তাফসীরে সাইফী

তাফসীরে সাইফী কুরআন, হাদীস, সীরাত, ইতিহাস, ফিকাহ, বিজ্ঞান, দর্শন এর তত্ত্ব ও তথ্যের অপূর্ব সমাহার- "তাফসীরে সাইফী"।

15/01/2024

আবদুল্লাহ ইবনু মাস‘ঊদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন:

“সবচেয়ে নিকৃষ্ট বর্ণনাকারী হলো মিথ্যা বর্ণনাকারী। অন্তর থেকে (তথা প্রকৃত) হোক কিংবা হাসি-ঠাট্টা-রসিকতা করেই হোক, মিথ্যা বলা ঠিক নয়।

এমনকি কোনো লোক যেন নিজ সন্তানের সাথেও এমন ওয়াদা না করে, যা সে পূরণ করবে না।

নিশ্চয় সত্যবাদীতা (মানুষকে) পুণ্যের পথে চালিত করে এবং পুণ্য জান্নাতের দিকে চালিত করে।

পক্ষান্তরে মিথ্যাচার (মানুষকে) পাপাচারের দিকে চালিত করে এবং পাপাচার জাহান্নামের দিকে চালিত করে।

আর সত্যবাদী ব্যক্তি সম্পর্কে বলা হয়, সে সত্য বলেছে ও পুণ্যের কাজ করেছে।

বিপরীতে মিথ্যবাদী সম্পর্কে বলা হয়, সে মিথ্যা বলেছে ও পাপাচার করেছে।

কোন ব্যক্তি সত্য কথা বলতে বলতে অবশেষে আল্লাহর নিকট ‘সিদ্দীক’ বা সত্যবাদী হিসাবে লিপিবদ্ধ হয়ে যায়।

অপর দিকে কোন ব্যক্তি মিথ্যা কথা বলতে বলতে অবশেষে আল্লাহর নিকট ‘কাযযাব’ বা মিথ্যাবাদী হিসাবে তালিকাভুক্ত হয়।

”তিনি আমাদেরকে বলেন: “আমি কি তোমাদেরকে জানিয়ে দেব না, ‘আযহ’ বা চোগলখুরী কী?
তা হচ্ছে কুৎসা রটনা করা, যা মানুষের মাঝে বৈরিতার সৃষ্টি করে।”

তথ্যসূত্র : (সুনান আদ-দারেমী, হাদীস নং ২৭৫৩)

তাহক্বীক্ব: এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ : মুসনাদুল মাউসিলী নং ২৫৭৭ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫৬৮৫, হাকিম ৪/৩০৬; ইবনু মাজাহ, মুকাদ্দামা ৪৬।

আর ‘সত্যবাদীতা ও মিথ্যাবাদীতা সম্পর্কে এবং ‘সত্যবাদী ও মিথ্যাবাদীর পরিণতি সম্পর্কে বুখারী ও মুসলিমে হাদীস বর্ণিত হয়েছে। আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫১৩৮ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২৭৩, ২৭৪ তে মারফু’ হিসেবে।

আবার ‘আযহ’ বা চোগলখুরী’র অংশটি বর্ণনা করেছেন আহমাদ ১/৪৩৭ ও মুসলিম, বিরর ওয়াস সুলহ ২৬০৬ তে মারফু’ হিসেবে।

হাকিম বলেন, এ হাদীসের সনদ বুখারী ও মুসলিমের শর্তানুযায়ী সহীহ।…’ আর যাহাবী তাকে সমর্থন করেছেন।

আমাদের বক্তব্য: এর সনদ মারফু’ হিসেবে সহীহ, আর তা শাইখাইন বা বুখারী মুসলিমের শর্তানুযায়ী সহীহ।… আল্লাহ ভাল জানেন।

14/01/2024

আবু হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলা হলো,

গীবত কি?

তিনি (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: “তোমার ভাইয়ের প্রসঙ্গে তোমার এমন ধরনের কথা-বার্তা বলা, যা সে অপছন্দ করে।”

প্রশ্নকারী বলল, আমি যে কথাগুলো বলি, তা প্রকৃতপক্ষেই তার মধ্যে নিহিত থাকলে (সেটাও কি গীবত)?

তিনি (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন : “(তুমি যে কথাগুলো বল), তা প্রকৃতই তার মধ্যে নিহিত থাকলে তবেই তো তুমি তার গীবত করলে।

(তুমি যা বল), যদি সেগুলো তার মধ্যে না থাকে তাহলে তো তুমি তাকে মিথ্যা অপবাদ দিলে।”

তথ্যসূত্র : (সুনান আদ-দারেমী, হাদীস নং ২৭৫২)

তাহক্বীক্ব: এর সনদ যয়ীফ, তবে হাদীসটি সহীহ।

✓✓ তাখরীজ :
মুসলিম, বিরর ওয়াস সুলহ ২৫৮৯; মুসনাদুল মাউসিলী নং ৬৪৯৩, ৬৫২৮, ৬৫৩২ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫৭৫৮, ৫৭৫৯ তে।

09/01/2024

‎عَنْ بُرَيْدَةَ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم -: «القُضَاةُ ثَلَاثَةٌ: اثْنَانِ فِي النَّارِ، وَوَاحِدٌ فِي الْجَنَّةِ. رَجُلٌ عَرَفَ الْحَقَّ، فَقَضَى بِهِ، فَهُوَ فِي الجَنَّةِ. وَرَجُلٌ عَرَفَ الْحَقَّ، فَلَمْ يَقْضِ بِهِ، وَجَارَ فِي الْحُكْمِ، فَهُوَ فِي النَّارِ. وَرَجُلٌ لَمْ يَعْرِفِ الحَقَّ (1)، فَقَضَى لِلنَّاسِ عَلَى جَهْلٍ، فَهُوَ فِي النَّارِ» رَوَاهُ الْأَرْبَعَةُ، وَصَحَّحَهُ الْحَاكِمُ

বুরাইদাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন,
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন,

ক্বাযী (বিচারক) তিন প্রকারের, তার মধ্যে দু’ প্রকার ক্বাযী জাহান্নামী আর এক প্রকার জান্নাতী।

যে ক্বাযী সত্য উপলব্ধি করবে এবং তদনুযায়ী ফায়সালাহ করবে সে জান্নাতবাসী হবে।

আর এক ক্বাযী সে সত্য উপলব্ধি করবে কিন্তু তদনুযায়ী ফায়সালাহ করবে না, অন্যায়ের ভিত্তিতে ফায়সালাহ করবে সে জাহান্নামী হবে।

আর এক ক্বাযী সত্য উপলব্ধি করতে পারবে না, অথচ অজ্ঞতার ভিত্তিতে লোকের জন্য ফায়সালাহ প্রদান করবে সে জাহান্নামী হবে।(তার নীতিভ্রষ্টতা তাকে জাহান্নামে নিয়ে যাবে)।

তথ্য সূত্র : আবূ দাউদ ৩৫৭৩, তিরমিযী ১৩২২, ইবনু মাজাহ ২৩১৫, বুলুগুল মারাম, হাদিস নং ১৩৮৩।

হাদিসের মান: সহিহ হাদিস।

09/01/2024

أَخْبَرَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ إِسْحَقَ حَدَّثَنَا النُّعْمَانُ بْنُ سَعْدٍ عَنْ عَلِيٍّ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَيْرُكُمْ مَنْ تَعَلَّمَ الْقُرْآنَ وَعَلَّمَهُ

৩৩৭৬. আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ্সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “তোমাদের মাঝে সেই ব্যক্তি সর্বোত্তম যে কুরআন (নিজে) শিখে এবং (অপরকে) তা শিখায়।”[1]

[1] তাহক্বীক্ব: এর সনদ যয়ীফ আব্দুর রহমান ইবনু ইসহাক এর দুর্বলতার কারণে।

তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ১০/৫০৩ নং ১০১২১; আব্দুল্লাহ ইবনু আহমাদ, যাওয়াইদুল মুসনাদ ১/১৫৩; তিরমিযী, ছাওয়াবুল কুরআন ২৯১১;

ইবনু যরীস, ফাযাইলুল কুরআন নং ১৩৬; আবুল ফাযল আর রাযী, ফাযাইলুল কুরআন নং ৩৮, ৩৯; তামাম ফী ফাওয়াইদুহ নং ১৩৬; কুযাঈ, মুসনাদুশ শিহাব নং ১২৪১; খতীব, তারীখ ১/৪৫৯।

তিরমিযী বলেন, আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত রিওয়ায়ত হিসাবে আবদুর রহমান ইবন ইসহাক (র)-এর সূত্র ছাড়া এই হাদীসটি সম্পর্কে আমাদের কিছু জানা নেই ‘

আমরা বলছি: তবে হাদীসটি সহীহ। পরবর্তী হাদীসটি দেখুন।

27/10/2023

০২. সূরা আল বাকারা, আয়াত-২০৮

يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ ٱدْخُلُوا۟ فِى ٱلسِّلْمِ كَآفَّةً وَلَا تَتَّبِعُوا۟ خُطُوَٰتِ ٱلشَّيْطَٰنِ إِنَّهُۥ لَكُمْ عَدُوٌّ مُّبِينٌ

অনুবাদ :
হে মুমিনগণ, তোমরা ইসলামে পূর্ণরূপে প্রবেশ কর এবং শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না । নিশ্চয় সে তোমাদের জন্য স্পষ্ট শত্রু।
-----------------------------------------
তাফসির :
অত্র আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা সকল মু’মিনকে ইসলামে পূর্ণভাবে প্রবেশ করতে নির্দেশ দিচ্ছেন- সর্বক্ষেত্রে যাবতীয় বিধান যথাসম্ভব পালন ও সকল নিষেধাজ্ঞা থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকার মাধ্যমে।

এ আয়াতে দীনের নামে বিদআত তৈরি করার বিষয়টি যেমন খণ্ডন করা হয়েছে তেমনি ধর্ম নিরপেক্ষ মতবাদে বিশ্বাসীদের মতবাদও খণ্ডন করা হয়েছে।

যারা ইসলামকে সর্বত্র গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানায় এবং ধর্মকে কেবল ব্যক্তিগত আমল বা মাসজিদ কেন্দ্রীক ইবাদতে সীমাবদ্ধ করতে চায়, সকল ময়দান থেকে ইসলামকে বিসর্জন দিয়ে পাশ্চাত্য সভ্যতা-সংস্কৃতি অনুসরণ করে রাজনীতি, অর্থনীতি, লেনদেন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সংসদকে ইসলাম মুক্ত করতে চায় এবং সাধারণ জনগণকেও এরূপ বুঝাতে চেষ্টা করে তাদেরকে শয়তানের পথ অনুসরণ করতে আল্লাহ তা‘আলা নিষেধ করছেন।
তাদেরকে অবশ্যই জেনে রাখা দরকার ইসলাম শুধু মাসজিদেই সীমাবদ্ধ নয়। বরং জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত ব্যক্তিগত জীবন থেকে আন্তর্জাতিক জীবন পর্যন্ত সকল ক্ষেত্রেই ইসলাম প্রযোজ্য এবং একজন মুসলিমের জীবনের একমাত্র সংবিধান।

অতএব হে ঈমানদারগণ শয়তান চায় ইসলাম বিরোধী কর্ম ও পন্থাকে লোভনীয় ও শোভনীয় করে তোমাদের কাছে তুলে ধরে ঈমানকে হরণ করে নিতে।

আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
(کَمَثَلِ الشَّیْطٰنِ اِذْ قَالَ لِلْاِنْسَانِ اکْفُرْﺆ فَلَمَّا کَفَرَ قَالَ اِنِّیْ بَرِیْ۬ ئٌ مِّنْکَ اِنِّیْٓ اَخَافُ اللہَ رَبَّ الْعٰلَمِیْنَ)

“তাদের দৃষ্টান্ত শয়তানের মত- যে মানুষকে বলে: কুফরী কর। অতঃপর যখন সে কুফরী করে তখন শয়তান বলেঃ তোমার সাথে আমার কোন সম্পর্ক নেই, আমি জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহকে ভয় করি।”(সূরা হাশর ৫৯:১৬)

এসব উপদেশমালা ও সুস্পষ্ট বিধানাবলী আসার পরেও যদি আল্লাহ তা‘আলা দীন ত্যাগ কর, তাহলে জেনে রেখ আল্লাহ তা‘আলা পরাক্রমশালী ও প্রজ্ঞাময়।

শয়তানের অনুসারীরা অপেক্ষা করে যে, আল্লাহ তা‘আলা ও ফেরেশতাগণ মেঘের ছায়ার সাথে তাদের কাছে এসে ফায়সালা করে দেবেন। প্রকৃতপক্ষে আল্লাহ তা‘আলাই সবকিছু ফায়সালা করে দিয়েছেন। সবকিছু তাঁরই দিকে ফিরে যাবে।

আয়াত থেকে শিক্ষণীয় বিষয় :

১. ইসলামের সকল বিধান সম্পূর্ণভাবে মাথা পেতে মেনে নেয়া মুসলিমদের আবশ্যক।

২. শয়তান মানুষের প্রকাশ্য শত্র“। তাই তাকে শত্র“ হিসেবেই গ্রহণ করা উচিত।

৩. আল্লাহ তা‘আলা কিয়ামাতের দিন ফায়সালা করার জন্য আসবেন।

৪. তাওবার ক্ষেত্রে বিলম্ব করা উচিত নয়।

৫. আল্লাহ তা‘আলা ওপরে আছেন, স্ব-স্বত্ত্বায় সবত্র বিরাজমান নয়। সর্বত্র বিরাজমান থাকলে কিয়ামতের দিন ফায়সালা করার জন্য আসার কোন অর্থ হয়না। আল্লাহ তা‘আলা স্ব-স্বত্ত্বায় সর্বত্র বিরাজমান, এটা বাতিল সম্প্রদায়ের আক্বীদাহ।

তথ্য সূত্র: তাফসির ফাতহুল মাজিদ।

Address

Dhaka

Telephone

+8801721540444

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when তাফসীরে সাইফী posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share