23/07/2026
বারযাখী জীবনে সবাই জীবিত‼️
রাসূলুল্লাহ (ﷺ)- বলেন,
মৃত ব্যক্তি তাদের জুতার শব্দ শুনতে পায় যখন তারা ফিরে যেতে থাকে, আর তখনই তাকে বলা হয়, হে অমুক! তোমার রব কে? তোমার দ্বীন কি এবং তোমার নবী (ﷺ) কে?
তিনি (ﷺ) বলেছেন,
অতঃপর তার নিকট দু’জন ফেরেশতা এসে তাকে বসিয়ে উভয়ে প্রশ্ন করে, তোমার রব কে?
তখন সে বলে, আমার রব আল্লাহ।
তাঁরা উভয়ে তাকে প্রশ্ন করে, তোমার দ্বীন কি?
সে বলে, আমার দ্বীন হলো ইসলাম।
তারা প্রশ্ন করে, এ লোকটি তোমাদের মধ্যে প্রেরিত হয়েছিলেন, তিনি কে?
তিনি বলেন, সে বলে, তিনি আল্লাহর রাসূল (ﷺ)।
তারপর তারা উভয়ে আবার বলে, তুমি কি করে জানতে পারলে?
সে বলে, আমি আল্লাহর কিতাব পড়েছি এবং তার প্রতি ঈমান এনেছি এবং সত্য বলে স্বীকার করেছি।
জারীর বর্ণিত হাদীসে রয়েছেঃ এটাই হলো আল্লাহর এ বাণীর অর্থঃ “যারা এ শাশ্বত বাণীতে ঈমান এনেছে তাদেরকে দুনিয়া ও আখিরাতে আল্লাহ সুপ্রতিষ্ঠিত রাখবেন”
(সূরাহ ইবরাহীমঃ ২৭)।
এরপর নবী (ﷺ) বলেছেনঃ
অতঃপর আকাশ হতে একজন ঘোষক ঘোষণা করেন, আমার বান্দা যথাযথ বলেছে। সুতরাং, তার জন্য জান্নাতের একটি বিছানা বিছিয়ে দাও এবং তাকে জান্নাতের পোষাক পরিয়ে দাও। এছাড়া তার জন্য জান্নাতের দিকে একটা দরজা খুলে দাও।
তিনি (ﷺ) বলেন, সুতরাং, তার দিকে জান্নাতের স্নিগ্ধকর হাওয়া ও তার সুগন্ধি বইতে থাকে। তিনি আরো বলেন, ঐ দরজা তার দৃষ্টিসীমা পর্যন্ত প্রশস্ত করা হয়।
অতঃপর নবী (ﷺ) কাফিরদের মৃত্যু প্রসঙ্গে বলেন,
তার রূহকে তার শরীরে ফিরিয়ে আনা হয় এবং দু’জন ফেরেশতা এসে তাকে বসিয়ে প্রশ্ন করে, তোমার রব কে?
সে উত্তর দেয়, হায়! আমি কিছুই জানি না।
তারপর তারা প্রশ্ন করেন, তোমার দ্বীন কি? সে বলে, হায়! আমি কিছুই জানি না।
তারা প্রশ্ন করে, এ লোকটি তোমাদের মধ্যে প্রেরিত হয়েছিলেন তিনি কে? সে বলে, হায়! আমি তো জানি না।
তখন আকাশের দিক হতে একজন ঘোষণাকারী ঘোষণা করেন, সে মিথ্যা বলেছে। সুতরাং, তার জন্য জাহান্নামের একটি বিছানা এনে বিছিয়ে দাও এবং তাকে জাহান্নামের পোষাক পরিয়ে দাও, আর তার জন্য জাহান্নামের দিকে একটা দরজা খুলে দাও।
তিনি বলেন, অতঃপর তার দিকে জাহান্নামের উত্তপ্ত বাতাস আসতে থাকে। এছাড়া তার জন্য তার কবরকে সংকীর্ণ করে দেয়া হয়, ফলে তার এক দিকের পাঁজর অপর দিকের পাঁজরের মধ্যে ঢুকে যায়।
তিনি (ﷺ) বলেন, অতঃপর তার জন্য এক অন্ধ ও বধির ফেরেশতাকে নিযুক্ত করা হয়, যার সঙ্গে একটি লোহার হাতুড়ী থাকবে, যদি এ দ্বারা পাহাড়কে আঘাত করা হয় তাহলে তা ধূলায় পরিণত হয়ে যাবে।
নবী (ﷺ) বলেন, তারপর সে তাকে হাতুড়ী দিয়ে সজোরে আঘাত করতে থাকে, এতে সে বিকট শব্দে চিৎকার করতে থাকে যা মানুষ ও জিন ছাড়া পূর্ব হতে পশ্চিম পর্যন্ত সকল সৃষ্টি জীবই শুনতে পায়। আঘাতের ফলে সে মাটিতে মিশে যায়।
তিনি বলেন, অতঃপর (শাস্তি অব্যাহত রাখার জন্য) পুনরায় তাতে রুহ ফেরত দেয়া হয়।
📚
সুনানে আবু দাউদঃ ৪৭৫৩, ৪৭৫১
বুখারীঃ ১৩৩৮, ১৩৭৪
মিশকাতঃ ১৩১, ১৩৯, ১৬৩০
ইবনে মাজাহঃ ৪২৬৮
হাদিসে কুদসিঃ ৬৬
হাদিস সম্ভারঃ ১৩৮২
হাদিসের মান: সহিহ হাদিস।
রাসুলুল্লাহ ﷺ কে আল্লাহ ইহকালে সম্মানিত করেছেন, আত্মার জগতে সম্মানিত করেছেন, কিয়ামত দিবসে সম্মানিত করবেন এবং ইনশা আল্লাহ জান্নাতের সর্বোচ্চ স্থান দান করবেন।
কিন্তু তুমি যদি বলো রাসুলুল্লাহ ﷺ মরেন নাই, তিনি জিন্দা‼️
তাহলে আল্লাহ যে একমাত্র চিরঞ্জীব এই কথা তুমি অস্বীকার করছো 💥
এই উম্মতের শ্রেষ্ঠ মানুষ, প্রথম খলিফা, রাসুলুল্লাহ ﷺ এর সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ সহচর, সাহাবী ও শ্বশুর আবু বক্কর রাঃ বলে ছিলেনঃ
❝তোমাদের মাঝে যারা মুহাম্মাদ (ﷺ) -এর ইবাদত করতে, মুহাম্মাদ (ﷺ) সত্যই মারা গেছেন।
আর যারা মহান আল্লাহর ইবাদত করতে, নিশ্চয় আল্লাহ্ চিরঞ্জীব, অমর।❞
📚
সহিহ বুখারীঃ ১২৪১, ১২৪২, ৪৪৫৪
ইবনে মাজাহঃ ১৬২৭
হাদিসের মান: সহিহ হাদিস।