Dawat o Tableeg

Dawat o Tableeg Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Dawat o Tableeg, Religious organisation, 8/2/Ka, Shantibag, Dhaka.

05/11/2024

আল্লাহ তাআলা দাঈয়ীর ইমতিহান ও পরীক্ষা রুকাওয়াটের দ্বারা নিয়ে থাকেন। *যখন হক্বের রাস্তায় কোন রুকাওয়াট ও বাঁধা আসে, তো তা হক্বের কুওয়‍্যাত ও শক্তিকে জাহির করার জন‍্য আসে; হক্ব'কে দূর্বল করার জন‍্য নয়।* কমজোর ঈমানওয়ালা তো হালাতের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে এই কথা মনে করে যে, এই অবস্থায় কাম করা যাবেনা। আল্লাহ'র কামকে মাখলুক খতম করবে -এটা তো সম্ভবই না।

এক কিসিমের লোক এমন আছে যারা হালাতের দ্বারা হতাশাগ্রস্থ হয়ে কাম করা ছেড়ে দেয়। আর এক কিসিম এমন আছে যারা জঝবায় এসে সওয়াল-জওয়াবের মধ্যে লেগে যায়। সওয়ালাত কাম থেকে গাফেল করার জন‍্য হয়ে থাকে। তারা জানে যে, যদি কাম করনেওয়ালাদের সওয়াল -জবাবের মধ্যে মশগুল না করা যায় তবে তারা কামে মশগুল থাকার কারনে আরো আগে বেড়ে যাবে। *যারা বাঁধা হয়ে দাঁড়াবে আল্লাহ তাদেরকে খোদ মিটিয়ে দিবেন।* আর যারা মঈন বনবে তারা তোমাদের কামে আসবে। _তোহমদ ও সওয়ালাত এই দুই জিনিস আম্বিয়াদের বেলায় পেশ আসতো।_

*তোহমদ এইজন‍্য লাগানো হয় যে, যাতে করে আওয়াম লোকদের এ'তেমাদ খতম হয়ে যায়। তোহমদ এইজন‍্য লাগানো হয় যে, যাতে করে কাম করনেওয়ালাদের কামের যোগ‍্যতা নষ্ট হয়ে যায়। মূলত তোহমদের কারণে আওয়াম আরো মোতাওয়াজ্জু হয়। যত তোহমদ হবে তত কামের প্রচার ও পরিচয় বেড়ে যাবে।* নবীগণকে পাগল, জাদুকর বলা হতো; তো লোকেরা দেখতে আসতো যে, কে এই পাগল ও জাদুকর? সওয়ালাত কাম থেকে পিছে হঠানোর জন‍্য আসে। এইজন‍্য কাম ছেড়ে জওয়াব দেয়ার মধ্যে না ফাঁসা চাই।

তোহমদ লাগানেওয়ালা আর সওয়ালাত করনেওয়ালারাদের মাজুর মনেকরে তাদের জন‍্য দোয়া করতে থাকি। *হালাত দাঈয়ীদের এস্তেকামাত দেখার জন‍্য আসে। যে হালই আসুক তাকে কামের জন‍্য মুফিদ মনেকর। হালকে কামের জন‍্য মুজির মনে না কর। হালের কারণে দাঈয়ী হতাশ না হওয়া চাই।*

যখনই কোন হাল আসে তখন ওয়াদার উপর, আঞ্জামের উপর আর ইনতেহা এর উপর নজর হওয়া চাই; হালের উপর নয়। যদি এমন হয় তবে তামাম মুশকিলাত খতম হয়ে যাবে। কাম তো আল্লাহ তাআলার, অথচ বাতিলের তাঈদের (সহযোগিতার) দ্বারা কাম চলবে এটা কিভাবে হতে পারে? মাখলুক, (হুকুমতওয়ালা, ঈহদিদার ও এলেম ওয়ালাদের ) তাঈদ ও সহযোগিতা এইজন‍্য লওয়া হয় যে, যাতে করে কামের মধ্যে তাদেরও হিস্সা লেগে যায়। এটা তাদের সাআদাতের জন‍্য; কিন্তু কামে তাদের তাঈদ এর জরুরত নেই।

কাম দ্বীনের মত মোস্তাগনি। ইসলাম বহত বাদশাহী ধর্ম। ইসলামের জন্য মুসলমানদের জরুরত নেই; মুসলমানদের জন‍্য ইসলাম জরুরত। আল্লাহ তাআলা চেতানেওয়ালাদের দেখেননা। আল্লাহ তাআলা হেদায়েতের জরিয়া বাননেওয়ালাদেরকে দেখেন, যে তারা কি করে? তাদের সবর দেখেন। তাক্বওয়া ব‍্যাতীত সবর মজলুম নয়; বরং খোদ জালিম। মুমিন হোচট খেয়ে পড়তে থাকবে; আবার উঠতে থাকবে। *বাতিল যখন হোচট খাবে তখন হামেশার জন‍্য হোচট খেয়ে পড়ে যাবে। বাতিলদের এমন মজবুত নজরে আসে যে, এমন মনে হয় যে তারা কখনোই হোচট খাবেনা। আর যখন হোচট খায়, তো চিরদিনের জন‍্য হোচট খায়। শয়তান এই খেয়াল ঢালে যে, মাখলুক এই কামকে খতম করে দিবে। বাস্তবে এই কাম তো খালেকের।*

দালায়ালের দ্বারা নয় আমলের দ্বারা কাম বুঝাও। দালায়াল তো কমজোর হয়। যে কামের মধ্যে থাকবে, সে কামকে বুঝবে। কাম করতে গিয়ে জিল্লতির মধ্যে না পড়লে এই কামের ইজ্জত পর্যন্ত পৌছা সম্ভব হবেনা। _যদি ইনতেকাম ও প্রতিশোধের জঝবা থেকে বিরত থাকা যায় এবং মালের মহব্বত থেকে বেঁচে থাকা যায় তো বাতিলের উপর কামের জিত হবে।

25/10/2024

সাউথ আফ্রিকা ও হাবশার আলমি ইজতেমা: হযরতজী মাওলানা মোহাম্মদ সা'দ কান্ধলভী হাফি: উপস্থিতিতে দাওয়াতের ময়দানে নব জাগরণ তৈরি হয়েছে

সৈয়দ আনোয়ার আবদুল্লাহ
==================================
মাত্র শেষ হলো সাউথ আফ্রিকার ইজতেমা। তাবলীগ জামাতের বিশ্ব আমীর হযরতজী মাওলানা মোহাম্মদ সাদ কান্ধলভী সেই সারা জাগানো আলমি ইজতেমা শেষ করে এখন ইউথোপিয়া হাবশার ইজতেমায় পৌছেছেন। তাবলীগ জামাতের বিশ্ব আমীরের উপস্থিতি ও গুরুত্বপূর্ণ দিক নির্দেশনায় গোটা আফ্রকা ও আরব জাহানে দাওয়াতের ময়দানে নতুন প্রাণের সঞ্চার হয়েছে। বিশ্বব্যাপী দাওয়াত ও তাবলীগের নিরব বিপ্লবের এক নব জাগরণের বিপ্লবী ঢেউ উঠেছে এই সুবিশাল মুসলিম অঞ্চলে। সেসব অঞ্চলে ইমারত ভিত্তিক দাওয়াতে ইল্লাল্লাহর নববী কাজের সূচনা হয়েছে আলহামদুলিল্লাহ। আফ্রিকা ইজতেমায় উপলক্ষে সারা দুনিয়ার ইসলামী স্কলারগন শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন বার্তা দিয়েছেন। অনেকে এই সুবিশাল আয়োজনকে অভিবাদন জানিয়ে মোবারকবাদ জানিয়েছেন।দক্ষিণ আফ্রিকা ও হাবশায় ইজতেমায় তাবলীগ জামাতের বিশ্ব আমীর হযরতজী মাওলানা মোহাম্মদ সা'দ কান্ধলভী হাফি: এর রাজকীয় ইস্তেকবাল (অভ্যর্থনা) জানান সেদেশের উলামায়ে কেরাম।

ঢেলে সাজানো হচ্ছে পুরো আফ্রিকার মেহনত:

কেপটাউন ডারবান নতুন আমীর ও শূরা মনোনীত করা হয়েছে আলহামদুলিল্লাহ! এর মধ্য দিয়ে পুরো আফ্রিকার সকল দেশ ও প্রদেশে তাবলীগ জামাতের নতুন আমীর ও শূরা সদস্য করা শুরু হয়েছে। কেপটান এর জামাত বানানোর মধ্য দিয়ে, তাবলীগ জামাতের বিশ্ব আমীর হযরতজী মাওলানা মোহাম্মদ সা'দ কান্ধলভী এই ইমারত ভিত্তিক দাওয়াতের পদ্ধতি পুরো আফ্রিকাতে চালু করতে চাচ্ছেন। তিনি দক্ষিন আফ্রিকার আলমি ইজতেমা শেষ করে এখন বিলাল হাবশীর দেশ হাবশা ইজতেমায় শরীক হয়েছেন। সে৷ পুরো আফ্রিকাতে সারা জাগানো এই দুটি ইজতেমা এই বিশাল অঞ্চলের দ্বীনী আন্দোলনের নতুন রূপরেখা তৈরী করবে ইনশাআল্লাহ। বিশেষ করে দক্ষিণ আফ্রিকার ইজতেমা সে অঞ্চলে যে প্রভাব তৈরি করেছে, তা ইসলামি দাওয়াতের ময়দানে বিশ্বব্যাপী নতুন ইতিহাস তৈরী করবে ইনশাআল্লাহ

হাবেশায় ঐতিহাসিক বিশ্ব ইজতিমা শুরু হচ্ছে আজ:

আলহামদুলিল্লাহ আল্লাহ সুবহানা ওয়াতাআলার ফজল, গত সপ্তাহে ডারবান আন্তর্জাতিক ইজতেমার ব্যাপক সাফল্যের পর, আরেকটি আন্তর্জাতিক ইজতেমা যা ডারবান ইজতেমার চেয়ে ৩ গুণ বড়, ইসলামের প্রথম হিজরত ও নিরাপত্তার ভূমি হাবশায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। বিশ্ব তাবলিগী আমীর হজরতজি দাঃবাঃ গত ২৩ অক্টোবর, ২০২৪ রাত ৯টার দিকে ডারবান থেকে বোলে আদ্দিস আবাবা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। হজরতজী রাতে হাবরশা মারকাজে অবস্থান করছেন। আশা করা হচ্ছে, কিছুক্ষণ পর ঐতিহাসিক এই ইজতেমা ময়দানে হযরতজী তাশরীফ আনবেন। পাকিস্তানের ৪র্থ আমির হযরত মাওলানা হারুন কোরেসী সাহেব দাঃবাঃ, বাংলাদেশের শুরা ফায়সাল হযরত সৈয়দ ওয়াসিফুল ইসলাম দাঃবাঃ সহ ১২০টি দেশের আকাবির, শুরা, ওলামা ও আহবাব এবং সাথীরা অংশগ্রহণ করতে যাচ্ছেন ইনশাআল্লাহ।

১২০টি দেশ অংশ নিচ্ছে:
ইনশাআল্লাহ এই ইজতেমা তাবলীগের ইতিহাসে আগের সব ইজতেমার রেকর্ড ভেঙ্গে দেবে। গোটা উম্মাহ র প্রতিনিধিগন বিভিন্ন দেশ, বিভিন্ন ভাষা এবং বিভিন্ন বর্নের জন্য এই ইজতেমা শরিক হচ্ছেন। দক্ষিণ আফ্রিকার জাতীয় সংবাদপত্রে প্রধান শিরোনাম হয়েছে এই ইজতেমা। ১১০এর বেশি দেশের ৩০০০০এরও বেশি লোক ইজতেমায় অংশগ্রহণ করেছিল। এদিকে ১২০টি দেশের লাখ লাখ মানুষ আজ এই হাবশা ইজতেমায় যোগ দিতে যাচ্ছেন ইনশাআল্লাহ।

এই মহান ইজতেমা সফল করতে গত কয়েকমাস ধরে হাবশাবাসী নগর সরকার, পুলিশ অনেক কষ্ট স্বীকার করেছে এবং এই ইজতেমা বাস্তবায়নে রাষ্ট্রিয় সর্বাত্মক সহযোগিতা করে আসছে। ইজতেমায় সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যাক্তিবর্গ অংশ গ্রহন করেছেন। হাবশার মাস্তুরাতরা/মা বোনরা বাড়িতে রোজা রেখেছেন । সারা বিশ্বের মা-বোনেরা বিশ্ব আমীরের নিরাপদ সফরের জন্য এবং আল্লাহ পাকের নুসরতের জন্য দোয়া করেছেন। গত ৩/৪ মাস ধরে হাবশা ইজতেমা সফল করতে একশ’র বেশি বিদেশী জামাত মেহনত করেছে। আল্লাহ সুবহানাহুওয়া তায়ালা আমাদেরকে ৩ দিনের আমলী ইজতেমায় অংশগ্রহণ করার এবং সমগ্র মানবজাতির জন্য হিদায়াতের উসিলা হিসেবে কবুল করুন। আমীন।

সুদানের বাদশার অংশগ্রহণ :

আলহামদুলিল্লাহ। হাবশা ইজতেমার গতকাল ২৩ অক্টোবর, ২০২৪ তারিখ সকাল থেকে এখন পর্যন্ত ইস্তেকবাল ডেস্ক থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে মোট ৭৬টি দেশ হাবশায় চেক ইন করেছে।

সুদান থেকে শেখ ইয়াসিন ও রাজপরিবারের সদস্যরা মাদাগাস্কার ইজতেমায় শরীক হয়েছেন। কয়েক বছর আগে মাদাগাস্কারে ইসলাম মাত্র ১% ছিল ।ক য়েক বছর ধরে ক্রমাগত জামাত পাঠানোর কারনে এখন মাদাগাস্কারে ইসলাম ৫০%। সেখানে ৬০টি তাবলিগী মারকাজ আছে। গত কয়েক বছর মাওলানা মোহাম্মদ সাদ কান্ধলভীর প্রচেষ্টায় সেখানে দাওয়াতের ময়দানে নতুন বিপ্লব ও গন জাগরণ তৈরি হয়েছে।

ইজতিমার আগে ভারত থেকে মোট ৮০টি জামাত এবং বাংলাদেশ থেকে ২৫টি জামাত ইথিওপিয়াতে কাজ করছে।

এবারের ইজতিমাটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ছিল, যেখানে ১১০টি দেশের ১৫০ টিরও বেশি জামাত প্রতিনিধিত্ব করেছিল, হাজার হাজার বিদেশী অতিথি এবং এই বেশিরভাগ দেশের শুরা সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। হজরতজির আলোচনায় আলেম উলামাগন, আমির এবং সাথীদের এই আজিব ইজতেমায় অংশগ্রহন বিশ্বজুড়ে তাবলিগী জামাতের মিশনের ক্রমবর্ধমান শক্তিকে শক্তিশালী করেছে। মাওলানা সা'দ সাহেব তাবলিগী জামাতের মূল লক্ষ্যের উপর জোর দেয়ার সাথে সাথে : ব্যক্তিগত সংশোধন , বিনয়ও নম্রতা এবং আল্লাহর সাথে গভীর সম্পর্কের উপরও তাগিদ দেন। তিনি নিয়মিত সালাত, সুন্নাতের অনুসরন এবং আল্লাহর তায়ালার যিকিরের মতো ইসলামের মৌলিক বিষয়গুলোর প্রতি মনোযোগ দেওয়ার গুরুত্ব প্রদান করেন। তার বয়ান মুসলিম উম্মাহ নতুন দিক নির্দেশনা পেয়েছে।

কেপটাউন আমীর: হযরত ইসমাইল জ্যাকবস দা.বা.।
আর শুরা সদস্য হলোঃ
১/এইচএফ নাসিফ অ্যাডামস
২/নওয়াজ রামপ্রশাদ
৩/মোঃ কাসিম নূর
৪/ ইসমাইল আব্রাহামস
৫/ রিদওয়ান গ্যাফিল্ডিয়েন
৬/ তাসনিম হেনেকে
৭/এইচএফ ফয়েজেল জাপ্পি
৮/এমএল জেন সলোমনস
৯/ শরীফ কোয়েতজী
১০/রিদওয়ান হাবিব
১১/এম.এল.নাজিম সামসোদীন
১২/মোঃ আবদুর রহমান আব্রাহামস
১৩/সুলেমান স্যাম্পসন

এই ধারাবাহিকতা সকল অঞ্চলে নতুন ইমারত ভিত্তিক দাওয়াতের মেহনতের সুন্নত পদ্ধতি চালু হচ্ছে। আল্লাহ তাআলা রাসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আহাম এই নববী পদ্ধতিকে আবার পুরো উম্মাহর মাঝে বাস্তবায়ন করার তাওফিক দান করুন।আল্লাহ আমাদের হযরতজী, আকাবির, ওলামাদের এই মহৎ মেহনতে বরকত দান করুন।আমিন।

পাথরে খোদিত আরবি লেখাটি যেন আমাদের এক অনন্ত সত্যের মুখোমুখি দাঁড় করায়: "তুমি চলে গেলে, ঢেউগুলো থেমে যাবে না"। এর গভীরতা ...
07/10/2024

পাথরে খোদিত আরবি লেখাটি যেন আমাদের এক অনন্ত সত্যের মুখোমুখি দাঁড় করায়: "তুমি চলে গেলে, ঢেউগুলো থেমে যাবে না"। এর গভীরতা বোঝাতে গেলে বলা যায়, মানবজীবনের ক্ষণস্থায়িত্বের তুলনায় প্রকৃতি ও সময়ের প্রবাহ চিরন্তন। আমাদের উপস্থিতি বা অনুপস্থিতি, তাতে এ বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের এক বিন্দুও থমকে থাকে না। জীবন চলে, সময় তার নিরবচ্ছিন্ন গতিতে এগিয়ে চলে, কোনো কিছুর জন্য অপেক্ষা করে না।

এই ভাবনার সরল রূপ হতে পারে— "আপনার চলে যাওয়া হয়তো আপনাকে ভাবায়, কিন্তু এই বিশাল পৃথিবী তার নিজস্ব ছন্দে অনির্বাণ গতিতে চলতে থাকে। এখানে একটি পাতা ঝরে গেলে, আরেকটি পাতা জন্ম নেয়। আপনার অনুপস্থিতিতে প্রকৃতির বা সময়ের কোনো স্থবিরতা নেই।"

এই উপলব্ধি হয়তো আমাদের জীবনের সাময়িকতাকে স্বীকার করার আহ্বান জানায় এবং জীবন ও মৃত্যুর সীমারেখাকে ছাড়িয়ে একটি বৃহত্তর, চিরন্তন সত্যকে আলিঙ্গন করে।

05/10/2024

আপনাদের সকলকে ফেসবুক পেজ AUZ News (আজ নিউজ) 24 লাইক এবং ফলো করার আমন্ত্রণ জানাচ্ছি! দেশের এবং বিশ্বের সর্বশেষ খবর, বিনোদন, খেলা, প্রযুক্তি সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আপডেট পেতে এখনই এই পেজটি লাইক এবং ফলো করুন। আপনাদের সমর্থন পেজটিকে আরও অনুপ্রাণিত করবে নতুন ও তথ্যবহুল কন্টেন্ট তৈরি করতে। ধন্যবাদ!
https://www.facebook.com/auznews24

সত্য ও ন্যায়ের পথে

আজ নিউজ, সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৪
29/09/2024

আজ নিউজ, সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৪

ইসলাম একটি শান্তি ও সমতার ধর্ম। এর মূল বার্তা মানবতার কল্যাণ, শান্তি, এবং সহমর্মিতা প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানায়। যখ.....

28/09/2024

সিজদার গভীরতা কতটুকু? এক সিজদার শক্তি এমন যে, জিবরাইল আ. এর ছয়শো পাখার পরিধি থাকা সত্ত্বেও যে সীমা তিনি অতিক্রম করতে পারেননি, এক বিনম্র বান্দা সেই সীমা অনায়াসে অতিক্রম করে। সিজদা কেবল একটি শারীরিক ক্রিয়া নয়; এটি আত্মার এক মহাজাগতিক যাত্রা, যেখানে সৃষ্টি এবং স্রষ্টার মাঝে কোনো দূরত্ব থাকে না। সৃষ্টির সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম করে সিজদা এমন এক নিবিড় সংযোগ সৃষ্টি করে, যেখানে বান্দা তাঁর প্রভুর সান্নিধ্যে ধাবিত হয়। এই সিজদাতেই লুকিয়ে আছে মানুষের অন্তহীন সম্ভাবনা ও মহানত্বের আসল রূপ।

আজ নিউজ, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৪
28/09/2024

আজ নিউজ, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৪

নারীর অধিকার নিয়ে আলোচনা বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন সময়ে, বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে উঠে এসেছে। এই আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপ.....

আজ নিউজ, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৪
28/09/2024

আজ নিউজ, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৪

বর্তমান বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হলো পরিবেশ সংকট। পরিবেশ দূষণ, প্রাকৃতিক সম্পদের অপচয়, এবং জলবায়ু পর....

28/09/2024

অন্তরের ১০টি রোগের বর্ণনা

ভূমিকা

অন্তরের ১০টি রোগের চিকিৎসা করে অন্তরের ১০টি গুণ হাসিল করার নাম তাযকিয়া বা আত্মশুদ্ধি। যা শরী‘আতের দৃষ্টিতে ফরযে আইন এবং এর জন্যে কোন ইজাযত প্রাপ্ত শাইখের সাথে ইসলাহী সম্পর্ক করাও ফরযে আইন। বাইআত হওয়া ফরয বা ওয়াজিব নয় বরং এটা মুস্তাহাব, এর উপর আত্মশুদ্ধি নির্ভর করে না। আত্মশুদ্ধি অর্জন হলে সমস্ত জাহেরী গুনাহ বর্জন করা এবং জাহেরী ইবাদত-বন্দেগী করা সহজ হয়ে যায় এবং সেই বন্দেগীকে তাকওয়ার যিন্দেগী বা সুন্নতী যিন্দেগী বলে এবং সে ব্যক্তি তথন আল্লাহর ওলী হয় এবং তার হায়াতে তাইয়িবা তথা পবিত্র জীবন নসীব হয়। আল্লাহ তা‘আলা সকলকে এ দৌলত নসীব করেন, আমীন।

১. বেশী খাওয়া এবং ভাল খানার প্রতি লোভী হওয়া

বেশি খাওয়া এবং উদর পূর্তি করে খাওয়া অসংখ্য গুনাহের মূল। এজন্য হাদীসে পাকে ক্ষুধার্ত থাকার অনেক ফযীলত বর্ণিত হয়েছে। রাসূল আকরাম সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেনঃ “মানুষের জন্য পূর্ণ করার ক্ষেত্রে পেটের থেকে খারাপ কোন পাত্র নেই।” (বুখারী হা: নং ৪৩৪৩)

খানা কম খাওয়ার উপকারসমূহ

১. অন্তরে স্বচ্ছতা সৃষ্টি হয়। ২. দিল নরম হয় এবং মুনাজাতে স্বাদ অনুভূত হয়। ৩. অবাধ্য নফস অপদস্থ ও পরাজিত হয়। ৪. নফসকে শাস্তি দেওয়া হয়। ৫. কুপ্রবৃত্তি দুর্বল হয়ে যায়। ৬. বেশী নিদ্রা আসে না এবং ইবাদত কষ্টকর হয় না। ৭. দুনিয়াবী চিন্তাভাবনা কমে আসে এবং জীবিকা নির্বাহের বোঝা হাল্কা হয়ে যায়।

উল্লেখ্য বর্তমান যামানার লোকেরা পূর্বের তুলনায় অনেক কমজোর হওয়ায় তাদের খানার মুজাহাদার ব্যাপারে হাকীমুল উম্মত হযরত থানভী রহ. লিখেছেনঃ এ যমানায় খানার মুজাহাদার অর্থ হলো পেট পূর্ণ হতে ২/৪ লুকমা বাকী থাকা অবস্থায় খানা শেষ করা এবং নফস বা শরীর দিয়ে খুব কাজ নেয়া।

২. অধিক কথা বলা

যবান হল অন্তরের দূত, অন্তরের যাবতীয় নকশা ও কল্পনাকে যবানই প্রকাশ করে। এজন্য যবানের ক্রিয়া বড় মারাত্মক হয়।

এজন্যই আল্লাহ পাক ইরশাদ করেছেনঃ তোমাদের প্রত্যেকটা কথাই সংরক্ষণ করা হয়। (সূরা কাফ-১৮)

হাদীসে পাকে ইরশাদ হয়েছেঃ যে ব্যক্তি নিজের লজ্জাস্থান এবং জিহবাহর ব্যাপারে আমাকে নিশ্চয়তা দিতে পারবে আমি তার জন্য জান্নাতের নিশ্চয়তা দিব। (বুখারী হা: নং ৬৪৭৪)

কথা বেশী বলার ক্ষতিসমূহ

১. মিথ্যা বলায় অভ্যস্ত হয়ে পড়া। ২. গীবতে জড়িয়ে পড়া। ৩. অনর্থক ঝগড়া করা। ৪. অতিরিক্ত হাসাহাসি করা, যাদ্দরুন দিল মরে যায়। ৫. অন্যের অযাচিত প্রশংসা করা।

চুপ থাকার উপকারিতা

১. মেহনতবিহীন ইবাদত। ২. সাম্রাজ্যবিহীন দাপট। ৩. দেওয়ালবিহীন দূর্গ। ৪. অস্ত্রবিহীন বিজয়। ৫. কিরামান কাতবীনের শান্তি। ৬. আল্লাহভীরুদের অভ্যাস। ৭. হেকমতের গুপ্তধন। ৮. মূর্খদের উত্তর। ৯. দোষসমূহ আবৃতকারী। ১০. গুনাহসমূহ আচ্ছাদনকারী।

৩. অহেতুক গোস্বা করা

এটা অত্যন্ত খারাপ একটি আত্মিক ব্যাধি। রাগ দোযখের আগুনের একটি টুকরা এজন্য রাগান্বিত ব্যক্তির চেহারা লাল হয়ে যায়। এর কারণে মারামারি ঝগড়াঝাটি, গালাগালী, এমনকি খুনাখুনী পর্যন্ত সংঘটিত হয়।

এমনকি অনেকে বৃদ্ধি বয়সে এসে তুচ্ছ ঘটনায় বিবিকে তিন তালাক দিয়ে পস্তাতে থাকে। মহানবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন: ঐ ব্যক্তি বাহাদুর নয় যে যুদ্ধের ময়দানে দুশমনকে নীচে ফেলে দেয় বরং ঐ ব্যক্তি বাহাদুর যে রাগের মুহূর্তে নিজেকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম। (বুখারী হাদীস নং ৬১১৪)

গোস্বার চিকিৎসা

দুইভাবে গোস্বার চিকিৎসা করা হয়। ১. ইলমী বা জ্ঞানগত পদ্ধতিতে ২. আমলী বা কার্যগত পদ্ধতিতে।

ইলমী চিকিৎসা হলো

গোস্বার সময় চিন্তা করতে হবে গোস্বা কেন আসে? গোস্বা আসার কারণ তো এটাই যে, যে কাজটি আল্লাহর ইচ্ছায় হয়েছে সে কাজটি আমার মনের মোতাবেক কেন হয়নি? কেন এটা আল্লাহর ইচ্ছা অনুযায়ী হল? তার মানে আমি আল্লাহর ইচ্ছাকে আমার ইচ্ছার অনুগত বানাতে চাই? নাউযুবিল্লাহ! এভাবে চিন্তা করলে গোস্বার বদ অভ্যাস দূর হয়ে যাবে।

আর আমলী চিকিৎসা হলো

গোস্বা আসলে:

১. পড়বে,

اعُوْذُ بِاللهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيْمِ

২. নিজ অবস্থা পরিবর্তন করবে। অর্থাৎ, দাঁড়ানো থাকলে বসে পড়বে, বসে থাকলে শুয়ে পড়বে। ৩. যার প্রতি গোস্বার উদ্রেক হয় তার সামনে থেকে সরে পড়বে। ৪. তারপরও গোস্বা ঠান্ডা না হলে উযু করবে, নিজ গালকে মাটিতে লাগিয়ে দিবে। এভাবে আমল করলে গোস্বা দূর হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ।

৪. হিংসা করা

হিংসার সংজ্ঞাঃ কোন ব্যক্তিকে আরাম আয়েশ বা প্রাচুর্যপূর্ণ অবস্থায় দেখে তার সে নেয়ামত দূরীভূত হয়ে নিজের জন্য হাসিল হওয়ার আকাংখা করা। হিংসা অত্যন্ত জঘন্য একটি ব্যাধি।

আল্লাহ তা‘আলা হাদীসে কুদসীতে বলেনঃ আমার বান্দার উপর নেয়ামত দেখে হিংসাকারী কেমন যেন আমার ঐ বন্টনের ব্যাপারে অসন্তুষ্ট যা আমি আমার বান্দাদের মধ্যে করেছি। নাউযুবিল্লাহ। (এহয়াউ উলুমুদ্দীন-৩/২৯২)

রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেনঃ “হিংসা নেকী সমূহকে এমনভাবে জ্বালিয়ে দেয় যেমন আগুন শুকনো লাকড়ীসমূহকে জ্বালিয়ে দেয়”। অবশ্য অন্যের কোন নেয়ামত দেখে সেটা তার মধ্যে বহাল থেকে নিজের জন্য হাসিল হওয়ার আকাংখা করা যাকে “গিবতা” বা “ঈর্ষা” বলে সেটা জায়েয। (আবূ দাউদ হাদীস নং-৪৯০৩)

৫. কৃপণতা ও সম্পদের মোহ

সম্পদের মোহই মূলতঃ কৃপণতার মূল আর সম্পদের মুহব্বাত মানুষকে ‍দুনিয়ার দিকে আকৃষ্ট করে। যে কারণে আল্লাহ তা‘আলার প্রতি মুহব্বাত দুর্বল হয়ে যায়।

এ কারণেই কুরআনে কারীমে আল্লাহ পাক ইরশাদ করেনঃ যার ভাবার্থ হল: আল্লাহর দেয়া সম্পদে কৃপণতাকারীদের জন্য পরকালে ভয়াবহ পরিস্থিতি হবে। (সূরা আলে ইমরান আয়াত ১৮০)

হাদীসে পাকে ইরশাদ হয়েছেঃ তোমরা লোভকে নিয়ন্ত্রণ কর কারণ এটা তোমাদের পূববর্তী লোকদেরকে ধ্বংস করেছে। (সহীহ মুসলিম হাদীস নং-২৫৭৮)

বাস্তবিক পক্ষে সম্পদের মোহ মানুষকে আল্লাহ পাক থেকে উদাসীন করে দেয়। এই সম্পদ মুসলমানদের জন্য ভয়াবহ এক ফেতনা।

অবশ্য শুধু সম্পদ কোন নিন্দনীয় ব্যাপার নয়। বিশেষতঃ যদি সে সম্পদ দীনী কাজে ব্যয় করা হয়। নতুবা জরুরত পরিমাণ সম্পদ থাকলে কোন অসুবিধা নেই, যাতে কারো নিকট ভিক্ষার হাত বাড়াতে না হয়। এবং আত্মসম্মান নিয়ে বেঁচে থাকা যায়।

৬. খ্যাতি ও পদের মোহ

খ্যাতি ও পদের মোহ অত্যন্ত নিকৃষ্ট একটি আত্মিক ব্যাধি। এর দ্বারা অন্তরে নিফাক সৃষ্টি হয়। এজন্য নিজেকে সব সময় লুকিয়ে রাখা চাই, খ্যাতির পিছনে পড়া অনুচিত। আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেনঃ এই পরকাল আমি তাদের জন্যে নির্ধারিত করি, যারা দুনিয়ার বুকে ঔদ্ধত্য প্রকাশ করতে ও অনর্থ সৃষ্টি করতে চায় না। (সূরা কিসাস-৮৩)

হাদীসে পাকে রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেনঃ “যদি কোন বকরীর পালের মধ্যে দুটি নেকড়ে প্রবেশ করে তাহলেও সেটা এত ক্ষতি করে না যতটা সম্পদ ও পদের মুহাব্বত দীনদার মুসলমানদের দীনের ক্ষতি করে।” (তিরমিযী হা: নং ২৩৮১, মুঃ আহমাদ হাঃ ১৫৭৯০)

অবশ্য যদি কামনা-বাসনা ছাড়াই আল্লাহ তা‘আলা কাউকে সুখ্যাতি দান করেন হবে সেটা দোষণীয় নয়। যেমন নবীগণ আ. সাহাবীগণ রাযি. তাবেয়ী ও তাবে তাবেয়ীগণ রহ. তাঁদের প্রত্যেকেরই দুনিয়াতে খ্যাতি ছিল কিন্তু তাঁরা কেউ দুনিয়াতে খ্যাতি কামনা করেননি।

৭. দুনিয়াপ্রীতি

দুনিয়াপ্রীতি শুধু সম্পদ ও পদের মুহব্বাতকেই বলেনা বরং ইহজীবনে যে কোন অবৈধ কামনাকে পূর্ণ করার প্রচেষ্টা ও খাহেশকেই দুনিয়াপ্রীতি বলে। অবশ্য দীনী ইলম, মারিফাতে ইলাহী এবং সৎকর্ম যেগুলোর ফলাফল মৃত্যুর পর পাওয়া যাবে, সেগুলো যদিও দুনিয়াতেই সংঘটিত হয় কিন্তু বাস্তবিকপক্ষে এসবের মুহব্বাতকে দুনিয়ার মুহব্বাত বলে না বরং এগুলো হলো আথেরাতের মুহব্বাত।

দুনিয়ার জীবনের নিন্দাবাদ করে মহান আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেছেন “দুনিয়ার জীবনের সবকিছুই ধোঁকার সামান।” (সূরা আল ইমরান, আয়াত- ১৮৫)

অন্যত্র ইরশাদ হয়েছে যে, “দুনিয়ার সামানপত্র, রং তামাশা ও খেলাধুলা ছাড়া আর কিছুই নয়।” (সূরায়ে হাদীদ, আয়াত-২০)

রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেনঃ দুনিয়া হল একটি মরা জন্তু যারা এটাকে লক্ষবস্তু বানিয়েছে তারা হল কুকুরের দল। দুনিয়ার ভোগ বিলাসকে উদ্দেশ্য না করে দুনিয়াকে আখেরাতের প্রস্তুতির হিসেবে ব্যবহার করতে হবে। তাহলে কামিয়াব হওয়া যাবে।

৮. অহংকার করা

তাকাব্বুর বা অহংকার এর অর্থ হলঃ প্রশংসনীয় গুণাবলীর মধ্যে নিজেকে অন্যের তুলনায় শ্রেষ্ঠ মনে করা এবং অন্যকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করা, হক ও সত্যকে অস্বীকার করা। বলা বাহুল্য যে, যখন মানুষ নিজের ব্যাপারে এরূপ ধারণা পোষণ করে এবং আল্লাহর দেয়া গুণসমূহকে নিজের কৃতিত্ব মনে করে তখন তার নফস ফুলে উঠে, অতঃপর কাজকর্মে এর প্রতিক্রিয়া প্রকাশ পেতে থাকে, উদাহরণস্বরূপ: রাস্তায় চলার সময় সাথীদের আগে আগে চলা, মজলিসে সদরের মাকামে বা সম্মানিত স্থানে বসা। অন্যদেরকে তাচ্ছিল্যের সাথে দেখা বা আচরণ করা অথবা কেউ আগে সালাম না দিলে তার উপর গোস্বা হওয়া, কেউ সম্মান না করলে তার উপর অসন্তুষ্ট হওয়া, কেউ সঠিক উপদেশ দিলেও নিজের মর্জির খেলাফ হওয়ায় সেটাকে অবজ্ঞা করা। হক কথা জানা সত্ত্বেও সেটাকে না মানা। সাধারণ মানুষকে এমন দৃষ্টিতে দেখা যেমন গাধাকে দেখা হয় ইত্যাদি।

পবিত্র কুরআন ও হাদীসের অনেক আয়াতে ‘অহংকার’ এর নিন্দাবাদ করা হয়েছে, অহংকারের কারণেই ইবলীস বেহেশত থেকে বিতাড়িত হয়েছে। অহংকারের কারণেই আবূ জাহাল মহানবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে সত্য জেনেও অস্বীকার করেছে।

৯. আত্মতুষ্টি

আত্মতুষ্টি বা নিজেকে নিজে সঠিক মনে করা মূলত: এটা অহংকারেরই ভূমিকা বা প্রাথমিক রূপ। পার্থক্য শুধু এতটুকু যে, অহংকারের ক্ষেত্রে অন্যদের তুলনায় নিজের নফসকে বড় মনে করা হয় আর আত্মতুষ্টির মধ্যে অন্যদের সাথে তুলনা করা ছাড়াই স্বীয় নফসকে নিজ খেয়ালে কামেল মনে করা হয়। এবং আল্লাহ প্রদত্ত নেয়ামতসমূহকে নিজের হক মনে করা হয়, অর্থাৎ, এটাকে আল্লাহর দান ও অনুগ্রহ মনে করা হয় না এবং সেটা যে কোন মুহূর্তে ছিনিয়ে নেয়া হতে পারে সে ব্যাপারে শংকাহীন হয়ে পড়া। এটাকেই তাসাওউফের পরিভাষায় “উজুব” বা “খোদপছন্দী” বলে। এটার চিকিৎসা করা না হলে এটাই কিছু দিন পরে অহংকারে পরিণত হয়ে বান্দাকে ধ্বংসের পথে নিয়ে যায়।

১০. লোক দেখানো (রিয়া বা প্রদর্শনী)

রিয়া বলা হয় নিজ ইবাদত ও ভাল আমলের মাধ্যমে মানুষের অন্তরে বড়ত্ব ও মর্যাদার আকাংখা করা।

এটা ইবাদতের মূল উদ্দেশ্যের সম্পূর্ণ বিপরীত ব্যাপার। কেননা ইবাদতের দ্বারা মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা। এখন যেহেতু এই আমলের উদ্দেশ্যের মধ্যে অন্য শরীকও চলে এসেছে, বিধায় একে “শিরিকে আসগার” বা ছোট শিরক বলা হয়।

কুরআনে কারীমে আল্লাহ পাক ইরশাদ করেনঃ মানুষকে শুধুমাত্র আল্লাহর উদ্দেশ্যে ইবাদত করার হুকুম করা হয়েছে। (সূরায়ে বায়্যিনাহ আয়াত-৫)

হাদীসে পাকে ইরশাদ হয়েছেঃ “কিয়ামতের দিন সবপ্রথম যে তিন শ্রেণীর ব্যক্তিকে অধোমুখে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে তারা সবাই হবে রিয়াকার।” তারা সারা জীবন দীনের পথে থেকেও অন্তরের একটি রোগের কারণে সকলের পূর্বে জাহান্নামে যাবে। রিয়াকে “শিরকে খফী” বা গোপন শিরকও বলা হয়।

রিয়ার সূরতসমূহ

মোট ছয় ভাবে রিয়া হতে পারে। ১। শরীরের দ্বারা ২। অঙ্গভঙ্গির দ্বারা ৩। আকৃতি অবলম্বনের দ্বারা ৪। কথাবার্তার দ্বারা ৫। আমলের দ্বারা ৬। নিজ মুরীদ ও ভক্তের আধিক্য ও নিজের ইবাদত বন্দেগীর বর্ণনার দ্বারা।

16/09/2024

***দুরূদ শরীফের ফজীলতের সংক্ষিপ্ত সূচী***

হযরত আল্লামা সাখাবী (রহ.) দুরুদ শরীফ পাঠ করার দ্বারা যে সব সওয়াব ও নেয়ামত পাওয়া যায় প্রথমত তা তিনি সংক্ষিপ্ত আকারে এভাবে লিখেছেন যে, দ্বিতীয় অধ্যায়, দুরুন্দ শরীফের সওয়াব সম্পর্কে বর্ণনা। যেমন তিনি লিখেছেন-
০১। আল্লাহ পাক স্বয়ং দুরুদ শরীফ পাঠ করেন।
০২। ফেরেস্তারা দুরুদ শরীফ পাঠ করেন।
০৩। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজেই তাঁর প্রতি দুরুদ শরীফ পাঠ করেন।
০৪। দুরুদ শরীফ পাঠ করলে গোনাহের কাফফারা হয়।
০৫। তাদের আমল পবিত্র হয়, তাদের মর্তবা ও পদমর্যাদা বৃদ্ধি পায় এবং তাদের সম্মান উঁচু ও উন্নত করে দেওয়া হয়।
০৭। তাদের গোনাহ্ ক্ষমা করে দেওয়া হয়।
০৮। দুরুদ শরীফই তাদের জন্য ক্ষমাপ্রার্থী হয়।
০৯। তাদের আমলনামায় ওহুদ পাহাড়ের মত এক কেরাত সওয়াব লেখা হয়।
১০। তাদের আমলনামা অনেক বড় পাল্লায় ওজন করা হয়।
১১। যারা দোয়া করার পরিবর্তে দুরুদ শরীফ পাঠ করেন তাদের দুনিয়া ও আখেরাতের সকল চিন্তা ফিকির দূর করে দেওয়া হয়। যেমন ৯ নং হাদীসে হযরত উবাই বিন কায়াব (রা.) এর হাদীস দ্বারা বর্ণনা করা হয়েছে।
১২। তাদের আমলনামা থেকে গোনাহসমূহ মুছে দেওয়া হয়।
১৩। গোলাম আজাদ করা থেকে তাদের সওয়াব বেশী হয়।
১৪। ভয়-ভীতি থেকে তারা নিরাপদ হন
১৫। কেয়ামতের দিন তাদের জন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শাফাআতকারী ও সাক্ষী হন।
১৬। তাদের জন্য শাফাআত ওয়াজিব হয় ১৭। আল্লাহ পাক তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হন এবং তারা রহমত পান।
১৮। আল্লাহর অসন্তুষ্টি থেকে তারা নিরাপদে থাকেন।
১৯। কেয়ামতের দিন আরশের নিচে ছায়া পান।
২০। কেয়ামতের দিন তাদের আমলসমূহ ওজন করার সময় নেক আমলের পাল্লা ভারী হয়ে যায়।
২১। তারা হাওজে কাওসার কূপে উপস্থিত হওয়ার সুযোগ পান।
২২। কেয়ামতের ভীষন পিপাসার কষ্ট থেকে নিরাপদে থাকেন।
২৩। জাহান্নামের আগুন থেকে নিরাপদে থাকেন।
২৪। পুলসিরাতের উপর দিয়ে নিরাপদে পার হন।
২৫। তারা মৃত্যুর পূর্বেই আপন জান্নাতের প্রিয় স্থানটি দেখে নেন।
২৬। জান্নাতে অনেক হুর তারা স্ত্রী হিসাবে পান।
২৭। আল্লাহর রাস্তায় বিশটি জেহাদ করার চেয়েও তাদের সওয়াব বেশী হয়।
২৮। গরীবদের অর্থের অভাবে দান ছদকা না করার কারণে যে ক্ষতি হয় এবং দান সদকার যে সওয়াব থেকে মাহরুম হন সে ক্ষতি পুষিয়ে নেয়।
২৯। দুরুদ শরীফ যাকাতের মত পাঠকারীকে পবিত্র করে দেয়।
৩০। দুরুদ শরীফ পাঠ করলে ধন-সম্পদে বরকত হয়।
৩১। দুরুদ শরীফের বরকতে একশত প্রয়োজন পূর্ণ হয়। বরং এর থেকে বেশী প্রয়োজনও পূর্ণ হয়।
৩২। দুরুদ শরীফ পাঠ করার দ্বারা ইবাদতের মত সওয়াব হয়।
৩৩। সকল আমলের মধ্য হতে দুরুদ শরীফ আল্লাহর কাছে বেশী প্রিয়।
৩৪। দুরুদ শরীফ মজলিসসমূহকে সৌন্দর্যমণ্ডিত করে।
৩৫। অভাব-অনটনকে দূর করে এবং রুজীর কষ্টকে দূর করে।
৩৬। দুরুদ শরীফ পাঠকারীদের জন্য নেক আমল করার সুযোগ করে দেওয়া হয়।
৩৭। তারা কেয়ামতের দিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বেশী কাছে থাকবেন।
৩৮। তারা ও তাদের পরবর্তী সন্তানরাও দুরুদ শরীফের বরকত পেতে থাকে।
৩৯। যাদের উপর ইসালে সওয়াব করেন তারাও উপকৃত হতে থাকেন।
৪০। তারা আল্লাহ পাক ও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকটতম ও প্রিয় পাত্র হয়ে থাকেন।
৪১। দুরুদ শরীফ নূর।
৪২। দুরুদ শরীফ পাঠ করা দুশমনের উপর জয়ী হওয়ার মাধ্যম।
৪৩। অন্তরকে মুনাফেকী থেকে মুক্ত করে। ৪৪। অন্তরের ময়লা দূর করে।
৪৫। দুরুদ শরীফ পাঠ করলে মানুষের অন্তরে তাঁর প্রতি ভালোবাসা সৃষ্টি হয়।
৪৬। স্বপ্ন যোগে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাক্ষাৎ পাওয়ার উপায়।
৪৭। দুরুদ শরীফ পাঠকারী মানুষের নিন্দা থেকে মুক্তি পান।
৪৮। দুরুদ শরীফ বরকতময় উত্তম আমলমূহের অন্যতম।
৪৯। দ্বীন-দুনিয়ায় সব থেকে বেশী উপকারী আমল।
৫০। যে জ্ঞানী ব্যক্তি অনেক বেশী সওয়াব অর্জন করতে আগ্রহী হন ও বেশী সওয়াব জমা করে রাখতে চান এবং সওয়াবের ফলও বেশী ভোগ করতে চান, তাঁর জন্য দুরুদ শরীফ পাঠ করা উত্তম আমল।

এই সংক্ষিপ্ত আকারে ফজীলতসমূহ লিখার পর এ সব ফজীলতের দলীল হিসাবে প্রতিটি ফজীলতের জন্য বিস্তারিতভাবে হাদীস পেশ করেছেন। যে হাদীস সমূহের কিছু হাদীস এ কিতাবের প্রথম অধ্যায়ে বর্ণিত হয়েছে এবং কিছু হাদীস এ দ্বিতীয় অধ্যায়ে বর্ণিত হবে। সেসব হাদীসসমূহ পেশ করার পর তিনি লিখেছেন, এই সব হাদীস দ্বারা দুরুদ শরীফ পাঠকারীদের বুযুর্গী ও সম্মান হাসিলের প্রমাণের জন্য স্পষ্ট দলীল হল, দুরুদ শরীফ পাঠকারীর প্রতি স্বয়ং আল্লাহ পাকও দুরুদ শরীফ পাঠ করেন। যার দ্বারা এ কথা প্রমাণ হয় যে, তার প্রতিটি আমলের সওয়াব দশ গুণ বেড়ে যাবে। তার নেকীসমূহ বাড়তে থাকবে এবং তার গোনাহ সমূহের কাফফারা হবে। তাঁর মর্যাদা ও মর্তবা বাড়তে থাকবে। সুতরাং যত বেশী সম্ভব সকল ভাগ্যবানের থেকে বেশী ভাগ্যবান এবং সকল কামিয়াবীর খাজানা (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের) প্রতি বেশী থেকে বেশী দুরুন্দ শরীফ পাঠ করা উচিত। কেননা দুরুদ শরীফ পাঠ করা খুশী হাসিল হওয়ার কারণ ও উত্তম বদলা পাওয়ার মাধ্যম এবং ক্ষতিসমূহ থেকে নিরাপদ থাকার ওসীলা। জমীন ও আসমানের অসীম শক্তির অধিকারী আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রতিটি দুরুদ শরীফের বিনিময়ে দশটি দুরুদ শরীফের সওয়াব রয়েছে এবং ফেরেস্তাদের পক্ষ থেকেও তাঁর প্রতি দুরুদ পাঠ করা হয়ে থাকে এবং রহমতের দোয়া করা হয়ে থাকে ইত্যাদি।

অন্য স্থানে তিনি আফলিশী (রহ.) এর বাণী বর্ণনা করেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এমন মহামানব, যার প্রতি স্বয়ং আল্লাহ পাকও দুরুদ শরীফ পাঠ করেন ও রহমত প্রেরণ করেন এবং ফেরেস্তারাও তাঁর প্রতি দুরুদ শরীফ পাঠ করেন। আর স্বয়ং আল্লাহ পাক দুনিয়া ও আখেরাতে তাঁকে স্বীয় নৈকট্য দিয়ে বিশেষ সম্মান দান করেছেন। যার শাফায়াতের ওসীলায় সকলের ক্ষমা হবে। এমন ব্যক্তির প্রতি দুরুদ শরীফ পাঠ না করে অন্য কারো থেকে শাফায়াত পাওয়ার আশা করা কি ঠিক হবে? এবং এর থেকে বেশী উপকারী আমল আর কি হতে পারে? মূলত এ দুরুদ শরীফ অনেক বড় নূর এবং দুরুদ শরীফ পাঠ করা এমন ব্যবসা যাতে কোন লোকসান নেই। দুরুদ শরীফ পাঠ করা সকল ওলী ও বুযুর্গানে কেরামের সকাল সন্ধ্যার বিশেষ আমল হিসেবে পরিচিত। সুতরাং যত বেশী সম্ভব হয় দুরুদ শরীফ পাঠ করার কাজে ব্যস্ত থাকা উচিত। কারণ দুরুদ শরীফ দ্বারা গোমরাহী থেকে বের হওয়া সম্ভব হয় এবং সকল প্রকার আমল পরিষ্কার পরিছন্ন হতে থাকে। অন্তরের সকল আশা আকাঙ্খা পূর্ণ হতে থাকে এবং অন্তর নূরানী হতে থাকে। দুরুদ শরীফ পাঠ করার দ্বারা আল্লাহ পাকের সন্তুষ্টি হাসিল হয় এবং কেয়ামতের কঠিন ও ভয়াবহ ভয়-ভীতি এবং পেরেশানীর সময় নিরাপত্তা হাসিল হয়।

ফাজায়েলে দুরুদ শরীফ (শাইয়েখ যাকারিয়া রহঃ)। পৃষ্ঠা-৪৮

#দুরুদশরীফ #ইসলাম #ইবাদত #নবীজি #ফজিলত #আল্লাহররহমত #মহানবী #দোয়া #শাফায়াত #দুয়াডান #ইসলামিকপোস্ট #ইসলামিকশিক্ষা #ফেরেশতা #আমল #কিয়ামত #নেকী #জান্নাত

04/09/2024

একদিন এক গ্রামে একজন দরিদ্র কৃষক বাস করতেন। তার নাম ছিল আবদুল্লাহ। সে প্রতিদিন মাঠে কাজ করত এবং আল্লাহর উপর ভরসা রেখে তার জীবন যাপন করত। কিন্তু একদিন তার প্রতিবেশী রাশিদ হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ল। আবদুল্লাহ তার অসুস্থতার খবর শুনল, কিন্তু নানা ব্যস্ততার কারণে সে তাকে দেখতে যেতে পারল না। সে ভাবল, "আমি তো ছোট মানুষ, আমার সাহায্য না করলেও হয়ত রাশিদ ভালো হয়ে যাবে।" এভাবে দিন গড়াল, এবং রাশিদের অবস্থা খারাপ হতে থাকল।

এক রাতে আবদুল্লাহ স্বপ্নে দেখল, আল্লাহ তাকে বলছেন, "হে আবদুল্লাহ! আমি অসুস্থ হয়েছিলাম, তুমি আমার সেবা করোনি।" আবদুল্লাহ বিস্মিত হয়ে বলল, "হে প্রভু! আপনি তো সৃষ্টিকর্তা, আপনি কীভাবে অসুস্থ হতে পারেন? আমি কীভাবে আপনার সেবা করব?" আল্লাহ বললেন, "তুমি কি জানতে না যে, তোমার প্রতিবেশী রাশিদ অসুস্থ হয়েছিল? তুমি যদি তার সেবা করতে, তবে তা আমার কাছেই পৌঁছাত।" আবদুল্লাহ ঘুম থেকে জেগে উঠল এবং গভীরভাবে ভাবতে লাগল।

এই স্বপ্নের পেছনে একটি মহান শিক্ষা ছিল, যা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের একটি গুরুত্বপূর্ণ হাদিসের উপর ভিত্তি করে। হাদিসে আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত একটি ঘটনার উল্লেখ আছে, যেখানে কিয়ামাতের দিন আল্লাহ মানুষদের জিজ্ঞাসা করবেন, কেন তারা অসুস্থ, ক্ষুধার্ত বা তৃষ্ণার্ত বান্দাদের সাহায্য করেনি। আল্লাহ বলবেন, "আমি অসুস্থ ছিলাম, তুমি আমার সেবা করোনি," তখন সেই বান্দা বিস্মিত হয়ে বলবে, "হে প্রভু! আপনি তো জগৎসমূহের প্রভু, আমি কীভাবে আপনার সেবা করতে পারি?" আল্লাহ তখন বলবেন, "তুমি কি জানতে না যে, আমার অমুক বান্দা অসুস্থ ছিল? তুমি যদি তাকে দেখতে যেতে, তবে আমার কাছেই আমাকে পেতে।"

এই হাদিস আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, আল্লাহর প্রতি সেবা ও ভালোবাসার অন্যতম উপায় হলো তার সৃষ্ট জীবদের সেবা করা। মানুষ যখন কারো অসুস্থতা, ক্ষুধা বা তৃষ্ণা পূরণ করে, তখন সে আসলে আল্লাহরই সেবা করছে। আল্লাহ তার সৃষ্ট জীবদের মধ্যে আছেন, এবং তাদের প্রতি আমাদের করুণা ও সহানুভূতি দেখানোই আল্লাহর প্রতি সেবা প্রদর্শনের একটি মহান মাধ্যম।

আবদুল্লাহ তার স্বপ্ন থেকে এই শিক্ষাটি গ্রহণ করল। পরের দিন সকালে সে রাশিদের বাড়িতে গেল, তাকে সেবা করল, খাবার দিল এবং যত্ন নিল। এই কাজটি করতে গিয়ে তার হৃদয়ে এক ধরনের শান্তি অনুভূত হলো, যেন সে আল্লাহর নৈকট্য লাভ করেছে।

এই হাদিস আমাদের জীবনের একটি মৌলিক দায়িত্বের দিকে ইঙ্গিত করে। আমরা প্রতিদিন আমাদের চারপাশে অনেক অসুস্থ, ক্ষুধার্ত বা তৃষ্ণার্ত মানুষ দেখি। তাদের সাহায্য করা শুধু মানবিক দায়িত্ব নয়, বরং এটি আল্লাহর প্রতি আমাদের দায়িত্বেরই একটি অংশ। আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায় হলো, তার সৃষ্টির প্রতি দয়া ও সহানুভূতি প্রদর্শন করা। আল্লাহ চান আমরা তার বান্দাদের পাশে দাঁড়াই, তাদের কষ্ট দূর করি, যাতে আমাদের মাধ্যমে আল্লাহর করুণা তার সৃষ্ট জীবদের উপর বর্ষিত হয়।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের শিক্ষা ছিল মানবতার সেবার মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভ করা। তিনি নিজেও অসুস্থ, দরিদ্র এবং অভাবী মানুষদের পাশে দাঁড়াতেন এবং তার অনুসারীদেরও এ শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ করতেন। আমরা যদি সত্যিই আল্লাহর প্রিয় হতে চাই, তাহলে আমাদের উচিত তার সৃষ্টিকে ভালোবাসা এবং তাদের সেবায় নিজেদের নিয়োজিত করা।

আল্লাহ আমাদের সেই তাওফিক দিন, যেন আমরা এই হাদিসের মর্মার্থ বুঝে তার সৃষ্টির সেবা করতে পারি। আমিন।

30/08/2024

গল্প: **আসাদের ফিরে আসা**

আসাদ একজন যুবক, যার জীবন ছিল নানা রকমের পরীক্ষায় ভরা। সে ছোটবেলায় তার বাবা-মাকে হারিয়েছে, এরপর থেকে তার জীবন ধীরে ধীরে অন্ধকারে নিমজ্জিত হতে শুরু করে। যাদের কাছে সাহায্য চেয়েছিল, তারা সবাই তাকে দূরে সরিয়ে দেয়। এই কারণে আসাদের হৃদয়ে এক গভীর শূন্যতা সৃষ্টি হয়, যা তাকে ভুল পথে পরিচালিত করে।

আসাদ প্রায়ই বন্ধুদের সঙ্গে খারাপ কাজে জড়িয়ে যেত। মাদক, জুয়া, এবং নানা ধরনের অপরাধে লিপ্ত ছিল সে। তার জীবন এক দুঃখের বৃত্তে বন্দী হয়ে পড়েছিল, যেখানে সে নিজেকে দিন দিন আরও বেশি তলিয়ে যেতে দেখছিল। যদিও আসাদ জানত, তার জীবন এমন হওয়ার কথা ছিল না, তবুও সে নিজেকে সেই পথ থেকে ফিরিয়ে আনতে পারছিল না।

একদিন রাত গভীরে, আসাদ একা একা শহরের পথে হাঁটছিল। তার মন ভীষণ ভারী ছিল, এবং সে বুঝতে পারছিল না কীভাবে সে এই অবস্থা থেকে বের হয়ে আসবে। হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎ একটি মসজিদের সামনে এসে দাঁড়ায়। মসজিদের সাদা দেয়াল, তার মনে এক ধরনের শান্তি এনে দিল। সে দেওয়ালে লেখা একটি বাণী দেখে থেমে যায়:

**"যদি তুমি গুনাহ করতে করতে ক্লান্ত হয়ে যাও তাহলে ভিতরে চলে আসো। আল্লাহর রহমত কখনো ক্লান্ত হয় না।"**

বাণীটি দেখে আসাদের মন কিছুটা শান্ত হয়। সে ভাবতে থাকে, এই কথাগুলো যেন তার জন্যই লেখা হয়েছে। তার চোখে পানি চলে আসে। এতদিনের ভুলগুলো যেন তার সামনে স্পষ্ট হয়ে দাঁড়ায়।

আসাদ মসজিদের দরজায় গিয়ে দাঁড়াল। অনেকক্ষণ ধরে সে বাইরে দাঁড়িয়ে ভাবছিল, সে কি সত্যিই ভিতরে যাবে? তার গুনাহ কি ক্ষমা হবে? শেষে ভেতরে প্রবেশ করার সাহস করে, সে মসজিদের ভিতরে প্রবেশ করল। ভিতরে ঢুকতেই এক বৃদ্ধ ব্যক্তি তাকে দেখে এগিয়ে এলেন। বৃদ্ধটি বললেন, "তোমার চেহারা দেখে মনে হচ্ছে, তুমি অনেক ভারাক্রান্ত। আল্লাহর ঘরে এসেছ, নিশ্চিন্তে বলো কীভাবে আমি তোমার সাহায্য করতে পারি।"

আসাদ তার সকল গুনাহের কথা খুলে বলল। সে বলতে বলতে কেঁদে ফেলল। বৃদ্ধ ব্যক্তি তার কাঁধে হাত রেখে বললেন, "বেটা, আল্লাহর রহমত সীমাহীন। তিনি আমাদের ভুলগুলো ক্ষমা করতে পছন্দ করেন, যদি আমরা সত্যিকারের অনুতপ্ত হই। এই পথেই তিনি আমাদের আবার তাঁর দিকে নিয়ে যান।"

আসাদ অনুভব করল, তার ভার যেন একটু একটু করে কমছে। সেই রাতে সে আল্লাহর কাছে তার জীবনের সমস্ত গুনাহের জন্য ক্ষমা চাইল এবং একটি নতুন জীবন শুরু করার প্রতিজ্ঞা করল।

আল্লাহর রহমত একটি অবিচ্ছিন্ন, অক্ষয় শক্তি, যা মানুষের জীবনকে নতুন করে সাজাতে সাহায্য করে। আমাদের জীবনের প্রতিটি মুহূর্তেই আল্লাহ আমাদের দিকে তাঁর রহমতের হাত বাড়িয়ে দেন। আসাদের গল্প আমাদের শিখিয়ে দেয়, যতই আমরা ভুল করি না কেন, আল্লাহর রহমতের দরজা সবসময় খোলা থাকে।

আমাদের জীবনে অনেক সময় আসে, যখন আমরা আমাদের ভুলগুলো থেকে ফিরে আসার সুযোগ পাই। কিন্তু সেই সুযোগকে আমরা কদর করতে পারি না। আল্লাহর রহমত আমাদেরকে সেই ভুলগুলো থেকে মুক্তির পথ দেখায়। আসাদ যেমন তার জীবনের একটি মুহূর্তে এই পথ দেখেছিল, তেমনই আমরাও আমাদের জীবনে সেই মুহূর্ত খুঁজে পাব।

আমরা যদি নিজেদের ভুলগুলো বুঝতে পারি এবং আল্লাহর কাছে ফিরে যাই, তবে আমরা অবশ্যই একটি নতুন জীবন পেতে পারি। আল্লাহর রহমত কখনোই ক্লান্ত হয় না, তাই আমাদেরও অনুতাপ এবং শুদ্ধির পথ থেকে ফিরে আসা উচিত নয়।

আল্লাহর রহমতের সন্ধানে আসাদের মতো আমরাও যদি কখনো আমাদের পথ হারিয়ে ফেলি, তাহলে আল্লাহর ঘরে ফিরে যাওয়াই আমাদের একমাত্র আশ্রয়। আল্লাহর দয়া ও ক্ষমা আমাদের জীবনের প্রতিটি ভুলের জন্য একটি নতুন সূচনা করতে সাহায্য করবে।

Address

8/2/Ka, Shantibag
Dhaka
1217

Telephone

+8801869257957

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Dawat o Tableeg posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share