12/05/2021
ঈদের রাতের ফজিলাতঃ
ঈদ আমাদের মাঝে আনন্দের বারতা যেমন নিয়ে আসে, তেমনি নিয়ে আসে আল্লাহর নৈকট্যলাভের মহাসুযোগ। বিশেষত ঈদের রাত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ফজিলতমণ্ডিত।
ঈদ আমাদের মাঝে আনন্দের বারতা যেমন নিয়ে আসে, তেমনি নিয়ে আসে আল্লাহর নৈকট্যলাভের মহাসুযোগ। বিশেষত ঈদের রাত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং ফজিলতমণ্ডিত। তাই ঈদের রাতে জেগে থাকা এবং ইবাদত করার গুরুত্ব, মাহাত্ম্য এবং ফজিলত বহু হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। সেসব হাদিসের আলোকেই এখানে উল্লেখ করা হলো ঈদের রাতে ইবাদতের গুরুত্ব ও ফজিলাত।
হজরত আবু উমামা (রা.) হতে বর্ণিত, নবী করিম (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি দুই ঈদের রাত জাগবে শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য। যেদিন (হাশরের দিন) সবার অন্তর মারা যাবে, সেদিন তার অন্তর মরবে না।
ksrm
হজরত মুআজ ইবনে জাবাল (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, হজরত রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, যে ব্যক্তি পাঁচ রাত জেগে থাকবে তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব। সেই পাঁচটি রাত হলো-
💢 জিলহজ মাসের আট তারিখের রাত।
💢 জিলহজের ৯ তারিখের রাত।
💢 ঈদুল আজহার রাত।
💢 ঈদুল ফিতরের রাত।
💢 ১৫ শাবানের রাত।
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এমন পাঁচটি রাত আছে, যে রাতে কোনো দোয়া ফিরিয়ে দেওয়া হয় না। রাতগুলো হলো-
💢 জুমার রাত।
💢 রজব মাসের প্রথম রাত।
💢 শাবান মাসের ১৫ তারিখের রাত।
💢 ঈদুল ফিতরের রাত।
💢 ঈদুল আজহার রাত।
বর্ণিত হাদিসগুলোয় ঈদের রাতসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ রাতগুলোর অন্যতম। ওপরে বর্ণিত হাদিসগুলো ছাড়াও আরও অসংখ্য হাদিসে ঈদের রাতে ইবাদতের গুরুত্ব ও ফজিলত বর্ণনা করা হয়েছে। বলা হয়েছে, যে দিন মানুষের অন্তর মারা যাবে, সেদিন ঈদের রাতের ইবাদতকারীর অন্তর মরবে না। হাদিসের মর্মার্থ তো এই, কেয়ামতে ভয়াবহ তাণ্ডবের সময় প্রতিটি মানুষের অন্তর যখন হাশরের ময়দানে ভয় আশঙ্কা অস্থিরতায় মৃতপ্রায় হয়ে থাকবে। মানুষের হুশ-জ্ঞান বলতে থাকবে না কিছু। ঈদের রাতে আমলকারীর হৃদয় তখনও সজীব ও সতেজ থাকবে। সেদিন তার অন্তর মারা পড়বে না। বরং থাকবে সদা প্রফুল্ল।
হযরত আবূ উমামা আল বাহেলী (রা.) এর হাদীস-
سنن ابن ماجه ت الأرنؤوط (2/ 658)
1782 – حَدَّثَنَا أَبُو أَحْمَدَ الْمَرَّارُ بْنُ حَمُّويَهَ، حَدّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُصَفَّى، حَدّثَنَا بَقِيَّةُ بْنُ الْوَلِيدِ، عَنْ ثَوْرِ بْنِ يَزِيدَ، عَنْ خَالِدِ بْنِ مَعْدَانَ عَنْ أَبِي أُمَامَةَ، عَنْ النَّبِيِّ – صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ -، قَالَ:”مَنْ قَامَ لَيْلَتَيْ الْعِيدَيْنِ مُحْتَسِبًا لِلَّهِ، لَمْ يَمُتْ قَلْبُهُ يَوْمَ تَمُوتُ الْقُلُوبُ”
হযরত আবূ উমামা (রা.) রাসূল ﷺ থেকে বর্ণনা করেন। যে ব্যক্তি ঈদুল ফিত্বর এবং ঈদুল আযহার রাতে (সাওয়াবের নিয়তে, ইবাদতের উদ্দেশ্যে) জাগ্রত থাকবে, সে ব্যক্তির হৃদয় ঐ দিন মৃত্যুবরণ করবে না যেদিন অন্য হৃদয়গুলো মৃত্যুবরণ করবে। (অর্থাৎ কিয়ামতের দিবশে তার কোন ভয় থাকবে না)। ইবনে মাজা-২/৬৫৮, হাদীস-১৭৮২।
হযরত মুয়াজ ইবনে জাবাল (রা.) এর হাদীস-
الترغيب والترهيب (1/ 248)
374- أخبرنا أبو الفتح الصحاف، أنا أبو سعيد النقاش الحافظ، أنا أبو ذر: الحسين بن الحسن بن علي الكندي بالكوفة، ثنا الحسين بن أحمد المالكي، ثنا سويد بن سعيد،ثنا عبد الرحيم بن زيد العَمِّي، عن أبيه، عن وهب بن منبه، عن معاذ بن جبل -رضي الله عنه- قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((من أحيا الليالي الخمس وجبت له الجنة، ليلة التروية، وليلة عرفة، وليلة النحر،وَلَيْلَة الْفطر وليلة النصف من شعبان)) .
হযরত মুয়াজ ইবনে জাবাল (রা.) থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ বলেন, যে ব্যক্তি পাঁচটি রাত (ইবাদতের উদ্দেশ্যে) জাগ্রত থাকবে তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে যাবে। তারবিয়ার রাত (জিলহাজ্জ মাসের ৮ তারিখের রাত), আরাফার রাত, কুরবানী দিবসের রাত এবং ঈদুল ফিত্বরের রাত ও শবে বরাতের রাত। আত তারগীব ওয়াত তারহীব লিল আসবাহানী-১/২৪৮, লিল মুনজেরী-২/৯৮, হাদীস-১৬৫৬।
হযরত উবাদা ইবনুস সামেত (রা.) এর হাদীস-
المعجم الأوسط (1/ 57)
159 – حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ خَالِدِ بْنِ حَيَّانَ قَالَ: نا حَامِدُ بْنُ يَحْيَى الْبَلْخِيُّ قَالَ: نا جَرِيرُ بْنُ عَبْدِ الْحَمِيدِ، عَنْ رَجُلٍ وَهُوَ: عُمَرُ بْنُ هَارُونَ الْبَلْخِيُّ، عَنْ ثَوْرِ بْنِ يَزِيدَ، عَنْ خَالِدِ بْنِ مَعْدَانَ، عَنْ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «مَنْ صَلَّى لَيْلَةَ الْفِطْرِ وَالْأَضْحَى، لَمْ يَمُتْ قَلْبُهُ يَوْمَ تَمُوتُ الْقُلُوبُ»
لَمْ يَرْوِ هَذَا الْحَدِيثَ عَنْ ثَوْرٍ إِلَّا عُمَرُ بْنُ هَارُونَ، تَفَرَّدَ بِهِ: جَرِيرٌ
হযরত উবাদা (রা.) থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ বলেন, যে ব্যক্তি ঈদুল ফিত্বর এবং ঈদুল আযহার রাত্রি নামায রত থাকবে, সে ব্যক্তির হৃদয় ঐদিন মৃত্যুবরণ করবে না যেদিন অন্য হৃদয়গুলো মৃত্যুবরণ করবে। আল মুজামুল আওসাত-১/৫৭, হাদীস-১৫৯।
ঈদের রাতের আরেকটি বড় প্রাপ্তি হলো, এ রাতে দোয়া কবুল করা হয়। কোনো দোয়া ফিরিয়ে দেওয়া হয় না। বরং আল্লাহতায়ালার দরবারে তা সরাসরি কবুল হয়।
তাই আমরা আমাদের ইবাদতের সঙ্গে সঙ্গে ঈদের রাতে আল্লাহতায়ালার কাছে আমাদের প্রয়োজনগুলো চাইতে পারি। আল্লাহতায়ালার কাছে ক্ষমা কামনা, কবরের আজাব থেকে মুক্তি, জাহান্নামের আগুন থেকে রেহাই চেয়ে নিয়ে পরদিন সকালে একেবারে নিষ্পাপ মাসুম শিশুর মতো পবিত্র ঈদের মাঠে আল্লাহর পুরস্কার গ্রহণ এবং প্রতিদান লাভের শ্রেষ্ঠ সুযোগ অন্য কোনো রাত নেই।
আজকের রাত আমাদের জন্য, এই দুনিয়ার যাবতীয় কল্যাণ লাভ এবং মঙ্গল কামনা করার রাত। সেই সঙ্গে আজ রাত জাহান্নাম থেকে মুক্তি লাভের মহাসুযোগ প্রাপ্তির রাত।
উল্লেখ্য যে, অনেক স্থানে উক্ত রজনীতে আতশবাজি করতে দেখা যায়ঃ
এ আতশবাজী শুধু গুনাহের কাজই নয়, বরং এর দুনিয়াবী কুফল আর আসারতাও আমাদের চোখের সামনে বিদ্যমান। যেমনঃ
❇️ এতে নিজের সম্পদ অযথা ধ্বংস ও অপচয় হয়। তাছাড়াও একাজ দুনিয়াতেও ঘৃণিত হওয়ার পাশাপাশি সর্ব প্রকার ধ্বংসের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। কুরআনে কারীমে এ ধরনের লোককে শয়তানের ভাই বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে।
❇️ এর ফলে অনেক সময় নিজের সন্তান সন্ততি ও পাড়া প্রতিবেশীর জীবন হুমকির সম্মুখিন হয়ে পড়ে।
❇️ শিশুদের হাতে এই আতশবাজীর জন্য টাকা পয়সা দেয়া হয়। এটা বাল্যকাল থেকেই তাদেরকে আল্লাহর অবাধ্যতা ও নাফরমানীর শিক্ষা দেয় এবং অনর্থক রসমের প্রতি অভ্যস্ত করে তোলে
❇️ যে রজনীেতে মহান আল্লাহ দোয়া কবুল করেন, ঠিক সে মুহূর্তে এসব গর্হিত কাজে লিপ্ত থাকা কি তার নি’আমতের প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শন নয়?
❇️ এছাড়া আতশবাজী হল হিন্দু জাতির দিওয়ালী প্রথার একট প্রতিচ্ছবি মাত্র। একজন মু’মিনের ঈমানী চেতনা ও জযবা কখনই তা সমর্থন করতে পারে না।