Islamic Economics ইসলামী অর্থনীতি

Islamic Economics ইসলামী অর্থনীতি ইসলামী অর্থনীতিকে বোঝার অভিপ্রায় থেকে এই পৃষ্ঠার নতুন করে পথচলা শুরু...

বাংলাদেশে ইসলামী অর্থনীতির গদবাঁধা বয়ানের বাইরে আরও গভীরে যাওয়ার প্রত্যয় থেকেই মূলত: এ পৃষ্ঠাটিও আমূল পরিবর্তিত হয়ে নতুন পথ চলা শুরু করলো ২০২২ এ...

ইসলামী অর্থনীতি ও শরিয়াহ গবেষণায় নতুন দিগন্ত: IFAC, CIES ও জামিয়াতুত তারবিয়াহর মধ্যে MoU স্বাক্ষরঢাকা, ২১ আগস্ট ২০২৬: ইস...
23/08/2026

ইসলামী অর্থনীতি ও শরিয়াহ গবেষণায় নতুন দিগন্ত: IFAC, CIES ও জামিয়াতুত তারবিয়াহর মধ্যে MoU স্বাক্ষর

ঢাকা, ২১ আগস্ট ২০২৬: ইসলামী অর্থনীতি, শরিয়াহ গবেষণা, একাডেমিক শিক্ষা ও পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নে যৌথভাবে কাজ করতে জামিয়াতুত তারবিয়াহ আল ইসলামিয়া, আইএফএ কনসালটেন্সি লিমিটেড (IFAC) এবং সেন্টার ফর ইসলামিক ইকোনমিক্স স্টাডিজ (CIES)-এর মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়েছে।

জামিয়াতুত তারবিয়াহ আল ইসলামিয়ার পক্ষে স্বাক্ষর করেন প্রতিষ্ঠানটির মুদির মাওলানা মামুনুল হক। IFAC-এর পক্ষে স্বাক্ষর করেন প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক মুফতি আব্দুল্লাহ মাসুম এবং CIES-এর পক্ষে স্বাক্ষর করেন অনুমোদিত প্রতিনিধি মুফতি সানাউল্লাহ।

এই সমঝোতার আওতায় ইসলামী অর্থায়ন, শরিয়াহ গভর্ন্যান্স, AAOIFI শরিয়াহ মানদণ্ড, ফিকহুল মু‘আমালাত, করপোরেট ফাইন্যান্স, সুকুক ও সুদমুক্ত আর্থিক ব্যবস্থা বিষয়ে যৌথ শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও গবেষণামূলক কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

পাশাপাশি কর্মশালা, সেমিনার, ওয়েবিনার, সম্মেলন, সার্টিফিকেট ও ডিপ্লোমা কোর্সসহ বিভিন্ন পেশাগত প্রশিক্ষণ কার্যক্রম আয়োজনের সুযোগ সৃষ্টি হবে। তিন প্রতিষ্ঠানের আলেম, শিক্ষক ও বিশেষজ্ঞরাও পারস্পরিকভাবে রিসোর্স পারসন ও প্রশিক্ষক হিসেবে যুক্ত হতে পারবেন।

এই কার্যক্রম ঐতিহ্যবাহী ইসলামী শিক্ষার সঙ্গে আধুনিক ইসলামী অর্থনীতি ও পেশাগত জ্ঞানের সমন্বয় ঘটাবে এবং দেশে শরিয়াহভিত্তিক অর্থনীতি ও গবেষণায় দক্ষ জনবল তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

27/07/2026

বাংলা QR: বাংলাদেশের ডিজিটাল লেনদেনে নতুন যুগ

বাংলা QR (Bangla QR) হলো বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্যোগে চালু হওয়া একটি জাতীয় মানসম্মত (National Standard) ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা। এর মাধ্যমে একটি মাত্র QR কোড ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যাংক, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (MFS) এবং পেমেন্ট সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের অ্যাপ থেকে সহজে অর্থ পরিশোধ করা যায়। এর মূল লক্ষ্য হলো নগদ টাকার ব্যবহার কমিয়ে একটি নিরাপদ, দ্রুত ও আধুনিক ডিজিটাল অর্থনীতি গড়ে তোলা।

গুরুত্বপূর্ণ সময়রেখা
২০২১ সাল — বাংলাদেশ ব্যাংক "National QR Code Standard for Retail Payments in Bangladesh" কাঠামো ও বাংলা QR–এর নীতিমালা প্রণয়ন করে।
১০ জুন ২০২৬ — বাংলাদেশ ব্যাংক দেশব্যাপী বাংলা QR প্রচারণা কর্মসূচির উদ্বোধন করে। এতে ব্যাংক, MFS, PSP ও PSO প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
২৩ জুন ২০২৬ — বাংলা QR বাস্তবায়নের জন্য গঠিত স্টিয়ারিং কমিটির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয় এবং সরকারি সেবায় বাংলা QR ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
১ জুলাই ২০২৬ — সারাদেশে বাংলা QR কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে চালু এবং ব্যবসায়িক পেমেন্ট পয়েন্টে এটি বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ কার্যকর হয়।

বাংলা QR-এর গুরুত্ব
১. একটি QR, সবার জন্য
একটি মাত্র QR কোড ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যাংক ও মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাপ থেকে অর্থ পরিশোধ করা যায়। আলাদা আলাদা QR রাখার প্রয়োজন নেই।
২. দ্রুত লেনদেন
মাত্র কয়েক সেকেন্ডে বিল পরিশোধ করা যায়। নগদ টাকা গোনা বা খুচরা ফেরতের ঝামেলা থাকে না।
৩. নিরাপদ পেমেন্ট
নগদ টাকা বহনের ঝুঁকি কমে। প্রতিটি লেনদনের ডিজিটাল রেকর্ড সংরক্ষিত থাকে।
৪. ছোট ব্যবসায়ীদের জন্য বড় সুবিধা
চায়ের দোকান, মুদি দোকান, কাঁচাবাজার, ফার্মেসি, রেস্টুরেন্ট, রিকশাচালকসহ ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারাও সহজে ডিজিটাল পেমেন্ট গ্রহণ করতে পারেন।
৫. ক্যাশলেস অর্থনীতির ভিত্তি
নগদের পরিবর্তে ডিজিটাল লেনদেন বাড়লে অর্থনীতি আরও স্বচ্ছ, গতিশীল ও আধুনিক হয়।
৬. সময় ও খরচ সাশ্রয়
POS মেশিনের প্রয়োজন কমে এবং কম খরচে ডিজিটাল পেমেন্ট গ্রহণ করা সম্ভব হয়।
৭. আর্থিক অন্তর্ভুক্তি
গ্রাম ও শহরের মানুষকে একই ডিজিটাল আর্থিক ব্যবস্থার আওতায় আনা সহজ হয়।
৮. হিসাব রাখা সহজ
ব্যবসায়ী প্রতিটি লেনদনের স্বয়ংক্রিয় রেকর্ড পান, ফলে হিসাব-নিকাশ আরও সহজ ও নির্ভুল হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ভূমিকা
২০২১ সালে বাংলা QR-এর জাতীয় মান ও নীতিমালা প্রণয়ন।
দেশব্যাপী একীভূত QR পেমেন্ট ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ গ্রহণ।
ব্যাংক, MFS, PSP ও PSO-গুলোর মধ্যে সমন্বয় সৃষ্টি।
১০ জুন ২০২৬ দেশব্যাপী সচেতনতামূলক প্রচারণা শুরু।
১ জুলাই ২০২৬ থেকে বাংলা QR বাস্তবায়ন জোরদার করা।
সব আর্থিক প্রতিষ্ঠানে বাংলা QR বাস্তবায়নের জন্য পৃথক বাস্তবায়ন ইউনিট গঠনের নির্দেশনা।
শাখাভিত্তিক দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নিয়োগের নির্দেশ।
ব্যবসায়ীদের দ্রুত বাংলা QR-এর আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ।
নিরাপদ, দ্রুত ও আন্তঃসংযুক্ত ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা গড়ে তোলা।

বাংলাদেশ সরকারের ভূমিকা
স্মার্ট বাংলাদেশ গঠনের অংশ হিসেবে ডিজিটাল পেমেন্টকে অগ্রাধিকার দেওয়া।
সরকারি সেবায় বাংলা QR ব্যবহারের উদ্যোগ গ্রহণ।
সরকারি ফি, বিল ও সেবা ডিজিটালভাবে আদায়ের পরিকল্পনা।
নগদনির্ভর অর্থনীতি থেকে ডিজিটাল অর্থনীতিতে রূপান্তরকে উৎসাহিত করা।
আর্থিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি।
ডিজিটাল আর্থিক অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করা।
প্রযুক্তিনির্ভর সরকারি সেবা সম্প্রসারণ।
বাংলা QR-এর ভবিষ্যৎ লক্ষ্য (Target)
সারাদেশে একটি অভিন্ন QR পেমেন্ট ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা।
নগদ টাকার ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো।
ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের শতভাগ ডিজিটাল পেমেন্টের আওতায় আনা।
সরকারি ও বেসরকারি সব ধরনের সেবায় বাংলা QR চালু করা।
নিরাপদ, দ্রুত ও স্বচ্ছ আর্থিক লেনদেন নিশ্চিত করা।
ডিজিটাল আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বৃদ্ধি করা।
স্মার্ট বাংলাদেশ ও ক্যাশলেস অর্থনীতি গড়ে তোলা।
দেশের প্রতিটি নাগরিককে সহজ ডিজিটাল পেমেন্ট সুবিধার আওতায় নিয়ে আসা।

উপসংহার
বাংলা QR শুধু একটি QR কোড নয়; এটি বাংলাদেশের ডিজিটাল অর্থনীতির একটি নতুন অধ্যায়। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিকল্পনা, সরকারের নীতিগত সহায়তা এবং জনগণের অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাংলা QR ভবিষ্যতে দেশের প্রতিটি দোকান, বাজার, প্রতিষ্ঠান ও সরকারি সেবায় ডিজিটাল লেনদেনের অন্যতম প্রধান মাধ্যম হয়ে উঠতে পারে। এর মাধ্যমে গড়ে উঠবে একটি দ্রুত, নিরাপদ, স্বচ্ছ ও আধুনিক বাংলাদেশ।

Mazumder

11/06/2026

❝জামায়াতকে সাইজ করার পদ্ধতি যদি অবৈধও হয়, তবুও অনেকে তাতে সমর্থন করেন শুধুমাত্র রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গী থেকে। ইসলামী ব্যাংক নিয়ে সাম্প্রতিক ঘটনাতে তা আবার দেখা যাচ্ছে। ১. সরকার ইসলামী ব্যাংককে জামায়াত মুক্ত করতে চাইছে। কেনো নিয়েছে তা জানার চেষ্টা করেছিলাম। জানতে পেরেছি, সরকারের কেউ কেউ মনে করে, এর মাধ্যমে বিরোধীদলকে আর্থিকভাবে সাইজ করা যাবে। 'প্রতিবেদন' আছে জামাত ব্যাংকটি থেকে টাকা পায়। তা বন্ধ করা গেলে, দলটি সরকারকে ডিস্টার্ব করতে পারবে না। ভোটেও দুর্বল হয়ে যাবে। ঠিক একই ধারনাপ্রসূত হয়ে ফেসবুক দুনিয়ায় বাস করা লোকজনও ইসলামী ব্যাংককে জামায়াত মুক্ত করাকে নিঃশর্ত সমর্থন করছে। এর কী কুফল কী, তা পরে বলছি।

২. আমি সরকারের ভাই বেরাদরদের বলেছি, এই প্রতিবেদনটি ভুয়া। তাদের যা বলেছি, আপনাদেরও বলি। জামায়াত ব্যাংক থেকে সরাসরি টাকা পায় না। একটা নেতা আছে না যে ফেসবুকে এসে 'ইয়ানতবাজির' কথা বলেন, ওইভাবে কোনো ব্যাংক কোন দলকে টাকা দেয় না, দিতে পারেও না। তাহলে ইসলামী ব্যাংক থেকে জামায়াত কী পায়? পায় হলো সাপোর্ট। জামায়াতের নেতারা ব্যবসার জন্য এই ব্যাংক থেকে সহজে ঋণ পান। আর শিবিরের নেতাকর্মীরা সহজে চাকরি পায়। (সিলেবাস কমন হয়ে যাওয়ার পর এখন অবশ্য সহজ নাই)। তারা জামায়াত‌কে ইয়ানত বা চাঁদা ‌দেয় নি‌জের আয় থে‌কে। এটা এস আলম মা‌লিক থাকলেও দে‌বে, আপ‌নি মা‌লিক থাক‌লেও দে‌বে। জামায়াতকে আর্থিকভাবে দুর্বল করতে আওয়ামী লীগও ব্যাংকটির দখল করেছিল এস আলমের মাধ্যমে। তাতে লাভ হয়নি। জামায়াতের লোকজন ঋণ ঠিক পেয়েছে। যেমন নাবিল গ্রুপ। এস আলমের সঙ্গে খাতির করে অনিয়ম এবং কায়দাকানুন করে ১৩ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে। তবে নাবিল গ্রুপ পালিয়ে না গিয়ে ৫ আগস্টের পর ১১০০ কোটি টাকা খেলাপি ঋণের কিছু ডাউন পেমেন্ট দিয়ে রিশিডিউল করে, এখন কিস্তি দিচ্ছে। জামায়াতের পরিচিত নেতারা এস আলম জামানায় ঋণ না পেলেও, কর্মকর্তারা সব আগের হওয়ায় অপরিচিতি মুখের নেতারা ঠিক ঋণ পেয়েছে। ইসলামী ব্যাংকের সিএসআর থেকে জামায়াতের যারা গরিব তারা দান খয়রাত পায়। আবার বিনাজামানতের আরডিএসের ক্ষুদ্র ঋণ পায়। তবে এই স্কিমে টাকা ফেরত দেওয়ার হার খুব ভালো। ৯৮ শতাংশের বেশি। মানে টাকা নিলেও মারে না। ১০০ টাকা ঋণ দিলে ৯৮ টাকা ফেরত আসে। প্লাস মুনাফা আসে। ব্যাংকের জন্য লাভজনক এই প্রজেক্ট। ব্যাংক ও জামায়াত উভয় পক্ষের জন্য উইন উইন সিচুয়েশন।

৩. জামায়াত বিট কাভার করছি ১৭ বছর। এই হিসেবে দীর্ঘতম সময়ের কার‌ণে আমাকে 'ছিনিয়র সাংবাদিক' (হা হা হা) বলা যায়। নতুন কয়েকজন সাংবাদিক খুব ভালো করছে জামায়াত বিটে। দায়িত্ব নিয়ে বলতে পারি, এই কয়েকজনের বাইরে বাংলাদেশের সাংবাদিকদের প্রায় সবার জামায়াত সম্পর্কে জানাশোনা জিরো। গালগল্প সর্বস্ব। তাদের বড় অংশ জামায়াতবিদ্বেষী এবং বাকিরা জামায়াত সমর্থক। একপক্ষ যে কোনোভাবে জামায়াতের ধ্বংস চায়। এতে অন্যায় হলেও, সমস্যা নেই। এ কার‌ণেই ইসলামী ব‌্যাংক‌কে জামায়াতমুক্ত কর‌তে গি‌য়ে অর্থনী‌তির ক্ষ‌তি হ‌বে বু‌ঝেও উদযাপন কর‌ছে। আরেকপক্ষ জামায়াতের কোনো ভুলই দেখে না।

৪. ২০১৩ থেকে পরের চার বছর শাহবাগ, আবুল বারাকাত করে করে কীভাবে ইসলামী ব্যাংক দখলের ক্ষেত্র প্রস্তুত করা হয়েছে, তা আপনাদের জানা। কীভাবে ডিজিএফআই দিয়ে এস আলম ২০১৭ সালে ব্যাংক দখল করল, কীভাবে এস আলম নামে বেনামে ৮৭ হাজার কোটি ঋণের নামে নিয়েছে এগুলোও এখন সবার জানা। এস আলম মুক্ত করার পর ৫ আগস্টের পর ব্যাংকটা একটু একটু ঘুরে দাঁড়াচ্ছিল। ২০২৪ সালের ডিসেম্বর ব্যাংকটিতে মোট আমানত ছিল ১ লাখ ৫৯ হাজার কোটি টাকা। যেটা ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে বেড়ে দাঁড়ায় ১ লাখ ৮১ হাজার কোটি টাকা। একটা বিধ্বস্ত ব্যাংক এক বছরে ২২ হাজার কোটি নতুন আমানত সংগ্রহ করতে পারা বিরাট অর্জন। মুশকিল হল, ইসলামী ব্যাংকের মোট ঋণ দিয়ে বসে আছে ১ লাখ ৮৬ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি ৯৪ হাজার কোটি টাকা। এর আবার বড় অংশ পটিয়ার পীর সাহেবের। এসব ঋণ কিয়ামত পর্যন্ত আদায়ের সম্ভাবনা নেই। ফলে ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীরা যদি ব্যাংক থেকে তাদের টাকা তুলতে যায়, অর্ধেক টাকাও ফেরত পাবে না এই জীবনে।

৫. তো এই পরিস্থিতিতে রাজনীতি না করে ব্যাংকটিকে রিকভারি দরকার ছিল। কিন্তু তা না করে সাইজ করার নীতি নেওয়া হয়েছে। ফলে আন্দোলন হচ্ছে, এতে আতঙ্কিত গ্রাহক টাকা তুলতে শুরু করেছে। এক সপ্তাহে সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা তুলে নিয়েছে আমানতকারীরা। পরিস্থিতি এমন সিআরআর রাখতে না পারা ইসলামী ব্যাংক এখন ১০ হাজার কোটি ঋণ চাইছে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে। আজ সংসদে যেটা হলো, তাতে আতঙ্ক আরও বাড়বে। আজ সংসদে বলা উচিত ছিল, সরকার ব্যাংকে হাত দিচ্ছে না, দেবেও না। কাউকে হাত দিতে দেওয়াও হবে না। আমানতকারীদের টাকা একদম নিরাপদ। সেটা না করে মন্ত্রীরা যেভাবে পুরনো শেয়ার মালিকদের কাছে ব্যাংক ফেরত দেওয়া, আন্দোলনকারীদের শনাক্তের কথা কথা বললেন, তাতে আরও প্যানিক ছড়াবে। আমানতকারীরা আরও হুমড়ি খেয়ে পড়বে টাকা তুলতে। ১০০ জনের মধ্যে ১০ জন টাকা তুলতে না পারলে, তখন আরও আতঙ্ক বাড়বে, তাতে এক হাজার আমানতকারী আসবে টাকা তুলতে। কোনো ব্যাংকের ৫ শতাংশ গ্রাহকও যদি একসঙ্গে টাকা তুলতে চায়, দুনিয়ার সেরা ব্যাংকও তা দিতে পারবে না। কারণ ব্যাংক আমনতাকারীর টাকা ভল্টে রেখে দেয় না। ব‌্যবসায় খাটা‌তে আরেকজন‌কে ঋণ দেয় সু‌দে। সেই সু‌দের টাকায় আমানতকারী‌কে লাভ দেয়। ঋণ গ্রহিতা তো ঋণ নিয়েছে ৫-১০-১৫-২০ বছরের মেয়াদে। চাইলেও ব্যাংক তার কাছ থেকে কিস্তির বেশি টাকা দাবি করতে পারবে না। কিন্তু আমানতকারী যদি বলে, "মুনাফা লাগবে না, আমার টাকা ফেরত দাও।" এই পরিস্থিতি তৈরি হলে, দু‌নিয়ার সেরা ব্যাংকও দেউলিয়া হতে বাধ্য। যদিও ফেসবুকে অনেকে বলেন, চেয়ারম্যান পছন্দ না হলে আন্দোলন করার কী আছে, টাকা তুলে অন্য ব্যাংকে চলে যাক। দে আর রং। ইকোন‌মি‌কে তারা রঙ তামাশা ম‌নে কর‌ছেন।

৬. এস আলমের খেয়ে যাওয়া যে পাঁচ ব্যাংক দুর্বল হয়েছে, সেগুলোর মোট আমানত পরিমাণ প্রায় ১ লক্ষ ৪২ হাজার কোটি টাকা। সেগুলোকেই সামলানো যাচ্ছে না। আর ইসলামী ব্যাংক তো হাতি। সাইজেও বড়, খায়ও বেশি। এটা দেউলিয়া হলে, দেশের ব্যাংকিং সেক্টর কলাপস করবে। অর্থনীতি চলে বিশ্বাস দিয়ে। কাগজের একটা টুকরাকে সরকার বলছে, 'এটা ১০০০ টাকা'। আমরা মেনে নিচ্ছি, কারণ গ্যারান্টি দিচ্ছে সরকার। এই বিশ্বাসেই দোকানে এই কাগজ দিলে এক হাজার টাকার মাল দিচ্ছে। বিশ্বাস না করলে, এটা একটা কাগজ মাত্র। ব্যাংকও তাই। নিরাপদ থাকবে বিশ্বাসেই মানুষ টাকা রাখে। বিশ্বাস ভেঙে গেলে, মানুষ টাকা তুলে নেবে। এমনিতেই মূল্যস্ফীতি পৌনে ১০ শতাংশ। টাকা তুলে নিলে, বাজারে টাকা বাড়বে। জিনিসপত্রের দাম আরও বাড়বে। ব্যবসায়ীরা ব্যবসা করার ঋণ পাবে না। তাতে স্থানীয় বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান হবে না। সরকারও ঋণ পাবে না। তখন টাকা ছাপিয়ে ঋণ নিতে হবে। এর ফল হবে ভয়াবহ মূল্যস্ফীতি। এতে যতটা না জামায়াত বা সরকারের ক্ষতি হবে, দেশের হবে এর কয়েকগুণ। সরকারি দলকে বলি, আপনার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ জামায়াতকে যদি সাইজ করতে হয়, অন্য কোনো তরিকা বের করুন। কিন্তু ব্যাংকিং খাতে হাত দিয়েন না। এটা সুসাইডাল হবে।❞

©সংগৃহীত

09/06/2026

"বুলেটবিদ্ধ জুলাই গাথা" বইটি এখন rokomari.com এ...

[লিংক কমেন্টে]

রবিবারই বলেছিলাম এইগুলা ঘটবে। এখন এটা বাস্তবে রূপ নিচ্ছে। ইসলামি ব্যাংক থেকে টাকা তুললে বা এই ব্যাংক চূড়ান্ত তারল্য সংকট...
06/06/2026

রবিবারই বলেছিলাম এইগুলা ঘটবে। এখন এটা বাস্তবে রূপ নিচ্ছে। ইসলামি ব্যাংক থেকে টাকা তুললে বা এই ব্যাংক চূড়ান্ত তারল্য সংকটে পরলে কি কেবল জামায়াতেরই লস! অনেকে এমনটাই ভাবছেন এবং এজন্য খুব খুশি। দখলদার এস আলমকে ব্যাংকটার নিয়ন্ত্রণ দিয়ে দেওয়া এবং দুর্নীতিবাজ চেয়ারম্যান বসানোয় অনেকেই বগল বাজাচ্ছে। খুশিতে বাক-বাকুম করতেছে জামাতের ব্যাংক শেষ হবে এইটা ভেবে।

কিন্তু বাস্তবতা তা না। ব্যাংকিং খাত একটা চেইনে চলে। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় এই ব্যাংক যদি দেউলিয়া হয় এটা দেশের টোটাল ব্যাংকিং খাতে ডমিনো ইফেক্ট তৈরি করবে। সবগুলো ব্যাংকে ধাক্কা লাগবে। ব্যাংক গ্রাহকদের টাকা দিতে না পারলে টাকার মান দ্রুত পরে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এমন অবস্থা হইলে কি হবে বুঝতেই পারছেন! বগল বাজানো থুইয়া আপনার নেতার বগল কাটতে রওনা দিতে হইবে তখন!

আরেকটা সংকট হইলো রেমিট্যান্স কমিয়ে দেওয়া। কয়েকটি সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, জামায়াত সংশ্লিষ্ট এবং যারা ইসলামি ব্যাংকে রেমিট্যান্স পাঠায় এবং এস আলমের দখলদারি পছন্দ না তারা হুন্ডিতে টাকা পাঠাবে। সরকারকে শিক্ষা দিতেই নাকি এই চিন্তা করছে তারা, এবং ইতোমধ্যে অনেকেই শুরু করেছে। জুনের প্রথম দুই সপ্তাহের রেমিট্যান্স ফ্লো হিসাব আসলে এই ট্রেন্ড বুঝা যাবে।

সরকার এমনিতেই ডলার সংকট কাটাইতে আইএমএফ এর দরবারে আবারও ঋণ চাচ্ছে! আইএমএফকে খুশি করতে তেলের দাম আবারও বাড়াইছে, বিদ্যুতের দাম বাড়াইছে। চিপায়-চাপায় ট্যাক্স বসাচ্ছে। এই অবস্থায় রেমিট্যান্স কমে হুন্ডি বাড়লে টাকা পাচারকারীদের লাভ হবে। আর দেশ ও সরকারের আকাশ ভরা তারা।

জামাতের মাল দখল কইরা খাইতে চাইলে বিএনপি খাক। ঘোষণা দিয়া খাক। এইটা নিয়া আমি আপাতত কিছু কইবো না। কিন্তু লুটেরা এস আলমকেই কেন এর নিয়ন্ত্রণ আবারো দিতে হবে? এই এস আলম হাসিনার নির্দেশে বন্দুক ঠ্যাকাইয়া ব্যাংক দখল করে। কেবল সাইপ্রাসেই পাচার করছে ৯৬ হাজার কোটি টাকা! এদের সঙ্গে কেন পীরিতি করতে হবে? আর চেয়ারম্যান বসানোর জন্য বিএনপির যোগ্য কেউ নাই? একটা জোচ্চর, ঘুষখোর, টাউট ও দুর্নীতিবাজ ঋণ খেলাপিরেই বসাইতে হইবে?

🖊️ আরিফুর রহমান তুহিন

১০ কারণে ইসলামী ব্যাংক দখল করতে চায় ভারতইসলামী ব্যাংক দখলের এযাবৎ যত কাহিনী শুনেছেন, সব কাহিনীই সুগারকোটেড। আসল কাহিনী ক...
02/06/2026

১০ কারণে ইসলামী ব্যাংক দখল করতে চায় ভারত

ইসলামী ব্যাংক দখলের এযাবৎ যত কাহিনী শুনেছেন, সব কাহিনীই সুগারকোটেড। আসল কাহিনী কেউ আপনাকে শুনতে দেয়নি। কারণ, এই ব্যাংক দখলের সঙ্গে জড়িত আছে ভারতীয় আধিপত্যবাদের নীল ছোঁবল। সে কথা আপনাকে ‘প্রথম আলো’ও শুনাবে না,‘কালের কণ্ঠ’ও শুনাবে না। এরা সবাই ভারতের পেইড এজেন্ট।

ইসলামী ব্যাংক বাঁচলে বাংলাদেশ বাঁচবে। বাংলাদেশ বাঁচলে বাংলাদেশপন্থীরা টিকে যাবে। আর বাংলাদেশপন্থীরা টিকে গেলে ভারতীয় আধিপত্যবাদ হেরে যাবে। তাই যে কোন মূল্যে ইসলামী ব্যাংক দখল করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে ভারত। বাংলাদেশে ইন্ডিয়ান হেজিমনির এই সর্বনাশা খেলার পুতুল হয়ে এর আগে কাজ করেছে বিতাড়িত আওয়ামী লীগ,এখন করছে বিএনপি।

রাতারাতি ইসলামী ব্যাংক দখলও হয়ে গেছে। শেখ হাসিনার অন্তরঙ্গ সহযোগী ভারতপন্থী ক্রিমিনিালকে ইসলামী ব্যাংকের নয়া চেয়ারমান নিয়োগ করেছে বিএনপি সরকার। এমডিকে অপসারন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংক অলরেডি ভারতের দখলে চলে গেছে।

ইসলামী ব্যাংক ভারতের দখলে যাওয়া মানেই বাংলাদেশকে আবার ভারতীয় আগ্রাসনের কবলে গিলে ফেলা। শিলং সন্নাসীকে এজন্যই এক যুগ ট্রেনিং দিয়ে বাংলাদেশে পাঠিয়েছে ভারত। বিএনপি ক্ষমতায় বসে সে কারণেই প্রথমে ইসলামী ব্যাংককে ভারতের হাতে তুলে দেওয়ার বন্দোবস্ত চুড়ান্ত করেছে।

শিলং সন্নাসীকে যে সব অ্যাসাইনমেন্ট দিয়ে বাংলাদেশে পাঠনো হয়েছিল,এস আলম গংদের ইসলামী ব্যাংকে ফিরে আনার মাধ্যমে সেই অ্যাসাইনমেন্টের প্রথম এজেন্ডা বাস্তবায়িত হচ্ছে এখন।

ব্যাংকিং খাতে “দখল” মানে কেবল মালিকানা নয়; বরং ঋণ অনুমোদন, পরিচালনা পর্ষদ, শেয়ার কাঠামো এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে প্রভাবিত করার ক্ষমতা পেয়ে যাওয়া। এরকম ১০টি কারণে ভারত এখন বাংলাদেশের ইসলামী ব্যাংক দখলের খেলায় মেতেছে।

প্রথমত : ভারতবিরোধী শক্তির জ্বালানী খতম করা
ভারত তাদের আধিপত্য বিস্তারের সবচেয়ে বড় বাধা হিসেবে চিহ্নিত করেছে বাংলাদেশের ইসলামী ব্যাংককে। ভারত গভীর বিশ্লেষণ করে নিশ্চিত হয়েছে যে, বাংলাদেশে ভারতবিরোধী শক্তির জ্বালানী জোগান দেয় ইসলামী ব্যাংক।

হাসিনা পালানোর পরবর্তী সময়ে বেহাত হয়ে যাওয়া বাংলাদেশে ইন্ডিয়ান হেজিমনি বা ভারতীয় আধিপত্য পুন:প্রতিষ্ঠার জন্য তাই প্রথমেই ইসলামী ব্যাংকে দখলে নিতে চায় ভারত। ভারত বুঝে গেছে যে, ইসলামী ব্যাংকের সঙ্গে জড়িত সকল জনগোষ্ঠী এবং প্রবাসী আয়ের বিশাল শক্তি,সবই ভারতীয় আধিপত্যবাদ বিরোধী।

এজন্য ইসলামী ব্যাংক দখল করা মানেই নির্বিঘ্নে ভারতীয় আধিপত্যবাদ কায়েম করা। ইসলামী ব্যাংক দখল করা মানেই হাসিনাকে আবার বাংলাদেশে পূনর্বাসিত করার সুযোগ পাওয়া।

দ্বিতীয়ত : বাংলাদেশের আর্থিক খাতের দখল নেওয়া
বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের ইতিহাসে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি শুধু একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান নয়; এটি একটি অর্থনৈতিক শক্তিকেন্দ্র, রাজনৈতিক প্রভাবের উৎস এবং রাষ্ট্রক্ষমতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

দেশের বৃহত্তম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক হিসেবে ইসলামী ব্যাংকের আমানত, গ্রাহকভিত্তি, প্রবাসী আয় এবং ব্যবসায়িক নেটওয়ার্ক এতটাই বিশাল যে, এ ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ মানে শুধু একটি ব্যাংক নিয়ন্ত্রণ নয়, বরং দেশের অর্থনীতির একটি বিশাল প্রবাহের উপর প্রভাব প্রতিষ্ঠা করা। ইসলামী ব্যাংক দখলে নিতে পারলে বাংলাদেশের আর্থিক খাতের এক বিশাল অংশ দখলে নিতে পারবে ভারত।

ইসলামী ব্যাংক দেশের একক বৃহত্তম বেসরকারি ব্যাংক। সাধারণ মানুষের কোটি কোটি টাকার আমানত ও রেমিট্যান্সের একটি বিশাল অংশ এই ব্যাংকে জমা থাকে। ফলে এই ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ পাওয়ার অর্থ হলো একটি বিশাল আর্থিক তহবিলের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা। এজন্য বাংলাদেশকে কব্জায় রাখতে হলে ইসলামী ব্যাংক দখল করা ভারতের জন্য একেবারে ফরজ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তৃতীয়ত : রেমিট্যান্স প্রবাহ বন্ধ করে দেওয়া
হসিনা খেদাও আন্দোলনে একটা বড় শক্তি জুগিয়েছেন প্রবাসীরা। ভারত দেখেছে যে প্রবাসীদের অধিকাংশই চরম ভারতবিরোধী। সেই প্রবাসীদের অধিকাংশই ইসলামী ব্যাংকের সঙ্গে জড়িত। এজন্য ইসলামী ব্যাংক দখল করতে পারলে প্রবাসীদের রেমিট্যান্স প্রবাহ নিয়ন্ত্রন করা যাবে এবং ভারতবিরোধীদের ইচ্ছামত সাইজ করা যাবে।

চতুর্থত : আদর্শিক ও রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ন্ত্রন
ইসলামী ব্যাংকের সাথে বাংলাদেশের একটি নির্দিষ্ট বড় জনগোষ্ঠীর ধর্মীয় ও আদর্শিক আবেগ জড়িয়ে আছে। ঐতিহাসিকভাবে ব্যাংকটির প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে যারা এর সাথে জড়িত ছিল, তাদের সাথে রাজনৈতিক দলগুলোর ক্ষমতার সমীকরণ মেলাতে গিয়ে ভারত টের পেয়েছে যে, ভারতীয় আধিপত্য বিস্তারের সবচেয়ে বড় যারা বাধা,তাদের হাতেই এই ব্যাংকের নিয়ন্ত্রন ।

এজন্য ইসলামী ব্যাংক দখল করতে না পারলে ভারত তাদের বাংলাদেশকে গ্রাস করার যে রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে চায়,তা সম্ভব হবে না।

পঞ্চমত : ভারতবিরোধী শক্তিকে দীর্ঘমেয়াদী আর্থিক ঝুঁকিতে ফেলা
ভারত ইসলামী ব্যাংক দখল করে এই ব্যাংককে ধ্বংস করে দিতে চায়। কারণ,
ইসলামী ব্যাংকের মতো একটি সিস্টেমিক্যালি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাংক যদি এভাবে টিকে থাকে,তাহলে বাংলাদেশে ভারতবিরোধী শক্তিকে নির্মুল করা সম্ভব হবে না।

এজন্য ঘন ঘন ব্যাংকের চেয়ারম্যান-এমডি পরিবর্তন করা হচ্ছে এবং জোরপূর্বক চেয়ারম্যান-এমডিকে পদত্যাগে বাধ্য করা হচ্ছে। এই সংস্কৃতি চালু রাখলে শুধু ইসলামী ব্যাংকই ধ্বংস হবে না। বাংলাদেশের পরিণতিও খুব খারাপ হবে। দেশের পুরো অর্থনীতির জন্য ভয়াবহ হয়ে উঠবে।

ষষ্ঠত : গ্রাহকের আস্থা ও সংকট তৈরি করা
ইসলামী ব্যাংকের বিপুল সংখ্যক সাধারণ গ্রাহক যখন দেখবেন যে, ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে রাজনৈতিক টানাটানি চলছে, তখন তারা ব্যাংক থেকে টাকা তুলে নেওয়ার তাড়না অনুভব করেন। এতে ব্যাংকে চরম তারল্য সংকট সৃষ্টি করে ইসলামী ব্যাংককে ধ্বংস করতে চায় ভারত।

সপ্তমত : বৈদেশিক বাণিজ্যে ধাক্কা দেওয়া
ভারত সবসময় চায় বাংলাদেশ বৈদেশিক বাণিজ্যে সব সময় পিছিয়ে থাকুক। এবং বাংলাদেশকে যেনো সব সময় ভারতের মুখাপেক্ষী হয়ে থাকতে হয়। এই পরিস্থিতি সৃষ্টি করার জন্যই ভারত ইসলামী ব্যাংকে নিয়ন্ত্রনে নিতে চায়। কারণ, আন্তর্জাতিক ব্যাংকগুলো এলসি বা ঋণপত্র খোলার ক্ষেত্রে একটি ব্যাংকের সুশাসনের ওপর জোর দেয়।

ইসলামী ব্যাংকে এই ধরনের অস্থিরতা থাকলে বিদেশি ব্যাংকগুলো বাংলাদেশের সাথে বাণিজ্য অর্থায়নে অনীহা প্রকাশ করবে, যা দেশের আমদানি-রপ্তানি খাতকে সংকটে ফেলবে। এত করে ভারতীয় আধিপত্য বিস্তরের পথ পরিষ্কার হবে।

অষ্টমত : ঋণখেলাপী সংস্কৃতি বহাল রাখা
ভারত চায় বাংলাদেশে ঋণখেলাপি সংস্কৃতি বহাল থাকুক। এজন্য ইসলামী ব্যাংকে এই অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে ভারত। এতে এক পক্ষ গিয়ে যখন অন্য পক্ষ ক্ষমতার জোরে ব্যাংকে বসে, তখন আগের পক্ষের দেওয়া ঋণ আদায়ে কোনো সদিচ্ছা থাকে না। ফলে নন পারফর্মিং লোন (এনপিএল) বা খেলাপি ঋণের পরিমাণ জ্যামিতিক হারে বাড়তে থাকে। এভাবে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে আরো দুর্বল করে ফেলতে সক্ষম হওয়ার জন্য ইসলামী ব্যাংক দখল করতে চায় ভারত।

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বেসরকারি ব্যাংকগুলোর একটি। এর শত শত শাখা, বিশাল আমানতভিত্তি, প্রবাসী রেমিট্যান্স নেটওয়ার্ক এবং ধর্মীয় আস্থাভিত্তিক গ্রাহকগোষ্ঠী রয়েছে।

নবমত : ভারতের অনুগত ব্যবসায়ী শ্রেণি তৈরি করা
বাংলাদেশে ইসলামী ব্যাংকিং কেবল একটি আর্থিক মডেল নয়; এটি একটি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অর্থনৈতিক বলয়। দেশের মধ্যবিত্ত, প্রবাসী, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং ধর্মীয়ভাবে সংবেদনশীল জনগোষ্ঠীর বড় অংশ ইসলামী ব্যাংকের সঙ্গে যুক্ত। ফলে এ ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ মানেই বিপুল তারল্যের উপর নিয়ন্ত্রণ,করপোরেট ঋণপ্রবাহে প্রভাব,শিল্পখাতের অর্থায়নে কর্তৃত্ব,এবং রাজনৈতিকভাবে অনুগত ব্যবসায়ী শ্রেণি তৈরি করার সুযোগ।

এই কারণেই ভারত বাংলাদেশে তাদের আধিপত্য বিস্তারের ক্ষেত্রে ইসলামী ব্যাংককে কৌশলগত সম্পদ হিসেবে দেখে।

বাংলাদেশে বড় ব্যবসায়ী গোষ্ঠী ও রাজনৈতিক ক্ষমতা একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। যে গোষ্ঠী ব্যাংক নিয়ন্ত্রণ করে, সে শিল্পঋণ, আমদানি-রপ্তানি অর্থায়ন এবং করপোরেট সম্প্রসারণে বিশাল সুবিধা পায়।

দশমত : ফ্যা.সিবাদ ফেরানোর রাস্তা তৈরি করা
ইসলামী ব্যাংকের মতো প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ মানে, হাজার হাজার কোটি টাকার তারল্য,ব্যবসায়িক পুন:অর্থায়ন,এবং রাজনৈতিক অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থান নিতে পারা।

ইসলামী ব্যাংকের দখল নেওয়া মানেই ফ্যা.সিবাদ ফেরানোর রাস্তা তৈরি করা। এ কারণে ভারতীয় আধিপত্য প্রতিষ্ঠার জন্য ইসলামী ব্যাংক নিয়ন্ত্রণের লড়াইও শুরু হয়ে গেছে।

সাম্প্রতিক সময়ে ইসলামী ব্যাংককে ঘিরে যেসব নাটকীয় পরিবর্তন ঘটছে। আগস্ট বিপ্লবের পরিবর্তিত পরিস্থিতে নিয়োগপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও এমডি অপসারণ, নতুন বোর্ড নিয়োগ, এস আলম গোষ্ঠীর প্রত্যাবর্তনের সুযোগ সৃষ্টি করা; এসবই কেবল প্রশাসনিক পরিবর্তন হিসেবে দেখলে ভুল হবে।

এর পেছনে রয়েছে অর্থনৈতিক আধিপত্য, রাজনৈতিক আনুগত্য, করপোরেট স্বার্থ এবং রাষ্ট্রক্ষমতার জটিল সমীকরণ। এর সঙ্গে সবচেয়ে গভীর ভাবে জড়িয়ে আছে আমাদের শত্রুপ্রতিবেশি ভারতের আধিপত্য বিস্তারের স্বার্থও।

বাংলাদেশের অর্থনীতি এবং ব্যাংকিং খাতের সবচেয়ে বড় এবং সংবেদনশীল প্রতিষ্ঠান হলো ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি। এই ব্যাংকের সাম্প্রতিক সংকট, বারবার নেতৃত্ব পরিবর্তন এবং রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রভাব গভীর ভাবে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এর পেছনে কেবল বাহ্যিক রাজনৈতিক ক্ষমতার দ্বন্দ্ব নয়, বরং গভীর প্রাতিষ্ঠানিক ও কাঠামোগত দুর্বলতা স্পষ্ট ।

হাসিনা আমলে ইসলামী ব্যাংক লুটপাট করে এস আলমের উত্থান, ২০২৪-পরবর্তী পুনর্গঠন, আবার নতুন করে বোর্ড পরিবর্তন, সবকিছু প্রমান করে যে বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাত এখন পুরাটাই ভারতীয় নেটওয়াওয়ার্কের কবলে পড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাং আদতেই কোন শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান হয়ে উঠতে পারেনি।

ভারত পরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশ ব্যাংকেও তাদের নিয়ন্ত্রেনে নিয়ে ফেলেছে। আর সব কিছুতেই ভারতকে সুয্গে করে দিতে বিতাড়িত আওয়ামী লীগের বিকল্প হয়ে কাজ করছে বিএনপি।......................................
এফ শাহজাহান
ক্রাইসিস অ্যানালাইসিস
২৬ মে ২০২৬......................................

Address

Dhaka

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Islamic Economics ইসলামী অর্থনীতি posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Place Of Worship

Send a message to Islamic Economics ইসলামী অর্থনীতি:

Shortcuts

Share