09/10/2025
নিজেদেরকে অতিবুদ্ধিজীবী মনে করা কিছু লিবারেল, সেক্যুলার, মুনাফিক গোষ্ঠী বাংলাদেশের কোনো ঘটনায় [আ ও য়া মী লী গ], [ই স ক ন], র’ বা অন্য কোনো সংগঠনের ফাঁদ বা ষড়যন্ত্র দেখতে পায় না—কিন্তু ইসলাম ও মুসলিমদের স্বার্থ-সংক্রান্ত বিষয়েই হঠাৎ বিশ্লেষক বনে যায়। একদিকে শাতিমরা প্রকাশ্যে ইসলাম অবমাননা করে, অন্যদিকে শাসক ও প্রশাসন নীরব থেকে কিংবা শাতিমদের পক্ষ নিয়ে তাদের সাহস জোগায়। আর তৃতীয় দল হলো এরা—যারা জুজুর ভয় দেখিয়ে মুসলিমদের দমিয়ে রাখে। সব মিলিয়ে ইসলাম অবমাননার এক বীভৎস চক্র তৈরি হয়।
দ্বীন ইসলাম তথা আল্লাহ, আল্লাহর নাবী-রসূল, আল্লাহর কিতাব ইত্যাদিকে অবমাননা, অসম্মান, অপমান, কটূক্তি, ব্যঙ্গবিদ্রুপ করা—এমন ঘৃণ্য কর্মকাণ্ডের পেছনে আছে প্রাতিষ্ঠানিক, রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় (প্রশাসনিক) মদদ ও ছাড়। সিস্টেমের ভেতরে থেকেই এগুলো ঘটতে দেওয়া হয়, তাই শুধু প্রতিবাদ বা দাবি জানিয়ে খুব বেশি ফল পাওয়া যায় না।
বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এ ধরনের ঘটনার প্রতি প্রায়ই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে নীরব সমর্থন দেখায়। কারণ, তারা নিজেদের লিবারেল সেক্যুলার ইমেজ ধরে রাখতে গিয়ে ইসলামবিদ্বেষী কর্মকাণ্ডকে হালকাভাবে নেয়। এমন ঘটনার পর দেখা যায়, মুসলিমদের ক্ষোভ ও প্রতিবাদকে নিয়ন্ত্রণ বা দমন করার চেষ্টা চলে। অথচ মুসলিমদের ঈমানের ওপর আঘাত করা হলে তাদের প্রতিবাদই স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া। এর মাধ্যমে আমাদেরকেই বারবার ‘চুপ থাকো’ সংস্কৃতির মধ্যে ঠেলে দেওয়া হয়।
কিছু লিবারেল গোষ্ঠী, বিশেষ করে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রিক প্রতিষ্ঠান (গ্রুপ-পেজ) গুলো মুসলিম শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশকে ক্রিমিনালাইজ করার ঘৃণ্য চেষ্টা করছে। আপনারা জুলাইয়ের স্টেকহোল্ডার হোন, বা যায় হোন না কেন, মুসলিমদের ঈমানের সাথে সম্পৃক্ত বিষয় নিয়ে বাজে মন্তব্য ও প্রোপাগান্ডা ছড়াবেন না।
একটা কথা সাফ মনে রাখতে হবে সবার: লিবারেল আর সেকুলার এই কুফরি জীবনব্যবস্থার মধ্যে বসবাস করে আল্লাহ ও তার রসূলের ইজ্জত রক্ষার একমাত্র হাতিয়ার হলো এই সব বিষয়ে মুসলিমদের অনমনীয় আচরন।
ইংরেজদের আমল থেকে নিয়ে আজ পর্যন্ত পৃথিবীর সর্বস্থানে রসুলের ইজ্জতের বিষয়ে মুসলিমদের অনমনীয় আচরণই কেবল আয়িম্মাতুল কুফরকে বাধা দিয়ে রেখেছে। নাহলে লিবারেলিজমের কুফর চর্চার আড়ালে এবং বাকস্বাধীনতার নামে নাটক, সিনেমা, গল্প, উপন্যাস, কার্টুন ইত্যাদিতে আল্লাহ ও তার রসূলকে শয়তানের দোষররা কী জঘন্য চিত্রায়ণ যে করতো, তা আল্লাহই ভালো জানে!
সুতরাং, রাষ্ট্রের কী হলো, দেশকে কে নিয়ে গেলো, কোন দেশের আর্মি বাংলাদেশে আক্রমণ করে বসলো তা নিয়ে সামান্য ভাবার সময় আমাদের নাই। আমাদের একটাই কথা, আল্লাহ ও তার রসূলকে নিয়ে তাদের শানের বিপরীত একটি টু-শব্দও এই পৃথিবীর কোথাও উচ্চারণ কেউ করতে পারবে না। কেউ করলে তার একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদণ্ড! হয় কর্তৃপক্ষ বাস্তবায়ন করবে, অন্যথায় মুসলিমরা নিজেদের দায়িত্ব নিজেরাই বুঝে নিবে।
তাই, দেশের কথিত শান্তি ঠিক রাখতে হলে, ‘আল্লাহ ও তার রসূলের মর্যাদা ক্ষুন্ন হয়’ — যে বা যারা এমন কোনো কথা বা কাজ করবে তাদের শাস্তি বাস্তবায়ন করুন।
বাংলাদেশে বর্তমানে ইসলাম অবমাননার বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর আইন নেই। কেউ আল্লাহ্ বা রসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে গালি দিলেও তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নিয়মতান্ত্রিক কার্যকর কোনো পথ খোলা নেই।
রাখাল রাহার ব্যাপারটা দেখুন। এই লোক প্রকাশ্যে ফেইসবুকে মহান আল্লাহ্কে নিয়ে অশ্লীল গালি দিয়েছে। সে স্বীকারও করেছে ঐ পোস্ট সে দিয়েছিল। অথচ তার কোনো শাস্তি হয়নি, বরং আদালত মামলাই খারিজ করে দিয়েছে।
স্পষ্ট করে বললে, শাতিমির রসূল বা আল্লাহ্কে অবমাননার বিরুদ্ধে মুসলিমদের হাতে এখন কোনো লিগ্যাল রিকোর্স নেই।
একজন মুসলিম যার কাছে রসূল (ﷺ) এর ইজ্জত ঈমানের অংশ, তাঁর জন্য এই রাষ্ট্র কী অপশান রেখেছে?
• এ অবস্থায় কেউ উপেক্ষা করবে। কেউ দুঃখ পাবে, মুখ বুঝে সহ্য করে যাবে।
• কেউ প্রতিবাদ করবে, আন্দোলনে নামবে।
• আবার কেউ এমনও থাকবে যারা মনে করবে—যেহেতু রাষ্ট্র কিছু করছে না, বিচার নিজেই করতে হবে।
দিনের পর দিন আল্লাহ্ ও রসূল (ﷺ)-কে গালি দেওয়া হবে, রাষ্ট্র চুপ করে থাকবে—এটা কোনো ঈমানদার ‘স্বাভাবিক’ বলে মেনে নিতে পারে না। আইনহীনতা বাড়লে, নিজ হাতে বিচার করাও বাড়বে। এটা অবধারিত।
দেশে যেহেতু শাতিমদের থামানোর নিয়মতান্ত্রিক কোনো উপায় নাই, মানুষ নিয়মের বাইরে গিয়ে সমাধান খুঁজবে। এটাও অবধারিত।
ইকোনমিক্সের ভাষায় বললে: যেহেতু অবমাননা থামানোর ব্যাপারে মুসলিমদের অবস্থান ইনইলাস্টিক, তাই ইসলাম অবমাননাকে স্পেইস দিয়ে রাষ্ট্র এবং সুশীল সমাজ ভিজিল্যান্টি জাস্টিসকে ইনসেন্টিভাইয করছে।
রাষ্ট্র অপরাধ না থামিয়ে যে শূন্যতা তৈরি করেছে, সেটাই ভিজিল্যান্টিসমের জায়গা খুলে দেবে। এটা ঠান্ডা, শীতল লজিক। ধর্মীয় উত্তেজনা না।
————
“আইনের উপর আস্থা রাখেন!” কোন আইন? যে আইন এখনো আমাদের ভাই শহীদ আলিফকে দিবালোকে প্রকাশ্যে যবেহ করে [খু ন] করা [ই স ক নে র] সন্ত্রাসীদের বিচার করতে পারে নাই সেই আইন?
• সিলেটের এল পুরোহিত বাচ্চা মুসলিম মেয়েকে [রে ই প] করলো, সেটার বিচার করতে পারে নাই ওই আইনের উপর ভরসা রাখব?
• মুসলিম মেয়েকে গ্যাং [রে ই প] করেছিল যে হিন্দু যুবকরা, তাদের বিচার করতে না পারা আইনের উপর ভরসা রাখব?
• ফেসবুকে [খু নে র] হুমকি দেয়া ট্রাশগন্ডার সংবাদ সম্মেলন করে পুলিশের উপর [বো মা] মারার হুমকি দিলেও তাকে আইনের আওতায় পর্যন্ত আনেনি, সেই আইনের উপর ভরসা রাখব?
• ঠিক কোন আইনের উপর আমি ভরসা রাখব? যে আইন দেশ থেকে ডিবি হারুনের পলায়ে যাওয়া ঠেকাইতে পারে না সেই আইনের উপর?
• যে আইন প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও রেপিস্টের বিচার করেনি সেই আইন? যে আইন চোখে ভিলেন হিসাবে শুধু মুসলিম আর ইসলামকেই দেখতে চায় সেই আইন?
এই কচুর আইন আসলে কী করছে বলেন আমাকে? একটা ভালো কাজ দেখান। একটা ইনসাফ দেখান। দেখি কোন আইনের উপর আপনি ভরসা রাখতে বলতেছেন।
আর এমনিতেও, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেনঃ আইন দেয়ার অধিকার একমাত্র আল্লাহর। [সূরাহ ইউসুফ ১২: আয়াত ৪০]। আল্লাহর আইনের বিপরীত মানবরচিত আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার কোনো সুযোগই নেই, বরং এটা শির্ক।
“ইসলামী আইন ব্যতীত ইসলাম অবমাননার সঠিক বিচার হওয়া সম্ভব নয়।”
░ শাতিমির রসূল কে হত্যা করা ওয়াজিব ░
আল্লাহ সুবহানাহু তাআলা বলেনঃ যারা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে আর যমীনে বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে বেড়ায় তাদের শাস্তি হল এই যে, তাদেরকে হত্যা করা হবে।
সূরাহ আল-মায়ীদাহ ৫: আয়াত ৩৩
যারা আল্লাহ ও তাঁর রসূলকে কষ্ট দেয়, আল্লাহ তাদেরকে দুনিয়া ও আখিরাতে অভিশপ্ত করেছেন।
সূরাহ আল-আহযাব ৩৩: আয়াত ৫৭
যারা আল্লাহ ও তাঁর রসূলকে কষ্ট দেয় এই আয়াত অনুযায়ী তাদেরকে হত্যা করা ওয়াজিব। বিষয়টি আরও বেশী স্পষ্ট হয় এই হাদিসটির সুস্পষ্ট বর্ণনা দ্বারা: জাবির ইবনু আবদুল্লাহ্ (রদিঃ) বলেন, রসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বললেনঃ কা‘ব ইবনু আশরাফকে হত্যা করার দায়িত্ব কে নিতে পারবে? আল্লাহ্ ও তাঁর রসূলকে সে তো কষ্ট দিয়েছে। মুহাম্মাদ ইবনু মাসলামাহ (রদিঃ) তখন বললেনঃ আমি।
সহিহ বুখারী, হাদিস নং ২৫১০
জাবির (রদিঃ) সূত্রে নাবী (ﷺ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, নাবী (ﷺ) বলেনঃ কা’ব ইব্নু আশরাফকে হত্যা করার দায়িত্ব কে নিবে? তখন মুহাম্মাদ ইব্নু মাসলামাহ (রদিঃ) বললেনঃ ‘আপনি কি পছন্দ করেন যে, আমি তাকে হত্যা করি?’ আল্লাহর রসূল (ﷺ) বললেনঃ হ্যাঁ।
সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৩০৩২
▬▬▬
ইবনু আব্বাস (রদিঃ) থেকে বর্ণিত, এক অন্ধ লোকের একটি ওয়ালাদ (দাসী) ছিল। সে নাবী (ﷺ)-কে গালমন্দ করতো, তাকে নিয়ে কটুক্তি করতো। ফলে অন্ধ লোকটি একটি ধারালো ছুরি নিয়ে তার পেটে ঢুকিয়ে দিয়ে চেপে ধরে তাকে হত্যা করলেন। এই ঘটনা নাবী (ﷺ)-কে শোনানো হলে তিনি ওই দাসীর রক্ত মূল্যহীন ঘোষণা করেন।
সুনান আন-নাসায়ী, হাদিস নং ৪০৭০
সুনান আবু দাউদ, হাদিস নং ৪৩৬১ | সহিহ
▬▬▬
যারা রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে কটাক্ষ বা গালী-গালাজ করবে তাদের হত্যা করার ব্যাপারে সমস্ত ওলামায় কিরাম একমত।
ফাতওয়ায় শামী ৪/৪১৭
কোনো মুসলিম অথবা কাফির যদি নাবী (ﷺ)-কে কটূক্তি করে, তা হলে তাকে হত্যা করা অপরিহার্য। এটাই উলামায় কিরামের সর্বসম্মত মাযহাব।
— শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনু তাইমিয়্যা (রহিঃ)
আস সারিমুল মাসলুল আলা শাতিমির রসূল, পৃষ্ঠা: ১০ (নুসুস পাবলিকেশন)
ইমাম আহমাদ ইবনু হাম্বল (রহিঃ) বলেনঃ এমন অভিশপ্তকে হত্যা করা হবে, চাই সে মুসলিম হোক কিংবা কাফির। তখন ইমাম আহমাদ (রহিঃ)কে জিজ্ঞেস করা হলো, এ ব্যাপারে কি কোনো হাদিস আছে? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ! অনেক হাদিস আছে। তার মধ্যে একটি হলো, অন্ধ-সাহাবি-সম্পর্কিত বর্ণনাটি। যখন তিনি শুনতে পেলেন, এক মহিলা নাবী (ﷺ)-কে গালমন্দ করে, তখন তিনি ওই মহিলাটিকে হত্যা করেছিলেন। আরেকটা হলো হুসাইন (রদিঃ)-কর্তৃক বর্ণিত হাদীস। তিনি আরও বলেনঃ শাতিমুর রসূলকে তাওবারও সুযোগ দেওয়া হবে না। এই বক্তব্যটি ইমাম আবু বাকর (রহিঃ) তার আশ-শাফি গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। সুতরাং ‘শাতিম’-কে হত্যা করার ব্যাপারে ইমাম আহমাদ রাহিমাহুল্লাহ থেকে ভিন্ন কোনো মত নেই, আর (শাতিম যদি যিম্মি হয়) তা হলে তার নিরাপত্তা-অকার্যকর হয়ে পড়বে।
আস সারিমুল মাসলুল আলা শাতিমির রসূল, পৃষ্ঠা: ১২ (নুসুস পাবলিকেশন)
ইমাম খাত্তাবি (রহিঃ) বলেনঃ রসূলের কটুক্তিকারী কে হত্যা করা ওয়াজিব। এ ব্যাপারে একজন মুসলিমও দ্বিমত করেছে বলে আমি জানি না।
মায়ালিমুস সুনান : ৩/২৯৬
সুতরাং
যেখানে ইসলাম (আল্লাহ, আল্লাহর নবী-রসূল, আল্লাহর কিতাব ইত্যাদিকে) অবমাননা হচ্ছে দুনিয়ার সবচেয়ে নিকৃষ্ট অপরাধ, সেখানে কিছু লিবারেল, সেক্যুলার, মুনাফিক গোষ্ঠীর দ্বারা মুসলিমদের স্বাভাবিক ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশকে ক্রিমিনালাইজ করার ঘৃণ্য চেষ্টা নিতান্তই গর্হিত ও প্রোপাগান্ডা মূলক কাজ বলে আমরা মনে করি এবং এর তীব্র প্রবাদ জানায়।