26/08/2026
দ্বাদশ শতাব্দীর মুফাসসির ইমাম আহমাদ সাওয়ী মালিকী ’আলাইহির রাহমাহ কুরআন পাকের তাফসীরে লিখেছেন:
“নিশ্চয়ই হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালাম যখন বাইতুল মুকাদ্দাস নির্মাণের কাজ শেষ করলেন, তখন তিনি হারামের ভূমির দিকে যাওয়ার সংকল্প করলেন। সফরের প্রস্তুতি গ্রহণ করলেন এবং জিন, মানুষ, পাখি ও বন্যপ্রাণীদের মধ্য থেকে তাঁর সৈন্যবাহিনীকে সঙ্গে নিলেন। অতঃপর বাতাস তাঁদের বহন করে নিয়ে গেল। যখন তিনি হারামে পৌঁছলেন, তখন আল্লাহর যতদিন ইচ্ছা হলো, ততদিন তাঁরা সেখানে অবস্থান করলেন।
তিনি তাঁর দীর্ঘ অবস্থানকালে প্রতিদিন পাঁচ হাজার উট, পাঁচ হাজার গরু এবং বিশ হাজার বকরি যবেহ করতেন। আর তাঁর সম্প্রদায়ের কোনো সম্মানিত ব্যক্তি তাঁর কাছে এলে তিনি তাকে বলতেন:
‘নিশ্চয়ই এই স্থান থেকে একজন আরবী নবী আবির্ভূত হবেন। তাঁর গুণাবলি হবে এমন এমন। তাঁর বিরুদ্ধে যে-ই শত্রুতা করবে, তার বিরুদ্ধে আল্লাহ তাঁকে সাহায্য করবেন। তাঁর প্রভাব ও প্রতাপ এক মাসের দূরত্ব পর্যন্ত পৌঁছে যাবে। নিকট ও দূরের লোক তাঁর কাছে অধিকারের ক্ষেত্রে সমান হবে। আল্লাহর ব্যাপারে কোনো নিন্দুকের নিন্দা তাঁকে বিচলিত করবে না।’
তাঁরা জিজ্ঞাসা করলেন, ‘হে আল্লাহর নবী! তিনি কোন দ্বীনের অনুসারী হবেন?’
তিনি বললেন, ‘আল্লাহর দ্বীন—দ্বীনে হানীফের অনুসারী হবেন। অতএব, সুসংবাদ তার জন্য, যে তাঁর যুগ লাভ করবে এবং তাঁর প্রতি ঈমান আনবে।’
তাঁরা জিজ্ঞাসা করলেন, ‘হে আল্লাহর নবী! আমাদের ও তাঁর আবির্ভাবের মধ্যে কত সময়ের ব্যবধান?’
তিনি বললেন, ‘এক হাজার বছরের পরিমাণ। অতএব, যে উপস্থিত আছে, সে যেন অনুপস্থিতদের কাছে এ সংবাদ পৌঁছে দেয়। নিশ্চয়ই তিনি নবীগণের সরদার এবং রাসূলগণের শেষজন হবেন।’”
• হাশিয়াতুস সাওয়ী ’আলা জালালাইন, ২য় খণ্ড, পৃষ্ঠা ১৪৯১ (সূরা আন-নামল, আয়াত ২১)
#তাসাউফ_মাজলিস