02/12/2025
গ্রীণ ইউনিভার্সিটি ইসলামিক কমিউনিটির প্রতিবাদলিপি
বাউল আবুল হোসেন সরকার সম্প্রতি মহান আল্লাহ তাআ’লা সম্পর্কে “আল্লাহর মুখ কয়টা… ওটা মু* না হু*”—
এ ধরনের কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করে ইসলাম ধর্মের পবিত্রতায় চরম আঘাত হেনেছেন। উল্লেখ্য, তিনি শুধু এসবই নন—এর পাশাপাশি উচ্চারণের অযোগ্য আরও জঘন্য মন্তব্যও করেছেন।
উদ্বেগজনক বিষয় হলো—আমরা লক্ষ্য করেছি যে বাউল আবুল হোসেন এবং তাদের অনুসারীরা নিজেদের মনগড়া কথাগুলো আল্লাহর নামে প্রচার করেছেন। শুধু আল্লাহর নামে নয়, তারা তাদের বানানো কথা আল্লাহর ওপর আরোপ করে আবার দাবি করেছেন যে আল্লাহ এতরকম কথা কিভাবে বলেন!
তার এই বক্তব্যের প্রতিবাদে দেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন এবং কঠোর শাস্তির দাবি তুলেছেন। কিন্তু দুঃখজনকভাবে, কিছু সুশীল নামধারী শিল্পী, মডেল ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব মূল বক্তব্য সামনে না এনে তার অপকর্মকে আড়াল করে তাকে দায়মুক্ত করতে উঠেপড়ে লেগেছে এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার মিশনে নেমেছে।
সাধারণ ধর্মপ্রাণ মুসলমান এবং বাউলদের মধ্যকার মারামারি অনাকাঙ্ক্ষিত এবং এমন অবস্থান কেনো সমাধানের পথ নয়।
এসব ঘটনার পেছনে সরকারের সময়োপযোগী ও যথাযথ উদ্যোগের অভাব, নিষ্ক্রিয়তা, এবং কিছু দায়িত্বশীল ব্যক্তির আবুল হোসেনদের প্রতি অযাচিত সমর্থন বড় ভূমিকা রেখেছে।
এর সাথে যুক্ত হয়েছে কিছু কথিত সুশীল মহলের অতিরিক্ত ইসলামবিদ্বেষী অবস্থান, যারা ধর্মীয় অবমাননাকে স্বাভাবিক করতে চায়। সরকার যদি এসব ইসলামবিদ্বেষী মনোভাব ও কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে অস্থিরতা বাড়বে এবং তার সম্পূর্ণ দায় সরকারেরই বহন করতে হবে।
এ ছাড়া বেশকিছু মিডিয়ার চিরাচরিত ইসলামবিরোধী অবস্থান, স্থানীয় মানুষ বাউল আবুল সরকারের ধর্ম অবমাননার শাস্তির দাবিতে কর্মসূচি দিলে বাউলদের একাংশ একই দিন–একই সময়ে পাল্টা কর্মসূচি ঘোষণা করে উত্তেজনা সৃষ্টি করে। অথচ মিডিয়া এই মূল প্ররোচনাকে আড়াল করে শুধু স্থানীয় মুসলমানদের দোষারোপ করে একপাক্ষিক বয়ান দাঁড় করিয়েছে।
---
ধর্মীয় অবমাননার ক্রমবর্ধমান প্রবণতা-
বাংলাদেশে গত কয়েক বছর ধরে মহান আল্লাহ ও রাসূল ﷺ–কে নিয়ে কটূক্তি, ব্যঙ্গ ও অবমাননামূলক মন্তব্য বেড়েই চলছে। এই প্রবণতা রোধে শক্ত আইন না থাকায় এবং প্রচলিত আইন যথাযথভাবে প্রয়োগ না করায় বারবার এমন ঘটনা ঘটছে।
---
আমাদের দাবি:
১. ধর্মীয় অবমাননার বিরুদ্ধে ব্লাসফেমি আইন প্রণয়ন করতে হবে।
২. প্রচলিত আইনে আবুল হোসেনের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
৩. আল্লাহ ও রাসূল ﷺ–কে নিয়ে কটূক্তি করলে কুরআনিক নীতির ভিত্তিতে কঠোর আইনগত শাস্তি বাস্তবায়ন করতে হবে।
৪. যারা প্রকাশ্যে ইসলামবিদ্বেষ করে, ধর্মীয় প্রতীককে হেয় করে এবং এসব ঘটনার পক্ষে অবস্থান নেয়—তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।
৫. অনলাইন–অফলাইনে ধর্ম অবমাননার প্রতি শূন্য সহনশীলতা নীতি প্রণয়ন করতে হবে।
৬. দেশের ধর্মীয় অনুভূতি ও ঈমানি চেতনার প্রতি সম্মান দেখানো রাষ্ট্র ও সমাজ—উভয়ের দায়িত্ব।
শেষ কথা,
আমরা স্মরণ করিয়ে দিতে চাই—এই দেশে ইসলামবিদ্বেষ বাস্তবায়ন করার চেষ্টা হলে এদেশের ধর্মপ্রাণ মানুষ শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে হলেও প্রতিরোধ করবেই।
২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানে ধর্মপ্রাণ মানুষ তাদের ঈমান ও দেশের ইসলামি মূল্যবোধ রক্ষায় রক্ত দিয়েছে।
বাংলাদেশ ইসলামবিদ্বেষী কোনো গোষ্ঠীর পরীক্ষার মাঠ হতে পারে না।
মহান আল্লাহ তাআ’লা আমাদের দেশ, সমাজ ও জনগণকে তাঁর দীন রক্ষার শক্তি ও হিদায়াত দান করুন।
বার্তাপ্রেরক,
Green University Islamic Community