12/05/2024
জীবনসঙ্গী___________..
কাউকে মন থেকে হালাল ভাবে চেয়েও যদি জীবনসঙ্গী হিসেবে তাকে না পান তাহলে কখনোই তাতে দুঃখ পাবেন না আফসোস করবেন না। যদি কখনো কাউকে আপনার ভালো লাগে যদি বুঝতে পারেন যে তাকে ভালোবেসে ফেলেছেন তাহলে পছন্দের মানুষটির সঙ্গে কখনোই হারাম রিলেশনশিপ এ লিপ্ত হবেন না। কখনোই না। যদি তাকে প্রকৃত ভালোবেসে ফেলেন যদি তাকে জীবনসঙ্গী হিসেবে সারাজীবনের জন্য পেতে চান তাহলে পছন্দের মানুষকে পাবার আশায় সালাতুল হাজত নামাজ পড়িবেন। মহান আল্লাহকে মনের কথা গুলো বলবেন। মহান আল্লাহ কে বলবেন যে, হে আমার রব আমি যা বলতে চাচ্ছি তার কোনো কিছুই আপনার অজানা নয়। রব আমার অপরাধ ক্ষমা করবেন, আমি একজনকে খুবই ভালোবেসে ফেলেছি তাকে আমি আমার জীবনসঙ্গী হিসেবে পেতে চাই। হে আমার পরওয়ারদিগার, আমি জানিনা আমি যাকে চাচ্ছি সে আমার জন্য কল্যাণকর নাকি অকল্যাণকর। মালিক, আমি যাকে চাচ্ছি যদি সে আমার জন্য অকল্যাণকর হয়ে থাকে তাহলে তুমি আমাকে তার প্রতি আসক্ত হওয়া থেকে হেফাজত করো । তাকে চিরতরে ভুলে যাবার জন্য আমাকে সাহায্যে করুন। আর যদি সে আমার জন্য কল্যাণকর হয় তাহলে আপনি আমাকে সাহায্য করুন। তাকে যেনো আমি হালাল ভাবে নিজের জীবনসঙ্গী হিসাবে পেয়ে যায় সেই ব্যবস্থা আপনি করে দিন। রব, আমি আপনার সাহায্যের অপেক্ষায় আছি। আমার রব দয়া করে আমার মনের কথাগুলো কবুল করুন। এই পাপী বান্দার দু'য়া গুলো দয়া করে কবুল করে নেন। এইভাবেই নিজের মনের কথাগুলো সেজদায় পড়ে দুচোখের পানি নিয়ে প্রিয় রব কে বলবেন। আপনার জন্য যেটা উওম হবে অবশ্যই মহান আল্লাহ আপনার জন্য সেটাই করবেন। যাকে চাচ্ছেন তাকে যদি জীবনে পেয়ে যান তাহলে ভেবে নিবেন অবশ্যই সেই মানুষটা আপনার জন্য কল্যাণকর ছিল। যা মহান আল্লাহ আপনাকে দয়া করে উপহার দিয়েছেন। আর যদি তাকে জীবনে না পান তাহলে ভেবে নিবেন সেই মানুষটি আপনার জন্য অকল্যাণকর ছিল। যা থেকে মহান আল্লাহ আপনাকে হেফাজত করেছেন। যেটাই জীবনে ফলাফল আসুক না কেন উভয়ের জন্যই মহান আল্লাহর নিকট শুকরিয়া আদায় করবেন।
এখন তো অধিকাংশ মানুষ-ই লোভে পড়ে বিয়ে করে এবং লোভে পড়ে-ই হারাম রিলেশনশিপ এ লিপ্ত হয়। আর অধিকাংশ নারী-পুরুষ-ই শুধুমাত্র সেক্স করার জন্যই হারাম রিলেশনশিপ এ লিপ্ত হয়। এটাই হচ্ছে বাস্তবতা।
যাইহোক, আপনি যাকে বিয়ে করার জন্য পাগল হয়েছেন অথবা যাকে আপনি এত ভালোবাসেন তার পিছনে অবশ্যই কিন্তু কিছু না কিছু কারণ আছে। অনেক ধরনের কারণ-ই থাকতে পারে। সেই কারণ গুলোর মধ্যে প্রধান কিছু কারণ হচ্ছে জীবনসঙ্গীর___রুপ-সৌন্দর্য, অর্থবিত্ত, যোগ্যতা, যশ-খ্যাতি, দ্বীনদার, উওম চরিত্রবান এবং গুনাগুণ ইত্যাদি ইত্যাদি। মূলত মানুষ এসবের প্রতি-ই সবচেয়ে বেশি আকৃষ্ট হয়। যার ফলে ছেলে-মেয়ে একে অপরকে ভালোবাসে এবং জীবনসঙ্গী হিসেবে পেতে চাই।
ধরুন, আপনি হয়তো এমন একজনকেই পছন্দ করেছেন যেমনটা আপনি মনে মনে চাচ্ছেন। আর তাকেই চাচ্ছেন জীবনসঙ্গী হিসেবে পেতে। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত তা সম্ভব নয়। তাই আপনার মনে অনেক কষ্ট, অনেক আফসোস করছেন এই ভেবে যে, যাকে আপনি চেয়েছিলেন তাকে পেলে জীবনে হয়তো-বা অনেক সুখী হইতেন। তাকে পেলে হয়তো আপনার জীবনটাই পরিবর্তন হয়ে যেতো এটা সেটা ইত্যাদি ইত্যাদি। সেই আশাতেই তাকে পাবার জন্য হয়তো হাজারো কষ্ট সহ্য করেছেন, হয়তো তার জন্য অনেক কিছুই করেছেন যা কেবল একমাত্র মহান আল্লাহ-ই ভালো জানেন। এতকিছু করার পরেও দুর্ভাগ্যবশত তাকে জীবনে জীবনসঙ্গী হিসেবে পাননি। তাই তো এখনো হয়তো-বা হায় আফসোস, হায় আফসোস করেন দুঃখ পান এবং হতাশায় ভুগেন।
আচ্ছা যাকে মনে মনে চেয়েছেন কিন্তু পাননি তাকে জীবনে জীবনসঙ্গী হিসেবে পেলে আসলেই কি আপনি সুখী হইতেন? এই প্রশ্নের উওরে একেকজন একেকরকম মন্তব্য করবে। একেকজন একেকরকম ভাবে তার মনের কথাগুলো প্রকাশ করবে। কেউ বলবে__হ্যাঁ তাকে জীবনসঙ্গী হিসেবে পেলে অবশ্যই অনেক অনেক সুখী হইতাম আর কেউ বলবে___তাকে জীবনসঙ্গী হিসেবে পেলে হয়তো-বা সুখী হইতাম না।
আসলে এখানে বাস্তবতা বলতে কি জানেন? যে যা-ই কিছু বলুক না কেন তবুও বাস্তবতা এটাই যে, যাকে আপনি পছন্দ করেন ভালোবাসেন অথবা যাকে আপনি আপনার জীবনে জীবনসঙ্গী হিসাবে পেতে চাচ্ছেন তাকে পেলেই যে জীবনে সুখী হবেন তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। আবার তাকে জীবনসঙ্গী হিসেবে পেলে যে অসুখী হবেন তাও কিন্তু নয়। জীবনে একসঙ্গে সারাটি জীবন চলার পথে এই সুখী-অসুখী হওয়া উভয়ই নির্ভর করছে আপনি যাকে পছন্দ করেন যাকে জীবন সঙ্গী হিসেবে পেতে চাচ্ছেন তার কাজ কর্মের মাঝে, তার স্বভাব-চরিত্রের মাঝে। সেটা আপনি হারাম ভালোবাসায় লিপ্ত হয়ে বৎসরের পর বৎসর প্রেম করে কখনো বাস্তবতা বুঝতে পারবেন না। বাস্তবতা তখনই উপলব্ধি করতে পারবেন যখন বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হবেন। যখন সারাটি জীবন একসঙ্গে কাটাবেন তখনই আপনার জীবনসঙ্গীর ভালো-মন্দ সকল দিকগুলো আপনি বুঝতে পারবেন জানতে পারবেন। আরও বাস্তবতা কি জানেন? আপনি যাকে পছন্দ করেন, ভালোবাসেন তাকে বিবাহের আগে দেখবেন এক রুপে আর যখন তার সঙ্গে আপনি বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হবেন তখন দেখবেন অন্য রুপে। বিয়ের আগের রুপ এবং পরের রুপ কখনোই মিলবে না। কখনোই না। আর যদিও তা মিলে তা সংখ্যায় খুবই কম পাবেন। আর সেটা ভাগ্যের প্রয়োজন। তা ব্যতীত সম্ভব নয়।
আপনি যদি হালাল ভাবে সঠিক মানুষটিকে জীবনসঙ্গী হিসেবে বেছে নিতে পারেন তাহলে আপনি জিতে যাবেন। আর যদি জীবনে জীবনসঙ্গী হিসেবে সঠিক মানুষটাকে বাছাই করতে ব্যর্থ হন তাহলে ভীষণভাবেই হেরে যাবেন। তবে কখনোই হারাম রিলেশনশিপ এ লিপ্ত হবেন না। যেই হারাম রিলেশনশিপ কে মহান আল্লাহ হারাম করেছেন যেই হারাম রিলেশনশিপ কে মহান আল্লাহ অপছন্দ করেন সেখানে আপনি কীভাবে হারাম রিলেশনশিপ কে পছন্দ করেন? কীভাবেই-বা মহান আল্লাহর অবাধ্য হয়ে তাতে সুখী হবেন বলুনতো?
অধিকাংশ নারী-পুরুষ-ই এখন হারাম রিলেশনশিপ এ লিপ্ত হয়ে প্রতিনিয়ত সেক্সে লিপ্ত হচ্ছে। তারা তাদের পবিত্র চরিত্র কে অপবিত্র করে ফেলে। সর্বদা তারা হতাশায় ভুগে। হারাম রিলেশনশিপ এ লিপ্ত হয়ে তারা মা-বাবার মনে কষ্ট দিচ্ছে, মহান আল্লাহর অবাধ্য হচ্ছে এবং নিজের ভার্জিনিটি হারাচ্ছে। হারাম রিলেশনশিপ এ লিপ্ত হয়ে তারা তাদের জীবনসঙ্গীকেও ভীষণভাবেই ঠকাচ্ছে। কখনোই হারাম রিলেশনশিপ এ প্রকৃত শান্তি খুঁজে পাবেন না৷ কখনোই না। যা পাবেন তা শুধুই অশান্তি আর অশান্তি। এই হারাম রিলেশনশিপ এ লিপ্ত হবার কারণে হাজারো সমস্যার সম্মুখীন হবেন। নিজের জীবন থেকে অনেক কিছুই হারিয়ে ফেলবেন। হারাম রিলেশনশিপ এ লিপ্ত হয়ে তারা নিজের উপর নিজেই প্রতিনিয়ত জুলুম করছে। এই হারাম রিলেশনশিপ এ লিপ্ত হয়ে একদিন মানুষ ধ্বংস হয়ে যায়। মানুষের সুন্দর একটি জীবন অসুন্দরে পরিণত হয়ে যায়। প্রতিনিয়ত-ই তারা পাপের সাগরে হাবুডুবু খায়। একদিন মহান আল্লাহ আপনার সকল পাপের হিসেব আপনার কাছ থেকে পই পই করে নিবেন।
তবে জীবনে যাকেই জীবনসঙ্গী হিসেবে পেতে চান না কেন যদি তাকে জীবনে জীবনসঙ্গী হিসেবে না পান তাহলে কখনোই দুঃখ পাবেন না। কখনোই তাতে আফসোস করবেন না। কারণ, কাউকে জীবনসঙ্গী হিসেবে পাওয়া না পাওয়ার সিদ্ধান্ত একমাত্র মহান আল্লাহর কাছে। মহান আল্লাহ তাকেই আপনার জীবনে পাঠাবেন আপনি যেমন কর্ম করবেন। আপনার কর্ম অনুযায়ী-ই ফল পাবেন। যদি আপনি ব্যাক্তি হিসেবে প্রকৃত ভালো হন যদি আপনার চরিত্র প্রকৃত ভালো হয় তাহলে অবশ্যই ভালো কাউকে জীবনে পাবেন। আর যদি আপনি ব্যাক্তি হিসেবে খারাপ হন যদি আপনার চরিত্র খারাপ হয় তাহলে জীবনে খারাপ কোনো কিছু পাবার-ই আশঙ্কা থাকবে সবচেয়ে বেশি। কখনো কখনো ভিন্নরকমও হয়। ভালো ব্যাক্তি পাই খারাপ জীবনসঙ্গী আর খারাপ ব্যাক্তি পাই ভালো একজন জীবনসঙ্গী। এটা হচ্ছে মহান আল্লাহর তার বান্দার প্রতি একটি বিশেষ পরীক্ষা। এই পরীক্ষা প্রকৃত মুমিন নারী-পুরুষদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। যারা এই পরীক্ষায় সফল হয় তারাই একদিন সুখী হয়, তারাই একদিন পুরস্কার পাই। তা দুনিয়াতে না হলেও আখিরাতে নিশ্চিত।
এই দুটো কথা সর্বদা মনে রাখবেন,
(১)কখনো কারো উপরের চাল-চলন, তার ধন-সম্পদ, তার বংশমর্যাদা, তার রূপ-সৌন্দর্য ও যোগ্যতা দেখে মুগ্ধ হয়ে যেও না। অন্যথায় একদিন লাঞ্ছিত ও ভীষণ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সেইসকল কিছুর ঊর্ধ্বে অতি গুরুত্বপূর্ণ দেখার প্রয়োজন তার দ্বীনদারী, স্বভাব-চরিত্র এবং ধৈর্য।
(২)জীবনে চাইলেই হয়তো-বা বড় বড় হুজুর-বুজুর্গ, হাফেজ-হাফেজা, আলেম-আলেমা, মুফতি এবং যোগ্যতাবান ও ইসলামিক স্কলারদের কে জীবনসঙ্গী হিসেবে পাবেন। কিন্তু জীবনে একজন প্রকৃত দ্বীনদার, জ্ঞানী এবং উওম চরিত্রের জীবনসঙ্গী চাইলেই পাবেন না।
(Raaf islam)