Tasbeeh

Tasbeeh ইনশাআল্লাহ, কিছু নতুন সিরিজ নিয়ে আসছি। আশা করি, পেইজ তার প্রাণ ফিরে পাবে শীঘ্রই।
(1)

26/03/2026

যারা শাওয়ালের ৬ রোজা রাখতে চান, তাদের উদ্দেশে এখানে ৩টি বিষয়ে আলোচনা করবো: শাওয়ালের ৬ রোজা নাকি কাজা রোজা—কোনটি আগে রাখতে হবে? রোজাগুলো বিরতিহীন রাখা কি জরুরি? শাওয়ালের ৬ রোজায় কীভাবে ১ বছরের নেকি হয়?
▬▬▬▬▬▬▬▬❖▬▬▬▬▬▬▬▬
➤ যদি কেউ সারা বছর রোজার ফজিলত অর্জন করতে চায়, তবে প্রথমেই তাকে রামাদানের কাজা রোজাগুলো রাখতে হবে, এরপর শাওয়ালের ৬ টি রোজা রাখবে। কারণ হাদিসে বলা হয়েছে, “যে ব্যক্তি রামাদানের রোজা রাখলো, অতঃপর শাওয়াল মাসে ছয়টি রোজা রাখলো, সে যেন সারা বছর রোজা রাখলো।” [ইমাম মুসলিম, আস-সহিহ: ২৬৪৮]
এটি হাম্বলি মাযহাব এবং আলিমগণের একটি অংশের অভিমত।
তাঁদের মতে, হাদিসটিতে বলা হয়েছে—প্রথমে রামাদানের রোজা রাখা, অতঃপর শাওয়ালের ছয়টি রোজা রাখা। সুতরাং, আগে রামাদানের রোজা পূর্ণ করতে হবে, এরপর শাওয়ালের রোজা রাখতে হবে। তাহলেই হাদিসে বর্ণিত প্রতিদান পাওয়া যাবে। তাছাড়া কাজা আদায় করা ফরজ, পক্ষান্তরে শাওয়ালের ৬ টি রোজা নফল। সুতরাং, নফলের উপর ফরজকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
এই মতাবলম্বীদের একটি মত হলো, যদি এক রামাদানে কারো এত পরিমাণ কাজা হয়ে থাকে যে, সেগুলোর সবকটি রাখলে শাওয়াল মাসই শেষ হয়ে যাবে, তাহলে তারা প্রথমে শাওয়াল মাসে কাজা রোজাগুলো সমাপ্ত করবেন এবং পরবর্তী (জিলকদ) মাসে শাওয়ালের ৬টি রোজা রাখবেন। যেহেতু তিনি অপারগ, তাই তার জন্য এই ছাড়।
➤ হানাফি, শাফিয়ি ও মালিকি মাযহাব তথা অধিকাংশ আলিমের মতে, কেউ চাইলে আগে শাওয়ালের রোজা রাখতে পারবে, এরপর সময়-সুযোগ বুঝে কাজা রোজাগুলো রাখবে। এমনটি করা মাকরুহ হবে না। তাঁরা উপরের হাদিসটির ব্যাপারে বলেন, এই হাদিসটিতে সুস্পষ্টভাবে এটা বলা হয়নি যে, ‘আগে কাজা রোজাই রাখতে হবে’ বরং এটি উত্তম-অনুত্তমের ব্যাপার। আগে কাজা রেখে এরপর শাওয়ালের রোজা রাখা উত্তম, তবে আবশ্যক নয়। তাঁরা আরেকটি দলিল দেন এক্ষেত্রে; তা হলো: সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিমে এসেছে, আয়িশা (রা.) রামাদানের কাজা রোজা শাবান মাসে রাখতেন। [ইমাম বুখারি, আস-সহিহ: ১৯৫০]
তাহলে, আয়িশা (রা.) রামাদানের কাজা রোজা শাবান মাসে রাখলে, শাওয়াল মাসের ৬টি রোজা কি রাখতেন না? তাঁর মতো মহীয়সী নারী শাওয়ালের নফল রোজা মিস করতেন, এমন ধারণা রাখা যায় না। আর শাওয়ালে তিনি যেহেতু কাজা রোজাগুলো রাখতেন না, বরং আরও ১০ মাস পর শাবান মাসে (অর্থাৎ আরেক রামাদানের আগের মাসে) রাখতেন, সেহেতু এটাই প্রমাণিত হয় যে, কাজা রোজা না রেখেও শাওয়ালের নফল রোজা রাখা যাবে।
✿ সিদ্ধান্ত: প্রথম কথা হলো, আগে কাজা রোজা রাখা উত্তম, এই কথা সকল যুগের সকল আলিমের মত। তবে, কাজাগুলো রাখার আগে শাওয়ালের রোজা রাখা যাবে কি না তা নিয়ে মতপার্থক্য রয়েছে। যাদের পক্ষে সম্ভব, তারা যথাসম্ভব আগে কাজা রোজা রেখে এরপর শাওয়ালের রোজা রাখুন। আর যাদের জন্য এটা কঠিন হয়ে যাবে, তারা চাইলে আগে শাওয়ালের ছয়টি রোজা রাখতে পারেন, এরপর কাজা রোজা রাখবেন। যেহেতু আয়িশা (রা.)-এর আমল ছিলো: তিনি কাজা রোজা শাবান মাসে রাখতেন, তাহলে অনুমান করা যায়, তিনি শাওয়ালের ৬টি রোজা রাখতেন কাজা রোজাগুলো আদায় করার আগেই। আমরা বলবো, সম্ভব হলে আগে কাজা রোজা ও পরে শাওয়ালের রোজা রাখুন, এটি উত্তম, তবে, এটি বাধ্যতামূলক নয়।
➤ শাওয়ালেন ৬টি রোজা বিরতিহীন রাখা যাবে আবার মাঝখানে গ্যাপ দিয়ে দিয়েও রাখা যাবে। এতে কোনো অসুবিধা নেই। মোটকথা, শাওয়াল মাসের মধ্যে রাখলেই হলো।
আল্লাহ বলেন, “আর, তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি অসুস্থ থাকবে অথবা সফরে থাকবে, সে অন্য দিনগুলোতে এই গণনা পূর্ণ করবে (কাজা করবে)।” [সুরা বাকারাহ, আয়াত: ১৮৫]
আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা কাজা পালনের ক্ষেত্রে বিরতিহীন রোজা রাখার শর্ত আরোপ করেননি। সুতরাং এতে প্রশস্ততা রয়েছে। [ইমাম নববি, আল-মাজমু’: ৬/১৬৭; ইমাম ইবনু কুদামাহ, আল মুগনি: ৪/৪০৮; শায়খ ইবনু বায, মাজমু‘উ ফাতাওয়া: ১৫/৩৫]
➤ শাওয়ালের ৬টি রোজা রাখা দ্বারা কীভাবে এক বছরের রোজা রাখার সমান সওয়াব হয়?
এর উত্তরে প্রথমেই আমাদের একটি সুত্র মনে রাখতে হবে, যেটি কুরআনে এসেছে—
مَنْ جَاءَ بِالْحَسَنَةِ فَلَهُ عَشْرُ أَمْثَالِهَا
অর্থাৎ, যে ব্যক্তি একটি নেক আমল নিয়ে আসবে, তার জন্য থাকবে অনুরূপ দশ (গুণ প্রতিদান)। [সুরা আন‘আম, আয়াত: ১৬০]
সহিহ ইবনে খুযাইমার হাদিসে এসেছে, “রামাদান মাসের রোজা দশ মাসের সমান (এক মাস সমান দশ মাস) আর ছয় দিনের রোজা দুই মাসের সমান (৬×১০=৬০)। এভাবে এক বছরের রোজা হয়ে যায়।”
আল্লাহ তা‘আলা আমাদের আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

20/03/2026

ঈদের রাতের আমল প্রসঙ্গ এবং ঈদের দিনের আমলগুলো সহিহ হাদিসের আলোকে
▬▬▬▬▬▬▬✿▬▬▬▬▬▬▬
❑ ঈদের রাতের আমল প্রসঙ্গে:
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘যে ব্যক্তি ইবাদতের উদ্দেশ্যে দুই ঈদের রাতে জেগে থাকবে, তার অন্তর সেদিন মরবে না, যেদিন অন্তরগুলো মরে যাবে।’’ (অর্থাৎ, কিয়ামতের দিন তার ভয় থাকবে না) [ইমাম ইবনু মাজাহ, আস-সুনান: ১৭৮২; হাদিসটি দুর্বল। ইমাম নববি, ইমাম ইবনু হাজার, শায়খ আলবানি (রাহিমাহুমুল্লাহ্)-সহ প্রায় সকল মুহাদ্দিস হাদিসটিকে দুর্বল বলেছেন]
ঈদের রাতের বিশেষ মর্যাদা বা আমলের ব্যাপারে কয়েকটি হাদিস এসেছে। মুহাদ্দিস ইমামগণ সর্বসম্মতভাবে সেগুলোকে ‘দুর্বল’ বলেছেন। তবে, যেহেতু সাধারণ ফজিলতের ক্ষেত্রে দুর্বল হাদিসের উপর আমল করতে অসুবিধা নেই, তাই অধিকাংশ আলিম ঈদের রাতে নেক আমল করা ‘মুস্তাহাব’ (ভালো কাজ) গণ্য করেছেন। অতএব, কেউ চাইলে ঈদের রাতে সাধারণভাবে যেকোনো নেক আমল করতে পারেন। [ইমাম শাফিয়ি, কিতাবুল উম্ম: ২/৪৮৫; ইমাম নববি, শারহু মুসলিম: ৮/৭১; ফাতাওয়া মাহমুদিয়্যাহ: ২/৩৩৫]
অবশ্য বিশুদ্ধ হাদিস না থাকায় কোনো কোনো আলেম এই রাতের বিশেষত্বকে সম্পূর্ণভাবে নাকচ করেছেন। তবে, অধিকাংশ আলিম বলেছেন, যেহেতু দুর্বল হাদিস আছে, সেহেতু এই রাতকে বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ মনে করে নেক আমল করতে অসুবিধা নেই। তবে, এই রাতের নির্দিষ্ট কোনো আমলের কথা সহিহ হাদিসে বর্ণিত হয়নি। তাই, এই রাতে তিলাওয়াত, নফল নামাজ, যিকর, দু‘আ, দরুদ, ইস্তিগফার ইত্যাদি যেকোনো নেক আমল করতে পারেন।
❑ ঈদের দিনের উল্লেখযোগ্য আমল ও আদব:
❖ ঈদুল ফিতরে কিছু খেয়ে ঈদগাহে যাওয়া এবং ঈদুল আজহায় কিছু না খেয়ে যাওয়া সুন্নাহ:
বুরায়দা (রা.) বলেন, ‘রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদুল ফিতরের দিন কিছু না খেয়ে বের হতেন না এবং ঈদুল আজহার দিনে ফিরে আসার আগে কিছুই খেতেন না। ফিরে এসে তাঁর কুরবানির পশুর মাংস থেকে খেতেন।’ [ইমাম তিরমিযি, আস-সুনান: ৫৪২; ইমাম আহমাদ, আল-মুসনাদ: ১৪২২; হাদিসটি সহিহ]
সুন্নাত হলো, ঈদুল ফিতরের দিন ঈদগাহে যাওয়ার পূর্বে বিজোড় সংখ্যক খেজুর খাওয়া। [ইমাম বুখারি, আস-সহিহ: ৯৫৩]
❖ ঈদের দিনে বেশি বেশি তাকবির বলা: (পুরুষরা শব্দ করে, নারীরা নীচু আওয়াজে)
হাদিসে এসেছে, ইবনু উমার (রা.) উভয় ঈদে তাকবির বলে বলে ঈদগাহে যেতেন। [ইমাম হাকিম, আল-মুসতাদরাক: ১০৫৬]
একটি সুন্নাহসম্মত তাকবির:
اَللّٰهُ أَكْبَرْ اَللّٰهُ أَكْبَرْ لَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ وَاللّٰهُ أَكْبَرْ اَللّٰهُ أَكْبَرْ وَلِلّٰهِ الْحَمْد
আল্লা-হু আকবার, আল্লা-হু আকবার; লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু ওয়াল্লা-হু আকবার, আল্লা-হু আকবার; ওয়া লিল্লা-হিল হামদ।
(আল্লাহ সবচেয়ে বড়; আল্লাহ সবচেয়ে বড়; আল্লাহ ছাড়া কোনও উপাস্য নেই। আল্লাহই সবচেয়ে বড়; আল্লাহই সবচেয়ে বড়; আর আল্লাহর জন্যই সকল প্রশংসা)
এটি প্রখ্যাত সাহাবি ইবনু মাস‘উদ (রা.) ও অন্যান্য পূর্বসূরিদের থেকে প্রমাণিত। [ইমাম দারা কুতনি, আস-সুনান: ১৭৫৬; শায়খ আলবানি, ইরওয়াউল গালিল: ৬৫৪; বর্ণনাটির সনদ সহিহ]
আরেকটি বিশুদ্ধ সনদের সহজ তাকবির:
প্রখ্যাত সাহাবি সালমান আল ফারসি (রা.) বলেন, ‘তোমরা তাকবির দাও (এভাবে)—
اَللّٰهُ أَكْبَرْ اَللّٰهُ أَكْبَرْ اَللّٰهُ أَكْبَرْ كَبٍيْرًا
আল্লা-হু আকবার, আল্লা-হু আকবার, আল্লা-হু আকবার কাবি-রা
(আল্লাহ সবচেয়ে বড়; আল্লাহ সবচেয়ে বড়; আল্লাহ সবচেয়ে বড়; তিনি মহান)।’
[ইমাম বাইহাকি, ফাদ্বাইলুল আওক্বাত: ২২৭; ইমাম ইবনু হাজার, ফাতহুল বারি: ২/৪৬২; বর্ণনাটির সনদ সহিহ]
এছাড়াও আরও তাকবির বর্ণিত হয়েছে। তবে, এ দুটোই উত্তম ও প্রসিদ্ধ।
আলিমগণ বলেন, ঈদের চাঁদ দেখা যাওয়ার পর (সূর্যাস্ত) থেকে ঈদের নামাজ পর্যন্ত নারী-পুরুষ নির্বিশেষে বেশি বেশি তাকবির দিতে থাকবে। নারীরা চুপে চুপে (শুধু নিজে শুনতে পেলেই যথেষ্ট) আর পুরুষরা আওয়াজ করে। [ইমাম ইবনু তাইমিয়্যাহ, মাজমু‘উ ফাতাওয়া: ২৪/২২০; ইমাম ইবনুল কায়্যিম, যাদুল মা‘আদ: ২/৩৬০; ইমাম শামি, রাদ্দুল মুহতার: ৩/৬১; আল্লামা উসমানি, ইলাউস সুনান: ৮/১৫৬]
❖ ঈদগাহে যাওয়া-আসায় রাস্তা বদলানো উত্তম।
জাবির (রা.) বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদের দিন (যাওয়া-আসায়) রাস্তা পরিবর্তন করতেন। [ইমাম বুখারি, আস-সহিহ: ৯৮৬]
❖ সামর্থ্যবান হলে পায়ে হেঁটে যাওয়া সুন্নাহ।
ইবনু উমার (রা.) বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হেঁটে হেঁটে ঈদের (নামাজের) জন্য যেতেন এবং হেঁটে হেঁটে ফিরতেন। [ইমাম ইবনু মাজাহ, আস-সুনান: ১২৯৪; হাদিসটি হাসান]
❖ ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়:
মুহাম্মাদ বিন যিয়াদ আল আলহানি (রাহ.) বলেন, আমি সাহাবি আবু উমামা আল বাহিলি (রা.)-কে ঈদের দিন তাঁর সাথীদের উদ্দেশ্যে বলতে দেখেছি—
تَقَبَّلَ اللّٰهُ مِنَّا وَمِنْكُمْ
[তাক্বাব্বালাল্লাহু মিন্না ওয়া মিনকুম]
অর্থ: আল্লাহ আমাদের ও আপনাদের পক্ষ থেকে (নেক কাজগুলো) কবুল করুন। [ইমাম বাইহাকি, আস-সুনানুল কুবরা: ৬২৯৬ ও শু‘আবুল ঈমান: ৩৭২০; বর্ণনাটির সনদ হাসান]
অন্য বর্ণনায় এসেছে, ‘তাক্বাব্বালাল্লাহু মিন্না ওয়া মিনকা।’ অর্থ: আল্লাহ আমার ও আপনার পক্ষ থেকে (নেক কাজগুলো) কবুল করুন।
তবে, ‘ঈদ মুবারক’ বা এজাতীয় আঞ্চলিক পরিভাষা দিয়ে শুভেচ্ছা জানানোও বৈধ। এতে কোনো সমস্যা নেই। এ ব্যাপারে আলিমগণ একমত।
❖ ঈদের দিনে গোসল করা ও নতুন কাপড় বা পরিচ্ছন্ন কাপড় পড়া সুন্নাহ। [ইমাম মালিক, আল-মুওয়াত্তা: ৪১৪; ইমাম বুখারি, আস-সহিহ: ৯৪৮]
❖ সামর্থ্য থাকলে সুগন্ধি ব্যবহার করা:
ইমাম মালিক (রাহ.) বলেন, ‘আমি আলিমদের কাছ থেকে শুনেছি, তাঁরা প্রত্যেক ঈদে সুগন্ধি ব্যবহার ও সাজ-সজ্জা করাকে মুস্তাহাব (উত্তম কাজ) বলেছেন।’ [আল-মুগনি লি ইবনি কুদামাহ]
❖ ফিতরা আদায় করা:
আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম লোকজনের ঈদের নামাজে বের হওয়ার পূর্বেই যাকাতুল ফিতর (ফিতরা) আদায় করার নির্দেশ দিয়েছেন। [ইমাম বুখারি, আস-সহিহ: ১৫০৯]
❖ ঈদের নামাজের তাকবিরসংখ্যা:
মোটাদাগে এদেশে অধিকাংশ মানুষ অতিরিক্ত ৬টি তাকবিরে ঈদের নামাজ আদায় করেন আর আহলে হাদিস মাসলাকের অনুসারীগণ ১২ তাকবিরে আদায় করেন। দুটোই নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবিদের থেকে সহিহ সূত্রে বর্ণিত হয়েছে। সুতরাং এ বিষয় নিয়ে ঝগড়া করা উচিত নয়। [১২ তাকবিরের হাদিস: সুনানে আবু দাউদ: ১১৪৯; ৬ তাকবিরের হাদিস: মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক: ৫৬৮৬ ও ৫৬৮৭; দুটো হাদিসই সহিহ]
❖ ঈদের নামাজে নারীদের অংশগ্রহণ:
প্রায় সমস্ত আলিম মত দিয়েছেন—ঈদ ও জুমার নামাজে নারীদের অংশগ্রহণ করা জরুরি নয়। আলিমগণের একাংশ নারীদের ঈদের জামাতে অংশগ্রহণের ব্যাপারে বেশ জোর দিয়েছেন। তাঁরা উম্মু আতিয়াহ (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসের দলিল দিয়েছেন। [ইমাম বুখারি, আস-সহিহ: ৯৭৪ ও ৯৮১; ইমাম মুসলিম, আস-সহিহ: ১৯৩০]
তবে, হানাফি মাযহাবের অনেক আলিমের মতে, স্বাভাবিকভাবে নারীদের ঈদের জামাতে অংশ নেওয়া মাকরুহ (অপছন্দনীয়)। তাঁরা বলেন, বর্তমানে সেই পরিবেশ নেই, সঠিক পর্দাব্যবস্থা নেই, ফলে ফিতনার আশঙ্কা রয়েছে। তাই, নারীদের অংশগ্রহণ করা উচিত নয়। তবে, কোনো নারী অংশ নিলে তার নামাজ নষ্ট হবে না।
যাহোক, আমরা বলবো, যথাযথ পর্দা ও নিরাপত্তার ব্যবস্থা থাকলে কোনোরূপ সাজসজ্জা ও সুগন্ধি ব্যতীত নারীরা ঈদের নামাজে যাবেন। বাসায় একাকী ঈদের নামাজ পড়া জায়েয নেই। কারণ ঈদের নামাজ জামাতে আদায় করতে হয়।
❖ ঈদের দিন ঈদের নামাজের আগে বা পরে কোনো নামাজ না পড়া:
আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদুল ফিতরের দুই রাকাত নামাজ পড়েছেন, কিন্তু এর আগে বা পরে কোনো নামাজ পড়েননি। [ইমাম বুখারি, আস-সহিহ: ৯৬৪]
❖ ঈদের দিনে কবর যিয়ারত করা সুন্নাহ নয়, তবে জায়েয। এটি করা যাবে। তাই বলে, এটিকে এই দিনের জন্য রীতি বানিয়ে নেওয়া উচিত নয়।
❖ ঈদের মাঠে/মসজিদে নামাজ শেষ করার পর মুসাফাহা ও কোলাকুলি করা সুন্নাহ নয়। তবে, সুন্নাহ বা জরুরি মনে না করে দীর্ঘদিন পর কারো সাথে দেখা হলে স্বাভাবিক সৌজন্যে তার সাথে কোলাকুলি করা যাবে।
সবাইকে ঈদ মুবারক।
সবার ঈদ সুন্দর কাটুক।
তাক্বাব্বালাল্লাহু মিন্না ওয়া মিনকুম।

19/03/2026

রামাদানের শেষ জুমার দিন আজ (সন্ধ্যা থেকে শুরু হলো)। আসুন, জুমার রাত এবং দিনকে সর্বোত্তমভাবে কাজে লাগাই। আজ আন্তরিকভাবে তাহাজ্জুদ পড়ি, শেষ রাতে নিজের গুনাহের জন্য কান্নাকাটি করি। সুরা কাহাফ পড়ি, বেশি বেশি দরুদ পড়ি। আসরের পর থেকে মাগরিবের আগ পর্যন্ত সময়টাতে আন্তরিকভাবে দু‘আয় মশগুল হই, তাওবাহ-ইস্তিগফার পড়ি। এমনিতেই অন্য সময়ে এই সময়ের দু‘আ ফিরিয়ে দেওয়া হয় না, রামাদানে তো আরও বেশি সম্ভাবনাময়। আবার ইফতারের আগ মুহূর্তে দু‘আ কবুল হয়। তাই আসুন, আল্লাহর দেওয়া এই সুযোগগুলোর সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করি।

18/03/2026

আজ রামাদানের সর্বশেষ বিজোড় রাত। অত্যন্ত সম্ভাবনাময় কদরের রাত। নেক আমল দিয়ে রাতটিকে সমৃদ্ধ করতে আমরা যা করবো:
(১) ১০ বার সুরা ইখলাস পড়বো।
(২) সুরা বাকারার শেষ দুই আয়াত পড়বো।
(৩) আয়াতুল কুরসি পড়বো।
(৪) সুরা মুলক পড়বো।
(৫) সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আল্লাহু আকবার এগুলোর প্রত্যেকটি ১০০ বার করে পড়বো।
(৬) ৪ থেকে ৮ রাকাত তাহাজ্জুদ পড়বো।
(৭) কিছু সাদাকাহ করবো।
(৮) অবশ্যই ইশা ও ফজর জামাতে পড়বো।
(৯) লা হাউলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ ২০/৩০ বার পড়বো।
(১০) আস্তাগফিরুল্লাহ/আল্লাহুম্মাগফিরলি ১০০ বার পড়বো। মন দিয়ে সাইয়িদুল ইস্তিগফার পড়বো।
(১১) ১০০ বার দরুদ পড়বো।
(১২) আল্লাহুম্মা ইন্নাকা ‘আফুউউন তু‘হিব্বুল ‘আফওয়া ফা’ফু ‘আন্নি ২০/৩০ বার পড়বো।
(১৩) আন্তরিকভাবে আল্লাহর কাছে দু‘আ করবো। নিজের জন্য, বাবা-মার জন্য, আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব, সুহৃদ এবং মুসলিম উম্মাহর জন্য দু‘আ করবো। বিশেষত বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে নির্যাতিত মুসলিমদের জন্য এবং অন্যায়ভাবে কারাবরণকারীদের মুক্তির জন্য দু‘আ করবো।
(১৪) হিদায়াত লাভ, দ্বীনের উপর অবিচলতা, শির্ক-কুফর ও বান্দার হক নষ্ট করা থেকে পানাহ চাওয়া, গুনাহ মাফি, ফিতনা থেকে বেঁচে থাকা, সুস্থতা ও নিরাপত্তা, ঈমানের উপর মৃত্যু ইত্যাদি বিষয়ে দু‘আ করবো।
মোটকথা, নফল নামাজ, তিলাওয়াত, যিকর, তাসবিহ, ইস্তিগফার, দু‘আ এবং দরুদের মাধ্যমে এই রাতটির যথাসাধ্য কদর করবো। আগামী রামাদান আমরা পাবো কি না, কেউ জানি না। এমনকি আরেকটি রোজা পাবো কি না, সেটাও নিশ্চিত না। আল্লাহ যেন আমাদেরকে রামাদানের রহমত-বরকত থেকে বঞ্চিত না করেন। আমিন।

16/03/2026

যারা নফল নামাজ পড়তে অলসতাবোধ করেন কিংবা পিরিয়ডের কারণে নামাজ ও তিলাওয়াত থেকে দূরে আছেন, তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কিছু আমল দেওয়া হলো। কদরের রাতে এই আমলগুলো করলে আশা করি অনেক উপকৃত হবেন এবং মনেও আনন্দ লাভ করবেন, ইনশাআল্লাহ।

(১) কমপক্ষে ১০০ বার নিচের তাসবিহ ও যিকিরটি।

لاَ إِلٰهَ إِلاَّ اللّٰهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيْكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَىْءٍ قَدِيْرٌ

[লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু ওয়া‘হদাহু লা শারি-কা লাহু লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল ‘হামদু ওয়া হুওয়া ‘আলা কুল্লি শাইয়িন ক্বাদি-র]

অর্থ: আল্লাহ্ ব্যতীত কোনো সত্য উপাস্য নেই। তিনি এক; তাঁর কোনো অংশীদার নেই। রাজত্ব এবং প্রশংসা কেবল তাঁরই; তিনি সকল বিষয়ে সর্বশক্তিমান।

নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘যে ব্যক্তি দৈনিক ১০০ বার এটি পড়বে—
◉ সে ১০টি গোলাম মুক্ত করার সওয়াব পাবে;
◉ তার জন্য ১০০ সওয়াব লেখা হবে;
◉ তার ১০০ গুনাহ মিটিয়ে দেওয়া হবে;
◉ ওই দিন সন্ধ্যা পর্যন্ত সে শয়তান থেকে নিরাপদ থাকবে এবং (সন্ধ্যায় বা রাতে পাঠ করলে সকাল পর্যন্ত নিরাপদ থাকবে)
◉ ওই দিনের হিসেবে কেউ তার চেয়ে উত্তম সওয়াবের কাজ করতে পারবে না। তবে হ্যাঁ, ওই ব্যক্তি সক্ষম হবে, যে এর চেয়ে বেশি পড়বে।’’ [ইমাম বুখারি, আস-সহিহ: ৩২৯৩; ইমাম আবু দাউদ, আস-সুনান: ৫০৭৭]

অন্য হাদিসে এসেছে, ‘‘যে ব্যক্তি এগুলোর প্রত্যেকটি ১০ বার করে বলবে, সে ইসমাঈল (আ.)-এর বংশের চারজন ক্রীতদাস মুক্ত করে দেওয়ার নেকি পাবে।’’ [ইমাম মুসলিম, আস-সহিহ: ৬৭৩৭]

(২) কমপক্ষে ১০০ বার নিচের তাসবিহ ও যিকিরটি।

سُبْحَانَ اللّٰهِ وَالْحَمْدُ لِلّٰهِ وَلَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ وَاللّٰهُ أَكْبَر

সুবহানাল্লাহ্, আলহামদুলিল্লাহ, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্ এবং আল্লাহু আকবার—প্রতিটি ১০০ বার করে মোট ৪০০ বার পড়া।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মু হানি (রা.)-কে বলেন—
◉ তুমি ১০০ বার তাসবিহ (সুবহানাল্লাহ) বলবে, এটি তোমার পক্ষে ইসমাইল (আ.)-এর বংশের ১০০ ক্রীতদাস মুক্ত করার সমতুল্য হবে;
◉ তুমি ১০০ বার আল্লাহর হামদ বা প্রশংসা (আলহামদুলিল্লাহ) বলবে, এটি তোমার পক্ষে আল্লাহর রাস্তায় যু[দ্ধে]র জন্য ১০০ টি সাজানো ঘোড়ায় মু[জা]হিদ প্রেরণের সমতুল্য হবে;
◉ তুমি ১০০ বার তাকবির (আল্লাহু আকবার) বলবে, এটি তোমার পক্ষ থেকে ১০০টি মাকবুল (কবুলকৃত) উট কুরবানির সমতুল্য হবে;
◉ তুমি ১০০ বার তাহলিল (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ) বলবে, এত সওয়াব পাবে, যার ফলে আসমান ও যমিন পূর্ণ হয়ে যাবে। [ইমাম আহমাদ, আল-মুসনাদ: ২৬৯১১; শায়খ আলবানি, সহিহুত তারগিব: ১৫৫৩; হাদিসটি হাসান]

(৩) কদরের রাতের বিশেষ আমল (দোয়া) বেশি বেশি করা:

আয়িশা (রা.) বলেন, আমি বললাম, ‘হে আল্লাহর রাসুল! আমি যদি জানতে পারি, কোনটি কদরের রাত, তাহলে ওই রাতে কী বলবো?’ নবিজি বলেন, তুমি বলো—
اَللّٰهُمَّ إِنَّكَ عَفُوٌّ تُحِبُّ الْعَفْوَ فَاعْفُ عَنِّيْ
[আল্লা-হুম্মা ইন্নাকা ‘আফুউ-উন, তু‘হিব্বুল ‘আফওয়া ফা’ফু ‘আন্নি]
অর্থ: হে আল্লাহ্! আপনি ক্ষমাশীল, আপনি ক্ষমা করতে পছন্দ করেন। অতএব, আপনি আমাকে ক্ষমা করুন। [ইমাম ইবনু মাজাহ, আস-সুনান: ৩৮৫০; হাদিসটি সহিহ]

(৪) শ্রেষ্ঠ ইস্তিগফারগুলোর মধ্যে অন্যতম নিচের ইস্তিগফারটি সাধ্যানুসারে বেশি বেশি পড়া:
ইবনু মাস‘উদ (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “যে ব্যক্তি এটি পড়বে, তার গুনাহ্ ক্ষমা করে দেওয়া হবে—যদিও সে জিহাদের ময়দান থেকে পলায়নকারী হয়।”
ﺃَﺳْﺘَﻐْﻔِﺮُ ﺍﻟﻠّٰﻪَ ﺍﻟَّﺬِﻱْ ﻻَ ﺇِﻟٰﻪَ ﺇِﻻَّ ﻫُﻮَ ﺍﻟْﺤَﻰُّ ﺍﻟْﻘَﻴُّﻮْﻡُ ﻭَﺃَﺗُﻮْﺏُ ﺇِﻟَﻴْﻪِ

[আস্তাগফিরুল্লা-হাল্লাযি লা ইলা-হা ইল্লা হুওয়াল ‘হাইয়ুল ক্বাইয়ু-মু ওয়া আতু-বু ইলাইহি]
অর্থ: আমি আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি, যিনি ব্যতীত কোনো সত্য উপাস্য নেই—তিনি চিরঞ্জীব, চিরস্থায়ী—এবং আমি তাঁর নিকট তাওবাহ করছি। [ইমাম আবু দাউদ, আস-সুনান: ১৫১৭; হাদিসটি সহিহ]

(৫) ব্যাপক অর্থবোধক একটি দোয়া বেশি বেশি পড়া:

اَللّٰهُمَّ إِنِّيْ أَسْأَلُكَ الْعَافِيَةَ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ

[আল্লা-হুম্মা ইন্নি আসআলুকাল ‘আ-ফিয়াতা ফিদ্দুনইয়া ওয়াল আ-খিরাহ]

অর্থ: হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট দুনিয়া ও আখিরাতের আফিয়াত (নিরাপত্তা, সুস্থতা) প্রার্থনা করছি। [ইমাম আবু দাউদ, আস-সুনান: ৫০৭৪; হাদিসটি সহিহ]

(৫) দ্বীনের উপর অটল থাকার দু‘আ করা:

উম্মু সালামাহ (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে দু‘আটি সবচেয়ে বেশি পড়তেন, তা হলো–

يَا مُقَلِّبَ الْقُلُوبِ ثَبِّتْ قَلْبِي

[ইয়া মুক্বাল্লিবাল ক্বুলু-ব, সাব্বিত ক্বলবি ‘আলা দি-নিকা]
অর্থ: হে অন্তরসমূহের পরিবর্তনকারী, আপনি আমার অন্তরকে আপনার দ্বীনের (ইসলামের) উপর অটল রাখুন।
[ইমাম তিরমিযি, আস-সুনান: ৩৫২২; হাদিসটি সহিহ]

(৬) অধিক পরিমাণে দরুদ পড়া: নিচে সহিহ হাদিসে বর্ণিত একটি ছোট্ট দরুদ দেওয়া হলো।

اَللّٰهُمَّ صَلِّ عَلٰى مُحَمَّدٍ، وَعَلٰى آلِ مُحَمَّدٍ

আরও যারা অধিক পরিমাণে আমল করতে চান:

سُبْحَانَ اللّٰهِ الْعَظِيْمِ وبِحَمْدِهِ (কমপক্ষে ১০০ বার)

سُبْحَانَ اللّٰهِ وبِحَمْدِهِ سُبْحَانَ اللّٰهِ الْعَظِيمِ (যত খুশি)

لَا ﺣَﻮْﻝَ ﻭَﻻَ ﻗُﻮَّﺓَ ﺇِﻻَّ ﺑِﺎﻟﻠَّﻪِ (যত খুশি)

যারা কুরআন পড়তে পারবেন, তারা সুরা ইখলাস পড়বেন বেশি পরিমাণে। ঘণ্টাখানেক সময় অন্তত কুরআন তিলাওয়াত করবেন। সাধ্যানুসারে তাহাজ্জুদ পড়বেন। কিছু দান-সাদাকাহ করবেন। এছাড়া অন্যান্য আমল করবেন। অবশ্যই আন্তরিকতার সাথে লম্বা সময় নিয়ে দোয়া করতে হবে। হায়েয অবস্থায় দোয়া করতে কোনো সমস্যা নেই। শুধু নামাজ, রোজা ও কুরআন তিলাওয়াত করা যায় না।

16/03/2026

কদরের রাতে পড়ার জন্য বিশেষ দুটো দু‘আ
❂ প্রথম দু‘আ:
আয়িশা (রা.) বলেন, আমি বললাম, ‘হে আল্লাহর রাসুল! আমি যদি বুঝতে পারি, কোন রাতটি লাইলাতুল কদর, তাহলে ওই রাতে কী বলবো?’ নবিজি বলেন, তুমি বলো—
اَللّٰهُمَّ إِنَّكَ عَفُوٌّ تُحِبُّ الْعَفْوَ فَاعْفُ عَنِّيْ
(আল্লা-হুম্মা ইন্নাকা ‘আফুউ-উন, তু‘হিব্বুল ‘আফওয়া ফা’ফু ‘আন্নি)
অর্থ: হে আল্লাহ্! আপনি ক্ষমাশীল, আপনি ক্ষমা করতে পছন্দ করেন। অতএব, আপনি আমাকে ক্ষমা করে দিন। [ইমাম ইবনু মাজাহ, আস-সুনান: ৩৮৫০; হাদিসটি সহিহ]
❂ দ্বিতীয় দু‘আ:
আয়িশা (রা.) বলেন, যদি আমি জানতে পারি, লাইলাতুল কদর কোন রাতটি, তাহলে আমি আল্লাহর কাছে ‘আফিয়াত’ ছাড়া আর কিছু চাইবো না। [ইমাম ইবনু আবি শাইবাহ, আল-মুসান্নাফ: ২৯১৮৭; বর্ণনাটি সহিহ]
আরবি ‘আফিয়াত’ শব্দটি ব্যাপক অর্থবোধক। এর দ্বারা নিরাপত্তা, সুস্থতা, দয়া কামনা ইত্যাদি বুঝায়। হাদিসে ‘আফিয়াত’ শব্দটি দিয়ে একাধিক দু‘আ আছে।
ইমাম নাসায়ির সুনানুল কুবরায় এই হাদিসটি আরেকটু বড় পরিসরে এসেছে, দু‘আটির বাক্যগুলোসহ। তবে, হাদিসটি মাওকুফ (সাহাবির বক্তব্য), অর্থাৎ, আয়িশা (রা.)-এর নিজের বক্তব্য। তিনি সম্ভাব্য কদরের রাতে এটি পড়তেন বলে প্রতীয়মান হয়।
اَللّٰهُمَّ إِنِّيْ أَسْأَلُكَ الْعَفْوَ وَالْعَافِيَةَ
(আল্লা-হুম্মা ইন্নি আসআলুকাল ‘আফওয়া ওয়াল ‘আ-ফিয়াহ)
হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে ক্ষমা ও আফিয়াত (নিরাপত্তা-সুস্থতা) চাই। [ইমাম নাসায়ি, সুনানুল কুবরা: ১০৭১৪; বর্ণনাটির সনদ হাসান]
আফিয়াত শব্দযোগে সরাসরি নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে একাধিক সহিহ বর্ণনা আছে। তার একটি হলো:
اَللّٰهُمَّ إِنِّيْ أَسْأَلُكَ الْعَافِيَةَ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ
(আল্লা-হুম্মা ইন্নি আসআলুকাল ‘আ-ফিয়াতা ফিদ্দুনইয়া ওয়াল আ-খিরাহ)
অর্থ: হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট দুনিয়া ও আখিরাতের আফিয়াত (নিরাপত্তা ও সুস্থতা) প্রার্থনা করছি। [ইমাম আবু দাউদ, আস-সুনান: ৫০৭৪; হাদিসটি সহিহ]

15/03/2026

লাইলাতুল কদরে নামাজ পড়ার নিয়ম
▬▬▬▬▬▬▬◖◉◗▬▬▬▬▬▬▬
লাইলাতুল কদরের প্রধান আমল হলো, কিয়াম তথা নামাজে দণ্ডায়মান হওয়া। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে, সওয়াবের আশায় কদরের রাতে (ইবাদতের জন্য) দণ্ডায়মান হবে, তার পূর্বের গুনাহগুলো ক্ষমা করে দেওয়া হবে।’’ [ইমাম বুখারি, আস-সহিহ: ২০১৪]
এই রাতের সর্বোত্তম আমল হবে লম্বা সময় ধরে কিয়ামুল লাইল (তাহাজ্জুদ) ও অন্যান্য নফল নামাজে দণ্ডায়মান থাকা। নামাজে যথাসম্ভব লম্বা কিরাত পড়া উচিত। কিরাত (তিলাওয়াত) ও কিয়ামকে লম্বা করতে একই রাকাতে অনেকগুলো সুরা পড়তেও কোনো অসুবিধা নেই। ধরুন, কারো দশটি সুরা মুখস্থ আছে; তাহলে তিনি প্রথম রাকাতে সুরা ফাতিহার পর পাঁচটি ও দ্বিতীয় রাকাতে ফাতিহার পর পাঁচটি সুরা পড়তে পারেন। কেউ প্রথম রাকাতে ৬টি সুরা, দ্বিতীয় রাকাতে ৪টি সুরাও পড়তে পারেন।
শুধু নিজেই নয়, পরিবারের লোকদেরও জাগিয়ে দেওয়া উচিত। আয়িশা (রা.) বলেন, ‘যখন রামাদানের শেষ দশক আসতো, তখন রাসুলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পরিধেয় বস্ত্রকে শক্ত করে বাঁধতেন, রাত জেগে ইবাদত করতেন এবং পরিবার-পরিজনকে জাগিয়ে দিতেন।’ [ইমাম বুখারি, আস-সহিহ: ২০২৪]
কদরের আমল শুরু হয় মাগরিবের ওয়াক্ত থেকে এবং চলে ফজরের ওয়াক্ত শুরু হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত। সুতরাং, এই পুরো সময়টিই গুরুত্বপূর্ণ। তাই, এই সময়টুকুতে যথাসাধ্য আমলে লেগে থাকতে হবে। বিশেষ করে নফল নামাজে।
‘‘শবে কদরের নামাজ’’ বলতে বিশেষ নিয়মের, বিশেষ সুরা দিয়ে কোনো নামাজ আদায়ের কথা হাদিসে বলা হয়নি। সুতরাং, কদর অন্বেষণে সাধারণভাবেই ২ রাকাত করে নফল নামাজ পড়া হবে। কদর তালাশে নফল পড়ছেন, এই ইচ্ছাটুকু মনে রেখে নামাজ পড়তে থাকবেন। তাহলেই হলো। মুখে কিছু বলার মাধ্যমে নিয়ত করতে হবে না। কারণ এমনটি কুরআন-হাদিসের কোথাও আসেনি। তাছাড়া, শেষ রাতে যথাসাধ্য ৮/১০ রাকাত তাহাজ্জুদের নামাজ আদায় করতে চেষ্টা করা উচিত।
মাগরিব থেকে ইশার মধ্যবর্তী সময়ে নফল নামাজ পড়া রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, সাহাবিগণ এবং সালাফে সালিহিনের অভ্যাস ছিলো। সুতরাং, এ সময় নফল নামাজ পড়া উত্তম।
কদরের রাতে তাওবাহর উদ্দেশ্যে দুই রাকাত নফল নামাজ পড়া যায়। সাধারণভাবে তাওবাহর উদ্দেশ্য অন্তরে জাগরূক রেখে নিয়ত করাই যথেষ্ট, মুখে কিছু বলতে হবে না। এরপর দুই রাকাত নফল নামাজ পড়বেন, যেভাবে সাধারণ নফল পড়েন। নামাজ শেষে আন্তরিকতার সাথে নিজের গুনাহের জন্য ক্ষমা চাইবেন।
আবু বকর (রা.) বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, “যখন কোনো বান্দা গুনাহ করার পর সুন্দরভাবে অজু করে দাঁড়িয়ে দুই রাকাত নামাজ আদায় করে, অতঃপর আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করে, তখন আল্লাহ তাকে অবশ্যই ক্ষমা করে দেন।” [ইমাম তিরমিযি, আস-সুনান: ৪০৮; হাদিসটি হাসান]
নামাজের পর দু‘আ করবেন আন্তরিকভাবে। তবে, নামাজের সিজদায় এবং সালাম ফেরানোর পূর্বে ইস্তিগফার করা ভালো।
আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা বলেন, ‘‘কদরের রাতটি (মর্যাদার দিক থেকে) হাজার মাসের চেয়েও শ্রেষ্ঠ।’’ [সুরা আল ক্বাদর, আয়াত: ০৩]
হিসাব করলে দেখা যায়, হাজার মাস = ৮৩ বছর প্রায়! সুতরাং, যে-রাতের মর্যাদা এত বেশি, সেটিকে খুঁজে পেতে রমাদানের শেষ দশটি রাতেই ইবাদতে লেগে থাকা উচিত।

14/03/2026

শবে কদর ও রামাদানের শেষ ১০টি রাত কেন এতো গুরুত্বপূর্ণ? এই রাতগুলোকে আমাদের কীভাবে মূল্যায়ন করা উচিত?
▬▬▬▬▬▬▬❂▬▬▬▬▬▬▬
রামাদানের শেষ দশটি রাতের কোনো একটি রাতে কদর সংঘটিত হয়।
❑ শেষ দশকে নবিজির ব্যস্ততা:
আয়িশা (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (রমাদানের) শেষ দশকে (ইবাদতের জন্য) যে চেষ্টা-সাধনা করতেন, অন্য কোনো সময়ে সে পরিমাণ সচেষ্ট হতেন না।’ [ইমাম মুসলিম, আস-সহিহ: ২৬৭৮]
❑ পরিবারকেও ইবাদতে শামিল রাখা:
আয়িশা (রা.) আরো বলেন, ‘যখন রামাদানের শেষ দশক আসতো, তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পরিধেয় বস্ত্রকে শক্ত করে বাঁধতেন, রাত জাগতেন (ইবাদত করতেন) এবং পরিবার-পরিজনকে জাগিয়ে দিতেন।’ [ইমাম বুখারি, আস-সহিহ: ২০২৪]
তাই, শেষ দশকে শুধু নিজে ইবাদতে মশগুল না হয়ে পরিবারের সদস্যদেরও শামিল রাখা উচিত। তাদেরকে জাগিয়ে দিলে, তারাও তাহাজ্জুদের নামাজ পড়বেন এবং অন্যান্য ইবাদত করবেন।
❑ ইতিকাফ: কদরের রাতপ্রাপ্তির মহাসুযোগ!
রামাদানের শেষ দশকে ইতিকাফের অন্যতম একটি কারণ হলো, লাইলাতুল কদর তালাশ করা। কারণ, যে ব্যক্তি রামাদানের শেষ দশটি দিন ও দশটি রাত উত্তমভাবে মসজিদের নির্জন পরিবেশে আল্লাহর ইবাদতে কাটাবে, সে ইনশাআল্লাহ্ সহজেই মহিমান্বিত রাত লাইলাতুল কদরের সৌভাগ্য হাসিল করে ধন্য হতে পারবে।
এই প্রসঙ্গে হাদিসে এসেছে—
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘আমি (রমাদানের) প্রথম ১০ দিন ইতিকাফ করে এ মহান রাতটি খুঁজলাম, এরপর দ্বিতীয় ১০ দিন ইতিকাফ করলাম। অতঃপর আমার কাছে (ফেরেশতা) আসলেন। আমাকে বলা হলো, এ রাতটি শেষ দশকে রয়েছে। সুতরাং তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তিই (শেষ দশকে) ইতিকাফ করতে চায়, সে যেন ইতিকাফ করে।’’ [ইমাম মুসলিম, আস-সহিহ: ২৬৬১]
আয়িশা (রা.) বলেন, ‘মহান আল্লাহ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মৃত্যু দেওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি রামাদানের শেষ দশকে ইতিকাফ করতেন। তাঁর (ইন্তিকালের) পর তাঁর স্ত্রীগণ ইতিকাফ করতেন।’ [ইমাম মুসলিম, আস-সহিহ: ২৬৭৪]
যাদের পক্ষে সম্ভব, তাদের অবশ্যই ইতিকাফ করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা উচিত। কারণ ইতিকাফ করলে লাইলাতুল কদর নসিব হওয়ার প্রায় শতভাগ সম্ভাবনা থাকে। আর, জীবনে যদি কদরের একটি রাতও সঠিকভাবে কাজে লাগানো যায়, তবে এটি নিজের আমলনামার জন্য মহাসৌভাগ্যের সোপান হবে, ইনশাআল্লাহ। যারা ১০ দিনের সুন্নাত ইতিকাফ করতে পারবেন না, তারা শুধু রাতের বেলায় (মাগরিব থেকে ফজর) নফল ইতিকাফ করতে পারেন।
❑ ভাগ্যরজনী: লাইলাতুল কদর
প্রতি কদরের রাতে আগামী এক বছরের যাবতীয় সিদ্ধান্ত হয়। তাই, এটিকে ‘ভাগ্যরজনী’ বলা হয়। যদিও সমাজে ভুল প্রচলন রয়েছে যে, শবে বরাত ভাগ্যরজনী। এটি সঠিক নয়।
আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘‘লাইলাতুল কদর (কদরের রাত) হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম। সে রাতে ফেরেশতাগণ এবং রুহ (জিবরাইল) তাঁদের রবের অনুমতিক্রমে সকল বিষয় (সিদ্ধান্ত) নিয়ে অবতরণ করেন। শান্তিময় সে রাত, ফজরের সূচনা পর্যন্ত।’’ [সুরা ক্বাদর, আয়াত: ৩-৫]
কুরআনের অন্যত্র আল্লাহ্ বলেছেন, ‘‘এতে (এই রাতে) প্রত্যেক বিষয় স্থিরকৃত (সিদ্ধান্ত) হয়।’’ [সুরা দুখান, আয়াত: ০৪]
❑ কদরের সৌভাগ্য থেকে বঞ্চিত হওয়া:
আনাস (রা.) বলেন, রামাদান শুরু হলে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘রামাদান মাস তোমাদের মাঝে উপস্থিত। এ মাসে রয়েছে এমন এক রাত, যা হাজার মাস থেকেও উত্তম। যে ব্যক্তি এ (রাত) থেকে বঞ্চিত হলো, সে সকল কল্যাণ থেকেই বঞ্চিত হলো। শুধু বঞ্চিতরাই এর কল্যাণ হতে বঞ্চিত থাকে।’’ [ইমাম ইবনু মাজাহ, আস-সুনান: ১৬৪৪; হাদিসটি হাসান সহিহ]
মিনহাজুল কাসিদিন (১/৩৪৩) কিতাবে এসেছে, ‘মর্যাদাপূর্ণ দিন ও রাতগুলো থেকে উদাসীন থাকা উচিত নয়, কেননা ব্যবসায়ী যদি লাভের মৌসুমেই উদাসীন থাকে, তাহলে সে কখন লাভবান হবে?’

13/03/2026

আজ রাতেও কদর তালাশ করা উচিত। কারণ, শুধু বিজোড় রাতই নয়, শেষ দশকের কোনো জোড় রাতও হতে পারে লাইলাতুল কদর। আজ ২৪তম রাত। লেখাটি সম্পূর্ণ পড়ে নিন, তাহলে বিষয়টি সহজে বুঝতে পারবেন।
ইমাম ইবনু তাইমিয়্যাহ (রাহ.) একটি বিশুদ্ধ হাদিসের আলোকে বলেছেন, যদি রামাদান মাস ৩০ দিনে হয়, তবে শেষ দশকের জোড় রাতগুলোতেও কদর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘‘তোমরা (কদর) সন্ধান করো (শেষ দশকের) অবশিষ্ট (থাকা রাতগুলোর) নবম রাতে, অবশিষ্ট (থাকা রাতগুলোর) সপ্তম রাতে, অবশিষ্ট (থাকা রাতগুলোর) পঞ্চম রাতে, অবশিষ্ট (থাকা রাতগুলোর) তৃতীয় রাতে এবং অবশিষ্ট (থাকা রাতগুলোর) শেষ রাতে।’’ [ইমাম তিরমিযি, আস-সুনান: ৭৯৪; হাদিসটি সহিহ]
এ হাদিস থেকে আমরা দেখতে পারি যে, কোনো বছর রামাদান মাস যদি ৩০ দিনের হয়, তাহলে অবশিষ্ট নবম রাতটি হবে রামাদানের ২২তম রাত, অবশিষ্ট সপ্তম রাতটি হবে ২৪তম রাত, অবশিষ্ট পঞ্চম রাতটি হবে ২৬তম রাত এবং অবশিষ্ট তৃতীয় রাতটি হবে ২৮তম রাত। আর এভাবেই বিশিষ্ট সাহাবি আবু সাঈদ খুদরি (রা.) কদরের রাত সম্পর্কে ব্যাখ্যা করেছেন। (এই গণনা শেষ দিক থেকে করা হয়েছে। হাসান বাসরি (রাহ.) থেকেও এভাবে গণনার পক্ষে দলিল রয়েছে)
অন্য দিকে, রামাদান মাস যদি ২৯ দিনের হয়, তাহলে উক্ত হাদিস অনুযায়ী কদরের রাত পড়বে শেষ দশকের বিজোড় রাতগুলোতে। অতএব, ঈমানদারদের উচিত, রামাদানের শেষ দশকের প্রতিটি রাতেই কদর অনুসন্ধান করা। [মাজমু‘উ ফাতাওয়া: ২৫/২৮৪-২৮৫]
রামাদান ২৯ দিনে হলে বিজোড় রাতে কদর হবে আর ৩০ দিনে হলে জোড় রাতেও কদর হওয়ার ন্যূনতম সম্ভাবনা থাকবে।
কদর যে জোড় রাতেও হতে পারে, তার একটি প্রমাণ হলো সাহাবি ইবনু আব্বাস (রা.)-এর বক্তব্য। তাবি’ঈ ইকরামা (রাহ.) ইবনু আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, ‘‘তোমরা ২৪তম রাতে (কদর) তালাশ করো।’’ [ইমাম বুখারি, আস-সহিহ: ২০২২]
২৪তম রাতের ব্যাপারে হাসান সনদের একটি মারফু হাদিস (সরাসরি নবিজি থেকে বর্ণিত হাদিস) সংকলন করেছেন ইমাম আহমাদ ও তাবারানি (রাহিমাহুমাল্লাহ)।
জোড় রাতগুলোর মাঝে সরাসরি কেবল ২৪তম রাতের ব্যাপারেই বর্ণনা পাওয়া যায়।
গত শতকের প্রখ্যাত ফকিহ ও মুহাদ্দিস শায়খ ইবনু উসাইমিন (রাহ.)-ও বলেছেন, জোড়-বিজোড় যেকোনো রাতেই কদর হতে পারে। [শারহুল মুমতি’: ৬/৪৯২]
এজন্য আমরা হাদিসে দেখি, নবিজি যদিও শেষ দশকের বিজোড় রাতকে অগ্রাধিকার দিতে বলেছেন, কিন্তু তিনি নিজে শেষ দশকের প্রতিটি রাতেই ইবাদত করতেন; শুধু বিজোড় রাতগুলোতেই ইবাদত করতেন না। আয়িশা (রা.) বলেন, ‘রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (রামাদানের) শেষ দশকে (ইবাদতে) যে পরিমাণ চেষ্টা-সাধনা করতেন, অন্য কোনো সময়ে সে পরিমাণ প্রচেষ্টা ব্যয় করতেন না।’ [ইমাম মুসলিম, আস-সহিহ: ২৬৭৮]
তবে, কোনো সন্দেহ নেই যে, কদরের রাত বিজোড় রাতে হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। এ প্রসঙ্গে অনেক হাদিস এসেছে। তাই, আমরা বিজোড় রাতগুলো বেশি গুরুত্ব দেবো, তবে জোড় রাতগুলোও অবহেলা করবো না। কারণ জোড় রাতেও কদর হওয়ার ন্যূনতম সম্ভাবনা রয়েছে।
উল্লেখ্য, ইমাম ইবনু তাইমিয়্যাহ (রাহ.) এবং অন্য আলিমগণ জোড় রাতে হওয়ার পক্ষে যেভাবে শেষ দিক থেকে গণনা করে হাদিসটির অর্থ করেছেন, অধিকাংশ আলিম তেমনটি করেননি। বরং সালাফে সালিহিনের অধিকাংশ আলিম বিজোড় রাতের পক্ষে মত ব্যক্ত করেছেন। কারণ বিজোড় রাতের পক্ষে বর্ণিত হাদিসগুলো খুবই স্পষ্ট শব্দে বর্ণিত।
সর্বশেষ কথা হলো: যেহেতু নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শেষ দশকের প্রতিটি রাতকেই গুরুত্ব দিতেন, সেহেতু তাঁকেই অনুসরণ করা উচিত। বিজোড় রাতে কদর হওয়ার সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি, তবে জোড় রাতেও হতে পারে। হাদিস থেকে কোনো কোনো আলিম এমনটিই অর্থ করেছেন। আমরা বিজোড় রাতগুলো বেশি গুরুত্ব দেবো, তবে জোড় রাতকে একেবারে অবহেলা করবো না। আল্লাহু আলামু বিস সওয়াব।

12/03/2026

আজ সন্ধ্যা থেকে ২৩তম রামাদান শুরু হয়েছে। আজ সম্ভাব্য কদরের রাত। আসুন, বেশি বেশি নেক আমলে মশগুল হই।
▬▬▬▬▬▬▬❖▬▬▬▬▬▬▬
সাহাবি আব্দুল্লাহ ইবনু উনাইস (রা.) রামাদানের ২৩তম রাতকে কদরের রাত মনে করতেন। [ইমাম মুসলিম, আস-সহিহ: ২৬৬৫]
তিনি বলেন, একবার আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলি, ‘আমার একটি খামার আছে এবং আল্লাহর প্রশংসা যে, আমি সেখানেই নামাজ পড়ি। কাজেই আপনি আমাকে রাতটি সম্পর্কে বলে দিন, যাতে আমি এই মসজিদে আসতে পারি।’ তখন তিনি বলেন, ‘‘তুমি রামাদানের ২৩তম রাতে আসবে।’’
মুহাম্মাদ ইবনু ইবরাহিম (রাহ.) বলেন, ‘আমি (উপরের হাদিসের বর্ণনাকারী) আবদুল্লাহর পুত্রকে জিজ্ঞাসা করি, আপনার পিতা (তখন) কী করতেন?’ তিনি বলেন, ‘আমার পিতা রামাদানের (২২ তারিখে) আসরের নামাজ আদায়ের পর মসজিদে গমন করতেন এবং পরদিন সকাল পর্যন্ত কোনো প্রয়োজনে সেখান থেকে বের হতেন না। অতঃপর তিনি ফজরের নামাজ আদায়ের পর মসজিদের পাশে থাকা তাঁর বাহনের উপর আরোহণ করে নিজ খামারে প্রত্যাবর্তন করতেন।’ [ইমাম আবু দাউদ, আস-সুনান: ১৩৮০; হাদিসটি হাসান সহিহ]
তাহলে বুঝা গেলো, তিনি ২২ তারিখ বিকেলে মসজিদে চলে যেতেন। ২৩তম রাতে সেখানে ইবাদত করে সকালে চলে আসতেন।
আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রা.) বলেন, আমি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, ‘‘তোমরা রামাদানের শেষ দশকে কদরের রাত অনুসন্ধান করো। তোমাদের কেউ যদি দুর্বল অথবা অক্ষম হয়ে পড়ে, তবে সে যেন অবশিষ্ট ৭টি রাতে অলসতা না করে।’’ [ইমাম মুসলিম, আস-সহিহ: ২৬৫৫]
আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রা.) থেকে বর্ণিত। নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কতিপয় সাহাবিকে স্বপ্ন দেখানো হলো যে, (রামাদানের) শেষ সাত দিনের (রাতের) মধ্যে কদরের রাত নিহিত রয়েছে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, ‘‘আমি দেখতে পাচ্ছি, শেষের ৭ (রাত) সম্পর্কে তোমাদের সকলের স্বপ্ন পরস্পর সামঞ্জস্যপূর্ণ। অতএব, যে ব্যক্তি তা (কদরের রাত) অন্বেষণ করবে, সে যেন রামাদানের শেষ ৭টি রাতে তা অন্বেষণ করে।’’ [ইমাম মুসলিম, আস-সহিহ: ২৬৫১]
রামাদান যদি ২৯ দিনে হয়, তাহলে শেষ ৭টি রাতের মধ্যে আজকের রাতটিও আছে।
সুতরাং, আজ থেকে বাকি রাতগুলো আমরা যেন কোনোভাবেই অবহেলায় না কাটাই। আজকের রাতসহ শেষ ৭টি রাত অত্যন্ত মূল্যবান। এই ৭ রাতের মধ্যে কদর হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। তাই, আজকের রাতটি অত্যন্ত সম্ভাবনাময়।

10/03/2026

আজ রামাদানের ২১তম রাত চলছে। এটি সম্ভাব্য কদরের রাত। নবিজির সময়ে রামাদানের ২১তম রাতে একবার কদর সংঘটিত হয়েছিলো।
আবু সাঈদ খুদরী (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রামাদানের প্রথম দশকে (১-১০ তারিখ) ইতিকাফ করলেন। এরপর মাঝের দশকেও (১১-২০) একটি তুকি তাঁবুর মধ্যে ইতিকাফ করলেনে এবং তাঁবুর দরজায় একটি চাটাই ঝুলানো ছিলো। তিনি নিজ হাতে চাটাই ধরে তা তাঁবুর কর্নারে রাখলেন। এরপর নিজের মাথা বাইরে এনে লোকদের সাথে কথা বললেন এবং তারাও তাঁর নিকট এগিয়ে এলো। তখন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘এ রাত (কদরের রাত) অনুসন্ধানে আমি (রামাদানের) প্রথম দশকে ইতিকাফ করলাম। অতঃপর মাঝের দশকে ইতিকাফ করলাম। এরপর আমার নিকট একজন আগন্তুক এসে আমাকে বললো, ‘এটি শেষ দশকে নিহিত আছে।’ অতএব তোমাদের (সাহাবিগণের) মধ্যে যে ব্যক্তি ইতিকাফ করতে চায়, সে যেন (শেষ দশকে) ইতিকাফ করে।’’ বর্ণনাকারী বলেন, লোকজন তাঁর সাথে (শেষ দশকে) ইতিকাফ করলো। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরও বলেন, ‘‘স্বপ্নে আমাকে এটি (কদর) কোনো এক বিজোড় রাতে দেখানো হয়েছে এবং আমি যেন সে রাতে কাদা ও পানির মধ্যে ভোরে সিজদা করছি।’’ বর্ণনাকারী সাহাবি বলেন, তিনি (নবিজি) ২১তম রাতের ভোরে উপনীত হয়ে ফজরের নামাজে দাঁড়ালেন এবং আসমান থেকে বৃষ্টি বর্ষিত হলো। ফলে ছাদ থেকে মসজিদে পানি বর্ষিত হলো এবং আমি নিজ চোখে কাদা ও পানি দেখতে পেলাম। তিনি ফজরের নামাজ শেষে যখন বের হয়ে এলেন, তখন তাঁর কপাল ও নাকের ডগা সিক্ত ও কাদামাখানো ছিলো। আর সেটি ছিলো রামাদানের শেষ দশকের ২১তম রাত। [ইমাম মুসলিম, আস-সহিহ: ২৬৬১]
অর্থাৎ, নবিজি যা স্বপ্নে দেখেছেন, ২১তম রাতের দিন হুবহু তাই বাস্তব হয়েছিলো।
অনেক মুহাদ্দিস (হাদিসবিশারদ) এই হাদিস থেকে ব্যাখ্যা করেছেন যে, সে বছর কদর হয়েছিলো ২১তম রাতে। মুফতি আমিমুল ইহসান (রাহ.) সংকলিত ও ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর (রাহ.) অনূদিত ‘ফিকহুস সুনানি ওয়াল আসার’ গ্রন্থে (১/৪৮০) এই বিষয়টি টীকায় উল্লেখ করা হয়েছে।
তাছাড়া পূর্বসূরি নেককার ব্যক্তিদের অনেকেই রামাদানের ২১তম রাতকে কদরের রাত মনে করতেন। ইমাম ইবনু হাজার আসকালানি (রাহ.) তাঁর বিশ্ববিখ্যাত সহিহ বুখারির ব্যাখ্যাগ্রন্থ ‘ফাতহুল বারি’তে এটি উল্লেখ করেছেন। তবে, প্রতি বছর ২১তম রাতেই কদর হবে, এটি নিশ্চিত নয়। এই রাতটি পরিবর্তিত হতে পারে। এ ব্যাপারে একটি পর্বে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে, ইনশাআল্লাহ।
আজ রাতে আমরা বেশি বেশি নেক আমল (সলাত, তিলাওয়াত, দান-সাদাকাহ, যিকর, তাসবিহ, তাওবাহ, ইস্তিগফার) করবো, ইনশাআল্লাহ।

Address

Dhaka/1000 (symbolic)
Dhaka

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Tasbeeh posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share