Private University Muslim Community - PUMC

Private University Muslim Community - PUMC لآ اِلَهَ اِلّا اللّهُ مُحَمَّدٌ رَسُوُل اللّهِ

09/10/2025

প্রক্সি লড়াই আর মিথ্যা প্রপাগান্ডার সমন্বয়ে পাহাড়ে হাইব্রিড ওয়ারফেয়ার চলছে।
পার্বত্য অঞ্চলে সহিংসতার পেছনে প্রতিবেশী রাষ্ট্র ডারতের ইন্ধনের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে উঠে আসছে। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা স্পষ্টভাবে বলছে, প্রতিবেশী রাষ্ট্র এবং উগ্রবাদী গোষ্ঠী এই অস্থিরতার জন্য দায়ী।
সামরিক সূত্রগুলো বলছে, ইউপিডিএফ ও জেএসএসের সদস্যরা ডারতের ত্রিপুরায় প্রশিক্ষণ নিয়ে অস্ত্র সংগ্রহ করে বাংলাদেশে জং--ই তৎপরতা চালায়। বলা হচ্ছে অভিযানে উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের উৎসও প্রতিবেশী দেশ।
অন্যদিকে, ডারতীয় মিডিয়া, যেমন ইন্ডিয়া টুডে, এই ঘটনা নিয়ে ভুল তথ্য ছড়িয়েছে, চালিয়েছে ব্যাপক প্রপাগ্যান্ডা।
অর্থাৎ, একদিকে সীমান্তপারের অস্ত্র ও প্রশিক্ষণের সহায়তায় বিচ্ছিন্নতাবাদী জং---ই গোষ্ঠীগুলো অস্থিতিশীলতা তৈরি করছে, অন্যদিকে ডারতীয় মিডিয়া প্রপাগ্যান্ডা চালিয়ে সেই পরিস্থিতিকে আরও অরাজক করে তোলার চেষ্টা চালাচ্ছে।
পার্বত্য চট্টগ্রামের ক্ষেত্রে প্রক্সি জং---ই তৎপরতা এবং সমান্তরাল তথ্যযুদ্ধের একটি সমন্বিত কৌশল কাজে লাগানো হচ্ছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকেরা এধরণের কৌশলকে হাইব্রিড ওয়ারফেয়ারের বৈশিষ্ট্য বলে অভিহিত করেন।
সেই সাথে বাঙালিদের ‘সেটলার’ তকমা দিয়ে মিথ্যা ইতিহাস চাপিয়ে বিচ্ছিন্নতাবাদের বয়ান তৈরি করা হচ্ছে। ডারতীয় সম্প্রসারণবাদী প্রকল্প ও পার্বত্য অঞ্চলের বিচ্ছিন্নতাবাদীরা ‘আদিবাসী’ পরিচয়কে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে।
দুঃখজনকভাবে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনের কিছু চিহ্নিত শক্তি, বিশেষ করে বামপন্থীরা ডারতীয় সম্প্রসারণবাদ ও বিচ্ছিন্নতাবাদের এই প্রকল্প বাস্তবায়নে কাজ করছে।
আমরা দৃঢ় কণ্ঠে সতর্ক করছি—বাংলাদেশের অখণ্ডতা বিরোধী ভারতীয় সম্প্রসারণবাদী প্রকল্প ও পার্বত্য চট্টগ্রামের বিচ্ছিন্নতাবাদী জঙ্গিগোষ্ঠীর কার্যক্রম এই কওম ও যমীনের অস্তিত্ব, নিরাপত্তা ও ধারাবাহিকতার বিরুদ্ধে চরম হুমকি।
আমরা দেশবাসীকে আহ্বান জানাচ্ছি—আপনারা সকলে সতর্ক হোন এবং এই দীর্ঘমেয়াদি হুমকি মোকাবেলায় যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলুন।
ইন্তিফাদা বাংলাদেশের প্রেস ব্রিফিং থেকে।
লিংক কমেন্টে।

নিজেদেরকে অতিবুদ্ধিজীবী মনে করা কিছু লিবারেল, সেক্যুলার, মুনাফিক গোষ্ঠী বাংলাদেশের কোনো ঘটনায় [আ ও য়া মী লী গ], [ই স ক...
09/10/2025

নিজেদেরকে অতিবুদ্ধিজীবী মনে করা কিছু লিবারেল, সেক্যুলার, মুনাফিক গোষ্ঠী বাংলাদেশের কোনো ঘটনায় [আ ও য়া মী লী গ], [ই স ক ন], র’ বা অন্য কোনো সংগঠনের ফাঁদ বা ষড়যন্ত্র দেখতে পায় না—কিন্তু ইসলাম ও মুসলিমদের স্বার্থ-সংক্রান্ত বিষয়েই হঠাৎ বিশ্লেষক বনে যায়। একদিকে শাতিমরা প্রকাশ্যে ইসলাম অবমাননা করে, অন্যদিকে শাসক ও প্রশাসন নীরব থেকে কিংবা শাতিমদের পক্ষ নিয়ে তাদের সাহস জোগায়। আর তৃতীয় দল হলো এরা—যারা জুজুর ভয় দেখিয়ে মুসলিমদের দমিয়ে রাখে। সব মিলিয়ে ইসলাম অবমাননার এক বীভৎস চক্র তৈরি হয়।

দ্বীন ইসলাম তথা আল্লাহ, আল্লাহর নাবী-রসূল, আল্লাহর কিতাব ইত্যাদিকে অবমাননা, অসম্মান, অপমান, কটূক্তি, ব্যঙ্গবিদ্রুপ করা—এমন ঘৃণ্য কর্মকাণ্ডের পেছনে আছে প্রাতিষ্ঠানিক, রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় (প্রশাসনিক) মদদ ও ছাড়। সিস্টেমের ভেতরে থেকেই এগুলো ঘটতে দেওয়া হয়, তাই শুধু প্রতিবাদ বা দাবি জানিয়ে খুব বেশি ফল পাওয়া যায় না।

বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এ ধরনের ঘটনার প্রতি প্রায়ই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে নীরব সমর্থন দেখায়। কারণ, তারা নিজেদের লিবারেল সেক্যুলার ইমেজ ধরে রাখতে গিয়ে ইসলামবিদ্বেষী কর্মকাণ্ডকে হালকাভাবে নেয়। এমন ঘটনার পর দেখা যায়, মুসলিমদের ক্ষোভ ও প্রতিবাদকে নিয়ন্ত্রণ বা দমন করার চেষ্টা চলে। অথচ মুসলিমদের ঈমানের ওপর আঘাত করা হলে তাদের প্রতিবাদই স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া। এর মাধ্যমে আমাদেরকেই বারবার ‘চুপ থাকো’ সংস্কৃতির মধ্যে ঠেলে দেওয়া হয়।

কিছু লিবারেল গোষ্ঠী, বিশেষ করে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রিক প্রতিষ্ঠান (গ্রুপ-পেজ) গুলো মুসলিম শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশকে ক্রিমিনালাইজ করার ঘৃণ্য চেষ্টা করছে। আপনারা জুলাইয়ের স্টেকহোল্ডার হোন, বা যায় হোন না কেন, মুসলিমদের ঈমানের সাথে সম্পৃক্ত বিষয় নিয়ে বাজে মন্তব্য ও প্রোপাগান্ডা ছড়াবেন না।

একটা কথা সাফ মনে রাখতে হবে সবার: লিবারেল আর সেকুলার এই কুফরি জীবনব্যবস্থার মধ্যে বসবাস করে আল্লাহ ও তার রসূলের ইজ্জত রক্ষার একমাত্র হাতিয়ার হলো এই সব বিষয়ে মুসলিমদের অনমনীয় আচরন।

ইংরেজদের আমল থেকে নিয়ে আজ পর্যন্ত পৃথিবীর সর্বস্থানে রসুলের ইজ্জতের বিষয়ে মুসলিমদের অনমনীয় আচরণই কেবল আয়িম্মাতুল কুফরকে বাধা দিয়ে রেখেছে। নাহলে লিবারেলিজমের কুফর চর্চার আড়ালে এবং বাকস্বাধীনতার নামে নাটক, সিনেমা, গল্প, উপন্যাস, কার্টুন ইত্যাদিতে আল্লাহ ও তার রসূলকে শয়তানের দোষররা কী জঘন্য চিত্রায়ণ যে করতো, তা আল্লাহই ভালো জানে!

সুতরাং, রাষ্ট্রের কী হলো, দেশকে কে নিয়ে গেলো, কোন দেশের আর্মি বাংলাদেশে আক্রমণ করে বসলো তা নিয়ে সামান্য ভাবার সময় আমাদের নাই। আমাদের একটাই কথা, আল্লাহ ও তার রসূলকে নিয়ে তাদের শানের বিপরীত একটি টু-শব্দও এই পৃথিবীর কোথাও উচ্চারণ কেউ করতে পারবে না। কেউ করলে তার একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদণ্ড! হয় কর্তৃপক্ষ বাস্তবায়ন করবে, অন্যথায় মুসলিমরা নিজেদের দায়িত্ব নিজেরাই বুঝে নিবে।

তাই, দেশের কথিত শান্তি ঠিক রাখতে হলে, ‘আল্লাহ ও তার রসূলের মর্যাদা ক্ষুন্ন হয়’ — যে বা যারা এমন কোনো কথা বা কাজ করবে তাদের শাস্তি বাস্তবায়ন করুন।

বাংলাদেশে বর্তমানে ইসলাম অবমাননার বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর আইন নেই। কেউ আল্লাহ্ বা রসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে গালি দিলেও তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নিয়মতান্ত্রিক কার্যকর কোনো পথ খোলা নেই।

রাখাল রাহার ব্যাপারটা দেখুন। এই লোক প্রকাশ্যে ফেইসবুকে মহান আল্লাহ্‌কে নিয়ে অশ্লীল গালি দিয়েছে। সে স্বীকারও করেছে ঐ পোস্ট সে দিয়েছিল। অথচ তার কোনো শাস্তি হয়নি, বরং আদালত মামলাই খারিজ করে দিয়েছে।

স্পষ্ট করে বললে, শাতিমির রসূল বা আল্লাহ্‌কে অবমাননার বিরুদ্ধে মুসলিমদের হাতে এখন কোনো লিগ্যাল রিকোর্স নেই।

একজন মুসলিম যার কাছে রসূল (ﷺ) এর ইজ্জত ঈমানের অংশ, তাঁর জন্য এই রাষ্ট্র কী অপশান রেখেছে?

• এ অবস্থায় কেউ উপেক্ষা করবে। কেউ দুঃখ পাবে, মুখ বুঝে সহ্য করে যাবে।
• কেউ প্রতিবাদ করবে, আন্দোলনে নামবে।
• আবার কেউ এমনও থাকবে যারা মনে করবে—যেহেতু রাষ্ট্র কিছু করছে না, বিচার নিজেই করতে হবে।

দিনের পর দিন আল্লাহ্‌ ও রসূল (ﷺ)-কে গালি দেওয়া হবে, রাষ্ট্র চুপ করে থাকবে—এটা কোনো ঈমানদার ‘স্বাভাবিক’ বলে মেনে নিতে পারে না। আইনহীনতা বাড়লে, নিজ হাতে বিচার করাও বাড়বে। এটা অবধারিত।

দেশে যেহেতু শাতিমদের থামানোর নিয়মতান্ত্রিক কোনো উপায় নাই, মানুষ নিয়মের বাইরে গিয়ে সমাধান খুঁজবে। এটাও অবধারিত।

ইকোনমিক্সের ভাষায় বললে: যেহেতু অবমাননা থামানোর ব্যাপারে মুসলিমদের অবস্থান ইনইলাস্টিক, তাই ইসলাম অবমাননাকে স্পেইস দিয়ে রাষ্ট্র এবং সুশীল সমাজ ভিজিল্যান্টি জাস্টিসকে ইনসেন্টিভাইয করছে।

রাষ্ট্র অপরাধ না থামিয়ে যে শূন্যতা তৈরি করেছে, সেটাই ভিজিল্যান্টিসমের জায়গা খুলে দেবে। এটা ঠান্ডা, শীতল লজিক। ধর্মীয় উত্তেজনা না।
————

“আইনের উপর আস্থা রাখেন!” কোন আইন? যে আইন এখনো আমাদের ভাই শহীদ আলিফকে দিবালোকে প্রকাশ্যে যবেহ করে [খু ন] করা [ই স ক নে র] সন্ত্রাসীদের বিচার করতে পারে নাই সেই আইন?

• সিলেটের এল পুরোহিত বাচ্চা মুসলিম মেয়েকে [রে ই প] করলো, সেটার বিচার করতে পারে নাই ওই আইনের উপর ভরসা রাখব?

• মুসলিম মেয়েকে গ্যাং [রে ই প] করেছিল যে হিন্দু যুবকরা, তাদের বিচার করতে না পারা আইনের উপর ভরসা রাখব?

• ফেসবুকে [খু নে র] হুমকি দেয়া ট্রাশগন্ডার সংবাদ সম্মেলন করে পুলিশের উপর [বো মা] মারার হুমকি দিলেও তাকে আইনের আওতায় পর্যন্ত আনেনি, সেই আইনের উপর ভরসা রাখব?

• ঠিক কোন আইনের উপর আমি ভরসা রাখব? যে আইন দেশ থেকে ডিবি হারুনের পলায়ে যাওয়া ঠেকাইতে পারে না সেই আইনের উপর?

• যে আইন প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও রেপিস্টের বিচার করেনি সেই আইন? যে আইন চোখে ভিলেন হিসাবে শুধু মুসলিম আর ইসলামকেই দেখতে চায় সেই আইন?

এই কচুর আইন আসলে কী করছে বলেন আমাকে? একটা ভালো কাজ দেখান। একটা ইনসাফ দেখান। দেখি কোন আইনের উপর আপনি ভরসা রাখতে বলতেছেন।

আর এমনিতেও, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেনঃ আইন দেয়ার অধিকার একমাত্র আল্লাহর। [সূরাহ ইউসুফ ১২: আয়াত ৪০]। আল্লাহর আইনের বিপরীত মানবরচিত আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার কোনো সুযোগই নেই, বরং এটা শির্ক।

“ইসলামী আইন ব্যতীত ইসলাম অবমাননার সঠিক বিচার হওয়া সম্ভব নয়।”

░ শাতিমির রসূল কে হত্যা করা ওয়াজিব ░

আল্লাহ সুবহানাহু তাআলা বলেনঃ যারা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে আর যমীনে বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে বেড়ায় তাদের শাস্তি হল এই যে, তাদেরকে হত্যা করা হবে।
সূরাহ আল-মায়ীদাহ ৫: আয়াত ৩৩

যারা আল্লাহ ও তাঁর রসূলকে কষ্ট দেয়, আল্লাহ তাদেরকে দুনিয়া ও আখিরাতে অভিশপ্ত করেছেন।
সূরাহ আল-আহযাব ৩৩: আয়াত ৫৭

যারা আল্লাহ ও তাঁর রসূলকে কষ্ট দেয় এই আয়াত অনুযায়ী তাদেরকে হত্যা করা ওয়াজিব। বিষয়টি আরও বেশী স্পষ্ট হয় এই হাদিসটির সুস্পষ্ট বর্ণনা দ্বারা: জাবির ইবনু আবদুল্লাহ্‌ (রদিঃ) বলেন, রসূলুল্লাহ্‌ (ﷺ) বললেনঃ কা‘ব ইবনু আশরাফকে হত্যা করার দায়িত্ব কে নিতে পারবে? আল্লাহ্‌ ও তাঁর রসূলকে সে তো কষ্ট দিয়েছে। মুহাম্মাদ ইবনু মাসলামাহ (রদিঃ) তখন বললেনঃ আমি।
সহিহ বুখারী, হাদিস নং ২৫১০

জাবির (রদিঃ) সূত্রে নাবী (ﷺ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, নাবী (ﷺ) বলেনঃ কা’ব ইব্‌নু আশরাফকে হত্যা করার দায়িত্ব কে নিবে? তখন মুহাম্মাদ ইব্‌নু মাসলামাহ (রদিঃ) বললেনঃ ‘আপনি কি পছন্দ করেন যে, আমি তাকে হত্যা করি?’ আল্লাহর রসূল (ﷺ) বললেনঃ হ্যাঁ।
সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৩০৩২
▬▬▬

ইবনু আব্বাস (রদিঃ) থেকে বর্ণিত, এক অন্ধ লোকের একটি ওয়ালাদ (দাসী) ছিল। সে নাবী (ﷺ)-কে গালমন্দ করতো, তাকে নিয়ে কটুক্তি করতো। ফলে অন্ধ লোকটি একটি ধারালো ছুরি নিয়ে তার পেটে ঢুকিয়ে দিয়ে চেপে ধরে তাকে হত্যা করলেন। এই ঘটনা নাবী (ﷺ)-কে শোনানো হলে তিনি ওই দাসীর রক্ত মূল্যহীন ঘোষণা করেন।
সুনান আন-নাসায়ী, হাদিস নং ৪০৭০
সুনান আবু দাউদ, হাদিস নং ৪৩৬১ | সহিহ
▬▬▬

যারা রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে কটাক্ষ বা গালী-গালাজ করবে তাদের হত্যা করার ব্যাপারে সমস্ত ওলামায় কিরাম একমত।
ফাতওয়ায় শামী ৪/৪১৭

কোনো মুসলিম অথবা কাফির যদি নাবী (ﷺ)-কে কটূক্তি করে, তা হলে তাকে হত্যা করা অপরিহার্য। এটাই উলামায় কিরামের সর্বসম্মত মাযহাব।
— শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনু তাইমিয়্যা (রহিঃ)
আস সারিমুল মাসলুল আলা শাতিমির রসূল, পৃষ্ঠা: ১০ (নুসুস পাবলিকেশন)

ইমাম আহমাদ ইবনু হাম্বল (রহিঃ) বলেনঃ এমন অভিশপ্তকে হত্যা করা হবে, চাই সে মুসলিম হোক কিংবা কাফির। তখন ইমাম আহমাদ (রহিঃ)কে জিজ্ঞেস করা হলো, এ ব্যাপারে কি কোনো হাদিস আছে? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ! অনেক হাদিস আছে। তার মধ্যে একটি হলো, অন্ধ-সাহাবি-সম্পর্কিত বর্ণনাটি। যখন তিনি শুনতে পেলেন, এক মহিলা নাবী (ﷺ)-কে গালমন্দ করে, তখন তিনি ওই মহিলাটিকে হত্যা করেছিলেন। আরেকটা হলো হুসাইন (রদিঃ)-কর্তৃক বর্ণিত হাদীস। তিনি আরও বলেনঃ শাতিমুর রসূলকে তাওবারও সুযোগ দেওয়া হবে না। এই বক্তব্যটি ইমাম আবু বাকর (রহিঃ) তার আশ-শাফি গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। সুতরাং ‘শাতিম’-কে হত্যা করার ব্যাপারে ইমাম আহমাদ রাহিমাহুল্লাহ থেকে ভিন্ন কোনো মত নেই, আর (শাতিম যদি যিম্মি হয়) তা হলে তার নিরাপত্তা-অকার্যকর হয়ে পড়বে।
আস সারিমুল মাসলুল আলা শাতিমির রসূল, পৃষ্ঠা: ১২ (নুসুস পাবলিকেশন)

ইমাম খাত্তাবি (রহিঃ) বলেনঃ রসূলের কটুক্তিকারী কে হত্যা করা ওয়াজিব। এ ব্যাপারে একজন মুসলিমও দ্বিমত করেছে বলে আমি জানি না।
মায়ালিমুস সুনান : ৩/২৯৬

সুতরাং

যেখানে ইসলাম (আল্লাহ, আল্লাহর নবী-রসূল, আল্লাহর কিতাব ইত্যাদিকে) অবমাননা হচ্ছে দুনিয়ার সবচেয়ে নিকৃষ্ট অপরাধ, সেখানে কিছু লিবারেল, সেক্যুলার, মুনাফিক গোষ্ঠীর দ্বারা মুসলিমদের স্বাভাবিক ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশকে ক্রিমিনালাইজ করার ঘৃণ্য চেষ্টা নিতান্তই গর্হিত ও প্রোপাগান্ডা মূলক কাজ বলে আমরা মনে করি এবং এর তীব্র প্রবাদ জানায়।

দ্বীনকে বিজয়ী হিসেবে দেখতে হলে প্রথমত নিজেকে মুত্তাকি হিসেবে গড়ে তোলাটা জরুরি। আল্লাহ তাআলা কোন মডারেট মুসলিম কিংবা শিরক...
23/08/2025

দ্বীনকে বিজয়ী হিসেবে দেখতে হলে প্রথমত নিজেকে মুত্তাকি হিসেবে গড়ে তোলাটা জরুরি। আল্লাহ তাআলা কোন মডারেট মুসলিম কিংবা শিরকি কাজে লিপ্ত এমন ব্যক্তিকে দিয়ে দ্বীন বিজয় করাবেন বলে আপনার মনে হয়? ইতিহাসের পাতায় এমন নজির কী পাওয়া যায়?

দ্বীনকে বিজয়ী হিসেবে দেখতে চাইলে নিজেকে মুত্তাকি হিসেবে গড়ে তোলার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাই এবং সে অনুযায়ী কাজ, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা সাজাই। ঈমান-কুফর আমি চিনিনা, তাওহিদ চিনিনা—এরকম কিছুই চিনিনা আবার আমি লিপ্ত ঈমান বিধ্বংসী কাজে, আমাকে দিয়ে কেন আল্লাহ দ্বীনকে বিজয় করাবেন?

ইতিহাসের পাতায় যারাই দ্বীনকে বিজয় করিয়েছেন তারা প্রত্যেকেই মুত্তাকি ছিলেন। এমন না যে, তাদের দ্বারা গুনাহ হয় নি। গুনাহ হয়েছে তাওবা করেছে। আমাদেরকেও এমন হওয়ার চেষ্টা চালাতে হবে। অন্যথায়, দ্বীন বিজয়ের কাফেলাতে শরিক হওয়ার স্বপ্ন দেখাটা বোধহয় দিবাস্বপ্ন হবে।

গুরুত্বপূর্ণ একটা কথা মাথায় রাখতে হবে যে, অনেকের ধারণা সব মানুষ যখন মুত্তাকি হয়ে যাবে তখনই বোধহয় খিলাফত কায়েম হয়ে যাবে। এটা আবার ভুল ধারণা। সব মানুষ কখনোই মুত্তাকি হয়ে যাবে না, কেউ না কেউ পাপী এবং গুনাহগার থাকবেই। আবার সব মানুষ মুত্তাকি হয়ে গেলে এমনি এমনিই খিলাফাত বা দ্বীন বিজয় হয়ে যাবে—এটা ভাবারও উপায় নেই। সে অনুযায়ী কাজ না করলে কী দ্বীন বিজয় হবে? হবে না। আপনি মুত্তাকি হলেন কিন্তু আপনি ঘরে তাসবীহ পাঠ করেন, ময়দানে গিয়ে লড়াই করেন না—তাহলে দ্বীন বিজয় হবে? হবে না। সবকিছু বুঝতে হবে।

নিজেকে দ্বীন বিজয়ে শামিল রাখতে চাইলে এবং দ্বীনকে বিজয়ী হিসেবে দেখতে চাইলে মুত্তাকি হিসেবে গড়ে তুলি নিজেকে

[দ্বীন বিজয়, পর্ব-১]

22/08/2025

ব্লগার শফিউর রহমান ফারাবীর আক্ষেপ:

11/07/2025

জাতিধ্বংসের মানবাধিকার কার্যালয়ের বিরুদ্ধে আজ মিম্বারগুলো গর্জে উঠুক।

⚠️ খণ্ডন: মুসলিম পরিচয় আর কালিমার পতাকা নিয়ে অযৌক্তিক ভয় ও বিভ্রান্তির জবাব ⚠️সম্প্রতি কিছু “সতর্কতা” ছড়ানো হচ্ছে যে, কা...
27/06/2025

⚠️ খণ্ডন: মুসলিম পরিচয় আর কালিমার পতাকা নিয়ে অযৌক্তিক ভয় ও বিভ্রান্তির জবাব ⚠️

সম্প্রতি কিছু “সতর্কতা” ছড়ানো হচ্ছে যে, কালিমা লেখা পতাকা কেউ যেন না আনে; কারণ এতে নাকি “আওয়ামী এজেন্টরা” কিংবা “নিষিদ্ধ সংগঠন” আন্দোলনকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করতে পারে। এই কথাগুলো শুনে কিছু প্রশ্ন না তুলে পারা যায় না।

প্রথমত, একজন মুসলিম মুসলিমের মতোই কথা বলবে, চলবে, এবং প্রতিবাদ করবে—এটাই স্বাভাবিক। মুসলিম তার প্রতিবাদে ইসলামিক চেতনা প্রকাশ করবে—এতে কারও সমস্যা হলে সেটা তাদের ব্যক্তিগত সমস্যা, মুসলিমদের নয়। কালিমা লেখা পতাকা বহন করা কোনো ‘জঙ্গিবাদ’ নয়, বরং মুসলিম পরিচয়ের সরল ও শান্তিপূর্ণ প্রকাশ।

দ্বিতীয়ত, যারা ফিলিস্তিনের পক্ষে আন্দোলন করছেন অথচ সেখানে ইসলাম ও মুসলিম পরিচয়ের ছায়াও রাখতে চান না—তারা আসলে কী নিয়ে আন্দোলন করছেন? ফিলিস্তিনিদের উপর বর্বরতা হচ্ছে কারণ তারা মুসলিম। যুগের পর যুগ ধরে মুসলিম পরিচয়ের কারণেই তারা লক্ষ্যবস্তু। আর আজ যখন আমরা তাদের জন্য দাঁড়াব, তখন “কালিমা লেখা পতাকা না আনতে” বলা হবে? এ কেমন তামাশা?

তৃতীয়ত, “জঙ্গি জুজু” আর কতদিন? এটা এখন অতীব পুরাতন এক অস্ত্র। পশ্চিমা পররাষ্ট্রনীতি থেকে শুরু করে ভারতীয় ও স্থানীয় ইসলামবিদ্বেষী রাজনীতিবিদরা এই এক গল্প শুনিয়ে আসছে—যে কেউ একটু মুসলিম চেতনা দেখাবে, তাকে “চরমপন্থী” বলে দাগিয়ে দাও! এখন প্রশ্ন হচ্ছে, ফিলিস্তিনে মুসলিম নিধনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে গিয়ে, আমরা নিজেরাই যদি মুসলিম পরিচয় লুকাতে থাকি—তাহলে আমরা কীসের প্রতিবাদ করছি?

চতুর্থত, “আন্তর্জাতিক মিডিয়াতে খারাপভাবে দেখা যাবে” এই যুক্তি দিয়ে ইসলামিক প্রতীক বর্জন করতে বলা মানে হলো ইসলামবিদ্বেষী প্রচারকে স্বীকৃতি দেওয়া। এটা যেন বলার মতো: “ইউরোপ বা আমেরিকা আমাদের ইসলাম দেখতে চায় না, তাই আমরাও দেখাবো না”—এই মনোভাব মুসলিমদের জন্য আত্মঘাতী।

আমরা মানবতা ও ন্যায়বিচারের পক্ষে দাঁড়াবো, সেটা আমাদের ইমানী চেতনাতেই হবে। আমরা আমাদের পরিচয় লুকিয়ে নয়, বরং গর্ব নিয়েই সামনে যাবো। ফিলিস্তিনের পতাকা থাকবেই, কিন্তু কালিমা লেখা পতাকা কিংবা মুসলিম পরিচয়ের প্রকাশে কোনো লজ্জা নেই—এটা অপরাধ নয়, বরং ঈমানের দাবি।

শেষ কথা, ইসলামের কথা বললেই যদি কারও গায়ে জ্বালা ধরে, তাহলে বুঝতে হবে সমস্যাটা ইসলামে নয়, তাদের অন্তরে। মুসলিমদের মুখ বন্ধ করে ইসলামবিহীন আন্দোলনের কথা যারা বলেন, তারা নিজেরাও জানেন না তারা আসলে কী চাইছেন।

18/03/2025

সেহরির সময়টুকু অত্যন্ত মূল্যবান। ফজরের পূর্বের সময়টিতে কারও সাথে কথা না বলে দু‘আ ও ইস্তিগফারে লেগে থাকা উচিত। ফজরের পূর্বের ইস্তিগফারের মর্যাদা অপরিসীম।
আল্লাহ তা‘আলা কুরআন কারিমে বলেন, ‘‘আর আল্লাহ তাঁর বান্দাদের প্রতি (সু)দৃষ্টি রাখেন, যারা বলে, ‘হে আমাদের রব! আমরা ঈমান এনেছি, কাজেই আমাদের মাফ করে দিন এবং জাহান্নামের শাস্তি থেকে রক্ষা করুন।’ ’’ [সুরা আলে ইমরান, আয়াত: ১৫-১৬]
এই লোকদের প্রশংসায় আল্লাহ্ বলেন, ‘‘তারা ধৈর্যশীল, সত্যবাদী, অনুগত, (সৎপথে) ব্যয়কারী এবং শেষ রাতে ক্ষমা প্রার্থনাকারী।’’ [সুরা আলে ইমরান, আয়াত: ১৭]
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘আল্লাহ তাঁর বান্দার অধিক নিকটবর্তী হন শেষ রাতে। ওই সময় যারা আল্লাহর যিকর করে, সম্ভব হলে তুমি তাদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো। এই সময়ের নামাজে ফেরেশতাগণ উপস্থিত থাকেন এবং প্রত্যক্ষ করেন।’’ [ইমাম নাসায়ি, আস-সুনান: ৫৭২; হাদিসটি সহিহ]

17/03/2025

রোজা না রাখা অথবা রেখে ভেঙে ফেলার শাস্তি!
আবু উমামা (রা.) বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, ‘‘আমি ঘুমিয়ে ছিলাম। হঠাৎ দুজন লোক এসে আমার বাহু ধরে আমাকে নিয়ে দুর্গম এক পাহাড়ে গেলো। তারা আমাকে বললো, ‘‘(পাহাড়ে) উঠুন।’’ আমি বললাম, ‘‘আমার দ্বারা ওঠা সম্ভব নয়।’’ তারা ‎বললো, ‘‘আমরা আপনাকে (ওঠা) সহজ করে দিচ্ছি।’’ তখন আমি ওঠলাম। যখন পাহাড়ের চূড়ায় ‎‎পৌঁছলাম, তখন বিকট আওয়াজের সম্মুখীন হলাম। জিজ্ঞাসা করলাম, ‘‘এগুলো কিসের আওয়াজ?’’ তারা ‎বললো, ‘‘এগুলো জাহান্নামিদের আর্ত*নাদ।’’ অতঃপর তারা আমাকে নিয়ে যাত্রা শুরু করলো। আমি এমন লোকদের সম্মুখীন হলাম, যাদেরকে হাঁটুতে বেধে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। তাদের চোয়াল ‎‎ক্ষ*ত-বিক্ষ*ত। সেখান থেকে অনবরত র*ক্ত ঝরছে। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, ‘‘এরা কারা?’’ তারা বললো, ‘‘এরা ‎হলো সেসব লোক, যারা রোজা পূর্ণ করার আগে ভেঙ্গে ফেলতো’’।’’ [ইমাম নাসায়ি, আস-সুনানুল কুবরা: ৩২৭৩; ইমাম বাইহাকি, আস-সুনানুল কুবরা: ৮০০৬; হাদিসটি সহিহ]

16/03/2025

ইফতারের আগে ও পরে ৩টি চমৎকার দু‘আ রয়েছে, এগুলোর অর্থ ও মর্ম অত্যন্ত সুন্দর।
❖ ইফতারের আগে যা পড়বেন:
ইফতারের আগে ‘বিসমিল্লাহ’ বলবেন। নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘তোমাদের কেউ যখন খাবার খায়, তখন সে যেন বলে ‘বিসমিল্লাহ’ (আল্লাহর নামে)।’’ [ইমাম তিরমিযি, আস-সুনান: ১৮৫৮; হাদিসটি সহিহ]
শুধু “বিসমিল্লাহ” বলবেন, “বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম” না।
এরপর একটি দু‘আ পড়তে পারেন, যেটি অত্যন্ত প্রসিদ্ধ। তবে, সনদের দিক থেকে হাদিসটি অধিকাংশ মুহাদ্দিসের নিকট দুর্বল। এটি দুর্বল হলেও আমলযোগ্য। দু‘আটি হলো:
اللَّهُمَّ لَكَ صُمْتُ وَعَلَى رِزْقِكَ أَفْطَرْتُ
(আল্লাহুম্মা লাকা সুমতু ওয়া ‘আলা রিযক্বিকা আফত্বরতু)
অর্থ: হে আল্লাহ! আপনার (সন্তুষ্টির) জন্যই রোজা রেখেছি আর আপনার রিযিক দিয়েই ইফতার করছি। [ইমাম আবু দাউদ, আস-সুনান: ২৩৫৮; হাদিসটির সনদ দুর্বল]
ইফতারের আগে আরও একটি দু‘আর কথা হাদিসে এসেছে। ইবনু আবি মুলাইকা বলেন, আমি (সাহাবি) আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রা.)-কে ইফতারের সময় দু‘আ পাঠ করতে শুনেছি—
اَللّٰهُمَّ إِنِّيْ اَسْأَلُكَ بِرَحْمَتِكَ الَّتِيْ وَسِعَتْ كُلَّ شَيْئٍ اَنْ تَغْفِرَ لِيْ
(আল্লা-হুম্মা ইন্নি আসআলুকা বিরা‘হমাতিকাল্লাতি ওয়াসি‘আত কুল্লা শাইয়িন আন তাগফিরা লি)
অর্থ: হে আল্লাহ্‌! আমি আপনার রহমত প্রার্থনা করছি, যা সব কিছুর উপর পরিব্যাপ্ত—যেন আপনি আমাকে ক্ষমা করেন। [ইমাম ইবনু মাজাহ, আস-সুনান: ১৭৫৩; হাদিসটির সনদ কারও মতে সহিহ আবার কারও মতে দুর্বল, তবে সর্বসম্মতভাবে হাদিসটি আমলযোগ্য]
❖ ইফতারের পরে যা পড়বেন:
ইবনু উমর (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ইফতার করতেন, তখন বলতেন—
ذَهَبَ الظَّمَأُ وَابْتَلَّتِ الْعُرُوقُ وَثَبَتَ الْأَجْرُ إِنْ شَاءَ اللّٰهُ
(যাহাবায যমা-উ, ওয়াবতাল্লাতিল ‘উরু-ক্ব, ওয়া সাবাতাল আজরু, ইনশা আল্লাহ)
অর্থ: তৃষ্ণা দূর হয়েছে, শিরা-উপশিরা সিক্ত হয়েছে, ইনশাআল্লাহ (রোজার) প্রতিদানও নির্ধারিত হয়েছে। [ইমাম আবু দাউদ, আস-সুনান: ২৩৫৭; হাদিসটি হাসান]

16/03/2025

তাহাজ্জুদ নামাজের পর সর্বশ্রেষ্ঠ ও গুরুত্বপূর্ণ নফল নামাজ হলো ইশরাক ও দোহার নামাজ।
ইশরাক, দোহা এবং চাশত একই নামাজ কি না, এসব নামাজের সময়, নিয়ম, ফজিলত ও রাকাতসংখ্যা সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো।
❖ ইশরাক নামাজের পরিচয় ও ফজিলত:
ইশরাক মানে প্রভাত, সকাল, সূর্যোদয়। আনাস (রা.) বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘যে ব্যক্তি ফজরের নামাজ জামাতে পড়বে, এরপর সূর্যোদয় পর্যন্ত বসে যিকির করবে, এরপর (সূর্যোদয় হলে, সূর্যোদয়ের ১৫/২০ মিনিট পর) দুই রাকাত নামাজ পড়বে, তার জন্য পূর্ণ হজ ও উমরার সওয়াব লেখা হবে।’’ কথাটি তিনি জোর দিয়ে তিনবার বলেন। [ইমাম তিরমিযি, আস-সুনান: ৫৮৬; হাদিসটি হাসান]
হাদিসে এই নামাজের কোনো নাম বর্ণিত হয়নি। তবে, বিদ্বানগণের নিকট এই নামাজ ইশরাকের নামাজ বা সূর্যোদয়ের নামাজ হিসেবে পরিচিত।
❖ দোহা ও চাশতের নামাজের পরিচয়:
‘দোহা’ শব্দটি আরবি। এর অর্থ হলো, দিনের প্রথম প্রহর। ফার্সিতে একে বলা হয় ‘চাশত’। অতএব, দোহা এবং চাশত একই নামাজ। পরিভাষায় সূর্যোদয়ের পর সূর্যের তাপ কিছুটা প্রখর হওয়ার পর যে নামাজ পড়া হয়, সেটিকেই দোহার নামাজ বলা হয়।
❖ দোহার (চাশতের) নামাজের অপরিসীম ফজিলত, উপকারিতা ও গুরুত্ব:
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘তোমাদের শরীরের প্রতিটি জোড়ার জন্য (শুকরিয়াস্বরূপ) প্রতিদিন সকালে সদাকাহ দিতে হয়। (জেনে রেখো) প্রত্যেক তাসবিহ (সুবহানাল্লাহ) সদাকাহ; প্রত্যেক তাহমিদ (আলহামদুলিল্লাহ) সদাকাহ; প্রত্যেক তাহলিল (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ) সদাকাহ; প্রত্যেক তাকবির (আল্লাহু আকবার) সদাকাহ; সৎ কাজের আদেশ সদাকাহ এবং অসৎ কাজ হতে নিষেধ করাও সদাকাহ। আর এসবের পক্ষ হতে দোহার (চাশতের) দুই রাকাত নামাজই যথেষ্ট হবে।’’ [ইমাম মুসলিম, আস-সহিহ: ১৫৫৬]
হাদিসে কুদসিতে এসেছে, আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘‘আদম সন্তান, তুমি দিনের প্রথম ভাগে আমার জন্য চার রাকাত (নামাজ) আদায় করো; আমি তোমার (দিনের) শেষ ভাগের জন্য যথেষ্ট হবো।’’ [ইমাম তিরমিযি, আস-সুনান: ৪৭৫; হাদিসটি সহিহ]
হাদিসের ব্যাখ্যায় মুহাদ্দিসগণ বলেন, আল্লাহ তার বাকি দিনের প্রয়োজন পূরণে যথেষ্ট হবেন এবং তার অপছন্দনীয় বিষয়গুলো তার কাছ থেকে দূরে সরিয়ে রাখবেন। [আল্লামা মুবারকপুরী, তুহফাতুল আহওয়াযি: ২/৪৭৮]
আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, আমার প্রিয় বন্ধু (নবিজি) আমাকে ৩টি কাজের অসিয়ত করেছেন। সেগুলো হলো: প্রতি মাসে ৩ দিন (আইয়ামে বীযের নফল) রোজা রাখা, দোহার (অন্তত) দুই রাকাত (নামাজ) আদায় করা এবং ঘুমানোর আগে বিতর (নামাজ) আদায় করা। [ইমাম বুখারি, আস-সহিহ: ১৯৮১]
একজন সালাফ (পূর্বসূরি) বিদ্বান বলেন, গুনাহ ত্যাগের জন্য চাশতের নামাজের চেয়ে কার্যকর আর কিছু পাইনি।
❖ দোহার (চাশতের) নামাজের রাকাতসংখ্যা:
আয়িশা (রা.) বলেন, নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাধারণত দোহার নামাজ ৪ রাকাত পড়তেন। তবে, ইচ্ছা হলে কখনো তা বৃদ্ধি করতেন। [ইমাম মুসলিম, আস-সহিহ: ১৫৪৮]
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা বিজয়ের দিনে দোহার (চাশতের) ৮ রাকাত নামাজ পড়েছেন। [ইমাম মুসলিম, আস-সহিহ: ৬৫২]
আলিমগণের বড় অংশের মতে, দোহার (চাশতের) নামাজ সর্বনিম্ন ২ রাকাত এবং সর্বোচ্চ ১২ রাকাত পড়া যায়। তাঁরা তাঁদের পক্ষে দলিল দিয়েছেন। তবে, শায়খ মুহাম্মাদ ইবনু সলিহ আল উসাইমিন (রাহ.) বলেন, ‘‘(দোহার নামাজের) সর্বোচ্চ রাকাত নির্ধারিত নয়। কেননা আয়িশা (রা.) হতে (উপরে) বর্ণিত হাদিসে বলা হয়েছে, ‘‘তিনি ইচ্ছা করলে এর চেয়ে অধিকও পড়তেন।’’ (নির্দিষ্ট বাউন্ডারি দেওয়া হয়নি)।’’ [শারহুল মুমতি’: ৪/৮৫]
তবে, হাদিসের ভাষ্য অনুযায়ী নবিজি অধিকাংশ সময় ৪ রাকাত আদায় করতেন, যেমনটি আমরা পূর্বেই পড়লাম।
❖ দোহার (চাশতের) নামাজের সময়:
সূর্যোদয়ের ১৫/২০ মিনিট পর থেকেই দোহার (চাশতের) নামাজ পড়া যায়। তবে, দোহার (চাশতের) নামাজের উত্তম সময় হলো, সূর্যের তাপ যখন প্রখর হয়। এই সময় থেকে নিয়ে দিনের দ্বিপ্রহর শুরু হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত দোহার (চাশতের) নামাজের সময় থাকে। অর্থাৎ, সূর্য ঠিক মাথার উপর আসা পর্যন্ত দোহার নামাজ পড়া যাবে।
❖ দোহা আর ইশরাক কি এক নামাজ?
প্রখ্যাত ফকিহ ও হাদিস বিশারদ ইমাম আবু বকর জাসসাস (রাহ.) বলেন, অধিকাংশ আলিমের মতে, ইশরাক এবং দোহার নামাজ একই। [আহকামুল কুরআন: ৩/৫৫৯]
মুহাদ্দিসগণ দোহা এবং ইশরাকের নামাজকে একই নামাজ গণ্য করেছেন। তবে, সুফিগণ আলাদা গণ্য করেছেন। [ফাতহুল মুলহিম: ৪/৬৩৪]
ইমাম ত্বিবি (রাহ.) তাঁর শারহুল মিশকাতে বলেছেন, ইশরাক হলো দোহার প্রথম সময়। মূলত দুটো একই নামাজ। শায়খ ইবনু বায, ইবনু উসাইমিন (রাহ.)-সহ আরবের আলিমগণের মতও তাই।
❖ উপসংহার:
মূল কথা হলো, ইশরাক এবং দোহা (চাশত) একই নামাজ। শুধু সময়ের পার্থক্যের কারণে এদের নাম ভিন্ন হয়েছে। ইশরাক হলো দোহার প্রথম সময়। যদি জামাতে ফজর আদায় করে, নামাজের স্থানে বসে থেকে যিকর করে, অতঃপর সূর্যোদয়ের ১৫/২০ মিনিট পর আদায় করা হয়, তবে এটিকে ইশরাক বলা হয় (ইশরাক নামাজও দোহার নামাজের অন্তর্ভূক্ত)। আর সূর্য কিছুটা প্রখর হওয়ার পর (সকালের নাস্তার সময়ে) আদায় করলে এটিকে ‘দোহা’ (চাশত) বলা হয়। মৌলিকভাবে দুটোই দোহার নামাজ।

Address

New Paltan
Dhaka

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Private University Muslim Community - PUMC posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share