Practical Muslim

Practical Muslim লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।

11/10/2025
হুজুরের সম্পর্কে কিছু বলে যান?
10/10/2025

হুজুরের সম্পর্কে কিছু বলে যান?

জান্নাতের পথ রুদ্ধকারী ৩টি ভুল❗
26/09/2025

জান্নাতের পথ রুদ্ধকারী ৩টি ভুল❗

16/07/2025
দুনিয়া নাকি সভ্যতার সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছে গেছে? প্রযুক্তির কল্যাণে নাকি দুনিয়া এখন একটা ‘গ্লোবাল ভিলেজে’ পরিণত হয়েছে?কী চ...
07/04/2025

দুনিয়া নাকি সভ্যতার সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছে গেছে? প্রযুক্তির কল্যাণে নাকি দুনিয়া এখন একটা ‘গ্লোবাল ভিলেজে’ পরিণত হয়েছে?

কী চরম তামাশা!

যদি তাই হবে, একটা নীরিহ উপত্যকায় পরিপূর্ণ আয়োজনের সাথে বছরের পর বছর, মাসের পর মাস, সপ্তাহের পর সপ্তাহ, দিনের পর দিন যে ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হচ্ছে, এই ভয়ঙ্কর, ভয়াবহ ধ্বংসলীলা দেখেও গোটা দুনিয়া কীভাবে না দেখতে পাওয়ার ভান করে আছে?

প্রতিদিন হাজারে হাজার মানুষকে নির্দয়ভাবে মেরে ফেলা হচ্ছে। কিন্তু গোটা দুনিয়া তো বটেই, ইসলামি বিশ্বের কোথাও কোনো হেলদোল নেই। যালিমেরা কোনো লুকোচাপার আশ্রয় আর নিচ্ছে না৷ যা করছে প্রকাশ্য দিবালোকে—ঘোষণা সমেত। অথচ দুনিয়ার মানুষ এমনভাবে নিশ্চুপ হয়ে আছে, যেন কোথাও কিছু হচ্ছে না, কোথাও কিছু ঘটছে না।

মানব ইতিহাস এই ঘৃণ্য স্মৃতি কীভাবে সংরক্ষণ করবে?

অনুর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপ টুর্নামেন্টে টানা দ্বিতীয়বারের মত চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় বাংলাদেশ অনুর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট টিমকে বাংলাদেশ ইসল...
09/12/2024

অনুর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপ টুর্নামেন্টে টানা দ্বিতীয়বারের মত চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় বাংলাদেশ অনুর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট টিমকে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে অভিনন্দন!

09/12/2024
09/12/2024

(১)

আমার আম্মা একদিন এসে আমাকে বললেন, ‘আয়িশা আজ আমাকে কি বলেছে জানো?’

দাদী আর নাতনীর মধ্যে কতো বাতচিতই তো হয়৷ কিন্তু, আম্মা যেভাবে কথাটা আমাকে বলতে আসলেন, গুরুতর কোনোকিছু না হয়ে পারে না।

আমি ল্যাপটপ ক্লোজ করে জানতে চাইলাম, ‘কী বলেছে?’

—‘সে আমাকে বলেছে, আমি নাকি কোনোদিন জান্নাতে যেতে পারবো না’।

শুনে তো আমার চক্ষু চড়কগাছ! কী সাংঘাতিক কথা! এমন কথা মেয়েটা ওর দাদীকে বলতে যাবে কেন?

বিষয়টা আমাকে বেশ ভাবনাচিন্তার মধ্যে ফেলে দিলো। আমি বুঝতে পারছিলাম না বিষয়টাকে আম্মা ঠিক কীভাবে নিয়েছেন। যদিও সমস্ত বিষয়ে আম্মার সাথে আয়িশার আম্মুর বোঝাপড়া খুবই চমৎকার এবং সেটা আমার জীবনের বড় সুখের জায়গা, তথাপি মনে হলো—আম্মা যদি ভেবে বসেন যে, আয়িশাকে এই কথা ওর মা শিখিয়েছে, তাহলে তো ভীষণ বিড়ম্বনায় পড়তে হবে।

ব্যাপারটা আমি আয়িশার আম্মুকেও জানালাম এবং তিনিও ভীষণ ঘাবড়ে গেলেন বিষয়টা শুনে। মেয়েটা ওর দাদীকে এই কথা কেন বললো, কোথা থেকে এমন চিন্তা ওর মাথায় আসলো আমরা সত্যিই বুঝতে পারলাম না।

আমরা অপেক্ষা করছিলাম রাতের জন্য৷ রাতে আয়িশার কাছে ব্যাপারটা জানতে চাওয়া হবে।

রাতে মেয়েকে নিয়ে আমরা দুজনে বসলাম। তাকে বললাম, ‘আম্মু, তুমি কি দাদীকে ভালোবাসো?’

—‘হ্যাঁ, বাসি তো’।

—‘তাহলে, তুমি নাকি দাদীকে বলেছ, দাদী কোনোদিন জান্নাতে যেতে পারবে না। কেন বলেছ এরকম কথা? দাদী কষ্ট পেয়েছে না?’

আয়িশা বললো, ‘আম্মুই তো আমাকে বলেছিল, বৃদ্ধ মানুষেরা জান্নাতে যেতে পারবে না। তাদেরকে আল্লাহ বয়স কমিয়ে দিবে৷ তারপর তারা জান্নাতে যাবে। তাই তো দাদীকে বলেছি’।

বুকের ওপর থেকে যেন একটা পাথর নেমে গেল! আলহামদুলিল্লাহ।

সাথে সাথে আম্মার কাছে চলে গেলাম। গিয়ে বললাম, ‘আয়িশার কাছে জানতে চেয়েছি এই কথা সে কেন বলেছে। ও কী বললো, জানেন’

‘কী বললো?’

‘ওর মা ওকে একটা হাদিস শুনিয়েছিল, যেখানে আল্লাহর রাসুল সাল্লাললাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একজন বৃদ্ধা মহিলাকে বলেছিলেন যে—ওই মহিলা জান্নাতে যেতে পারবে না৷ এতে মহিলা তো ভীষণ মন খারাপ করে ফেলে৷ তারপর মুচকি হেসে আল্লাহর রাসুল বললেন—‘শুনুন, বৃদ্ধ হয়ে কেউ জান্নাতে ঢুকবে না। জান্নাতে প্রবেশের আগে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা সবাইকে তরুণ, যুবক আর যুবতী বয়স ফিরিয়ে দেবেন। তারপরে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন।’

এটা শুনে ওই বৃদ্ধা মহিলা এবার অসম্ভব খুশি হয়ে যায়। এই হাদিস শুনেই আয়িশা শিখেছে যে, বয়স্ক আর বুড়ো মানুষ জান্নাতে যাবে না। তাই সে আপনাকে সেদিন ওই কথাটা বলেছে।

আমরা মা আর ব্যাটায় মিলে হাসলাম খানিকক্ষণ।

(২)

বিয়ের জন্য তরুণ তরুণীরা সুরা আল ফুরকানের ৭৪ নম্বর আয়াতটা অনেকবেশি পড়ে। সেই দোয়াটার শেষে গিয়ে আমরা ‘মুত্তাক্বীনা ইমামা’ বলে দুটো শব্দ বলি যার অর্থ—মুত্তাকীদের ইমাম। মানে, এই দোয়াতে আমরা আল্লাহর কাছে চোখ শীতলকারী সঙ্গী আর সন্তান চাই। এবং এটাও চাই যে—আল্লাহ যেন আমাদেরকে মুত্তাকীদের ইমাম বানিয়ে দেন।

‘ইমাম’ আরবি শব্দ। শব্দটা শুনলে আমাদের চোখে মাসজিদের মিম্বরে দাঁড়িয়ে থাকা একজন প্রাজ্ঞ আলিমের দৃশ্য চোখে ভাসে যার পেছনে আমরা সালাত আদায় করি। সালাতে তিনি যা যা করেন, আমরাও তাই তাই করি। তিনি রুকুতে গেলে আমরা রুকুতে যাই, তিনি উঠে দাঁড়ালে আমরা উঠে দাঁড়াই, তিনি সিজদায় গেলে আমরাও সিজদায় যাই।

অর্থাৎ, তিনি আমাদের ইমাম হয়েছেন। আমাদের কাজ হলো তাকে শতভাগ অনুসরণ করা।

ইমাম শব্দের বাংলা অর্থ হলো ‘নেতা’। নেতা বলতে আমরা তাকেই বুঝি যার আদেশ, যার কমান্ড বা নির্দেশনা আমরা মেনে চলি। কিন্তু আমরা কেন নেতাকে অনুসরণ করি? কারণ আমরা বিশ্বাস করি কমান্ড দেওয়ার মতোন যোগ্যতা তার মাঝে আছে। তিনি ভুল কিছু করবেন না বা করেন না।

আমরা তো আল্লাহর কাছে দোয়া করি যেন তিনি আমাদেরকে মুত্তাকীদের নেতা বানিয়ে দেন। যেন মুত্তাকী সন্তানেরা আমাদেরকে অনুসরণ করতে পারে।

কিন্তু, কখনো ভেবেছি কি, মুত্তাকী সন্তান যেন আমাকে অনুসরণ করতে পারে, আমার জীবন থেকে যেন সে শিখতে পারে, আমার জীবনদর্শনের আলোকে যেন সে জীবন গঠন করতে পারে, সেভাবে আমি আমার জীবনটাকে সাজাচ্ছি তো?

‘মুত্তাকীনা ইমামা’ বলতে তো শুধু মুত্তাকী বা পরহেযগার সন্তান লাভ নয়, নিজেরও তাদের ‘ইমাম’ বা ‘নেতা’ হয়ে উঠা। তাদের ইমাম হয়ে উঠার জন্য জীবনকে যেভাবে পরিচালিত করা উচিত, সেভাবে কি পরিচালিত হচ্ছে আমাদের জীবন?

(৩)

মৃত্যুভয় অন্তরে ঝেঁকে বসলে দুনিয়ার কোনোকিছু আমার চিন্তায় ভাস্বর হয়ে উঠে না কেবল একটা চিন্তা ব্যতীত। আমি ভাবি—আমি যদি আগামিকাল থেকে না থাকি, আমার পরিবারটার কী হবে, আমার ছোট ছোট সন্তানগুলো, কেমন অদ্ভুত একটা জীবনে এসে পড়বে তারা!

তবে, যখন থেকে সুরা আল কাহফের সেই দুজন ইয়াতীম বালকের ঘটনাটা পড়েছি, তখন থেকে এই ভয়টাও আর তীব্র হয়ে হানা দিতে পারে না আমার মনে।

সুরা আল কাহাফের শেষের দিকে, মুসা আলাইহিস সালাম আর খিযির আলাইহিস সালামের ঘটনায় বিষয়টা পাওয়া যায়। খিযির আলাইহিস সালাম সেদিন বেশ অদ্ভুত অদ্ভুত কাণ্ডকারখানা করছিলেন যা অবাক করে দিচ্ছিল নবি মুসা আলাইহিস সালামকে। তারা একটা বাড়িতে খাবারের খোঁজে গিয়ে খালি হাতে ফেরত আসলেন। বাড়ির লোকেরা তাদের কোনো খাবার দিতে চাইল না।

যে বাড়ির লোকেরা খাবার দেয়নি, সেই বাড়ির পাশ দিয়ে যাওয়ার পথে, সেই বাড়ির একটা ভাঙা দেওয়াল খিযির আলাইহিস সালাম মেরামত করে দেন।

ব্যাপারটা আশ্চর্য করে দেয় মুসা আলাইহিস সালামকে। তিনি জিগ্যেস করে বসেন, ‘এই লোকগুলো আমাদের তিরস্কিত করল। কোনো খাবারই দিলো না। আর আপনি কী না তাদের ভাঙা দেওয়া ঠিক করে দিয়ে এলেন?’

খানিক বাদে নবি মুসা আলাইহিস সালামের এই প্রশ্নের জবাব দিলেন খিযির আলাইহিস সালাম।

তিরস্কিত হওয়া সত্ত্বেও কেন সেই বাড়ির ভাঙা দেয়াল তিনি মেরামত করে দিয়েছিলেন সেটা খোলাসা করতে গিয়ে খিযির আলাইহিস সালাম বলেন যে—‘এই দেয়ালটা দুজন ইয়াতীম ছেলের। কিন্তু তারা এখনো নাবালক। এই দেয়ালের নিচে তাদের জন্য তাদের পিতার রেখে যাওয়া সম্পদ গুপ্ত অবস্থায় আছে। দেয়ালটা যদি এখনই ভেঙে যায়, সেই সম্পদ সকলের গোচরে চলে আসবে আর তা অন্যেরা ভোগদখল করে নেবে। তিনি দেয়াল পুনঃনির্মাণ করে দিয়েছেন যাতে বালকেরা যৌবনে পৌঁছাবার আগে এই সম্পদ লুকোনো আর সুরক্ষিত থাকে।’

কিন্তু, বালকদ্বয়ের জন্য এই যে উপকার, এই উপকারটা খিযির আলাইহিস সালাম কেন করেছিলেন জানেন? একই আয়াতে এই কাজটার নেপথ্য কারণ উল্লেখ করে তিনি বলেন—‘তাদের বাবা ছিলেন একজন সৎকর্মশীল ব্যক্তি’।

তাদের বাবা একজন সৎকর্মশীল, পরহেযগার, মুত্তাকী মানুষ ছিলেন। ঠিক এই কারণে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা মুসা আলাইহিস সালামের মতো একজন প্রসিদ্ধ নবি আর খিযির আলাইহিস সালামের মতো একজন প্রসিদ্ধ ব্যক্তিকে পাঠিয়ে দিলেন যাতে উক্ত মুত্তাকী, সৎকর্মশীল ব্যক্তির সন্তানদের সম্পদ সুরক্ষিত থাকে। সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি!

মৃত্যুর পরে আমাদের পরিবার, বাবা-মা, স্ত্রী-সন্তানাদি এদের ভবিষ্যত কী হবে তা নিয়ে আমরা যারা পেরেশান, আমাদের জন্য চমৎকার একটা উদাহরণ সুরা আল কাহাফের এই ঘটনাটি। যদি আমরাও আল্লাহর মুত্তাকী বান্দা হতে পারি, যদি আমরাও হয়ে উঠতে পারি সৎকর্মশীল, ন্যায়পরায়ণ আর সত্যিকার সালেহিন বান্দা, আমার অবর্তমানে আমার পরিবারের নিরাপত্তার জন্যে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা হয়তো কোনো একজন খিযিরকে ঠিক ঠিক পাঠিয়ে দেবেন।

11/11/2024

একটি সুবিখ্যাত হাদিস। এক সাহাবি আল্লাহর রাসুল সাল্লাললাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এসে জিগ্যেস করলেন বাবা-মা দুজনের মধ্যে কার হক তার ওপর বেশি।

আল্লাহর রাসুল বললেন, ‘তোমার মায়ের’।

সাহাবি আবার জিগ্যেস করলেন, ‘তারপর?’

নবিজি আবার বললেন, ‘তোমার মায়ের’।

উক্ত সাহাবি প্রশ্ন করা থামালেন না। তিনি পুনরায় জিগ্যেস করলেন, ‘তারপর?’

আল্লাহর নবি একই উত্তর দিলেন—‘তোমার মায়ের’।

চতুর্থবারের মতো সাহাবি জিগ্যেস করলেন, ‘ইয়া রাসুলাল্লাহ, তারপর?’

এবার নবিজি সাল্লাললাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, ‘তোমার বাবার’।

আব্বার চেয়ে আম্মার সাথে আমার বোঝাপড়াটা ভাল। দুজনের জন্যে যদিও আমার বুকে মহাকাশ পরিমাণ ভালোবাসা জমা, তথাপি, যদি জিগ্যেস করা হয় দুজনের মধ্যে কাকে বেশি ভালোবাসি, অবশ্যই আম্মার কথাই বলবো। যেহেতু আম্মার জন্যে টানটা একটু বেশিই, ফলে বিয়ের আগে এই হাদিসটা যতবার পড়তাম ততবার খুব ভাল লাগত।

কিন্তু, বিয়ের পর, যখন সংসারের যাবতীয় দায় দায়িত্ব কাঁধে আসলো, যখন সকলের দেখভাল করা, সকলের প্রয়োজন, আবদার, ইচ্ছাগুলো পূরণের সাথে আমার পরিশ্রম আর ছুটোছুটিটা একাত্ম হয়ে গেল, আমার প্রায়ই মনে হতো—আচ্ছা, একজন পুরুষ পরিবারের জন্য এতো পরিশ্রম করে, এতো ত্যাগ স্বীকার করে, কিন্তু সেই বিখ্যাত হাদিসে আল্লাহর রাসুল সাল্লাললাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম টানা তিনবার কেন শুধু মায়ের কথাই বলেছিলেন?

কোনো অভিযোগ থেকে নয়, এর পেছনের রহস্যটা বুঝতে চাওয়া শুধু।

তারপর, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার অপার রহমতে বাবা-মা হওয়ার সংবাদটা এক পশলা বৃষ্টির মতো সজীবতা নিয়ে আমাদের জীবনে আসে, আলহামদু লিল্লাহ।

একজন নারী ‘মা’ হয়ে উঠার কালে যে সময়টার ভেতর দিয়ে যায়, সেই সময়টাকে আমি খুব কাছ থেকে পরখ করেছি। সন্তান গর্ভে আসবার পর একজন নারী শারীরিক, মানসিক এবং আচরণগত কতোটা পরিবর্তনের ভেতর দিয়ে যায়—তা গভীরভাবে প্রত্যক্ষ করার পরে আমার মনে হয়েছে—সেদিনের ঘটনায় চতুর্থবারে বাবার কথা বলার পর পঞ্চমবারে যদি উক্ত সাহাবি পুনরায় জিগ্যেস করতেন, ‘ইয়া রাসুলাল্লাহ, তারপর কার অধিকার?’, আমার ধারণা, আল্লাহর রাসুল আবার মায়ের প্রসঙ্গে ফিরে যেতেন এবং বলতেন—‘তোমার মায়ের’।

একটা সন্তান গর্ভে ধারণ করা মানে আলাদা একটা শরীরকে নিজের ভেতরে বড় করে তোলা। দাঁতের মাড়িতে সামান্য একটু মাংশ বাড়লেই ভীষণ অস্বস্তিতে পড়ে যাই আমরা। অথচ, একজন নারী তার গর্ভে জায়গা দেয় একটা আস্ত মানবশরীর। শুনতে বেশ সাধারণ মনে হলেও, এটা কিন্তু অত্যন্ত ভাবনা-জাগানিয়া একটা ঘটনা।

এটা এতোই চমকপ্রদ, চিন্তা জাগানিয়া এবং কষ্টসাধ্য ঘটনা যে—সূরা লুকমানে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা স্পষ্ট করেই বলেছেন—‘তার মা তাকে কষ্টের পর কষ্ট বরণ করে গর্ভে ধারণ করে’। (সুরা লুকমান, ১৪)

একজন নারী তার জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়টা পার করে গর্ভকালীন সময়গুলোতে। খেতে পারে না, ভালো করে হাঁটতে পারে না, বসতে পারে না। বিছানায় আরাম করে শুতে পারে না। সারাদিন বকবক করা যে মেয়ের অভ্যেশ, কিন্তু গর্ভের সময়ে সেই মেয়েটাও দুটো শব্দ উচ্চারণ করতে হাঁপিয়ে উঠে। ভালোমন্দ পেটে গেলেই বমি হয়ে যায়।

তবে, শারীরিক এই পরিবর্তনের চেয়ে মানসিক পরিবর্তনটাই যেন তার জন্যে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে সামনে আসে। প্রেগন্যান্সি রিলেটেড যেকোনো লিটারেচারে দেখা যায়, ডাক্তারেরা বলেন—হরমোনাল ইমব্যালেন্সের কারণে গর্ভকালীন সময়ে মেয়েরা খুব উদ্ভট আর অদ্ভুত আচরণের ভেতর দিয়ে যেতে পারে।

জীবনে যে আচরণ করার কথা সে কোনোদিন ভাবনাতেও আনবে না, হরমোনাল ইমব্যালেন্সের কারণে গর্ভকালীন সময়ে হরহামেশাই সে ওই আচরণ করে বসতে পারে।

গর্ভকালীন এই সময়ে শারীরিক পরিবর্তনের ধাক্কা আর মানসিক পরিবর্তনের ধাক্কা—উভয় চাপ সামলাতে গিয়ে মেয়েরা অনেকসময় ভীষণ হতাশার মধ্যে নিমজ্জিত হয়। দুঃশ্চিন্তা আর দূর্ভাবনার কারণে এই সময়টায় তাদের সাথে দূরত্ব তৈরি হয় অনেককিছুর সাথে। শুধু মানুষের সাথেই নয়, গর্ভকালীন এই সময়টায় তারা আল্লাহর স্মরণ থেকেও অনেকটা ছিটকে যায়। সঠিকভাবে আমল আর ইবাদাতগুলোতে মন বসাতে পারে না।

গর্ভকালীন সময়ে একজন নারী কী খাবে, কীভাবে ঘুমোবে, কীভাবে কথা বলবে—ইত্যাদি বিষয়ে অনেক লিটারেচার পাওয়া যায়। কিন্তু, নির্দিষ্ট এই সময়টাতে একজন নারী কীভাবে আল্লাহর সাথে সম্পর্কটা ধরে রাখবে, কীভাবে সেই সম্পর্কে ‘শুন্যতা’ তৈরি হওয়া আটকাবে, কীভাবে আল্লাহর সাথে সম্পর্কটাকে আরো উন্নত করবে—এই বিষয়ে লিটারেচার এতো অপ্রতুল যে, একজন মুসলিম নারীকে গর্ভকালীন সময়ের প্রস্তুতি, করণীয় আর বর্জনীয় সম্পর্কে পড়তে দেওয়ার জন্য ভালো বই খুঁজে পাওয়াই মুশকিল।

আলহামদুলিল্লাহ, গত একুশে বইমেলায় আমার সম্পাদনায় প্রকাশিত ‘মা হওয়ার দিনগুলোতে’ বইটি এই অপ্রতুলতার জায়গায় একটি অত্যন্ত উপকারি সংযোজন বলে বিশ্বাস করি। একজন মুসলিম নারী তার গর্ভকালীন কঠিন সময়টাতে শুধু শারীরিক ধাক্কা নয়, মানসিক ধাক্কাটাও সামলিয়ে কীভাবে তার রবের সাথে সম্পর্কটাকে উন্নত থেকে উন্নততর করে তুলতে পারবে, অনাগত সন্তানকে ঘিরে কীভাবে সাজাবে যাবতীয় পরিকল্পনা—এসবকিছু নিয়ে এই বইটি।

যারা মা হবে, মা হতে যাচ্ছে কিংবা মা হতে চায়—এমন সকল নারীর জন্যে অত্যন্ত উপকারি একটি বই হয়ে উঠতে পারে এটি, ইন শা আল্লাহ। গর্ভকালীন সময়ে শারীরিক পরিচর্যা শুধু নয়, আত্মার পরিচর্যাটাও কীভাবে করবে—সেই বিষয়ে বাংলা ভাষায় প্রকাশ হওয়া একটি অনবদ্য বই এটি, আলহামদু লিল্লাহ।

যারা গর্ভকালীন এই অভিজ্ঞতার ভেতর দিয়ে যাবেন বা যাচ্ছেন, তাদেরকে এই বইটি পড়বার জন্য বলবো। এটি শুধু বই নয়, যেন একজন সুহৃদ, হাতেকলমে পাশে বসে শিখিয়ে দিচ্ছেন সময়টাকে কীভাবে সর্বোচ্চ উপায়ে কাজে লাগানো যায়, কষ্টের এই সময়টাতে কীভাবে নিজের জীবনে আল্লাহকে আরো ভালোভাবে চেনা যায়, আরো বেশি করে ভালোবাসা যায়।

বইটি প্রকাশ করেছে Sukun Publishing

তাদেরকে ম্যাসেজ করে বইটি সম্পর্কে আরো বিস্তারিত জানা যাবে। অথবা, বইটি সম্পর্কে আরো বিস্তারিত জানতে কিংবা অর্ডার করতে ভিজিট করা যায় তাদের ওয়েবসাইটে—
https://sukunpublishing.com/book/ma-howar-dingulote/

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা যেন মায়েদের এই ত্যাগ, এই কষ্টকে অনুধাবন করে, জাগতিক সবকিছুর উর্ধ্বে তাদেরকে ভালোবাসা আর ভালো রাখাটাকে আমাদের অন্তরে গেঁথে দেন। আমীন।

Top Ten Unknown Facts About   .1. BMW originally made aircraft engines: Before producing cars, BMW manufactured aircraft...
11/11/2024

Top Ten Unknown Facts About .
1. BMW originally made aircraft engines: Before producing cars, BMW manufactured aircraft engines during World War I.
2. The iconic kidney grille was originally a necessity: The distinctive kidney grille design was initially used to improve airflow to the engine.
3. BMW's logo doesn't represent a spinning propeller: Contrary to popular belief, the BMW logo is actually a representation of the Bavarian flag.
4. BMW's first car was the Dixi: In 1928, BMW acquired the Dixi company and released the Dixi as its first car.
5. BMW has a secret collection of rare cars: In a hidden facility in Munich, BMW stores a collection of rare and historic cars.
6. The M1 was BMW's first sports car: Released in 1978, the M1 was a mid-engined sports car that cemented BMW's reputation for performance.
7. BMW's i8 was a pioneer in hybrid technology: The i8, released in 2014, was one of the first production cars to use a hybrid powertrain.
8. BMW has a strong commitment to sustainability: BMW aims to have 50% of its global sales be electric vehicles by 2030.
9. The X5 was BMW's first SUV: Released in 1999, the X5 marked BMW's entry into the SUV market.
10. BMW's 7-Series has a built-in fragrance system: The "Ambient Air Package" allows drivers to select from several scents to freshen the interior

প্রতিটা গুনাহ অন্য আরো একটা গুনাহ করতে তাড়িত করে।যে লোক ফযর সালাত বাদ দিলো, যোহর সালাত তাকে খুব বেশি আকর্ষণ করতে পারবে ন...
11/11/2024

প্রতিটা গুনাহ অন্য আরো একটা গুনাহ করতে তাড়িত করে।

যে লোক ফযর সালাত বাদ দিলো, যোহর সালাত তাকে খুব বেশি আকর্ষণ করতে পারবে না। এক অনির্ণেয় অলসতা ভর করবে তার শরীরে।

যে লোক মাত্রই মিথ্যে কথা বলে এক দোকানিকে ঠকাল, ঘরে ফেরার পথে রাস্তায় সে যদি কোনো কাঁটা অথবা কাঁচের টুকরো দেখে, সেটা হাত দিয়ে অন্যত্র সরিয়ে দিতে খুব বেশি আগ্রহ সে পাবে না। অথচ—রাস্তা থেকে ক্ষতিকর বস্তু সরিয়ে দেওয়া যে কতো বড় সওয়াবের কাজ সেই হাদিসটা নিদেনপক্ষে একশোবার সে পড়েছে জীবনে।

একইভাবে, প্রতিটা ভালো কাজ অন্য আরেকটা ভালো কাজ করতে তাড়িত করে।

যে লোক ফযর সালাত মসজিদে গিয়ে জামায়াতে আদায় করেছে, যোহর সালাত বাদ দেওয়া তো দূর, একাকী আদায় করার চিন্তা তার ভাবনার মধ্যেও আসবে না৷ যতো কাজের চাপ থাকুক, জামায়াতে শরিক হওয়ার সময় আর সুযোগ সে বের করে ফেলবেই।

যে লোককে দোকানি ভুলে দুইশো টাকার বদলে পাঁচশো টাকা দিয়ে দিয়েছিল, কিন্তু সে নিজ থেকে দোকানিকে উক্ত পাঁচশো টাকার নোট ফেরত দিয়ে, দুইশো টাকা চেয়ে নিয়েছে, তার ভেতরে সততার এক অন্যরকম শক্তি কাজ করবে।

ঘরে ফেরার সময় কাঁটা বা কাঁচ তো বহু দূরের ব্যাপার, রাস্তায় যদি একটা ছোট ইটের টুকরোও দেখে যেটায় কেউ হোঁচট খাওয়ার এতোটুকু সম্ভাবনাও বিদ্যমান, সেই ইটের টুকরোটা সে নিজ হাতে রাস্তা থেকে দূরে সরিয়ে রাখে।

‘মুড’ বা ‘মেজাজ’ যাই বলি না কেন, সেটা অনেকটাই নির্ভর করে আমাদের কীসের পাল্লাটা ভারি তার উপর৷ গুনাহের পাল্লা, নাকি ভালো আমলের পাল্লা।

Address

Dhaka
1200

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Practical Muslim posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share