন করতে পারেন। বিশেষত নারীদের জন্য বাড়িতে বসে পর্দা রক্ষা করে অনলাইনে অধ্যায়নের জন্য এই প্রতিষ্ঠানগুলো অধিক গুরুত্ব রাখে।

Courtesy :Muhammad Mushfiqur Rahman Minar

হিজরী ক্যালেন্ডারের যেভাবে যাত্রা শুরু...ইসলাম-পূর্ব আরবের নিজস্ব কোনো ক্যালেন্ডার ছিলো না। কিন্তু, তারা দিন-মাসের হিশাব...
20/07/2023

হিজরী ক্যালেন্ডারের যেভাবে যাত্রা শুরু...

ইসলাম-পূর্ব আরবের নিজস্ব কোনো ক্যালেন্ডার ছিলো না। কিন্তু, তারা দিন-মাসের হিশাব রাখতো। দিন-মাসের হিশাব ছিলো চাঁদের সাথে সম্পর্কিত। তারা বছরের হিশাব করতো কোনো গুরুত্বপূর্ণ একটি বছরের ঘটনার মাধ্যমে।

যেমন, আমাদের বাপ-দাদাদের অনেকের কাছে কারো জন্মসাল জিজ্ঞেস করলে তারা কিন্তু ১৯৬০/১৯৭৩ এরকম কিছু বলেন না। তারা বলেন এভাবে- “সংগ্রামের বছর তার জন্ম/সংগ্রামের ২ বছর পর তার জন্ম/মুক্তিযুদ্ধের সময় আমার বয়স ২ বছর ছিলো’’ ইত্যাদি। অর্থাৎ, এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাকে ধরে তারা সাল গণনা করেন, যে ঘটনা মোটামুটি কমন।

আরবরাও এমনটি করতো। তারা কোনো বড়ো একটি ঘটনাকে ধরে সাধারণত বছর গণনা করতো। যে কারণে সীরাতগ্রন্থে দেখতে পাবেন যে, রাসূলুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জন্মের বছর বলতে বলা হয় ‘হাতির বছর’। অর্থাৎ, যে বছর আবরাহা হাতি নিয়ে কাবা ঘর আক্রমণ করতে এসেছিলো।

রাসূলুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সময়ও আরব তথা মুসলিমদের স্বতন্ত্র কোনো ক্যালেন্ডার ছিলো না। তখন সাল বুঝানো হতো বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার মাধ্যমে। যেমন: নবুওয়্যাতের দ্বিতীয় বছর, নবুওয়্যাতের দশম বছর ইত্যাদি; তবে মাসের গণনা ছিলো।

আরবের কাছে চারটি মাস ছিলো ‘হারাম মাস’। এই চার মাসে যুদ্ধ করা ঐতিহ্যগতভাবে ‘হারাম’ ছিলো। পবিত্র কুরআনে এই সম্পর্কে বলা আছে:

“তারা তোমাকে হারাম মাস সম্পর্কে, তাতে লড়াই করা বিষয়ে জিজ্ঞেস করে...।” [সূরা বাকারা ২:২১৭]

উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) তখন মুসলিম বিশ্বের খলিফা। তাঁর কাছে একটি ডকুমেন্ট আসে, যে ডকুমেন্টে মাস লিখা ছিলো শাবান মাস। উমর (রাদি:) জানতে চাইলেন, এটা কোন শাবান মাস? গতো বছরের? এই বছরের? নাকি আগামী বছরের?

সাহাবীদেরকে নিয়ে তিনি মিটিং-এ বসলেন। একটি ক্যালেন্ডার নির্ধারণের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করলেন। কিন্তু, কোন ক্যালেন্ডারের অনুসরণ করবেন? তখনকার সময়ের প্রস্তাবিত ক্যালেন্ডার ছিলো দুটো।

রোমান ক্যালেন্ডার
পারসিয়ান ক্যালেন্ডার

এই দুটো ক্যালেন্ডারের কিছু সমস্যা ছিলো। রোমান ক্যালেন্ডার অনেক বিস্তৃত, সেই জুলকারনাইন থেকে যার সাল গণনা শুরু। আর পারসিয়ান ক্যালেন্ডারটি সম্রাট পরিবর্তনের সাথে সাথে বদলে যায়। সাহাবীরা তখন একটি স্বতন্ত্র ক্যালেন্ডার প্রণয়নের চিন্তা করলেন। [১]

এখন প্রশ্ন হলো কোন বছরকে ‘প্রাইম’ ধরা হবে? সাহাবীগণ উমরকে (রাদি:) চারটি পরামর্শ দেন।
যে বছর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জন্মগ্রহণ করেছেন।

যে বছর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নবুওয়্যাত পেয়েছেন।

যে বছর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হিজরত করেছেন।

যে বছর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইন্তেকাল করেছেন।

সাহাবীরা দেখলেন যে, কোন বছর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জন্মগ্রহণ করেছেন, আর কোন বছর তিনি নবুওয়্যাত লাভ করছেন সেটাকে ‘প্রাইম’ ধরে হিশাব করাটা সহজসাধ্য হবে না (সেই ইভেন্টগুলো ছিলো অনেক দূরের)। অন্যদিকে রাসূলুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইন্তেকালের বছরটি বিষাদের বছর। এরকম বিষাদের বছরকে ধরে ক্যালেন্ডার বানানোর ক্ষেত্রে সবাই একমত নন। থেকে গেলো শুধু রাসূলুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হিজরতের বছর।

সাহল ইবনু সা’দ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণনা করেন:
“লোকেরা বছর গণনায় নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নবুওয়্যাত প্রাপ্তির দিন থেকে করেনি, তাঁর ইন্তেকালের দিন থেকেও করেনি; বরং তাঁর মদীনায় হিজরত হতে বছর গণনা শুরু করে।” [সহীহ বুখারী: ৩৯৩৪]

রাসূলুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হিজরতের বছর থেকেই যে সাল গণনা শুরু হবে, এই প্রস্তাবটি দেন আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু)। উমর (রাদি:) আলীর (রাদি:) প্রস্তাবটি গ্রহণ করেন। তাঁর খিলাফতের দ্বিতীয় বছরেই এই সিদ্ধান্তটি নেয়া হয়। [২]

ইসলাম-পূর্ব এবং ইসলাম-পরবর্তী মাসের নাম একই ছিলো। অর্থাৎ, উমর (রাদি:) যখন হিজরী সাল প্রবর্তন করেন, তখন মাসের নাম আগেরগুলোই ছিলো। এই মতটি আল-বিরুনী এবং আল-মাস’উদীর। [৩]

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হিজরত করেন সফর-রবিউল আউয়াল মাসে। তবে, ক্যালেন্ডারের প্রথম মাস হিশেবে রাখা হয় মহররম মাসকে। মহররমকে ক্যালেন্ডারের প্রথম মাস রাখার প্রস্তাব দেন উসমান (রাদিয়াল্লাহু আনহু)।

রবিউল আউয়ালকে বছরের প্রথম মাস না রেখে মহররমকে কেনো রাখা হলো? ইবনে হাজার আসক্বালানী (রাহিমাহুল্লাহ) সেটার একটি ব্যাখ্যা দেন।
হিজরতের রাস্তা উন্মুক্ত করে আকাবার দ্বিতীয় শপথ। সেটি অনুষ্ঠিত হয়েছিলো যিলহজ্জ্ব মাসে। যিলহজ্জ্ব মাসের পরবর্তী মাস, অর্থাৎ নতুন মাস হলো মহররম মাস। সেজন্য মহররম মাসকে ক্যালেন্ডারের প্রথম মাস হিশেবে নেওয়া হয়। [৪]

রাসূলুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হিজরতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্যালেন্ডারের গণনা করা হয়েছিলো বলে ক্যালেন্ডারটি ‘হিজরী ক্যালেন্ডার’/’হিজরী সাল’ নামে পরিচিত। বর্তমান (২০২২) হিজরী সাল হলো ১৪৪৪।

রেফারেন্স:

১। Mahd as-Sawab: 1/316.
২। Tareekh Al-Islam, Ad-Dhahabi, page 163.
৩। F.C. De Blois, "TA’RĪKH": I.1.iv. "Pre-Islamic and agricultural calendars of the Arabian peninsula", The Encyclopaedia of Islam, 2nd edition, X:260.
৪। Fath al-Bari: 7/268.

আরিফুল ইসলাম

15/07/2023
09/04/2023

সেই যুবকের কথা যে পাপের পথ ছেড়া আল্লাহর পথে ফিরে আসছে 🖤

বিয়ের প্রস্তুতি১. প্রধান ও একমাত্র কাজ নিজেকে তাইয়িব/তাইয়িবা বানানো।وَٱلطَّیِّبَـٰتُ لِلطَّیِّبِینَ وَٱلطَّیِّبُونَ لِلط...
21/07/2022

বিয়ের প্রস্তুতি

১. প্রধান ও একমাত্র কাজ নিজেকে তাইয়িব/তাইয়িবা বানানো।
وَٱلطَّیِّبَـٰتُ لِلطَّیِّبِینَ وَٱلطَّیِّبُونَ لِلطَّیِّبَـٰتِۚ
সচ্চরিত্রা নারীকুল সচ্চরিত্র পুরুষকুলের জন্যে এবং সচ্চরিত্র পুরুষকুল সচ্চরিত্রা নারীকুলের জন্যে। (সূরা নূর : ২৬)

২. আমি জানি, আল্লাহর অসংখ্য বান্দা ও বান্দী নেককার জীবনসঙ্গীর জন্য আল্লাহর কাছে নিয়মিত দোয়া করে যাচ্ছেন। নিজেকে ‘তাইয়িব/তাইয়িবা’ বানানোর মাধ্যমে আমি কুদরতি ঘটকালি অফিসে নিজের সিভি জমা দিলাম।

৩. অনেকে বিয়ে না হওয়া নিয়ে হাহুতাশ করে। দ্বীনদার পাত্র/পাত্রী না পাওয়া নিয়ে আক্ষেপ করে। আমার উচিত প্রথমে নিজের দিকে তাকানো উচিত। আমি কি উত্তম জীবনসঙ্গী পাওয়ার প্রধানতম ‘কুরআনী যোগ্যতা’ অর্জন করেছি?

৪. আমি খ-বি-স (ٱلۡخَبِیثَـٰتُ لِلۡخَبِیثِینَ) হলে, উত্তম সঙ্গী কীভাবে পাবো?

৫. আবারো মনে করিয়ে দিই, বিয়ে নিয়ে আমার কোনও চিন্তাই নেই। আমি তাইয়িব/তাইয়িবা হলে, আমাকে পাওয়ার জন্য হাজারো যুবক-যুবতী কায়মনোবাক্যে দোয়া করে যাচ্ছে।

৬. আমি আমার পুরো মনোযোগ নিজেকে ‘তাইয়িব’ বানানোর দিকে নিবদ্ধ করব। বাকি কাজ কুদরতি কারিশমাতেই হয়ে যাবে। ইন শা আল্লাহ।

- আতিক উল্লাহ (হাফি.)

Address

Mirpur
Dhaka

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Speak truth or remain silent posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Place Of Worship

Send a message to Speak truth or remain silent:

Share