Madina Jamat Darbar Sorif - Mohammadbag, Dhaka

Madina Jamat Darbar Sorif - Mohammadbag, Dhaka ফুরফুরা শরীফের ছিলছিলা তরিকায়ে “মদিন

03/03/2023
আগামী বৃস্পতিবার, শক্রবার - ৩, ৪ মার্চ ২০২২ মদিনা জামাতের ১৪তম বাৎসরিক মাহফিল।আপনারা সবাই আমন্ত্রিত
02/03/2022

আগামী বৃস্পতিবার, শক্রবার - ৩, ৪ মার্চ ২০২২ মদিনা জামাতের ১৪তম বাৎসরিক মাহফিল।

আপনারা সবাই আমন্ত্রিত

12/05/2021

ফিলিস্তিনে ইসরাইলি হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে আগামীকাল সকাল ১১টায় ঢাকা জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আহলে সুন্নাতের মানববন্ধন। দলে দলে যোগদিন।

25/04/2021

মদিনা জামাতের মাওলানা মোঃ জসিমউদ্দিন সাহেবের আম্মা গত কাল রাতে (২৪-০৪-২০২১) ইন্তেকাল করেছেন।

ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন إِنَّا لِلَّٰهِ وَإِنَّا إِلَيْهِ رَاجِعُونَ‎‎‎ "আমরা তো আল্লাহরই এবং আর নিশ্চয়ই আমরা তাঁরই দিকে প্রত্যাবর্তনকারী"

 #জুম্‌আর_খুতবা২৫ শাবান, ১৪৪২ হিজরি, শুক্রবার , ৯ এপ্রিল, ২০২১  #তাক্‌দীরের_প্রতি_ঈমান। তাকদীর অর্থ:          তাকদীর আরব...
09/04/2021

#জুম্‌আর_খুতবা
২৫ শাবান, ১৪৪২ হিজরি, শুক্রবার , ৯ এপ্রিল, ২০২১
#তাক্‌দীরের_প্রতি_ঈমান।

তাকদীর অর্থ:

তাকদীর আরবি শব্দ, ক্রিয়ামূল, এর অর্থ ভাগ্য নির্ধারণ। শরয়ী পরিভাষায়: আল্লাহ তা’আলা কর্তৃক মানবজাতির জীবনের ভাল-মন্দ, জীবন-মরণ, কল্যাণ-অকল্যাণ সবই নির্ধারিত। এ নির্ধারণকেই কুরআন সুন্নাহর আলোকে তাকদীর বলা হয়। (আল আক্বিদাতুত তাহাবীয়া, পৃ: ৭৬)
পবিত্র কুরআনের আলোকে তাকদীর:

কখন কোথায় কার জন্ম হবে, কার মৃত্যু কখন কোথায় কিভাবে হবে, কে কী পরিমাণ কীভাবে রিযক ভোগ করবে, সুখ-শান্তি, বিপদ-আপদ, রহমত-বরকত, নিয়ামত, গযব, শাস্তি সব বস্তুর তিনিই স্রষ্টা। যার জন্য যতটুকু সব তারই ইচ্ছায় নির্ধারিত। পবিত্র কুরআনে এরশাদ হয়েছে, “আর আল্লাহর বিধান সুনির্ধারিত।” (সূরা: আহযাব, আয়াত: ৩৮)

মহান আল্লাহ প্রত্যেক বস্তুর পরিমাণ নির্ধারণ করেছে। এরশাদ করেছেন, “তিনি আল্লাহ সব কিছু সৃষ্টি করেছেন এবং প্রত্যেককে পরিমিত করেছেন যথার্থ অনুপাতে। (সূরা: ফোরকান, আয়াত: ২)
জীবন মৃত্যু ও আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত:

জীবনের জন্য মরণ অনিবার্য বাস্তবতা। ধরাধামে যাদের আগমন আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত সময়ে তাদের প্রস্থান ও বিদায় অবশ্যম্ভাবী। আল্লাহ তা’আলা এরশাদ করেছেন, “প্রত্যেক জাতির এক নির্দিষ্ট সময় আছে, যখন তাদের সময় আসবে তখন তারা মূহুর্তকালও বিলম্ব বা ত্বরা করতে পারবেনা। (সূরা: আ’রাফ, আয়াত: ৩৪)

হাদীস শরীফে তাকদীর প্রসঙ্গ:
হযরত আলী রাদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু থেকে বর্ণিত, নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন, মানুষ ততক্ষণ পর্যন্ত মু’মীন হবেনা যতক্ষণ না সে চারটি বিষয়ের উপর ঈমান আনবে।

১. একমাত্র আল্লাহর উপর যার কোন শরীক নেই।
২. নিশ্চয়ই আমি আল্লাহর রাসূল।
৩. মৃত্যুর পর পুনরুত্থানের প্রতি।
৪. তাকদীরের ভালমন্দের উপর ঈমান আনা। (ইবনে মাযাহ, হাদীস নং: ৮১)

আসমান যমীন সৃষ্টির পূর্বে তাকদীর লিপিবদ্ধ করেন:

তাকদীর লিপিবদ্ধ করণ প্রসঙ্গে হাদীস শরীফে এরশাদ হয়েছে, হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর রাদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহুমা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন, নভোমণ্ডল ও ভূমণ্ডল সৃষ্টির পঞ্চাশ হাজার বছর পূর্বে আল্লাহ তা’আলা সৃষ্টি কুলের তাকদীর সমূহ লিপিবদ্ধ করেছেন। (মুসলিম শরীফ)

তাকদীর’র প্রকারভেদ:

তাকদীর দু’প্রকার,
১. তাকদীরে মুবাররম।
২. তাকদীরে মুআল্লাক।

প্রথম প্রকার তাকদীর পরিবর্তন হওয়া অসম্ভব। যা নির্ধারিত তা অনিবার্য বা অবশ্যম্ভাবী। খোদায়ী নির্দেশ মোতাবেক এটা ঘটবেই, যেমন হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালামকে লূত সম্প্রদায়ের জন্য দুআ করতে বারণ করা হয়েছিলো কেননা তাদের উপর দুনিয়াবী আযাবের ফায়সালা মুবাররম নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিলো। দ্বিতীয় প্রকার তাকদীর মুআল্লাক, যা দান সাদকা নেক আমল ও দুআর ফলে পরিবর্তন হয়। কুরআন হাদীসের আলোকে এর অসংখ্য দৃষ্টান্ত রয়েছে। যেমন আল্লাহর নবী দাউদ আলাইহিস সালাম’র বয়স ৬০ বৎসর নির্ধারিত ছিল। হযরত আদম আলাইহিস সালাম’র দুআর বদৌলতে ১০০ বৎসরে উন্নীত হয়েছিল। [মিরআত শরহে মিশকাত, ১ম খন্ড, বাবুল কদর কৃত: হাকীমূল উম্মত মুফতি আহমদ ইয়ার খান নঈমী (র.)]

হাদীস শরীফে এ প্রসঙ্গে এরশাদ হয়েছে, হযরত সওবান রাদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন, নেক কাজ ব্যতীত অন্য কিছুতেই আয়ুবৃদ্ধি পায়না, দুআ ব্যতীত তাকদীর পরিবর্তন হয় না, আর পাপাচারের কারণেই মানুষকে তার জীবিকা থেকে বঞ্চিত করা হয়। (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং: ৯০)

অবশ্যই দুআর ফলে তাকদীরের পরিবর্তন, তাকদীরের লিখন মুতাবিকই হয়ে থাকে। কারণ প্রত্যেক জিনিষের অস্তিত্ব কার্যকারণের উপর নির্ভরশীল, লৌহবর্ম আঘাতকে প্রতিহত করে, দুআ বালা মুসিবত বিপাদাপদ দুরিভূতকারী। প্রতিরক্ষার জন্য লৌহবর্ম ব্যবহার যদি তাকদীরের পরিপন্থি না হয়ে থাকে, তাহলে দুআ কিভাবে তাকদীরের সাথে সাংঘর্ষিক হতে পারে? [ফাযায়েলে দুআ, পৃ: ১৪৩ কৃত: আল্লামা নকী আলী খাঁন বেরলভী (র.)]

তাকদীরকে অবিশ্বাসী সম্প্রদায় পথভ্রষ্ট:

হযরত ওমর রাদ্বিয়াআল্লাহু তা’আলা আনা থেকে বর্ণিত হয়েছে, তাকদীরের ভালমন্দ সকল কিছুর বিশ্বাস স্থাপন করা ঈমানের অন্তর্ভূক্ত। (সহীহ মুসলিম)

তাকদীর অস্বীকারকারী সম্পর্কে নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন, তাকদীর অস্বীকারকারী ফিরকা এ উম্মতের অগ্নিপুজক ফেরকা। (মুসনাদে আহমদ, আবু দাউদ)

অর্থাৎ অগ্নিপুজক ফের্কা যেমন ইয়াজদান ও আহরামান নামে দুই স্রষ্টা বিশ্বাস করে তাকদীর অবিশ্বাসীরাও তদ্রুপ। তাকদীরে অবিশ্বাসীরা আল্লাহর একত্ববাদের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে দিল। সাহাবী হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু বলেন, তাকদীরের উপর ঈমান স্থাপন করা একত্ববাদের উপর ঈমানের নামান্তর যে আল্লাহর প্রতি ঈমান আনল তাকদীরে বিশ্বাস করল না সে তাওহীদ তথা আল্লাহর একত্ববাদের সম্পর্ক ছিন্ন করল। (কিতাবুস সুন্নাহ, পৃ: ১২৩)
সব কিছু যখন তাকদীরে লিপিবদ্ধ বান্দা কেন কর্মের জন্য দায়ী হবে?
পবিত্র কুরআনে এরশাদ হয়েছে, “আপনি বলুন! আল্লাহ সব কিছুর স্রষ্টা, তিনি একক মহা পরাক্রমশালী। (সূরা: রাদ, আয়াত: ১৬)

বর্ণিত আয়াতের আলোকে ভাল ও মন্দ সব কিছুর সৃষ্টিকর্তা একমাত্র আল্লাহ। কাদরীয়াদের মতে মানুষ নিজেই নিজের কর্মের স্রষ্টা। তাদের মতে এ শক্তি স্বীকৃত না হলে তাকে ভাল বা মন্দ কাজের জন্য দায়ী করা যুক্তিযুক্ত নয়। আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের আক্বিদা মতে কাদরীয়াদের এ ভ্রান্ত মতবাদ পরিত্যাজ্য।

প্রথমত: এটা কুরআনের বর্ণিত আয়াতের বিরোধী। দ্বিতীয়ত: মানুষকে যদি নিজ কর্মের স্রষ্টা বলা হয় তাহলে পৃথিবীতে অসংখ্য স্রষ্টার অস্তিত্ব স্বীকার করে নিতে হয়। যা সুস্পষ্ট গোমরাহী ও পথভ্রষ্টতার নামান্তর।
আল্লাহ সকল কাজের স্রষ্টা বান্দা অর্জনকারী:

ইসলামী আক্বিদা হলো আল্লাহ সকল প্রকার ভাল ও মন্দ কর্মের স্রষ্টা, বান্দা কর্মের অর্জনকারী, বান্দার জন্য কর্ম অর্জনের ইচ্ছা ও স্বাধীনতা রয়েছে। ভালকর্ম অর্জনে বান্দা পুরস্কৃত হয়ে জান্নাতী হবে। মন্দ কর্ম করলে শাস্তি যোগ্য হয়ে জাহান্নামী হবে। ইসলামী আক্বিদা মতে মন্দ জিনিসের সৃষ্টি করা অপরাধ বা দোষের নয়, মন্দ বা খারাপ কাজ সম্পাদন করা অপরাধ ও দোষের। সকল প্রকার অপরাধকর্ম সম্পাদনকারী ইবলিস শয়তানকে যে আল্লাহই সৃষ্টি করেছেন এটা সর্বজন স্বীকৃত, এতে কারো দ্বিমত নেই। (তরজুমানুস সুন্নাহ, ৩য় খন্ড, পৃ: ১৯)
তাকদীর যখন নির্ধারিত অসুস্থ হলে চিকিৎসা কেন?:

ইসলামী আক্বিদামতে তাকদীরের সাথে তাদবীর তথা মানুষের কর্ম প্রচেষ্টা ও আমলের কোন সংঘাত নেই। কর্মে সম্পাদনের জন্য আসবাব তথা উপায় উপকরণ ইত্যাদি অবলম্বন করাকে তাদবীর বলে। হযরত শাহ ওয়ালী উল্লাহ মুহাদ্দিস দেহলভী (র.) বলেন, তাকদীর ও তাদবীরের মধ্যে বাস্তবে কোন সংঘাত নেই। সাহাবায়ে কেরাম নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করেছিলেন ইয়া রাসূলাল্লাহ! অসুস্থতার সময় ঔষধ সেবন চিকিৎসা গ্রহণ কিংবা যুদ্ধ ক্ষেত্রে প্রতিরক্ষা স্বরূপ ঢাল ব্যবহার করা তাকদীরের লিখন খন্ডন করতে পারে কি? উত্তরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন, উপায় উপকরণ অবলম্বন করার বিষয়টিও তাকদীরের অন্তর্ভূক্ত। অর্থাৎ তাকদীরে এ কথা লিখা আছে মানুষ চিকিৎসা করে সুস্থ হবে। যুদ্ধে ঢাল ব্যবহার করে প্রতিপক্ষের আক্রমণ থেকে রক্ষা পাবে।

তাকদীর লিপিবদ্ধ হওয়া প্রসঙ্গে পাঁচটি অভিমত:

প্রখ্যাত তাফসীরকার ও হাদিস বিশারদ আল্লামা হাফিজ ইবনুল কায়্যিম (র.)’র বর্ণনা মতে তাকদীর সর্বমোট পাঁচবার লিপিবদ্ধ হয়েছে। একাধিকবার লিখন দ্বারা মূল বিষয় পরিবর্তন হয় না বরং পূর্ববর্তী অপেক্ষা পরবর্তীবারে বিস্তারিত লিপিবদ্ধ করা হয়। প্রথমবার: আসমান জমিন সৃষ্টির পঞ্চাশ হাজার বছর পূর্বে। দ্বিতীয়বার: আসমান জমিন সৃষ্টির পর আওলাদে আদম সৃষ্টির পূর্বে। তৃতীয়বার: প্রত্যেক মানুষ মাতৃগর্ভে অবস্থানকালে। চতুর্থবার প্রতি বছর একবার মহিমান্বিত রজনী লায়লাতুল কদরে। পঞ্চমবার: পবিত্র কুরআনের সূরা: আর-রাহমান এর বাণী “তিনি সর্বদাই কোন না কোন কাজে রত আছেন” এর আলোকে দৈনিক একবার তাকদীর লিপিবদ্ধ হয়। (শিফাউল আলীল, পৃ: ২৩-২৪)
তাকদীর সম্পর্কে বিতর্ক থেকে বিরত থাকুন:

ইসলামে তাকদীর সম্পর্কে বিতর্ক করা নিষেধ।

তাকদীর নিয়ে বিতর্কে লিপ্ত হওয়া নিরাপদ নয়। এর তত্ত্ব উদঘাটনের নির্দেশ দেওয়া হয়নি এ ব্যাপারে শুধু ঈমান আনা অপরিহার্য করা হয়েছে। হযরত আবু হুরায়রা (রা.) কর্তৃক বর্ণিত হাদীসে প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন, মনে রেখ! পূর্ববর্র্তী জাতিগুলো তাকদীর সম্পর্কে বিতর্কে লিপ্ত হয়ে ধ্বংস হয়েছিল সুতরাং আমি তোমাদের কঠোরভাবে বলছি তোমরা বিতর্কে লিপ্ত হয়োনা। (তিরমিযী শরীফ)

নবীজি তাকদীর সম্পর্কে কাউকে বিতর্ক করতে দেখে প্রচন্ড রাগান্বিত হতেন হাদীস শরীফে এরশাদ হয়েছে, “তাকদীর সম্পর্কে কেউ বিতর্ক করলে কিয়ামতের দিবসে এব্যাপারে তাকে জবাবদিহী করতে হবে। (ইবনে মাযাহ)

হে আল্লাহ আমাদেরকে কুরআন সুন্নাহর বিধান মেনে চলার তাওফিক দান করুন। তাকদীরের উপর আমাদের ঈমান দৃঢ় রাখুন নিশ্চয় আপনি অনুগ্রহশীল ও দয়ালু। আমীন।

লেখক : ✍ মাওলানা মুহাম্মদ বদিউল আলম রিজভি। অধ্যক্ষ, মাদরাসা-এ তৈয়্যবিয়া ইসলামিয়া সুন্নিয়া ফাযিল (ডিগ্রী), বন্দর, চট্টগ্রাম; খতীব, কদম মোবারক শাহী জামে মসজিদ।

11/03/2021

পবিত্র ক্বোরআন করীমের পর প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম-এর সর্বশ্রেষ্ঠ মু’জিযা হলো পবিত্র ইস্রা ও মি’রাজ। আল্লাহ্ পাক রাব্বুল আলামীনের মহান কুদরত ও তাঁর প্রিয় হাবীবের নবূয়্যত-রিসালতের সত্যতার স্বপক্ষে একটি বিরাট প্রমাণ এবং ঈমানদার ও জ্ঞানীদের জন্য হেদায়ত, নেয়ামত, রহমত ও শিক্ষা।

এ মহান বিরল সফরে আল্লাহ্ পাক তাঁর প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লামকে এমন নিকটতম স্থানে সমাসীন করেছেন যে স্থানে (لم يصل اليه ملك مقرب ولا نبى مرسل) পৌঁছতে পারেননি কোনও নৈকট্যধন্য ফেরেশতা এবং কোন নবী-রাসূল আলায়হিমুস্ সালামও। যে সফরে আল্লাহ্ তা‘আালা তাঁর প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লামকে সমগ্র বিশ্বের সকল নিদর্শনাদি ও রহস্যাদি অবলোকন করানোর মধ্য দিয়ে স্বীয় কুদরতের গোপন ভা-ার ও অজানা বিষয়াদি সম্পর্কে চাক্ষুস ও প্রত্যক্ষ জ্ঞান দ্বারা ধন্য করেন।
ইস্রা ও মি’রাজ কি?
الاسراء (ইস্রা) শব্দটির অর্থ রাতে ভ্রমণ করানো। যা পবিত্র কাবা ঘর হতে ভূমধ্য সাগরের পূর্বতীর ফিলিস্তিনে অবস্থিত পবিত্র বাইতুল মাকদিস বা মুকাদ্দাস পর্যন্ত ভ্রমণ। যার বর্ণনা পবিত্র ক্বোরআনুল করীমের সূরা ইসরা বা বনী ইসরাঈলের প্রথম আয়াতে ও অসংখ্য বিশুদ্ধ হাদিসে বিবৃত হয়েছে।

المعراج (মি’রাজ) হলোঃ عروج (ওর”জ) শব্দ থেকে উৎকলিত যার অর্থ হলো- ঊর্ধ্বগমন, আর معراج (মি’রাজ)’র অর্থ হলো ঊর্ধ্বগমনের বাহন বা সিঁড়ি। আর তা হলোঃ বাইতুল মাকদেস থেকে সপ্ত আসমান, সিদরাতুল মুনতাহা, জান্নাত-জাহান্নাম পরিদর্শনপূর্বক ‘ক্বাবা ক্বাউসাইন আও আদনা’ (দুই ধনুক বা তার চেয়ে কম) দূরত্ব পরিমাণে মহান আল্লাহ্ তা‘আলার নৈকট্য ও সাক্ষাৎ লাভ।

যার বর্ণনা পবিত্র ক্বোরআনুল করীমের সূরা ‘আন্ নাজম’ এর প্রথম থেকে আঠার (১-১৮) আয়াতসমূহে ও নির্ভুল গ্রহণযোগ্য শতাধিক হাদিসে বিস্তারিতভাবে বিদ্যমান। যা সমষ্ঠিগতভাবে মুতাওয়াতির (সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত) পর্যায়ে উপনীত হয়েছে।
ইসরা ও মি’রাজ কখন সংঘটিত হয়েছিলো?
এ বিষয়ে কারও মতবিরোধ নেই যে, ইস্রা ও মি’রাজ প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম’র হিজরতের পূর্বে সংগঠিত হয়েছিলো। শুধু তারিখ ও বছর নির্ধারণের বিষয়ে সামান্য মতবিরোধ লক্ষ্য করা যায়। তবে বিশ্ব মুসলিমের নিকট যে রাতই মি’রাজের রজনী হিসেবে পরিচিত। সেটি হলো ২৬ তারিখ দিবাগত রাত তথা ২৭ তারিখ রজব মাসে। আর যা ছিল নবূয়তের দশম বছর ৬২০ খ্রিস্টাব্দে।
ইস্রা ও মি’রাজ কেন সংঘটিত হয়েছিলো?

++++++++++++++++++++++++
ইস্রা ও মি’রাজ কেন সম্পাদিত হলো তা নিয়ে বিশ্বখ্যাত প-িত ব্যক্তিবর্গ ক্বোরআন-হাদিসের পাশাপাশি নানা তথ্য-তত্ত্ব ও হিকমত তুলে ধরেছেন। নিম্নে কয়েকটি বিবৃত হলোঃ
খোদায়ী নিদর্শনাদি দেখানোর জন্য:
আল্লাহ্ তা‘আলা সূরা বনী ইসরাঈল এর প্রথম আয়াতে এরশাদ করেন لنريه من اياتنا (তাঁকে আমার নিদর্শনাদি দেখানোর জন্য) [বনী ইসরাঈল, আয়াত-১]

যাঁকে সৃষ্টি করা না হলে এ বিশ্ব জাহান সৃষ্টি করা হতো না বরং যাঁর ওসীলায় এ সমগ্র দুনিয়ার সৃষ্টি তাঁকে যদি এ সৃষ্টিজগত দেখানো না হয়, তাতে অপূর্ণতা থেকেই যাবে। কারণ তিনি হলেন এ সৃষ্টির প্রাণ, প্রাণহীন দেহের যেমন কোন মূল্য নেই অনুরূপ তাঁর নূরানী কদমের ছাঁয়া ব্যতিরেকে এ পৃথিবী প্রাণহীন। তাই বিশ্বজগতে প্রাণ সঞ্চালনের জন্য তাঁকে এ নিদর্শনাবলীর পরিদর্শন।
প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম’র শ্রেষ্ঠত্ব ও সকল প্রকার মু’জিযার সমাহার:
আল্লাহ্ তা‘আলা অন্যান্য নবীকে পৃথক পৃথক কতগুলো মু’জিযা দ্বারা সম্মানিত করেছিল, যেমন হযরত মুসা আলায়হিস্ সালামকে তুর পাহাড়ে আল্লাহ্র সাথে কথোপকথন। হযরত ইসমাঈল আলায়হিস্ সালামকে চতুর্থ আসমানে হযরত ইদরিস আলায়হিস্ সালামকে জান্নাতে প্রবেশ ইত্যাদি। সকল নবীকে পৃথক পৃথকভাবে যা দেয়া হয়েছে এককভাবে তা প্রিয়নবীকে মি’রাজ রজনীতে দেয়া হয়েছে। যেমন আল্লাহ্ তা‘আলার সাথে কথা, আসমানে, আরোহন, জান্নাত পরিদর্শনসহ আরও অনেক কিছু। যা তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব ও ব্যাপক মু’জিযার প্রমাণ।
জান্নাত-জাহান্নামের প্রত্যক্ষদর্শী:
নবী-রাসূলগণ আলায়হিমুস্ সালাম তাঁদের উম্মতদেরকে দোযখের সংবাদ দিয়েছেন চাক্ষুষভাবে না দেখে, একমাত্র আল্লাহ্ তা‘আলার বাণীর উপর নির্ভর ও বিশ্বাস করে। কিন্তু একমাত্র আমাদের নবীই স্বচক্ষে জান্নাত-জাহান্নাম প্রত্যক্ষ করে উম্মতদেরকে সংবাদ দিয়েছেন। তাই না দেখে বর্ণনা আর প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনার মাঝে আকাশ-পাতাল ব্যবধান।
আসমানের ফরিয়াদ কবুল:
আল্লাহর প্রিয় হাবীব সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম যদিওবা সকল বিশ্বের জন্য রহমত এবং আসমানের জন্যও কিন্তু তাঁর অবস্থানস্থল হলো জমিন। তাই আসমানের তথা ঊর্ধ্ব আকাশের ফরিয়াদ ছিল তাঁকে এক নজর দেখার। আর আল্লাহ্ তা‘আলা তাদের এ ফরিয়াদ কবুল করেন মি’রাজ রজনীতে।
প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম’র নূরের দর্শন লাভে তৃপ্ত হবার জন্য ফেরেশতাদের ফরিয়াদ:
বিশ্বখ্যাত তাফসীরকারকগণ বলেন, ফেরেশতাদের হযরত আদম আলায়হিস্ সালামকে সিজদার মূল কারণ ছিল তাঁর কপালে প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম’র নুর মুবারক চমকাচ্ছিল। তাই যে নূরের সামান্য ঝলক দেখে ফেরেশতাগণ সিজদায় অবনত হন, সে নূরকে চোখ ভরে দেখে পরিতৃপ্ত হবার জন্য তাঁদের মাঝে আগ্রহ অধিকহারে বৃদ্ধি পায়। যেমনভাবে শুকনো পিপাসার্ত জমিনে সামান্য বৃষ্টির ফোঁটার মাঝে তৃষ্ণা আরও বৃদ্ধি পায় ঠিক সেভাবে। তাই আল্লাহ্ তা‘আলা তার প্রিয় নবীকে আরশ আজীমে দাওয়াত দিয়ে পথিমধ্যে ফেরেশতাদেরকে সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করিয়ে তাঁদেরকে চোখ ও মন-প্রাণ ভরে প্রিয় নবীর দর্শন দানের মাধ্যমে পরিতৃপ্ত করেন।
জান্নাত ক্রয়ের চুক্তি সম্পাদন:
إِنَّ اللّهَ اشْتَرَى مِنَ الْمُؤْمِنِينَ أَنفُسَهُمْ وَأَمْوَالَهُم بِأَنَّ لَهُمُ الجَنَّةَ يُقَاتِلُونَ فِي سَبِيلِ اللّهِ فَيَقْتُلُونَ وَيُقْتَلُونَ وَعْداً عَلَيْهِ حَقّاً فِي التَّوْرَاةِ وَالإِنجِيلِ وَالْقُرْآنِ وَمَنْ أَوْفَى بِعَهْدِهِ مِنَ اللّهِ فَاسْتَبْشِرُواْ بِبَيْعِكُمُ الَّذِي بَايَعْتُم بِهِ وَذَلِكَ هُوَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ (التوبة১১১)
অর্থাৎ নিশ্চয় আল্লাহ্ তা‘আলা খরিদ করে নিয়েছেন মু’মিনদের কাছ থেকে তাদের জীবন ও সম্পদকে বেহেশতের বিনিময়ে…. [সূরা তাওবা, আয়াত-১১১]
আল্লাহ্ তা‘আলা ক্রেতা, মু’মিনগণ বিক্রেতা, পণ্য দর্শন ছাড়া ক্রয়-বিক্রয় সম্পাদন বৈধ নয়। তাই আল্লাহ্ ও বান্দার মধ্যকার সম্পাদিত এ চুক্তির একমাত্র ওয়াকীল হিসেবে প্রিয় নবীর মধ্যস্থতায় এ চুক্তি সম্পাদিত হয়। কারণ তিনি উম্মতদের পক্ষ থেকে তাদের ক্রয়কৃত বেহেশত পরিদর্শন করে নিয়েছেন।
ভূ-মন্ডল ও নবমন্ডল উভয়ে প্রিয় নবীর রাজত্ব ও কর্তৃত্বের প্রমাণ:
প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন,

قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : ” لِي وَزِيرَانِ مِنْ أَهْلِ السَّمَاءِ ، وَوَزِيرَانِ مِنْ أَهْلِ الأَرْضِ ، فَأَمَّا وَزِيرَايَ مِنْ أَهْلِ السَّمَاءِ : فَجِبْرِيلُ ، وَمِيكَائِيلُ ، وَأَمَّا وَزِيرَايَ مِنْ أَهْلِ الأَرْضِ : فَأَبُو بَكْرٍ ، وَعُمَرَ ” .(الترمذي)

অর্থাৎ আমার আসমানে দু’জন এবং জমিনে দু’জন উজির আছেন, জমিনে হযরত আবু বকর রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু ও হযরত ওমর ফার”ক্ব রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু আর আসমানে হযরত জিব্রাঈল ও মিকাঈল আলায়হিমাস্ সালাম। [তিরমিযী]

আসমানে উজির থাকা মানে তাঁর ক্ষমতা আসমানেও জারি হয়। তাই তিনি মি’রাজ রজনীতে স্বীয় কর্তৃত্বাধীন ভূমি পরিদর্শন করে উভয় জগতকে ধন্য করেন এবং স্বীয় কর্তৃত্বের বহিঃপ্রকাশ ঘটান।
নবীগণ আলায়হিমুস্ সালাম-এর প্রতিশ্র”তি পূরণ:
(আলমে আরওয়াহতে) আল্লাহ্ তা‘আলা নবী-রাসুলগণের কাছ থেকে ওয়াদা নিয়ে ছিলেন যে, যখন প্রিয় নবী তাঁদের নবুয়তকালে তাশরীফ আনবেন তখন তারা সকলে তাঁর উপর ঈমান আনবেন এবং তাঁকে সাহায্য করবেন।

[সূরা আলে ইমরান, আয়াত-৮১]
কিন্তু তারা কেউ এ ওয়াদা পূরণ করতে পারেননি কারণ তাঁরা প্রত্যেকেই প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম’র আগমনের পূর্বেই ইন্তেকাল করেন (একমাত্র ঈসা আলায়হিস্ সালাম ছাড়া) তাই তাঁরা তাঁদের এ ওয়াদা পূরণ করেছেন বাইতুল মাকদিসে প্রিয়নবীর ইমামতিতে নামায আদায়ের মাধ্যমে তাঁর প্রতি ঈমান ও তাঁর শ্রেষ্ঠত্বকে মেনে নিয়েছিলেন। এ ছাড়াও ইসরা ও মি’রাজের অনেক হিকমত নিহিত রয়েছে।
ক্বোরআন-হাদিসের আলোকে প্রিয় নবীর ইস্রা ও মি’রাজ:

************************************************

পবিত্র ক্বোরআনের বহু আয়াতে বিশেষ করে সূরা ‘বনী ইসরাঈল’ ও সূরা ‘আন্ নাজম’ এ এবং বুখারী-মুসলিমসহ অসংখ্য হাদিসগ্রন্থে প্রিয় নবীর ইসরা ও মি’রাজ সম্পর্কে বর্ণনা আসে। নিম্নে তার সামান্য বর্ণনা তুলে ধরা হলোঃ
আল্লাহ্ তা‘আলা সূরা বনী ইসরাঈলে এরশাদ করেন-

﴿ سُبْحَانَ الَّذِي أَسْرَى بِعَبْدِهِ لَيْلاً مِّنَ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ إِلَى الْمَسْجِدِ الأَقْصَى الَّذِي بَارَكْنَا حَوْلَهُ لِنُرِيَهُ مِنْ آيَاتِنَا إِنَّهُ هُوَ السَّمِيعُ البَصِيرُ﴾ الإسراء/১.

অর্থাৎ তিনি পরম পবিত্র ও মহিমাময় সত্তা, যিনি স্বীয় বান্দাকে রাতে ভ্রমণ করিয়েছিলেন মসজিদে হারাম থেকে মসজিদে আক্বসা পর্যন্ত, যার চতুর্দিকে আমি বরকতময়তার বিস্তার করেছি, তাকে আমার নিদর্শন হতে প্রদর্শনের জন্য। নিশ্চয় তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।

[সূরা বনী ইসরাঈল, আয়াত-১]
অনুরূপ সূরা ‘নাজম’এ এরশাদ করেন-

وَالنَّجْمِ إِذَا هَوَى * مَا ضَلَّ صَاحِبُكُمْ وَمَا غَوَى * وَمَا يَنْطِقُ عَنِ الْهَوَى * إِنْ هُوَ إِلَّا وَحْيٌ يُوحَى * عَلَّمَهُ شَدِيدُ الْقُوَى * ذُو مِرَّةٍ فَاسْتَوَى * وَهُوَ بِالْأُفُقِ الْأَعْلَى * ثُمَّ دَنَا فَتَدَلَّى * فَكَانَ قَابَ قَوْسَيْنِ أَوْ أَدْنَى * فَأَوْحَى إِلَى عَبْدِهِ مَا أَوْحَى * مَا كَذَبَ الْفُؤَادُ مَا رَأَى * أَفَتُمَارُونَهُ عَلَى مَا يَرَى * وَلَقَدْ رَآهُ نَزْلَةً أُخْرَى * عِنْدَ سِدْرَةِ الْمُنْتَهَى * عِنْدَهَا جَنَّةُ الْمَأْوَى * إِذْ يَغْشَى السِّدْرَةَ مَا يَغْشَى * مَا زَاغَ الْبَصَرُ وَمَا طَغَى * لَقَدْ رَأَى مِنْ آيَاتِ رَبِّهِ الْكُبْرَى

(سورة النجم: الآيات ১-৮)

অর্থাৎ ১. শপথ নক্ষত্রের যখন তা স্মমিত হয়। ২. তোমাদের সঙ্গী বিভ্রান্ত নন, বিপথগামীও নন, ৩. এবং তিনি মনগড়া কথাও বলেন না, ৪. তা তো ওহী, যা তার প্রতি প্রত্যাদেশ হয়, ৫. তাঁকে শিক্ষা দান করেন শক্তিশালী, ৬. প্রজ্ঞাসম্পন্ন, অতঃপর স্থির হন, ৭. তখন তিনি ঊর্ধ্ব দিগন্তে, ৮. অতঃপর তিনি তাঁর নিকটবর্তী হলেন, অতি নিকটবর্তী, ৯. ফলে তাঁদের মধ্যে দুই ধনুকের ব্যবধান রইলো অথবা তারও কম, ১০. তখন আল্লাহ্ তাঁর বান্দার প্রতি যা ওহী করার তা ওহী করলেন, ১১. যা তিনি দেখেছেন তাঁর অন্তকরণ তা অস্বীকার করেননি, ১২. তিনি যা দেখেছেন, তোমরা কি সে বিষয়ে তাঁর সাথে বিতর্ক করবে? ১৩. নিশ্চয় তিনি তাঁকে আরেকবার দেখেছিলেন, ১৪. সিদরাতুল মুনতাহার নিকটে, ১৫. যার নিকট অবস্থিত জান্নাতুল মাওয়া, ১৬. যখন সিজদা যা দ্বারা আচ্ছাদিত হবার তা দ্বারা আচ্ছাদিত ছিল, ১৭. তার দৃষ্টি বিভ্রম হয়নি, দৃষ্টি লক্ষ্যচ্যুতও হয়নি, ১৮. তিনি তো তাঁর প্রতি পালকের মহান নিদর্শনাবলী দেখেছিলেন। [সূরা নাজম, আয়াত ১-১৮]
বাইতুল মাকদাসে নামাজ আদায় ও ইমামতি:
মুসলিম শরীফে বর্ণিত, প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন,

جاء في صحيح مسلم عن أنس بن مالك أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: “أتيت بالبراق، وهو دابة أبيض طويل فوق الحمار ودون البغل، يضع حافره عند منتهى طرفه فركبته، حتى أتيت بيت المقدس قال: فربطته بالحلقة التي يربط به الأنبياء، قال ثم دخلت المسجد فصليت فيه ركعتين

অতঃপর আমাকে মসজিদের দরজার কাছে নিয়ে আসে, সেখানে লক্ষ্য করি, অদ্ভুত আকৃতির একটি প্রাণী, যাকে গাধাও বলা যায় না আবার তা ঘোড়ার মতও না। উর”তে বিশাল আকার দু’টি পাখা, যার মাধ্যমে সে পায়ে আঘাত করে। চোখের দৃষ্টিসীমার প্রান্তে গিয়ে তার সম্মুখ পা দু’টি মাটি স্পর্শ করে। এর নাম মুবারক। আগের যুগের নবীগণ এর উপরেই আরোহণ করতেন। আমাকে তার উপর আরোহণ করাল। জিবরিল আমিনের সাহচর্যে আমি আসমান-জমিনের বিচিত্র নিদর্শন দেখতে দেখতে বায়তুল মাকদিসে পৌঁছি। সেখানে অবতরণ করে জিবরিল দরজার আংটার সাথে বোরাক বাঁধেন, আল্লাহ্ পাক সেখানে সকল নবীদের একত্রিত করেন, জিব্রাঈল নবীজীকে আগে বাড়িয়ে দেন, নবীজি সকলকে নিয়ে জামাতে নামায আদায় করেন। [মুসলিম শরীফ]
নবীগণের সাথে সাক্ষাত:



বুখারী ও মুসলিম শরীফে বর্ণিত, প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন,

حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُوسَى أَخْبَرَنَا هِشَامُ بْنُ يُوسُفَ أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَيْلَةَ أُسْرِيَ بِي رَأَيْتُ مُوسَى وَإِذَا هُوَ رَجُلٌ ضَرْبٌ رَجِلٌ كَأَنَّهُ مِنْ رِجَالِ شَنُوءَةَ وَرَأَيْتُ عِيسَى فَإِذَا هُوَ رَجُلٌ رَبْعَةٌ أَحْمَرُ كَأَنَّمَا خَرَجَ مِنْ دِيمَاسٍ وَأَنَا أَشْبَهُ وَلَدِ إِبْرَاهِيمَ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِهِ ثُمَّ أُتِيتُ بِإِنَاءَيْنِ فِي أَحَدِهِمَا لَبَنٌ وَفِي الْآخَرِ خَمْرٌ فَقَالَ اشْرَبْ أَيَّهُمَا شِئْتَ فَأَخَذْتُ اللَّبَنَ فَشَرِبْتُهُ فَقِيلَ أَخَذْتَ الْفِطْرَةَ أَمَا إِنَّكَ لَوْ أَخَذْتَ الْخَمْرَ غَوَتْ أُمَّتُكَ

আমি লক্ষ্য করি, হযরত ইবরাহিম, মুসা ও ইসা আলায়হিমুস্ সালাম এর সাথে আরো অনেক নবীগণ একত্রিত হয়েছেন সেখানে। হযরত মুসা আলায়হ্সি সালাম এর আকৃতি একটি উপমাযোগ্য দেহের ন্যায়। শানুয়া বংশের পুর”ষদের মত অনেকটা। কোঁকড়ানো চুল, হালকা গড়ন, লম্বা শরীর। হযরত ঈসা আলায়হ্সি সালাম-এর আকৃতি মাঝারি গড়ন, ঝুলন্ত সোজা চুল, চেহারা সৌন্দর্য তিলকে ভর্তি। মনে হচ্ছিল তিনি গোসলখানা হতে বের হয়েছেন, পানি টপকাচ্ছে মাথা হতে, অথচ কোন পানি টপকাচ্ছিল না। প্রায় উরওয়া ইবনে মাসউদ সাকাফির মত। হযরত ইব্রাহিমের আকৃতি আমার মত, আমি-ই তার সাথে সর্বাধিক সাদৃশ্যপূর্ণ। অতঃপর আমার সামনে দু’টি পেয়ালা, একটি মদের অপরটি দুধের পেশ করা হয়। আমাকে বলা হল, যেটা ইচ্ছে পান কর”ন, আমি দুধের পেয়ালা হাতে নেই এবং পান করি। আমাকে বলা হয়, সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যদি আপনি মদের পেয়ালা হাতে নিতেন, পান করতেন, আপনার উম্মত গোমরাহ্ হয়ে যেত। অপর একটি বর্ণনায় পানির তৃতীয় আরেকটি পেয়ালার উল্লেখ পাওয়া যায়। [ইবনে হিশাম, বোখারী, মুসলিম শরীফ]
বরকতময় স্থানে নামাজ আদায়:
নাসায়ী শরীফে বর্ণিত, প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম বাইতুল মাকদাস যাত্রাকালে তিনস্থানে যাত্রা বিরতি করেন এবং নামাজ আদায় করেন। তা দ্বারা আল্লাহর প্রিয়ভাজন বান্দাদের বরকতময় স্মৃতি ও নিদর্শনাবলীর প্রতি সম্মান ও বরকত হাসিলের বাস্তব প্রমাণ। প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন,

أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال أتيت بدابة فوق الحمار ودون البغل خطوها عند منتهى طرفها فركبت ومعي جبريل عليه السلام فسرت فقال انزل فصل ففعلت فقال أتدري أين صليت صليت بطيبة وإليها المهاجر ثم قال انزل فصل فصليت فقال أتدري أين صليت صليت بطور سيناء حيث كلم الله عز وجل موسى عليه السلام ثم قال انزل فصل فنزلت فصليت فقال أتدري أين صليت صليت ببيت لحم حيث ولد عيسى عليه السلام ثم دخلت بيت المقدس فجمع لي الأنبياء عليهم السلام فقدمني جبريل حتى أممتهم )سنن النسائي كتاب الصلاة‘ رقم الحديث : ৪৫০)

অর্থাৎ প্রিয় নবী তাজেদারে মদিনা হযরত মুহাম্মদ মোস্তফা সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম বোরাকের উপর বায়তুল মাকদিসের উদ্দেশ্যে যাত্রা করলেন। হযরত আনাস ইবনে মালেক রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু হতে বর্ণিত, প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন, বাইতুল মাকদিসে যাত্রাকালে বোরাক থেকে নেমে দু’রাকাত নামায আদায় করতে অনুরোধ করলে আমি দু’রাকাত নফল নামাজ আদায় করি। অতঃপর তিনি আমাকে বললেন, আপনি ইয়াসরিব তথা মদিনা মুনাওয়ারায় নামায আদায় করেছেন, যেখানে হিজরত করে আপনি আশ্রয় গ্রহণ করবেন। মদিনা হতে আবার যাত্রা করলেন। কিছুদূর অতিক্রম করার পর হযরত জিব্রাঈল আলায়হিস্ সালাম প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ মোস্তফা সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লামকে বোরাক থেকে অবতরণ করে নামাজ আদায় করতে আরজ করলে তিনি নামায আদায় করেন। হযরত জিব্রাঈল আলায়হিস্ সালাম বললেন, এটা সিনাই পাহাড়, এখানে যে গাছ দেখছেন তার নিকট হযরত মুসা আলায়হিস্ সালাম আল্লাহর সাথে কথা বলতেন। আবার ভ্রমণ শুর” হলো। কিছূদূর পর জিব্রাঈল আলায়হিস্ সালাম বললেন, বোরাক থেকে নেমে সালাত আদায় কর”ন। নবীজি তাই করলেন। হযরত জিব্রাঈল আলায়হিস্ সালাম বললেন, আপনি হযরত শুয়ায়ব আলায়হিস্ সালাম’এর আবাস মাঠে সালাত আদায় করলেন। আবার যাত্রা শুর” করে কিছুদূর যাওয়ার পর হযরত জিব্রাঈল আলায়হিস্ সালাম মাটিতে নেমে নামায পড়তে বললেন, তিনি নামায আদায় করেন। অতঃপর হযরত জিব্রাঈল আলায়হিস্ সালাম বললেন, এ জায়গার নাম বাইতুলহম (বেথেলহাম), হযরত ঈসা আলায়হিস্ সালাম এখানেই জন্মগ্রহণ করেন।

[নাসাঈ, কিতাবুস্ সালাত, হাদিস নং-৪৫০]
অতএব, স্মরণ রাখতে হবে এবং বিশ্বাস করতে হবে, শবে মি’রাজ শুধুমাত্র কোনো আশ্চর্য বা কোনো অলৌকিক ঘটনা নয়, মি’রাজ আমাদের জন্য এক উজ্জ্বল বাস্তব দৃষ্টান্ত, আল্লাহর প্রিয় হাবীব হযরত মুহাম্মদ মোস্তফা সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম-এর মহান আল্লাহর সাক্ষাত লাভ, পূর্ববর্তী নবী-রাসূল, ফেরেশতাদের সঙ্গে মোলাকাত, বেহেশত-দোযখ স্বচক্ষে দর্শন, বায়তুল মুকাদ্দাস ও বায়তুল মা’মুরে নামায আদায়, উম্মতের জন্য সুপারিশ ও ফরিয়াদ করার কারণে এ শবে মি’রাজের রাতটি অতীব তাৎপর্যবহ এবং মহিমান্বিত।
বিশ্ব মানবতার মুক্তির লক্ষ্যে ইসলামকে একটি পূর্ণাঙ্গ ও সর্বজনীন জীবন ব্যবস্থা হিসেবে রূপ দেওয়ার জন্য তিনি বিশ্ব পালনকর্তা আল্লাহ্ পাক রাব্বুল আলামীনের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা পেয়েছিলেন মি’রাজ রজনীতে। এ জন্য এ রাতটি মুসলমানের জন্য অতীব গুর”ত্বপূর্ণ। হুযূর করীম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম-এর সব মু’জিযার মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ মু’জিযা হলো মি’রাজ। এ রাতে তিনি বায়তুল মোকাদ্দাসে নামাজে সব নবীর ইমাম হয়ে সাইয়্যিদুল মুরসালিনের আসনে অধিষ্ঠিত হয়েছেন। ফলে এ রাতটি নিঃসন্দেহে তার শ্রেষ্ঠত্বের গৌরবোজ্জ্বল নিদর্শন বহন করে।
হযরত আবদুল্লাহ্ রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু হতে বর্ণিত হাদিসে আছে, প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন, মি’রাজের রাতে আল্লাহর সান্নিধ্যে যাওয়ার পর আল্লাহ্ আমাকে তিনটি বিশেষ উপহার প্রদান করেছেন, ১. পাঁচ ওয়াক্ত নামায, ২. সূরা বাকারার শেষ দুই আয়াত, ৩. যে মুসলিম আল্লাহর সাথে শরীক করবে না তার সকল কবিরা গুনাহ্ ক্ষমা করে দেয়া হবে। [সহীহ্ মুসলিম]

26/01/2021

নবীজির নাম শুনে চোখে
চুমু খাওয়া এর দলিল:
মুয়ায্যিন আযান দেয়ার সময় যখন
‘আশহাদুআন্না মুহাম্মদার
রাসুলুল্লাহ’ ﺍَﺷْﻬَﺪُ ﺍَﻥَّ ﻣُﺤَﻤَّﺪًﺍ ﺭَّﺳُﻮْﻝُ ﺍﻟﻠﻪِ উচ্চারণ
করে, তখন নিজের বৃদ্ধাঙ্গুরীদ্বয় বা
শাহাদতের আঙ্গুল চুম্বন করে চুক্ষদ্বয়ে
লাগানো মুস্তাহাব এবং এতে দীন-
দুনিয়া উভয় জাহানের কল্যাণ নিহিত
রয়েছে। এ প্রসঙ্গে
অনেক হাদীছ বর্ণিত আছে। সাহাবায়ে
কিরাম থেকে এটা প্রমাণিত আছে
এবং অধিকাংশ মুসলমান একে
মুস্তাহাব মনে করে পালন করেন।
‘প্রসিদ্ধ সালাতে মস্উদী’ কিতাবের
দ্বিতীয় খন্ড ﻧﻤﺎﺯ শীর্ষক অধ্যায়ে
উল্লেখিত আছে- “হুযূর (সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিত
আছে- যে ব্যক্তি আযানে আমার নাম
শুনে স্বীয় বৃদ্ধাঙ্গুলীদ্বয় চোখের উপর
রাখে, আমি ওকে কিয়ামতের কাতার
সমূহে খোঁজ করবো এবং নিজেরপিছে-
পিছে-বেহেশতে-নিয়ে-যাব।)”
তাফসীরে রূহুল বয়ানে ষষ্ঠ পারার সূরা
মায়েদার আয়াত ﻭَﺍِﺫَﺍ ﻧَﺎﺩَﻳْﺘُﻢْ ﺍِﻟَﻰ ﺍﻟﺼَّﻠﻮﺓِ ﺍﻻﻳﺔ
এর ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে উল্লেখিত আছে-
“মুহাম্মদ রাসুলুল্লাহ’ বলার সময় নিজের
শাহাদাতের আঙ্গুল সহ
বৃদ্ধাঙ্গুলীদ্বয়ের নখে চুমু দেয়ার
বিধানটা জঈফ রেওয়াতের সম্মত।
কেননা এ বিধানটা মরফু হাদীছ দ্বারা
প্রমাণিত নয়। কিন্তু মুহাদ্দিছীন কিরাম
এ ব্যাপারে একমত যে আকর্ষণ সৃষ্টি ও
ভীতি সঞ্চারের বেলায় জঈফ হাদীছ
অনুযায়ীআমল--করা-জায়েয।)
ফাত্ওয়ায়ে-শামীর—প্রথম—খন্ড— ﺍﻻﺫﺍﻥ—
শীর্ষক-অধ্যায়ে—বর্ণিত--আছে-
আযানের প্রথম শাহাদত বলার সময়- ﺻَﻠَّﻰ
ﺍﻟﻠﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻚَ ﻳَﺎﺭَﺳُﻮْﻝَ ﺍﻟﻠﻪِ (সাল্লাল্লাহু
আলাইকা ইয়া রাসুলাল্লাহ )
বলা মুস্তাহাব এবং দ্বিতীয় শাহাদত
বলার সময়- ﻗُﺮﺓُ ﻋَﻴْﻨِﻰْ ﺑِﻚَ ﻳَﺎﺭَﺳُﻮْﻝَ ﺍﻟﻠﻪِ (কুর্রাতু
আইনী বেকা ইয়া রাসুলাল্লাহ) বলবেন।
অতঃপর নিজের বৃদ্ধাঙ্গুলীদ্বয়ের নখ
স্বীয় চোখদ্বয়ের উপর রাখবেন এবং
বলবেন- ﺍﻟَﻠﻬُﻢَّ ﻣَﺘِّﻌْﻨِﻰْ ﺑِﺎﻟﺴَّﻤْﻊِ ﻭَﺍﻟْﺒَﺼَﺮِ (আল্লাহুম্মা
মত্তায়েনী বিসসময়ে ওয়াল বসরে) এর
ফলে হুযূর ( সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া
সাল্লাম ) ওকে নিজের পিছনে
পিছনে বেহেশতে নিয়ে যাবেন। অনুরূপ
কনযুল ইবাদ ও কুহস্থানী গ্রন্থে বর্ণিত
আছে। ফাত্ওয়ায়ে সূফিয়াতেও তদ্রুপ
উল্লেখিত আছে। কিতাবুল ফিরদাউসে
বর্ণিত আছে- যে ব্যক্তি আযানে
‘আশহাদু আন্না মুহাম্মদার রাসুলুল্লাহ ‘
শুনে স্বীয় বৃদ্ধাঙ্গুলীদ্বয়ের নখ চুম্বন
করে, আমি ওকে আমার পিছনে
বেহেশতে নিয়ে যাব এবং
ওকে বেহেশতের কাতারে অন্তর্ভূক্ত
করবো। এর পরিপূর্ণ আলোচনা ‘বাহারুর
রায়েক’ এর টীকায় বর্ণিত আছে।
উপরোক্ত ইবারতে ছয়টি কিতাবের কথা
উল্লেখ করা হয়েছে। যেমন- শামী,
কনযুল ইবাদ, ফাত্ওয়ায়ে সূফিয়া,
কিতাবুল ফিরদাউস, কুহস্থানী এবং
‘বাহারুর রায়েক’ এর টীকা। ওই সব
কিতাবে একে মুস্তাহাব বলা হয়েছে।
ﻣﻘﺎﺻﺪ ﺣﺴﻨﻪ ﻓﻰ ﺍﻻﺣﺎﺩﻳﺚ ﺍﻟﺪﺋﺮﻩ ﻋﻠﻰ ﺍﻟﺴﻨﺔ নামক
গ্রন্থে ইমাম সাখাবী (রহঃ) বর্ণনা
করেছেন- ইমাম দায়লমী (রহঃ)
‘ফিরদাউস’ কিতাবে হযরত আবু বকর
সিদ্দীক (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন
যে মুয়াযযিনের কন্ঠ থেকে যখন
‘আশহাদু আন্না মুহাম্মদার রসুলুল্লাহ‘
শোনা গেল, তখন তিনি (রাঃ) তাই
বললেন এবং স্বীয় শাহাদতের
আঙ্গুলদ্বয়ের ভিতরের ভাগ চুমু দিলেন
এবং চক্ষুদ্বয়ে লাগালেন। তা’দেখে
হুযূর (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া
সাল্লাম) ইরশাদ ফরমান যে ব্যক্তি
আমার এই প্রিয়জনের মত করবে, তাঁর
জন্য আমার সুপারিশ অপরিহার্য।” এ
হাদীছটি অবশ্য বিশুদ্ধ হাদীছের
পর্যায়ভুক্ত নয়।
উক্ত মাকাসেদে হাসনা গ্রন্থে আবুল
আব্বাসের (রহঃ) রচিত মুজেযাত গ্রন্থ
থেকে উদ্ধৃত করা হয়েছে-
হযরত খিযির (আঃ) থেকে বর্ণিত আছে-
যে ব্যক্তি মুয়াযযিনের কণ্ঠে ‘আশহাদু
আন্না মুহাম্মদার রাসুলুল্লাহ’ শোনে
যদি বলে-
ﻣَﺮْﺣَﻴًﺎﺑِﺤَﺒِﻴْﺒِﻰْ ﻭَﻗُﺮَّﺓِ ﻋَﻴْﻨِﻰْ ﻣُﺤَﻤَّﺪِ ﺍﺑْﻦِ ﻋَﺒْﺪِ ﺍﻟﻠﻪِ
(মারাহাবা বে হাবীবী ওয়া কুররাতে
আইনী মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ) অতঃপর
স্বীয় বৃদ্ধাঙ্গুলীদ্বয় চুম্বন করে চোখে
লাগাবে, তাহলে ওর চোখ কখনও পীড়িত
হবে না।) উক্ত গ্রন্থে আরোও বর্ণনা
করা হয়েছে- হযরত মুহাম্মদ ইবনে বাবা
নিজের একটি ঘটনা বর্ণনা করেছেন যে
এক সময় জোরে বাতাস প্রবাহিত
হয়েছিল। তখন তাঁর চোখে একটি
পাথরের কনা পড়েছিল যা বের করতে
পারেনি এবং খুবই ব্যথা অনুভব হচ্ছিল।
যখন তিনি মুয়াযযিনের কণ্ঠে আশহাদু
আন্না মুহাম্মদার রসুলুল্লাহ শুনলেন, তখন
তিনি উপরোক্ত দুআটি পাঠ করলেন এবং
অনায়াসে চোখ থেকে পাথর বের হয়ে
গেল। একই ‘মকাসেদে হাসনা’ গ্রন্থে
হযরত শামস মুহাম্মদ ইবনে সালেহ মদনী
থেকে বর্ণিত আছে যে তিনি ইমাম
আমজদ (মিসরের অধিবাসী পূর্ববর্তী
উলামায়ে কিরামের অন্তর্ভূক্ত) কে
বলতে শুনেছেন- যে ব্যক্তি আযানে হুযূর
(সাল্লাল্লহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম) এর
নাম মুবারক শোনে স্বীয় শাহাদাত ও
বৃদ্ধাঙ্গুলী একত্রিত করে-
ﻭَﻗَﺒَّﻠَﻬُﻤَﺎ ﻭَﻣَﺴَﺢَ ﺑِﻬِﻤَﺎ ﻋَﻴْﻨَﻴْﻪِ ﻟَﻢْ ﻳَﺮْ ﻣُﺪْ ﺍَﺑَﺪًﺍ
উভয় আঙ্গুলকে চুম্বন করে চোখে
লাগাবে, কখনও তার চক্ষু পীড়িত হবে
না। ইরাক- আযমের কতেক মাশায়েখ
বলেছেন যে, যিনি এ আমল করবেন, তাঁর
চোখ রোগাক্রান্ত হবে না।
ﻭَﻗَﺎﻝَ ﻟِﻰْ ﻛُﻞّ ﻣِﻨْﻬُﻤَﺎ ﻣُﻨﺬُ ﻓَﻌَﻠْﺘُﻪُ ﻟَﻢْ ﺗَﺮْﻣُﺪْ ﻋَﻴْﻨِﻰْ
কিতাব---রচয়িতা--বলেছেন---যখন--
থেকে-আমি-এ-আমল—করেছি—আমার—
চক্ষু---পীড়িত---হয়নি।
কিছু অগ্রসর হয়ে উক্ত‘মকাসেদে
হাসনা’গ্রন্থে আরও বর্ণিত হয়েছে-
ﻭَﻗَﺎﻝَ ﺍﺑْﻦِ ﺻَﺎﻟِﺢٍ ﻭَﺍَﻧَﺎ ﻣُﻨْﺬُ ﺳَﻤِﻌْﺘُﻪُ ﺍِﺳْﺘَﻌْﻤَﻠْﺘَﻪُ ﻓَﻠَﺎ ﺗَﺮْﻣُﺪْ ﻋَﻴْﻨِﻰْ
ﻭَﺍَﺭْﺟُﻮْﺍ ﺍَﻥَّ ﻋَﺎﻓِﻴَﺘَﻬُﻤَﺎ ﺗَﺪُﻭْﻡُ ﻭَﺍِﻧِّﻰْ ﺍَﺳْﻠَﻢُ ﻣِﻦَ ﺍﻟْﻌَﻤﻰ ﺍِﻧْﺸَﺎﺀَ ﺍﻟﻠﻪُ
হযরত ইবনে সালেহ বলেছেন- যখন আমি
এ ব্যাপারে জানলাম, তখন এর উপর
আমল করলাম। এরপর থেকে আমার
চোখে পীড়িত হয়নি। আমি আশা করি,
ইনশাআল্লাহ এ আরাম সব সময় থাকবে
এবং অন্ধত্ব মুক্ত থাকবো। উক্ত
কিতাবে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে
ইমাম হাসন (রাঃ) থেকে বর্ণিত আছে,
যে ব্যক্তি ‘আশহাদু আন্না
মুহাম্মদার রাসুলুল্লাহ ‘ শোনে যদি
বলে এবং
ﻣَﺮْﺣَﺒًﺎ ﺑِﺤَﺒِﻴْﺒِﻰْ ﻭَﻗُﺮَّﺓُ ﻋَﻴْﻨِﻰْ ﻣُﺤَﻤَّﺪِ ﺍﺑْﻦِ ﻋَﺒْﺪِ ﺍﻟﻠﻪِ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠﻪُ
ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ
নিজের বৃদ্ধাঙ্গুলীদ্বয় চুম্বন করে চোখে
লাগাবে এবং বলবে- ﻟَﻢْ ﻳَﻌْﻢَ ﻭَﻟَﻢْ ﻳَﺮْﻣَﺪْ
তাহলে কখনও সে অন্ধ হবে না এবং
কখনও তার চক্ষু পীড়িত হবে না। মোট
কথা হলো ‘মাকাসেদে হাসনা’ গ্রন্থে
অনেক ইমাম থেকে এ আমল প্রমাণিত
করা হয়েছে। শরহে নেকায়ায় বর্ণিত
আছে-
জানা দরকার যে মুস্তাহাব হচ্ছে যিনি
দ্বিতীয় শাহাদতের প্রথম শব্দ শোনে
বলবেন; ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻚَ ﻳَﺎ ﺭَﺳُﻮْﻝَ ﺍﻟﻠﻪِ
(সাল্লাল্লাহু আলাইকা ইয়া
রাসূলুল্লাহ ) এবং দ্বিতীয় শব্দ শোনে
বলবেন- ﻗُﺮَّﺓُ ﻋَﻴْﻨِﻰْ ﺑِﻚَ ﻳَﺎﺭَﺳُﻮْﻝَ ﺍﻟﻠﻪِ (কুর্রাতু
আইনি বেকা ইয়া রাসুলাল্লাহ) এবং
নিজের বৃদ্ধাঙ্গুলীদ্বয়ের নখ চুক্ষদ্বয়ে
রাখবেন, ওকে হুযূর (সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিজের পিছনে
পিছনে বেহেশতে নিয়ে যাবেন। অনুরূপ
কনযুল ইবাদেও বর্ণিত আছে। মাওলানা
জামাল ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে উমর
মক্কী (কুঃ) স্বীয় ফাত্ওয়ার কিতাবে
উল্লেখ করেছেন-
ﺗَﻘْﺒِﻴْﻞُ ﺍﻟْﺎِﺑﻬَﺎﻣَﻴْﻦِ ﻭَﻭَﺿْﻊُ ﻫُﻤَﺎ ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟْﻌَﻴْﻨَﻴْﻦِ ﻋِﻨْﺪَ ﺫِﻛْﺮِ ﺍﺳْﻤِﻪ
ﻋَﻠَﻴﻪِ ﺍﻟﺴَّﻠَﺎﻡُ ﻓِﻰ ﺍﻟْﺎَﺫَﺍﻥِ ﺟَﺎﺋِﺮ ﺑَﻞْ ﻣُﺴْﺘَﺤَﺐ ﺻَﺮَّﺡَ ﺑِﻪ
ﻣَﺸَﺎﺋِﺨِﻨَﺎ
আযানে হুযূর (সাল্লাল্লাহু আলাইহে
ওয়া সাল্লাম) এর পবিত্র নাম শুনে
বৃদ্ধাঙ্গুলীদ্বয় চুমু দেয়া এবং চোখে
লাগানো জায়েয বরং মুস্তাহাব।
আমাদের মাশায়েখে কিরাম এ
ব্যাপারে বিশদ বর্ণনা করেছেন।
আল্লামা মুহাম্মদ তাহির (রাঃ) ﺗﻜﻤﻠﺔ
ﻣﺠﻤﻊ ﺑﺨﺎﺭ ﺍﻻﻧﻮﺍﺭ গ্রন্থে উপরোক্ত
হাদীছকে ‘বিশুদ্ধ নয়’ মন্তব্য করে বলেন-
ﻭَﺭُﻭِﻯَ ﺗَﺠﺮِﺑَﺔ ﺫَﺍﻟِﻚَ ﻋَﻦْ ﻛَﺜِﻴْﺮِﻳْﻦَ
“(কিন্তু এ হাদীছ অনুযায়ী আমলের
বর্ণনা অনেক পাওয়া যায়।)”
আরও অনেক ইবারত উদ্ধৃত করা যায়।
কিন্তু সংক্ষেপ করার উদ্দেশ্যে এটুকুই
যথেষ্ট মনে করলাম। হযরত সদরুল
আফাযেল আমার মুর্শিদ ও উস্তাদ
আলহাজ্ব মাওলানা সৈয়দ নঈম উদ্দীন
সাহেব কিবলা মুরাদাবাদী বলেছেন,
লন্ডন থেকে প্রকাশিত ‘ইনজিল’ গ্রন্থের
একটি অনেক পুরানো কপি পাওয়া
গেছে, যেটার নাম ‘ইনজিল বারনাবাস’।
ইদানীং এটা ব্যাপকভাবে প্রকাশিত
এবং প্রত্যেক ভাষায় অনূদিত হয়েছে।
এর অধিকাংশ বিধানাবলীর সাথে
ইসলামের বিধানাবলীর মিল রয়েছে। এ
গ্রন্থের এক জায়গায় লিখা হয়েছে যে
হযরত আদম (আঃ) যখন রূহুল কুদ্দুস (নুরে
মুস্তাফা) কে দেখার জন্য আরজু
করলেন, তখন সেই নুর তাঁর বৃদ্ধাঙ্গুলের
নখে চমকানো হলো। তিনি মহব্বতের
জোশে উক্ত নখদ্বয়ে চুমু দিলেন এবং
চোখে লাগালেন। (রূহুল কুদ্দুসের অর্থ
নুরে মুস্তফা কেন করা হল; এর ব্যাখ্যা
আমার কিতাব ‘শানে হাবিবুর
রহমানে’দেখুন। ওখানে উল্লেখ করা
হয়েছে যে ঈসা (আঃ) এর যুগে রূহুল
কুদ্দুস নামেই হুযুর (সাল্লাল্লহু আলাইহি
ওয়া সাল্লাম) মশহুর ছিলেন। হানাফী
আলিমগণ ছাড়াও শাফেঈ ও মালেকী
মাযহাবের আলিমগণও বৃদ্ধাঙ্গুলীদ্বয়
চুম্বন মুস্তাহাব হওয়া সম্পর্কে একমত।
যেমন শাফেঈ মযহাবের প্রসিদ্ধ কিতাব
– ﺍﻋﺎﻧﺔ ﺍﻟﻄﺎﻟﺒﻴﻦ ﻋﻠﻰ ﺣﻞ ﺍﻟﻔﺎﻅ ﻓﺘﺢ ﺍﻟﻤﻤﻌﻴﻦ এর ২৪
পৃষ্ঠায় উল্লেখিত আছে-
ﺛُﻢَّ ﻳُﻘَﺒِّﻞَ ﺍِﺑْﻬَﺎ ﻣَﻴْﻪِ ﻭَﻳَﺠْﻌَﻞُ ﻫُﻤَﺎ ﻋَﻠﻰ ﻋَﻠْﻨَﻴْﻪِ ﻟَﻢْ ﻳَﻌْﻢِ ﻭَﻟَﻢْ
ﻳَﺮْﻣُﺪْ ﺍَﺑَﺪًﺍ
“(অতঃপর নিজের বৃন্ধাঙ্গুলীদ্বয় চুমু
দিয়ে চোখে লাগালে, কখনও অন্ধ হবে
না এবং কখনও চক্ষু পীড়া হবে
না।)”মালেকী মযহাবের প্রসিদ্ধ
কিতাব-
ﻛﻔﺎﻳﺔ ﺍﻟﻄﺎﻟﺐ ﺍﻟﺮﺑﺎﻧﻰ ﻟﺮﺳﺎﻟﺔ ﺍﺑﻦ ﺍﺑﻰ ﺯﻳﺪ ﺍﻟﻘﻴﺮﺩﺍﻧﻰ
এর প্রথম খন্ডের ১৬৯ পৃষ্ঠায় এ প্রসঙ্গে
অনেক কিছু বলার পর লিখেছেন-
ﺛُﻢَّ ﻳُﻘَﺒِّﻞُ ﺍِﺑْﻬَﺎﻣَﻴْﻪِ ﻭَﻳَﺠْﻌَﻞُ ﻫُﻤَﺎ ﻋَﻠﻰ ﻋَﻴْﻨَﻴْﻪِ ﻟَﻢْ ﻳَﻌﻢِ ﻭَﻟَﻢْ
ﻳَﺮْﻣُﺪْ ﺍَﺑَﺪًﺍ
“(অতঃপর বৃদ্ধাঙ্গুলীদ্বয় চুমু দেবে এবং
চোখে লাগাবে, তাহলে কখনও অন্ধ হবে
না এবং কখনও চক্ষু পীড়া হবে না। এর
ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে আল্লামা শেখ আলী
সাঈদী ﻋﺪﻭﻯ নামক কিতাবের ১৭ পৃষ্ঠায়
উল্লেখ করেছেন-
গ্রন্থকার বৃদ্ধাঙ্গুলী চুম্বনের সময়ের
কথা উল্লেখ করেনি। অবশ্য শেখ
আল্লামা মুফাসসির নুরুদ্দীন খুরাসানী
থেকে বর্ণিত আছে, তিনি কতেক
লোককে আযানের সময় লক্ষ্য করেছেন
যে যখন তারা মুয়ায্যিনের মুখে আশহাদু
আন্না মুহাম্মদার রাসুলুল্লাহ শুনলেন,
তখন নিজেদের বৃদ্ধাঙ্গুলে চুমু দিলেন
এবং নখদ্বয়কে চোখের পলকে এবং
চোখের কোণায় লাগালেন এবং কান
পর্যন্ত বুলিয়ে নিলেন। পত্যেক
শাহাদাতের সময় এ রকম একবার একবার
করলেন। আমি ওদের একজনকে এ
প্রসঙ্গে জিজ্ঞাসা করলাম। তখন তিনি
বললেন আমি বৃদ্ধাঙ্গুলীদ্বয় চুমু দিতাম
কিন্তু মাঝখানে ছেড়ে দিয়েছিলাম।
তখন আমার চক্ষু রোগ হয়। এর মধ্যে এক
রাতে আমি হুযূর (সাল্লাল্লাহু আলাইহে
ওয়া সাল্লাম) কে স্বপ্নে দেখলাম।
তিনি (দঃ) আমাকে জিজ্ঞাসা
করলেন- ‘আযানের সময় বৃদ্ধাঙ্গুলীদ্বয়
চোখে লাগানো কেন ছেড়ে দিয়েছ?
যদি তুমি চাও, তোমার চোখ পুনরায় ভাল
হোক, তাহলে তুমি পুনরায়
বৃদ্ধাঙ্গুলীদ্বয় চোখে লাগানো আরম্ভ
কর’। ঘুম ভাঙ্গার পর আমি পুনরায় এ
আমল শুরু করে দিলাম এবং আরোগ্য লাভ
করলাম। আজ পর্যন্ত সেই রোগে আর
আক্রান্ত হইনি। উপরোক্ত আলোচনা
থেকে প্রতিভাত হলো যে, আযান
ইত্যাদিতে বৃদ্ধাঙ্গুলী চুম্বন ও চোখে
লাগানো মুস্তাহাব, হযরত আদম (আঃ)
সিদ্দিকে আকবর (রাঃ) ও ইমাম হাসন
(রাঃ) এর সুন্নাত। ফকীহ, মুহাদ্দিস ও
মুফাসসিরগণ এটা মুস্তাহাব হওয়া
সস্পর্কে একমত। শাফীঈ ও মালেকী
মযহাবের ইমামগণ এটা মুস্তাহাব হওয়া
সস্পর্কে রায় দিয়েছেন। প্রত্যেক যুগে
এবং প্রত্যেক মুসলমান একে মুস্তাহাব
মনে করেছেন এবং করছেন। এ আমল
নিম্নবর্ণিত ফায়দা গুলো রয়েছেঃ
আমলকারীর চোখ রোগ থেকে মুক্ত
থাকবে এবং ইনশাআল্লাহ কখনও অন্ধ
হবে না, যে কোন চক্ষু রোগীর জন্য
বৃদ্ধাঙ্গুলী চুম্বনের আমলটি হচ্ছে
উৎকৃষ্ট চিকিৎসা। এটা অনেকবার
পরীক্ষিত হয়েছে। এর আমলকারী হুযুর
(সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম)
এর শাফায়াত লাভ করবে এবং ওকে
কিয়ামতের কাতার থেকে খুঁজে বের
করে তাঁর (দঃ) পিছনে বেহেশ্তে
প্রবেশ করাবেন।
একে হারাম বলা মূর্খতার পরিচায়ক।
যতক্ষণ পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞার সুস্পষ্ট
দলীল পাওয়া যাবে না, ততক্ষণ একে
নিষেধ করা যাবে না। মুস্তাহাব
প্রমাণের জন্য
মুসলমানগণ মুস্তাহাব মনে করাটা
যথেষ্ট। কিন্তু হারাম বা মকরূহ প্রমাণের
জন্য নির্দিষ্ট দলীলের প্রয়োজন যেমন
আমি বিদ্আতের আলোচনা উল্লেখ
করেছি।
বিঃ দ্রঃ- আযান সস্পর্কেতো সুস্পষ্ট
এবং বিস্তারিত রিওয়ায়েত
ও হাদীছ সমূহ মওজুদ আছে, যা ইতিপূর্বে
বর্ণনা করা হয়েছে। তকবীর ও আযানের
মত। হাদীছসমূহে তকবীরকে আযান বলা
হয়েছে-দু’ আযানের মাঝখানে নামায
আছে অর্থাৎ আযান ও তকবীরের
মধ্যবর্তী। সুতরাং তকবীরে ‘আশহাদু
আন্না মুহাম্মদার রাসুলুল্লাহ’ বলার
সময়ও বৃদ্ধাঙ্গুলী চুম্বন করা ফলপ্রসূ ও
বরকতময়। আযান ও তকবীর ব্যতীতও যদি
কেউ হুযূর (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া
সাল্লাম) এর পবিত্র নাম শুনে
বৃদ্ধাঙ্গুলীদ্বয় চুমু দেয়, তাতে কোন
ক্ষতি নেই বরং সদুদ্দেশ্যে হলে তাতে
ছওয়াব রয়েছে। বিনা দলীলে কোন
কিছু নিষেধ করা যায় না। যেভাবেই
হুযূর সাল্লাল্লাহু আল্লাইহে ওয়া
সাল্লামের তাযীম করা হবে, ছওয়াব
রয়েছে।
#সুত্রঃ জা’আল হক ২য় খন্ড-

Address

Dhaka
1362

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Madina Jamat Darbar Sorif - Mohammadbag, Dhaka posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share