28/09/2026
নফস দমনের অভিজ্ঞ পদ্ধতি
মুহাম্মাদ ইবনে ওমর মাখযুমী তাহার পিতা (রহঃ) হইতে বর্ণনা করিয়াছেন যে, তিনি বলিয়াছেন, একদিন হযরত ওমর (রাঃ) আসসালাতু জামিয়াতুন বলিয়া ঘোষণা দিলেন। লোকজন একত্র হইলে তিনি মিম্বারে চড়িয়া হামদ ও সানা এবং দরুদ শরীফ পড়িয়া বলিলেন, হে লোকেরা, এককালে আমি আমার বনু মাখযুম গোত্রীয় খালাদের বকরী চরাইতাম। বিনিময়ে তাহারা আমাকে একমুষ্টি খেজুর অথবা কিসমিস দিতেন। আর উহাতেই আমার সারাদিন কাটিত। কেমন দিনই না ছিল!
অতঃপর মিম্বার হইতে নামিয়া গেলেন। হযরত আব্দুর রহমান ইবনে আওফ (রাঃ) বলিলেন, আমীরুল মুমিনীন, আপনি তো নিজের নফসকে হেয় যে কিছু করেন নাই। তিনি বলিলেন, তোমার নাশ হউক, হে ইবনে আওফ! আমি একাকী ছিলাম, তখন আমার নফস আমাকে বলিল, তুমি তো আমীরুল মুমিনীন, তোমার অপেক্ষা উত্তম কে হইবে! অতএব আমি নফসকে তাহার আসল পরিচয় দিতে ইচ্ছা করিলাম।
(মুনতাখাব)
অপর এক রেওয়ায়াতে এরূপ বর্ণিত হইয়াছে যে, তিনি লোকদেরকে বলিলেন, এককালে আমি আমার অবস্থা এরূপ দেখিয়াছি যে, খাওয়ার মত কিছুই আমার কাছে ছিল না। আমার বনু মাখযুম গোত্রীয় কতিপয় খালা ছিলেন। আমি তাহাদের জন্য মিষ্টি পানি আনিয়া দিতাম আর বিনিময়ে তাহারা আমাকে কয়েক মুষ্টি কিসমিস দিতেন। এই রেওয়ায়াতের শেষাংশে এরূপ বর্ণিত হইয়াছে যে, আমি আমার নফসের মধ্যে কিছু বড়াই অনুভব করিলাম। অতএব তাহাকে নীচু করিতে চাহিলাম।
হাসান (রাঃ) বলেন, হযরত ওমর (রাঃ) একবার গরমের দিনে চাদর দ্বারা মাথা ঢাকিয়া বাহির হইলেন। একটি বালক গাধায় চড়িয়া তাহার পাশ দিয়া যাইতেছিল। তিনি বলিলেন, হে বালক, আমাকে তোমার সহিত উঠাইয়া লও। বালক গাধা হইতে লাফাইয়া নামিয়া পড়িল এবং বলিল, হে আমীরুল মুমিনীন উঠুন। তিনি বলিলেন, না, আগে তুমি উঠ, আমি তোমার পিছনে উঠিয়া বসিব। তুমি আমাকে নরম জায়গায় বসাইয়া নিজে শক্ত জায়গায় বসিতে চাহিতেছ? সুতরাং তিনি বালকের পিছনে চড়িয়া বসিলেন। এবং তিনি বালকের পিছনে চড়িয়াই মদিনায় প্রবেশ করিলেন। লোকেরা এই অবস্থায় তাঁহাকে দেখিতেছিল।
(মুনতাখাব)
আরেকটি বর্ণনা
সিনান ইবনে সালামাহ ইবালী (রহঃ) বলেন, মদিনায় থাকাকালীন আমি কতিপয় বালকের সহিত কাঁচা খেজুর কুড়াইবার উদ্দেশ্যে বাহির হইলাম। হঠাৎ হযরত ওমর (রাঃ) সেখানে আসিয়া উপস্থিত হইলেন। তাহার হাতে চাবুক ছিল। ছেলেরা তাঁহাকে দেখিয়া খেজুর বাগানের ভিতর পালাইয়া গেল। আমি দাঁড়াইয়া রহিলাম। আমার লুঙ্গির ভিতর কিছু কুড়ানো খেজুর ছিল। আমি বলিলাম, আমীরুল মুমিনীন, এইগুলি যাহা বাতাসে ফেলিয়াছে। তিনি আমার লুঙ্গির ভিতর খেজুরগুলি দেখিলেন, কিন্তু আমাকে মারিলেন না।
আমি বলিলাম, আমীরুল মুমিনীন, ছেলেরা এখনও আসিয়া আমার এইগুলি কাড়িয়া লইবে। তিনি বলিলেন, কখনো না, চল। তারপর তিনি আমার সহিত আমার ঘর পর্যন্ত আসিলেন।
(ইবনে সাদ)
মালেক (রহঃ) তাহার চাচা হইতে এবং তিনি তাহার পিতা হইতে বর্ণনা করেন যে, তিনি হযরত ওমর ও হযরত ওসমান (রাঃ)-কে দেখিয়াছেন। তাহারা যখন মক্কা হইতে আসিতেন মদিনার বাহিরে মুসাফিরদের আগমন স্থলে অবস্থান করিতেন। যখন সঙ্গীগণ মদিনায় প্রবেশের উদ্দেশ্যে আরোহণ করিত তখন তাহারা প্রত্যেকেই নিজেদের সহিত কোন বালককে উঠাইয়া লইতেন। অতঃপর তাহারা এই অবস্থায় মদিনায় প্রবেশ করিত।
বর্ণনাকারী বলেন, হযরত ওমর ও হযরত ওসমান (রাঃ)-ও তাহাদের সহিত কোন বালককে উঠাইয়া লইতেন। বর্ণনাকারী বলেন, আমি জিজ্ঞাসা করিলাম, বিনয় প্রকাশের উদ্দেশ্যে কি এরূপ করিতেন? তিনি বলিলেন, হ্যাঁ, তবে পায়দল পথচারীকে সওয়ারী দ্বারা সাহায্য করাও উদ্দেশ্য হইত। তদুপরি সাধারণ ব্যক্তির ন্যায় আরোহণও উদ্দেশ্য হইত, যাহাতে অপরাপর বাদশাহদের ন্যায় বিশিষ্টতা প্রকাশ না পায়। তারপর তিনি লোকদের বর্তমান প্রথা অর্থাৎ—নিজে সওয়ার হওয়া বালক অর্থাৎ খাদেমদিগকে পিছনে হাঁটানোর উল্লেখ করিয়া উহার সমালোচনা করিলেন।
(কানুয)