Islamic Economics ইসলামী অর্থনীতি

Islamic Economics ইসলামী অর্থনীতি ইসলামী অর্থনীতিকে বোঝার অভিপ্রায় থেকে এই পৃষ্ঠার নতুন করে পথচলা শুরু...

বাংলাদেশে ইসলামী অর্থনীতির গদবাঁধা বয়ানের বাইরে আরও গভীরে যাওয়ার প্রত্যয় থেকেই মূলত: এ পৃষ্ঠাটিও আমূল পরিবর্তিত হয়ে নতুন পথ চলা শুরু করলো ২০২২ এ...

 #নতুনবইবই         : বুলেটবিদ্ধ জুলাই গাথালেখক    : ইসমাঈল আহসানপ্রচ্ছদ     : শিল্পী মাহবুব মুরশিদপ্রকাশনী : পাইওনিয়ার প...
30/05/2026

#নতুনবই

বই : বুলেটবিদ্ধ জুলাই গাথা
লেখক : ইসমাঈল আহসান
প্রচ্ছদ : শিল্পী মাহবুব মুরশিদ
প্রকাশনী : পাইওনিয়ার পাবলিকেশন্স

✅ আরও জানতে : m.me/pioneerpublicationsbd
📲 কল অথবা হোয়াটসঅ্যাপ করুন: wa.me/8801711197341

#পাইওনিয়ার #বই #বইমেলা২০২৬
#একুশেবইমেলারনতুনবই২০২৬ #শিশুতোষবই #পাইওনিয়ার #বইমেলা২০২৬ #পাইওনিয়ারপাবলিকেশন্স #পুরাতনবই #একুশে #একুশেবইমেলা #প্রাণেরমেলা

28/05/2026

তাক্বব্বালাল্লহু মিন্না ওয়া মিনকুম
‎تَقَبَّلَ اللّهُ مِنَّا وَ مِنْكُمْ ❤️✨

সবাইকে ঈদ মুবারক 🌙✨

রাষ্ট্র মালিকানাধীন শরিয়াহভিত্তিক একমাত্র ব্যাংক ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি‘র অফিসিয়াল লোগো উন্মোচন।
30/12/2025

রাষ্ট্র মালিকানাধীন শরিয়াহভিত্তিক একমাত্র ব্যাংক ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি‘র অফিসিয়াল লোগো উন্মোচন।

24/12/2025

09/12/2025

পাইওনিয়ার পাবলিকেশন্স এর বই পড়ুন

এ নিয়োগে আমরা আশান্বিত... ইনশাআল্লাহ্।
02/12/2025

এ নিয়োগে আমরা আশান্বিত... ইনশাআল্লাহ্।

25/11/2025

আমরা তো নিমক হারাম জাতি।

ইন্টেরিম সরকারেরও দোষ আছে, তারা তাদের কাজগুলোর কোন প্রচার বা পিআর করে নাই। নইলে খাদের কিনারায় থাকা অর্থনীতির যে বিপ্লব ড. Muhammad Yunus করেছেন, এ জাতি গায়ের চামড়া দিয়ে জুতা বানিয়ে দিলেও এ ঋণ শোধ হবে না। আজকে ডঃ ইউনূছ যদি না আসতো, বাংলাদেশের দশটা ব্যাংক এই ২০২৫ এ বন্ধ হয়ে যেত এবং তখন দেখা যেত এ জাতির ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা। ভেঙে পড়া অর্থনীতির সরাসরি ধাক্কা একটা রিক্সাওয়ালার পিঠে পর্যন্ত লাগতো।

এত কিছু পরেও ফ্যা/সিবাদ ও তাদের প্রতি আমাদের কারো কারো পিরীত দেখে নিজেরেই ‘বাইঞ্চোদ‘ গালি দিতে মুঞ্চায় আর বলতে মন চায় ড. ইউনুসকে, আপনি সম্মানী মানুষ। অন্ধের দেশে চশমা বিক্রি খরার চেষ্টা করছেন আপনি। আপনি আপনার সম্মানের জায়গায় চলে যান। এ মূর্খ জাতির শিক্ষার জন্য বিএনপি/আওয়ামী লীগই দরকার।

Ismail Ahsan

৫টা ইসলামী ব্যাংক মিলে হলো নয়া ব্যাংক।লোগো এবং নাম দুইটাই আকর্ষণীয় হয়েছে, আন্তর্জাতিক একটা ভাব![SIBL, GIB, EXIM Bank, F...
16/08/2025

৫টা ইসলামী ব্যাংক মিলে হলো নয়া ব্যাংক।

লোগো এবং নাম দুইটাই আকর্ষণীয় হয়েছে, আন্তর্জাতিক একটা ভাব!

[SIBL, GIB, EXIM Bank, FSIBPLC & Union Bank]

বেক্সিমকো: সুকুক ছাড়ার আগে-পরে ভিন্ন চিত্র, ভোগান্তিতে বিনিয়োগকারীরাবেক্সিমকো সুকুকের বিনিয়োগকারীদের জন্য দুঃসংবাদ—আগাম...
19/04/2025

বেক্সিমকো: সুকুক ছাড়ার আগে-পরে ভিন্ন চিত্র, ভোগান্তিতে বিনিয়োগকারীরা

বেক্সিমকো সুকুকের বিনিয়োগকারীদের জন্য দুঃসংবাদ—আগামী ডিসেম্বরে এই শরিয়াহভিত্তিক বন্ড থেকে মুনাফা নয় শতাংশে নেমে আসবে।

এটি পাঁচ বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের ১২ দশমিক তিন শতাংশ ও অক্টোবরের মূল্যস্ফীতি ১০ দশমিক ৮৭ শতাংশের কম।

মূলত সুকুকের মুনাফার হার নির্ধারক বেক্সিমকো লিমিটেডের আর্থিক অবস্থা খারাপ হওয়ায় এমনটি হতে যাচ্ছে।

২০২০-২১ অর্থবছরের প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠানটি শরিয়াহভিত্তিক বন্ড 'বেক্সিমকো গ্রিন সুকুক আল ইস্ততিসনা'র মাধ্যমে তিন হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের ঘোষণা দেয়।

ওই বছর বেক্সিমকোর মুনাফা এক হাজার ৪০০ শতাংশ বেড়ে ৬৬০ কোটি টাকায় দাঁড়ায়। প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক প্রতিবেদন বলছে, ২০২১-২২ অর্থবছরে মুনাফা আরও বেড়ে এক হাজার ২৫৪ কোটি টাকা হয়।

এরপর শুরু হয় সংকট। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটি ৩৬ কোটি টাকা লোকসানের কথা জানায়।

বেক্সিমকোর এই আকস্মিক সংকটের কারণে সুকুকের মুনাফার হার কমে যাওয়ায় সুকুকের বিনিয়োগকারী ব্যাংক, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী ও ব্যক্তি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কিছু বিষয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে।

দেশের প্রথম বেসরকারি সুকুক বন্ডের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে বেক্সিমকো বেশি করে মুনাফা দেখিয়েছিল কিনা তা খতিয়ে দেখা দরকার বলে তারা মনে করছেন।

২০২০-২১ অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটি উচ্চ মুনাফার ওপর ভিত্তি করে ৩৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেয়। পরের বছর বেক্সিমকোর শেয়ারহোল্ডারদের ৩০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেওয়া হয়।

এ দিকে, বেক্সিমকোর লভ্যাংশের ওপর সুকুকের কুপন হার নির্ভর করে। প্রথম দিকে প্রতিষ্ঠানটি ভালো লভ্যাংশ দেওয়ায় শুরুর দিকে সুকুকের কুপন হারও ছিল সেই সময়ের ট্রেজারি বন্ডের তুলনায় অনেক বেশি।

প্রথম বছর সুকুক কুপনের মুনাফা ছিল প্রায় ১২ শতাংশ। সেসময় ট্রেজারি বন্ডের সুদহার ছিল তিন দশমিক ৯২ শতাংশ। তাই তখন সুকুক খুবই লাভজনক দেখাচ্ছিল।

তা সত্ত্বেও বেক্সিমকো সুকুকের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ ছিল না। তা কেনার জন্য একাধিকবার মেয়াদ বাড়ানো হলেও প্রতিষ্ঠানটি তাদের লক্ষ্য অনুযায়ী টাকা তুলতে পারছিল না।

এরই মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রজ্ঞাপন দিয়ে ব্যাংকগুলোকে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের জন্য গঠিত এক বিশেষ তহবিলের টাকা থেকে বেসরকারি খাতের এই সুকুক কেনার অনুমতি দেয়।

যদিও বাংলাদেশ ব্যাংক এই তহবিল গঠন করেছিল পুঁজিবাজারে টাকার প্রবাহ বাড়াতে। এর মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের জন্য ব্যাংকগুলোকে ২০০ কোটি টাকার তহবিল গঠনের অনুমতি দেওয়া হয়।

ছয় ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তারা দ্য ডেইলি স্টারকে জানিয়েছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান তাদের সুকুক বন্ড কিনতে চাপ দিয়েছিলেন।

দুই কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সুকুক কিনতে তাদের অন্য শেয়ার বিক্রি করতে হয়েছিল।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সাবেক পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন ডেইলি স্টারকে বলেন, 'সাধারণ বিনিয়োগকারীরা সালমান এফ রহমানের স্কিম প্রত্যাখ্যান করেছেন। ফলে ৭৫০ কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্য নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি মাত্র ৫০ কোটি টাকা পেয়েছে।'

'কিন্তু প্রতিষ্ঠানগুলো সুকুক বন্ড কিনতে বাধ্য হয়েছিল। এই সুকুক কিনতে অনেককে অন্য শেয়ার বিক্রি করতে হয়।'

ফলে, বাজারে এর প্রভাব পড়ে।

২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে ডিএসইর প্রধান সূচক প্রথমবারের মতো সাত হাজার ৩৫৬ পয়েন্ট ছাড়িয়ে যায়। তখন ডিএসইর লেনদেন ছিল গড়ে দুই হাজার কোটি টাকা।

এর চার মাসের মধ্যে লেনদেনের পাশাপাশি সূচক কমতে শুরু করে।

ছয় মাসের ব্যবধানে ডিএসইর গড় লেনদেন ৭০০ কোটি টাকায় নেমে আসে। সূচক কমে এক হাজার পয়েন্টের বেশি।

তবে ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ডিবিএ) সভাপতি ও ব্র্যাক ইপিএল স্টক ব্রোকারেজের পরিচালক সাইফুল ইসলাম এ বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করে ডেইলি স্টারকে বলেন, 'সুকুকের বেশিরভাগ বিনিয়োগকারী প্রাতিষ্ঠানিক হওয়ায় তাদের সুকুকে বিনিয়োগ বাজারে প্রভাব ফেলেনি।'

তার দাবি, প্রতিষ্ঠানগুলো পুঁজিবাজার থেকে সুকুকে টাকা স্থানান্তর করেনি।

গত সেপ্টেম্বরের শুরুতে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) বেক্সিমকো গ্রিন সুকুক আল ইস্ততিসনা ও আইএফআইসির গ্যারান্টিযুক্ত শ্রীপুর টাউনশিপ গ্রিন জিরো কুপন বন্ড ইস্যুতে অনিয়ম তদন্তে কমিটি করে।

যেভাবে কমবে বেক্সিমকোর সুকুকের কুপন রেট

প্রতি বছর সুকুকের অভিহিত দামের বিপরীতে নয় শতাংশ বেস রেট নিশ্চিতভাবে পাওয়ার কথা আছে বিনিয়োগকারীদের। সুকুক প্রসপেক্টাস অনুসারে, ওই বছরের জন্য বেক্সিমকোর নগদ লভ্যাংশ নয় শতাংশের বেশি অতিরিক্ত লভ্যাংশের ১০ শতাংশ সুকুকের বেসর রেটের সঙ্গে যুক্ত হবে।

এ বছর বেক্সিমকো নগদ লভ্যাংশ দিচ্ছে না। তাই আগামী ডিসেম্বরে পরবর্তী পেমেন্টে সুকুক বিনিয়োগকারীরা সর্বনিম্ন নয় শতাংশ হারে লভ্যাংশ পাবেন।

সুকুকে বেশ কয়েকটি ব্যাংক বিনিয়োগ করেছে। প্রতিষ্ঠানটি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টাকা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় অনেকে সময়মতো প্রথম কুপন পেমেন্ট পায়নি।

যেমন, রূপালী ব্যাংক সুকুকে বিনিয়োগ করেছে ২০০ কোটি টাকা। বেক্সিমকো তা পরিশোধে দেরি করেছে বলে ডেইলি স্টারকে জানিয়েছেন ব্যাংকটির এক শীর্ষ কর্মকর্তা।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আগামীতে বাকি টাকা পাওয়া যাবে কিনা, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় ব্যাংকটি।

সুকুক বিনিয়োগকারীদের ওপর ফ্লোর প্রাইসের বাধা

সাইফুল ইসলাম আরও বলেন, 'বেক্সিমকোর শেয়ারের ওপর ফ্লোর প্রাইস দেওয়ায় সুকুক বিনিয়োগকারীরা তাদের টাকা শেয়ারেও রূপান্তর করতে পারছেন না। এর দাম কৃত্রিমভাবে বাড়িয়ে রাখা হয়েছে।'

সুকুক বিনিয়োগকারীরা প্রতি বছর তাদের টাকার ২০ শতাংশ বেক্সিমকো লিমিটেডের শেয়ারে রূপান্তর করতে পারেন। প্রতিষ্ঠানটির ২০ দিনের গড় লেনদেনের টাকা বিবেচনায় নিয়ে সুকুক ক্রেতারা ২৫ শতাংশ ছাড়ে শেয়ার নিতে পারবেন।

তবে কয়েক মাস ধরে এই প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম ১১৫ টাকার নিচে আটকে আছে।

সাইফুল ইসলামের ভাষ্য, 'ফ্লোর প্রাইস তুলে নিলে এর দাম কমতে পারে। ফ্লোর প্রাইস বহাল রাখার বিষয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থার সিদ্ধান্তের কারণে সুকুক বিনিয়োগকারীরা শেয়ার রূপান্তর করেও মুক্তি পাবেন না।'

যত দ্রুত সম্ভব ফ্লোর প্রাইস তুলে দেওয়ার সুপারিশ করেন তিনি।

একইভাবে ডিএসইর সাবেক পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন ফ্লোর প্রাইস তুলে দেওয়ার পক্ষে মত দেন। তার মতে, এতে সুকুক বিনিয়োগকারীরা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

তিনি বলেন, 'যারা বন্ডকে শেয়ারে রূপান্তর করে এখান থেকে বের হতে চেয়েছিলেন ফ্লোর প্রাইসের কারণে তাদের শেয়ার বিক্রির বিকল্প নেই।'

বেক্সিমকো লিমিটেডের ফ্লোর প্রাইস সচল রাখার সিদ্ধান্তকে 'বাজে' আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, 'শরীরের কোনো অংশে পচন ঘটলে তা কেটে ফেলতে হবে। আর কোনো উপায় নেই। তা না হলে পুরো শরীর পচে যাবে।'

'ফ্লোর প্রাইস বাড়ালে সূচকে প্রভাব পড়তে পারে। এটি তুলে নেওয়া ছাড়া বিকল্প নেই' বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

শেয়ার ধরে রাখা বিনিয়োগকারীদের পোর্টফোলিওকে কৃত্রিমভাবে বাড়িয়ে দেখানো হয়, তাদেরকে অনেক টাকা ঋণ দেওয়ার অনুমতি আছে। অন্যদিকে সুকুক বিনিয়োগকারীরা এখন শেয়ার রূপান্তর করলে লোকসানে পড়বেন।

তার প্রশ্ন, 'এই ক্ষতির দায় কে নেবে?'

বিএসইসির মুখপাত্র মোহাম্মদ রেজাউল করিম ডেইলি স্টারকে বলেন, 'বেক্সিমকোর কাছ থেকে ফ্লোর প্রাইস তুলে দেওয়ার বিষয়ে কমিশন সিদ্ধান্ত নেয়নি। কোনো সুকুকধারী বিএসইসির কাছে আবেদন করলে নিয়ন্ত্রক সংস্থা তা বিবেচনা করবে।'

বেক্সিমকোর বক্তব্য

বেক্সিমকো লিমিটেডের কোম্পানি সচিব মোহাম্মদ আসাদ উল্লাহ মন্তব্য করতে রাজি হননি।

বেক্সিমকো লিমিটেডের সর্বশেষ আর্থিক বিবরণীতে বলা হয়েছে, দেশে-বিদেশে পণ্যের চাহিদা কমে যাওয়া, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, ডলার সংকট ও গ্যাস-বিদ্যুতের খরচ বেড়ে যাওয়ার মতো সংকটের কারণে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটি লোকসানে পড়েছে।

- আহসান হাবীব, ডেইলি স্টার

18/04/2025

আমার ১ কোটি টাকা আছে, আমি ব্যাংক থেকে আরো ১ কোটি টাকা লোন নিলাম।

মোট ২ কোটি টাকা দিয়ে একটা বিস্কুট কোম্পানি বানালাম, এর নাম দিলাম "ABC Limited"

এবার একটা মার্চেন্ট ব্যাংকে গেলাম, সোনালী ব্যাংকের মার্চেন্ট ব্যাংক। মার্চেন্ট ব্যাংকের হেড অফ অপারেশনকে বললাম আমার বিস্কুট কোম্পানি ABC Limited কে স্টক এক্সচেঞ্জ এ লিস্টেড করতে চাই।

কিন্তু স্টক এক্সচেঞ্জ এর নিয়ম হচ্ছে মিনিমাম ৪০ কোটি টাকার নিচের কোন পেইড-আপ ক্যাপিটাল এর কোম্পানিকে লিস্টেড করা যায় না, কিন্তু আমার কোম্পানি তো মাত্র ২ কোটি টাকার কোম্পানি!!

মার্চেন্ট ব্যাংকের হেড অফ অপারেশন বললেন, "সমস্যা নাই ভাই, আপনার কোম্পানি আমরা লিস্টেড করে দিবো, কিন্তু শর্ত হচ্ছে আপনি আমাকে ৮ কোটি টাকা দিবেন। আমি কষ্ট করবো, আমার পারিশ্রমিক হিসাবে আপনি আমাকে আলাদা ২ কোটি টাকা দিবেন। এইটা আবার আমার ব্যাঙ্ক যেন না জানে, টোটাল ১০ কোটি টাকা।"

আমি জবাব দিলাম, "আমি কিভাবে ১০ কোটি টাকা দিবো!!"

মার্চেন্ট ব্যাংকের হেড অফ অপারেশন বললেন, "আপনার নিজের পকেট থেকে এক টাকাও দিতে হবে না। আমরা মার্কেট থেকে আপনাকে টাকা তুলে দিবো, আপনি ওখান থেকে আমাকে ১০ কোটি টাকা দিবেন। আপনি আপনার ৫০% শেয়ার বিক্রি করবেন আর বাকি ৫০% শেয়ার নিজের কাছে রেখে দিবেন।"

আমি ওনার শর্তে রাজি হলাম।

এবার ওই মার্চেন্ট ব্যাংকের হেড অফ অপারেশন অডিট ফারমে গেলো। গিয়ে বললো, "এই ABC Limited স্টক এক্সচেঞ্জ এ লিস্টেড করবো।"

অডিট ফার্ম বললো, "কি করতে হবে শুধু হুকুম করেন।"

হেড অফ অপারেশন বললেন, "বেশি কিছু না, কেবল এই ২ কোটি টাকার কোম্পানিকে ৪০ কোটি টাকা ভ্যালুয়েশন করে দেখাতে হবে।"

অডিট ফার্ম বললো, "কোনো সমস্যা নাই, তবে বস এবার কিন্তু একটু বাড়িয়ে দিতে হবে। স্টাফদের স্যালারি দিয়ে মাস শেষে লোকসান হচ্ছে, এবার ২ কোটি টাকার নিচে পারবো না।" শেষ পর্যন্ত নেগোসিয়েশন করে ১ কোটি টাকায় রাজি হলো দুইজন।

এবার হেড অফ অপারেশন সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন চেয়ারম্যানের পিওনকে ফোন দিল (পিওন ভেবে অর্ডিনারি পিওন ভাবার সুযোগ নাই, এই পিওন বাকি একশটা পিওনের মতো অর্ডিনারি পিওন না , এই পিওন অনেক পাওয়ারফুল)। পিওনকে বললো, নতুন একটা বিস্কুট কোম্পানি মার্কেটে লিস্টেড করতে হবে, কাজটা করে দিতে হবে। পিওন বললো, "স্যার কিন্তু এখন ২.২০ কোটি টাকার নিচে কোনো কাজ পাশ করে না, এর নিচে কাজ হবে না। আর জিনিষপাতির দাম বাড়ছে, বউ বাচ্চা নিয়ে না খাওয়ার অবস্থা। মেয়েটার ভার্সিটির বেতন বাকি পড়ছে, আমার দিক একটু দেইখেন।"

হেড অফ অপারেশন বললো, "ওকে ডিল ফাইনাল, কাজ করে দেন"

হেড অফ অপারেশন এবার স্টক এক্সচেঞ্জ’র টপ লেভেলে যোগাযোগ করে বলল, "এই বিস্কুট কোম্পানি অ্যাপ্রুভ করে দিতে হবে।"

স্টক এক্সচেঞ্জ বললো, "ঠিক আছে কিন্তু ২ কোটি টাকা নিবো, এর নিচে হবে না।"

দু্জনে রাজি হলো, ডিল ফাইনাল।

এবার ২ কোটি টাকার বিস্কুট কোম্পানিকে ৪০ কোটি টাকা দেখিয়ে আইপিওর জন্য এপ্লাই করা হলো। ৫০% শেয়ার মানে ২০ কোটি টাকার শেয়ার মার্কেটে ছাড়া হলো, প্রিমিয়াম প্রাইস ৫ টাকা যোগ করে। সো ৩০ কোটি টাকা।

মানে ১ কোটি টাকার অরিজিনাল শেয়ার বিক্রি করে মার্কেট থেকে তোলা হলো ৩০ কোটি টাকা।

এবার আমি আমার কথা মতো ১০ কোটি টাকা সোনালী ব্যাংকের মার্চেন্ট ব্যাংকের হেড অফ অপারেশনকে বুঝিয়ে দিলাম। আর বাকি টাকা আমার, মানে আমার পকেটে ঢুকলো ২০ কোটি টাকা।

হেড অফ অপারেশন স্টক এক্সচেঞ্জকে ২ কোটি টাকা দিলো আর স্টক এক্সচেঞ্জ এ যারা আছে তারা এই ২ কোটি টাকা নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করে নিলো। অডিট ফার্মকে দিলো আরো ১ কোটি টাকা আর বাকি টাকা সোনালী ব্যাংক এর কমিশন হিসাবে নিলো, নিজের জন্য বাকি টাকা।

আর ২.২০ কোটি টাকা দিলো সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যানের পিওনকে, সাথে পিওনের মেয়ের ভার্সিটির বকেয়া বেতন বাবদ দিলে আরো ১০ লক্ষ টাকা।

পিওন তার স্যারকে বলল, "স্যার দুনিয়ায় এখন আর মানুষ নাই, সব অমানুষ হয়ে গেছে। আমাকে বলছিলো ২ কোটি টাকা দিবে কিন্তু ২০ লক্ষ টাকা কম দিছে। আমারে বলছিলো কিছু টাকা দিবে, একটা টাকাও দিলো না স্যার।" সে তার স্যারকে ১.৮০ কোটি টাকা দিলো। স্যার পিওনকে ২ লক্ষ টাকা দিয়ে নিজের কাছে ১ কোটি টাকা রেখে বাকি টাকা কয়েকটা খামে ভরে তার কলিগদেরকে পাঠিয়ে দিলো।

এইটুকু পর্যন্ত অনিয়ম আর কারসাজির প্রথম স্টেজ শেষ।

এবার দ্বিতীয় স্টেজ

ABC Limited মার্কেটে লিস্টেড হলো আর আইপিও প্রাইস হলো ১৫ টাকা।

ট্রেড শুরু হলো, এক একটা ১৫ টাকার শেয়ার পাবলিক ৫০ টাকা করে বাই করলো।

আমার তো মাথা খারাপ, আমার বাকি অরিজিনাল ১ কোটি টাকার শেয়ার এর মার্কেট ভ্যালু ১০০ কোটি টাকা!!! অলরেডি তো ২০ কোটি টাকা পকেটে ঢুকাইছি। এবার আমি আমার বাকি ৫০ পার্সেন্ট শেয়ারও বিক্রি করা শুরু করলাম। কিন্তু এতো শেয়ার বিক্রি করবো, পাবলিক তো খাবে না। তাই একাউন্টেন্টকে বললাম, "লাস্ট ৩ মাসের আর্নিং দেখাও ২.৪০ কোটি টাকা লাভ।"

একাউন্টেন্ট বললো, "স্যার, সারা বছর কোম্পানি লাভ করে ১.২০ কোটি টাকা, আর ৩ মাসে কিভাবে ২.৪০ কোটি টাকা লাভ দেখাবো?"

আমি জবাব দিলাম, "ঢাকা ইউনিভার্সিটি থেকে কি নকল করে পাশ করছো? ৩ মাসের লাভ দেখাবা ২.৪০ কোটি টাকা, এরপরের ৯ মাসের আর্নিং এ ১.২০ কোটি টাকা লস দেখিয়ে এডজাস্ট করে দিবা, সোজা হিসাব।"

মাত্র ১ পিস শেয়ার, মানে ১০ টাকার একটা শেয়ার কেবল নিজের কাছে রাখলাম, আর বাকি সব শেয়ার বিক্রি করে দিলাম। নিজের পকেটে ঢুকালাম আরো ১০০ কোটি!

পাব্লিকের থেকে খাওয়ার আর কিছু নাই, এবার কোম্পানি ফোকাস করা শুরু করলাম।

ABC Limited প্রতি বছর ১ কোটি ২০ লক্ষ টাকা প্রফিট করছে।

আমি কোম্পানির এম.ডি. হিসাবে নিজের স্যালারী/রেমুনারেশন ধরলাম ৪০ লক্ষ টাকা। বৌকে বানালাম চেয়ারম্যান, বউ এর স্যালারী/রেমুনারেশন ধরলাম ৫০ লক্ষ টাকা। ছেলে মেয়ে ২টা আছে, ২ টাকে আরো ২ টা পোস্ট দিয়ে ওদের স্যালারী/রেমুনারেশন ধরলাম ১০ লক্ষ্য টাকা। টোটাল ১ কোটি টাকা আমার ফ্যামিলি স্যালারী/রেমুনারেশন বাবদই নেয়া শুরু করলাম। ABC বিস্কুট কোম্পানির আরো ২০ লক্ষ টাকা লাভ বাকি আছে, এইটা কিভাবে নেয়া যায়!!

কোম্পানির জন্য কষ্ট করতেছি কোম্পানি আমাকে বাড়ি ভাড়া দিবে না? নিজের বাড়িতে থাকি তো কি হইসে!! অন্য কোথাও থাকলে তো ভাড়া দিতে হতো। কোম্পানি থেকে বছরে ১০ লক্ষ টাকা বাড়ি ভাড়া বাবদ চার্জ করলাম। অফিসে কষ্ট করে আসতেছি, আমার ড্রাইভার কত কষ্ট করে গাড়ি চালায়, ওর একটা বেতন আছে না? ড্রাইভারের বেতন ৫ লক্ষ টাকা। গাড়ির তেল খরচ আরো হাবিজাবি খরচ কে দিবে!! ঐটাও আরো ৫ লক্ষ্য টাকা। বাসায় থাকলেই হবে, খাওয়া দাওয়া করতে হবে না? বাজার খরচ, কাজের বুয়ার বেতন, গ্যাস বিল, পানির বিল, ইলেকট্রিসিটি বিল কে দিবে!! ঐটাও আরো ৫ লক্ষ্য টাকা।

এলাকার ছেলেরা ফুটবল টুর্নামেন্ট এর আয়োজন করছে, আমি প্রধান অতিথি, ওখানে টাকা চাঁদা দিতে হবে না!! শুধু টাকা কামালে হবে!! সমাজের প্রতি আমাদের একটা দায়িত্ব আছে না? সোশ্যাল ওয়ার্ক বাবদ আরো ৫ লক্ষ টাকা।

বউ বললো, গাড়ি পুরানো হয়ে গেছে। এই গাড়িতে হবে না, নিউ মডেলের গাড়ি লাগবে। গাড়ি কিনে দিবো বৌকে, কোম্পানির রিজার্ভ এর টাকা দিয়ে গাড়ি কিনে দিলাম। আর বাকি টাকা কোম্পানির নামে লোন, বিল করলাম। কোম্পানির স্টাফদের ট্রান্সপোর্টেশন বাবদ বরাদ্দ, বাসার ফার্নিচারগুলা পুরানো হয়ে গেছে, নতুন ফার্নিচার দরকার। কোম্পানি থেকে টাকা নিয়ে বাসার ফার্নিচার কিনলাম, বিল করলাম। অফিস এর সৌন্দর্য বর্ধন বাবদ বরাদ্দ, এমনকি নিজের ব্যবহার করা আন্ডার-গার্মেন্ট এর টাকাটা পর্যন্ত কোম্পানি থেকে বিল করে নেই!

আমাদের স্যালারি নেয়ার পর খরচ দাঁড়ালো আরো ৮০ লক্ষ টাকা।
ABC Limited বছরে ১ কোটি ২০ লক্ষ টাকা প্রফিট করছে,
কিন্তু খরচ ১ কোটি ৮০ লক্ষ টাকা। মানে কোম্পানির উল্টো লোকসান ৬০ লক্ষ টাকা।

দ্বিতীয় স্টেজ শেষ।

এবার তৃতীয় স্টেজ,

স্টক এক্সচেঞ্জকে কেন মাসে মাসে ফি দিবো!! ধূর ফি দিবো না, যা পারে করুক। ৬ মাস পর স্টক এক্সচেঞ্জ ABC Limited কে ডিলিস্টেড করে দিলো। এবার আমি দেখলাম আগের মতো আর বিস্কুটও বিক্রি হয় না, প্রফিট খুব কম। এক কাজ করি ২ কোটি টাকার কোম্পানি এইটা দেখি বিক্রি করতে পারি কিনা ১.৫ কোটি টাকায়।

ABC Limited কে বিক্রি করতে যাবো, কোম্পানির ম্যানেজার বললো, "স্যার আপনার কাছে তো কোনো শেয়ার নাই, সব তো আপনি পাব্লিককেই বিক্রি করে দিছেন, তাহলে আপনি কোম্পানি বিক্রি করবেন কিভাবে? আর ব্যাংকও তো আপনার কাছে ১ কোটি টাকা পায়।"

আমি জবাব দিলাম, "আরে ধূর এইটা বাংলাদেশ, ওই ১ কোটি টাকা ব্যাংককে আজীবন বাকির খাতায় লিখে রাখতে বল।"
"আর পাবলিক!! পাবলিক কোর্ট এ দৌড়াবে, রায় আসতে আসতে ওদের নাতি-পুতিও দুনিয়া থেকে চলে যাবে, বুঝ নাই ব্যাপারটা??"

এভাবেই দরবেশরা হাতিয়ে নিয়েছে হাজার হাজার কোটি টাকা আমাদের দেশের শেয়ার ব্যাজার থেকে আর দেশ এগিয়ে যাচ্ছে অপ্রতিরোধ্য গতিতে। আমরা হারিয়েছি সর্বস্ব। কেউ কেউ আত্মহত্যার মত নির্মম পথ বেছে নিয়েছে। সাবাশ বাংলাদেশ এগিয়ে যাও...

১ দিনে রিজার্ভের ৪৫০ মিলিয়ন ডলার গায়েব: এস আলম নিয়ন্ত্রণাধীন সময়ের ইসলামী ব্যাংকের কুকীর্তি?-মজুমদার বাবু‘এ ঘটনার সামষ্ট...
05/09/2024

১ দিনে রিজার্ভের ৪৫০ মিলিয়ন ডলার গায়েব: এস আলম নিয়ন্ত্রণাধীন সময়ের ইসলামী ব্যাংকের কুকীর্তি?

-মজুমদার বাবু

‘এ ঘটনার সামষ্টিক ফলাফল হচ্ছে রিজার্ভের ৫০০ মিলিয়ন ডলার হারাল বাংলাদেশ। এটা জনগণের টাকা, কারও নিজের নয়।’

১১ আগস্ট হঠাৎ করেই বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ডলার কমে যায়। সেদিন রোববার আন্তর্জাতিক বন্ধের দিনেও ডলারের এ পতন ছিল বিস্ময়কর। ফলে অনেকেই আশঙ্কা করছিলেন, দেশের রিজার্ভ আবার হ্যাকিংয়ের শিকার হলো কি না।

তবে জানা গেছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের পাওনা ডলার সরবরাহ করতে ইসলামী ব্যাংক ব্যর্থ হওয়ায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক রিজার্ভ সমন্বয় করার কারণে রিজার্ভ এভাবে কমে গিয়েছিল। সাবেক গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার, সাবেক ডেপুটি গভর্নর কাজী ছাইদুর রহমান ও গভর্নরের উপদেষ্টা আবু ফারাহ মো. নাসেরের ইসলামী ব্যাংককেন্দ্রিক কুকীর্তি ঢাকতে এ কাজ করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত

পলাতক সাবেক গভর্নর রউফ তালুকদারের নির্দেশে ২০২৩ সালের ১৯ জুলাই বাকিতে ডলার কেনার এ পদ্ধতি শুরু হয়। ওই দিন বাংলাদেশ ব্যাংক ইসলামী ব্যাংক থেকে ৩৫ মিলিয়ন ডলার কিনে সমপরিমাণ টাকা ব্যাংকটির অ্যাকাউন্টে জমা দেয়। তবে ইসলামী ব্যাংক কেন্দ্রীয় ব্যাংককে ধাপে ধাপে এ ডলার সরবরাহ করেছে অনেক পরে।

ইসলামী ব্যাংক এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের মতে, ২০২৩ সালের ১৯ জুলাই থেকে এ বছরের ৩ জুলাই পর্যন্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংক ইসলামী ব্যাংক থেকে মোট ১.৬ বিলিয়ন ডলার কিনেছে।

চলতি বছরের জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহেই বাংলাদেশ ব্যাংক ৫৫০ মিলিয়ন ডলার কেনে। এসব ডলারের সমপরিমাণ টাকা ইসলামী ব্যাংককে পরিশোধ করা হলেও ব্যাংকটি ডলার সরবরাহ করেনি। প্রকৃত রিজার্ভ ৫৫০ মিলিয়ন ডলার কম হওয়া সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার জন্য এ অঙ্কটিও রিজার্ভে দেখানো হয়েছিল, যা আন্তর্জাতিক রিজার্ভ পরিসংখ্যান আইনের গুরুতর লঙ্ঘন।

হঠাৎ রিজার্ভ সমন্বয়

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ফলে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে সাবেক গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার বাংলাদেশ ব্যাংকে আর আসেননি। ডেপুটি গভর্নর কাজী ছাইদুর রহমান পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।

পরে রউফ তালুকদার, তার উপদেষ্টা আবু ফারাহ মো. নাসের এবং ডেপুটি গভর্নর খোরশেদ আলম সবাই পদত্যাগ করেন। এর ফলে ভারপ্রাপ্ত গভর্নর নূরুন্নাহার ইসলামী ব্যাংকের পাওনা ডলার আদায়ে বিপাকে পড়েন।

কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনার পর তিনি ইসলামী ব্যাংকের হিসাব কেটে রিজার্ভ সমন্বয় করার সিদ্ধান্ত নেন। ১১ আগস্ট বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট থেকে ৪৫০ মিলিয়ন ডলার (৫,৩১০ কোটি টাকা) কেটে নেওয়া হলে রিজার্ভ প্রায় আধা বিলিয়ন ডলার কমে যায়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা বলেন, ১১ আগস্ট প্রতি ডলার ১১৮ টাকার বিনিময় হারের ভিত্তিতে বকেয়া ডলারের পরিমাণ নিষ্পত্তির জন্য পাঁচ হাজার ৩১০ কোটি টাকা কেটে নেওয়া হয়। বাংলাদেশ ব্যাংক জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে ইসলামী ব্যাংক থেকে ৫৫০ মিলিয়ন ডলার কিনলেও ব্যাংকটি পরিশোধ করেছিল মাত্র ১০০ মিলিয়ন ডলার।

যা বলছেন বিশ্লেষকেরা

সিনিয়র ব্যাংকার এবং অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ নূরুল আমিন টিবিএসকে বলেন, "'বকেয়া' ডলার ক্রয়ের বিপরীতে টাকা ছাড় করা ডাবল এন্ট্রি সিস্টেমের পুরোপুরি লঙ্ঘন এবং গুরুতর অপরাধ। এটা কেউ করে থাকলে তিনি রিজার্ভের হিসাবেও প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছেন। যা অমার্জনীয় অপরাধ।"

বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন বলেন, 'এমনটা ঘটে থাকলে তা জালিয়াতি নয়, রীতিমতো ডাকাতি। এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।'

তিনি আরও বলেন, 'এ ঘটনার সামষ্টিক ফলাফল হচ্ছে রিজার্ভের ৫০০ মিলিয়ন ডলার হারাল বাংলাদেশ। এটা জনগণের টাকা, কারও নিজের নয়।'

রিজার্ভের তথ্য প্রকাশে অস্বাভাবিক গোপনীয়তা

রিজার্ভের তথ্য সম্পর্কে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের ফরেন এক্সচেঞ্জ রিজার্ভ অ্যান্ড ট্রেজারি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের কর্মকর্তারা বলেন, রিজার্ভ ব্যবস্থাপনা কাগজে-কলমে তাদের দায়িত্ব হলেও এর কোনো হিসাবই তাদের কাছে নেই। বর্তমানে এর হিসাব করে থাকে বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড বাজেটিং বিভাগ।

অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড বাজেটিং বিভাগের কাছে রিজার্ভের হিসাবায়নের দায়িত্ব হস্তান্তরের কারণ স্পষ্ট নয়। এ বিভাগটি ৯ আগস্ট থেকে ১১ আগস্ট পর্যন্ত রিজার্ভের পরিসংখ্যান দিতে পারেনি।

৮ আগস্টের তথ্যে দেখা গেছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের গ্রস রিজার্ভ ছিল ২৫.৮৯ বিলিয়ন ডলার, যা ১২ আগস্ট প্রায় ৪৩০ মিলিয়ন ডলার কমে হয়েছ ২৫.৪৬ বিলিয়ন ডলার।

এদিকে পেমেন্ট সিস্টেম বিভাগের সূত্র নিশ্চিত করেছে, ইসলামী ব্যাংকের হিসাব থেকে পাঁচ হাজার ৩১০ কোটি টাকা বিকলন করা হয়েছে, যা রিজার্ভ সমন্বয়ের বিষয়টিকে সমর্থন করে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক মেজবাউল হক এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

রিজার্ভের সুদহারে ছাড়

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানায়, ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে গড় সুদের হার ৫ দশমিক ৩০ শতাংশ। অর্থাৎ, ডলারগুলো সেখানে থাকলে বাংলাদেশ ব্যাংক এ হারে সুদ পেত।

তবে ইসলামী ব্যাংকের ডলার বকেয়া থাকায় বাংলাদেশ ব্যাংক এ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট বিভাগ গভর্নরের নজরে আনলে তিনি প্রায় অর্ধেক (২ দশমিক ৬৫ শতাংশ) হারে সুদ নেওয়ার নির্দেশ দেন। অবশ্য বাংলাদেশ ব্যাংক ইসলামী ব্যাংক থেকে কী পরিমাণ সুদ আদায় করতে পেরেছে তা জানা সম্ভব হয়নি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে, এস আলম গ্রুপ ঋণ নিয়ে আত্মসাতের কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইসলামী ব্যাংক মারাত্মক তারল্য সংকটের সম্মুখীন হয়েছে। সংকট এতটাই তীব্র ছিল যে, ব্যাংকটি নগদ জমা স্থিতিও (সিআরআর) বজায় রাখতে পারেনি।

তখন সাবেক গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার, তার উপদেষ্টা আবু ফারাহ মো. নাসের ও সাবেক ডেপুটি গভর্নর ছাইদুর রহমান বকেয়া ডলার বকেয়া রেখে রিজার্ভ থেকে নগদ টাকা ছাড়ের এ প্রক্রিয়া উদ্ভাবন করেছিলেন।

ইসলামী ব্যাংকের কাছ থেকে ডলার ক্রয় দেখিয়ে নগদ টাকার জোগান দেওয়া বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়মিত ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। ইসলামী ব্যাংক ধীরে ধীরে এসব ডলার পরিশোধ করত। অথচ তা রিজার্ভে প্রদর্শন করা হতো টাকা ছাড়ের দিন থেকেই। ফলে পুরো রিজার্ভের হিসাবায়নই ছিল এক প্রকার শুভঙ্করের ফাঁকি।

TBS-03 September, 2024, 02:05 pm

Address

Dhaka

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Islamic Economics ইসলামী অর্থনীতি posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Place Of Worship

Send a message to Islamic Economics ইসলামী অর্থনীতি:

Share