28/07/2026
কওমি মাদরাসায় অতিশাস্তি, বলৎকার ইত্যাদির প্রতিরোধ - প্রতিকার এবং সুষ্ঠু শিক্ষার্থী ব্যবস্থাপণার জন্য যে কর্মপন্থা হাজির করেছিলাম, তার সারকথা।
১.কওমি মাদরাসা বোর্ড লিখিত Charter of Trust and Child Rights গ্রহণ করবে।
এটি প্রণীত হবে শিক্ষার্থীর হিফজুন নফস (حفظ النفس), হিফজুল ইর্জ (حفظ العرض), হিফজুল আকল (حفظ العقل) ও আল কারামাতুল ইনসানিয়াহ (الكرامة الإنسانية) সংরক্ষণ নীতির ভিত্তিতে। এই দৃষ্টিকোণ বহাল রেখে তারবিয়াত হবে।
শারীরিক নির্যাতন, যৌন নিপীড়ন ও ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে سياسة عدم التسامح বা Zero Tolerance Policy কার্যকর থাকবে।
২. সমস্ত শিক্ষক, মুহতামিম, নাযিম ও আবাসিক দায়িত্বশীলের জন্য বাধ্যতামূলক Professional Code of Conduct প্রণয়ন করতে হবে।
এর ভিত্তি হবে الأدب، الرفق، الرحمة، الإحسان، المسؤولية، النزاهة। অতিরিক্ত প্রহার ও শাস্তিকে التعدي ও إساءة استعمال الولاية (ক্ষমতার অপব্যবহার) হিসেবে গণ্য করা হবে।
৩. বোর্ডের তরফে লাজনাতুল হিসবাহ গঠন করতে হবে। এতে আলেম, শিশু সুরক্ষা বিশেষজ্ঞ, আইনজ্ঞ, মনোবিজ্ঞানী ও অভিভাবক প্রতিনিধি থাকবেন।
এই কমিটি আল হিসবাহ বা নৈতিক তদারকি, Risk Assessment বা ঝুঁকি মূল্যায়ন, Compliance বা নীতিপালন এবং প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহি নিশ্চিত করবে।
৪. মাদরাসা প্রতিষ্ঠা, নিবন্ধন, অনুমোদন, নির্দিষ্ট মেয়াদে নবায়ন এবং মাননিয়ন্ত্রণকে একটি একীভূত Accreditation Framework-এর অধীনে আনতে হবে।
ন্যূনতম একাডেমিক, প্রশাসনিক, নিরাপত্তা ও শিশু সুরক্ষা মানদণ্ড পূরণ না করলে কোনো প্রতিষ্ঠান পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হবে না।
৫.
সমস্ত শিক্ষকের জন্য National Teacher Registry প্রতিষ্ঠা, ইউনিক শিক্ষক পরিচয়পত্র, আখলাকি সনদ, ব্যাকগ্রাউন্ড যাচাই, পেশাগত লাইসেন্স এবং নির্দিষ্ট সময় অন্তর লাইসেন্স নবায়নের ব্যবস্থা চালু করতে হবে।
গুরুতর অসদাচরণে দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় পেশাগত শৃঙ্খলা রেজিস্ট্রি গঠন করা হবে।
৬. প্রত্যেক শিক্ষকের জন্য বাধ্যতামূলক Continuing Professional Development (CPD) চালু করতে হবে।
প্রশিক্ষণের বিষয় হবে—فقه التربية، علم نفس الطفل، حماية الطفل، القيادة الأخلاقية، إدارة الصف।
একই সাথে তারা প্রশিক্ষিত হবেন Positive Discipline, Trauma-informed Education এবং আধুনিক শিক্ষাবিজ্ঞানেও।
৭. স্বাধীন Quality Assurance and Inspection Authority গঠন করে একাডেমিক, প্রশাসনিক, আর্থিক, আবাসিক ও নৈতিক কার্যক্রমের নিয়মিত পরিদর্শন, নিরীক্ষা এবং মানোন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে।
প্রতিটি মাদরাসার জন্য পর্যায়ক্রমিক Compliance Audit বাধ্যতামূলক হবে।
৮.
আল হাইয়াতুল উলইয়ার অধীনে একটি স্থায়ী Research, Policy and Curriculum Development Centre প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
এটি শিক্ষা গবেষণা, পাঠ্যক্রম পর্যালোচনা, শিক্ষক উন্নয়ন, শিশু সুরক্ষা এবং নীতিগত সংস্কার বিষয়ে গবেষণাভিত্তিক সুপারিশ প্রদান করবে।
৯.
মাদরাসা পরিচালনায় শুরার নীতি বাস্তবায়ন করে অভিভাবক, সাবেক শিক্ষার্থী, স্থানীয় আলেম ও সমাজের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।
নিয়মিত সামাজিক জবাবদিহি প্রতিবেদন, উন্মুক্ত পর্যালোচনা সভা এবং প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে।
১০.
মাদরাসার অভ্যন্তরীণ বিধিবিধানকে রাষ্ট্রের প্রচলিত শিশু সুরক্ষা আইন, দণ্ডবিধি, প্রমাণ আইন এবং অন্যান্য প্রযোজ্য আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে হবে।
এর নীতি হবে—لا ضرر ولا ضرار، درء المفاسد مقدم على جلب المصالح এবং العدل أساس الحكم।
কোনো অপরাধকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে গোপন করা যাবে না; প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে।
বলাৎকারের মতো বিষয়ে তা আরো বেশি গুরুত্বপূর্ণ। অভিযোগ প্রমাণিত হলে উক্ত শিক্ষক বোর্ডের প্রক্রিয়া ও আইনী অনুমোদন ছাড়া অন্য প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ পাবেন না।
১১. মাদরাসায় বাধ্যতামূলক Child Protection Policy প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করতে হবে।
এই নীতিমালার ভিত্তি হবে শিশুর সর্বোত্তম স্বার্থ (مصلحة الطفل الفضلى)।
এতে শিক্ষক-কর্মচারীদের আচরণবিধি, নিরাপদ আবাসিক পরিবেশ, দর্শনার্থী নীতি, অনলাইন নিরাপত্তা, ঝুঁকি শনাক্তকরণ, যৌন শোষণ ও নির্যাতন প্রতিরোধ এবং জরুরি প্রতিক্রিয়া পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
১২. একটি স্বাধীন, নিরাপদ ও গোপনীয় Whistleblowing and Complaints Mechanism প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক বা কর্মচারী যেন প্রতিশোধের ভয় ছাড়াই অভিযোগ জানাতে পারেন, সে জন্য অভিযোগকারীর পরিচয়, নিরাপত্তা এবং আইনগত সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।
অভিযোগ গ্রহণের জন্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, হেল্পলাইন এবং লিখিত আবেদন—সব ধরনের ব্যবস্থা থাকতে হবে।
১৩.
প্রত্যেক গুরুতর অভিযোগে Due Process অনুসরণ করে নিরপেক্ষ তদন্ত পরিচালনা করতে হবে।
তদন্তে বাইয়িনাহ বা প্রমাণ, আদল বা ন্যায়), হক্কুদ দিফা' বা আত্মপক্ষ সমর্থনের অধিকার এবং দোষ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত নির্দোষ হিসেবে গণ্য করার নীতি নিশ্চিত করতে হবে।
অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রশাসনিক শাস্তি, শিক্ষকতা থেকে অপসারণ নিশ্চিত করতে হবে। প্রযোজ্য ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের প্রচলিত আইনে মামলা হবে ।
১৪. ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর জন্য চিকিৎসা, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা, ট্রমা কাউন্সেলিং, শিক্ষা অব্যাহত রাখার সহায়তা, পরিবারকে সহযোগিতা এবং প্রয়োজনীয় আইনগত সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে।
ক্ষতির প্রতিকারকে বিচারপ্রক্রিয়ার অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে গণ্য করতে হবে।
১৫.
অভিযোগ ব্যবস্থাকে ন্যায়ভিত্তিক রাখতে হবে। পূর্ণাঙ্গ তদন্তে নির্দোষ প্রমাণিত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা পুনর্বহাল, আইনগত সহায়তা এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক সহযোগিতা নিশ্চিত করতে হবে।
একই সঙ্গে ইচ্ছাকৃত মিথ্যা, বিদ্বেষমূলক বা ষড়যন্ত্রমূলক অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রচলিত আইন ও প্রাতিষ্ঠানিক বিধিমালা অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
১৬.
জাতীয় পর্যায়ে ২৪ ঘণ্টার Madrasah Support and Response Centre প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
এই কেন্দ্র জরুরি সহায়তা, অভিযোগ গ্রহণ, শিশু সুরক্ষা পরামর্শ, মানসিক সহায়তার প্রাথমিক নির্দেশনা, আইনগত রেফারেল এবং সংকট ব্যবস্থাপনা সমন্বয় করবে।
১৭. জাতীয় পর্যায়ে একটি সমন্বিত Madrasah Management Information System (MMIS) প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
এতে শিক্ষক নিবন্ধন, শিক্ষার্থী তথ্য, অভিযোগ, পরিদর্শন, প্রশিক্ষণ, লাইসেন্স, নিরাপত্তা নিরীক্ষা ও প্রাতিষ্ঠানিক মূল্যায়নের তথ্য সংরক্ষিত থাকবে। তথ্য সুরক্ষা, গোপনীয়তা এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।
১৯. শিশুর নিরাপত্তা কেবল মাদরাসার নয়; পরিবার ও সমাজেরও যৌথ দায়িত্ব। তাই অভিভাবক পরিষদ, নিয়মিত শূরা সভা, অভিভাবক-শিক্ষক সংলাপ, বার্ষিক সামাজিক জবাবদিহি প্রতিবেদন এবং স্থানীয় সমাজের গঠনমূলক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।
মহিলা ও হিফজ মাদরাসার জন্য পৃথক পরিচালনা, আবাসন, তত্ত্বাবধান ও শিশু সুরক্ষা মানদণ্ড বাধ্যতামূলক করতে হবে।
২০. আল হাইয়াতুল উলইয়া, কওমি শিক্ষা বোর্ডসমূহ, মাদরাসা প্রতিনিধিবৃন্দ, আলেম, আইনজ্ঞ, শিশু সুরক্ষা বিশেষজ্ঞ, মনোবিজ্ঞানী এবং রাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে একটি National Madrasah Safety and Governance Observatory প্রতিষ্ঠা করতে পারে।
এই সংস্থা বার্ষিক নিরাপত্তা প্রতিবেদন, মানদণ্ড মূল্যায়ন, নীতি পর্যালোচনা, গবেষণা, সংস্কার বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় আইন ও নীতির সংশোধনের সুপারিশ প্রদান করবে।
২১.
মাদরাসার আবাসিক ব্যবস্থা ঢেলে সাজাতে হবে। শিক্ষকরা যাতে সপরিবারে আবাসিকে অবস্থান করতে পারেন,এমন ব্যবস্থা দরকার। অন্তত শিক্ষকদের ছুটিকে পর্যাপ্ত করতে হবে। অবিবাহিত শিক্ষকদের বিবাহকরজ ব্যবস্থা চালু করতে পারে বোর্ড।
অভিযোগ, অপপ্রচার ও ভিত্তিহীন প্রচারণা মোকাবিলায় ন্যায়ভিত্তিক কর্মনীতি
ক. যাচাইয়ের মূলনীতি :কোনো অভিযোগ, সংবাদ বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত তথ্য তদন্ত ও যাচাই ছাড়া সত্য বা মিথ্যা—কোনোটিই ধরে নেওয়া যাবে না।
খ. নির্দোষতার অনুমান : কেবল অভিযোগ উত্থাপিত হওয়ার কারণে কাউকে অপরাধী ঘোষণা করা যাবে না। পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও যথাযথ প্রক্রিয়ার (Due Process) আগে প্রত্যেক ব্যক্তি আইনি ও নৈতিকভাবে নির্দোষ বলে গণ্য হবেন।
গ.অভিযোগকারী ও অভিযুক্ত—উভয়ের সুরক্ষা :
অভিযোগকারীকে ভয়ভীতি, প্রতিশোধ বা হয়রানি থেকে সুরক্ষা দিতে হবে। একই সঙ্গে অভিযুক্ত ব্যক্তিকেও সামাজিক অপমান, বিচারপূর্ব প্রচারণা এবং অযাচিত চরিত্রহনন থেকে রক্ষা করতে হবে।
ঘ. স্বাধীন যাচাই কমিটি : গুরুতর অভিযোগের ক্ষেত্রে আলেম, আইনজ্ঞ, শিশু সুরক্ষা বিশেষজ্ঞ ও প্রয়োজনে মনোবিজ্ঞানীর সমন্বয়ে একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে। তদন্তে স্বচ্ছতা, গোপনীয়তা এবং পেশাগত মান বজায় রাখতে হবে।
ঙ. মিডিয়া ট্রায়াল নিষিদ্ধকরণ :
তদন্ত শেষ হওয়ার আগে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ওয়াজ-মাহফিল বা সংবাদমাধ্যমে দোষী সাব্যস্ত করার প্রবণতা নিরুৎসাহিত করতে হবে। জনমত বিচার কখনোই বিচারপ্রক্রিয়ার বিকল্প নয়।
চ. গুজব ও অপপ্রচার প্রতিরোধ : গুজব, ভুয়া তথ্য, বিকৃত ভিডিও, পুরোনো ঘটনা নতুন বলে প্রচার বা সংগঠিত অপপ্রচারের বিরুদ্ধে দ্রুত ফ্যাক্টস চ্যাকিং করতে হবে। এজন্য বোর্ডের পাবলিক কমিউনিকেশন বিভাগে ফ্যাক্টস চেকিং শাখা গড়তে হবে।
আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দিতে হবে এবং প্রয়োজনে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
মিডিয়া গুজব রটনা করলে আইনের মুখোমুখি করতে হবে।
ছ. দায়িত্বশীল স্বচ্ছতা : গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার ক্ষেত্রে তদন্তের অগ্রগতি ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে; তবে ভুক্তভোগীর পরিচয়, ব্যক্তিগত তথ্য এবং বিচারপ্রক্রিয়াকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে—এমন কোনো তথ্য প্রকাশ করা হবে না।
জ. মর্যাদা পুনর্বহাল ও ক্ষতিপূরণ :
যদি কোনো শিক্ষক বা প্রতিষ্ঠান তদন্তে সম্পূর্ণ নির্দোষ প্রমাণিত হয়, তবে আনুষ্ঠানিকভাবে তার মর্যাদা পুনর্বহাল, প্রয়োজনে জনসমক্ষে ব্যাখ্যা এবং আইনগত সহায়তার ব্যবস্থা করতে হবে।
একইভাবে মিথ্যা অভিযোগের কারণে সৃষ্ট ক্ষতির যথাযথ প্রতিকার নিশ্চিত করতে হবে।
ঝ.কু-উদ্দেশ্যমূলক অভিযোগের জবাবদিহি :
ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা, বিদ্বেষমূলক বা ষড়যন্ত্রমূলক অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রচলিত আইন ও প্রাতিষ্ঠানিক বিধিমালা অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
তবে কোনো অভিযোগ শেষ পর্যন্ত প্রমাণিত না হওয়া মানেই অভিযোগকারী অসৎ ছিলেন—এমন ধারণা গ্রহণ করা যাবে না; কেবল ইচ্ছাকৃত মিথ্যা প্রমাণিত হলে এই নীতি প্রযোজ্য হবে।
ঙ. দায়িত্বশীল যোগাযোগ নীতি :
মাদরাসা, আলেম, সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের জন্য একটি নৈতিক যোগাযোগনীতি প্রণয়ন করতে হবে।
এর উদ্দেশ্য হবে সত্য প্রতিষ্ঠা করা, কোনো পক্ষকে অযথা রক্ষা করা বা অন্যায়ভাবে হেয় করা নয়।
Musa Al Hafij