Muslim Ummah

Muslim Ummah DAWAH FOR BUILDING ONE UMMAH
{ এক উম্মাহ প্রতিষ্ঠার জন্য দাওয়াত }

27/11/2024

বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম
নবীজির সিরাত পর্ব- ২১৯

বদর যুদ্ধে আবু জাহালক হত্যা:

বদর যুদ্ধে মু’আয বিন ‘আমর বিন জামুহ এবং মু’আয বিন আফরা নামক দুইজন মুসলিম যুবক মুশরিকদের সর্দার আবু জাহালকে হত্যা করে। মদিনার আনসার এই দুই যুবক আবু জাহালকে চিনতো না। তাই তারা আব্দুর রহমান বিন আওফের মাধ্যমে আবু জাহালকে চিনে নেয় এবং সেই কুখ্যাত নরাধমকে হত্যা করে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট প্রত্যাবর্তন করল।’

নাবী কারীম (ﷺ) বললেন, ‘তোমাদের উভয়ের মধ্যে কে তাকে হত্যা করেছ?’

তারা উভয়েই বলল, ‘আমি হত্যা করেছি।’

নাবী কারীম (ﷺ) পুনরায় বললেন, ‘তোমরা কি নিজ নিজ তরবারী মুছে ফেলেছ?’

তারা বলল, ‘না’’।

তারপর নাবী কারীম (ﷺ) উভয়ের তরবারী দেখলেন এবং বললেন, ‘তোমরা উভয়েই তাকে হত্যা করেছ।’

যখন যুদ্ধ শেষ হয়ে গেল তখন নবীজি (ﷺ) বললেন, ‘কে আছ এমন যে, দেখে আসবে আবূ জাহলের অবস্থা কি হলো।

এ কথা শুনে সাহাবীগণ (রাঃ) তার খোঁজে বিক্ষিপ্তভাবে নানাদিকে চলে গেলেন। আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ (রাঃ) তাকে এমন অবস্থায় পেলেন যে, তখনো তার শ্বাস-প্রশ্বাস যাওয়া আসা করছিল। তিনি তার গ্রীবার উপর পা রেখে মাথা কেটে নেয়ার জন্য দাড়ি ধরলেন এবং বললেন, ‘ওহে আল্লাহর শত্রু! শেষে আল্লাহ তোমাকে এভাবে অপমানিত করলেন?

তখন আবু জাহাল বলল, ‘ কী প্রকারে লাঞ্ছিত করলেন?’ যে ব্যক্তিকে তোমরা হত্যা করছো তার চেয়ে উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন লোক কেউ আছে কি? অথবা যে লোকটিকে তোমরা হত্যা করছো তার চেয়ে উঁচু সম্মানের কোন লোক আছে কি?’

তারপর সে বলল, ‘যদি আমাকে কৃষকরা ছাড়া অন্য কেউ হত্যা করত তবে কতই না ভাল হতো!’ তারপর সে বলল, ‘আচ্ছা, আমাকে বলত আজ বিজয় লাভ কার হয়েছে?’ আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) উত্তরে বললেন, ‘আল্লাহ এবং তার রাসূল (ﷺ)-এর।’ তারপর সে আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ)-কে বলল- যিনি তার গ্রীবার উপর পা রেখেছিলেন- হে বকরীর রাখাল! তুমি বড় উঁচু ও কঠিন জায়গায় চড়ে পড়েছো।
প্রকাশ থাকে যে, আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) মক্কায় বকরী চরাতেন।

এ কথোপকথনের পর আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) তার মস্তক কেটে নিলেন এবং নবীজি (ﷺ)-এর খিদমতে নিয়ে গিয়ে হাজির করে দিলেন এবং আরয করলেন, ‘হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) এটা আল্লাহর শত্রু আবূ জাহলের মস্তক।’ তার মাথা দেখে নবীজি (ﷺ) তিনবার বললেন,

‘‘সত্যিই, ঐ আল্লাহর শপথ যিনি ছাড়া অন্য কোন মা’বূদ নেই।’ তারপর বললেন,

আল্লাহ সবচেয়ে মহান। ঐ আল্লাহর সমুদয় প্রশংসা যিনি তাঁর ওয়াদাকে সত্যে প্রমাণিত করেছেন। স্বীয় বান্দাদের কে সাহায্য করেছেন এবং একাই সমস্ত মুশরিক দলকে পরাজিত করেছেন।’

এরপর নবীজি (ﷺ) বললেন, ‘চলো আমাকে তার মৃত দেহ দেখাও।’ আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) নবীজিকে নিয়ে গিয়ে তার মৃতদেহ দেখালেন। আবু জাহালের মৃত দেহ দেখে নবীজি (সাঃ) বললেন, ‘এই ব্যক্তি ছিল এ উম্মতের ফিরাউন।

উৎসঃ নবীজির সিরাত গ্রন্থ সমূহ থেকে সংগৃহীত।

19/11/2024

বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম

নবীজির সিরাত পর্ব- ২১৮

যুদ্ধের ময়দানে আবু জাহালের হঠকারিতা:

পরাজয় সন্নিকটে যেনেও বড় তাগুত আবূ জাহল যখন নিজ দলের সৈন্যদলের মধ্যে বিশৃঙ্খল অবস্থা প্রত্যক্ষ করল তখনও সে নিজ অবস্থানে সুদৃঢ় থাকার মনস্থ করল। কাজেই সে নিজ দলের সৈন্যগণকে উচ্চ কণ্ঠে এবং আত্মম্ভরিতার সঙ্গে বলতে থাকল যে, ‘যুদ্ধক্ষেত্র থেকে সুরাক্বাহর সরে পড়ার কারণে তোমরা মনোবল হারিও না যেন, কারণ সে পূর্ব হতেই মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর সঙ্গে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল।

উতবাহ, শায়বাহ এবং ওয়ালীদের হত্যার কারণেও তোমাদের ভীত হওয়ার কোন কারণ নেই কারণ তাড়াহুড়োর মধ্যে কাজ করতে গিয়েই তাদের এ অবস্থা হয়েছে।

লাত ও উযযার শপথ! তাদেরকে রশি দ্বারা শক্ত করে বেঁধে না ফেলা পর্যন্ত আমরা প্রত্যাবর্তন করব না। দেখ, তোমাদের কোন ব্যক্তি তাদের কাউকেও যেন হত্যা না করে। আমরা যেন তাদেরকে অন্যায়ের শাস্তি দিতে পারি এ উদ্দেশ্যে তাদেরকে ধর এবং বন্দী কর।’

কিন্তু তার এ অসার অহমিকার প্রতিফল শীঘ্রই তাকে অনুধাবন করতে হল। কারণ মুহূর্তের মধ্যেই মুসলিমদের পক্ষ থেকে পাল্টা আক্রমণ শুরু হয়ে গেল এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই তাদের প্রতিরক্ষা বাহিনীকে ছিন্ন ভিন্ন করে ফেলল।

কিন্তু আবূ জাহল তার চতুষ্পাশের একদল জনতাকে বেশ সংঘবদ্ধ অবস্থাতেই রেখেছিল। এ জনতা তার চতুর্দিকে তরবারীর প্লাবন ও বর্শার জঙ্গল সৃষ্টি করে রেখেছিল। কিন্তু ইসলামী জনতার প্রলয়ঙ্করী তুফান তার তরবারীর প্লাবন এবং বর্শার জঙ্গলকে একদম তছনছ করে ফেলল। তারপর এ বড় তান্ডত মর্দে মু’মিনদের দৃষ্টিসীমার মধ্যে এসে গেল। মুসলিম সৈন্যরা দেখতে পেলেন যে, সে এক ঘোড়ার পিঠে চড়ে চক্কর দিয়ে বেড়াচ্ছে। এদিকে আনসারী যুবকের হাতে তার মৃত্যু অপেক্ষা করছিল।

উৎসঃ নবীজির সিরাত গ্রন্থ সমূহ থেকে সংগৃহীত।

12/11/2024

বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম
নবীজির সিরাত পর্ব- ২১৭

বদর যুদ্ধে মক্কার মুশরিকদের সাংঘাতিক পরাজয়:

ইবলীস শয়তানের পলায়নের কিছুক্ষণের মধ্যেই মুশরিকগণের সৈন্য বাহিনীতে অকৃতকার্যতা ও দুর্ভাবনার বিভিন্ন লক্ষণ পরিষ্ফুট হয়ে উঠল।

মুশরিকদের উপর মুসলিমদের কঠিন এবং দুর্বার আক্রমণের চলতে থাকল এবং এর গতি বৃদ্ধি পেতে থাকলো।

এমন পরিস্থিতিতে মুশরিক বাহিনী দৌঁড় দিয়ে পিছু হটতে লাগল। এ সুযোগে মুসলিম বাহিনী তাদের পিছু পিছু ধাওয়া করে চলল এবং তাদেরকে হত্যা, জখম ও বন্দী করতে শুরু করলো। এভাবে দেখতে দেখতে কিছুক্ষণের মধ্যেই তারা সম্পূর্ণরূপে পরাজয় বরণ করতে বাধ্য হল।

উৎসঃ নবীজির সিরাত গ্রন্থ সমূহ থেকে সংগৃহীত

01/11/2024

বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম
নবীজির সিরাত পর্ব- ২১৬

বদর যুদ্ধের ময়দান থেকে ইবলীস শয়তানের পলায়ন:

অভিশপ্ত ইবলিস শয়তান মক্কার কুরাইশদের সাথে সুরাক্বাহ বিন মালিক বিন জুশুম মুদলিজীর রুপ ধারণ করে যুদ্ধের জন্য বদর প্রান্তরে এসেছিল এবং এতক্ষণ পর্যন্তও সে মুশরিকগণ হতে পৃথক হয় নাই।

কিন্তু যখন ইবলীস শয়তান মুশরিকদের বিরুদ্ধে ফিরিশতাগণের ভূমিকা প্রত্যক্ষ করল তখন সে পিছনে ফিরে পলায়ন করতে থাকল।

কিন্তু হারিস বিন হিশাম তাকে আটকে রাখল। তার বিশ্বাস যে, সে প্রকৃতই সুরাক্বাহ। কিন্তু ইবলীস তার বুকে এত জোরে ঘুষি মারল যে, সে মাটিতে পড়ে গেল। ইত্যবসরে ইবলিস সেখান থেকে পলায়ন করল। মুশরিকগণ বলতে লাগল, ‘সুরাক্বাহ কোথায় যাচ্ছ? তুমি কি বল নি যে, তুমি আমাদের সাহায্য করবে এবং কখনই আমাদের থেকে পৃথক হবে না?’

একথা শোনার পর ইবলীস বলল, ‏

‘‘আমি যা দেখছি, তোমরা তা দেখছনা। আল্লাহকে আমার ভীষণ ভয় হচ্ছে। তিনি কঠিন শাস্তির মালিক।’ (আল-আনফাল ৮ : ৪৮)
এরপর পলায়ন করে সে সমুদ্রের ভিতরে যেতে থাকল।

উৎসঃ নবীজির সিরাত গ্রন্থ সমূহ থেকে সংগৃহীত।

28/10/2024

বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম

নবীজির সিরাত (পর্ব ২১৫)

নবীজি (সাঃ) মুসলিমদেরকে পাল্টা আক্রমণের নির্দেশ দিলেন:

ফেরেশতাদের আগমনের পর নবীজি (ﷺ) পাল্টা আক্রমণের নির্দেশ দেন এবং যুদ্ধের প্রতি উৎসাহ প্রদান করতে গিয়ে বলেন,

‘‘তোমরা আক্রমণ চালাও। যাঁর হাতে মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর প্রাণ রয়েছে সেই সত্ত্বার শপথ! এদের মধ্যে যে ব্যক্তি যুদ্ধে অটল থেকে যুদ্ধ করাকে সওয়াব বা পুণ্য মনে করবে এবং সম্মুখে অগ্রসর হয়ে পিছপা না হয়ে লড়াই করতে করতে মৃত্যুবরণ করবে আল্লাহ তাকে অবশ্য অবশ্যই জান্নাতে প্রবিষ্ট করাবেন।

নবীজি (ﷺ) যুদ্ধের জন্য উত্তেজিত ও উৎসাহিত করতে গিয়ে আরো বলেন,

তোমরা ঐ জান্নাতের দিকে উঠে যাও যার প্রস্থ আসমান ও যমীনের সমান।

একথা শুনে উমায়ের ইবনু হাম্মাম (রাঃ) বললেন, ‘খুব ভাল! খুব ভাল! একথা শুনে নবীজি (ﷺ) তখন তাঁকে প্রশ্ন করলেন, ‘তুমি এ কথা কেন বললে?’

উত্তরে তিনি বললেন, ‘হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) আমি আশা রাখি যে, আমিও ঐ জান্নাতীদের অন্তর্ভুক্ত হবো, এছাড়া অন্য কোন কথা নয়।’ নবীজি (ﷺ) বললেন ‘হ্যাঁ তুমিও ঐ জান্নাতবাসীদেরই অন্তর্ভুক্ত হবে।’ তারপর তিনি তার খাদ্য থলে হতে কিছু খেজুর বের করে খেতে লাগলেন। তারপর তিনি বললেন, ‘যদি আমি এ খেজুরগুলো খেয়ে শেষ করা পর্যন্ত জীবিত থাকি তবে এটাও তো দীর্ঘ জীবন হয়ে যাবে।’ সুতরাং তিনি তার কাছে যে খেজুরগুলো ছিল সেগুলো ফেলে দিলেন। তারপর মুশরিকদের সাথে যুদ্ধ করতে করতে শহীদ হয়ে গেলেন। আলহামদুলিল্লাহ।

এভাবেই আউফ ইবনু হারিশ (রাঃ) জিজ্ঞেস করলেন, ‘হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) আল্লাহ তা‘আলা তার বান্দাদের কোন্ কাজে খুশী হয়ে হেসে থাকেন’’?

উত্তরে নবীজি (ﷺ) বললেন, ‘তিনি বান্দার ঐ কাজে খুশী হয়ে হেসে থাকেন যে, সে অনাবৃত দেহে (যুদ্ধে দেহ রক্ষক পোষাক পরিধান না করেই ) স্বীয় হাত শত্রুদের মধ্যে ডুবিয়ে দেয়’।

একথা শুনে আউফ (রাঃ) দেহ হতে লৌহবর্ম খুলে নিয়ে নিক্ষেপ করলেন এবং তরবারী নিয়ে শত্রুদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়লেন। তারপর যুদ্ধ করতে করতে শহীদ হয়ে গেলেন।

যে সময় নবীজি (ﷺ) পাল্টা আক্রমণের নির্দেশ দিয়েছিলেন তাতে শত্রুদের আক্রমণের প্রচন্ডতা হ্রাস পেয়েছিল এবং তাদের উত্তেজনা স্তিমিত হয়ে পড়েছিল। এজন্য এ কৌশলপূর্ণ পরিকল্পনা মুসলিমদের অবস্থান দৃঢ় করতে খুবই ক্রিয়াশীল হয়েছিল, কেননা, সাহাবীগণ (রাঃ) যখন আক্রমণ করার দির্দেশ পেলেন তখন ছিল তাঁদের জিহাদের উত্তেজনার যৌবনকাল।

তাই তাঁরা এক দুর্দমনীয় ও ফায়সালাকারী আক্রমণ পরিচালনা করলেন। তাঁরা শত্রুদের সারিগুলোকে তছনছ ও এলোমেলো করে দিয়ে তাদের গলা কাটতে কাটতে সামনে অগ্রসর হয়ে গেলেন।

স্বয়ং নবীজি (ﷺ)-কে বর্ম পরিহিত অবস্থায় লাফাতে লাফাতে আসতে দেখে এবং শ্রীঘ্রই তারা পরাজিত হবে ও পৃষ্ঠ প্রদর্শন করে পলায়ন করবে, একথা স্পষ্টভাবে বলতে শুনে তাঁদের উত্তেজনা আরো বৃদ্ধি পেলো। এ জন্যেই মুসলিমরা বীর বিক্রমে যু্দ্ধ করলেন এবং ফিরিশতারাও তাঁদেরকে সাহায্য করলেন।

যেমন ইবনু সা'দের বর্ণনায় ইকরামা (রাঃ) হতে বর্ণিত হয়েছে যে, ঐ দিন যুদ্ধের সময় মুশরিকদের মস্তক কেটে পড়ছিল, অথচ কে তাদের মস্তিষ্কের তা জানা যেত না এবং মানুষের হাত কর্তিত হয়ে পড়ে যেত, অথচ কে কর্তন করেছিল তা জানা যেত না।

ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, একজন মুসলিম একজন মুশরিককে তাড়া করছিলেন। হঠাৎ ঐ মুশরিকের উপর চাবুক মারার শব্দ শোনা গেল এবং একজন অশ্বারোহীর শব্দ শোনা গেল, যিনি বলছিলেন। ‘সম্মুখে অগ্রসর হও।’

মুসলিম মুশরিকটিকে তাঁর সামনে দেখলেন যে, সে চিৎ হয়ে পড়ে গেল, তিনি লাফ দিয়ে তার দিকে এগিয়ে গিয়ে দেখতে পেলেন যে, তার নাকের উপর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং অবয়র ক্ষতবিক্ষত হয়ে গেছে যেন চাবুক দ্বারা আঘাত করা হয়েছে। ঐ আনসারী মুসলিম নবীজি (ﷺ)-এর নিকট এসে ঘটনাটি বর্ণনা করলেন। তখন তিনি বললেন, ‘তুমি সত্য কথা বলেছো। এটা ছিল তৃতীয় আসমানের সাহায্য।

আবূ দাউদ মাযেনী বলেন, ‘আমি একজন মুশরিককে মারার জন্যে তাড়াতাড়ি করছিলাম। অকস্মাৎ তার মস্তকটি, আমার তরবারী ওর উপর পৌঁছার পূর্বে কেটে পড়ে যায়। আমি তখন বুঝতে পারলাম যে, তাকে আমি নই, বরং অন্য কেউ হত্যা করেছে।

একজন আনসারী আব্বাস ইবনু আব্দুল মুত্তালিবকে বন্দী করে নিয়ে আসেন। তখন আব্বাস (রাঃ) বলেন, ‘আল্লাহর শপথ! আমাকে এ ব্যক্তি বন্দী করেনি। একজন চুলবিহীন মাথাওয়ালা লোক যিনি দেখতে অত্যন্ত সুন্দর এবং একটি বিচিত্র বর্ণের ঘোড়ার উপর সওয়ার ছিলেন তিনি আমাকে বন্দী করেছিলেন। তাকে এখন আমি লোকজনদের মধ্যে দেখতে পাচ্ছি না। তখন আনসারী বললেন, ‘হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! তাকে আমি বন্দী করেছি।

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন,‘‘ তুমি চুপ করো, আল্লাহ এক সম্মানিত ফিরিশতা দ্বারা তোমাকে সাহায্য করেছেন।

আলী (রাঃ) বলেন, নবীজি (ﷺ) তাঁকে এবং আবূ বাকরকে বললেন, তোমাদের একজনের সাথে জিবরীল এবং আরেকজনের সাথে মিকাঈল ও ইসরাফীল (আঃ) যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন। অথবা যুদ্ধক্ষেত্রে ছিলেন।

উৎসঃ নবীজির সিরাত গ্রন্থ সমূহ থেকে সংগৃহীত

25/10/2024

বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম

নবীজির সিরাত (পর্ব ২১৪)

বদর যুদ্ধে মুসলিমদের পক্ষে ফেরেশতাদের অবতরণ:

প্রার্থনা শেষে নবীজি (ﷺ)-এর একটু তন্দ্রা আসলো। তারপর তিনি স্বীয় মস্তক মুবারক উঠিয়ে বললেন,

‘আবূ বাকর (রাঃ) খুশী হও। ইনি জিবরাঈল, (আঃ) তার দেহ ধূলো বালিতে ভরপুর।’ ইবনু ইসহাক্বের বর্ণনায় রয়েছে যে, নবীজি (ﷺ) বলেন,

‘আবূ বাকর (রাঃ) আনন্দিত হও, তোমাদের কাছে আল্লাহর সাহায্য এসে গেছে। ইনি জিবরাঈল (আঃ), তিনি স্বীয় ঘোড়ার লাগাম ধরে ওর আগে আগে চলে আসছেন। তার দেহ ধূলোবালিতে পরিপূর্ণ রয়েছে।’

এরপর নবীজি (ﷺ) ছাউনির দরজা হতে বাইরে বেরিয়ে আসলেন। তিনি লৌহ বর্ম পরিহিত ছিলেন। পূর্ণ উত্তেজনার সাথে তিনি সামনে অগ্রসর হচ্ছিলেন এবং মুখে উচ্চারণ করছিলেন,

‘‘এ সংঘবদ্ধ দল শীঘ্রই পরাজিত হবে আর পিছন ফিরে পালাবে।’ (আল-ক্বামার ৫৪ : ৪৫)

তারপর নবীজি (ﷺ) এক মুষ্টি পাথুরে মাটি নিলেন এবং কুরাইশদের দিকে মুখ করে বললেন,‏ ‘চেহারাগুলো বিকৃত হোক’’। আর একথা বলার সাথে সাথেই ঐ মাটি তাদের চেহারার দিকে নিক্ষেপ করলেন। তারপর মুশরিকদের মধ্যে এমন কেউই ছিল না যার চক্ষুদ্বয়ে, নাসারন্ধ্রে ও মুখে ঐ এক মুষ্টি মাটির কিছু না কিছু যায় নি। এ ব্যাপারে আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

‘‘তুমি যখন নিক্ষেপ করছিলে তা তো তুমি নিক্ষেপ করনি, বরং আল্লাহই নিক্ষেপ করেছিলেন।’ (আল-আনফাল ৮ : ১৭)

উৎসঃ নবীজির সিরাত গ্রন্থ সমূহ থেকে সংগৃহীত

22/10/2024

বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম

নবীজির সিরাত (পর্ব- ২১৩)

যুদ্ধ শুরু হলে আল্লাহর নিকট নবীজির আকুল প্রার্থনা:

নবীজি (ﷺ) সৈন্যদের শ্রেণী বিন্যাস কাজ শেষ করে ফিরে এসেই স্বীয় মহান প্রতিপালকের নিকট সাহায্যের ওয়াদা পূরণের প্রার্থনা করতে লাগলেন। তাঁর প্রার্থনা ছিল,

তারপর যখন উভয় পক্ষে তুমুল যুদ্ধ শুরু হয়ে গেল তখন তিনি এ প্রার্থনা করলেন।

নবীজি (ﷺ) অত্যন্ত বিনয়ের সাথে প্রার্থনা করলেন এবং তিনি এমন আত্মভোলা হয়ে পড়লেন যে, তাঁর চাদরখানা তাঁর কাঁধ হতে পড়ে গেল। তখনও তিনি পূর্ববত তন্ময়ভাবে প্রার্থনায় নিমগ্ন থাকলেন। এ দৃশ্য দেখে ভক্ত আবূ বাকর (রাঃ) দ্রুত ছুটে আসলেন এবং চাদরখানা দ্বারা তাঁর দেহ আচ্ছাদিত ক’রে তাকে আলিঙ্গন করে বলতে লগালেন, ‘হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ), যথেষ্ট হয়েছে। বড়ই কাতর কণ্ঠে আপনি প্রতিপালকের নিকট প্রার্থনা করেছেন। এ প্রার্থনা ব্যর্থ হবে না। শীঘ্রই মহান আল্লাহ নিজের ওয়াদা পূর্ণ করবেন।’ এদিকে আল্লাহ তা‘আলা ফিরিশতাদেরকে ওহী করলেন,

‘স্মরণ কর যখন তোমার প্রতিপালক ফেরেশতাদের প্রতি ওয়াহী পাঠিয়েছিলেন, ‘আমি তোমাদের সঙ্গেই আছি; অতএব মু’মিনদেরকে তোমরা দৃঢ়পদ রেখ। অচিরেই আমি কাফিরদের দিলে ভীতি সঞ্চার করব।’ [আল-আনফাল (৮) : ১২]

আর নবীজি (ﷺ)-এর নিকট আল্লাহ তা‘আলা ওহী পাঠালেন

‘আমি তোমাদেরকে এক হাজার ফেরেশতা দিয়ে সাহায্য করব যারা পর পর আসবে। [আল-আনফাল (৮) : ৯]

উৎসঃ নবীজির সিরাত গ্রন্থ সমূহ থেকে সংগৃহীত

21/10/2024

বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম
ইসলামের মৌলিক বিষয় (পর্ব ১১২)

মানুষের দুনিয়ার জীবন: চুড়ান্ত সুখি হওয়ার চেষ্টা অতঃপর ফলাফল:

একজন মানুষ জন্মের পর থেকে একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত সম্পূর্ণ রূপে অসহায় অবস্থায় থাকে। যখন সে নিজে হাটা চলা করতে পারে না নিজের খাদ্যের যোগান ও নিজে দিতে পারে না।

মহান আল্লাহ তায়ালা মানুষকে পারিশ্রমিক জাতি হিসেবে সৃষ্টি করেছেন। তাই নির্ভরশীল স্তর অতিক্রম করেই মানুষ পরিশ্রম করার পর্বে প্রবেশ করে থাকে।
প্রতিদিনের জীবন পরিচালনার জন্য মানুষকে কঠোর পরিশ্রম করতে হয়। যেমন, একজন মানুষ দিনে ১০-১২ ঘন্টা একটানা পরিশ্রম করে মাত্র তিন বেলা খাবার খাচ্ছে।‌ অর্থাৎ ৩০-৪০ মিনিট সময় খাওয়ার জন্য ১০- ১২ ঘন্টা পরিশ্রম করতে হচ্ছে।

আবার দুনিয়াতে একজন মানুষের অঢেল সহায় সম্পদ থাকা সত্ত্বেও সে যা চাচ্ছে তা পাচ্ছে না। অর্থাৎ অপূর্ণতা থেকেই যাচ্ছে।

তাছাড়াও দুনিয়ার জীবনে নানা ধরনের সমস্যা যেমন অসুস্থ্যতা, দুঃখ-বেদনা, শোক , জুলুম, নির্যাতন, হয়রানি, প্রতারণা, ঝগড়া, বিবাদ, না পাওয়া, অভাব, হিংসা, অহংকার ইত্যাদি মানুষের জীবনে লেগেই থাকে।

এরপর মানুষ বার্ধক্যে উপনীত হয় এবং পূণরায় অন্যের উপর নির্ভরশীল হয়ে জীবন কাটাতে হয়।

চুড়ান্ত পর্যায়ে প্রত্যেক মানুষকে মৃত্যুর কোলে ঢোলে পড়তে হয় এবং শুন্য হাতে পৃথিবী থেকে বিদায় নিতে হয়।

অথচ যে আল্লাহ
# আমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন,
# সব ধরনের নেয়ামত দিয়ে আমাদেরকে প্রতিপালন করছেন,
# সর্বদা আমাদেরকে নিরাপত্তা প্রদান করছেন
# সর্বদা আমাদেরকে স্বরণে রেখেছেন
# আমাদের জন্য বিভিন্ন ধরনের রিযিক প্রদান করছেন
সেই মহান সত্ত্বা
* আল্লাহ তায়ালাকে আমরা ভুলে গিয়ে,
* আল্লাহর আদেশ নিষেধের কথা ভুলে গিয়ে
* আল্লাহ শান্তির কথা ভুলে গিয়ে,
* কবরের আযাবের কথা ভুলে গিয়ে,
* ৫০ হাজার বছরের সমান ভয়াবহ বিচার দিবসের কথা ভুলে গিয়ে এবং
* জাহান্নামের শাস্তির কথা ভুলে গিয়ে দুনিয়ার জীবনে সফল হওয়ার জন্য অসম্ভব রকমের ব্যস্ত হয়ে পড়েছি।
উপরোক্ত আলোচনা থেকে প্রতিয়মান হলো যে, দুনিয়াতে মানুষ চুড়ান্ত সুখি হতে পারবে না।
আল্লাহ বলেন, তোমরা বলো, হে আল্লাহ আমাদেরকে দুনিয়াতে সফলতা দান করুন এবং আখেরাতের সফলতা দান করুন।

তাই, আমাদের উচিত দুনিয়া এবং আখেরাতের বিষয়ে সমান গুরুত্ব দেয় এবং সেই অনুযায়ী নিজের সামগ্রিক জীবন পরিচালনা করি।
আল্লাহ আমাদের সবাইকে দুনিয়া এবং আখেরাতের উপর সমান গুরুত্ব দেওয়ার তৌফিক দান করুন আমীন।

20/10/2024

বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম

নবীজির সিরাত (পর্ব ২১১)

বদরের মুল যুদ্ধের শুরু:

এটা ছিল এ যুদ্ধের প্রথম হত্যা। এর ফলে যুদ্ধের অগ্নি প্রজ্জ্বলিত হয়ে উঠল। তখন নিয়ম ছিল যে, যুদ্ধের পূর্বে প্রত্যেক পক্ষের বিখ্যাত বীর পুরুষরা রণাঙ্গনে অবতীর্ণ হয়ে অন্যপক্ষকে সমরে আহবান করত। তখন ঐ পক্ষের নির্বাচিত কয়েকজন খ্যাতনামা বীর এ আহবানের উত্তর প্রদানের জন্যে বীরদর্পে অগ্রসর হতো। এ ক্ষেত্রেও তাই হলো। যুদ্ধে মক্কা বাহিনীর পক্ষে তিন জন বীর তরবারি সহ ময়দানে আগমন
১। উতবাহ
২। উতবাহ এর ভাই শায়বাহ ও
৩। পুত্র ওয়ালীদ

এই তিনজন চীৎকার করতে লাগল ‘কে আসবি আয়, আমাদের তরবারীর খেলা দেখে যা।

তার এ আহবান শুনে তিনজন মদিনার আনসার বীর নবীজির নির্দেশে উলঙ্গ তরবারী হাতে সেই দিকে ধাবিত হলেন। তারা হলেন
১। আউয (রাঃ),
২। মুআব্বিয (রাঃ),
৩। আব্দুল্লাহ ইবনু রাওয়াহা।

কুরাইশরা তাদের জিজ্ঞেস করল, তোমরা কে? তাঁরা বললেন, ‘আমরা মদিনার আনসার’। তখন তারা বলল, ‘আপনাদের আমরা চাচ্ছি না। আমরা আমাদের চাচাতো ভাইদের চাচ্ছি এবং একজন চিৎকার করে বলতে লাগল ‘হে মুহাম্মাদ (ﷺ), মদীনার এ চাষাগুলোর সাথে যুদ্ধ করা আমাদের পক্ষে অসম্মানজনক। আমাদের যোগ্য যোদ্ধা পাঠাও। তার একথা শুনে রাসূলুল্লাহ এ তিনজন আনসার বীরকে তাদের স্ব- স্ব স্থানে ফিরে যেতে বললেন। তারপর তিনি নিজের পরমাত্মীয়দের মধ্যে হতে

১। হামযাহ (রাঃ),
২। উবাইদাহ বিন হারিস (রাঃ) ও
৩। আলী (রাঃ)-
কে সম্বোধন করে বললেন, ‘তোমরা তাদের মোকাবেলায় অগ্রসর হও। এরা অগ্রসর হলে কুরাইশগণ বলল, ‘তোমরা কারা?’ তাঁরা তাদের পরিচয় দান করলেন। কাফিররা তাদেরকে আক্রমণ করল। যুদ্ধ শুরু হলো

ওয়ালীদের সাথে আলী (রাঃ)-এর মধ্যে,
শায়বাহর সাথে হামযাহর (রাঃ) এর মধ্যে
উতবাহর সাথে উবাইদাহ (রাঃ)-এর মধ্যে

মুহূর্তের মধ্যে শায়বাহ ও ওয়ালীদের মস্তক ভূলণ্ঠিত হয়ে পড়লো। উবাইদাহ (রাঃ) ছিলেন তখন সবার চেয়ে বৃদ্ধ। তিনি ও ‘উতবাহ পরস্পরে তরবারীর আঘাতে গুরুতররূপে আহত হয়ে পড়ল। ইতোমধ্যে আলী ও হামযাহ (রাঃ) নিজ নিজ প্রতিদ্বন্দ্বীকে খতম করে এসে ‘উতবাহর উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে তারা তাকে হত্যা করলো ও উবাইদাহকে তুলে আনলেন।

তার মুখে আওয়াজ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল এবং ক্রমাগতভাবে বন্ধই থাকল। শেষ পর্যন্ত যুদ্ধের ৪র্থ বা ৫ম দিন যখন মুসলিমরা মদীনা প্রত্যাবর্তনের পথে সাফরা নামক উপত্যকা অতিক্রম করছিলেন ঐ সময় উবাইদাহ (রাঃ) মৃত্যুবরণ করেন।

উৎসঃ নবীজির সিরাত গ্রন্থ সমূহ থেকে সংগৃহীত

20/10/2024

বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম

নবীজির সিরাত (পর্ব ২১০)

বদর যুদ্ধের প্রথম ইন্ধন:

বদর যুদ্ধের প্রথম ইন্ধন ছিল আসওয়াদ ইবনু আবুল আসাদ মাখযুমী যে লোকটি ছিল বড়ই হঠকারী ও দুশ্চরিত্র। সে একথা বলতে বলতে যুদ্ধক্ষেত্রে বেরিয়ে আসলো ‘আমি মুহাম্মদের দলের হাউযের পানি পান করব অথবা একে ভেঙে ফেলব নতুবা এজন্যে জীবন দিয়ে দিব।

এ কথা বলে যখন সে ওদিক থেকে বেরিয়ে আসলো তখন এদিক থেকে হামযাহ ইবনু আব্দুল মুত্তালিব (রাঃ) এগিয়ে আসলেন। হাউযের পাড়েই দুজনের দেখা হলো।

হামযাহ (রাঃ) তাকে এমনভাবে তরবারী দ্বারা আঘাত করলেন যে, তার পা অর্ধ পদনালী হতে কেটে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল এবং সে পৃষ্ঠভরে পড়ে গেল। তার পা হতে রক্তের ফোয়ারা ছুটছিল যার গতি তার সঙ্গীদের দিকে ছিল।

কিন্তু তা সত্ত্বেও সে হাঁটুর ভরে ছেঁচড়িয়ে হাউযের দিকে অগ্রসর হলো এবং তাতে প্রবেশ করতেই চাচ্ছিল যাতে তার কসম পুরো হয়ে যায়। ইতোমধ্যে হামযাহ (রাঃ) দ্বিতীয়বার তার উপর তরবারী চালালেন এবং সে হাউযের মধ্যেই মৃত্যুমুখে পতিত হলো।

এই ঘটনার মধ্য দিয়ে বদর যুদ্ধের সুত্রপাত হলো।

উৎসঃ নবীজির সিরাত গ্রন্থ সমূহ থেকে সংগৃহীত

18/10/2024

বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম

নবীজির সিরাত (পর্ব ২০৯)

মুসলিম ও মুশরিক বাহিনী মুখোমুখি অবস্থান:

এরপর নবীজি (সাঃ) আল্লাহর নিকট ফরিয়াদ করে বললেন হে আল্লাহ, এ মুশরিক কুরাইশগণ ভীষণ গর্বভরে তোমার বিরুদ্ধাচরণ করতে করতে এবং তোমার রাসূল (ﷺ)-কে মিথ্যা প্রতিপন্ন করতে করতে এগিয়ে আসছে।
হে আল্লাহ, আমরা তোমার সাহায্যপ্রার্থী।
হে আল্লাহ, তোমার এ দীন দাসদের প্রতি তোমার যে ওয়াদা রয়েছে তা আজ পূর্ণ করে দেখিয়ে দাও।’

নবীজি (ﷺ) ‘উতবাহ ইবনু রাবী’আহকে একটি লাল উটের উপর দেখে বললেন,

মক্কার কওমের মধ্যে কারো কাছে কল্যাণ থাকলে উতবাহ এর কাছে রয়েছে। জনগণ তার কথা মেনে নিলে তারা সঠিক পথ প্রাপ্ত হতো।

এরপর এ স্থানে নবীজি (ﷺ) মুসলিমদের সারিগুলো ঠিক করলেন। সারিসমূহ ঠিক ঠাক হয়ে গেল নবীজি (ﷺ) সৈন্যদেরকে উপদেশ দিতে গিয়ে বললেন যে, তিনি তাদেরকে শেষ নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত যেন তারা যুদ্ধ শুরু না করেন। তারপর তিনি যুদ্ধনীতির ব্যাপারে বিশেষ একটি উপদেশ দিতে গিয়ে বলেন,

# মুশরিকরা যখন সংখ্যা বহুলরূপে তোমাদের নিকট এসে পড়বে তখন তাদের প্রতি তীর চালাবে এবং নিজেদের তীর বাঁচাবার চেষ্টা করবে অর্থাৎ প্রথম থেকেই অযথা তীরন্দাজী করে তীর নষ্ট করবে না।

# আর যতক্ষণ পর্যন্ত তারা তোমাদের উপর ছেয়ে না যাবে ততক্ষণ পর্যন্ত তোমরা তরবারী উত্তোলন করবে না।

এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এবং আবূ বাকর (রাঃ) ছাউনির দিকে ফিরে গেলেন এবং সা‘দ ইবনু মু’আয (রাঃ) তাঁর রক্ষকবাহিনীকে নিয়ে ছাউনির দরজার উপর নিযুক্ত হয়ে গেলেন।

অপর পক্ষে মুশরিকদের অবস্থা এমন ছিল যে, আবূ জাহল আল্লাহ তা‘আলার নিকট ফায়সালার দুআ করল। সে বলল, ‘হে আল্লাহ আমাদের মধ্যে যে দলটি আত্মীয়তার বন্ধন বেশী ছিন্নকারী ও ভুল পন্থা অবলম্বনকারী ঐ দলকে তুমি আজ ছিন্ন ভিন্ন করে দাও। হে আল্লাহ! আমাদের মধ্যে যে দল তোমার নিকট বেশী প্রিয় ও পছন্দনীয় আজ তুমি ঐ দলকে সাহায্য কর।

পরবর্তীতে এ কথারই দিকে ইঙ্গিত করে আল্লাহ তা‘আলা নিম্নের আয়াতটি অবতীর্ণ করেন।

ওহে কাফিরগণ! তোমরা মীমাংসা চাচ্ছিলে, মীমাংসা তো তোমাদের কাছে এসে গেছে; আর যদি তোমরা অন্যায় থেকে বিরত হও, তবে তা তোমাদের জন্যই কল্যাণকর, তোমরা যদি আবার অন্যায় কর, আমিও আবার তোমাদেরকে শাস্তি দিব, তোমাদের দল-বাহিনী সংখ্যায় অধিক হলেও তোমাদের কোন উপকারে আসবে না এবং আল্লাহ তো মু’মিনদের সঙ্গে আছেন।’ (আল-আনফাল ৮ : ১৯)

উৎসঃ নবীজির সিরাত গ্রন্থ সমূহ থেকে সংগৃহীত

17/10/2024

বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম

নবীজির সিরাত (পর্ব ২০৮)

যুদ্ধক্ষেত্রে মক্কা বাহিনীর আগমন এবং নিজেদের মধ্যে মতানৈক্যঃ

অপরপক্ষে কুরাইশরা উপত্যকার বাইরের দিকে তাদের শিবিরে রাত্রি যাপন করে। আর সকালে পুরো বাহিনী সহ টিলা হতে অবতরণ করে বদরের দিকে রওয়ানা হয়।

এর মধ্যে থেকে একটি দল নবীজি (ﷺ)-এর হাউযের দিকে অগ্রসর হয়। এ সময় নবী (ﷺ) বলেন, ‘তাদেরকে আসতে দাও। সেদিন তাদের মধ্যে যে ব্যক্তি পানি পান করেছিল সেই বদর যুদ্ধে নিহত হয়েছিল। শুধুমাত্র হাকীম ইবনু হিযামের প্রাণ বেঁচেছিল।

পরবর্তীতে সে পাকা মুসলিম হয়েছিল। এরপর থেকে সে যখন দৃঢ় শপথ করত তখন বলত ঐ সত্ত্বার শপথ! যিনি আমাকে বদরের দিন হতে পরিত্রাণ দিয়েছেন।

এরপর কুরাইশ সৈন্যদলে মহা কোলাহল শুরু হয়ে গেলো। কেউ অহংকার ভরে চিৎকার করছে এবং কেউ ক্রোধভরে মাটিতে পদাঘাত করছে। এ সময় কুরাইশ দলপতির আদেশক্রমে উমায়ের ইবনু ওহাব নামক এক ব্যক্তি মুসলিমদের সংখ্যা নির্ণয় করার জন্য ঘোড়ায় আরোহণ করে মুসলিম বাহিনীর চারদিক প্রদক্ষিণ করে ফিরে যায়।

নিজ দলে ফিরে এসে উমায়ের বলতে শুরু করে মুসলিমদের সংখ্যা কমবেশি তিনশ হবে এবং তাদের পশ্চাতে সাহায্য করারও কেউ নেই। তরবারী ছাড়া আত্মরক্ষার জন্যে কোন উপকরণ তাদের সাথে নেই।

তবে আমি একটি বিষয় উত্তমরূপে বুঝতে পেরেছি তারা এমন সুবিন্যস্তভাবে যুদ্ধের জন্যে প্রস্তুত হয়ে আছে যে, আমরা আমাদের একটি প্রাণের বিনিময় ছাড়া তাদের একটি প্রাণনাশ করতে পারবো না। কাজেই এ যুদ্ধে আমাদের পক্ষের অন্তত তিনশত প্রাণ উৎসর্গ না করে আমরা কোন ক্রমেই বিজয় লাভে সক্ষম হব না।

যদি তারা আমাদের বিশেষ বিশেষ লোকদেরকে হত্যা করে ফেলে তবে এর পরে বেঁচে থাকার সাধ আর কী থাকতে পারে? অতএব, আমাদের কিছু চিন্তা-ভাবনার প্রয়োজন রয়েছে।

উমায়েরের এ কথা শুনে যুদ্ধের ব্যাপারে দৃঢ় সংকল্পকারী আবূ জাহেলের সামনে আরেক সমস্যা দেখা দিল‌ এবং লোকেরা তাকে যুদ্ধ করা ছাড়াই মক্কায় ফিরে যেতে অনুরোধ করলো।

এসময় হাকীম ইবনু হিযাম নামক কুরাইশ দলপতির চৈতন্যেদয় হল। তিনি দাঁড়িয়ে এক সল্প বক্তৃতা দিলেন এবং সকলকে বুঝাবার চেষ্টা করলেন যে, এ অন্যায় সমরে প্রবৃত্ত হওয়ার কোনই কারণ নেই, তিনশত প্রাণ বলি দিয়ে এ যুদ্ধে বিজয় লাভের সার্থকতাও কিছুই নেই।

হাকীম বক্তৃতা দিয়েই ক্ষান্ত হলেন না বরং তিনি ‘উতবাহ ইবনু রাবীআহ নামক কুরাইশ দলপতির নিকট উপস্থিত হয়ে নিজের মনোভাব ব্যক্ত করলেন।

উতবাহ হাকীমের কথার যৌক্তিকতা অস্বীকার করতে পারল না। হাকীম তখন আশান্বিত হয়ে বললেন, ‘দেখুন, আপনি ধনে মানে কুরাইশের একজন বরেণ্য ব্যক্তি। সুতরাং আপনি একটু দৃঢ়তা অবলম্বন করে এ অন্যায় যুদ্ধ হতে স্বজাতিকে বিরত রাখুন, তাহলে আরবের ইতিহাসে আপনার নাম চির স্মরণীয় হয়ে থাকবে।’

এরপর উতবাহ উত্তরে বলল, ‘আমি তো প্রস্তুত আছি। এক ‘আমর বিন হাযরামীর (যে সারিয়্যায়ে নাখলাহতে মারা গিয়েছিল) রক্তপণ, সেটাও আমি নিজে পরিশোধ করে দিতে পারি। কিন্তু হানযালিয়ার পুত্রকে (আবূ জাহল) কোন যুক্তির দ্বারাই বিরত রাখা সম্ভব নয়। যাহোক, তুমি তার কাছে গিয়ে চেষ্টা করে দেখো, তোমার প্রস্তাবে আমার সম্মতি রয়েছে।

তারপর ‘উতবাহ দাঁড়িয়ে বক্তব্য রাখতে লাগল। বলল, ‘হে কুরাইশগণ! তোমরা মুহাম্মাদ (ﷺ), তাঁর সঙ্গীদের সাথে যুদ্ধ করে কোন বাহাদুরী করবেনা। আল্লাহর শপথ! যদি তোমরা তাঁদেরকে হত্যা করে ফেল তাহলে এমন চেহেরাসমূহ দেখতে পাওয়া যাবে যেগুলোকে দেখা পছন্দনীয় হবে না।

কেননা এ যুদ্ধে হয় তোমাদের চাচাতো ভাই নিহত হবে নতুবা খালাতো ভাই কিংবা নিজের গোত্রেরই লোক নিহত হবে। সুতরাং ফিরে চল এবং মুহাম্মাদ (ﷺ) ও গোটা আরব দুনিয়াকে ছেড়ে দাও।

যদি আরবের অন্য লোকেরা মুহাম্মাদ (ﷺ)-কে হত্যা করে ফেলে তাহলে তো সেটা তোমাদের কাঙ্খিত কাজই হবে। অন্যথা মুহাম্মাদ (ﷺ) তোমাদেরকে শ্রদ্ধার দৃষ্টিতে দেখবেন যে, তোমরা তাঁকে হত্যা করো নি।

এদিকে হাকীম আবূ জাহলের নিকট হাযির হয়ে নিজের ও ‘উতবাহর মতামত ব্যক্ত করলেন। হাকীমের কথা শুনে আবূ জাহলের আপাদমস্তক জ্বলে উঠল। সে ক্রোধান্বিত স্বরে বলতে লাগল, আল্লাহর শপথ, মুহাম্মাদ ও তার সাথীদের দেখার পর ‘মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর যাদু ‘উতবাহর উপর বিশেষ কার্যকরী হয়েছে।

কক্ষনো না, আল্লাহর শপথ! আমাদের ও মুহাম্মাদের মধ্যে আল্লাহর ফায়সালা না হওয়া পর্যন্ত আমরা ফিরে যাব না। না, না এতক্ষণে বুঝতে পেরেছি, ‘উতবাহর পুত্র মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর দলভুক্ত (‘উতবাহর পুত্র আবূ হুযাইফা (রাঃ) প্রথম পর্যায়ের মুসলিম ছিলেন এবং হিজরত করে মদীনায় গিয়েছিলেন)। সে যুদ্ধ ক্ষেত্রে উপস্থিত সুতরাং তার নিহত হওয়ার আশঙ্কায় উতবাহ এমন বিচলিত হয়ে পড়েছে। ধিক্ শত ধিক তাকে।

হাকীম তখন আবূ জাহলকে সেখানে রেখে ‘উতবাহর নিকট গমন করে সমস্ত বৃত্তান্ত প্রকাশ করলেন। ক্রোধ, অভিমান ও অহংকারে ‘উতবাহ একেবারে আতমবিস্মৃত হয়ে পড়লো। সে বলে উঠল, কী, আমি ভীরু? আমি কাপুরুষ? পুত্রের মায়ায় আমি বীরধর্মে জলাঞ্জলি দিচ্ছি।

আচ্ছা, তাহলে আরববাসী দেখুক, জগদ্বাসী দেখুক যে, কে বীর পুরুষ, আমি ততক্ষণ ফিরব না যতক্ষণ না মুহাম্মাদের সঙ্গে একটা চূড়ান্ত বোঝাপড়া হয়। এ বলে সে সদল বলে সমরাঙ্গনে এগিয়ে চলল। আর ওদিকে আবূ জাহল ছুটে গিয়ে ‘আমির ইবনু হযরামীকে বলল, ‘দেখছ কি, তোমার ভ্রাতার প্রতিশোধ গ্রহণ আর সম্ভব হবে না। কাপুরুষ ‘উতবাহ সদল বলে যুদ্ধক্ষেত্র পরিত্যাগ করে যাচ্ছে। শীঘ্র উঠে আর্তনাদ করতে শুরু কর।

আবূ জাহলের কথা শেষ হতে না হতেই ‘আমির তার সকল অঙ্গে ধূলো বালি মাখতে মাখতে এবং গায়ের কাপড় ছিঁড়তে ছিঁড়তে নিহত ভ্রাতার নাম নিয়ে আর্তনাদ করে বেড়াতে লাগল।

আর যায় কোথায়, মুহূর্তের মধ্যে হাকীমের সমস্ত পরিশ্রম পশু হয়ে গেল। ক্ষণিকের মধ্যেই রণ পিপাসু মুশরিক বাহিনীর বীভৎস চিৎকার দিগ্বিদিক ধ্বনিত প্রতিধ্বনিত করে তুলল এবং যুদ্ধক্ষেত্র প্রকম্পিত করে তুললো।

উৎসঃ নবীজির সিরাত গ্রন্থ সমূহ থেকে সংগৃহীত

Address

Road 12, Sector 13, Uttara Model Town
Dhaka

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Muslim Ummah posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Place Of Worship

Send a message to Muslim Ummah:

Share