15/05/2026
যেসব বিষয় সামনে রেখে চামড়া সংগ্রহ থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত।
বিস্তারিত পড়ুন ও বাস্তবতা বুঝুন।
জামিয়ার ছাত্র সংখ্য প্রায় দুই হাজার, তারমধ্যে প্রতিবছর চামড়া সংগ্রহের জন্য ছাত্র শিক্ষক মিলিয়ে প্রায় ৪০০ জন স্বেচ্ছাশ্রম দিয়ে থাকেন।
বাকিদেরকে ঈদের তিন চার দিন আগে ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়।
যেসব এলাকায় চামড়া সংগ্রহ করার জন্য যাওয়া হয়ে থাকেঃ
মালিবাগ, মৌচাক, রূপগঞ্জ নারায়ণগঞ্জ, মগবাজার, নয়াটোলা, ডেমরা কোনাপাড়া, সায়দাবাদ ও সাইনবোর্ড এলাকা।
জামিয়ার আশপাশের নিজস্ব এলাকা চামড়া কালেকশনের জন্য যথেষ্ট উপযোগী না হওয়ায় দূরের এই এলাকাগুলোতে পিকআপ-ট্রাক ভাড়া করে ছাত্ররা চামড়া সংগ্রহের জন্য ঈদের দিন কষ্ট করত।
এতগুলো মানুষের অক্লান্ত পরিশ্রমের পরে সাধারণত প্রতিবছর চামড়া সংগ্রহ হতো ৫০০ থেকে ৬০০ এর মতো, এছাড়া ঈদের চার দিন আগে ছুটি হয়ে যাওয়ার পর ছুরি ধারানো, চিঠি বিলি করা, পোস্টার লাগানো, এলাকায় যেয়ে যেয়ে পরিচিত হওয়া ইত্যাদি কাজ তো আছেই।
✓ আয় ব্যয়
বিগত এক যুগ পর্যন্ত চামড়া বিক্রি বাবদ জামিয়ার আয় হচ্ছে সর্বোচ্চ সাড়ে চার লক্ষ টাকা।
আর ঈদের আগে তিন দিন চারশো মানুষের মাদরাসায় থাকা অবস্থায় খাওয়া দাওয়া, ঈদের দিন দুই বেলা অন্তত একটি গরু সহ মানসম্মত খাবার, সারাদিনের ট্রাক-পিকআপ ভাড়া, নাস্তার খরচ, চামড়া সংগ্রহের জন্য ভ্যান ভাড়া রিকশা ভাড়া ইত্যাদি সার্বিক ব্যয়ের পরে চামড়া কালেকশন থেকে অবশিষ্ট জামিয়ার আয় হিসেবে বাঁচতো এক থেকে দেড় লাখ টাকা।
এই দেড় লক্ষ টাকার জন্য এতগুলো মানুষের অক্লান্ত পরিশ্রম।
হ্যাঁ যদি চামড়ার মূল্য অনেক বেশি হতো তাহলে এত ব্যায়ের পরেও অন্তত একটা ভালো পরিমান জামিয়ার আয় অবশিষ্ট থাকতো।
এসব কিছু বিবেচনায় সিদ্ধান্ত হয়েছে চামড়া কালেকশন মূল্যবৃদ্ধি হওয়া পর্যন্ত স্থগিত থাকবে।