06/05/2026
আলিয়া মাদ্রাসাতে কওমি শিক্ষক নিয়োগের সিদ্ধান্ত হবে আত্মঘাতী,সর্বোচ্চ সতর্কতা ও সচেতনতা প্রয়োজন :
সরকারি এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা বছরব্যাপী বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণে অংশ নেয়।নিজ বিষয়ের বাইরে তারা শিখন - শেখানোর আধুনিক কলাকৌশল,রাসুলুল্লাহর শেখানো সুন্নাহ মতে পাঠদান পদ্ধতি,প্রতিষ্ঠানে ও ব্যক্তিগত জীবনে নৈতিকতা চর্চা,শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যসহ জীবনঘনিষ্ঠ বিষয়ে তারা বিভিন্ন মেয়াদের সরকারি প্রশিক্ষণে অংশ নেয়। বিপরীতে অধিকাংশ প্রাইভেট মাদ্রাসা, হেফজখানা,মহিলা হেফজখানা বিশেষত : কওমি ঘরানার প্রতিষ্ঠানগুলোতে যাদের দিয়ে পাঠদান দেয়া হয় তাদের অধিকাংশই অপ্রশিক্ষিত ও অপরিনামদর্শী। ফলে শিশুর মানসিক স্বাস্থ্য কি? কেনো সে পড়ছে না,তার সাথে কিরকম আচরণ করতে হবে বা তাদেরকে কিভাবে পড়াতে হয় তারা তা জানেনা। মা-বাবার সাথে আনন্দে সময় পার করার বয়সে অসংখ্য শিশু শিক্ষার্থীকে তারা বেদমভাবে পেটাচ্ছে,সারাদেশে অসংখ্য শিক্ষার্থী তাদের পৈশাচিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছে প্রতিনিয়ত। কারণ - তাদের অধিকাংশেরই নেই পর্যাপ্ত জাগতিক ও ধর্মীয় জ্ঞান ।আধুনিক শিখন পদ্ধতি কি? তারা তা জানেনা। এ অবস্থায় আজ ৬ মে অনুষ্ঠিত মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের সভায় সারাদেশের এমপিওভুক্ত মাদ্রাসায় সৃষ্ট ১৩ হাজার সহকারী মাওলানা (মুজাব্বিদ মাহির/ ক্বারী) পদে দাওরা পাশ কওমি শিক্ষার্থীদের নিয়োগের বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিষয়ে আলোচনা হয়।দাখিল, আলিম এবং ফাযিলের মত সমমানের ডিগ্রী ছাড়া,সরকারি কোন বোর্ড/ অধিদপ্তরের তদারিক ব্যতিত বিক্ষিপ্ত আঞ্চলিক কওমি বোর্ডগুলোর অধীনে শুধুমাত্র দাওরা হাদিস পাশ কওমি শিক্ষার্থীকে এমপিওভুক্ত আলিয়া ধারায় গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন বা যুক্ত করার সিদ্ধান্ত হবে সম্পূর্ণ আত্মঘাতি।
যাদের হাতে নিজ অঙ্গনের শিক্ষার্থীরা নিরাপদ নয়,তাদের হাতে অন্য প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা কখনো নিরাপদে থাকবেনা। সংশ্লিষ্টদের কাছে কার্যকর পদক্ষেপ প্রত্যাশা এবং এধরনের একপেশে সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে প্রতিক্রিয়া বিবেচনা করার অনুরোধ করেছেন শিক্ষক নেতৃবৃন্দ