জহুরীয়া দরবার শরীফ Zahuria Darbar Sharif

  • Home
  • Bangladesh
  • Dhaka
  • জহুরীয়া দরবার শরীফ Zahuria Darbar Sharif

জহুরীয়া দরবার শরীফ Zahuria Darbar Sharif কোরান সুন্নার আলোকে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত এর আকিদা সম্পন্ন আধ্যাত্মিক চর্চার মারকাজ।

কোরান সুন্নার আলোকে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত এর আকিদা সম্পন্ন আধ্যাত্মিক চর্চার মারকাজ। সমাজের শিক্ষা হীন, দরীদ্র, পিছিয়ে পরা জনগোষ্টির পাশে দাঁড়ানোর প্রত্যয় নিয়ে ২০০৪ সালে প্রফেসর হযরত মাওলানা আলহাজ্ব মোঃ জহুরুল ইসলাম আল কাদেরী রহঃ এঁর স্বরনে তাঁর মুরিদ, ভক্ত-আশেকীন-জাকেরীন প্রতিষ্ঠা করেছে সম্পুর্ণ অরাজনৈতিক ননপ্রফিটেবল সংগঠন “জহুরীয়া দরবার শরীফ”। জুগে জুগে ইসলামী আদর্শে, আল্লাহ্ ও তাঁর প্রীয়

হাবিব রাসূলে পাক ‎ﷺ এঁর রেজামন্দি হাসিলের জন্য আধ্যাত্মিক চর্চা কেন্দ্র-দরবার সমূহ এদেশে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে তারই ধারাবাহিকতায় ঐতিহ্য বাহী জহুরীয়া দরবার শরীফ প্রতিষ্ঠিত। সম্পুর্ণ আত্বশুদ্ধিমূলক দ্বীনি মার্কাজ।

বিসমিল্লাহ্ এর ফজিলত بِسْمِ ٱللَّٰهِ ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيمِউচ্চারণঃ বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম।ভুমিকাঃ ‘বিসমিল্লাহির র...
01/03/2026

বিসমিল্লাহ্ এর ফজিলত
بِسْمِ ٱللَّٰهِ ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ
উচ্চারণঃ বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম।
ভুমিকাঃ ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম’ বাক্যবন্ধটি পবিত্র কোরআনের সুরার অংশ। ‘বিসমিল্লাহ্’ বলে সব শুরু করা সুন্নত। ইসলামি শরিয়তের মূলনীতি হলো, প্রত্যেক ভালো কাজ ‘বিসমিল্লাহ’ বলে শুরু করা উচিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেছেন, ' বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম উচ্চারণ না করে যে কোনও কাজ করা হলে তা সমস্ত বরকত থেকে বঞ্চিত হয়।' বিসমিল্লাহ্ বলা মুহাম্মদুর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এঁর আগে পূর্ববর্তী নবীগণেরও সুন্নাত ছিল। এতে আল্লাহর তিনটি সুন্দর নাম রয়েছেঃ ১) আল্লাহ্ ২) আর রহমান ৩) আর রহীম।

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম এর বাংলা অর্থঃ ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম’ একটি আরবি বাক্যবন্ধ; যুগল বাক্য। এর সরল বাংলা অর্থ, পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহ তা’য়ালার নামে (শুরু করছি)। এ বাক্যে ‘শুরু করা’ ক্রিয়াটি ঊহ্য। এর উদ্দেশ্য যেকোনো ভালো ‘কাজ’ বা ‘নেক আমল’ আল্লাহর নামে শুরু করা।

প্রাসঙ্গিক আলোচনা ও গুরুত্বঃ বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম‘র এর গুরুত্ব অপরিসীম। “বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম” কোরআন শরীফের সূরা নামলের একটি আয়াত বা অংশ। কোরআনুল কারিমের দিকে তাকালে দেখবো পবিত্র কুরআন শরীফের ১১৪টি সূরার মধ্যে সূরা তওবা ব্যতিদরেকে বাকি ১১৩টি সূরা শুরু করা হয়েছে “বিসমিল্লাহির রাহমানির রহীম” দিয়ে। ইমাম আবু হানিফা (র) বলেন- ‘এটা এমন একটি স্বয়ং সম্পূর্ণ আয়াত যা প্রত্যেক সূরার প্রথমে লেখা এবং দু’টি সূরার মধ্যে পার্থক্য নির্দেশ করার জন্য অবতীর্ণ হয়েছে।’ কোরআন শরীফের স্থানে স্থানে উপদেশ রয়েছে যে, প্রত্যেক কাজ “বিসমিল্লাহির রাহমানির রহীম” বলে আরম্ভ কর। মুসনাদে আহমাদ, ১৪/৩২৯ নং হাদীসে আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু এঁর বর্ণনায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘প্রত্যেক কথা বা কাজ যা আল্লাহর নাম ছাড়া শুরু করা হয়, তা লেজবিহীন বা অসম্পূর্ণ (বরকতশূন্য)।’
কলেমা শরীফ, লাইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম) পাঠ করা যেভাবে উত্তম যিকর, তেমনি বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম পাঠ করাও আল্লাহর মাকবুল ও উত্তম যিকর।

ফজিলতঃ
▪️যখনই আমরা বিসমিল্লাহ্ বলে কিছু শুরু করি , আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা তাতে বিশেষ বরকত বর্ষণ করেন। তিনি কাজের মধ্যে যে কোনও ত্রুটি থাকলে তা দূর করেন, এটিকে সমৃদ্ধ করতে সাহায্য করেন এবং শয়তানের প্রভাব দূর করে দেন।

▪️আবু দাউদ, নাসাঈ, ইবনে মাযাহ্ শরীফে হযরত আবু হুরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু বর্ণনা করেন, রসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, প্রত্যেক ভাল কাজ যেটা বিসমিল্লাহ্ দ্বারা শুরু করা হয়না সেটা লেজবিহীন অসম্পূর্ণ থেকে যায়।

▪️বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম আল্লাহ্ তায়ালার সর্ব শেষ গ্রন্থ কোরআনে কারীমের হীরক খন্ড, যা কারো দিলে একবার বসে গেলে সেখানেই ঘর বানিয়ে নেয়। বিসমিল্লার আমল যার দিলে থাকবে তাকে যে সম্মান, শান্তি, বরকত ও মহত্ব দান করা হয় অন্য কোনো আমলের দ্বারা তা সম্ভব নয়। বিসমিল্লার ‘বা’ এর নুকতার বরকতে আল্লাহ্ তা’য়ালার যে রহমতের ঝর্না ধারা প্রবাহিত হয়, সমস্ত মাখলুক সেই রহমত থেকে উপকৃত হতে থাকে।

▪️হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু জনাবে মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এরশাদ ফরমান – যে ব্যক্তি বিসমিল্লাহির রাহমানি রাহীম পাঠ করবে আল্লাহ্ তায়ালা তাকে প্রত্যেক হরফের পরিবর্তে চার হাজার নেকি দান করবেন, চার হাজার গুনাহ মাফ করে দিবেন, এবং চার হাজার সস্মান বৃদ্ধি করে দিবেন। -নুজহাতুল মাজালিশ।

▪️বিসমিল্লার মধ্যে ১৯টি হরফ আছে, এই ১৯টি হরফ একবার পাঠ করবার কারনে ৭৬ হাজার নেকি দান করা হবে, ৭৬ হাজার গুনাহ্ মাফ করা হবে, এবং ৭৬ হাজার সম্মান বৃদ্ধি করা হবে। সুবহানাল্লাহ্ আল্লাহ্ রব্বে কারীম কত বড় দেনেওয়ালা তা মানুষের কল্পনাতীত অতুলনীয়।

▪️যখন বিসমিল্লাহ্ শরীফ নাযিল হয় তখন শয়তান লজ্জায় মাথায় মাটি মাখে এবং তাকে পাথর নিক্ষেপ করে বেইজ্জত করা হয়। অতঃপর আল্লাহ্ রাব্বুলআলামিন স্বীয় ইজ্জত ও বড়ত্বের কসম করে বলেন – যে কাজের মধ্যেই আমার বান্দা আমার এই বরকতপুর্ন নাম নিবে সে কাজের মধ্যে আমি বিপুল বরকত দান করবো। কোন রোগী যদি পাঠ করে তবে আমি পূর্ন আরোগ্য দান করবো। অবশেষে পাঠ কারীকে জান্নাতে প্রবেশ করাবো। সুবহানাল্লাহ্।

▪️হজরত আনাস ইবনে মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, আদম সন্তান যখন কাপড় খোলে, তখন তার সতর ও নিজদের চোখের মধ্যবর্তী পর্দা হচ্ছে বিসমিল্লাহির-রাহমানির রাহীম`। তাহলে আল্লাহ ইচ্ছা করলে বিসমিল্লাহর আমলকারীদের জন্য জাহান্নামকেও আড়াল করে দিতে পারেন।

▪️হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে লক্ষ্য করে ইরশাদ করেন, ‘হে আবু হুরায়রা! তুমি যখন অজু করবে, বিসমিল্লাহ্ বলবে। তাহলে ফেরেশতাগণ তোমার অজু শেষ না হওয়া পর্যন্ত তোমার জন্য পুণ্য লিখতে থাকবে। তুমি যখন স্ত্রীর সঙ্গে সহবাস করবে, তখন বিসমিল্লাহ্ বলবে। তাহলে যতক্ষণ না তুমি গোসল শেষ করবে, ততক্ষণ ফেরেশতাগণ তোমার জন্য পুণ্য লিখতে থাকবে। সেই সহবাসে যদি তোমার কোনো সন্তান লাভ হয়, তবে সেই সন্তানের নিঃশ্বাস এবং তার যদি বংশধারা চালু থাকে, তবে যতকাল তা চালু থাকবে, ততকাল পর্যন্ত তাদের সবার নিঃশ্বাসের সংখ্যা পরিমাণ পুণ্য তোমার আমলনামায় লেখা হতে থাকবে। হে আবু হুরায়রা! তুমি যখন পশুর পিঠে চড়বে, তখন বিসমিল্লাহ্ বলবে। তাহলে তার প্রতি কদমে তোমার জন্য পুণ্য লেখা হবে। আর যখন নৌকায় চড়বে, তখনো বিসমিল্লাহ্ বলবে। তাহলে যতক্ষণ না তুমি তা থেকে নামবে, ততক্ষণ পর্যন্ত তোমার জন্য পুণ্য লেখা হতে থাকবে। সুবহানাল্লাহ্।

▪️নবী করীম (সাঃ ) বলেছেন ,যখন মানুষ প্রস্রাব পায়খানার জন্য, নিজ স্ত্রীর সাথে মিলনের জন্য তৈরী হয় , তখন শয়তান তার প্রত্যেক কাজে অনিষ্ট করে। কিন্তু যখন বিসমিল্লাহ পড়ে তৈরী হয় তখন পুরুষ হোক বা স্ত্রী লোক হোক তার মধ্যে এবং শয়তানের মধ্যে একটি আবরণ পরে যায়। তাতে তার শরীর কেউ দেখতে পায় না আর দেখলেও কোনো অনিষ্ট করতে পারে না।

▪️যে ব্যক্তি নিয়মিত বিসমিল্লাহ পাঠ করবে কিয়ামতের দিন সে আল্লাহর রহমতের মধ্যে ডুবে যাবে অথার্ৎ বেহেশতের অশেষ নেয়ামত পাবে।

▪️বিসমিল্লাহ্র বরকতে ওস্তাদ ও মাতা পিতার ক্ষমাঃ হযরত আবদুল্লাহ্ ইবনে আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু থেকে বর্ণিত, রসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন, যখন শিক্ষক শিক্ষার্থীকে বলে পড়ো, ‘‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম’ তখন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও শিক্ষার্থীর পিতামাতার জন্য ক্ষমা লিপিবদ্ধ করা হয়। -দায়লামী, আনোয়ারুল বয়ান, খন্ড-৩, পৃ. ১৩৫।

▪️▪️হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন যে ব্যক্তি দোজখ রক্ষী ১৯ জন ফেরেস্তার হাত থেকে নিজেকে রক্ষা করতে চায় তার অবশ্যই উচিত ১৯ বার বিসমিল্লাহ্ পাঠ করে। আমরা লক্ষ্য করলে দেখতে পাবো “বিসমিল্লাহর রাহমানির রাহীম” এ রয়েছে মোট ১৯ টি বর্ণ। “বিসমিল্লাহর রাহমানির রাহীম” এর মোট ১৯ টি বর্ণের এক একটি বর্ণ পাঠ করার ফলে ওই ব্যক্তি একেক জন ফেরেশতার আজাব হতে মুক্তি পাবে। সুবহানাল্লাহ্

▪️একটি উদাহরণঃ বাদশাহ্ হিরাক্লিয়াসের মাথা ব্যথা দূরীভূত হলো
পবিত্র কোরআন সকল রোগের মহৌষধ। আল্লাহ্ তা‘আলা এরশাদ করেছেন-
وَ نُنَزِّلُ مِنَ الْقُرْاٰنِ مَا هُوَ شِفَآءٌ وَّ رَحْمَةٌ لِّلْمُؤْمِنِیْنَۙ-
অর্থঃ এবং আমি ক্বোরআনের মধ্যে অবতীর্ণ করি ওই বস্তু যা ঈমানদারদের জন্য আরোগ্য ও রহমত। -সূরা বনী ইস্রাঈল: আয়াত-৮২।
ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হযরত আমিরুল মুমেনীন ওমর ইবনে খাত্তাব রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহুর নিকট একদা রোম সাম্রাজ্যের বাদশাহ্ হিরাক্লিয়াস পত্র লিখলেন, আমিরুল মু’মিনেীন, আমি প্রচন্ড মাথা ব্যথায় ভুগছি আপনি একটু আমার চিকিৎসা করুন, খলিফাতুল মুসলেমীন বাদশাহর কাছে একটি টুপি প্রেরণ করলেন, বাদশাহ্ যখন এ টুপি মাথায় পরিধান করতেন, মাথা ব্যথা চলে যেতো, মাথার টুপি যখন নামিয়ে ফেলতেন, পুনরায় মাথা ব্যথা শুরু হয়ে যেতো। বাদশাহ্ আশ্চর্য হলেন এর কি রহস্য? এক পর্যায়ে টুপি খুলে দেখলেন, টুপির ভিতরে এক টুকরো কাগজে পবিত্র কুরআনের আয়াত ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম’ লিখা ছিলো, বিসমিল্লাহ্ শরীফের বরকতে মাথা ব্যথা দূরীভূত হলো, সাহাবায়ে কিরামের কুরআনী চিকিৎসা ইসলামের এক বিস্ময়কর আধ্যাত্মিক শক্তির গৌরবোজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। -তাফসীরে নাঈমী, খন্ড-১ম।

▪️আল কুরআনের সংখ্যাতাত্মিক রহস্য
‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম’ আয়াতে আরবি বর্ণমালার ১৯টি অক্ষর রয়েছে। গোটা কুরআনের সূরা সংখ্যা ১১৪টি। যা ১৯ দিয়ে বিভাজ্য (১৯x৬ = ১১৪)। কুরআনে ইসম শব্দটি এসেছে ১৩৩ বার (১৯x৭ = ১৩৩)। আল্লাহ্ শব্দটি এসেছে ৫৭ বার (১৯x৩= ৫৭) রাহীম শব্দটি এসেছে ১১৪ বার (১৯x৬= ১১৪)।
এ অলৌকিকত্ব আল কুরআনের এক বিস্ময়কর মুজিযা। -আল কুরআন- ও সাহেবে কুরআন, পৃ. ১১।

সার সংক্ষেপঃ উপরোক্ত আলোচনার আলোকে “বিসমিল্লাহর রাহমানির রাহীম” এর ফজিলতের সার সংক্ষেপ যদি বলি, বলতে পারি এর দ্বারা

জাহান্নাম থেকে মুক্তিঃ কিয়ামতের ভয়াবহ দিনে জাহান্নামের ১৯ জন ফেরেশতার(দারোগা) শাস্তি থেকে এটি রক্ষা করবে।

রক্ষণশীলতা বা নিরাপত্তাঃ প্রতিটি হরফ বা বর্ণ জাহান্নামের এক একটি ফেরেশতার হাত থেকে সুরক্ষা কবচ হিসেবে কাজ করে। এটি পড়ার মাধ্যমে প্রতিটি বর্ণ পাঠকারীর জন্য ঢাল স্বরূপ কাজ করে এবং বিপদ-আপদ থেকে নিরাপত্তা প্রদান করে।

নেকী ও গুনাহ মাফঃ নিয়মিত পাঠকারীকে আল্লাহ তাআলা অগণিত নেকী দান করেন এবং গুনাহ মাফ করে দেন।

কবরের শাস্তি হ্রাসঃ এই বাক্যটি নিয়মিত পাঠ করলে কবরের আযাব থেকে মুক্তিপাওয়া যায়।

আল্লাহর সাহায‍্যঃ যেকোনো কাজ শুরু করার আগে এটি পড়লে আল্লাহর রহমত, বরকত ও সাহায্য পাওয়া যায় এবং আধ্যাত্মিক প্রশান্তি বৃদ্ধি পায়।

উপসংহারঃ আল্লাহ পাক আমাদের সবাইকে বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম এর হক বুঝে প্রতিটি ভালো কাজের শুরুতে আমল করার তাউফীক দান করুন। আমীন। সুম্মা আমীন।

আল ইসলাম জহুরীয়া
ইসলামী গবেষণা কেন্দ্র
উত্তর বাহেরচর, তারানগর
কেরাণীগঞ্জ, ঢাকা, বাংলাদেশ।

নারীদের মসজিদে গিয়ে জামাতে নামাজ আদায়ের বিধিবিধান মনে প্রশ্ন জাগাটা খুবই স্বাভাবিক, পুরুষরা তাগিদ নিয়ে গুরুত্বের, সাথ...
27/02/2026

নারীদের মসজিদে গিয়ে জামাতে নামাজ আদায়ের বিধিবিধান

মনে প্রশ্ন জাগাটা খুবই স্বাভাবিক, পুরুষরা তাগিদ নিয়ে গুরুত্বের, সাথে মসজিদে গিয়ে জামাতে নামাজ আদায় করলেও মেয়েদের বেলায় সঠিক হুকুম কি ? জুমার নামাজ অথবা ঈদের নামাজের জামাতে মহিলাদের শরিক হওয়ার ব্যপারে কি হুকুম ?

মহিলাদের জামাতে নামাজ আদায়ের বিধান সম্পর্কে ইসলামের ফিকহে বিভিন্ন মাযহাবে কিছু পার্থক্য রয়েছে। ফিকহে আহনাফ বা হানাফি মাযহাবের দলিল ও কিতাবের নামসহ বিস্তারিত আলোচনা তুলে ধরছি।

আলোচনার শুরুতেই আমরা জেনে নিই কোরআনুল কারিমে আল্লাহ্ এ ব্যাপারে কি বলেছেন। সূরা আল আহযাবের ৩৩ঃ৩৩ নাম্বার আয়াতে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’লা বলেন,
وَقَرْنَ فِي بُيُوتِكُنَّ وَلَا تَبَرَّجْنَ تَبَرُّجَ الْجَاهِلِيَّةِ الْأُولَىٰ
(الأحزاب: ٣٣)
অর্থঃ “তোমরা নিজেদের ঘরে অবস্থান কর। মূর্খতা যুগের অনুরূপ নিজেদেরকে প্রদর্শন করবে না”। -সূরা আহযাব ৩৩।

হানাফী ফুকাহাগণ বলেন, এ আয়াত নারীগণের ঘরে অবস্থানের প্রতি উৎসাহ প্রদান করে, যা ইবাদতের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।

এর পর আমরা জেনে নিবো প্রিয় নবী রাসূলে আরাবি নূর নবী মা-বোনগণের মসজিদে গিয়ে নামাজ পড়ার ব্যাপারে কি বলেছেন, সুনান আবু দাউদ শরীফের ৫৬৭ নং হাদীসের বর্ণনায় জানা যায়, রাসূল ﷺ মহিলাদেরকে মসজিদ সমূহে যাতায়াতে বাধা দিতে নিষেধ করলেও ঘরে নামাজ পড়াকেই উত্তম বলেছেন। রাসূল ﷺ বলেন,

لَا تَمْنَعُوا نِسَاءَكُمُ الْمَسَاجِدَ وَبُيُوتُهُنَّ خَيْرٌ لَهُنَّ
(سنن أبي داود، رقم: ٥٦٧)

অর্থাৎঃ “তোমরা তোমাদের স্ত্রীদের মসজিদ সমূহে যাতায়াতের বাধা দিও না। কিন্তু তাদের ঘরসমূহই তাদের (নামাযের জন্য)-উত্তম স্থান।”

সুনানে আবু দাউদ, আহকামুল কোরআন, থানভি সহ বাজলুল মাজহুদ এর মতো প্রশিদ্ধ হাদীস গ্রন্থের বরাতে জানা যায় রাসূলুল্লাহ ﷺ এঁর যুগে নারীদের মসজিদে গিয়ে জামাতে নামাজের অনুমতি থাকলেও তা ছিল কিছু শর্ত সাপেক্ষে। যেমনঃ
ক) সম্পূর্ণ আবৃত ও পূর্ণ শরীর ঢেকে বের হবে।
খ) সেজেগুজে খুশবু লাগিয়ে বের হবে না।
গ) বাজনাদার অলংকার, চুড়ি ইত্যাদি পরে আসতে পারবে না।
ঘ) অঙ্গভঙ্গি করে চলতে পারবে না।
ঙ) পুরুষদের ভিড় এড়িয়ে পাশ কাটিয়ে চলবে।
চ) অপ্রয়োজনে কোনো বেগানা পুরুষের সঙ্গে কথা বলবে না।
ছ) সর্বোপরি তাদের বাহিরে বের হওয়াটা ফেতনার কারণ হবে না।
-সুনানে আবু দাউদ: ৫৬৫, আহকামুল কোরআন, থানভি: ৩/৪৭১, বাজলুল মাজহুদ: ৪/১৬১।

মনে প্রশ্ন জাগাটা অত্যন্ত স্বাভাবিক শর্ত সাপেক্ষে মহিলাদের মসজিদে গিয়ে নামাজ আদায়ের অনুমতি থাকার পরও কেন রাসূলুল্লাহ ﷺ এঁর ইন্তিকালের পর ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হযরত ওমর ফারুক রাদিয়াল্লাহু আনহু কেন নিষেধাজ্ঞা জারি করলেন!! সেই আমলে উম্মত জননী মা আয়েশা সিদ্দিকা রাদিয়াল্লাহু আনহা সহ অসংখ্য জলিলকদর সাহাবিগণ জীবিত ছিলেন। তাঁরা কেউ কোনো প্রতিবাদ করেননি বরংচ কেনো উনারা বিরোধিতা না করে নারীদের মসজিদে যাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞাকেই যুক্তি যুক্ত মনে করছেন !!! এর উত্তর সহজ!! রাসূলুল্লাহ ﷺ এঁর ইন্তিকালের পর সাহাবিগনের পক্ষ হতে নারীদের মসজিদে যাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞার কারণ হচ্ছে উপরোক্ত শর্তগুলো ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া। এ প্রসঙ্গে হজরত মা আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেন, 'নারীরা যে অবস্থা সৃষ্টি করেছে, তা যদি রাসূল ﷺ জানতেন, তবে বনি ইসরাইলের নারীদের যেমন নিষেধ করা হয়েছিল, তেমনি তাদেরও মসজিদে আসা নিষেধ করে দিতেন।' -বুখারী শরীফ ৮৬৯।

হানাফী বিশেষজ্ঞ ইমামগণ দশ হাজার হাদীসের বর্ণনাকারী উম্মত জননী হজরত মা আয়েশা সিদ্দিকা রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহার এ বক্তব্যকে শক্ত দলিল হিসেবে গ্রহণ করেন যে সামাজিক পরিবর্তনের কারণে বিধান পরিবর্তনযোগ্য।

উপরের হাদীসের ব্যাখ্যায় বুখারী শরীফের বিখ্যাত ব্যাখ্যাকার বদরুদ্দিন আইনি (রহ.) লিখেছেন, 'হযরত আয়েশা সিদ্দীকা রাদিয়াল্লাহু আনহা -এঁর এই মন্তব্য তো রাসূলুল্লাহ ﷺ এঁর দুনিয়া থেকে ইন্তিকালের কিছুদিন পরের নারীদের সম্পর্কে। অথচ আজকের যুগের নারীদের উগ্রতা আর পর্দাহীনতা হাজার ভাগের এক ভাগও সে যুগে ছিল না। তাহলে এ অবস্থা দেখে রাসূলুল্লাহ ﷺ কী মন্তব্য করতেন ?' -উমদাতুল কারি ৬/১৫৮।

বর্তমান সময়ে কিছু মুসলিম ভাইয়ের ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে বসেন যে, রাসূলুল্লাহ ﷺ এঁর সুন্নতকে ডিঙিয়ে কারো কথা মানা উচিত হবে না। নাউজুবিল্লাহ্। এ চিন্তা শুধুমাত্র তাঁদের অজ্ঞতারই প্রতিফলন। সাহাবিগণের সুন্নত কখনো হাদীসের বিরুদ্ধে যায় না, বরং আল্লাহ্ ও রাসূল ﷺ এঁর হক আদায়ে তাঁরাই অগ্রগামী এবং সর্ব শ্রেষ্ঠ।

আমরা অনেকে হয়তো জানিই না বা জানলেও গুরুত্ব দেইনা হাদীস শরীফের পাশাপাশি সাহাবিগণের আমলও দলিলরূপে গণ্য। কেননা তাঁরা ছিলেন সত্যের মাপকাঠি। রাসূল ﷺ সুস্পষ্ট বলেছেন, 'তোমরা আমার পরে খোলাফায়ে রাশেদিনের সুন্নতকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরবে, যেমন মাড়ির দাঁত দিয়ে কোনো জিনিস মজবুতভাবে ধরা হয়।' -আবু দাউদ শরীফ ৪৬০৭।

হযরত আবু বকর সিদ্দিক রাদিয়াল্লাহু আনহুর ইন্তেকালের পর হজরত ওমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু নিজ খেলাফত আমলে যখন মহিলাদের পরিবর্তিত অবস্থা দেখেন এবং ফেতনার আশঙ্কা দিন দিন বাড়তে থাকে, তখন উম্মুল মুমিনিন আয়েশা (রা.), ইবনে মাসউদ ও ইবনুজ জুবায়ের (রা.) সহ বড় বড় সাহাবায়ে কিরামগণ নারীদের মসজিদে না আসার আদেশ জারি করলেন। অন্য সাহাবায়ে কিরামগণও এ ঘোষণাকে স্বাগত জানালেন। কেননা তাঁরা জানতেন-মহিলাদের মসজিদে আসতে নিষেধ করার মধ্যে রাসূলুল্লাহ ﷺ এঁর নির্দেশের বিরোধিতা করা হয়নি; বরং তাঁর ইচ্ছারই প্রতিফলন ঘটানো হয়েছে।
বর্তমানে গোটা বিশ্ব জুড়ে অশ্লীলতা আর বেপর্দার ছড়াছড়ি। ফিতনায় যখন পুরো সমাজ জর্জরিত সে মুহূর্তে অবলা মা- বোনদের ছাওয়াবের স্বপ্ন দেখিয়ে মসজিদে আর ঈদগাহে টেনে আনার চেষ্টা বোকামি ছাড়া কিছুই নয়। বর্তমান যুগের নারীগণ কখনোই রাসূলুল্লাহ ﷺ এঁর যুগের নারীগণের সমকক্ষ নন খুব সহজেই বুঝা যায়। তথাপি সে যুগের নারীগণকেই মসজিদে আসতে নিষেধ করেছেন খোদ আমিরুল মো'মিনিন হযরত ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু। সুতরাং আমরা বর্তমান এই ফিতনার যুগে মহিলাগণকে মসজিদে ও ঈদগাহে গিয়ে নামাজের জন্য উৎসাহ দিতে পারি না।

মূলত নারীদের মসজিদে যাওয়ার হাদীসগুলোর সঠিক ব্যাখ্যা না জানার কারণেই মূলত বিপত্তিটা বেড়েছে। তাই আসুন এ সম্পর্কিত একটি হাদীস ও তার ব্যাখ্যা জেনে নেই। তাহলে সকল সংশয় দূর হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ্।

মুসলিম ও আবু দাউদ শরীফে হজরত ইবনে ওমর (রা.) সূত্রে বর্ণিত, রাসূল ﷺ বলেন, 'আল্লাহর বান্দিদের আল্লাহর মসজিদ থেকে নিষেধ করো না।' -মুসলিম শরীফ ৪৪২; আবু দাউদ শরীফ ৫৬৬।

উল্লেখিত হাদীসের ব্যাখ্যা হলো, ইসলামের প্রথম যুগে নারীগণ মসজিদে যাওয়ার অনুমতি চাইলে তাদের নিষেধ করা হতো না। ওই নির্দেশ সাময়িক ও শর্তসাপেক্ষ ছিল। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনের কারণে ও মসজিদে নারীরা যাওয়ার শর্ত বিদ্যমান না থাকার কারণে এখন নিষেধ করাটাই সুন্নত। কারণ রাসূল ﷺ এঁর যুগ অহী নাজিলের যুগ ছিল। তাই নারীগণ যাতে বিভিন্ন সময় অবতীর্ণ আয়াত ও শরিয়তের বিভিন্ন বিধান সরাসরি রাসূল ﷺ এঁর কাছ থেকে ভালোভাবে শিখে নিতে পারেন, সেজন্য নারীদের মসজিদে আসতে নিষেধ করা হয়নি। কিন্তু পরে এই প্রয়োজনীয়তা শেষ হয়ে যাওয়ায় সাহাবায়ে কিরামগণ নিষেধ করে দেন।

আল্লামা ইবনে নুজাইম মিসরি ও আল্লামা হাসকাফি (রহ.) বলেন, বর্তমান যুগে ফেতনার ব্যাপক প্রচলন হওয়ায় ফতোয়া হলো সব নারীর জন্যই সব নামাজ মসজিদে গিয়ে জামাতে আদায় করা মাকরুহে তাহরিমি। -আল বাহরুর রায়েক ১/৬২৭-৬২৮, আদ্দুররুল মুখতার ১/৩৮০।

আমাদের মধ্যে অনেক ভাই বলে থাকেন যে, মক্কা-মদিনার হারামাইন শরিফে নারীরা মসজিদের জামাতে অংশগ্রহণ করে থাকেন। এখানে কেন নিষেধ হবে? এর উত্তর হলো, আসলে হারামাইনে কিছু বিশেষ প্রয়োজনের কারণে নারীগণের জামাতে অংশগ্রহণের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তা হলো, নারীদের যেহেতু মক্কা শরীফের মসজিদে হারামে তাওয়াফের জন্য আসতে হয় এবং মদীনার মসজিদে নববিতে জিয়ারতের জন্য তাঁরা এসে থাকেন। এ অবস্থায় নামাজের আজান হয়ে গেলে আর বের না হয়ে তাঁরা মসজিদের জামাতে অংশগ্রহণ করে থাকেন। ওলামায়ে কিরামগণ এর অনুমতি দিয়েছেন। তবে শুধু কেবল জামাতে অংশগ্রহণের উদ্দেশ্যে নারীদের হারামাইন শারীফাইনে যাওয়ার অনুমতি নেই। বর্তমানে না জেনে অনেক মহিলা শুধু নামাজের জন্যই হারামাইনে উপস্থিত হয়ে থাকেন, তা ঠিক নয়। -ইলাউস সুনান:৪/২৩১।

নারীদের নামাজ সংক্রান্ত অসংখ্য হাদীস আছে, যেগুলোতে তাদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ঘরে নামাজ পড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাদের মসজিদে আসতে নিরুৎসাহী করা হয়েছে।

আবু দাউদ শরীফের ৫৭০ নং সহিহ হাদীসে হজরত আবদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন,

صَلَاةُ الْمَرْأَةِ فِي بَيْتِهَا خَيْرٌ مِنْ صَلَاتِهَا فِي حُجْرَتِهَا، وَصَلَاتُهَا فِي حُجْرَتِهَا خَيْرٌ مِنْ صَلَاتِهَا فِي دَارِهَا
অর্থাৎঃ "নারীর নিজ ঘরে (সাধারণ স্থান) সালাত আদায় করা তার উঠান বা কামরায় সালাত আদায় করার চেয়ে উত্তম। আর নারীর ঘরে (সাধারণ স্থান) সালাত আদায় করার চেয়ে তার ঘরের ভেতরের নির্জন প্রকোষ্ঠে/বেডরুম) সালাত আদায় করা আরও উত্তম"।

অন্য বর্ণনায় হজরত উম্মে সালামা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেছেন, 'নারীদের ঘরে নামাজ পড়া ঘরের বাইরে নামাজ পড়ার চেয়ে উত্তম' -আল মু'জামুল আওসাতঃ ৯১০১।

মুসনাদে আহমদ ২৬৫৪২ নং হাদীসে উম্মে সালামা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেন, 'নারীদের নামাজের উত্তম জায়গা হলো তাদের ঘরের নির্জন কোণ।' (হাদীসটি হাসান)

আবু হুমাইদ আল সাঈদি রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, একবার উম্মে হুমাইদ নামক একজন মহিলা সাহাবি রাসূলুল্লাহ ﷺ এঁর কাছে গিয়ে বললেন, 'হে আল্লাহর রাসূল! আমি আপনার সঙ্গে নামাজ আদায় করতে আগ্রহী।' রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন, 'আমি জানি তুমি আমার সঙ্গে নামাজ আদায় করতে পছন্দ করো। কিন্তু তোমার জন্য বড় কামরার তুলনায় ঘরের অন্দরমহলে নামাজ পড়া উত্তম। আবার বড় কামরায় নামাজ পড়া উত্তম বারান্দায় নামাজ পড়ার চেয়ে। তোমার মহল্লার মসজিদের চেয়ে বারান্দায় নামাজ আদায় করা উত্তম। মহল্লার মসজিদ উত্তম, আমার মসজিদের (মসজিদে নববির) চেয়ে।' এ কথা শোনার পর উম্মে হুমাইদ রাদিয়াল্লাহু আনহা তাঁর ঘরের নির্জন স্থানে একটি নামাজের স্থান বানাতে নির্দেশ দিলেন। সেখানেই আজীবন নামাজ আদায় করেছেন। এ অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন। -মুসনাদে আহমদ ২৭০৯০; ইবনে খুজাইমা ১৬৮৯, হাফেজ ইবনে হাজার (রহ.)-এঁর মতে হাদীসটি হাসান। ফাতহুল বারি: ২/২৯০)

আবু মুসা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূল ﷺ বলেন, 'জামাতে জুমার নামাজ পড়া প্রত্যেক মুসলমানের ওপর অকাট্য ওয়াজিব, তবে ক্রীতদাস, নারী, শিশু ও অসুস্থ ব্যক্তির ওপর ওয়াজিব নয়।' (আবু দাউদ: ১০৬৭ (হাদীসটি ইমাম বুখারী ও মুসলিম (রহ.)-এঁর শর্ত অনুযায়ী সহিহ; আল মুস্তাদরাক: ১/২৮৮)

উল্লিখিত হাদীসগুলো থেকে এ বিষয়গুলো স্পষ্ট হয়ে যায় যে, পুরুষদের দায়িত্ব পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ মসজিদে পড়া, আর মহিলাগণের দায়িত্ব হলো ঘরে নামাজ পড়া। এছাড়াও রাসূলুল্লাহ ﷺ এঁর যুগে মহিলাগণের জন্য জামাতে শরিক হওয়া ওয়াজিব, সুন্নত বা অত্যাবশ্যকীয়ও ছিল না; বরং শুধু অনুমতি ছিল। তবে সেটিও ছিল অপছন্দের সঙ্গে এবং শর্তসাপেক্ষে।

ফতোয়ায়ে আহনাফ বা হানাফী মাযহাবের প্রসিদ্ধ ফতোয়ার কিতাবগুলোতে কি মত প্রকাশ করা হয়েছে আসুন তাও আমরা জেনে নিই।

হানাফী আইনশাস্ত্রের অন্যতম প্রভাবশালী কিতাব (ফিকহ্) হিসাবে বিবেচিত আল-হিদায়ার লেখক হানাফী মাজহাবের একজন ইসলামী পণ্ডিত ইমাম মারঘীনানী রহমতুল্লাহ আলাইহি’র আল-হিদায়া নামক গ্রন্থে লিখেছেনঃ
وَيُكْرَهُ خُرُوجُ الشَّوَابِّ إِلَى الْمَسْجِدِ لِلصَّلَاةِ لِمَا فِيهِ مِنْ خَوْفِ الْفِتْنَةِ
(الهداية، كتاب الصلاة)
যুবতী নারীর মসজিদে যাওয়া মাকরূহ; কারণ এতে ফিতনার আশঙ্কা আছে।

হিজরীর ৬ষ্ঠ শতকের বিশিষ্ট আইনজ্ঞ 'আলা' আল-দীন আল-কাসানী সামারকান্দি রহমতুল্লাহ আলাইহি’র তুহফাত আল-ফুকাহা'র ব্যাখ্যা হিসাবে লিখিত ‘বাদাই আল-সানাই' তারতিব আশ-শরা'ই' (ধর্মীয় -আইনি বিধিবিধানের বিন্যাসে বিস্ময়কর শৈল্পিকতা) গ্রন্থে আল-দীন আল-কাসানী সামারকান্দি রহমতুল্লাহ আলাইহি বলেনঃ
وَأَمَّا فِي زَمَانِنَا فَيُكْرَهُ خُرُوجُهُنَّ إِلَى الْجَمَاعَةِ لِظُهُورِ الْفَسَادِ وَكَثْرَةِ الْفِتْنَةِ
(بدائع الصنائع، كتاب الصلاة)
বর্তমান সময়ে মহিলাদের জামাতে উপস্থিতি মাকরূহ্; কারণ এতে ফিতনা ও অনাকাঙ্ক্ষিত বিষয়ের আশঙ্কা থাকে।

খুব প্রসিদ্ধ একটি ফতোয়ার কিতাব ফতোয়ায়ে আল হিন্দিয়ায় বলা হয়েছেঃ
وَيُكْرَهُ لِلشَّابَّةِ خُرُوجُهَا إِلَى الْمَسْجِدِ لِلصَّلَاةِ
(الفتاوى الهندية، كتاب الصلاة)
যুবতীদের মসজিদে যাওয়া মাকরূহে তাহরীমী।

হানাফী মাযহাবের সবচাইতে প্রসিদ্ধ ফতোয়ার কিতাব ‘রদ্দুল মুহতার আলা দুররুল মুখতার’ (ফাতাওয়ায়ে শামী)। লেখক: ইবনে আবেদীন রহমতুল্লাহ আলাইহি তাঁর ‘রদ্দুল মুহতার আলা দুররুল মুখতার’ ফাতাওয়ায়ে শামীতে উল্লেখ করেছেন,
وَفِي زَمَانِنَا يُمْنَعْنَ لِفَسَادِ الزَّمَانِ
(رد المحتار على الدر المختار)
“আমাদের সময়ে মহিলাদের মসজিদে যাওয়া নিষিদ্ধ হওয়ার নিকটবর্তী; কারণ ব্যাপক ফিতনা।”

হানাফী মাযহাবের মত অনুযায়ী মহিলাদের মসজিদে গিয়ে নামাজ আদায়ের ব্যাপারে মূল হুকুমঃ
▪️মহিলাদের জন্য ঘরে নামাজ আদায় করা উত্তম ও অধিক ছাওয়াবের।
▪️তরুণী ও যুবতী মহিলাদের জন্য মসজিদে জামাতে যাওয়া মাকরূহে তাহরীমী (যা নিষিদ্ধের কাছাকাছি)।
▪️বয়স্ক (বৃদ্ধা) মহিলাদের জন্য ফিতনার আশঙ্কা না থাকলে তবেই কিছু ক্ষেত্রে অনুমতি আছে।
▪️বর্তমানে ফিতনার আশঙ্কা অধিক হওয়ায় সাধারণভাবে মসজিদে জামাতে না যাওয়াই উত্তম ও প্রাধান্যপ্রাপ্ত মত।

আল ইসলাম জহুরীয়া
ইসলামী গবেষণা কেন্দ্র
উত্তর বাহেরচর, তারানগর
কেরাণীগঞ্জ, ঢাকা, বাংলাদেশ।

26/02/2026

শুভেচ্ছা এবং অভিনন্দন
আলহামদুলিল্লাহ্। ২০২৫ সালের বৃত্তি পরীক্ষায় আল ইসলাম জহুরীয়া ট্রাস্ট কর্তৃক প্রতিষ্টিত আল ইসলাম জহুরীয়া হাজী আইনউদ্দীন দাখিল মাদ্রাসার ইবতেদায়ী পঞ্চম শ্রেণীতে ২ জন এবং দাখিল অষ্টম শ্রেণীতে ১ জন বৃত্তি পেয়েছে। বৃত্তি প্রাপ্ত শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকগনের প্রতি আমাদের প্রাণ ঢালা শুভকামনা অভিনন্দন এবং দোয়া।

মেধার লালন, উন্নত চরিত্র গঠন ও মানবিক যোগ্যতা বিকাশের প্রত্যয়েই হোক আপনাদের আগামীর পথচলা। সফলতায় ভরে উঠুক আপনাদের দুনিয়া ও আখিরাত।

-জান্নাত লাভের সহজ আমল-দোয়া একটি ইবাদত। দোয়া মুমিনের হাতিয়ার। মহান আল্লাহর কাছে চাওয়ার মাধ্যমেই (দোয়ার মাধ্যমে) বান্...
25/02/2026

-জান্নাত লাভের সহজ আমল-
দোয়া একটি ইবাদত। দোয়া মুমিনের হাতিয়ার। মহান আল্লাহর কাছে চাওয়ার মাধ্যমেই (দোয়ার মাধ্যমে) বান্দা তার নৈকট্য লাভ করে। দুনিয়ায় মানুষের কাছে বারবার চাইলে তারা বিরক্ত হয় নারাজ হয়, কিন্তু মহান আল্লাহ্ তার কাছে না চাইলে অসন্তুষ্ট হন। কায়মনোবাক্যে চাওয়া কোনো দোয়াই আল্লাহ্ ফিরিয়ে দেন না। নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘নিশ্চয়ই দোয়া-ই ইবাদত’ -তিরমিজি শরীফ হা/২৯৬৯। তিনি দোয়াকে শুধু ইবাদত বলে ক্ষান্ত হননি, আরও বলেছেন, ‘দোয়া ইবাদতের মগজ।’
-তিরমিজি শরীফ হা/৩৩৭১।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ্ তা’আলা বলেন, ‘তোমরা আমাকে ডাক, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দিবো। যারা আমার ইবাদতে অহংকার করে, তারা সত্বরই জাহান্নামে দাখিল হবে এবং লাঞ্ছিত হবে।’
-সুরা গাফির: ৬০।

আল্লাহ্ সুবহানাহুতা’লা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এঁর মাধ্যমে তাঁর বান্দাদেরকে এমন কিছু ছোট দোয়া ও আমল শিখিয়েছেন, যা খুব সহজে করা যায় অথচ এর ফজিলত বিশাল। ছোট আমল কিন্তু আল্লাহর অধিক সন্তুষ্টি হাদীসে এমন একটি দোয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে, যা পাঠ করলে পাঠকারীর জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে যায়। সুবহানাল্লাহ্। যে দোয়া পাঠকারীর জন্য জান্নাতে প্রবেশের নিশ্চয়তা স্বয়ং নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দিয়েছেন। দোয়াটি আল্লাহ, ইসলাম ও মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সন্তুষ্টচিত্তে মেনে নেওয়ার একটি অসামান্য যিকির, যা ইমানের স্বাদ এনে দেয় এবং হাশরের ময়দানে আনন্দের কারণ হবে।

হজরত আবু সাইদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘যে ব্যক্তি নিম্নোক্ত দোয়া পাঠ করবে, তার জন্যে জান্নাত আবশ্যক (ওয়াজিব) হয়ে যাবে।’ -মুসলিম শরীফ হা/১৮৮৪।
দোয়াটি হলো-
رَضيتُ بالله رَبّاً ، وبالإسلامِ ديناً ، وبمحمَدٍ نَبِيًّا وَّرَسولاً
উচ্চারণঃ রাদিতু বিল্লাহি রাব্বাও, ওয়া বিল ইসলামি দ্বিনাও, ওয়া বিমুহাম্মাদিন ﷺ ওয়া নাবিয়্যাও ওয়া রসূলা।

অর্থঃ আমি আল্লাহকে রব, ইসলামকে দ্বীন এবং মুহাম্মদ ﷺ-কে রাসূল হিসেবে সন্তুষ্টচিত্তে মেনে নিয়েছি।

এ দোয়া পাঠকারীকে জান্নাতে পৌঁছানোর দায়িত্ব সম্পর্কে হাদিস—

হজরত মুনাইজির (রা.) থেকে বর্ণিত, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি- ‘যে ব্যক্তি সকালে বলবে, ‘রাদিতু বিল্লাহি রব্বাউঁ ওয়া বিল ইসলামী দ্বিনাউঁ ওয়া বিমুহাম্মাদিন নাবিয়্যা’ তাকে হাতে ধরে জান্নাতে পৌঁছানোর জিম্মাদার আমি। -মুজামুল কাবির: ২০/৩৫৫; আত-তারগিব ওয়াত-তারহিব: ৯৭১।

সাওবান (রা.) আল্লাহর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, ‘যে ব্যক্তি সন্ধ্যায় উপরোক্ত দোয়াটি পড়বে, তার হক হয়ে যায় যে, আল্লাহ তাআলা তার ওপর সন্তুষ্ট হয়ে যাবেন।’
-আল-আজকার: ২১৪।

অন্য হাদীসে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘যে ব্যক্তি সকাল-বিকাল তিনবার এই দোয়া পড়বে, কেয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলা তার নেকি বৃদ্ধি করে তাকে সন্তুষ্ট করবেন।’
-তিরমিজি শরীফ হা/২/১৭৬।

আব্বাস ইবনে আবদুল মুত্তালিব থেকে বর্ণিত আছে, তিনি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেন—‘যে আল্লাহকে প্রতিপালক, ইসলামকে দীন এবং মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে রাসূল হিসেবে সন্তুষ্টচিত্তে মেনে নিয়েছে— সে ঈমানের স্বাদ পেয়েছে।’
-মুসলিম শরীফ হা/৩৪।

শাহাদাহ’র সংযোজনসহ একই অর্থের আরেকটি দোয়ার কথা এসেছে হাদিসে। সাআদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘যে ব্যক্তি মুয়াজ্জিনের আজান শুনে নিম্নোক্ত দোয়া পড়বে, তার গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে।’
দোয়াটি হলো—

أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ ، وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ ، رَضِيتُ بِاللهِ رَبًّا ، وَبِمُحَمَّدٍ رَسُولًا ، وَبِالْإِسْلَامِ دِينًا

উচ্চারণঃ আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকালাহু, ওয়া আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রাসুলুহু; রাদিতু বিল্লাহি রাব্বাউঁ ওয়া বিল ইসলামী দ্বিনাউঁ ওয়া বিমুহাম্মাদিন ﷺ নাবিয়্যাঁও ওয়া রাসূলা।

অর্থঃ আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি— আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তিনি একক এবং তাঁর কোনো শরিক নেই। মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর বান্দা ও রাসূল। আমি আল্লাহকে রব, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে রাসূল এবং ইসলামকে দ্বিন হিসেবে সন্তুষ্টচিত্তে মেনে নিয়েছি।’

এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, দোয়া কবুলের বিষয়ে হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘তোমাদের প্রত্যেক ব্যক্তির দোয়া কবুল হয়ে থাকে, যদি সে তাড়াহুড়া না করে। আর বলে যে, আমি দোয়া করলাম, কিন্তু আমার দোয়া তো কবুল হলো না।’
-বুখারি শরীফ হা/৬৩৪০।

আল্লাহ্ তা’আলা গোটা মুসলিম উম্মাহকে উল্লেখিত দোয়াগুলো পাঠ করার মাধ্যমে বিশ্বনবীর ঘোষণা অনুযায়ী জান্নাত লাভের তাওফিক দান করুন। আমীন।

আসসালামু আলাইকুম পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে জহুরীয়া দরবার শরীফ এর পক্ষ থেকে অসহায় নিম্ন বিত্ত পরিবারের মাঝে ইফতার বিতরণ...
25/02/2026

আসসালামু আলাইকুম
পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে জহুরীয়া দরবার শরীফ এর পক্ষ থেকে অসহায় নিম্ন বিত্ত পরিবারের মাঝে ইফতার বিতরণের মহতী উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
রমজান মাস আমাদের আত্মশুদ্ধি, সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধের শিক্ষা দেয়। সেই চেতনাকে ধারণ করেই আমরা এই ইফতার বিতরণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছি, ইনশাআল্লাহ্।

আপনিও চাইলে এই উদ্যোগের অংশীদার হতে পারেন। আপনাদের সকলের দোয়া কামনা করছি।

প্রতিটি পরিবারের জন্য এক একটি পেকেটে আমরা ১০২৫ টাকার ইফতার সামগ্রী দেয়ার ব্যবস্থা করেছি।

আসুন, আমরা সবাই মিলে রমজানের এই বরকতময় সময়ে একে অপরের পাশে দাঁড়াই।

আল্লাহ্ তা’আলা আমাদের এই ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা কবুল করুন। আমিন।

খাদেম
জহুরীয়া দরবার শরীফ।

রাসূল ﷺ প্রেমে নিমগ্ন ইমাম বুসিরী রাহমাতুল্লাহি আলাইহিভুমিকাঃ কুল কায়েনাতের নবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লা সাল্লাল্লাহু আলাই...
25/02/2026

রাসূল ﷺ প্রেমে নিমগ্ন ইমাম বুসিরী রাহমাতুল্লাহি আলাইহি

ভুমিকাঃ
কুল কায়েনাতের নবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এঁর প্রসংশায় রচিত এক সুদীর্ঘ আরবী কবিতা। বিশ্ববিখ্যাত এ কবিতা কাসিদায় - বুরদা ' নামে সুপরিচিত। হজরত ইমাম শরফুদ্দিন বুসিরী রাহমাতুল্লাহি আলাইহি যিনি হজরত হাসসান বিন সাবিত রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর পরে কাসীদা খানীতে জগৎ জোড়া খ্যাতি লাভ করেছিলেন।

লেখক পরিচয়ঃ
ইমাম বুসরী রাহমাতুল্লাহি আলাইহি কাসিদায় - বুরদার রচয়িতা। তার পুরো নাম শেখ আবু আবদুল্লাহ শরফুদ্দিন মুহাম্মদ ইবনে সাঈদ ইবনে হাম্মাদ ইবনে আবদুল্লাহ বুসির রহঃ। মিশরের বুসির নামক জনপদে তার জন্ম। এই বুসির থেকে ইমাম বুসিরী নামে খ্যাতি লাভ করেন। হিজরী ৬০৮ সালের পহেলা শাওয়াল মোতাবেক ১২১৩ সালের ৭ মার্চ তার জন্ম তারিখ। তিনি ১২৯০ সালে মিসরের কায়রো নগরীতে ইন্তেকাল করেন। ইমাম বুসিরী রহঃ ছিলেন বহু ভাষায় সুপন্ডিত, সাহিত্যিক, এবং কামিল বুজুর্গ হিসেবে তিনি মুসলিম জাহানে সুপরিচিত। তিনি প্রচুর কবিতা রচনা করেছেন। তবে কাসিদায়ে বুরদা তাকে অমর করে রেখেছে।

কাসিদায়ে বুরদা রচনার মুল প্রেরণাঃ
ইমাম বুসিরী রাহমাতুল্লাহি আলাইহি এক সময় পক্ষাঘাতে আক্রান্ত হয়ে সম্পুর্ন অচল হয়ে বিছানায় আশ্রয় নেন। বহু চিকিৎসার পরেও আরোগ্য লাভে ব্যর্থ হন। শরীরের নিম্নভাগ একেবারে অবস ও অসাড় হয়ে যায় ৷ দিনদিন শরীর আরও খারাপ হয়ে যেতে লাগল এবং রোগা ও দুর্বল হয়ে যেতে লাগলেন । যার ফলে তিনি সর্বদা চিন্তিত ও মনমরা হয়ে থাকতেন। অবশেষে তিনি রাসূলুল্লা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রসংশায় একটি কাসিদা লিখে তার উছিলায় আল্লাহ পাকের দরবারে রোগ মুক্তির প্রার্থনা করার নিয়ত করেন। কাসিদা রচনা সমাপ্ত হলে তিনি এক জুময়ার রাতে পাক পবিত্র হয়ে এক নির্জন ঘরে প্রবেশ করেন এবং গভীর মনোযোগ ভক্তিভরে কাসিদাটি আবৃত্তি করতে থাকেন। আবৃত্তি করতে করতে কোনো এক সময় ঘুমিয়ে পড়েন। এ অবস্থায় তিনি স্বপনে দেখেন তার সমগ্র ঘর আলোকে উদ্ভাসিত হয়ে গেছে এবং প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেখানে শুভাগমন করেছেন। কবি আনন্দে আত্মহারা হয়ে পড়েন এবং স্বপ্নাবস্তায় প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে কাসিদা আবৃত্তি করে শুনাতে থাকেন। আবৃত্তি করতে করতে যখন কাসিদার শেষের দিকের একটি পংক্তি পর্যন্ত পৌছেন যেখানে বর্ননা করা হয়েছে “কাম আবরায়াত আসিবান্ বিলাসে হাতুহু"। অর্থাৎ “কত বিমার মানুষ তার পবিত্র ছোঁয়ার পরশে ভাল হয়ে গিয়েছে” অর্থাৎ কতো চিররুগ্ন ব্যক্তিকে নিরাময় করেছেন প্রিয়নবীর পবিত্র হাতের স্পর্শ " তখন প্রিয়নবীর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার হাত মোবারক দিয়ে কবির সমগ্র দেহ মুছে দেন এবং হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার প্রতি খুশি হয়ে নিজ গায়ের নকশাদার ইয়ামনী চাদর মোবারক দিয়ে তাকে ঢেকে দেন। স্বপ্ন ভেঙ্গে গেলে তাকিয়ে দেখেন প্রিয়নবী ﷺ নেই। তবে তিনি সম্পুর্ণ রোগমুক্ত এবং নবীজির প্রদত্ত চাদর মোবারক তার গায়ে জড়ানো।
তিনি আল্লাহ পাকের শোকর আদায় করলেন। তাঁর কাছে এমন মনে হলো তিনি কখনো অসুস্থই ছিলেন না। প্রভাতে উঠে তিনি বাজারের দিকে হাটতে গেলে পথিমধ্যে দেখা হলো এক দরবেশের সঙ্গে। দরবেশ বললেন আপনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর শানে যেই কাসিদা রচনা করেছেন আমাকে তা একটু শুনান। কবি বললেন আমিতো রাসুলের শানে অনেক কবিতা লিখেছি। আপনি কোনটি শুনতে চান? দরবেশ কাসিদায়ে বুরদার প্রথম চরনটি লাইন আবৃত্তি করে বললেন এইটা। বিস্ময়াভিভূত কবি বললেন এই কালিদাস আপনি কোথায় পেলেন। আমিতো এই কবিতা এখনো কাউকে দেখাইনি শুনাইনি। দরবেশ বললেন গতরাতে যখন
আপনি এই কাসিদা প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে আবৃত্তি করে
শুনাচ্ছিলেন তখন আমি সেখানে উপস্থিত
থেকে তা শুনছিলাম। কেবল আমি নই, তখন এ কাসিদা আল্লাহ পাক তার বিশেষ বান্দাদের নিকট পৌঁছে দিয়েছেন।

যখন এ খবর রাজ্যের তৎকালীন বাদশার কানে পৌছালো তখন তিনি অতি মোহাব্বত ও ভালবাসায় খালি পায়ে ইমাম সাহেবের কাছে এলেন এবং কসিদা পাক শ্রবণ করলেন এবং চোখে মুখে লাগালেন। কবিতাটিতে ১০টি অধ্যায় এবং ১৬২ টি শ্লোক রয়েছে। এর প্রতিটি পঙক্তি নবী ﷺ এঁর প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার গভীর অনুভূতি বহন করে। বুর্জগানে দ্বীনগণ খুবই ইজ্জতের সাথে মুখস্থ করেন এবং পাঠ করেন ও মুরিদানদের আদেশ ও দান করেন। এভাবে অত্যল্পকালের মধ্যে এই কাসিদা এবং কারামাত সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে ও মানুষ এর দ্বারা বিপদে আপদে নানাভাবে উপকৃত হতে থাকে। সে থেকে আজ পর্যন্ত সারা বিশ্বে অত্যন্ত ভক্তি ও সম্মানের সাথে এ কাসিদা পঠিত ও সমাদৃত হয়ে আসছে।

নামকরনঃ
পরবর্তীকালে ইমাম বুসিরী রাহমাতুল্লাহি আলাইহি এই কাসীদাটি পুস্তক আকারে প্রকাশ করেন এবং উম্মতে মুহাম্মদী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে উৎসর্গ করেন। এ কাসিদার মূলনাম ‘আল কাওয়াকিবুদ দুররিয়া ফি মাদহি খাইরিল বারিয়্যাহ’ (শ্রেষ্ঠ মানবের প্রশংসায় উজ্জ্বল নত্রমালা)। এ নামেই কাসিদাটি প্রথম দিকে খ্যাতি লাভ করে। মূলনাম ছাড়াও কাসিদাটির আরো দু’একটি নাম প্রচলিত আছে। এর একটি নাম বুরআহ অর্থাৎ আরোগ্য। যেহেতু কবি এই কাসিদার বদৌলতে রোগ থেকে আরোগ্য লাভ করেছিলেন। তাই এই নামকরণ। তবে এই কাসিদার সর্বাধিক পরিচিতি নাম ‘আল বুরদাহ’। বুরদাহ শব্দের অর্থ ডোরাকাটা বা নকশি চাদর। এই নামকরণের একটি তাৎপর্য এই যে- নকশি চাদরের যেমন নানান রং ও বিচিত্র নকশা থাকে, তেমনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রশংসায় এই কাসিদাতে বিচিত্র বিষয়ের অবতারণা করা হয়েছে। এই নামকরণের সর্বাধিক প্রচলিত তাৎপর্য এই যে, কবির স্বপ্নের মধ্যে এই কাসিদা শুনে রাসূলুল্লাহু সাল্লাল্লাহুআলাইহি ওয়াসাল্লাম খুশি হয়েছিলেন। যার বরকতে তিনি পাঘাত থেকে আরোগ্যলাভ করেছিলেন। এই তাৎপর্যের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ এর আরো একটি নাম ‘বুরদিয়্যাহ’ প্রচলিত আছে।

তুরস্কের শাসনকালে দয়ার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলা আলিহী ওয়া সাল্লাম এর মসজিদে নববী ও মাজার পাকের সবুজ গম্বুজের মধ্যে চারিদিকে সোনা দিয়ে পাথরে লিখানো হয়ে ছিল । সম্পূর্ণ কসিদাটি আজ ও তার মাজার শরীফের মধ্যে চারিদিকে সোনা দ্বারা লিখিত আছে। ( সিরাতুন নবী ) । কিন্তু পরবর্তীকালে ওয়াহাবী শাসন আমলে এখন তা মুছে ফেলা হয়েছে। ( আফসোস )

কাসিদাটির কিছু পংক্তি দেওয়া হলোঃ

মওলা ইয়া সাল্লি ওয়া সাল্লিম
দায়িমান আবাদান আলা
হাবিবিকা খাইরিল খালকি কুল্লি হিমি।।

হুওয়াল হাবিবুল্লাযী তুরজা শাফায়াতুহু
লি কুল্লি হাওলিম
মিনাল আহওয়ালি মুকতাহিমি।।

মুহাম্মাদুন সাইয়েদুল কওনাইনি ওয়াস সাকালাইন
ওয়াল ফারিক্বাইনি মিন উরবিউ ওয়া মিন আজামি।।

সুম্মার রিদা আন আবি বাকরিউ ওয়া আন উমারিন
ওয়া আন উসমানা ওয়া আন আলিয়্যিন জিল কারামি।।

ইয়া রাব্বি বিল মুস্তাফা বাল্লিগ মা ক্বাসিদানা ওয়াগ ফিরলানা মামাদ্বা ইয়া ওয়াসিয়াল কারামি।।

ফাইন্না মিন জুদিকাদ্ দুনিয়া ওয়া দাররাতাহা ওয়া মিন উলুমিকা ইলমাল লওহি ওয়াল ক্বালামি।।

আলহামদুলিল্লাহি মুনশিল খলকী মিন আদামি সুম্মা সলাতু আলাল মুখতারি ফিল কিদামি ।।

সৃষ্টি কুলের স্রেষ্টতম
তোমার প্রিয় সখার তরে
সালাত সালাম পাঠাও গো রব
যুগ থেকে যুগ যুগান্তরে।।

প্রিয় সখা খোদ এলাহির
পরকালের কান্ডারী সে
কঠোর কঠিন বিপদকালে
মুক্তির দয়ার ভান্ডারী সে।।

Address

Uttar Baherchar, Islambugh Road, Taranagar, Keranigong
Dhaka
1312

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when জহুরীয়া দরবার শরীফ Zahuria Darbar Sharif posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Place Of Worship

Send a message to জহুরীয়া দরবার শরীফ Zahuria Darbar Sharif:

Share