Sanatan Vidyarthi Samsad, Bangladesh

Sanatan Vidyarthi Samsad, Bangladesh সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মানবাধিকার রক্ষা এবং জাগতিক ও পারমার্থিক কল্যাণ; কুসংস্কার দূর করে সমাজ সংস্কার এবং হিন্দু ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি সংরক্ষণই আমাদের লক্ষ্য।
(1)

সনাতন বিদ্যার্থী সংসদ, চট্টগ্রাম কর্তৃক রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার গণপতি চক্রবর্তী স্যার ও তার সম্পূর্ণ পরিবারকে নৃশংসভাব...
27/08/2026

সনাতন বিদ্যার্থী সংসদ, চট্টগ্রাম কর্তৃক রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার গণপতি চক্রবর্তী স্যার ও তার সম্পূর্ণ পরিবারকে নৃশংসভাবে হত্যার প্রতিবাদে এবং সঠিক তদন্তের দাবিতে "মৌন মানববন্ধন"

স্থান: চেরাগী পাহাড় চত্বর
২৮ অক্টোবর ২০২৬, দুপুর ৩:০০ ঘটিকায়

সর্বজনীন 'রক্ষাবন্ধন'ভ্রাতৃত্ববোধের অনন্য উৎসবশ্রাবণীপূর্ণিমায় শ্রীকৃষ্ণের ঝুলনযাত্রা আয়োজিত হয়। এ দিনে বৈশ্বিক সৌভ্রাতৃ...
27/08/2026

সর্বজনীন 'রক্ষাবন্ধন'
ভ্রাতৃত্ববোধের অনন্য উৎসব

শ্রাবণীপূর্ণিমায় শ্রীকৃষ্ণের ঝুলনযাত্রা আয়োজিত হয়। এ দিনে বৈশ্বিক সৌভ্রাতৃত্বের পবিত্র উৎসব রক্ষাবন্ধন বা রাখিবন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। দিনটিকে বিশ্ব সংস্কৃত দিবস হিসেবেও পালন করা হয়। প্রাচীনকাল থেকে এ শ্রাবণী পূর্ণিমাতিথি থেকেই বেদাদি শ্রাস্ত্রগ্রন্থ পাঠ শুরু হত; সেই বিষয়কে স্মরণে নিয়ে ১৯৬৯ সাল থেকেই এ দিনটি বিশ্ব সংস্কৃত দিবস হিসেবে পালিত হচ্ছে।

শ্রাবণী পূর্ণিমায় শিবলিঙ্গে স্বয়ং বিষ্ণু মিলিত হয়ে একইদেহে হরিহর বা শিব-বিষ্ণু যুগ্মমূর্তিতে আবির্ভূত হয়েছিলেন। তাই এ দিনে শিবের মাথায় জল ঢাললে, শিবপূজা করলে, শিবের সাথে হরিরও পূজা হয়। দক্ষিণ ভারত সহ ভারতের অনেক শিবমন্দিরে এদিনে হরিহরের পূজা অনুষ্ঠিত হয়। শ্রাবণ মাস এমনিতেই শিবভক্তদের কাছে পবিত্র মাস, সেই শ্রাবণের পূর্ণিমা আরো মাহাত্ম্যপূর্ণ। শিবকে এদিনে ডাবের জল এবং দুধ দিয়ে স্নান করানো হয় ; নতুন যজ্ঞোপবীত দান করতে হয়। এ দিনে ভগবান শিবকে যজ্ঞোপবীত দান করলে মানুষের সমস্ত পাপ নাশ হয়। কাশ্মীরীয় শৈব পণ্ডিত অভিনব গুপ্ত তাঁর ‘শৈবদর্শন’ গ্রন্থে শ্রাবণীপূর্ণিমা মাহাত্ম্য উল্লেখ করেছেন।

রক্ষাবন্ধন সাধারণত উত্তর, পশ্চিম এবং দক্ষিণ ভারতেই পালিত হয়। বাঙালিরা সাধারণত ভাইবোনের পবিত্র এ উৎসবটি পালন করে কালীপূজার দুইদিন পরে ভাইফোঁটার দিনে।ভারতবর্ষীয় হিন্দু, বৌদ্ধ, জৈন এবং শিখ সহ সকল ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে রক্ষাবন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।ভাইয়ের মঙ্গল কামনায়, তার হাতে রক্ষাবন্ধন সূত্র রাখিসূত্র বেঁধে দেয় বোন। ভাই বোনকে বিভিন্ন উপহার দিয়ে, বোনকে সর্বদা রক্ষার সংকল্পবদ্ধ হয়।রক্ষাবন্ধনের সময় একটি পবিত্র সংস্কৃত শ্লোক বলেই তবে রক্ষাবন্ধনের সূত্রটি বাঁধতে হয়। এ পবিত্র শ্লোকটি হল:

যেন বদ্ধো বলী রাজা দানবেন্দ্রো মহাবলঃ।
তেন ত্বামভিবধ্নামি রক্ষে মা চল মা চল।

"যে রক্ষাবন্ধন দিয়ে মহাশক্তিশালী দানবেন্দ্র মহারাজা বলীকে বাঁধা হয়েছে, সেই পবিত্র রক্ষাবন্ধন সূত্র দিয়ে আমি তোমাকে বেঁধেছি ; যা সর্বদা তোমাকে রক্ষা করবে।"

ঐক্যবদ্ধতাতেই শক্তি, বিচ্ছিন্নতাতেই ধ্বংস ক্ষয় এবং বিপদ। ভাইবোনের সম্পর্কটি অছিদ্র হওয়া প্রয়োজন। এ সম্পর্কের মধ্যে যদি সামান্য একটি ছিদ্র হয়ে যায়, তবে সেই ছিদ্র দিয়েই কোন এক সময়ে কালসাপ এসে দর্শন করতে পারে। তাই ভাইবোনের পারস্পরিক সম্পর্ক প্রসঙ্গে অথর্ববেদে বলা হয়েছে:

মা ভ্রাতা ভ্রাতরং দ্বিক্ষন্মা স্বসারমুতস্বসা।
সম্যঞ্চঃ সব্রতা ভূত্বা বাচং বদত ভদ্রয়া।।
(অথর্ববেদ: ৩.৬.৫.৩)

"ভাই ভাইকে বিদ্বেষ করবে না। বোন বোনকে বিদ্বেষ করবে না। তােমরা সকলে সম মতাবলম্বী ও সম কর্মাবলম্বী হয়ে মঙ্গলময় কথাবার্তা বলুক।"

বঙ্গভঙ্গের পরে সকলকেই এক করার জন্যে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরই প্রথম এ দিনটিকে ভাইবোনের গণ্ডি পেরিয়ে সর্বজনীন ভ্রাতৃত্ববোধের উৎসবে পরিণত করে তোলে। সে থেকেই দিনটি বাঙালির জীবনের এক গুরুত্ববহ অচ্ছেদ্য হয়ে আছে।ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদী সরকার ১৯০৫ সালের ২০ জুলাই বঙ্গভঙ্গের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে এবং সে বছরের ১৬ অক্টোবর থেকে বঙ্গভঙ্গ কার্যকর করার ঘোষণা দেয়া হয়। বঙ্গভঙ্গের প্রতিবাদে সরব হন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় সহ কোলকাতা কেন্দ্রিক প্রায় সকল বুদ্ধিজীবী। বাংলাকে ভাগ করার চক্রান্তের প্রতিবাদে ১৬ অক্টোবর, ৩০ আশ্বিন বঙ্গভঙ্গ কার্যকর করার দিনে সকল বাঙালিকে ঐক্যবদ্ধ করতে এক সর্বজনীন রাখিবন্ধনের ডাক দেয়া হয়।সকলে মিলে গঙ্গায় স্নান করে শুরু হয় রাখিবন্ধন উৎসব। সকল বাঙালি সম্প্রীতির নিদর্শনস্বরূপ একে অন্যের হাতে বেধে দেন রাখিবন্ধনের হলুদ, রঙিন সুতা। রাখিবন্ধনকে উপলক্ষ করে বাঙালির ঐক্য, বাঙালির সাধনা, বাঙালির সংস্কৃতি, বাঙালির আশা আকাঙক্ষা চিত্রিত করে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লিখলেন একাধিক অনন্য স্বদেশী গান। যা চিরকালের জন্যে বাঙালির অক্ষয় সম্পদে পরিনত হয়েছে। এ ঐক্যের স্বদেশী গানগুলি রাজধানী কলকাতা ছাপিয়ে সারা বাংলা জুড়ে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পরেছিল।এর মধ্যে একটি গান জনপ্রিয়তায় সকলকেই ছাপিয়ে গিয়ে সবার কণ্ঠে কণ্ঠে ধ্বনিত হতে থাকে:

"বাংলার মাটি, বাংলার জল,
বাংলার বায়ু, বাংলার ফল-
পুণ্য হউক, পুণ্য হউক,
পুণ্য হউক হে ভগবান॥.......
বাঙালির প্রাণ, বাঙালির মন,
বাঙালির ঘরে যত ভাই বোন-
এক হউক, এক হউক,
এক হউক হে ভগবান॥"

এ বঙ্গভঙ্গের রেশ বিংশ শতাব্দীর ত্রিশের দশক পর্যন্ত সক্রিয় ছিল, যার প্রভাব বাংলার হিন্দু মুসলিম নির্বিশেষে অনেকের জীবনেই ছিল।সে সকল স্বদেশী বিপ্লবীরা বঙ্গভঙ্গের অভিঘাতে উৎপন্ন, তীব্র ব্রিটিশ বিরোধী স্বদেশীয় আন্দোলনে আমৃত্যু সক্রিয় ছিলেন।

ড. শ্রীকুশল বরণ চক্রবর্ত্তী
সহকারী অধ্যাপক
সংস্কৃত বিভাগ
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

আজও সংস্কৃতের ব্যবহার শ্রাবণী পূর্ণিমার বৈশ্বিক সৌভ্রাতৃত্বের দিনটিকে বিশ্ব সংস্কৃত দিবস হিসেবে পালন করা হয়। প্রাচীনকাল ...
27/08/2026

আজও সংস্কৃতের ব্যবহার
শ্রাবণী পূর্ণিমার বৈশ্বিক সৌভ্রাতৃত্বের দিনটিকে বিশ্ব সংস্কৃত দিবস হিসেবে পালন করা হয়। প্রাচীনকাল থেকেই এ শ্রাবণী পূর্ণিমাতিথি থেকেই বেদাদি শ্রাস্ত্রগ্রন্থ পাঠ শুরু হতো; সেই বিষয়কে স্মরণে নিয়ে ১৯৬৯ সাল থেকেই এ দিনটি বিশ্ব সংস্কৃত দিবস হিসেবে পালিত হচ্ছে। সংস্কৃত শুধুমাত্র একটি ধর্মীয় ভাষা নয়, ভারতবর্ষের বাইরে স্বল্পব্যবহৃত হলেও এ ভাষাটি সারা বিশ্বব্যাপী ব্যবহৃত হয়। আমরা না জেনে অজ্ঞাতসারে সংস্কৃতের অবদান এবং প্রয়োজনকে অস্বীকার করে ফেলছি অনেক সময়ে।কিছুদিন আগে পশ্চিমবাংলার একজন নামকরা সংস্কৃতের অধ্যাপকের সাথে সংস্কৃতের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে কথা হচ্ছিল, তো তিনি কথাপ্রসঙ্গে যা বললেন তাতে হতভম্ব হওয়া ছাড়া আমার কোন উপায় ছিল না। তিনি বললেন- "কুশল সংস্কৃত কে পড়বে বা কেনই পড়বে! কেই বা চায় তার ছেলেমেয়ের ভবিষ্যৎ অন্ধকারে ডুবে যাক।" এর পরে অধ্যাপক মহাশয় ছেলেমেয়ে যে চাকুরিতে ভাল অবস্থানে আছে এর বিস্তৃত ফিরিস্তি দিলেন। আমি ভাবলাম, এই শ্রদ্ধেয় অধ্যাপকের লেখা বই আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েছি এবং ছাত্রদের পড়াচ্ছি। তার লেখা পড়ে মুগ্ধ হয়ে, তার সাথে চট্টগ্রাম থেকে দেখা করতে এসেছি। অথচ এ মানুষটাই কিনা সংস্কৃতকে নিয়েছেন শুধুমাত্র একটা পেশা হিসেবে, আর পেশার খাতিরেই যতটুকুন লোকদেখানো ভালবাসা প্রয়োজন ততটুকুনই তারমধ্যে আছে ; এর বেশী নয়।

ভারতের জনজীবনে ধর্মীয়, রাজনৈতিক, আর্থসামাজিক প্রায় সকল ক্ষেত্রেই জানা বা অজানা বিভিন্ন ভাবে ছেয়ে আছে সংস্কৃতের ব্যবহার। ভারতের সরকারি বহু প্রতিষ্ঠানের লোগোতে আজ উজ্জ্বল হয়ে আছে সংস্কৃত ভাষা । 'লোগো' (Logo) হল এক সুনির্দিষ্ট প্রতীক। সাধারণত রাষ্ট্রীয়, বাণিজ্যিক, সামাজিক, ধর্মীয় সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানটির লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য বোঝাতে লোগো ব্যবহৃত হয়। এতে প্রতীক কিংবা চিহ্নে প্রতিষ্ঠানের নাম বা অংশবিশেষকে অত্যন্ত সুন্দর যৌক্তিক করে ফুটিয়ে তোলা হয়। যখন একজন সাধারণ ব্যক্তি লোগো প্রতীকটি দেখে, সে তখন প্রতিষ্ঠানের দৃষ্টিভঙ্গী সম্পর্কে অবগত হয় কিংবা প্রতিষ্ঠানের স্বরূপ চিহ্নিত করতে সক্ষম হয়। লোগোর সাথেই যুক্ত থাকে, এক বা একাধিক বাক্য। যা লোগোকে প্রস্ফুটিত করে, তাকে বলে প্রতিষ্ঠানের 'মন্ত্র' বা 'motto ' বলে। ভারত এবং নেপালের রাষ্ট্রীয় প্রতীকে সংস্কৃত ভাষার ব্যবহার ছাড়াও, দেশদুটিতে অন্যান্য বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানেও সংস্কৃত ব্যবহৃত । লোগোতে সংস্কৃত মন্ত্র এবং শ্লোকের ব্যবহারে প্রতিষ্ঠানগুলো উজ্জীবিত সুস্পষ্টীকৃত হয়েছে। লোগোতে সংস্কৃত বাক্যগুলো দেখলেই বোঝা যায় প্রতিষ্ঠানটির লক্ষ্য উদ্দেশ্য এবং স্বরূপ, কাউকে আর বলে দিতে হয় না।কথাটি বিভিন্ন উদাহরণ দিয়ে বলা যায়:

১. ভারতের জাতীয় সংগীত এবং জাতীয় স্তুতি "জনগণমন 'এবং "বন্দে মাতরম্" এর উপরে সংস্কৃতের প্রভাব অসীম। এ সংগীত দু'টি নামে বাংলা হলেও প্রায় সংস্কৃতই বলা চলে।

২. ভারতের সুপ্রীম কোর্টের মাথার উপরে মহাভারতের ভীষ্মপর্ব থেকে নেয়া, "যতো ধর্মস্ততো জয়ঃ"-এ অসাধারণ সংস্কৃত বাক্যটি খোদিত আছে। যার সরল অর্থ হলো যেখানেই ধর্ম, সেখানেই জয়।মহাভারতের প্রধান শিক্ষাই হল - যথা ধর্ম, তথা জয়। তাই আমাদের সবারই উচিৎ সদা সত্যরূপ ধর্মের শরণে থাকা। এ শরণই পারে একমাত্র আমাদের জাগতিক অভ্যুদয় এবং মুক্তির পথে নিয়ে যেতে।

৩. ভারতের লোকসভার আদর্শ স্থির করা হয়েছে মহাভারতের "ধর্মচক্র-প্রবর্তনায়" -এ বাক্যটি। অর্থাৎ লোককল্যাণে ধর্মচক্র প্রবর্তিত হয়েছে। মহাভারত থেকেই এ ধর্মচক্রের বিষয়টি গৌতমবুদ্ধ নিয়েছেন। সারনাথের ঋষিপত্তন মৃগদাবে তাঁর পঞ্চবর্গীয় শিষ্য কৌন্ডন্য, বপ্প,ভদ্দীয়, মহানাম ও অসসজিতের কাছে তাঁর নবমত প্রচার করেন এবং ধর্ম রক্ষার্থে 'ধর্মচক্র' প্রবর্তন করেন।

৪. ভারতের কেন্দ্রীয় লোকসভা এবং পশ্চিম বাংলার বিধান সভা ভবনের দ্বারদেশে আছে মহাভারতের আরো একটি বিখ্যাত শ্লোক:

ন সা সভা যত্র ন সন্তি বৃদ্ধাঃ
ন তে বৃদ্ধা যে ন বদন্তি ধর্মম্।
নাসৌ ধর্মো যত্র ন সত্যমস্তি ন
তৎ সত্যং যচ্ছলেনানুবিদ্ধম।।
(মহাভারত:উদ্যোগপর্ব, ৩৫.৬১)

"যেখানে জ্ঞানবৃদ্ধগণ থাকেন না, তা সভাই নয়। তারা জ্ঞানবৃদ্ধ নন, যারা ধর্ম বলেন না। যা ধর্মই নয়, যার মধ্যে সত্য থাকে না। এবং তা সত্যই নয়, যা ছল প্রবঞ্চনায় যুক্ত।"

৫. অথর্ববেদের শৌনকীয় শাখার অঅন্তর্গত মুণ্ডক উপনিষদ (০৩. ০১. ০৬) থেকে নেওয়া ভারত প্রজাতন্ত্রের জাতীয় প্রতীকের সাথে যুক্ত হিরন্ময় বাক্যটি- " সত্যমেব জয়তে"।একমাত্র সত্যই জয়লাভ করে, মিথ্যা নয়। যদিও এ বেদবাক্যটি থাকা উচিৎ ছিল অশোক স্তম্ভের সিংহের মাথার উপরে ; কিন্তু দুঃখজনকভাবে আছে সিংহের পায়ের নিচে। বেদমন্ত্র পশুদের পায়ের নিচে, এটা বেদমন্ত্রের, বেদমাতার অপমান।

৬. আকাশবাণীর আদর্শ গৃহীত হয়েছে: "বহুজনসুখায় বহুজনহিতায়" -এ অনন্য সর্বজনীন সংস্কৃত বাক্যটি।

৭. শিবস্তোত্র থেকে নেওয়া দূরদর্শনের -এর motto বা আদর্শ হলো- "সত্যম্ শিবম্ সুন্দরম্।"

৮.শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা থেকে নেয়া ভারতীয় জীবনবীমার এলআইসি (Life Insurance Corporation of India) এর motto এর আদর্শ হলো- "যোগক্ষেমং বহাম্যহম্"।যে অনন্য চিত্তে আমার স্মরণ নেয়, তার সে যা পেতে চায় এবং ক্যা পেয়েছে, তার সংরক্ষণ আমি নিজে স্বয়ং বহন করি। শ্রীমদ্ভগবদগীতার নবম অধ্যায়ের সম্পূর্ণ শ্লোকটি হল:

অনন্যাশ্চিন্তয়ন্তো মাং যে জনাঃ পর্যুপাসতে।
তেষাং নিত্যাভিযুক্তানাং যোগক্ষেমং বহাম্যহম্।।
(শ্রীমদ্ভগবদগীতা:৯.২২)

"যে সকল ভক্তগণ অনন্যচিত্ত হয়ে সর্বদা আমাকে উপাসনা করে; আমাতে নিত্য অনন্যচিত্ত সে সমস্ত ভক্তের যোগ ( প্রয়োজনীয় অলব্ধ বস্তুর সংস্থান) এবং ক্ষেম ( লব্ধ বস্তুর সংরক্ষণ) আমিই বহন করে থাকি।"

৯. ভারতীয় নৌসেনা Indian Navy - এর আদর্শ হলো কৃষ্ণ যজুর্বেদীয় তৈত্তিরীয় উপনিষদ থেকে নেওয়া motto "শং নো বরুণঃ"। হে জলের অধীশ্বর ভগবান বরুণ আমাদের শান্তি দিন।

১০. শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার একাদশ অধ্যায় বিশ্বরূপদর্শন যোগের চব্বিশতম শ্লোক থেকে নেয়া হয়েছে IAF (indian Air Force) -এর motto বা আদর্শ " নভঃ স্পৃশং দীপ্তম্"।হে ভগবান, আকাশ স্পর্শী তেজোময় আপনার রূপ।

১১. মহাভারত থেকে নেয়া হয়েছে- Research and Analysis Wing বা RAW এর আদর্শ " ধর্মো রক্ষতি রক্ষিতঃ"। একমাত্র ধর্মকে রক্ষা করলেই রক্ষা পাওয়া যাবে, নচেৎ নয়। ধর্ম যথাযথভাবে পালন করলে সত্যরূপ ধর্মই সর্বদা রক্ষা করে, আর ধর্মহীন উচ্ছৃঙ্খল ব্যক্তির বিনাশ সাধন করে। মহাভারতের বনপর্বে ধর্মরাজ যুধিষ্ঠির ধর্মরক্ষার প্রয়োজনীয়তা প্রসঙ্গে ধর্মকে উদ্দেশ্য করে বলেন। সম্পূর্ণ শ্লোকটি হল:

ধর্ম এব হতো হন্তি ধর্মো রক্ষতি রক্ষিতঃ।
তস্মাদ্ধর্মং ন ত্যজামি মা নো ধর্মো হতো বধীৎ।।
(মহাভারত: বনপর্ব, ২৬৭.৯২)

" যে ব্যক্তি ধর্ম নষ্ট করে, ধর্মই তাকে সমূলে বিনষ্ট করে দেয়। পক্ষান্তরে যিনি ধর্মকে রক্ষা করেন, ধর্মই তাকে সর্বদা রক্ষা করেন। তাই আমি (ধর্মরাজ যুধিষ্ঠির) ধর্মকে কখনও পরিত্যাগ করি না। কেন না, ধর্ম যদি আমার দ্বারা বিনষ্ট হয়, তবে সে ধর্মই আমাকে সম্পূর্ণভাবে বিনষ্ট করে দিবে।"

১২. ভারতীয় ডাক বিভাগের আদর্শ স্থির করা হয়েছে অসাধারণ এক সর্বজনীন বাক্য দিয়ে- "অহর্নিশং সেবামহে"। দিবারাত্রি সেবা দিয়ে যাব নিরন্তর।

১৩. ঋগ্বেদ থেকে নেয়া Intelligence Bureau এর motto বা আদর্শ হলো " জাগৃতং অহর্নিশং"। দিবারাত্রি সদা জাগ্রত।

১৪. Indian Coast Guard -এর motto বা আদর্শ হলো- " বয়ং রক্ষামঃ"। আমরা রক্ষা করব।

১৫. Defense Research and Development Organisation -এর motto বা আদর্শ হল-"বলস্য মূলং বিজ্ঞানম্। সকল বলের উৎস বিজ্ঞান।

১৬. নেপাল রাষ্ট্রেরও জাতীয় প্রতীকে আছে রামায়ণের স্বদেশপ্রেমের একটি বিখ্যাত শ্লোক। সেই বিখ্যাত শ্লোকটি রামায়ণের লঙ্কাকাণ্ড থেকে নেয়া: "জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরীয়সী"। অর্থাৎ, জননী এবং জন্মভূমি স্বর্গের থেকেও শ্রেষ্ঠ। এ পৃথিবীখ্যাত হিরণ্ময় শ্লোকটি ভগবান শ্রীরামচন্দ্রের মুখে রামায়ণে উচ্চারিত হয়েছে। অবশ্য শ্লোকটি রামায়ণের সকল সংস্করণে পাওয়া যায় না।

১৭.শুধু ভারত-নেপালের ন্যায় হিন্দু অধ্যুষিত দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান নয়, সর্ববৃহৎ মুসলিম দেশ ইন্দোনেশিয়ার বিমান বাহিনীর লোগোতে সংস্কৃত ভাষায় লেখা: " স্বঃ ভূবন পক্ষঃ" অর্থাৎ মাতৃভূমির ডানা। ইন্দোনেশিয়ার নেভির লোগোতে সংস্কৃত ভাষায় লেখা আছে : "জলেশ্বর জয়মহে"; অর্থাৎ সাগরে অপরাজেয়। শুধু বিমান বাহিনী বা নেভি নয়, ইন্দোনেশিয়ার সেনা বাহিনীর লোগোতেও সংস্কৃত ভাষায় লেখা রয়েছে: "কার্তিকা এক পক্ষী"।

অনেক সংস্কৃত ভাষা বিদ্বেষীরা বলে বেড়ান, সংস্কৃত হল মৃতভাষা। বর্তমানে এ ভাষার কোন প্রয়োজনীয়তা নেই ভারতবর্ষে বা বাংলায়।ভারতের বামপন্থী কিছু বাংলার শিক্ষক, বাংলা থেকে সংস্কৃতকে বিদায় করার জন্যে তারা একরকম প্রায় আদাজল খেয়ে নেমেছেন। এদের অনেকেই স্বেচ্ছায় অথবা অনিচ্ছায় সংস্কৃত এবং বৃহত্তর এ ভূখণ্ডের সংস্কৃতির অপূরণীয় ক্ষতি করে যাচ্ছেন শুধুমাত্র নিজের ব্যক্তিগত স্বার্থের জন্যে। আমি তাদের সুবুদ্ধি প্রার্থনা করি। সংস্কৃত থেকে বাংলাভাষাকে বিদায় করলে, সংস্কৃত ভাষার কোন সামান্যতম ক্ষতি হবে না। কিন্তু বাংলা ভাষা থেকে সংস্কৃত ভাষাকে বিদায় করলে বাংলা ভাষাই শেকড়হীন হয়ে যাবে। সংস্কৃত ভাষার অত্যন্ত আদরের কন্যা বাংলা। বাংলাভাষার অস্থিমজ্জা সহ সম্পূর্ণ শরীর জুড়ে আছে সংস্কৃত।অস্বীকার করার উপায় নেই, বাংলা ভাষার ৯০% উপরে আছে সংস্কৃত বা তৎসম শব্দ এবং সংস্কৃত থেকে জাত অর্ধ-তৎসম, তদ্ভব শব্দ। তাই সংস্কৃতকে অস্বীকার করার অর্থ হল, আদতে নিজেকে এবং নিজের অস্তিত্বকেই অস্বীকার করা।

ড. শ্রীকুশল বরণ চক্রবর্ত্তী
সহকারী অধ্যাপক
সংস্কৃত বিভাগ
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

মহালয়া ২০২৬-এর প্রস্তুতিপর্বআয়োজনে: এসভিএস, হাটহাজারী ও বায়েজিদ শাখা (চট্টগ্রাম) শাখা
27/08/2026

মহালয়া ২০২৬-এর প্রস্তুতিপর্ব
আয়োজনে: এসভিএস, হাটহাজারী ও বায়েজিদ শাখা (চট্টগ্রাম) শাখা

27/08/2026

ওঁ তৎ সৎ

সনাতন বিদ্যার্থী সংসদ, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়-এর অস্থায়ী কেন্দ্রীয় মন্দিরের দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সকলকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। 🌸
ভক্তি, শান্তি, সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের আলোয় আলোকিত হোক আমাদের প্রিয় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। ❤️
প্রার্থনা ও মঙ্গলকামনায় সমৃদ্ধ হোক সকলের জীবন।

স্থান: কেন্দ্রীয় মন্দির (অস্থায়ী), বেরোবি
তারিখ: ২৬শে আগস্ট, ২০২৬ইং

জ্ঞান • সংস্কার • ঐক্য
এসো ঋত-ঋদ্ধির পথে

ওঁ তৎ সৎসনাতন বিদ্যার্থী সংসদ, বান্দরবান জেলা শাখা কর্তৃক আয়োজিত ধর্মচক্র। তারিখ : ২১-০৮-২০২৬ধর্মের গ্লানি দূর করতে এবং ...
26/08/2026

ওঁ তৎ সৎ
সনাতন বিদ্যার্থী সংসদ, বান্দরবান জেলা শাখা কর্তৃক আয়োজিত ধর্মচক্র।

তারিখ : ২১-০৮-২০২৬

ধর্মের গ্লানি দূর করতে এবং নিজের সত্যিকারের সত্তাকে চিনতে জ্ঞানচর্চার কোনো বিকল্প নেই।
জ্ঞান আমাদের পথ দেখায়, নৈতিকতা আমাদের সঠিক পথে রাখে, আর সৎসঙ্গ আমাদের সেই পথে এগিয়ে চলার শক্তি দেয়।

জ্ঞান • সংস্কার • ঐক্য
এসো ঋত–ঋদ্ধির পথে 🕉️

স্থান: কেন্দ্রীয় দুর্গা মন্দির, বান্দরবান

ওঁ তৎ সৎ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়,রংপুর এর  মন্দিরের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী ও জন্মাষ্টমী তিথিকে লক্ষ্য রেখে সনাতন বিদ্যার্থ...
25/08/2026

ওঁ তৎ সৎ
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়,রংপুর এর মন্দিরের
প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী ও জন্মাষ্টমী তিথিকে
লক্ষ্য রেখে সনাতন বিদ্যার্থী সংসদ,বেরোবি
শাখার বর্তমান কার্যনির্বাহী সদস্যদের নিয়ে
২৪ শে আগস্ট,রোজ সোমবার এক বিশেষ
সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

যাতে আসন্ন প্রোগ্রামকে সুন্দর,সাবলীল ও শান্তিপূর্ণ
ভাবে আয়োজন করতে পারি এবং নতুনত্ব কি কি নিয়ে আসা যায়,সেই সকল বিষয় সবার আলোচনার মাধ্যমে নির্ধারণ করা হয়েছে।

উক্ত সভায় সাংগঠনিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন
এবং সবাই তাঁদের মতামত পোষণ করেছেন, যা
আমাদের সাংগঠনিক দিককে আরও শক্তিশালী
করে তুলতে সর্বোচ্চ সহায়তা প্রদান করেছে।

জ্ঞান - সংস্কার - ঐক্য
"এসো ঋত - ঋদ্ধির পথে"

বার্তা প্রেরক,
শ্রী অন্তর রায়
প্রচার বিষয়ক সম্পাদক
সনাতন বিদ্যার্থী সংসদ,বেরোবি

ওঁ তৎ সৎ১৯তম সাপ্তা‌হিক ধর্মচক্র ও কুইজ প্রতি‌যো‌গিতাপ্রতিকূল আবহাওয়া ও প্রবল বৃষ্টিকে উপেক্ষা করে সনাতন বিদ্যার্থী সংস...
24/08/2026

ওঁ তৎ সৎ
১৯তম সাপ্তা‌হিক ধর্মচক্র ও কুইজ প্রতি‌যো‌গিতা

প্রতিকূল আবহাওয়া ও প্রবল বৃষ্টিকে উপেক্ষা করে সনাতন বিদ্যার্থী সংসদ, সরকারি ব্রজলাল কলেজ, খুলনা শাখা কর্তৃক আয়োজিত ১৯তম সাপ্তাহিক ধর্মচক্র ও কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানে উপস্থিত হওয়ার জন্য সকলকে জানাই আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা।

আজকের কুইজ প্রতিযোগিতায় ১ম স্থান অর্জন করেছেন সৌরভ ঘোষ এবং ২য় স্থান অর্জন করেছেন পিয়াস মন্ডল। বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন শ্রীকানু কুমার ঘোষ স্যার ও শ্রীবিপুল দাস দাদা।

আমাদের পরবর্তী সাপ্তাহিক ধর্মচক্র:
রোজ রবিবার সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে।

সকলের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও উপস্থিতি একান্তভাবে কামনা করছি।

জয় সনাতন। হর হর মহাদেব

বার্তা প্রেরক,
শ্রী‌সৌ‌মিক হালদার
সাধারণ সম্পাদক
সনাতন বিদ‌্যার্থী সংসদ,
সরকা‌রি ব্রজলাল ক‌লেজ, খুলনা শাখা

ওঁ তৎ সৎসনাতন বিদ্যার্থী সংসদ, ঠাকুরগাঁও সরকারি কলেজ শাখার উদ্যোগে গীতাপাঠ শিখন কর্মশালা আনুষ্ঠানিক ভাবে উদ্বোধন সুষ্ঠ ভ...
23/08/2026

ওঁ তৎ সৎ
সনাতন বিদ্যার্থী সংসদ, ঠাকুরগাঁও সরকারি কলেজ শাখার উদ্যোগে গীতাপাঠ শিখন কর্মশালা আনুষ্ঠানিক ভাবে উদ্বোধন সুষ্ঠ ভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
উক্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপদেষ্টা মন্ডলী, অনুষ্ঠানের সভাপতি, সিনিয়র সদস্য ও শিক্ষার্থী বৃন্দ। সকলের উপস্থিত ও সদস্যদের পূর্ণ সহযোগিতায় এই অনুষ্ঠান সার্থক হয়েছে।

Address

Https://svsbd. Org
Dhaka

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Sanatan Vidyarthi Samsad, Bangladesh posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Place Of Worship

Send a message to Sanatan Vidyarthi Samsad, Bangladesh:

Shortcuts

Share