Peace be Upon him

Peace be Upon him চালাও সে-পথে যে-পথে তোমার প্রিয়জন গেছে চলি।

13/03/2026

[] সূরা তীন []

মানুষ সমস্ত সৃষ্টির মধ্যে সুন্দরতম সৃষ্টি। স্বয়ং আল্লাহ একথা শপথ করে বলছেন- তিনি মানুষকে সর্বোত্তম অবয়বে সৃষ্টি করেছেন।

কিসে মানুষের এই শ্রেষ্ঠত্ব? অতঃপর কি কারনে তার নিকৃষ্টতম পতন? এবং ক্বিয়ামত দিবসে ঈমান ও সৎকর্মের কি প্রতিদান? এ সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে সূরা তীনে। আসুন জেনে নেই-

(১) وَ التِّیۡنِ وَ الزَّیۡتُوۡنِ
“অত্তীনি অয্‌যাইতূনী”
‘ডুমুর ও যয়তূন বৃক্ষ।’

(২) وَ طُوۡرِ سِیۡنِیۡنَ ۙ
“অত্বুরি সীনীনা”
‘সিনাই প্রান্তরস্থ তূর পর্বত।’

(৩) وَ هٰذَا الۡبَلَدِ الۡاَمِیۡنِ
“অহা-যাল্‌ বালাদিল্‌ আমীন”
‘এবং এই নিরাপদ নগরীর (মক্কা) শপথ।’

এ সূরায় চারটি বস্তুর শপথ করা হয়েছে। (এক) তীন অর্থাৎ, আঞ্জীর তথা ডুমুর বৃক্ষ। (দুই) যয়তূন বৃক্ষ। (তিন) সিনাই প্রান্তরস্থ তূর পর্বত। (চার) মক্কা মোকাররমা, এই নগরীকে আল্লাহ ‘নিরাপদ’ বলে ঘোষণা করেছেন।

(৪) لَقَدۡ خَلَقۡنَا الۡاِنۡسَانَ فِیۡۤ اَحۡسَنِ تَقۡوِیۡمٍ
“লাক্বদ্‌ খলাক্ব্‌ নাল ইন্‌সা-না ফী আহ্‌সানি তাক্বওয়ীম্‌”
‘আমি সৃষ্টি করেছি মানুষকে সর্বোত্তম অবয়বে’।

যিনি সৃষ্টিকর্তা তিনিই জানেন সৃষ্টিসেরা কে? আল্লাহ্‌র সৃষ্ট বস্তুর মধ্যে মানুষ অপেক্ষা সুন্দর কেউ নেই। কেননা, আল্লাহ্‌ তাআলা মানুষকে জ্ঞানী, মহৎ, শক্তিবান, দ্রষ্টা, কুশলী এবং প্রজ্ঞাবান করেছেন। এগুলো প্রকৃতপক্ষে আল্লাহ্‌ তাআলার অসীম গুনাবলীর কিঞ্চিততম অংশ। তাই ঈমান ও সৎকর্মশীলতার কারনেই মানুষের এই শ্রেষ্ঠত্ব সবার উপরে নির্ধারিত। কিন্তু কাফির-মুশরিক ও পাপিষ্ঠরা সর্বোত্তম হওয়া তো দূরের কথা, এরা চতুষ্পদ জন্তুর চাইতে নিকৃষ্ট। ‘এরা জ্ঞান থাকতেও বুঝে না, চোখ থাকতেও দেখেনা, কান থাকতেও শোনে না’ (আ‘রাফ ৭/১৭৯)।

এ আয়াতে আরেকটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে গেছে যে, মানুষ শুরু থেকেই সুন্দর অবয়ব বিশিষ্ট মানুষ ছিল। সে কখনোই বানর বা অন্য কিছু ছিল না। বস্ত্ততঃ কুরআনী সত্যের সামনে ডারউইনের বিবর্তনবাদের কাল্পনিক থিওরী একেবারেই অচল ও অগ্রহণযোগ্য।

(৫) ثُمَّ رَدَدۡنٰهُ اَسۡفَلَ سٰفِلِیۡنَ
“ছুম্মা রদাদ্‌না-হু আস্‌ফালা সা-ফিলীন”,
‘অতঃপর তাকে ফিরিয়ে দিয়েছি সর্বনিম্ন স্তরে’।

এ আয়াতের অর্থ এটাও হতে পারে যে, ‘তাকে জাহান্নামে ফিরিয়ে দিয়েছি’। অর্থাৎ সর্বোত্তম অবয়ব ও সর্বোন্নত রুচি ও মর্যাদার অধিকারী হওয়ার পরেও আল্লাহ ও রাসূলের আনুগত্য না করার ফলে মানুষ পশুত্বের সর্বনিম্ন স্তরে পৌঁছে যায় এবং জাহান্নামের খোরাক হয়।

এ আয়াতের অন্য আরেকটি অর্থ হতে পারে যে, দৈহিক ও জ্ঞানগত শক্তির পূর্ণতা লাভের পর মানুষ বার্ধক্যের ন্যুব্জতা ও শীর্ণতা এবং জ্ঞানগত ত্রুটি ও স্মৃতিহীনতা ইত্যাদির মাধ্যমে নিকৃষ্টতর অবস্থার দিকে ধাবিত হয়। মানুষ শত চেষ্টা করেও তার যৌবনকে ধরে রাখতে পারে না এবং বার্ধক্যকে ঠেকাতে পারে না। এমনিভাবে শত চেষ্টা করেও সে তার মৃত্যু ও পুনরুত্থানকে ঠেকাতে পারবে না এবং পাপাচারী যালেমরা জাহান্নামকে ঠেকাতে পারবে না।

(৬) اِلَّا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا وَ عَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ فَلَهُمۡ اَجۡرٌ غَیۡرُ مَمۡنُوۡنٍ
“ইল্লাল্লাযীনা আ-মানু অ’আমিলুছ্‌ ছয়া-লিহা-তি ফালাহুম্‌ আজ্ব্‌রুন্‌ গইরু মাম্‌নুন্‌”
‘তবে তারা ব্যতীত, যারা বিশ্বাস স্থাপন করেছে ও সৎকর্ম সমূহ সম্পাদন করেছে, তাদের জন্য রয়েছে অবিচ্ছিন্ন পুরস্কার।’

এ আয়াতে সৎকর্মশীলগন মুমিনগন এর ব্যতিক্রম বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এর অর্থ এই নয় যে, মুমিন সৎকর্মী বার্ধক্য অক্ষম ও অপারগ হয় না। বরং উদ্দেশ্য এই যে, তাদের দৈহিক বেকারত্ব ও বৈষয়িক অকর্মণ্যতার ক্ষতি তাদের হয় না। বরং ক্ষতি কেবল তাদের হয় যারা নিজেদের সমগ্র চিন্তা ও যোগ্যতা বৈষয়িক উন্নতিতেই ব্যয় করেছিল। এখন তা নিঃশেষ হয়ে গেছে এবং পরকালে তাদের কোন অংশ নেই। কিন্তু মুমিন সৎকর্মীর পুরস্কার ও সওয়াব কোন সময়ই নিঃশেষ হয় না। তাদের পুরস্কার সব সময়ই অব্যাহত থাকবে।

(৭) فَمَا یُکَذِّبُکَ بَعۡدُ بِالدِّیۡنِ ؕ
“ফামা-ইয়ুকায্‌যিবুকা বা’দু বিদ্দীন্‌”
‘ অতঃপর এরপরেও কোন্ বস্ত্ত তোমাকে ক্বিয়ামত দিবসে মিথ্যারোপে প্ররোচিত করছে?’

এতে কেয়ামতে অবিশ্বাসীদেরকে হুশিয়ার করা হয়েছে যে, আল্লাহর কুদরতের উপরোক্ত দৃশ্য ও পরিবর্তন দেখার পরও তোমাদের জন্যে পরকাল ও কেয়ামতকে মিথ্যা মনে করার কি অবকাশ থাকতে পারে।

(৮) اَلَیۡسَ اللّٰهُ بِاَحۡکَمِ الۡحٰکِمِیۡنَ
“আলাইসাল্লা-হু বিআহ্‌কামিল্‌ হা-কিমীন্‌”
‘আল্লাহ কি সকল বিচারকের শ্রেষ্ঠতম বিচারক নন?’

অর্থাৎ হে হঠকারী ব্যক্তিগণ! আল্লাহ কি শ্রেষ্ঠ বিচারক নন? আর সেজন্যেই তো ক্বিয়ামত হবে। যাতে অহংকারী যালেমদের কাছ থেকে মযলূমদের পক্ষে যথাযথ বদলা আদায় করা যাবে। যালেমরা যুলুম করে পার পেয়ে যাবে, আর মযলূমরা কেবল মুখ বুঁজে যুলুম বরদাশত করে যাবে- তার কোন প্রতিদান তারা পাবে না, এটা তো ইনছাফ নয়। সেজন্য ক্বিয়ামত অবশ্যই হবে এবং ন্যায়বিচার অবশ্যই হবে। অতএব আল্লাহ কি শ্রেষ্ঠ বিচারক নন? জবাব, অবশ্যই তিনি শ্রেষ্ঠ বিচারক। এর মধ্যে যালিম, কাফির ও মুনাফিকদের প্রতি কঠোর ধমকি ও দুঃসংবাদ রয়েছে।

গোপন নথি ফাঁস: ইসলামবিদ্বেষ ছড়াতে অর্থায়ন করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত!ইউরোপীয় পার্লামেন্টের জারি করা একটি নথি অনুযায়ী, ...
06/01/2026

গোপন নথি ফাঁস: ইসলামবিদ্বেষ ছড়াতে অর্থায়ন করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত!

ইউরোপীয় পার্লামেন্টের জারি করা একটি নথি অনুযায়ী, সংযুক্ত আরব আমিরাত (UAE) ইউরোপজুড়ে গোপন ভুয়া তথ্য (disinformation) ও মানহানিমূলক অভিযান চালানোর জন্য একটি সুইস কোম্পানিকে অর্থ দিয়েছে।

তদন্তে বলা হয়েছে, এই অভিযান চালানো হয়েছে ১৮টি ইউরোপীয় দেশে, যার লক্ষ্য ছিল—

- ইসলাম ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার।

- মসজিদ ও ইসলামি সংগঠন।

- সাংবাদিক ও রাজনীতিবিদদের বিরুদ্ধে মানহানি।

📌 অভিযোগগুলোর মূল কথা হলো—

একটি পুরো ধর্মকে কলঙ্কিত করা।

মুসলমানদেরকে ইউরোপের ভেতরে “অভ্যন্তরীণ শত্রু” হিসেবে উপস্থাপন করা।

সিভিল সোসাইটি ধ্বংস করা।

ইউরোপজুড়ে মসজিদ বন্ধে বাধ্য করা।

ইউরোপীয় মুসলমানদের ভাবমূর্তি ইচ্ছাকৃতভাবে বিকৃত করা।

মানে, নথিটি দাবি করছে, আরব আমিরাত পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা খবর, ভুয়া নেটওয়ার্ক ও সাজানো রিপোর্ট ব্যবহার করে ইউরোপে ইসলামভীতি ছড়ানো হয়েছে এবং মুসলমানদের বিরুদ্ধে ঘৃণা উসকে দেওয়া হয়েছে। [mh]

সোর্স: Official 2023 parliamentary question (P-002379/23) from the European Parliament, submitted by MEP Sophia.

নিকোলাস মাদুরো শুধু ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নন; তিনি আদর্শগত, রাজনৈতিক ও নৈতিক অবস্থান থেকে প্রকাশ্যে ফিলিস্তিনের পক্ষে...
04/01/2026

নিকোলাস মাদুরো শুধু ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নন; তিনি আদর্শগত, রাজনৈতিক ও নৈতিক অবস্থান থেকে প্রকাশ্যে ফিলিস্তিনের পক্ষে দাঁড়ানো অল্প কয়েকজন লাতিন আমেরিকান নেতার একজন। তিনি ফিলিস্তিন প্রশ্নকে উপনিবেশবাদ, দখলদারিত্ব ও সাম্রাজ্যবাদবিরোধী সংগ্রামের অংশ হিসেবে দেখেন এবং গাজায় ইসরায়েলি হামলাকে মানবাধিকার লঙ্ঘন হিসেবে নিন্দা করেছেন। তার নেতৃত্বে ভেনেজুয়েলা ফিলিস্তিনের আত্মনিয়ন্ত্রণ, স্বাধীন রাষ্ট্র ও জেরুজালেমকে রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতির পক্ষে আন্তর্জাতিক মঞ্চে অবস্থান নিয়েছে, ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করেছে এবং ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।

এই অবস্থানের কারণে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়লেও, মাদুরো মনে করেন ভেনেজুয়েলা ও ফিলিস্তিন উভয়ই ভিন্নভাবে আগ্রাসনের শিকার। তাই ফিলিস্তিনের প্রতি তার সমর্থন সহানুভূতির পাশাপাশি অভিজ্ঞতার ফল। পশ্চিমা মিডিয়ায় তিনি সমালোচিত হলেও, নিপীড়িত জাতির কাছে তিনি ন্যায় ও স্বাধীনতার পক্ষে এক সাহসী কণ্ঠস্বর।

সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারিত একটি হৃদয়গ্রাহী গল্পে দাবি করা হয়েছে যে বেলজিয়ামের ৯২ বছর বয়সী এক বৃদ্ধা তার মুসলিম প্রতি...
02/01/2026

সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারিত একটি হৃদয়গ্রাহী গল্পে দাবি করা হয়েছে যে বেলজিয়ামের ৯২ বছর বয়সী এক বৃদ্ধা তার মুসলিম প্রতিবেশীদের দয়া, করুণা এবং দৃঢ় পারিবারিক মূল্যবোধ দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে ইসলাম গ্রহণ করেছেন। জানা গেছে, তাদের উষ্ণতা এবং সম্প্রীতির অনুভূতি দ্বারা প্রভাবিত হয়ে, তিনি পরবর্তী জীবনে ইসলাম সম্পর্কে অন্বেষণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, যা অনেককে মনে করিয়ে দেয় যে বিশ্বাস এবং নির্দেশনা যেকোনো বয়সে আসতে পারে।

Address

Dhaka

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Peace be Upon him posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Place Of Worship

Send a message to Peace be Upon him:

Shortcuts

Share