24/03/2026
নামাজে মনোযোগ ও খুশু-খুযু অর্জনের জন্য আমরা যা পড়ি তার অর্থ জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যখন একজন মুসলমান বুঝে বুঝে নামাজ পড়ে, তখন তার হৃদয় নরম হয়, মন স্থির হয় এবং আল্লাহর সাথে সম্পর্ক গভীর হয়। তাই নামাজের প্রতিটি দোয়া ও তাসবিহর বাংলা অর্থ জানা আমাদের জন্য জরুরি।
নামাজ শুরু করার সময় আমরা নিয়ত করি—অর্থাৎ অন্তরে স্থির করি যে আমরা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য এই নামাজ আদায় করছি। এরপর আমরা “ছানা” পড়ি।
ছানা (আরবি বাংলা উচ্চারণ):
সুবহানাকা আল্লাহুম্মা ওয়া বিহামদিকা, ওয়া তাবারাকাসমুকা, ওয়া তা‘আলা জাদ্দুকা, ওয়া লা ইলাহা গইরুক।
অর্থ:
হে আল্লাহ! আপনি পবিত্র, আপনারই প্রশংসা। আপনার নাম বরকতময়, আপনার মর্যাদা মহান, আপনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই।
এরপর আমরা সূরা ফাতিহা পড়ি।
সূরা ফাতিহা (বাংলা অর্থ):
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি সকল জগতের প্রতিপালক।
যিনি পরম দয়ালু, অসীম দয়াময়।
বিচার দিনের মালিক।
আমরা কেবল আপনারই ইবাদত করি এবং শুধুমাত্র আপনার কাছেই সাহায্য চাই।
আমাদেরকে সরল পথ দেখান—
সেই সকল লোকের পথ, যাদের আপনি নিয়ামত দান করেছেন;
তাদের পথ নয়, যারা আপনার গজবের শিকার হয়েছে এবং যারা পথভ্রষ্ট।
এরপর আমরা আরেকটি সূরা মিলাই (এখানে অর্থ উল্লেখ করা হলো না)।
তারপর আমরা বলি—
আল্লাহু আকবার
অর্থ: আল্লাহ সবচেয়ে মহান।
এই বলে আমরা রুকুতে যাই এবং সেখানে তাসবিহ পড়ি—
রুকুর তাসবিহ (বাংলা উচ্চারণ):
সুবহানা রব্বিয়াল আযীম।
অর্থ:
আমার মহান প্রতিপালক পবিত্র।
রুকু থেকে উঠার সময় বলি—
সামি‘আল্লাহু লিমান হামিদাহ
অর্থ:
যে আল্লাহর প্রশংসা করে, আল্লাহ তার কথা শোনেন।
এরপর দাঁড়িয়ে বলি—
রব্বানা লাকাল হামদ
অর্থ:
হে আমাদের প্রতিপালক! সমস্ত প্রশংসা আপনারই জন্য।
এরপর আবার বলি—
আল্লাহু আকবার
অর্থ: আল্লাহ সবচেয়ে মহান।
এই বলে আমরা সিজদায় যাই এবং তাসবিহ পড়ি—
সিজদার তাসবিহ (বাংলা উচ্চারণ):
সুবহানা রব্বিয়াল আ‘লা।
অর্থ:
আমার সর্বোচ্চ প্রতিপালক পবিত্র।
এইভাবে দুই রাকাত নামাজ সম্পন্ন করার পর আমরা শেষ বৈঠকে বসি এবং কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দোয়া পড়ি।
আত্তাহিয়াতু (বাংলা উচ্চারণ):
আত্তাহিয়াতু লিল্লাহি ওয়াস সালাওয়াতু ওয়াত তায়্যিবাত। আসসালামু আলাইকা আইয়্যুহান নাবিয়্যু ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ। আসসালামু আলাইনা ওয়া ‘আলা ইবাদিল্লাহিস সালিহীন। আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান ‘আবদুহু ওয়া রাসূলুহ।
অর্থ:
সব সম্মান, ইবাদত ও পবিত্র বিষয় আল্লাহর জন্য।
হে নবী! আপনার উপর শান্তি, আল্লাহর রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক।
আমাদের উপর এবং আল্লাহর নেক বান্দাদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক।
আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ ﷺ আল্লাহর বান্দা ও রাসূল।
এরপর দরুদ পড়ি—
দরুদ (বাংলা উচ্চারণ):
আল্লাহুম্মা সাল্লি ‘আলা মুহাম্মাদিন ওয়া ‘আলা আলে মুহাম্মাদ…
অর্থ:
হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মদ ﷺ এবং তাঁর পরিবারবর্গের উপর রহমত বর্ষণ করুন, যেমন আপনি ইবরাহিম (আ.) এবং তাঁর পরিবারবর্গের উপর রহমত বর্ষণ করেছিলেন।
হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মদ ﷺ এবং তাঁর পরিবারবর্গের উপর বরকত দান করুন,
যেমন আপনি ইবরাহিম (আ.) এবং তাঁর পরিবারবর্গের উপর বরকত দান করেছিলেন।
নিশ্চয়ই আপনি প্রশংসিত, মহান।
এরপর দোয়া মাসুরা পড়ি—
দোয়া (বাংলা উচ্চারণ):
আল্লাহুম্মা ইন্নি জালামতু নাফসি জুলমান কাসীরা…
অর্থ:
হে আল্লাহ! আমি আমার নিজের উপর অনেক জুলুম করেছি। আপনি ছাড়া কেউ গুনাহ ক্ষমা করতে পারে না। তাই আপনি আমাকে ক্ষমা করুন এবং আমার প্রতি দয়া করুন। নিশ্চয়ই আপনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
সবশেষে আমরা সালাম ফিরাই—
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ
অর্থ:
আপনার উপর শান্তি ও আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক।
এইভাবে যদি আমরা নামাজের প্রতিটি দোয়া ও শব্দের অর্থ বুঝে পড়ি, তাহলে নামাজ শুধু একটি কাজ থাকবে না—বরং তা হয়ে উঠবে আল্লাহর সাথে এক গভীর, হৃদয়স্পর্শী সম্পর্কের মাধ্যম।
( সংগৃহীত )