Al Islam Zahuria Eid Gah

Al Islam Zahuria Eid Gah Al Islam Zahuria Eidgah established from 1999 by Hazrat Maolana Alhaz Profesor Md. Zahurul Islam Al Kadri (RH)

হাদীসের আলোকে রমজানের রোজার ১০ টি ফজিলতঃযে ব‍্যক্তি ঈমানের সাথে শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই রমজানের রোজা রাখবেন আ...
18/02/2026

হাদীসের আলোকে রমজানের রোজার ১০ টি ফজিলতঃ

যে ব‍্যক্তি ঈমানের সাথে শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই রমজানের রোজা রাখবেন আল্লাহ সুবহানুতা’লা তাঁকে দশটি স্পেশাল পুরস্কার দান করবেন। সুবহানাল্লাহ্।

১) যে ব‍্যক্তি রমজানের রোজা রাখবে আল্লাহ পাক তাঁর সকল গুনাহ মাফ করে দিবেন। সুবহানাল্লাহ্।

২) যে ব‍্যক্তি রমজানের ১টি রোজা রাখবেন অতঃপর মারা যাবেন ঐ ব্যক্তি জান্নাতুল হয়ে যাবে। সুবহানাল্লাহ্।

৩) যে ব‍্যক্তি রমজানের রোজা রাখে ঐ ব্যক্তির মর্যাদা এতটাই বেড়ে যায় ঐ ব্যক্তির মুখের গন্ধটা আল্লাহর কাছে মেস্ক আম্বরের চাইতেও প্রিয় হয়ে যায়। সুবহানাল্লাহ্।

৪) যে ব‍্যক্তি রমজানের রোজা রাখবেন এবং রোজ অবস্থায় যে দোয়া করবেন আল্লাহ তার সে দোয়া কবুল করবেন। সুবহানাল্লাহ্।

৫) যে ব‍্যক্তি রমজানের রোজা রাখবেন কিয়ামতের দিন ঐ ব্যক্তির জন্য রোজা সুপারিশ করবে। রোজা শাফায়াত করে জান্নাতে পৌঁছে দিবে। রোজা আল্লাহর সাথে তর্ক শরু করবে। সুবহানাল্লাহ্।

৬) যে ব‍্যক্তি রমজানের রোজা রাখবেন জান্নাতের রাইয়ান নামক একটি স্পেশাল গেট দিয়ে জান্নাতে বেশ করবেন। সুবহানাল্লাহ্।

৭) যে ব‍্যক্তি রমজানের রোজা রাখবেন এবং রোজা অবস্থায় ইন্তিকাল করবেন ঐ ব্যক্তির মৃত্যুটাকে আল্লাহ সাহাদাৎ এর মর্যাদা দান করবেন। ঐ ব্যক্তি কবরে জান্নাতি খাবার দ্বারা কিয়ামত পর্যন্ত মেহমানদারিতে ধন্য হবেন। সুবহানাল্লাহ্।

৮) যে ব‍্যক্তি রমজানের রোজা রাখবেন তাঁর হাশর হবে নাবিইন, সিদ্দিকীন, শোহাদান, সালেহীন গনের মতো উচ্চ মানের জান্নাতি মেহমানগনের সাথে। সুবহানাল্লাহ্।

৯) যে ব‍্যক্তি রমজানের রোজা রাখবেন ঐ ব‍্যক্তির জন‍্য বিশেষ ২ টি সম্মাননা-
ইফতারের সময় দোয়া কবুল হয় এবং আখিরাতে রোজাদার তার রবকে দেখতে পাবেন। সুবহানাল্লাহ্।

১০) রমজানের রোজাদারের সবচাইতে বড় পুরস্কারঃ যে ব‍্যক্তি রমজানের রোজা রাখবেন আল্লাহ তাকে নিজে তার প্রতিদান দান করবেন বা আল্লাহ নিজেই তার হয়ে যাবেন। সুবহানাল্লাহ্।

11/01/2026

আসসালামু আলাইকুম,
সম্মানিত সুধী,
আপনি জেনে অত্যন্ত খুশি হবেন যে,
আমাদের শ্রদ্ধেয় হুজুর কিবলা জহুরীয়া দরবার শরীফের মরহুম পীর ছাহেব প্রখ্যাত ইসলামী চিন্তাবিদ, মুক্তির পথ প্রদর্শক, কোরআন ও হাদিসের আলোকে বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব বিশ্লেষণকারী জাহেরী ও বাতেনী ইলমের আলোক বর্তীকা, ইসলামী জাগরণের অগ্রদূত, শির্ক ও বিদ-আতের মূল উৎপাটনকারী, সমাজ সংস্কারক, ফুরফুরা শরীফের খলিফা, ভূতপূর্ব অধ্যাপক-পদার্থবিজ্ঞান ও উপাধ্যক্ষ-সরকারী জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, পীরে কামেল, আলহাজ্ব হযরত মাওলানা অধ্যাপক মোঃ জহুরুল ইসলাম আল কাদেরী রহঃ এঁর অক্লান্ত পরিশ্রম ও আধ্যাত্মিক সাধনার হেদায়েতের মারকায ঐতিহ্যবাহী জহুরীয়া দরবার শরীফ এর ২২ তম বার্ষিক ঈছালে ছাওয়াব মাহফিল ২০২৬ আগামী ০৬ ফেব্রুয়ারি, রোজ শুক্রবার অনুষ্ঠিত হবে ইনশাআল্লাহ্।

তারিখঃ
🔹০৩ ফেব্রুয়ারী মঙ্গলবার বাদ আসর হতে ০৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ঈসায়ী শুক্রবার
সকাল পর্যন্ত তা’লীমি মাহফিল।

🔹০৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ঈসায়ী শুক্রবার বাদ মাগরিব হতে ওয়াজ ও ঈছালে ছাওয়াব মাহফিল।

স্থানঃ “আল ইসলাম জহুরীয়া হাজী আইনউদ্দীন দাখিল মাদ্রাসা প্রাঙ্গন, ইসলামবাগ রোড, উত্তর বাহেরচর, তারানগর, কেরাণীগঞ্জ, ঢাকা।

উক্ত মাহ্ফিলে স্ববান্ধব উপস্থিত হয়ে আল্লাহ্পাক ও রাসূলে করিম সাল্লেল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এঁর মহব্বত হাসিল করুন।

-আরোজগুজারে-
শাহ্ সূফী আলহাজ্ব প্রফেসর মোঃ ফজলে ইলাহী
পীর কিবলা,
জহুরীয়া দরবার শরীফ
ইসলামবাগ রোড, উত্তর বাহেরচর, তারানগর, কেরাণীগঞ্জ, ঢাকা।

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِঈদগাহে ঈদের নামাজ আদায়ের ব্যাপারে শরিয়তের বিধি বিধানআল্লাহ তা’আলা মুসলিম জাতির জন্য...
06/06/2025

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ

ঈদগাহে ঈদের নামাজ আদায়ের ব্যাপারে শরিয়তের বিধি বিধান

আল্লাহ তা’আলা মুসলিম জাতির জন্য দুটি আনন্দের দিন “ঈদ” দান করেছেন; একটি ঈদুল ফিতর ও অন্যটি ঈদুল আযহা। মুসলমানের ঈদ ও উৎসব অন্যান্য জাতি-গোষ্ঠীর উৎসব থেকে সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম এবং অসংখ্য অনন্য বৈশিষ্ট্যের অধিকারী। আল্লাহর যিকির ও তাঁর বড়ত্বের ঘোষণার মাধ্যদিয়ে শুরু হয় মুসলিমগণে ঈদ। ঈদের দিনে মুসলিমগণের প্রথম ও প্রধান আমল হল ঈদগাহে ঈদের নামায। প্রকাশ্য স্থানে, প্রকাশ্যভাবে সমাজের সর্বস্তরের মানুষ সম্মিলিত হয়ে সুমহান আল্লাহর ইবাদত করার, সর্বশক্তিমান সৃষ্টিকর্তার তরে সিজদা নিবেদন করার মনোমুগ্ধকর একটি ব্যবস্থা হলো- ঈদগাহে ঈদের জামাত। ঈদের নামাজ এবং নামাজের পর খুদবা শোনা একটি গুরুত্বপূর্ণ ওয়াজিব ইবাদত। ইচ্ছাকৃতভাবে ঈদের নামাজ বর্জন করলে গুনাহাগার হবে।

ঈদের নামায ঈদগাহে ও খোলা মাঠে পড়া একটি খাছ সুন্নাত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং খোলাফায়ে রাশেদীন সকলেই ঈদের নামায ঈদগাহে পড়তেন। বিশিষ্ট সাহাবি হযরত আবু সাঈদ খুদরী রা. বলেন -

كَانَ رَسُولُ اللهِ صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ يَخْرُجُ يَوْمَ الفِطْرِوَالأَضْحَى إِلَى المُصَلّى.

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহার দিন (ঈদের নামাযের জন্য) ঈদগাহে যেতেন। -সহীহ বুখারী ৯৬৫।

হযরত আলী রা. বলেন-

الْخُرُوجُ إِلَى الْجَبّانِ فِي الْعِيدَيْنِ مِنَ السّنّةِ.

দুই ঈদে (ঈদের নামাযের জন্য) খোলা মাঠে যাওয়া সুন্নত। -আলমুজামুল আওসাত, তবারানী শরীফ ৪০৪০

ঈদগাহে জায়গা সংকুলান না হলে একই ঈদগাহে দুই তার অধিক ঈদের জামাত ভিন্ন ভিন্ন ইমামের ইমামতিতে আদায় করা যেতে পারে। বিধায় ঈদগাহে জায়গা সংকুলান না হওয়ার অজুহাতে বা অন্য কোন অজুহাতে মসজিদে ঈদের নামাজ আদায় করার কোন সুযোগ নেই। শুধুমাত্র ঝড়-বৃষ্টি, বন্যার কারণে ঈদগাহে ঈদের নামাজ আদায় করা যেতে পারে। শুধুমাত্র ওযরের সময় মসজিদে ঈদের নামাজ পড়া যেতে পারে। হযরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন-

أَصَابَهُمْ مَطَرٌ فِي يَوْمِ عِيدٍ، فَصَلّى بِهِمُ النّبِيّ صَلّى اللهُ عَلَيْهِوَسَلّمَ صَلَاةَ الْعِيدِ فِي الْمَسْجِدِ.

কোনো এক ঈদের দিন বৃষ্টি তাঁদেরকে পেয়ে বসে। ফলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবীগণকে নিয়ে মসজিদে ঈদের নামায আদায় করেন। -সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ১১৫৩।

কেন ঈদগাহে ঈদের নামাজ আদায় করবঃ

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুই ঈদের নামাজই মাঠে পড়তেন। মদীনা শরীফের পূর্ব প্রবেশ পথে একটি মাঠ ছিলো। সে মাঠেই তিন ঈদের নামায পড়তেন।সবসময় ঈদগাতে নামায পড়াই ছিলো তাঁর রীতি। সুন্নাহ্ অনুসরনে ঈদের নামাজ ঈদগাহে পড়া সুন্নাতে মুয়াক্কাদা। ফাতওয়ার কিতাবে সুস্পষ্টভাবে এসেছে বড় কোন মসজিদে যদি এলাকার সকল মুসল্লির জায়গা সংকুলান হয়েও যায় তার পরেও উন্মুক্ত ময়দানে ঈদগাহে ঈদের নামাজ আদায় করা সুন্নাতে মুয়াক্কাদা। বিভিন্ন অজুহাতে ঈদগাহে যাওয়ার যে সুন্নাত এটি আমরা একপ্রকার বন্ধই করে দিয়েছি। বাংলাদেশের শহর কিংবা গ্রাম এখন প্রায় প্রতিটি মসজিদে মসজিদে ঈদের জামাত হয়। ঈদের নামাজ ঈদগাহে পড়ার সুব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও বিনা ওজরে মসজিদে পড়া মাকরূহ। ঈদগাহ বর্জন করা সুন্নাতের সুস্পষ্ট খেলাফ, একটি বিদআ’ত।

-ফাতহুল বারী ২/৫২২; রদ্দুল মুহতার ২/১৬৯; ফাতাওয়া বাযযাযিয়া ৪/৭৭; উমদাতুল কারী ৬/২৮২; আলমাদখাল, ইবনুল হাজ্ব ২/২৮৯।

রাসূলুল্লাহ ﷺ জিন ও মানবজাতির জন্য সর্বকালের সকল বিষয়ে সর্বোত্তম আদর্শ। এটি মানুষের কথা নয় বরং বিশ্বমানবতার জন্য আদর্শ হিসেবে স্বয়ং আল্লাহ তা’আলাই তাঁকে দায়িত্ব দিয়ে এ পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন। এবং যাদের জন্য তিনি উত্তম আদর্শ সেটিও সুস্পষ্ট ভাষায় কোরআনুল কারিমে ঘোষণা করেছেন-

لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ لِّمَن كَانَ يَرْجُو اللَّهَ وَالْيَوْمَ الْآخِرَ وَذَكَرَ اللَّهَ كَثِيراً

অর্থঃ নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহর জীবনের মধ্যে রয়েছে তোমাদের জন্য সর্বোত্তম আদর্শ; যারা আল্লাহ ও শেষ দিনের আশা রাখে এবং আল্লাহকে বেশী স্মরণ করে।’ -সুরা আহযাব আয়াত ২১।

মহান আল্লাহতা’লা তাঁর চারিত্রিক পবিত্রতার ঘোষণা ও প্রশংসায় সত্যয়ন করে কোরআনুল কারিমে বলেন- وَإِنَّكَ لَعَلى خُلُقٍ عَظِيمٍ

অর্থঃ (হে রাসূল!) আপনি অবশ্যই মহান চরিত্রের অধিকারী।’ -সুরা কালাম : আয়াত ৪

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর জীবনের প্রতিটি কাজই মানবজাতির জন্য অনুসরণীয়। তাঁর অর্থনৈতিক জীবন, রাজনৈতিক জীবন, পারিবারিক জীবন, সামাজিক জীবন এমনকি রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিক নীতিও আমাদের জন্য এক অনন্য তুলনাহীন আদর্শ। মানবতার কান্ডারী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতিটি কাজ যেভাবে করেছেন সেভাবে আদায় করাই তাঁর উম্মত হিসেবে আমাদের অনুসরণীয়। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাহাজ্জুদের নামাজ ঘরে একাকি পড়ছেন। অন্যদিকে জুমার নামাজ সহ পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামাতবদ্ধ হয়ে পড়েছেন মসজিদে এবং ঈদের জামাতে অংশ নিয়েছেন উন্মুক্ত মাঠে অর্থাৎ ঈদগাহে।

ঈদকে উপলক্ষ করে একটি জনপদের সকল মানুষ ঈদগাহে নামাজ আদায়ের জন্য উন্মুখ হয়ে থাকেন। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত হতে এমনকি প্রবাস থেকেও মানুষ চলে আসেন দেশে। কয়েক মহল্লা, পাড়া বা গ্রামের মানুষ এক ঈদগাহে একত্রিত হন।এরমধ্য দিয়ে পুরো এলাকার ধনী-গরিবসহ সব শ্রেণী-পেশার মানুষ মিলিত হওয়ার সুযোগ তৈরী হয়। ঈদগাহে মানুষ একত্রিত হয়ে নামাজ পড়েন, মুনাজাত করেন, কোলাকুলি করেন, পরস্পর কুশল বিনিময়, ভাব আদান প্রদানের একটি সুযোগ তৈরী হয়। ঈদের দিন ঈদগাহে ঈদ জামাতে অংশ নেওয়ার মধ্য দিয়ে মুসলমানগণের মধ্যে ভ্রাতৃত্তবোধ, সম্প্রীতি, ও সৌহার্দ্য বৃদ্ধি পায়।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর জীবনের শেষ দশ বছর মাদানী জীবনে ঈদের জামাতে নিজেই ইমামতি করেছেন। উনার জীবনে শুধু মাত্র একবার আবহাওয়াজনিত (বৃষ্টির কারণে) কারণে মসজিদে ঈদের নামাজ পড়েছেন। উপরে উদ্বৃত একটি হাদিসে তা আমরা জেনেছি। বৃষ্টি মুক্ত স্বাভাবিক আবহাওয়ায় তিনি মসজিদে ঈদের নামাজ পড়েছেন- এ মর্মে একটি বর্ণনাও কোনো হাদিস গ্রন্থে নেই। তাই ঈদের নামাজ ঈদগাহে আদায় করাটাই হচ্ছে সুন্নত। এটি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এঁর হাদিস দ্বারা প্রমাণিত হয়েছে।

পাঠকগণ একটু চিন্তা করে দেখুন আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রিয় মসজিদ “মসজিদে নববী” যেখানে এক রাকাত নামাজ যদি কেউ আদায় করেন, তাহলে আল্লাহ্ পাক তাঁকে পঞ্চাশ হাজার রাকাত নামাজের ছাওয়াব দান করেন। এত ফজিলত পূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে নববীতে ঈদের নামাজ আদায় করেননি, বরং ঈদগাহে নামাজ আদায় করেছেন, যাতে সেখানে সবাই অংশগ্রহণ করতে পারে এবং ঈদের যে পরিবেশ রয়েছে, সে পরিবেশ বা সে আবহাওয়া তৈরী হতে পারে। ফলে ঈদের নামাজের ব্যাপারে সুন্নাহ্ হচ্ছে মূলত ঈদগাহে নামাজ আদায় করা। এটি একটি পূণ্যের কাজ।

তাই মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দেখানো পথই আমাদের পথ। আমাদের জন্য অনুসরণীয় অনুকরণীয়। কর্তব্য তাঁর রেখে যাওয়া জীবনাচারে সবার জীবন সাজানো। সেটাই আমাদের জন্য বিশুদ্ধ কর্মপন্থা। হজরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কৃত কাজটি তার মতো করে করার সর্বাত্মক চেষ্টা করাই ঈমানের দাবি, মুমিন জীবনের বৈশিষ্ট্য। এক্ষেত্রে অজুহাত দাঁড় করানো নয় বরং অজুহাত ভাঙাটাই ঈমানের লক্ষণ।

কেননা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আদর্শ গ্রহণ ও অনুসরণেই রয়েছে মহান আল্লাহ্ তা’আলার সন্তুষ্টি ও ভালোবাসা লাভের একমাত্র উপায়। আরও রয়েছে গোনাহ মাফ ও ক্ষমার ঘোষণা। কুরআনুল কারিমে মহান আল্লাহ এ বিষয়টিও সুস্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা দিয়েছেন-

قُلْ إِن كُنتُمْ تُحِبُّونَ اللّهَ فَاتَّبِعُونِي يُحْبِبْكُمُ اللّهُ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَاللّهُ غَفُورٌ رَّحِيمٌ

অর্থঃ (হে রাসূল! আপনি) বলুন, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাসতে চাও, তবে আমাকে অনুসরণ কর; যাতে আল্লাহও তোমাদের ভালোবাসেন। আর তোমাদের থেকে তোমাদের গোনাহ ক্ষমা করে দেন। আর আল্লাহ্ হলেন ক্ষমাকারী দয়ালু।’ -সুরা আল-ইমরান : আয়াত ৩১।

ইমাম শাফেয়ি রহমতুল্লাহ্ আলাইহি ‘আলউম্ম’ নামক গ্রন্থে বলেছেন: “আমাদের কাছে এই মর্মে রেওয়ায়েত পৌঁছেছেযে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দুই ঈদের দিন মদিনার ঈদগাহে যেতেন। তাঁর ওফাতের পরেও সবাই সেটাই পালন করত; যদিনা বৃষ্টি বা এ জাতীয় অন্যকোন প্রতিবন্ধকতা না থাকে। মক্কাবাসী ব্যতীত অন্য সব অঞ্চলেরলোকেরাও সেটাই করতেন।”

উপসংহারঃ ঈদগাহে নামাজ পড়ার ব্যবস্থা থাকা সত্যেও কোথাও বিনা ওজরে বা জরুরতে সামাজিকতা অথবা লৌকিকতার কারনে ঈদের নামাজ মসজিদে পড়লে নামায আদায় হয়ে গেলেও এটি হবে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খাছ একটি সুন্নাতের সুস্পষ্ট একটি খেলাফ কাজ। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও সাহাবাগণের রেখে যাওয়া সুন্নতের বিপরিত। ঈদের নামাজ ঈদগাহে পড়ার সুব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও বিনা ওজরে মসজিদে পড়া মাকরূহ। ঈদগাহ বর্জন করা একটি বিদআ’ত। তাই আসুন মসজিদে মসজিদে নয় সুন্নাহ অনুসরনে ঈদগাহে ঈদের নামায আদায় করি।

- والله اعلم باالصواب -

ঈদুল আযহার দিনের সুন্নত ও মুস্তাহাব আমল সমূহ এবং ঈদের নামাজঈদুল আজহা ত্যাগ ও আনন্দের দিন। ইসলাম আনন্দ-উৎসবের এ দিনকে ইবা...
06/06/2025

ঈদুল আযহার দিনের সুন্নত ও মুস্তাহাব আমল সমূহ এবং ঈদের নামাজ

ঈদুল আজহা ত্যাগ ও আনন্দের দিন। ইসলাম আনন্দ-উৎসবের এ দিনকে ইবাদত-বন্দেগি দ্বারা সুসজ্জিতকরেছে।

⚜️ সম্ভব হলে শেষ রাতে ওঠে তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করা। কারণ এ রাতের মর্যাদা অত্যাধিক। হাদীস শরীফে এ রাতকে লাইলাতুল জিজা বা পুরস্কারের রজনী বলা হয়েছে।
⚜️ ঈদের দিন অতি প্রত্যুশে ঘুম থেকে উঠা।
⚜️ মেসওয়াক করা।
⚜️ গোসল করাঃ ঈদের সালাতের আগে গোসল করা সুন্নাত। আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল(ﷺ) ঈদের নামাজে যাওয়ার আগে গোসল করতেন। (মুয়াত্তা ইমাম মালিক)
⚜️ নিজের সামর্থ্যানুযায়ী শরিয়াত সম্মত ভাল পোশাক পরিধান করাঃ ঈদের দিন রাসুল (ﷺ) ভালো পোশাক পরিধান করতেন। হাদিসে আছে, রাসুল (ﷺ)-এর লাল ও সবুজ ডোরার একটি চাদর ছিল, তিনি তা দুই ঈদ ও জুমার দিন পরিধান করতেন।
⚜️ সুগন্ধি ব্যবহার করাঃ সুগন্ধি ব্যবহার সুন্নাত। আর ঈদের দিনে রাসুল (ﷺ) বিশেষভাবে সুগন্ধি ব্যবহার করতেন। রাসুল (ﷺ)-এর তিনটি পছন্দনীয় জিনিসের মধ্যে একটি হলো সুগন্ধি। তাই ঈদের দিনের পোশাক পরিধানের পর সুগন্ধি ব্যবহার করা চাই।
⚜️ ঈদের নামাজ ঈদগাহে পড়াঃ ঈদের নামাজ যথাসাধ্য চেষ্টা করে ঈদগাহে গিয়ে আদায় খাছ সুন্নাত।মসজিদে নববিতে এক রাকাত নামাজ আদায় করলে পঞ্চাশ হাজার রাকাত নামাজ আদায়ের সমান ছাওয়াব।তথাপি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঈদগাহে ঈদের নামাজ আদায় করতেন। সুতরাং ওজর ছাড়া মসজিদে ঈদের নামাজ আদায় করা উচিত নয়।
⚜️ আগে আগে ঈদগাহে যাওয়া।
⚜️ ওজর না থাকলে, পায়ে হেটে ঈদগাহে যাওয়া।
⚜️ ঈদগাহে যাওয়ার সময় এক পথ ব্যবহার করা আর ফেরার সময় অন্য পথঃ ঈদগাহে একপথ দিয়ে যাওয়া ও অন্যপথ দিয়ে ফেরা সুন্নাত। (বুখারি, হাদিস : ৯৮৬) সম্ভব হলে ঈদগাহে পায়ে হেঁটে যাওয়াও সুন্নাত। -ইবনেমাজাহ, হাদিস : ১০৭১।
⚜️ ঈদগাহে যাওয়ার সময় উচ্চস্বরে তাকবীর বলা।
⚜️ শুভেচ্ছা বিনিময়ঃ ঈদের দিনে ছোট-বড় সবার সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করা সুন্নাত। ঈদের দিনে সাহাবায়েকিরামগণের সম্ভাষণ ছিল "তাক্বাব্বালাল্লাহু মিন্না ওয়া মিনকা"।
⚜️ কোরবানী করাঃ ঈদের নামাজ আদায়ের পর নিসাব পরিমাণ মালের মালিকের ওপর কোরবানী করা ওয়াজিব। কোরবানীর গোশত নিজে খাবে, নিজের পরিবারবর্গকে খাওয়াবে, আত্মীয়-স্বজনকে হাদিয়া-তোহফাদেবে ও গরিব-মিসকিনকে দান করবে। মুস্তাহাব হলো, কোরবানীর গোশত তিন ভাগে ভাগ করা।
১. নিজপরিবার-পরিজনের জন্য এক ভাগ।
২. আত্মীয়-স্বজনের জন্য এক ভাগ।
৩. দরিদ্রদের জন্য এক ভাগ। আর যদি পরিবারের লোকসংখ্যা বেশি হয়, তাহলে কোরবানীর সব গোশত খেলেও অসুবিধা নেই। -ফাতোয়ায়েশামী৫/২০৮।
⚜️ সকাল থেকে কোন কিছু না খেয়ে কুরবানীর গোশত দিয়ে খানা শুরু করাঃ কোরবানীর দিনে ঈদের নামাজের আগে কিছু না খাওয়া মুস্তাহাব। নবী করিম (ﷺ) ঈদুল আজহার দিন কিছুই খেতেন না, যে পর্যন্ত ঈদের নামাজ আদায় করতেন। -তিরমিজি, ইবনে মাজাহ শরীফ।
⚜️ ঈদের নামাজের আগে ঘরে বা ঈদগাহে নফল নামাজ না পড়াঃ ঈদের দিন ঈদের নামাজের আগে ওফজরের নামাজের পরে সুন্নত বা নফল কোনো নামাজ নেই। ঈদের নামাজের কোনো আজান ও ইকামত নেই।
⚜️ আত্মীয়-স্বজনের খোঁজ-খবর নেয়া ও তাদের বাড়ীতে বেড়াতে যাওয়া এবং আত্মীয়-স্বজনকে দাওয়াত দেয়া।
⚜️ সর্বক্ষেত্রে ত্যাগ ও উৎসর্গের মানসিকতা প্রকাশ করাঃ শুধু কুরবানীর ত্যাগই নয়; প্রতিটি ব্যক্তির চলা-ফেরায়, ওঠা-বসায়, নামাজ-রোজায়, ইবাদত-বন্দেগিতে, সবক্ষেত্রে ত্যাগের জলন্ত দৃষ্টান্ত স্থাপনই ঈদুল আজহার শিক্ষা।

⚜️ পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখাঃ ঈদুল আজহায় পশুর রক্ত, আবর্জনা ও হাড় থেকে যেন পরিবেশ দূষিত না হয়, সেদিকে প্রত্যেক মুসলমানের খেয়াল রাখা উচিত। কোরবানী শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রক্ত, আবর্জনা ও হাড় নিরাপদ দূরত্বে নির্দিষ্ট জায়গায় ফেলে দেয়া কর্তব্য। মনে রাখতে হবে, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ঈমানের অঙ্গ।

⚜️ ঈদের নামাজের নিয়মঃ

ঈদের নামায দুই রাকাত অন্যান্য নামাযের মতই। পার্থক্য শুধু এতটুকু যে, প্রতি রাকাআতে ইমাম-মুক্তাদি সকলকে অতিরিক্ত তিনটি তাকবীর বলতে হয়। প্রথম রাকাআতে ছানা পড়ার পর কেরাআতের আগে আর দ্বিতীয় রাকাআতে কিরাতের পর রুকুর আগে অতিরিক্ত এ তাকবীর গুলোতে কান পর্যন্ত হাত ওঠাতে হবে। প্রথম রাকাআতে দুই তাকবীরের পর হাত ছেড়ে দিবে, তৃতীয় তাকবীরের পর হাত বাঁধবে। দ্বিতীয় রাকাতে তিনো তাকীবেরর পর হাত ছেড়ে দিবে। চতুর্থ তাকবীর বলে রুকুতে চলে যাবে। ঈদের নামাযের পর খুতবা শোনা ওয়াজিব।

ঈদুল আজহায় বর্জনীয় কাজঃ

⚜️ এলাকায় ঈদগাহ থাকা সত্যেও কোন ওজর ব্যতিরেকে ঈদগাহে নামাজ আদায় না করে মসজিদে ঈদের নামাজ আদায় করা কোন ভাবেই উচিত নয়। কারন এটি সুস্পষ্ট ভাবে সুন্নাতের খেলাফ একটি কাজ।
⚜️ ঈদের দিনে রোজাঃ ঈদের দিনে রোজা রাখা হারাম। রাসুলুল্লাহ (ﷺ) ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার দিনেরোজা রাখতে নিষেধ করেছেন। -বুখারী ও মুসলিম শরীফ।

⚜️ ঈদের দিনকে কবর জিয়ারতের জন্য নির্দিষ্ট করাঃ ঈদের দিনকে কবর জিয়ারতের বিশেষ দিন মনে না করে জিয়ারত করলে দোষণীয় নয়।

⚜️ ঈদের সালাত আদায় না করে শুধু আনন্দ-ফুর্তি করাঃ অনেকে ঈদের আনন্দে মশগুল হয়ে নতুন জামা-কাপড় পরিধান, সেমাই, ফিরনি গান বাদ্য ইত্যাদি নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ে, ঈদের সালাত আদায় করার কথা ভুলেযায়। অথচ এই দিনে ঈদের সালাত ও কোরবানী করাই হচ্ছে মুসলমানদের মূল কাজ।

⚜️ মুসাফাহা-মুআনাকা এ দিনে জরুরী (ফরজ) মনে করাঃ ঈদগাহে বা ঈদের দিন সাক্ষাৎ হলে মুসাফাহা ও মুআনাকা করতেই হবে এমন বিশ্বাস না করে সালাম ও মুসাফাহার পর মুআনাকা (গলায় গলা মিলানো) করায় কোনো অসুবিধা নেই। কারণ মুসাফাহা ও মুআনাকা করার মাধ্যমে পারস্পরিক সম্পর্ক বৃদ্ধি হয়। আবু হুরায়রা (رضي الله عنها) থেকে বর্ণিত, একদা হাসান ইবনে আলী(رضي الله عنها) নবী করিম (ﷺ)-এর কাছে এলেন, তিনি তখন তাঁকে জড়িয়ে ধরেন ও মুআনাকা(কোলাকুলি) করেন।

⚜️ কোরবানীর কোনো কিছু বিক্রি করাঃ কোরবানির গোশত, চামড়া ও এর কোনো অংশ বিক্রি করা যাবে না।অর্থাৎ বিক্রি করে নিজে উপকৃত হওয়া যাবে না। এমনকি কসাইকে ও জবাই কারিকে পারিশ্রমিক স্বরূপ গোশত দেওয়া নিষিদ্ধ। -বুখারী শরীফ, হাদিস : ১৭১৭, মুসলিম শরীফ, হাদিস : ১৩১৭) তবে সাধারণ ভাবে তাকে খেতে দেওয়ায় অসুবিধা নেই।

⚜️ গান-বাজনা করা, অশ্লীল সিনেমা ও নাটক দেখাঃ ঈদের দিন উপলক্ষে যেখানে গান-বাজনা, অবাধে নারী-পুরুষ বিচরণ ইত্যাদির আয়োজন থাকে, এমন মেলা আয়োজন করা, অংশগ্রহণ ও সহযোগিতা দেয়া সম্পূর্ণ হারাম। অনুরূপ ঈদ উপলক্ষে বাড়ি-ঘর গান-বাজনার বিশেষ আয়োজন, নারী-পুরুষের বিশেষ সাক্ষাৎও অবাধে যেখানে-সেখানে ঘোরাফেরা অমুসলিমদের কালচার। মুসলিমদের জন্য এগুলো সম্পূর্ণ হারাম। -সুরাআলে ইমরান, আয়াত : ১৪৯, সুরা লুকমান, আয়াত : ৬, ৭।

উপসংহারঃ
আল্লাহ আমাদের প্রত্যেককে কোরআন ও সুন্নাহ মোতাবেক আমলি জিন্দেগি যাপন করে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এঁর নৈকট্য অর্জন করার তাওফিক দান করুন। আমিন, ছুম্মা আমিন।

সম্পাদনায়ঃ মোহাম্মদ আজহারুল ইসলাম

(উপরোক্ত আলোচনায় কোন ত্রুটি বিচ্যুতি পরিলক্ষিত হলে জানানোর জন্য বিনীত অনুরোধ করছি।পরবর্তীতে সংশোধন করা হবে ইনশাআল্লাহ্।

ঈদ মোবারক ! ঈদ মোবারক !!تقبل الله منا ومنكم صالح الاعمال.اللهُ أَكْبَرَ اللَّهُ أَكْبَرِ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَالل...
06/06/2025

ঈদ মোবারক ! ঈদ মোবারক !!
تقبل الله منا ومنكم صالح الاعمال.

اللهُ أَكْبَرَ اللَّهُ أَكْبَرِ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَاللهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرِ وَاللَّهِ الْحَمْدِ

আল ইসলাম জহুরীয়া ঈদগাহ্
উত্তর বাহেরচর, তারানগর, কেরাণীগঞ্জ
ঈদুল আজহার নামাজ
সকাল ৭:৩০ মিনিটে
অনুষ্ঠিত হবে ইনশাআল্লাহ্।

ِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِঈদগাহে ঈদের নামাজ আদায়ের ব্যাপারে শরিয়তের বিধি বিধানআল্লাহ তা’আলা মুসলিম জাতির জন্য ...
30/03/2025

ِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ

ঈদগাহে ঈদের নামাজ আদায়ের ব্যাপারে শরিয়তের বিধি বিধান

আল্লাহ তা’আলা মুসলিম জাতির জন্য দুটি আনন্দের দিন “ঈদ” দান করেছেন; একটি ঈদুল ফিতর ও অন্যটি ঈদুল আযহা। মুসলমানের ঈদ ও উৎসব অন্যান্য জাতি-গোষ্ঠীর উৎসব থেকে সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম এবং অসংখ্য অনন্য বৈশিষ্ট্যের অধিকারী। আল্লাহর যিকির ও তাঁর বড়ত্বের ঘোষণার মাধ্যদিয়ে শুরু হয় মুসলিমগণে ঈদ। ঈদের দিনে মুসলিমগণের প্রথম ও প্রধান আমল হল ঈদগাহে ঈদের নামায। প্রকাশ্য স্থানে, প্রকাশ্যভাবে সমাজের সর্বস্তরের মানুষ সম্মিলিত হয়ে সুমহান আল্লাহর ইবাদত করার, সর্বশক্তিমান সৃষ্টিকর্তার তরে সিজদা নিবেদন করার মনোমুগ্ধকর একটি ব্যবস্থা হলো- ঈদগাহে ঈদের জামাত। ঈদের নামাজ এবং নামাজের পর খুদবা শোনা একটি গুরুত্বপূর্ণ ওয়াজিব ইবাদত। ইচ্ছাকৃতভাবে ঈদের নামাজ বর্জন করলে গুনাহাগার হবে।
ঈদের নামায ঈদগাহে ও খোলা মাঠে পড়া একটি খাছ সুন্নাত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং খোলাফায়ে রাশেদীন সকলেই ঈদের নামায ঈদগাহে পড়তেন। বিশিষ্ট সাহাবি হযরত আবু সাঈদ খুদরী রা. বলেন -
كَانَ رَسُولُ اللهِ صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ يَخْرُجُ يَوْمَ الفِطْرِوَالأَضْحَى إِلَى المُصَلّى.
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহার দিন (ঈদের নামাযের জন্য) ঈদগাহে যেতেন। -সহীহ বুখারী ৯৬৫।
হযরত আলী রা. বলেন-
الْخُرُوجُ إِلَى الْجَبّانِ فِي الْعِيدَيْنِ مِنَ السّنّةِ.
দুই ঈদে (ঈদের নামাযের জন্য) খোলা মাঠে যাওয়া সুন্নত। -আলমুজামুল আওসাত, তবারানী শরীফ ৪০৪০
ঈদগাহে জায়গা সংকুলান না হলে একই ঈদগাহে দুই তার অধিক ঈদের জামাত ভিন্ন ভিন্ন ইমামের ইমামতিতে আদায় করা যেতে পারে। বিধায় ঈদগাহে জায়গা সংকুলান না হওয়ার অজুহাতে বা অন্য কোন অজুহাতে মসজিদে ঈদের নামাজ আদায় করার কোন সুযোগ নেই। শুধুমাত্র ঝড়-বৃষ্টি, বন্যার কারণে ঈদগাহে ঈদের নামাজ আদায় করা যেতে পারে। শুধুমাত্র ওযরের সময় মসজিদে ঈদের নামাজ পড়া যেতে পারে। হযরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন-
أَصَابَهُمْ مَطَرٌ فِي يَوْمِ عِيدٍ، فَصَلّى بِهِمُ النّبِيّ صَلّى اللهُ عَلَيْهِوَسَلّمَ صَلَاةَ الْعِيدِ فِي الْمَسْجِدِ.
কোনো এক ঈদের দিন বৃষ্টি তাঁদেরকে পেয়ে বসে। ফলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবীগণকে নিয়ে মসজিদে ঈদের নামায আদায় করেন। -সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ১১৫৩।
কেন ঈদগাহে ঈদের নামাজ আদায় করবঃ
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুই ঈদের নামাজই মাঠে পড়তেন। মদীনা শরীফের পূর্ব প্রবেশ পথে একটি মাঠ ছিলো। সে মাঠেই তিন ঈদের নামায পড়তেন।সবসময় ঈদগাতে নামায পড়াই ছিলো তাঁর রীতি। সুন্নাহ্ অনুসরনে ঈদের নামাজ ঈদগাহে পড়া সুন্নাতে মুয়াক্কাদা। ফাতওয়ার কিতাবে সুস্পষ্টভাবে এসেছে বড় কোন মসজিদে যদি এলাকার সকল মুসল্লির জায়গা সংকুলান হয়েও যায় তার পরেও উন্মুক্ত ময়দানে ঈদগাহে ঈদের নামাজ আদায় করা সুন্নাতে মুয়াক্কাদা। বিভিন্ন অজুহাতে ঈদগাহে যাওয়ার যে সুন্নাত এটি আমরা একপ্রকার বন্ধই করে দিয়েছি। বাংলাদেশের শহর কিংবা গ্রাম এখন প্রায় প্রতিটি মসজিদে মসজিদে ঈদের জামাত হয়। ঈদের নামাজ ঈদগাহে পড়ার সুব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও বিনা ওজরে মসজিদে পড়া মাকরূহ। ঈদগাহ বর্জন করা সুন্নাতের সুস্পষ্ট খেলাফ, একটি বিদআ’ত।
-ফাতহুল বারী ২/৫২২; রদ্দুল মুহতার ২/১৬৯; ফাতাওয়া বাযযাযিয়া ৪/৭৭; উমদাতুল কারী ৬/২৮২; আলমাদখাল, ইবনুল হাজ্ব ২/২৮৯।
রাসূলুল্লাহ ﷺ জিন ও মানবজাতির জন্য সর্বকালের সকল বিষয়ে সর্বোত্তম আদর্শ। এটি মানুষের কথা নয় বরং বিশ্বমানবতার জন্য আদর্শ হিসেবে স্বয়ং আল্লাহ তা’আলাই তাঁকে দায়িত্ব দিয়ে এ পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন। এবং যাদের জন্য তিনি উত্তম আদর্শ সেটিও সুস্পষ্ট ভাষায় কোরআনুল কারিমে ঘোষণা করেছেন-
لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ لِّمَن كَانَ يَرْجُو اللَّهَ وَالْيَوْمَ الْآخِرَ وَذَكَرَ اللَّهَ كَثِيراً
অর্থঃ নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহর জীবনের মধ্যে রয়েছে তোমাদের জন্য সর্বোত্তম আদর্শ; যারা আল্লাহ ও শেষ দিনের আশা রাখে এবং আল্লাহকে বেশী স্মরণ করে।’ -সুরা আহযাব আয়াত ২১।
মহান আল্লাহতা’লা তাঁর চারিত্রিক পবিত্রতার ঘোষণা ও প্রশংসায় সত্যয়ন করে কোরআনুল কারিমে বলেন- وَإِنَّكَ لَعَلى خُلُقٍ عَظِيمٍ
অর্থঃ (হে রাসূল!) আপনি অবশ্যই মহান চরিত্রের অধিকারী।’ -সুরা কালাম : আয়াত ৪
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর জীবনের প্রতিটি কাজই মানবজাতির জন্য অনুসরণীয়। তাঁর অর্থনৈতিক জীবন, রাজনৈতিক জীবন, পারিবারিক জীবন, সামাজিক জীবন এমনকি রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিক নীতিও আমাদের জন্য এক অনন্য তুলনাহীন আদর্শ। মানবতার কান্ডারী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতিটি কাজ যেভাবে করেছেন সেভাবে আদায় করাই তাঁর উম্মত হিসেবে আমাদের অনুসরণীয়। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাহাজ্জুদের নামাজ ঘরে একাকি পড়ছেন। অন্যদিকে জুমার নামাজ সহ পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামাতবদ্ধ হয়ে পড়েছেন মসজিদে এবং ঈদের জামাতে অংশ নিয়েছেন উন্মুক্ত মাঠে অর্থাৎ ঈদগাহে।
ঈদকে উপলক্ষ করে একটি জনপদের সকল মানুষ ঈদগাহে নামাজ আদায়ের জন্য উন্মুখ হয়ে থাকেন। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত হতে এমনকি প্রবাস থেকেও মানুষ চলে আসেন দেশে। কয়েক মহল্লা, পাড়া বা গ্রামের মানুষ এক ঈদগাহে একত্রিত হন।এরমধ্য দিয়ে পুরো এলাকার ধনী-গরিবসহ সব শ্রেণী-পেশার মানুষ মিলিত হওয়ার সুযোগ তৈরী হয়। ঈদগাহে মানুষ একত্রিত হয়ে নামাজ পড়েন, মুনাজাত করেন, কোলাকুলি করেন, পরস্পর কুশল বিনিময়, ভাব আদান প্রদানের একটি সুযোগ তৈরী হয়। ঈদের দিন ঈদগাহে ঈদ জামাতে অংশ নেওয়ার মধ্য দিয়ে মুসলমানগণের মধ্যে ভ্রাতৃত্তবোধ, সম্প্রীতি, ও সৌহার্দ্য বৃদ্ধি পায়।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর জীবনের শেষ দশ বছর মাদানী জীবনে ঈদের জামাতে নিজেই ইমামতি করেছেন। উনার জীবনে শুধু মাত্র একবার আবহাওয়াজনিত (বৃষ্টির কারণে) কারণে মসজিদে ঈদের নামাজ পড়েছেন। উপরে উদ্বৃত একটি হাদিসে তা আমরা জেনেছি। বৃষ্টি মুক্ত স্বাভাবিক আবহাওয়ায় তিনি মসজিদে ঈদের নামাজ পড়েছেন- এ মর্মে একটি বর্ণনাও কোনো হাদিস গ্রন্থে নেই। তাই ঈদের নামাজ ঈদগাহে আদায় করাটাই হচ্ছে সুন্নত। এটি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এঁর হাদিস দ্বারা প্রমাণিত হয়েছে।
পাঠকগণ একটু চিন্তা করে দেখুন আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রিয় মসজিদ “মসজিদে নববী” যেখানে এক রাকাত নামাজ যদি কেউ আদায় করেন, তাহলে আল্লাহ্ পাক তাঁকে পঞ্চাশ হাজার রাকাত নামাজের ছাওয়াব দান করেন। এত ফজিলত পূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে নববীতে ঈদের নামাজ আদায় করেননি, বরং ঈদগাহে নামাজ আদায় করেছেন, যাতে সেখানে সবাই অংশগ্রহণ করতে পারে এবং ঈদের যে পরিবেশ রয়েছে, সে পরিবেশ বা সে আবহাওয়া তৈরী হতে পারে। ফলে ঈদের নামাজের ব্যাপারে সুন্নাহ্ হচ্ছে মূলত ঈদগাহে নামাজ আদায় করা। এটি একটি পূণ্যের কাজ।
তাই মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দেখানো পথই আমাদের পথ। আমাদের জন্য অনুসরণীয় অনুকরণীয়। কর্তব্য তাঁর রেখে যাওয়া জীবনাচারে সবার জীবন সাজানো। সেটাই আমাদের জন্য বিশুদ্ধ কর্মপন্থা। হজরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কৃত কাজটি তার মতো করে করার সর্বাত্মক চেষ্টা করাই ঈমানের দাবি, মুমিন জীবনের বৈশিষ্ট্য। এক্ষেত্রে অজুহাত দাঁড় করানো নয় বরং অজুহাত ভাঙাটাই ঈমানের লক্ষণ।
কেননা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আদর্শ গ্রহণ ও অনুসরণেই রয়েছে মহান আল্লাহ্ তা’আলার সন্তুষ্টি ও ভালোবাসা লাভের একমাত্র উপায়। আরও রয়েছে গোনাহ মাফ ও ক্ষমার ঘোষণা। কুরআনুল কারিমে মহান আল্লাহ এ বিষয়টিও সুস্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা দিয়েছেন-
قُلْ إِن كُنتُمْ تُحِبُّونَ اللّهَ فَاتَّبِعُونِي يُحْبِبْكُمُ اللّهُ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَاللّهُ غَفُورٌ رَّحِيمٌ
অর্থঃ (হে রাসূল! আপনি) বলুন, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাসতে চাও, তবে আমাকে অনুসরণ কর; যাতে আল্লাহও তোমাদের ভালোবাসেন। আর তোমাদের থেকে তোমাদের গোনাহ ক্ষমা করে দেন। আর আল্লাহ্ হলেন ক্ষমাকারী দয়ালু।’ -সুরা আল-ইমরান : আয়াত ৩১।
ইমাম শাফেয়ি রহমতুল্লাহ্ আলাইহি ‘আলউম্ম’ নামক গ্রন্থে বলেছেন: “আমাদের কাছে এই মর্মে রেওয়ায়েত পৌঁছেছেযে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দুই ঈদের দিন মদিনার ঈদগাহে যেতেন। তাঁর ওফাতের পরেও সবাই সেটাই পালন করত; যদিনা বৃষ্টি বা এ জাতীয় অন্যকোন প্রতিবন্ধকতা না থাকে। মক্কাবাসী ব্যতীত অন্য সব অঞ্চলেরলোকেরাও সেটাই করতেন।”
উপসংহারঃ ঈদগাহে নামাজ পড়ার ব্যবস্থা থাকা সত্যেও কোথাও বিনা ওজরে বা জরুরতে সামাজিকতা অথবা লৌকিকতার কারনে ঈদের নামাজ মসজিদে পড়লে নামায আদায় হয়ে গেলেও এটি হবে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খাছ একটি সুন্নাতের সুস্পষ্ট একটি খেলাফ কাজ। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও সাহাবাগণের রেখে যাওয়া সুন্নতের বিপরিত। ঈদের নামাজ ঈদগাহে পড়ার সুব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও বিনা ওজরে মসজিদে পড়া মাকরূহ। ঈদগাহ বর্জন করা একটি বিদআ’ত। তাই আসুন মসজিদে মসজিদে নয় সুন্নাহ অনুসরনে ঈদগাহে ঈদের নামায আদায় করি।
- والله اعلم باالصواب -

আসসালামুআলাইকুম। আগামী ০৩ ফেব্রুয়ারী হতে ০৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৫ ইসায়ী, রোজ সোম, মঙ্গল, বুধ ও বৃহস্পতিবার (৪ দিন ব্যাপী) জ...
20/01/2025

আসসালামুআলাইকুম।
আগামী ০৩ ফেব্রুয়ারী হতে ০৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৫ ইসায়ী, রোজ সোম, মঙ্গল, বুধ ও বৃহস্পতিবার (৪ দিন ব্যাপী) জহুরীয়া দরবার শরীফ এর উদ্যোগে প্রখ্যাত ইসলামী চিন্তাবিদ, মুক্তির পথ প্রদর্শক, কোরআন ও হাদীসের আলোকে বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব বিশ্লেষণকারী জাহেরী ও বাতেনী ইলমের আলোক বর্তীকা, ইসলামী জাগরণের অগ্রদূত, শির্ক ও বিদ-আতের মূল উৎপাটনকারী, সমাজ সংস্কারক, ফুরফুরা শরীফের খলিফা, ভূতপূর্ব অধ্যাপক-পদার্থবিজ্ঞান ও উপাধ্যাক্ষ-সরকারী জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, পীরে কামেল-
আলহাজ্ব হযরত মাওলানা অধ্যাপক মোঃ জহুরুল ইসলাম আল কাদেরী রহমতুল্লাহ আলাইহি এঁর
২১ তম ইন্তিকাল বার্ষিকী উপলক্ষে “আল ইসলাম জহুরীয়া হাজী আইনউদ্দীন দাখিল মাদ্রাসা প্রাঙ্গন, উত্তর বাহেরচর, তারানগর, কেরাণীগঞ্জ, ঢাকায় ৪ দিন ব্যাপি বার্ষিক ঈছালে ছাওয়াব ও তা’লীমি মাহ্ফিল-এর আয়োজন করা হয়েছে। উক্ত মাহ্ফিলে স্ববান্ধব উপস্থিত হয়ে আল্লাহ্পাক ও রাসূলে করিম সাল্লেল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এঁর মহব্বত হাসিল করুন।

17/07/2024

শোক সংবাদ
إنا لله و إنا اليه راجعون
রফিকে আ'লার দরবারে চলে গেলেন ভারত উপমহাদেশের শ্রেষ্ঠতম আধ্যাত্মিক চর্চা কেন্দ্র, দক্ষিণ বঙ্গের ইলমে শরীয়াত ও ত্বরীকতের প্রাণকেন্দ্র, ঐতিহাসিক ছারছীনা দরবার শরীফের হযরত পীর এবং মুর্শিদ ছারছীনা দরবার শরীফের আ'লা হযরত পীর কিবলা।

■ দেশ-বিদেশের কোটি কোটি মানুষের আধ্যাত্মিক রাহবার বাংলাদেশ জমইয়াতে হিযবুল্লার মাননীয় আমির, প্রায় দুই হাজার দ্বিনিয়া মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা, বাংলাদেশ জমিয়াতুল মুদার্রেসিন এর প্রধান পৃষ্ঠপোষক ও মসজিদে গাউসুল আজম কমপ্লেক্সের মুতাওয়াল্লী এবং ছারছীনা দরবার শরীফের পীরে কামেল শাহ সূফী আ'লা হযরত মাওলানা শাহ মোহাম্মাদ মুহিব্বুল্লাহ রহমতুল্লাহ আলাইহি আজ রাত দুইটা ১১ মিনিটের সময় রাজধানী সেন্ট্রাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহী র’জিয়ূন! ইন্তেকালের সময় মরহুমের বয়স হয়েছিল ৭০ এর কাছাকাছি!"

■ পীর সাহেব কেবলা(রহঃ)দীর্ঘদিন যাবত বার্ধক্য জনিত বিভিন্ন রোগে ভুগতে ছিলেন। প্রথমতঃ তিনি রাজধানীর গ্রীন লাইফ হাসপাতালে, এরপরে সিঙ্গাপুর মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে এবং সর্বশেষ গ্রিন রোদস্থ সেন্ট্রাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

■ ইন্তেকালের সময় তিনি স্ত্রী, দুইপুত্র এবং তিন কন্যা সহ অনেক নাতি নাতনি রেখে যান। সকল পীরভাই, মুহিব্বীন দের নিকট পীর সাহেব কেবলার রুহের মাগফিরাতের জন্য দু'আ কামনা করছেন হযরত পীর সাহেব কেবলা (রহঃ) এর বড় সাহেবজাদা আলহাজ্ব হযরত মাওলানা শাহ্ আবু নছর নেছরুদ্দীন আহমদ হোসাইন (মাঃআঃ)।

■ জানাজা ও দাফনঃ
আগামীকাল ১৮ জুলাই, ০৩ শ্রাবণ, ১১ মুহাররম, রোজ- বৃহস্পতিবার বেলা ৩টায় ছারছীনা দরবার শরীফ (পিরোজপূর জেলার, নেসারাবাদ থানা/ঊপজেলা) ময়দানে জানাজা শেষে তাঁকে দাফন করা হবে ইন শা আল্লাহ! সকল পীরভাই, মুহিব্বীন এবং দল-মত ও ছেলছেলা নির্বিশেষে সকল ঈমানদার মুসলমান ভাইদেরকে হুজুরের জানাজায় উপস্থিত হবার/থাকার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি!

■ মরহুমের ইন্তিকালে ঐতিহ্যবাহী জহুরীয়া দরবার শরীফ এর বর্তমান পীর সাহেব কিবলা পীরে তরিকত আলহাজ্ব শাহ সূফী মোহাম্মাদ আজহারুল ইসলাম আল কাদেরী, মাঃজিঃআঃ আজ সকালে এক বার্তায় গভীর শোক প্রকাশ করেন। তিনি শোকাহৃত মরহুমের পরিবার ও ভক্ত-অনুরক্ত সকলের প্রতি সমবেদনা জানান এবং মরহুমের রাফয়ে দারাজাত কামনা করেন।

।। ডেস্ক_রিপোর্ট।।
জহুরীয়া দরবার শরীফ
উত্তর বাহেরচর, তারানগর
কেরাণীগঞ্জ, ঢাকা।
১৭ জুলাই ২০২৪, রোজ বুধবার
০২/০৪/১৪৩১ বঙ্গাব্দ
১০/০১/১৪৪৬ হিজরী

ঈদ মোবারক ! ঈদ মোবারক !!আল ইসলাম জহুরীয়া ঈদগাহ্উত্তর বাহেরচর, তারানগর, কেরাণীগঞ্জঈদুল আজহার নামাজসকাল ৭:৩০ মিনিটেঅনুষ্ঠি...
26/06/2023

ঈদ মোবারক ! ঈদ মোবারক !!
আল ইসলাম জহুরীয়া ঈদগাহ্
উত্তর বাহেরচর, তারানগর, কেরাণীগঞ্জ
ঈদুল আজহার নামাজ
সকাল ৭:৩০ মিনিটে
অনুষ্ঠিত হবে ইনশাআল্লাহ্।

Address

Uttar Baherchar, Taranagar, Keranigong
Dhaka
1312

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Al Islam Zahuria Eid Gah posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share