পরমাত্মার দর্শন

পরমাত্মার দর্শন The purpose of this page is to know the Hidden truth of Islam and importance of Ahle Bayt as

{🎥🎬💥🌁🌁💥🚢The Simpson will always show you the script before it’s play out, this is chess not checkers.
29/03/2024

{🎥🎬💥🌁🌁💥🚢The Simpson will always show you the script before it’s play out, this is chess not checkers.

{🎥🎬🌑✨🌤️🌑✨💥📲💻🖥️🏙️🌃🏙️}The Simpson will always show you the script before it’s play out, this is chess not checkers.
29/03/2024

{🎥🎬🌑✨🌤️🌑✨💥📲💻🖥️🏙️🌃🏙️}
The Simpson will always show you the script before it’s play out, this is chess not checkers.

Ignorance is removed automatically when the kriya practice is perfect. Yogiraj Lahiri Mahasaya
29/02/2024

Ignorance is removed automatically when the kriya practice is perfect.
Yogiraj Lahiri Mahasaya

29/03/2023

ইফতার বা রোজা পূর্ন করিব কখন ----

পবিত্র মাহে রমজান ।
পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে সকল ফেসবুক বন্ধুকে জানাই আন্তরিক অভিনন্দন ও সালাম ।

অবশ্যই এই আশাবাদ রইল যে , প্রত্যেকেই রমজান মাসের প্রতিটি রোজা পরিপূর্ন ভাবে পালন করবেন ।
বিশেষ করে পবিত্র কোরআনে উল্লেখিত ইফতারের সময়সূচী অনুযায়ী ইফতার বা রোজা পরিপূর্ন করবেন ।

ঈলাহী আমিন ।

প্রিয় পাঠক ,
সুবেহ সাদিক , ভোরবেলা , সকাল বেলা , দুপুর বেলা , বিকাল বেলা , সন্ধে বেলা , রাতের বেলা -- মোটামোটি এই কয়েকটি বেলা নিয়েই আমাদের দিনরাতের ২৪ ঘন্টা আবর্তীত হয় ।

এই যে রমজান মাস শুরু হচ্ছে - কখন আমাদের ইফতার করতে হবে বা রোজা পরিপূর্ন করতে হবে , এ বিষয় সুস্পষ্ট ভাবে পবিত্র কোরআনে কোথাও কি পরিষ্কার ভাবে বলা আছে ?
পৃথিবীর বেশীর ভাগ মুসলমান মাগরীবের আযান দেবার সাথে সাথে অথবা বিকেল গড়িয়ে সন্ধে আগমনের সাথে সাথে ইফতার বা রোজা পরিপূর্ন করেন ।

মোটকথা , আমাদের ইফতারের সময়টাকে রাত শুরু বলার প্রশ্নই আসে না ।
আমরা সন্ধে শুরু হওয়ার সাথে সাথে রোজা পরিপূর্ন করে ফেলি । তখন প্রকৃতিতে যথেষ্ট পরিমানে দিনের আলো বিদ্যমান থাকে ।

এবারে আসুন দেখে নেই যে ,
ইফতারের প্রকৃত সময়সূচী নিয়ে পবিত্র কোরআন কি বলে -

" ---- অতঃপর তোমরা রোজা পূর্ন কর রাত পর্যন্ত ----- " ।
সুরা - বাকারা / ১৮৭ ।

এই আয়াতে "ইলাল লাইল" শব্দ দ্বারা রোজা পূর্ন করার সঠিক সময়কে সুস্পষ্ট ভাবে বলে দেওয়া হয়েছে এবং সে সময়টা হল "রাত পর্যন্ত" ।
অর্থাৎ ইফতার করার জন্য রাত শুরু হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ।

এখন প্রশ্নটা হল যে , পবিত্র কোরআন মতে রাতের প্রকৃত সংগা কি ?

মহান আল্লাহ রাতের পরিচয় দিতে যেয়ে বলেছেন যে ,
" -- রাতের শপথ যখন উহা আছন্ন করে নেয় --- " ।
সুরা - আল লাইল / ১০ ।

রাতের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে যে , "যখন আছন্ন করে" অর্থাৎ স্বাভাবিক চোখে কিছুই দেখা যায় না ।

আর রাত শুরুর ঠিক আগের অবস্থানটিকে বলা হয় "সন্ধা" বা "শাফাক্ক" ।
আর সন্ধা বা শাফাক্কের ঠিক আগের অবস্থানটিকে বলা হয় "বিকাল" বা আছর ।
আর বিকাল বা আছরের ঠিক আগের অবস্থানটিকে বলা হয় "মধ্যাহ্ন" বা জোহর ।
আর মধ্যাহ্ন বা জোহরের ঠিক আগের অবস্থানটিকে বলা হয় "ফজর" বা সকাল ।
আর ফজর বা সকালের ঠিক আগের অবস্থানটিকে বলা হয় "ভোর" বা সুবেহ বলা হয় ।

আমরা স্বাভাবিক ভাবে রাত বলতে সাধারনত রাতকেই বুঝে থাকি ।
পবিত্র কোরআনে ১৬২ টি স্থানে রাত বা লাইল শব্দটির উল্লেখ আছে ।

পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ সময় সম্পর্কে যে সকল শব্দ উল্লেখ করেছেন তম্মধ্যে দিন , রাত, সন্ধ্যা , ভোর , মধ্যাহ্ন , বিকাল ইত্যদি উল্লেখ করেছেন ।
দিনের আরবী হল - নাহার ।
রাতের আরবী হল - লাইল ।
সন্ধার আরবী হল - শাফাক্ক ।
ভোরের আরবী হল - সুবেহ ।
মধ্যাহ্নের আরবী হল - জোহর ।
বিকালের আরবী হল - আছর ইত্যাদি ।

পাঠক ,
পূর্বেই উল্লেখ করেছি যে , সাধারনত মাগরীবের আযান দেবার সাথে সাথে অথবা বিকেল গড়িয়ে সন্ধা নামার সাথে সাথে আমরা যখন ইফতার শুরু বা রোজা পূর্ন করি তখন আর যাইহোক সে সময়টিকে পবিত্র কোরআন মতে রাত বা লাইল বলার বিন্দুমাত্র কোন সুযোগ নেই ।
কেননা পবিত্র কোরআনের পরিস্কার হুকুম যে , রোজা পূর্ন করতে হবে রাত শুরু হওয়া পর্যন্ত । কিন্ত আমরা রোজা পূর্ন করি সন্ধে হওয়া পর্যন্ত । এবং এই নিয়মটা ইসলামিক ফাউন্ডেশন কতৃক স্বীকৃত বটে ।
একজন প্রকৃত মুসলমান হিসাবে পবিত্র কোরআনের সুষ্পষ্ট বিধান মেনে চলাই সঠিক ও শ্রেয় ।
কোন হুজুর , মাওলানা সাহেবের ফতোয়া মতে নয় । কোরআন যেখানে সুষ্পষ্ট ভাবে বলে দেয় সেখানে অন্য কারও ফতোয়া মোটেও গ্রহনযোগ্য নয় ।

কারন মহান আল্লাহ ও তাঁর রাসুল (সাঃ) যা বলেন সেটা মেনে চলাই ইবাদত । এর বাইরে চলার কোন সুযোগ নেই ।

রাতকে কোনভাবেই সন্ধের সাথে মিলিয়ে দেবার সুযোগ নেই ।
সূর্যাস্তের সময়কে গুরুবিস শামস বলা হয় ।
সন্ধাকালীন সময় সূর্যাস্তের পশ্চািম আকাশে লালাভ আভা এবং কমপক্ষে ২৫ মিনিট পরে এই লাল আভা সরে গেলে পৃথিবীতে রাত নেমে আসে ।
বিকেল গড়িয়ে সন্ধার আকাশে লাল আভার দৃশ্য পরিস্ফুটিত হয় এবং পশ্চিম আকাশের এই লাল আভা মিলিয়ে যেতে সময় লাগে কমপক্ষে ২০ থেকে ২৫ মিনিট । এরপরেই রাত নামা শুরু হয় ।

সান্ধকালীন পশ্চিম আকাশের লাল আভা এবং রাতের বর্ননা পবিত্র কোরআনে সুস্পষ্ট ভাবে বলা আছে ---
" --- তাই আমি শপথ করি সন্ধার লাল রঙের (রক্তিম আভা) , এবং রাতের যা কিছু দিয়ে তা পূর্ন -----" ।
সুরা - ইনশিক্কাক / ১৬ , ১৭ ।

সবশেষে সহীহ সিত্তাহ হাদিস গ্রন্থের কিছু রেফারেন্স দেখুন --

হুমাইদ ইবনে আবদুর রাহমান (রাঃ) থেকে বর্নিত ---
" --- হযরত ওমর ইবনে খাত্তাব এবং হযরত ওসমান ইবনে আফফান উভয় মাগরীবের নামাজ আদায় করতেন । এমন সময় রাত্রির অন্ধকার দেখতে পেতেন , আর ইহা ছিল তাহাদের ইফতার করিবার পূূর্বে । অতঃপর তাহারা উভয় একসাথে ইফতার করিতেন । আর ইহা ছিল রমজান মাসে --- । "
সূত্র - মুয়াত্তা ইবনে মালিক , খন্ড - ১ , পরিচ্ছদ - ৩ , পৃ- ৩৫৮ (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) , জুন - ২০০৭ সালে প্রকাশিত ।

আব্দুল্লাহ ইবনে আওফ থেকে বর্নিত যে ,
রাসুল (সাঃ) বলেছেন - যখন দেখবে যে , পূূর্ব দিক থেকে চর্তুদিকে রাতের অন্ধকার হয়ে ঘনিয়ে আসবে তখন ইফতার করবে ।
সূত্র্র - সহীহ আল বুখারী , খন্ড - ২য় , পৃ- ২৫৬-২৫৭ , হাদিস নং - ১৮১৫ ।

ঐ একই গ্রন্থের ১৮১৫ নং হাদিসে উল্লেখ করা হয়েছে যে , সূর্যাস্তের পরে যখন পূূর্বদিক থেকে চর্তুদিক অন্ধকার হয়ে আসবে এবং দিনের আলো পশ্চিম দিক থেকে সম্পূর্ন চলে যাবে তখন রোজাদারদের জন্য ইফতারের সময় হয় ।

ঐ একই হাদিস গ্রন্থের ১৮১৮ নং হাদিসে বলা হয়েছে যে ,
রাসুল (সাঃ) বলেছেন যে , যতদিন লোকেরা সত্বর ইফতার করবে ততদিন পর্যন্ত কল্যান থেকে বঞ্চিত হবে না ।
এই কথার অর্থ এটা নয় যে , পবিত্র কোরআনে উল্লেখিত সময় হওয়ার পূর্বেই ইফতার করে ফেলতে হবে । রাত শুরু হওয়ার পরেই সত্বর ইফতার করতে হবে ।

এই হাদিস দ্বারা এটাও প্রমানিত হয় যে , রাত একটি দীর্ঘ মেয়াদের সময় ।
রাত পর্যন্ত রোজা পূূর্ন করতে বলা হয়েছে । সংগত কারনেই প্র্রশ্ন চলে আসে যে , তাহলে রাতের ঠিক কোন সময়টিতে ইফতারের সময় হিসাবে ঘোষনা দেওয়া হয়েছে ?
পবিত্র কোরআন এবং বর্নিত হাদিস দ্বারা বিষয়টি অত্যন্ত সুস্পষ্ট যে , সন্ধা গড়িয়ে পরিপূর্ন রাত শুরু হওয়া মাত্রই রোজা পূর্ন করতে হবে অর্থাৎ ইফতার শুরু করতে হবে ।
রোজার পূর্নতার জন্য অতি অবশ্যই সন্ধা পার করে রাত শুরু পর্যন্ত পৌঁছে ইফতার করতে হবে ।

পবিত্র কোরআনের এই আয়াত দুটি লক্ষ করুন --
" --- এবং একমাত্র তারাই হতভাগা যারা আমাদের আয়াত সমূহ অস্বীকার করেছে , তাদের উপর থেকে আগুন অবরুদ্ব করে ফেলবে ---" ।
সুরা - বালাদ / ১৯ , ২০ ।

" --- অতঃপর যদি কেউ (কোরআন) শোনার পর তা বদলে ফেলে তাহলে নিশ্চয়ই এর গুনাহ পড়বে তাদের উপরে যারা তা বদলাবে ---" ।
সুরা - বাকারা / ১৮১ ।

দুঃখের সাথে অপ্রিয় কথাটি বলতে বাধ্য হচ্ছি যে , বর্তমানে ভারত এবং বাংলাদেশে প্রচলিত যে সময় ইফতার করা হচ্ছে তাতে প্রতিটা রোজা ভঙ্গ হয়ে যাচ্ছে । পবিত্র কোরআনের ঘোষনা অনুযায়ী রোজা পূর্ন হচ্ছে না ।
পবিত্র কোরআন অনুযায়ী সন্ধ্যার পর অর্থাৎ পশ্চিম আকাশের লাল আভা চলে যাওয়ার পরে রাত বা লাইলের আগমন ঘটলে তারপর ইফতার বা রোজা পূর্ন করতে হবে ।

মোটকথা , আমাদের ইফতারের সময়টাকে রাত শুরু বলার প্রশ্নই আসে না ।
আমরা সন্ধে শুরু হওয়ার সাথে সাথে রোজা পরিপূর্ন করে ফেলি । তখন প্রকৃতিতে যথেষ্ট পরিমানে দিনের আলো বিদ্যমান থাকে ।

রাতের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে যে , "যখন আছন্ন করে" অর্থাৎ স্বাভাবিক চোখে কিছুই দেখা যায় না ।

মোটকথা , সন্ধ্যে আর্ভিভূত হওয়ার আরও কমপক্ষে বিশ থেকে পচিঁশ মিনিট পরেই রাতের বা লাইলের শুরু হয় । মহান আল্লাহ সুরা বাকারার ১৮৭ নং আয়াতে এই রাত শরু হওয়ার সাথে সাথে ইফতার বা রোজা পূর্ন করতে আদেশ দিয়েছেন ।

এখন আপনি পবিত্র কোরআনের বিধান অনুযায়ী ইফতার বা রোজা পূর্ন করবেন নাকি আমার মত অর্ধশিক্ষিত কাঠমোল্লার ফতোয়া মেনে রোজাটি ভেঙ্গে ফেলবেন --
সেটা আপনার একান্ত ব্যক্তিগত অভিরুচী ।

15/02/2023

আমরা এনার্জির মহাসমুদ্রে বসবাস করছি - টেসলা
স্রস্টা নিজেই এনার্জি।
তাই প্রকৃতির সমস্ত কিছুর ভিতর নির্দিশ্ট এনার্জির ছাপ নিজ থেকেই ভেসে উঠে।
সেটা গাছের পাতা, ফুল, সমুদ্রের ঢেউ অথবা মানুষের মন।

কোন কিছুই এনার্জি ফিল্ড এর বাইরে না।
এই এনার্জি বৈশিস্ট বুঝার মাঝেই ধর্ম আর সৃষ্টির নিগূর রহস্ম লুকিয়ে আছে।

আধুনিক এলিট রাজপরিবার গুলা মানব শোষনের স্বার্থেই মানুষ কে ভুলিয়ে ভালিয়ে সত্যি থেকে দূরে রাখতে চায়। আর ধর্মান্ধতা চাপিয়ে দিতে চায়।

কোথাও ঘুরে না বেড়িয়ে নিজের জায়গায় বসে অন্তর্মুখী হয়ে ধ্যানের গভীরে, জ্ঞানের গভীরে, প্রেমের গভীরে অথবা সেবার গভীরে ড...
08/11/2022

কোথাও ঘুরে না বেড়িয়ে নিজের জায়গায় বসে অন্তর্মুখী হয়ে ধ্যানের গভীরে, জ্ঞানের গভীরে, প্রেমের গভীরে অথবা সেবার গভীরে ডুবেও অমৃততত্ত্বের সন্ধান পাওয়া যায়। আর অমৃততত্ত্ব লাভ করেছেন এমন কোন সাধককে কেন্দ্র করে আবার একটা পরিমণ্ডল গড়ে ওঠে। মধুর লোভে — সুগন্ধে মত্ত অলিকুল বা ভ্রমররা যেমন পুষ্পের চারিদিকে গুঞ্জন করে বেড়াতে থাকে, তেমনি যাঁর আত্মজ্ঞান হয়েছে বা যাঁর মধ্যে অন্তত প্রেমের সঞ্চার হয়েছে, তাঁকে কেন্দ্র করে কিছু ভক্তমণ্ডলী গড়ে উঠবেই। এই পবিত্র মানুষটিকে কেন্দ্র করে পরবর্তীকালে সেই স্থানের ভূমিও পবিত্র হয়ে উঠবে উত্তরসূরিদের কাছে। এইভাবে জন্ম নেয় নতুন নতুন তীর্থক্ষেত্র ধরণীর বুকে।

______________________________________________

আধ্যাত্মিক দৃষ্টিতে দেখলে তীর্থস্থানগুলি যেন এক একটা Power-station। ঈশ্বরের মহিমা যেমন জগৎ-ব্যাপী, তাকে সাধনের দ্বারাই উপলব্ধি করতে হয়, তেমনি ঈশ্বরের করুণাও জগতে পরিব্যাপ্ত জীবসকলকে সাহায্য করার জন্য। তীর্থস্থানে যেন ঈশ্বরের করুণালাভের জায়গা, অন্যস্থানেও পাওয়া যায় — এখানে যেন অনায়াস লভ্য। মহাপুরুষগণ তীর্থস্থানে গেলে তাঁর নিজস্ব positivity থেকে ঐ স্থানকে charged করে দেন — যার সুফল সাধারণ তীর্থযাত্রীরা পায়। এখানে যে সাধকগণ থাকেন তাঁদের সাধন-ভজন ঐ field-কে পুষ্ট করে। ফলে জ্ঞানে-অজ্ঞানে এঁরাও মানব-কল্যাণকারী। তবে মজার ঘটনা হল কোন তীর্থস্থানের সঞ্চিত positive charge আবার কোন উপযুক্ত আধারকে দিয়ে দেওয়া হয় — এটা নিয়ন্ত্রণ করেন আধ্যাত্মিক গুরুকুল। সে এবার এটাকে গ্রহণ করে মানবকল্যাণে সমাজের বিভিন্ন স্তরে তা বিলিয়ে দেন।

— স্বামী পরমানন্দ
[কথা-প্রসঙ্গে চতুর্থ খণ্ডের নির্বাচিত অংশ]

স্বামী পরমানন্দ : জীবন ও প্রেরণা                                                    জিজ্ঞাসা :— উপবাস ও তার আধ্যাত্মিক দ...
03/10/2022

স্বামী পরমানন্দ : জীবন ও প্রেরণা
জিজ্ঞাসা :— উপবাস ও তার আধ্যাত্মিক দিক নিয়ে গুরুমহারাজ কী আলোচনা করতেন, যদি অনুগ্রহ করে জানান? উপবাস পালন করলে কি প্রকৃত ব্রত হয়?

জয়দীপ মহারাজ :— হ্যাঁ, গুরুমহারাজের সাথে উপবাস নিয়ে অনেক কথা হয়েছে। কখনও উপবাস করতে গিয়ে একটু বাড়াবাড়ি করে ফেললে গুরুমহারাজ স্নেহভরে উপবাস করার নিয়ম বুঝিয়েছেন। উপবাসের সাথে স্বাস্থ্যের যোগ আর স্বাস্থ্যের সাথে সাধনার যোগ। বেশিরভাগ মানুষই উপবাস করার সময় সাধনার কথা ভাবে না, বাড়ির বড়দের কাছ থেকে শিখে করতে শুরু করে, নিয়মের মত করতে হয় বলে করে। সাধারণত মঙ্গলবার, বৃহস্পতিবার, শনিবার, একাদশী, সংক্রান্তি, পূর্ণিমা, অমাবস্যা — এই সমস্ত দিনে তারা উপবাস করে থাকে। উপবাস করে তাদের সেভাবে ধ্যান, জপ, স্মরণ, মনন করতে দেখা যায় না। উপবাসের মূল উদ্দেশ্য শরীরকে একদিন বিশ্রাম দেওয়া। আমরা যেমন সপ্তাহের ছয় দিন কাজ করে একদিন ছুটি নিই, বাইবেলের গড পর্যন্ত এই বিশ্বজগত সৃষ্টি করে সপ্তম দিনে বিশ্রাম নিয়েছিলেন, তেমনি শরীরেরও মাঝে মাঝে বিশ্রামের প্রয়োজন হয়। সারাদিনে শরীরে আমরা যেভাবে তিন চারবার করে খাদ্য ঢোকাচ্ছি সেই তুলনায় শরীরটা নিজেকে পরিষ্কার করতে পারছে কিনা সেই বিষয়ে যথেষ্ট খেয়াল রাখি না। এর ফলে শরীরে অতিরিক্ত বিকার সৃষ্টি হয় এবং রোগের উপসর্গ দেখা যায়। মানুষের সকল রোগের উৎস পেট, কারণ আমরা শরীরের বর্জ্যকে পুরোপুরি পরিষ্কার করি না। উপবাসের মূল তত্ত্বই হল একদিন বা একবেলা কিছু না খেয়ে শরীরকে পরিষ্কার হতে সুযোগ দেওয়া। যখন কেউ দিনের পর দিন ঠেসে খেয়ে হঠাৎ একদিন কিছু না খেয়ে পুরোপুরি উপবাস করে তখন শরীরের উপর অতর্কিত আক্রমণ করা হয়। উপবাসের বিজ্ঞান অনুযায়ী একটু একটু করে খাদ্য কমিয়ে উপবাসের জন্য শরীরকে প্রস্তুত করা। আগে যেমন চারবেলা খেতে তেমনই হয়তো খাচ্ছ কিন্তু ধীরে ধীরে খাদ্যের পরিমাণ কমাচ্ছ। একসময় চারবেলা থেকে কমিয়ে হয়তো তিন বেলা খাচ্ছ, ধীরে ধীরে কমাতে কমাতে দুবেলা এবং আরও পরে একবেলা খাচ্ছ — এভাবেও কমানো যায়।

প্রথম দিকে উপবাস করলে বেশি করে ফল খেয়ে শরীরকে সইয়ে নিতে দিতে হয়। এভাবে করতে করতে একদিন কিছু না খেয়ে পুরোপুরি উপবাস করে কাটানো যায়। নির্জলা উপবাস করা কিন্তু স্বাস্থ্যের পক্ষে মোটেও ভালো নয়। ঘর পরিষ্কার করার জন্য আমরা যেমন বেশি করে জল ব্যবহার করি তেমনি শরীরের ভেতরের কলকব্জাগুলোকে পরিষ্কার করতেও বেশি পরিমাণে জল খেতে হবে। তাই জল না খেয়ে নির্জলা উপবাসের বড়াই করা মোটেও কাঙ্ক্ষিত নয়। শরীরকে মায়ের মত করে যত্ন করে নতুন অভ্যাসের সাথে পরিচয় করাতে হয় এবং সেই অভ্যাসের এক উদ্দেশ্য থাকবে। আনুষ্ঠানিকভাবে উপবাস করে যাওয়া বা উপবাস করা ভালো বলে না করে শরীরের চরিত্র বুঝতে হবে। উপবাস করা যেমন ভালো তেমনি কারুর কারুর শরীরে বেশি গ্যাপ দিয়ে খাওয়াও ভালো নয়। এমন শরীরও আছে যারা কয়েক ঘন্টা না খেলে ক্ষুধাকষ্টে অতিষ্ট হয়ে যায়, গ্যাসের সমস্যা দেখা যায় এবং শরীরে পিত্তি পড়ে। তাই উপবাসের ক্ষেত্রে সবদিক ভেবে আমাদের সচেতন থাকতে হবে।

হঠযোগ বলে এক ধরনের যোগ আছে। হঠযোগের মাধ্যমেও ব্রহ্মজ্ঞান হয়। গুরুমহারাজের কাছে শুনেছি লোকনাথ ব্রহ্মচারী হঠযোগে সিদ্ধ ছিলেন। হঠযোগের দর্শন অনুযায়ী মনের জন্য আলাদা করে কোন সাধনা করার প্রয়োজন নেই, শরীরকে যদি সম্পূর্ণ মলমুক্ত করা যায় তাহলে সেই শরীরেই ভগবত শক্তির পূর্ণ প্রকাশ দেখা যাবে। হঠযোগের মতে আমাদের সকল বাধা মূলত স্থূল। বিভিন্ন যোগ পরম্পরাতে বলা হয়, আমাদের শরীরের শক্তির চ্যানেলগুলো যে ব্লকড হয়ে আছে তার প্রধান অন্তরায় মন, কিন্তু হঠযোগীদের মতে শরীরের বিকার থেকেই মনের বিক্ষেপ তৈরি হয়। শরীরে শক্তির চ্যানেলগুলো ব্লক হয়ে আছে কারণ আমাদের শরীর সম্পূর্ণ নির্মল নয়। তাই হঠযোগীরা যোগ সাধনা এবং নেতি ধৌতীর মাধ্যমে শরীরকে সম্পূর্ণ মলমুক্ত করতে চেষ্টা করেন এবং এই প্রক্রিয়াতে তাঁদের সাধনার একটি বড় অঙ্গ হচ্ছে উপবাস। ধীরে ধীরে তাঁরা তাঁদের এই সাধনার ফল পান।

হঠযোগীরা অনেক সময় একুশ দিন, এক মাস, দেড় মাস কোন খাবার না খেয়েও থাকেন। এইরকম কৃচ্ছসাধন করার পরেও তাঁরা সম্পূর্ণ সুস্থ শরীরে সাধনা করে যান। তাঁরা নিয়মিত আসন, নেতি, ধৌতি করে যান কিন্তু কোন খাদ্য গ্রহণ করেন না। এমনকি ধীরে ধীরে জল খাওয়াও কমিয়ে দেন। কিন্তু এই অবস্থায় পৌঁছতে দীর্ঘদিন ধরে তিল তিল করে শরীরকে অভ্যস্ত করাতে হয়। প্রথমে হয়ত এক মাসে একবেলা উপবাস করেন, এভাবে বেশ কিছুকাল করার পর হয়ত এক মাসে একদিন উপবাস করেন, তারপরে হয়তো পনেরো দিনে একবার, তারপর সাত দিনে একবার, ক্রমে সাত দিনে দুবার — এইভাবে পর্যায়ক্রমে শরীরকে সওয়াতে সওয়াতে শরীরকে এক ধরনের নিয়ন্ত্রণের মধ্যে নিয়ে আসেন। এর পাশাপাশি হঠযোগীদের অনেকে খণ্ডযোগও জানেন। তাঁরা নেতি ধৌতিতে এতটাই দক্ষ যে নিজের শরীরের কিছু কিছু অঙ্গকে বাদবাকি শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে পরিষ্কার করতে পারেন। এমন হঠযোগীও আছেন যাঁরা শরীর থেকে ইন্টেস্টটাইনকে বার করে ধুয়ে পরিষ্কার করে আবার প্রতিস্থাপিত করতে পারেন। সিরডির সাঁই বাবা খণ্ডযোগে সিদ্ধ ছিলেন। হঠযোগীরা বেদ, উপনিষদ ও জ্ঞান চর্চার প্রয়োজন অনুভব করেন না কারণ তাঁরা মনে করেন যে শরীর পুরোপুরি শুদ্ধ হলে আমাদের মনও আপনিই শুদ্ধ হয়ে যাবে। তখন স্বাভাবিকভাবেই জ্ঞান হয়ে যাবে কারণ পরম সত্য বা ব্রহ্মতত্ত্ব শুদ্ধ মনের গোচর। অতএব উপবাসের আসল উদ্দেশ্য হচ্ছে সাধনা।

আমাদের মত সাধারণ মানুষেরা যেহেতু এই ধরনের কঠোর সাধনা করব না তাই আমাদের উপবাসের উদ্দেশ্য হচ্ছে স্বাস্থ্য। স্বাস্থ্য ভালো থাকলে তবেই আমরা সুস্থ শরীরে ঈশ্বরকে স্মরণ করতে পারব, ঈশ্বরের নাম গান করতে পারবো, ভালো করে ধ্যান জপ করতে পারবো। এর জন্য শরীরকে মাঝে মাঝে বিশ্রাম দেওয়া ভালো।

একাদশী, অমাবস্যা বা পূর্ণিমার দিনে চাঁদের শক্তি বৃদ্ধি পায়। নদীতে জোয়ার-ভাটায় আমরা সেটা টের পাই। ঠিক একই রকমের প্রতিক্রিয়া আমাদের শরীরেও হয়। আমাদের শরীরের জলতত্ত্ব স্ফীত হতে শুরু করে, তাই যাদের ইউরিক অ্যাসিড বা বাতের সমস্যা আছে, তারা এই বিশেষ দিনগুলোতে শুকনো খাবার খেলে শরীর ভালো থাকে। শরীরের জল তত্ত্বের অতিরিক্ত স্ফীতি থেকে তারা রক্ষা পায়।

তুমি যে ব্রতের কথা বলছো, আমি ধরেই নিচ্ছি কোন বিশেষ সংকল্প নিয়ে সে করছে। এমনিতে যখনই আমরা কোন সংকল্প করি এবং কোন কিছুকে কার্যকরী করার চেষ্টা করি তখন যত শুদ্ধ মনে আমরা প্রার্থনা ও সংকল্প করতে পারব তত সেই সংকল্প ফলদায়ী হবে। স্বাভাবিকভাবে যখন আমরা ব্রতের মাধ্যমে খাদ্য সংযম করি, সহজপাচ্য খাবার খাই এবং পরিমিত ভোজন করি, তাতে শরীর ভালো থাকে। সেই শরীরে যদি কারুর কল্যাণ বা মঙ্গলের প্রার্থনা ওঠে, তাতে বেশি কাজ হবে। তার এনার্জি বেশি নিক্ষিপ্ত হবে এবং ইউনিভার্স তখন সেটাকে বেশি গ্রহণ করবে। নইলে অতিরিক্ত খাওয়ার জন্য বা মিতাহারের জন্য যদি কেউ হাঁসফাঁস করতে করতে ব্রত পালন করে তাহলে তার শরীরের ভারসাম্যের অভাব তৈরি হবে। নিজের শরীর শৃঙ্খলিত না হলে কী করে সে আরেকজনের জন্য প্রার্থনা করতে পারবে? কী করে সে নিজের এনার্জি দিতে পারবে?

তাই কোন কিছুরই অতি ভালো নয়; অতিভোজনও নয়, অতি নিগ্রহও নয়। ভেতর থেকে হয়ত খেতে ইচ্ছা করছে কিন্তু তুমি যদি দিনের পর দিন জোর করে নিজের ইচ্ছাকে দমন করো, তাহলে এর থেকেও রোগের জন্ম হতে পারে। আমাদেরই প্রতিনিয়ত শুনতে হয় — আপনারা কি আমিষাসী নাকি নিরামিষাসী? ভেজিটারিয়ালিজম এবং ননভেজিটেরিয়ানিজম তো ছিলই, এখন আবার ভেগানিজমের মতবাদও তৈরি হয়ে গেছে। মতবাদের যেহেতু কোন স্বাদ নেই তাই মতবাদ না গিলে আনন্দ সহকারে কৃতজ্ঞচিত্তে প্রসাদ জ্ঞানে আস্বাদ নিয়ে খাওয়াই ভালো। তা না করে যদি আমরা মতবাদ চিবোতে চিবোতে শরীরে ইজমের বোঝা চাপাই তাতে করে বোঝাই বাড়বে। এইসবের মূল কারণ আমরা শরীরের দিকে তাকাচ্ছি না। সহজ মানুষ শরীরের দিকে তাকাবে এবং শরীরের চাহিদাকে বোঝার চেষ্টা করবে। খিদে পেলে খাও কিন্তু খিদে না পেলে শুধুমাত্র খাওয়ার সময় হয়ে গেছে বলে খেও না। নিউট্রিশনের চার্ট রাখার আগে শরীরের উপর বিশ্বাস রাখতে হয় এবং শরীরকে নিরীক্ষণ করতে হয়।

ঠাকুর রামকৃষ্ণ একবার বললেন, ‘অমুককে দেখলাম একাদশী করছে আর কুমড়োর ছক্কা দিয়ে লুচি খাচ্ছে। আমারও তখন মনে হল, আমিও একাদশী করব, কুমড়োর ছক্কা দিয়ে লুচি খাব। একাদশী করার পর এমন পেট খারাপ হয়ে গেল যে পাঁচ দিন বিছানা থেকে উঠতেই পারলাম না।’ এই কথাটার মধ্যে যেমন সরস কৌতুক আছে তেমনি এক চরম শ্লেষও আছে।

খাদ্যেও বৈচিত্র দরকার। প্রতিদিন একই পদ খাওয়াকে শরীরের পক্ষে খুব ভালো বলে মনে হতে পারে কিন্তু একই খাবার খেতে খেতে শরীর কেবলমাত্র ওই খাবারেই অভ্যস্ত হয়ে ওঠে, অন্য কোন জায়গায় অন্য ধরনের খাবার খেলেই শরীর সেটাকে আর গ্রহণ করতে পারে না। সুতরাং রোজ ভাত খেতে খেতে যদি একদিন আটা বা ময়দার কিছু খেতে ইচ্ছা করে সেটা ভালো। কিন্তু নিজের সাথে হঠকারিতা করা উচিত নয়। অনেক বৈষ্ণবরা বলে, অমুকের বাড়িতে গিয়ে আমরা অন্ন গ্রহণ করি না কিন্তু লুচি, পরোটা, তরকারিতে কোন আপত্তি নেই। এর মধ্যে স্বাস্থ্যের ইঙ্গিত নেই। স্বাস্থ্য এবং শরীরবিজ্ঞান বুঝে উপবাস করতে হয়। খাদ্যের সাথে সরাসরি ধর্মের সম্পর্ক নেই, সাধকদের ক্ষেত্রে খাদ্যের সাথে সাধনার সম্পর্ক আছে। সুতরাং মাসে একবার বা দুবার উপবাস করা ভালো কিন্তু পর্যাপ্ত পরিমাণে জল খেয়ে যেতে হবে। শরীর যত হালকা থাকবে তত সাধনায় গতি আসবে।

উপবাস যেন ঘোরতর সংস্কার না হয়ে ওঠে সেদিকেও লক্ষ্য রাখতে হবে। আবার উপবাসকে অবৈজ্ঞানিক ভাবা, উপবাস করলে শরীরে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা হয়, এই ভাবনা থেকেও মুক্ত হতে হবে। যদি কেউ জল, হালকা ফল বা ঠাণ্ডা দুধ খায় তাহলে তার এই উপসর্গগুলো হবে না

জিজ্ঞাসা :— কোনো মানুষের খারাপ ভাব কিভাবে পজিটিভ চিন্তাতে পাল্টাতে পারবো, দয়া করে একটু বলবেন?জয়দীপ মহারাজ :— আপনার কাছ...
01/10/2022

জিজ্ঞাসা :— কোনো মানুষের খারাপ ভাব কিভাবে পজিটিভ চিন্তাতে পাল্টাতে পারবো, দয়া করে একটু বলবেন?

জয়দীপ মহারাজ :— আপনার কাছে খারাপ ভাব এবং পজেটিভ চিন্তার সংজ্ঞা কী? আমরা জানি যে ভালো-খারাপ আপেক্ষিক, স্থান-কাল-পাত্র বিশেষে এর রকমফের হয়। তবু আলোচনা সাপেক্ষে আমরা বলতে পারি, যে চিন্তা আমাদের মনকে নিম্নমুখী করে এবং আমাদের শরীর ও মনের শক্তিক্ষয়ের কারণ হয় সেটা অশুভ আর যে চিন্তা আমাদের মনকে শক্তি দেয় এবং আমাদের চেতনাকে ঊর্ধ্বগামী করে, সেটা আমাদের পক্ষে শুভ। খারাপ ভাব বলতে আপনি নিশ্চয়ই মনকে যা কিছু নিম্নগামী করে, স্থূলের দিকে নামিয়ে আনে এবং পরবর্তীকালে গ্লানির মেঘ তৈরি করে সেটাকেই বলছেন।

প্রথমে অন্য কারুর খারাপ চিন্তাকে পজিটিভ চিন্তাতে রূপান্তরিত করার আগে আপনার নিজের মধ্যে সেই ক্ষমতা এসেছে কিনা দেখুন। নিজের ক্ষেত্রে যদি আপনি নেগেটিভ চিন্তাকে পজিটিভ চিন্তাতে রূপান্তরিত করতে পারেন তাহলে একদিন হয়ত অপরকেও সেই ব্যাপারে সাহায্য করতে পারবেন। আমরা নানাভাবে নিজের ওপর এক্সপেরিমেন্ট করে কোন্ পদ্ধতিতে সফল হই সেটা দেখতে পারি। ব্রহ্মচারী অবস্থায় গুরুমহারাজের সান্নিধ্যে প্রতিদিন ওঁর কথা শুনতাম এবং সাধনা করতাম, তাও প্রকৃতির ধর্ম অনুযায়ী আমাদের মধ্যে তামসিক ভাব চলে আসতো, কখনো কামনার বেগ জাগতো। তাই নিয়ে আত্মগ্লানিও হতো। গুরুমহারাজের সামনে বসতে লজ্জা হতো। এটা অনুভব করে গুরুমহারাজ একবার আমাদের বলেছিলেন, ‘তোদের ব্রহ্মচর্য পালন করতে অসুবিধা হচ্ছে? কী হয়? Erotic চিন্তা আসে? তখন কোন রমণীকে কাছে পেতে ইচ্ছে করে? ভোগ করতে ইচ্ছে করে? Freely আমাকে বল, আমারও তো হয়েছে। তখন আমি কী করি বলতো? আমার মনে হয়, আমার তো অসীম শক্তি। শুধু একজন রমণী কেন, জগতের যত নারী আছে তাদের সকলের সাথে রমন করি। আর শুধু রমণীই বা কেন, এই পুরো জগতই তো প্রকৃতিস্বরূপা। নারী-পুরুষ, জীবজগৎ, গাছপালা, আকাশ, মাটি, নদী সবই তো প্রকৃতি। এই গ্যালাক্সি, বিশ্বব্রহ্মাণ্ড সবই তো ডাইনামিক, সবই তো শক্তির খেলা, সবই তো রমণের জন্য উন্মুখ। এই ভেবে আমি বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের সাথে রমণ শুরু করি এবং সমাধিস্থ হয়ে যাই।’ এখানে রমণ বা কামের বিষয়কে সরানো হলো না, তার মুখ ঘুরিয়ে দেওয়া হলো। এটা একটা উপায়।

আরেকটা উপায় হলো, স্থূলভাবে যখন নারী পুরুষ উভয়েই কাম চরিতার্থ করছি, তখন স্থূল শরীরের সুখ পাচ্ছি। কিন্তু সূক্ষ্ম শরীর, কারণ শরীর এবং ত্রিগুণাতীতের পারে অপ্রাকৃত আমিকে তখনো স্পর্শ করতে পারছি না। অতএব নিম্নচক্রে রমণ সুখ হলে সেটা কেবল শারীরিক। আরেকটু উচ্চচক্রে হলে শরীরের পাশাপাশি সেটা মন ও হৃদয়ের, আরও উচ্চচক্রে হলে সেটা কারণ এবং আধ্যাত্মিক। এভাবে ঊর্ধ্বতর পর্যায়ে উঠতে উঠতে শেষ পর্যন্ত যদি পূর্ণ রমণ হয়, যাকে বলা হয় রাস, সেটা সহস্রার চক্রের এক রোমাঞ্চ। এই উল্লাসকে বলা হয় উজ্জ্বল রস। এর অর্থ স্থূলে আমরা যে রস পাই সেটা অমৃত রসের হালকা আভাস মাত্র। সুতরাং সামান্য একটু শারীরিক সুখের আশা এবং সেই জনিত ক্ষয় ও ক্লান্তির থেকে রেহাই পেতে আমরা যদি রসের উৎসের দিকে এগোতে পারি তাহলে আনন্দ সহস্রগুণ বৃদ্ধি পাবে। এটাই একদিন আপনাকে আপনার চরম ঠিকানায় পৌঁছে দেবে। অতএব আকাঙ্ক্ষা ও বিচার যেই পাল্টে যাবে অমনি শক্তির দিশা পাল্টে ঊর্ধ্বগামী হতে চাইবে। এটা রূপান্তরের আরেকটা কলা।

সঙ্গ, সান্নিধ্য এবং ব্রহ্মচর্য সাধনার দ্বারা আমরা যারা চিত্ত নির্মল করার চেষ্টা করতাম তাদের উদ্দেশ্যে গুরুমহারাজ বলতেন, ‘যখন প্রচণ্ড কামভাব জাগবে তখন মা সারদার চিন্তা করবি। মা সারদার জীবন এবং ছবিতে এমনই এক নির্মল মাধুর্য ও স্নেহের স্পর্শ আছে যে যতই কামের বেগ আসুক না কেন সেটা নির্বাপিত হয়ে যাবে। মাধুর্যে বা মধুর রসে সারেণ্ডারের ভাব আসে আর কামের ভাবে পৌরুষের ভেদ করার দম্ভ কাজ করে। মা সারদার ছবি চিন্তা করলে এই ভাব সম্পূর্ণ অন্তর্হিত হবে এবং সন্তান ও শিশু ভাব চলে আসবে। নারী শুধু রমণী নয়, জননীও। সেটা তখন প্রধান হয়ে উঠবে।’

তৃতীয়ত নিজেকে একটা উদ্দেশ্য দিন। কেন আপনি আপনার খারাপ ভাবকে পজেটিভ চিন্তায় রূপান্তরিত করতে চান? আরেকজনের খারাপ চিন্তাকে পজেটিভ চিন্তাতে রূপান্তরিত করার দায় অনুভব করছেন কেন? যদি না তার কোন উদ্দেশ্য থাকে, সেই পজেটিভিটি তাকে কোথায় নিয়ে যাবে? যে কোন মুহূর্তে পজেটিভিটির জ্বালানি শেষ হয়ে নেগেটিভিটি চলে আসবে। আর পজেটিভকে আমন্ত্রণ করা মানেই তো নেগেটিভকেও আমন্ত্রণ করা। খুশি থাকার চেষ্টা করলে অখুশি থাকারও দাম দিতে হবে। খুশি-অখুশি, পজিটিভ-নেগেটিভ এগুলো কোনটাই উদ্দেশ্য নয়। এগুলো পথ চলার পাথেয়। আগে নিজের উদ্দেশ্য ঠিক করুন। পূর্ণতা সাধন, ঈশ্বর দর্শন, জ্ঞান লাভ হোক আপনার উদ্দেশ্য। এই উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে প্রতিটি ভাবের দিশা ঘুরিয়ে দিন। সাময়িকভাবে পজেটিভ ভাব হয়তো কাজে দিতে পারে কিন্তু পজেটিভ নেগেটিভের পারে এই বিষয়। বিষয় নির্বিষয়ে লয় হবে। আমাকে যদি বলা হয় ‘বিষ্ণু স্বয়ং এসে তোমাকে অমৃত দেবেন, তাতে তুমি মৃত্যুকে জয় করতে পারবে কিন্তু তোমাকে কমলালেবুর রস খাওয়া ছাড়তে হবে।’ এবার আমার সামনে হয়তো সুন্দর করে সাজিয়ে কমলালেবুর রস রাখা আছে কিন্তু কবে অমৃত পাবো তার কোন ঠিক নেই। কমলালেবুর রস দেখে আমার খেতে ইচ্ছা করছে কিন্তু আমি মনকে বোঝাচ্ছি — এটা খেয়ো না, এটা খেলে অ্যাসিডিটি হবে, এর থেকে অমৃত অনেক সুস্বাদু। এতে কাজ হবে না। যদি বলা হয়, সেই অমৃতের স্বাদ মনে আছে? দ্যাখো দেবতারা পেয়েছেন, অমুক পেয়েছেন, তোমার মধ্যেও সম্ভাবনা আছে, তুমিও পেতে পারো। তখন কমলালেবু খাওয়ার ইচ্ছে দূর হবে। এভাবে জীবনের বড় উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে এগোতে হবে।

গুরুমহারাজ বলতেন যে পশু, পাখি, মানুষ জগতের সকলেই নেশা করে। মানুষ যেমন নেশার টানে মদ, গাঁজা, খৈনি, পান, জরদা খায়, তেমনি কারুর নেশা হয়ত টাকাতে, ক্যারিয়ারে, ইন্টারনেটের গেমে, জুয়াতে, খেলাধুলোয়, সাহিত্যে, সঙ্গীতে আবার কারুর নেশা সমাধিতে। আমাদের শুধু নেশার কোয়ালিটি দেখতে হবে। নেশা করে কি আমার চেতনা নিম্নগামী হচ্ছে? নাকি নেশা করে আমি দিব্যানন্দে বুঁদ হয়ে যাচ্ছি? তাই কারুর নেশা ছাড়াতে হলে তাকে আরও বড় নেশা ধরিয়ে দিতে হবে। ঈশ্বরকথা বা সাধুসঙ্গে উজ্জ্বল রসের আভাস বেশি। তাই কাউকে যদি ঈশ্বরের নেশা ধরিয়ে দেওয়া যায় তাহলে স্থূল জাগতিক নেশার মজা কমতে কমতে একসময় উধাও হয়ে যাবে। সুতরাং জোর করে নেগেটিভ চিন্তা সরানোর চেষ্টা না করে মহৎ উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে চিন্তার ধারা পাল্টে দিন। নিজের জীবনেও তাই করুন, অপরের জীবনেও এটাই প্রেরণা হয়ে উঠুক।

মায়াজিজ্ঞাসু :— মায়া কী জিনিস? আমাদের আত্মার সাথে পরমাত্মার সম্পর্ক কী, দয়া করে বুঝিয়ে দিলে ভালো হয়।জয়দীপ মহারাজ :...
10/09/2022

মায়া

জিজ্ঞাসু :— মায়া কী জিনিস? আমাদের আত্মার সাথে পরমাত্মার সম্পর্ক কী, দয়া করে বুঝিয়ে দিলে ভালো হয়।

জয়দীপ মহারাজ :— (হাতে গ্লাস তুলে নিয়ে) এই গ্লাসটি একটি জিনিস আর মায়া এক তত্ত্ব, মায়া এক দার্শনিক অভিধা। প্রথমেই আমাদের শব্দ সম্পর্কে সচেতন হতে হবে। আমরা জড় পদার্থকে ‘জিনিস’ বলি, আর যে থিওরি নিয়ে সাধু সন্ত ঋষি মুনিরা অনেক তর্ক বিতর্ক করেছেন সেগুলোকে আমরা তত্ত্ব বা ভাব বলি। মায়া শব্দটিকে ভাঙলে পাওয়া যায় মা + ইয়া। ‘মা’ মানে ‘না’, আর ‘ইয়া’ মানে ‘হ্যাঁ’। যা নেই অথচ আছে বলে মনে হচ্ছে এবং যা আছে অথচ নেই বলে মনে হচ্ছে তাকেই বলে মায়া। কিভাবে আমরা আছে এবং নেই এর বিচার করব? অস্থায়ী এবং চিরস্থায়ীর নিরিখে। আমাদের শরীর কি চিরস্থায়ী? না, শরীরকে একই অবস্থায় অনন্তকাল আটকে রাখা যাবে না। আমাদের শরীরের প্রতিটি কোষ, কলা, স্নায়ু, মলিকিউলস ও অভ্যন্তরীণ গতিপ্রকৃতিকে আমরা হুবহু আরেক মুহূর্ত ধরে রাখতে পারব না। আমাদের জ্ঞাতসারে অথবা অজ্ঞাতসারে প্রতি মুহূর্তেই শরীর পাল্টাচ্ছে। ফলস্বরূপ একটি শিশু পর্যায়ক্রমে বালক, কিশোর, তরুণ, যুবক থেকে প্রৌঢ় হচ্ছে।

প্রতিমুহূর্তে যার পরিবর্তন হচ্ছে এবং একদিন যার মৃত্যু হবে, তার কি আসলে কোন অস্তিত্ব আছে? সমুদ্রের ঢেউয়ের মাথায় ফেনা উঠছে, বুদবুদ তৈরি হচ্ছে এবং কয়েক সেকেণ্ডের মধ্যে মিলিয়ে যাচ্ছে, আরও কয়েক সেকেণ্ডের মধ্যে ঢেউটাই মিলিয়ে যাচ্ছে। তাহলে ঢেউটা কি সত্য? এটাই ঋষিরা বিচার করেছেন। শরীরও তেমনি সামান্য ঢেউ মাত্র। একটা নাম, ধাম, পরিচয় নিয়ে শরীররূপী ঢেউ উঠেছে। স্রোতের টানাপোড়েনে যেমন ঢেউ তৈরি হয়ে বড় হয় এবং ভাঙতে শুরু করে শেষে মিলিয়ে যায় আমাদের জীবনটাও তেমনি। আমরাও ছোট থেকে যত বড় হই তত বলশালী হয়ে উঠি, শরীরে বল থাকলে মনেও বল বাড়ে, তখন সবাইকে দেখিয়ে দেবার অহমিকা চলে। বয়স বাড়ার সাথে সাথে শরীর দুর্বল হয়, মনোবল ভাঙে, তখন আর ভালো দেখতে পাই না, শুনতে পাই না, হাঁটাচলা করতে সাহায্য নিতে হয়। তাহলে প্রশ্ন উঠবে, এই শরীরের কি আদৌ কোন অস্তিত্ব আছে? অস্তিত্ব আছে বলে মনে হচ্ছে; আজকে শরীর আছে, কালকে নেই। জন্মের কিছু বছর পর মৃত্যু হল, সেখানেই কি শেষ হয়ে গেল? এমন কিছু কি আছে যার মৃত্যু নেই? যার ক্ষয় নেই? এমন কিছু কি আছে যা বাড়ে না, কমে না? যার শক্তি বৃদ্ধি অথবা হ্রাস হয় না? এটাই জীবনের খোঁজ। অতএব যা চিরস্থায়ী নয় তাকেই যখন চিরস্থায়ী বলে মনে হয় সেটাই মায়া। পাহাড়, পর্বত, নদী, নালা, সমুদ্র, প্রকৃতি, শহর, গ্রাম — কোন কিছুই কালান্তরালে অবিকৃত থাকে না। আজ থেকে পাঁচ হাজার বছর আগে এই গ্রামটি হয়তো অজয় নদ ছিল। নদী সরে গিয়ে চর উঠেছে বলেই গ্রামটি তৈরি হয়েছে। আবার আজ থেকে পাঁচ হাজার বছর বাদে এই গ্রামটি কি থাকবে? এটাই ঋষিদের খোঁজ।

যা নিত্য, শাশ্বত নয় সেই নিয়েই আমরা পড়ে আছি এবং সেটাকেই বাস্তব বলছি। জাগতিকতায় আঁকড়ে থাকা মানুষ বলবে, ‘ওসব ধম্মকম্ম করে কী হবে? বাস্তব নিয়ে থাকো।’ ওদের বাস্তব মানে যা চিরন্তন নয়, যেটাকে ধরে আমার কোন লাভ নেই, যেমন ঘর বাড়ি টাকা পয়সা সম্পত্তি চাকরি ইত্যাদি যেগুলো কোনদিনই আমাকে প্রাণের তৃপ্তি দেবে না‌, সেটাকেই ধরতে বলছে। আমরা যদি প্রকৃতই ভালো মৃত্যু চাই তখন কি এগুলোর কোনটা কাজে দেবে? দেবে না। একমাত্র মৃত্যুর সম্বন্ধে জ্ঞান কাজে দেবে। যখন আমি জানবো যে শুধু শরীরের মৃত্যু হচ্ছে কিন্তু আমি আছি এবং থাকবো, সেই জ্ঞান কাজে লাগবে। এটাই জীবনের খোঁজ। আমার গুরুদেব বলতেন, ‘The aim of life is to die consciously.’ (জীবনের উদ্দেশ্য সচেতন ভাবে মৃত্যুকে দেখা)।

তাই বলা হয় মহাপুরুষেরা শরীর ছাড়েন আর আমরা মারা যাই। আমরা বাঁচার তীব্র আকুতি নিয়ে, ‘ওরে আমায় বাঁচা, ডাক্তার বাবু আমাকে বাঁচান’ বলতে বলতে মারা যাই। আর মহাপুরুষরা জামা ছাড়ার মত শরীর ত্যাগ করেন কারণ তাঁরা জানেন যে তাঁরা শরীর নন। শরীরকে অতিক্রম করে তিনি নিত্য শাশ্বত সত্তা, যার মৃত্যু হয় না। একেই বলে আত্মা। সুতরাং মায়া হচ্ছে ভ্রম। শরীর, মন, বুদ্ধি এর কোনটাই আসলে আমি নই — এই জ্ঞান যতক্ষণ না হচ্ছে ততক্ষণ আমরা মায়াতে আটকে আছি অর্থাৎ অনিত্যকে আঁকড়ে থাকছি। আমাদের স্বপ্ন, আকাঙ্ক্ষা, সম্পর্ক, জড় বস্তু ইত্যাদি সব ক্ষেত্রেই আমরা এমন বৃত্তিতে আটকে আছি যার নিত্য, চিরস্থায়ী কোন অস্তিত্ব নেই। একেই বলে মায়া। সুতরাং জগতের মধ্যে মায়া নেই, মায়া আছে আমাদের মনে। এই মন্দির ও পিলারের মধ্যে কোন মায়া নেই। মায়া রয়েছে আমাদের ভাবনায়। এই পিলারের মধ্যে কী আছে? ইঁট, বালি, সিমেন্ট, পাথর, রড। ইঁট, বালি, সিমেন্টের মধ্যে কী আছে? প্রত্যেকটার মধ্যেই পৃথ্বী তত্ত্ব আছে। পৃথ্বী তত্ত্বের মধ্যে কী আছে? গভীরে গেলে দেখবে পৃথ্বী তত্ত্ব এসেছে তেজ তত্ত্ব থেকে। তেজ তত্ত্বের মধ্যে কী আছে? আরও গভীরে গেলে দেখবে সবই আকাশ তত্ত্ব থেকে এসেছে। কেন আকাশ তত্ত্ব থেকে এসেছে? কেন জগতে পঞ্চভূত তৈরি হয়েছে? ইচ্ছা থেকে। একেই বলে মহতের ইচ্ছা। এই মন্দিরের পিলারটাকে যদি আমরা বাস্তব ভাবতে শুরু করি তাহলে সেটাই মায়া। আর আমরা যদি মনে করি ঈশ্বরের ইচ্ছায় এই পিলার এখানে দাঁড়িয়ে আছে, সেই ইচ্ছাই সত্য বাদবাকি সব যতক্ষণ তিনি চাইছেন ততক্ষণ আছে, তাহলে আমরা মায়ামুক্ত হচ্ছি।

মানুষের মনের মধ্যে যিনি মায়া তৈরি করে জগতের সৃজন করছেন এবং সেই তৈরি করা রূপকল্প দিয়ে গ্রাম, শহর তৈরি হচ্ছে, আমাদের আশা-আকাঙ্ক্ষা তৈরি হচ্ছে, তাঁকে বলা হয় মায়াধীশ। শ্রীকৃষ্ণকে বলা হয় মায়াধীশ। তিনি মায়াধীন বা মায়ামুক্ত কোনটাই নয়, তিনি মায়া তৈরি করেন। কে মায়ামুক্ত হবে, কে সাধনায় সিদ্ধ হবেন সেটা তিনিই ঠিক করবেন। তাই তিনি মায়াধীশ, মায়াকে তিনি চালনা করেন। সুতরাং মায়া হচ্ছে অজ্ঞানতা। জ্ঞান হলে জগতের কোন পরিবর্তন হবে না। জ্ঞান হলে এই বিভ্রম কাটবে, তখন জড়কে আর সত্য বলে মনে হবে না কারণ জড়ের কোন স্থায়ী অস্তিত্ব নেই। যার স্থায়ী অস্তিত্ব আছে তিনি আত্মা।

আত্মা পরমাত্মার মধ্যে কোন ভেদ নেই। আমরা নিজেদের যুক্তি দিয়ে বা সাধনার জন্য জীবাত্মা, পরমাত্মা বলে ভেদ করি। এই গ্লাসে এখন অর্ধেক জল আছে। বাকি অর্ধেকে কী আছে? আকাশ আছে। গ্লাসের বাইরে কী আছে? আকাশ আছে। এবার ধরো গ্লাস ঠিক করল যে সাধনা করে সে কে জানবে। জানতে জানতে দেখলো তার মধ্যে তো শুধু আকাশ রয়েছে। ওর মধ্যেকার জলও আকাশেরই রূপ। তখনও ওর জানা পুরো হলো না কারণ তখনও বাইরের সবকিছুর থেকে সে নিজেকে বিচ্ছিন্ন ভাবছে। আরও গভীরে গিয়ে দেখল গ্লাসটাই নেই। গ্লাসের স্টিলের মধ্যেও আকাশ তত্ত্বই আছে। বাইরের যে আকাশকে সে বিশ্ব প্রকৃতি ব্রহ্মাণ্ড বলে ভাবছিল এবং নিজেকে তার থেকে আলাদা ভাবছিল, তেমন কোন ভেদ নেই। সবই এক। এটাই পরমাত্মা। যখন গ্লাস নিজেকে আকাশ বলে আবিষ্কার করল, সেটা জীবাত্মা। আর যখন আমি গ্লাস নই, আমি কোন আবিষ্কারও নয়, আমি বিশ্বব্রহ্মাণ্ড সব এক, তখন পরমাত্মা। পরমাত্মাই সত্য কিন্তু যতক্ষণ না বোধ হচ্ছে ততক্ষণ আমরা জীবাত্মা এবং পরমাত্মার ভেদ করি।

[গৌরবাজার, পাণ্ডবেশ্বর, ১’লা জুন ২০২২]

আপনি একটি বহুমাত্রিক বাস্তবতা মধ্যে বাস, আপনি সব, সব সময়.কিন্তু আপনি মনোযোগী, এই তৃতীয় মাত্রা হতে প্রশিক্ষিত. আপনার উচ...
27/08/2022

আপনি একটি বহুমাত্রিক বাস্তবতা মধ্যে বাস, আপনি সব, সব সময়.

কিন্তু আপনি মনোযোগী, এই তৃতীয় মাত্রা হতে প্রশিক্ষিত. আপনার উচ্চ মাত্রার সাথে সংযোগ করার ক্ষমতা আছে।

তাই আত্মা হিসাবে যা ঘটছে, চেতনা শরীর ছেড়ে চলে যাচ্ছে তা হল এটি একটি উচ্চমাত্রিক বাস্তবতায়, একটি উচ্চতর কম্পনে চলে যাচ্ছে।

তিনটির বেশি মাত্রা রয়েছে।

যখন কেউ দেহ ত্যাগ করে, তা স্থায়ীভাবে হোক বা অস্থায়ী নিকট-মৃত্যুর অভিজ্ঞতা, তারা একটি উচ্চমাত্রিক বাস্তবতায় স্থানান্তরিত হচ্ছে।

যারা তাদের সাথে যুক্ত এবং সেই অভিজ্ঞতা শেয়ার করছেন তারাও এই যুক্ত মাত্রার অভিজ্ঞতা শেয়ার করছেন।

আপনার শারীরিক বাস্তবতা উচ্চ মাত্রা থেকে খুব ভিন্ন দেখায়. এবং তাই ক্ষণিকের জন্য, আপনাকে উচ্চমাত্রিক বাস্তবতার কথা মনে করিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

You live in a multi-dimensional reality, all of you, all the time. But you are focused, trained to be in this third dime...
27/08/2022

You live in a multi-dimensional reality, all of you, all the time.

But you are focused, trained to be in this third dimension. You have the abilities to connect to the higher dimensions.

So what is occurring as the spirit, the consciousness is leaving the body is that it is moving into a higher dimensional reality, a higher vibration.

There are more than three dimensions.

As one leaves the body, whether it is permanently or a temporary near-death experience, they are shifting into a higher dimensional reality.

Those who are connected to them and sharing that experience are also sharing the experience of this added dimension.

Your physical reality looks very different from the higher dimensions. And so for a moment, you are being reminded of higher dimensional realities.
💜🔮💜🔮

জীবনের রহস্য হল, আপনার কাছে সমস্ত ক্ষমতা আছে! আপনি যদি আপনার মন পরিবর্তন করতে পারেন, আপনি আপনার জীবন পরিবর্তন করতে পারেন...
26/08/2022

জীবনের রহস্য হল, আপনার কাছে সমস্ত ক্ষমতা আছে! আপনি যদি আপনার মন পরিবর্তন করতে পারেন, আপনি আপনার জীবন পরিবর্তন করতে পারেন. আপনার কোন পরিমাণ অর্থ, শিক্ষা বা সংযোগের প্রয়োজন নেই। আপনি শুধু আপনার মন নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন. নিজেকে বিশ্বাস করার জন্য আপনার মনকে প্রোগ্রাম করুন। জানুন যে মহত্ত্ব অর্জনের জন্য আপনার যা লাগে তা আছে, এবং মহত্ত্ব আপনার জীবনে প্রকাশিত হতে দেখুন। আকর্ষণের আইনের ক্ষেত্রে, আপনি যা করছেন তা হল আপনার মনকে প্রোগ্রামিং করা। এই রহস্য যা অনেক মানুষ জীবনে উপেক্ষা করে। সাফল্যের চাবিকাঠি হল আপনার সীমিত বিশ্বাসকে অতিক্রম করা এবং আপনার জীবনে আপনি যে শক্তি চান তার সাথে নিজেকে সারিবদ্ধ করা।

Address

Dhaka
1214

Telephone

+8801777018419

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when পরমাত্মার দর্শন posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Place Of Worship

Send a message to পরমাত্মার দর্শন:

Share