06/11/2025
"আজ বৃহস্পতিবার, আসুন শুনে নিই মা লক্ষ্মীর ব্রতকথা ও পাঁচালী।""ধন-সম্পদ ও সৌভাগ্য লাভের জন্য পাঠ করুন শ্রী শ্রী মা লক্ষ্মীর পাঁচালী।"
🌸 শ্রী শ্রী মা লক্ষ্মীর পাঁচালী 🌸
দোল পূর্ণিমার নিশি নির্মল আকাশ।
ধীরে ধীরে বহিতেছে মলয় বাতাস॥
বৈকুন্ঠেতে একাসনে লক্ষ্মী নারায়ণ।
করিতেছেন কত কথা সুখে আলাপন॥
সৃষ্টিকথা জ্ঞানকথা নানা কথা হয়।
শুনিয়া পুলকিত হয় দেবীর হৃদয়॥
অকস্মাৎ দেবর্ষি নারায়ণ স্বরে।
আসিলেন ভক্তিচিত্তে বৈকুন্ঠ নগরে॥
প্রণাম করিয়া দেবর্ষি বলেন বচন।
মর্ত্যে দুর্ভিক্ষ মাগো কি ভীষণ॥
ঋষি বলে, মা তুমি চঞ্চলা মন।
সর্বদা ঘোরো ভবন হতে ভবন॥
তাই মর্ত্যবাসী কষ্ট কত পায়।
দেখি তাহা কেমনে মম প্রাণে সয়॥
অন্নাভাবে লোকে কত কষ্ট ভোগে।
মরিতেছে অনাহারে কৃশকায় রোগে॥
ধর্মাধর্ম লোক সবে ত্যাগ করি দেয়।
স্ত্রী কন্যা বিক্রি করে ক্ষুধার জ্বালায়॥
দুর্ভিক্ষে হইলো শেষ মরে জীবগণ।
দয়া করে মাগো তুমি করো নিবারণ॥
এই দুর্দশা দেখি প্রাণে নাহি সয়।
করো নিবারণ মাগো হইয়া সদয়॥
নারদের বাক্য শুনি কহেন হরিপ্রিয়া।
বিশ্বমাতা আমি দেবী বিষ্ণুজায়া॥
যে যেমন করে সে তেমন পায়।
সে দোষে কর্মফল, করে হায় হায়॥
মহামায়ার স্বরূপে নারী সত্যবচন।
সদাচার কুল শীল দিয়া বিসর্জন।
ঘরের লক্ষ্মীকে করে সদা বর্জন॥
এমন মনুষ্য জাতি মহাপাপ করে।
কর্মদোষে লক্ষ্মী ত্যাজে তাহারে॥
নারীর পরম গতি স্বামী ভিন্ন কেবা।
ভুলেও না করে নারী পতি পদসেবা॥
যথায় স্বেচ্ছায় ঘুরিয়া বেড়ায়।
গুরুজনে নানা কটুবাক্য শোনায়॥
সর্বদা হিংসা করে না মানে আচার।
হিংসাতে তার মজে সংসার॥
ছড়া নাহি দেয় প্রভাতকালে।
লক্ষ্মী সে স্থান ছাড়িয়া চলে॥
অতিথি যদি উপস্থিত হয় দ্বারে।
দূর দূর করি তারায় তাহারে॥
যেবা গুরু, ব্রাহ্মণ দেখি ভক্তি নাহি করে।
মম নিবাস কভু নহে সেই ঘরে॥
এঁয়োতির চিহ্ন সিঁদুর শাখা না দেয়।
বাসি কাপড়ে যথা তথা বেড়ায়॥
স্নান নিত্য নাহি করে যে মনুষ্যগণ।
ত্যাজিয়া তাহারে, করি অন্যত্র গমন॥
তিথি ভেদে যেবা নিষিদ্ধ দ্রব্য খায়।
হই না কভু তার ওপর সহায়॥
যে মনুষ্য ভক্তিভাবে একাদশী না করে।
কদাপি নাহি থাকি তাহার ঘরে॥
মর্ত্যবাসী না মানে এই কথন॥
সদাচার কুল শীল দিয়া বিসর্জন।
ঘরের লক্ষ্মীকে করে সদা বর্জন॥
এমন মনুষ্য জাতি মহাপাপ করে।
কর্মদোষে লক্ষ্মী ত্যাজে তাহারে॥
নারীর পরম গতি স্বামী ভিন্ন কেবা।
ভুলেও না করে নারী পতি পদসেবা॥
যথায় স্বেচ্ছায় ঘুরিয়া বেড়ায়।
গুরুজনে নানা কটুবাক্য শোনায়॥
সর্বদা হিংসা করে না মানে আচার।
হিংসাতে তার মজে সংসার॥
ছড়া নাহি দেয় প্রভাতকালে।
লক্ষ্মী সে স্থান ছাড়িয়া চলে॥
অতিথি যদি উপস্থিত হয় দ্বারে।
দূর দূর করি তারায় তাহারে॥
যেবা গুরু, ব্রাহ্মণ দেখি ভক্তি নাহি করে।
মম নিবাস কভু নহে সেই ঘরে॥
এঁয়োতির চিহ্ন সিঁদুর শাখা না দেয়।
বাসি কাপড়ে যথা তথা বেড়ায়॥
স্নান নিত্য নাহি করে যে মনুষ্যগণ।
ত্যাজিয়া তাহারে, করি অন্যত্র গমন॥
তিথি ভেদে যেবা নিষিদ্ধ দ্রব্য খায়।
হই না কভু তার ওপর সহায়॥
যে মনুষ্য ভক্তিভাবে একাদশী না করে।
কদাপি নাহি থাকি তাহার ঘরে॥
উচ্চহাসি হাসিয়া যে নারী ঘোরে।
গুরুজন দেখি ঘোমটা না টানে॥
বয়োজ্যেষ্ঠ দেখি যারা প্রণাম না করে।
সন্ধ্যাকালে ধূপ দীপ নাহি দেয় ঘরে॥
ঠাকুর দেবতা আদি কভু না পূজে।
সাধু সন্ন্যাসী দেখি হাসাহাসি করে॥
এমন নারী যে গৃহেতে বসতি রয়।
লক্ষ্মী ত্যাজে তাহাকে জানিবে নিশ্চয়॥
এত বলি লক্ষ্মী দেবী বলেন মুনিকে।
কর্মদোষে মনুষ্য নিজ ফল ভোগে॥
ঋষি বলে মাগো তুমি জগতজননী।
সন্তানকে করো ক্ষমা হে সনাতনী॥
দূর করি দাও মা ভীষণ মহামারী।
বর দিয়ে জীবেরে করহ নিস্তার॥
এই বলি বিদায় হইলেন মহামুনি।
চিন্তিত হইয়া কহেন নারায়ণী॥
কহ কহ কৃপাময় প্রভু নারায়ণ।
কিরূপে নিষ্কৃতি পাইবে জীবগণ॥
লক্ষ্মীদেবীর কথা শুনি কহেন জনার্দন।
শুন দেবী মন দিয়া আমার বচন॥
তুমি যে পরমা প্রকৃতি দেবী ভগবতী।
তোমার কৃপায় দূর হইবে অনাসৃষ্টি॥
যে জন গুরুবারে লক্ষ্মী ব্রত করে।
সুখে জীবন কাটাইবে তোমার বরে॥
লক্ষ্মী কভু নাহি ছাড়িবে তাহারে।
জীবনান্তে আসিবে সে বৈকুন্ঠ নগরে॥
মর্ত্যে গিয়া কর এই ব্রত প্রচার।
তোমার কৃপায় দূর হইবে অনাচার॥
গমন করেন দেবী শুনি হরির কথা।
পেঁচকে মর্ত্যে আইলেন জগতমাতা॥
অবন্তী নামক নগরী পাশে এক বন।
তথা আসি মা কমলা উপস্থিত হন॥
(এরপর পাঁচালীতে দেবী লক্ষ্মীর ব্রত প্রচারের উদ্দেশ্যে মর্ত্যে আগমন এবং দরিদ্র নারীদের ব্রত পালনের ফলে কীভাবে তাদের দুঃখ দূর হয়, তার বর্ণনা করা হয়। যেমন: বৃদ্ধার সাথে সাক্ষাৎ, বণিকপুত্র ধনপতি রায়ের অহংকার ও তার দুর্দশা, ধনপতির স্ত্রীর ব্রত পালনে পুনরায় ধন-সম্পদ লাভ ইত্যাদি।)
পাঁচালীর শেষ অংশ (সংক্ষেপে):
তুমি মা মঙ্গলা দেবী সকল ঘরেতে।
বিরাজিছ মা তুমি লক্ষ্মীরূপে ভূতলে॥
দেব-নর সকলের সম্পদরূপিণী।
জগৎ সর্বস্ব তুমি ঐশ্বর্যদায়িনী॥
সর্বত্র পূজিতা তুমি ত্রিলোক পালিনী।
সাবিত্রী বিরিঞ্চিপুরে বেদের জননী॥
ক্ষমা কর এ দাসের অপরাধ যত।
তোমা পদে মতি যেন থাকে অবিরত॥
শ্রেষ্ঠ হতে শ্রেষ্ঠ তারা পরমা প্রকৃতি।
কোপাদি বর্জিতা... যে জন ব্রতের শেষে স্তব পাঠ করে।
অভাব ঘুচিয়া যায় লক্ষ্মীদেবীর বরে॥
লক্ষ্মীর পাঁচালী কথা হল সমাপন।
ভক্তি করি বর মাগো যার যাহা মন॥
সিঁথিতে সিঁদুর দাও সব এয়োঁ মিলে।
উলুধ্বনি কর সবে অতি কৌতুহলে॥
দুই হাত জোড় করি ভক্তিযুক্ত মনে।
নমস্কার করহ সবে দেবীর চরণে॥
নমস্কার করহ সবে দেবীর চরণে॥
"আপনারা কারা কারা প্রতি বৃহস্পতিবার এই ব্রতকথা পাঠ করেন? 💬 কমেন্টে জানান।" এবং অবশ্যই জয় জয় শ্রী শ্রী মা মহা লক্ষ্মী 🙏🏼✨
#মা_লক্ষ্মী
#লক্ষ্মীর_পাঁচালী
#বৃহস্পতিবার
#ব্রতকথা
#মা_কমলা
#হিন্দুধর্ম
#সনাতনডায়েরী