Islamic Research Circle

Islamic Research Circle " It is He who has sent His Messenger with guidance and the religion of truth to manifest it over all religion." [Al-Fatah 48:28]

কোরআন, সহীহ হাদিস ও সহীহ ইসলামের বাণী সবার কাছে পৌছে দিতেই এই সামান্য প্রায়াস।

আসসালামু আলাইকুম
03/06/2019

আসসালামু আলাইকুম

29/05/2019

এই জামানার সবচেয়ে বড় কাপুরুষ তারাই যারা নিজের বৌ এর ছবি ফেসবুকে আপলোড করে।

25/05/2019

আপনি যখন বিয়ের আগ্রহ প্রকাশ করবেন, তখন সমাজের মানুষরা আপনাকে বলবে-

“ইয়া আল্লাহ! বিয়ে কি কোন ছেলেখেলা?”

“বিয়েকে যেরকম ভাবছো, ঐরকম না। অনেক দায়দায়িত্ব আছে৷ অনেক জিম্মাদারি আছে।”

“পাহাড়ের মত দায়িত্বের বোঝা ঘাড়ে পড়বে!”

পরিবার ও সমাজের কিছু লোক এমনভাবে ভয় দেখিয়ে কথা বলে যে, মনে হয় বিয়ে করার একটু পরেই বোম ব্লাস্ট হবে।
আসলে এরকম কিছুই নয়৷ বিয়ে খুব সহজ।

কত সহজ?

রাসুল ﷺ এর সিরাত আমাদেরকে বলবে, বিয়ে কত সহজ!

এক সাহাবী বিয়ে করতে ইচ্ছুক। কিন্তু তার কাছে সহায়-সম্পত্তি বলতে কিছুই নেই। তিনি তথাকথিত স্টাবলিশ নন। রাসুল বলেন নি, তুমি আগে স্টাবলিশ হও, নিজের পায়ে দাঁড়াও, এরপরে বিয়ে করো। অথবা বলেন নি, বউয়ের ভরণপোষণের খরচপাতির মালিক আগে হও, পরে বিয়ে।এরকম কিছুই বলেন নি।

সাহাবী এতোই নিঃস্ব ছিলেন যে, ঘরে একটা লোহার আঙটি পর্যন্ত ছিল না।
তখন নবীজি বলেন নি, যাও! তোমার সহায়সম্পদ নেই। আয়রোজগার করো। পরে বিয়ে করো।

বরং এই নিঃস্ব অবস্থায় সাহাবীর বিয়ের ফিকির করেছেন। কারণ কেউ নিঃস্ব থাকলেও বিয়ের মাধ্যমে আল্লাহ তাকে সচ্ছল বানিয়ে দেন। রাসুল আমাদের এই শিক্ষা দিয়েছেন।

যা হোক, কোরআনের কিছু সুরাকে মোহর হিসেবে নির্ধারণ করে সাহাবীকে বিয়ে দেয়া হয়।

এবার বুঝুন, বিয়ে কত সহজ! যদি বিয়ে দুনিয়ার জন্য ও সমাজের জন্য করা হয়; তবে বিয়ে অনেক কঠিন। আর যদি বিয়ে করা হয় আল্লাহর জন্য, তবে বিয়ে অনেক সহজ!
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ'লা সবাইকে দ্বীনদার উত্তম জীবনসঙ্গী দান করুক... #আমিন

04/05/2019

🚩🚩🚩দাম্পত্য জীবনে ব্যর্থ যে নারী🚩🚩🚩

এককথায় একগুঁয়ে ও জেদী নারীরাই দাম্পত্য জীবনে ব্যর্থ এবং এমনকি আত্মীয়দের সাথেও সুসস্পর্ক গড়তে ব্যর্থ। যে নারী সম্পর্ক গড়ার ক্ষেত্রে আবেগ-ভালোবাসা আর নমনীয়তার বিচক্ষণতা হারিয়েছে আর নিজের মতামত ও জিদকে প্রাধান্য দিয়েছে, সেই দাম্পত্য জীবনে সবচেয়ে বেশী ব্যর্থ হয়েছে।
কিন্তু কেন?

➰ (১) কেননা তখন সে স্বামীর সাথে টানাটানি ও ঠেলাঠেলিতে প্রবেশ করবে। বিজয়ের জন্য নিজের আমিত্বকে জাহির করতে চাইবে। আর তখনই সে স্বামীর জিদের সামনে পরাজিত হবে। এমনকি তার বিরুদ্ধে নিকটস্থ ব্যক্তিরাও জেদী হয়ে উঠবে। কেননা পুরুষরা জেদী স্ত্রী বা একগুঁয়ে বোনের সামনে আরো বেশী কঠোর ও জেদপ্রবণ হয়ে উঠে। কিন্তু নমনীয় নারীর সামনে তারা হয় কোমল।

➰ (২) জেদী নারী ধারণা করে, সে যদি নিজের মতামতের উপর দৃঢ় থাকে এবং দ্বন্দ্বের ঝড়ে অটল থাকতে পারে, তবে সে বিজয়ী হবে। কিন্তু একথা ভুলে যায় যে, নিজের মতের ক্ষেত্রে জিদ করে যদি একটা বিজয় পেয়েও যায় কিন্তু বিপরীত দিকে সে এমন একটি হৃদয় হারাবে যে তাকে ভালোবাসতো।

➰ (৩) অধিকাংশ ঘটনায় পণ্ডিতগণ সহজ-সরল নম্র ও আবেগপ্রবণ স্বামীভক্ত নারীদের প্রশংসা করেছেন। যে নারী নম্রতার সাথে স্বামীকে সঙ্গ দেয় ও তার ভালোবাসা আদায় করার কৌশল বুঝে, তাকেই স্বামী অধিকভালোবাসে ও তাকে আঁকড়ে রাখে।

➰(৪) ঝড় উঠলে তা চলে যাওয়ার জন্য যে নারী মাথা নামিয়ে নুয়ে পড়ে, সেই বুদ্ধিমান ও জ্ঞানী, তার পক্ষেই সংসারকে চিরকাল আঁকড়ে রাখা সম্ভব। কিন্তু যে নারী শুকনো গাছের মত মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকে, সে মচকে যায় বা এমনভাবে ভেঙ্গে যায়- যা আর জোড়া লাগে না।

➰ (৫) নিজের মতের উপর অটল জেদী নারীর বিশ্বাস হচ্ছে, আমিই বিজয়ী হব, তুমি পরাজিত হবে। এ নারী মূলত: অন্যকে ধ্বংস করার পূর্বে নিজেকেই ধ্বংস করে। সর্বদা আফসোসের জীবন অতিবাহিত করে। যার তিক্ততা সে ভোগ করে দুনিয়া ও আখেরাতে।

➰ (৬) পারিবারিক কনসালটেন্সি বিভাগে কাজ করে আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা হচ্ছে:

একগুঁয়ে ও জেদী নারীদের পরিণাম শেষ হয় তালাকের মাধ্যমে। ফলে তারা পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে হয় ব্যর্থ।

➰ (৭) এক বেদুঈন নারী তার কন্যার বিদায়ের দিন যে উপদেশ দিয়েছিল তা অত্যন্ত চমৎকার প্রজ্ঞাপূর্ণ কথা এবং পরিক্ষীত সত্য। সফল স্ত্রীরা এর বাস্তবতাকে প্রমাণ করেছেন। উপদেশটি হচ্ছে:
“ তুমি স্বামীর সামনে নিজেকে একজন দাসীতে পরিণত কর। দেখতে পাবে অচিরেই সে তোমার দাসে পরিণত হয়ে যাবে। ”

ভালো পুরুষরা ধৈর্যশীল ও উদার হয়ে থাকে, কিন্তু নির্বোধ ও একগুঁয়ে-জেদী নারীরা তাদেরকে শত্রুতে পরিণত করে।

(লিখেছেন: প্রফেসর আমীনা মাসআদ আল হারবী
সহকারী প্রফেসর, কিং আবদুল আযীয বিশ্ববিদ্যালয়, সৌদী আরব। দাম্পত্য, পরিবার ও সমাজ বিষয়ক পরামর্শদাতা)

30/04/2019

[লেখাটা কার জানা নেই। তবে বিষয়টা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।]

পোলাপাইন যখন প্রেম করে তখন আসলে কী হচ্ছে !!??
ছেলেটা থাকছে তার বাসায়, মেয়েটা তার বাসায় !!
দুজনে টাকা খরচ করে ডেট করতেসে, রেস্টুরেন্টে খাইতেসে, একে অন্যকে গিফট কিনে দিতেসে..........ডেট করা শেষে দুজনে আবার নিজেদের বাসায় ফিরে যাচ্ছে !!
তারপর রাত জেগে ফোনে কথা বলতেসে !!
এই যে কাজগুলা তারা করতেসে, এই সেম কাজগুলাই কি বিয়ে করে করা যায় না !!??
আকদ হয়ে থাকবে, মেয়েটা থাকবে বাবার বাড়িতে..........স্বামীর সঙ্গে ডেট করবে, স্বামী স্ত্রী রাত জেগে কথা বলবে !!
এরপরে ছেলে যখন কামাই করা শুরু করবে, তখন মেয়েকে ঘরে তুলে নিবে !!
এমনটা হইলে ফোনে কথা বলার মধ্যে কোনো লুকোচুরির দরকার হচ্ছে না........ডেটিংয়ে গিয়ে ধরা পড়ার ভয় থাকছে না !!
ছেলেটা চাইলে মেয়েটার বাসার ড্রয়িংরুমে বসে অপেক্ষা করতে পারে তাকে নিয়ে ঘুরতে যাবে বলে,
মেয়েটা কোনো এক ছুটির দিনে সকালে ছেলের বাসায় হাজির হয়ে যাইতে পারে তার শাশুড়ির সঙ্গে রান্না করবে বলে !!
যদি উদ্দেশ্য টাইম পাস না হয়ে একসঙ্গে বৃদ্ধ হওয়ার পরিকল্পনা থাকে,
তাহলে যার সঙ্গে প্রেম করতেসেন, তাকে বিয়ে করে ফেলেন না ক্যানো !!??
বাপ-মা যে ভয়ে বিয়ে দিতে চায় না সেটা হচ্ছে- বিয়ে করে বৌ কে খাওয়াবে কী !!??
প্রেমিক কোপল যে টাকাটা ডেটের পিছে খরচ করছে, অনেক বিবাহিত দম্পতিও তাদের ঘুরাঘুরির পিছে এর চেয়ে কম খরচ করে !!
তাই বাবা-মায়েরা যদি একবার সাহস করে স্রোতের বিপরীতে হেঁটে আর্লি ম্যারেজ দিয়ে দেন- তাহলে ছেলেমেয়গুলা গুনাহ থেকে বেঁচে থাকতে পারবে, আপনাকেও তাদের গুনাহর ভাগীদার হইতে হবে না !!
এখন যে পর্ণোগ্রাফী মহামারীর মতো ছড়িয়ে পড়েছে, ডাস্টবিনে পড়ে থাকে নবজাতকের লাশ- এসবের কারণ কী !!??
একজন মানুষের জৈবিক চাহিদা থাকবেই.............ব্যাপারটা স্রোতের মতো !!
যখনই আপনি এতে বাঁধ দেওয়ার চেষ্টা করবেন, তখনই সে তার বিকল্প রাস্তা তৈরি করে নিবে !!
হযরত আদম ( আঃ ) জান্নাতে থেকেও সুখ পান নাই, একজন সঙ্গীর জন্যে মলিন মুখে ঘুরে বেড়াতেন !!
আর মানুষ তো থাকে ধুলি-ধূসরিত পৃথিবীতে.........তার জীবনে অনেক বেশী হার্ডশিপ, অনেক বেশী স্ট্রাগল !!
একটা বয়সের পরে প্রচণ্ড কাজের চাপের মধ্যে কারো ছোট্টো টেক্সটের দরকার হয়, দিন শেষে ভালোবাসার একটা স্পর্শ লাগে !!
এখন বাপ-মা বিয়ে দিচ্ছে ত্রিশের পর কিন্তু ছেলে ম্যাচিউরড হয়ে যাচ্ছে আঠারো-উনিশে !!
যেহেতু সে জানে যে ত্রিশের আগে বিয়ে হবে না, তাই সে শুরু করে প্রেম, প্রেমিকার সঙ্গে রাত জেগে কথা বলা, তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ মুহূর্ত যাপন !!
প্রেমিকার সঙ্গে সে তাই তাই করতে চায় যা সে বিয়ের পর স্ত্রীর সঙ্গে করতো !!
এবং করছেও..........শুধুমাত্র বিয়ে না করার কারণে মাঝখান থেকে বাড়ছে গুনাহ !!
প্রেমের যে সম্পর্ক ওই সম্পর্কের তো কোনো প্রাতিষ্ঠানিক অথবা সামাজিক স্বীকৃতি নাই !!
আমার খুব জানতে ইচ্ছা করে-
আল্লাহ্ না করুক, প্রেমের সম্পর্ক চলাকালীন ছেলেটা যদি মারা যায়, সেক্ষেত্রে মেয়েটার কি ইচ্ছা হয় না তার প্রেমিককে শেষবারের মতো দেখতে !!??
ছেলেটার বাড়িতে গিয়ে সে নিজের কী পরিচয় দিবে !!?? সে ছেলেটার কী হয় !!??
গভীরভাবে ভেবে দেখুন- আঙ্গুলটা আগে তাদের বাবা-মায়েদের দিকে তোলা উচিত কিনা যারা এই নষ্ট সমাজের প্রচ্ছন্ন সমর্থক !!??

সংগৃহীত

21/04/2019

এখন পর্যন্ত শবে বরাত নিয়ে আমার দেখা সবচে' ভাল তথ্যবহুল পোস্ট। আসলে মূল পয়েন্ট হল, আপনার উসূল কি? আপনি কি যয়ীফ হাদীসের উপর আমল করেন, নাকি করেন না।

''Ustaz S M Nahid Hasan হতে:

অপার ফজিলতের শবে বরাত এখন বছর ঘুরে আসা মৌসুমি ঝগড়া! ব্যাপারটা কি?

রসুলুল্লাহ (স) বলেছেন, অর্ধ শা‘বানের রাতে মহা ক্ষমতাশীল আল্লাহ স্বীয় বান্দাহ্‌দের প্রতি তাকান। অতঃপর তিনি মু’মিনদের ক্ষমা করে দেন, কাফিরদের অবকাশ দেন, আর হিংসা-বিদ্বেষ পোষণকারীদের তাদের হিংসা-বিদ্বেষ সমেত ছেড়ে দেন যে পর্যন্ত না তারা তা পরিত্যাগ ও বর্জন করে।

এরকম তিনি আরও বলেছেন, অর্ধ শা‘বানের রাতে আল্লাহ তা‘আলা তাঁর সৃষ্টির দিকে তাকান অতঃপর তিনি মুশরিক এবং হিংসা-বিদ্বেষ পোষণকারী ব্যতীত সকল সৃষ্টিকে ক্ষমা করে দেন।

সনদ (বর্ণনাসূত্র) এবং মতন (মূল বক্তব্য) বিবেচনায় হাদিসদুটি গ্রহণযোগ্য সহীহ (যদিও মতবিরোধের উর্ধ্বে নয়)। সুতরাং এ রাতে কাফির-মুশরিক, এবং হিংসা-বিদ্বেষ পোষণকারী ব্যতীত অন্য সকল মু’মিন-মুসলিমদের আল্লাহ গণহারে ক্ষমা করেন। যেকারনে একে বলা হয় লাইলাতুল বারাত বা মুক্তির রাত। ফার্সী ভাষায় বলা হয় শবই বরাত। ফার্সীতে শব শব্দের অর্থ রাত ও বরাত মানে ভাগ্য। কিন্তু কোনভাবেই এইটা ভাগ্যের রাত নয়। মুক্তির রাত। সুতরাং এই রাতটির বিশেষ ফজিলত রয়েছে। যারা এর বিশেষ ফজিলতকে অস্বীকার করছে তারা ঠিক করছে না।

এখন এই রাতের বিশেষ আমাল কি? আমলের ব্যাপারে মোটামুটি দুটি হাদিস বেশি উল্লেখ করা হয়।

১।
হযরত আলা ইবনুল হারিস (রহ.) থেকে বর্ণিত, হযরত আয়েশা (রা.) বলেন, একবার রাসূলুল্লাহ (সা.) রাতে নামাজে দাঁড়ান এবং এত দীর্ঘ সেজদা করেন যে, আমার ধারণা হল তিনি হয়ত মৃত্যুবরণ করেছেন। আমি তখন উঠে তার বৃদ্ধাঙ্গুলি নাড়া দিলাম। তার বৃদ্ধাঙ্গুলি নড়ল। যখন তিনি সেজদা থেকে উঠলেন এবং নামাজ শেষ করলেন তখন আমাকে লক্ষ্য করে বললেন, হে আয়েশা! অথবা বলেছেন, ও হুমাইরা, তোমার কি এই আশংকা হয়েছে যে, আল্লাহর রাসূল তোমার হক নষ্ট করবেন? আমি উত্তরে বললাম, না, ইয়া রাসূলুল্লাহ। আপনার দীর্ঘ সেজদা থেকে আমার এই আশংকা হয়েছিল, আপনি মৃত্যুবরণ করেছেন কিনা। নবিজি জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি জান এটা কোন রাত? আমি বললাম, আল্লাহ ও তার রাসূলই ভাল জানেন। রাসূলুল্লাহ (ক্ষ) তখন ইরশাদ করলেন,‘এটা হল অর্ধ শাবানের রাত (শাবানের চৌদ্দ তারিখের দিবাগত রাত)। আল্লাহ তাআলা অর্ধ-শাবানের রাতে তার বান্দার প্রতি মনযোগ দেন এবং ক্ষমাপ্রার্থনাকারীদের ক্ষমা করেন এবং অনুগ্রহ প্রার্থীদের অনুগ্রহ করেন আর বিদ্বেষ পোষণকারীদের ছেড়ে দেন তাদের অবস্থাতেই।‘ [শুআবুল ঈমান, বাইহাকি ৩/৩৮২-৩৬৮]

ইমাম বায়হাকির মতে হাদিসটি মুরসাল। বর্ননাকারী ‘আলা' আয়িশা (রাঃ) থেকে শুনেননি। মুরসাল হাদিসের গ্রহনযোগ্যতা কয়েকটি শর্তের উপর নির্ভরশীল। মোটের উপর এটা কারও নিকট গ্রহণযোগ্য আবার কারও নিকট যয়ীফ।

মুসনাদে আহমাদে এরকম কিন্তু কিছুটা ভিন্ন টেক্সটের হাদিস উল্লেখ আছে যেমন,

আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) বলেন: এক রাতে আমি রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে খুঁজে না পেয়ে তাঁকে খুঁজতে বের হলাম, আমি তাকে বাকী গোরস্তানে পেলাম। তখন রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে বললেন: ‘তুমি কি মনে কর, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল তোমার উপর জুলুম করবেন?’ আমি বললাম: ‘হে আল্লাহর রাসূল! আমি ধারণা করেছিলাম যে আপনি আপনার অপর কোন স্ত্রীর নিকট চলে গিয়েছেন। তখন রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: ‘মহান আল্লাহ তা’লা শা‘বানের মধ্যরাত্রিতে নিকটবর্তী আসমানে অবতীর্ণ হন এবং কালব গোত্রের ছাগলের পালের পশমের চেয়ে বেশী লোকদের ক্ষমা করেন।

ইমাম বুখারী ও ইমাম ইবনে মাজাহ একে যয়ীফ বলেছেন।

২।
হযরত আলী ইবনে আবু তালেব (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, পনের শাবানের রাত (চৌদ্দ তারিখ দিবাগত রাত) যখন আসে তখন তোমরা এ রাতটি ইবাদত-বন্দেগীতে কাটাও এবং দিনের বেলা রোজা রাখ। কেননা, এ রাতে সূর্যাস্তের পর আল্লাহ তাআলা প্রথম আসমানে আসেন এবং বলেন, কোন ক্ষমাপ্রার্থী আছে কি? আমি তাকে ক্ষমা করব। আছে কি কোন রিযিক প্রার্থী? আমি তাকে রিযিক দেব। এভাবে সুব্হে সাদিক পর্যন্ত আল্লাহ তাআলা মানুষের প্রয়োজনের কথা বলে তাদের ডাকতে থাকেন। [সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস ১৩৮৪]

এই হাদিসটি কেউ কেউ বলেছেন যয়ীফ। যেমন ইমাম নববী। কেউ কেউ বলেছেন জাল। কেননা এ হাদীসের সনদে ইবনে আবি সাবুরাহ নামে এক ব্যক্তি আছেন, যিনি অধিকাংশ হাদীস বিশারদের নিকট হাদীস জালকারী হিসাবে পরিচিত। ইমাম আহমাদ (র) বলেছেন সে হাদিস বানাতো।

সুতরাং আমালের ব্যাপারে আমাদের আগে উসুল ঠিক করতে হবে। যে ফজিলতের জন্য যয়ীফ হাদিস গ্রহণ করবে সে আমাল করতে পারে আর যে তা গ্রহণ করবে না সে এই উপলক্ষে কোন আমাল করবে না। সহজ কথা। অতীতের অনেক স্কলার ফজিলতের ক্ষেত্রে যয়ীফ হাদিস গ্রহন করেছেন আবার অনেকে করেননি।

কিন্তু দুখজনকভাবে কেউ কেউ শবে বরাত উপলক্ষে আমালকে এমনভাবে উপস্থাপন করছে যে সেগুলো যয়ীফ হাদিসের উপর ভিত্তি করে এসেছে সেটুকু উল্লেখ করার প্রয়োজন বোধ করছে না। সহীহ ফজীলত আর যয়ীফ আমালের এক অপূর্ব কম্বিনেশন কে এমনভাবে উপ্সথাপন করছে যেন আমালের হাদিসও সহীহ।

যারা যইফ হাদিসের উপর আমাল করার নীতি অবলম্বন করেন তারা সবাই কি আদৌ জানে যে যয়ীফ হাদিস কি? নাকি ইমাম নববী (র) এর একটা কওলকেই (ফজিলতের ক্ষেত্রে যয়ীফ হাদিসের উপর আমাল করা যাবে) দ্বীন ধরে নিয়েছেন? যয়ীফ হাদিসের সারাংশ এই যে সেটা রসুল (স) থেকে প্রমাণিত নয়। হতেও পারে তিনি বলেছেন আবার হতেও পারে তিনি আদৌ বলেন নি। অর্থাৎ হাদিসটা মিথ্যা বলা যায় না ঠিকই কিন্তু মিথ্যা সন্দেহের অবকাশ আছে। অনুরুপভাবে এটাকে সত্য বলা যায় না ঠিকই কিন্তু সত্য হতেও পারে। ৫০-৫০। মোট কথা প্রমাণিত নয়। কি আশ্চর্য! অনেকে বলেন "যয়ীফ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত!" যেখানে হাদিসই প্রমাণিত নয়!

নিজের মতের "অনেক" আলিম আর বিপরীত মতের "কিছু" আলিম বলেছেন-এই সাধারণ উক্তির কোন মূল্য নাই। কোন আলিম কি কি বলেছেন তার আরবী ইবারাত দেখতে হবে। "বিদেশে আছে" "বিদেশে এমন হয়" বলে চালিয়ে দেওয়ার যুগ অতীত হয়েছে। কোন দেশে আছে? কিভাবে আছে বিস্তারিত জানার সময় এসেছে। দেখেন না ইমাম নববীর কথা ঠিকই আসল কিন্তু ইমাম ইবনে হাজার আসকালানীর নিশেধাজ্ঞা আসল না! আবার ঘার মাসেহের সময় তার কথা ঠিকই লাগবে আর ইমাম নববীর কথা তখন ভুলে যাওয়া হবে।

বার বার এটা বলছি যে যে যার উসুল অনুযায়ী আমাল করবেন ঠিক আছে কিন্তু সহীহ আর যয়ীফ মনে রেখে। মিলিয়ে দিয়েন না। আপনি যয়ীফকে এমনভাবে উপস্থাপন করবেন না যে তাতে কোন সন্দেহ নাই। রসুলুল্লাহ (স) বলেছেন, যে ব্যক্তি আমার নামে কোনো হাদীস বলবে এবং তার মনে সন্দেহ হবে যে, হাদীসটি মিথ্যা, সেও একজন মিথ্যাবাদী।” [সুনান ইবন মাযাহ/৩৯ (সহীহ)]। এখন আপনিই বলুন যখন সন্দেহ করে হাদিস বর্ণনা করা যায় না, আমাল করা কিভাবে যায়!

একটা কমন সেন্স চিন্তা করেন। যদি রসুলুল্লাহ (স) তার জীবনে শবে বরাত উদযাপন করতেন, আবু বকর , উমার, উসমান আলী (রা) এরা উদযাপন করতেন তাহলে কয়েকটা মাত্র যয়ীফ হাদিসের উপর আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হয়? এধরনের একটা অকেশন সেটার জন্য কি অন্যান্য সাহাবাগনের উদযাপন ইতিহাস থাকে না? যদিও আমালের জন্য একটা সহীহ হাদিস যথেষ্ট সেখানে আপনিই বলেন এত বড় বিষয়ের কতগুলো সহীহ রেওয়ায়েত থাকা স্বাভাবিক ছিলো!

আপনি কি ভেবে দেখছেন না যে যদি রসুলুল্লাহ (স) সাহাবাদের এই রাতে ইবাদাত করতে উদবুদ্ধ করতেন তাহলে নিজ পরিবারকেও ইবাদাতের জন্য জানালেন না!

আর যারা দুর্বল হাদিসের ভিত্তিতে নয় বরং সহীহ ফজিলতের জন্যই এই রাতে আমাল করতে চান তাদের জন্য বড় সুসংবাদ আছে। কারন ঠিক এরকম সুযোগ বছরে কেবল এক রাত নয় বহু রাতই আছে। ঐ দিনগুলোকেও আপনারা রাতের কিয়াম দ্বারা উদযাপন করতে পারেন।
আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, "প্রতি বৃহস্পতিবার ও সোমবার আমলের ফিরিস্তি পেশ করা হয়। তখন আল্লাহ আযযা ওয়া জাল - সেদিন প্রত্যেক এমন বান্দাকে ক্ষমা করেন, যারা তার সঙ্গে কোন কিছুকে শরীক করে না। তবে এমন ব্যক্তিকে নয়, যার (দ্বীনি) ভাই ও তার মধ্যে শক্রতা আছে। তখন বলা হবে, এই দু'জনকে অবকাশ দাও যতক্ষন না তারা আপোষের দিকে ফিরে আসে, এই দু'জনকে অবকাশ দাও যতক্ষন না তারা আপোষের দিকে ফিরে আসে।" [সহিহ মুসলিম / ৬৩১৩]

এইটা কিন্তু নিরেট সহীহ অর্থাৎ ইখতিলাফের ছোয়াহীন। আমালের জন্য অধিক উপযুক্ত। আল্লাহ সহজ করুক।

আলহামদুলিল্লাহ
13/02/2019

আলহামদুলিল্লাহ

আল্লাহ যেন সবাইকে বুঝার তওফিক দান করেন।
03/11/2018

আল্লাহ যেন সবাইকে বুঝার তওফিক দান করেন।

27/10/2018
মাশাআল্লাহ
27/10/2018

মাশাআল্লাহ

07/07/2018

أَفَلاَ يَتَدَبَّرُونَ الْقُرْآنَ وَلَوْ كَانَ مِنْ عِندِ غَيْرِ اللّهِ لَوَجَدُواْ فِيهِ اخْتِلاَفًا كَثِيراً

এরা কি লক্ষ্য করে না কোরআনের প্রতি? পক্ষান্তরে এটা যদি আল্লাহ ব্যতীত অপর কারও পক্ষ থেকে হত, তবে এতো অবশ্যই বহু বৈপরিত্য দেখতে পেত।
[ সুরা নিসা ৪:৮২ ]

Address

Dhaka
1200

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Islamic Research Circle posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share