18/08/2025
হরে কৃষ্ণ রাধে রাধে আজ আমরা অন্নদা একাদশীর মাহাত্ম্য সম্পর্কে জানব
অন্নদা একাদশী
এই ভাদ্রপদী কৃষ্ণপক্ষীয় অন্নদা একাদশীর মাহাত্ম্য ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণে বর্ণনা করা হয়েছে।
মহারাজ যুধিষ্ঠির বললেন— হে কৃষ্ণ! ভাদ্র মাসের কৃষ্ণপক্ষের একাদশীর নাম কী, তা শুনতে আমি অত্যন্ত আগ্রহী।
শ্রীকৃষ্ণ বললেন— হে রাজন! আমি সবিস্তারে এই একাদশীর কথা বর্ণনা করছি, আপনি একাগ্রচিত্তে শ্রবণ করুন।
ভাদ্রের কৃষ্ণপক্ষীয় একাদশীকে বলা হয় ‘অন্নদা’। এই তিথি সর্বপাপবিনাশিনী। যিনি শ্রীহরির অর্চনে এই ব্রত পালন করেন, তিনি সর্বপাপ মুক্ত হন; এমনকি এই ব্রতের নাম শ্রবণেই রাশি রাশি পাপ বিদূরিত হয়ে যায়। এই ব্রত প্রসঙ্গে একটি পৌরাণিক ইতিহাস রয়েছে।
হরেকৃষ্ণ শুরু করার আগে একটু বলে নিই, এই অন্নদা একাদশীর মাহাত্ম্য আপনার আত্মীয়-স্বজনদেরকে শুনতে সহযোগিতা করুন যাতে তারা এই একদেশীর মাহাত্ম্য শুনে দিব্য ধাম প্রাপ্তি হয় এবং তার সফল পাপ মুক্ত হয়।
প্রাচীন কালে হরিশ্চন্দ্র নামে এক নিষ্ঠাবান, সত্যবাদী চক্রবর্তী রাজা ছিলেন। প্রতিজ্ঞাবদ্ধ সত্যরক্ষায় তিনি রাজ্যচ্যুত হন। অবস্থা এমন হলো যে, তিনি নিজের স্ত্রী–পুত্র এবং শেষে নিজেকেও পর্যন্ত বিক্রি করতে বাধ্য হলেন।
হে রাজেন্দ্র ! এই পুণ্যাবান রাজা চণ্ডালের দাসত্ব স্বীকার করেও সত্য রক্ষার্থে দৃঢ়নিষ্ঠা প্রদর্শন করেছিলেন। তিনি শ্মশানে মৃতব্যক্তির বস্ত্রও কররূপে গ্রহণ করতেন। এইভাবে তাঁর বহু বছর কেটে গেল।
দুঃখসাগরে নিমজ্জিত হয়ে— কী করি, কোথায় যাই, কীভাবে এ দুঃখ থেকে উদ্ধার পাই— এই চিন্তায় তিনি দিনরাত্রি বিভোর হলেন। এমন সময় দৈবক্রমে পরম দুঃখ দুঃখী-গৌতম ঋষি রাজার কাছে এলেন। রাজা মুনির দর্শন করে ভক্তিভরে প্রণাম করলেন এবং কর জোরে নিজের সমগ্র কথা জানালেন। রাজার দুঃখের কথা শুনে মুনিবর বিস্ময়াপন্ন হলেন।
অত্যন্ত ব্যথিত হয়ে তিনি বললেন— “হে রাজন! ভাদ্র মাসে কৃষ্ণপক্ষের একাদশী ‘অন্নদা’ নামে জগতে প্রসিদ্ধ। আপনি এই ব্রত পালন করুন। এ ব্রতপ্রভাবে আপনার সমস্ত পাপ বিনাশ হবে। আগামী সাত দিনের পরেই এই তিথির আবির্ভাব হবে। ঐ দিন উপবাস থেকে রাত্রিজাগরণ করবেন। এভাবে ব্রত উদযাপনে আপনার সমস্ত পাপক্ষয় হবে। হে রাজন! আপনার পুণ্য প্রভাবে আমি এখানে এসেছি জানবেন।” এই কথা বলে গৌতম মুনি অন্তহিত হলেন।
ঋষিবরের উপদেশ মতে তিনি শ্রদ্ধা সহকারে সেই ব্রত পালন করলেন। ফলত তাঁর সমস্ত পাপ দূর হলো। হে মহারাজ! এই ব্রতের প্রভাব শ্রাবণ করুন। যথাবি্দি এই ব্রত পালনে বহু বছরের দুঃখ ভোগের অবসান হয় ব্রতের প্রভাবে রাজা হরিশচন্দ্রের সকল দুঃখ ও সমাপ্ত হল। পুনরায় তিনি স্ত্রীকে ফিরে পেলেন এবং তার মৃত পুত্র জীবিত হলো আকাশ থেকে দেবগন দন্দুভি বাধ্য ও পুষ্প দর্শন করতে লাগলেন। ।নিষ্কণ্ঠ রাজ্য সুখ ভোগ করে অবশেষে আত্মীয়-স্বজন ও নগরবাসী সহ স্বর্গ গমন করলেন।
যে মানুষ নিষ্ঠাসহকারে এই ব্রত পালন করেন, তিনি শ্রীহরির চরণে ভক্তি লাভ করে অবশেষে দিব্যধামে গমন করেন। এই ব্রতের মাহাত্ম্য পাঠ ও শ্রবণে অশ্বমেধ যজ্ঞের ফল লাভ হয়।
#অন্নদাএকাদশী #অন্নদা #একাদশী #একাদশীমাহাত্ম্য #মাহাত্ম্য