05/11/2024
আল্লাহ তাআলা দাঈয়ীর ইমতিহান ও পরীক্ষা রুকাওয়াটের দ্বারা নিয়ে থাকেন। *যখন হক্বের রাস্তায় কোন রুকাওয়াট ও বাঁধা আসে, তো তা হক্বের কুওয়্যাত ও শক্তিকে জাহির করার জন্য আসে; হক্ব'কে দূর্বল করার জন্য নয়।* কমজোর ঈমানওয়ালা তো হালাতের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে এই কথা মনে করে যে, এই অবস্থায় কাম করা যাবেনা। আল্লাহ'র কামকে মাখলুক খতম করবে -এটা তো সম্ভবই না।
এক কিসিমের লোক এমন আছে যারা হালাতের দ্বারা হতাশাগ্রস্থ হয়ে কাম করা ছেড়ে দেয়। আর এক কিসিম এমন আছে যারা জঝবায় এসে সওয়াল-জওয়াবের মধ্যে লেগে যায়। সওয়ালাত কাম থেকে গাফেল করার জন্য হয়ে থাকে। তারা জানে যে, যদি কাম করনেওয়ালাদের সওয়াল -জবাবের মধ্যে মশগুল না করা যায় তবে তারা কামে মশগুল থাকার কারনে আরো আগে বেড়ে যাবে। *যারা বাঁধা হয়ে দাঁড়াবে আল্লাহ তাদেরকে খোদ মিটিয়ে দিবেন।* আর যারা মঈন বনবে তারা তোমাদের কামে আসবে। _তোহমদ ও সওয়ালাত এই দুই জিনিস আম্বিয়াদের বেলায় পেশ আসতো।_
*তোহমদ এইজন্য লাগানো হয় যে, যাতে করে আওয়াম লোকদের এ'তেমাদ খতম হয়ে যায়। তোহমদ এইজন্য লাগানো হয় যে, যাতে করে কাম করনেওয়ালাদের কামের যোগ্যতা নষ্ট হয়ে যায়। মূলত তোহমদের কারণে আওয়াম আরো মোতাওয়াজ্জু হয়। যত তোহমদ হবে তত কামের প্রচার ও পরিচয় বেড়ে যাবে।* নবীগণকে পাগল, জাদুকর বলা হতো; তো লোকেরা দেখতে আসতো যে, কে এই পাগল ও জাদুকর? সওয়ালাত কাম থেকে পিছে হঠানোর জন্য আসে। এইজন্য কাম ছেড়ে জওয়াব দেয়ার মধ্যে না ফাঁসা চাই।
তোহমদ লাগানেওয়ালা আর সওয়ালাত করনেওয়ালারাদের মাজুর মনেকরে তাদের জন্য দোয়া করতে থাকি। *হালাত দাঈয়ীদের এস্তেকামাত দেখার জন্য আসে। যে হালই আসুক তাকে কামের জন্য মুফিদ মনেকর। হালকে কামের জন্য মুজির মনে না কর। হালের কারণে দাঈয়ী হতাশ না হওয়া চাই।*
যখনই কোন হাল আসে তখন ওয়াদার উপর, আঞ্জামের উপর আর ইনতেহা এর উপর নজর হওয়া চাই; হালের উপর নয়। যদি এমন হয় তবে তামাম মুশকিলাত খতম হয়ে যাবে। কাম তো আল্লাহ তাআলার, অথচ বাতিলের তাঈদের (সহযোগিতার) দ্বারা কাম চলবে এটা কিভাবে হতে পারে? মাখলুক, (হুকুমতওয়ালা, ঈহদিদার ও এলেম ওয়ালাদের ) তাঈদ ও সহযোগিতা এইজন্য লওয়া হয় যে, যাতে করে কামের মধ্যে তাদেরও হিস্সা লেগে যায়। এটা তাদের সাআদাতের জন্য; কিন্তু কামে তাদের তাঈদ এর জরুরত নেই।
কাম দ্বীনের মত মোস্তাগনি। ইসলাম বহত বাদশাহী ধর্ম। ইসলামের জন্য মুসলমানদের জরুরত নেই; মুসলমানদের জন্য ইসলাম জরুরত। আল্লাহ তাআলা চেতানেওয়ালাদের দেখেননা। আল্লাহ তাআলা হেদায়েতের জরিয়া বাননেওয়ালাদেরকে দেখেন, যে তারা কি করে? তাদের সবর দেখেন। তাক্বওয়া ব্যাতীত সবর মজলুম নয়; বরং খোদ জালিম। মুমিন হোচট খেয়ে পড়তে থাকবে; আবার উঠতে থাকবে। *বাতিল যখন হোচট খাবে তখন হামেশার জন্য হোচট খেয়ে পড়ে যাবে। বাতিলদের এমন মজবুত নজরে আসে যে, এমন মনে হয় যে তারা কখনোই হোচট খাবেনা। আর যখন হোচট খায়, তো চিরদিনের জন্য হোচট খায়। শয়তান এই খেয়াল ঢালে যে, মাখলুক এই কামকে খতম করে দিবে। বাস্তবে এই কাম তো খালেকের।*
দালায়ালের দ্বারা নয় আমলের দ্বারা কাম বুঝাও। দালায়াল তো কমজোর হয়। যে কামের মধ্যে থাকবে, সে কামকে বুঝবে। কাম করতে গিয়ে জিল্লতির মধ্যে না পড়লে এই কামের ইজ্জত পর্যন্ত পৌছা সম্ভব হবেনা। _যদি ইনতেকাম ও প্রতিশোধের জঝবা থেকে বিরত থাকা যায় এবং মালের মহব্বত থেকে বেঁচে থাকা যায় তো বাতিলের উপর কামের জিত হবে।