30/03/2026
জাতির বিভিন্ন বিপর্যয়ের মধ্যে শ্রীশ্রীঠাকুরের ভূমিকা ছিল বহুমুখী; সাধারণ মানুষকে তিনি দিতেন পর্যাপ্ত নৈতিক ও আধ্যাত্মিক বল-ভরসা শ্রী অখিলচন্দ্র রায় তার লেখা প্রবন্ধে এসব কাহিনী লিপিবদ্ধ করেছেন। তিনি লিখেছেন: সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার তীব্রতা যখন তুঙ্গে উঠেছিল, জাতপাত ধর্ম নির্বিশেষে মানুষ প্রাণভয়ে শ্রীশ্রীঠাকুরের চরণে আশ্রয় নিত। তবু, পূর্বোক্ত বাংলোটি কখনও আক্রান্ত হয়নি যদিও দুর্বৃত্ত দাঙ্গাবাজরা এক নাগাড়ে প্ররোচনামূলক প্রচার করে যে, বাংলোটি প্রতিক্রীয়াশীল সব শক্তিকে আশ্রয় দিচ্ছে।
একদিন, বাংলোতে তখন প্রায় কেউ ছিল না, একজন ভক্ত শ্রীশ্রীঠাকুরের পদসেবা করছিল। হঠাৎ সেখানে হাজির হয় এক দুর্বৃত্ত এবং সেবারত ভক্তটিকে রেলস্টেশন সংলগ্ন দাঙ্গাবাজদের ডেরায় জোর করে নিয়ে যায়। তাঁকে টেনে নিয়ে যাওয়ার আগে বেচারা সজল চোখে আর্জি জানিয়েছিল ঠাকুর যেন তাকে রক্ষা করেন। ঠাকুর সঙ্গে সঙ্গে একজনকে পাঠিয়ে দিলেন এবং তার মাধ্যমে পাঠালেন তাঁর কঠোর সতর্কবাণী যে, তার ভক্তকে যদি তখনই ছেড়ে না দেওয়া হয়, তাহলে ভয়ঙ্করতম ও অকল্পনীয় কোনও ঘটনা ঘটবে এবং তা রোধ করার ক্ষমতা কারোর থাকবে না। একটু পরেই ভক্তটি কাঁদতে কাঁদতে ফিরে এল শ্রীশ্রীঠাকুরের কাছে; তার দেহে ছিল শুধু কয়েকটা আচঁড়ের দাগ। তার করুণ অভিজ্ঞতার কথা শুনে ঠাকুর তাকে সান্ত্বনা দিয়ে বলেন যে, মানুষকে ভবিতব্যের মুখোমুখি হতেই হবে এবং দুঃখবিলাপ করা তাই অর্থহীন।
..