Muslim Inspiration Official 2.0

Muslim Inspiration Official 2.0 আমাদের উদ্দেশ্যঃ মুসলিম সমাজে দ্বীনের জাগরণ তৈরি করা ও সাধারনের সাথে আলেমদের যোগসূত্র স্থাপন।

ক্যারিয়ার মানে কি কেবল স্যালারির বৃদ্ধি, নাকি জীবনের স্বস্তিও সাথে বৃদ্ধি পাওয়া?এই প্রশ্নের উত্তরটা সবাই জানি। সবাই বুঝ...
22/05/2026

ক্যারিয়ার মানে কি কেবল স্যালারির বৃদ্ধি, নাকি জীবনের স্বস্তিও সাথে বৃদ্ধি পাওয়া?
এই প্রশ্নের উত্তরটা সবাই জানি। সবাই বুঝিও। কিন্তু বাস্তবে আমরা স্যালারি বাড়ানো নিয়ে যতটা পেরেশান, 'বারাকাহ' নিয়ে তার অর্ধেকও ভাবি না।
আসলে অংকটা খুব সহজ। আপনি মাসে ২ লাখ টাকা ইনকাম করলেন, কিন্তু মাস শেষে দেখা গেল বড় একটা অংশ চলে যাচ্ছে হাসপাতালের বিলে কিংবা কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঝামেলায়। এটাই হলো বারাকা-হীন ক্যারিয়ার, টাকা আসলো ঠিকই, কিন্তু শান্তি ধরা দিলো না।
আবার অন্য দিকে দেখুন। কারো ইনকাম হয়তো স্রেফ 'চলনসই'। কিন্তু সেই সামান্য টাকাতেই তার বাবা-মায়ের চিকিৎসা হচ্ছে, স্ত্রী-বাচ্চার মুখে হাসি ফুটছে আর দিনশেষে সে শান্তিতে ঘুমাচ্ছে। মোটকথা, বারাকাহ আসলে একটা 'অদৃশ্য মাল্টিপ্লায়ার', যা আপনার বর্তমান অবস্থাকে আপনার জন্য 'যথেষ্ট' বানিয়ে দেয়।
ক্যারিয়ারে এই বারাকাহ স্রেফ হাড়ভাঙা খাটুনিতে আসে না। আসে—
— কাজের শুরুতে নিয়ত ঠিক রাখলে
— নিজের সাথে সততা এবং প্রতিষ্ঠানের কাছে স্বচ্ছতা বজায় রাখলে।
— কম্ফোর্টের জোনের বাহিরে গেলে এবং সবসময় প্লান ওয়াইজ আগালে।
— সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময় আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করলে
— রেজাল্ট যেমনই হোক, প্রতিবার রেজাল্ট অনুযায়ী প্রোডাক্টিভ স্টেপ নিলে।
তবে এটাও মনে রাখা জরুরী, ক্যারিয়ার হয়তো আপনাকে দামী একটা বেড উপহার দিতে পারবে, কিন্তু সেই বেডে শান্তিতে ঘুমানোর তৌফিক কেবল বারাকাহ থেকেই আসে।
আমরা কি কেবল ক্যারিয়ারের গ্রাফই দেখব, নাকি আমাদের অর্জনে রবের বারাকাহ নিশ্চিত করার চেষ্টা করব?
আল্লাহ আমাদের উপার্জনে এবং জীবনে বরকত দান করুন। আমীন।

সাফিয়্যাহ বিনতে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত-"একদা এক নারী হযরত আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-এর কাছে নিজের অন্তরে...
22/05/2026

সাফিয়্যাহ বিনতে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত-

"একদা এক নারী হযরত আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-এর কাছে নিজের অন্তরের কঠোরতা নিয়ে অভিযোগ করলেন। তখন আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বললেন, 'মৃত্যুর স্মরণ বাড়িয়ে দাও, তা তোমার অন্তরকে নরম ও কোমল করে দেবে।'"

[শুআবুল ঈমান-৭৬২]

~ হিলইয়াতুল আওলিয়া-২/৪৩

মাসউদ আল হামাযানী নামে এক ব্যক্তি ছিলেন। সিয়ারু আলামিন নুবালায় তার জীবন নিয়ে আলোচনা আছে। তার একটা অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিলো।...
05/05/2026

মাসউদ আল হামাযানী নামে এক ব্যক্তি ছিলেন। সিয়ারু আলামিন নুবালায় তার জীবন নিয়ে আলোচনা আছে। তার একটা অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিলো। কেউ কষ্ট দিলে মাফ করে দিতেন। মাফ চাইতে এলে বলতেন:

الماضي لا يذكر

আগের কথা বলে লাভ নাই। যা হওয়ার হয়ে গেছে। থাক।

মাসউদ আল হামাযানী ইন্তিকাল করলে কেউ তাকে স্বপ্নে দেখলো। জিজ্ঞেস করল: আল্লাহ আপনার সাথে কেমন আচরণ করেছেন?

আল হামাযানী বললেন:

আল্লাহ তায়ালাও বলেছেন -

الماضي لا يذكر

অতীতের কথা বলে লাভ নেই। যাও তোমাকে মাফ করে দিলাম।

~ উস্তায আম্মারুল হক হাফিযাহুল্লহ

আবু দারদা [রা.] মারা যাবার আগে রোগাক্রান্ত অবস্থায় বলেছেন, তোমরা শোনো এবং তোমাদের পেছনে যারা রয়েছে তাদেরকে এই কথা পৌঁছে ...
03/04/2026

আবু দারদা [রা.] মারা যাবার আগে রোগাক্রান্ত অবস্থায় বলেছেন, তোমরা শোনো এবং তোমাদের পেছনে যারা রয়েছে তাদেরকে এই কথা পৌঁছে দাও যে-

তোমরা এই দুই সালাত অর্থাৎ ইশা ও ফজরকে জামাআতের সাথে নিয়মিত আদায় কর। তোমরা যদি জানতে যে এদের মাঝে কী রয়েছে (কী পরিমাণ সাওয়াব রয়েছে) তাহলে তোমাদের কনুই ও হাঁটুর ওপর ভর দিয়ে হামাগুড়ি দিয়ে হলেও জামাআতে উপস্থিত হতে।

[ইমাম ইবনু আব্দিল বারর (রাহ.), আল ইস্তিযকার: ১/৩৭৯]

15/03/2026

মক্কায় অদ্ভূত এক নারী ছিলো, যে সুতা পাকিয়ে সুন্দর সুন্দর কাপড়, টুপি, কম্বল ইত্যাদি তৈরি করতো। এরপর সে নিজেই সুতার দুই দিক থেকে টান দিয়ে এগুলোকে নষ্ট করে ফেলতো। এই নারীকে লোকজন পাগল মনে করতো তার এমন কাজের জন্য। সে এত পরিশ্রম করে পাকানো সুতাগুলোকে খামখেয়ালিপনায় টুকরো টুকরো করে ফেলতো।
ইমাম ইবনু কাসির (রাহ.) তাঁর ‘তাফসিরুল কুরআনিল আযিম’-এ বলেন, আল্লাহ্ তা‘আলা কুরআনুল কারিমে এই নারীর উদাহরণ দিয়ে বলেন—
وَلاَ تَكُونُواْ كَالَّتِي نَقَضَتْ غَزْلَهَا مِن بَعْدِ قُوَّةٍ أَنكَاثًا
‘‘তোমরা ওই নারীর মতো হয়ো না, যে পরিশ্রমের পাকানো সুতো টুকরো টুকরো করে ছিঁড়ে ফেলে।’’ [সুরা নাহল, আয়াত: ৯২]
আয়াত দ্বারা যদিও শপথ পাকাপাকি হওয়ার পর তা ভেঙে না ফেলতে বলা হয়েছে, তথাপি শায়খ আহমাদ মুসা জিবরিল (হাফিযাহুল্লাহ) তাঁর জনপ্রিয় লেকচার সিরিজ Gems of Ramadan (ধূলিমলিন উপহার: রামাদান বই)-এ এই ঘটনাটিকে সামনে এনে রোজাদারদের সতর্ক করেছেন। রোজাদারদের অনেকে সারা মাস রোজা রাখে, আমল করে, কিন্তু রামাদানের শেষ দিকে এসে হাল ছেড়ে দেয়, গুনাহে জড়িয়ে যায় আর সারা মাসের সিয়ামসাধনাকে পণ্ড করে দেয়। এটি খুবই বাস্তব একটি বিষয়। ব্যাপারটি এমন যে, কেউ ৩ ঘণ্টা ধরে পরীক্ষার খাতায় চমৎকার উত্তর লিখেছে। এরপর খাতাটি জমা না দিয়ে ছিঁড়ে বাইরে ফেলে দিয়েছে।
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘যখন তোমাদের কেউ কোনো আমল করে, তখন আল্লাহ পছন্দ করেন, সে ওই আমলটি পূর্ণাঙ্গভাবে করবে।’’ [ইমাম বাইহাকি, শু‘আবুল ঈমান: ৪৯৩০; ইমাম তাবারানি, মু‘জামুল আওসাত্ব: ৮৯৭; শায়খ আলবানি, সহিহুল জামি’: ১৮৮০; হাদিসটি সহিহ]
সুতরাং, রামাদানের এই শেষ লগ্নে এসে আমরা হাল ছাড়বো না, বরং সুন্দর ও যথার্থভাবে রামাদান শেষ করবো। দীর্ঘ এক মাসের সিয়ামসাধনা এবং ইবাদত-বন্দেগি ধরে রাখবো।
এরপর, রামাদান শেষে নতুন করে আবার অন্ধকারময় গুনাহের জীবনে ডুবে যাবো না। রামাদানের মতই সারা বছর গুনাহ থেকে বেঁচে থাকবো। বলা হয়, জীবন যদি কাটে রামাদানের মতো, তবে মৃত্যুর মুহূর্তটিও হবে ঈদুল ফিতরের মতো (আনন্দময়)!

06/03/2026

❝১৭ রমাদ্বানঃ বদর দিবসের শিক্ষা❞

[চলুন, আপকামিং জেনারেশনকে রূপকথার গল্প না শুনিয়ে/দেখিয়ে মুসলিম উম্মাহর বীরত্বের ইতিহাস শোনাই। গেঁথে দিই তাদের অন্তরে বীরত্বের অমরগাথা]

১। বদর হলঃ গোমরাহী ও হেদায়েতের মধ্যে, ঈমান ও কু-ফ-রের মধ্যে, ইখলাসের সাথে নিফাকের মধ্যে গভীরভাবে পার্থক্যকারী একটি যু-দ্ধে-র নাম।

২। বদর হলঃ গনীমত এবং আসাবিয়াত (জা-তী-য়-তাবাদ, গোত্রপ্রীতি) এর বিরুদ্ধে তাওহীদ ও আকাঈদের সং-গ্রা-মের নাম।

৩। যারা বেঁচে থাকার জন্য বেঁচে থাকে তাদের জন্য নয় বরং যারা বাঁচিয়ে রাখার জন্য বেঁচে থাকে তাদের যু-দ্ধ ।

৪। বদর হল; ইসলামের জন্য, উম্মাহর জন্য কি করা সম্ভব এটা প্রমান করে দেওয়ার নাম।

৫। বদরের যু-দ্ধ ছিল, হয় টিকে থাকার না হয় ধ্বং-স হয়ে যাওয়ার যু-দ্ধ।

৬। সংখ্যা কখনো হক্ব প্রতিষ্ঠার মানদন্ড নয়।

৭। তাওয়াক্বুল করে বান্দা আল্লাহর দিকে কদম ফেললে আল্লাহ তার দিকে ছুটে আসেন।

৮। চরম প্রয়োজনে মহান আল্লাহ বান্দাকে আশাতীত উপায়ে সাহায্য করে থাকেন।

৯। ঈমানের সর্বোচ্চ চূড়া জি-হা-দ। এতে অংশগ্রহণ করলে গায়েবী মদদ চলে আসে। নিঃসন্দেহে মহান আল্লাহ বিজয় দেন। লোকসংখ্যা কোন বিষয় নয়। আল্লাহ এই সময়টাতে পুন:পুন: সাহস দেন। বান্দার খবর তো তিনি জানেন; বান্দার দৌঁড় কতটুকু।

১০। আল্লাহর ভালোবাসা নিখাঁদ। না দেখে বিশ্বাস করা সত্তার জন্য স্ত্রী-সুখ-সন্তান-সালতানাত ফেলে দিয়ে যু-দ্ধ করতে আসে, এমন মুমিনদের কে আর বাঁচাবে তিনি ছাড়া? অদ্ভুত এক ভালোবাসা, দয়া, প্রতিদান।

১১। অন্যদিকে কু-ফ-ফা-র-রা একদম কোনঠাসা। তাদের কোন সাহায্যকারীই যে নেই। কিছুক্ষণ তাদের সাথে শা-ই-ত্বন যাও ছিল, ফি-রি--শতা দেখা মাত্রই পালিয়ে গেল।

১২। আল্লাহ্‌ বান্দার পরীক্ষা নেন। যার পরীক্ষা যত বড় তার প্রতিদান দুনিয়া ও আখিরাতে তত বেশী।

— এখন একটি প্রশ্ন, বদর কি শেষ হয়ে গিয়েছে?

বদর সমূহ কোনদিনই শেষ হবে না। আবু লাহাব ও আবু জাহেলরা যতদিন এই দুনিয়াতে থাকবে ততদিন বদরও থাকবে। আবু লাহাব ও আবু জাহেলরা যেহেতু শেষ হবে না, সেহেতু বদর সমূহও শেষ হবে না।

সবশেষে পড়িঃ-

رَضِيْتُ بِاللَّهِ رَبًّا وَبِالْإِسْلَامِ دِيْنًا وَبِمُحَمَّدٍ نَبِيًّا

আমি সন্তুষ্ট-পরিতৃপ্ত আল্লাহ্‌কে প্রভু হিসাবে, ইসলামকে দ্বীন হিসেবে ও মুহাম্মাদ (ﷺ)-কে নবী হিসেবে গ্রহণ করে। - [সহিহ লি গাইরিহি (শুয়াইব আল-আরনাঊত)। তাখরিজুল মুসনাদঃ ২৩১১২]

~ MD Minhazul Islam Moin ভাইজান (ঊফিয়া 'আনহু)

25/02/2026

সৌদি আরবে বসবাসকারী এক প্রবাসী বলছেন:

একদিন আমার কাফিল (স্পনসর) যাকাত বিতরণ করার সিদ্ধান্ত নিলেন। আমাকেও সঙ্গে নিলেন। গাড়িতে যাকাতের খাম রাখা ছিল, প্রত্যেক খামে পাঁচ হাজার রিয়াল ছিল। এটা ছিল পবিত্র রমজান মাস। আমরা দুজন উপকূলীয় এলাকার গ্রামের দিকে রওনা দিলাম, যেখানে দারিদ্র্য ও অভাবের বাস।

একটা গ্রাম থেকে বেরিয়ে জেদ্দা-জাজান মহাসড়কে এসে দূর থেকে এক অদ্ভুত দৃশ্য দেখা গেল। জ্বলন্ত রোদে এক বৃদ্ধ একা, খোলা মরুভূমির রাস্তায় হাঁটছেন। বয়স দেখে মনে হয় সত্তর বছর বা তার কিছু বেশি, কিন্তু শরীরে এখনও শক্তি অবশিষ্ট ছিল। বন্ধু বললেন: “এই বৃদ্ধ এই মরুভূমিতে কী অবস্থায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন?” ড্রাইভার বলল: “নিশ্চয়ই এ কোনো ইয়েমেনি, অবৈধ পথে এসেছে।”

গাড়ি থামানো হল, বৃদ্ধের কাছে গিয়ে সালাম দিলাম। জিজ্ঞাসা করলাম: “কোথা থেকে এসেছেন?” তিনি বললেন: “ইয়েমেন থেকে।” তারপর জিজ্ঞাসা করা হল: “কোথায় যাচ্ছেন?” উত্তর এল: “মক্কা মুকাররমায়, বাইতুল্লাহর দর্শন করতে, উমরাহ করতে।”

আমরা বললাম: “আইনি পথে এসেছেন?”

তিনি বললেন: “না, আমার কাছে এত সম্পদ কোথায়। প্রবেশের জন্য দুই হাজার রিয়াল জামানত দেওয়া বাধ্যতামূলক ছিল, আর আমার কাছে মোট দুইশ রিয়াল ছিল। একশ রিয়াল যানবাহনে খরচ হয়ে গেছে, একশ রিয়াল বাকি আছে। তারপর থেকে পায়ে হেঁটে চলছি।”

বন্ধু জিজ্ঞাসা করলেন: “কতদিন ধরে হাঁটছেন?”

তিনি বললেন: “ছয় দিন ধরে একটানা যাত্রায় আছি।”

তারপর জিজ্ঞাসা করা হল: “রোজা রেখেছেন?”

তিনি বললেন: “হ্যাঁ, রোজাদার।”

এটা শুনে আমরা সবাই অবাক হয়ে গেলাম। রোদ, ক্ষুধা, তৃষ্ণা, দীর্ঘ যাত্রা—তবুও রোজা! আমরা জিজ্ঞাসা করলাম: “এত চেকপয়েন্ট থেকে কীভাবে পার হয়ে গেলেন?”

বৃদ্ধ বললেন: “ওই রবের কসম যিনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, আমি প্রত্যেক চেকপয়েন্টের কাছ দিয়ে গেছি কিন্তু কেউ আমাকে থামায়নি।”

তিনি আরও বললেন: “কিছুক্ষণ আগে একটা দল আমাকে ধরে থানায় নিয়ে গিয়েছিল। কিন্তু যখন আমি বললাম আমার উদ্দেশ্য শুধু বাইতুল্লাহর জিয়ারত, তখন তারা আমাকে ছেড়ে দিয়েছে।”

এটা শুনে আমাদের হৃদয় কেঁপে উঠল। সুবহানাল্লাহ! আল্লাহ নিজেই এই বান্দার জন্য রাস্তা সহজ করে দিয়েছেন। আমার কাফিল সাহেব অজান্তেই দুটো খাম বৃদ্ধের হাতে দিয়ে দিলেন। তিনি ধন্যবাদ জানালেন কিন্তু জানতেন না যে তাতে কত টাকা আছে। আমি বললাম: “খাম খুলে টাকা নিরাপদে রাখুন।” যখন তিনি খাম খুলে দেখলেন দশ হাজার রিয়াল, তখন অবাক ও বিস্ময়ে গাড়ির মধ্যে পড়ে গেলেন। চোখ থেকে অশ্রু ঝরতে লাগল আর জিভে শুধু এই কথা: “এসব আমার জন্য? এত বড় অঙ্ক সব আমার জন্য?”

আমরা তাকে সচেতন করতে পানি ছিটিয়ে দিলাম। হুঁশ ফিরে এলে তিনি বলতে লাগলেন: “ইয়েমেনে আমার একটা ছোট বাড়ি আছে। তার সঙ্গে একটা জমি ছিল যেটা আমি আল্লাহর নামে ওয়াকফ করে দিয়েছি। সেই জমিতে আমি ছেলেমেয়েদের সঙ্গে মিলে মসজিদ তৈরি করেছি। ভবন তৈরি হয়ে গেছে, কিন্তু মেঝে আর কিছু জিনিস বাকি আছে। আমি এই চিন্তায় ছিলাম যে টাকা কোথা থেকে আসবে। আজ আল্লাহ আপনাদের মাধ্যমে আমাকে তা দান করেছেন।”

এটা শুনে আমাদের চোখেও অশ্রু ঝরতে লাগল। তখন মনে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী গুঞ্জরিত হল:

“যার উদ্দেশ্য আখিরাত হয়, আল্লাহ তার অন্তরে স্বচ্ছলতা দান করেন, তার কাজগুলোকে সংগঠিত করে দেন এবং দুনিয়া নিজেই তার কাছে মাথা নত করে আসে। আর যার চিন্তা শুধু দুনিয়া নিয়ে, আল্লাহ তার দারিদ্র্যকে তার চোখের সামনে রেখে দেন, তার কাজগুলোকে ছিন্নভিন্ন করে দেন এবং দুনিয়া থেকে তাকে তাই দেওয়া হয় যা তার ভাগ্যে লেখা।”

আমার কাফিল ইশারা করলেন আর আরও দুটো খাম বৃদ্ধকে দিয়ে দিলেন। এভাবে মোট টাকা হল বিশ হাজার রিয়াল। বৃদ্ধের চোখ থেকে অশ্রুর ঝর্ণা থামছিল না। তিনি একটানা দোয়া করতে থাকলেন আর বারবার বলতে থাকলেন: “আল্লাহ পাখির মতো আমার রিজিক পৌঁছে দিয়েছেন।”

সত্যিই সেই মুহূর্তে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদিস মনে পড়ে গেল:

“যদি তোমরা আল্লাহর উপর তেমনি ভরসা কর যেমনটা করা উচিত, তাহলে আল্লাহ তোমাদেরকে তেমনি রিজিক দেবেন যেমন পাখিদের দেন সকালে খালি পেটে বের হয় আর সন্ধ্যায় ভরা পেটে ফিরে আসে।”

এই ঘটনা এটার জীবন্ত প্রমাণ যে, যে বান্দা খাঁটি মনে আল্লাহর দরজা আঁকড়ে ধরে, তার জন্য রাস্তাগুলো সহজ হয়ে যায়। এটা খাঁটি দিল থেকে বের হওয়া দোয়া ও তাওয়াক্কুলের শক্তির জ্বলজ্বলে প্রমাণ। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকেও এই সম্পদ নসিব করুন।

© Rekaul SK

25/02/2026

রামাদানে যারা নফল নামাজ পড়তে চান, তাদের প্রতি পরামর্শ থাকবে, আপনারা শেষ রাতে অন্তত ৪ রাকাত তাহাজ্জুদ পড়বেন এবং দিনের বেলা অন্তত ৪ রাকাত দোহার (চাশতের) নামাজ পড়বেন। তাহাজ্জুদের সুমহান মর্যাদা, গুরুত্ব এবং লাভের ব্যাপারে তো বলার অপেক্ষা রাখে না, কিন্তু দোহার নামাজটা আমাদের মাঝে বেশ অবহেলিত। অথচ এটিকে দিনের তাহাজ্জুদ বললে মোটেও বাড়াবাড়ি হবে না। বিশুদ্ধ হাদিসে এসেছে, ‘‘একমাত্র সেসব লোকই এই নামাজটির যত্ন নেয়, যারা ‘‘আওয়াব’’ তথা আল্লাহর দিকে বারবার প্রত্যাবর্তনকারী।’’ [ইমাম ইবনু খুযাইমা, আস-সহিহ: ১১১৬; হাদিসটি সহিহ]

সুবহানাল্লাহ! চমৎকার ব্যাপার হচ্ছে, আল্লাহ তা‘আলা তাঁর নবি সুলাইমান (আ.)-এর প্রশংসায় ‘‘আওয়াব’’ বলেছেন। আল্লাহ বলেন, ‘‘আর আমি দাউদকে দান করেছি সুলাইমান; কতই না উত্তম বান্দা! নিশ্চয়ই সে আওয়াব।’’ [সুরা সোয়াদ, আয়াত: ৩০]

আওয়াব শব্দের অর্থ হলো, আল্লাহর দিকে বারবার প্রত্যাবর্তনকারী, আল্লাহর আনুগত্যকারী। তাওবাহ এবং আওয়াব শব্দের রুট (মূল) একই। নিঃসন্দেহে এটি একটি বিরাট বিশেষণ, যার ফলে আল্লাহ তা‘আলা নিজে একজন নবির প্রশংসায় এই গুণটির কথা বলেছেন।

এটি ছাড়াও দোহার নামাজের ব্যাপারে আরও অনেক ফজিলত বর্ণিত হয়েছে। আমরা চাইলে সাহরি খেয়ে ঘুমিয়ে, ঘুম থেকে ওঠার পর অন্তত ৪ রাকাত দোহার নামাজ পড়তে পারি। আরও বেশিও পড়া যাবে। তাড়া থাকলে ২ রাকাতও পড়তে পারি। তবুও এর অভ্যাসটা ধরে রাখতে পারলে খুব ভালো হবে। বিশেষ কোনো নিয়ম নেই। ২ রাকাত করে পড়তে হয়, সাধারণ নফলের মতো।

23/02/2026

সুফিয়ান সাওরি রহ. মহিমান্বিত রমজান আসামাত্রই অন্যান্য বাড়তি ইবাদত-বন্দেগি ছেড়ে দিয়ে কুরআন তিলাওয়াতে আত্মনিবেদন করতেন।

ইমাম মালিক ইবনে আনাস রহ. রমজান আগমন করতেই হাদিস ও ইলমের আলাপ-আলোচনা বাদ দিয়ে কুরআন পড়তে মনোনিবেশ করতেন।

ইমাম আবু হানিফা ও ইমাম শাফিয়ি রহ. উভয়ের প্রত্যেকেই প্রতি রমজান মাসে ৬০ বার করে কুরআন খতম করতেন। মানে রোজ দুইবার করে কুরআন খতম করতেন তারা!

ওয়ালিদ বিন আবদুল মালিক রহ. প্রত্যেক তিনদিনে একবার কুরআন খতম করতেন। আর রমজান মাসে ১৭ বার খতম করতেন।

কাতাদাহ ইবনে দিআমাহ রহ. এমনি সপ্তাহে একবার কুরআন খতম করতেন। আর রমজান এলে প্রতি তিনদিনে একবার কুরআন খতম করতেন। কিন্তু শেষ দশদিনে প্রতি রাতে একবার খতম করতেন। এমনকী তিনি কুরআনের দারসও দিতেন।

আসওয়াদ ইবনে ইয়াজিদ নাখায়ি রমজানে প্রতি দুইদিনে একবার কুরআন খতম করতেন। মানে পুরো রমজানে ১৫ বার খতম করতেন। আর তার ছাত্র ইবরাহিম নাখায়ি রমজানের শেষ দশদিনে দুইদিনে একবার খতম করতেন।

ইমাম মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাইল বুখারি রহ. প্রতি রমজানে দিনেরবেলা একবার আর রাতে তারাবিহর নামাজের পরে প্রতি তিনরাতে আরও একবার কুরআন কখতম করতেন।

নোট : তারা রমজানে কুরআন তিলাওয়াত ও খতমের এত গুরুত্ব দিতেন কেন? কারণ, রমজান কুরআন নাজিলের মাস!

সূত্র :
রাবিউল আবরার : ১/১৫৩, ইমাম ইবনে উমার যামাখশারি।
লাতাইফুল মাআরিফ : ২৪৬, ইমাম ইবনে রজব হাম্বলি।

মুক্তির বার্তা নিয়ে আমাদের মাঝে সমাগত হতে চলেছে মাহে রমাদান। এ মাসের প্রস্তুতি হিসেবে আজই শুরু করে দিন ১২টি কাজ।~ শাইখ আ...
17/02/2026

মুক্তির বার্তা নিয়ে আমাদের মাঝে সমাগত হতে চলেছে মাহে রমাদান। এ মাসের প্রস্তুতি হিসেবে আজই শুরু করে দিন ১২টি কাজ।

~ শাইখ আহমাদুল্লাহ হাফিযাহুল্লাহ

রমাদান সম্পর্কিত উপকারী রিসোর্স — (কমেন্ট সেকশনে)

04/10/2025

ওয়ালিদ ইবনে ইয়াযিদ ইবনে আব্দিল মালিক ছিল উমাইয়াদের কলঙ্ক। ছিলো বিলাসী ও মদ্যপায়ী। মুসলমানদের কেউই তাকে পছন্দ করতো না। তারউপর ছিলো ভয়ংকর কুরআন বিদ্বেষী। একদিন সে কুরআন খুলল। খোলামাত্রই তার সামনে পড়ল এই আয়াত:

﴿وَاسْتَفْتَحُوا وَخَابَ كُلُّ جَبَّارٍ عَنِيدٍ﴾

তারা (নবীগণ) বিজয় প্রার্থনা করল আর প্রত্যেক জেদি অহংকারী ধ্বংস হলো। [সূরা ইবরাহীম ১৫]
এই আয়াত দেখে ওয়ালিদের মাথা খারাপ হয়ে গেলো। কুরআন ছুড়ে মেরে কুরআনের উপর তীর নিক্ষেপ করে কুরআন অবমাননা করে একটা কবিতা আবৃত্তি করল।

تهددني بجبار عنيد
فها أنا ذاك جبار عنيد
إذا ما جئت ربك يوم حشر
فقل يا رب مزقني الوليد

তুমি আমায় বলছো জেদি অহংকারী?
দেখে নাও! আমিই সেই অহংকারী।
রোজ হাশরে যাবি তোর রবের কাছে।
বলিস তারে ওয়ালিদ ছিড়েছে আমারে।
এই ঘটনার কয়দিন পরেই ওয়ালিদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ হয়। আল্লাহর কালামের অবমাননার শাস্তি আল্লাহ তায়ালা দুনিয়ার বুকে দিলেন। কয়েক দিনের মধ্যেই সে নৃশংসভাবে নিহত হয়। তার মাথা কেটে প্রাসাদের দরজায় ঝুলিয়ে রাখা হয়। পরে তার শহরের দুর্গের প্রাচীরেও মাথা টানিয়ে দেওয়া হয়।
আমার আল্লাহর কুরআন অপূর্ব পালের মত এক কীট পা দিয়ে মাড়ালো। ভাবা যায়! কল্পনা করা যায়। মসজিদের শহর ঢাকায় আমার আল্লাহর কালামের এতবড় বেহুরমতি হলো। ভিডিওটা দেখে আমার রীতিমতো হাত পাঁ কাপছে। মহান আল্লাহর কসম! এই ঘটনা যদি আমার সামনে ঘটতো নিজের জানের পরোয়াও করতাম না। আল্লাহ তায়ালা তার কোনো বান্দার হাতে তার বংশ শুদ্ধ নির্বংশ করে দিন।

— ভাই Ammarul Hoque (হাফি.)

Address

Dhaka
1214

Website

https://www.facebook.com/MuslimInspirationForIbadah

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Muslim Inspiration Official 2.0 posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Place Of Worship

Send a message to Muslim Inspiration Official 2.0:

Share